কাফ হা ইয়া আঈন সোয়াদ।
KafhayaAAaynsad
কাফ - হা - ইয়া - আইন - সাদ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ كهيعص
Chapter 19, 98 verses
কাফ হা ইয়া আঈন সোয়াদ।
KafhayaAAaynsad
কাফ - হা - ইয়া - আইন - সাদ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ كهيعص
এটা তোমার প্রভুর রহমতের যিকির (বিবরণ), যা তিনি করেছিলেন তাঁর দাস যাকারিয়ার প্রতি।
Thikru rahmati rabbika AAabdahu zakariyya
এটা আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহের বিবরণ তাঁর বান্দা যাকারিয়ার প্রতি।
ذِكْرُ رَحْمَتِ رَبِّكَ عَبْدَهُ زَكَرِيَّا
যখন সে ফরিয়াদ করেছিল তার প্রভুর কাছে নীরবে নিভৃতে।
Ith nada rabbahu nidaan khafiyyan
যখন সে তাঁর পালনকর্তাকে আহবান করেছিল নিভৃতে।
إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُ نِدَاءً خَفِيًّا
সে বলেছিল: ‘‘আমার প্রভু! আমার হাড়গোড় দুর্বল হয়ে গেছে, বার্ধক্যে আমার মাথার চুল শুভ্র - সাদা হয়ে গেছে। আমার প্রভু! তোমার কাছে ফরিয়াদ করে আমি কখনো খালি হাতে ফিরিনি।
Qala rabbi innee wahana alAAathmu minnee waishtaAAala alrrasu shayban walam akun biduAAaika rabbi shaqiyyan
সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা আমার অস্থি বয়স - ভারাবনত হয়েছে; বার্ধক্যে মস্তক সুশুভ্র হয়েছে; হে আমার পালনকর্তা! আপনাকে ডেকে আমি কখনও বিফলমনোরথ হইনি।
قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُن بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا
আমি আমার পরে আমার উত্তরাধিকারী সম্পর্কে আশংকা করছি। এ দিকে আমার স্ত্রীও বন্ধ্যা। অতএব, তোমার পক্ষ থেকে তুমি আমাকে এমন একজন উত্তরাধিকারী দান করো,
Wainnee khiftu almawaliya min waraee wakanati imraatee AAaqiran fahab lee min ladunka waliyyan
আমি ভয় করি আমার পর আমার স্বগোত্রকে এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; কাজেই আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাকে এক জন কর্তব্য পালনকারী দান করুন।
وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِن وَرَائِي وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا فَهَبْ لِي مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا
যে আমার উত্তরাধিকারিত্ব করবে এবং ইয়াকুবের বংশেরও উত্তরাধিকারিত্ব করবে, আর হে প্রভু! তুমি তাকে বানাবে সন্তোষভাজন।’’
Yarithunee wayarithu min ali yaAAqooba waijAAalhu rabbi radiyyan
সে আমার স্থলাভিষিক্ত হবে ইয়াকুব বংশের এবং হে আমার পালনকর্তা, তাকে করুন সন্তোষজনক।
يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ ۖ وَاجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا
(তার দোয়া কবুল করে বললেন:) ‘হে যাকারিয়া! আমরা তোমাকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম হবে ইয়াহিয়া। আগে আমরা এই নামে কারো নামকরণ করিনি।’
Ya zakariyya inna nubashshiruka bighulamin ismuhu yahya lam najAAal lahu min qablu samiyyan
হে যাকারিয়া, আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম হবে ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে এই নামে আমি কারও নাম করণ করিনি।
يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَىٰ لَمْ نَجْعَل لَّهُ مِن قَبْلُ سَمِيًّا
সে বললো: ‘প্রভু! কেমন করে হবে আমার পুত্র, আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা, আর আমিও তো বার্ধক্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছি।’
Qala rabbi anna yakoonu lee ghulamun wakanati imraatee AAaqiran waqad balaghtu mina alkibari AAitiyyan
সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা কেমন করে আমার পুত্র হবে অথচ আমার স্ত্রী যে বন্ধ্যা, আর আমিও যে বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে উপনীত।
قَالَ رَبِّ أَنَّىٰ يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا وَقَدْ بَلَغْتُ مِنَ الْكِبَرِ عِتِيًّا
তিনি (দূতের মাধ্যমে) বললেন: তুমি ঠিকই বলেছো। তবে তোমার প্রভু বলছেন: ‘এ কাজ আমার জন্যে একেবারেই সহজ। ইতোপূর্বে তো আমি তোমাকেও সৃষ্টি করেছি, অথচ তোমার কোনো অস্তিত্বই ছিলনা।’
Qala kathalika qala rabbuka huwa AAalayya hayyinun waqad khalaqtuka min qablu walam taku shayan
তিনি বললেনঃ এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলে দিয়েছেনঃ এটা আমার পক্ষে সহজ। আমি তো পুর্বে তোমাকে সৃষ্টি করেছি এবং তুমি কিছুই ছিলে না।
قَالَ كَذَٰلِكَ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَقَدْ خَلَقْتُكَ مِن قَبْلُ وَلَمْ تَكُ شَيْئًا
সে বললো: ‘প্রভু! (এর জন্যে) আমাকে একটি নিদর্শন দাও।’ তিনি বললেন, তোমার নিদর্শন হলো: ‘তুমি শারীরিক সুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিন দিন কারো সাথে কোনো কথা বলবেনা।’
Qala rabbi ijAAal lee ayatan qala ayatuka alla tukallima alnnasa thalatha layalin sawiyyan
সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে একটি নির্দশন দিন। তিনি বললেন তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি সুস্থ অবস্থায় তিন দিন মানুষের সাথে কথাবার্তা বলবে না।
قَالَ رَبِّ اجْعَل لِّي آيَةً ۚ قَالَ آيَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلَاثَ لَيَالٍ سَوِيًّا
অত:পর সে মেহরাব (কক্ষ) থেকে বের হয়ে তার কওমের কাছে এলো এবং ইশারা করে তাদের বললো: ‘তোমরা সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহর তসবিহ্ করো।’
Fakharaja AAala qawmihi mina almihrabi faawha ilayhim an sabbihoo bukratan waAAashiyyan
অতঃপর সে কক্ষ থেকে বের হয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে এল এবং ইঙ্গিতে তাদেরকে সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহকে স্মরণ করতে বললঃ
فَخَرَجَ عَلَىٰ قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرَابِ فَأَوْحَىٰ إِلَيْهِمْ أَن سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا
(বলা হলো:) ‘হে ইয়াহিয়া! এই (তাওরাত) কিতাবকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো।’ আর আমরা তাকে শৈশবেই দান করেছিলাম জ্ঞান ও প্রজ্ঞা,
Ya yahya khuthi alkitaba biquwwatin waataynahu alhukma sabiyyan
হে ইয়াহইয়া দৃঢ়তার সাথে এই গ্রন্থ ধারণ কর। আমি তাকে শৈশবেই বিচারবুদ্ধি দান করেছিলাম।
يَا يَحْيَىٰ خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ ۖ وَآتَيْنَاهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا
আর আমরা তাকে দিয়েছিলাম আমাদের পক্ষ থেকে কোমলতা - নম্রতা আর পবিত্রতা এবং সে ছিলো তাকওয়ার অধিকারী।
Wahananan min ladunna wazakatan wakana taqiyyan
এবং নিজের পক্ষ থেকে আগ্রহ ও পবিত্রতা দিয়েছি। সে ছিল ।
وَحَنَانًا مِّن لَّدُنَّا وَزَكَاةً ۖ وَكَانَ تَقِيًّا
সে ছিলো পিতা - মাতার প্রতি অনুগত। সে উদ্ধতও ছিলনা, অবাধ্যও ছিলনা।
Wabarran biwalidayhi walam yakun jabbaran AAasiyyan
পিতা - মাতার অনুগত এবং সে উদ্ধত, নাফরমান ছিল না।
وَبَرًّا بِوَالِدَيْهِ وَلَمْ يَكُن جَبَّارًا عَصِيًّا
তার প্রতি সালাম যেদিন তার জন্ম হয়েছিল, যেদিন তার মৃত্যু হবে এবং যেদিন সে পুনরুত্থিত হবে।
Wasalamun AAalayhi yawma wulida wayawma yamootu wayawma yubAAathu hayyan
তার প্রতি শান্তি - যেদিন সে জন্মগ্রহণ করে এবং যেদিন মৃত্যুবরণ করবে এবং যেদিন জীবিতাবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।
وَسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَمُوتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا
এই কিতাবের বর্ণনা অনুসারে মরিয়মের কথা যিকির (আলোচনা) করো। সে যখন তার পরিবার পরিজন থেকে আলাদা হয়ে পূর্ব দিকে এক স্থানে আশ্রয় নিলো,
Waothkur fee alkitabi maryama ithi intabathat min ahliha makanan sharqiyyan
এই কিতাবে মারইয়ামের কথা বর্ণনা করুন, যখন সে তার পরিবারের লোকজন থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল।
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ إِذِ انتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَانًا شَرْقِيًّا
এবং তাদের থেকে সে হিজাব (আড়াল) গ্রহণ করলো, তখন আমরা তার কাছে পাঠালাম আমাদের রূহকে (জিবরিলকে)। সে এসে তার কাছে পূর্ণ মানব আকৃতিতে নিজেকে প্রকাশ করলো।
Faittakhathat min doonihim hijaban faarsalna ilayha roohana fatamaththala laha basharan sawiyyan
অতঃপর তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্যে সে পর্দা করলো। অতঃপর আমি তার কাছে আমার রূহ প্রেরণ করলাম, সে তার নিকট পুর্ণ মানবাকৃতিতে আত্নপ্রকাশ করল।
فَاتَّخَذَتْ مِن دُونِهِمْ حِجَابًا فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا
সে (মরিয়ম) বললো: ‘আমি তোমার থেকে - রহমানের আশ্রয় চাচ্ছি যদি তুমি হয়ে থাকো।’
Qalat innee aAAoothu bialrrahmani minka in kunta taqiyyan
মারইয়াম বললঃ আমি তোমা থেকে দয়াময়ের আশ্রয় প্রার্থনা করি যদি তুমি আল্লাহভীরু হও।
قَالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمَٰنِ مِنكَ إِن كُنتَ تَقِيًّا
সে বললো: ‘(তোমার ভয়ের কোনো কারণ নেই) আমি তোমার প্রভুর রসূল (বার্তা বাহক), তোমাকে একটি পবিত্র পুত্র সন্তান দান করার (সংবাদ দেয়ার) জন্যে এসেছি।’
Qala innama ana rasoolu rabbiki liahaba laki ghulaman zakiyyan
সে বললঃ আমি তো শুধু তোমার পালনকর্তা প্রেরিত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করে যাব।
قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَامًا زَكِيًّا
সে বললো: ‘কী করে পুত্র হবে আমার, আমাকে তো কখনো কোনো পুরুষ স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও নই?
Qalat anna yakoonu lee ghulamun walam yamsasnee basharun walam aku baghiyyan
মরিইয়াম বললঃ কিরূপে আমার পুত্র হবে, যখন কোন মানব আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও কখনও ছিলাম না ?
قَالَتْ أَنَّىٰ يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا
সে বললো: ‘তুমি ঠিকই বলেছো।’ তবে তোমার প্রভু বলেছেন: ‘এ কাজ আমার জন্যে খুবই সহজ এবং তাকে আমরা এ জন্যে সৃষ্টি করবো যেনো সে হয় মানুষের জন্যে একটি নিদর্শন, আর সে হবে আমাদের পক্ষ থেকে একটি রহমত, আর এ বিষয়টির ফায়সালা হয়েই আছে।’
Qala kathaliki qala rabbuki huwa AAalayya hayyinun walinajAAalahu ayatan lilnnasi warahmatan minna wakana amran maqdiyyan
সে বললঃ এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলেছেন, এটা আমার জন্যে সহজ সাধ্য এবং আমি তাকে মানুষের জন্যে একটি নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ করতে চাই। এটা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার।
قَالَ كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ ۖ وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِّلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِّنَّا ۚ وَكَانَ أَمْرًا مَّقْضِيًّا
তখন সে তাকে গর্ভ ধারণ করে। পরে তাকে গর্ভে নিয়ে সে একটি দূরবর্তী স্থানে চলে যায়।
Fahamalathu faintabathat bihi makanan qasiyyan
অতঃপর তিনি গর্ভে সন্তান ধারণ করলেন এবং তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেলেন।
۞ فَحَمَلَتْهُ فَانتَبَذَتْ بِهِ مَكَانًا قَصِيًّا
প্রসব বেদনা তাকে একটি খেজুর গাছের নীচে নিয়ে আসে। এ সময় (অপবাদের ভয়ে) সে বলে: ‘হায়, এর আগেই যদি আমার মৃত্যু হতো এবং আমি যদি মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যেতাম!’
Faajaaha almakhadu ila jithAAi alnnakhlati qalat ya laytanee mittu qabla hatha wakuntu nasyan mansiyyan
প্রসব বেদনা তাঁকে এক খেজুর বৃক্ষ - মূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। তিনি বললেনঃ হায়, আমি যদি কোনরূপে এর পূর্বে মরে যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে, যেতাম!
فَأَجَاءَهَا الْمَخَاضُ إِلَىٰ جِذْعِ النَّخْلَةِ قَالَتْ يَا لَيْتَنِي مِتُّ قَبْلَ هَٰذَا وَكُنتُ نَسْيًا مَّنسِيًّا
তখন সে তাকে নীচ থেকে ডেকে বললো: ‘‘দুঃখ করোনা, তোমার নীচে দিয়ে তোমার প্রভু একটি নহর সৃষ্টি করে দিয়েছেন।
Fanadaha min tahtiha alla tahzanee qad jaAAala rabbuki tahtaki sariyyan
অতঃপর ফেরেশতা তাকে নিম্নদিক থেকে আওয়ায দিলেন যে, তুমি দুঃখ করো না। তোমার পালনকর্তা তোমার পায়ের তলায় একটি নহর জারি করেছেন।
فَنَادَاهَا مِن تَحْتِهَا أَلَّا تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا
আর তুমি তোমার দিকে খেজুর গাছের কান্ড নাড়া দাও, সেটি তোমার জন্যে তাজা পাকা খেজুর ফেলবে।
Wahuzzee ilayki bijithAAi alnnakhlati tusaqit AAalayki rutaban janiyyan
আর তুমি নিজের দিকে খেজুর গাছের কান্ডে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার উপর সুপক্ক খেজুর পতিত হবে।
وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا
তা খাও আর পান করো এবং তোমার চক্ষু শীতল করো। কোনো মানুষ দেখতে পেলে বলবে: ‘আমি আজ রহমানের উদ্দেশ্যে চুপ থাকার সাওম পালনের মানত করেছি, তাই আজ আমি কারো সাথে কথা বলবোনা।’’
Fakulee waishrabee waqarree AAaynan faimma tarayinna mina albashari ahadan faqoolee innee nathartu lilrrahmani sawman falan okallima alyawma insiyyan
যখন আহার কর, পান কর এবং চক্ষু শীতল কর। যদি মানুষের মধ্যে কাউকে তুমি দেখ, তবে বলে দিওঃ আমি আল্লাহর উদ্দেশে রোযা মানত করছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে কথা বলব না।
فَكُلِي وَاشْرَبِي وَقَرِّي عَيْنًا ۖ فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ الْبَشَرِ أَحَدًا فَقُولِي إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَٰنِ صَوْمًا فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنسِيًّا
অত:পর সে (মরিয়ম) তাকে (ছেলেটিকে) কোলে নিয়ে তার কওমের কাছে এলো। তারা বললো: ‘‘হে মরিয়ম। তুমি তো এক মহাকান্ড ঘটিয়ে এসেছো।
Faatat bihi qawmaha tahmiluhu qaloo ya maryamu laqad jiti shayan fariyyan
অতঃপর তিনি সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হলেন। তারা বললঃ হে মারইয়াম, তুমি একটি অঘটন ঘটিয়ে বসেছ।
فَأَتَتْ بِهِ قَوْمَهَا تَحْمِلُهُ ۖ قَالُوا يَا مَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْئًا فَرِيًّا
হে হারূণের বোন, তোমার পিতা তো কোনো খারাপ লোক ছিলেন না, তোমার মাও ব্যভিচারিণী ছিলেন না।’’
Ya okhta haroona ma kana abooki imraa sawin wama kanat ommuki baghiyyan
হে হারূণ - ভাগিনী, তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিনী।
يَا أُخْتَ هَارُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ وَمَا كَانَتْ أُمُّكِ بَغِيًّا
মরিয়ম ছেলের প্রতি ইঙ্গিত করে (তাদেরকে ছেলের সাথে কথা বলতে বললো)। তারা বললো: ‘আমরা এতোটুকুন কোলের বাচ্চার সাথে কথা বলবো কিভাবে?’
Faasharat ilayhi qaloo kayfa nukallimu man kana fee almahdi sabiyyan
অতঃপর তিনি হাতে সন্তানের দিকে ইঙ্গিত করলেন। তারা বললঃ যে কোলের শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব?
فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ ۖ قَالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَن كَانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا
সে (কোলের শিশু ঈসা) বললো: ‘‘আমি আল্লাহর দাস, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং নবী বানিয়েছেন,
Qala innee AAabdu Allahi ataniya alkitaba wajaAAalanee nabiyyan
সন্তান বললঃ আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন।
قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا
আমি যেখানেই থাকিনা কেন, তিনি আমাকে কল্যাণময় বানিয়েছেন এবং তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতোদিন বেঁচে থাকি, আমি যেনো আদায় করি এবং যাকাত প্রদান করি।
WajaAAalanee mubarakan ayna ma kuntu waawsanee bialssalati waalzzakati ma dumtu hayyan
আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন ও যাকাত আদায় করতে।
وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا
তিনি আমাকে আরো নির্দেশ দিয়েছেন আমার মায়ের প্রতি অনুগত থাকতে। তিনি আমাকে স্বৈরাচারি এবং হতভাগা বানাননি।
Wabarran biwalidatee walam yajAAalnee jabbaran shaqiyyan
এবং জননীর অনুগত থাকতে এবং আমাকে তিনি উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি।
وَبَرًّا بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا
আমার প্রতি সালাম, যেদিন আমি জন্ম নিয়েছি, যেদিন আমার মৃত্যু হবে এবং যেদিন আমাকে পুনরুত্থিত করা হবে।’’
Waalssalamu AAalayya yawma wulidtu wayawma amootu wayawma obAAathu hayyan
আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব।
وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا
এ - ই হলো ঈসা ইবনে মরিয়ম। তার বিষয়ে এই হলো সত্য কথা, যা নিয়ে তোমরা সন্দেহ করছো
Thalika AAeesa ibnu maryama qawla alhaqqi allathee feehi yamtaroona
এই মারইয়ামের পুত্র ঈসা। সত্যকথা, যে সম্পর্কে লোকেরা বিতর্ক করে।
ذَٰلِكَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ ۚ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِي فِيهِ يَمْتَرُونَ
সন্তান গ্রহণ করা তো আল্লাহর কাজ নয়, এ থেকে তিনি মুক্ত পবিত্র। তিনি যখন কোনো বিষয়ের ফায়সালা করেন, তখন বলেন: ‘হও’, সাথে সাথে তা হয়ে যায়।
Ma kana lillahi an yattakhitha min waladin subhanahu itha qada amran fainnama yaqoolu lahu kun fayakoonu
এমন নন যে, সন্তান গ্রহণ করবেন, তিনি পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা, তিনি যখন কোন কাজ করা সিদ্ধান্ত করেন, তখন একথাই বলেনঃ হও এবং তা হয়ে যায়।
مَا كَانَ لِلَّهِ أَن يَتَّخِذَ مِن وَلَدٍ ۖ سُبْحَانَهُ ۚ إِذَا قَضَىٰ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ
(ঈসা তাদের আরো বলেছিল:) ‘আল্লাহ্ই আমার প্রভু এবং তোমাদেরও প্রভু। সুতরাং তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো, এটাই সিরাতুল মুস্তাকিম - সরল সঠিক পথ।’
Wainna Allaha rabbee warabbukum faoAAbudoohu hatha siratun mustaqeemun
তিনি আরও বললেনঃ নিশ্চয় আমার পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তার এবাদত কর। এটা সরল পথ।
وَإِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ ۚ هَٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيمٌ
তারপর বিভিন্ন দল (ঈসার বিষয়ে) মতানৈক্য সৃষ্টি করে। সুতরাং কাফিরদের জন্যে দুর্ভোগ মহাদিবসে উপস্থিতির দিন।
Faikhtalafa alahzabu min baynihim fawaylun lillatheena kafaroo min mashhadi yawmin AAatheemin
অতঃপর তাদের মধ্যে দলগুলো পৃথক পৃথক পথ অবলম্বন করল। সুতরাং মহাদিবস আগমনকালে কাফেরদের জন্যে ধবংস।
فَاخْتَلَفَ الْأَحْزَابُ مِن بَيْنِهِمْ ۖ فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا مِن مَّشْهَدِ يَوْمٍ عَظِيمٍ
তারা যেদিন আমাদের কাছে উপস্থিত হবে, সেদিন সব কিছুই ঠিকভাবে শুনবে এবং দেখবে। কিন্তু আজ যালিমরা সুস্পষ্ট গোমরাহিতে নিমজ্জিত।
AsmiAA bihim waabsir yawma yatoonana lakini alththalimoona alyawma fee dalalin mubeenin
সেদিন তারা কি চমৎকার শুনবে এবং দেখবে, যেদিন তারা আমার কাছে আগমন করবে। কিন্তু আজ জালেমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে রয়েছে।
أَسْمِعْ بِهِمْ وَأَبْصِرْ يَوْمَ يَأْتُونَنَا ۖ لَٰكِنِ الظَّالِمُونَ الْيَوْمَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
তাদেরকে দুঃখ ও অনুতাপের দিনটি সম্পর্কে সতর্ক করে দাও, সেদিন সব বিষয়ের ফায়সালা হয়ে যাবে। অথচ আজ তারা গাফলতির মধ্যে পড়ে আছে এবং ঈমান আনেনা।
Waanthirhum yawma alhasrati ith qudiya alamru wahum fee ghaflatin wahum la yuminoona
আপনি তাদেরকে পরিতাপের দিবস সম্পর্কে হুশিয়ার করে দিন যখন সব ব্যাপারের মীমাংসা হয়ে যাবে। এখন তারা অনবধানতায় আছে এবং তারা বিশ্বাস স্থাপন করছে না।
وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
আমরাই মালিক পৃথিবীর এবং পৃথিবীর উপর যারা আছে সবার এবং আমাদের কাছেই তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
Inna nahnu narithu alarda waman AAalayha wailayna yurjaAAoona
আমিই চুড়ান্ত মালিকানার অধিকারী হব পৃথিবীর এবং তার উপর যারা আছে তাদের এবং আমারই কাছে তারা প্রত্যাবর্তিত হবে।
إِنَّا نَحْنُ نَرِثُ الْأَرْضَ وَمَنْ عَلَيْهَا وَإِلَيْنَا يُرْجَعُونَ
এই কিতাবের বর্ণনা অনুযায়ী ইবরাহিমের কথা আলোচনা করো। সে ছিলো একজন সিদ্দীক (সত্যনিষ্ঠ) নবী।
Waothkur fee alkitabi ibraheema innahu kana siddeeqan nabiyyan
আপনি এই কিতাবে ইব্রাহীমের কথা বর্ণনা করুন। নিশ্চয় তিনি ছিলেন সত্যবাদী, নবী।
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِبْرَاهِيمَ ۚ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَّبِيًّا
সে তার পিতাকে বলেছিল: ‘‘বাবা! আপনি কেন এমন জিনিসের ইবাদত করেন যেগুলো দেখেওনা, শুনেওনা এবং আপনার কোনো উপকারেও আসেনা?
Ith qala liabeehi ya abati lima taAAbudu ma la yasmaAAu wala yubsiru wala yughnee AAanka shayan
যখন তিনি তার পিতাকে বললেনঃ হে আমার পিতা, যে শোনে না, দেখে না এবং তোমার কোন উপকারে আসে না, তার এবাদত কেন কর?
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا يَسْمَعُ وَلَا يُبْصِرُ وَلَا يُغْنِي عَنكَ شَيْئًا
বাবা! আমার কাছে প্রকৃত জ্ঞান এসেছে, যা আপনার কাছে আসেনি। সুতরাং আপনি আমার অনুসরণ করুন, আমি আপনাকে সঠিক পথ দেখাবো।
Ya abati innee qad jaanee mina alAAilmi ma lam yatika faittabiAAnee ahdika siratan sawiyyan
হে আমার পিতা, আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে; যা তোমার কাছে আসেনি, সুতরাং আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাকে সরল পথ দেখাব।
يَا أَبَتِ إِنِّي قَدْ جَاءَنِي مِنَ الْعِلْمِ مَا لَمْ يَأْتِكَ فَاتَّبِعْنِي أَهْدِكَ صِرَاطًا سَوِيًّا
বাবা! শয়তানের ইবাদত করবেন না। শয়তান তো রহমানের চরম অবাধ্য।
Ya abati la taAAbudi alshshaytana inna alshshaytana kana lilrrahmani AAasiyyan
হে আমার পিতা, শয়তানের এবাদত করো না। নিশ্চয় শয়তান দয়াময়ের অবাধ্য।
يَا أَبَتِ لَا تَعْبُدِ الشَّيْطَانَ ۖ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلرَّحْمَٰنِ عَصِيًّا
বাবা! আমি আশংকা করছি, আপনাকে রহমানের আযাব স্পর্শ করবে, তাতে আপনি শয়তানের অলি হয়ে পড়বেন।’’
Ya abati innee akhafu an yamassaka AAathabun mina alrrahmani fatakoona lilshshyatani waliyyan
হে আমার পিতা, আমি আশঙ্কা করি, দয়াময়ের একটি আযাব তোমাকে স্পর্শ করবে, অতঃপর তুমি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবে।
يَا أَبَتِ إِنِّي أَخَافُ أَن يَمَسَّكَ عَذَابٌ مِّنَ الرَّحْمَٰنِ فَتَكُونَ لِلشَّيْطَانِ وَلِيًّا
সে (ইবরাহিমের পিতা) বললো: ‘ইবরাহিম! তুমি কি আমার ইলাহ্দের (দেব দেবীদের) থেকে বিমুখ? তুমি যদি বিরত না হও, তাহলে আমি পাথর মেরে তোমাকে হত্যা করবো। তুমি চিরদিনের জন্যে আমাকে ত্যাগ করে চলে যাও।’
Qala araghibun anta AAan alihatee ya ibraheemu lain lam tantahi laarjumannaka waohjurnee maliyyan
পিতা বললঃ যে ইব্রাহীম, তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ? যদি তুমি বিরত না হও, আমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে তোমার প্রাণনাশ করব। তুমি চিরতরে আমার কাছ থেকে দূর হয়ে যাও।
قَالَ أَرَاغِبٌ أَنتَ عَنْ آلِهَتِي يَا إِبْرَاهِيمُ ۖ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ لَأَرْجُمَنَّكَ ۖ وَاهْجُرْنِي مَلِيًّا
ইবরাহিম বললো: ‘‘আপনার প্রতি সালাম। আমি আমার প্রভুর কাছে আপনার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবো, নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহশীল।
Qala salamun AAalayka saastaghfiru laka rabbee innahu kana bee hafiyyan
ইব্রাহীম বললেনঃ তোমার উপর শান্তি হোক, আমি আমার পালনকর্তার কাছে তোমার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি মেহেরবান।
قَالَ سَلَامٌ عَلَيْكَ ۖ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّي ۖ إِنَّهُ كَانَ بِي حَفِيًّا
আমি আপনাদের থেকে এবং আপনারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকেন তাদের থেকে পৃথক হয়ে যাচ্ছি। আমি শুধু আমার প্রভুকেই ডাকবো। আমি আশা করি আমার প্রভুকে ডেকে আমি ব্যর্থকাম হবোনা।’’
WaaAAtazilukum wama tadAAoona min dooni Allahi waadAAoo rabbee AAasa alla akoona biduAAai rabbee shaqiyyan
আমি পরিত্যাগ করছি তোমাদেরকে এবং তোমরা ব্যতীত যাদের এবাদত কর তাদেরকে; আমি আমার পালনকর্তার এবাদত করব। আশা করি, আমার পালনকর্তার এবাদত করে আমি বঞ্চিত হব না।
وَأَعْتَزِلُكُمْ وَمَا تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ وَأَدْعُو رَبِّي عَسَىٰ أَلَّا أَكُونَ بِدُعَاءِ رَبِّي شَقِيًّا
সে যখন তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করতো তাদের থেকে পৃথক হয়ে গেলো, তখন আমি তাকে দান করলাম (পুত্র) ইসহাক এবং (নাতি) ইয়াকুবকে। আর তাদের প্রত্যেককেই বানিয়েছিলাম নবী।
Falamma iAAtazalahum wama yaAAbudoona min dooni Allahi wahabna lahu ishaqa wayaAAqooba wakullan jaAAalna nabiyyan
অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে এবং তার ব্যতীত যাদের এবাদত করত, তাদের সবাইকে পরিত্যাগ করলেন, তখন আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকুব এবং প্রত্যেককে নবী করলাম।
فَلَمَّا اعْتَزَلَهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ وَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ ۖ وَكُلًّا جَعَلْنَا نَبِيًّا
আর আমি তাদের দান করলাম আমার অনুগ্রহ এবং উঁচু করে দিলাম তাদের প্রশংসনীয় যশ - খ্যাতি।
Wawahabna lahum min rahmatina wajaAAalna lahum lisana sidqin AAaliyyan
আমি তাদেরকে দান করলাম আমার অনুগ্রহ এবং তাদেরকে দিলাম সমুচ্চ সুখ্যাতি।
وَوَهَبْنَا لَهُم مِّن رَّحْمَتِنَا وَجَعَلْنَا لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ عَلِيًّا
এই কিতাবে মূসার কথা আলোচনা করো। সে ছিলো বিশেষভাবে মনোনীত এবং ছিলো একজন রসূল নবী।
Waothkur fee alkitabi moosa innahu kana mukhlasan wakana rasoolan nabiyyan
এই কিতাবে মূসার কথা বর্ণনা করুন, তিনি ছিলেন মনোনীত এবং তিনি ছিলেন রাসূল, নবী।
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مُوسَىٰ ۚ إِنَّهُ كَانَ مُخْلَصًا وَكَانَ رَسُولًا نَّبِيًّا
আমরা তাকে ডেকেছিলাম তুর পাহাড়ের দক্ষিণ পাশ থেকে এবং নিভৃত আলোচনায় আমরা তাকে দিয়েছিলাম নৈকট্য।
Wanadaynahu min janibi alttoori alaymani waqarrabnahu najiyyan
আমি তাকে আহবান করলাম তূর পাহাড়ের ডান দিক থেকে এবং গুঢ়তত্ত্ব আলোচনার উদ্দেশে তাকে নিকটবর্তী করলাম।
وَنَادَيْنَاهُ مِن جَانِبِ الطُّورِ الْأَيْمَنِ وَقَرَّبْنَاهُ نَجِيًّا
আমাদের অনুগ্রহে আমরা তাকে (সাহায্যকারী) দিয়েছিলাম তার ভাই হারূণকে নবী হিসেবে।
Wawahabna lahu min rahmatina akhahu haroona nabiyyan
আমি নিজ অনুগ্রহে তাঁকে দান করলাম তাঁর ভাই হারুনকে নবীরূপে।
وَوَهَبْنَا لَهُ مِن رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هَارُونَ نَبِيًّا
এই কিতাবে স্মরণ করো ইসমাঈলের কথা। সে ছিলো প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যনিষ্ঠ এবং ছিলো একজন রসূল নবী।
Waothkur fee alkitabi ismaAAeela innahu kana sadiqa alwaAAdi wakana rasoolan nabiyyan
এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা বর্ণনা করুন, তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন রসূল, নবী।
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ ۚ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًا نَّبِيًّا
সে তার পরিবার - পরিজনকে নির্দেশ দিতো কায়েম এবং যাকাত প্রদানের আর সে তার প্রভুর কাছে ছিলো সন্তোষভাজন।
Wakana yamuru ahlahu bialssalati waalzzakati wakana AAinda rabbihi mardiyyan
তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন।
وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا
এই কিতাবে আলোচনা করো ইদরিসের কথা। সে ছিলো সিদ্দীক (সত্যনিষ্ঠ) নবী।
Waothkur fee alkitabi idreesa innahu kana siddeeqan nabiyyan
এই কিতাবে ইদ্রীসের কথা আলোচনা করুন, তিনি ছিলেন সত্যবাদী নবী।
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِدْرِيسَ ۚ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَّبِيًّا
আমরা তাকে উঠিয়ে ছিলাম উচ্চ মর্যাদায়।
WarafaAAnahu makanan AAaliyyan
আমি তাকে উচ্চে উন্নীত করেছিলাম।
وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا
এরা হলো সেইসব লোক, যাদের প্রতি অনুগ্রহ দান করেছেন আদমের বংশধর নবীদের থেকে এবং তাদের থেকে যাদেরকে আমরা আরোহন করিয়েছিলাম নূহের সাথে। এছাড়া ইবরাহিম ও ইসরাঈলের বংশধরদের থেকে এবং তাদের থেকে যাদেরকে আমরা হিদায়াত করেছিলাম এবং মনোনীত করেছিলাম। তাদের প্রতি যখন রহমানের আয়াত তিলাওয়াত করা হতো তারা কাঁদতে কাঁদতে সাজদায় লুটিয়ে পড়তো। (সাজাদা)
Olaika allatheena anAAama Allahu AAalayhim mina alnnabiyyeena min thurriyyati adama wamimman hamalna maAAa noohin wamin thurriyyati ibraheema waisraeela wamimman hadayna waijtabayna itha tutla AAalayhim ayatu alrrahmani kharroo sujjadan wabukiyyan
এরাই তারা - নবীগণের মধ্য থেকে যাদেরকে তা’আলা নেয়ামত দান করেছেন। এরা আদমের বংশধর এবং যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহন করিয়েছিলাম, তাদের বংশধর, এবং ইব্রাহীম ও ইসরাঈলের বংশধর এবং যাদেরকে আমি পথ প্রদর্শন করেছি ও মনোনীত করেছি, তাদের বংশোদ্ভূত। তাদের কাছে যখন দয়াময় আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করা হত, তখন তারা সেজদায় লুটিয়ে পড়ত এবং ক্রন্দন করত।
أُولَٰئِكَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ مِن ذُرِّيَّةِ آدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ وَمِن ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْرَائِيلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا ۚ إِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَٰنِ خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا ۩
তাদের পরে আসলো এমন একটি উত্তর প্রজন্ম যারা বিনষ্ট করে দেয় এবং অনুগামী হয় কামনা - লালসার। তারা অচিরেই কুকর্মের শাস্তি ভোগ করবে।
Fakhalafa min baAAdihim khalfun adaAAoo alssalata waittabaAAoo alshshahawati fasawfa yalqawna ghayyan
অতঃপর তাদের পরে এল অপদার্থ পরবর্তীরা। তারা নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হল। সুতরাং তারা অচিরেই পথভ্রষ্টতা প্রত্যক্ষ করবে।
۞ فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ ۖ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا
তবে যারা তওবা করেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে, তাদেরকে দাখিল করা হবে জান্নাতে এবং তাদের প্রতি করা হবেনা কোনো যুলুম।
Illa man taba waamana waAAamila salihan faolaika yadkhuloona aljannata wala yuthlamoona shayan
কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা তওবা করেছে, বিশ্বাস স্থাপন করেছে। সুতরাং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের উপর কোন জুলুম করা হবে না।
إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا
তাদের দেয়া হবে সেই স্থায়ী জান্নাত, যে (জান্নাতের) ওয়াদা দয়াময় রহমান তাঁর দাসদের দিয়েছেন। তাঁর ওয়াদা অবশ্যি বাস্তবায়িত হবে।
Jannati AAadnin allatee waAAada alrrahmanu AAibadahu bialghaybi innahu kana waAAduhu matiyyan
তাদের স্থায়ী বসবাস হবে যার ওয়াদা দয়াময় তাঁর বান্দাদেরকে অদৃশ্যভাবে দিয়েছেন। অবশ্যই তাঁর ওয়াদার তারা পৌঁছাবে।
جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدَ الرَّحْمَٰنُ عِبَادَهُ بِالْغَيْبِ ۚ إِنَّهُ كَانَ وَعْدُهُ مَأْتِيًّا
সেখানে ‘সালাম’ ছাড়া কোনো অর্থহীন কথাই তারা শুনবেনা। সেখানে সকাল সন্ধ্যাব্যাপী (অর্থাৎ সর্বক্ষণ) তারা পেতে থাকবে তাদের জীবিকা।
La yasmaAAoona feeha laghwan illa salaman walahum rizquhum feeha bukratan waAAashiyyan
তারা সেখানে সালাম ব্যতীত কোন অসার কথাবার্তা শুনবে না এবং সেখানে সকাল - সন্ধ্যা তাদের জন্যে রুযী থাকবে।
لَّا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا إِلَّا سَلَامًا ۖ وَلَهُمْ رِزْقُهُمْ فِيهَا بُكْرَةً وَعَشِيًّا
ওটা হলো সেই জান্নাত, আমরা যার ওয়ারিশ বানাবো আমাদের সেইসব দাসকে, যারা অবলম্বন করে তাকওয়া।
Tilka aljannatu allatee noorithu min AAibadina man kana taqiyyan
এটা ঐ জান্নাত যার অধিকারী করব আমার বান্দাদের মধ্যে পরহেযগারদেরকে।
تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي نُورِثُ مِنْ عِبَادِنَا مَن كَانَ تَقِيًّا
‘‘আমরা আপনার প্রভুর নির্দেশ ছাড়া নাযিল হইনা। আমাদের সামনে ও পেছনে যা আছে এবং এ দুয়ের মাঝে যা আছে সবই তাঁর। আপনার প্রভু কখনো ভুলেন না।
Wama natanazzalu illa biamri rabbika lahu ma bayna aydeena wama khalfana wama bayna thalika wama kana rabbuka nasiyyan
(জিব্রাইল বললঃ) আমি আপনার পালনকর্তার আদেশ ব্যতীত অবতরণ করি না, যা আমাদের সামনে আছে, যা আমাদের পশ্চাতে আছে এবং যা এ দুই - এর মধ্যস্থলে আছে, সবই তাঁর এবং আপনার পালনকর্তা বিস্মৃত হওয়ার নন।
وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ ۖ لَهُ مَا بَيْنَ أَيْدِينَا وَمَا خَلْفَنَا وَمَا بَيْنَ ذَٰلِكَ ۚ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا
তিনি মহাকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু রব (মালিক)। সুতরাং তাঁরই ইবাদত করুন এবং তাঁর ইবাদতে জমে থাকুন। আপনি কি তাঁর সমান গুণাবলি সম্পন্ন কাউকে জানেন?’’
Rabbu alssamawati waalardi wama baynahuma faoAAbudhu waistabir liAAibadatihi hal taAAlamu lahu samiyyan
তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডলে এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবার পালনকর্তা। সুতরাং তাঁরই বন্দেগী করুন এবং তাতে দৃঢ় থাকুন আপনি কি তাঁর সমনাম কাউকে জানেন?
رَّبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ ۚ هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا
মানুষ বলে: ‘আমি যখন মরে যাবো, তখন কি আমি জীবিত অবস্থায় উত্থিত হবো?’
Wayaqoolu alinsanu aitha ma mittu lasawfa okhraju hayyan
মানুষ বলেঃ আমার মৃত্যু হলে পর আমি কি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব?
وَيَقُولُ الْإِنسَانُ أَإِذَا مَا مِتُّ لَسَوْفَ أُخْرَجُ حَيًّا
মানুষ কি স্মরণ করেনা, আমরা তো ইতোপূর্বেও তাকে সৃষ্টি করেছি, যখন সে কিছুই ছিলনা।
Awala yathkuru alinsanu anna khalaqnahu min qablu walam yaku shayan
মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে ইতি পূর্বে সৃষ্টি করেছি এবং সে তখন কিছুই ছিল না।
أَوَلَا يَذْكُرُ الْإِنسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِن قَبْلُ وَلَمْ يَكُ شَيْئًا
তোমার প্রভুর শপথ! আমরা অবশ্যি তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে হাশর করবো, তারপর নতজানু করে জাহান্নামের চারদিকে হাজির করবোই।
Fawarabbika lanahshurannahum waalshshayateena thumma lanuhdirannahum hawla jahannama jithiyyan
সুতরাং আপনার পালনকর্তার কসম, আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রে সমবেত করব, অতঃপর অবশ্যই তাদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামের চারপাশে উপস্থিত করব।
فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّيَاطِينَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا
তারপর প্রত্যেক গোষ্ঠী থেকে যে দয়াময়ের প্রতি সবচেয়ে বেশি অবাধ্য ছিলো, তাকে খুঁজে বের করবোই।
Thumma lananziAAanna min kulli sheeAAatin ayyuhum ashaddu AAala alrrahmani AAitiyyan
অতঃপর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মধ্যে যে দয়াময় আল্লাহর সর্বাধিক অবাধ্য আমি অবশ্যই তাকে পৃথক করে নেব।
ثُمَّ لَنَنزِعَنَّ مِن كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَى الرَّحْمَٰنِ عِتِيًّا
তারপর তাদের মধ্যে জাহান্নামে প্রবেশের কে বেশি উপযুক্ত, তাকে তো আমরা জানিই।
Thumma lanahnu aAAlamu biallatheena hum awla biha siliyyan
অতঃপর তাদের মধ্যে যারা জাহান্নামে প্রবেশের অধিক যোগ্য, আমি তাদের বিষয়ে ভালোভাবে জ্ঞাত আছি।
ثُمَّ لَنَحْنُ أَعْلَمُ بِالَّذِينَ هُمْ أَوْلَىٰ بِهَا صِلِيًّا
তোমাদের প্রত্যেককেই তা (জাহান্নামের উপর স্থাপিত পুলসিরাত) অতিক্রম করতে হবে। এটা তোমার প্রভুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
Wain minkum illa wariduha kana AAala rabbika hatman maqdiyyan
তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তথায় পৌছবে না। এটা আপনার পালনকর্তার অনিবার্য ফায়সালা।
وَإِن مِّنكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا ۚ كَانَ عَلَىٰ رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا
পরে আমরা মুত্তাকিদের নাজাত দেবো এবং যালিমদের সেখানে (জাহান্নামে) নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেবো।
Thumma nunajjee allatheena ittaqaw wanatharu alththalimeena feeha jithiyyan
অতঃপর আমি পরহেযগারদেরকে উদ্ধার করব এবং জালেমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেব।
ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوا وَّنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا
যখন তাদের প্রতি আমাদের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন কাফিররা ঈমানদারদের বলে: ‘উভয় দলের মধ্যে কোন্টি মর্যাদার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ এবং মজলিসের দিক থেকে উত্তম?’
Waitha tutla AAalayhim ayatuna bayyinatin qala allatheena kafaroo lillatheena amanoo ayyu alfareeqayni khayrun maqaman waahsanu nadiyyan
যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন কাফেররা মুমিনদেরকে বলেঃ দুই দলের মধ্যে কোনটি মর্তবায় শ্রেষ্ঠ এবং কার মজলিস উত্তম?
وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا أَيُّ الْفَرِيقَيْنِ خَيْرٌ مَّقَامًا وَأَحْسَنُ نَدِيًّا
তাদের আগে আমরা কতো মানব প্রজন্মকে হালাক করে দিয়েছি, অথচ তারা ছিলো সম্পদে এবং বাহ্য দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ।
Wakam ahlakna qablahum min qarnin hum ahsanu athathan wariyan
তাদের পূর্বে কত মানব গোষ্ঠীকে আমি বিনাশ করেছি, তারা তাদের চাইতে সম্পদে ও জাঁক - জমকে শ্রেষ্ঠ ছিল।
وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّن قَرْنٍ هُمْ أَحْسَنُ أَثَاثًا وَرِئْيًا
হে নবী! বলো: যারা গোমরাহিতে আছে, দয়াময় রহমান তাদের অনেক অনেক ঢিল দিয়ে রাখেন, এমনকি তাদের যে বিষয়ে ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা আসা পর্যন্ত, চাই তা শাস্তি হোক, কিংবা কিয়ামত। তখনই তারা জানতে পারবে কার মর্যাদা নিকৃষ্ট, আর কার দলবল অতিশয় দুর্বল?
Qul man kana fee alddalalati falyamdud lahu alrrahmanu maddan hatta itha raaw ma yooAAadoona imma alAAathaba waimma alssaAAata fasayaAAlamoona man huwa sharrun makanan waadAAafu jundan
বলুন, যারা পথভ্রষ্টতায় আছে, দয়াময় তাদেরকে যথেষ্ট অবকাশ দেবেন; এমনকি অবশেষে তারা প্রত্যক্ষ করবে যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হচ্ছে, তা আযাব হোক অথবা কেয়ামতই হোক। সুতরাং তখন তারা জানতে পারবে কে মর্তবায় নিকৃষ্ট ও দলবলে দূর্বল।
قُلْ مَن كَانَ فِي الضَّلَالَةِ فَلْيَمْدُدْ لَهُ الرَّحْمَٰنُ مَدًّا ۚ حَتَّىٰ إِذَا رَأَوْا مَا يُوعَدُونَ إِمَّا الْعَذَابَ وَإِمَّا السَّاعَةَ فَسَيَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ شَرٌّ مَّكَانًا وَأَضْعَفُ جُندًا
আর যারা হিদায়াতের পথে চলে, তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দেন। আর স্থায়ী পুণ্যের কাজই তোমার প্রভুর সওয়াব (পুরস্কার) লাভের জন্যে শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদান হিসেবেও শ্রেষ্ঠ।
Wayazeedu Allahu allatheena ihtadaw hudan waalbaqiyatu alssalihatu khayrun AAinda rabbika thawaban wakhayrun maraddan
যারা সৎপথে চলে তাদের পথপ্রাপ্তি বৃদ্ধি করেন এবং স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার পালনকর্তার কাছে সওয়াবের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদান হিসেবেও শ্রেষ্ট।
وَيَزِيدُ اللَّهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى ۗ وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ مَّرَدًّا
তুমি কি ঐ ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য করেছো, যে আমাদের আয়াতের প্রতি কুফুরি করেছে এবং সে বলে: ‘অবশ্য অবশ্যি আমাকে অনেক অনেক মাল সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দেয়া হবে (যদি আমাকে পুনরুত্থিত করা হয়)।’
Afaraayta allathee kafara biayatina waqala laootayanna malan wawaladan
আপনি কি তাকে লক্ষ্য করেছেন যে, আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে না এবং বলেঃ আমাকে অর্থ - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি অবশ্যই দেয়া হবে।
أَفَرَأَيْتَ الَّذِي كَفَرَ بِآيَاتِنَا وَقَالَ لَأُوتَيَنَّ مَالًا وَوَلَدًا
সে কি অবগত হয়েছে, নাকি সে রহমানের নিকট থেকে অঙ্গীকার লাভ করেছে?
AttalaAAa alghayba ami ittakhatha AAinda alrrahmani AAahdan
সে কি বিষয় জেনে ফেলেছে, অথবা দয়াময় আল্লাহর নিকট থেকে কোন প্রতিশ্রুতি প্রাপ্ত হয়েছে?
أَطَّلَعَ الْغَيْبَ أَمِ اتَّخَذَ عِندَ الرَّحْمَٰنِ عَهْدًا
কখনো নয়, সে যা বলে তা তো আমরা লিখেই রাখছি এবং আমরা তার আযাব দীর্ঘ করতেই থাকবো।
Kalla sanaktubu ma yaqoolu wanamuddu lahu mina alAAathabi maddan
না, এটা ঠিক নয়। সে যা বলে আমি তা লিখে রাখব এবং তার শাস্তি দীর্ঘায়িত করতে থাকব।
كَلَّا ۚ سَنَكْتُبُ مَا يَقُولُ وَنَمُدُّ لَهُ مِنَ الْعَذَابِ مَدًّا
সে যে বিষয়ের কথা বলে তার মালিক তো আমরা। সে আমাদের কাছে আসবে সম্পূর্ণ একাকী।
Wanarithuhu ma yaqoolu wayateena fardan
সে যা বলে, মৃত্যুর পর আমি তা নিয়ে নেব এবং সে আমার কাছে আসবে একাকী।
وَنَرِثُهُ مَا يَقُولُ وَيَأْتِينَا فَرْدًا
সে ছাড়া অন্যদেরকে ইলাহ্ হিসেবে গ্রহণ করে, যাতে করে তারা তাদের জন্যে মর্যাদার কারণ হয়।
Waittakhathoo min dooni Allahi alihatan liyakoonoo lahum AAizzan
তারা ব্যতীত অন্যান্য গ্রহণ করেছে, যাতে তারা তাদের জন্যে সাহায্যকারী হয়।
وَاتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ آلِهَةً لِّيَكُونُوا لَهُمْ عِزًّا
কখনো নয়, বরং তারা তাদের ইবাদত করেছে বলে অস্বীকার করবে, আর (সেদিন) তারা তাদের বিরোধী হয়ে যাবে।
Kalla sayakfuroona biAAibadatihim wayakoonoona AAalayhim diddan
কখনই নয়, তারা তাদের এবাদত অস্বীকার করবে এবং তাদের বিপক্ষে চলে যাবে।
كَلَّا ۚ سَيَكْفُرُونَ بِعِبَادَتِهِمْ وَيَكُونُونَ عَلَيْهِمْ ضِدًّا
তুমি কি লক্ষ্য করছোনা, আমরা কাফিরদের কাছে শয়তানদের পাঠিয়ে থাকি তাদেরকে মন্দ কাজে সুড়সুড়ি দেয়ার জন্যে।
Alam tara anna arsalna alshshayateena AAala alkafireena taozzuhum azzan
আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, আমি কাফেরদের উপর শয়তানদেরকে ছেড়ে দিয়েছি। তারা তাদেরকে বিশেষভাবে (মন্দকর্মে) উৎসাহিত করে।
أَلَمْ تَرَ أَنَّا أَرْسَلْنَا الشَّيَاطِينَ عَلَى الْكَافِرِينَ تَؤُزُّهُمْ أَزًّا
সুতরাং তাদের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করোনা। আমরা তো তাদের জন্যে নির্ধারিত সময়কাল (বা সংখ্যা) গুণে রাখছি।
Fala taAAjal AAalayhim innama naAAuddu lahum AAaddan
সুতরাং তাদের ব্যাপারে আপনি তাড়াহুড়া করবেন না। আমি তো তাদের গণনা পূর্ণ করছি মাত্র।
فَلَا تَعْجَلْ عَلَيْهِمْ ۖ إِنَّمَا نَعُدُّ لَهُمْ عَدًّا
যেদিন আমরা দয়াময় রহমানের কাছে মুত্তাকিদের হাশর করবো মেহমান হিসেবে,
Yawma nahshuru almuttaqeena ila alrrahmani wafdan
সেদিন দয়াময়ের কাছে পরহেযগারদেরকে অতিথিরূপে সমবেত করব,
يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَٰنِ وَفْدًا
আর অপরাধীদের পিপাসার্ত অবস্থায় তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের দিকে।
Wanasooqu almujrimeena ila jahannama wirdan
এবং অপরাধীদেরকে পিপাসার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাব।
وَنَسُوقُ الْمُجْرِمِينَ إِلَىٰ جَهَنَّمَ وِرْدًا
সেদিন সুপারিশে কোনো কাজ হবেনা, তবে যে রহমানের নিকট অঙ্গীকার লাভ করেছে, তার কথা আলাদা।
La yamlikoona alshshafaAAata illa mani ittakhatha AAinda alrrahmani AAahdan
যে দয়াময় আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে, সে ব্যতীত আর কেউ সুপারিশ করার অধিকারী হবে না।
لَّا يَمْلِكُونَ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَنِ اتَّخَذَ عِندَ الرَّحْمَٰنِ عَهْدًا
তারা বলে: ‘রহমান সন্তান গ্রহণ করেছেন।’
Waqaloo ittakhatha alrrahmanu waladan
তারা বলেঃ দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَٰنُ وَلَدًا
তোমরা এক জঘন্য বিষয় (রচনা করে) নিয়ে এসেছো।
Laqad jitum shayan iddan
নিশ্চয় তোমরা তো এক অদ্ভুত কান্ড করেছ।
لَّقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِدًّا
এর ফলে মহাকাশ বিদীর্ণ হযে যাবে, পৃথিবী খন্ড বিখন্ড হয়ে পড়বে এবং পাহাড় পর্বত চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে পতিত হবে,
Takadu alssamawatu yatafattarna minhu watanshaqqu alardu watakhirru aljibalu haddan
হয় তো এর কারণেই এখনই নভোমন্ডল ফেটে পড়বে, পৃথিবী খন্ড - বিখন্ড হবে এবং পর্বতমালা চূর্ণ - বিচুর্ণ হবে।
تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا
কারণ তারা রহমানের প্রতি সন্তান আরোপ করে।
An daAAaw lilrrahmani waladan
এ কারণে যে, তারা দয়াময় আল্লাহর জন্যে সন্তান আহবান করে।
أَن دَعَوْا لِلرَّحْمَٰنِ وَلَدًا
সন্তান গ্রহণ করা রহমানের জন্যে শোভনীয় নয়।
Wama yanbaghee lilrrahmani an yattakhitha waladan
অথচ সন্তান গ্রহণ করা দয়াময়ের জন্য শোভনীয় নয়।
وَمَا يَنبَغِي لِلرَّحْمَٰنِ أَن يَتَّخِذَ وَلَدًا
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যারাই আছে, তারা রহমানের কাছে দাস হিসেবেই উপস্থিত হবে।
In kullu man fee alssamawati waalardi illa atee alrrahmani AAabdan
নভোমন্ডল ও ভূ - মন্ডলে কেউ নেই যে, দয়াময় আল্লাহর কাছে দাস হয়ে উপস্থিত হবে না।
إِن كُلُّ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَٰنِ عَبْدًا
তিনি তাদের পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং নিখুঁতভাবে গুণে রাখছেন।
Laqad ahsahum waAAaddahum AAaddan
তাঁর কাছে তাদের পরিসংখ্যান রয়েছে এবং তিনি তাদেরকে গণনা করে রেখেছেন।
لَّقَدْ أَحْصَاهُمْ وَعَدَّهُمْ عَدًّا
কিয়ামতের দিন তারা সবাই তাঁর কাছে উপস্থিত হবে একা একা।
Wakulluhum ateehi yawma alqiyamati fardan
কেয়ামতের দিন তাদের সবাই তাঁর কাছে একাকী অবস্থায় আসবে।
وَكُلُّهُمْ آتِيهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَرْدًا
যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে, দয়াময় রহমান অচিরেই জনগণের মনে তাদের জন্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবেন।
Inna allatheena amanoo waAAamiloo alssalihati sayajAAalu lahumu alrrahmanu wuddan
যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদেরকে দয়াময় ভালবাসা দেবেন।
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَٰنُ وُدًّا
আমরা তোমার যবানে কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি এ উদ্দেশ্যে যে, তুমি এর মাধ্যমে সচেতন লোকদের সুসংবাদ দেবে এবং বিবাদপ্রিয় লোকদের সতর্ক করবে।
Fainnama yassarnahu bilisanika litubashshira bihi almuttaqeena watunthira bihi qawman luddan
আমি কোরআনকে আপনার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে আপনি এর দ্বারা পরহেযগারদেরকে সুসংবাদ দেন এবং কলহকারী সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন।
فَإِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ الْمُتَّقِينَ وَتُنذِرَ بِهِ قَوْمًا لُّدًّا
তাদের আগে আমরা বহু মানব প্রজন্মকে হালাক করে দিয়েছি। তুমি কি তাদের কাউকেও দেখতে পাচ্ছো, কিংবা তাদের কোনো ক্ষীণতম আওয়াযও শুনতে পাচ্ছো?
Wakam ahlakna qablahum min qarnin hal tuhissu minhum min ahadin aw tasmaAAu lahum rikzan
তাদের পূর্বে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি। আপনি কি তাদের কাহারও সাড়া পান, অথবা তাদের ক্ষীনতম আওয়ায ও শুনতে পান?
وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّن قَرْنٍ هَلْ تُحِسُّ مِنْهُم مِّنْ أَحَدٍ أَوْ تَسْمَعُ لَهُمْ رِكْزًا