সোয়াদ, উপদেশে পরিপূর্ণ আল কুরআনের শপথ।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ছোয়া-দ্ অল্ ক্বরআ-নি যিয্ যিক্র্।
সোয়াদ; কসম উপদেশপূর্ণ কুরআনের।
Chapter 38, 88 verses
সোয়াদ, উপদেশে পরিপূর্ণ আল কুরআনের শপথ।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ছোয়া-দ্ অল্ ক্বরআ-নি যিয্ যিক্র্।
সোয়াদ; কসম উপদেশপূর্ণ কুরআনের।
বরং যারা কুফুরি করেছে তারাই রয়েছে চরম হঠকারিতা আর বিরোধিতায় নিমজ্জিত।
বালিল্লাযীনা কাফারূ ফী 'ইয্যাতিঁও ওয়া শিক্বা-ক্ব্।
বস্তুত কাফিররা আত্মম্ভরিতা ও বিরোধিতায় রয়েছে।
তাদের আগে আমরা ধ্বংস করেছি কতো যে প্রজন্মকে, তখন তারা আর্তচিৎকার করেছিল, কিন্তু উদ্ধার পাওয়ার কোনো উপায় আর তখন ছিলনা।
কাম্ আহ্লাক্না-মিন্ ক্বব্লিহিম্ মিন্ র্ক্বনিন ফানা-দাও অলা-তাহীনা মানা-ছ্।
তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি; তখন তারা আর্তচিৎকার করেছিল, কিন্তু তখন পলায়নের কোন সময় ছিল না।
তারা বিস্ময় প্রকাশ করছে যে, তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন সতর্ককারী এসেছে। কাফিররা বলছে: ‘‘এতো এক মিথ্যাবাদী ম্যাজেসিয়ান।
অ 'আজ্বিূবূ য় আন্ জ্বা-য়া হুম্ মুন্যিরুম্ মিন্হুম্ অক্ব-লাল্ কাফিরূনা হা-যা-সা-হিরুন্ কায্যা-ব্।
আর তারা বিস্মিত হল যে, তাদের কাছে তাদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারী এসেছে এবং কাফিররা বলে, ‘এ তো যাদুকর, মিথ্যাবাদী’।
সে কি সব ইলাহকে এক ইলাহ্ বানিয়ে নিয়েছে? এ তো এক বিস্ময়কর জিনিস।’’
আজ্বা'আলাল্ আ-লিহাতা ইল-হাঁও ওয়া-হিদান্ ইন্না-হা-যা-লাশাইয়ুন্ 'উজ্বা-ব্।
‘সে কি সকল উপাস্যকে এক বানিয়ে নিয়েছে? নিশ্চয় এ তো এক আশ্চর্য বিষয়’!
সে কি সব ইলাহকে এক ইলাহ্ বানিয়ে নিয়েছে? এ তো এক বিস্ময়কর জিনিস।’’
অন্ত্বোয়ালাক্বল্ মালায়ু মিন্হুম্ আনিম্শূ অছ্বিরূ 'আলা য় 'আ-লিহাতিকুম্ ইন্না-হা-যা- লাশাইয়ুইঁ ইয়ুর-দ্।
আর তাদের প্রধানরা চলে গেল একথা বলে যে, ‘যাও এবং তোমাদের উপাস্যগুলোর উপর অবিচল থাক। নিশ্চয় এ বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণোদিত’।
আমরা তো অন্যান্য ধর্মে এ ধরণের কথা শুনিনি। এগুলো মনগড়া কথা ছাড়া আর কিছু নয়।
মা-সামি'না-বিহা-যা-ফিল্ মিল্লাতিল্ আ-খিরতি ইন্ হা-যা- ইল্লাখ্ তিলা-ক্ব্ ।
আমরা তো সর্বশেষ ধর্মে এমন কথা শুনিনি*। এটা তো বানোয়াট কথা ছাড়া আর কিছু নয়। * তাদের জন্য সর্বশেষ ধর্ম ছিল খৃস্টধর্ম। কারো কারো মতে তা ছিল কুরাইশদের ধর্ম।
আমাদের মধ্য থেকে কি তার প্রতিই যিকির (কুরআন) নাযিল করা হলো?’’ আসল কথা হলো, আমার যিকির (কুরআন) সম্পর্কেই তাদের সন্দেহ রয়েছে। তারা তো এখনো আমার আযাবের স্বাদ আস্বাদন করেনি।
আ উন্যিলা 'আলাইহিয্ যিক্রু মিম্ বাইনিনা- বাল্ হুম্ ফী শাক্কিম্ মিন্ যিক্রী বাল্ লাম্মা-ইয়াযূকু 'আযা-ব্।
‘আমাদের মধ্য থেকে তার উপরই কি কুরআন নাযিল করা হল’? বরং তারা আমার কুরআনের ব্যাপারে সন্দেহে রয়েছে। বরং তারা এখনও আমার আযাব আস্বাদন করেনি।
নাকি, তাদের কাছে রয়েছে তোমার প্রভুর রহমতের ভান্ডার, যিনি মহাশক্তিধর ও মহাদানশীল?
আম্ 'ইনদাহুম্ খযা-য়িনু রহ্মাতি রব্বিকাল্ 'আযীযিল্ ওয়াহ্হা-ব্।
তাদের কাছে কি তোমার রবের রহমতের ভান্ডার রয়েছে যিনি মহাপরাক্রমশালী, অসীম দাতা।
নাকি মহাকাশ, পৃথিবী এবং এগুলোর মধ্যবর্তী সবকিছুর কর্তৃত্ব তাদের হাতে? তাহলে তারা সিঁড়ি লাগিয়ে উপরে উঠুক।
আম্ লাহুম্ মুল্কুস্ সামা-ওয়া-তি অল্আরদ্বি অমা-বাইনা হুমা-ফাল্ ইর্য়াতাকু ফিল্ আস্বা-ব্।
অথবা আসমান ও যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তার মালিকানা কি তাদের? তাহলে তারা আরোহণ করুক (আসমানে উঠার) কোন উপায় অবলম্বন করে।
(অতীতে ধ্বংস হওয়া) বহু দলের মধ্যে এতো ছোট্ট একটি দল। দলের এই বাহিনীও পরাজিত হবে।
জুনদুম্ মা-হুনা-লিকা মাহ্যূমুম্ মিনাল্ আহ্যা-ব্।
এ বাহিনী তো সেখানে* পরাজিত হবে (পূর্ববর্তী) দলসমূহের মত। * هناك দ্বারা মক্কার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারো কারো মতে বদর দিবসের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
এদের আগেও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল নূহের কওম, আদ জাতি এবং খুঁটি ও লাঠির অধিপতি ফেরাউন,
কায্যাবাত্ ক্বব্লাহুম্ ক্বওমু নূহিঁও অ'আ-দুঁও অর্ফি'আউনু যুল্ আওতা-দ্।
তাদের পূর্বেও অস্বীকার করেছিল নূহের কওম, আদ ও বহু অট্টালিকার অধিপতি ফির‘আউন,
সামুদ জাতি, লুতের কওম এবং আইকার অধিবাসীরা। তারা প্রত্যেকেই ছিলো বিশাল বিশাল বাহিনী।
অছামূদু অক্বওমু লূত্বিঁও অ আছ্হা-বুল্ য়াইকাহ্ উলা-য়িকাল্ আহ্যা-ব্।
সামূদ, কওমে লূত ও আইকার অধিবাসীরা। এরাই ছিল (নবীদের বিরুদ্ধাচরণকারী) দলসমূহ ।
এরা প্রত্যেকেই রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে তাদের প্রতি সত্য প্রমাণিত হয়েছে শাস্তির ওয়াদা।
ইন্ কুল্লুন্ ইল্লা-কায্যার্বা রুসুলা ফাহাকক্ব 'ইক্ব-ব্।
প্রত্যেকেই তো রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল। ফলে আমার আযাব অবধারিত হয়েছিল।
তারা তো অপেক্ষা করছে একটি প্রচন্ড শব্দের জন্যে, যাতে কোনো বিরতি থাকবে না।
অমা-ইয়ান্জুরুহা য় উলা-য়ি ইল্লা-ছোয়াইহাতাঁও ওয়া-হিদাতাম্ মা-লাহা-মিন্ ফাওয়া-ক্ব্-।
আর এরা তো কেবল একটি বিকট আওয়াজের অপেক্ষা করছে যাতে কোন বিরাম থাকবে না।
তারা বলে: ‘আমাদের প্রভু, বিচার দিনের আগেই আমাদের প্রাপ্য অংশ আমাদের দিয়ে দিন।’
অ ক্ব-লূ রব্বানা-'আজ্জ্বিল্ লানা-ক্বিত্বোয়ানা-ক্বব্লা ইয়াওমিল্ হিসা-ব্।
আর তারা বলে, হে ‘আমাদের রব, হিসাব দিবসের আগেই আমাদের প্রাপ্য আমাদেরকে তাড়াতাড়ি দিয়ে দিন’।
তারা যা বলে, তার জন্যে তুমি সবর অবলম্বন করো আর স্মরণ করো আমার হাতওয়ালা (ক্ষমতাপ্রাপ্ত) দাস দাউদকে। সে ছিলো আমার অভিমুখী।
ইর্ছ্বি 'আলা- মা ইয়াকুলূনা অর্য্কু 'আব্দানা-দা-য়ূদা যাল্আইদি ইন্নাহূ য় আওয়্যা-ব্।
তারা যা বলে সে ব্যাপারে তুমি ধৈর্যধারণ কর এবং আমার শক্তিশালী বান্দা দাঊদকে স্মরণ কর; সে ছিল অধিক অভিমুখী।
আমরা পাহাড় পর্বতকে নিয়োজিত রেখেছিলাম যেনো সকাল - সন্ধ্যায় তার সাথে আমার তসবিহ্ করে।
ইন্না-সার্খ্খানাল্ জ্বিবা-লা মা'আহূ ইয়ুসাব্বিহ্না বিল্'আশিয়্যি অল্ ইশ্র-ক।
আমি পর্বতমালাকে অনুগত করেছিলাম, তার সাথে এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় আমার তাসবীহ পাঠ করত।
আর পাখিরাও তার কাছে জড়ো হতো, প্রত্যেকেই ছিলো তার অনুগত।
অত্ব্ত্বোয়াইর মাহ্শূরাহ্ কুল্লুল্ লাহূ য় আওওয়া-ব্।
আর সমবেত পাখীদেরকেও (অনুগত করেছিলাম); প্রত্যেকেই ছিল অধিক অভিমুখী।
আমরা তার সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় করে দিয়েছিলাম আর তাকে দিয়েছিলাম হিকমা (প্রজ্ঞা) এবং সিদ্ধান্তকর বক্তব্য রাখার ক্ষমতা।
অশাদাদ্না- মুল্কাহূ অআ-তাইনা-হুল্ হিক্মাতা অফাছ্লাল্ খিত্বোয়া-ব্।
আর আমি তার রাজত্বকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে প্রজ্ঞা ও ফয়সালাকারী বাগ্মিতা দিয়েছিলাম।
তোমার কাছে কি বিবাদকারীদের সংবাদ পৌঁছেছে? যখন তারা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে মেহরাবে এসেছিল।
অহাল্ আতা-কা নাবায়ুল্ খাছ্মি। ইয্ তাসাওয়্যারুল্ মিহ্র-ব্।
তোমার কাছে কি বিবদমান লোকদের সংবাদ এসেছে? যখন তারা প্রাচীর ডিঙিয়ে মিহরাবে আসল।
তারা দাউদের কাছে প্রবেশ করেছিল। তাদের দেখে দাউদ ভীত হয়ে পড়ে। তারা বললো: ‘‘আপনি ভীত হবেননা, আমরা দুটি বিবদমান পক্ষ। একে অপরের প্রতি বাড়াবাড়ি করেছি। আপনি আমাদের মাঝে ন্যায় বিচার করে দিন। অবিচার করবেন না এবং আমাদেরকে সঠিক পথের নির্দেশনা দিন:
ইয্ দাখালূ 'আলা-দা-য়ূদা ফা ফাযি'আ মিন্হুম্ ক্ব-লূ লা-তাখফ্ খছ্মা-নি বাগ- বা'দুনা- 'আলা-বা'দ্বিন্ ফাহ্কুম্ বাইনানা-বিল্হাকক্বি অলা-তুশ্ত্বিত্ব্ অহ্দিনা য় ইলা-সাওয়া-য়িছ্ ছির-ত্ব্।
যখন তারা দাঊদের কাছে প্রবেশ করল, তখন সে তাদের ভয় পেয়ে গেল। তারা বলল ‘আপনি ভয় করবেন না, আমরা বিবদমান দু’পক্ষ। আমাদের একে অন্যের উপর সীমালঙ্ঘন করেছে। অতএব আপনি আমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করুন, অবিচার করবেন না। আর আমাদেরকে সরল পথের নির্দেশনা দিন’।
এ আমার ভাই। তার আছে নিরানব্বইটি দুম্বা আর আমার আছে মাত্র একটি দুম্বা। তবু সে বলে: ‘তোমারটি আমার যিম্মায় দিয়ে দাও’ এবং কথায় সে আমার প্রতি কঠোর হয়েছে।’’
ইন্না হা-যা য় আখী লাহূ তিস্'উওঁ অ তিস্'ঊনা না'জ্বাতাঁও অলিয়া না'জ্বাতুও ওয়া-হিদাতুন্ ফাক্ব-লা আক্ফিল্নীহা অ'আয্যানী ফিল্ খিত্বোয়া-ব্।
‘নিশ্চয় এ আমার ভাই। তার নিরানব্বইটি ভেড়ী আছে, আর আমার আছে মাত্র একটা ভেড়ী। তবুও সে বলে, ‘এ ভেড়ীটিও আমার তত্ত্বাবধানে দিয়ে দাও’, আর তর্কে সে আমার উপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে’।
দাউদ বললো: ‘তোমার দুম্বাটিকে তার দুম্বার সাথে একত্র করার দাবি করে সে তোমার প্রতি যুলুম (অন্যায়) করেছে। শরিকদের অনেকেই একে অপরের উপর যুলুম করে থাকে, তবে যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তারা নয়, অবশ্য তারা সংখ্যায় স্বল্প।’ দাউদ বুঝতে পারলো, আমরা তাকে পরীক্ষা করেছি, তাই সে তার প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলো এবং নত হয়ে লুটিয়ে পড়লো এবং তাঁর অভিমুখী হলো। (সাজদা)
ক্ব-লা লাক্বদ্ জোয়ালামাকা বিসূয়া-লি না'জ্বাতিকা ইলা-নি'আজ্বিহ্ অইন্না কাছীরম্ মিনাল্ খুলাত্বোয়া-য়ি লাইয়াব্গী বা'দ্বুহুম্ 'আলা- বা'দ্বিন্ ইল্লাল্লাযীনা আ-মানূ অ 'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি অক্বলীলুম্ মা-হুম্ অ জোয়ান্না দা-য়ূদু আন্নামা-ফাতান্না- হু ফাস্তাগ্ফার রব্বাহূ অর্খর- র- কিআঁও অআনা-ব্।
দাঊদ বলল, ‘তোমার ভেড়ীকে তার ভেড়ীর পালের সাথে যুক্ত করার দাবী করে সে তোমার প্রতি যুলম করেছে। আর শরীকদের অনেকেই একে অন্যের উপর সীমলঙ্ঘন করে থাকে। তবে কেবল তারাই এরূপ করে না যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে’। আর এরা সংখ্যায় খুবই কম। আর দাঊদ জানতে পারল যে, আমি ত
তখন আমরা তাকে ক্ষমা করে দিলাম। আমাদের কাছে তার জন্যে রয়েছে নৈকট্যের মর্যাদা আর সুন্দর পরিণাম।
ফাগার্ফানা-লাহূ যা-লিক্ অ ইন্না-লাহূ ই'ন্দানা-লাযুল্ফা- অহুস্না মায়া-ব্।
তখন আমি তাকে তা ক্ষমা করে দিলাম। আর অবশ্যই আমার কাছে তার জন্য রয়েছে নৈকট্য ও উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।
(আমরা তাকে বলেছিলাম:) ‘হে দাউদ! আমরা তোমাকে ভূ - খন্ডের খলিফা (শাসক) বানিয়েছি, সুতরাং তুমি জনগণের মাঝে সুবিচার করো, নিজস্ব চিন্তা - বাসনার অনুসরণ করোনা, করলে সেটা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যূত করে দেবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাব, কারণ তারা হিসাবের দিনটিকে ভুলে যায়।’
ইয়া-দায়ূদু ইন্না-জ্বা'আল্না-কা খলীফাতান্ ফিল্ র্আদ্বি ফাহ্কুম্ বাইনান্না-সি বিল্হাকক্বি অলা-তাত্তাবি'ইল্ হাওয়া-ফাইয়ুদ্বিল্লাকা 'আন সাবীলিল্লা-হি ইন্নাল্ লাযীনা ইয়াদ্বিল্লূনা 'আন সাবীলিল্লা-হি লাহুম 'আযা-বুন শাদীদুম্ বিমা- নাসূ ইয়াওমাল হিসা-ব।
(হে দাঊদ), নিশ্চয় আমি তোমাকে যমীনে খলীফা বানিয়েছি, অতএব তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার কর আর প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয় তাদের জন্য কঠিন আযাব রয়েছে। কারণ তারা হিসাব দিবসকে ভ
আমরা আসমান, জমিন এবং এ দুয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে কোনো কিছুই নিরর্থক সৃষ্টি করিনি। অনর্থক সৃষ্টির ধারণা করে তো কাফিররা। সুতরাং কাফিরদের জন্যে রয়েছে আগুনের আযাব।
অমা-খলাকনাস্ সামা-য়া অল্ র্আদ্বোয়া অমা-বাইনাহুমা- বা-ত্বিলা- যা-লিকা জোয়ান্ন ুল্ লাযীনা কাফারূ ফাওয়াইলুল্ লিল্লাযীনা কাফারূ মিনান্নার্-।
আর আসমান, যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তা আমি অনর্থক সৃষ্টি করিনি। এটা কাফিরদের ধারণা, সুতরাং কাফিরদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের দুর্ভোগ।
যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তাদেরকে কি আমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের সমতুল্য গণ্য করবো, নাকি মুত্তাকিদের গণ্য করবো ফুজ্জারদের (পাপিষ্ঠদের) সমতুল্য?
আম্ নাজ'আলু ল্লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি কাল্মুফ্সিদীনা ফিল্ র্আদ্বি আম্ নাজ্ব্'আলুল্ মুত্তাক্বীনা কাল্ফুজ্জ্বার্-।
যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে আমি কি তাদেরকে যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের সমতুল্য গণ্য করব? নাকি আমি মুত্তাকীদেরকে পাপাচারীদের সমতুল্য গণ্য করব?
এই কল্যাণময় কিতাব (আল কুরআন) আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যেনো মানুষ এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং বুদ্ধিমান লোকেরা গ্রহণ করে উপদেশ।
কিতা-বুন্ আন্যাল্না-হু ইলাইকা মুবা-রকুল্ লিইয়াদ্দাব্বারূ য় আ-ইয়া-তিহী অলিয়া তাযাক্কারা উলুল্ আল্বা-ব্।
আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।
আমরা দাউদকে দান করেছিলাম (পুত্র) সুলাইমানকে। সে ছিলো আমাদের উত্তম দাস এবং অধিক অধিক আল্লাহমুখী।
অ অহাব্না- লিদা-য়ূদা সুলাইমা-ন্ নি'মাল্ 'আব্দ্ ইন্নাহূ য় আওঅ-ব্।
আর আমি দাঊদকে দান করলাম সুলাইমান। সে কতই না উত্তম বান্দা! নিঃসন্দেহে সে ছিল অতিশয় অভিমুখী।
যখন অপরাহ্নে তার সামনে ধাবনোদ্যত উত্তম ঘোড়াগুলো হাজির করা হলো,
ইয্ উ'রিদ্বোয়া 'আলাইহি বিল্'আশিয়্যিছ্ ছোয়া-ফিনা-তুল্ জ্বিয়া-দ্।
যখন তার সামনে সন্ধ্যাবেলায় পেশ করা হল দ্রুতগামী উৎকৃষ্ট ঘোড়াসমূহ।
সে বললো: ‘‘আমি তো আমার প্রভুর যিকির থেকে ঐশ্বর্যপ্রিয়তার দিকে অধিক নিমগ্ন হয়ে পড়েছি, এদিকে সূর্য অস্তমিত হয়ে গেলো।
ফাক্ব-লা ইন্নী য় আহ্বাব্তু হুব্বাল্ খইরি 'আন্ যিক্রি রব্বী হাত্তা-তাওয়া-রাত্ বিল্হিজ্বা-ব্।
তখন সে বলল, ‘আমি তো আমার রবের স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ে ঐশ্বর্যের প্রেমে মগ্ন হয়ে পড়েছি, এদিকে সূর্য পর্দার আড়ালে চলে গেছে।* * অর্থাৎ সূর্য ডুবে গেছে।
এগুলোকে আবার আমার সামনে নিয়ে এসো।’’ তারপর সে সেগুলোর পা এবং গলা কেটে যবেহ করতে থাকলো।
রুদ্দূহা-'আলাই ফাত্বোয়াফিক্বা মাস্হাম্ বিস্সূক্বি অল্ 'আনা-ক্ব্।
এগুলো আমার কাছে ফিরিয়ে আন। অতঃপর সে এগুলোকে পা ও গলদেশ দিয়ে যবেহ করা শুরু করল।* * সুলাইমান আ. জিহাদের জন্য পালিত এসব ঘোড়া কোন এক বিকালে পরিদর্শন করতে গিয়ে অনেক কাল ক্ষেপণ করেন এবং এদিকে সূর্য ডুবে যায়। ফলে ঘোড়ার কারণে আল্লাহর যিকর থেকে এত দীর্ঘ সময় বিরত
আমরা সুলাইমানকে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তার কুরসির (চেয়ারের) উপর রেখেছিলাম একটি দেহ, ফলে সে আমার অভিমুখী হয়।
অলাক্বদ্ ফাতান্না-সুলাইমা-না অআল্ক্বইনা 'আলা-র্কুসিয়্যিহী জ্বাসাদান্ ছুম্মা আনা-ব্।
আর আমি তো সুলাইমানকে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তার সিংহাসনের উপর রেখেছিলাম একটি দেহ*, অতঃপর সে আমার অভিমুখী হল। * আবু হুরাইরা সূত্রে বুখারী শরীফের বর্ণনা মতে হযরত সুলাইমান একদা তাঁর সকল স্ত্রীর সাথে সহবাস করার দীপ্ত কামনা ব্যক্ত করে বলেন যে, এর ফলে তাদের গর্ভ
সে বললো: ‘আমার প্রভু! আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাকে দান করো এমন একটি সাম্রাজ্য, যেমনটির অধিকারী যেনো আমার পরে আর কেউ না হয়। নিশ্চয়ই তুমি মহান দাতা।’
ক্ব-লা রব্বিগ্ র্ফিলী অহাব্লী মুল্কাল্ লা-ইয়াম্বাগী লিআহাদিম্ মিম্ বা'দী ইন্নাকা আন্তাল্ অহ্হা-ব্।
সুলাইমান বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন যা আমার পর আর কারও জন্যই প্রযোজ্য হবে না। নিশ্চয়ই আপনি বড়ই দানশীল।
ফলে আমরা বাতাসকে তার অধীন করে দিয়েছিলাম। বাতাস তার আদেশে কোমলভাবে প্রবাহিত হতো যেখানে সে ইচ্ছা করতো।
ফাসার্খ্খানা-লার্হু রীহা তাজরী বিআম্রিহী রুখ-য়ান্ হাইছু আছোয়া-ব্।
ফলে আমি বায়ুকে তার অনুগত করে দিলাম যা তার আদেশে মৃদুমন্দভাবে প্রবাহিত হত, যেখানে সে পৌঁছতে চাইত।
এবং শয়তানদেরকেও (জিনদেরকেও) তার অধীন করে দিয়েছিলাম। তারা ছিলো ইমারত নির্মাণকারী আর ডুবুরি।
অশ্শাইয়া ত্বীনা কুল্লা বান্না-য়িঁও ওয়া গাওঅ-ছ্।
আর (অনুগত করে দিলাম) প্রত্যেক প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী শয়তান [জিন] সমূহকেও
আর শৃংখলে আবদ্ধ অনেককেও।
অআ-খরীনা মুর্ক্বরনীনা ফিল্ আছ্ফা-দ্।
আর শেকলে আবদ্ধ আরও অনেককে।
(আমরা তাকে বলেছি: তোমার প্রতি) এগুলো আমাদের দান। এগুলো থেকে তুমি অন্যদের দিতে পারো কিংবা নিজে রাখতে পারো, এর জন্যে তোমাকে হিসাব দিতে হবেনা।
হা-যা- 'আত্বোয়া-য়ুনা ফাম্নুন্ আও আম্সিক্ বিগইরি হিসা-ব্।
এটি আমার অনুগ্রহ। অতএব তুমি এটি অন্যের জন্য খরচ কর অথবা নিজের জন্য রেখে দাও, এর কোন হিসাব দিতে হবে না।
আমাদের এখানে তার জন্যে রয়েছে নৈকট্যের মর্যাদা এবং উত্তম পরিণাম।
অইন্না-লাহূ 'ইন্দানা-লা-যুল্ফা- অহুস্না- মায়া-ব্।
আর আমার নিকট রয়েছে তার জন্য নৈকট্য ও শুভ পরিণাম।
স্মরণ করো আমাদের দাস আইউবকে। সে তার প্রভুকে ডেকে বলেছিল: ‘(প্রভু!) শয়তান আমাকে যন্ত্রণা আর কষ্টে ফেলেছে।’
অর্য্কু 'আব্দানা য় আইয়্যূব্। ইয্ নাদা-রব্বাহূ য় আন্নী মাস্ সানিয়াশ্ শাইত্বোয়া-নু বিনুছ্বিঁও অ'আযা-ব্।
আর স্মরণ কর আমার বান্দা আইউবকে, যখন সে তার রবকে ডেকে বলেছিল, ‘শয়তান তো আমাকে কষ্ট ও আযাবের ছোঁয়া দিয়েছে’।
(আমরা তাকে বলেছিলাম:) ‘তুমি তোমার পা দিয়ে জমিনে আঘাত করো। এ হলো তোমার গোসলের সুশীতল পানি এবং পানীয় পানি।’
র্উকুদ্ব্ বিরিজলিকা হা-যা-মুগ্তাসালুম্ বা -রিদুঁও অশার-ব্।
[আমি বললাম], ‘তুমি তোমার পা দিয়ে (ভূমিতে) আঘাত কর, এ হচ্ছে গোসলের সুশীতল পানি আর পানীয়’।
আমরা তাকে দান করেছি তার পরিবারবর্গকে এবং অনুরূপ আরো, আমাদের পক্ষ থেকে রহমত (অনুগ্রহ) হিসাবে এবং বুদ্ধিমান লোকদের জন্যে উপদেশ হিসেবে।
অওয়াহাব্না-লাহূ য় আহ্লাহূ অমিছ্লাহুম্ মা'আহুম্ রহ্মাতাম্ মিন্না-অযিক্র- লিঊলিল্ আল্বা-ব্।
আর আমার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ ও বুদ্ধিমানদের জন্য উপদেশস্বরূপ আমি তাকে দান করলাম তার পরিবার-পরিজন ও তাদের সাথে তাদের অনুরূপ অনেককে।
আমরা তাকে আরো আদেশ করলাম, এক মুষ্টি তৃণ নাও, তা দিয়ে আঘাত করো এবং শপথ ভঙ্গ করোনা। আমরা তাকে পেয়েছি ধৈর্যশীল। কতো যে উত্তম দাস ছিলো সে! আর সে ছিলো আমার অভিমুখী।
অখুয্ বিয়াদিকা দ্বিগ্ছান্ ফাদ্ব্রিব্ বিহী অলা-তাহ্নাছ্ ইন্না-অজ্বাদ্না-হু ছোয়া-বির- নি'মাল্ 'আব্দ ইন্নাহূ য় আওয়্যা-ব্।
আর তুমি তোমার হাতে এক মুঠো তৃণলতা নাও এবং তা দিয়ে আঘাত কর। আর কসম ভংগ করো না। নিশ্চয় আমি তাকে ধৈর্যশীল পেয়েছি। সে কতই না উত্তম বান্দা! নিশ্চয়ই সে ছিল আমার অভিমুখী।
স্মরণ করো আমাদের দাস ইবরাহিম, ইসহাক এবং ইয়াকুবকে। তারা ছিলো হাত এবং চোখওয়ালা (শক্তিশালী এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন)।
অর্য্কু 'ইবা-দানা য় ইব্রা-হীমা অইস্হা-ক্ব অ ইয়া'কুবা উলিল্ আইদী অল্ আব্ছোয়ার্-।
আর স্মরণ কর আমার বান্দা ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়া‘কূবকে। তারা ছিল শক্তিমান ও সূক্ষ্মদর্শী।
আমরা তাদের মনোনীত করেছিলাম বিশেষ গুণের জন্যে, আর তা ছিলো পরকালের স্মরণ।
ইন্না য় আখ্লাছ্না-হুম্ বিখ-লিছোয়াতিন্ যিক্রদ্দার্-।
নিশ্চয় আমি তাদেরকে বিশেষ করে পরকালের স্মরণের জন্য নির্বাচিত করেছিলাম।
তারা ছিলো আমাদের মনোনীত উত্তম দাস।
অ ইন্নাহুম্ 'ইন্দানা-লামিনাল্ মুছ্ত্বোয়াফাইনাল্ আখ্ইয়ার্-।
আর নিশ্চয় তারা ছিল আমার মনোনীত, সর্বোত্তম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
স্মরণ করো ইসমাঈল, আলইয়াসা এবং যুলকিফলের কথা। তারা সবাই ছিলো (আমাদের) উত্তম (দাস)।
অর্য্কু ইস্মা-'ঈলা অল্ইয়াসা'আ অযাল্ কিফ্ল্ অ কুল্লুম্ মিনাল্ আখ্ইয়ার্-।
আরো স্মরণ কর ইসমাঈল, আল-ইয়াসা‘আ ও যুল-কিফলের কথা। এরা প্রত্যেকেই ছিল সর্বোত্তমদের অন্তর্ভুক্ত।
এগুলো সবই উপদেশ। আর মুত্তাকিদের জন্যে রয়েছে উত্তম আবাস,
হা-যা-যিক্র্ অ ইন্না-লিল্মুত্তাক্বীনা লাহুস্না মায়া-ব্।
এটি এক স্মরণ, আর মুত্তাকীদের জন্য অবশ্যই রয়েছে উত্তম নিবাস-
(তা হলো) চিরস্থায়ী জান্নাত, যার দ্বার রয়েছে তাদের জন্যে উন্মুক্ত।
জ্বান্না-তি 'আদ্নিম্ মুফাত্তাহাতাল্ লাহুমুল্ আব্ওয়া-ব্।
চিরস্থায়ী জান্নাত, যার দরজাসমূহ থাকবে তাদের জন্য উন্মুক্ত।
সেখানে তারা আসন গ্রহণ করবে হেলান দিয়ে। সেখানে তারা চাইবে নানা রকম ফলফলারি আর পানীয়।
মুত্তাকিয়ীনা ফীহা-ইয়াদ্ঊ'না ফীহা-বিফা-কিহাতিন্ কাছীরাতিঁও অশার-ব্।
সেখানে তারা হেলান দিয়ে আসীন থাকবে, সেখানে তারা বহু ফলমূল ও পানীয় চাইবে।
তাদের কাছে থাকবে আয়তনয়না সমবয়েসী নারীরা।
অ'ইন্দাহুম্ ক্বা-ছিরাতুত ত্বোর্য়াফি আত্র-ব্।
আর তাদের নিকটে থাকবে আনতনয়না সমবয়সীরা।
তোমাদেরকে এসব কিছুর প্রতিশ্রুতি দেয়া হলো হিসাবের দিন দেয়ার জন্যে।
হা-যা-মা- তূ'আদূনা লিইয়াওমিল্ হিসা-ব্।
হিসাব দিবস সম্পর্কে তোমাদেরকে এ ওয়াদাই দেয়া হয়েছিল।
এগুলো হবে আমাদের পক্ষ থেকে রিযিক। এগুলো কখনো ফুরাবে না।
ইন্না-হাযা-লারিয্ক্বনা- মা-লাহূ মিন্ নাফা-দ্।
নিশ্চয় এটি আমার দেয়া রিয্ক, যা নিঃশেষ হবার নয়।
এই হবে (মুত্তাকিদের অবস্থা), আর সীমালংঘনকারীদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট পরিণাম।
হা-যা- অ ইন্না-লিত্ব ত্বোয়া-গীনা লার্শারা মায়া-ব্।
এমনই, আর নিশ্চয় সীমালংঘনকারীদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্টতম নিবাস।
তাহলো জাহান্নাম। তাতেই প্রবেশ করবে তারা, আর সেটা কতো যে নিকৃষ্ট বিশ্রামাগার।
জ্বাহান্নামা ইয়াছ্লাওনাহা-ফাবি'সাল্ মিহা-দ্।
জাহান্নাম, তারা সেখানে অগ্নিদগ্ধ হবে। কতই না নিকৃষ্ট সে নিবাস!
এটাই হবে সীমা লঙ্ঘনকারীদের পরিণাম। সুতরাং তারা আস্বাদন করুক টগবগে ফুটন্ত গরম পানি আর পূঁজ,
হা-যা-ফাল্ ইয়াযূকুহু হামীমুঁও অগাস্সা-ক্ব্।
এমনই, সুতরাং তারা এটি আস্বাদন করুক, ফুটন্ত পানি ও পুঁজ।
এবং এ রকম আরো অনেক ধরণের আযাব।
অআ-খারু মিন্ শাক্লিহী য় আয্ওয়া-জ্ব্।
আরও রয়েছে এ জাতীয় বহুরকম আযাব।
(নিজেদের অনুসারীদের জাহান্নামে প্রবেশ করতে দেখে তারা বলবে:) ‘এই তো এক বাহিনী তোমাদের সাথে প্রবেশ করছে। তাদের প্রতি নেই কোনো অভিনন্দন। তারা তো জাহান্নামেই দগ্ধ হবে।’
হা-যা-ফাওজুম্ মুক্ব্ তাহিমুম্ মা'আকুম্ লা-র্মাহাবাম্ বিহিম্ ইন্নাহুম্ ছোয়া-লুন্ নার্-।
এই তো এক দল তোমাদের সাথেই প্রবেশ করছে, তাদের জন্য নেই কোন অভিনন্দন। নিশ্চয় তারা আগুনে জ্বলবে।
তারা (অনুসারীরা) বলবে: ‘বরং তোমাদের জন্যেও নেই কোনো অভিনন্দন। তোমরাই তো আগে আমাদের জন্যে এর ব্যবস্থা করেছো। এটা কতো যে নিকৃষ্ট আবাস।’
ক্ব-লূ বাল্ আন্তুম্ লা-মারহা-বাম্ বিকুম্ আন্তুম্ ক্বদ্দাম্ তুমূহু লানা-ফাবি'সাল্ ক্বরর্-।
অনুসারীরা বলবে, ‘বরং তোমরাও, তোমাদের জন্যও তো নেই কোন অভিনন্দন। তোমরাই আমাদের জন্য এ বিপদ এনেছ। অতএব কতই না নিকৃষ্ট এ আবাসস্থল’!
তারা বলবে: ‘আমাদের প্রভু! যে আমাদেরকে এর (জাহান্নামের) সম্মুখীন করেছে, তাকে জাহান্নামে দ্বিগুণ শাস্তি বাড়িয়ে দাও।’
ক্ব-লূ রব্বানা-মান্ ক্বদ্দামা লানা-হা-যা-ফাযিদ্হু 'আযা-বান্ দি'ফান্ ফিন্নার্-।
তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, যে আমাদের জন্য এ বিপদ এনেছে, জাহান্নামে তুমি তার আযাবকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দাও।’
তারা আরো বলবে: ‘‘কী হলো, (পৃথিবীতে) আমরা যাদের খারাপ লোক বলে গণ্য করতাম তাদেরকে যে (জাহান্নামে) দেখছি না!
অক্ব-লূ মা-লানা-লা-নার-রিজ্বা-লান্ কুন্না-না'উদ্দুহুম্ মিনাল্ আশ্রর্-।
তারা আরো বলবে, ‘আমাদের কী হল যে, আমরা যাদের মন্দ গণ্য করতাম সে সকল লোককে এখানে দেখছি না।’
তাহলে কি আমরা তাদেরকে অন্যায়ভাবে বিদ্রুপ করেছি? নাকি তাদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টি বিভ্রম ঘটেছে?’’
আত্তাখয্না-হুম্ সিখ্রিয়্যান্ আম্ যা-গাত্ 'আন্হুমুল্ আব্ছোয়ার্-।
‘তবে কি আমরা তাদের ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্র মনে করতাম, নাকি তাদের ব্যাপারে [আমাদের] দৃষ্টি বিভ্রম ঘটেছে’?
এতো নিশ্চিত ব্যাপার, জাহান্নামীদের মধ্যে এই বাকবিতন্ডা হবে।
ইন্না যা-লিকা লাহাকক্বুন্ তাখা-ছুমু আহ্লিন্ নার্-।
নিশ্চয়ই এটি সুনিশ্চিত সত্য- জাহান্নামীদের এই পারস্পরিক বাকবিতন্ডা।
হে নবী! বলো: আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র। প্রবল প্রতাপশালী ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই।
কুল্ ইন্নামা য় আনা মুন্যিরুঁও অমা- মিন্ ইলাহিন্ ইল্লাল্লা-হুল্ ওয়া-হিদুল্ ক্বাহ্হার্-।
বল, ‘আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র। ছাড়া আর কোন (সত্য) নেই। যিনি এক, প্রবল প্রতাপশালী।’
তিনিই মালিক মহাকাশ এবং পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর। তিনি মহাশক্তিধর, ক্ষমাশীল।
রব্বুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি অমা-বাইনাহুমাল্ 'আযী যুল্ গফ্ফার্-।
আসমানসমূহ ও যমীন এবং এতদোভয়ের মধ্যস্থিত যা কিছু রয়েছে সব কিছুর রব তিনি। তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাক্ষমাশীল।
বলো: ‘‘এ এক মহাসংবাদ,
কুল্ হুওয়া নাবায়ুন্ 'আজীম্।
বল, ‘এটি এক মহাসংবাদ’।
যা থেকে তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছো।
আনতুম আন্হু মু'রিদুন্।
‘তোমরা তা থেকে বিমুখ হয়ে আছ।’
ঊর্ধ্বলোকে তাদের বিতর্ক সম্পর্কে আমার কোনো এলেম ছিলনা।
মা-কা-না লিয়া মিন্ 'ইল্মিম্ বিল্ মালায়িল্ আ'লা য় ইয্ ইয়াখ্তাছিমূন্।
‘ঊর্ধ্বলোক সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞানই ছিল না যখন তারা বাদানুবাদ* করছিল’। * আদম আ. এর সৃষ্টির প্রাক্কালে ফেরেশতাদের মধ্যকার পারস্পরিক আলোচনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আমার কাছে তো এই অহি এসেছে যে, আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।’’
ইঁ ইয়ূ হা য় ইলাইয়্যা ইল্লা য় আন্নামা য় আনা নাযীরুম্ মুবীন্।
আমার কাছে তো এ ওহীই আসে যে, আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র’।
স্মরণ করো, তোমার প্রভু ফেরেশতাদের বলেছিলেন, আমি কাদামাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি,
ইয্ ক্ব-লা রব্বুকা লিল্মালা-য়িকাতি ইন্নী খ-লিকুম্ বাশারাম্ মিন্ ত্বীন্।
স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আমি মাটি হতে মানুষ সৃষ্টি করব।’
আমি যখন তাকে নিখুঁত ও সুষম করবো এবং তার মধ্যে সঞ্চার করে দেবো রূহ, তখন তোমরা তার প্রতি সাজদায় অবনত হয়ো।
ফাইযা-সাওয়্যাইতুহূ অ নাফাখ্তু ফীহি র্মি রূহী ফাক্বা'ঊ লাহূ সা-জ্বিদীন্।
‘যখন আমি তাকে সুষম করব এবং তার মধ্যে আমার রূহ সঞ্চার করব, তখন তোমরা তার উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে যাও’।
অতএব, ফেরেশতারা সবাই সাজদায় অবনত হয়
ফাসাজ্বাদ্বাল্ মালা-য়িকাতু কুল্লুহুম্ আজমা'ঊন্।
ফলে ফেরেশতাগণ সকলেই সিজদাবনত হল।
শুধুমাত্র ইবলিস ছাড়া। সে অহংকার করে এবং কাফিরদের অন্তরভুক্ত হয়ে পড়ে।
ইল্লা য় ইব্লীস্ ইস্তাক্বার অকা-না মিনাল্ কা-ফিরীন্।
ইবলীস ছাড়া, সে অহঙ্কার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ল।
বললেন: ‘হে ইবলিস! আমি যাকে নিজ হাতে তৈরি করেছি, তাকে সাজদা করা থেকে কিসে তোকে বাধা দিয়েছে? তুই কি অহংকার করলি, না কি তুই উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন?’
ক্ব-লা ইয়া য় ইব্লীসু মা- মানা'আকা আন্ তাস্জ্বুদা লিমা-খলাকতু বিইয়াদাই আস্তার্ক্বাতা আম্ কুন্তা মিনাল্ 'আ-লীন্।
বললেন, ‘হে ইবলীস, আমার দু’হাতে আমি যাকে সৃষ্টি করেছি তার প্রতি সিজদাবনত হতে কিসে তোমাকে বাধা দিল? তুমি কি অহঙ্কার করলে, না তুমি অধিকতর উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন?’
সে বললো: ‘আমি তার চাইতে শ্রেষ্ঠ, কারণ, আপনি আমাকে তৈরি করেছেন আগুন দিয়ে এবং তাকে তৈরি করেছেন কাদামাটি দিয়ে।’
ক্ব-লা আনা খইরুম্ মিন্হু খলাকতানী মিন্ না-রিঁও অখলাকতাহূ মিন্ ত্বীন্।
সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নি থেকে আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।’
বললেন: ‘‘বেরিয়ে যা তুই এখান থেকে, এখন থেকে তুই বিতাড়িত।
ক্ব-লা ফাখ্রুজ মিন্হা-ফাইন্নাকা রাজ্বীম্।
তিনি বললেন, ‘তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও। কেননা নিশ্চয় তুমি বিতাড়িত।
আর তোর প্রতি আমার লা’নত (বর্ষিত হতে থাকবে) প্রতিদান দিবস পর্যন্ত।’’
অইন্না 'আলাইকা লা'নাতী য় ইলা-ইয়াওমিদ্দীন্।
আর নিশ্চয় বিচার দিবস পর্যন্ত তোমার প্রতি আমার লা‘নত বলবৎ থাকবে।
সে বললো: ‘প্রভু! আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।’
ক্ব-লা রব্বি ফাআর্ন্জিনী য় ইলা-ইয়াওমি ইয়ুব্'আছূন্।
সে বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে সে দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন যেদিন তারা পুনরুত্থিত হবে।’
তিনি বললেন: ‘‘তোকে অবকাশ দেয়া হলো।
ক্ব-লা ফাইন্নাকা মিনাল্ মুন্জোয়ারীন্।
তিনি বললেন, আচ্ছা তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হলে-
নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত হবার দিন পর্যন্ত।’’
ইলা-ইয়াওমিল্ অকতিল্ মা'লূম্।
‘নির্ধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত।’
সে বললো: ‘‘আপনার ইযযতের শপথ, আমি তাদের সবাইকেই বিপথগামী করে দেবো,
ক্ব-লা ফাবিই'য্যাতিকা লাউগ্ওয়িইয়ান্নাহুম্ আজমা'ঈন্।
সে বলল, ‘আপনার ইজ্জতের কসম! আমি তাদের সকলকেই বিপথগামী করে ছাড়ব।’
তবে তাদের মধ্যে আপনার বাছাই করা দাসেরা ছাড়া।’’
ইল্লা-'ইবা-দাকা মিন্হুমুল্ মুখ্লাছীন্।
তাদের মধ্য থেকে আপনার একনিষ্ঠ বান্দারা ছাড়া।
তিনি বললেন: ‘‘এটাই সত্য আর আমি সত্য বলি:
ক্ব-লা ফাল্ হাক্ব্ কু অল্হাকক্ব আকুল্।
বললেন, ‘এটি সত্য আর সত্য-ই আমি বলি’
আমি তোকে আর তোর অনুসারীদের দিয়ে পরিপূর্ণ করবো জাহান্নাম।’’
লাআম্লায়ান্না জ্বাহান্নামা মিন্কা অ মিম্মান্ তাবি'আকা মিন্হুম্ আজমা'ঈন্।
‘তোমাকে দিয়ে এবং তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করত তাদের দিয়ে নিশ্চয় আমি জাহান্নাম পূর্ণ করব।’
হে নবী! বলো: ‘আমি তো এ কাজের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আর যারা মিথ্যা দাবি করে আমি সে রকম লোকও নই।’
কুল্ মা য় আস্য়ালুকুম্ 'আলাইহি মিন্ আজরিঁও অমা য় আনা মিনাল্ মুতাকাল্লিফীন্।
বল, ‘এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না আর আমি ভানকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।
এ (কুরআন) তো জগতবাসীর জন্যে একটি উপদেশ ছাড়া কিছু নয়।
ইন্ হুওয়া ইল্লা-যিক্রুল্ লিল্'আ-লামীন্।
সৃষ্টিকুলের জন্য এ তো উপদেশ ছাড়া আর কিছু নয়।
তোমরা অবশ্যি এর সংবাদ জানতে পারবে অল্পকাল পরেই।
অলা তা'লামুন্না নাবায়াহূ বা'দা হীন্
আর অল্পকাল পরে তুমি অবশ্যই এর সংবাদ জানবে।