নূন! কলমের শপথ আর শপথ সেগুলোর যা তারা (ফেরেশ্তারা) ছত্রে ছত্রে লিপিবদ্ধ করে।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম নূ-ন্ অল্ক্বলামি অমা-ইয়াস্তুরূন্।
নূন। শপথ কলমের এবং সেই বিষয়ের যা তারা লিপিবদ্ধ করে,
নূন! ভাবো কলম ও যা তারা লেখে।
Chapter 68, 52 verses
নূন! কলমের শপথ আর শপথ সেগুলোর যা তারা (ফেরেশ্তারা) ছত্রে ছত্রে লিপিবদ্ধ করে।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম নূ-ন্ অল্ক্বলামি অমা-ইয়াস্তুরূন্।
নূন। শপথ কলমের এবং সেই বিষয়ের যা তারা লিপিবদ্ধ করে,
নূন! ভাবো কলম ও যা তারা লেখে।
তোমার প্রভুর অনুগ্রহে তুমি পাগল নও।
মা য় আন্তা বিনি'মাতি রব্বিকা বিমাজ্বনূন্।
আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহে আপনি উম্মাদ নন।
তোমার প্রভুর অনুগ্রহে তুমি কিন্তু পাগল নও।
অবশ্যি তোমার জন্যে রয়েছে পুরস্কার অফুরান।
অইন্না লাকা লাআজরন্ গইর মাম্নূন্।
আপনার জন্যে অবশ্যই রয়েছে অশেষ পুরস্কার।
আর তোমার জন্য নিশ্চয়ই রয়েছে এমন এক প্রতিদান যা শেষ হবার নয়।
অবশ্যি তুমি এক মহান চরিত্রের অধিকারী।
অইন্নাকা লা'আলা- খুলুক্বিন্ 'আজীম্।
আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।
আর নিঃসন্দেহ তুমি সুমহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত।
অচিরেই তুমি দেখবে, আর দেখবে তারাও,
ফাসাতুব্ছিরু অইয়ুব্ছিরূন।
সত্ত্বরই আপনি দেখে নিবেন এবং তারাও দেখে নিবে।
ফলে তুমি শীঘ্রই দেখবে এবং তারাও দেখতে পাবে - -
তোমাদের মধ্যে কে আপতিত ফিতনায়?
বিআইয়িকুমুল্ মাফ্তূন্।
কে তোমাদের মধ্যে বিকারগ্রস্ত।
যে তোমাদের মধ্যে কে বিকারগ্রস্ত।
তোমার প্রভুই সেই সত্তা, যিনি সর্বাধিক জানেন কারা তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত এবং তিনিই তাদের সর্বাধিক জানেন, যারা হিদায়াত প্রাপ্ত।
ইন্না রব্বাকা হুওয়া আ'লামু বিমান্ দ্বোয়াল্লা আ'ন্ সাবীলিহী অহুওয়া আ'লামু বিল্মুহ্তাদীন্।
আপনার পালনকর্তা সম্যক জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি জানেন যারা সৎপথ প্রাপ্ত।
নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, তিনি ভাল জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, আর তিনি ভাল জানেন সৎপথপ্রাপ্তদের ।
সুতরাং তুমি মিথ্যাবাদীদের আনুগত্য করোনা।
ফালা-তুত্বি'ইল্ মুকায্যিবীন্।
অতএব, আপনি মিথ্যারোপকারীদের আনুগত্য করবেন না।
অতএব মিথ্যাচারীদের আজ্ঞাপালন করো না।
তারা চায়, তুমি যদি নমনীয় হও, তবেই তারা নমনীয় হবে।
অদ্দূ লাও তুদ্হিনু ফাইয়ুদ্হিনূন্।
তারা চায় যদি আপনি নমনীয় হন, তবে তারাও নমনীয় হবে।
তারা চায় যে তুমি যদি নমনীয় হও তাহলে তারাও নমনীয় হবে।
তুমি আনুগত্য করোনা বারবার হলফকারী হীন ব্যক্তির,
অলা-তুত্বি' কুল্লা হাল্লা-ফিম্ মাহীনিন্।
যে অধিক শপথ করে, যে লাঞ্ছিত, আপনি তার আনুগত্য করবেন না।
আর আজ্ঞাপালন করো না প্রত্যেকটি হলফকারীর, লাঞ্ছিতজনের, - -
যে পেছনে নিন্দা করে এবং একজনের কথা আরেকজনের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়।
হাম্মা-যিম্ মাশ্শা-য়িম্ বিনামীম।
যে পশ্চাতে নিন্দা করে একের কথা অপরের নিকট লাগিয়ে ফিরে।
পরনিন্দাকারীর, কলঙ্ক রটাতে ঘুরে - বেড়ানো লোকের, - -
সে ভালো কাজে বাধাদানকারী, সীমালংঘনকারী, পাপিষ্ঠ।
মান্না-'ইল্ লিল্খইরি মু'তাদিন্ আছীম্।
যে ভাল কাজে বাধা দেয়, সে সীমালংঘন করে, সে পাপিষ্ঠ,
ভালোকাজে নিষেধকারীর, সীমালংঘনকারীর পাপাচারীর, - -
সে কর্কশ স্বভাবের, তারপর কুখ্যাত।
'ঊতুল্লিম্ বা'দা যা-লিকা যানীমিন্।
কঠোর স্বভাব, তদুপরি কুখ্যাত;
ষন্ডা - গুন্ডার, তদুপরি অসচ্চরিত্রের, - -
এর কারণ, তার অনেক মাল সম্পদ আছে এবং আছে অনেক সন্তান সন্ততি।
আন্ কা-না যা-মা-লিঁও অবানীন্।
এ কারণে যে, সে ধন - সম্পদ ও সন্তান সন্ততির অধিকারী।
এইজন্য যে সে ধনসম্পদের এবং সন্তানসন্ততির অধিকারী।
তার কাছে যখন আমাদের আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, সে বলে: ‘এগুলো তো সেকালের কাহিনী।’
ইযা-তুত্লা-'আলাইহি আ-ইয়া-তুনা-ক্ব-লা আসা-ত্বীরুল্ আওয়্যালীন্।
তার কাছে আমার আয়াত পাঠ করা হলে সে বলে; সেকালের উপকথা।
যখন তার কাছে আমাদের বাণীসমূহ পাঠ করা হয় সে বলে - - ''সেকেলে কল্পকাহিনী!’’
অচিরেই আমরা দাগ লাগিয়ে দেবো তার শুঁড়ে (নাকে)।
সানাসিমুহূ 'আলাল্ র্খুতুম্ ।
আমি তার নাসিকা দাগিয়ে দিব।
আমরা শীঘ্রই তার উঁচু নাকে দাগ করে দেব।
আমরা তাদের পরীক্ষা করেছি, যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম বাগানওয়ালাদের, যখন তারা কসম খেয়ে বলেছিল তারা সকালে বাগানের ফল পাড়বে,
ইন্না-বালাওনা-হুম্ কামা-বালাওনা য় আছ্হা-বাল্ জ্বান্নাতি ইয্ আকসামূ ইয়াছ্রিমুন্নাহা-মুছ্বিহীন্।
আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেমন পরীক্ষা করেছি উদ্যানওয়ালাদের, যখন তারা শপথ করেছিল যে, সকালে বাগানের ফল আহরণ করবে,
আমরা নিশ্চয়ই তাদের পরীক্ষা করব যেমন আমরা পরীক্ষা করেছিলাম বাগান - মালিকদের, যখন ওরা কসম খেয়েছিল যে তারা নিশ্চয় ভোরবেলা এর ফসল কাটবে, - -
তারা ইনশাল্লাহ ( চাহেন তো) বলেনি।
অলা-ইয়াস্তাছ্নূন্।
ইনশাআল্লাহ না বলে।
আর তারা কোনো সংরক্ষণ করে নি।
তারপর তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে সেই বাগানের উপর দিয়ে বয়ে গেলো একটি ঝাপটা। তখন তারা ছিলো ঘুমে।
ফাত্বোয়া-ফা 'আলাইহা-ত্বোয়া-য়িফুম্ র্মি রব্বিকা অহুম্ না-য়িমূন্।
অতঃপর আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে বাগানে এক বিপদ এসে পতিত হলো। যখন তারা নিদ্রিত ছিল।
ফলে তোমার প্রভুর কাছ থেকে এক দুর্বিপাক এর উপরে আপতিত হয়েছিল যখন তারা ঘুমিয়ে পড়েছিল।
ফলে সেই বাগান হয়ে যায় কালো বর্ণ (কয়লার মতো)।
ফাআছ্বাহাত্ কাছ্ছোয়ারীম।
ফলে সকাল পর্যন্ত হয়ে গেল ছিন্নবিচ্ছিন্ন তৃণসম।
কাজেই সকালবেলায় তা হয়ে গেল এক কালো নিষ্ফলা জমির মতো।
ভোরে তারা পরস্পরকে ডাকলো (বললো:)
ফাতানা-দাও মুছ্বিহীন।
সকালে তারা একে অপরকে ডেকে বলল,
তারা কিন্তু সাত - সকালে একে অপরকে ডাকাডাকি করলে - -
‘যদি তোমরা সকাল সকাল ফল পাড়তে চাও, তবে সকাল সকাল বাগানে চলো।’
আনিগ্দূ 'আলা র্হাছিকুম্ ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-রিমীন্।
তোমরা যদি ফল আহরণ করতে চাও, তবে সকাল সকাল ক্ষেতে চল।
এই বলে - - ''সকাল সকাল তোমাদের খেত - খামারে যাও যদি তোমরা ফসল কাটতে চাও।’’
তারপর তারা (বাগানের দিকে) চললো নিচু স্বরে (এই) কথা বলতে বলতে:
ফান্ত্বোয়ালাকু অহুম্ ইয়াতাখ-ফাতূন।
অতঃপর তারা চলল ফিসফিস করে কথা বলতে বলতে,
তখন তারা বেরিয়ে পড়ল, আর তারা ফিসফিস করতে থাকল - -
আজ যেনো তোমাদের কাছে বাগানে দাখিল না হয় কোনো মিসকিন (অভাবী)।
আল্লা-ইয়াদ্খুলান্নাহাল্ ইয়াওমা 'আলাইকুম্ মিস্কীন।
অদ্য যেন কোন মিসকীন ব্যক্তি তোমাদের কাছে বাগানে প্রবেশ করতে না পারে।
এই বলে - - ''আজ যেন তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো হাভাতে সেখানে ঢুকে না পড়ে।’’
আর তারা ভোরে ভোরেই বাগানে রওয়ানা করলো (মিসকিন) প্রতিরোধ করতে সক্ষম মনে করে।
অগদাও 'আলা-র্হাদিন্ ক্ব-দিরীন্।
তারা সকালে লাফিয়ে লাফিয়ে সজোরে রওয়ানা হল।
আর তারা সকাল সকাল সংকল্পে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে যাত্রা করল।
তারপর যখন বাগানের অবস্থা দেখলো, বললো: ‘‘আমরা তো বিভ্রান্ত হয়ে পড়লাম।
ফালাম্মা-রয়াওহা- ক্ব-লূ য় ইন্না-লাদ্বোয়া-ল্লূন।
অতঃপর যখন তারা বাগান দেখল, তখন বললঃ আমরা তো পথ ভূলে গেছি।
কিন্তু যখন তারা তা দেখল তারা বললে - - ''নিশ্চয় আমরা পথ ভুল করেছি।’’
বরং আমরা বঞ্চিত হয়ে গেছি।’’
বাল্ নাহ্নু মাহ্রূমূন্।
বরং আমরা তো কপালপোড়া,
''না, আমরা বঞ্চিত হয়েছি।’’
তাদের সবচে’ ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি বললো: ‘আমি কি তোমাদের বলিনি, কেন তোমরা তসবিহ করছোনা?
ক্ব-লা আওসাতুহুম্ আলাম্ আকুল্ লাকুম্ লাওলা-তুসাব্বিহূন্।
তাদের উত্তম ব্যক্তি বললঃ আমি কি তোমাদেরকে বলিনি? এখনও তোমরা তা’আলার পবিত্রতা বর্ণনা করছো না কেন?
ওদের মধ্যের শ্রেষ্ঠজন বললে - - ''আমি কি তোমাদের বলি নি, কেন তোমরা জপতপ করছ না?’’
(তারা বললো:) আমাদের প্রভুর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, অবশ্যি আমরা ছিলাম যালিম।
ক্ব-লূ সুব্হা-না রব্বিনা য় ইন্না-কুন্না-জোয়া-লিমীন্।
তারা বললঃ আমরা আমাদের পালনকর্তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, নিশ্চিতই আমরা সীমালংঘনকারী ছিলাম।
তারা বললে - - ''আমাদের প্রভুর মহিমা ঘোষিত হোক, আমরা নিশ্চয় কিছুটা ফসল দান করতে অন্যায় করেছি।’’
তখন তারা পরস্পরের প্রতি দোষারোপ করতে থাকলো।
ফাআকবালা বা'দ্বুহুম 'আলা- বা'দ্বিঁ ইইয়াতালা-ওয়ামূন্।
অতঃপর তারা একে অপরকে ভৎর্সনা করতে লাগল।
তারপর তাদের কেউ - কেউ অন্যের কাছে গেল নিজেদের দোষারোপ করতে করতে।
তারা বললো: ‘‘হায় ধ্বংস আমাদের, অবশ্যি আমরা ছিলাম সীমালংঘনকারী।
ক্ব-লূ ইয়া-অইলানা য় ইন্না-কুন্না-ত্বোয়া-গীন্।
তারা বললঃ হায়! দুর্ভোগ আমাদের আমরা ছিলাম সীমাতিক্রমকারী।
তারা বললে - - ''হায়, ধিক্ আমাদের! আমরা নিশ্চয়ই সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিলাম।
হয়তো আমাদের প্রভু আমাদেরকে এর চাইতে উত্তম বদলা (বিনিময়) দেবেন, আমরা আমাদের প্রভুর অভিমুখী হলাম।’’
'আসা-রব্বুনা য় আইঁ ইয়ুব্দিলানা-খইরাম্ মিন্হা য় ইন্না য় ইলা-রব্বিনা- র-গিবূন্।
সম্ভবতঃ আমাদের পালনকর্তা পরিবর্তে এর চাইতে উত্তম বাগান আমাদেরকে দিবেন। আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে আশাবাদী।
''হতে পারে আমাদের প্রভু আমাদের জন্য এর চেয়েও ভাল কিছু বদলে দেবেন, নিশ্চয় আমাদের প্রভুর কাছেই আমরা সানুনয় প্রার্থনা করছি।’’
আযাব এরকমই হয়ে থাকে। আর আখিরাতের আযাব অবশ্যি এর চাইতে অনেক জঘন্যতর, যদি তারা জানতো!
কাযা-লিকাল্ 'আযা-ব্ অলা'আযা-বুল্ আ-খিরতি আর্ক্বা। লাও কা-নূ ইয়া'লামূন্।
শাস্তি এভাবেই আসে এবং পরকালের শাস্তি আরও গুরুতর; যদি তারা জানত!
এমনটাই শাস্তি হয়ে থাকে। আর পরকালের শাস্তি তো আরো বিরাট, - - যদি তারা জানতো!
নিশ্চয়ই মুত্তাকিদের জন্যে তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে ‘জান্নাতুন নায়ীম’।
ইন্না লিল্মুত্তাক্বীনা 'ইন্দা রব্বিহিম্ জ্বান্না-তিন্ না'ঈম্।
মোত্তাকীদের জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে নেয়ামতের জান্নাত।
নিঃসন্দেহ ধর্মভীরুদের জন্য তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে আনন্দময় উদ্যান - সমূহ।
আমরা কি আত্মসমর্পণকারী - মুসলিমদের গণ্য করবো অপরাধীদের সমতুল্য?
আফানাজ'আলুল্ মুস্লিমীনা কাল্মুজরিমীন্।
আমি কি আজ্ঞাবহদেরকে অপরাধীদের ন্যায় গণ্য করব?
কী, আমরা কি তবে মুসলিমদের বানাব অপরাধীদের মতো?
তোমাদের কী হয়েছে - তোমরা কিভাবে ফায়সালা করছো?
মা-লাকুম্ কাইফা তাহ্কুমূন্।
তোমাদের কি হল ? তোমরা কেমন সিদ্ধান্ত দিচ্ছ?
কি হয়েছে তোমাদের? কিভাবে তোমরা বিচার কর?
নাকি তোমাদের কাছে কোনো কিতাব রয়েছে যার মধ্যে (এসব) তোমরা পাঠ করছো?
আম্ লাকুম্ কিতা-বুন্ ফীহি তাদ্রুসূন্।
তোমাদের কি কোন কিতাব আছে, যা তোমরা পাঠ কর।
না কি তোমাদের জন্য কোনো গ্রন্থ রয়েছে যা তোমরা অধ্যয়ন কর - -
তাতে কি লেখা রয়েছে তোমাদের পছন্দসই কথা?
ইন্না লাকুম্ ফীহি লামা- তাখাইয়্যারূন।
তাতে তোমরা যা পছন্দ কর, তাই পাও?
যে, নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য তাতে তাই রয়েছে যা তোমরা পছন্দ কর?
নাকি আমার সাথে তোমাদের কোনো অংগীকার আছে যা কিয়ামতকাল পর্যন্ত বলবত থাকবে? নিশ্চয়ই তোমরা তাই পাবে, যা নিজেদের জন্যে ফায়সালা করবে।
আম্ লাকুম্ আইমা-নুন্ 'আলাইনা-বা-লিগাতুন্ ইলা-ইয়াওমিল্ ক্বিয়া-মাতি ইন্না লাকুম্ লামা-তাহ্কুমূন্।
না তোমরা আমার কাছ থেকেকেয়ামত পর্যন্ত বলবৎ কোন শপথ নিয়েছ যে, তোমরা তাই পাবে যা তোমরা সিদ্ধান্ত করবে?
অথবা, তোমাদের জন্য আমাদের উপরে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকা এমন কোনো অংগীকার রয়েছে কি যে তোমাদের জন্য আলবৎ তাই থাকবে যা তোমরা স্থির করবে?
তাদের তুমি প্রশ্ন করো, এ ব্যাপারে তাদের যিম্মাদার কে?
সাল্হুম্ আইয়ুহুম্ বিযা-লিকা যা'ঈম্।
আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন তাদের কে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল?
তাদের জিজ্ঞাসা করো - - তাদের মধ্যে কে এ - সন্বন্ধে জামিন হবে;
নাকি তাদের শরিক করা (দেব দেবী) আছে? তবে তারা সেই শরিকদের নিয়ে আসুক যদি তারা হয়ে থাকে সত্যবাদী।
আম্ লাহুম্ শুরাকা-য়ু ফাল্ইয়া'তূ বিশুরাকা-য়িহিম্ ইন্ কা-নূ ছোয়া-দিক্বীন্।
না তাদের কোন শরীক উপাস্য আছে? থাকলে তাদের শরীক উপাস্যদেরকে উপস্থিত করুক যদি তারা সত্যবাদী হয়।
না তাদের জন্য অংশী - দেবতারা আছে? তেমন হলে তাদের অংশী - দেবতাদের তারা নিয়ে আসুক যদি তারা সত্যবাদী হয়।
স্মরণ করো, যেদিন তাদের পায়ের নলা উন্মোচিত করা হবে এবং তাদের ডাকা হবে সাজদা করতে, কিন্তু তাদের তা করার শক্তি থাকবেনা।
ইয়াওমা ইয়ুক্শাফু 'আন্ সা-ক্বিঁও অইয়ুদ্'আওনা ইলাস্ সুজুদি ফালা-ইয়াস্তাত্বী'ঊন্।
গোছা পর্যন্ত পা খোলার দিনের কথা স্মরণ কর, সেদিন তাদেরকে সেজদা করতে আহবান জানানো হবে, অতঃপর তারা সক্ষম হবে না।
একদিন চরম সংকট দেখা দেবে, আর তাদের ডাকা হবে সিজদা করতে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না।
তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনত, তাদের গ্রাস করে নেবে যিল্লতি। অথচ (পৃথিবীতে) যখন তাদের সাজদা করতে ডাকা হতো তখন তারা নিজেদের (তা থেকে) রাখতো দূরে।
খ-শি'আতান্ আব্ছোয়া-রুহুম্ র্তাহাকুহুম্ যিল্লাহ্ অক্বদ্ কা-নূ ইয়ুদ্'আওনা ইলাস্ সুজুদি অহুম্ সা-লিমূন্।
তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে; তারা লাঞ্ছনাগ্রস্ত হবে, অথচ যখন তারা সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল, তখন তাদেরকে সেজদা করতে আহবান জানানো হত।
তাদের দৃষ্টি হবে অবনত, লাঞ্ছনা তাদের জড়িয়ে ফেলবে। অথচ তাদের আহ্বান করা হয়েই থাকত সিজদা করতে যখন তারা ছিল নিরাপদ।
আমাকে ছেড়ে দাও আর যারা এই বাণীকে (আল কুরআনকে) অস্বীকার করে তাদেরকে। আমরা ক্রমান্বয়ে তাদেরকে এমনভাবে ধরবো যে, তারা জানতেও পারবেনা।
ফার্যানী অমাইঁইয়ুকায্যিবু বিহা-যাল্ হাদীছ্ সানাস্তাদ্রিজুহুম্ মিন্ হাইছু লা-ইয়া'লামূন।
অতএব, যারা এই কালামকে মিথ্যা বলে, তাদেরকে আমার হাতে ছেড়ে দিন, আমি এমন ধীরে ধীরে তাদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাব যে, তারা জানতে পারবে না।
অতএব আমাকে এবং যে এই বাণী প্রত্যাখ্যান করে তাকে ছেড়ে দাও। আমরা তাদের ধাপে ধাপে নিয়ে যাব, কেমন করে তা তারা বুঝতেও পারবে না।
আমি তাদের অবকাশ দিই, আমার কৌশল মজবুত।
অউম্লী লাহুম্ ইন্না কাইদী মাতীন্।
আমি তাদেরকে সময় দেই। নিশ্চয় আমার কৌশল মজবুত।
তথাপি আমি ওদের সহ্য করি। আমার ফাঁদ নিশ্চয়ই বড় মজবুত।
তুমি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চাইছো আর তারা সেটাকে মনে করছে দুর্বহ বোঝা?
আম্ তাস্য়ালুহুম্ আজরান্ ফাহুম্ মিম্ মাগ্রামিম্ মুছ্ক্বলূন্ ।
আপনি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চান? ফলে তাদের উপর জরিমানার বোঝা পড়ছে?
অথবা তুমি কি তাদের থেকে কোনো পারিশ্রমিক চাইছ যার ফলে তারা ধারকর্জ করে ভারাক্রান্ত হয়ে গেছে?
নাকি তাদের কাছে গায়েবের জ্ঞান আছে আর তারা তা লিখে রাখছে?
আম্ 'ইন্দা হুমুল্ গইবু ফাহুম্ ইয়াক্তুবূন্।
না তাদের কাছে গায়বের খবর আছে? অতঃপর তারা তা লিপিবদ্ধ করে।
অথবা কি তাদের কাছে রয়েছে, যার ফলে তারা লিখে রাখে?
তোমার প্রভুর হুকুমের অপেক্ষায় সবর করো, মাছওয়ালার (ইউনুসের) মতো (অধৈর্য) হয়োনা। সে চরম হতাশায় আচ্ছন্ন অবস্থায় (আমাকে বিনীতভাবে) ডেকেছিল।
ফাছ্বির লিহুক্মি রব্বিকা অলা-তাকুন্ কাছোয়া-হিবিল্ হূত্। ইয্ না-দা-অহুওয়া মাক্জূম্।
আপনি আপনার পালনকর্তার আদেশের অপেক্ষায় সবর করুন এবং মাছওয়ালা ইউনুসের মত হবেন না, যখন সে দুঃখাকুল মনে প্রার্থনা করেছিল।
অতএব তোমার প্রভুর হুকুমের জন্য অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, এবং তুমি মাছের সঙ্গীর মতো হয়ো না। দেখো! তিনি বিষাদে কাতর হয়ে ডেকেছিলেন।
তার প্রভুর অনুগ্রহ তার কাছে না পৌঁছুলে সে চরম লাঞ্ছিত অবস্থায় নিক্ষিপ্ত হতো উন্মুক্ত প্রান্তরে।
লাওলা য় আন্ তাদা-রকাহূ নি'মাতুর্ম্মি রব্বিহী লানুবিযা বিল্'আর-য়ি অহুওয়া মায্মূম্।
যদি তার পালনকর্তার অনুগ্রহ তাকে সামাল না দিত, তবে সে নিন্দিত অবস্থায় জনশুন্য প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হত।
যদি তাঁর প্রভুর কাছ থেকে অনুগ্রহ তাঁর কাছে না পৌঁছুত তাহলে তিনি অবশ্যই উন্মুক্ত প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হতেন, আর তিনি হতেন নিন্দিত।
তারপর তার প্রভু তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে তাঁর সালেহ্ বান্দাদের অন্তরভুক্ত করলেন।
ফাজতাবাহু রব্বুহূ ফাজ্বা'আলাহূ মিনাছ্ ছোয়া-লিহীন্।
অতঃপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন।
কিন্তু তাঁর প্রভু তাঁকে মনোনীত করেছিলেন, ফলে তাঁকে সৎপথাবলন্বীদের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
কাফিররা যখন আয যিক্র (আল কুরআন) শুনে, তখন যেনো তারা তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে আছাড় মারবে। তারা বলে: ‘এতো এক পাগল।’
অইঁইয়াকা-দুল্ লাযীনা কাফারূ লাইয়ুয্লিকুনাকা বিআব্ছোয়া-রিহিম্ লাম্মা-সামি'ঊয্ যিক্রা অইয়াকুলূনা ইন্নাহূ লামাজনূন্।
কাফেররা যখন কোরআন শুনে, তখন তারা তাদের দৃষ্টি দ্বারা যেন আপনাকে আছাড় দিয়ে ফেলে দিবে এবং তারা বলেঃ সে তো একজন পাগল।
আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছে তারা যখন স্মারক - গ্রন্থ শোনে তখন তারা যেন তাদের চোখ দিয়ে তোমাকে আছড়ে মারবে, আর তারা বলে - - ''সে তো নিশ্চয়ই এক পাগল।’’
অথচ এ (কুরআন) তো জগতবাসীর জন্যে এক (কল্যাণময়) উপদেশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
অমা- হুওয়া ইল্লা-যিকরুল্ লিল্'আ-লামীন্।
অথচ এই কোরআন তো বিশ্বজগতের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।
আর এটি জগদ্বাসীর জন্য স্মারক - গ্রন্থ বৈ তো নয়।