Kitab

আল কাসাস (কিসসাসমূহ)

Chapter 28, 88 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • বাংলা উচ্চারণ
  • মুহিউদ্দীন খান
About this chapter


মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৮৮, রুকু সংখ্যা: ০৯

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-২১ :ফিরাউন কর্তৃক বনি ইসরাঈলিদের নির্যাতন। মূসার জন্ম। ফিরাউনের ঘরে তাঁর লালন পালন। যুবক মূসা কর্তৃক এক মিশরীয়কে অনিচ্ছাকৃত হত্যা। মূসাকে গ্রেফতারের অভিযান এবং মূসার মিশর ত্যাগ। ২২-২৮ :মূসা আ.-এর মাদায়িনে আগমন। দুই যুবতীর পশুকে পানি পানে সহযোগিতা। তাদের পিতা কর্তৃক মূসাকে আশ্রয়দান। তাঁদের এক বোনকে মূসার সাথে বিয়ে। সেখানে কয়েক বছর অতিবাহিত। ২৯-৩৫ :সপরিবারে মূসার মিশর রওনা। পথিমধ্যে তূরে সায়নায় নবুয়্যত ও মুজিযা লাভ। ফিরাউনের কাছে দাওয়াত নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ। ভাই হারূণকেও সাহায্যকারী হিসেবে নবুয়্যত দান। ৩৬-৪২ :ফিরাঊনের কাছে মূসার দাওয়াত। ফিরাউন ও তার বাহিনী কর্তৃক মূসাকে প্রত্যাখ্যান। ৪৩-৫০ :আল্লাহ কখন কি অবস্থায় বিভিন্ন জাতির কাছে রসূল পাঠিয়েছেন এবং সেসব জাতি রসূলদের সাথে কি আচরণ করেছে? মুহাম্মদ সা.-এর উদ্দেশ্যে সে সবের বর্ণনা। ৫১-৭৫ :কিতাবের প্রতি কোন্ ধরনের লোকেরা ঈমান আনে? আল্লাহ কখন কোনো জাতিকে ধ্বংস করেন? যাদের কাছে রসূল পাঠানো হয়েছে কিয়ামতের দিন তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে। যাদেরকে আল্লাহর শরিক বানানো হয় তাদের শরিক হবার পক্ষে কোনো প্রমাণ নাই। ৭৬-৮২ :কারূণের প্রতি আল্লাহর বিশাল অনুগ্রহ। আল্লাহর প্রতি কারূণের অকৃজ্ঞতা। কারূণের কৃপণতা এবং তার ধ্বংস। ৮৩-৮৮ :আখিরাতের পুরস্কার কারা লাভ করবে? রসূলকে মক্কায় ফিরিয়ে নেয়ার ভবিষ্যতবাণী। নবী সা. রিসালাত লাভের আকাঙ্খিত ছিলেন না। এটা ছিলো আল্লাহর অনুগ্রহ।
আবদুস শহীদ নাসিম

তোয়া সিন মিম।

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ত্বোয়া-সী য় ম্ মী-ম্ ।

মুহিউদ্দীন খান

ত্বা - সীন - মীম।

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলো কিতাবুম মুবিনের (সুস্পষ্ট কিতাবের) আয়াত।

বাংলা উচ্চারণ

তিল্কা আ-ইয়া-তুল্ কিতা-বিল্ মুবীন্।

মুহিউদ্দীন খান

এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।

আবদুস শহীদ নাসিম

লোকদের জন্যে আমরা মূসা ও ফেরাউনের কিছু সংবাদ নিখুঁতভাবে তিলাওয়াত (বর্ণনা) করছি।

বাংলা উচ্চারণ

নাত্লু 'আলাইকা মিন্ নাবা-য়ি মূসা-অ র্ফি'আউনা বিল্হাক ক্বি লিক্বওমিঁ ইয়ুমিনূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আপনার কাছে মূসা ও ফেরাউনের বৃত্তান্ত সত্য সহকারে বর্ণনা করছি সম্প্রদায়ের জন্যে।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন দেশে হঠকারী নীতি অবলম্বন করে এবং নাগরিকদের বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করে একদল লোককে দুর্বল করে রেখেছিল। তাদের পুত্রদের যবাই করছিল এবং মেয়েদের জীবিত রাখছিল। সে ছিলো একজন ফাসাদ (বিপর্যয়) সৃষ্টিকারী।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না র্ফি'আউনা 'আলা-ফিল্ র্আদ্বি অজ্বা'আলা আহ্লাহা-শিয়া'আইঁ ইয়াস্ তাদ্ব্'ঈফু ত্বোয়া-য়িফাতাম্ মিন্হুম্ ইয়ুযাব্বিহু আব্না-য়া হুম্ অ ইয়াস্তাহ্য়ী নিসা-য়া হুম্ ইন্নাহূ কা-না মিনাল্ মুফ্সিদীন্।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন তার দেশে উদ্ধত হয়েছিল এবং সে দেশবাসীকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে তাদের একটি দলকে দূর্বল করে দিয়েছিল। সে তাদের পুত্র - সন্তানদেরকে হত্যা করত এবং নারীদেরকে জীবিত রাখত। নিশ্চয় সে ছিল অনর্থ সৃষ্টিকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন আমরা এরাদা করেছিলাম, যাদের দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবো, তাদের নেতৃত্ব দান করবো এবং তাদের ওয়ারিশ বানাবো,

বাংলা উচ্চারণ

অ নুরীদু আন্ নামুন্না 'আলাল্লাযীনাস্ তুদ্ব্'ইফূ ফিল্ র্আদ্বি অনাজ'আলাহুম্ আয়িম্মাতাঁও অনাজ্ব্'আলা-হুমুল্ ওয়া-রিছীন্।

মুহিউদ্দীন খান

দেশে যাদেরকে দূর্বল করা হয়েছিল, আমার ইচ্ছা হল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করার, তাদেরকে নেতা করার এবং তাদেরকে দেশের উত্তরাধিকারী করার।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং জমিনে তাদের প্রতিষ্ঠিত করবো। আর ফেরাউন, হামান এবং তাদের দুজনের বাহিনীকে তাদের (দুর্বল করে রাখাদের) থেকে সেই জিনিসটা দেখাবো যার আশংকা তারা করছিল (অর্থাৎ ক্ষমতাচ্যুতির)।

বাংলা উচ্চারণ

অ নুমাক্কিনা লাহুম্ ফিল্ র্আদ্বি অ নুরিয়া র্ফি'আউনা অহা-মা-না অজুনূদাহুমা- মিন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াহ্যারূন্।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তাদেরকে দেশের ক্ষমতায় আসীন করার এবং ফেরাউন, হামান ও তাদের সৈন্য - বাহিনীকে তা দেখিয়ে দেয়ার, যা তারা সেই দূর্বল দলের তরফ থেকে আশংকা করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ উদ্দেশ্যে আমরা মূসার মা’কে অহি (ইশারা) করে নির্দেশ দিয়েছিলাম: ‘‘ওকে (মূসাকে) বুকের দুধ পান করাতে থাকো। যখন তার (জীবনের) ব্যাপারে আশংকা করবে, তখন তাকে (বাক্সে করে) দরিয়ায় ভাসিয়ে দেবে। এ ক্ষেত্রে তুমি ভয়ও করোনা, দুশ্চিন্তাও করোনা। ওকে আমরা তোমার কোলেই ফিরিয়ে দেবো এবং তাকে আমরা বানাবো রসূলদের একজন।’’

বাংলা উচ্চারণ

অআওহাইনা য় ইলা য় উম্মি মূসা য় আন্ র্আদ্বি'ঈহি ফাইযা-খিফ্তি 'আলাইহি ফাআল্ক্বীহি ফিল্ ইয়াম্মি অলা-তাখ-ফী অলা তাহ্যানী ইন্না রা-দুহু ইলাইকি অজ্বা-'ইলূহু মিনাল্ মুরসালীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আমি মূসা - জননীকে আদেশ পাঠালাম যে, তাকে স্তন্য দান করতে থাক। অতঃপর যখন তুমি তার সম্পর্কে বিপদের আশংকা কর, তখন তাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ কর এবং ভয় করো না, দুঃখও করো না। আমি অবশ্যই তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে পয়গম্বরগণের একজন করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর ফেরাউনের পরিবারের লোকজন তাকে উঠিয়ে নেয়, যাতে করে (অবশেষে) সে তাদের শত্রু ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়। নিশ্চয়ই ফেরাউন, হামান এবং তাদের বাহিনী ছিলো অপরাধী।

বাংলা উচ্চারণ

ফাল্তাক্বত্বোয়াহূ য় আ-লু র্ফি'আউনা লিইয়াকূনা লাহুম্ 'আদুঅও অ হাযানা- ইন্না র্ফি'আউনা অহা-মা-না অ জুনূদাহুমা- কা-নূ খত্বিয়ীন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর ফেরাউন পরিবার মূসাকে কুড়িয়ে নিল, যাতে তিনি তাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হয়ে যান। নিশ্চয় ফেরাউন, হামান, ও তাদের সৈন্যবাহিনী অপরাধী ছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউনের স্ত্রী বলেছিল: ‘শিশুটি আমার ও তোমার চোখ জুড়াবে। ওকে হত্যা করোনা। হয়তো সে আমাদের উপকারে আসবে, অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবেই গ্রহণ করতে পারি।’ অথচ তারা এর পরিণতি অনুভব করতে পারেনি।

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লাতিম্ রয়াতু র্ফি'আউনা ক্বর্ রতু 'আইনিল্লী অলাকা লা-তাকতুলূহু 'আসা য় আঁই ইয়্যান্ফাআ'না য় আও নাত্তাখিযাহূ অলাদাঁও অহুম্ লা-ইয়াশ'উরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউনের স্ত্রী বলল, এ শিশু আমার ও তোমার নয়নমণি, তাকে হত্যা করো না। এ আমাদের উপকারে আসতে পারে অথবা আমরা তাকে পুত্র করে নিতে পারি। প্রকৃতপক্ষে পরিণাম সম্পর্কে তাদের কোন খবর ছিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এদিকে মূসার মার অন্তর অস্থির হয়ে পড়েছিল। যাতে করে সে আস্থাশীল থাকে সে জন্যে আমরা তার অন্তরকে মজবুত করে না দিলে সে তার পরিচয়ই প্রকাশ করে দিতো।

বাংলা উচ্চারণ

অআছ্বাহা-ফুয়া- দু উম্মি মূসা-ফা-রিগ- ইন্ কা-দাত্ লাতুব্দী বিহী লাওলা য় র্আরবাত্ব ্না- 'আলা-ক্বল্বিহা-লিতাকূনা মিনাল্ মুমিনীন্।

মুহিউদ্দীন খান

সকালে মূসা জননীর অন্তর অস্থির হয়ে পড়ল। যদি আমি তাঁর হৃদয়কে দৃঢ় করে না দিতাম, তবে তিনি মূসাজনিত অস্থিরতা প্রকাশ করেই দিতেন। দৃঢ় করলাম, যাতে তিনি থাকেন বিশ্ববাসীগণের মধ্যে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (মূসার মা) মূসার বোনকে বলেছিল: ‘তুই যা ওর পেছনে পেছনে।’ তখন সে তাদের অজ্ঞাতসারে দূর থেকে ওকে দেখতে দেখতে গিয়েছিল।

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লাত্ লিউখ্তিহী কুছ্ছীহি ফাবাছোয়ারত বিহী 'আন্ জুনুবিঁও অহুম্ লা-ইয়াশ্'উরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি মূসার ভগিণীকে বললেন, তার পেছন পেছন যাও। সে তাদের অজ্ঞাতসারে অপরিচিতা হয়ে তাকে দেখে যেতে লাগল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা আগে থেকেই ধাত্রীর দুধপান তার (মূসার) জন্যে হারাম করে দিয়েছিলাম। সে (মূসার বোন) তাদের বলেছিল: ‘আমি কি আপনাদের এমন একটি পরিবারের সন্ধান দেবো যারা আপনাদের হয়ে একে লালন পালন করবে এবং তারা ওর কল্যাণকামীও হবে?’

বাংলা উচ্চারণ

অ র্হারম্না- 'আলাইহিল্ মার-দ্বি'আ মিন্ ক্বব্লু ফাক্ব-লাত্ হাল্ আদুল্লুকুম্ 'আলা য় আহ্লি বাইতিঁ ইয়াক্ফুলূনাহূ লাকুম্ অহুম্ লাহূ না-ছিহূন্।

মুহিউদ্দীন খান

পূর্ব থেকেই আমি ধাত্রীদেরকে মূসা থেকে বিরত রেখেছিলাম। মূসার ভগিনী বলল, আমি তোমাদেরকে এমন এক পরিবারের কথা বলব কি, যারা তোমাদের জন্যে একে লালন - পালন করবে এবং তারা হবে তার হিতাকাঙ্ক্ষী?

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই আমরা তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম তার মায়ের কাছে যাতে করে তার চক্ষু শীতল হয় এবং সে দুশ্চিন্তা না করে, আর সে যেনো জানতে পারে আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তবে অধিকাংশ লোকই জানেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ফারদাদ্না-হু ইলা য় উম্মিহী কাই তার্ক্বর 'আইনুহা-'অলা-তাহ্যানা অলিতা'লামা আন্না অদাল্লা-হি হাক্ব্ কুঁও অলা-কিন্না আক্ছারহুম্ লা-ইয়া'লামূন্ ।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি তাকে জননীর কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চক্ষু জুড়ায় এবং তিনি দুঃখ না করেন এবং যাতে তিনি জানেন যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য, কিন্তু অনেক মানুষ তা জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন পূর্ণ বালেগ হলো এবং বয়েসের দিক থেকে পরিণত হলো, তখন আমরা তাকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করলাম। কল্যাণপরায়ণদের এভাবেই আমরা পুরস্কৃত করি।

বাংলা উচ্চারণ

অ লাম্মা-বালাগ আশুদ্দাহূ অস্তাওয়া য় আ-তাইনা-হু হুক্মাঁও অ'ইল্মা- অকাযা-লিকা নাজ¦্যিল্ মুহ্সিনীন্।

মুহিউদ্দীন খান

যখন মূসা যৌবনে পদার্পন করলেন এবং পরিণত বয়স্ক হয়ে গেলেন, তখন আমি তাঁকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞানদান করলাম। এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (মূসা) নগরীতে প্রবেশ করলো, যখন তার অধিবাসীরা ছিলো অসতর্ক। সেখানে সে দুটি লোককে দেখলো সংঘর্ষে লিপ্ত। একজন তার নিজ গোত্রের, আরেকজন তার শত্রুপক্ষের। তার গোত্রের লোকটি শত্রুর বিরুদ্ধে তার সাহায্য চাইলো। তখন মূসা তাকে ঘুষি মারে এবং তাকে হত্যা করে বসে। (এই আকস্মিক ঘটনায়) মূসা বললো: এটা শয়তানের কান্ড। সে তো সুস্পষ্ট শত্রু এবং বিভ্রান্তকারী।

বাংলা উচ্চারণ

অ দাখালাল্ মাদীনাতা 'আলা-হীনি গাফ্লাতিম্ মিন্ আহ্লিহা- ফাওয়াজ্বাদা ফীহা-রজুলাইনি ইয়াকতাতিলা-নি হাযা-মিন্ শী'আতিহী অ হাযা-মিন্ 'আদুওয়্যিহী ফাস্তাগা-ছাহুল্ লাযী মিন্ শী 'আতিহী 'আলাল্লাযী মিন্ 'আদুওয়িহী ফা অকাযাহূ মূসা-ফাক্বদ্বোয়া 'আলাইহি ক্ব-লা হাযা-মিন্ 'আমালিশ্ শাইত্বোয়ান্' ইন্নাহূ 'আদুওয়্যুম্ মুদ্বিল্লুম্ মুবীন্।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি শহরে প্রবেশ করলেন, যখন তার অধিবাসীরা ছিল বেখবর। তথায় তিনি দুই ব্যক্তিকে লড়াইরত দেখলেন। এদের একজন ছিল তাঁর নিজ দলের এবং অন্য জন তাঁর শত্রু দলের। অতঃপর যে তাঁর নিজ দলের সে তাঁর শত্রু দলের লোকটির বিরুদ্ধে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করল। তখন মূসা তাকে ঘুষি মারলেন এবং এতেই তার মৃত্যু হয়ে গেল। মূসা বললেন, এটা শয়তানের কাজ। নিশ্চয় সে প্রকাশ্য শত্রু, বিভ্রান্তকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা আরো বললো: ‘আমার রব! আমি নিজের প্রতি যুলুম করে ফেলেছি, তুমি আমাকে মাফ করে দাও।’ তখন তিনি তাকে মাফ করে দেন। কারণ, তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা রব্বি ইন্নী জোয়ালাম্তু নাফ্সী ফার্গ্ফিলী ফাগফার লাহ্ইন্নাহূ হুওয়াল্ গফূর্রু রহীম্।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: আমার প্রভু! যেহেতু তুমি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছো, তাই আমি আর কখনো অপরাধীদের সাহায্য করবো না।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা রব্বি বিমা য় আন্'আম্তা 'আলাইয়্যা ফালান্ আকূনা জোয়াহীরল্ লিল্মুজ্বরিমীন্।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন, এরপর আমি কখনও অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না।

আবদুস শহীদ নাসিম

ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় নগরীতে মূসার সকাল হলো। হঠাৎ সে শুনতে পায় গতকাল যে ব্যক্তি তার সাহায্য চেয়েছিল সে তার সাহায্যের জন্যে চীৎকার করছে। মূসা তাকে বললো: ‘তুমি এক সুস্পষ্ট বিপথগামী ব্যক্তি।’

বাংলা উচ্চারণ

ফায়াছ্বাহা ফিল্ মাদীনাতি খ-য়িফাইঁ ইয়াতারকক্ববু ফাইযাল্লাযিস্ তান্ছোয়ারহূ বিল্আম্সি ইয়াস্তাছ্রিখুহ্ ক্ব-লা লাহূ মূসা য় ইন্নাকা লাগাওয়িয়্যুম্ মুবীন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তিনি প্রভাতে উঠলেন সে শহরে ভীত - শংকিত অবস্থায়। হঠাৎ তিনি দেখলেন, গতকল্য যে ব্যক্তি তাঁর সাহায্য চেয়েছিল, সে চিৎকার করে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছে। মূসা তাকে বললেন, তুমি তো একজন প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট ব্যক্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন উভয়ের শত্রুকে ধরতে উদ্যত হলো, সে ব্যক্তি বলে উঠলো: ‘হে মূসা! তুমি যেভাবে গতকাল এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছো, সেভাবে কি আমাদেরও হত্যা করতে চাইছো? তুমি তো দেশে স্বেচ্ছাচারী হতে চাইছো, সংশোধনকামী হতে চাচ্ছোনা।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা য় আন আর-দা আঁই ইয়াব্ত্বিশা বিল্লাযী হুয়া'আদুওয়্যুল্ লাহুমা-ক্ব-লা ইয়া- মূসা য় আতুরীদু আন্ তাকতুলানী কামা-ক্বতাল্তা নাফ্সাম্ বিল্আম্সি ইন্ তুরীদু ইল্লা য় আন্ তাকূনা জ্বাব্বা-রন্ ফিল্ র্আদ্বি অমা-তুরীদু আন্ তাকূনা মিনাল্ মুছ্লিহীন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর মূসা যখন উভয়ের শত্রুকে শায়েস্তা করতে চাইলেন, তখন সে বলল, গতকল্য তুমি যেমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, সে রকম আমাকেও কি হত্যা করতে চাও? তুমি তো পৃথিবীতে স্বৈরাচারী হতে চাচ্ছ এবং সন্ধি স্থাপনকারী হতে চাও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

(এ সময়) নগরীর দূরপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে বললো: ‘হে মূসা। ফেরাউনের পারিষদবর্গ তোমাকে হত্যা করার জন্যে পরামর্শ করছে, তুমি (মিশর) থেকে বেরিয়ে যাও, আমি তোমার কল্যাণ চাই।’

বাংলা উচ্চারণ

অজ্বা-য়া রাজুলুম্ মিন্ আকছোয়াল্ মাদীনাতি ইয়াস্ 'আ- ক্ব-লা ইয়া-মূসা য় ইন্নাল্ মালায়া ইয়াতামিরূনা বিকা লিইয়াকতুলূকা ফাখ্রুজ ইন্নী লাকা মিনান্ না-ছিহীন্।

মুহিউদ্দীন খান

এসময় শহরের প্রান্ত থেকে একব্যক্তি ছুটে আসল এবং বলল, হে মূসা, রাজ্যের পরিষদবর্গ তোমাকে হত্যা করার পরমর্শ করছে। অতএব, তুমি বের হয়ে যাও। আমি তোমার হিতাকাঙ্ক্ষী।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা ভয়ে সতর্কভাবে (দেশ থেকে) বেরিয়ে পড়লো। সে বললো: ‘আমার প্রভু! আমাকে যালিম কওমের কবল থেকে রক্ষা করো।’

বাংলা উচ্চারণ

ফাখরজ্বা মিন্হা-খ-য়িফাইঁ ইয়াতারক্ক্ববু ক্ব-লা রব্বি নাজজ্বিনী মিনাল্ ক্বওমিজ্ জোয়া-লিমীন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তিনি সেখান থেকে ভীত অবস্থায় বের হয়ে পড়লেন পথ দেখতে দেখতে। তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে জালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে রক্ষা কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন মাদায়েনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলো, তখন বললো: ‘আশা করি আমার প্রভু আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন।’

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা-তাওয়াজ্জহা -তিল্ক্ব-য়া মাদ্ইয়ানা ক্ব-লা 'আসা রাব্বী য় আইঁ ইয়াহ্দিয়ানী সাওয়া-য়াস্ সাবীল্।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তিনি মাদইয়ান অভিমুখে রওয়ানা হলেন তখন বললেন, আশা করা যায় আমার পালনকর্তা আমাকে সরল পথ দেখাবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন সে মাদায়েনের কূপের কাছে পৌঁছে, সেখানে দেখতে পায় একদল লোক পশুদের পানি পান করাচ্ছে। সবার পেছনে দুই নারীকে দেখতে পায়, তারা তাদের পশুকে আগলে রাখছে। মূসা তাদের বললো: ‘আপনাদের ব্যাপার কী?’ তারা বললো: ‘আমরা আমাদের পশুদের পানি পান করাতে পারিনা, যতোক্ষণ রাখালেরা তাদের পশুদের পানি পান করিয়ে চলে না যায়। আমাদের পিতা একজন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি।’

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা-অরদা মা-য়া মাদ্ইয়ানা অজ্বাদা 'আলাইহি উম্মাতাম্ মিনান্না-সি ইয়াস্ক্ব না অওয়াজ্বাদা মিন্ দূনিহিমুম্ রয়াতাইনি তাযূদা-নি ক্ব-লা মা-খতবুকুমা- ক্ব-লাতা লা-নাস্ক্বী হাত্তা-ইয়ুছ্দির্র রি'আ-য়ু অআবূনা শাইখুন্ কার্বী।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তিনি মাদইয়ানের কূপের ধারে পৌছলেন, তখন কূপের কাছে একদল লোককে পেলেন তারা জন্তুদেরকে পানি পান করানোর কাজে রত। এবং তাদের পশ্চাতে দূ’জন স্ত্রীলোককে দেখলেন তারা তাদের জন্তুদেরকে আগলিয়ে রাখছে। তিনি বললেন, তোমাদের কি ব্যাপার? তারা বলল, আমরা আমাদের জন্তুদেরকে পানি পান করাতে পারি না, যে পর্যন্ত রাখালরা তাদের জন্তুদেরকে নিয়ে সরে না যায়। আমাদের পিতা খুবই বৃদ্ধ।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা তাদের পক্ষে তাদের পশুকে পানি পান করিয়ে দিলো। তারপর ছায়ার নীচে ফিরে এসে বললো: ‘আমার প্রভু! তুমি আমাকে যে আতিথ্যের ব্যবস্থাই করে দেবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।’

বাংলা উচ্চারণ

ফাসাক্ব-লাহুমা-ছুম্মা তাওয়াল্লা য় ইলাজ্ জিল্লি ফাক্ব-লা রব্বি ইন্নী লিমা য় আন্যাল্তা ইলাইয়্যা মিন্ খাইরিন্ ফার্ক্বী।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর মূসা তাদের জন্তুদেরকে পানি পান করালেন। অতঃপর তিনি ছায়ার দিকে সরে গেলেন এবং বললেন, হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সেই দুই নারীর একজন লজ্জায় জড়োসড়ো হয়ে তার কাছে এলো এবং বললো: ‘আমার আব্বু আপনাকে ডাকছেন আমাদের পশুগুলোকে পানি পান করানোর পারিশ্রমিক দিতে।’ মূসা যখন তার কাছে এলো এবং নিজের সব ঘটনা বিস্তারিত খুলে বললো, সে বললো: ‘তুমি আর ভয় পেয়োনা, তুমি যালিম কওমের কবল থেকে নাজাত পেয়ে গেছো।’

বাংলা উচ্চারণ

ফাজ্বা-য়াত্হু ইহ্দা-হুমা- তাম্শী 'আলাস্ তিহ্ইয়া-য়িন্ ক্ব-লাত্ ইন্না আবী ইয়াদ্'ঊকা লিয়াজযিয়াকা আজ্ব রমা- সাক্বইতা লানা- ফালাম্মা জ্বা-য়াহূ অক্বছ্ছোয়া 'আলাইহিল্ ক্বছোয়াছোয়া ক্ব-লা লা-তাখফ্ নাজ্বাওতা মিনাল্ ক্বওমিজ্ জোয়া-লিমীন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর বালিকাদ্বয়ের একজন লজ্জাজড়িত পদক্ষেপে তাঁর কাছে আগমন করল। বলল, আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন, যাতে আপনি যে আমাদেরকে পানি পান করিয়েছেন, তার বিনিময়ে পুরস্কার প্রদান করেন। অতঃপর মূসা যখন তাঁর কাছে গেলেন এবং সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণনা করলেন, তখন তিনি বললেন, ভয় করো না, তুমি জালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেই দুই নারীর একজন বললো: ‘আব্বু! তুমি তাকে কর্মচারী নিযুক্ত করো, তোমার কর্মচারী হিসেবে উত্তম হবেন তো এমন ব্যক্তি যিনি শক্তিশালী এবং বিশ্বস্ত।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লাত্ ইহ্দা-হুমা-ইয়া য় আবাতিস্ তা'র্জ্বিহু ইন্না খইর মানিস্ তা'র্জ্বাতাল্ ক্বওওয়িয়্যুল আমীন্

মুহিউদ্দীন খান

বালিকাদ্বয়ের একজন বলল পিতাঃ তাকে চাকর নিযুক্ত করুন। কেননা, আপনার চাকর হিসেবে সে - ই উত্তম হবে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে মূসাকে বললো: ‘শুনো, আমি আমার এই দুই কন্যার একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার চাকুরি করবে, তবে দশ বছর যদি পূর্ণ করতে চাও সেটা তোমার ইচ্ছা। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনা। চান তো, তুমি আমাকে ন্যায়বান পাবে।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইন্নী য় উরীদু আন্ উন্কিহাকা ইহ্দাব্ নাতাইয়্যা হা-তাইনি 'আলা য় আন্ তাজুরানী ছামা-নিয়া হিজ্বাজ্বিন্ ফাইন্ আত্মাম্তা 'আশ্রান্ ফামিন্ 'ইন্দিকা অমা য় উরীদু আন্ আশুকক্বা 'আলাইক্ সাতাজ্বিদুনী য় ইন্শা-আল্লা-হু মিনাছ্ ছোয়া-লিহীন্।

মুহিউদ্দীন খান

পিতা মূসাকে বললেন, আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিবাহে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার চাকুরী করবে, যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর, তা তোমার ইচ্ছা। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। চাহেন তো তুমি আমাকে সৎকর্মপরায়ণ পাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘আমার এবং আপনার মাঝে এই চুক্তিই হলো। এ দুটি মেয়াদের যে কোনো একটি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকবেনা। আমরা যা বলছি তার সাক্ষী।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা যা-লিকা বাইনি অ বাইনাক্ আইয়ামাল্ আজ্বালাইনি ক্বদ্বোয়াইতু ফালা-উদ্ওয়া-না 'আলাইয়্যা অল্লা-হু 'আলা-মা-নাকুলু অকীল্।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললেন, আমার ও আপনার মধ্যে এই চুক্তি স্থির হল। দু’টি মেয়াদের মধ্য থেকে যে কোন একটি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকবে না। আমরা যা বলছি, তাতে আল্লাহর উপর ভরসা।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ করলো এবং সপরিবারে যাত্রা করলো, তুর পাহাড়ের কাছে এসে পাহাড়ের দিকে আগুন দেখতে পেলো। সে তার পরিবারবর্গকে বললো: তোমরা এখানে অপেক্ষা করো, আমি আগুন দেখেছি, হয়তো সেখান থেকে তোমাদের জন্যে কোনো খবর নিয়ে আসবো কিংবা নিয়ে আসবো এক খন্ড জ্বলন্ত কাঠ, তাতে তোমরা আগুন পোহাতে পারবে।’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-ক্বাদ্বোয়া-মূসাল্ আজ্বালা অসা-র বিআহ্লিহী য় আ-নাসা মিন্ জ্বা-নিবিত্ব্্ ত্বুরি না-রান্ ক্ব-লা লিআহ্লিহিম্ কুছূ য় ইন্নী আ-নাস্তু না-রল্লা-'আল্লী য় আ-তীকুম্ মিন্হা-বিখবারিন্ আও জ্বায্ওয়াতিম্ মিনান্না-রি লা'আল্লাকুম্ তাছ্ত্বোয়ালূন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর মূসা (আঃ) যখন সেই মেয়াদ পূর্ণ করল এবং সপরিবারে যাত্রা করল, তখন সে তুর পর্বতের দিক থেকে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিবারবর্গকে বলল, তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি সেখান থেকে তোমাদের কাছে কোন খবর নিয়ে আসতে পারি অথবা কোন জ্বলন্ত কাষ্ঠখন্ড আনতে পারি, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন আগুনের দিকে এলো, তখন (তোয়া) উপত্যকার ডান পাশে পবিত্র ভূমির এক গাছের দিক থেকে তাকে ডেকে বলা হলো: ‘হে মূসা! আমি রাব্বুল আলামিন।’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা য় আতা-হা-নূদিয়া মিন্ শা-ত্বিয়িল্ ওয়া-দিল্ আইমানি ফিল্ বুক'আতিল্ মুবা-রকাতি মিনাশ্ শাজ্বারতি আইঁ ইয়া- মূসা য় ইন্নী য় আনাল্লা-হু রব্বুল্ 'আলামীন্।

মুহিউদ্দীন খান

যখন সে তার কাছে পৌছল, তখন পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত উপত্যকার ডান প্রান্তের বৃক্ষ থেকে তাকে আওয়াজ দেয়া হল, হে মূসা! আমি , বিশ্ব পালনকর্তা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে আরো বলা হলো: ‘তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো।’ তারপর মূসা যখন দেখলো, সেটা সাপের মতো ছুটাছুটি করছে, তখন সে পিছে ফিরে দৌড়াতে থাকলো এবং পেছনে ফিরে তাকিয়েও দেখলোনা। তাকে ডেকে বলা হলো: ‘‘হে মূসা! সামনে ফিরে আসো, ভয় পেয়োনা, তুমি নিরাপদ।

বাংলা উচ্চারণ

অ আন্ আল্ক্বি 'আছোয়াক্ ফালাম্মা-রয়া-হা-তাহ্তায্যু কাআন্নাহা-জ্বা-ন্নুঁও অল্লা-মুদ্বিরাঁও অলাম্ ইয়ুআকক্বিব্ ইয়া-মূসা য় আকবিল্ অলা তাখফ্ ইন্নাকা মিনাল্ আ-মিনীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আরও বলা হল, তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর। অতঃপর যখন সে লাঠিকে সর্পের ন্যায় দৌড়াদৌড়ি করতে দেখল, তখন সে মুখ ফিরিয়ে বিপরীত দিকে পালাতে লাগল এবং পেছন ফিরে দেখল না। হে মূসা, সামনে এস এবং ভয় করো না। তোমার কোন আশংকা নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার হাত তোমার বগলে রাখো, দেখবে সেটি অনাবিল উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসবে কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়াই। ভয় দূর করার জন্য তোমার দুই হাত তোমার বুকে চেপে ধরো। এ দুটি তোমার প্রভুর দেয়া প্রমাণ ফেরাউন আর তার পারিষদবর্গের জন্যে। তারা একটি ফাসিক কওম।’’

বাংলা উচ্চারণ

উস্লুক্ ইয়াদাকা ফী জ্বাইবিকা তাখ্রুজ্ব বাইদ্বোয়া-য়া মিন্ গইরি সূ-য়িঁও ওয়াদ্ব্মুম্ ইলাইকা জ্বানা-হাকা মির্না রহ্বি ফাযা-নিকা বুরহা-না-নি র্মি রব্বিকা ইলা- র্ফি'আউনা অমালায়িহ্ ইন্নাহুম্ কা-নূ ক্বওমান্ ফা-সিক্বীন্।

মুহিউদ্দীন খান

তোমার হাত বগলে রাখ। তা বের হয়ে আসবে নিরাময় উজ্জ্বল হয়ে এবং ভয় হেতু তোমার হাত তোমার উপর চেপে ধর। এই দু’টি ফেরাউন ও তার পরিষদবর্গের প্রতি তোমার পালনকর্তার তরফ থেকে প্রমাণ। নিশ্চয় তারা পাপাচারী সম্প্রদায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমি তাদের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলাম, তাই আমি আশংকা করছি তারা আমাকে হত্যা করবে।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা রব্বি ইন্নী ক্বতাল্তু মিন্হুম্ নাফ্সান্ ফাআখ-ফু আই ইয়া-কতুলূন।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমি তাদের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছি। কাজেই আমি ভয় করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার ভাই হারূণ, সে আমার চাইতে ভালো বক্তা, তুমি তাকে আমার সাথে সাহায্যকারী হিসেবে রসূল বানিয়ে দাও। সে আমার সত্যায়ন করবে। আমার আশংকা হয় তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।’’

বাংলা উচ্চারণ

অআখী হারূ-নু হুওয়া আফ্ছোয়াহু মিন্নী লিসা-নান্ ফার্আসিল্হু মা'ইয়া রিদ্য়াইঁ ইয়ুছোয়াদ্দিকুনী য় ইন্নী য় আখ-ফু আইঁ ইয়ুকায্যিবূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আমার ভাই হারুণ, সে আমা অপেক্ষা প্রাঞ্জলভাষী। অতএব, তাকে আমার সাথে সাহায্যের জন্যে প্রেরণ করুন। সে আমাকে সমর্থন জানাবে। আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

বললেন: ‘‘আমরা তোমার ভাইকে দিয়ে তোমার হাতকে শক্তিশালী করবো এবং তোমাদের দুজনকেই আমরা সনদগত ক্ষমতা প্রদান করবো। ফলে তারা (তোমাদের ক্ষতির উদ্দেশ্যে) তোমাদের কাছেই পৌঁছাতে পারবেনা। তোমরা এবং তোমাদের অনুসারীরাই আমাদের নিদর্শনের সাহায্যে বিজয়ী হবে।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা সানাশুদ্দ 'আদ্বুদাকা বিআখীকা অনাজ'আলু লাকুমা- সুল্ত্বোয়া-নান্ ফালা-ইয়াছিলূনা ইলাইকুমা- বিআ-ইয়া-তিনা য় আন্তুমা-অমানি ত্তাবা'আকুমাল্ গ-লিবূন্।

মুহিউদ্দীন খান

বললেন, আমি তোমার বাহু শক্তিশালী করব তোমার ভাই দ্বারা এবং তোমাদের প্রধান্য দান করব। ফলে, তারা তোমার কাছে পৌছাতে পারবে না। আমার নিদর্শনাবলীর জোরে তোমরা এবং তোমাদের অনুসারীরা প্রবল থাকবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে উপস্থিত হলো, তারা বললো: ‘এ - তো এক মিথ্যা - ম্যাজিক ছাড়া আর কিছুই নয়। এ ধরনের কথা আমাদের বাপ - দাদাদের কালেও আমরা শুনিনি।’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-জ্বা-য়াহুম্ মূসা- বিআ-ইয়া-তিনা- বাইয়্যিনা-তিন্ ক্ব-লূ মা-হাযা য় ইল্লা-সিহ্রুম্ মুফ্তারঁও অমা-সামি'না- বি হা-যা-ফী য় আ-বা-য়িনাল্ আউয়্যালীন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর মূসা যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে পৌছল, তখন তারা বলল, এতো অলীক জাদু মাত্র। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এ কথা শুনিনি।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘আমার প্রভুই অধিক জানেন কে তাঁর পক্ষ থেকে হিদায়াত নিয়ে এসেছে এবং কার শেষ পরিণাম শুভ হবে। নিশ্চয়ই কখনো সফল হবেনা যালিমরা।’

বাংলা উচ্চারণ

অ ক্ব-লা- মূসা-রব্বী য় আ'লামু বিমান্ জ্বা-য়া বিল্ হুদা-মিন্ 'ঈন্দিহী অমান্ তাকূনু লাহূ আ' ক্বিবাতুদ্ দার্- ইন্নাহূ লা-ইয়ুফ্লিহুজ্ জোয়া-লিমূন্।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বলল, আমার পালনকর্তা সম্যক জানেন যে তার নিকট থেকে হেদায়েতের কথা নিয়ে আগমন করেছে এবং যে প্রাপ্ত হবে পরকালের গৃহ। নিশ্চয় জালেমরা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘হে আমার পারিষদবর্গ! আমি ছাড়া তোমাদের আর কোনো আছে বলে তো আমি জানিনা। হে হামান! তুমি আমার জন্যে ইট পোড়াও এবং উঁচু এক প্রাসাদ তৈরি করো। হয়তো আমি তাতে উঠে মূসার ইলাহকে দেখতে পাবো। তবে আমি মনে করি সে মিথ্যাবাদী।’

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লা র্ফি'আউনু ইয়া য় আইয়ুহাল্ মালায়ু মা-'আলিম্তু লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গইরী ফাআও ক্বিদ্লী ইয়া-হা-মা-নু 'আলাত্ব ত্বীনি ফাজআল্লী ছোর্য়াহাল্লা'আল্লীয় আত্ব্ত্বোয়ালি'উইলা য় ইলা-হি মূসা-অইন্নী লাআজুন্নুহূ মিনাল্ কা-যিবীন্।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন বলল, হে পরিষদবর্গ, আমি জানি না যে, আমি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য আছে। হে হামান, তুমি ইট পোড়াও, অতঃপর আমার জন্যে একটি প্রাসাদ নির্মাণ কর, যাতে আমি মূসার উপাস্যকে উকি মেরে দেখতে পারি। আমার তো ধারণা এই যে, সে একজন মিথ্যাবাদী।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে এবং তার বাহিনী অন্যায়ভাবে দেশে অহংকার করে। তারা ধারণা করেছিল তাদেরকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অস্তাক্বার হুওয়া অ জুনূদুহূ ফিল্ র্আদ্বি বিগইরিল্ হাকক্বি অজোয়ান্নূ য় আন্নাহুম্ ইলাইনা- লা-ইর্য়ুজ্বা'ঊন্।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন ও তার বাহিনী অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে অহংকার করতে লাগল এবং তারা মনে করল যে, তারা আমার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমরা পাকড়াও করি তাকে এবং তার বাহিনীকে এবং তাদের নিক্ষেপ করি দরিয়ায়। দেখো, কী (মন্দ) পরিণতি হয়েছিল যালিমদের!

বাংলা উচ্চারণ

ফাআখয্না-হু অজুনূদাহূ ফানাবায্না-হুম্ ফিল্ ইয়াম্মি ফার্ন্জু কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুজ্ জোয়া-লিমীন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি তাকে ও তার বাহিনীকে পাকড়াও করলাম, তৎপর আমি তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। অতএব, দেখ জালেমদের পরিণাম কি হয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের বানিয়ে দিয়েছিলাম জাহান্নামের দিকে আহবান করার ইমাম (নেতা)। কিয়ামতের দিন তাদের কোনো সাহায্য করা হবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অ জ্বা'আল্না-হুম্ আইয়িম্মাতাঁই ইয়াদ্'ঊনা ইলান্না-রি অইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি লা-ইয়ুন্ছোয়ারূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাদেরকে নেতা করেছিলাম। তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করত। কেয়ামতের দিন তারা সাহায্য প্রাপ্ত হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ দুনিয়ায় আমরা তাদের অনুগামী করে দিয়েছি লা’নত আর কিয়ামতের দিন তারা হবে ঘৃণিত।

বাংলা উচ্চারণ

অ আত্বা'না-হুম্ ফী হা-যিহিদ্দুন্ইয়া-লা'নাতান্ অ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি হুম্ মিনাল্ মাকবূহীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আমি এই পৃথিবীতে অভিশাপকে তাদের পশ্চাতে লাগিয়ে দিয়েছি এবং কেয়ামতের দিন তারা হবে দুর্দশাগ্রস্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আগেকার বহু মানব প্রজন্মকে হালাক করে দেয়ার পর আমরা মূসাকে দিয়েছিলাম কিতাব মানুষের জন্যে জ্ঞানের আলো, হিদায়াত এবং রহমত হিসেবে, যাতে করে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ আ-তাইনা-মূসাল্ কিতা-বা মিম্ বা'দি মায় আহ্লাক্নাল্ কুরূনাল্ ঊলা-বাছোয়া-য়িরা লিন্না-সি অহুদাঁও অরহ্মাতাল্ লা'আল্লাহুম্ ইয়াতাযাক্কারূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আমি পূর্ববর্তী অনেক সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার পর মূসাকে কিতাব দিয়েছি মানুষের জন্যে জ্ঞানবর্তিকা। হেদায়েত ও রহমত, যাতে তারা স্মরণ রাখে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ!) তুমি (তুর পাহাড়ের) পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলেনা আমরা যখন মূসাকে বিধান দিয়েছিলাম এবং তুমি বিষয়টা নিজের চোখেও দেখোনি।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-কুন্তা বিজ্বা-নিবিল্ র্গবিয়্যী ইয্ ক্বাদ্বোয়াইনা য় ইলা-মূসাল্ আম্র অমা-কুন্তা মিনাশ্ শা-হিদীন্।

মুহিউদ্দীন খান

মূসাকে যখন আমি নির্দেশনামা দিয়েছিলাম, তখন আপনি পশ্চিম প্রান্তে ছিলেন না এবং আপনি প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং আমরা বহু মানব প্রজন্ম সৃষ্টি করেছি এবং তাদের উপর বহু যুগ অতিবাহিত হয়ে গেছে। তুমি তো মাদায়েনবাসীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনা তাদের কাছে আমাদের আয়াত তিলাওয়াত করার জন্যে। বরং আমরাই ছিলাম সেখানে রসূল প্রেরণকারী।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-কিন্না য় আন্ শানা কুরূনান্ ফাতাত্বোয়া- অলা 'আলাইহিমুল্ উমুরু অমা-কুন্তা ছা-ওয়িয়ান্ ফী য় আহ্লি মাদ্ইয়ানা তাত্লূ 'আলাইহিম্- আ-ইয়া-তিনা- অলা-কিন্না- কুন্না- র্মুসিলীন্।

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু আমি অনেক সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছিলাম, অতঃপর তাদের অনেক যুগ অতিবাহিত হয়েছে। আর আপনি মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে ছিলেন না যে, তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করতেন। কিন্তু আমিই ছিলাম রসূল প্রেরণকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যখন মূসাকে ডেকেছিলাম, তখন তো তুমি তুর পাহাড়ের পাশে উপস্থিত ছিলেনা। বরং এটা (এই অহি) তোমার প্রভুর রহমত যাতে করে তুমি এমন একটি কওমকে সতর্ক করতে পারো, যাদের কাছে তোমার আগে কোনো সতর্ককারী আসেনি, আর তারা যেনো শিক্ষা গ্রহণ করে।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-কুন্তা বিজ্বা-নিবিত্ব্ তুরি ইয্ না-দাইনা- অলা-র্কি রহ্মাতাম্ র্মি রব্বিকা লিতুন্যির ক্বওমাম্ মায় আতা-হুম্ মিন্ নাযীরিম্ মিন্ ক্বব্লিকা লা'আল্লাহুম্ ইয়াতাযাক্কারূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আমি যখন মূসাকে আওয়াজ দিয়েছিলাম, তখন আপনি তুর পর্বতের পার্শ্বে ছিলেন না। কিন্তু এটা আপনার পালনকর্তার রহমত স্বরূপ, যাতে আপনি এমন এক সম্প্রদায়কে ভীতি প্রদর্শন করেন, যাদের কাছে আপনার পূর্বে কোন ভীতি প্রদর্শনকারী আগমন করেনি, যাতে তারা স্মরণ রাখে।

আবদুস শহীদ নাসিম

রসূল যদি না পাঠাতাম, তাহলে তাদের কর্মকান্ডের জন্যে যদি তাদের কোনো মসিবত আসতো তারা বলতো: ‘আমাদের প্রভু! তুমি কেন আমাদের কাছে একজন রসূল পাঠালেনা? পাঠালে তো আমরা তোমার আয়াতের ইত্তেবা (অনুসরণ) করতে পারতাম এবং আমরা হয়ে যেতাম।’

বাংলা উচ্চারণ

অ লাওলা য় আন্ তুছীবাহুম্ মুছীবাতুম্ বিমা-ক্বদ্দামাত্ আইদীহিম্ ফাইয়াকুলূ রব্বানা-লাওলা য় র্আসাল্তা ইলাইনা-রসূলান্ ফানাত্তাবি'আ আ-ইয়া-তিকা অনাকূনা মিনাল্ মুমিনীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর এ জন্য যে, তাদের কৃতকর্মের জন্যে তাদের কোন বিপদ হলে তারা বলত, হে আমাদের পালনকর্তা, তুমি আমাদের কাছে কোন রসূল প্রেরণ করলে না কেন? করলে আমরা তোমার আয়াতসমূহের অনুসরণ করতাম এবং আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু যখন আমাদের পক্ষ থেকে তাদের কাছে সত্য এলো, তারা বললো: ‘মূসাকে যেমন (নিদর্শন) দেয়া হয়েছিল, তাকে সে রকম দেয়া হলো না কেন? কিন্তু মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল তা কি তারা অস্বীকার করেনি? তারা বলেছে: ‘(কুরআন ও তাওরাত) দুটিই ম্যাজিক, পরস্পরের সমর্থক। তারা আরো বলেছিল আমরা প্রত্যেকটিই অস্বীকার করি।’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা- জ্বা-য়াহুমুল্ হাক্ক্বু মিন্ 'ইন্দিনা-ক্ব-লূ লাওলা য় ঊতিয়া মিছ্লা মা য় ঊতিয়া মূসা- আওয়ালাম্ ইয়াক্ফুরূ বিমা য় ঊতিয়া মূসা-মিন্ ক্বব্লু ক্ব-লূ সিহ্র-নি তাজোয়া-হারা অ ক্ব-লূ য় ইন্না বিকুল্লিন্ কা-ফিরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমার কাছ থেকে যখন তাদের কাছে সত্য আগমন করল, তখন তারা বলল, মূসাকে যেরূপ দেয়া হয়েছিল, এই রসূলকে সেরূপ দেয়া হল না কেন? পূর্বে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল, তারা কি তা অস্বীকার করেনি? তারা বলেছিল, উভয়ই জাদু, পরস্পরে একাত্ম। তারা আরও বলেছিল, আমরা উভয়কে মানি না।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো, তবে তোমরাই আল্লাহর কাছ থেকে একখানা কিতাব নিয়ে আসো যেটি এ দুটি (কুরআন ও তাওরাত) থেকে অধিকতর হিদায়াতওয়ালা কিতাব হবে, আমিও সে কিতাবের অনুসরণ করবো।’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ফাতূ বিকিতা-বিম্ মিন্ 'ইন্দিল্লা-হি হুওয়া আহ্দা মিন্হুমা য় আত্তাবি'হু ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, তোমরা সত্যবাদী হলে এখন আল্লাহর কাছ থেকে কোন কিতাব আন, যা এতদুভয় থেকে উত্তম পথপ্রদর্শক হয়। আমি সেই কিতাব অনুসরণ করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমার আহবানে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখো, তারা কেবল নিজেদের খেয়াল খুশিরই ইত্তেবা করে। ঐ ব্যক্তির চাইতে অধিকতর বিপথগামী আর কে আছে, যে আল্লাহর হিদায়াত উপক্ষো করে নিজের খেয়াল খুশির ইত্তেবা করে? নিশ্চয়ই যালিম কওমকে সঠিক পথ দেখাননা।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইল্ লাম্ ইয়াস্তাজ্বীবূ লাকা ফা'লাম্ আন্নামা- ইয়াত্তাবি'ঊনা আহ্ওয়া-য়াহুম্ অমান্ আদ্বোয়াল্লু মিম্মানিত্তাবা'আ হাওয়া-হু বিগইরি হুদাম্ মিনাল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহ্দিল্ ক্বওমাজ্ জোয়া-লিমীন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা যদি আপনার কথায় সাড়া না দেয়, তবে জানবেন, তারা শুধু নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। আল্লাহর হেদায়েতের পরিবর্তে যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় জালেম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের কাছে লাগাতার বাণী পৌঁছে দিয়েছি যাতে করে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ অছ্ ছোয়াল্না-লাহুমুল্ ক্বওলা লা'আল্লাহুম্ ইয়াতাযাক্কারূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাদের কাছে উপর্যুপরি বাণী পৌছিয়েছি। যাতে তারা অনুধাবন করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদেরকে আমরা ইতোপূর্বে কিতাব দিয়েছিলাম, তারা (তাদের কেউ কেউ) এর প্রতি (কুরআনের প্রতি) ঈমান রাখে।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল্ কিতা-বা মিন্ ক্বব্লিহী হুম্ বিহী ইয়ুমিনূন্।

মুহিউদ্দীন খান

কোরআনের পূর্বে আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা এতে বিশ্বাস করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের প্রতি যখন এটি (কুরআন) তিলাওয়াত করা হয়, তারা বলে: আমরা এটির প্রতি ঈমান এনেছি, নিশ্চয়ই আমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এটি সত্য। আমরা তো পূর্বেও মুসলিমই ছিলাম।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-ইয়ুত্লা- 'আলাইহিম্ ক্ব-লূ য় আ-মান্না- বিহী য় ইন্নাহুল্ হাককু র্মি রব্বিনা য় ইন্না-কুন্না-মিন্ ক্বব্লিহী মুস্লিমীন্।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাদের কাছে এটা পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। এটা আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সত্য। আমরা এর পূর্বেও আজ্ঞাবহ ছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরাই সেইসব লোক যাদেরকে পুরস্কার দেয়া হবে দুইবার তাদের সবরের কারণে। তারা মন্দের মুকাবেলা করে ভালো দিয়ে এবং তাদেরকে আমরা যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা খরচ করে (আল্লাহর পথে)।

বাংলা উচ্চারণ

উলা-য়িকা ইয়ুতাওনা আজরহুম্ র্মারাতাইনি বিমা-ছোয়াবারূ অ ইয়াদ্রায়ূনা বিল্হাসানাতিস্ সাইয়িয়াতা অমিম্মা-রযাকনা-হুম্ ইয়ুন্ফিকুন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারা দুইবার পুরস্কৃত হবে তাদের সবরের কারণে। তারা মন্দের জওয়াবে ভাল করে এবং আমি তাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখনই অর্থহীন কিছু শুনে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে চলে যায়। তারা বলে: ‘আমাদের কাজের ফল আমরা পাবো আর তোমাদের কাজের ফল পাবে তোমরা। তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা জাহিলদের সাথিত্ব চাইনা।’

বাংলা উচ্চারণ

অ ইযা-সামি'উল্ লাগ্ওয়া আ'রদ্বূ 'আন্হু অক্ব-লূ লানা য় আ'মা-লুনা অলাকুম্ আ'মা-লুকুম্ সালা-মুন্ 'আলাইকুম্ লা-নাব্তাগিল্ জ্বা-হিলীন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারা যখন অবাঞ্চিত বাজে কথাবার্তা শ্রবণ করে, তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, আমাদের জন্যে আমাদের কাজ এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজ। তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়িত হতে চাই না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যাকে মহব্বত করো, তুমি চাইলেই তাকে হিদায়াত করতে পারবেনা। কিন্তু যাকে চান হিদায়াত করেন। কারা হিদায়াতপ্রাপ্ত সেটা তিনিই ভালো জানেন।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাকা লা-তাহ্দী মান্ আহ্বাব্তা অলা-কিন্নাল্লা-হা ইয়াহ্দী মাইঁ ইয়াশা-য়ু অহুওয়া আ'লামু বিল্মুহ্তাদীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না, তবে তা’আলাই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই ভাল জানেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘আমরা যদি তোমার সাথে হিদায়াতের পথে চলি, তাহলে আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে উৎখাত করা হবে।’ আমরা কি তোমাদেরকে একটি নিরাপদ হারামে প্রতিষ্ঠিত করিনি, যেখানে সব ধরনের ফল ফলারি আমদানি হয় আমাদের পক্ষ থেকে রিযিক হিসেবে। তবে অধিকাংশ লোকই সত্য জানেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লূ য় ইন্ নাত্তাবি'ইল্ হুদা- মা'আকা নুতাখত্ব ত্বোয়াফ্ মিন্ র্আদ্বিনা-আওয়ালাম্ নুমাক্কিল্লাহুম্ হারমান্ আ-মিনাইঁ ইয়ুজবা য় ইলাইহি ছামার-তু কুল্লি শাইর্য়ি রিয্ক্বম্ মিল্লাদুন্না-অলা-কিন্না আক্ছারহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলে, যদি আমরা আপনার সাথে সুপথে আসি, তবে আমরা আমাদের দেশ থেকে উৎখাত হব। আমি কি তাদের জন্যে একটি নিরাপদ হরম প্রতিষ্ঠিত করিনি? এখানে সর্বপ্রকার ফল - মূল আমদানী হয় আমার দেয়া রিযিকস্বরূপ। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

কতো যে জনপদ আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি, যেগুলোর অধিবাসীরা নিজেদের সম্পদ ও জীবিকার দম্ভ করে বেড়াতো! এই যে এগুলো তাদের ঘর - বাড়ি, তাদের পরে এগুলোতে লোকজন সামান্যই বসবাস করেছে। আর প্রকৃত ওয়ারিশ তো আমরাই।

বাংলা উচ্চারণ

অকাম্ আহ্লাক্না মিন্ র্ক্বইয়াতিম্ বাত্বিরাত্ মাঈ'শাতাহা- ফাতিল্কা মাসা-কিনুহুম্ লাম্ তুস্কাম্ মিম্ বা'দিহিম্ ইল্লা-ক্বলীলা- অকুন্না-নাহ্নুল্ ওয়া-রিছীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আমি অনেক জনপদ ধবংস করেছি, যার অধিবাসীরা তাদের জীবন যাপনে মদমত্ত ছিল। এগুলোই এখন তাদের ঘর - বাড়ী। তাদের পর এগুলোতে মানুষ সামান্যই বসবাস করেছে। অবশেষে আমিই মালিক রয়েছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার রব জনপদসমূহকে ধ্বংস করেন না, যতোক্ষণ না সেগুলোর কেন্দ্রে রসূল পাঠিয়েছেন তাদের প্রতি আমাদের আয়াত তিলাওয়াত করার জন্যে। আমরা যেসব জনপদ ধ্বংস করেছি সেগুলোর অধিবাসীরা ছিলো যালিম।

বাংলা উচ্চারণ

অ মা-কা-না রব্বুকা মুহ্লিকাল্ কুরা-হাত্তা-ইয়াব্'আছা ফী য় উম্মিহা-রাসূলাইঁ ইয়াত্লূ 'আলাইহিম্ আ-ইয়াতিনা-অমা-কুন্না -মুহ্লিক্বিল্ কুরা য় ইল্লা-অআহ্লুহা-জোয়া-লিমূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তা জনপদসমূহকে ধ্বংস করেন না, যে পর্যন্ত তার কেন্দ্রস্থলে রসূল প্রেরণ না করেন, যিনি তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করেন এবং আমি জনপদসমূহকে তখনই ধ্বংস করি, যখন তার বাসিন্দারা জুলুম করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের যা কিছু দেয়া হয়েছে সেগুলো তো পার্থিব জীবনের ভোগ্য ও সৌন্দর্য। আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তাই উত্তম ও চিরস্থায়ী। তোমরা কি আকল খাটাবেনা?

বাংলা উচ্চারণ

অমা য় ঊতীতুম্ মিন্ শাইয়িন্ ফামাতা'উল্ হা-ইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-অযীনাতুহা- অমা-'ইন্দাল্লা-হি খইরুঁও অ আব্ক্ব- আফালা- তা'ক্বিলূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদেরকে যা কিছু দেয়া হয়েছে, তা পার্থিব জীবনের ভোগ ও শোভা বৈ নয়। আর আল্লাহর কাছে যা আছে, তা উত্তম ও স্থায়ী। তোমরা কি বোঝ না ?

আবদুস শহীদ নাসিম

যে ব্যক্তিকে আমরা উত্তম পুরস্কার প্রদানের ওয়াদা দিয়েছি আর সে অবশ্যি সে পুরস্কারের সাক্ষাত লাভ করবে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য, যাকে আমরা দুনিয়ার জীবনের ভোগের সামগ্রী দিয়েছি, তারপর কিয়ামতের দিন তাকে হাজির করা হবে আসামী হিসেবে?

বাংলা উচ্চারণ

আফামাঁও অ'আদ্না-হু ওয়া'দান্ হাসানান্ ফাহুওয়া লা-ক্বীহি কামাম্ মাত্তা'না-হু মাতা-'আল হা-ইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া- ছুম্মা হুওয়া ইয়াওমাল্ ক্বিয়ামাতি মিনাল্ মুহ্দ্বোয়ারীন্।

মুহিউদ্দীন খান

যাকে আমি উত্তম প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যা সে পাবে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমান, যাকে আমি পার্থিব জীবনের ভোগ - সম্ভার দিয়েছি, অতঃপর তাকে কেয়ামতের দিন অপরাধীরূপে হাযির করা হবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তিনি তাদের ডেকে বলবেন: ‘কোথায় আজ তারা যাদেরকে তোমরা আমার শরিক বলে ধারণা করতে?’

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়াওমা ইয়ুনা-দী হিম্ ফাইয়াকুলু আইনা শুরকা-ইইয়া ল্লাযীনা কুন্তুম্ তায্'উমূন্।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন তাদেরকে আওয়াজ দিয়ে বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার শরীক দাবী করতে, তারা কোথায়?

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদের উপর শাস্তির বাণী অবধারিত হবে, তারা বলবে: ‘আমাদের প্রভু! এদেরকে আমরাই বিভ্রান্ত করেছিলাম, এদেরকে বিভ্রান্ত করেছিলাম যেমন আমরা বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। আমরা আপনার কাছে এদের দুষ্কর্মের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছি। তারা তো আমাদের ইবাদত করতোনা।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লাল্লাযীনা হাক্ব্ক্বা 'আলাইহিমুল্ ক্বওলু রব্বানা-হা য় উলা-য়িল্লাযীনা আগ্ওয়াইনা-আগ্ওয়াইনা-হুম্ কামা- গওয়াইনা-তার্বারনায় ইলাইকা মা-কা-নূ য় ইয়্যা-না-ইয়া'বুদূন্।

মুহিউদ্দীন খান

যাদের জন্যে শাস্তির আদেশ অবধারিত হয়েছে, তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা। এদেরকেই আমরা পথভ্রষ্ট করেছিলাম। আমরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, যেমন আমরা পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম। আমরা আপনার সামনে দায়মুক্ত হচ্ছি। তারা কেবল আমাদেরই এবাদত করত না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বলা হবে: তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরিক বানিয়েছিলে তাদের ডাকো, তখন তারা তাদের ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকের জবাব দেবেনা। তারা তখন আযাব দেখতে পাবে। হায়, তারা যদি হিদায়াতের পথ অনুসরণ করতো?

বাংলা উচ্চারণ

অক্বীলাদ্'উ শুরাকা-য়াকুম্ ফাদা'আওহুম্ ফালাম্ ইয়াস্তাজ্বীবূ লাহুম্ অরয়ায়ুল্ 'আযা-বা লাও আন্নাহুম্ কা-নূ ইয়াহ্তাদূন্।

মুহিউদ্দীন খান

বলা হবে, তোমরা তোমাদের শরীকদের আহবান কর। তখন তারা ডাকবে,। অতঃপর তারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে না এবং তারা আযাব দেখবে। হায়! তারা যদি সৎপথ প্রাপ্ত হত।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তাদের ডেকে বলবেন: ‘তোমরা রসূলদের কী জবাব দিয়েছিলে?’

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়াওমা ইয়ুনা-দীহিম্ ফাইয়াকুলু মা-যা য়আজ্বাব্তুমুল্ র্মুসালীন্।

মুহিউদ্দীন খান

যে দিন তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা রসূলগণকে কি জওয়াব দিয়েছিলে?

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন সব তথ্য তাদের থেকে বিস্মৃত হয়ে যাবে এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাও করতে পারবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ফা'আমিয়াত্ 'আলাইহিমুল্ আম্বা-য়ু ইয়াওমায়িযিন্ ফাহুম্ লা-ইয়াতাসা-য়ালূন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাদের কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যে ব্যক্তি তওবা করবে, ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ করবে, আশা করা যায়, সে সফলতা অর্জনকারীদের অন্তরভুক্ত হবে।

বাংলা উচ্চারণ

ফা আম্মা-মান্ তা-বা অআ-মানা অ 'আমিলা ছোয়া-লিহান্ ফা'আসা য় আইঁ ইয়াকূনা মিনাল্ মুফ্লিহীন্।

মুহিউদ্দীন খান

তবে যে তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আশা করা যায়, সে হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন, এতে তাদের কোনো হাত নেই। সে সব থেকে পবিত্র ও মহান, যাদের তারা তাঁর সাথে শরিক করছে।

বাংলা উচ্চারণ

অরব্বুকা ইয়াখ্লুকু মা-ইয়াশা-য়ু অইয়াখ্ তা-র মা-কা-না লাহুমুল্ খিয়ারহ্ সুবহা-নাল্লা-হি অতা'আলা-'আম্মা ইয়ুশ্রিকুন্।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং পছন্দ করেন। তাদের কোন ক্ষমতা নেই। পবিত্র এবং তারা যাকে শরীক করে, তা থেকে উর্ধ্বে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু জানেন তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে।

বাংলা উচ্চারণ

অ রব্বুকা ইয়া'লামু মা-তুকিন্নু ছুদূরুহুম্ অমা-ইয়ুলিনূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে, আপনার পালনকর্তা তা জানেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই , তিনি ছাড়া কোনো নেই। সমস্ত প্রশংসা তাঁর দুনিয়া ও আখিরাতে। সার্বভৌমত্ব তাঁরই এবং তাঁর কাছেই ফিরিয়ে নেয়া হবে তোমাদের।

বাংলা উচ্চারণ

অহুওয়াল্লা-হু লা য় ইলা-হা ইল্লা-হুয়া লাহুল্ হাম্দু ফিল্ ঊলা-অল্আ-খিরতি অলাহুল্ হুক্মু অইলাইহি র্তুজ্বা'ঊন্।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। ইহকাল ও পরকালে তাঁরই প্রশংসা। বিধান তাঁরই ক্ষমতাধীন এবং তোমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: তোমরা ভেবে দেখেছো কি, যদি রাতকে কিয়ামতকাল পর্যন্ত তোমাদের উপর স্থায়ী করে দেন, তবে ছাড়া এমন কোনো আছে কি, যে তোমাদের আলো এনে দেবে? তোমরা কি (উপদেশ) শুনবেনা?

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ আরায়াইতুম্ ইন্জ্বা'আলাল্লা-হু 'আলাইকুমুল্ লাইলা র্সামাদান্ ইলা-ইয়াওমিল্ ক্বিয়া-মাতি মান্ ইলা-হুন্ গইরুল্লা-হি ইয়াতীকুম্ বিদ্বিয়া-য়্ আফালা-তাস্মা'ঊন্।

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, ভেবে দেখ তো, যদি রাত্রিকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, তবে ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে, যে তোমাদেরকে আলোক দান করতে পারে? তোমরা কি তবুও কর্ণপাত করবে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: তোমরা ভেবে দেখেছো কি, যদি দিনকে তোমাদের উপর কিয়ামতকাল পর্যন্ত স্থায়ী করে দেন, তবে কোন্ আছে, যে তোমাদের রাত এনে দেবে যাতে তোমরা বিশ্রাম গ্রহণ করতে পারো? তোমরা কি ভেবে দেখবেনা?

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ আরয়াইতুম্ ইন্ জ্বা'আলাল্লা-হু 'আলাইকুমু ন্নাহা-র র্সামাদান্ ইলা-ইয়াওমিল্ ক্বিয়া-মাতি মান্ ইলা-হুন্ গইরুল্লা-হি ইয়াতীকুম্ বিলাইলিন্ তাস্কুনূনা ফীহ্ আফালা-তুব্ছিরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, ভেবে দেখ তো, যদি দিনকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, তবে ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে যে, তোমাদেরকে রাত্রি দান করতে পারে, যাতে তোমরা বিশ্রাম করবে ? তোমরা কি তবুও ভেবে দেখবে না ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই নিজ দয়ায় তোমাদের জন্যে রাত এবং দিন সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম নিতে পারো এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো আর যাতে করে তোমরা তাঁর শোকর আদায় করতে পারো।

বাংলা উচ্চারণ

অর্মি রহমাতিহী জ্বা'আলা লাকুমুল্ লাইলা অন্নাহা-র লিতাস্কুনূ ফীহি অলিতাব্তাগূ মিন্ ফাদ্ব্লিহী অ লা'আল্লাকুম্ তাশ্কুরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই স্বীয় রহমতে তোমাদের জন্যে রাত ও দিন করেছেন, যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম গ্রহণ কর ও তাঁর অনুগ্রহ অন্বেষণ কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তিনি তাদের ডেকে বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার শরিক বলে ধারণা করতে তারা এখন কোথায়?

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়াওমা ইয়ুনা-দীহিম্ ফাইয়াকুলু আইনা শুরাকা-য়িয়াল্ লাযীনা কুন্তুম্ তায্'উমূন্।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে, তারা কোথায়?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা প্রতিটি উম্মত থেকে একজন করে সাক্ষী বের করে আনবো এবং তাদের বলবো: ‘হাজির করো তোমাদের প্রমাণ।’ তখনই তারা জানতে পারবে হবার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। আর যাদেরকে তারা (মিথ্যা) বানিয়ে নিয়েছিল তারা সবাই উধাও হয়ে যাবে।

বাংলা উচ্চারণ

অনাযা'না-মিন্ কুল্লি উম্মাতিন্ শাহীদান্ ফাকুল্না- হা-তূ র্বুহা-নাকুম্ ফা'আলিমূ য় আন্নাল্ হাকক্ব লিল্লা-হি অদ্বোয়াল্লা 'আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াফ্তারূন্।

মুহিউদ্দীন খান

প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে আমি একজন সাক্ষী আলাদা করব; অতঃপর বলব, তোমাদের প্রমাণ আন। তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য আল্লাহর এবং তারা যা গড়ত, তা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে যাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কারূণ ছিলো মূসার কওমেরই একজন। সে তাদের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিল। তাকে আমরা দান করেছিলাম এমন ধনভান্ডার যার চাবিগুলো বহন করা একদল শক্তিশালী লোকের পক্ষেও ছিলো কষ্টসাধ্য। তার কওম তাকে বলেছিল: ‘‘দম্ভ করোনা, দাম্ভিকদের পছন্দ করেন না।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না ক্বা-রূনা কা-না মিন্ ক্বাওমি মূসা- ফাবাগ-'আলাইহিম্ অআ-তাইনা-হু মিনাল্ কুনূযি মা য় ইন্না মাফা-তিহাহূ লাতানূ য় বিল্উছ্বাতি উলিল্ কুওয়াতি ইয্ ক্ব-লা লাহূ ক্বওমুহূ লা-তাফ্রাহ্ ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ুহিব্বুল্ ফারিহীন্।

মুহিউদ্দীন খান

কারুন ছিল মূসার সম্প্রদায়ভুক্ত। অতঃপর সে তাদের প্রতি দুষ্টামি করতে আরম্ভ করল। আমি তাকে এত ধন - ভান্ডার দান করেছিলাম যার চাবি বহন করা কয়েকজন শক্তিশালী লোকের পক্ষে কষ্টসাধ্য ছিল। যখন তার সম্প্রদায় তাকে বলল, দম্ভ করো না, দাম্ভিকদেরকে ভালবাসেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাকে যা দিয়েছেন তা দিয়ে আখিরাতের ঘর সন্ধান করো। দুনিয়ায় তোমার দায়িত্বের অংশ ভুলে যেয়োনা। মানুষের প্রতি ইহসান করো, যেভাবে ইহসান করেছেন তোমার প্রতি। দেশে বিপর্যয় সৃষ্টির চেষ্টা করোনা। নিশ্চয়ই ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেননা।’’

বাংলা উচ্চারণ

অব্তাগি ফীমা য় আ- তা-কাল্ লা-হুদ্ দা-রল্ আ-খিরতা অলা- তান্সা নাছীবাকা মিনাদ্দুনইয়া-অআহ্সিন্ কামা য় আহ্সানাল্লা-হু ইলাইকা অলা-তাব্গিল্ ফাসা-দা ফিল্ র্আদ্ব্ ইন্নাল্লা-হা-লা- ইয়ুহিব্বুল্ মুফ্সিদীন্।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাকে যা দান করেছেন, তদ্বারা পরকালের গৃহ অনুসন্ধান কর, এবং ইহকাল থেকে তোমার অংশ ভূলে যেয়ো না। তুমি অনুগ্রহ কর, যেমন তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হয়ো না। নিশ্চয় অনর্থ সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘এসব সম্পদ আমি লাভ করেছি আমার বিশেষ জ্ঞানের মাধ্যমে।’ সে কি জানেনা, তার আগেও বহু মানব প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়েছেন যারা ছিলো শক্তিতে তার চাইতেও প্রবল এবং তাদের জনসংখ্যাও ছিলো অধিক। অপরাধীদের জিজ্ঞাসা করা হবেনা তারা কী অপরাধ করেছিল?

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইন্নামা য় ঊ তীতুহূ 'আলা- 'ইল্মিন্ 'ইন্দী আওয়ালাম্ ইয়া'লাম্ আন্নাল্লা-হা ক্বদ্ আহ্লাকা মিন্ ক্বব্লিহী মিনাল্ ক্ব্ রূনি মান্ হুওয়া আশাদ্দু মিন্হু কুওয়্যাতাঁও অআক্ছারু জ্বাম্'আ- অলা-ইয়ুস্য়ালু 'আন্ যুনূবিহিমুল্ মুজ্ব রিমূন্।

মুহিউদ্দীন খান

সে বলল, আমি এই ধন আমার নিজস্ব জ্ঞান - গরিমা দ্বারা প্রাপ্ত হয়েছি। সে কি জানে না যে, তার পূর্বে অনেক সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছেন, যারা শক্তিতে ছিল তার চাইতে প্রবল এবং ধন - সম্পদে অধিক প্রাচুর্যশীল? পাপীদেরকে তাদের পাপকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

কারূণ তার কওমের লোকদের সামনে উপস্থিত হয়েছিল জাঁকজমকের সাথে। যারা দুনিয়ার হায়াতটাকেই প্রাধান্য দিতো, তখন তারা বলেছিল: ‘হায়, কারূণকে যেসব সম্পদ দেয়া হয়েছে আমাদেরকেও যদি সেসব দেয়া হতো! সে তো বিরাট ভাগ্যবান।’

বাংলা উচ্চারণ

ফাখরজ্বা 'আলা-ক্বওমিহী ফী যীনাতিহী ক্ব-লাল্লাযীনা ইয়ুরীদূনাল্ হাইয়া-তাদ্ দুন্ইয়া- ইয়া-লাইতা লানা-মিছ্লা মা য় ঊতিয়া ক্বা-রূনু ইন্নাহূ লাযূ হাজ্জিন্ 'আজীম্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর কারুন জাঁকজমক সহকারে তার সম্প্রদায়ের সামনে বের হল। যারা পার্থিব জীবন কামনা করত, তারা বলল, হায়, কারুন যা প্রাপ্ত হয়েছে, আমাদেরকে যদি তা দেয়া হত! নিশ্চয় সে বড় ভাগ্যবান।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যাদেরকে এলেম দেয়া হয়েছিল তারা বলেছিল: ‘ধ্বংস হও তোমরা, যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ করেছে তাদের জন্যে তো আল্লাহর সওয়াবই (পুরস্কারই) সর্বোত্তম। আর তা তো কেবল সবর অবলম্বনকারীরাই লাভ করবে।’

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লাল লাযীনা ঊ তুল্ 'ইল্মা অইলাকুম্ ছাওয়াবু ল্লা-হি খইরুল্লিমান্ আ-মানা অ'আমিলা ছোয়া-লিহান্ অলা'ইয়ুলাকক্ব-হা য় ইল্লাছ্ ছোয়া-বিরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছিল, তার বলল, ধিক তোমাদেরকে, যারা এবং সৎকর্মী, তাদের জন্যে আল্লাহর দেয়া সওয়াবই উৎকৃষ্ট। এটা তারাই পায়, যারা সবরকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে আমরা তাকে (কারূণকে) তার ঘর - বাড়ি ও প্রাসাদ - অট্টালিকাসহ দাবিয়ে দিয়েছি মাটির নীচে। তখন তাকে আল্লাহর পাকড়াওর বিরুদ্ধে সাহায্য করার কেউই ছিলনা এবং সে নিজেও আত্মরক্ষায় সমর্থ ছিলনা।

বাংলা উচ্চারণ

ফাখসাফ্না বিহী অবিদা-রিহিল্ র্আদ্বোয়া ফামা- কা-না লাহূ মিন্ ফিয়াতিঁই ইয়ান্ ছুরূনাহূ মিন্ দূনিল্লা-হি অমা-কা-না মিনাল্ মুন্তাছিরীন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি কারুনকে ও তার প্রাসাদকে ভূগর্ভে বিলীন করে দিলাম। তার পক্ষে ব্যতীত এমন কোন দল ছিল না, যারা তাকে সাহায্য করতে পারে এবং সে নিজেও আত্মরক্ষা করতে পারল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

গতকালও যারা তার মতো হবার তামান্না (আকাঙ্ক্ষা) করেছিল, তারা বলতে লাগলো: ‘দেখলে তো, তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করে দেন, আর যাকে ইচ্ছা সীমিত করে দেন। যদি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করতেন, তবে আমাদেরকে সহই ধ্বসিয়ে দিতেন। দেখলে তো কাফিররা সাফল্য অর্জন করেনা।’

বাংলা উচ্চারণ

অ আছ্বাহাল্লাযীনা তামান্নাও মাকা-নাহূ বিল্ আম্সি ইয়াকুলূনা অইকায়ান্নাল্লা- হা ইয়াব্সুত্বর্ ু রিয্ক্বা লিমাই ইয়াশা-য়ু মিন্ 'ইবা-দিহী অইয়াকদিরু লাওলা য় আম্মান্নাল্লা-হু 'আলাইনা- লাখসাফা বিনা- অইকায়ান্নাহূ লা-ইয়ুফ্লিহুল্ কা-ফিরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

গতকল্য যারা তার মত হওয়ার বাসনা প্রকাশ করেছিল, তারা প্রত্যুষে বলতে লাগল, হায়, তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক বর্ধিত করেন ও হ্রাস করেন। আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করলে আমাদেরকেও ভূগর্ভে বিলীন করে দিতেন। হায়, কাফেররা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আখিরাতের সেই ঘর আমরা তৈরি করে রেখেছি তাদের জন্যে, যারা পৃথিবীতে উদ্ধত হতে চায়না এবং সৃষ্টি করতে চায়না ফাসাদ, আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকিদের জন্যেই।

বাংলা উচ্চারণ

তিল্কাদ্দা-রুল্ আ-খিরতু নাজ্ব 'আলুহা- লিল্লাযীনা লা-ইয়ুরীদূনা উলুওয়্যান্ ফিল্ র্আদ্বি অলা-ফাসা-দা- অল্'অক্বিবাতু লিল্মুত্তাক্বীন্।

মুহিউদ্দীন খান

এই পরকাল আমি তাদের জন্যে নির্ধারিত করি, যারা দুনিয়ার বুকে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে ও অনর্থ সৃষ্টি করতে চায় না। খোদাভীরুদের জন্যে শুভ পরিণাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কেউ (সেখানে) কোনো ভালো কাজ নিয়ে উপস্থিত হবে, সে তার চাইতে উত্তম প্রতিফল লাভ করবে। আর যে কেউ মন্দ কাজ নিয়ে উপস্থিত হবে, তবে যারাই মন্দ কাজ করেছে তাদেরকে প্রতিদান দেয়া হবে কেবল তাদের আমলের অনুরূপ।

বাংলা উচ্চারণ

মান্ জ্বা-য়া বিল্ হাসানাতি ফালাহূ খইরুম্ মিন্হা-অমান্ জ্বা-য়া বিস্সাইয়িয়া-তি ফালা- ইয়ুজ্ব যা ল্লাযীনা 'আমিলুস্ সাইয়্যিয়া-তি ইল্লা-মা কা-নূ ইয়া'মালূন্।

মুহিউদ্দীন খান

যে সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে তদপেক্ষা উত্তম ফল পাবে এবং যে মন্দ কর্ম নিয়ে আসবে, এরূপ মন্দ কর্মীরা সে মন্দ কর্ম পরিমানেই প্রতিফল পাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যিনি তোমার প্রতি কুরআনকে বিধান বানিয়ে দিয়েছেন, তিনি অবশ্যি তোমাকে ফেরত আনবেন তোমার জন্মভূমিতে। বলো: ‘আমার প্রভুই অধিক জানেন কে হিদায়াত নিয়ে এসেছে, আর কে রয়েছে সুস্পষ্ট বিপথগামিতায় নিমজ্জিত।’

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না ল্লাযী ফারাদ্বোয়া 'আলাইকাল্ ক্কর্ আ-না লার-দ্দুকা ইলা-মা'আ-দ্ ক্বর্ রব্বী য় আ'লামু মান্ জ্বা-য়া বিল্হুদা-অমান্ হুওয়া ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।

মুহিউদ্দীন খান

যিনি আপনার প্রতি কোরআনের বিধান পাঠিয়েছেন, তিনি অবশ্যই আপনাকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনবেন। বলুন আমার পালনকর্তা ভাল জানেন কে হেদায়েত নিয়ে এসেছে এবং কে প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে আছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করা হবে তুমি তো কখনো সেই আশা পোষণ করোনি। এটা তো তোমার প্রভুরই অনুগ্রহ! সুতরাং তুমি কখনো কাফিরদের সাহায্যকারী হয়োনা।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-কুন্তা র্তাজ্ব য় আইঁ ইইয়ুল্ক্ব য় ইলাইকাল্ কিতা-বু ইল্লা-রহ্মাতাম্ র্মি রব্বিকা ফালা- তাকূনান্না জোয়াহীরল্ লিল্ কা-ফিরীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি আশা করতেন না যে, আপনার প্রতি কিতাব অবর্তীর্ণ হবে। এটা কেবল আপনার পালনকর্তার রহমত। অতএব আপনি কাফেরদের সাহায্যকারী হবেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রতি আল্লাহর আয়াত নাযিল হবার পর তারা যেনো তা থেকে তোমাকে কিছুতেই বিরত না রাখতে পারে। তুমি মানুষকে দাওয়াত দাও তোমার প্রভুর দিকে এবং কিছুতেই তুমি মুশরিকদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-ইয়াছুদ্দুন্নাকা 'আন্ আ-ইয়া-তিল্লা-হি বা'দা ইয্ উন্যিলাত্ ইলাইকা ওয়াদ্'ঊ ইলা-রব্বিকা অলা-তাকূনান্না মিনাল্ মুশ্রিকীন্।

মুহিউদ্দীন খান

কাফেররা যেন আপনাকে আল্লাহর আয়াত থেকে বিমুখ না করে সেগুলো আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হওয়ার পর আপনি আপনার পালনকর্তার প্রতি দাওয়াত দিন এবং কিছুতেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি আল্লাহর সাথে অন্য ডেকোনা। কারণ, তিনি ছাড়া আর কোনো নেই। তাঁর সত্তা ছাড়া প্রতিটি জিনিসই ধ্বংসশীল। সর্বময় ক্ষমতা তাঁরই এবং তোমাদেরকে তাঁরই কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-তাদ্'ঊ মা'আল্লা-হি ইলা-হান্ আ-র্খ লা য় ইলা-হা ইল্লা-হুওয়া কুল্লু শাইয়িন্ হা-লিকুন্ ইল্লা -অজহাহ্ লাহুল্ হুক্মু অইলাইহি র্তুজ্বা'ঊন্।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। আল্লাহর সত্তা ব্যতীত সবকিছু ধবংস হবে। বিধান তাঁরই এবং তোমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme