Kitab

আল সিজ্দাহ

Chapter 32, 30 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • বাংলা উচ্চারণ
  • মুহিউদ্দীন খান
About this chapter


মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৩০, রুকু সংখ্যা: ০৩

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ‌০১-০৩কুরআন আল্লাহর কিতাব, কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য। ০৪-১৪আল্লাহর মহাবিশ্ব সৃষ্টি এবং পরিচালন ব্যবস্থা নিখুঁত। তিনি নিখুঁতভাবে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। মানুষের অবিশ্বাস এক বড় বোকামি। অবিশ্বাসীদের পরকালীন করুণ পরিণতি। ১৫-১৯যারা আল্লাহর আয়াতের প্রতি ঈমান আনে তাদের বৈশিষ্ট্য ও শুভ পরিণতি। ২০-৩০সীমালঙ্ঘনকারীদের করুণ পরিণতি। যারা আল্লাহর আয়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাদের কঠিন শাস্তি। অটলভাবে আল্লাহর কিতাব মেনে চলার মধ্যেই রয়েছে সাফল্য।
আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ লাম মিম।

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লা-ম্ মী-ম।

মুহিউদ্দীন খান

আলিফ - লাম - মীম।

আবদুস শহীদ নাসিম

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এ কিতাব রাব্বুল আলামিনের নাযিলকৃত।

বাংলা উচ্চারণ

তান্যীলুল্ কিতা-বি লা-রইবা ফীহি র্মি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।

মুহিউদ্দীন খান

এ কিতাবের অবতরণ বিশ্বপালনকর্তার নিকট থেকে এতে কোন সন্দেহ নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি বলে: ‘এটি সে নিজে রচনা করে নিয়েছে?’ বরং তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে এ এক মহাসত্য। এটি নাযিলের উদ্দেশ্য হলো: সেই কওমকে সতর্ক করা, যাদের মধ্যে তোমার পূর্বে কোনো সতর্ককারী আসেনি। হয়তো তারা সঠিক পথ ধরবে।

বাংলা উচ্চারণ

আম্ ইয়াকুলূনাফ্ তার-হু বাল্ হুওয়াল্ হাক্ব কু র্মি রব্বিকা লিতুন্যির ক্বওমাম্ মা য় আতা-হুম্ মিন্ নাযীরিম্ মিন্ ক্বব্লিকা লা'আল্লাহুম্ ইয়াহ্তাদূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি বলে, এটা সে মিথ্যা রচনা করেছে? বরং এটা আপনার পালনকর্তার তরফ থেকে সত্য, যাতে আপনি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন, যাদের কাছে আপনার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসেনি। সম্ভবতঃ এরা সুপথ প্রাপ্ত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

, তিনিই সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয়টি সময়কালে, তারপর তিনি সমাসীন হন আরশে। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অলিও নেই শফীও (শাফায়াতকারীও) নেই। তারপরও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবেনা?

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা-হুল্লাযী খলাক্বস্-সামা ওয়া-তি অল্র্আদ্বোয়া অমা-বাইনা হুমা-ফী সিত্তাতি আইয়্যা-মিন্ ছুম্মাস্ তাওয়া 'আলাল্-'র্আশ্ মা- লাকুম্ মিন্দূনিহী মিওঁ অলিয়্যঁও অলা- শাফী'ইন্ আফালা-তাতাযাক্কারূন্।

মুহিউদ্দীন খান

যিনি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে বিরাজমান হয়েছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত সব বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর একদিন সবকিছুই তাঁর কাছে উত্থাপন করা হবে, তোমাদের হিসাব অনুযায়ী যে দিনটির পরিমাণ হাজার বছর।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ুদাব্বিরুল্ আম্র মিনাস্ সামা-য়ি ইলাল্ র্আদ্বি ছুম্মা ইয়া'রুজু ইলাইহি ফী ইয়াওমিন্ কা-না মিক্ব দা-রুহূ য় আল্ফা সানাতিম্ মিম্মা-তা'উদ্দূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত কর্ম পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর কাছে পৌছবে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় হাজার বছরের সমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই , তিনি (অদৃশ্যের) এবং শাহাদাতের (দৃশ্যের) জ্ঞানী, মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা 'আ-লিমুল্ গইবি অশ্শাহা-দাতিল্ 'আযীর্যু রহীম্।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু,

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি অতি উত্তম ও সুষম করেছেন প্রতিটি জিনিসের সৃষ্টি এবং তিনি মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেছেন কাদামাটি থেকে।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযী য় আহ্সানা কুল্লা শাইয়িন্ খলাক্বহূ অবাদায়া খল্ক্বল্ ইন্সা-নি মিন্ ত্বীন্।

মুহিউদ্দীন খান

যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তিনি তার (মানুষের) বংশ চালু করেছেন তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা জ্বা'আলা নাস্লাহূ মিন্ সুলা-লাতিম্ মিম্মা-য়িম্ মাহীন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তিনি তার বংশধর সৃষ্টি করেন তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তিনি তাকে সুষম ও সুঠাম করেন এবং তাতে ফুঁকে দেন তাঁর থেকে রূহ। আর তিনি তার শোনার জন্যে দিয়েছেন কান, দেখার জন্যে বানিয়ে দিয়েছেন চোখ এবং ভাববার জন্যে সৃষ্টি করে দিয়েছেন অন্তর। তোমরা খুব কমই শোকর আদায় করো।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা সাওয়্যা-হু অনাফাখ ফীহি র্মি রূহিহী অজ্বা'আলা লাকুমুস্ সাম'আ অল্ আব্ছোয়া-র অল্আফ্য়িদাহ্ ক্বলীলাম্ মা-তাশ্কুরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তিনি তাকে সুষম করেন, তাতে রূহ সঞ্চার করেন এবং তোমাদেরকে দেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তঃকরণ। তোমরা সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘আমরা যখন মাটিতে বিলীন হয়ে যাবো, তখন কি আমাদের পুনরায় নতুন করে সৃষ্টি করা হবে?’ বরং তারা তাদের প্রভুর সাথে সাক্ষাতের বিষয়টিকেই অস্বীকার করছে।

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লূ য় য়া ইযা- দ্বোয়ালাল্না-ফিল্ র্আদ্বি আ ইন্না-লাফী খল্ক্বিন্ জ্বাদীদ্ বাল্ হুম্ বিলিক্ব-য়ি রব্বিহিম্ কা-ফিরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলে, আমরা মৃত্তিকায় মিশ্রিত হয়ে গেলেও পুনরায় নতুন করে সৃজিত হব কি? বরং তারা তাদের পালনকর্তার সাক্ষাতকে অস্বীকার করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘তোমাদের ওফাত ঘটাবে মালাকুল মউত (মউতের ফেরেশতা) যাকে তোমাদের মৃত্যু ঘটাবার জন্যে নিযুক্ত করা হয়েছে। তারপর তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে তোমাদের প্রভুর কাছে।’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইয়াতাওয়াফ্ফা-কুম্ মালাকুল্ মাওতিল্লাযী উক্কিলা বিকুম্ ছুম্মা ইলা-রব্বিকুম্ র্তুজ্বা'ঊন্।

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হায়, তুমি যদি দেখতে, অপরাধীরা যখন তাদের প্রভুর সামনে মাথা নত করে বলবে: ‘আমাদের প্রভু! আমরা সবকিছু দেখলাম এবং শুনলাম, এখন তুমি আমাদের আবার পৃথিবীতে পাঠাও, আমরা সৎকাজ করবো এবং আমরা মজবুত হয়েছি।’

বাংলা উচ্চারণ

অলাও তারা য় ইযিল্ মুজ্ব রিমূনা না-কিসূ রুয়ূসিহিম্ 'ইন্দা রব্বিহিম্ রব্বানা য় আব্ছোর্য়ানা-অসামি'না র্ফাজ্বি'না না'মাল্ ছোয়া- লিহান্ ইন্না-মূক্বিনূন্।

মুহিউদ্দীন খান

যদি আপনি দেখতেন যখন অপরাধীরা তাদের পালনকর্তার সামনে নতশির হয়ে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আমাদেরকে পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকর্ম করব। আমরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়ে গেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা চাইলে প্রত্যেক ব্যক্তিকেই হিদায়াতের পথে নিয়ে আসতাম, কিন্তু আমি তো ফায়সালা করে রেখেছি: ‘আমি অবশ্যি পরিপূর্ণ করবো জাহান্নামকে জিন ও মানুষ উভয়কে দিয়ে।’

বাংলা উচ্চারণ

অলাও শিনা লাআ-তাইনা- কুল্লা নাফ্সিন্ হুদা-হা-অলা-কিন্ হাক্ব ক্বল্ কওলু মিন্নী লাআম্লায়ান্না জ্বাহান্নামা মিনাল্ জ্বিন্নাতি অন্না-সি আজ্ব মা'ঈন্।

মুহিউদ্দীন খান

আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেককে সঠিক দিক নির্দেশ দিতাম; কিন্তু আমার এ উক্তি অবধারিত সত্য যে, আমি জিন ও মানব সকলকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং আজকের এই দিনের সাক্ষাতের কথা তোমরা যেহেতু ভুলে গিয়েছিলে তাই আস্বাদন করো আযাব। আমরাও তোমাদের ভুলে গেলাম, সুতরাং তোমাদের কর্মকান্ডের ফল হিসেবে আস্বাদন করো চিরস্থায়ী আযাব।

বাংলা উচ্চারণ

ফাযূকু বিমা-নাসীতুম্ লিক্বা-য়া ইয়াওমিকুম্ হা-যা-ইন্না নাসীনা-কুম্ অযূকু 'আযা- বাল্ খুল্দি বিমা-কুন্তুম্ তা'মালূন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব এ দিবসকে ভূলে যাওয়ার কারণে তোমরা মজা আস্বাদন কর। আমিও তোমাদেরকে ভুলে গেলাম। তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের কারণে স্থায়ী আযাব ভোগ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের আয়াতের প্রতি ঈমান রাখে তো তারা, যাদেরকে তা স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে তারা সাজদায় অবনত হয়ে পড়ে এবং তাদের প্রভুর হামদসহ তসবিহ করতে থাকে, আর তারা দম্ভ করে বেড়ায়না। (সাজদা)

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নামা-ইয়ুমিনু বিআ-ইয়া-তিনা ল্লাযীনা ইযা-যুক্কিরূ বিহা- র্খারূ সুজ্জ্বাদাঁও অসাব্বাহূ বিহাম্দি রব্বিহিম অহুম্ লা- ইয়াস্তাক্বিরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে, যারা আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশপ্রাপ্ত হয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং অহংকারমুক্ত হয়ে তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তাদের দেহকে শয্যা থেকে আলগা করে উঠিয়ে নিয়ে তাদের প্রভুকে ডাকে ভয় ও আশা নিয়ে, আর আমরা তাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা খরচ করে (আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে)।

বাংলা উচ্চারণ

তাতাজ্বা-ফা-জুনূবুহুম্ 'আনিল্ মাদ্বোয়া-জ্বি'ই ইয়াদ্'ঊনা রব্বাহুম্ খাওফাঁও অ ত্বোয়ামায়াঁও অ মিম্মা-রযাক্ব না-হুম্ ইয়ুন্ফিকুন্।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কেউই জানেনা, তাদের জন্যে চোখ জুড়ানো যেসব (নিয়ামত রাজি) গোপন করে রাখা হয়েছে তাদের আমলের পুরস্কার হিসেবে!

বাংলা উচ্চারণ

ফালা- তা'লামু নাফ্সুম্ মা য় উখ্ফিয়া লাহুম্ মিন্ ক্বর্ রতি আ'ইয়ুনিন্ জ্বাযা-য়াম্ বিমা-কা-নূ ইয়া'মালূন্।

মুহিউদ্দীন খান

কেউ জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কি কি নয়ন - প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে ব্যক্তি , সে কি ফাসিকের সমতুল্য? না, তারা সমান নয়।

বাংলা উচ্চারণ

আফামান্ কা-না মুমিনান্ কামান্ কা-না ফা-সিক্বন্ লা-ইয়াস্তায়ূন্।

মুহিউদ্দীন খান

ব্যক্তি কি অবাধ্যের অনুরূপ? তারা সমান নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

হাঁ, যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাতুল মা’ওয়া (স্থায়ী জান্নাত) তাদের আমলের আতিথ্য হিসেবে।

বাংলা উচ্চারণ

আম্মাল্ লাযীনা আ-মানূ অ 'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি ফালাহুম্ জ্বান্না-তুল্ মাওয়া-নুযুলাম্ বিমা-কা-নূ ইয়া'মালূন্।

মুহিউদ্দীন খান

যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে তাদের কৃতকর্মের আপ্যায়নস্বরূপ বসবাসের জান্নাত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা ফাসেকি (সীমালংঘন ও পাপাচার) করে, তাদের আবাস হবে জাহান্নাম, যখনই তারা সেখান থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদের সেখানে ঠেলে দেয়া হবে। তাদের বলা হবে: আস্বাদন করো সেই জাহান্নামের আযাব, যাকে তোমরা অস্বীকার করতে।

বাংলা উচ্চারণ

অআম্মাল্লাযীনা ফাসাকুফামাওয়া-হুমুন্ নার্- কুল্লামা য় আরদূ য় আইঁ ইয়াখ্রুজু মিন্হা য় উ'ঈদূ ফীহা- অ ক্বীলা লাহুম্ যূকু 'আযা-বান্ না-রিল্লাযী কুন্তুম্ বিহী তুকায্যিবূন্।

মুহিউদ্দীন খান

পক্ষান্তরে যারা অবাধ্য হয়, তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। যখনই তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তথায় ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের যে আযাবকে মিথ্যা বলতে, তার স্বাদ আস্বাদন কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘আযাবুল আকবার’ (গুরুদন্ড) আস্বাদন করাবার আগে আমরা তাদের (এই দুনিয়াতে) কিছু কিছু ‘আযাবুল আদনা’ (লঘুদন্ড) আস্বাদন করাবো, যাতে করে তারা ফিরে আসে।

বাংলা উচ্চারণ

অলানুযীক্বন্নাহুম্ মিনাল্ 'আযা-বিল্ আদ্না-দূনাল্ 'আযা-বিল্ আক্বারি লা'আল্লাহুম্ ইর্য়াজ্বি'ঊন্।

মুহিউদ্দীন খান

গুরু শাস্তির পূর্বে আমি অবশ্যই তাদেরকে লঘু শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যাকে বারবার তার প্রভুর আয়াত স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে, তারপরও সে তা উপেক্ষা করে চলেছে। আমরা অবশ্যি অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ নেবো।

বাংলা উচ্চারণ

অমান্ আজ্লামু মিম্মান্ যুক্কিরা বিআ-ইয়া-তি রব্বিহী ছুম্মা 'আরদ্বোয়া 'আন্হা- ইন্না-মিনাল্ মুজ্ব রিমীনা মুন্তাক্বিমূন্।

মুহিউদ্দীন খান

যে ব্যক্তিকে তার পালনকর্তার আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দান করা হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার চেয়ে যালেম আর কে? আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দেব।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসাকেও কিতাব দিয়েছিলাম। সুতরাং তুমি তার সাক্ষাতের ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে থেকোনা। আমরা সেই (মূসার) কিতাবকে বানিয়েছিলাম বনি ইসরাঈলের জন্যে জীবন যাপন পদ্ধতি।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ আ-তাইনা- মূসাল্ কিতা-বা ফালা-তাকুন্ ফী র্মিইয়াতিম্ মিল্ লিক্ব-য়িহী অ জ্বা'আল্না-হু হুদাল্ লিবানী য় ইস্রা-ঈল্।

মুহিউদ্দীন খান

আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি, অতএব আপনি কোরআন প্রাপ্তির বিষয়ে কোন সন্দেহ করবেন না। আমি একে বনী ইসরাঈলের জন্যে পথ প্রদর্শক করেছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের মধ্য থেকে বহু ইমাম (নেতা) বানিয়েছিলাম যখন তারা সবর অবলম্বন করেছিল। তারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে সঠিক পথ দেখাতো। আর তারা একীন রাখতো আমাদের আয়াতের প্রতি।

বাংলা উচ্চারণ

অ জ্বা'আল্না-মিন্হুম্ আইম্মাতাইঁ ইয়াহ্দূনা বিআম্রিনা-লাম্মা-ছবারূ অকা-নূ বিআ-ইয়া-তিনা- ইয়ূক্বিনূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারা সবর করত বিধায় আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার আদেশে পথ প্রদর্শন করত। তারা আমার আয়াতসমূহে দৃঢ় ছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যেসব বিষয়ে এখতেলাফ করতো, তোমার প্রভু সেসব বিষয়ে তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবেন কিয়ামতের দিন।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না রব্বাকা হুওয়া ইয়াফ্ছিলু বাইনাহুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি ফীমা- কা-নূ ফীহি ইয়াখ্তালিফূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারা যে বিষয়ে মত বিরোধ করছে, আপনার পালনকর্তাই কেয়ামতের দিন সে বিষয়ে তাদের মধ্যে ফয়সালা দেবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে কি এ জিনিসটাও পথ নির্দেশ নয় যে, তাদের আগে আমরা কতো প্রজন্মকে হালাক করে দিয়েছিলাম! আজ তারা তাদের সেই আবাসভূমি দিয়ে চলাফেরা করছে। এতেও রয়েছে অনেক নিদর্শন। তারা কি শুনবেনা?

বাংলা উচ্চারণ

আওয়ালাম্ ইয়াহ্দি লাহুম্ কাম্ আহ্লাক্না-মিন্ ক্বব্লিহিম্ মিনাল্ ক্বরূনি ইয়াম্শূনা ফী মাসা-কিনিহিম্ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-ত্ আফালা-ইয়াস্মা'ঊন্।

মুহিউদ্দীন খান

এতে কি তাদের চোখ খোলেনি যে, আমি তাদের পূর্বে অনেক সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি, যাদের বাড়ী - ঘরে এরা বিচরণ করে। অবশ্যই এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে। তারা কি শোনে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি দেখেনা, আমরা ঊষর (dry) জমিনে পানি বইয়ে দিয়ে তার সাহায্যে উৎপাদন করি শস্য, যা থেকে তাদের পশুরাও খায়, তারাও খায়। তারা কি ভেবে দেখবেনা?

বাংলা উচ্চারণ

আওয়ালাম্ ইয়ারাও আন্না- নাসূ কুল্ মা-য়া ইলাল্ র্আদ্বিল্ জুরুযি ফানুখ্রিজু বিহী র্যা 'আন্ তাকুলু মিন্হু আন্'আ-মুহুম্ অআন্ফুসুহুম্ আফালা-ইয়ুব্ছিরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি উষর ভূমিতে পানি প্রবাহিত করে শস্য উদগত করি, যা থেকে ভক্ষণ করে তাদের জন্তুরা এবং তারা কি দেখে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে বলো, কখন হবে সেই জয়ের ফায়সালা?’

বাংলা উচ্চারণ

অইয়াকুলূনা মাতা-হা-যাল্ ফাত্হু ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিকীন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলে তোমরা সত্যবাদী হলে বল; কবে হবে এই ফয়সালা?

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি বলো: ‘ফায়সালার দিন কাফিররা ঈমান আনলে তা তাদের কোনো কাজে আসবেনা, আর সেদিন তাদের অবকাশও দেয়া হবেনা।’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইয়াওমাল্ ফাত্হি লা-ইয়ান্ফা'ঊল্লাযীনা কাফারূ য় ঈমা-নুহুম্ অলা-হুম্ ইয্নজায়ারূন্ ।

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, ফয়সালার দিনে কাফেরদের ঈমান তাদের কোন কাজে আসবে না এবং তাদেরকে অবকাশ ও দেয়া হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তাদের উপেক্ষা করো এবং অপেক্ষা করো, আর তারাও অপেক্ষায় থাকুক।

বাংলা উচ্চারণ

ফা'আরিদ্ব্ 'আন্হুম্ ওয়ান্তার্জি ইন্নাহুম্ মুন্তাজিরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন এবং অপেক্ষা করুন, তারাও অপেক্ষা করছে।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme