হা - মিম।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম হা-মী-ম্
হা - মীম।
Chapter 40, 85 verses
হা - মিম।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম হা-মী-ম্
হা - মীম।
এই কিতাব নাযিল হচ্ছে মহাশক্তিধর মহাজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে।
তান্যী লুল্ কিতা-বি মিনাল্লা-হিল্ 'আযীযিল্ 'আলীম্।
কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে, যিনি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ।
যিনি পাপ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী এবং কঠোর শাস্তিদাতা ও পরম দয়াবান। কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। সবাইকে ফিরে যেতে হবে তাঁরই কাছে।
গ-ফিরিয্ যাম্বি অ ক্ব-বিলিত্ তাওবি শাদীদিল্ 'ইক্বা-বি যিতত্বোয়াওল্ লা য় ইলা-হা ইল্লা-হুওয়া অ ইলাইহিল্ মাছীর।
পাপ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা ও সামর্থ্যবান। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তাঁরই দিকে হবে প্রত্যাবর্তন।
কাফিররা ছাড়া আর কেউই আল্লাহর আয়াত নিয়ে তর্ক করেনা। দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেনো তোমাকে প্রতারিত না করে।
মা-ইয়ুজ্বা-দিলু ফী য় আ-ইয়া-তিল্লা-হি ইল্লাল্ লাযীনা কাফারূ ফালা-ইয়ার্গ্রুকা তাক্বল্লুবুহুম্ ফিল্ বিলা-দ্।
কাফেররাই কেবল আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে। কাজেই নগরীসমূহে তাদের বিচরণ যেন আপনাকে বিভ্রান্তিতে না ফেলে।
তাদের আগেও (আল্লাহর রসূলকে) প্রত্যাখ্যান করেছিল নূহের জাতি এবং তাদের পরে অন্যান্য সম্প্রদায়। প্রত্যেক উম্মতই তাদের নিজ নিজ রসূলকে আবদ্ধ করার চক্রান্ত করেছিল এবং তারা অর্থহীন বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল সত্যকে ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে। ফলে আমি তাদের পাকড়াও করেছিলাম এবং কতো যে নিকৃষ্ট ছিলো আমার সেই আযাব।
কায্যাবাত্ ক্বব্লাহুম্ ক্বওমু নূহিঁও অল্আহ্যা-বু মিম্ বা'দিহিম্ অ হাম্মাত্ কুল্লু উম্মাতিম্ বিরসূলিহিম্ লিইয়াখুযূহু অজ্বাদালূ বিল্বা-ত্বিলি লিইয়ুদ্হিদ্বূ বিহিল্ হাকক্ব ফাআখায্তুহুম্ ফাকাইফা কা-না 'ইক্ব-ব্।
তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় মিথ্যারোপ করেছিল, আর তাদের পরে অন্য অনেক দল ও প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ পয়গম্বরকে আক্রমণ করার ইচ্ছা করেছিল এবং তারা মিথ্যা বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়েছিল, যেন সত্যধর্মকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। অতঃপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। কেমন ছিল আমার শাস্তি।
এভাবেই কাফিরদের জন্যে প্রযোজ্য হয়েছিল তোমার প্রভুর এই ফায়সালা যে, তারা জাহান্নামী।
অকাযা-লিকা হাকক্বত্ কালিমাতু রব্বিকা 'আলাল্ লাযীনা কাফারূ য় আন্নাহুম্ আছ্হা-বুন্ নার্-।
এভাবে কাফেরদের বেলায় আপনার পালনকর্তার এ বাক্য সত্য হল যে, তারা জাহান্নামী।
যারা (যেসব ফেরেশতা) আল্লাহর আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা আছে আরশের চারপাশে, তারা তাদের প্রভুর প্রশংসাসহ তসবিহ করছে। তারা তাঁর প্রতি ঈমান রাখে এবং তারা মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে। তারা বলে: ‘‘আমাদের প্রভু! সর্বত্র পরিব্যাপ্ত রয়েছে তোমার রহমত এবং এলেম। সুতরাং তুমি সেইসব লোকদের ক্ষমা করে দাও যারা তওবা করেছে এবং তোমার পথের অনুসরণ করেছে, আর তুমি তাদের রক্ষা করো জাহিমের (জাহান্নামের) আযাব থেকে।
আল্লাযীনা ইয়াহ্মিলূনাল্ 'র্আশা অমান্ হাওলাহূ ইয়ুসাব্বিহূনা বিহাম্দি রব্বিহিম্ অইয়ুমিনূনা বিহী অ ইয়াস্তাগ্ফিরূনা লিল্লাযীনা আ-মানূ রব্বানা-অসিতা কুল্লা শাইর্য়ি রহ্মাতাঁও অ'ইল্মান্ ফার্গ্ফি লিল্লাযীনা তা-বূ অত্তাবা'ঊ সাবীলাকা অক্বিহিম্ 'আযা-বাল্ জ্বাহীম্
যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।
আমাদের প্রভু! তুমি তাদের দাখিল করো চিরস্থায়ী জান্নাতে, যার ওয়াদা তুমি তাদের দিয়েছো এবং তাদের বাবা - মা, স্বামী - স্ত্রী ও সন্তানদের যারা শুদ্ধতার ও পুণ্যের কাজ করছে তাদেরকেও দাখিল করো তাতে। নিশ্চয়ই তুমি মহাশক্তিমান ও প্রজ্ঞাময়।
রব্বানা-অ'আদ্খিল্হুম্ জ্বান্না-তি 'আদ্নি নিল্লাতী অ'আত্তাহুম্ অমান্ ছলাহা মিন্ আ-বা-য়িহিম্ অআয্ওয়া জ্বিহিম্ অর্যুরিয়্যা-তিহিম্ ইন্নাকা আন্তাল্ 'আযীযুল্ হাকীম্।
হে আমাদের পালনকর্তা, আর তাদেরকে দাখিল করুন চিরকাল বসবাসের জান্নাতে, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের বাপ - দাদা, পতি - পত্নী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আর তুমি তাদের রক্ষা করো সমস্ত অনিষ্ট ও অমঙ্গল থেকে, আর সেদিন তুমি যাকে রক্ষা করবে অনিষ্ট - অমঙ্গল থেকে, অবশ্যি তার প্রতি রহম (অনুগ্রহ) করবে। আর এটাই হবে (তার জন্যে) মহাসাফল্য।’’
অ ক্বিহিমুস্ সাইয়িয়া-ত্ অমান্ তাক্বিস্ সাইয়িয়া-তি ইয়াওমায়িযিন্ ফাক্বদ্ রহিম্তাহ্ অ যা-লিকা হুওয়াল্ ফাওযুল্ 'আজীম্।
এবং আপনি তাদেরকে অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন। আপনি যাকে সেদিন অমঙ্গল থেকে রক্ষা করবেন, তার প্রতি অনুগ্রহই করবেন। এটাই মহাসাফল্য।
যারা কুফুরি করেছে তাদের ডেকে বলা হবে, ‘তোমাদের নিজেদের প্রতি নিজেদের ক্ষোভের চাইতে তোমাদের প্রতি আল্লাহর অসন্তুষ্টিই ছিলো অধিক, যখন তোমাদের ডাকা হয়েছিল ঈমানের দিকে, অথচ তোমরা অস্বীকার করছিলে ঈমান আনতে।’
ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ ইয়ুনা-দাওনা লামাকতু ল্লা-হি আক্বারু মিম্ মাকতিকুম্ আন্ফুসাকুম্ ইয্ তুদ্'আওনা ইলাল্ ঈমা-নি ফাতাক্ফুরূন্।
যারা তাদেরকে উচ্চঃস্বরে বলা হবে, তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের আজকের এ ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লার ক্ষোভ অধিক ছিল, যখন তোমাদেরকে ঈমান আনতে বলা হয়েছিল, অতঃপর তোমরা করছিল।
তখন তারা বলবে: ‘প্রভু! তুমি আমাদের দুইবার প্রাণহীন (মৃত) অবস্থায় রেখেছিলে আর জীবিত করেছো দুইবার। আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। এখন এখান থেকে বের হবার কোনো পথ পাওয়া যাবে কি?’
ক্ব- লূ রব্বানা য় আমাত্তানাছ্ নাতাইনি অআহ্ইয়াইতানাছ্ নাতাইনি ফা'তারফ্না-বিযুনূবিনা-ফাহাল্ ইলা-খুরূজ্বিম্ মিন্ সাবীল্।
তারা বলবে হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু দিয়েছেন এবং দু’ বার জীবন দিয়েছেন। এখন আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতঃপর এখন ও নিস্কৃতির কোন উপায় আছে কি?
(বলা হবে:) ‘তোমাদের এই শাস্তি তো এ কারণে যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হতো তোমরা তাঁর প্রতি কুফুরি করতে, অথচ তাঁর সাথে কেউ শরিক সাব্যস্ত করলে সে কথার প্রতি তোমারা ঈমান আনতে।’ মূলত সমস্ত কর্তৃত্বের মালিক তো এক সর্বোচ্চ মহান ।
যা-লিকুম্ বিআন্নাহূ য় ইযা-দু'ইয়াল্লা-হু অহ্দাহূ কার্ফাতুম্ অইঁ ইয়ুশ্রক্ বিহী তুমিনূ ফাল্ হুক্মু লিল্লা-হিল্ 'আলিয়্যিয়েল্ কার্বী।
তোমাদের এ বিপদ এ কারণে যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হত, তখন তোমরা হয়ে যেতে যখন তার সাথে শরীককে ডাকা হত তখন তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করতে। এখন আদেশ তাই, যা করবেন, যিনি সর্বোচ্চ, মহান।
তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলি দেখান এবং আসমান থেকে নাযিল করেন তোমাদের রিযিক। আল্লাহর অভিমুখী ব্যক্তিই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।
হুওয়া ল্লাযী ইয়ুরীকুম্ আ-ইয়া-তিহী অইয়ুনায্যিলু লাকুম্ মিনাস্ সামা-য়ি রিয্ক্ব- অমা ইয়াতাযাক্কারু ইল্লা-মাইঁ ইয়ুনীব্।
তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং তোমাদের জন্যে আকাশ থেকে নাযিল করেন রুযী। চিন্তা - ভাবনা তারাই করে, যারা আল্লাহর দিকে রুজু থাকে।
অতএব, আল্লাহকে ডাকো তাঁর প্রতি আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে, যদিও কাফিররা এটা পছন্দ করেনা।
ফাদ্'উল্লা-হা মুখ্লিছীনা লাহুদ্দীনা অলাও কারিহাল্ কা-ফিরূন্।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে খাঁটি বিশ্বাস সহকারে ডাক, যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।
তিনি উঁচু মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি। তিনি তাঁর বান্দাদের যার প্রতি ইচ্ছা তাঁর নির্দেশ প্রেরণ করেন অহির মাধ্যমে, যাতে করে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে (মানুষকে) সতর্ক করতে পারে।
রাফী'উদ্দারজ্বা-তি যুল্'র্আশি ইয়ুর্ল্ক্বি রূহা মিন্ আম্রিহী 'আলা-মাইঁ ইয়াশা-য়ু মিন্ 'ইবা-দিহী লিইয়ুন্যিরা ইয়াওমাত্তালা-ক্ব্।
তিনিই সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের মালিক, তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তত্ত্বপূর্ণ বিষয়াদি নাযিল করেন, যাতে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করে।
সেদিন তাদের সব কিছু প্রকাশ হয়ে পড়বে। আল্লাহর কাছে তাদের কিছুই গোপন নেই। (সেদিন জিজ্ঞাসা করা হবে:) আজ সমস্ত কর্তৃত্ব কার? (সমস্ত সৃষ্টি বলে উঠবে:) আল্লাহর, যিনি এক, মহাপরাক্রমশালী।
ইয়াওমা হুম্ বা-রিযূনা লা- ইয়াখ্ফা- 'আলা ল্লা-হি মিন্হুম্ শাইয়ুন্ লিমানিল্ মুল্কুল্ ইয়াওম্ লিল্লা-হিল্ ওয়া- হিদিল্ ক্বাহ্হার্-।
যেদিন তারা বের হয়ে পড়বে, আল্লাহর কাছে তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। আজ রাজত্ব কার? এক প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহর।
আজ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেয়া হবে। আজ কারো প্রতি কোনো প্রকার যুলুম (অবিচার) করা হবেনা। দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
আল্ইয়াওমা তুজযা-কুল্লু নাফ্সিম্ বিমা- কাসাবাত্ লা-জুল্মাল্ ইয়াওম্ ইন্না ল্লা-হা সারী'উল্ হিসা-ব্
আজ প্রত্যেকেই তার কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে। আজ যুলুম নেই। নিশ্চয় দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
তাদের সতর্ক করে দাও আসন্ন দিন সম্পর্কে যখন দুঃখ - দুদর্শায় তাদের প্রাণ হবে কণ্ঠাগত। যালিমদের জন্যে কোনো সহমর্মী থাকবে না এবং এমন কোনো সুপারিশকারীও থাকবে না, যার সুপারিশ গ্রহণ করা যেতে পারে।
অ আর্ন্যিহুম্ ইয়াওমাল্ আ-যিফাতি ইযিল্ কুলূবু লাদাল্ হানা-জ্বিরি কা-জিমীন্ মা- লিজ্ জোয়া-লিমীনা মিন্ হামীমিঁও অলা-শাফীইঁ ইয়ুত্বোয়া-'উ।
আপনি তাদেরকে আসন্ন দিন সম্পর্কে সতর্ক করুন, যখন প্রাণ কন্ঠাগত হবে, দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। পাপিষ্ঠদের জন্যে কোন বন্ধু নেই এবং সুপারিশকারীও নেই; যার সুপারিশ গ্রাহ্য হবে।
চোখের খিয়ানত এবং অন্তরের গোপন কথা তিনি জানেন।
ইয়া'লামু খ-য়িনাতাল্ আ'ইয়ুনি অমা-তুখ্ফিস্ সুর্দূ।
চোখের চুরি এবং অন্তরের গোপন বিষয় তিনি জানেন।
ন্যায় বিচার করবেন। তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকে, তারা বিচার করতে অক্ষম। নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
অল্লা-হু ইয়াকদ্বী বিল্ হাক অল্লাযীনা ইয়াদ্'ঊনা মিন্ দূনিহী লা-ইয়াকদ্ব ূনা বিশাইয়িন্ ইন্নাল্লা-হা হুওয়াস্ সামী'উল্ বার্ছী।
ফয়সালা করেন সঠিকভাবে, আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে ডাকে, তারা কিছুই ফয়সালা করে না। নিশ্চয় সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।
তারা কি জমিনে পরিভ্রমণ করে দেখেনা, তাদের আগেকার () লোকদের কী অবস্থা হয়েছিল? তারা ছিলো এদের চাইতেও শক্তিশালী এবং পৃথিবীতে অধিক প্রভাব প্রতিপত্তির অধিকারী। তাদের অপরাধের জন্যে তাদেরকেও পাকড়াও করেছিলেন। আল্লাহর পাকড়াও থেকে তাদেরকে রক্ষাকারী কেউ ছিলনা।
আওয়ালাম্ ইয়াসীরূ ফিল্ র্আদ্বি ফাইয়ান্জুরূ কাইফা কা-না 'আ- ক্বিবাতুল্ লাযীনা কা-নূ মিন্ ক্বব্লিহিম্ কা-নূ হুম্ আশাদ্দা মিন্হুম্ কুঅতাঁও অআ-ছোয়া-রান্ ফিল্ র্আদ্বি ফা আখাযাহুমু ল লা-হু বিযুনূবিহিম্ অমা-কা-না লাহুম্ মিনাল্লা-হি মিওঁ ওয়া-ক্ব্।
তারা কি দেশ - বিদেশ ভ্রমণ করে না, যাতে দেখত তাদের পূর্বসুরিদের কি পরিণাম হয়েছে? তাদের শক্তি ও কীর্তি পৃথিবীতে এদের অপেক্ষা অধিকতর ছিল। অতঃপর তাদেরকে তাদের গোনাহের কারণে ধৃত করেছিলেন এবং থেকে তাদেরকে রক্ষাকারী কেউ হয়নি।
এর কারণ, তাদের কাছে তাদের রসূলরা এসেছিল সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে, কিন্তু তারা (ঈমান আনতে) অস্বীকার করে। ফলে তাদের পাকড়াও করেন। তিনি অতি শক্তিশালী, কঠোর শাস্তিদাতা।
যা-লিকা বিআন্নাহুম্ কা-নাত্ তাতীহিম্ রুসুলুহুম্ বিল্বাইয়্যিনাতি ফাকাফারূ ফাআখাযাহুমু ল্লা-হ্ ইন্নাহূ ক্বাওওয়িইয়ুন্ শাদীদুল্ 'ইক্বা-ব্।
এর কারণ এই যে, তাদের কাছে তাদের রসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আগমন করত, অতঃপর তারা হয়ে যায়, তখন তাদের ধৃত করেন। নিশ্চয় তিনি শক্তিধর, কঠোর শাস্তিদাতা।
আমরা মূসাকে পাঠিয়েছিলাম আমাদের নিদর্শন এবং সুস্পষ্ট প্রমাণসহ
অলাক্বদ্ র্আসাল্না- মূসা- বিআ-ইয়া-তিনা- অ সুল্ত্বোয়া- নিম্ মুবীন্।
আমি আমার নিদর্শনাবলী ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মূসাকে প্রেরণ করেছি।
ফেরাউন, হামান ও কারূণের কাছে। কিন্তু তারা তাকে বলেছিল: ‘এতো এক ম্যাজেসিয়ান কট্টর মিথ্যাবাদী।’
ইলা- র্ফি'আউনা অহা-মা-না অক্বা-রূনা ফা ক্ব-লূ সা-হিরুন্ কায্যা-ব্।
ফেরাউন, হামান ও কারুণের কাছে, অতঃপর তারা বলল, সে তো জাদুকর, মিথ্যাবাদী।
যখন তাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে সত্য পৌঁছালো, তারা বললো: ‘মূসার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদের পুত্র সন্তানদের হত্যা করো, আর জীবিত রাখো তাদের নারীদের।’ কাফিরদের চক্রান্ত ব্যর্থ হতে বাধ্য।
ফালাম্মা জ্বা-য়াহুম্ বিল্হাক্ব্ক্বি মিন্ 'ইন্দিনা-ক্ব-লুকতুলূ য় আব্না-য়া ল্লাযীনা আ-মানূ মা'আহূ অস্তাহ্ইয়ূ নিসা-য়াহুম্ অমা-কাইদুল্ কা-ফিরীনা ইল্লা-ফী দ্বোয়ালা-ল্।
অতঃপর মূসা যখন আমার কাছ থেকে সত্যসহ তাদের কাছে পৌঁছাল; তখন তারা বলল, যারা তার সঙ্গী হয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা কর, আর তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখ। কাফেরদের চক্রান্ত ব্যর্থই হয়েছে।
ফেরাউন বললো: ‘তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসাকে কতল করে ফেলবো, সে তার প্রভুকে ডেকে দেখুক (তাকে রক্ষা করতে পারে কিনা)। আমি আশংকা করছি সে তোমাদের দীন (রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রক্ষমতা) বদল করে ফেলবে, কিংবা দেশে সৃষ্টি করবে বিপর্যয় বিশৃংখলা।’
অক্ব-লা র্ফি'আউনু যারূনী য় আকতুল্ মূসা-অল্ইয়াদ্ 'উ রব্বাহূ ইন্নী য় আখা-ফু আইঁ ইয়ুবাদ্দিলা দীনাকুম্ আও আইঁ ইয়ুজ্হির ফিল্ র্আদ্বিল্ ফাসা-দ্।
ফেরাউন বলল; তোমরা আমাকে ছাড়, মূসাকে হত্যা করতে দাও, ডাকুক সে তার পালনকর্তাকে! আমি আশংকা করি যে, সে তোমাদের ধর্ম পরিবর্তন করে দেবে অথবা সে দেশময় বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।
মূসা বললো: ‘হিসাবের দিনের প্রতি ঈমান রাখেনা এমন প্রত্যেক দাম্ভিক ব্যক্তি থেকে আমি আমার ও তোমাদের প্রভুর আশ্রয় গ্রহণ করেছি।’
অক্ব-লা মূসা য় ইন্নী উয্তু বিরব্বী অরব্বিকুম্ মিন্ কুল্লি মুতাক্বব্বিরিল্ লা-ইয়ুমিনু বিইয়াওমিল্ হিসা-ব্।
মূসা বলল, যারা হিসাব দিবসে বিশ্বাস করে না এমন প্রত্যেক অহংকারী থেকে আমি আমার ও তোমাদের পালনকর্তার আশ্রয় নিয়ে নিয়েছি।
তখন ফেরাউন সভাসদদের এক ব্যক্তি, যে এতোদিন তার ঈমান গোপন করে রেখেছিল, বললো: ‘‘ আমার প্রভু’ শুধু একথাটি বলার কারণেই কি তোমরা একজন মহাপুরুষকে হত্যা করবে? অথচ তিনি তো তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শন নিয়ে এসেছেন। তোমরা যে তাঁকে মিথ্যাবাদী বলছো, তিনি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকলে তাঁর মিথ্যার দায় দায়িত্ব তো তাঁর। কিন্তু তিনি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকেন, তবে যেসব ভয়ংকর পরিণতির কথা তিনি বলছেন তার কিছুটা হলেও তো গ্রাস করবে তোমাদের। সীমালংঘনকারী মিথ্যাবাদীদের সঠিক পথ দেখান না।
অ ক্ব-লা রাজুলুম্ মুমিনুম্ মিন্ আ-লি র্ফি'আউনা ইয়াক্তুমু ঈমা-নাহূ য় আতাকতুলূনা রাজুলান্ আইঁ ইয়াকুলা রব্বিয়াল্লা-হু অক্বদ্ জ্বা-য়াকুম্ বিল্বাইয়িনা-তি র্মি রব্বিকুম্ অইঁইয়াকু কা-যিবান্ ফা'আলাইহি কাযিবুহূ অইঁ ইয়াকু ছোয়া-দিকাঁই ইয়ুছিব্কুম্ বা'দুল্লাযী ইয়া'ইদুকুম্ ইন্না ল্লা-হা লা-ইয়াহ্দী মান্ হওয়া মুস্রিফুন্ কায্যা-ব্।
ফেরাউন গোত্রের এক ব্যক্তি, যে তার ঈমান গোপন রাখত, সে বলল, তোমরা কি একজনকে এজন্যে হত্যা করবে যে, সে বলে, আমার পালনকর্তা , অথচ সে তোমাদের পালনকর্তার নিকট থেকে স্পষ্ট প্রমাণসহ তোমাদের নিকট আগমন করেছে? যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার মিথ্যাবাদিতা তার উপরই চাপবে, আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে যে শাস্তির কথা বলছে, তার কিছু না কিছু তোমাদের উপর পড়বেই। নিশ্চয় সীমালংঘনকারী, মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না।
হে আমার জাতির ভাইয়েরা! আজ তোমরা রাজত্বের অধিকারী এবং এই ভূখন্ডের বিজয়ী শক্তি। কিন্তু আল্লাহর আযাব এসে পড়লে আমাদের সাহায্য করার কে আছে?’’ ফেরাউন (তার বক্তব্যের মাঝখানে) বলে উঠে: ‘আমি যে পথ ভালো মনে করছি সে পথই তোমাদের দেখাচ্ছি আর আমি তো তোমাদের সঠিক পথই দেখাচ্ছি।’
ইয়া-ক্বওমি লাকুমুল্ মুল্কুল্ ইয়াওমা জোয়া- হিরীনা ফিল্ র্আদ্বি ফামাইঁ ইয়ান্ছুরুনা মিম্ বাসিল্লা-হি ইন্ জ্বা-য়ানা ক্ব-লা র্ফি'আউনু মা য় উরীকুম্ ইল্লা-মা য় আর-অমা য় আহ্দীকুম্ ইল্লা -সাবীর্লা রশা-দ্।
হে আমার কওম, আজ এদেশে তোমাদেরই রাজত্ব, দেশময় তোমরাই বিচরণ করছ; কিন্তু আমাদের আল্লাহর শাস্তি এসে গেলে কে আমাদেরকে সাহায্য করবে? ফেরাউন বলল, আমি যা বুঝি, তোমাদেরকে তাই বোঝাই, আর আমি তোমাদেরকে মঙ্গলের পথই দেখাই।
যে ঈমান এনেছিল সে বললো: ‘‘হে আমার জাতির ভাইয়েরা! আমি আশংকা করছি, তোমাদের উপর সে রকম আযাব না এসে যায়, যে রকম আযাব এসেছিল ইতোপূর্বে (নিজেদের নবীকে অস্বীকার ও অমান্য করার কারণে) বিভিন্ন জাতির উপর।
অক্ব-লাল্ লাযী য় আ-মানা ইয়া-ক্বওমি ইন্নী য় আখা-ফু 'আলাইকুম্ মিছ্লা ইয়াওমিল্ আহ্যা-ব্।
সে ব্যক্তি বললঃ হে আমার কওম, আমি তোমাদের জন্যে পূর্ববর্তী সম্প্রদায়সমূহের মতই বিপদসঙ্কুল দিনের আশংকা করি।
যেমন এসেছিল নূহের কওম, আদ, সামুদ এবং তাদের পরবর্তী জাতিসমূহের উপর। আর একথা জেনে রেখো, কখনো তাঁর দাসদের প্রতি অবিচার করেননা।
মিছ্লা দাবি ক্বাওমি নূহিঁও অ'আ-দিঁও অছামূদা অল্লাযীনা মিম্ বা'দিহিম্ অমাল্লা-হু ইয়ুরীদু জুল্মাল্ লিল্'ইবা-দ্
যেমন, কওমে নূহ, আদ, সামুদ ও তাদের পরবর্তীদের অবস্থা হয়েছিল। বান্দাদের প্রতি কোন যুলুম করার ইচ্ছা করেন না।
হে আমার কওম! আমি আশংকা করছি, তোমাদের উপর এমন একটি সময় এসে পড়বে, যখন তোমরা ফরিয়াদ করবে, অনুশোচনা করবে, একে অপরকে ডাকতে থাকবে।
অইয়া-ক্বওমি ইন্নী য় আখ-ফু 'আলাইকুম্ ইয়াওমাত্তানা-দ্।
হে আমার কওম, আমি তোমাদের জন্যে প্রচন্ড হাঁক - ডাকের দিনের আশংকা করি।
সেদিন তোমরা দৌড়ে পালাতে থাকবে, কিন্তু তখন আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাদের বাঁচাবার কেউ থাকবেনা। আসলে যাকে বিপথগামী করে দেন তাকে কেউ সঠিক পথ দেখাতে পারেনা।’’
ইয়াওমা তুওয়াল্লূনা মুদ্বিরীনা মা- লাকুম্ মিনাল্লা-হি মিন্ 'আ-ছিমিন্ অমাইঁ ইয়ুদ্ব্লিনিল্লা-হু ফামা- লাহূ মিন্ হা-দ্।
যেদিন তোমরা পেছনে ফিরে পলায়ন করবে; কিন্তু থেকে তোমাদেরকে রক্ষাকারী কেউ থাকবে না। যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।
ইতোপূর্বে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শন নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছিলেন (আল্লাহর নবী) ইউসুফ। তোমরা তাঁর আনীত শিক্ষার ব্যাপারেও সন্দেহই পোষণ করেছিলে। তাঁর মৃত্যুর পর তোমরা বলেছিলে: ‘এখন আর কোনো রসূল পাঠাবেন না। এভাবেই সেসব লোকদের গোমরাহিতে নিক্ষেপ করেন, যারা সীমালংঘনকারী সংশয়পরায়ণ।’
অ লাক্বদ্ জ্বা-য়াকুম্ ইয়ূসুফু মিন্ ক্বব্লু বিল্বাইয়্যিনা-তি ফামা-যিল্তুম্ ফী শাক্কিম্ মিম্মা-জ্বা-য়াকুম্ বিহ্ হাত্তা য় ইযা-হালাকা কুলতুম্ লাইঁ ইয়াব্'আছা ল্লা-হু মিম্ বা'দিহী রাসূলা- কাযা-লিকা ইয়ুদ্বিল্লুল্লা-হু মান্ হুওয়া মুস্রিফুম্ র্মুতা-ব্ ।
ইতিপূর্বে তোমাদের কাছে ইউসুফ সুস্পষ্ট প্রামাণাদিসহ আগমন করেছিল, অতঃপর তোমরা তার আনীত বিষয়ে সন্দেহই পোষণ করতে। অবশেষে যখন সে মারা গেল, তখন তোমরা বলতে শুরু করলে, ইউসুফের পরে আর কাউকে রসূলরূপে পাঠাবেন না। এমনিভাবে সীমালংঘনকারী, সংশয়ী ব্যক্তিকে পথভ্রষ্ট করেন।
তারা আল্লাহর আয়াতের (নিদর্শনের) ব্যাপারে বিবাদ করে, অথচ এ ব্যাপারে তাদের মতের সপক্ষে কোনো সার্টিফিকেট আসেনি। আল্লাহর কাছে এবং ঈমানদারদের কাছে বড়ই ঘৃণা ও ক্রোধ উদ্রেককারী তাদের এ আচরণ। এভাবেই তিনি সীল মোহর মেরে দেন প্রত্যেক দাম্ভিক স্বৈরাচারীর কলবে।
নি ল্লাযীনা ইয়ুজ্বা-দিলূনা ফী য় আ-ইয়া-তিল্লা-হি বিগইরি সুল্ত্বোয়া-নিন্ আতা-হুম্ কাবুর মাক্বতান্ 'ইন্দাল্লা-হি অ'ইনদাল্ লাযীনা আ-মানূ কাযা-লিকা ইয়াতবা'উ ল্লা-হু 'আলা-কুল্লি ক্বল্বি মুতাকাব্বিরিন্ জ্বাব্বার্-।
যারা নিজেদের কাছে আগত কোন দলীল ছাড়াই আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের একজন ও মুমিনদের কাছে খুবই অসন্তোষজনক। এমনিভাবে প্রত্যেক অহংকারী - স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেন।
ফেরাউন বললো: ‘‘হে হামান! আমার জন্যে একটি উঁচু টাওয়ার নির্মাণ করো, যাতে আমি পথসমূহে উঠতে পারি,
অক্ব-লা র্ফি'আউনু ইয়া-হা-মা-নু ব্নিলী ছোর্য়াহাল্ লা'আল্লী য় আব্লুগুল্ আস্বা-ব্।
ফেরাউন বলল, হে হামান, তুমি আমার জন্যে একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ কর, হয়তো আমি পৌঁছে যেতে পারব।
আসমানের পথসমূহে, যেখান থেকে আমি মূসার ইলাহকে উঁকি মেরে দেখতে পাবো। তবে আমি তাকে (মূসাকে) মিথ্যাবাদী বলেই মনে করি।’’ এভাবেই ফেরাউনের জন্যে তার দুষ্কর্মসমূহ সুশোভিত করে দেয়া হয়েছে এবং থামিয়ে দেয়া হয়েছে তার জন্যে সোজা পথে চলা। তবে ফেরাউনের সব চক্রান্ত তাকেই ঠেলে দিয়েছে ধ্বংসের পথে।
আস্বা-বাস্ সামা-ওয়া-তি ফায়াতত্বোয়ালি'আ ইলা য় ইলা-হি মূসা-অ ইন্নী লাআজুন্ন ুহূ কা-যিবা- অকাযা-লিকা যুইয়্যিনা লির্ফি'আউনা সূ-য়ু 'আমালিহী অছুদ্দা 'আনিস্ সাবীল্ অমা-কাইদু র্ফি'আউনা ইল্লা-ফী তাবা-ব্।
আকাশের পথে, অতঃপর উঁকি মেরে দেখব মূসার আল্লাহকে। বস্তুতঃ আমি তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি। এভাবেই ফেরাউনের কাছে সুশোভিত করা হয়েছিল তার মন্দ কর্মকে এবং সোজা পথ থেকে তাকে বিরত রাখা হয়েছিল। ফেরাউনের চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ারই ছিল।
যে ঈমান এনেছিল, সে আরো বললো: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা আমাকে অনুসরণ করো, আমি তোমাদের সঠিক পথ দেখাবো।
অ ক্ব-লাল্লাযী য় আ-মানা ইয়া ক্বওমিত্ তাবি'ঊনি আহ্দিকুম্ সাবীর্লা রশা-দ্।
লোকটি বললঃ হে আমার কওম, তোমরা আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করব।
হে আমার কওম! এই দুনিয়ার জীবনটা তো সামান্য ভোগের সময় মাত্র। আর আখিরাতই হলো চিরস্থায়ী আবাস।
ইয়া-ক্বওমি ইন্নামা-হা-যিহিল্ হা-ইয়া-তুদ্দুন্ ইয়া-মাতা-'উঁও অইন্নাল্ আ-খিরতা হিয়া দা-রুল্ ক্বরর্-।
হে আমার কওম, পার্থিব এ জীবন তো কেবল উপভোগের বস্তু, আর পরকাল হচ্ছে স্থায়ী বসবাসের গৃহ।
যে কেউ কোনো মন্দ কাজ করবে, তাকে ততোটুকু প্রতিফলই দেয়া হবে। কিন্তু যে কোনো পুরুষ বা নারী আমলে সালেহ্ করবে, তারা প্রবেশ করবে জান্নাতে। সেখানে তাদের রিযিক দেয়া হবে বেহিসাব।
মান্ 'আমিলা সাইয়্যিয়াতান্ ফালা-ইয়ুজ যা য় ইল্লা-মিছ্লাহা-অমান্ 'আমিলা ছোয়া-লিহাম্ মিন্ যাকারিন্ আও উন্ছা- অ হুওয়া মু'মিনুন্ ফাউলা-য়িকা ইয়াদ্খুলূনাল্ জ্বান্নাতা ইর্য়ুযাকুনা ফীহা-বিগইরি হিসা-ব্।
যে মন্দ কর্ম করে, সে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফল পাবে, আর যে, পুরুষ অথবা নারী অবস্থায় সৎকর্ম করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তথায় তাদেরকে বে - হিসাব রিযিক দেয়া হবে।
হে আমার কওম! এটা কেমন ব্যাপার, আমি তোমাদের দাওয়াত দিচ্ছি নাজাতের দিকে, অথচ তোমরা আমাকে দাওয়াত দিচ্ছো জাহান্নামের দিকে!
অইয়া-ক্বওমি মা-লী য় আদ্'ঊকুম্ ইলান্ নাজ্বা- তি অ তাদ্'ঊ নানী য় ইলা ন্নার্-।
হে আমার কওম, ব্যাপার কি, আমি তোমাদেরকে দাওয়াত দেই মুক্তির দিকে, আর তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও জাহান্নামের দিকে।
তোমরা আমাকে দাওয়াত দিচ্ছো, যেনো আমি আল্লাহর প্রতি কুফুরি করি এবং তাঁর সাথে শিরক করি, যে ব্যাপারে আমার কোনো এলেম নেই। অথচ আমি তোমাদের দাওয়াত দিচ্ছি মহাপরাক্রমশালী অতীব দয়াবানের দিকে।
তাদ্'ঊনানী লিআক্ফুরা বিল্লা-হি অউশ্রিকা বিহী মা-লাইসা লী বিহী 'ইল্মুঁও অআনা আদ্'ঊকুম্ ইলাল্ 'আযীযিল্ গফ্ফার্-।
তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও, যাতে আমি আল্লাহকে অস্বীকার করি এবং তাঁর সাথে শরীক করি এমন বস্তুকে, যার কোন প্রমাণ আমার কাছে নেই। আমি তোমাদেরকে দাওয়াত দেই পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল আল্লাহর দিকে।
সন্দেহ নেই, প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে, তোমরা আমাকে যেসব জিনিসের দিকে দাওয়াত দিচ্ছো, সেগুলো এই দুনিয়ার জীবনেও দোয়া কবুল করার যোগ্যতা রাখেনা, আখিরাতেও নয়। আমাদের ফিরে যেতে হবে আল্লাহরই দিকে। আর অবশ্যি সীমালংঘনকারীরা হবে জাহান্নামের অধিবাসী।
লা-জ্বারামা আন্নামা-তাদ্'ঊ নানী য় ইলাইহি লাইসা লাহূ দা'ওয়াতুন্ ফিদ্দুন্ইয়া-অলা-ফিল্ আ-খিরতিও অআন্না-মারদ্দানা য় ইলাল্লা-হি অআন্নাল্ মুস্রিফীনা হুম্ আছ্হা-বুন্ নার্-।
এতে সন্দেহ নেই যে, তোমরা আমাকে যার দিকে দাওয়াত দাও, হইকালে ও পরকালে তার কোন দাওয়াত নেই! আমাদের প্রত্যাবর্তন আল্লাহর দিকে এবং সীমা লংঘকারীরাই জাহান্নামী।
আমি তোমাদের যেসব কথা বলছি, তোমরা অচিরেই তা স্মরণ করবে। আমি আমার নিজের বিষয়টা ছেড়ে দিচ্ছি আল্লাহর উপর। নিশ্চয়ই তাঁর দাসদের প্রতি লক্ষ্য রাখেন।’’
ফাসাতায্ কুরূনা মা য় আকুলু লাকুম্ অউফাও ওয়িদ্বু আম্রী য় ইলা ল্লা-হ্ ইন্না ল্লা-হা বাছীরুম্ বিল্ 'ইবা-দ্।
আমি তোমাদেরকে যা বলছি, তোমরা একদিন তা স্মরণ করবে। আমি আমার ব্যাপার আল্লাহর কাছে সমর্পণ করছি। নিশ্চয় বান্দারা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।
ফলে তাকে রক্ষা করেন তাদের ন্যাক্কারজনক চক্রান্ত থেকে। পক্ষান্তরে নিকৃষ্ট ধরনের আযাবের চক্রে পড়ে যায় ফেরাউনের সাংগ পাংগরাই।
ফাওয়াক্ব-হুল্লা-হু সাইয়িয়া-তি মা-মাকারূ অহা-ক্ব বিআ-লি র্ফি'আউনা সূ-য়ুল্ 'আযা-ব্।
অতঃপর তাকে তাদের চক্রান্তের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করলেন এবং ফেরাউন গোত্রকে শোচনীয় আযাব গ্রাস করল।
সকাল সন্ধ্যায় তাদেরকে পেশ করা হয় জাহান্নামের সামনে। আর যেদিন কায়েম হবে কিয়ামত, সেদিন বলা হবে: ‘ফেরাউনের অনুসারীদের নিক্ষেপ করো কঠিন আযাবে।’
আন্না-রু ইয়ু'রদ্ব ূনা 'আলাইহা-গুদুওয়্যাঁও অ'আশিয়্যান্ অইয়াওমা তাকুমুস্ সা-'আতু আদ্খিলূ য় আ লা- র্ফি'আউনা আশাদ্দাল্ 'আযা-ব্।
সকালে ও সন্ধ্যায় তাদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন আদেশ করা হবে, ফেরাউন গোত্রকে কঠিনতর আযাবে দাখিল কর।
জাহান্নামের মধ্যে যখন তারা পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হবে তখন দুর্বলরা দাম্ভিকদের বলবে: ‘আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম। এখন তোমরা কি আমাদের থেকে জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ নিবারণ করতে পারবে?
অ ইয্ ইয়াতাহা-জ্বজুনা ফীন্না-র ফাইয়াকু লুদ্ব্ দু'আফা-য়ু লিল্লাযীনাস্ তাক্বারূ য় ইন্না-কুন্না-লাকুম্ তাবা'আন্ ফাহাল্ আন্তুম্ মুগ্নূনা 'আন্না-নাছীবাম্ মিনান্নার্-।
যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্ক করবে, অতঃপর দূর্বলরা অহংকারীদেরকে বলবে, আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। তোমরা এখন জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ আমাদের থেকে নিবৃত করবে কি?
তখন দাম্ভিকরা বলবে: ‘আমরা প্রত্যেকেই তো জাহান্নামে আছি। তো তাঁর বান্দাদের মধ্যে ফায়সালা করেই দিয়েছেন।’
ক্ব-লাল্ লাযীনাস্ তাক্বারূ য় ইন্না কুল্লুন্ ফীহা য় ইন্নাল্লা-হা ক্বদ্ হাকামা বাইনাল্ 'ইবা-দ্।
অহংকারীরা বলবে, আমরা সবাই তো জাহান্নামে আছি। তাঁর বান্দাদের ফয়সালা করে দিয়েছেন।
জাহান্নামীরা জাহান্নামের রক্ষীদের বলবে: ‘তোমাদের প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো তিনি যেনো আমাদের থেকে একদিনের জন্যে আযাব লাঘব করে দেন।’
অক্ব-লাল্ লাযীনা ফীন্না- রি লিখাযানাতি জ্বাহান্নামাদ্'ঊ রব্বাকুম্ ইয়ুখাফ্ফিফ্ 'আন্না-ইয়াওমাম্ মিনাল্ 'আযা-ব্।
যারা জাহান্নামে আছে, তারা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে বল, তিনি যেন আমাদের থেকে একদিনের আযাব লাঘব করে দেন।
তারা বলবে: ‘তোমাদের কাছে কি তোমাদের রসূলরা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে যাননি।’ তারা বলবে: ‘হ্যাঁ, গিয়েছিলেন।’ তখন প্রহরীরা বলবে: ‘তাহলে তোমরাই প্রার্থনা করো, আর কাফিরদের প্রার্থনা ব্যর্থ হয়েই থাকে।’
ক্ব-লূ য় আওয়ালাম্ তাকু তাতীকুম্ রুছুলুকুম্ বিল্বায়্যিনা-ত্ ক্ব-লূ বালা- ক্ব-লূ ফাদ্'উ অমা-দু'আ-য়ুল্ কা-ফিরীনা ইল্লা-ফী দ্বোয়ালা-ল্ ।
রক্ষীরা বলবে, তোমাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রসূল আসেননি? তারা বলবে হঁ্যা। রক্ষীরা বলবে, তবে তোমরাই দোয়া কর। বস্তুতঃ কাফেরদের দোয়া নিস্ফলই হয়।
আমরা অবশ্য অবশ্যি সাহায্য করবো আমাদের রসূলদের এবং মুমিনদের, দুনিয়ার জীবনেও এবং সেদিনও, যেদিন দাঁড়াবে সাক্ষীরা।
ইন্না-লানান্ছুরু রুসুলানা-অল্লাযীনা আ-মানূ ফিল্ হা-ইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া-অইয়াওমা ইয়াকু মুল্ আশ্হা-দ্।
আমি সাহায্য করব রসূলগণকে ও মুমিনগণকে পার্থিব জীবনে ও সাক্ষীদের দন্ডায়মান হওয়ার দিবসে।
সেদিন যালিমদের ওজর - আপত্তিতে কোনো লাভ হবেনা। তাদের প্রতি লানত এবং তাদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস।
ইয়াওমা লা-ইয়ান্ফা'উজ্ জোয়া-লিমীনা মা'যিরাতুহুম্ অলাহুমুল্ লা'নাতু অলাহুম্ সূ-য়ুদ্দার্-।
সে দিন যালেমদের ওযর - আপত্তি কোন উপকারে আসবে না, তাদের জন্যে থাকবে অভিশাপ এবং তাদের জন্যে থাকবে মন্দ গৃহ।
আমরা মূসাকে দিয়েছিলাম আল হুদা (সত্য জীবন ব্যবস্থা সম্বলিত কিতাব), আর বনি ইসরাঈলকে ওয়ারিশ বানিয়েছিলাম সেই কিতাবের,
অলাক্বদ্ আ-তাইনা- মূসাল্ হুদা-অআওরছ্না-বানী য় ইস্র-ঈ লাল্ কিতা-ব্।
নিশ্চয় আমি মূসাকে হেদায়েত দান করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলকে কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছিলাম।
যা ছিলো জীবন যাপনের নির্দেশনা এবং বুঝবুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের জন্যে উপদেশ।
হুদাঁও অ যিক্র- লিউ লিল্ আল্বা-ব্।
বুদ্ধিমানদের জন্যে উপদেশ ও হেদায়েত স্বরূপ।
অতএব (হে নবী!) তুমি সবর করো। আল্লাহর ওয়াদা অবশ্যি সত্য। আর তুমি ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমার ভুলত্রুটির জন্যে। তোমার প্রভুর হামদসহ তসবিহ্ ঘোষণা করো সন্ধ্যায় এবং সকালে।
ফার্ছ্বি ইন্না ওয়া'দাল্লা-হি হাকক্বুও অস্তার্গ্ফি লিযাম্বিকা অসাব্বিহ্ বিহাম্দি রব্বিকা বিল্ 'আশিয়্যি অল্ ইব্কার্-।
অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং সকাল - সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।
কোনো প্রমাণ প্রাপ্তি ছাড়াই যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, অবশ্যি তাদের অন্তরে রয়েছে অহংকার, যে পর্যন্ত তারা পৌঁছুতে পারবেনা। অতএব আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি সব শুনেন, সব দেখেন।
ইন্নাল্লাযীনা ইয়ুজ্বা- দিলূনা ফী য় আ-ইয়া-তি ল্লা-হি বিগইরি সুল্ত্বোয়া-নিন্ আতা-হুম্ ইন্ ফী ছুদূরিহিম্ ইল্লা-কিব্রুম্ মা-হুম্ বিবা-লিগীহি ফাস্তা'ইয্ বিল্লা-হ্ ইন্নাহূ হুওয়াস্ সামী'উল্ বার্ছী।
নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে তাদের কাছে আগত কোন দলীল ব্যতিরেকে, তাদের অন্তরে আছে কেবল আত্নম্ভরিতা, যা অর্জনে তারা সফল হবে না। অতএব, আপনি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।
মহাকাশ এবং পৃথিবী সৃষ্টির কাজ মানুষ সৃষ্টির চেয়ে অনেক কঠিন কাজ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানেনা।
লাখাল্ক্ব স্ সামা-ওয়া-তি অল্ 'র্আদ্বি আক্বারু মিন্ খল্ক্বিন্না-সি অলা- কিন্না আক্ছারান্না- সি লা-ইয়া'লামূন্।
মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূ - মন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।
অন্ধ আর দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি সমান নয়। যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তারা, আর দুর্নীতিবাজরা সমতুল্য নয়। তোমরা খুব কমই শিক্ষা গ্রহণ করে থাকো।
অমা- ইয়াস্তাওয়িল্ আমা-অল্বাছীরু অল্লাযীনা আ-মানূ অ 'আমিলুছ্ ছোয়া- লিহা-তি অলাল্ মুসি-য়ু ক্বলীলাম্ মা-তাতাযাক্কারূন্।
অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কুকর্মী। তোমরা অল্পই অনুধাবন করে থাক।
কিয়ামত অবশ্যি আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই ঈমান রাখেনা।
ইন্নাস্ সা-'আতা লা আ-তিয়াতুল্ লা-রাইবা ফীহা-অলা-কিন্না আক্ছারান্ না-সি লা-ইয়ু' মিনূন্।
কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে সন্দেহ নেই; কিন্ত অধিকাংশ লোক বিশ্বাস স্থাপন করে না।
তোমাদের প্রভু বলেছেন: ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকের (দোয়ার) জবাব দেবো (দোয়া কবুল করবো)। নিশ্চয়ই যারা আমার ইবাদতের ব্যাপারে হঠকারিতা প্রদর্শন করে, শীঘ্রি তারা দাখিল হবে জাহান্নামে অপদস্ত হয়ে।
অ ক্ব-লা রব্বুকুমুদ্'ঊনী য় আস্তাজিব্ লাকুম্ ইন্নাল্লাযীনা ইয়াস্তাক্বিরূনা 'আন্ 'ইবা-দাতী সাইয়াদ্খুলূনা জ্বাহান্নামা দা-খিরীন্।
তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে।
আল্লাহ্ই রাত বানিয়েছেন তোমাদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিন বানিয়েছেন আলোকোজ্জ্বল (তোমাদের জীবিকা অণ্বেষণের জন্যে)। নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি বিশাল অনুগ্রহপরায়ণ, তবে অধিকাংশ মানুষই শোকর আদায় করেনা।
আল্লা- হুল্ লাযী জ্বা'আলা লাকুমুল্ লাইলা লিতাস্কুনূ ফীহি অন্নাহা-রা মুব্ছিরা- ইন্নাল্লা-হা লাযূ ফাদ্ব্লিন্ 'আলা ন্না-সি অলা-কিন্না আক্ছারান্ না-সি লা-ইয়াশ্কুরূন্।
তিনিই যিনি রাত্র সৃষ্টি করেছেন তোমাদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিবসকে করেছেন দেখার জন্যে। নিশ্চয় মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না।
তোমাদের প্রভু আল্লাহ্ই প্রতিটি বস্তুর স্রষ্টা। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। ফলে মিথ্যার ফানুসে বিভ্রান্ত করে তোমাদের কোথায় নেয়া হচ্ছে?
যা-লিকুমু ল্লা-হু রব্বুকুম্ খ-লিকু কুল্লি শাইয়িন্। লা য় ইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ফা আন্না-তুফাকূন্।
তিনি , তোমাদের পালনকর্তা, সব কিছুর স্রষ্টা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?
এভাবেই বিভ্রান্ত করে মিথ্যার পথে নিয়ে যাওয়া হয় তাদেরকে, যারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করে।
কাযা-লিকা ইয়ু' ফাকুল্ লাযীনা কা-নূ বিআ-ইয়া-তিল্লা-হি ইয়াজহাদূন্।
এমনিভাবে তাদেরকে বিভ্রান্ত করা হয়, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে।
আল্লাহ্ই পৃথিবীকে বানিয়েছেন তোমাদের বাসোপযোগী, আর আসমানকে বানিয়েছেন ছাদ। তিনিই তোমাদের সুরত (আকৃতি) গঠন করেছেন উত্তম ও সুন্দরতম আকৃতিতে। তিনিই ব্যবস্থা করেছেন তোমাদের জন্যে উত্তম জীবিকার। তিনিই , তোমাদের প্রভু। কতো যে মহান বরকতওয়ালা মহাজগতের প্রভু ।
আল্লা-হুল্ লাযী জ্বা'আলা লাকুমুল্ র্আদ্বোয়া ক্বারারাঁও অস্সামা-য়া বিনা-য়াঁও অ ছোয়াওয়ারকুম্ ফাআহ্সানা ছুওয়্যারাকুম্ অরযাক্বকুম্ মিনাত ত্বোয়াইয়্যিবা-ত্ যা- লিকুমুল্লা-হু রব্বুকুম্ ফাতাবা-রকাল্লা-হু রব্বুল্ 'আ-লামীন্।
, পৃথিবীকে করেছেন তোমাদের জন্যে বাসস্থান, আকাশকে করেছেন ছাদ এবং তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতি সুন্দর করেছেন এবং তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন পরিচ্ছন্ন রিযিক। তিনি , তোমাদের পালনকর্তা। বিশ্বজগতের পালনকর্তা, বরকতময়।
তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। তাঁর জন্যে আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে তোমরা কেবল তাঁকেই ডাকো। সমস্ত প্রশংসা রাব্বুল আলামিনের।
হুওয়াল্ হাইয়্যু লা য় ইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ফাদ্'ঊহু মুখ্লিছিনা লাহুদ্দী ন্ আল্হাম্দু লিল্লা-হি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।
তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তাঁকে ডাক তাঁর খাঁটি এবাদতের মাধ্যমে। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর।
বলো: ‘তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের কাছে দোয়া - প্রার্থনা করো, তাদের ইবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে, যেহেতু আমার প্রভুর পক্ষ থেকে আমার কাছে সুস্পষ্ট দলিল - প্রমাণ এসেছে। আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমি যেনো আত্মসমর্পণ করি রাব্বুল আলামিনের জন্যে।’
কুল্ ইন্নী নুহীতু আন্ আ'বুদাল্ লাযীনা তাদ্'ঊনা মিন্ দূনিল্লা-হি লাম্মা-জ্বা-য়ানিয়াল্ বাইয়্যিনা-তু র্মি রব্বী অউর্মিতু আন্ উস্লিমা লিরব্বিল্ 'আ-লামীন্।
বলুন, যখন আমার কাছে আমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণাদি এসে গেছে, তখন ব্যতীত তোমরা যার পূজা কর, তার এবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। আমাকে আদেশ করা হয়েছে বিশ্ব পালনকর্তার অনুগত থাকতে।
তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে, তারপর আলাকা (জরায়ুর সাথে শক্তভাবে আটকে থাকা ভ্রুণ) থেকে। তারপর তিনি তোমাদের বের করে আনেন শিশু হিসেবে। তারপর তোমাদের পৌঁছে দেয়া হয় যৌবনে। তারপর তোমরা পরিণত হও বৃদ্ধে। তোমাদের কারো কারো ওফাত ঘটানো হয় এর আগেই। যাতে করে তোমরা তোমাদের জন্যে নির্ধারিত সময়কাল পূর্ণ করো এবং যেনো তোমরা বুঝবুদ্ধিকে কাজে লাগাও।
হুওয়াল্ লাযী খালাক্বকুম্ মিন্ তুরা-বিন্ ছুম্মা মিন্ নুত্ফাতিন্ ছুম্মা মিন্ 'আলাক্বাতিন্ ছুম্মা ইয়ুখ্রিজুকুম্ ত্বিফ্লান্ ছুম্মা লিতাব্লুগূ য় আশুদ্দাকুম্ ছুম্মা লিতাকূনূ শুইয়ূখান্ অমিন্কুম্ মাইঁ ইয়ুতাওয়াফ্ফা-মিন্ ক্বব্লু অ লিতাব্লুগূ য় আজ্বালাম্ মুসাম্মাঁও অ লা'আল্লাকুম্ তা'ক্বি লূন্।
তিনি তো তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা, অতঃপর শুক্রবিন্দু দ্বারা, অতঃপর জমাট রক্ত দ্বারা, অতঃপর তোমাদেরকে বের করেন শিশুরূপে, অতঃপর তোমরা যৌবনে পদর্পণ কর, অতঃপর বার্ধক্যে উপনীত হও। তোমাদের কারও কারও এর পূর্বেই মৃত্যু ঘটে এবং তোমরা নির্ধারিত কালে পৌঁছ এবং তোমরা যাতে অনুধাবন কর।
তিনিই জীবন দান করেন এবং মউত ঘটান। তিনি যখন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন তখন সেটাকে বলেন: ‘হও’, সাথে সাথে তা হয়ে যায়।
হুওয়াল্ লাযী ইয়ুহ্য়ী অইয়ুমীতু ফাইযা-ক্বাদ্বোয়া য় আম্রান্ ফাইন্নামা- ইয়াকুলু লাহূ কুন্ ফাইয়াকূন্।
তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দেন। যখন তিনি কোন কাজের আদেশ করেন, তখন একথাই বলেন, হয়ে যা’ - তা হয়ে যায়।
তুমি কি তাদের দেখোনা, যারা আল্লাহর আয়াত নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়? কীভাবে তাদের বিপথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?
আলাম্ তারা ইলাল্ লাযীনা ইয়ুজ্বা- দিলূনা ফী য় আ-ইয়া-তিল্লা-হ্ আন্না- ইয়ুছ্রাফূন্।
আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা কোথায় ফিরছে?
যারা প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহর কিতাবকে এবং যা নিয়ে আমরা আমাদের রসূলদের পাঠিয়েছি সেটাকে। অচিরেই তারা জানতে পারবে (এর পরিণতি),
আল্লাযীনা কায্যাবূ বিল্ কিতা-বি অ বিমা য় র্আছাল্না-বিহী রুসুলানা-ফাসাওফা ইয়া'লামূন্।
যারা কিতাবের প্রতি এবং যে বিষয় দিয়ে আমি পয়গম্বরগণকে প্রেরণ করেছি, সে বিষয়ের প্রতি মিথ্যারোপ করে। অতএব, সত্বরই তারা জানতে পারবে।
যখন তাদের গলায় পরানো থাকবে বেড়ি আর শিকল এবং তাদের নিয়ে যাওয়া হবে টেনে হিঁচড়ে
ইযিল্ আগ্লা-লু ফী য় আ'না- ক্বিহিম্ অস্সালা-সিল্ ইয়ুস্হাবূন্
যখন বেড়িও শৃঙ্খল তাদের গলদেশে পড়বে। তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে।
টগবগে ফুটন্ত গরম পানির দিকে। তারপর তাদের দগ্ধ করা হবে আগুনে।
ফীল্ হামীমি ছুম্মা ফী ন্না-রি ইয়ুস্জ্বারূন্।
ফুটন্ত পানিতে, অতঃপর তাদেরকে আগুনে জ্বালানো হবে।
তারপর তাদের বলা হবে: ‘তারা এখন কোথায় যাদেরকে তোমরা শরিক বানিয়েছিলে
ছুম্মা ক্বীলা লাহুম্ আইনা মা-কুন্তুম্ তুশ্রিকূন্।
অতঃপর তাদেরকে বলা হবে, কোথায় গেল যাদেরকে তোমরা শরীক করতে।
আল্লাহর পরিবর্তে?’ তারা বলবে: ‘তারা আমাদের থেকে উধাও হয়ে গেছে। আসলে আমরা পূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) কাউকেও ডাকিনি।’ এভাবেই কাফিরদের ফেলে রাখেন বিভ্রান্তিতে।
মিন্ দূ নিল্লা-হ্ ক্ব-লূ দ্বোয়াল্লূ 'আন্না- বাল্ লাম্ নাকুন্ নাদ্'ঊ মিন্ ক্বব্লু শাইয়া- কাযা-লিকা ইয়ুদ্বিল্লুল্লা-হুল্ কা-ফিরীন্।
ব্যতীত? তারা বলবে, তারা আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে; বরং আমরা তো ইতিপূর্বে কোন কিছুর পূজাই করতাম না। এমনি ভাবে কাফেরদেরকে বিভ্রান্ত করেন।
এর কারণ, তোমরা পৃথিবীতে অযথা উল্লাসে মেতেছিলে এবং এর আরো কারণ হলো, তোমরা নিমজ্জিত ছিলে দাম্ভিকতায়।
যা-লিকুম্ বিমা-কুন্তুম্ তাফ্রাহূনা ফিল্ র্আদ্বি বিগইরিল্ হাকক্বি অবিমা-কুনতুম্ তাম্রাহূন্।
এটা একারণে যে, তোমরা দুনিয়াতে অন্যায়ভাবে আনন্দ - উল্লাস করতে এবং এ কারণে যে, তোমরা ঔদ্ধত্য করতে।
এখন দাখিল হও জাহান্নামের দরজাসমূহ দিয়ে সেখানে চিরকাল অবস্থানের জন্যে। অহংকারীদের আবাস কতো যে নিকৃষ্ট!
উদ্খুলূ য় আব্ওয়া-বা জ্বাহান্নামা খা-লিদীনা ফীহা-ফাবিসা মাস্ওয়াল্ মুতাকাব্বিরীন্।
প্রবেশ কর তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে সেখানে চিরকাল বসবাসের জন্যে। কত নিকৃষ্ট দাম্ভিকদের আবাসস্থল।
(হে নবী!) তুমি সবর করো। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আমরা ওদেরকে যে ওয়াদা দিচ্ছি তার কিছু যদি তোমাকে দেখিয়ে দেই, কিংবা যদি তোমার ওফাত ঘটাই, তাদেরকে তো আমার কাছেই ফেরত আনা হবে।
ফার্ছ্বি ইন্না ওয়া'দাল্লা-হি হাককুন্ ফাইম্মা-নুরিইয়্যান্নাকা বা'দ্বোয়াল্ লাযী না'ইদুহুম্ আও নাতাওয়াফ্ফাইয়ান্নাকা ফাইলাইনা-ইর্য়ুজ্বা'ঊন্।
অতএব আপনি সবর করুন। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতঃপর আমি কাফেরদেরকে যে শাস্তির ওয়াদা দেই, তার কিয়দংশ যদি আপনাকে দেখিয়ে দেই অথবা আপনার প্রাণ হরণ করে নেই, সর্বাবস্থায় তারা তো আমারই কাছে ফিরে আসবে।
তোমার আগেও আমরা বহু রসূল পাঠিয়েছি, তাদের মধ্যকার কিছু রসূলের বিবরণ তোমাকে দিয়েছি, আর কিছু রসূলের বিবরণ তোমাকে দেইনি। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া নিদর্শন হাজির করা কোনো রসূলের কাজ নয়। আল্লাহর নির্দেশ যখন এসে যাবে, তখন ফায়সালা করে দেয়া হবে ন্যায়সংগতভাবে। আর তখনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে বাতিলপন্থী মিথ্যাবাদীরা।
অলাক্বদ্ র্আসালনা- রুসুলাম্ মিন্ ক্ববলিকা মিন্হুম্ মান্ ক্বাছোয়াছ্না- 'আলাইকা অমিন্হুম্ মাল্লাম্ নাকছুছ্ 'আলাইক্ অমা-কা-না লিরাসূ লিন্ আইঁ ইয়্যা 'তিয়া বিআ- ইয়া-তিন্ ইল্লা-বিইয্নি ল্লা-হি ফাইযা-জ্বা-য়া আম্রু ল্লা-হি কুদ্বিয়া বিল্ হাক্ব্ক্বি অখসিরা হুনা-লিকাল্ মুব্ত্বিলূন্।
আমি আপনার পূর্বে অনেক রসূল প্রেরণ করেছি, তাদের কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করেছি এবং কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করিনি। আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন নিদর্শন নিয়ে আসা কোন রসূলের কাজ নয়। যখন আল্লাহর আদেশ আসবে, তখন ন্যায় সঙ্গত ফয়সালা হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তোমাদের জন্যে চারপায়ী পশু সৃষ্টি করেছেন, যাতে করে তোমরা সেগুলোর কিছু পশুতে আরোহণ করতে পারো, আর খেতে পারো কিছু পশু।
আল্লাহুল্ লাযী জ্বা'আলা লাকুমুল্ আন্'আ-মা লির্তাকাবূ মিন্হা-অ মিন্হা-তা'কুলূন্।
তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে কোন কোনটিই বাহন হিসাবে ব্যবহার কর এবং কোন কোনটিকে ভক্ষণ কর।
এছাড়াও সেগুলোর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্যে অনেক মুনাফা। তোমরা যেসব প্রয়োজনের কথা ভাবো এর মাধ্যমে যেনো তা পূর্ণ করতে পারো এবং সেগুলোতে আর নৌযানে যেনো তোমরা বহন ও আরোহণ করতে পারো।
অলাকুম্ ফীহা-মানা ফি'উ অলিতাব্লুগূ 'আলাইহা-হা-জ্বাতান্ ফী ছুদূরিকুম্ অ'আলাইহা- অ'আলাল্ ফুল্কি তুহ্মালূন্।
তাতে তোমাদের জন্যে অনেক উপকারিতা রয়েছে আর এজন্যে সৃষ্টি করেছেন; যাতে সেগুলোতে আরোহণ করে তোমরা তোমাদের অভীষ্ট প্রয়োজন পূর্ণ করতে পার। এগুলোর উপর এবং নৌকার উপর তোমরা বাহিত হও।
তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলি দেখিয়ে থাকেন। তোমরা তাঁর কোন্ নিদর্শন অস্বীকার করবে?
অ ইয়ুরীকুম্ আ-ইয়া-তিহী ফাআইয়্যা আ-ইয়া-তি ল্লা-হি তুন্কিরূন্।
তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান। অতএব, তোমরা আল্লাহর কোন কোন নিদর্শনকে অস্বীকার করবে?
তারা কি পৃথিবী ভ্রমণ করে দেখেনা, তাদের আগেকার অস্বীকারকারীদের কী পরিণতি হয়েছিল? তারা ছিলো এদের চাইতে অধিক সংখ্যক ও অধিক শক্তিশালী এবং জমিনে অধিক প্রভাব বিস্তারকারী। কিন্তু তাদের কীর্তি তাদের কোনো উপকারেই আসেনি।
আফালাম্ ইয়াসীরূ ফিল্ র্আদ্বি ফাইয়ান্জুরূ কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুল্ লাযীনা মিন্ ক্বব্লিহিম্ কা-নূ য় আক্ছার মিন্হুম্ অআশাদ্দা কুওয়্যাতাঁও অআ-ছা-রান্ ফিল্ র্আদ্বি ফামা য় আগ্না- 'আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াক্সিবূন্।
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি? করলে দেখত, তাদের পূর্ববর্তীদের কি পরিণাম হয়েছে। তারা তাদের চেয়ে সংখ্যায় বেশী এবং শক্তি ও কীর্তিতে অধিক প্রবল ছিল, অতঃপর তাদের কর্ম তাদেরকে কোন উপকার দেয়নি।
যখনই তাদের রসূলরা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে তাদের কাছে এসেছে, তারা নিজেদের এলেমের দম্ভ করেছে। তারপর তারা যা নিয়ে বিদ্রুপ করেছে সেটাই তাদের পরিবেষ্টন করে নিয়েছে।
ফালাম্মা জ্বা-য়াত্ হুম্ রুসুলুহুম্ বিল্বাইয়্যিনা-তি ফারিহূ বিমা-'ইন্দা হুম্ মিনাল্ 'ইলমি অহা-ক্ব বিহিম্ মা-কা-নূ বিহী ইয়াস্তাহ্যিয়ূন্।
তাদের কাছে যখন তাদের রসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আগমন করেছিল, তখন তারা নিজেদের জ্ঞান - গরিমার দম্ভ প্রকাশ করেছিল। তারা যে বিষয় নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রুপ করেছিল, তাই তাদেরকে গ্রাস করে নিয়েছিল।
যখন তারা আমার শাস্তি সামনে উপস্থিত দেখেছে, বলেছে: ‘আমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম এবং আমরা তাঁর সাথে যাদের শরিক করতাম তাদের প্রতি কুফুরি করলাম।’
ফালাম্মা-র আও বাসানা-ক্ব-লূ য় আ-মান্না- বিল্লা-হি ওয়াহ্দাহূ অ কাফারনা-বিমা-কুন্না-বিহী মুশ্রিকীন্।
তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন বলল, আমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করলাম এবং যাদেরকে শরীক করতাম, তাদেরকে পরিহার করলাম।
আমাদের আযাব দেখার পর তারা যে ঈমানের ঘোষণা দিতো, সে ঈমান তাদের কোনো উপকারে আসেনি। আল্লাহর এই সুন্নত (বিধান) পূর্ব থেকেই তাঁর বান্দাদের মধ্যে চলে আসছে, আর সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাফিররাই।
ফালাম্ ইয়াকু ইয়ান্ফা'উহুম্ ঈমা-নুহুম্ লাম্মা রায়াও বাসানা-সুন্নাতাল্লা-হিল্লাতী ক্বদ্ খলাত্ ফী 'ইবা-দিহী অখসির হুনা-লিকাল্ কা-ফিরূন্
অতঃপর তাদের এ ঈমান তাদের কোন উপকারে আসল না যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করল। আল্লাহর এ নিয়মই পূর্ব থেকে তাঁর বান্দাদের মধ্যে প্রচলিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে কাফেররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।