Kitab

আল ফাত্হ (বিজয়)

Chapter 48, 29 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • বাংলা উচ্চারণ
  • মুহিউদ্দীন খান
About this chapter


মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা : ২৯, রুকু সংখ্যা: ০৪

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-১০হুদাইবিয়ার সন্ধিকে সুস্পষ্ট বিজয় বলে ঘোষণা। আল্লাহ্ মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেন। মুনাফিক ও মুশরিকদের প্রতি আল্লাহর গজব। মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ সা. আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্যের সাক্ষ্য, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী। রসূলের কাছে বায়াত গ্রহণকারীরা মূলত আল্লাহর কাছে বায়াত গ্রহণ করেছে। ১১-১৭পিছে অবস্থানকারীদের পরিণতি। ১৮-২৭হুদাইবিয়ার বায়াত ও সন্ধির প্রশংসা। আল্লাহ্ রসূলের স্বপ্নকে সত্য প্রমাণিত করেছেন। ২৮-২৯রসূলকে সত্য দীন নিয়ে পাঠানোর উদ্দেশ্য। মুহাম্মদ সা. ও তাঁর সাথিদের বৈশিষ্ট্য, তাঁদের জীবন লক্ষ্য এবং তাওরাত ও ইঞ্জিলে তাদের উপমা।
আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে বিজয় দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়।

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ইন্না- ফাতাহ্না- লাকা ফাত্হাম্ মুবীনা-।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় আমি আপনার জন্যে এমন একটা ফয়সালা করে দিয়েছি, যা সুস্পষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেনো ক্ষমা করে দেন তোমার অতীত ও ভবিষ্যত ত্রুটিসমূহ, যেনো তোমার প্রতি পূর্ণ করেন তাঁর নিয়ামতসমূহ আর পরিচালিত করেন তোমাকে সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর।

বাংলা উচ্চারণ

লিইয়াগ্ফির লাকা ল্লা-হু মা-তাক্বদ্দামা মিন্ যাম্বিকা অমা- তায়াখ্খরা অইয়ুতিম্মা নি'মাতাহূ 'আলাইকা অইয়াহ্দিয়াকা ছির-ত্বোয়াম্ মুস্তাক্বীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে আপনার অতীত ও ভবিষ্যত ত্রুটিসমূহ মার্জনা করে দেন এবং আপনার প্রতি তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেন ও আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং যেনো তোমাদের সাহায্য করেন অপ্রতিরোধ্য সাহায্য।

বাংলা উচ্চারণ

অইয়ান্ ছুরকাল্লা-হু নাছ্রন্ 'আযীযা-।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আপনাকে দান করেন বলিষ্ঠ সাহায্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই মুমিনদের অন্তরে নাযিল করেন প্রশান্তি, যাতে করে তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি করে নেয়। মহাকাশ ও পৃথিবীর বাহিনীসমূহ আল্লাহর। আর সর্বজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান।

বাংলা উচ্চারণ

হুওয়াল্লাযী য় আন্যালাস্ সাকীনাতা ফী কুলূবিল্ মুমিনীনা লিইয়ায্দা-দূ য় ঈমা-নাম্ মা'আ ঈমা- নিহিম্ অলিল্লা-হি জুনূ দুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ অকা-নাল্লা-হু 'আলীমান্ হাকীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেন, যাতে তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বেড়ে যায়। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেনো তিনি পুরুষ ও নারীদের দাখিল করেন জান্নাতে, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। চিরদিন থাকবে তারা সেখানে এবং যেনো তিনি মোচন করে দেন তাদের পাপসমূহ, আর আল্লাহর দৃষ্টিতে এটাই মহাসাফল্য।

বাংলা উচ্চারণ

লিইয়ুদ্খিলাল্ মুমিনীনা অল্মু'মিনা-তি জ্বান্না-তিন্ তাজ্ব রী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হা-রু খ-লিদীনা ফীহা-অইয়ুকাফ্ফিরা 'আন্হুম্ সাইয়িয়া-তিহিম্ অকা-না যা-লিকা 'ইন্দা-ল্লা হি ফাওযান্ 'আজীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

ঈমান এজন্যে বেড়ে যায়, যাতে তিনি পুরুষ ও নারীদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করান, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেথায় তারা চিরকাল বসবাস করবে এবং যাতে তিনি তাদের পাপ মোচন করেন। এটাই আল্লাহর কাছে মহাসাফল্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তিনি শাস্তি দেবেন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীদের, মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারীদের, কারণ তারা আল্লাহর ব্যাপারে মন্দ ধারণা পোষণকারী। তাদের ঘেরাও করে রেখেছে দুষ্ট চক্র (vicious circle)। তাদের প্রতি রুষ্ট হয়েছেন, তিনি তাদের লানত করেছেন এবং তাদের জন্যে তৈরি করে রেখেছেন জাহান্নাম, আর আবাস হিসেবে সেটা কতো যে মন্দ!

বাংলা উচ্চারণ

অইয়ু'আয্যিবাল্ মুনা- ফিক্বীনা অল্ মুনা-ফীক্ব-তি অল্মুশ্রিকীনা অল্ মুশ্রিকা-তিজ্ জোয়া-ন্নীনা বিল্লা-হি জোয়ান্নাস্ সাওয়ি 'আলাইহিম্ দা-য়িরাতুস্ সাওয়ি অগদ্বিবা ল্লা-হু 'আলাইহিম্ অলা'আনাহুম্ অ আ'আদ্দা লাহুম্ জ্বাহান্নাম্ অসা-য়াত্ মাছীর-।

মুহিউদ্দীন খান

এবং যাতে তিনি কপট পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারী এবং অংশীবাদী পুরুষ ও অংশীবাদিনী নারীদেরকে শাস্তি দেন, যারা সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষন করে। তাদের জন্য মন্দ পরিনাম। তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাদেরকে অভিশপ্ত করেছেন। এবং তাহাদের জন্যে জাহান্নাম প্রস্তুত রেখেছেন। তাদের প্রত্যাবর্তন স্থল অত্যন্ত মন্দ।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ ও পৃথিবীর বাহিনীসমূহ আল্লাহর। আর মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাবান।

বাংলা উচ্চারণ

অ লিল্লা-হি জুনূ দুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব অকা-না ল্লা-হু 'আযীযান্ হাকীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই। পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! আমরা তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না য় র্আসাল্না-কা শা-হিদাঁও অমুবাশ্শিরাঁও অনাযীরা-।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি অবস্থা ব্যক্তকারীরূপে, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে করে তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রসূলের প্রতি, আর যেনো রসূলকে সাহায্য করো এবং তাকে সম্মান করো। এছাড়া যেনো আল্লাহর তসবিহ ঘোষণা করো সকাল - সন্ধ্যায়।

বাংলা উচ্চারণ

লিতু'মিনূ বিল্লা-হি অরাসূলিহী অ তু'আয্যিরূহু অ তুওয়াক্ব ক্বিরূহ্ ওয়া তুসাব্বিহূহু বুক্রতাঁও অআছীলা-।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে তোমরা ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তাঁকে সাহায্য ও সম্মান কর এবং সকাল - সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা তোমার কাছে বায়াত করেছে, তারা মূলত আল্লাহর কাছেই বায়াত করেছে। আল্লাহর হাত ছিলো তাদের হাতের উপর। অত:পর যে তা ভঙ্গ করবে, ভঙ্গ করার পরিণতি তার উপরই বর্তাবে। যে কেউ আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে, তাকে প্রদান করবেন মহাপুরস্কার।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্ লাযীনা ইয়ুবা-য়ি'ঊনাকা ইন্নামা ইউবা-য়ি'ঊনা ল্লা-হ্ ইয়াদুল্লা-হি ফাওক্ব আইদীহিম্ ফামান্ নাকাছা-ফাইন্নামা-ইয়ান্কুছু 'আলা নাফ্সিহী অমান্ আওফা-বিমা-'আহা-দা 'আলাইহুল্লা-হা ফাসাইয়ুতীহি আজ্ব রন্ 'আজীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহর কাছে আনুগত্যের শপথ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে। অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে; অতি অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যেই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে; সত্ত্বরই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেসব মরুবাসী পেছনে রয়ে গেছে, তারা তোমাকে বলবে: ‘আমাদের মাল - সম্পদ এবং পরিবার - পরিজন আমাদের ব্যস্ত রেখেছে, আমাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।’ তারা মুখে যা বলে, তা তাদের অন্তরে নেই। তুমি বলো: ‘‘ তোমাদের কারো কোনো ক্ষতি কিংবা উপকার করতে চাইলে কে তাঁকে প্রতিরোধ করতে পারবে? তোমরা যা করো সে বিষয়ে অবহিত।

বাংলা উচ্চারণ

সাইয়াকুলু লাক্বল্ মুখাল্লাফূনা মিনাল্ আ'র-বি শাগালাত্না য় আম্ওয়া-লুনা-অআহ্লূনা-ফাছ্তার্গ্ফি লানা-ইয়াকুলূনা বিআল্সিনাতিহিম্ মা-লাইসা ফী কুলূ বিহিম্ কুল্ ফামাইঁ ইয়াম্লিকু লাকুম্ মিনা ল্লা-হি শাইয়ান্ ইন্ আর-দা বিকুম্ দ্বোর্য়ারন্ আও আর-দা বিকুম্ নাফ্'আ-বাল্ কা-নাল্লা-হু বিমা-তা'মালূনা খবীর-।

মুহিউদ্দীন খান

মরুবাসীদের মধ্যে যারা গৃহে বসে রয়েছে, তারা আপনাকে বলবেঃ আমরা আমাদের ধন - সম্পদ ও পরিবার - পরিজনের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। অতএব, আমাদের পাপ মার্জনা করান। তারা মুখে এমন কথা বলবে, যা তাদের অন্তরে নেই। বলুনঃ তোমাদের ক্ষতি অথবা উপকার সাধনের ইচ্ছা করলে কে তাকে বিরত রাখতে পারে? বরং তোমরা যা কর, সে বিষয় পরিপূর্ণ জ্ঞাত।

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং তোমরা তো মনে করেছিলে রসূল এবং মুমিনরা আর কখনো তাদের পরিবারবর্গের কাছে ফিরে আসতে পারবে না। এই ধারণা তোমাদের অন্তরে চমৎকার মনে হয়েছিল। তোমরা চরম নিকৃষ্ট ধারণা করেছিলে। আসলে তোমরা একটি বুরা (ধ্বংসমুখী) কওম।

বাংলা উচ্চারণ

বাল্ জোয়ানান্তুম্ আল্লাইঁ ইয়ান্ক্বলির্বা রসূলু অল্মুমিনূনা ইলা য় আহ্লী হিম্ আবাদাঁও অযুইয়িনা যা-লিকা ফী কুলূ বিকুম্ অজোয়ানান্তুম্ জোয়ান্নাস্ সাওয়ি অকুন্তুম্ ক্বওমাম্ বূরা-।

মুহিউদ্দীন খান

বরং তোমরা ধারণ করেছিলে যে, রসূল ও মুমিনগণ তাদের বাড়ী - ঘরে কিছুতেই ফিরে আসতে পারবে না এবং এই ধারণা তোমাদের জন্যে খুবই সুখকর ছিল। তোমরা মন্দ ধারণার বশবর্তী হয়েছিলে। তোমরা ছিলে ধ্বংসমুখী এক সম্প্রদায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা এবং তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনেনা, আমরা সেইসব কাফিরদের জন্যে তৈরি করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুন।

বাংলা উচ্চারণ

অমাল্লাম্ ইয়ুমিম্ বিল্লা-হি অরসূলিহী ফাইন্না য় আ'তাদ্না- লিল্কা-ফিরীনা সা'ঈর -।

মুহিউদ্দীন খান

যারা ও তাঁর রসূলে বিশ্বাস করে না, আমি সেসব কাফেরের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব আল্লাহর। যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করে দেন এবং যাকে ইচ্ছা আযাব দেন। পরম ক্ষমাশীল করুণাময়।

বাংলা উচ্চারণ

অলিল্লা-হি মুল্কুস্ সামা- ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব ইয়াগ্ফিরু লিমাইঁ ইয়াশা-য়ু অইযু'আয্যিবু মাইঁ ইয়াশা-য়ু অকা-নাল্লা-হু গফূর্র রহীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যখন গণিমতের মাল সংগ্রহের জন্যে যাবে, তখন পেছনে পড়ে থাকা লোকেরা বলবে: ‘ছেড়ে দাও, আমরা তোমাদের সাথে যাবো।’ তারা আল্লাহর ফায়সালা পরিবর্তন করতে চায়। বলো: ‘তোমরা কখনো আমাদের সাথি হতে পারবে না। আগেই এ রকম ঘোষণা দিয়েছেন।’ তখন তারা অবশ্যি বলবে: ‘তোমরা তো আমাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করছো।’ আসল কথা হলো, কথা বুঝার যোগ্যতাই ওদের সামান্য।

বাংলা উচ্চারণ

সাইয়াকুলুল্ মুখাল্লাফূনা ইযান্ত্বোয়ালাক্ব ্তুম্ ইলা-মাগ-নিমা লিতাখুযূহা-যারূনা- নাত্তাবি'কুম্ ইয়ুরীদূনা আইঁ ইয়ুবাদ্দিলূ কলা-মাল্লা-হ্ কুল্ লান্ তাত্তাবি'ঊনা- কাযা-লিকুম্ ক্ব-লাল্লা-হু মিন্ ক্বব্লু ফাসাইয়াকুলূনা বাল্ তাহ্সুদূনানা- বাল্ কা-নূ লা-ইয়াফ্ক্বাহূনা ইল্লা-ক্বালীলা-।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ ধন - সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাবে, তখন যারা পশ্চাতে থেকে গিয়েছিল, তারা বলবেঃ আমাদেরকেও তোমাদের সঙ্গে যেতে দাও। তারা আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করতে চায়। বলুনঃ তোমরা কখনও আমাদের সঙ্গে যেতে পারবে না। পূর্ব থেকেই এরূপ বলে দিয়েছেন। তারা বলবেঃ বরং তোমরা আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছ। পরন্তু তারা সামান্যই বোঝে।

আবদুস শহীদ নাসিম

পিছে পড়া মরুবাসী বেদুঈনদের বলো: ‘তোমাদের ডাকা হবে প্রবল যোদ্ধা এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করে যাবে যতোক্ষণ না তারা আত্মসমর্পণ করে। তোমরা যদি একথা মেনে নাও, তবে তোমাদের উত্তম পুরস্কার দেবেন, আর যদি তোমরা আগের মতোই পেছনে হটে যাও, তোমাদের আযাব দেবেন এক বেদনাদায়ক আযাব।’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ লিল্ মুখাল্লাফীনা মিনাল্ আ'রা -বি সাতুদ্'আওনা ইলা- ক্বওমিন্ উলী বাসিন্ শাদীদিন্ তুক্ব-তিলূনাহুম্ আও ইয়ুস্লিমূনা ফাইন্ তুত্বী'ঊ ইয়ুতিকুমুল্লা-হু আজ্ব রান্ হাসানান্ অইন্ তাতাওয়াল্লাও কামা-তাওয়াল্লাইতুম্ মিন্ ক্বব্লু ইয়ু'আয্যিব্কুম্ 'আযা-বান্ আলীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

গৃহে অবস্থানকারী মরুবাসীদেরকে বলে দিনঃ আগামীতে তোমরা এক প্রবল পরাক্রান্ত জাতির সাথে যুদ্ধ করতে আহুত হবে। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে, যতক্ষণ না তারা মুসলমান হয়ে যায়। তখন যদি তোমরা নির্দেশ পালন কর, তবে তোমাদেরকে উত্তম পুরস্কার দিবেন। আর যদি পৃষ্ঠপ্রদর্শন কর যেমন ইতিপূর্বে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছ, তবে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি দিবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

অন্ধদের কোনো দোষ হবেনা, পঙ্গুদের কোনো দোষ হবেনা এবং রোগীদেরও কোনো দোষ হবেনা (যদি তারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে)। যে কেউ আল্লাহর এবং তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। আর কেউ যদি পিছে হটে যায়, তিনি তাকে আযাব দেবেন এক বেদনাদায়ক আযাব।

বাংলা উচ্চারণ

লাইসা 'আলাল্ আ'মা-হারজুও অলা-'আলাল্ আ'রজ্বি হারজুও অলা-'আলাল্ মারীদ্বি হারজ্ব্ অমাইঁ ইয়ুতি'ইল্ লা-হা অরসূলাহূ ইয়ুদ্খিল্হু জ্বান্না-তিন্ তাজ্ব ্রী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হা-রু অমাইঁ ইয়াতাওয়াল্লা-ইয়ু'আয্যিব্হু 'আযা-বান্ আলীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

অন্ধের জন্যে, খঞ্জের জন্যে ও রুগ্নের জন্যে কোন অপরাধ নাই এবং যে কেউ ও তাঁর রসূলের অনুগত্য করবে তাকে তিনি জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত হয়। পক্ষান্তরে যে, ব্যক্তি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

মুমিনদের প্রতি রাজি হয়েছেন যখন তারা গাছের নিচে তোমার কাছে বায়াত গ্রহণ করেছিল। তাদের অন্তরে যা ছিলো তিনি তা অবহিত ছিলেন। ফলে তিনি তাদের প্রতি নাযিল করলেন প্রশান্তি এবং তাদের পুরস্কার দিলেন এক নিকটবর্তী বিজয়।

বাংলা উচ্চারণ

লাক্বদ্ রদ্বিয়াল্লা-হু 'আনিল্ মুমিনীনা ইয্ ইয়ুবা-য়ি'ঊনাকা তাহ্তাশ্ শাজ্বারতি ফা'আলিমা মা- ফী কুলূবিহিম্ ফাআন্যালাস্ সাকীনাতা 'আলাইহিম্ অআছা-বাহুম্ ফাত্হান্ ক্বরীবা-।

মুহিউদ্দীন খান

মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষের নীচে আপনার কাছে শপথ করল। অবগত ছিলেন যা তাদের অন্তরে ছিল। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয় পুরস্কার দিলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর বিপুল পরিমাণ গণিমতের মাল যা তারা হস্তগত করবে। সর্বশক্তিমান, মহাপ্রজ্ঞাবান।

বাংলা উচ্চারণ

অমাগা-নিমা কাছীরতাঁই ইয়াখুযূনাহা- অকা-নাল্লা-হু 'আযীযান্ হাকীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

এবং বিপুল পরিমাণে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, যা তারা লাভ করবে। পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের ওয়াদা দিয়েছেন তোমরা বিপুল পরিমাণ গণিমতের মালের অধিকারী হবে। তিনি এটা তোমাদের জন্যে জল্দি করছেন এবং তোমাদের থেকে মানুষের হাত গুটিয়ে দিয়েছেন যেনো এটা হয় মুমিনদের জন্যে একটি নিদর্শন এবং তোমাদের পরিচালিত করেন সরল সঠিক পথে।

বাংলা উচ্চারণ

অ'আদাকুমু ল্লা-হু মাগ-নিমা কাছীরতান্ তাখুযূনাহা- ফা'আজ্ব ্জ্বালা লাকুম্ হা-যিহী অকাফ্ফা আইদিয়ান্না-সি 'আন্কুম্ অলিতাকূনা আ-ইয়াতাল্লিল্ মুমিনীনা অইয়াহ্দিয়াকুম্ ছির-ত্বোয়াম্ মুস্তাক্বীমা।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদেরকে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ওয়াদা দিয়েছেন, যা তোমরা লাভ করবে। তিনি তা তোমাদের জন্যে ত্বরান্বিত করবেন। তিনি তোমাদের থেকে শত্রুদের স্তব্দ করে দিয়েছেন - যাতে এটা মুমিনদের জন্যে এক নিদর্শন হয় এবং তোমাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

এছাড়া তোমাদের জন্যে রয়েছে আরো অনেক পুরস্কার যা এখনো তোমাদের আয়ত্তে আসেনি। সেগুলো পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। প্রতিটি বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

বাংলা উচ্চারণ

অউখ্র- লাম্ তাক্ব দিরূ 'আলাইহা-ক্বদ্ আহা-ত্বোয়াল্লা-হু বিহা- অকা-না ল্লা-হু 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বদীর-।

মুহিউদ্দীন খান

আর ও একটি বিজয় রয়েছে যা এখনও তোমাদের অধিকারে আসেনি, তা বেষ্টন করে আছেন। সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিররা যদি তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেই, তবে তারা পেছনে ফিরে পালাবে এবং তারা কোনো অলি (বন্ধু) এবং সাহায্যকারী পাবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও ক্ব-তালাকুমুল্ লাযীনা কাফারূ লাওয়াল্লাওয়ুল্ আদ্বা-র ছুম্মা লা-ইয়াজ্বিদূনা অলিয়্যাঁও অলা-নাছীর-।

মুহিউদ্দীন খান

যদি কাফেররা তোমাদের মোকাবেলা করত, তবে অবশ্যই তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করত। তখন তারা কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পেত না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটাই আল্লাহর সুন্নত (নিয়ম), প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। তুমি আল্লাহর সুন্নতে কোনো পরিবর্তন পাবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

সুন্নাতা ল্লা-হিল্ লাতী ক্বদ্ খলাত্ মিন্ ক্বব্লু অলান্ তাজ্বিদা লিসুন্নাতিল্লা-হি তাব্দীলা-।

মুহিউদ্দীন খান

এটাই আল্লাহর রীতি, যা পূর্ব থেকে চালু আছে। তুমি আল্লাহর রীতিতে কোন পরিবর্তন পাবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি মক্কা উপত্যকায় তাদের হাত তোমাদের থেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন এবং তোমাদের হাত গুটিয়ে রেখেছিলেন তাদের থেকে তাদের উপর তোমাদের বিজয়ী করার পর। তোমরা যা করো তার প্রতি দৃষ্টিবান।

বাংলা উচ্চারণ

অহুওয়াল্ লাযী কাফ্ফা আইদিয়াহুম্ 'আন্কুম্ ওয়া আইদিয়াকুম্ 'আন্হুম্ বিবাত্ব নি মাক্কাতা মিম্ বা'দি আন্ আজ্ফারকুম্ 'আলাইহিম্ অকা-না ল্লা-হু বিমা-তা'মালূনা বাছীর-।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি মক্কা শহরে তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে নিবারিত করেছেন তাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করার পর। তোমরা যা কিছু কর, তা দেখেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারাই তো কুফুরি করেছিল এবং তোমাদেরকে মসজিদুল হারামে যেতে বাধা দিয়েছিল এবং কুরবানির পশুগুলো যথাস্থানে পৌঁছাতেও। তোমাদেরকে যুদ্ধের আদেশ দেয়া হতো যদি পুরুষ ও নারীরা সেখানে না থাকতো। তোমরা তাদের জানোনা। তখন তোমরা অজ্ঞাতসারে তাদের পদদলিত করতে, ফলে তাদের জন্যে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে। যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হয়নি এ কারণে যে, তিনি যাকে ইচ্ছা নিজ অনুগ্রহ দান করবেন। যদি তারা পৃথক হতো তবে তাদের মধ্যকার কাফিরদের আমরা এক বেদনাদায়ক শাস্তি দিতাম।

বাংলা উচ্চারণ

হুমুল্লাযীনা কাফারূ অছোয়াদ্দূ কুম্ আ'নিল্ মাস্জ্বিদিল্ হারমি অল্ হাদ্ইয়া মা'কূফান্ আইঁ ইয়াব্লুগ মাহিল্লা-হ্ অলাওলা রিজ্বা-লুম্ মুমিনূনা অ নিসা-য়ুম্ মুমিনাতুল্ লাম্ তা'লামূহুম্ আন্ তাত্বোয়ায়ূহুম্ ফাতুছীবাকুম্ মিন্হুম্ মা'র্আরতুম্ বিগইরি 'ইল্মিন্ লিইয়ুদ্খিলাল্লা-হু ফী রহ্মাতিহী মাইঁ ইয়াশা-য়ু লাও তাযাইয়ালূ লা'আয্যাব্নাল্ লাযীনা কাফারূ মিন্হুম্ 'আযা-বান্ আলীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

তারাই তো করেছে এবং বাধা দিয়েছে তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে এবং অবস্থানরত কোরবানীর জন্তুদেরকে যথাস্থানে পৌছতে। যদি মক্কায় কিছুসংখ্যক পুরুষ ও নারী না থাকত, যাদেরকে তোমরা জানতে না। অর্থাৎ তাদের পিষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, অতঃপর তাদের কারণে তোমরা অজ্ঞাতসারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে, তবে সব কিছু চুকিয়ে দেয়া হত; কিন্তু এ কারণে চুকানো হয়নি, যাতে তা’আলা যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে দাখিল করে নেন। যদি তারা সরে যেত, তবে আমি অবশ্যই তাদের মধ্যে যারা তাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শস্তি দিতাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন কাফিররা তাদের অন্তরে দম্ভ পোষণ করতো জাহেলি যুগের দম্ভ, তখন তাঁর রসূল ও মুমিনদের প্রতি নাযিল করলেন নিজের থেকে প্রশান্তি, আর তাদের মজবুত করলেন তাকওয়ার বাক্যে। কারণ, তারাই ছিলো এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত। প্রতিটি বিষয়ে জ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ জ্বা'আলাল্ লাযীনা কাফারূ ফী কুলূ বিহিমুল্ হামিয়্যাতা হামিয়্যাতাল্ জ্বা-হিলিয়্যাতি ফাআন্যালা ল্লা-হু সাকীনাতাহূ 'আলা- রসূলিহী অ'আলাল্ মুমিনীনা অআল্যামাহুম্ কালিমাতাত্ তাক্ব ওয়া-অকা-নূ য় আহাক্ব ক্ব বিহা-অআহ্লাহা- অকা-না ল্লা-হু বিকুল্লি শাইয়িন্ 'আলীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

কেননা, কাফেররা তাদের অন্তরে মূর্খতাযুগের জেদ পোষণ করত। অতঃপর তাঁর রসূল ও মুমিনদের উপর স্বীয় প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদের জন্যে সংযমের দায়িত্ব অপরিহার্য করে দিলেন। বস্তুতঃ তারাই ছিল এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত। সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তাঁর রসূলের দেখা স্বপ্নটি যথাযথভাবে সত্যে পরিণত করেছেন। ইনশাল্লাহ ( চাইলে) তোমরা অবশ্যি মসজিদুল হারামে দাখিল হবে নিরাপদে মাথা কামিয়ে এবং চুল ছেঁটে। তোমরা কাউকেও ভয় পাবেনা। জানেন তোমরা যা জানো না। এছাড়াও তিনি তোমাদের দেবেন এক নিকটবর্তী বিজয়।

বাংলা উচ্চারণ

লাক্বদ্ ছোয়াদাক্বল্লা-হু রসূলার্হু রুইয়া-বিল্হাক্ব ক্বি লাতাদ্ খুলুন্নাল্ মাস্জ্বিদাল্ হার-মা ইন্ শা-য়াল্লা-হু আ-মিনীনা মুহাল্লিক্বীনা রুয়ূসাকুম্ অমুক্বছ্ছিরীনা লা-তাখ-ফূন্ ফা'আলিমা মা-লাম্ তা'লামূ ফাজ্বা'আলা মিন্ দূনি যা-লিকা ফাত্হান্ ক্বরীবা-।

মুহিউদ্দীন খান

তাঁর রসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। চাহেন তো তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে মস্তকমুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। তোমরা কাউকে ভয় করবে না। অতঃপর তিনি জানেন যা তোমরা জান না। এছাড়াও তিনি দিয়েছেন তোমাদেরকে একটি আসন্ন বিজয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাঁর রসূলকে পাঠিয়েছেন হিদায়াত এবং সত্য দীন নিয়ে, যাতে করে সে এটিকে বিজয়ী করে অন্য সব দীনের উপর। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট।

বাংলা উচ্চারণ

হুওয়াল্ লাযী য় র্আসালা রসূলাহূ বিল্হুদা-অদীনিল্ হা-ক্ব ক্বি লিইয়ুজ্হিরহূ 'আলাদ্দীনি কুল্লিহ্ অকাফা-বিল্লা-হি শাহীদা-।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই তাঁর রসূলকে হেদায়েত ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে একে অন্য সমস্ত ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। সত্য প্রতিষ্ঠাতারূপে যথেষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল, আর যারা তার সাথে রয়েছে, তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে একে অপরের প্রতি পরম দয়াবান। তুমি লক্ষ্য করছো, তারা রুকু ও সাজদায় অবনত হয়ে কামনা করছে আল্লাহর অনুগ্রহ এবং সন্তুষ্টি। তাদের লক্ষণ হলো, তাদের মুখমন্ডলে পরিস্ফুট দেখবে সাজদার প্রভাব। তাওরাতেও তাদের এ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে এবং ইনজিলেও তাদের এই বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের দৃষ্টান্ত হলো: একটি চারাগাছ। তা থেকে বের হয় কিশলয়, তারপর তা হয় শক্ত ও পুষ্ট, অত:পর সেটি দাঁড়ায় তার কান্ডের উপর মজবুত হয়ে, যা আনন্দিত করে তোলে চাষীকে। এভাবে মুমিনদের ক্রমবৃদ্ধিও সৃষ্টি করে কাফিরদের অন্তরজ্বালা। যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, তাদের ওয়াদা দিয়েছেন মাগফিরাতের (ক্ষমা করে দেয়ার) এবং এক মহাপুরস্কারের।

বাংলা উচ্চারণ

মুহাম্মার্দু রাসূলু ল্লা-হ্ অল্লাযীনা মা'আহূ য় আশিদ্দা-য়ু 'আলাল্ কুফ্ফা-রি রুহামা-য়ু বাইনাহুম্ তার-হুম্ রুক্কা'আন্ সুজ্জাদাঁই ইয়াব্তাগূনা ফাদ্ব্লাম্ মিনা ল্লা-হি অ রিদ্বওয়া-নান্ সীমা-হুম্ ফী উজু হিহিম্ মিন্ আছারিস্ সুজুদ্ যা-লিকা মাছালুহুম্ ফিত্ তাওর-তি অমাছালুহুম্ ফিল্ ইন্জ্বীল্ কার্যাই'ন্ আখ্রজ্বা শাত্ব য়াহূ ফা'আ-যারাহূ ফাস্তাগ্লাজোয়া ফাস্তাওয়া-'আলা সূক্বিহী ইয়ু'জ্বি য্ র্যুরা-'আ লিইয়াগীজোয়া বিহিমুল্ কুফ্ফা-র অ'আদাল্লা-হুল্ লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি মিন্হুম্ মাগ্ফিরাতাঁও অআজ্ব রান্ 'আজীমা-।

মুহিউদ্দীন খান

মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সেজদারত দেখবেন। তাদের মুখমন্ডলে রয়েছে সেজদার চিহ্ন । তওরাতে তাদের অবস্থা এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের অবস্থা যেমন একটি চারা গাছ যা থেকে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর তা শক্ত ও মজবুত হয় এবং কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে - চাষীকে আনন্দে অভিভুত করে - যাতে তাদের দ্বারা কাফেরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, তাদেরকে ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা দিয়েছেন।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme