আলিফ লাম মিম।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লা-ম্ মী-ম্।
আলিফ, লাম, মীম।
Chapter 31, 34 verses
আলিফ লাম মিম।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লা-ম্ মী-ম্।
আলিফ, লাম, মীম।
এগুলো কিতাবুল হাকিম - এর (বিজ্ঞানময় কিতাব আল কুরআনের) আয়াত।
তিল্কা আ-ইয়া-তুল্ কিতা-বিল্ হাকীম্।
এগুলো হচ্ছে জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থের আয়াতসমূহ, - -
এগুলো হিদায়াত এবং রহমত কল্যাণপরায়ণদের জন্যে,
হুদাঁও অরহ্মাতাল্ লিল্মুহ্সিনীন্।
এক পথনির্দেশ ও করুণা সৎকর্মশীলদের জন্য, - -
যারা কায়েম করে , প্রদান করে যাকাত এবং আখিরাতের প্রতি তারা রাখে একীন।
আল্লাযীনা ইয়ুক্বীমূনাছ্ ছলা-তা অ ইয়ুতূনায্ যাকা-তা অহুম্ বিল্ আ-খিরতি হুম্ ইয়ূক্বিনূন্।
যারা কায়েম করে, ও যাকাত আদায় করে, আর তারা আখেরাত সন্বন্ধে দৃঢ়বিশ্বাস রাখে।
তারাই রয়েছে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে হিদায়াতের উপর এবং তারাই হবে ।
উলা-য়িকা 'আলা-হুদাম্ র্মি রব্বিহিম অউলা-য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।
এরাই হচ্ছে তাদের প্রভুর কাছ থেকে হেদায়তের উপরে আর এরা নিজেরাই হচ্ছে ।
কোনো কোনো ব্যক্তি এলেম ছাড়াই মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করার উদ্দেশ্যে অসার কাহিনী কিনে আনে এবং আল্লাহর পথ সম্পর্কে বিদ্রুপ করে। এদের জন্যে রয়েছে অপমানকর আযাব।
অমিনান্না-সি মাইঁ ইয়াশ্তারী লাহ্ওয়াল্ হাদীছি লিইয়ুদ্বিল্লা 'আন্ সাবীলিল্লা-হি বিগইরি 'ইল্মিওঁ অইয়াত্তাখিযাহা- হুযুওয়া- উলা-য়িকা লাহুম্ 'আযা-বুম্ মুহীন্।
আর লোকদের মধ্যে কেউ - কেউ আছে যে খোশগল্পের বেচা - কেনা করে যেন সে র পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে কোনো জ্ঞান না রেখেই, আর যেন সে এগুলোকে ঠাট্টাবিদ্রূপ আকারে গ্রহণ করে। এরাই - - এদেরই জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
যখন তার কাছে আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, সে হঠকারিতা প্রদর্শন করে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেনো সে তা শুনতেই পায়নি। তার কান দুটিও যেনো বধির। এ ব্যক্তিকে সংবাদ দাও বেদনাদায়ক আযাবের।
অইযা-তুত্লা 'আলাইহি আ-ইয়াতুনা-অল্লা-মুস্তাক্বিরন্ কাআ ল্লাম্ ইয়াস্মা'হা-কাআন্না ফী য় উযুনাইহি অক্ব্ রান্ ফাবার্শ্শিহু বি'আযা-বিন্ আলীম্।
আর তার কাছে যখন আমাদের নির্দেশাবলী পাঠ করা হয় তখন সে গর্বভরে ফিরে যায় যেন সে এসব শুনতে পায় নি, যেন তার কান দুটোয় ভারী বস্তু রয়েছে। অতএব তাকে মর্মন্তুদ শাস্তির খোশখবর দাও।
যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাতুন নায়ীম।
ইন্নাল্ লাযীনা আ-মানূ অ 'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি লাহুম্ জ্বান্না-তুন্ না'ঈম্।
নিঃসন্দেহ যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে তাদের জন্য রয়েছে আনন্দময় উদ্যানসমূহ - -
সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তিনি মহাশক্তিধর, মহাপ্রজ্ঞাবান।
খ-লিদ্বীনা ফীহা- ওয়া'দাল্লা-হি হাক্ব্ক্ব- অহুওয়াল্ 'আযীযুল্ হাকীম্।
সেখানে তারা স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। এ র একান্ত সত্য ওয়াদা। আর তিনিই হচ্ছেন মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।
তিনি মহাকাশ সৃষ্টি করেছেন খুঁটি ছাড়াই, তাতো তোমরা দেখতেই পাচ্ছো। আর পৃথিবীতে তিনি স্থাপন করে দিয়েছেন পাহাড় পর্বত, যাতে করে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে ঢলে না পড়ে। তাছাড়া পৃথিবীতে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন সব ধরনের জীব জানোয়ার। এছাড়া আমরা আসমান থেকে নাযিল করি পানি আর তা দিয়ে আমরা উৎপন্ন করি সব ধরনের উপকারী উদ্ভিদ।
খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি বিগইরি 'আমাদিন্ তারওনাহা-অআল্ক্ব-ফিল্ র্আদ্বি রওয়া-সিয়া আন্ তামীদা বিকুম্ অবাছ্ছা-ফীহা-মিন্ কুল্লি দা-ব্বাহ্ অআন্যাল্না- মিনাস্ সামা-য়ি মা-য়ান্ ফাআম্বাত্না-ফীহা-মিন্ কুল্লি যাওজ্বিন্ কারীম্।
তিনি মহাকাশমন্ডলীকে সৃষ্টি করেছেন কোনো খুঁটি ছাড়াই, - - তোমরা তা দেখতেই পাচ্ছ, আর তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা পাছে এটি তোমাদের নিয়ে ঢলে পড়ে, আর এতে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন হরেক রকমের জীবজন্তু। আর আকাশ থেকে তিনি বর্ষণ করেন পানি, তারপর তিনি এতে উৎপাদন করেন সব রকমের হিতকর জোড়া।
এ হলো আল্লাহর সৃষ্টি। এখন আমাকে দেখাও, ছাড়া যাদেরকে তোমরা ইলাহ্ মানো, তারা কী সৃষ্টি করেছে? বরং যালিমরা রয়েছে সুস্পষ্ট বিপথগামিতায়।
হা-যা- খল্ক্ব ল্লা-হি ফাআরূনী মা-যা-খলাক্বল্লাযীনা মিন্ দূনিহ্ বালিজ্ জোয়া-লিমূনা ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।
এইসব র সৃষ্টি! সুতরাং আমাকে দেখাও তো কী সৃষ্টি করতে পেরেছে তিনি ব্যতীত অন্যেরা। বস্তুত অন্যায়কারীরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।
আমরা লুকমানকে দান করেছিলাম হিকমাহ (প্রজ্ঞা) এবং তাকে বলেছিলাম: শোকর আদায় করো আল্লাহর। যে কেউ শোকর আদায় করে, সে তো শোকর আদায় করে নিজের কল্যাণের জন্যেই। আর যে কেউ অকৃতজ্ঞ হয়, তার জেনে রাখা উচিত মুখাপেক্ষাহীন সপ্রশংসিত।
অলাক্বদ্ আ-তাইনা-লুকমা-নাল্ হিক্মাতা আনিশ র্কু লিল্লা-হ্ অমাইঁইয়ার্শ্কু ফাইন্নামা ইয়াশ্কুরু লিনাফ্সিহী অ মান্ কাফারা ফাইন্না ল্লা-হা গনিয়্যুন্ হামীদ্।
আর ইতিপূর্বে আমরা লুকমানকে জ্ঞান দান করেছিলাম এই বলে - - ''র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। আর যে, কেউ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে তো কৃতজ্ঞতা দেখায় নিজেরই জন্যে, আর যে - কেউ অকৃতজ্ঞতা দেখায় তো তবে স্বয়ংসমৃদ্ধ, পরম প্রশংসিত।’’
স্মরণ করো, লুকমান তার ছেলেকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিল: ‘‘হে আমার পুত্র! শিরক করোনা আল্লাহর সাথে। কারণ, শিরক তো একটা বিরাট যুলুম।’’
অইয্ ক্ব-লা লুককমা-নু লিব্নিহী অ হুওয়া ইয়া'ইজুহূ ইয়া-বুনাইয়্যা লা-তুশ্রিক্ বিল্লা-হ ইন্নাশ্ র্শিকা লাজুল্মুন্ 'আজীম্।
আর স্মরণ করো! লুকমান তাঁর ছেলেকে বললেন যখন তিনি তাকে উপদেশ দিচ্ছিলেন - - ''হে আমার পুত্র, র সঙ্গে তুমি শরিক করো না, নিঃসন্দেহ বহুখোদাবাদ তো গুরুতর অপরাধ।’’
আমরা মানুষকে অসিয়ত (নির্দেশ) করেছি তার বাবা - মার সাথে উত্তম আচরণ করতে। কারণ, তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট স্বীকার করে গর্ভে ধারণ করে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। সুতরাং শোকরগুজার হও আমার প্রতি, আর তোমার বাবা - মার প্রতি। তোমাদের ফিরে আসতে তো হবে আমারই কাছে।
অঅছ্ ছোয়াইনাল্ ইন্সা-না বিওয়া- লিদাইহি হামালাত্হু উম্মুহূ অহ্নান্ 'আলা-অহ্নিঁও অফিছোয়া-লুহূ ফী 'আ-মাইনি আনিশ্ র্কুলী অলি ওয়া-লি দাইক্ ইলাইয়্যাল্ মার্ছী।
আর আমরা মানুষকে তার পিতামাতার সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছি - - তার মাতা তাকে গর্ভে ধারণ করেছিলে কষ্টের উপরে কষ্ট ক’রে, আর তার লালন - পালনে দুটি বছর, - - এই বলে - - ''আমার প্রতি ও তোমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো। আমারই নিকটে প্রত্যাবর্তনস্থান।
তোমার বাবা - মা যদি তোমাকে আমার সাথে শরিক করতে পীড়াপীড়ি করে, যে ব্যাপারে তোমার কোনো এলেম নেই, সেক্ষেত্রে তুমি তাদের আনুগত্য করোনা। তবে তাদের সাথে বসবাস করো সুন্দরভাবে, আর ইত্তেবা (অনুসরণ) করো তার পথের, যে আমার অভিমুখী হয়। তারপর তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে তো আমারই কাছে, অত:পর আমি তোমাদের সংবাদ দেবো তোমরা যা আমল করতে।
অইন্ জ্বা-হাদা-কা 'আলা য় আন্ তুশ্রিকা বীমা-লাইসা লাকা বিহী 'ইল্মুন্ ফালা-তুত্বি'হুমা- অছোয়া-হিব্হুমা- ফিদ্দুন্ইয়া-মা'রূফাঁও অত্তাবি' সাবীলা মান্ আনাবা ইলাইয়্যা ছুম্মা ইলাইয়্যা র্মাজ্বি'উকুম্ ফাউনাব্বিয়ুকুম্ বিমা-কুন্তুম্ তা'মালূন্।
''কিন্তু যদি তারা তোমার সঙ্গে পীড়া - পীড়ি করে যেন তুমি আমার সাথে অংশী দাঁড় করাও যে সন্বন্ধে তোমার কাছে কোনো জ্ঞান নেই, তাহলে তাদের উভয়ের আজ্ঞাপালন করো না, তবে তাদের সঙ্গে এই দুনিয়াতে সদ্ভাবে বসবাস করো। আর তার পথ অবলন্বন করো যে আমার প্রতি বিনয়াবনত হয়েছে, অতঃপর আমারই কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তনস্থান, তখন আমি তোমাদের জানিয়ে দেব যা তোমরা করে যাচ্ছিলে।’’
(লুকমান আরো বলেছিল:) ‘‘হে আমার পুত্র! কোনো ক্ষুদ্র বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় আর তা যদি থাকে কোনো পাথর খন্ডের ভেতরে, কিংবা যদি থাকে মহাকাশে, অথবা যদি থাকে ভূ - গর্ভে, তাও এনে হাজির করবেন। নিশ্চয়ই অতীব সূক্ষ্মদর্শী, গভীরভাবে অবহিত।
ইয়া-বুনাইয়্যা ইন্নাহা য় ইন্ তাকু মিছ্ক্ব-লা হাব্বাতিম্ মিন্ র্খদালিন্ ফাতাকুন্ ফী ছোয়াখ্রতিন্ আও ফিস্ সামা-ওয়া-তি আও ফিল্ র্আদ্বি ইয়াতি বিহাল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা লাত্বীফুন্ খর্বী।
''হে আমার পুত্র, এটি নিশ্চিত যে যদি সরষের একটি দানার ওজন - পরিমাণও কোনো কিছু রয়ে থাকে আর এটি যদি থাকে কোনো শিলাগর্ভে অথবা মহাকাশমন্ডলের মধ্যে কিংবা পৃথিবীর অভ্যন্তরে, এটিকে নিয়ে আসবেন। নিঃসন্দেহ গুপ্ত বিষয়ে জ্ঞাতা, পূর্ণ ওয়াকিফহাল।
হে আমার পুত্র! কায়েম করবে , আদেশ করবে ভালো কাজের, নিষেধ করবে মন্দ কাজ করতে এবং ধৈর্য ধারণ করবে বিপদ - মসিবতে। নিশ্চয়ই এটা মজবুত সংকল্পের কাজ।
ইয়া-বুনাইয়্যা আক্বিমিছ্ ছলা-তা অর্মু বিল্ মা'রূফি ওয়ান্হা 'আনিল্ মুন্কারি অর্ছ্বি 'আলা-মা য় আছোয়া-বাক্ইন্না যা-লিকা মিন্ 'আয্মিল্ উর্মূ।
''হে আমার পুত্র, কায়েম করো, আর সৎকাজের নির্দেশ দিয়ো ও অসৎকাজে নিষেধ করো, আর তোমার উপরে যাই ঘটুক তা সত্ত্বেও অধ্যবসায় চালিয়ে যাও। নিঃসন্দেহ এটিই হচ্ছে দৃঢ়সংকল্পজনক কার্যাবলীর মধ্যেকার।
দম্ভ করে মানুষকে অবজ্ঞা করবেনা, জমিনে ঔদ্ধত্যের সাথে চলাফেরা করবেনা, কারণ উদ্ধত দাম্ভিকদের পছন্দ করেননা।
অলা-তুছোয়া'র্ই খদ্দাকা লিন্না-সি অলা-তাম্শি ফিল্ র্আদ্বি মারহা- ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ুহিব্বু কুল্লা মুখ্তা-লিন্ ফার্খূ।
''আর মানুষের প্রতি তোমার চিবুক ঘুরিয়ে নিও না, আর পৃথিবীতে গর্বভরে চলাফেরা কর না। নিঃসন্দেহ প্রত্যেকটি উদ্ধত অহংকারীকে ভালবাসেন না।
চলাফেরায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে এবং তোমার কণ্ঠস্বর রাখবে সংযত। নিশ্চয়ই সবচাইতে অস্বস্তিকর আওয়ায হলো গাধার ধ্বনি।’’
অক্ব্ ছিদ্ ফী মাশ্য়িকা অগ্দ্বুদ্ব্ মিন্ ছোয়াওতিক্ ইন্না আন্কারল্ আছ্ওয়া-তি লাছোয়াওতুল্ হার্মী।
''বরং তোমার চলাফেরায় তুমি সুসংযত থেকো, আর তোমার কন্ঠস্বর তুমি নিচু রেখো। নিঃসন্দেহ সমস্ত আওয়াজের মধ্যে সর্বাপেক্ষা কর্কশ হচ্ছে গাধারই আওয়াজ।’’
তোমরা কি দেখছো না, তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করে রেখেছেন মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই এবং তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করেছেন তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব নিয়ামত। কিছু লোক এলেম ছাড়াই আল্লাহর ব্যাপারে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাদের না আছে সঠিকজ্ঞান, আর না আছে দেদীপ্যমান কিতাব।
আলাম্ তারাও আন্নাল্লা-হা সাখ্খর লাকুম্ মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ র্আদ্বি অআস্বাগ 'আলাইকুম্ নি'আমাহূ জোয়া-হিরতাঁও অবা-ত্বিনাহ্ অমিনান্ না-সি মাইঁ ইয়ুজ্বা-দিলু ফিল্লা-হি বিগইরি 'ইল্মিঁও অলা-হুদাঁও অলা-কিতা-বিম্ মূর্নী।
তোমরা কি দেখতে পাও নি যে তোমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন যা কিছু রয়েছে মহাকাশমন্ডলীতে ও যা কিছু আছে পৃথিবীতে, আর তোমাদের প্রতি তিনি পূর্ণমাত্রায় অর্পণ করেছেন তাঁর অনুগ্রহসামগ্রী - - প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য? আর লোকেদের মধ্যে এমনও আছে যে সন্বন্ধে বাক্ - বিতন্ডা করে কোনো জ্ঞান ছাড়াই ও কোনো পথনির্দেশ ব্যতীত এবং উজ্জ্বল গ্রন্থ ব্যতিরেকে।
তাদের যখন বলা হয়: ‘তোমরা ইত্তেবা করো যা অবতীর্ণ করেছে সেটার,’ তখন তারা বলে: ‘আমরা বরং ইত্তেবা করবো সেটার, যার উপর পেয়েছি আমাদের পূর্বপুরুষদের।’ শয়তান যদি তাদের জ্বলন্ত আগুনের আযাবের দিকে ডাকে তবু কি (তারা তাই করবে)?
অইযা-ক্বীলা লাহুমুত্তাবি'ঊ মা য় আন্যালাল্লা-হু ক্ব-লূ বাল্ নাত্তাবি'উ মা-অজ্বাদ্না- 'আলাইহি আ-বা-য়ানা- আওয়ালাও কা-নাশ্ শাইত্বোয়া-নু ইয়াদ্'ঊ হুম্ ইলা- 'আযা-বিস্ সা'র্ঈ।
আর যখন তাদের বলা হয় - - '' যা অবতারণ করেছেন তা অনুসরণ করো’’, তারা বলে - - ''না, আমরা অনুসরণ করব আমাদের বাপদাদাদের যাতে পেয়েছি তার।’’ কি, যদিও শয়তান তাদের ডেকে নিয়ে যায় জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে?
যে কেউ আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করে এবং কল্যাণপরায়ণ হয়, সে তো আঁকড়ে ধরে এক মজবুত হাতল। সব কাজের পরিণাম আল্লাহর এখতিয়ারে।
অমাইঁ ইয়ুস্লিম্ অজ্ব্ হাহূ য় ইলাল্লা-হি অহুওয়া মুহ্সিনুন্ ফাক্বদিস্ তাম্সাকা বিল্'উরওয়াতিল্ উছ্ক্ব- অইলাল্লা-হি 'আ-ক্বিবাতুল্ উর্মূ।
আর যে তার মুখ র প্রতি পূর্ণ সমর্পণ করে আর সে সৎকর্মপরায়ণ হয়, তাহলে তো সে এক মজবুত হাতল পাকড়ে ধরেছে। আর র কাছেই রয়েছে সকল বিষয়ের পরিণাম।
আর যে কেউ কুফুরি করে, তার কুফুরি যেনো তোমাকে চিন্তিত না করে। তাদের প্রত্যাবর্তন তো হবে আমারই কাছে। তখন আমরা তাদের অবহিত করবো তারা কী আমল করছিল? নিশ্চয়ই অবগত আছেন অন্তরের খবর।
অমান্ কাফার ফালা-ইয়াহ্যুন্কা কুফ্রুহ্ ইলাইনা-র্মাজ্বি'ঊহুম্ ফানুনাব্বিয়ুহুম্ বিমা- 'আমিলূ ইন্নাল্লা-হা 'আলীমুম্ বিযা-তিছ্ ছুর্দূ।
আর যে অবিশ্বাস পোষণ করে তার অবিশ্বাস তবে যেন তোমাকে কষ্ট না দেয়। আমাদেরই কাছে তাদের প্রত্যাবর্তন, কাজেই আমরা তাদের জানিয়ে দেব যা তারা করত। নিঃসন্দেহ অন্তরের অভ্যন্তরে যা রয়েছে সে সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।
আমরা কিছুকাল তাদের সুযোগ দেবো ভোগবিলাসের, তারপর আমরা তাদের বাধ্য করবো ভোগ করতে কঠোর আযাব।
নুমাত্তি'উহুম্ ক্বলীলান্ ছুম্মা নাদ্ব্ত্বোর্য়ারু হুম্ ইলা-'আযা-বিন্ গলীজ্।
আমরা তাদের অল্পসময়ের জন্য উপভোগ করতে দেব, তাদের তাড়িয়ে নেব প্রচন্ড শাস্তির দিকে।
তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস করো, মহাকাশ ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? জবাবে তারা অবশ্যি বলবে: ‘।’ বলো: ‘আলহামদুলিল্লাহ্’। বরং তাদের অধিকাংশই জানেনা।
অলায়িন্ সায়াল্তাহুম্ মান্ খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া লাইয়াক্বলুন্না ল্লা-হ্ ক্বলিল্ হাম্দু লিল্লা-হ্ বাল্ আক্ছারুহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।
আর তুমি যদি তাদের জিজ্ঞাসা করো - - ''কে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন?’’ - - তারা নিশ্চয় বলবে - - ''।’’ তুমি বলো - - ''সকল প্রশংসা র।’’ কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। নিশ্চয়ই মুখাপেক্ষাহীন, সপ্রশংসিত।
লিল্লা-হি মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ ইন্নাল্লা-হা হুওয়াল্ গনিয়্যুল্ হামীদ্।
মহাকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে যা - কিছু আছে তা রই। নিঃসন্দেহ , - - তিনিই স্বয়ং - সমৃদ্ধ, পরম প্রশংসার্হ।
পৃথিবীর সমস্ত গাছ যদি কলম হয়, আর সমস্ত সমুদ্র যদি হয় কালি এবং এর সাথে যদি আরো যুক্ত করা হয় সাত সমুদ্র, তবু আল্লাহর (প্রশংসার) বাণী লিখে শেষ করা যাবেনা। নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী, বিজ্ঞানময়।
অলাও আন্না মা-ফিল্ র্আদ্বি মিন্ শাজ্বারতিন্ আক্ব্ লা-মুঁও অল্ বাহ্রু ইয়ামুদ্দ ুহূ মিম্ বা'দিহী সাব্'আতু আব্হুরিম মা-নাফিদাত্ কালিমা-তুল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা 'আযীযুন্ হাকীম্।
আর যদি গাছপালার যা - কিছু পৃথিবীতে আছে তা কলম হয়ে যেত, আর সমুদ্র - - এর পরে সাত সমুদ্র এর সাথে যোগ করে দেওয়া হত, র কলিমাহ শেষ করা যাবে না। নিঃসন্দেহ মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।
তোমাদের সবার সৃষ্টি এবং পুনরুত্থান এক ব্যক্তির সৃষ্টি আর পুনরুত্থানেরই মতো। নিশ্চয়ই সব শুনেন, সব দেখেন।
মা- খল্ক্ব কুম্ অলা-বা'ছুকুম্ ইল্লা-কানাফ্সিওঁ ওয়া -হিদাহ্ ইন্নাল্লা -হা সামী উ'ম্ বার্ছী
তোমাদের সৃষ্টি এবং তোমাদের পুনরুত্থান একজনমাত্র লোকের অনুরূপ বৈ তো নয়। নিঃসন্দেহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
তুমি কি দেখোনা, রাতকে দিনের এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন এবং তিনি সূর্য আর চাঁদকে তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করে রেখেছেন? প্রত্যেকেই চলছে একটি নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত। আর তোমরা যা আমল করো, তা খবর রাখেন।
আলাম্তার আন্নাল্লা-হা ইয়ূলিজ্ব ল্ লাইলা ফিন্নাহা-রি অ ইয়ূলিজ্ব ন্ নাহা-রা ফিল্লাইলি অ সাখ্খরশ্ শাম্সা অল্ ক্বমার কুল্লুঁই ইয়াজ্ব রী য় ইলা য় আজ্বালিম্ মুসাম্মাঁও অআন্নাল্লা-হা-বিমা-তা'মালূনা খর্বী।
তুমি কি দেখ নি যে তিনি রাতকে দিনের ভেতরে ঢুকিয়ে দেন এবং দিনকে ঢুকিয়ে দেন রাতের ভেতরে, এবং সূর্য ও চন্দ্রকে তিনি অনুগত করেছেন, প্রত্যেকটিই এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত বিচরণ করে, আর তোমরা যা কর সে - সন্বন্ধে নিশ্চয়ই পূর্ণ ওয়াকিফহাল?
এগুলো (প্রমাণ করে যে) মহাসত্য এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকে তারা মিথ্যা। নিশ্চয়ই অতীব উঁচু, অতীব মহান।
যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা হুওয়াল্ হাক্ব্ক্ব অআন্না মা-ইয়াদ্'ঊনা মিন্ দূনিহিল্ বা-ত্বিলু অআন্নাল্লা-হা হুওয়াল্ 'আলিয়্যুল্ কার্বী।
এটিই, কেননা নিঃসন্দেহ - - তিনিই চরম সত্য, আর কেননা তাঁকে বাদ দিয়ে তারা যাকে ডাকে তা মিথ্যা, আর কেননা , - - তিনিই সমুচ্চ, মহামহিম।
তোমরা কি দেখোনা, আল্লাহর অনুগ্রহে নৌযানগুলো জারি হয় সমুদ্রে। এর মাধ্যমে তোমাদের দেখাতে চান তাঁর কিছু নিদর্শন। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে নিদর্শন প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে।
আলাম্ তার আন্নাল্ ফুল্কা তাজ্ব রী ফিল্ বাহ্রি বিনি'মাতিল্লা-হি লিইয়ুরিয়াকুম্ মিন্ আ-ইয়া-তিহ্ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিকুল্লি ছোয়াব্বা-রিন্ শার্কূ।
তুমি কি দেখছ না যে জাহাজগুলো সমুদ্রে ভেসে চলে রই অনুগ্রহে, যেন তিনি তোমাদের দেখাতে পারেন তাঁর নিদর্শনগুলো থেকে? নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে প্রত্যেক অধ্যবসায়ী কৃতজ্ঞদের জন্য।
যখন মেঘমালার মতো (বিক্ষুব্ধ) তরঙ্গ সেগুলোকে আচ্ছন্ন করে নেয়, তখন তারা আল্লাহর জন্যে আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে তাঁকে ডাকতে থাকে। আর যখনই তিনি তাদের নাজাত দেন কূলে পৌঁছে দিয়ে, তখন তাদের কিছু লোক (ঈমান ও কুফরের) মধ্য পথ অবলম্বন করে। কেবল বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞরাই অস্বীকার করে আমাদের আয়াত।
অ ইযা-গশিয়াহুম্ মাওজ্ব ন্ কাজ্জুলালি দা'আয়ুল্লা-হা মুখ্লিছীনা লাহুদ্দীনা ফালাম্মা- নাজ্জ্বা-হুম্ ইলাল্ র্বারি ফামিন্হুম্ মুক্ব তাছিদ্ অমা-ইয়াজ্ব হাদু বিআ-ইয়া-তিনা য় ইল্লা-কুল্ল খাত্তা-রিন্ কার্ফূ।
আর যখন কোনো ঢেউ তাদের ঢেকে ফেলে ঢাকনার ন্যায় তখন তারা কে ডাকে তাঁর প্রতি আনুগত্যে বিশুদ্ধাচিত্ত হয়ে। কিন্তু যখন তিনি তাদের উদ্ধার করেন তীরের দিকে, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ মধ্যম পন্থায় থাকে। আর আমাদের নিদর্শনাবলী নিয়ে কেউ বচসা করে না প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞ ব্যতীত।
হে মানুষ! তোমরা ভয় করো তোমাদের প্রভুকে। আরো ভয় করো সেই দিনটিকে, যেদিন বাপ সন্তানের কোনো উপকারে আসবেনা, আর সন্তানও কোনো উপকারে আসবেনা তার বাপের। আল্লাহর ওয়াদা অবশ্যি সত্য। সুতরাং দুনিয়ার হায়াত যেনো তোমাদের প্রতারিত না করে এবং তোমাদেরকে কিছুতেই যেনো আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারিত না করে মহাপ্রতারক (শয়তান)।
ইয়া য় আইঁইয়্যুহান্ না-সুত্তাক্ব রব্বাকুম্ অখ্শাও ইয়াওমাল্ লা-ইয়াজ্ব্ যী ওয়া-লিদুন্ আঁও অলাদিহী অলা-মাওলূদুন্ হুয়া জ্বা-যিন্ আঁও ওয়া-লিদিহী শাইয়া- ইন্না ওয়া'দাল্লা-হি হাক্ব ক্ব ফালা- তার্গুরন্নাকুমুল্ হাইয়া-তুদ্ দুন্ইয়া-অলা-ইয়ার্গুরন্নাকুম্ বিল্লা-হিল্ গর্রূ।
ওহে মানবজাতি! তোমাদের প্রভুকে ভয় - ভক্তি করো, আর সেই দিনকে ভয় করো যখন কোনো পিতা তার সন্তানের কোনো কাজে আসবে না, আর না কোনো সন্তানের ক্ষেত্রেও যে সে কোনোও ব্যাপারে কার্যকর হবে তার পিতামাতার জন্যে। নিঃসন্দেহ র ওয়াদা চিরন্তন সত্য, সেজন্যে এই দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদের প্রবঞ্চনা না করুক।
অবশ্যি কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে কেবল আল্লাহর কাছে। তিনিই নাযিল করেন বৃষ্টি। তিনিই জানেন মাতৃগর্ভে কী (ধরনের সন্তান) আছে? কোনো ব্যক্তিই জানেনা আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কোনো ব্যক্তি জানেনা কোন্ স্থানে হবে তার মরণ। নিশ্চয়ই জ্ঞানী এবং সব বিষয়ে অবহিত।
ইন্নাল্লা-হা 'ইন্দাহূ 'ইল্মুস্ সা-'আতি অইয়ুনায্যিলুল্ গইছা অ ইয়া'লামূ মা-ফিল্ র্আহা-ম্ অমা-তাদ্রী নাফ্সুম্ মা-যা তাক্সিবু গদাহ্ অমা-তাদ্রী নাফ্সুম্ বিআইয়ি র্আদ্বিন্ তামূত্ ইন্নাল্লা-হা 'আলীমুন্ খর্বী।
নিঃসন্দেহ - - তাঁর কাছেই রয়েছে ঘড়িঘন্টার জ্ঞান, আর তিনি বর্ষণ করেন বৃষ্টি, আর তিনি জানেন কি আছে জরায়ুর ভেতরে। আর কোনো সত্ত্বা জানে না কী সে অর্জন করবে আগামীকাল। আর কোনো সত্ত্বা জানে না কোন দেশে সে মারা যাবে। নিঃসন্দেহ সর্বজ্ঞাতা, পূর্ণ - ওয়াকিফহাল।