Kitab

আন নামল (পিঁপড়া)

Chapter 27, 93 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • বাংলা উচ্চারণ
  • সমকালীন বাংলা
About this chapter


মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ২২৭, রুকু সংখ্যা: ১১

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-০৬কুরআন কাদের দিশারি, আর কাদের দিশারি নয়? ০৭-১৪মূসা আ.-কে নবুয়্যত ও মুজিযা প্রদান। ফিরাউন কর্তৃক আল্লাহর নিদর্শন প্রত্যাখ্যান। ১৫-৪৪সুলাইমান আ.-কে আল্লাহ্ সমৃদ্ধ সাম্রাজ্য দিয়েছিলেন। সুলাইমান আ. কর্তৃক সাবার রাণীকে দাওয়াত দানের ইতিহাস। ৪৫-৫৩সামুদ জাতির কাছে সালেহ্ আ.-এর দাওয়াত দানের ইতিহাস। সালেহ্ আ. এর বিরুদ্ধে তাদের জঘন্য ষড়যন্ত্র ও তাদের ধ্বংস। ৫৪-৫৯লুত আ. কর্তৃক তাঁর জাতিকে সংশোধনের চেষ্টা। তাদের প্রত্যাখ্যান ও ধ্বংস। ৬০-৮২নবীদের প্রতি সালাম। তাওহীদের যুক্তি এবং শিরক খন্ডণ। দাব্বাতুল আরদ প্রকাশিত হবে। ৮৩-৯৩হাশর ও বিচার। ভালো আমলকারীদের পরিণতি এবং মন্দ আমলকারীদের পরিণতি। আল্লাহর দাসত্ব, আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ এবং কুরআনের অনুসরণই মুক্তির পথ।
আবদুস শহীদ নাসিম

তোয়া সিন। এগুলো আয়াত আল কুরআন ও সুস্পষ্ট কিতাবের,

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ত্বোয়া-সী-ন্ তিলকা আ-ইয়া-তুল্ ক্বর্আ-নি অকিতা-বিম্ মুবীন্।

সমকালীন বাংলা

পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; তা - সীন; এইগুলি আয়াত আল - কুরআনের এবং সুস্পষ্ট কিতাবের;পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে;

আবদুস শহীদ নাসিম

হিদায়াত ও সুসংবাদ সেইসব মুমিনদের জন্যে,

বাংলা উচ্চারণ

হুদাঁও অবুশ্রা লিল্ মুমিনীন্।

সমকালীন বাংলা

পথনির্দেশ ও সুসংবাদ মু’মিনদের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কায়েম করে , প্রদান করে যাকাত এবং তারা আখিরাতের প্রতি রাখে একীন।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা ইয়ুক্বীমূনাছ্ ছ্লা-তা অ ইয়ুতূনায্ যাকা-তা অহুম বিল্আ-খিরতি হুম্ ইয়ূক্বিনূন্।

সমকালীন বাংলা

যাহারা কায়েম করে ও যাকাত দেয় আর তাহারাই আখিরাতে নিশ্চিত ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা ঈমান রাখেনা আখিরাতের প্রতি, আমরা তাদের চোখে তাদের কর্মকান্ডকে চাকচিক্যময় করে দিয়েছি, ফলে তারা বিভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ায়।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযীনা লা-ইয়ুমিনূনা বিল্আ-খিরতি যাইয়্যান্না-লাহুম্ আ'মা-লাহুম্ ফাহুম্ ইয়া'মাহূন্।

সমকালীন বাংলা

যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহাদের দৃষ্টিতে তাহাদের কর্মকে আমি শোভন করিয়াছি, ফলে উহারা বিভ্রান্তিতে ঘুরিয়া বেড়ায়;

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা সেইসব লোক যাদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট ধরনের আযাব, আর আখিরাতে তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত।

বাংলা উচ্চারণ

উলা-য়িকাল্ লাযীনা লাহুম্ সূ-য়ুল্ 'আযা-বি অহুম্ ফিল্ আ-খিরতি হুমুল্ আখ্সারূন্।

সমকালীন বাংলা

ইহাদেরই জন্য রহিয়াছে কঠিন শাস্তি এবং ইহারাই আখিরাতে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাকে এই কুরআন দেয়া হচ্ছে প্রজ্ঞাবান সর্বজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে।

বাংলা উচ্চারণ

অইন্নাকা লাতুলাকক্বল্ ক্বরআ-না মিল্লাদুন্ হাক্বীমিন্ 'আলীম্।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই তোমাকে আল - কুরআন দেওয়া হইতেছে প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞের নিকট হইতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, মূসা তার পরিবারবর্গকে বলেছিল: ‘আমি আগুন দেখেছি। শীঘ্রি আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্যে কোনো খবর নিয়ে আসবো, অথবা নিয়ে আসবো সেখান থেকে জ্বলন্ত অঙ্গার, যেনো তোমরা আগুন পোহাতে পারো।

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ ক্ব-লা মূসা- লিআহ্লিহী য় ইন্নী য় আ-নাস্তু না-র- সাআ-তীকুম্ মিন্হা-বিখাবারিন্ আও আ-তীকুম্ বিশিহা-বিন্ ক্ববাসিল্ লা'আল্লাকুম্ তাছ্ত্বোয়ালূন্।

সমকালীন বাংলা

স্মরণ কর সেই সময়ের কথা, যখন মূসা তাহার পরিবারবর্গকে বলিয়াছিল, ‘আমি আগুন দেখিয়াছি, সত্বর আমি সেখান হইতে তোমাদের জন্য কোন খবর আনিব অথবা তোমাদের জন্য আনিব জ্বলন্ত অঙ্গার, যাহাতে তোমরা আগুন পোহাইতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা সেখানে আসতেই ঘোষণা দেয়া হলো: ‘কল্যাণের অধিকারী করে দেয়া হলো যারা আছে এই আগুনের মধ্যে এবং এর চারপাশে, আর রাব্বুল আলামিন পবিত্র ও মহান।’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-জ্বা-য়াহা-নূদিয়া আম্ বুরিকা মান্ ফিন্না-রি অমান্ হাওলাহা-অসুব্হা-নাল্লা-হি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর সে যখন উহার নিকট আসিল, তখন ঘোষিত হইল ‘ধন্য, যনিি আগুনরে স্থানে আছনে এবং যারা আগুনরে আশপোশে আছনে। বশ্বি জাহানরে পালনর্কতা পবত্রি ও মহমিান্বতি।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মূসা! নিশ্চয়ই আমি , আযিযুল হাকিম (মহাশক্তিধর, প্রজ্ঞাময়)।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া-মূসা য় ইন্নাহূ য় আনাল্লা-হুল্ 'আযীযুল্ হাকীম্।

সমকালীন বাংলা

হে মূসা, আমি , প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো। তারপর সে যখন দেখলো সেটি সাপের মতো ছুটাছুটি করছে, সে পেছনে ফিরে দৌড়াতে থাকলো এবং ফিরেও তাকালোনা। তখন তাকে ডেকে বলা হলো: ‘‘হে মূসা! ভয় পেয়োনা, নিশ্চয়ই আমার কাছে এসে রসূলরা ভয় পায়না।

বাংলা উচ্চারণ

অ আল্ক্বি 'আসোয়া-ক্ ফালাম্মা-রয়া-হা- তাহ্তায্যু কায়ান্নাহা-জ্বা-ন্নুঁও অল্লা-মুদ্বিরাঁও অলাম্ ইয়ু'আকক্বিব্ ইয়া-মূসা-লা-তাখাফ্ ইন্নী লা-ইয়াখ-ফু লাদাইয়্যাল্ র্মুসালূন্।

সমকালীন বাংলা

‘তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর।’ অতঃপর যখন সে উহাকে সর্পের ন্যায় ছুটাছুটি করিতে দেখিল তখন সে পিছনের দিকে ছুটিতে লাগিল এবং ফিরিয়াও তাকাইল না। বলা হইল, ‘হে মূসা! ভীত হইও না, নিশ্চয়ই আমি এমন, আমার সান্নিধ্যে রাসূলগণ ভয় পায় না;

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যারা যুলুম করে এবং তারপর মন্দ কাজের পরিবর্তে পুণ্য কাজ করে, তাদের প্রতি আমি পরম ক্ষমাশীল দয়াময়

বাংলা উচ্চারণ

ইল্লা-মান্ জোয়ালামা ছুম্মা বাদ্দালা হুস্নাম্ বা'দা সূ-য়িন্ ফাইন্নী গফূর্রু রহীম্।

সমকালীন বাংলা

‘তবে যাহারা জুলুম করিবার পর মন্দ কর্মের পরিবর্তে সৎকর্ম করে, তাহাদের প্রতি আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার হাত তোমার জেবে (বগলে) দাখিল করো, দেখবে সেটি ধবধবে সাদা হয়ে বের হবে কোনো ক্ষতি ছাড়াই। (এ দুটি) ফেরাউন ও তার কওমের প্রতি দেয়া নয়টি নিদর্শনের অন্তরভুক্ত। তারা অবশ্যি এক ফাসিক (সীমালঙ্ঘনকারী) কওম।’’

বাংলা উচ্চারণ

অআদ্খিল্ ইয়াদাকা ফী জ্বাইবিকা তাখ্রুজবাইদ্বোয়া-য়া মিন্ গইরি সূ-য়িন্ ফী তিস্'ঈআ -ইয়া-তিন্ ইলা-র্ফি'আউনা অক্বওমিহ্ ইন্নাহুম্ কা-নূ ক্বওমান্ ফা-সিক্বীন্।

সমকালীন বাংলা

‘এবং তোমার হাত তোমার বগলে রাখ, ইহা বাহির হইয়া আসিবে শুভ্র নির্মল অবস্থায়। ইহা ফির‘আওন ও তাহার সম্প্রদায়ের নিকট আনীত নয়টি নিদর্শনের অন্তর্গত। উহারা তো সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তাদের কাছে যখন আমাদের সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এলো, তারা বললো: ‘এতো সুস্পষ্ট ম্যাজিক।’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-জ্বা-য়াত্হুম্ আ-ইয়া-তুনা মুব্ছিরতান্ ক্ব-লূ হাযা-সিহ্রুম্ মূবীন্।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যখন উহাদের নিকট আমার স্পষ্ট নিদর্শন আসিল, উহারা বলিল, ‘ইহা সুস্পষ্ট জাদু।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যুলুম ও দাম্ভিকতার সাথে নিদর্শনগুলো প্রত্যাখ্যান করে, যদিও তাদের অন্তরে সেগুলো সত্য বলে একীন হয়েছিল। এখন দেখো, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কী রকম হয়েছিল!

বাংলা উচ্চারণ

অজ্বাহাদু বিহা-অস্তাইক্বনাত্হা য় আন্ফুসুহুম্ জুল্মাঁও অ'উলুওয়া- ফার্ন্জু কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুল্ মুফ্সিদীন্।

সমকালীন বাংলা

উহারা অন্যায় ও উদ্ধতভাবে নিদর্শনগুলি প্রত্যাখ্যান করিল, যদিও উহাদের অন্তর এইগুলিকে সত্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছিল। দেখ, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হইয়াছিল!

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা দাউদ এবং সুলাইমানকে দিয়েছিলাম বিশেষ এলেম। তারা বলেছিল: আল হামদুলিল্লাহ - সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের মর্যাদা দিয়েছেন তাঁর বহু বান্দার উপর

বাংলা উচ্চারণ

অ লাক্বদ্ আ-তাইনা দা-য়ূদা অ সুলাইমা-না 'ইল্মান্ অক্ব-লাল্ হাম্দু লিল্লা-হিল্ লাযী ফাদ্দ¦লানা-'আলা-কাছীরিম্ মিন্ 'ঈবা-দিহিল্ মুমিনীন্।

সমকালীন বাংলা

আমি অবশ্যই দাঊদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করিয়াছিলাম এবং তাহারা উভয়ে বলিয়াছিল, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদরেকে তাঁর অনেক মুমনি বান্দার উপর শ্রষ্ঠেত্ব দান করছেনে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুলাইমান হয়েছিল দাউদের ওয়ারিশ। সে বলেছিল: ‘হে মানুষ! আমাদেরকে পাখির ভাষা শেখানো হয়েছে এবং সবকিছুই দেয়া হয়েছে আমাদের। অবশ্যি এটা আল্লাহর একটা সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।’

বাংলা উচ্চারণ

অওয়ারিছা সুলাইমানু দা-য়ূদা অক্ব-লা ইয়া য় আইয়্যুহান্না-সু উল্লিম্না-মান্ত্বিক্বত্ ত্বোয়াইরি অ ঊতীনা- মিন্ কুল্লি শাইয়িন্ ইন্না-হা-যা- লাহুওয়াল্ ফাদলুল্ মুবীন্।

সমকালীন বাংলা

সুলায়মান হইয়াছিল দাঊদের উত্তরাধিকারী এবং সে বলিয়াছিল, ‘হে মানুষ! আমাকে বিহংগকুলের ভাষা শিক্ষা দেওয়া হইয়াছে এবং আমাকে সকল কিছু দেওয়া হইয়াছে, ইহা অবশ্যই সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।’

আবদুস শহীদ নাসিম

সুলাইমানের জন্যে হাশর (সমবেত) করা হয় তার বাহিনীকে, যাদের মধ্যে ছিলো জিন, ইনসান ও পাখি। তাদের বিন্যস্ত করা হয় বিভিন্ন গ্রুপে।

বাংলা উচ্চারণ

অহুশির লিসুলাইমা-না জুনূদুহূ মিনাল্ জ্বিন্নি অল্ইনসি অতত্বোয়াইরি ফাহুম্ ইয়ূযা'ঊন্।

সমকালীন বাংলা

সুলায়মানের সম্মুখে সমবেত করা হইল তাহার বাহিনীকে জিন, মানুষ ও বিহংগকুলকে এবং উহাদেরকে বিন্যস্ত করা হইল বিভিন্ন ব্যূহে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন পিঁপড়ার উপত্যকায় এসে পৌঁছে, তখন একটি পিঁপড়া বলে উঠে: ‘হে পিঁপীলিকার দল! তোমরা দাখিল হয়ে যাও তোমাদের ঘরে। সুলাইমান এবং তার বাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদের পায়ের তলায় পিষে না ফেলে।’

বাংলা উচ্চারণ

হাত্তা য় ইযা য় আতাও 'আলা-ওয়া-দিন্নাম্লি ক্ব-লাত্ নাম্লাতু'ই ইয়া য় আইয়ুহান্ নাম্লুদ্ খুলূ মাসা-কিনাকুম্ লা-ইয়াহ্ত্বিমান্নাকুম্ সুলাইমা-নু অজুনূদুহূ অহুম্ লা-ইয়াশ্ঊ'রূন্।

সমকালীন বাংলা

যখন উহারা পিপীলিকা - অধ্যুষিত উপত্যকায় পৌঁছিল তখন এক পিপীলিকা বলিল, ‘হে পিপীলিকা - বাহিনী! তোমরা তোমাদের গৃহে প্রবেশ কর, যেন সুলায়মান এবং তাহার বাহিনী তাহাদের অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পদতলে পিষিয়া না ফেলে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তার কথায় সুলাইমান মৃদু হেসে বললো: ‘আমার প্রভু! আমাকে সামর্থ দাও, আমি যেনো তোমার নিয়ামতের শোকর আদায় করতে পারি, যা তুমি দান করেছো আমার প্রতি এবং আমার পিতামাতার প্রতি, আর আমি যেনো সেই রকম পুণ্য আমল করতে পারি যাতে তুমি সন্তুষ্ট হবে, আর দয়া করে আমাকে দাখিল করো তোমার পুণ্যবান দাসদের মধ্যে।’

বাংলা উচ্চারণ

ফাতাবাস্ সামা দ্বোয়া-হিকাম্ মিন্ ক্বওলিহা-অক্ব-লা রব্বি আওযি'নী য় আন্ আশ্কুরা নি'মাতাকাল্লা তীয় আন্'আম্তা 'আলাইয়্যা অ'আলা- ওয়া-লিদাইয়্যা অআন্ আ'মালা ছোয়া-লিহান্ র্তাদ্বোয়া-হু অ আদ্খিল্নী বিরহমাতিকা ফী 'ইবা-দিকাছ্ ছোয়া-লিহীন্।

সমকালীন বাংলা

সুলায়মান উহার উক্তিতে মৃদু হাস্য করিল এবং বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সামর্থ্য দাও যাহাতে আমি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতে পারি, আমার প্রতি ও আমার পিতামাতার প্রতি তুমি যে অনুগ্রহ করিয়াছ তাহার জন্য এবং যাহাতে আমি সৎকার্য করিতে পারি, যাহা তুমি পসন্দ কর এবং তোমার অনুগ্রহে আমাকে তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের শামিল কর।’

আবদুস শহীদ নাসিম

সুলাইমান সন্ধান নিলো পাখিদের। সে বললো, কী হলো হুদহুদকে দেখছিনা যে? সে অনুপস্থিত নাকি?

বাংলা উচ্চারণ

অতাফাকক্বদাত ত্বোয়াইর ফাক্ব-লা মা-লিয়া লা য় আরল্ হুদ্ হুদা আম্ কা-না মিনাল্ গ-য়িবীন্।

সমকালীন বাংলা

সুলায়মান বিহংগদলের সন্ধান লইল এবং বলিল, ‘ব্যাপার কি, হুদ্ হুদকে দেখিতেছি না যে! সে অনুপস্থিত না কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

সে সুস্পষ্ট প্রমাণ না নিয়ে এলে আমি অবশ্যি তাকে কঠোর শাস্তি দেবো অথবা যবেহ্ করে ফেলবো।

বাংলা উচ্চারণ

লা'উআয্যিবান্নাহূ 'আযা-বান্ শাদীদান্ আওলা আয্বাহান্নাহূ য় আও লাইয়াতিইয়ান্নী বিছুল্ত্বোয়া-নিম্ মুবীন্।

সমকালীন বাংলা

‘সে উপযুক্ত কারণ না দর্শাইলে আমি অবশ্যই উহাকে কঠিন শাস্তি দিব অথবা যবেহ্ করিব।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর অবিলম্বেই সে এসে উপস্থিত হলো এবং বললো: ‘‘আমি অবগত হয়েছি এমন একটা বিষয় যেটি আপনি অবগত নন। আমি আপনার জন্যে সাবা থেকে একটি নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি।

বাংলা উচ্চারণ

ফামাকাছা গইর বা'ঈদিন্ ফাক্ব-লা আহাত্তু বিমা-লাম্ তুহিত বিহী অজ্বিতুকা মিন্ সাবা-য়িম্ বিনাবায়িঁ ইয়াক্বীন্।

সমকালীন বাংলা

অনতিবিলম্বেহুদ্হুদ্ আসিয়া পড়িল এবং বলিল, ‘আপনি যাহা অবগত নন আমি তাহা অবগত হইয়াছি এবং ‘সাবা’ হইতে সুনিশ্চিত সংবাদ লইয়া আসিয়াছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি এক নারীকে দেখতে পেয়েছি তাদের উপর রাজত্ব করছেন। সমস্ত বস্তু সম্ভার তাকে দেয়া হয়েছে এবং তার রয়েছে এক বিশাল সিংহাসন।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নী অজ্বাত্তুম্ রায়াতান্ তাম্লিকুহুম্ অঊতিয়াত্ মিন্ কুল্লি শাইয়িঁও অ লাহা-'র্আশুন্ 'আজীম্।

সমকালীন বাংলা

‘আমি তো এক নারীকে দেখিলাম উহাদের উপর রাজত্ব করিতেছে। তাহাকে দেওয়া হইয়াছে সকল কিছু হইতেই এবং তাহার আছে এক বিরাট সিংহাসন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তাকে এবং তার কওমকে দেখতে পেলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সাজদা করছে। শয়তান তাদের কর্মকান্ড তাদের কাছে চাকচিক্যময় করে রেখেছে এবং সে তাদের সঠিক পথে আসার ব্যাপারে প্রতিবন্ধক হয়ে আছে, ফলে তারা হিদায়াত লাভ করছেনা।’’

বাংলা উচ্চারণ

অজ্বাদ্তুহা-অ ক্বাওমাহা-ইয়াস্ জুদূনা লিশ্শাম্সি মিন্দূ নিল্লা-হি অ যাইয়্যানা লাহুমুশ্ শাইত্বো-য়ানু আ'মা-লাহুম্ ফাছোয়াদ্দা হুম্ 'আনিস্ সাবীলি ফাহুম্ লা- ইয়াহ্তাদূন্।

সমকালীন বাংলা

‘আমি তাহাকে ও তাহার সম্প্রদায়কে দেখিলাম তাহারা পরিবর্তে সূর্যকে সিজ্দা করিতেছে। শয়তান উহাদের কার্যাবলী উহাদের নিকট শোভন করিয়াছে এবং উহাদেরকে সৎপথ হইতে নিবৃত্ত করিয়াছে, ফলে উহারা সৎপথ পায় না;

আবদুস শহীদ নাসিম

সে প্রতিবন্ধক হয়ে আছে এ জন্যে, যাতে তারা আল্লাহকে সাজদা না করে, যিনি মহাকাশ ও পৃথিবীর গুপ্ত বস্তুকে প্রকাশ করেন এবং যিনি জানেন তোমরা যা গোপন করো এবং যা করো এলান (প্রকাশ)।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা-ইয়াস্জ্বুদূ লিল্লা-হিল্লাযী ইয়ুখ্রিজুল্ খব্য়া ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বি অ ইয়া'লামু মা-তুখ্ফূনা অমা-তু'লিনূন্।

সমকালীন বাংলা

‘নিবৃত্ত করিয়াছে এইজন্য যে, উহারা যেন সিজ্দা না করে যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর লুক্কায়িত বস্তুকে প্রকাশ করেন, যিনি জানেন, যাহা তোমরা গোপন কর এবং যাহা তোমরা ব্যক্ত কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

, তিনি ছাড়া নেই কোনো ইলাহ্, তিনি মহান আরশের মালিক।’ (সাজদা)

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা-হু লা য় ইলা-হা ইল্লা-হু ওয়া রব্বুল্ র্আশিল্ 'আজীম্।

সমকালীন বাংলা

ব্যতীত কােন উপাস্য নইে; তিনি মহা আরশের মালিক।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুলাইমান বললো: ‘‘আমি দেখবো, তুমি সত্য বলছো, নাকি তুমি মিথ্যাবাদী।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা সানান্জুরু আছোয়াদাকতা আম্ কুন্তা মিনাল্ কা-যিবীন্।

সমকালীন বাংলা

সুলায়মান বলিল, ‘আমি দেখিব তুমি কি সত্য বলিয়াছ, না তুমি মিথ্যাবাদী?

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি আমার এই পত্রটি নিয়ে যাও এবং তাদের কাছে পৌঁছে দাও। তারপর তাদের থেকে সরে থাকবে এবং লক্ষ্য করবে তাদের প্রতিক্রিয়া।’’

বাংলা উচ্চারণ

ইয্হাব্ বিকিতা-বী হা-যা-ফাআল্ক্বিহ্ ইলাইহিম্ ছুম্মা তাওয়াল্লা 'আন্হুম্ ফার্ন্জু মা-যা-ইর্য়াজ্বি'ঊন্।

সমকালীন বাংলা

‘তুমি যাও আমার এই পত্র লইয়া এবং ইহা তাহাদের নিকট অর্পণ কর ; অতঃপর তাহাদের নিকট হইতে সরিয়া থাকিও এবং লক্ষ্য করিও তাহাদের প্রতিক্রিয়া কি?’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (রাণী) বললো: ‘‘হে আমার পারিষদবর্গ! আমার কাছে পৌঁছেছে একটি সম্মানিত পত্র,

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লাত্ ইয়া য় আইয়ুহাল্ মালায়ু ইন্নী য় উল্ক্বিয়া ইলাইয়্যা কিতা-বুন্ কারীম্।

সমকালীন বাংলা

সেই নারী বলিল, ‘হে পারিষদবর্গ! আমাকে এক সম্মানিত পত্র দেওয়া হইয়াছে ;

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি প্রেরিত হয়েছে সুলাইমানের পক্ষ থেকে এবং সেটির বক্তব্য হলো: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাহূ মিন্ সুলাইমা-না অইন্নাহূ বিস্মিল্লা-র্হি রহ্মা-র্নি রহীম্।

সমকালীন বাংলা

’ইহা সুলায়মানের নিকট হইতে এবং ইহা এই: দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার উপর ঔদ্ধত্য করোনা, বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও।’’

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা-তা'লূ 'আলাইয়্যা অতূনী মুস্লিমীন্।

সমকালীন বাংলা

‘অহমিকাবশে আমাকে অমান্য করিও না, এবং আনুগত্য স্বীকার করিয়া আমার নিকট উপস্থিত হও।’

আবদুস শহীদ নাসিম

রাণী বললো: ‘‘হে আমার পারিষদবর্গ। তোমরা আমাকে ফতোয়া (মত) দাও এ বিষয়ে আমার করণীয় সম্পর্কে। আমি তো কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনা তোমাদের উপস্থিতি (পরামর্শ) ছাড়া।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লাত্ ইয়া য় আইয়্যুহাল্ মালায়ু আফ্তূনী ফী য় আম্রী মা-কুন্তু ক্ব-ত্বিয়াতান্ আম্রান্ হাত্তা-তাশ্হাদূন্।

সমকালীন বাংলা

সেই নারী বলিল, ‘হে পারিষদবর্গ! আমার এই সমস্যায় তোমাদের অভিমত দাও। আমি কোন ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না তোমাদের উপস্থিতি ব্যতীত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা তো একটি শক্তিশালী এবং কঠোর যোদ্ধা জাতি। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তো আপনারই। আপনি ভেবে দেখুন কী নির্দেশ দেবেন।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ নাহ্নু উলূ কুওয়াতিঁও অ উলূ বাসিন্ শাদীদিঁও অল্ আম্রু ইলাইকি ফান্জুরী মা-যা-তামুরীন্।

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘আমরা তো শক্তিশালী ও কঠোর যোদ্ধা; তবে সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতা আপনারই, কী আদেশ করিবেন তাহা আপনি ভাবিয়া দেখুন।’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (রাণী) বললো: ‘‘রাজা বাদশারা যখন (যুদ্ধের জন্যে) কোনো জনপদে প্রবেশ করে, তারা সে জনপদকে বিপর্যস্ত করে দেয় এবং সেখানকার সম্মানিত ব্যক্তিদের করে ছাড়ে অপদস্থ। এরাও এ রকমই করবে।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লাত্ ইন্নাল্ মুলূকা ইযা-দাখালূ র্ক্বাইয়াতান্ আফ্ছাদূহা-অজ্বা'আলূ য় আই'য্যাতা আহ্লিহা য় আযিল্লাতান্ অকাযা-লিকা ইয়াফ্'আলূন্।

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘রাজা - বাদশাহরা যখন কোন জনপদে প্রবেশ করে তখন উহাকে বিপর্যস্ত করিয়া দেয় এবং সেখানকার মর্যাদাবান ব্যক্তিদেরকে অপদস্থ করে, ইহারাও এইরূপই করিবে;

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তাদের কাছে হাদিয়া (উপঢৌকন) পাঠাতে চাই। দেখি, আমার দূতেরা তাদের কী প্রতিক্রিয়া নিয়ে ফিরে আসে?’’

বাংলা উচ্চারণ

অ ইন্নী র্মুসিলাতুন্ ইলাইহিম্ বিহাদিয়্যাতিন্ ফানা-জিরাতুম্ বিমা-ইর্য়াজ্বি'ঊল্ মুরসালূন্।

সমকালীন বাংলা

‘আমি তাহাদের নিকট উপঢৌকন পাঠাইতেছি, দেখি, দূতেরা কী লইয়া ফিরিয়া আসে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

দূত যখন সুলাইমানের কাছে এলো, সুলাইমান বললো: ‘‘তোমরা কি আমাকে ধনমাল দিয়ে সাহায্য করতে চাও? আমাকে যা দিয়েছেন, তা তোমাদের যা দিয়েছেন তার চাইতে উত্তম। তোমরা তো তোমাদের হাদিয়া নিয়ে আনন্দবোধ করছো।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-জ্বা-য়া সুলাইমা-না ক্ব-লা আ-তুমিদ্দুনানি বিমা-লিন্ ফামা য় আ-তা-নিয়াল্লহু খইরুম্ মিম্মা য় আ-তা-কুম্ বাল্ আন্তুম্ বিহাদিয়্যাতিকুম্ তাফ্রাহূন্।

সমকালীন বাংলা

দূত সুলায়মানের নিকট আসিলে সুলায়মান বলিল, ’তোমরা কি আমাকে ধন - সম্পদ দিয়া সাহায্য করিতেছ? আমাকে যাহা দিয়াছেন, তাহা হইতে উৎকৃষ্ট অথচ তোমরা তোমাদের উপঢৌকন লইয়া উৎফুল্ল বোধ করিতেছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তাদের কাছে ফিরে যাও, আমি তাদের বিরুদ্ধে এমন এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে আসবো যার মোকাবেলা করার শক্তি তাদের নেই। আমি অবশ্যি তাদেরকে সে দেশ থেকে লাঞ্ছিত করে বহিষ্কার করবো এবং তখন তারা ছোট হয়ে থাকবে।’’

বাংলা উচ্চারণ

র্ইজ্বি' ইলাইহিম্ ফলানাতিয়ান্নাহুম্ বিজুনূদিল্ লা-ক্বিবালা লাহুম্ বিহা-অলানুখ্রিজ্বান্নাহুম্ মিন্হা য় আযিল্লাতাঁও অহুম্ ছোয়া-গিরূন্।

সমকালীন বাংলা

‘উহাদের নিকট ফিরিয়া যাও, আমি অবশ্যই উহাদের বিরুদ্ধে লইয়া আসিব এক সৈন্যবাহিনী যাহার মুকাবিলা করিবার শক্তি উহাদের নাই। আমি অবশ্যই উহাদেরকে সেখান হইতে বহিষ্কার করিব লাঞ্ছিতভাবে এবং উহারা হইবে অবনমিত।’

আবদুস শহীদ নাসিম

সুলাইমান বললো: ‘হে আমার পারিষদবর্গ! তারা আমার কাছে বশ্যতা স্বীকার করে এসে পৌঁছার আগেই তোমাদের কে তার সিংহাসনটি আমার কাছে নিয়ে আসবে?’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইয়া য় আইয়্যুহাল্ মালায়ু আই ইয়ুকুম্ ইয়াতীনী বি 'র্আশিহা-ক্বব্লা আই ইয়াতূনী মুস্লিমীন্।

সমকালীন বাংলা

সুলায়মান আরো বলিল, ‘হে আমার পরিষদবর্গ! তাহারা আত্মসমর্পণ করিয়া আমার নিকট আসিবার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তাহার সিংহাসন আমার নিকট লইয়া আসিবে?’

আবদুস শহীদ নাসিম

এক শক্তিশালী জিন বললো: ‘সেটি আমি নিয়ে আসবো আপনি আপনার আসন থেকে উঠার আগেই এবং এ ব্যাপারে আমি শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইফ্রীতুম্ মিনাল্ জ্বিন্নি আনা আ-তীকা বিহী ক্বব্লা আন্তাকুমা মিম্ মাক্ব-মিকা অইন্নী 'আলাইহি লাক্বওয়্যিয়ুন্ আমীন্।

সমকালীন বাংলা

এক শক্তিশালী জিন বলিল, ‘আপনি আপনার স্থান হইতে উঠিবার পূর্বেই আমি উহা আনিয়া দিব এবং এই ব্যাপারে আমি অবশ্যই ক্ষমতাবান, বিশ্বস্ত।’

আবদুস শহীদ নাসিম

যার কাছে কিতাবের এলেম ছিলো, এমন এক ব্যক্তি উঠে বললো: ‘আপনি চোখের পলক ফেলার আগেই আমি সেটা আপনাকে এনে দিচ্ছি।’ সুলাইমান যখন সেটা নিজের সামনে রক্ষিত অবস্থায় দেখতে পেলো, বললো: ‘এটা আমার প্রভুর অনুগ্রহ, এর দ্বারা তিনি আমাকে পরীক্ষা করতে চান আমি কৃতজ্ঞ থাকি, নাকি অকৃতজ্ঞ হই। আর যে কেউ শোকর আদায় করে সে নিজের কল্যাণেই শোকর আদায় করে। আর যে কেউ অকৃতজ্ঞ হয়, সে জেনে রাখুক, আমার প্রভু মুখাপেক্ষাহীন, মর্যাদাবান।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ল্লাযী 'ইন্দাহূ 'ইল্মুম্ মিনাল্ কিতা-বি আনা আ-তীকা বিহী ক্বব্লা আইঁ ইর্য়াতাদ্দা ইলাইকা ত্বোর্য়াফুক্ ফালাম্মা-রায়াহূ মুস্তার্ক্বিরন্ 'ইন্দাহূ ক্ব-লা হা-যা-মিন্ ফাদ্ব্লি রব্বী লিইয়াব্লুওয়ানী য় আ আশ্কুরু আম্ আর্ক্ফু অমান্ শাকার ফা ইন্নামা- ইয়াশ্কুরু লিনাফ্সিহী অমান্ কাফার ফাইন্না রব্বী গানিয়্যুন্ কারীম্।

সমকালীন বাংলা

কিতাবের জ্ঞান যাহার ছিল, সে বলিল, ‘আপনি চক্ষুর পলক ফেলিবার পূর্বেই আমি উহা আপনাকে আনিয়া দিব।’ সুলায়মান যখন উহা সম্মুখে রক্ষিত অবস্থায় দেখিল তখন সে বলিল, ‘ইহা আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ, যাহাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করিতে পারেন - আমি কৃতজ্ঞ না অকৃতজ্ঞ। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে তো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নিজেরই কল্যাণের জন্য এবং যে অকৃতজ্ঞ, সে জানিয়া রাখুক যে, আমার প্রতিপালক অভাবমুক্ত, মহানুভব।’

আবদুস শহীদ নাসিম

সুলাইমান বললো: ‘তার সিংহাসনটি ওলটপালট করে তার জন্যে আনকোরা করে দাও। দেখি, সে কি চিনতে পারে, নাকি না চেনাদের অন্তরভুক্ত হয়?’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা নাক্কিরূ লাহা-আর্'শাহা-নার্ন্জু আ তাহ্তাদী য় আম্ তাকূনু মিনাল্লাযীনা লা-ইয়াহ্তাদূন্।

সমকালীন বাংলা

সুলায়মান বলিল, ‘তাহার সিংহাসনের আকৃতি অপরিচিত করিয়া বদলাইয়া দাও; দেখি সে সঠিক দিশা পায়, না সে বিভ্রান্তদের শামিল হয়;

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন রাণী এসে পৌঁছালো, তাকে বলা হলো: ‘আপনার সিংহাসন কি এ রকম?’ সে বললো: ‘এটা যেনো সেটাই? আমাদের ইতোপূর্বে অবগত করানো হয়েছে এবং আমরা বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছি।’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-জ্বা-য়াত্ ক্বীলা আহা-কাযা-'র্আশুক্ ক্ব-লাত্ কায়ান্নাহূ হুওয়া অঊতীনাল্ ই'ল্মা মিন্ ক্বব্লিহা-অকুন্না-মুস্লিমীন্।

সমকালীন বাংলা

সেই নারী যখন আসিল, তখন তাহাকে জিজ্ঞাসা করা হইল, ‘তোমার সিংহাসন কি এইরূপই?’ সে বলিল, ‘ইহা তো যেন উহাই।’ আমাদেরকে ইতিপূর্বেই প্রকৃত জ্ঞান দান করা হইয়াছে এবং আমরা আত্মসর্মপণও করিয়াছি।’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদত করতো তাই তাকে সত্য থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছিল। সে তো কওমেরই একজন ছিলো।

বাংলা উচ্চারণ

অ ছোয়াদ্দাহা-মা-কা-নাত্ তা'বুদু মিন্ দূনিল্লা-হ্ ইন্নাহা-কা-নাত্ মিন্ ক্বওমিন্ কা-ফিরীন্।

সমকালীন বাংলা

আল্লাহর পরিবর্তে সে যাহার পূজা করিত তাহাই তাহাকে সত্য হইতে নিবৃত্ত করিয়াছে, সে ছিল সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে বলা হলো: ‘এই প্রাসাদে দাখিল হোন।’ সে যখন তা দেখলো, মনে করলো একটি জলাশয়। তখন তার পায়ের কিছু অংশ থেকে বস্ত্র গুটিয়ে উন্মুক্ত করে নিলো। সুলাইমান বললো: ‘এতো (পানি নয়) স্বচ্ছ স্ফটিকের তৈরি প্রাসাদ।’ তখন সে (রাণী) বললো: ‘আমার প্রভু! আমি আমার নিজের প্রতি অবিচার করে আসছিলাম, এখন আমি সুলাইমানের সাথে রাব্বুল আলামিনের উদ্দেশ্যে আত্মসমর্পণ করলাম।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্বীলা লাহাদ্ খুলিছ্ ছোর্য়াহা ফালাম্মা-রয়াত্হু হাসিবাত্হু লুজ্জ্বাতাঁও অকাশাফাত্ 'আন্ সা-ক্বইহা-ক্ব-লা ইন্নাহূ ছোর্য়াহুম্ মুর্মারদুম্ মিন্ ক্বওয়া-র্রী ক্ব-লাত্ রব্বি ইন্নী জ্বোয়ালাম্তু নাফ্সী অআস্লাম্তু মা'আ সুলাইমা-না লিল্লা-হি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।

সমকালীন বাংলা

তাহাকে বলা হইল, ‘এই প্রাসাদে প্রবেশ কর।’ যখন সে উহা দেখিল তখন সে উহাকে এক গভীর জলাশয় মনে করিল এবং সে তাহার পদদ্বয় অনাবৃত করিল। সুলায়মান বলিল, ‘ইহা তো স্বচ্ছ স্ফটিক মণ্ডিত প্রাসাদ।’ সেই নারী বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করিয়াছিলাম, আমি সুলায়মানের সঙ্গে জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লার নিকট আত্মসমর্পণকরিতেছি।’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা সামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালেহকে পাঠিয়েছিলাম এই নির্দেশ দিয়ে: ‘তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত (আনুগত্য দাসত্ব, পূজা উপাসনা) করো।’ তখন তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে।

বাংলা উচ্চারণ

অ লাক্বদ্ র্আসাল্না য় ইলা-ছামূদা আখ-হুম্ ছোয়া-লিহান্ আনি'বুদুল্লা-হা ফাইযা- হুম্ ফারীক্ব-নি ইয়াখ্তাছিমূন্।

সমকালীন বাংলা

আমি অবশ্যই সামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাহাদের ভ্রাতা সালিহকে পাঠাইয়াছিলাম এই আদেশসহ তােমরা আল্লাহর এবাদত কর। কিন্তু তারা দ্বিধাবিভক্ত হইয়া বিতর্কে লিপ্ত হইল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সালেহ্ বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা কল্যাণের আগে দ্রুত অকল্যাণ চাইছো কেন? তোমরা কেন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইছোনা, যাতে করে তোমরা রহম প্রাপ্ত হও।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি লিমা-তাস্তা'জ্বিলূনা বিস্সাইয়িয়াতি ক্বব্লাল্ হাসানাতি লাওলা- তাস্তাগ্ফিরূনাল্লা-হা লা'আল্লাকুম্ র্তুহামূন্।

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন কল্যাণের পূর্বে অকল্যাণ ত্বরান্নিত করিতে চাহিতেছ? কেন তোমরা নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছ না, যাহাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হইতে পার?’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা তোমাকে এবং তোমার সাথিদেরকে আমাদের অমঙ্গলের কারণ মনে করি।’ সে বললো: ‘তোমাদের মঙ্গল অমঙ্গল তো আল্লাহর এখতিয়ারে। বরং তোমরা এমন একটি কওম যাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লুত্ত্বাইর্য়্যানা-বিকা অবিমাম্ মা'আক্ ক্ব-লা ত্বোয়া-য়িরুকুম্ 'ইন্দাল্লা-হি বাল্ আন্তুম্ ক্বওমুন্ তুফ্তান্ন্।

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘তোমাকে ও তোমার সঙ্গে যাহারা আছে তাহাদেরকে আমরা অমঙ্গলের কারণ মনে করি।’ সালিহ্ বলিল, ‘তোমাদের শুভাশুভ আল্লাহর ইখতিয়ারে, বস্তুত তোমরা এমন এক সম্প্রদায় যাহাদেরকে পরীক্ষা করা হইতেছে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

সেই শহরে ছিলো নয় ব্যক্তি যারা দেশে ফাসাদ সৃষ্টি করতো এবং সংশোধন হতোনা

বাংলা উচ্চারণ

অকা-না ফিল্ মাদীনাতি তিস্'আতু রহ্ত্বিঁও ইয়ুফ্সিদূনা ফিল্ র্আদ্বি অলা-ইয়ুছ্লিহূন্।

সমকালীন বাংলা

আর সেই শহরে ছিল এমন নয় ব্যক্তি, যাহারা দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করিত এবং সৎকর্ম করিত না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলো: আমরা অবশ্যি রাতের বেলায় তাকে (সালেহকে) এবং তার পরিবারবর্গকে আক্রমণ করে হত্যা করবো, তারপর তার অলিকে বলবো: তার পরিবারবর্গকে কারা হত্যা করেছে তা আমরা দেখিনি। আমরা অবশ্যি সত্যবাদী।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ তাক্ব-সামূ বিল্লা-হি লানুবাইয়্যিতান্নাহূ অআহ্লাহূ ছুম্মা লানাকুলান্না লি অলিয়্যিহী মা-শাহিদ্না-মাহ্লিকা আহ্লিহী অইন্না-লাছোয়া-দিকুন্।

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘তোমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ কর, ‘আমরা রাত্রিকালে তাহাকে ও তাহার পরিবার - পরিজনকে অবশ্যই আক্রমণ করিব; অতঃপর তাহার অভিভাবককে নিশ্চয় বলিব,‘তাহার পরিবার - পরিজনের হত্যা আমরা প্রত্যক্ষ করি নাই; আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা এই জঘন্য চক্রান্ত করেছিল, আর এদিকে আমরাও করেছি একটি কৌশল যা তারা টেরই পায়নি।

বাংলা উচ্চারণ

অ মাকারূ মাক্রঁও অমার্কানা মাক্রাঁও অহুম্ লা-ইয়াশ্'উরূন্।

সমকালীন বাংলা

উহারা এক চক্রান্ত করিয়াছিল এবং আমিও এক কৌশল অবলম্বন করিলাম, কিন্তু উহারা বুঝিতে পারে নাই।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর লক্ষ্য করে দেখো তাদের চক্রান্তের পরিণতি কী হয়েছে, আমরা তাদেরকে এবং তাদের গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছি।

বাংলা উচ্চারণ

ফার্ন্জু কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতু মাক্রিহিম্ আন্না-দার্ম্মানা-হুম্ অক্বওমাহুম্ আজমা'ঈন্।

সমকালীন বাংলা

অতএব দেখ, উহাদের চক্রান্তেরর পরিণাম কী হইয়াছে - আমি অবশ্যই উহাদেরকে ও উহাদের সম্প্রদায়ের সকলকে ধ্বংস করিয়াছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ তো তাদের ঘরবাড়ি বিরাণ হয়ে আছে তাদের যুলুমের পরিণতিতে। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন জ্ঞানী লোকদের জন্যে।

বাংলা উচ্চারণ

ফাতিল্কা বুইয়ূতুহুম্ খা-ওয়িয়াতাম্ বিমা- জোয়ালামূ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তাল্লিকওমিঁ ইয়া'লামূন্।

সমকালীন বাংলা

এই তো উহাদের ঘরবাড়ি - সীমালংঘনহেতু যাহা জনশূন্য অবস্থায় পড়িয়া আছে; ইহাতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা (সেই অশুভ পরিণতি থেকে) নাজাত দিয়েছিলাম তাদেরকে, যারা ঈমান এনেছিল এবং অবলম্বন করেছিল তাকওয়া।

বাংলা উচ্চারণ

অ আন্জ্বাইনাল্লাযীনা আ-মানূ অ কা-নূ ইয়াত্তাকুন্।

সমকালীন বাংলা

এবং যাহারা ও ছিল তাহাদেরকে আমি উদ্ধার করিয়াছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো লুতের কথা! সে তার কওমকে বলেছিল: ‘‘তোমরা জেনে শুনে কেন ফাহেশা কাজ করছো?

বাংলা উচ্চারণ

অ লূত্বোয়ান্ ইয্ ক্ব-লা লিক্বওমিহী য় আতাতূনাল্ ফা-হিশাতা অআন্তুম্ তুব্ছিরূন্।

সমকালীন বাংলা

স্মরণ কর লূতের কথা, সে তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমরা জানিয়া - শুনিয়া কেন অশ্লীল কাজ করছ? অথচ এর পরণিতরি কথা তােমরা অবগত আছ!

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যৌন কামনা চরিতার্থ করার জন্যে নারীর পরিবর্তে পুরুষ গমন করছো? তোমরা তো এক চরম জাহেল সম্প্রদায়।’’

বাংলা উচ্চারণ

আয়িন্নাকুম্ লাতাতূর্না রিজ্বা-লা শাহ্ওয়াতাম্ মিন্ দূনি ন্নিসা-য়্ বাল্ আন্তুম্ ক্বওমুন্ তাজহালূন্।

সমকালীন বাংলা

‘তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীকে ছাড়িয়া পুরুষে উপগত হইবে? তোমরা তো এক অজ্ঞ সম্প্রদায়।’

আবদুস শহীদ নাসিম

জবাবে তার কওম কেবল একথাই বলেছিল: ‘লুতের অনুসারীদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। তারা বড় পবিত্র থাকতে চাইছে!’

বাংলা উচ্চারণ

ফামা-কা-না জ্বাওয়া-বা ক্বওমিহী য় ইল্লা য় আন্ ক্ব-লূ য় আখ্রিজু য় আ-লা লূতিম্মিন্ র্ক্বইয়াতিকুম্ ইন্নাহুম্ উনা-সুঁই ইয়া তাত্বোয়াহ্হারূন্।

সমকালীন বাংলা

উত্তরে তাহার সম্প্রদায় শুধু বলিল, ‘লূত - পরিবারকে তোমাদের জনপদ হইতে বহিষ্কার কর, ইহারা তো এমন লোক যাহারা পবিত্র সাজিতে চায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে আমরা নাজাত দিয়েছিলাম তাকে এবং তার পরিবারবর্গকে তার স্ত্রীকে ছাড়া। তাকে আমরা ধ্বংস প্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত করে দিয়েছিলাম।

বাংলা উচ্চারণ

ফাআন্জ্বাইনা-হু অ আহ্লাহূ য় ইল্লাম্ রায়াতাহূ ক্বার্দ্দানা-হা মিনাল্ গ-বিরীন্।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর আমি তাহাকে ও তাহার পরিজনবর্গকে উদ্ধার করিলাম, তাহার স্ত্রী ব্যতীত, তাহাকে করিয়াছিলাম ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম ভয়ংকর (পাথর) বর্ষণ। যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে তাদের প্রতি বর্ষণ ছিলো কতো যে নিকৃষ্ট!

বাংলা উচ্চারণ

অ আম্ত্বোর্য়ানা- 'আলাইহিম্ মাত্বোয়ারান্ ফাসা-য়া মাত্বোয়ারুল্ মুন্যারীন্।

সমকালীন বাংলা

তাহাদের উপর ভয়ংকর বৃষ্টি বর্ষণ করিয়াছিলাম, ভীতি প্রদর্শিতদের জন্য এই বর্ষণ ছিল কত নিকৃষ্ট!

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আর তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি সালাম। শ্রেষ্ঠ কি , নাকি ওরা যাদেরকে তাঁর সাথে শরিক করে তারা?’ (অবশ্যি )।

বাংলা উচ্চারণ

কুলিল্ হাম্দু লিল্লা-হি অসালা-মুন্ 'আলা-ই'বা-দি হিল্লাযী নাছ্ত্বোয়াফা- আ-ল্লাহু খইরুন্ আম্মা-ইয়ুশ্রিকূন্।

সমকালীন বাংলা

বল, সকল প্রশংসাই আল্লাহর এবং শান্তি তাঁর মনোনিত বান্দাগণের প্রতি শ্রেষ্ঠ কে না উহারা যাহাদেরকে শরীক করে তাহারা?

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই কি শ্রেষ্ঠ নন, যিনি সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ এবং এই পৃথিবী এবং যিনি আসমান থেকে তোমাদের জন্যে নাযিল করেন পানি। তারপর আমরা তা থেকে উদগত করি মনোরম উদ্যান, যার গাছ - গাছালি সৃষ্টি করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। তারপরও কি আল্লাহর সাথে কোনো ইলাহ্ আছে বলে মনে করো? আসলে তারা এমন একটি কওম যারা (অন্যদেরকে) আল্লাহর সমকক্ষ বানায়।

বাংলা উচ্চারণ

আম্মান্ খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া অআন্যালা লাকুম্ মিনাস্ সামা-য়ি মা-আন্ ফাআম্বাত্না-বিহী হাদা-য়িক্বা যা-তা বাহ্জ্বাতিন্ মা-কা-না লাকুম্ আন্ তুম্বিতূ শাজ্বারহা- আ ইলা-হুম্ মা'আল্লা-হ্ বাল্ হুম্ ক্বওমুঁই ইয়া'দিলূন্।

সমকালীন বাংলা

বরং তিনি, যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং আকাশ হইতে তোমাদের জন্য বর্ষণ করেন বৃষ্টি ; অতঃপর আমি উহা দ্বারা মনোরম উদ্যান সৃষ্টি করি, উহার বৃক্ষাদি উদ্গত করিবার ক্ষমতা তোমাদের নাই। আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কি? তবুও উহারা এমন এক সম্প্রদায় যাহারা সত্যবিচ্যুত হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই কি (একমাত্র ইলাহ্) নন, যিনি পৃথিবীকে বানিয়েছেন বাস উপযোগী এবং এর মাঝে মাঝে সৃষ্টি করে দিয়েছেন নদ - নদী - নহর? তাকে স্থিতিশীল রাখার জন্যে স্থাপন করে দিয়েছেন পাহাড় পর্বত এবং দুই দরিয়ার মাঝে সৃষ্টি করে দিয়েছেন অন্তরায়। তা সত্ত্বেও আল্লাহর সাথে আরো ইলাহ্ আছে কি? বরং তাদের অধিকাংশই জানেনা।

বাংলা উচ্চারণ

আম্মান্ জ্বা'আলাল্ র্আদ্বোয়া ক্বরা-রাঁও অজ্বা'আলা-খিলা-লাহা য় আন্হা-রাঁও অজ্বা'আলা লাহা- রওয়া-সিয়া অজ্বা'আলা বাইনাল্ বাহ্রাইনি হা-জ্বিযা-আ ইলা-হুম্ মা'আল্লা-হ্ বাল্ আক্ছারুহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।

সমকালীন বাংলা

বরং তিনি, যিনি পৃথিবীকে করিয়াছেন বাসোপযোগী এবং উহার মাঝে মাঝে প্রবাহিত করিয়াছেন নদীনালা এবং উহাতে স্থাপন করিয়াছেন সুদৃঢ় পর্বত ও দুই দরিয়ার মধ্যে সৃষ্টি করিয়াছেন অন্তরায় ; সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কি? তবুও উহাদের অনেকেই জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই কি (একমাত্র ইলাহ্) নন, যিনি অশান্ত হৃদয়ের প্রার্থনাকারীর ডাকে সাড়া দেন এবং দূর করে দেন তার দুঃখ দুর্দশা? তিনিই তো তোমাদেরকে পৃথিবীতে খলিফা বানিয়েছেন। তারপরও তাঁর সাথে আরো ইলাহ্ আছে কি? তোমরা খুব কমই শিক্ষা গ্রহণ করো।

বাংলা উচ্চারণ

আম্মাইঁ ইয়ুজ্বীবুল মুদ্ব্ত্বোর্য়ার ইযা-দা'আ-হু অ ইয়াক্শিফুস্ সূ-য়া অ ইয়াজ'আলুকুম্ খুলাফা-য়াল্ র্আদ্ব্ আ ইলা-হুম্ মা'আল্লা-হ্ ক্বলীলাম্ মা-তাযাক্কারূন্।

সমকালীন বাংলা

বরং তিনি, যিনি আর্তের আহ্বানে সাড়া দেন, যখন সে তাঁহাকে ডাকে এবং বিপদ - আপদ দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেন। আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কি? তোমরা উপদেশ অতি সামান্যই গ্রহণ করিয়া থাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই কি (একমাত্র ইলাহ্) নন, যিনি তোমাদেরকে স্থল ও পানি পথের অন্ধকারে পথনির্দেশ দান করেন এবং যিনি সুসংবাদবাহী বাতাস পাঠান তাঁর রহমত (বৃষ্টি) বর্ষণের আগে। তারপরও তাঁর সাথে আরো ইলাহ্ আছে কি? তারা তাঁর সাথে যাদেরকে শরিক করে, তাদের থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।

বাংলা উচ্চারণ

আম্মাইঁ ইয়াহ্দীকুম্ ফী জুলুমা-তিল্ র্বারি অলবাহ্রি অ মাইঁ ইর্য়ুসির্লু রিয়া-হা বুশ্রাম্ বাইনা ইয়াদাই রহ্মাতিহ্ আ ইলা-হুম্ মা'আল্লা-হ্ তা'আলাল্লা-হু 'আম্মা- ইয়ুশ্রিকূন্।

সমকালীন বাংলা

বরং তিনি, যিনি তোমাদেরকে স্থলের ও পানির অন্ধকারে পথ প্রদর্শন করেন এবং যিনি স্বীয় অনুগ্রহের প্রাক্কালে সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন। সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কি? উহারা যাহাকে শরীক করে তাহা হইতে বহু উধ্বে।

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং তিনিই (একমাত্র ইলাহ্) যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর পুনরায় সৃষ্টি করবেন। আসমান ও জমিন থেকে কে তোমাদের রিযিক দেয়? তারপরও তাঁর সাথে আরো ইলাহ্ আছে কি? বলো: ‘তোমাদের প্রমাণ হাজির করো যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।’

বাংলা উচ্চারণ

আম্মাইঁ ইয়াব্দায়ুল্ খল্ক্ব ছুম্মা ইয়ু'ঈদুহূ অমাইঁ ইর্য়াযুকুকুম্ মিনাস্ সামা-য়ি অল্ র্আদ্ব্ আ ইলা-হুম্ মা'আল্লা-হ্ কুল্ হা-তূ র্বুহা-নাকুম্ ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।

সমকালীন বাংলা

বরং তিনি, যিনি আদিতে সৃষ্টি করেন, অতঃপর উহার পুনরাবৃত্তি করিবেন এবং যিনি তোমাদেরকে আকাশ ও পৃথিবী হইতে জীবনোপকরণ দান করেন। আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কি? বল, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ কর।’

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যারাই আছে, ছাড়া কেউই জানেনা। তারা কখন পুনরুত্থিত হবে তাও তারা জানেনা।’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ লা-ইয়া'লামু মান্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বিল্ গইবা ইল্লাল্লা-হ্ অমা-ইয়াশ্'ঊরূনা আইয়্যা-না ইয়ুব্'আছূন্।

সমকালীন বাংলা

বল, ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে কেহই বিষয়ের জ্ঞান রাখে না এবং উহারা জানে না উহারা কখন উত্থিত হইবে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

না, সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, বরং তারা সে সম্পর্কে সন্দেহে আছে, বরং সে বিষয়ে তারা অন্ধ।

বাংলা উচ্চারণ

বালিদ্ দা-রকা 'ইল্মুহুম্ ফিল্ আ-খিরতি বাল্ হুম্ ফী শাক্কিম্ মিন্হা-বাল্ হুম্-মিন্হা 'আমূন্।

সমকালীন বাংলা

সম্পর্কে উহাদের জ্ঞান তো নিঃশেষ হইয়াছে ; উহারা তো এ বিষয়ে সন্দিগ্ধ, বরং এ বিষয়ে উহারা অন্ধ।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিররা বলে: ‘‘আমরা এবং আমাদের পূর্ব পুরুষরা যখন মাটির সাথে মিশে যাবো, তখন কি আমাদের পুনরায় জীবিত করে উঠিয়ে আনা হবে?

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লাল্ লাযীনা কাফারূ য় আ ইযা-কুন্না তুরা-বাঁও অ আ-বা-য়ুনা য় আইন্না লামুখ্রাজুন্।

সমকালীন বাংলা

কাফিররা বলে, ‘আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষেরা মৃত্তিকায় পর্যবসিত হইয়া গেলেও কি আমাদেরকে উত্থিত করা হইবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

এ বিষয়ে তো আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকে ইতোপূর্বেও ধমক দেয়া হয়েছিল। এ - তো আগের কালের লোকদের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়।’’

বাংলা উচ্চারণ

লাক্বদ্ উ'ইদ্না-হাযা-নাহ্নু অ আ-বা-য়ুনা মিন্ ক্বাব্লু ইন্ হা-যা য় ইল্লায় আসা-ত্বীরুল্ আউওয়ালীন্।

সমকালীন বাংলা

‘এই বিষয়ে তো আমাদেরকে এবং পূর্বে আমাদের পূর্বপুরুষগণকেও ভীতি প্রদর্শন করা হইয়াছিল। ইহা তো পূর্ববর্তীদের উপকথা ব্যতীত আর কিছু নহে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘পৃথিবী ভ্রমণ করে দেখো, অপরাধীদের পরিণতি কী হয়েছিল?’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ সীরূ ফিল্ র্আদ্বি ফান্জুরূ কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুল্ মুজরিমীন্।

সমকালীন বাংলা

বল, ‘পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং দেখ অপরাধীদের পরিণাম কিরূপ হইয়াছে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের ব্যাপারে দুঃখ করোনা, আর তাদের চক্রান্তের কারণে মনও ছোট করোনা।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-তাহ্যান্ 'আলাইহিম্ অলা-তাকুন্ ফী দ্বোয়াইক্বিম্ মিম্মা-ইয়াম্কুরূন্।

সমকালীন বাংলা

উহাদের সম্পর্কে তুমি দুঃখ করিও না এবং উহাদের ষড়যন্ত্রে মনঃক্ষুন্ন হইও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘কখন আসবে এই ওয়াদার সময়টি, সত্যবাদী হয়ে থাকলে বলো।’

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়াকু লূনা মাতা- হা-যাল্ ওয়া'দু ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।

সমকালীন বাংলা

উহারা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, কখন এই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হইবে?’

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি বলো: ‘তোমরা যা নিয়ে তাড়াহুড়া করছো তার কিছু কিছু বিষয় তোমাদের নিকটবর্তী হয়ে গেছে।’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ 'আসা য় আইঁ ইয়্যাকূনা রদিফা লাকুম্ বা'দ্বুল্লাযী তাস্তা'জ্বিলূন্।

সমকালীন বাংলা

বল, ‘তোমরা যে বিষয় ত্বরান্নিত করিতে চাহিতেছ সম্ভবত তাহার কিছু তোমাদের নিকটবর্তী হইয়াছে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মানুষের প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই শোকর আদায় করেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইন্না রব্বাকা লাযূ ফাদ্ব্লিন্ 'আলান্ না-সি অলা-কিন্না আক্ছারহুম্ লা-ইয়াশ্কুরূন্।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল; কিন্তু উহাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু অবশ্যি জানেন তাদের মন যা গোপন করে আর যা তারা এলান (প্রকাশ) করে।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইন্না রব্বাকা লা-ইয়া'লামু মা- তুকিন্নু ছুদূরুহুম্ অমা-ইয়ু'লিনূন্।

সমকালীন বাংলা

উহাদের অন্তর যাহা গোপন করে এবং উহারা যাহা প্রকাশ করে তাহা তোমার প্রতিপালক অবশ্যই জানেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আসমান ও জমিনে এমন কোনো নেই, যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে রেকর্ড করা নেই।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-মিন্ গ-য়িবাতিন্ ফিস্ সামা-য়ি অল্ র্আদ্বি ইল্লা-ফী কিতা-বিম্ মুবীন্।

সমকালীন বাংলা

আকাশে ও পৃথিবীতে এমন কোন গোপন রহস্য নাই, যাহা সুস্পষ্ট কিতাবে নাই।

আবদুস শহীদ নাসিম

বনি ইসরাঈল যেসব বিষয়ে মতভেদ করে, তার অধিকাংশই এ কুরআন তাদের বলে দেয়।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না হা-যাল্ ক্বরআ-না ইয়াকুছ্ছু 'আলা-বানী য় ইস্রা-য়ীলা আক্ছারাল্লাযী হুম্ ফীহি ইয়াখ্তালিফূন্।

সমকালীন বাংলা

বনী ইসরাঈল যেই সমস্তবিষয়ে মতভেদ করে, এই কুরআন তাহার অধিকাংশ তাহাদের নিকট বিবৃত করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর নিশ্চয়ই এ কুরআন মুমিনদের জন্যে হিদায়াত এবং রহমত।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইন্নাহূ লাহুদাঁও অ রহ্মাতু ল্লিল্ মুমিনীন্।

সমকালীন বাংলা

এবং নিশ্চয়ই ইহা মু’মিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু তাঁর বিধান মতো তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, মহাজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না রব্বাকা ইয়াকদ্বী বাইনাহুম্ বিহুক্মিহী অহুওয়াল্ 'আযীযুল্ 'আলীম্।

সমকালীন বাংলা

তোমার প্রতিপালক তো তাঁহার বিধান অনুযায়ী উহাদের মধ্যে ফায়সালা করিয়া দিবেন। তিনি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব তাওয়াক্কুল করো আল্লাহর উপর। নিশ্চয়ই তুমি সুস্পষ্ট সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।

বাংলা উচ্চারণ

ফাতাওয়াক্কাল্ 'আলা ল্লা-হ্ ইন্নাকা 'আলাল্ হাকক্বিল্ মুবীন্।

সমকালীন বাংলা

অতএব, আপনি আল্লাহর উপর ভরসা করুন। নিশ্চয় আপনি সত্য ও স্পষ্ট পথে আছনে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তো মৃতকে কথা শুনাতে পারবেনা এবং বধিরকেও পারবেনা আহবান শুনাতে, যখন তারা মুখ ফিরিয়ে চলে যায়।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাকা লা-তুস্ মি'উল্ মাওতা অলা-তুস্মি'উছ্ ছুম্মাদ্দু'আ-য়া ইযা-অল্লাও মুদ্বিরীন্।

সমকালীন বাংলা

মৃতকে তো তুমি কথা শোনাইতে পারিবে না, বধিরকেও পারিবে না আহ্বান শোনাইতে, যখন উহারা পিঠ ফিরাইয়া চলিয়া যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি অন্ধদের সঠিক পথে আনতে পারবেনা তাদের ভুল পথ থেকে। তুমি শুনাতে পারবে তো কেবল তাদেরকে, যারা আমাদের আয়াতের প্রতি ঈমান আনে, আর তারাই হয়ে থাকে আত্মসমর্পণকারী।

বাংলা উচ্চারণ

অমা য় আন্তা বিহা-দিল্ 'উম্য়ি 'আন্ দ্বোয়ালা-লাতিহিম্ ইন্ তুস্মি'উ ইল্লা-মাইঁ ইয়ুমিনু বিআ-ইয়া-তিনা-ফাহুম্ মুস্লিমূন্।

সমকালীন বাংলা

তুমি অন্ধদেরকে উহাদের পথভ্রষ্টতা হইতে পথে আনিতে পারিবে না। তুমি শোনাইতে পারিবে কেবল তাহাদেরকে, যাহারা আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে। আর তাহারাই আত্মসর্মপণকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন ঘোষিত শাস্তি তাদের নিকটবর্তী হবে, তখন আমরা মাটির ভেতর থেকে তাদের জন্যে বের করে আনবো একটি জীব (দাববাতুল আর্দ), যে তাদের সাথে কথা বলবে। কারণ, মানুষ আমাদের আয়াতের প্রতি একীন রাখেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইযা-অক্বা'আল্ ক্বাওলু 'আলাইহিম্ আখ্রাজনা লাহুম্ দা-ব্বাতাম্ মিনাল্ র্আদ্বি তুকাল্লিমুহুম্ আন্নান্ না-সা কা-নূ বি আ-ইয়া-তিনা-লা-ইয়ূক্বিনূন্।

সমকালীন বাংলা

যখন ঘোষিত শাস্তি উহাদের নিকট আসিবে তখন আমি মৃত্তিকাগর্ভ হইতে বাহির করিব এক জীব, যাহা উহাদের সঙ্গে কথা বলিবে, এইজন্য যে, মানুষ আমার নিদর্শনে অবিশ্বাসী।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো সেদিনের কথা, যেদিন আমরা প্রত্যেক উম্মত থেকে একটি দলকে সমবেত করবো। যারা আমাদের আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করতো; তাদেরকে সারিবদ্ধ করা হবে।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়াওমা নাহ্শুরু মিন্ কুল্লি উম্মাতিন্ ফাওজ্বাম্ মিম্মাইঁ ইয়ুকায্যিবু বিআ-ইয়া-তিনা- ফাহুম ইয়ূযা'ঊন্।

সমকালীন বাংলা

স্মরণ কর সেই দিনের কথা, যেই দিন আমি সমবেত করিব প্রত্যেক সম্প্রদায় হইতে একএকটি দলকে, যাহারা আমার নিদর্শনাবলী প্রত্যাখ্যান করিত আর উহাদেরকে সারিবদ্ধ করা হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তারা উপস্থিত হবে, বলবেন: তোমরাই কি আমার আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছিলে? অথচ সেটাকে তোমাদের জ্ঞানে ধারণ করতে পারোনি? এছাড়াও তোমরা আর কী কী করেছিলে?

বাংলা উচ্চারণ

হাত্তা য় ইযা-জ্বা-য়ূ ক্ব-লা আকায্যাব্তুম্ বিআ-ইয়া-তী অ লাম্ তুহীতু বিহা-'ইল্মান্ আম্মা-যা-কুন্তুম্ তা'মাল্ন্।

সমকালীন বাংলা

যখন উহারা সমাগত হইবে তখন উহাদেরকে বলিবেন, ‘তোমরা কি আমার নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করিয়াছিলে, অথচ উহা তোমরা জ্ঞানায়ত্ত করিতে পার নাই? বরং তোমরা আরও কিছু করিতেছিলে?’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের যুলুমের কারণে তাদের উপর ঘোষিত শাস্তি এসে পড়বে, ফলে তারা কথাই বলতে পারবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অ অক্ব'আল্ ক্বওলু 'আলাইহিম্ বিমা-জোয়ালামূ ফাহুম্ লা- ইয়ান্ত্বিকূন্।

সমকালীন বাংলা

সীমালংঘন হেতু উহাদের উপর ঘোষিত শাস্তি আসিয়া পড়িবে; ফলে উহারা কিছুই বলিতে পারিবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি দেখেনা আমরা রাতকে সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্যে, আর দিনকে বানিয়েছি দৃশ্যমান। বিশ্বাসীদের জন্যে অবশ্যি এতে রয়েছে নিদর্শন।

বাংলা উচ্চারণ

আলাম্ ইয়ারও আন্না জ্বা'আল্নাল্লাইলা লিইয়াস্কুনূ ফীহি অন্নাহা-র মুব্ছির- ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্লিক্বওমিই ইয়ুমিনূন্।

সমকালীন বাংলা

উহারা কি অনুধাবন করে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করিয়াছি উহাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিবসকে করিয়াছি আলোকপ্রদ? ইহাতে সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন শিঙ্গায় (প্রথমবার) ফুৎকার দেয়া হবে, সেদিন মহাকাশ ও পৃথিবীর সবাই বিহবল হয়ে পড়বে, তবে যাদের চাইবেন তারা ছাড়া। সবাই বিনীত হয়ে তাঁর কাছে উপস্থিত হবে।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়াওমা ইয়ুন্ফাখু ফিছ্ ছূরি ফাফাযি'আ মান্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অ মান্ ফিল্ র্আদ্বি ইল্লা-মান্ শা-য়াল্লা-হ্ অ কুল্লুন্ আতাওহু দা-খিরীন্।

সমকালীন বাংলা

এবং যেদিন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে, সেই দিন আকাশমণ্ডলীর ও পৃথিবীর সকলেই ভীতবিহবল হইয়া পড়িবে, তবে যাহাদেরকে চাহিবেন তাহারা ব্যতীত এবং সকলেই তাঁহার নিকট আসিবে বিনীত অবস্থায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি পাহাড় পর্বত দেখছো, মনে করছো সেগুলো অটল, অথচ সেদিন সেগুলো মেঘমালার মতোই ধাবিত হবে। এটাই আল্লাহর সৃষ্টি - কৌশল, যিনি প্রতিটি বস্ত্তকে করেছেন সুষম। তোমরা যা করো সে বিষয়ে তিনি খবর রাখেন।

বাংলা উচ্চারণ

অ তারল্ জ্বিবা-লা তাহ্সাবুহা- জ্বা-মিদাতাঁও অহিয়া তার্মুরু র্মারস্ সাহা-ব্ ছুন্'আল্ল-হি ল্লাযী য় আত্ক্বনা কুল্লা শাইয়িন্ ইন্নাহু খাবীরুম্ বিমা-তাফ্'আলূন্।

সমকালীন বাংলা

তুমি পর্বতমালা দেখিতেছ, মনে করিতেছ উহা অচল, অথচ উহারা হইবে মেঘপুঞ্জের ন্যায় সঞ্চরমাণ। ইহা আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্য, যিনি সমস্ত কিছুকে করিয়াছেন সুষম। তোমরা যাহা কর সে সম্বন্ধে তিনি সম্যক অবগত।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে ভালো কাজ নিয়ে আসবে, সে পাবে তার চাইতে উত্তম প্রতিফল। তারা সেদিনকার শংকা থেকে থাকবে মুক্ত।

বাংলা উচ্চারণ

মান্ জ্বা-য়া বিল্হাসানাতি ফালাহূ খইরুম্ মিন্হা-অ হুম্ মিন্ ফাযাই ইয়াওমায়িযিন্ আ-মিনূন্।

সমকালীন বাংলা

যে কেহ সৎকর্ম লইয়া আসিবে, সে উহা হইতে উৎকৃষ্ট প্রতিফল পাইবে এবং সেই দিন উহারা শংকা হইতে নিরাপদ থাকিবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যে মন্দ কাজ নিয়ে আসবে তাকে উপুড় করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে। তোমরা যা করতে তারই প্রতিফল তোমাদের দেয়া হবে।

বাংলা উচ্চারণ

অ মান্ জ্বা-য়া বিস্ সাইয়িয়াতি ফাকুব্বাত্ উজুহু হুম্ ফীন্নার্- হাল্ তুজযাওনা ইল্লা-মা-কুন্তুম্ তা'মালূন্।

সমকালীন বাংলা

যে কেহ অসৎকর্ম লইয়া আসিবে, তাহাকে অধোমুখে নিক্ষেপ করা হইবে দোযখে এবং উহাদেরকে বলা হইবে, ‘তোমরা যাহা করিতে তাহারই প্রতিফল তোমাদেরকে দেওয়া হইতেছে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এই নগরীর প্রভুর ইবাদত করতে যিনি এটিকে করেছেন সম্মানিত। সব কিছুই তাঁর। আমাকে আরো আদেশ দেয়া হয়েছে আমি যেনো আত্মসমর্পণকারীদের অন্তরভুক্ত হই।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নামা য় উর্মিতু আন্ আ'বুদা রব্বাহা-যিহিল্ বাল্দাতিল্লাযী র্হারামাহা-অ লাহূ কুল্লু শাইয়িঁও অ উর্মিতু আন্ আকূনা মিনাল্ মুস্লিমীন্।

সমকালীন বাংলা

আমি তো আদিষ্ট হইয়াছি এই নগরীর প্রভুর ‘ইবাদত করিতে, যিনি ইহাকে করিয়াছেন সম্মানিত। সমস্তকিছু তাঁহারই। আমি আরও আদিষ্ট হইয়াছি, যেন আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হই।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমি যেনো তিলাওয়াত (অনুসরণ) করি আল কুরআন। অত:পর যে কেউ সঠিক পথে চলবে, সে সঠিক পথে চলবে নিজেরই কল্যাণে। আর যে কেউ ভুল পথ অবলম্বন করবে, তুমি তার ব্যাপারে বলবে: আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র।

বাংলা উচ্চারণ

অ আন্ আত্লুওয়াল্ ক্বরআ-না ফামানিহ্ তাদা-ফাইন্নামা-ইয়াহ্তাদী লিনাফ্সিহী অমান্ দ্বোয়াল্লা ফাকুল্ ইন্নামা য় আনা মিনাল্ মুন্যিরীন্।

সমকালীন বাংলা

আমি আরও আদিষ্ট হইয়াছি, কুরআন তিলাওয়াত করিতে; অতএব যে ব্যক্তি সৎপথ অনুসরণ করে, সে সৎপথ অনুসরণ করে নিজেরই কল্যাণের জন্য। আর কেহ ভ্রান্তপথ অবলম্বন করিলে তুমি বলিও, ‘আমি তো কেবল সতর্ককারীদের মধ্যে একজন।’

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: আল হামদুলিল্লাহ! তিনি শীঘ্রি তোমাদের দেখাবেন তাঁর নিদর্শনসমূহ, তখন তোমরা তা বুঝতে পারবে। তোমরা যা আমল করছো সে ব্যাপারে তোমার প্রভু গাফিল নন।

বাংলা উচ্চারণ

অ কুলিল্ হাম্দু লিল্লা-হি সাইয়ুরীকুম্ আ-ইয়া-তিহী ফাতা'রিফূনাহা- অমা-রব্বুকা বিগ-ফিলিন্ আম্মা-তা'মালূন্।

সমকালীন বাংলা

আর বল, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর তিনি তোমাদেরকে সত্বর দেখাইবেন তাঁহার নিদর্শন; তখন তোমরা উহা বুঝিতে পারিবে।’ তোমরা যাহা কর সে সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালক গাফিল নন।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme