আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; আকাশসমূহে এবং পৃথিবীতে যা আছে, সবকিছুই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। আর তিনিই মহাশক্তিশালী, মহাপ্রজ্ঞাবান।
নিশ্চয়ই তাদেরকে ভালোবাসেন, যারা তাঁর পথে এমনভাবে সারিবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে, যেন তারা সীসা দিয়ে গাঁথা এক সুদৃঢ় প্রাচীর।
আবদুস শহীদ নাসিম
মূসা যখন তার কওমকে বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দাও? অথচ তোমরা তো জানো, আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রসূল। তারপর তারা যখন বক্রতা অবলম্বন করে তখন আল্লাহ্ও তাদের অন্তরকে বক্র করে দেন। ফাসিকদের সঠিক পথ দেখাননা।
আর যখন মূসা তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, “হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আমাকে কেন কষ্ট দিচ্ছো? অথচ তোমরা তো জানো যে, আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর রাসূল।” অতঃপর যখন তারা বক্রপথে চলল, তখন তাদের অন্তরকে বক্র করে দিলেন। আর অবাধ্য জাতিকে পথনির্দেশ করেন না।
Note
বক্রপথে বা বাঁকা পথে
আবদুস শহীদ নাসিম
স্মরণ করো, মরিয়মের পুত্র ঈসা যখন বলেছিল: ‘হে বনি ইসরাঈল! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর রসূল। আমার আগে থেকেই তোমাদের কাছে যে তাওরাত রয়েছে আমি তার সত্যায়ন করছি এবং আমি সুসংবাদ দিচ্ছি, আমার পরে একজন রসূল আসবেন, তাঁর নাম হবে আহমদ।’ তারপর সে (আহমদ) যখন স্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে তাদের কাছে এলো, তারা বললো: ‘এতো এক স্পষ্ট ম্যাজিক।’
আর যখন মারইয়ামের পুত্র ঈসা বলেছিলেন, “হে ইসরাঈলের সন্তানগণ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর রাসূল; আমার পূর্বে যে তাওরাত রয়েছে, আমি তার সত্যায়নকারী এবং আমার পরে এমন এক রাসূলের সুসংবাদদাতা, যার নাম আহমাদ।” অতঃপর যখন তিনি তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এলেন, তারা বলল, “এ তো স্পষ্ট জাদু।”
আবদুস শহীদ নাসিম
ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যাকে ইসলামের দিকে ডাকা সত্ত্বেও সে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর প্রতি আরোপ করে? যালিম লোকদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।
হে যারা ঈমান এনেছো, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বাণিজ্যের সন্ধান দেবো , যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে?
আবদুস শহীদ নাসিম
তাহলো: তোমরা ঈমান রাখবে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি, আর জিহাদ (চেষ্টা সংগ্রাম) করবে আল্লাহর পথে তোমাদের অর্থ সম্পদ এবং জান - প্রাণ দিয়ে। তোমাদের জন্যে এটাই কল্যাণকর যদি তোমরা জানো!
তোমরা ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহর পথে তোমাদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে সংগ্রাম করবে। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।
আবদুস শহীদ নাসিম
(এ তিজারত করলে) তিনি ক্ষমা করে দেবেন তোমাদের গুনাহ্ এবং তোমাদের দাখিল (প্রবেশ) করবেন জান্নাতে, যার নিচে দিয়ে থাকবে বহমান নদ নদী নহর। আরো থাকবে স্থায়ী জান্নাতে চমৎকার আবাস (বাসগৃহ) সমূহ। এটাই মহাসাফল্য!
তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে এমন উদ্যানসমূহে প্রবেশ করাবেন, যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়, এবং স্থায়ী উদ্যানসমূহে উত্তম বাসস্থানে। এটাই মহাসাফল্য।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের জন্যে আরো থাকবে যা তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো সেটা (অর্থাৎ) আল্লাহর সাহায্য আর নিকটবর্তী (সময়ের মধ্যে) বিজয়। (হে নবী!) মুমিনদের সুসংবাদ দাও।
আর আরেকটি, যা তোমরা ভালোবাসো; আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং আসন্ন বিজয়। আর মুমিনদের সুসংবাদ দাও।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হয়ে যাও, যেমন ঈসা ইবনে মরিয়ম হাওয়ারীদের (তার সাথিদের) বলেছিল: ‘আল্লাহর পথে কে হবে আমার সাহায্যকারী?’ হাওয়ারীরা বলেছিল: ‘আমরা হবো আল্লাহর পথে সাহায্যকারী।’ ফলে বনি ইসরাঈলের একদল লোক ঈমান আনে, আরেক দল করে কুফুরি। তখন আমরা ঈমান আনা লোকদের সাহায্য করলাম তাদের শত্রুদের মোকাবেলায় এবং তারা অর্জন করলো বিজয়।
হে যারা ঈমান এনেছো, তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও; যেমন মারইয়ামের পুত্র ঈসা শিষ্যদের বলেছিলেন, “আল্লাহর পথে আমার সাহায্যকারী কারা?” শিষ্যরা বলেছিল, “আমরাই আল্লাহর সাহায্যকারী।” অতঃপর ইসরাঈলের সন্তানদের একটি দল ঈমান এনেছিল এবং একটি দল অবিশ্বাস করেছিল। তারপর আমরা যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে শক্তি দিয়েছিলাম। ফলে তারাই বিজয়ী হয়েছিল।