You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আত তাওবা
Chapter 9, 129 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
Arabic, with marks
Arabic
বয়ান ফাউন্ডেশন
About this chapter
মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১২৯, রুকু সংখ্যা: ১৬
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-৩৭মক্কা বিজয়ের পর মুশরিকদের সাথে আচরণের বিস্তারিত নীতিমালা।
৩৮-৪২তবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণে মুনাফিকদের ওজর-বাহানা। মুমিনদের প্রতি অংশগ্রহণের নির্দেশ।
৪৩-৫৯তবুক যুদ্ধে মুনাফিকদের অংশগ্রহণ না করার তীব্র সমালোচনা এবং তাদের প্রতি ভৎর্সনা।
৬০যাকাত কারা পাবে ?
০৬১-০৭০মুনাফিকদের নিকৃষ্ট নীতির সমালোচনা।
০৭১-০৭২মুমিন পুরুষ ও নারীরা পরস্পরের অলি এবং তাদের শুভ পরিণাম।
০৭৩-১১০যুদ্ধ ও জিহাদের ব্যাপারে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য। মুমিনদের বৈশিষ্ট্য। মুনাফিকদের বাড়াবাড়ি।
১১১-১২৯মুমিনদের মহোত্তম গুণাবলি। মুশরিকদের জন্য নবীর ক্ষমা প্রার্থনা করা নিষেধ। মুমিনদের প্রতি আল্লাহর ক্ষমা ও নির্দেশাবলি। আল্লাহর রসূলের অনুপম গুণাবলি।
আবদুস শহীদ নাসিম
এটি সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা এবং তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেইসব মুশরিকদের প্রতি, যাদের সাথে তোমরা পারস্পারিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে।
فسيحوا في الأرض أربعة أشهر واعلموا أنكم غير معجزي الله ۙ وأن الله مخزي الكافرين
বয়ান ফাউন্ডেশন
সুতরাং তোমরা যমীনে বিচরণ কর চার মাস, আর জেনে রাখ, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না, আর নিশ্চয় কাফিরদেরকে অপদস্থকারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
মহান হজ্জের দিনে এবং আল্লাহর রসূলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা যাচ্ছে যে, নিশ্চয়ই মুশরিকদের ব্যাপারে দায়মুক্ত এবং তাঁর রসূলও। এখন (হে মুশরিকরা) তোমরা যদি তওবা করো, তাতেই রয়েছে তোমাদের কল্যাণ, আর যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখো, তোমরা আল্লাহকে অতিক্রম করতে (পালাতে) পারবে না। আর কাফিরদের সংবাদ দাও বেদনাদায়ক আযাবের।
وأذان من الله ورسوله إلى الناس يوم الحج الأكبر أن الله بريء من المشركين ۙ ورسوله ۚ فإن تبتم فهو خير لكم ۖ وإن توليتم فاعلموا أنكم غير معجزي الله ۗ وبشر الذين كفروا بعذاب أليم
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর মহান হজ্জের দিন* মানুষের প্রতি ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে ঘোষণা, নিশ্চয় মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলও। অতএব, যদি তোমরা তাওবা কর, তাহলে তা তোমাদের জন্য উত্তম। আর যদি তোমরা ফিরে যাও, তাহলে জেনে রাখ, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে ন
আবদুস শহীদ নাসিম
তবে মুশরিকদের মধ্যে যাদের সাথে তোমরা চুক্তিতে আবদ্ধ এবং তারা চুক্তি কোনো প্রকার লংঘন ও ভঙ্গ করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকেও সাহায্য করেনি, তাদের সাথে নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত চুক্তি বহাল রাখবে। কারণ, মুত্তাকিদের (ন্যায়পরায়ণদের) ভালোবাসেন।
إلا الذين عاهدتم من المشركين ثم لم ينقصوكم شيئا ولم يظاهروا عليكم أحدا فأتموا إليهم عهدهم إلى مدتهم ۚ إن الله يحب المتقين
বয়ান ফাউন্ডেশন
তবে মুশরিকদের মধ্য থেকে যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছ, অতঃপর তারা তোমাদের সাথে কোন ত্রুটি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করেনি, তোমরা তাদেরকে দেয়া চুক্তি তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত পূর্ণ কর। নিশ্চয় মুত্তাকীদের ভালবাসেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো শেষ হয়ে যাবে, তখন মুশরিকদের (দেশের মধ্যে) যেখানে পাবে হত্যা করবে, তাদের বন্দী করবে, অবরোধ করবে এবং প্রতিটি ঘাটিতে তাদের জন্যে ওঁৎ পেতে থাকবে। অবশ্য যদি তারা অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে, কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে, তবে তাদের রাস্তা খোলা রাখো। কারণ, নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল দয়াময়।
فإذا انسلخ الأشهر الحرم فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم وخذوهم واحصروهم واقعدوا لهم كل مرصد ۚ فإن تابوا وأقاموا الصلاة وآتوا الزكاة فخلوا سبيلهم ۚ إن الله غفور رحيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন তোমরা মুশরিকদেরকে যেখানেই পাও হত্যা কর এবং তাদেরকে পাকড়াও কর, তাদেরকে অবরোধ কর এবং তাদের জন্য প্রতিটি ঘাঁটিতে বসে থাক। তবে যদি তারা তাওবা করে এবং কায়েম করে, আর যাকাত দেয়, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্
আবদুস শহীদ নাসিম
মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তাকে আশ্রয় দাও, যাতে করে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়। তারপর তাকে তার নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেবে। কারণ তারা এমন লোক, যারা জানেনা।
وإن أحد من المشركين استجارك فأجره حتى يسمع كلام الله ثم أبلغه مأمنه ۚ ذلك بأنهم قوم لا يعلمون
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যদি মুশরিকদের কেউ তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তাহলে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনে, অতঃপর তাকে পৌঁছিয়ে দাও তার নিরাপদ স্থানে। তা এই জন্য যে, তারা এমন এক কওম, যারা জানে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
ও তাঁর রসূলের কাছে কী করে মুশরিকদের চুক্তি বহাল থাকতে পারে, তাদের ছাড়া যাদের সাথে তোমরা মসজিদুল হারামের কাছে পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে (যদি তারা তোমাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তির উপর কায়েম না থাকে)। তবে, তারা যতোদিন তোমাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তির উপর কায়েম থাকবে, ততোদিন তোমরাও তাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তির উপর কায়েম থাকবে। অবশ্যি মুত্তাকিদের পছন্দ করেন।
كيف يكون للمشركين عهد عند الله وعند رسوله إلا الذين عاهدتم عند المسجد الحرام ۖ فما استقاموا لكم فاستقيموا لهم ۚ إن الله يحب المتقين
বয়ান ফাউন্ডেশন
কীভাবে মুশরিকদের জন্য অঙ্গীকার থাকবে আল্লাহর কাছে ও তাঁর রাসূলের কাছে? অবশ্য যাদের সাথে মসজিদে হারামে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ তাদের কথা আলাদা। অতএব যতক্ষণ তারা তোমাদের জন্য ঠিক থাকে, ততক্ষণ তোমরাও তাদের জন্য ঠিক থাক। নিশ্চয় মুত্তাকীদের ভালবাসেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
কী করে থাকবে? তারা যদি তোমাদের উপর জয়ী হয়, তবে তারা তো তোমাদের সাথের আত্মীয়তা ও অঙ্গীকারের কোনোই মর্যাদা দেয়না। তারা মুখে তোমাদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে, অথচ তাদের অন্তর তা অস্বীকার করে। তাদের অধিকাংশই ফাসিক - সীমালংঘনকারী।
كيف وإن يظهروا عليكم لا يرقبوا فيكم إلا ولا ذمة ۚ يرضونكم بأفواههم وتأبى قلوبهم وأكثرهم فاسقون
বয়ান ফাউন্ডেশন
কীভাবে থাকবে (মুশরিকদের জন্য অঙ্গীকার)? অথচ তারা যদি তোমাদের উপর জয়ী হয়, তাহলে তারা তোমাদের আত্মীয়তা ও অঙ্গীকারের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখে না। তারা তাদের মুখের (কথা) দ্বারা তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করে, কিন্তু তাদের অন্তর তা অস্বীকার করে। আর তাদের অধিকাংশ ফাসিক।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে আল্লাহর আয়াত এবং বাধা সৃষ্টি করে আল্লাহর পথে। নিশ্চয়ই তাদের কর্মকান্ড খুবই নিকৃষ্ট।
فإن تابوا وأقاموا الصلاة وآتوا الزكاة فإخوانكم في الدين ۗ ونفصل الآيات لقوم يعلمون
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতএব যদি তারা তাওবা করে, কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে, তবে দীনের মধ্যে তারা তোমাদের ভাই। আর আমি আয়াতসমূহ যথাযথভাবে বর্ণনা করি এমন কওমের জন্য যারা জানে।
আবদুস শহীদ নাসিম
চুক্তি সম্পাদনের পর তারা যদি তোমাদের সাথে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করে এবং তোমাদের দীন নিয়ে বিদ্রুপ করে, তবে কুফরের (পতাকাবাহী) নেতাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো, যাতে তারা বিরত হয়, কারণ তাদের কোনো অঙ্গীকার নেই।
وإن نكثوا أيمانهم من بعد عهدهم وطعنوا في دينكم فقاتلوا أئمة الكفر ۙ إنهم لا أيمان لهم لعلهم ينتهون
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যদি তারা তাদের অঙ্গীকারের পর তাদের কসম ভঙ্গ করে এবং তোমাদের দীন সম্পর্কে কটূক্তি করে, তাহলে তোমরা কুফরের নেতাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর, নিশ্চয় তাদের কোন কসম নেই, যেন তারা বিরত হয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা কি সেই লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেনা, যারা নিজেদের অঙ্গীকার ভেঙ্গে ফেলেছে এবং রসূলকে বহিষ্কারের সংকল্প করেছিল? আর তারাই তো প্রথমে তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় করছো? অথচ আল্লাহই তো সর্বশ্রেষ্ঠ অধিকারী যে তোমরা তাঁকে ভয় করবে, যদি তোমরা হয়ে থাকো।
ألا تقاتلون قوما نكثوا أيمانهم وهموا بإخراج الرسول وهم بدءوكم أول مرة ۚ أتخشونهم ۚ فالله أحق أن تخشوه إن كنتم مؤمنين
বয়ান ফাউন্ডেশন
তোমরা কেন এমন কওমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর না, যারা তাদের কসম ভঙ্গ করেছে এবং রাসূলকে বহিষ্কার করার ইচ্ছা পোষণ করেছে, আর তারাই প্রথমে তোমাদের সাথে আরম্ভ করেছে। তোমরা কি তাদেরকে ভয় করছ? অথচ অধিক উপযুক্ত যে, তোমরা তাঁকে ভয় করবে, যদি তোমরা হও।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। তোমাদের হাতে তাদের শাস্তি দেবেন, তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করবেন এবং মুমিনদের হৃদয়কে নিরাময় করে দেবেন,
قاتلوهم يعذبهم الله بأيديكم ويخزهم وينصركم عليهم ويشف صدور قوم مؤمنين
বয়ান ফাউন্ডেশন
তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, তোমাদের হাতে তাদেরকে আযাব দেবেন এবং তাদেরকে অপদস্থ করবেন, আর তোমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন এবং কওমের অন্তরসমূহকে চিন্তামুক্ত করবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর তিনি তাদের (মুমিনদের) অন্তরের ক্ষোভ দূর করে দেবেন। যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। অতীব জ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।
ويذهب غيظ قلوبهم ۗ ويتوب الله على من يشاء ۗ والله عليم حكيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তাদের অন্তরসমূহের ক্রোধ দূর করবেন এবং যাকে চান তার তাওবা কবুল করেন। আর মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা কি মনে করেছো যে, তোমাদের এতোটুকুতেই ছেড়ে দেয়া হবে, অথচ এখন পর্যন্ত বাস্তবে জেনে নেননি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং , তাঁর রসূল ও মুমিনদের ছাড়া অন্য কাউকেও অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেনি? ভালোভাবেই জানেন তোমরা যা আমল করো।
أم حسبتم أن تتركوا ولما يعلم الله الذين جاهدوا منكم ولم يتخذوا من دون الله ولا رسوله ولا المؤمنين وليجة ۚ والله خبير بما تعملون
বয়ান ফাউন্ডেশন
তোমরা কি মনে করেছ যে, তোমাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে? অথচ এখনও যাচাই করেননি যে, তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং কারা , তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ ছাড়া কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেনি। আর তোমরা যা কর সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করা মুশরিকদের কাজ নয়, কারণ তারা নিজেরাই নিজেদের কুফুরির সাক্ষী। তারা এমন লোক যাদের সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। জাহান্নামেই তারা স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।
ما كان للمشركين أن يعمروا مساجد الله شاهدين على أنفسهم بالكفر ۚ أولئك حبطت أعمالهم وفي النار هم خالدون
বয়ান ফাউন্ডেশন
মুশরিকদের অধিকার নেই যে, তারা আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, নিজদের উপর কুফরীর সাক্ষ্য দেয়া অবস্থায়। এদেরই আমলসমূহ বরবাদ হয়েছে এবং আগুনেই তারা স্থায়ী হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ করবে তারা, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, আখিরাতের প্রতি, যারা কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং ছাড়া আর কাউকেও ভয় করেনা। আশা করা যায় এরা হিদায়াতের পথে চলবে।
إنما يعمر مساجد الله من آمن بالله واليوم الآخر وأقام الصلاة وآتى الزكاة ولم يخش إلا الله ۖ فعسى أولئك أن يكونوا من المهتدين
বয়ান ফাউন্ডেশন
একমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যারা ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং ছাড়া কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, ওরা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো আর মসজিদুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণ করাকে ঐসব লোকদের কাজের সমান গণ্য করছো, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং জিহাদ করেছে আল্লাহর পথে? আল্লাহর কাছে এরা উভয়ে সমতুল্য নয়। যালিমদের সঠিক পথ দেখান না।
۞ أجعلتم سقاية الحاج وعمارة المسجد الحرام كمن آمن بالله واليوم الآخر وجاهد في سبيل الله ۚ لا يستوون عند الله ۗ والله لا يهدي القوم الظالمين
বয়ান ফাউন্ডেশন
তোমরা কি হাজীদের পানি পান করান ও মসজিদুল হারাম আবাদ করাকে ঐ ব্যক্তির মত বিবেচনা কর, যে ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। তারা আল্লাহর কাছে বরাবর নয়। আর যালিম কওমকে হিদায়াত দেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আল্লাহর কাছে তারা শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী এবং তারাই হবে ।
তথায় তারা থাকবে চিরকাল। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমাদের বাবা ও ভাইদের অলি (অভিভাবক ও বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করোনা, যদি তারা ঈমানের উপর কুফুরিকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়। তোমাদের মধ্যে যে কেউ তাদের অলি বানাবে তারা যালিম হিসেবে গণ্য হবে।
يا أيها الذين آمنوا لا تتخذوا آباءكم وإخوانكم أولياء إن استحبوا الكفر على الإيمان ۚ ومن يتولهم منكم فأولئك هم الظالمون
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজদের পিতা ও ভাইদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমান অপেক্ষা কুফরীকে প্রিয় মনে করে। তোমাদের মধ্য থেকে যারা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে তারাই যালিম।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! তাদের বলো: ‘‘যদি তোমাদের কাছে আল্লাহর চাইতে, তাঁর রসূলের চাইতে এবং তাঁর পথে জিহাদের চাইতে বেশি প্রিয় হয় তোমাদের পিতা, সন্তান, ভাই, স্ত্রী, আত্মীয় - স্বজন, তোমাদের উপার্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা - বাণিজ্য যার মন্দাকে তোমরা ভয় পাও এবং তোমাদের প্রিয় বাসস্থান, তবে অপেক্ষা করো আল্লাহর ফায়সালা আসা পর্যন্ত। ফাসিক লোকদের সঠিক পথ দেখান না।’’
قل إن كان آباؤكم وأبناؤكم وإخوانكم وأزواجكم وعشيرتكم وأموال اقترفتموها وتجارة تخشون كسادها ومساكن ترضونها أحب إليكم من الله ورسوله وجهاد في سبيله فتربصوا حتى يأتي الله بأمره ۗ والله لا يهدي القوم الفاسقين
বয়ান ফাউন্ডেশন
বল, ‘তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের সে সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ, আর সে ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার আশঙ্কা তোমরা করছ এবং সে বাসস্থান, যা তোমরা পছন্দ করছ, যদি তোমাদের কাছে অধিক প্রিয় হয় , তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ ক
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের সাহায্য করেছেন বহু জায়গায় এবং হোনায়েনের (যুদ্ধের) দিনও, যখন তোমাদের আনন্দিত করেছিল তোমাদের সংখ্যার আধিক্য। কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এমন কি, ভূ - খন্ড বিস্তৃত থাকা সত্ত্বেও তোমাদের জন্যে সংকীর্ণ হয়ে আসছিল, অত:পর তোমরা পিছু হটে গিয়েছিলে।
لقد نصركم الله في مواطن كثيرة ۙ ويوم حنين ۙ إذ أعجبتكم كثرتكم فلم تغن عنكم شيئا وضاقت عليكم الأرض بما رحبت ثم وليتم مدبرين
বয়ান ফাউন্ডেশন
অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন বহু জায়গায় এবং হুনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল, অথচ তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি। আর যমীন প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের উপর সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করেছি
আবদুস শহীদ নাসিম
অবশেষে তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর রসূল ও মুমিনদের প্রতি নাযিল করেন প্রশান্তি, আরো নাযিল করেন এমন এক বাহিনী, যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। পক্ষান্তরে তিনি কঠিন শাস্তি প্রদান করেন কাফিরদের। এটাই কাফিরদের কর্মের প্রতিদান।
ثم أنزل الله سكينته على رسوله وعلى المؤمنين وأنزل جنودا لم تروها وعذب الذين كفروا ۚ وذلك جزاء الكافرين
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারপর তাঁর পক্ষ থেকে প্রশান্তি নাযিল করলেন তাঁর রাসূলের উপর ও মুমিনদের উপর এবং নাযিল করলেন এমন সৈন্যবাহিনী যাদেরকে তোমরা দেখনি, আর কাফিরদেরকে আযাব দিলেন। আর এটা কাফিরদের কর্মফল।
আবদুস শহীদ নাসিম
এরপরও যাকে চান তার তওবা কবুল করবেন। পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।
ثم يتوب الله من بعد ذلك على من يشاء ۗ والله غفور رحيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
এরপর যাদেরকে ইচ্ছা তাদের তাওবা কবূল করবেন। আর অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! মুশরিকরা অপবিত্র। সুতরাং এবারের পর তারা যেনো আর মসজিদুল হারামের কাছেও না আসে। তোমরা যদি দারিদ্রের আশংকা করো, তবে চাইলে তাঁর নিজ অনুগ্রহে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।
يا أيها الذين آمنوا إنما المشركون نجس فلا يقربوا المسجد الحرام بعد عامهم هذا ۚ وإن خفتم عيلة فسوف يغنيكم الله من فضله إن شاء ۚ إن الله عليم حكيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে ঈমানদারগণ, নিশ্চয় মুশরিকরা নাপাক, সুতরাং তারা যেন মসজিদুল হারামের নিকটবর্তী না হয় তাদের এ বছরের পর। আর যদি তোমরা দারিদ্র্যকে ভয় কর, তবে চাইলে নিজ অনুগ্রহে তোমাদের অভাবমুক্ত করবেন। নিশ্চয়ই মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
যাদের প্রতি ইতোপূর্বে কিতাব নাযিল করা হয়েছিল তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনেনা আল্লাহর প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং ও তাঁর রসূল যা কিছু হারাম করেছেন, তা হারাম হিসেবে মানে না, আর সত্য দীনের আনুগত্য অনুসরণ করেনা, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো, যতোক্ষণ পর্যন্ত তারা নত হয়ে নিজেদের হাতে জিযিয়া (নিরাপত্তা কর) না দেবে।
قاتلوا الذين لا يؤمنون بالله ولا باليوم الآخر ولا يحرمون ما حرم الله ورسوله ولا يدينون دين الحق من الذين أوتوا الكتاب حتى يعطوا الجزية عن يد وهم صاغرون
বয়ান ফাউন্ডেশন
তোমরা লড়াই কর আহলে কিতাবের সে সব লোকের সাথে যারা ও শেষ দিবসে ঈমান রাখে না এবং ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না, আর সত্য দীন গ্রহণ করে না, যতক্ষণ না তারা স্বহস্তে নত হয়ে জিয্য়া দেয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
ইহুদিরা বলে, ‘উযায়ের আল্লাহর পুত্র’। নাসারারা বলে : ‘মসিহ্ আল্লাহর পুত্র’। এগুলো তাদের মুখের কথা। এরা তাদের মতোই কথা বলে, যারা ইতোপূর্বে কুফুরি করেছিল। তাদের ধ্বংস করুন! কোন্ দিকে তারা ফিরে যাচ্ছে?
وقالت اليهود عزير ابن الله وقالت النصارى المسيح ابن الله ۖ ذلك قولهم بأفواههم ۖ يضاهئون قول الذين كفروا من قبل ۚ قاتلهم الله ۚ أنى يؤفكون
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর ইয়াহূদীরা বলে, উযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে, মাসীহ আল্লাহর পুত্র। এটা তাদের মুখের কথা, তারা সেসব লোকের কথার অনুরূপ বলছে যারা ইতঃপূর্বে করেছে। তাদেরকে ধ্বংস করুন, কোথায় ফেরানো হচ্ছে এদেরকে?
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা ছাড়া তাদের পন্ডিত এবং সংসার বিরাগীদেরও রব বানিয়ে নিয়েছে এবং মরিয়মের পুত্র মসিহকেও। অথচ তাদেরকে এক ইলাহ্ (আল্লাহকে) ছাড়া আর কারো ইবাদত করতে আদেশ করা হয়নি। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। তারা যাদেরকে তাঁর শরিক বানায় তিনি তাদের থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।
اتخذوا أحبارهم ورهبانهم أربابا من دون الله والمسيح ابن مريم وما أمروا إلا ليعبدوا إلها واحدا ۖ لا إله إلا هو ۚ سبحانه عما يشركون
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসার-বিরাগীদের* রব হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং মারইয়ামপুত্র মাসীহকেও। অথচ তারা এক ইলাহের ইবাদত করার জন্যই আদিষ্ট হয়েছে, তিনি ছাড়া কোন (হক) নেই। তারা যে শরীক করে তিনি তা থেকে পবিত্র। * এ স্থলে أحبار দ্বারা ইয়াহূদীদের ধর্
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায় তাদের মুখের ফুৎকারে। অথচ আর কিছুই চান না তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করা ছাড়া, যদিও কাফিররা তা পছন্দ করেনা।
هو الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون
বয়ান ফাউন্ডেশন
তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দীন সহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দীনের উপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা অপছন্দ করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! জেনে রাখো, পাদ্রী ও সংসার বিরাগীদের অনেকেই অন্যায়ভাবে মানুষের মাল সম্পদ গ্রাস করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে। যারা সোনা রূপা (অর্থ সম্পদ) সঞ্চয় করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করেনা, তাদেরকে সংবাদ দাও বেদনাদায়ক আযাবের।
۞ يا أيها الذين آمنوا إن كثيرا من الأحبار والرهبان ليأكلون أموال الناس بالباطل ويصدون عن سبيل الله ۗ والذين يكنزون الذهب والفضة ولا ينفقونها في سبيل الله فبشرهم بعذاب أليم
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে ঈমানদারগণ, নিশ্চয় পন্ডিত ও সংসার বিরাগীদের অনেকেই মানুষের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে, আর তারা আল্লাহর পথে বাধা দেয় এবং যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তুমি তাদের বেদনাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও।
আবদুস শহীদ নাসিম
যেদিন সেগুলো জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের কপালে, পাঁজরে এবং পিঠে দাগ দেয়া হবে, সেদিন বলা হবে, এ হলো সেই সম্পদ যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমিয়ে রেখেছিলে, এখন স্বাদ গ্রহণ করো তোমাদের সঞ্চয়ের।
يوم يحمى عليها في نار جهنم فتكوى بها جباههم وجنوبهم وظهورهم ۖ هذا ما كنزتم لأنفسكم فذوقوا ما كنتم تكنزون
বয়ান ফাউন্ডেশন
যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দ্বারা তাদের কপালে, পার্শ্বে এবং পিঠে সেঁক দেয়া হবে। (আর বলা হবে) ‘এটা তা-ই যা তোমরা নিজদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ কর’।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর কাছে আসমান ও জমিন সৃষ্টির দিন থেকে গণনায় মাস বারোটি। এর মধ্যে চারটি পবিত্র। এটাই প্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এ সময় তোমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করোনা। আর মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই করো, যেভাবে তারা সর্বাত্মক লড়াই করে তোমাদের বিরুদ্ধে। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই মুত্তাকিদের সাথে রয়েছেন।
إن عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرا في كتاب الله يوم خلق السماوات والأرض منها أربعة حرم ۚ ذلك الدين القيم ۚ فلا تظلموا فيهن أنفسكم ۚ وقاتلوا المشركين كافة كما يقاتلونكم كافة ۚ واعلموا أن الله مع المتقين
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় মাসসমূহের গণনা আল্লাহর কাছে বার মাস আল্লাহর কিতাবে, (সেদিন থেকে) যেদিন তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্য থেকে চারটি সম্মানিত, এটাই প্রতিষ্ঠিত দীন। সুতরাং তোমরা এ মাসসমূহে নিজদের উপর কোন যুলম করো না, আর তোমরা সকলে মুশরিকদের সাথে লড়াই কর যেমনি
আবদুস শহীদ নাসিম
মাসকে পিছিয়ে দেয়া মূলত কুফুরিকে বৃদ্ধি করা। এর ফলে বিভ্রান্ত করা হয় কাফিরদের। তারা এটাকে কোনো বছর হালাল করে, আবার কোনো বছর করে হারাম। এতে তাদের উদ্দেশ্য হলো যা হারাম করেছেন সেগুলোকে হালাল করা এবং যেনো যেগুলো হারাম করেছেন সেগুলোর গণনা পূর্ণ করতে পারে। তাদের মন্দ কাজ তাদের কাছে লোভনীয় করে দেয়া হয়েছে। কাফিরদের সঠিক পথ দেখান না।
إنما النسيء زيادة في الكفر ۖ يضل به الذين كفروا يحلونه عاما ويحرمونه عاما ليواطئوا عدة ما حرم الله فيحلوا ما حرم الله ۚ زين لهم سوء أعمالهم ۗ والله لا يهدي القوم الكافرين
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় কোন মাসকে পিছিয়ে দেয়া বৃদ্ধি করে, এর দ্বারা কাফিররা পথভ্রষ্ট হয়, তারা এটি এক বছর হালাল করে এবং আরেক বছর হারাম করে, যাতে তারা যা হারাম করেছেন তার সংখ্যা ঠিক রাখে। ফলে যা হারাম করেছেন, তা তারা হালাল করে। তাদের মন্দ আমলসমূহ তাদের জ
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমাদের কী হলো, তোমাদের যখন আল্লাহর পথে অভিযানে বের হতে বলা হয়, তোমরা জমিনকে আকড়ে ধরে থাকো? তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে রাজি হয়ে গেছো? অথচ আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের ভোগের সামগ্রী একেবারেই তুচ্ছ।
يا أيها الذين آمنوا ما لكم إذا قيل لكم انفروا في سبيل الله اثاقلتم إلى الأرض ۚ أرضيتم بالحياة الدنيا من الآخرة ۚ فما متاع الحياة الدنيا في الآخرة إلا قليل
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কী হল, যখন তোমাদের বলা হয়, আল্লাহর রাস্তায় (যুদ্ধে) বের হও, তখন তোমরা যমীনের প্রতি প্রবলভাবে ঝুঁকে পড়? তবে কি তোমরা আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে সন্তুষ্ট হলে? অথচ দুনিয়ার জীবনের ভোগ-সামগ্রী আখিরাতের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যদি অভিযানে বের না হও, তোমাদের তিনি আযাব দেবেন এক বেদনাদায়ক আযাব। আর তোমাদের বদলে অপর কোনো লোকদের নিয়ে আসবেন এবং তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারবেনা। প্রতিটি বিষয়ে শক্তিমান।
إلا تنفروا يعذبكم عذابا أليما ويستبدل قوما غيركم ولا تضروه شيئا ۗ والله على كل شيء قدير
বয়ান ফাউন্ডেশন
যদি তোমরা (যুদ্ধে) বের না হও, তিনি তোমাদের বেদনাদায়ক আযাব দেবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক কওমকে আনয়ন করবেন, আর তোমরা তাঁর কিছুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আর সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যদি তাকে (নবীকে) সাহায্য না করো, তবে জেনে রাখো, ইতোপূর্বেও আল্লাহই তাকে সাহায্য করেছেন, যখন কাফিররা তাকে বের করে দিয়েছিল এবং সে ছিলো দুইজনের দ্বিতীয় জন। যখন তারা দু’জনেই গুহার মধ্যে ছিলো এবং সে তার সাথিকে বলেছিল, ‘চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আমাদের সাথে আছেন।’ ফলে তার উপর নাযিল করলেন নিজের প্রশান্তি এবং তাকে সাহায্য করলেন এমন একটি সৈন্যবাহিনী দিয়ে যাদের তোমরা দেখোনি। এর মাধ্যমে তিনি কাফিরদের কথা হেয় করে দিলেন আর উপরে উঠিয়ে দিলেন আল্লাহর বাণীকে। পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।
إلا تنصروه فقد نصره الله إذ أخرجه الذين كفروا ثاني اثنين إذ هما في الغار إذ يقول لصاحبه لا تحزن إن الله معنا ۖ فأنزل الله سكينته عليه وأيده بجنود لم تروها وجعل كلمة الذين كفروا السفلى ۗ وكلمة الله هي العليا ۗ والله عزيز حكيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
যদি তোমরা তাকে সাহায্য না কর, তবে তাকে সাহায্য করেছেন যখন কাফিররা তাকে বের করে দিল, সে ছিল দু’জনের দ্বিতীয়জন। যখন তারা উভয়ে পাহাড়ের একটি গুহায় অবস্থান করছিল, সে তার সঙ্গীকে বলল, ‘তুমি পেরেশান হয়ো না, নিশ্চয় আমাদের সাথে আছেন’। অতঃপর তা
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা অভিযানে বেরিয়ে পড়ো হালকা অবস্থায় এবং ভারি অবস্থায় আর আল্লাহর পথে জিহাদ করো তোমাদের মাল ও জান দিয়ে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা জানতে!
انفروا خفافا وثقالا وجاهدوا بأموالكم وأنفسكم في سبيل الله ۚ ذلكم خير لكم إن كنتم تعلمون
বয়ান ফাউন্ডেশন
তোমরা হালকা ও ভারী উভয় অবস্থায় যুদ্ধে বের হও এবং তোমাদের মাল ও জান নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যদি সম্পদ লাভের আশু সম্ভাবনা থাকতো আর সফর যদি হতো সহজ, তাহলে অবশ্যি তারা তোমার অনুসরণ করতো। কিন্তু তাদের কাছে দীর্ঘ পথের যাত্রা কষ্টকর মনে হলো। তারা অচিরেই আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, ‘সামর্থ থাকলে অবশ্যি আমরা আপনাদের সাথে বের হতাম।’ তারা নিজেদেরই ধ্বংস করছে। জানেন তারা মিথ্যাবাদী।
لو كان عرضا قريبا وسفرا قاصدا لاتبعوك ولكن بعدت عليهم الشقة ۚ وسيحلفون بالله لو استطعنا لخرجنا معكم يهلكون أنفسهم والله يعلم إنهم لكاذبون
বয়ান ফাউন্ডেশন
যদি তা নিকটলভ্য হত, আর সফর হত সহজসাধ্য, তবে তারা অবশ্যই তোমার অনুসরণ করত, কিন্তু তাদের জন্য দূরত্ব দীর্ঘ হল। আর অচিরেই তারা আল্লাহর কসম করবে, ‘যদি আমরা সক্ষম হতাম তাহলে অবশ্যই তোমাদের সাথে বের হতাম’, তারা তাদের নিজদেরকেই ধ্বংস করে। আর জানেন, নিশ্চয়
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাকে ক্ষমা করুন, তুমি কেন তাদের অব্যাহতি দিলে, যতোক্ষণ না তোমার কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে, কারা সত্যবাদী আর কারা মিথ্যাবাদী?
عفا الله عنك لم أذنت لهم حتى يتبين لك الذين صدقوا وتعلم الكاذبين
বয়ান ফাউন্ডেশন
তোমাকে ক্ষমা করেছেন। তুমি তাদেরকে কেন অনুমতি দিলে, যতক্ষণ না তোমার কাছে স্পষ্ট হয় তারা যারা সত্য বলেছে এবং তুমি জেনে নাও মিথ্যাবাদীদেরকে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, তারা নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদে যাবার ব্যাপারে তোমার কাছে অব্যাহতি চায়না। মুত্তাকিদের সম্পর্কে অবহিত।
إنما يستأذنك الذين لا يؤمنون بالله واليوم الآخر وارتابت قلوبهم فهم في ريبهم يترددون
বয়ান ফাউন্ডেশন
একমাত্র সেসব লোক অনুমতি চায় যারা ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে না, আর তাদের অন্তরসমূহ সংশয়গ্রস্ত হয়ে গেছে। সুতরাং তারা তাদের সংশয়েই ঘুরপাক খেতে থাকে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা যদি বের হতে চাইতোই, তাহলে তারা অবশ্যি এর জন্যে প্রস্ত্ততি নিতো। কিন্তু তাদের (মুনাফিকদের) যুদ্ধ যাত্রা আল্লাহই অপছন্দ করেছেন। ফলে তিনি তাদের বিরত রেখেছেন এবং তাদের বলা হয়েছে, ‘বসে থাকাদের সাথে তোমরাও বসে থাকো।’
۞ ولو أرادوا الخروج لأعدوا له عدة ولكن كره الله انبعاثهم فثبطهم وقيل اقعدوا مع القاعدين
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যদি তারা বের হওয়ার ইচ্ছা করত, তবে তারা তার জন্য সরঞ্জাম প্রস্তুত করত, কিন্তু তাদের বের হওয়াকে অপছন্দ করলেন, ফলে তিনি তাদেরকে পিছিয়ে দিলেন, আর বলা হল, ‘তোমরা বসে পড়া লোকদের সাথে বসে থাক’।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা যদি যুদ্ধে বের হতো এবং তোমাদের সাথে থাকতো, তাহলে তোমাদের মধ্যে তারা কেবল বিভ্রান্তি বাড়াতো এবং তোমাদের মাঝে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের মধ্যেই কেবল ছুটাছুটি করতো। তোমাদের মধ্যেও তাদের কথা শুনার কিছু লোক আছে। যালিমদের ভালোভাবেই জানেন।
لو خرجوا فيكم ما زادوكم إلا خبالا ولأوضعوا خلالكم يبغونكم الفتنة وفيكم سماعون لهم ۗ والله عليم بالظالمين
বয়ান ফাউন্ডেশন
যদি তারা তোমাদের সাথে বের হত, তবে তোমাদের মধ্যে ফাসাদই বৃদ্ধি করত এবং তোমাদের মাঝে ছুটোছুটি করত, তোমাদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির অনুসন্ধানে। আর তোমাদের মধ্যে রয়েছে তাদের কথা অধিক শ্রবণকারী, আর যালিমদের সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত।
আবদুস শহীদ নাসিম
এর আগেও তারা ফিতনা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল এবং তোমার অনেক কাজ ওলট - পালট করে দিতে চেয়েছিল, যতোক্ষণ না তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সত্য এসেছে এবং আল্লাহর আদেশ বিজয়ী হয়েছে।
لقد ابتغوا الفتنة من قبل وقلبوا لك الأمور حتى جاء الحق وظهر أمر الله وهم كارهون
বয়ান ফাউন্ডেশন
অবশ্য তারা ইতঃপূর্বে ফিতনা অনুসন্ধান করেছিল এবং তোমার কাজগুলো পালটে দিয়েছিল, অবশেষে হকের আগমন ঘটল এবং আল্লাহর দীন বিজয়ী হল, অথচ তারা ছিল অপছন্দকারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে বলে, ‘আমাকে অব্যাহতি দিন আমাকে ফিতনায় ফেলবেন না।’ সাবধান, তারা আসলে ফিতনার মধ্যেই পড়ে আছে। অবশ্যি জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করবে।
ومنهم من يقول ائذن لي ولا تفتني ۚ ألا في الفتنة سقطوا ۗ وإن جهنم لمحيطة بالكافرين
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, ‘আমাকে অনুমতি দিন এবং আমাকে ফিতনায় ফেলবেন না’। শুনে রাখ, তারা ফিতনাতেই পড়ে আছে। আর নিশ্চয় জাহান্নাম কাফিরদের বেষ্টনকারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার কোনো কল্যাণ হলে তাদের মনে কষ্ট লাগে। আবার তোমার কোনো মসিবত ঘটলে তারা বলে, ‘আমরা আগেই নিজেদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেছিলাম’ এবং তারা উৎফুল্ল হয়ে কেটে পড়ে।
إن تصبك حسنة تسؤهم ۖ وإن تصبك مصيبة يقولوا قد أخذنا أمرنا من قبل ويتولوا وهم فرحون
বয়ান ফাউন্ডেশন
যদি তোমার কাছে কোন কল্যাণ পৌঁছে, তবে তা তাদেরকে কষ্ট দেয়। আর যদি তোমাকে কোন বিপদ আক্রান্ত করে, তবে তারা বলে, পূর্বেই আমরা সতর্কতা অবলম্বন করেছি এবং তারা ফিরে যায় উল্লসিত অবস্থায়।
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো : ‘ আমাদের জন্যে যা লিখে রেখেছেন, তা ছাড়া আমাদের আর কিছুই হবেনা। তিনিই আমাদের মাওলা। আর আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল করা উচিত মুমিনদের।’
قل لن يصيبنا إلا ما كتب الله لنا هو مولانا ۚ وعلى الله فليتوكل المؤمنون
বয়ান ফাউন্ডেশন
বল, ‘আমাদেরকে শুধু তা-ই আক্রান্ত করবে যা আমাদের জন্য লিখে রেখেছেন। তিনিই আমাদের অভিভাবক, আর আল্লাহর উপরই যেন মুমিনরা তাওয়াক্কুল করে’।
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো : ‘তোমরা কি আমাদের দুইটি কল্যাণের একটির জন্যে অপেক্ষা করছো? অথচ আমরা অপেক্ষা করছি যেনো তাঁর পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হাতে তোমাদের শাস্তি দেন। ব্যাস্, অপেক্ষা করো, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকবো।’
قل هل تربصون بنا إلا إحدى الحسنيين ۖ ونحن نتربص بكم أن يصيبكم الله بعذاب من عنده أو بأيدينا ۖ فتربصوا إنا معكم متربصون
বয়ান ফাউন্ডেশন
বল, ‘তোমরা কেবল আমাদের জন্য দু’টি কল্যাণের একটির অপেক্ষা করছ, আর আমরাও তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছি যে, তোমাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হাত দ্বারা আযাব দেবেন। অতএব তোমরা অপেক্ষা কর, নিশ্চয় আমরা তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ’।
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো : ‘তোমরা ইচ্ছায় ব্যয় (দান) করো কিংবা অনিচ্ছায়, তোমাদের থেকে তা কখনো কবুল করা হবেনা। কারণ তোমরা সত্যত্যাগী ফাসিক গোষ্ঠী।’
قل أنفقوا طوعا أو كرها لن يتقبل منكم ۖ إنكم كنتم قوما فاسقين
বয়ান ফাউন্ডেশন
বল, ‘তোমরা খুশি হয়ে দান কর অথবা বাধ্য হয়ে, তোমাদের থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না। নিশ্চয় তোমরা হচ্ছ ফাসিক কওম।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের অর্থ সাহায্য গ্রহণ করতে নিষেধ করার কারণ হলো, তারা কুফুরি করেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর রসূলের প্রতি এবং আলসেমি ছাড়া তারা সালাতে আসেনা, আর অনিচ্ছাকৃত ছাড়া দান করেনা।
وما منعهم أن تقبل منهم نفقاتهم إلا أنهم كفروا بالله وبرسوله ولا يأتون الصلاة إلا وهم كسالى ولا ينفقون إلا وهم كارهون
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তাদের দান কবূল থেকে একমাত্র বাধা এই ছিল যে, তারা ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করেছে, আর তারা সালাতে আসে না, তবে অলস অবস্থায় এবং তারা দান করে না, তবে অপছন্দকারী অবস্থায়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মাল - সম্পদ এবং সন্তান - সন্ততি যেনো তোমাকে তাজ্জব না করে। এগুলো দিয়ে দুনিয়ার জীবনেই তাদের শাস্তি দিতে চান। তারা থাকা অবস্থায়ই তাদের আত্মা দেহত্যাগ করবে।
لو يجدون ملجأ أو مغارات أو مدخلا لولوا إليه وهم يجمحون
বয়ান ফাউন্ডেশন
যদি তারা কোন আশ্রয়স্থল, বা কোন গুহা অথবা লুকিয়ে থাকার কোন প্রবেশস্থল পেত, তবে তারা সেদিকেই দৌড়ে পালাত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা সাদাকা বন্টনের ব্যাপারে তোমাকে দোষারোপ করে। অত:পর সেখান থেকে তাদের কিছু দিলে তুষ্ট হয়ে যায়, আর সেখান থেকে কিছু না দিলে সাথে সাথে বিক্ষুব্ধ হয়ে যায়।
ومنهم من يلمزك في الصدقات فإن أعطوا منها رضوا وإن لم يعطوا منها إذا هم يسخطون
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তাদের মধ্যে কেউ আছে, যে সদাকা বিষয়ে তোমাকে দোষারোপ করে। তবে যদি তাদেরকে তা থেকে দেয়া হয়, তারা সন্তুষ্ট থাকে, আর যদি তা থেকে দেয়া না হয়, তখন তারা অসন্তুষ্ট হয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
ভালো হতো, এবং আল্লাহর রসূল তাদের যা দিয়েছেন তাতেই যদি তারা সন্তুষ্ট থাকতো এবং বলতো: ‘আল্লাহই আমাদের জন্যে যথেষ্ট, অচিরেই আমাদের দেবেন তাঁর অনুগ্রহ থেকে এবং তাঁর রসূলও। আমরা আল্লাহর প্রতি অনুরাগী।’
ولو أنهم رضوا ما آتاهم الله ورسوله وقالوا حسبنا الله سيؤتينا الله من فضله ورسوله إنا إلى الله راغبون
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যদি তারা ও তাঁর রাসূল তাদের যা দিয়েছেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকত এবং বলত, ‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, অচিরেই আমাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ দান করবেন এবং তাঁর রাসূলও। নিশ্চয় আমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত’।
আবদুস শহীদ নাসিম
সাদাকা (যাকাত) পাবে ফকিররা (নিঃস্ব লোকেরা), মিসকিনরা (অভাবীরা), যাকাত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা, যাদের মনজয় করা উদ্দেশ্য তারা, দাসমুক্তির জন্যে, ঋণ ভারাক্রান্ত - দেউলিয়ারা, আল্লাহর পথে এবং পথিকরা। এটা আল্লাহর দেয়া বিধান। জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান।
۞ إنما الصدقات للفقراء والمساكين والعاملين عليها والمؤلفة قلوبهم وفي الرقاب والغارمين وفي سبيل الله وابن السبيل ۖ فريضة من الله ۗ والله عليم حكيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় সদাকা হচ্ছে ফকীর ও মিসকীনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য; (তা বণ্টন করা যায়) দাস আযাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের মধ্যে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, আর আল
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা নবীকে কষ্ট দেয় এবং বলে, ‘তিনি তো কর্ণপাতকারী।’ হে নবী! বলো, ‘তার কান তোমাদের জন্য কল্যাণকর, তাই শুনে। সে তো আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এবং মুমিনদেরকে বিশ্বাস করে। তোমাদের মধ্যে যারা সে তাদের জন্যে রহমত।’ যারা আল্লাহর রসূলকে কষ্ট দেয় তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
ومنهم الذين يؤذون النبي ويقولون هو أذن ۚ قل أذن خير لكم يؤمن بالله ويؤمن للمؤمنين ورحمة للذين آمنوا منكم ۚ والذين يؤذون رسول الله لهم عذاب أليم
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তাদের মধ্যে এমন লোক আছে, যারা নবীকে কষ্ট দেয় এবং বলে, ‘তিনি (সব বিষয়ে) শ্রবণকারী’। বল, তোমাদের জন্য যা কল্যাণের তা শ্রবণকারী। সে আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এবং মুমিনদের বিশ্বাস করে, আর তোমাদের মধ্যে যারা তাদের জন্য সে রহমত এবং যারা আল্লাহর রাসূলকে
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা তোমাদের সন্তুষ্ট করার জন্যে তোমাদের কাছে আল্লাহর নাম নিয়ে হলফ করে। সন্তুষ্ট করার জন্যে তো এবং তাঁর রসূলই অধিক হকদার যদি তারা হয়ে থাকে।
ألم يعلموا أنه من يحادد الله ورسوله فأن له نار جهنم خالدا فيها ۚ ذلك الخزي العظيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা কি জানে না, যে ব্যক্তি ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তবে তার জন্য অবশ্যই জাহান্নাম, তাতে সে চিরকাল থাকবে। এটা মহালাঞ্ছনা।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুনাফিকরা ভয় পায়, তাদের সম্পর্কে কোনো সূরা নাযিল না হয়, যাতে তাদের মনের খবর প্রকাশ করা হবে। হে নবী! বলো, বিদ্রুপ করতে থাকো। তোমরা যা ভয় পাচ্ছো, তা প্রকাশ করেই ছাড়বেন।
يحذر المنافقون أن تنزل عليهم سورة تنبئهم بما في قلوبهم ۚ قل استهزئوا إن الله مخرج ما تحذرون
বয়ান ফাউন্ডেশন
মুনাফিকরা ভয় করে যে, তাদের বিষয়ে এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হবে, যা তাদের অন্তরের বিষয়গুলি জানিয়ে দেবে। বল, ‘তোমরা উপহাস করতে থাক। নিশ্চয় বের করবেন, তোমরা যা ভয় করছ’।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা অবশ্যি বলবে, ‘আমরা তো খেল তামাশা করছিলাম।’ বলো, ‘তোমরা কি আল্লাহর পথে, আল্লাহর আয়াতের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে বিদ্রুপ করছিলে?
আর যদি তুমি তাদেরকে প্রশ্ন কর, অবশ্যই তারা বলবে, ‘আমরা আলাপচারিতা ও খেল-তামাশা করছিলাম। বল, ‘, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূলের সাথে তোমরা বিদ্রূপ করছিলে’?
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা ওযর পেশ করার চেষ্টা করোনা। তোমরা ঈমান আনার পর কুফুরি করেছো। তোমাদের মধ্যে একটি গ্রুপকে ক্ষমা করলেও অন্য গ্রুপকে শাস্তি দেবো, কারণ তারা অপরাধী।
لا تعتذروا قد كفرتم بعد إيمانكم ۚ إن نعف عن طائفة منكم نعذب طائفة بأنهم كانوا مجرمين
বয়ান ফাউন্ডেশন
তোমরা ওযর পেশ করো না। তোমরা তোমাদের ঈমানের পর অবশ্যই করেছ। যদি আমি তোমাদের থেকে একটি দলকে ক্ষমা করে দেই, তবে অপর দলকে আযাব দেব। কারণ, তারা হচ্ছে অপরাধী।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুনাফিক পুরুষ আর মুনাফিক নারী তারা একজন আরেকজনের দোসর। তারা মন্দ কাজের আদেশ করে, ভালো কাজে নিষেধ করে এবং (দান করা থেকে) তাদের হাত গুটিয়ে রাখে। তারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে তিনিও তাদের উপেক্ষা করে আছেন। নিশ্চয়ই মুনাফিকরা ফাসিক - পাপাচারী।
المنافقون والمنافقات بعضهم من بعض ۚ يأمرون بالمنكر وينهون عن المعروف ويقبضون أيديهم ۚ نسوا الله فنسيهم ۗ إن المنافقين هم الفاسقون
বয়ান ফাউন্ডেশন
মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীরা একে অপরের অংশ, তারা মন্দ কাজের আদেশ দেয়, আর ভাল কাজ থেকে নিষেধ করে, তারা নিজদের হাতগুলোকে সঙ্কুচিত করে রাখে। তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে, ফলে তিনিও তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন*, নিশ্চয় মুনাফিকরা হচ্ছে ফাসিক। * টিকা দেখুন পৃষ্ঠা ২০৫।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী আর কাফিরদের ওয়াদা দিয়েছেন জাহান্নামের আগুনের, সেখানেই তারা থাকবে চিরকাল। সেটাই তাদের জন্যে যথেষ্ট। তাদের লানত দিয়েছেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আযাব।
وعد الله المنافقين والمنافقات والكفار نار جهنم خالدين فيها ۚ هي حسبهم ۚ ولعنهم الله ۖ ولهم عذاب مقيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী ও কাফিরদেরকে জাহান্নামের আগুনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাতে তারা চিরদিন থাকবে, এটি তাদের জন্য যথেষ্ট। আর তাদের লা‘নত করেন এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আযাব।
আবদুস শহীদ নাসিম
(হে মুনাফিকরা!) তোমাদের অবস্থা তোমাদের আগেকার (মুনাফিকদের) মতোই। তবে তারা ছিলো তোমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী আর তাদের ধন - সম্পদ এবং সন্তান - সন্তুতিও ছিলো তোমাদের চাইতে বেশি। তাদের ভাগ্যে যা ছিলো তারা তা ভোগ করেছে। আর তোমাদের ভাগ্যে যা ছিলো তোমরাও তা ভোগ করলে যেমন - তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের ভাগ্যে যা ছিলো তা ভোগ করেছে। তারা যেমন বাহুল্য কথা - বার্তায় লিপ্ত থাকতো, তোমরাও সে রকম বাহুল্য কথা - বার্তায় লিপ্ত রয়েছো। এরাই সেইসব লোক, দুনিয়া ও আখিরাতে যাদের সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। আর এরাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত।
كالذين من قبلكم كانوا أشد منكم قوة وأكثر أموالا وأولادا فاستمتعوا بخلاقهم فاستمتعتم بخلاقكم كما استمتع الذين من قبلكم بخلاقهم وخضتم كالذي خاضوا ۚ أولئك حبطت أعمالهم في الدنيا والآخرة ۖ وأولئك هم الخاسرون
বয়ান ফাউন্ডেশন
তাদের মত, যারা তোমাদের পূর্বে ছিল, তারা ছিল তোমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী, ধন-সম্পদ ও সন্তানাদিতে অধিক। ফলে তারা তাদের অংশ ভোগ করেছে, আর তোমরাও তোমাদের অংশ ভোগ করেছ, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তারা তাদের অংশ ভোগ করেছে। আর তোমরা খেল-তামাশায় মত্ত হয়েছ,
আবদুস শহীদ নাসিম
এদের কাছে কি তাদের পূর্ববর্তী লোকদের খবর পৌঁছেনি? নূহ, আদ ও সামুদ জাতির, ইবরাহিমের কওম, মাদায়েনবাসী আর বিধ্বস্ত জাতির সংবাদ কি তাদের কাছে আসেনি? তাদের রসূলরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ এসেছিল। তাদের প্রতি যুলুম করা আল্লাহর নীতি নয়, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল।
ألم يأتهم نبأ الذين من قبلهم قوم نوح وعاد وثمود وقوم إبراهيم وأصحاب مدين والمؤتفكات ۚ أتتهم رسلهم بالبينات ۖ فما كان الله ليظلمهم ولكن كانوا أنفسهم يظلمون
বয়ান ফাউন্ডেশন
তাদের কাছে কি তাদের পূর্বের লোকদের সংবাদ পৌঁছেনি, নূহের কওম, আদ, সামূদ, ইবরাহীমের কওম, মাদায়েনবাসী ও বিধ্বস্ত নগরীর? তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ প্রমাণসমূহ নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। অতএব তাদের উপর যুলম করার নন, বরং তারাই তাদের নিজদের উপর যুলম করছিল।
আবদুস শহীদ নাসিম
পুরুষ আর নারী পরস্পরের অলি (বন্ধু, অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষক)। তারা ভালো কাজে আদেশ করে, মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে, কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে। এরাই সেইসব লোক, যাদের প্রতি অচিরেই রহম করবেন। নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী বিজ্ঞানময়।
والمؤمنون والمؤمنات بعضهم أولياء بعض ۚ يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر ويقيمون الصلاة ويؤتون الزكاة ويطيعون الله ورسوله ۚ أولئك سيرحمهم الله ۗ إن الله عزيز حكيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর পুরুষ ও নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা ভাল কাজের আদেশ দেয় আর অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে, আর তারা কায়িম করে, যাকাত প্রদান করে এবং ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। এদেরকে শীঘ্রই দয়া করবেন, নিশ্চয় পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
পুরুষ ও নারীদের ওয়াদা দিয়েছেন সেই জান্নাতের, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। সেই চিরস্থায়ী জান্নাতে থাকবে মনোরম বাসস্থান। আর তাদের জন্যে সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার থাকবে আল্লাহর রেজামন্দি। এটাই প্রকৃতপক্ষে মহাসাফল্য।
وعد الله المؤمنين والمؤمنات جنات تجري من تحتها الأنهار خالدين فيها ومساكن طيبة في جنات عدن ۚ ورضوان من الله أكبر ۚ ذلك هو الفوز العظيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
পুরুষ ও নারীদেরকে জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে এবং (ওয়াদা দিচ্ছেন) স্থায়ী জান্নাতসমূহে পবিত্র বাসস্থানসমূহের। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়। এটাই মহাসফলতা।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! জিহাদ করো এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে আর কঠোর হও তাদের প্রতি। তাদের বাসস্থান হবে জাহান্নাম, আর সেটা খুবই নিকৃষ্ট ফিরে যাবার জায়গা।
يا أيها النبي جاهد الكفار والمنافقين واغلظ عليهم ۚ ومأواهم جهنم ۖ وبئس المصير
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে নবী, ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর এবং তাদের উপর কঠোর হও, আর তাদের ঠিকানা হল জাহান্নাম; আর তা কতইনা নিকৃষ্ট স্থান।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা আল্লাহর নামে হলফ করে বলে, তারা কিছু বলেনি। অথচ তারা কুফুরি কালাম উচ্চারণ করেছে এবং ইসলামে প্রবেশ করার পর কুফুরি করেছে। তারা এমন জিনিসের সংকল্প করেছিল যা তারা পায়নি। তাঁর অনুগ্রহে এবং তাঁর রসূল তাদেরকে অভাবমুক্ত করেছেন বলেই তারা বিরোধিতা করছে। এখন যদি তারা তওবা করে, এটাই হবে তাদের জন্যে উত্তম। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের আযাব দেবেন এক বেদনাদায়ক আযাব দুনিয়া ও আখিরাতে। আর পৃথিবীতে তাদের কোনো বন্ধু ও সাহায্যকারী থাকবে না।
يحلفون بالله ما قالوا ولقد قالوا كلمة الكفر وكفروا بعد إسلامهم وهموا بما لم ينالوا ۚ وما نقموا إلا أن أغناهم الله ورسوله من فضله ۚ فإن يتوبوا يك خيرا لهم ۖ وإن يتولوا يعذبهم الله عذابا أليما في الدنيا والآخرة ۚ وما لهم في الأرض من ولي ولا نصير
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা আল্লাহর কসম করে যে, তারা বলেনি, অথচ তারা বাক্য বলেছে এবং ইসলাম গ্রহণের পর করেছে। আর মনস্থ করেছে এমন কিছুর যা তারা পায়নি। আর তারা একমাত্র এ কারণেই দোষারোপ করেছিল যে, ও তাঁর রাসূল তাঁর স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করেছেন। এরপর যদ
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর কাছে এই অঙ্গীকার করেছিল: ‘ যদি তাঁর অনুগ্রহ থেকে আমাদের দান করেন, তবে অবশ্যি আমরা সাদাকা দেবো এবং সৎকর্মশীলদের অন্তরভুক্ত হয়ে যাবো।’
۞ ومنهم من عاهد الله لئن آتانا من فضله لنصدقن ولنكونن من الصالحين
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তাদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করে যে, যদি তার স্বীয় অনুগ্রহে আমাদের দান করেন, আমরা অবশ্যই দান-খয়রাত করব এবং অবশ্যই আমরা নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হব ।
আবদুস শহীদ নাসিম
অত:পর যখন তাঁর অনুগ্রহ থেকে তাদের দান করলেন, তারা কৃপণতা প্রদর্শন করলো, বিরোধিতা করলো এবং মুখ ফিরিয়ে নিলো।
অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ দান করলেন, তারা তাতে কার্পণ্য করল এবং বিমুখ হয়ে ফিরে গেল।
আবদুস শহীদ নাসিম
ফলে তিনি তাদের অন্তরে মুনাফিকি স্থায়ী করে দিলেন তাঁর সাথে তাদের সাক্ষাত হবার দিন পর্যন্ত। কারণ তারা আল্লাহকে দেয়া তাদের ওয়াদা খেলাফ করেছে এবং মিথ্যাচার করেছে।
فأعقبهم نفاقا في قلوبهم إلى يوم يلقونه بما أخلفوا الله ما وعدوه وبما كانوا يكذبون
বয়ান ফাউন্ডেশন
সুতরাং পরিণামে তিনি তাদের অন্তরে নিফাক রেখে দিলেন সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে, তারা আল্লাহকে যে ওয়াদা দিয়েছে তা ভঙ্গ করার কারণে এবং তারা যে মিথ্যা বলেছিল তার কারণে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি জানেনা, তাদের মনের গোপন কথা এবং গোপন পরামর্শ অবগত আছেন এবং অবশ্যি জান্তা?
ألم يعلموا أن الله يعلم سرهم ونجواهم وأن الله علام الغيوب
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা কি জানে না, নিশ্চয় তাদের গোপনীয় বিষয় ও গোপন পরামর্শ জানেন? আর নিশ্চয় গায়েবসমূহের ব্যাপারে সম্যক জ্ঞাত।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুমিনদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে সাদাকা (দান ও যাকাত) দেয়, আর যারা শ্রম খাটানো ছাড়া কিছুই পায়না, তাদেরকে যারা দোষারোপ ও বিদ্রুপ করে, তাদেরকেও বিদ্রুপ করেন আর তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
الذين يلمزون المطوعين من المؤمنين في الصدقات والذين لا يجدون إلا جهدهم فيسخرون منهم ۙ سخر الله منهم ولهم عذاب أليم
বয়ান ফাউন্ডেশন
যারা দোষারোপ করে সদাকার ব্যাপারে মুমিনদের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাদানকারীদেরকে এবং তাদেরকে যারা তাদের পরিশ্রম ছাড়া কিছুই পায় না। অতঃপর তারা তাদেরকে নিয়ে উপহাস করে, আল্লাহও তাদেরকে নিয়ে উপহাস করেন এবং তাদের জন্যই রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করো, কিংবা তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা না - ই করো, একই কথা। তুমি তাদের জন্যে সত্তরবার ক্ষমা প্রার্থনা করলেও তাদের কখনো ক্ষমা করবেন না। কারণ তারা আল্লাহর এবং তাঁর রসূলের প্রতি কুফুরি করেছে। ফাসিক - পাপাচারী লোকদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।
استغفر لهم أو لا تستغفر لهم إن تستغفر لهم سبعين مرة فلن يغفر الله لهم ۚ ذلك بأنهم كفروا بالله ورسوله ۗ والله لا يهدي القوم الفاسقين
বয়ান ফাউন্ডেশন
তুমি তাদের জন্য ক্ষমা চাও, অথবা তাদের জন্য ক্ষমা না চাও। যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বার ক্ষমা চাও, তবুও তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। কারণ তারা ও তাঁর রাসূলের সাথে করেছে, আর ফাসিক লোকদেরকে হিদায়াত দেন না ।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা পেছনে রয়ে গেছে তারা আল্লাহর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে ঘরে বসে থাকার মধ্যেই আনন্দবোধ করে এবং নিজেদের মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করাকে অপছন্দ করে। তারা (তবুক যাত্রার প্রাক্কালে) বলেছিল : ‘গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়োনা।’ তাদের বলো, ‘জাহান্নামের আগুন এর চাইতেও অনেক বেশি গরম’, যদি তারা বুঝতো!
فرح المخلفون بمقعدهم خلاف رسول الله وكرهوا أن يجاهدوا بأموالهم وأنفسهم في سبيل الله وقالوا لا تنفروا في الحر ۗ قل نار جهنم أشد حرا ۚ لو كانوا يفقهون
বয়ান ফাউন্ডেশন
পেছনে থাকা লোকগুলো আল্লাহর রাসূলের বিপক্ষে বসে থাকতে পেরে খুশি হল, আর তারা অপছন্দ করল তাদের মাল ও জান নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে এবং তারা বলল, ‘তোমরা গরমের মধ্যে বের হয়ো না’। বল, ‘জাহান্নামের আগুন অধিকতর গরম, যদি তারা বুঝত’।
আবদুস শহীদ নাসিম
সুতরাং তারা কিছুটা হেসে নিক, তারা তো প্রচুর কাঁদবে তাদের কৃতকর্মের কারণে।
فليضحكوا قليلا وليبكوا كثيرا جزاء بما كانوا يكسبون
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতএব তারা অল্প হাসুক, আর বেশি কাঁদুক, তারা যা অর্জন করেছে তার বিনিময়ে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যদি তোমাকে তাদের কোনো দলের কাছে ফেরত আনেন এবং তারা যদি তোমার কাছে বের হবার জন্যে অনুমতি প্রার্থনা করে, তুমি তাদের বলবে : ‘তোমরা আমার সাথে কখনো বের হবেনা এবং আমার সাথি হয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে কখনো যুদ্ধ করবে না। তোমরা তো প্রথমবার বসে থাকাকেই পছন্দ করেছিলে, সুতরাং বসে থাকো পেছনে পড়ে থাকাদের সাথে।’
فإن رجعك الله إلى طائفة منهم فاستأذنوك للخروج فقل لن تخرجوا معي أبدا ولن تقاتلوا معي عدوا ۖ إنكم رضيتم بالقعود أول مرة فاقعدوا مع الخالفين
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতএব যদি তোমাকে তাদের কোন দলের কাছে ফিরিয়ে আনেন এবং তারা তোমার কাছে বের হওয়ার অনুমতি চায়, তবে তুমি বল, ‘তোমরা আমার সাথে কখনো বের হবে না এবং আমার সাথে কোন দুশমনের বিরুদ্ধে কখনও লড়াই করবে না। নিশ্চয় তোমরা প্রথমবার বসে থাকাই পছন্দ করেছ, সুতরাং তোমরা ব
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের কেউ মরলে তুমি তার জন্যে (জানাযার) আদায় করবে না এবং তার কবরেও দাঁড়াবে না। তারা তো কুফুরি করেছে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি, আর তাদের মরণ হয়েছে ফাসিক - পাপিষ্ঠ অবস্থায়।
ولا تصل على أحد منهم مات أبدا ولا تقم على قبره ۖ إنهم كفروا بالله ورسوله وماتوا وهم فاسقون
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তাদের মধ্যে যে মারা গিয়েছে, তার উপর তুমি জানাযা পড়বে না এবং তার কবরের উপর দাঁড়াবে না। নিশ্চয় তারা ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করেছে এবং তারা ফাসিক অবস্থায় মারা গিয়েছে ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের ধন - মাল আর আওলাদ সংখ্যা যেনো তোমাকে মুগ্ধ না করে। তো এর মাধ্যমে তাদেরকে দুনিয়ায় শাস্তি দিতে চান। তারা থাকা অবস্থায়ই তাদের আত্মা দেহ ত্যাগ করবে।
ولا تعجبك أموالهم وأولادهم ۚ إنما يريد الله أن يعذبهم بها في الدنيا وتزهق أنفسهم وهم كافرون
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমাকে যেন মুগ্ধ না করে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি, এর দ্বারা কেবল তাদের দুনিয়ার জীবনে আযাব দিতে চান এবং অবস্থায় তাদের জান বের হয়ে যাবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যখন আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার এবং তাঁর রসূলের সাথি হয়ে জিহাদ করার নির্দেশ নিয়ে কোনো সূরা নাযিল হয়, তখন তাদের (মুনাফিকদের) মধ্যে যাদের শক্তি - সামর্থ আছে, তারা তোমার কাছে এসে (যুদ্ধে যাওয়া থেকে) অব্যাহতি চায়। তারা বলে, ‘আমাদের অব্যাহতি দিন, যারা (যুদ্ধে না গিয়ে) বসে থাকে আমরা তাদের সাথেই থাকবো।’
وإذا أنزلت سورة أن آمنوا بالله وجاهدوا مع رسوله استأذنك أولو الطول منهم وقالوا ذرنا نكن مع القاعدين
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যখন কোন সূরা এ মর্মে নাযিল করা হয় যে, ‘তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আন এবং তাঁর রাসূলের সাথে জিহাদ কর’, তখন তাদের সামর্থ্যবান লোকেরা তোমার কাছে অনুমতি চায় এবং বলে, ‘আমাদেরকে ছেড়ে দাও, আমরা বসে থাকা লোকদের সাথে থাকব’।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা ঘরবাসিনীদের সাথে অবস্থান করাকেই পছন্দ করেছে এবং তাদের অন্তরে সীল মোহর মেরে দেয়া হয়েছে, ফলে তারা (সত্যকে) বুঝতে পারেনা।
أعد الله لهم جنات تجري من تحتها الأنهار خالدين فيها ۚ ذلك الفوز العظيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
তাদের জন্য তৈরি করেছেন জান্নাতসমূহ, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে, এটিই মহাসফলতা।
আবদুস শহীদ নাসিম
বেদুঈনদের মধ্যে কিছু লোক এসেছিল যেনো তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়, আর যারা পেছনে বসেছিল তারা ও তাঁর রসূলের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। তাদের মধ্যে যারা কুফুরি করেছে, অচিরেই তাদের স্পর্শ করবে বেদনাদায়ক আযাব।
وجاء المعذرون من الأعراب ليؤذن لهم وقعد الذين كذبوا الله ورسوله ۚ سيصيب الذين كفروا منهم عذاب أليم
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর গ্রামবাসীদের থেকে ওযর পেশকারীরা আসল, যেন তাদের অনুমতি দেয়া হয় এবং (জিহাদ না করে) বসে থাকল তারা, যারা ও তাঁর রাসূলের সাথে মিথ্যা বলেছিল। তাদের মধ্য থেকে যারা করেছে, তাদেরকে অচিরেই যন্ত্রণাদায়ক আযাব আক্রান্ত করবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা দুর্বল, যারা রোগাক্রান্ত এবং যারা অর্থ খরচে অসমর্থ (যুদ্ধে না গেলে) তাদের কোনো দোষ হবেনা যদি তারা হয়ে থাকে ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বস্ত ও আন্তরিক। যারা কল্যাণকামী তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো কারণ নেই। তো অতীব ক্ষমাশীল, দয়াময়।
ليس على الضعفاء ولا على المرضى ولا على الذين لا يجدون ما ينفقون حرج إذا نصحوا لله ورسوله ۚ ما على المحسنين من سبيل ۚ والله غفور رحيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
কোন দোষ নেই দুর্বলদের উপর, অসুস্থদের উপর ও যারা দান করার মত কিছু পায় না তাদের উপর, যদি তারা ও তাঁর রাসূলের হিতাকাঙ্ক্ষী হয়। সৎকর্মশীলদের উপর (অভিযোগের) কোন পথ নেই, আর ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদেরও কোনো দোষ হবেনা, যারা যুদ্ধে যাবার জন্যে এসেছিল আর তুমি তাদের বলেছিলে, ‘তোমাদের জন্যে আমি কোনো বাহন পাচ্ছি না।’ তারা অর্থ ব্যয়ে অসামর্থের দু:খে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গিয়েছিল।
ولا على الذين إذا ما أتوك لتحملهم قلت لا أجد ما أحملكم عليه تولوا وأعينهم تفيض من الدمع حزنا ألا يجدوا ما ينفقون
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তাদের উপরও কোন দোষ নেই, যারা তোমার কাছে আসে, যাতে তুমি তাদের বাহন জোগাতে পার। তুমি বললে, ‘আমি তোমাদেরকে বহন করানোর জন্য কিছু পাচ্ছি না, তখন তারা ফিরে গেল, তাদের চোখ অশ্রুতে ভেসে যাওয়া অবস্থায়, এ দুঃখে যে, তারা পাচ্ছে না এমন কিছু যা তারা ব্যয় করবে’।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা অভাবমুক্ত হওয়া সত্ত্বেও অব্যাহতি চেয়েছে, অবশ্যি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণ আছে। তারা ঘরবাসিনীদের সাথে ঘরে বসে থাকাকেই পছন্দ করেছে। তাদের অন্তরে সীল মোহর মেরে দিয়েছেন, ফলে তারা কিছুই বুঝতে পারেনা।
۞ إنما السبيل على الذين يستأذنونك وهم أغنياء ۚ رضوا بأن يكونوا مع الخوالف وطبع الله على قلوبهم فهم لا يعلمون
বয়ান ফাউন্ডেশন
কিন্তু (অভিযোগের) পথ আছে তাদের উপর, যারা তোমার কাছে অনুমতি চায় অথচ তারা ধনী, তারা পেছনে থাকা লোকদের সাথে থাকা বেছে নিয়েছে আর তাদের অন্তর- সমূহের উপর মোহর এঁটে দিয়েছেন, তাই তারা জানে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যখন ফিরে আসবে, তখন এসে তারা তোমাদের কাছে ওজর (অজুহাত) পেশ করবে। তুমি বলবে, ‘অজুহাত পেশ করোনা, আমরা তোমাদের কখনো বিশ্বাস করবোনা, তোমাদের খবর আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। তোমাদের কার্যকলাপ দেখবেন এবং তাঁর রসূল। তারপর তোমাদের পাঠানো হবে তাঁর কাছে যিনি ও দৃশ্য সবকিছু জানেন। তোমাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে তিনিই তোমাদের অবহিত করবেন।
يعتذرون إليكم إذا رجعتم إليهم ۚ قل لا تعتذروا لن نؤمن لكم قد نبأنا الله من أخباركم ۚ وسيرى الله عملكم ورسوله ثم تردون إلى عالم الغيب والشهادة فينبئكم بما كنتم تعملون
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা তোমাদের নিকট ওযর পেশ করবে যখন তোমরা তাদের কাছে ফিরে যাবে। বল, ‘তোমরা ওযর পেশ করো না, আমরা তোমাদেরকে কখনো বিশ্বাস করব না। অবশ্যই তোমাদের খবর আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। আর তোমাদের আমল দেখবেন এবং তাঁর রাসূলও। তারপর তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা (যুদ্ধ থেকে মদিনায়) তাদের কাছে ফিরে এলে তারা আল্লাহর নামে হলফ করবে, যেনো তোমরা তাদের (যুদ্ধে না যাওয়ার) বিষয়টা উপেক্ষা করো। সুতরাং তোমরা তাদের উপেক্ষা করবে। কারণ, তারা অপবিত্র এবং তাদের (মন্দ) অর্জনের কারণে জাহান্নামই হবে তাদের আবাস।
سيحلفون بالله لكم إذا انقلبتم إليهم لتعرضوا عنهم ۖ فأعرضوا عنهم ۖ إنهم رجس ۖ ومأواهم جهنم جزاء بما كانوا يكسبون
বয়ান ফাউন্ডেশন
যখন তোমরা তাদের কাছে ফিরে যাবে, তখন অচিরেই তোমাদের কাছে আল্লাহর নামে শপথ করবে, যাতে তোমরা তাদেরকে উপেক্ষা কর। সুতরাং তোমরা তাদেরকে উপক্ষো কর। নিশ্চয় তারা অপবিত্র এবং জাহান্নাম হল তাদের আশ্রয়স্থল। তারা যা অর্জন করত, তার প্রতিফলস্বরূপ ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা তোমাদের কাছে হলফ করে, যাতে করে তোমরা তাদের প্রতি রাজি থাকো। তোমরা তাদের প্রতি রাজি হলেও ফাসিক সম্প্রদায়ের প্রতি রাজি হবেন না।
يحلفون لكم لترضوا عنهم ۖ فإن ترضوا عنهم فإن الله لا يرضى عن القوم الفاسقين
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা শপথ করবে তোমাদের নিকট, যাতে তোমরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হও। অতএব তোমরা যদিও তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হও, তবে নিশ্চয় ফাসিক কওমের প্রতি সন্তুষ্ট হন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
বেদুঈনরা কুফুরি এবং মুনাফিকিতে কঠোর। তাঁর রসূলের প্রতি যা নাযিল করেছেন, তার সীমারেখা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার যোগ্যতা তাদের অনেক বেশি। সর্বজ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।
الأعراب أشد كفرا ونفاقا وأجدر ألا يعلموا حدود ما أنزل الله على رسوله ۗ والله عليم حكيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
বেদুঈনরা কুফর ও কপটতায় কঠিনতর এবং তাঁর রাসূলের উপর যা নাযিল করেছেন তার সীমারেখা না জানার অধিক উপযোগী। আর সর্বজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
মরুবাসী বেদুঈনদের কেউ কেউ আল্লাহর পথে ব্যয় করাকে অর্থদন্ড বলে মনে করে এবং তারা তোমাদের ভাগ্য বিপর্যয়ের অপেক্ষা করে। দুর্ভাগ্য তাদেরই! সব শুনেন, সব জানেন।
ومن الأعراب من يتخذ ما ينفق مغرما ويتربص بكم الدوائر ۚ عليهم دائرة السوء ۗ والله سميع عليم
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর বেদুঈনদের কেউ কেউ যা (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে, তা জরিমানা গণ্য করে এবং তোমাদের দুর্বিপাকের প্রতীক্ষায় থাকে। দুর্বিপাক তাদের উপরই এবং সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
আবদুস শহীদ নাসিম
মরুবাসী বেদুঈনদের কিছু লোক ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি এবং তারা যা ব্যয় করে, সেটাকে আল্লাহর নৈকট্য ও রসূলের দয়া লাভের উপায় মনে করে। আসলেই তা তাদের জন্যে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। অচিরেই তাদের দাখিল করবেন তাঁর রহমতের মধ্যে। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।
ومن الأعراب من يؤمن بالله واليوم الآخر ويتخذ ما ينفق قربات عند الله وصلوات الرسول ۚ ألا إنها قربة لهم ۚ سيدخلهم الله في رحمته ۗ إن الله غفور رحيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর বেদুঈনদের কেউ কেউ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে এবং যা ব্যয় করে তাকে আল্লাহর নিকট নৈকট্য ও রাসূলের দো‘আর উপায় হিসেবে গণ্য করে। জেনে রাখ, নিশ্চয় তা তাদের জন্য নৈকট্যের মাধ্যম। অচিরেই তাদেরকে তাঁর রহমতে প্রবেশ করাবেন। নিশ্চয় অতি ক্ষমাশ
আবদুস শহীদ নাসিম
মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা (ঈমানের দাওয়াত গ্রহণে) প্রথম ও অগ্রগামী আর যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করছে, তাদের সবার প্রতি রাজি হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি রাজি। তিনি তাদের জন্যে প্রস্ত্তত রেখেছেন জান্নাত, যার নিচে দিয়ে বহমান রয়েছে নদ - নদী - নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
والسابقون الأولون من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان رضي الله عنهم ورضوا عنه وأعد لهم جنات تجري تحتها الأنهار خالدين فيها أبدا ۚ ذلك الفوز العظيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তারা সেখানে চিরস্থ
আবদুস শহীদ নাসিম
বেদুঈনদের যারা তোমাদের আশপাশে থাকে, তাদের মধ্যে মুনাফিক রয়েছে এবং মদিনাবাসীদের মধ্যেও রয়েছে। তারা মুনাফিকিতে পাকা। তুমি তাদের জানো না। আমরা তাদের জানি। আমরা তাদের দুইবার শাস্তি দেবো। তারপর তাদের ফেরত পাঠানো হবে বড় আযাবের (জাহান্নামের) দিকে।
وممن حولكم من الأعراب منافقون ۖ ومن أهل المدينة ۖ مردوا على النفاق لا تعلمهم ۖ نحن نعلمهم ۚ سنعذبهم مرتين ثم يردون إلى عذاب عظيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমাদের আশপাশের মরুবাসীদের মধ্যে কিছু লোক মুনাফিক এবং মদীনাবাসীদের মধ্যেও কিছু লোক অতিমাত্রায় মুনাফিকীতে লিপ্ত আছে। তুমি তাদেরকে জান না। আমি তাদেরকে জানি। অচিরে আমি তাদেরকে দু’বার আযাব দেব তারপর তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে মহাআযাবের দিকে।
আবদুস শহীদ নাসিম
এছাড়াও কিছু লোক আছে যারা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। তাদের আমল শংকর (মিশ্র), কিছু ভালো, কিছু মন্দ। হয়তো তাদের ক্ষমা করবেন। কারণ, পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।
وآخرون اعترفوا بذنوبهم خلطوا عملا صالحا وآخر سيئا عسى الله أن يتوب عليهم ۚ إن الله غفور رحيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর অন্য কিছু লোক তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে, সৎকর্মের সঙ্গে তারা অসৎকর্মের মিশ্রণ ঘটিয়েছে। আশা করা যায়, তাদের তাওবা কবূল করবেন। নিশ্চয় অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মাল - সম্পদ থেকে সাদাকা (যাকাত) গ্রহণ করো। এর ফলে তুমি তাদের পবিত্র পরিশুদ্ধ ও উন্নত করবে। তুমি তাদের দোয়া করো। তোমার দোয়া তাদের জন্যে হবে প্রশান্তির কারণ। সব শুনেন, সব জানেন।
خذ من أموالهم صدقة تطهرهم وتزكيهم بها وصل عليهم ۖ إن صلاتك سكن لهم ۗ والله سميع عليم
বয়ান ফাউন্ডেশন
তাদের সম্পদ থেকে সদাকা নাও। এর মাধ্যমে তাদেরকে তুমি পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে। আর তাদের জন্য দো‘আ কর, নিশ্চয় তোমার দো‘আ তাদের জন্য প্রশান্তিকর। আর সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি জানেনা, তাঁর বান্দাদের থেকে তওবা কবুল করেন এবং সাদাকা (দান) গ্রহণ করেন? নিশ্চয়ই তওবা কবুলকারী পরম দয়াময়।
ألم يعلموا أن الله هو يقبل التوبة عن عباده ويأخذ الصدقات وأن الله هو التواب الرحيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা কি জানে না যে, নিশ্চয় তাঁর বান্দাদের তাওবা কবূল করেন এবং সদাকা গ্রহণ করেন। আর নিশ্চয় তাওবা কবূলকারী, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো, তোমরা আমল করতে থাকো, তোমাদের আমল দেখছেন আর তাঁর রসূল ও মুমিনরা। অচিরেই তোমাদের ফেরত দেয়া হবে ও দৃশ্যের জ্ঞানী মহান আল্লাহর দিকে, তারপর তিনিই তোমাদের সংবাদ দেবেন তোমাদের কর্মকান্ড (কেমন ছিলো সে) সম্পর্কে।
وقل اعملوا فسيرى الله عملكم ورسوله والمؤمنون ۖ وستردون إلى عالم الغيب والشهادة فينبئكم بما كنتم تعملون
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর বল, ‘তোমরা আমল কর। অতএব, অচিরেই তোমাদের আমল দেখবেন, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণও। আর অচিরেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে ও প্রকাশ্যের জ্ঞানীর নিকট। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে জানাবেন যা তোমরা আমল করতে সে সম্পর্কে’।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর আল্লাহর নির্দেশ আসার অপেক্ষায় অপর কিছু লোকের বিষয়ে ফয়সালা স্থগিত রইলো। তিনি হয় তাদের শাস্তি দেবেন, নয়তো তাদের তওবা কবুল করবেন। অতীব জ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
وآخرون مرجون لأمر الله إما يعذبهم وإما يتوب عليهم ۗ والله عليم حكيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর আল্লাহর আদেশের অপেক্ষায় অপর কিছু লোকের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়া হলো। তিনি তাদেরকে আযাব দেবেন নয়তো তাদের তাওবা কবূল করবেন। আর সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা একটি মসজিদ তৈরি করেছে ক্ষতিসাধন, কুফুরি ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতোপূর্বে যে ব্যক্তি ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে তার গোপন ঘাটি হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে, তারা অবশ্যি হলফ করে বলবে, ‘আমরা সৎ উদ্দেশ্যেই এটা করেছি।’ সাক্ষী, তারা মিথ্যাবাদী।
والذين اتخذوا مسجدا ضرارا وكفرا وتفريقا بين المؤمنين وإرصادا لمن حارب الله ورسوله من قبل ۚ وليحلفن إن أردنا إلا الحسنى ۖ والله يشهد إنهم لكاذبون
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যারা মসজিদ বানিয়েছে ক্ষতিসাধন, ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতঃপূর্বে ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যে লড়াই করেছে তার ঘাঁটি হিসেবে। আর তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, ‘আমরা কেবল ভাল চেয়েছি’। আর সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা অবশ্যই মিথ
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি কখনো ঐ মসজিদে দাঁড়াবে না। প্রথম দিন থেকেই যে মসজিদের ভিত স্থাপন করা হয়েছে তাকওয়ার উপর, সেটাই তোমার সালাতের জন্যে অধিক উপযুক্ত। তাতে এমন লোকেরা আছে যারা পবিত্রতা অর্জন পছন্দ করে আর পবিত্রতা অজর্নকারীদের পছন্দ করেন।
لا تقم فيه أبدا ۚ لمسجد أسس على التقوى من أول يوم أحق أن تقوم فيه ۚ فيه رجال يحبون أن يتطهروا ۚ والله يحب المطهرين
বয়ান ফাউন্ডেশন
তুমি সেখানে কখনো ( কায়েম করতে) দাঁড়িও না। অবশ্যই যে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাকওয়ার উপর প্রথম দিন থেকে তা বেশী হকদার যে, তুমি সেখানে কায়েম করতে দাঁড়াবে। সেখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালবাসে। আর পবিত্রতা অর্জনকারী
আবদুস শহীদ নাসিম
যে ব্যক্তি তার ঘরের ভিত স্থাপন করে ভীতি ও আল্লাহর রেজামন্দির উপর সে উত্তম, নাকি ঐ ব্যক্তি, যে তার ঘরের ভিত স্থাপন করে কোনো গর্তের ধ্বংসোন্মুখ কিনারে, ফলে তা সেটাকে নিয়েই পড়ে যায় জাহান্নামের আগুনে। যালিম লোকদের সঠিক পথ দেখান না।
أفمن أسس بنيانه على تقوى من الله ورضوان خير أم من أسس بنيانه على شفا جرف هار فانهار به في نار جهنم ۗ والله لا يهدي القوم الظالمين
বয়ান ফাউন্ডেশন
যে তার গৃহের ভিত্তি আল্লাহর তাকওয়া ও সন্তুষ্টির উপর প্রতিষ্ঠা করল, সে কি উত্তম না ঐ ব্যক্তি যে তার গৃহের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছে এক গর্তের পতনোন্মুখ কিনারায়? অতঃপর তাকে নিয়ে তা ধসে পড়ল জাহান্নামের আগুনে। আর যালিম কওমকে হিদায়াত দেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের নির্মিত ঘর তাদের অন্তরে সন্দেহের কারণ হয়ে থাকবে, যতোক্ষণ না তাদের অন্তর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। অতীব জ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
لا يزال بنيانهم الذي بنوا ريبة في قلوبهم إلا أن تقطع قلوبهم ۗ والله عليم حكيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
তাদের নির্মিত গৃহ, তাদের অন্তরে সন্দেহের কারণ হয়ে থাকবে, যে পর্যন্ত না তাদের হৃদয় টুকরো টুকরো হয়ে যায়। আর সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
নিশ্চয়ই মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল কিনে নিয়েছেন, বিনিময়ে তারা লাভ করবে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করবে, মরবে এবং মারবে। তাওরাত, ইনজিল এবং কুরআনে এ সম্পর্কে হক ওয়াদা রয়েছে। প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহর চাইতে শ্রেষ্ঠ আর কে আছে? তোমরা যে সওদা করেছো তার জন্যে সুসংবাদ গ্রহণ করো। এটাই মহাসাফল্য।
۞ إن الله اشترى من المؤمنين أنفسهم وأموالهم بأن لهم الجنة ۚ يقاتلون في سبيل الله فيقتلون ويقتلون ۖ وعدا عليه حقا في التوراة والإنجيل والقرآن ۚ ومن أوفى بعهده من الله ۚ فاستبشروا ببيعكم الذي بايعتم به ۚ وذلك هو الفوز العظيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন (এর বিনিময়ে) যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে। অতএব তারা মারে ও মরে। তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে এ সম্পর্কে সত্য ওয়াদা রয়েছে। আর নিজ ওয়াদা পূরণে আল্লাহর চেয়ে অধিক কে হতে পারে?
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা হয়ে থাকে তওবাকারী, ইবাদতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকুকারী, সাজদাকারী, ভালো কাজের আদেশ দানকারী, মন্দ কাজে বাধাদানকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত হুদুদ (সীমারেখা) হিফাযতকারী। এসব (গুণের অধিকারী) মুমিনদের সুসংবাদ দাও।
ما كان للنبي والذين آمنوا أن يستغفروا للمشركين ولو كانوا أولي قربى من بعد ما تبين لهم أنهم أصحاب الجحيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
নবী ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যদিও তারা আত্মীয় হয়। তাদের নিকট এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে, নিশ্চয় তারা আগুনের অধিবাসী।
আবদুস শহীদ নাসিম
ইবরাহিম যে তার পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল তার কারণ, সে তাকে এর জন্যে বিশেষভাবে ওয়াদা দিয়েছিল। কিন্তু যখন তার কাছে একথা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে, সে আল্লাহর দুশমন, তখন সে তার (পিতার) সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলে। ইবরাহিম তো অতিশয় কোমল হৃদয় এবং সহনশীল।
وما كان استغفار إبراهيم لأبيه إلا عن موعدة وعدها إياه فلما تبين له أنه عدو لله تبرأ منه ۚ إن إبراهيم لأواه حليم
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিজ পিতার জন্য ইবরাহীমের ক্ষমা প্রার্থনা তো ছিল একটি ওয়াদার কারণে, যে ওয়াদা সে তাকে দিয়েছিল। অতঃপর যখন তার নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নিশ্চয় সে আল্লাহর শত্রু, সে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল। নিশ্চয় ইবরাহীম ছিল অধিক প্রার্থনাকারী ও সহনশীল।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর নিয়ম এটা নয় যে, তিনি কোনো জনগোষ্ঠীকে সঠিক পথ দেখানোর পর আবার বিপথগামী করে দেবেন, যতোক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, কী কী বিষয়ে তাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নিশ্চয়ই সব বিষয়ে জ্ঞানী।
وما كان الله ليضل قوما بعد إذ هداهم حتى يبين لهم ما يتقون ۚ إن الله بكل شيء عليم
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর এমন নন যে, তিনি কোন সম্প্রদায়কে হিদায়াত দানের পর তাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন। যতক্ষণ না তাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করবেন, যা থেকে তারা সাবধান থাকবে। নিশ্চয় প্রত্যেক বিষয়ে সর্বজ্ঞ।
আবদুস শহীদ নাসিম
মহাকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌম কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর। তিনিই জীবন দান করেন, তিনিই মৃত্যু ঘটান। তিনি ছাড়া তোমাদের জন্যে আর কোনো অলিও নেই, সাহায্যকারীও নেই।
إن الله له ملك السماوات والأرض ۖ يحيي ويميت ۚ وما لكم من دون الله من ولي ولا نصير
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় , তাঁর জন্যই আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। আর ছাড়া তোমাদের জন্য না আছে কোন অভিভাবক, না আছে কোন সাহায্যকারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
অনুগ্রহের দৃষ্টি দিয়েছেন নবীর প্রতি, মুহাজিরদের প্রতি এবং আনসারদের প্রতি, যারা তার (নবীর) অনুসরণ করেছে কঠিন সংকটকালে, যদিও তাদের কিছু লোকের অন্তর বাঁকা হবার উপক্রম হয়েছিল। অত:পর তাদের তওবা কবুল করেন। অবশ্যি তাদের প্রতি অতীব কোমল, পরম দয়াময়।
لقد تاب الله على النبي والمهاجرين والأنصار الذين اتبعوه في ساعة العسرة من بعد ما كاد يزيغ قلوب فريق منهم ثم تاب عليهم ۚ إنه بهم رءوف رحيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
অবশ্যই নবী, মুহাজির ও আনসারদের তাওবা কবুল করলেন, যারা তার অনুসরণ করেছে সংকটপূর্ণ মুহূর্তে। তাদের মধ্যে এক দলের হৃদয় সত্যচ্যূত হওয়ার উপক্রম হবার পর। তারপর তাদের তাওবা কবূল করলেন। নিশ্চয় তিনি তাদের প্রতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি ঐ তিনজনকেও ক্ষমা করে দিয়েছেন, যাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের জন্যে প্রশস্ত পৃথিবীও সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং তাদের জীবনও তাদের জন্যে দুর্বিষহ হয়ে পড়েছিল, আর তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, ছাড়া তাদের কোনো আশ্রয়স্থল নেই। তখন তিনি তাদের তওবা কবুল করলেন, যাতে করে তারা ফিরে আসে তাঁর দিকে। নিশ্চয়ই অতিশয় তওবা কবুলকারী, পরম দয়াবান।
وعلى الثلاثة الذين خلفوا حتى إذا ضاقت عليهم الأرض بما رحبت وضاقت عليهم أنفسهم وظنوا أن لا ملجأ من الله إلا إليه ثم تاب عليهم ليتوبوا ۚ إن الله هو التواب الرحيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর সে তিন জনের (তাওবা কবূল করলেন), যাদের বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছিল। এমনকি পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের নিকট তাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছিল। আর তারা নিশ্চিত বুঝেছিল যে, আল্লাহর আযাব থেকে তিনি ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল নেই।
হে মুমিনগণ,তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।
আবদুস শহীদ নাসিম
মদিনাবাসী এবং আশেপাশের মরু বেদুঈনদের উচিত হয়নি, আল্লাহর রসূলের সহগামী না হয়ে পেছনে পড়ে থাকা এবং তার জীবন অপেক্ষা নিজেদের জীবনের প্রতি অধিক অনুরাগী হওয়া। কারণ, আল্লাহর পথে তাদের পিপাসা, ক্লান্তি, ক্ষুধা, কাফিরদের ক্রোধ জাগিয়ে তোলে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং শত্রুদের পক্ষ থেকে কোনো আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া, এসবই তাদের আমলে সালেহ্ (নেক আমল)। নিশ্চয়ই কল্যাণপরায়নদের কর্মফল বিনষ্ট করেন না।
ما كان لأهل المدينة ومن حولهم من الأعراب أن يتخلفوا عن رسول الله ولا يرغبوا بأنفسهم عن نفسه ۚ ذلك بأنهم لا يصيبهم ظمأ ولا نصب ولا مخمصة في سبيل الله ولا يطئون موطئا يغيظ الكفار ولا ينالون من عدو نيلا إلا كتب لهم به عمل صالح ۚ إن الله لا يضيع أجر المحسنين
বয়ান ফাউন্ডেশন
মদীনার অধিবাসী ও তার আশপাশের মরুবাসীদের জন্য সংগত নয় যে, রাসূলুল্লাহ থেকে পেছনে থেকে যাবে এবং রাসূলের জীবন অপেক্ষা নিজদের জীবনকে অধিক প্রিয় মনে করবে। এটা এ কারণে যে, তাদেরকে আল্লাহর পথে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধায় আক্রান্ত করে এবং তাদের এমন পদক্ষেপ যা কাফি
আবদুস শহীদ নাসিম
আর তারা কম ও বেশি যা - ই ব্যয় করে এবং যে কোনো প্রান্তরই অতিক্রম করে, তা তাদের জন্যে পুণ্য হিসাবে লেখা হয়, যাতে করে তারা যা করে তাদেরকে তার চাইতে উত্তম পুরস্কার দিতে পারেন।
ولا ينفقون نفقة صغيرة ولا كبيرة ولا يقطعون واديا إلا كتب لهم ليجزيهم الله أحسن ما كانوا يعملون
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তারা স্বল্প কিংবা অধিক যা-ই ব্যয় করে এবং অতিক্রম করে যে প্রান্তরই, তা তাদের জন্য লিখে দেয়া হয়, যাতে তারা যা আমল করত, তাদেরকে তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান দেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
সব মুমিনদের একই সাথে অভিযানে বের হওয়া উচিত নয়। তাদের প্রত্যেক দল বা গোত্র থেকে একটি অংশ বের হয়না কেন, যেনো তারা দীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে এবং তাদের জাতিকে সতর্ক করে যখন তারা তাদের কাছে ফিরে যাবে, যাতে করে তারা সতর্ক হয়।
۞ وما كان المؤمنون لينفروا كافة ۚ فلولا نفر من كل فرقة منهم طائفة ليتفقهوا في الدين ولينذروا قومهم إذا رجعوا إليهم لعلهم يحذرون
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে, তারা সকলে একসঙ্গে অভিযানে বের হবে। অতঃপর তাদের প্রতিটি দল থেকে কিছু লোক কেন বের হয় না, যাতে তারা দীনের গভীর জ্ঞান আহরণ করতে পারে এবং আপন সম্প্রদায় যখন তাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করবে, তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা (গুনাহ
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! কাফিরদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো এবং তারা যেনো তোমাদের মধ্যে দৃঢ়তা দেখতে পায়। জেনে রাখো, মুত্তাকিদের সাথেই আছেন।
وإذا ما أنزلت سورة فمنهم من يقول أيكم زادته هذه إيمانا ۚ فأما الذين آمنوا فزادتهم إيمانا وهم يستبشرون
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যখনই কোন সূরা নাযিল করা হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, ‘এটি তোমাদের কার ঈমান বৃদ্ধি করল’? অতএব যারা , নিশ্চয় তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর যাদের অন্তরে রোগ আছে তাদের কলুষতার সাথে আরো কলুষতা যোগ করে এবং তাদের মরণ হয় অবস্থায়।
أولا يرون أنهم يفتنون في كل عام مرة أو مرتين ثم لا يتوبون ولا هم يذكرون
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা কি দেখে না যে, তারা প্রতি বছর এক বার কিংবা দু’বার বিপদগ্রস্ত হয় ? এর পরও তারা তাওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
যখনই কোনো সূরা নাযিল হয়, তখন তারা একে অপরের দিকে তাকায় এবং ইশারায় জানতে চায় ‘কেউ তোমাদের দেখছে কি?’ অত:পর তারা সরে পড়ে। তাদের অন্তরকে সত্য থেকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন, কারণ তাদের কোনো বুঝ জ্ঞান নেই।
وإذا ما أنزلت سورة نظر بعضهم إلى بعض هل يراكم من أحد ثم انصرفوا ۚ صرف الله قلوبهم بأنهم قوم لا يفقهون
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যখনই কোন সূরা নাযিল করা হয়, তারা একে অপরের দিকে তাকায়। (এবং বলে) ‘তোমাদেরকে কি কেউ দেখছে’? অতঃপর তারা (চুপিসারে) প্রস্থান করে। তাদের হৃদয়কে সত্যবিমুখ করে দেন। এ কারণে যে, তারা বোধশক্তিহীন কওম।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই এসেছে একজন রসূল। তোমাদের যা কিছু বিপর্যস্ত করে তা তার জন্যে কষ্টদায়ক। সে তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি অতীব দয়ালু, পরম করুণাময়।
لقد جاءكم رسول من أنفسكم عزيز عليه ما عنتم حريص عليكم بالمؤمنين رءوف رحيم
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয়ই তোমাদের নিজদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন, তা তার জন্য কষ্টদায়ক যা তোমাদেরকে পীড়া দেয়। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তুমি বলো: ‘আল্লাহ্ই আমার জন্যে যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই, তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করলাম, তিনিই মহান আরশের প্রভু।’