You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
ইবরাহিম
Chapter 14, 52 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
Arabic, with marks
Arabic
সমকালীন বাংলা
About this chapter
মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৫২, রুকু সংখ্যা: ০৭
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-০৩কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য।
০৪প্রত্যেক রসূলকে নিজ জাতির ভাষায় দাওয়াত দিতে পাঠানো হয়েছে।
০৫-০৮মূসাকেও একই উদ্দেশ্যে আল্লাহর আয়াত দিয়ে পাঠানো হয়েছিল।
০৯-১৭অতীত রসূলগণের দাওয়াত এবং তাদের জাতির কুফুরি। রসূলগণের দৃঢ়তা এবং কাফিরদের অশুভ পরিণতি।
১৮-২১কাফিরদের কর্মকান্ডের উপমা। পরকালে দুর্বল ও শক্তিমানদের বিতর্ক।
২২বিচার ফায়সালার পর হাশর ময়দানে শয়তানের বক্তৃতা।
২৩-৩৪মুমিনদের শুভ পরিণতি। সত্যবাণী ও মিথ্যা কথার উপমা। বাতিলপন্থীদের পরিণতি। মানুষের প্রতি আল্লাহর সীমাহীন অনুগ্রহ।
৩৫-৪১মূর্তি ও ভাস্কর্য পূজারীদের বিরুদ্ধে ইবরাহিমের আ. প্রার্থনা। ইবরাহিমের সন্তানদের একটি অংশকে মক্কায় প্রতিষ্ঠা এবং এর কারণ।
৪২-৫২মানুষকে কিয়ামতের ব্যাপারে সতর্ক করার নির্দেশ। ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যর্থ হয়ে যাবে। কিয়ামতের দিন এই পৃথিবীকে নতুন রূপে গড়া হবে। সেদিন অপরাধীরা থাকবে শৃঙ্খলবদ্ধ।
আবদুস শহীদ নাসিম
আলিফ লাম রা। এই কিতাব আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে করে তুমি মানব সমাজকে বের করে আনো অন্ধকাররাশি থেকে আলোতে, তাদের প্রভুর অনুমতিক্রমে মহাপরাক্রমশালী সপ্রশংসিত আল্লাহর পথে।
الذين يستحبون الحياة الدنيا على الآخرة ويصدون عن سبيل الله ويبغونها عوجا ۚ أولئك في ضلال بعيد
সমকালীন বাংলা
যাহারা দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের চেয়ে ভালবাসে, মানুষকে নিবৃত্ত করে আল্লাহর পথ হইতে এবং আল্লাহর পথ বক্র করিতে চাহে উহারা তো ঘোর বিভ্রান্তিতে রহিয়াছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা একজন রসূলও পাঠাইনি তার স্বজাতির ভাষায় ছাড়া, যাতে করে সে তাদেরকে স্পষ্ট করে বার্তা পৌঁছাতে পারে। তারপর যাকে চান বিপথগামী করে দেন আর যাকে চান সঠিক পথে পরিচালিত করেন। তিনি দুর্জয় ক্ষমতাবান মহাজ্ঞানী।
وما أرسلنا من رسول إلا بلسان قومه ليبين لهم ۖ فيضل الله من يشاء ويهدي من يشاء ۚ وهو العزيز الحكيم
সমকালীন বাংলা
আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাহার স্বজাতির ভাষাভাষী করিয়া পাঠাইয়াছি তাহাদের নিকট পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করিবার জন্য, যাহাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা আমাদের এক গুচ্ছ নিদর্শনসহ মূসাকে পাঠিয়েছিলাম এই নির্দেশ দিয়ে: ‘তুমি তোমার কওমকে অন্ধকাররাশি থেকে আলোতে বের করে আনো আর তাদেরকে আল্লাহর দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিতে থাকো। এতে পরম ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞ লোকদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন।’
ولقد أرسلنا موسى بآياتنا أن أخرج قومك من الظلمات إلى النور وذكرهم بأيام الله ۚ إن في ذلك لآيات لكل صبار شكور
সমকালীন বাংলা
মূসাকে আমি তো আমার নিদর্শনসহ প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং বলিয়াছিলাম, ‘তোমার সম্প্রদায়কে অন্ধকার হইতে আলোতে আনয়ন কর, এবং উহাদেরকে দিবসগুলির দ্বারা উপদেশ দাও।’ ইহাতে তো নিদর্শন রহিয়াছে প্রত্যেক পরম ধৈর্যশীল ও পরম কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য।
আবদুস শহীদ নাসিম
স্মরণ করো, মূসা তার কওমকে বলেছিল: ‘‘তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো যখন তিনি তোমাদের নাজাত দিয়েছিলেন ফেরাউন গোষ্ঠীর কবল থেকে। তারা তোমাদের দিয়েছিল নিকৃষ্ট ধরনের আযাব। তারা যবাই করছিল তোমাদের পুত্র সন্তানদের আর জীবিত রাখছিল তোমাদের নারীদের। এতে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্যে ছিলো এক বিরাট পরীক্ষা।
وإذ قال موسى لقومه اذكروا نعمة الله عليكم إذ أنجاكم من آل فرعون يسومونكم سوء العذاب ويذبحون أبناءكم ويستحيون نساءكم ۚ وفي ذلكم بلاء من ربكم عظيم
সমকালীন বাংলা
স্মরণ কর, মূসা তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমরা অনুগ্রহ’ স্মরণ কর যখন তিনি তোমাদেরকে রক্ষা করিয়াছিলেন ফির‘আওনী সম্প্রদায়ের কবল হইতে, যাহারা তোমাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দিত, তোমাদের পুত্রগণকে যবেহ্ করিত ও তোমাদের নারীগণকে জীবিত রাখিত; এবং ইহাতে ছিল তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে এক মহাপরীক্ষা।’
আবদুস শহীদ নাসিম
স্মরণ করো, তোমাদের প্রভু তোমাদের জানিয়ে দিয়েছিলেন, তোমরা যদি শোকর গুজারি করো তাহলে আমি তোমাদের আরো বেশি করে দেবো, আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে আমার আযাব অবশ্যি কঠোর।’’
وقال موسى إن تكفروا أنتم ومن في الأرض جميعا فإن الله لغني حميد
সমকালীন বাংলা
মূসা বলিয়াছিল, ‘তোমরা এবং পৃথিবীর সকলেই যদি অকৃতজ্ঞ হও তথাপি অভাবমুক্ত এবং প্রশংসার্হ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের কাছে কি তোমাদের আগেকার লোকদের সংবাদ আসেনি, নূহের জাতি, আদ জাতি ও সামুদ জাতির সংবাদ? আর তাদের পরবর্তীদের সংবাদ? তাদের বিষয়ে ছাড়া আর কেউ জানেন না। তাদের কাছে তাদের রসূলরা এসেছিল সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে, কিন্তু তারা তাদের হাত তাদের মুখে চেপে ধরেছিল এবং বলেছিল: ‘তোমরা যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছো তার প্রতি আমরা কুফুরি করলাম। তোমরা যার প্রতি আমাদের ডাকছো সে বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে আমরা রয়েছি।’
ألم يأتكم نبأ الذين من قبلكم قوم نوح وعاد وثمود ۛ والذين من بعدهم ۛ لا يعلمهم إلا الله ۚ جاءتهم رسلهم بالبينات فردوا أيديهم في أفواههم وقالوا إنا كفرنا بما أرسلتم به وإنا لفي شك مما تدعوننا إليه مريب
সমকালীন বাংলা
‘তোমাদের নিকট কি সংবাদ আসে নাই তোমাদের পূর্ববর্তীদের, নূহের সম্প্রদায়ের, ‘আদের ও সামূদের এবং তাহাদের পরবর্তীদের? উহাদের বিষয় ব্যতীত অন্য কেহ জানে না।’ উহাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসহ উহাদের রাসূল আসিয়াছিল, উহারা উহাদের হাত উহাদের মুখে স্থাপন করিত এবং বলিত, ‘যাহাসহ তোমরা প্রেরিত হইয়াছ তাহা আমরা অবশ্যই অস্বীকার করি এবং আমরা অবশ্যই বিভ্রান্তিকর সন্দেহে রহিয়াছি সে বিষয়ে, যাহার প্রতি তোমরা আমাদেরকে আহ্বান করিতেছ।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের রসূলরা বলেছিল: ‘আল্লাহর সম্পর্কে তোমাদের সন্দেহ? অথচ তিনিই মহাকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা। তিনি তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দেয়ার উদ্দেশ্যে তোমাদের ডাকছেন আর একটা নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত তোমাদের অবকাশ দেয়ার জন্যে।’ তারা বলেছিল: ‘তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ। তোমরা তো চাইছো, আমাদের পূর্ব পুরুষরা যে সবের ইবাদত করতো আমাদেরকে সেগুলো থেকে বাধা দিতে। তোমরা আমাদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখাও।’
۞ قالت رسلهم أفي الله شك فاطر السماوات والأرض ۖ يدعوكم ليغفر لكم من ذنوبكم ويؤخركم إلى أجل مسمى ۚ قالوا إن أنتم إلا بشر مثلنا تريدون أن تصدونا عما كان يعبد آباؤنا فأتونا بسلطان مبين
সমকালীন বাংলা
উহাদের রাসূলগণ বলিয়াছিল, সম্বন্ধে কি কোন সন্দেহ আছে, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা? তিনি তোমাদেরকে আহ্বান করেন তোমাদের পাপ মার্জনা করিবার জন্য এবং নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত তোমাদেরকে অবকাশ দিবার জন্য।’ উহারা বলিত, ‘তোমরা তো আমাদেরই মত মানুষ। আমাদের পিতৃপুরুষগণ যাহাদের ‘ইবাদত করিত তোমরা তাহাদের ‘ইবাদত হইতে আমাদেরকে বিরত রাখিতে চাও। অতএব তোমরা আমাদের নিকট কোন অকাট্য প্রমাণ উপস্থিত কর।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের রসূলরা তাদের বলেছিল: ‘‘আমরা অবশ্যি তোমাদের মতো মানুষ, কিন্তু তাঁর বান্দাদের যাকে চান, তার প্রতি অনুগ্রহ করেন। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তোমাদের কাছে কোনো প্রমাণ নিয়ে আসা আমাদের কাজ নয়। মুমিনরা আল্লাহর উপরই ভরসা করে।
قالت لهم رسلهم إن نحن إلا بشر مثلكم ولكن الله يمن على من يشاء من عباده ۖ وما كان لنا أن نأتيكم بسلطان إلا بإذن الله ۚ وعلى الله فليتوكل المؤمنون
সমকালীন বাংলা
উহাদের রাসূলগণ উহাদেরকে বলিত, ‘সত্য বটে, আমরা তোমাদের মত মানুষই কিন্তু তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। অনুমতি ব্যতীত তোমাদের নিকট প্রমাণ উপস্থিত করা আমাদের কাজ নয়। আল্লাহর উপরই মু’মিনগণের নির্ভর করা উচিত।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা কেন আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করবো না, অথচ তিনিই তো আমাদেরকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন? তোমরা আমাদের যতো কষ্টই দাও না কেন, আমরা অবশ্যি অটল - সহনশীল থাকবো। যারা নির্ভর করে তারা আল্লাহর উপর নির্ভর করুক।’’
وما لنا ألا نتوكل على الله وقد هدانا سبلنا ۚ ولنصبرن على ما آذيتمونا ۚ وعلى الله فليتوكل المتوكلون
সমকালীন বাংলা
আমাদের কি হইয়াছে যে, ‘আমরা আল্লাহর উপর নির্ভর করিব না? তিনিই তো আমাদেরকে পথ প্রদর্শন করিয়াছেন। তোমরা আমাদেরকে যে ক্লেশ দিতেছ, আমরা তাহাতে অবশ্যই ধৈর্য ধারন করিবে এবং আল্লাহর উপর নির্ভরকারীগন নির্ভর করুক।
আবদুস শহীদ নাসিম
কাফিররা তাদের রসূলদের বলেছিল: ‘আমরা অবশ্যি আমাদের দেশ থেকে তোমাদের বের করে দেবো, অথবা তোমাদেরকে আমাদের ধর্মেই ফিরে আসতে হবে।’ তখন তাদের (রসূলদের) প্রভু তাদেরকে অহির মাধ্যমে জানিয়ে দেন: ‘‘আমরা অবশ্যি যালিমদের হালাক করে দেবো।
উহাদের প্রত্যেকের জন্য পরিণামে জাহান্নাম রহিয়াছে এবং পান করানো হইবে গলিত পুঁজ;
আবদুস শহীদ নাসিম
সে বহু কষ্টে এক ঢোক এক ঢোক করে গিলবে এবং গেলা তার জন্যে মোটেই সহজ হবেনা। চতুর্দিক থেকে মৃত্যু তাকে আচ্ছন্ন করবে, কিন্তু তার মউত হবেনা। এরপর তার উপর চেপে বসবে এক কঠিন আযাব।
يتجرعه ولا يكاد يسيغه ويأتيه الموت من كل مكان وما هو بميت ۖ ومن ورائه عذاب غليظ
সমকালীন বাংলা
যাহা সে অতি কষ্টে একেক ঢোক করিয়া গলাধঃকরণ করিবে এবং উহা গলাধঃকরণ করা প্রায় সহজ হইবে না। সর্বদিক হইতে তাহার নিকট আসিবে মৃত্যুযন্ত্রণা, কিন্তু তাহার মৃত্যু ঘটিবে না এবং ইহার পর কঠোর শাস্তি ভোগ করিতেই থাকিবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা তাদের প্রভুর প্রতি কুফুরি করে তাদের উপমা হলো: তাদের আমলসমূহ হলো ভস্মের মতো, ঝড়ের দিনে বাতাস সেগুলো প্রচন্ড বেগে উড়িয়ে নিয়ে যায়। তাদের উপার্জনের কিছুই তারা কাজে লাগাতে সক্ষম হয়না। এটাই হলো ঘোরতর বিপথগামিতা।
ألم تر أن الله خلق السماوات والأرض بالحق ۚ إن يشأ يذهبكم ويأت بخلق جديد
সমকালীন বাংলা
তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী যথাবিধি সৃষ্টি করিয়াছেন? তিনি ইচ্ছা করিলে তোমাদের অস্তিত্ব বিলোপ করিতে পারেন এবং এক নূতন সৃষ্টি অস্তিত্বে আনিতে পারেন,
আবদুস শহীদ নাসিম
এ কাজ আল্লাহর জন্যে মোটেও কষ্টকর নয়।
Arabic, with marks
وَمَا ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ بِعَزِيزٍ
Arabic
وما ذلك على الله بعزيز
সমকালীন বাংলা
আর ইহা আল্লার জন্য কঠিন নয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
সবাই যখন উপস্থিত হবে আল্লাহর কাছে। তখন দাম্ভিক কর্তৃত্বশালীদের উদ্দেশ্যে দুর্বলরা বলবে: ‘আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, এখন তোমরা কি আল্লাহর আযাব থেকে আমাদের কিছুমাত্র রক্ষা করতে পারবে?’ তারা বলবে: ‘ যদি আমাদেরকে সঠিক পথে চালাতেন, তাহলে আমরাও তোমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করতাম। এখন আমরা সহ্য করি কিংবা ধৈর্য হারাই একই কথা, এখান থেকে আমাদের নিষ্কৃতি নেই।’
وبرزوا لله جميعا فقال الضعفاء للذين استكبروا إنا كنا لكم تبعا فهل أنتم مغنون عنا من عذاب الله من شيء ۚ قالوا لو هدانا الله لهديناكم ۖ سواء علينا أجزعنا أم صبرنا ما لنا من محيص
সমকালীন বাংলা
সকলে নিকট উপস্থিত হইবে। যাহারা অহংকার করিত তখন দুর্বলেরা তাহাদেরকে বলিবে, ‘আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম; এখন তোমরা আল্লাহর শাস্তি হইতে আমাদেরকে কিছুমাত্র রক্ষা করিতে পারিবে?’ উহারা বলিবে, আমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করিলে আমরাও তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করিতাম। এখন আমরা ধৈর্যচ্যুত হই অথবা ধৈর্যশীল হই একই কথা; আমাদের কোন নিষ্কৃতি নাই।’
আবদুস শহীদ নাসিম
যখন বিচার কাজ শেষ হয়ে যাবে তখন শয়তান বলবে: ‘ তোমাদের ওয়াদা দিয়েছিলেন সত্য ওয়াদা। আর আমিও তোমাদের ওয়াদা দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তোমাদেরকে দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করেছি। তোমাদের উপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিলনা। আমি তো কেবল তোমাদের আহবান করেছি। তোমরা আমার আহবানে সাড়া দিয়েছিলে। সুতরাং আজ আমাকে তিরস্কার করোনা, নিজেকে নিজে তিরস্কার করো। আমি তোমাদের রক্ষা করতে সক্ষম নই, তোমরাও আমাকে রক্ষা করতে সক্ষম নও। তোমরা যে আমাকে ইতোপূর্বে (পৃথিবীতে) আল্লাহর শরিক বানিয়েছিলে আমি সেটা অস্বীকার করছি। যালিমদের জন্যে তো রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।’
وقال الشيطان لما قضي الأمر إن الله وعدكم وعد الحق ووعدتكم فأخلفتكم ۖ وما كان لي عليكم من سلطان إلا أن دعوتكم فاستجبتم لي ۖ فلا تلوموني ولوموا أنفسكم ۖ ما أنا بمصرخكم وما أنتم بمصرخي ۖ إني كفرت بما أشركتمون من قبل ۗ إن الظالمين لهم عذاب أليم
সমকালীন বাংলা
যখন বিচারকার্য সম্পন্ন হইবে তখন শয়তান বলিবে, তো তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলেন সত্য প্রতিশ্রুতি, আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলাম, কিন্তু আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করিয়াছি। আমার তো তোমাদের উপর কোন আধিপত্য ছিল না, আমি কেবল তোমাদেরকে আহ্বান করিয়াছিলাম এবং তোমরা আমার আহ্বানে সাড়া দিয়াছিলে। সুতরাং তোমরা আমার প্রতি দোষারোপ করিও না, তোমরা নিজেদেরই প্রতি দোষারোপ কর। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্য করিতে সক্ষম নই এবং তোমরাও আমার উদ্ধারে সাহায্য করিতে সক্ষম নও। তোমরা যে পূর্বে আমাকে শরীক করিয়াছিলে আমি তাহা অস্বীকার করিতেছি, জালিমদের জন্য তো মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে তাদের দাখিল করা হবে জান্নাতে (উদ্যানসমূহে), যেগুলোর নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। সেখানে থাকবে তারা চিরকাল তাদের প্রভুর অনুমতিক্রমে। সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’।
وأدخل الذين آمنوا وعملوا الصالحات جنات تجري من تحتها الأنهار خالدين فيها بإذن ربهم ۖ تحيتهم فيها سلام
সমকালীন বাংলা
যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহাদেরকে দাখিল করা হইবে জান্নাতে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে, তাহাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে, সেখানে তাহাদের অভিবাদন হইবে ‘সালাম’।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি কি দেখছো না, কিভাবে উপমা দিচ্ছেন: একটি উত্তম কথা যেনো একটি উত্তম গাছ, যার মূল মাটির গভীরে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত আর যার শাখা - প্রশাখা উপরে বিস্তীর্ণ।
۞ ألم تر إلى الذين بدلوا نعمت الله كفرا وأحلوا قومهم دار البوار
সমকালীন বাংলা
তুমি কি উহাদেরকে লক্ষ্য কর না, যাহারা অনুগ্রহের বদলে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং উহারা উহাদের সম্প্রদায়কে নামাইয়া আনে ধ্বংসের ক্ষেত্রে -
আবদুস শহীদ নাসিম
জাহান্নামে, আর সেখানেই তারা প্রবেশ করবে। সেটা কতো যে নিকৃষ্ট আবাস!
Arabic, with marks
جَهَنَّمَ يَصْلَوْنَهَا ۖ وَبِئْسَ الْقَرَارُ
Arabic
جهنم يصلونها ۖ وبئس القرار
সমকালীন বাংলা
জাহান্নামে, যাহার মধ্যে উহারা প্রবেশ করিবে, কত নিকৃষ্ট এই আবাসস্থল!
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা আল্লাহর সমকক্ষ বানায় মানুষকে তাঁর পথ থেকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে। হে নবী! তাদের বলো: ভোগ করে নাও, আর জেনে রাখো, তোমাদের ফিরে যাবার জায়গা হলো জাহান্নাম।
وجعلوا لله أندادا ليضلوا عن سبيله ۗ قل تمتعوا فإن مصيركم إلى النار
সমকালীন বাংলা
এবং উহারা সমকক্ষ নির্ধারণ করে তাঁহার পথ হইতে বিভ্রান্ত করিবার জন্য। বল, ‘ভোগ করিয়া লও, পরিণামে দোযখই তোমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল।’
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! আমার দাসদের বলো: তারা যেনো কায়েম করে এবং আমরা তাদের যে জীবিকা দিয়েছি তা থেকে যেনো ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে সেই দিনটি আসার আগেই, যেদিন কোনো বেচাকেনাও থাকবেনা আর কোনো বন্ধুতাও থাকবেনা।
قل لعبادي الذين آمنوا يقيموا الصلاة وينفقوا مما رزقناهم سرا وعلانية من قبل أن يأتي يوم لا بيع فيه ولا خلال
সমকালীন বাংলা
আমার বান্দাদের মধ্যে যাহারা তাহাদেরকে তুমি বল, কায়েম করিতে এবং আমি তাহাদেরকে জীবিকা হিসাবে যাহা দিয়াছি তাহা হইতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করিতে - সেই দিনের পূর্বে যেদিন ক্রয় - বিক্রয় ও বন্ধুত্ব থাকিবে না।’
আবদুস শহীদ নাসিম
, যিনি সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ এবং এই পৃথিবী আর নাযিল করেছেন আসমান থেকে পানি, তারপর তা থেকে উৎপন্ন করেছেন ফল ফসল তোমাদের জন্যে জীবিকা হিসেবে। আর নৌযানকে তোমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করে দিয়েছেন, যাতে করে তাঁর নির্দেশক্রমে তা চলাচল করে সমুদ্রে এবং তিনি তোমাদেরই কল্যাণে নিয়োজিত করে দিয়েছেন নদ - নদীকে।
الله الذي خلق السماوات والأرض وأنزل من السماء ماء فأخرج به من الثمرات رزقا لكم ۖ وسخر لكم الفلك لتجري في البحر بأمره ۖ وسخر لكم الأنهار
সমকালীন বাংলা
তিনিই যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন, যিনি আকাশ হইতে পানি বর্ষণ করিয়া তদ্দারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপাদন করেন, যিনি নৌযানকে তোমাদের অধীন করিয়া দিয়াছেন যাহাতে তাঁহার বিধানে উহা সমুদ্রে বিচরণ করে এবং যিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করিয়াছেন নদীসমূহকে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি তোমাদেরই কল্যাণে নিয়োজিত করে দিয়েছেন সূর্য আর চাঁদকে। তারা অবিরাম একই নিয়ম মেনে চলে। তিনি তোমাদের কল্যাণে আরো নিয়োজিত করেছেন রাত আর দিনকে।
وسخر لكم الشمس والقمر دائبين ۖ وسخر لكم الليل والنهار
সমকালীন বাংলা
তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করিয়াছেন সূর্য ও চন্দ্রকে, যাহারা অবিরাম একই নিয়মের অনুবর্তী এবং তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করিয়াছেন রাত্রি ও দিবসকে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা তাঁর কাছে যা চেয়েছো (অর্থাৎ যা কিছু তোমাদের প্রয়োজন) তার প্রত্যেকটিই তিনি তোমাদের দিয়েছেন। তোমরা যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ গণনা করো, তাহলে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না। নিশ্চয়ই মানুষ বড় যালিম, অকৃতজ্ঞ।
وآتاكم من كل ما سألتموه ۚ وإن تعدوا نعمت الله لا تحصوها ۗ إن الإنسان لظلوم كفار
সমকালীন বাংলা
এবং তিনি তোমাদেরকে দিয়াছেন তোমরা তাঁহার নিকট যাহা কিছু চাহিয়াছ তাহা হইতে। তোমরা অনুগ্রহ গণনা করিলে উহার সংখ্যা নির্ণয় করিতে পারিবে না। মানুষ অবশ্যই অতিমাত্রায় , অকৃতজ্ঞ।
আবদুস শহীদ নাসিম
স্মরণ করো, ইবরাহিম বলেছিল: ‘‘আমার প্রভু! তুমি এই (মক্কা) নগরীকে নিরাপদ করে দাও এবং আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে ভাষ্কর্য - প্রতিমা পূজা থেকে দূরে রেখো।
وإذ قال إبراهيم رب اجعل هذا البلد آمنا واجنبني وبني أن نعبد الأصنام
সমকালীন বাংলা
স্মরণ কর, ইব্রাহীম বলিয়াছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! এই নগরীকে নিরাপদ করিও এবং আমাকে ও আমার পুত্রগণকে প্রতিমা পূজা হইতে দূরে রাখিও।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমার প্রভু! এসব (প্রতিমা) বিপথগামী করেছে বহু মানুষকে। সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে, সেই হবে আমার লোক, আর যে আমার অবাধ্য হবে, সে ক্ষেত্রে তুমি তো পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।
رب إنهن أضللن كثيرا من الناس ۖ فمن تبعني فإنه مني ۖ ومن عصاني فإنك غفور رحيم
সমকালীন বাংলা
‘হে আমার প্রতিপালক! এই সকল প্রতিমা তো বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করিয়াছে। সুতরাং যে আমার অনুসরণ করিবে সে - ই আমার দলভুক্ত, কিন্তু কেহ আমার অবাধ্য হইলে তুমি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমাদের প্রভু! আমি তো আমার বংশধরদের একটি অংশের বসবাসের ব্যবস্থা করেছি এই অনুর্বর উপত্যকায় তোমার সম্মানিত ঘরের কাছে। হে আমার প্রভু! এ জন্যে করেছি, যেনো তারা কায়েম করে। সুতরাং তুমি মানুষের হৃদয় তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিও, আর তাদের জীবিকা দিও ফলফলারি দিয়ে, যাতে করে তারা তোমার শোকর আদায় করে।
ربنا إني أسكنت من ذريتي بواد غير ذي زرع عند بيتك المحرم ربنا ليقيموا الصلاة فاجعل أفئدة من الناس تهوي إليهم وارزقهم من الثمرات لعلهم يشكرون
সমকালীন বাংলা
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আমার বংশধরদের কতককে বসবাস করাইলাম অনুর্বর উপত্যকায় তোমার পবিত্র গৃহের নিকট, হে আমাদের প্রতিপালক! এইজন্য যে, উহারা যেন কায়েম করে। অতএব তুমি কিছু লোকের অন্তর উহাদের প্রতি অনুরাগী করিয়া দাও এবং ফলাদি দ্বারা উহাদের রিযিকের ব্যবস্থা করিও, যাহাতে উহারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমাদের প্রভু! নিশ্চয়ই তুমি জানো আমরা যা গোপন করি এবং আমরা যা প্রকাশ করি। আর আসমান ও জমিনের কিছুই গোপন নেই আল্লাহর কাছে।
مهطعين مقنعي رءوسهم لا يرتد إليهم طرفهم ۖ وأفئدتهم هواء
সমকালীন বাংলা
ভীত - বিহ্বল চিত্তে আকাশের দিকে চাহিয়া উহারা ছুটাছুটি করিবে, নিজেদের প্রতি উহাদের দৃষ্টি ফিরিবে না এবং উহাদের অন্তর হইবে উদাস।
আবদুস শহীদ নাসিম
যেদিন আযাব তাদেরকে পাকড়াও করে ফেলবে সেদিনটি সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করো। সেদিন যালিমরা বলবে: ‘আমাদের প্রভু! অল্পকালের জন্যে আমাদের অবকাশ দাও, আমরা তোমার আহবানে সাড়া দেবো এবং তোমার রসূলদের ইত্তেবা (অনুসরণ) করবো।’ (তাদের বলা হবে:) ইতোপূর্বে (দুনিয়ার জীবনে) তোমরা বলতে না যে, তোমাদের পতন হবেনা?
وأنذر الناس يوم يأتيهم العذاب فيقول الذين ظلموا ربنا أخرنا إلى أجل قريب نجب دعوتك ونتبع الرسل ۗ أولم تكونوا أقسمتم من قبل ما لكم من زوال
সমকালীন বাংলা
যেদিন তাহাদের শাস্তি আসিবে সেই দিন সম্পর্কে তুমি মানুষকে সতর্ক কর, তখন জালিমরা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে কিছু কালের জন্য অবকাশ দাও, আমরা তোমার আহ্বানে সাড়া দিব এবং রাসূলগণের অনুসরণ করিব।’ তোমরা কি পূর্বে শপথ করিয়া বলিতে না যে, তোমাদের পতন নাই?
আবদুস শহীদ নাসিম
অথচ তোমরা তো বাস করতে সেইসব আবাস ভূমিতেই, যারা (তোমাদের আগে) নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল, আর এটাও তোমাদের কাছে পরিষ্কার ছিলো যে, আমরা তাদের সাথে কী আচরণ করেছিলাম? আমরা তো তোমাদের কাছে তাদের দৃষ্টান্ত পেশ করেছিলাম।
وسكنتم في مساكن الذين ظلموا أنفسهم وتبين لكم كيف فعلنا بهم وضربنا لكم الأمثال
সমকালীন বাংলা
অথচ তোমরা বাস করিতে তাহাদের বাসভূমিতে, যাহারা নিজেদের প্রতি জুলুম করিয়াছিল এবং তাহাদের প্রতি আমি কি করিয়াছিলাম তাহাও তোমাদের নিকট সুবিদিত ছিল এবং তোমাদের নিকট আমি উহাদের দৃষ্টান্তও উপস্থিত করিয়াছিলাম।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা চক্রান্ত করেছিল তাদের প্রাণান্তকর চক্রান্ত। তাদের চক্রান্ত রদ করে দিয়েছেন। যদিও তারা এমন চক্রান্ত করেছিল যাতে পাহাড় পর্যন্ত টলে যেতো।
ইহা এইজন্য যে, প্রত্যেকের কৃতকর্মের প্রতিফল দিবেন। নিশ্চয়ই দ্রুত হিসাব গ্রহণ করেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
এটি (এ কুরআন) মানুষের জন্যে একটি বার্তা, যাতে করে এর মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করা যায় এবং মানুষ জানতে পারে যে, নিশ্চয়ই তিনি একমাত্র ইলাহ্, আর যেনো বুঝ বুদ্ধি সম্পন্ন লোকেরা উপদেশ গ্রহণ করে।