You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আন নহল (মৌমাছি)
Chapter 16, 128 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
Arabic, with marks
Transliteration
বয়ান ফাউন্ডেশন
About this chapter
মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১২৮, রুকু সংখ্যা: ১৬
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-০৩আল্লাহ শিরক থেকে পবিত্র। তিনি তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা রসূল নিযুক্ত করেন।
০৪-২১মানুষ সৃষ্টি এবং মানুষের প্রতি আল্লাহর সীমাহীন অনুগ্রহ।
২২-৩৫অহংকারী লোকেরা ঈমান আনেনা। তারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। যালিমদের মৃত্যুকালীন এবং মৃত্যু পরবর্তীকালীন দুরবস্থা। আল্লাহভীরুদের নীতি এবং তাদের মৃত্যুকালীন ও মৃত্যু পরবর্তী সুন্দর অবস্থা।
৩৬-৪০আল্লাহ সব জাতির কাছে রসূল পাঠিয়েছেন। সব মানুষ হিদায়েতের পথে আসেনা।
৪১-৪২ইসলামের কারণে নিগৃহীত ও নির্যাতিতদের মহাপুরস্কার।
৪৩-৬৫কুরআনের ব্যাখ্যা দেয়ার দায়িত্ব রসূলের। ইসলাম ও নবীর প্রতি ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি সতর্কবাণী। আল্লাহর তাওহীদের যুক্তি। সকল মতবিরোধের সমাধান আল কুরআন।
৬৬-৮৩মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের বিবরণ। শিরকের অসারতা। মানুষের কাছে সত্যের দাওয়াত পৌঁছে দেয়া নবীর দায়িত্ব।
৮৪-৮৯প্রত্যাখ্যানকারীদের ও মুশরিকদের পরকালীন দুরবস্থা। কুরআনে প্রতিটি বিষয়ের বর্ণনা ও নির্দেশিকা রয়েছে।
৯০-৯৬ মানুষের জন্য ন্যায় ও সঠিক নীতিমালা।
৯৭উত্তম আমল সুন্দর জীবনের গ্যারান্টি।
৯৮-১১১কুরআন পাঠের সূচনায় শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ। কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য। অবিশ্বাসীদের জন্য দুঃসংবাদ। ইসলামের কারণে নির্যাতিতদের জন্য সুসংবাদ।
১১২-১১৩আল্লাহর অনুগ্রহের অকৃতজ্ঞতা ও রসূলের আদর্শ প্রত্যাখ্যানের পরিণতি।
১১৪-১১৯হালাল ও হারামের বিধান।
১২০-১২৪ইবরাহিমের আনুগত্যের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি। মুহাম্মদ সা. এর প্রতি ইবরাহিমের আদর্শ অনুসরণের নির্দেশ।
১২৫-১২৮আল্লাহর পথে দাওয়াত দানের পন্থা।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর নির্দেশ আসবেই, সুতরাং তোমরা তাড়াহুড়া করোনা। তিনি অবশ্যি পবিত্র এবং তারা তাঁর সাথে যাদের শরিক করে তিনি তাদের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে।
Ata amru Allahi fala tastaAAjiloohu subhanahu wataAAala AAamma yushrikoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আল্লাহর আদেশ এসে গেছে, সুতরাং তার জন্য তাড়াহুড়া করো না। তিনি পবিত্র এবং তারা যা শিরক করে, তা থেকে ঊর্ধ্বে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাঁর বান্দাদের যাদেরকে চান, তাদের প্রতি ফেরেশতা এবং রূহকে (জিবরাইলকে) পাঠান এই আদেশসহ: তোমরা সতর্ক করো যে, নিশ্চয়ই আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই, সুতরাং তোমরা আমাকে ভয় করো।
Yunazzilu almalaikata bialrroohi min amrihi AAala man yashao min AAibadihi an anthiroo annahu la ilaha illa ana faittaqooni
বয়ান ফাউন্ডেশন
তিনি ফেরেশতাদের আপন নির্দেশে ওহী* দিয়ে নাযিল করেন তার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তার প্রতি; যেন তোমরা সতর্ক কর যে, আমি ছাড়া কোন নেই। অতএব, তোমরা আমাকে ভয় কর। * রূহ শব্দের অর্থ আত্মা, ওহীকে রূহ বলা হয় এ কারণে যে, ওহীর মাধ্যমেই মানুষের অন্তর জীবন লাভ
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ এবং এই পৃথিবী বাস্তবতার সাথে। তারা তাঁর সাথে যাদের শরিক করে, তিনি তাদের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে।
তার মাধ্যমে তিনি তোমাদের জন্য উৎপন্ন করেন ফসল, যাইতুন, খেজুর গাছ, আঙ্গুর এবং সকল ফল-ফলাদি। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে এমন কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনিই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করে দিয়েছেন রাত আর দিনকে এবং সূর্য আর চাঁদকে। নক্ষত্ররাজিও অধীন হয়েছে তাঁরই নির্দেশে। এতে নিদর্শন রয়েছে আকল খাটানো লোকদের জন্যে।
আর তিনি তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন রাত ও দিনকে এবং সূর্য ও চাঁদকে এবং তারকাসমূহও তাঁর নির্দেশে নিয়োজিত। নিশ্চয় এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে এমন কওমের জন্য যারা বুঝে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি যে তোমাদের জন্যে বিভিন্ন রঙের বস্ত্ত সৃষ্টি করেছেন, তাতেও নিদর্শন রয়েছে সেইসব লোকদের জন্যে যারা শিক্ষা গ্রহণ করে।
আর তিনি তোমাদের জন্য যমীনে যা সৃষ্টি করেছেন, বিচিত্র রঙের করে, নিশ্চয় তাতেও নিদর্শন রয়েছে এমন কওমের জন্য, যারা উপদেশ গ্রহণ করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি সমুদ্রকেও তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে করে তোমরা তা থেকে আহরণ করতে পারো তাজা গোশত (মাছ) এবং কুড়িয়ে আনতে পারো বিভিন্ন রকম রত্ন, যা তোমরা তোমাদের ভূষণ হিসেবে পরে থাকো। তোমরা দেখতে পাচ্ছো, তার বুক চিরে চলাচল করে নৌযান, তা এজন্যে যেনো তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো এবং তাঁর শোকর আদায় করতে পারো।
আর তিনিই সে সত্তা, যিনি সমুদ্রকে নিয়োজিত করেছেন, যাতে তোমরা তা থেকে তাজা (মাছের) গোশ্ত খেতে পার এবং তা থেকে বের করতে পার অলংকারাদি, যা তোমরা পরিধান কর। আর তুমি তাতে নৌযান দেখবে তা পানি চিরে চলছে এবং যাতে তোমরা তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করতে পার এবং যাতে তোমরা শ
আবদুস শহীদ নাসিম
আর তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পাহাড় - পর্বত স্থাপন করে দিয়েছেন যাতে তা তোমাদের নিয়ে কাঁপতে না থাকে। তিনিই জারি করে দিয়েছেন নদ - নদী এবং চালু করে দিয়েছেন চলাচলের পথ,যাতে করে তোমরা সঠিকভাবেপৌঁছুতে পারো গন্তব্যে।
আর যখন তাদের বলা হয়, ‘তোমাদের রব কী নাযিল করেছেন’? তারা বলে, ‘পূর্ববর্তীদের কল্পকাহিনী’।
আবদুস শহীদ নাসিম
ফলে কিয়ামতের দিন তারা বহন করবে তাদের পাপের ভার পূর্ণমাত্রায় এবং অজ্ঞতা নিয়ে যাদের বিপথগামী করেছিল তাদের পাপের বোঝাও। তারা যা বহন করবে, তা কতো যে নিকৃষ্ট!
Liyahmiloo awzarahum kamilatan yawma alqiyamati wamin awzari allatheena yudilloonahum bighayri AAilmin ala saa ma yaziroona
বয়ান ফাউন্ডেশন
এতে করে তারা কিয়ামতের দিনে নিজদের পাপের বোঝা পুরোটাই বহন করবে এবং তাদের পাপের বোঝাও যাদেরকে তারা অজ্ঞতা হেতু পথভ্রষ্ট করে। তারা যা বহন করবে, তা কতই না নিকৃষ্ট!
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের আগেকার লোকরাও চক্রান্ত করেছিল, ফলে তাদের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিলেন এবং ইমারতের ছাদ ধ্বসে পড়েছিল তাদের উপর। আর তাদের উপর আযাব এসে পড়েছিল এমন দিক থেকে, যা তারা টেরও পায়নি।
Qad makara allatheena min qablihim faata Allahu bunyanahum mina alqawaAAidi fakharra AAalayhimu alssaqfu min fawqihim waatahumu alAAathabu min haythu la yashAAuroona
বয়ান ফাউন্ডেশন
তাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা ষড়যন্ত্র করেছিল, অতঃপর তাদের দালানের ভীতে আঘাত করেছিলেন, ফলে তাদের উপর থেকে তাদের ছাদ ধ্বসে পড়েছিল। আর তাদের উপর আযাব এসছিল এমনভাবে যে, তারা তা উপলব্ধি করতে পারেনি।
আবদুস শহীদ নাসিম
এর পরে কিয়ামতের দিন তিনি তাদের লাঞ্ছিত করবেন এবং তাদের জিজ্ঞেস করবেন, ‘কোথায় (তোমাদের মনগড়া) আমার সেইসব শরিকদাররা, যাদের ব্যাপারে তোমরা বিতর্ক করতে?’ যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছিল, তারা বলবে: আজকের অপমান আর অকল্যাণ কাফিরদের জন্যে,
অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন, ‘কোথায় আমার শরীকরা, যাদের ব্যাপারে তোমরা (মুমিনদের) বিরোধীতা করতে’? যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তারা বলবে, ‘নিশ্চয় লাঞ্ছনা ও দুর্গতি আজ কাফিরদের উপর।’
আবদুস শহীদ নাসিম
যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু ঘটায় নিজেদের প্রতি যুলুম করতে থাকা অবস্থায়। তখন তারা আত্মসমর্পণ করে দিয়ে বলে: ‘আমরা কোনো মন্দ কাজ করতাম না।’ হ্যাঁ, ভালো ভাবেই জানেন তোমরা কী করতে?’
Allatheena tatawaffahumu almalaikatu thalimee anfusihim faalqawoo alssalama ma kunna naAAmalu min sooin bala inna Allaha AAaleemun bima kuntum taAAmaloona
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিজদের উপর যুলমকারী থাকা অবস্থায় ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটাবে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করে বলবে, ‘আমরা কোন পাপ করতাম না।’ হ্যাঁ, নিশ্চয় তোমরা যা করতে সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।
আবদুস শহীদ নাসিম
এখন জাহান্নামের দরজাগুলো দিয়ে দাখিল হয়ে যাও সেখানে চিরকাল পড়ে থাকার জন্যে। দাম্ভিকদের আবাসস্থল কতো যে নিকৃষ্ট!
যারা তাকওয়া অবলম্বন করতো তাদের বলা হবে: ‘তোমাদের প্রভু কী নাযিল করেছিলেন?’ তারা বলবে: ‘মহাকল্যাণ।’ যারা এই দুনিয়ায় ইহসান করে তাদের জন্যে রয়েছে হাসানা (কল্যাণ) আর তাদের জন্যে আখিরাতের আবাস আরো উত্তম। মুত্তাকিদের বাসস্থান কতো যে চমৎকার!
আর যারা তাকওয়ার অবলম্বন করেছে, তাদের বলা হল, ‘তোমাদের রব কী নাযিল করেছেন’? তারা বলল, ‘কল্যাণ’। যারা এই দুনিয়ায় উত্তম কাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে পুণ্য। আর নিশ্চয় আখিরাতের আবাস উত্তম এবং মুত্তাকীদের আবাস কতইনা উত্তম!
আবদুস শহীদ নাসিম
তাহলো চিরস্থায়ী জান্নাত, সেখানে তারা দাখিল হবে। তার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। সেখানে তাদের জন্যে থাকবে যা তারা চাইবে। এভাবেই দিয়ে থাকেন মুত্তাকিদের পুরস্কার।
Jannatu AAadnin yadkhuloonaha tajree min tahtiha alanharu lahum feeha ma yashaoona kathalika yajzee Allahu almuttaqeena
বয়ান ফাউন্ডেশন
স্থায়ী জান্নাতসমূহ যাতে তারা প্রবেশ করবে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ। তারা চাইবে, তাদের জন্য তার মধ্যে তাই থাকবে। এভাবেই মুত্তাকীদের প্রতিদান দেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
ফেরেশতারা তাদের ওফাত ঘটায় পবিত্র জীবন - যাপন করা অবস্থায়। তারা (তাদের ওফাত ঘটাতে এসে) বলে: ‘সালামুন আলাইকুম - আপনাদের প্রতি বর্ষিত হোক শান্তি, আপনারা দাখিল হোন জান্নাতে আপনাদের উত্তম আমলের বিনিময়ে।’
ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় উত্তম অবস্থায়, তারা বলে, ‘তোমাদের উপর সালাম। জান্নাতে প্রবেশ কর, যে আমল তোমরা করতে তার কারণে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা (কাফিররা) কি তাদের কাছে ফেরেশতা আসার অপেক্ষায় রয়েছে, নাকি তাদের প্রভুর নির্দেশ আসার অপেক্ষায়? তাদের আগেকার লোকেরাও এ রকমই করতো। তাদের প্রতি যুলুম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল।
Hal yanthuroona illa an tatiyahumu almalaikatu aw yatiya amru rabbika kathalika faAAala allatheena min qablihim wamathalamahumu Allahu walakin kanoo anfusahum yathlimoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা শুধু ফেরেশতা আসার অপেক্ষা করছে অথবা তোমার রবের সিদ্ধান্ত আসার। এমনি করেছিল তারা, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আর তাদের উপর যুলম করেননি, বরং তারাই নিজদের উপর যুলম করেছিল।
আবদুস শহীদ নাসিম
সুতরাং তাদের উপর আপতিত হয়েছিল তাদেরই মন্দ কাজের শাস্তি এবং সেই জিনিসই তাদের পরিবেষ্টন করে নিয়েছিল যা নিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রূপ করতো।
Faasabahum sayyiatu ma AAamiloo wahaqa bihim ma kanoo bihi yastahzioona
বয়ান ফাউন্ডেশন
সুতরাং তারা যা করেছে, তার খারাপ পরিণতি তাদেরকে আক্রান্ত করেছে এবং তারা যা নিয়ে উপহাস করত, তা তাদেরকে ঘিরে ফেলেছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা শিরক করে তারা বলে: ‘ ইচ্ছা করলে আমরা তাঁর ছাড়া আর কারো ইবাদত করতাম না, আমরাও না, আমাদের পূর্ব পুরুষরাও না এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া আমরা কোনো কিছুই হারাম করতাম না।’ তাদের আগেকার লোকেরা এ রকমই (বাহানাবাজি) করতো। পরিষ্কারভাবে বার্তা পৌঁছে দেয়া ছাড়া রসূলদের উপর আর কোনো দায়িত্ব আছে কি?
Waqala allatheena ashrakoo law shaa Allahu ma AAabadna min doonihi min shayin nahnu walaabaona walaharramna min doonihi min shayin kathalika faAAala allatheena min qablihim fahal AAala alrrusuli illa albalaghu almubeenu
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যারা শিরক করেছে, তারা বলল, যদি চাইতেন তবে আমরা তাকে ছাড়া কোন কিছুর ইবাদাত করতাম না এবং আমাদের পিতৃপুরুষরাও না। আর তার বিপরীতে তো আমরা কোন কিছু হারাম করতাম না। এমনিই করেছে, যারা তাদের পূর্বে ছিল। সুতরাং স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া ছাড়া রাসূলদের কি কোন
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা প্রতিটি জাতির কাছে রসূল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দেয়ার জন্যে যে: ‘তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত (আনুগত্য, দাসত্ব, প্রার্থনা, উপাসনা) করো এবং তাগুতকে ত্যাগ করো।’ ফলে তাদের কিছু লোককে হিদায়াত করেছেন আর কিছু লোকের জন্যে সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছিল গোমরাহি। সুতরাং পৃথিবীতে ভ্রমণ করে দেখো, সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের পরিণতি কী হয়েছিল?
Walaqad baAAathna fee kulli ommatin rasoolan ani oAAbudoo Allaha waijtaniboo alttaghoota faminhum man hada Allahu waminhum man haqqat AAalayhi alddalalatu faseeroo fee alardi faonthuroo kayfa kana AAaqibatu almukaththibeena
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতিতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং পরিহার কর তাগূতকে। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে কাউকে হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য থেকে কারো উপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর অতঃপর দেখ, অস্ব
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি তাদের হিদায়াতের আকাংখী হলেও সেসব লোকদের হিদায়াত করেন না, যারা ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করে। আর তাদের কোনো সাহায্যকারীও হবেনা।
In tahris AAala hudahum fainna Allaha la yahdee man yudillu wama lahum min nasireena
বয়ান ফাউন্ডেশন
যদিও তুমি তাদের হিদায়াতের ব্যাপারে আকাঙ্ক্ষা কর, তবু নিশ্চয় যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হিদায়াত দেন না এবং তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা জোর দিয়ে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলে: ‘যারা মরে যায় তাদের পুনরুত্থিত করবেননা।’ হ্যাঁ, অবশ্যি তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করবেন। তবে অধিকাংশ লোকই তা জানেনা।
Waaqsamoo biAllahi jahda aymanihim la yabAAathu Allahu man yamootu bala waAAdan AAalayhi haqqan walakinna akthara alnnasi la yaAAlamoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তারা আল্লাহর নামে কঠিন শপথ করেছেন যে, যে ব্যক্তি মারা যায়. তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না। হ্যাঁ, তার নিজের উপরে করা ওয়াদা তিনি সত্যে রূপ দেবেন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
(তিনি তাদের পুনরুত্থিত করবেন) যে বিষয়ে তারা মতানৈক্য করতো তা তাদেরকে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেয়ার জন্যে, এবং কাফিররাও যেনো জানতে পারে যে, তারা ছিলো মিথ্যাবাদী।
Wama arsalna min qablika illa rijalan noohee ilayhim faisaloo ahla alththikri in kuntum la taAAlamoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর আমি তোমার পূর্বে কেবল পুরুষদেরকেই রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি, যাদের প্রতি আমি ওহী পাঠিয়েছি। সুতরাং জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর, যদি তোমরা না জানো।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদেরকে আমরা পাঠিয়েছিলাম স্পষ্ট প্রমাণ এবং গ্রন্থাবলি দিয়ে। আর তোমার প্রতি আমরা নাযিল করেছি ‘আয যিকির’ (আল - কুরআন) মানুষকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্যে যা তাদের জন্যে নাযিল করা হয়েছে এবং তারা যেনো চিন্তা - ভাবনা করতে পারে।
(তাদের প্রেরণ করেছি) স্পষ্ট প্রমাণাদি ও কিতাবসমূহ এবং তোমার প্রতি নাযিল করেছি কুরআন, যাতে তুমি মানুষের জন্য স্পষ্ট করে দিতে পার, যা তাদের প্রতি নাযিল হয়েছে। আর যাতে তারা চিন্তা করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা অন্যায় কাজের ষড়যন্ত্র করে তারা কি নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে যে, তাদের নিয়ে জমিনকে তলিয়ে দেবেন না, কিংবা এমন জায়গা থেকে তাদের উপর আযাব এসে পড়বেনা যার চিন্তাও তারা করেনি?
যাতে আমি তাদেরকে যা দিয়েছি তা তারা অস্বীকার করতে পারে। অতএব তোমরা ভোগ কর, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর আমরা তাদের যে রিযিক দিয়েছি তারা তার একাংশ নির্ধারণ করে তাদের (বাতিল উপাস্যদের) জন্যে, যাদের ব্যাপারে তারা কিছুই জানেনা। আল্লাহর কসম, তোমরা যে মিথ্যা রচনা করছো সে সম্পর্কে অবশ্যি তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।
WayajAAaloona lima la yaAAlamoona naseeban mimma razaqnahum taAllahi latusalunna AAamma kuntum taftaroona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর আমি তাদেরকে যে রিয্ক দিয়েছি, তার একটি অংশ তারা নির্ধারণ করে এমন সত্তার জন্য, যার ব্যাপারে তারা জানে না। আল্লাহর কসম! তোমাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা যে মিথ্যা রটাচ্ছ সে ব্যাপারে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা আল্লাহর জন্যে কন্যা সন্তান নির্ধারণ করে, যা থেকে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র, আর তাদের জন্যে সেই (সন্তান) যা তারা কামনা করে!
আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়; তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায়। আর সে থাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাকে যে সংবাদ দেয়া হয় তার গ্লানিতে সে সমাজ থেকে আত্মগোপন করে। সে ভাবতে থাকে, গ্লানি সত্ত্বেও সে কি তাকে রেখে দেবে, নাকি মাটিতে পুতে ফেলবে? সাবধান, তোমাদের সিদ্ধান্ত চরম নিকৃষ্ট।
Yatawara mina alqawmi min sooi ma bushshira bihi ayumsikuhu AAala hoonin am yadussuhu fee altturabi ala saa ma yahkumoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
তাকে যে সংবাদ দেয়া হয়েছে, সে দুঃখে সে কওম থেকে আত্মগোপন করে। আপমান সত্ত্বেও কি একে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে? জেনে রেখ, তারা যা ফয়সালা করে, তা কতই না মন্দ!
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান আনেনা, তারা ভীষণ নিকৃষ্ট স্বভাবের লোক। সর্বশ্রেষ্ঠ মহোত্তম স্বভাব - প্রকৃতি আল্লাহর এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাবান।
যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য মন্দ উদাহরণ এবং আল্লাহর জন্য রয়েছে মহান উদাহরণ। আর তিনিই পরাক্রমশালী, মহাজ্ঞানী।
আবদুস শহীদ নাসিম
যদি মানুষকে তার যুলুমের জন্যে পাকড়াও করতেন, তাহলে পৃথিবীর বুকে কোনো জীবকেই রেহাই দিতেন না। কিন্তু তিনি একটি নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত তাদের অবকাশ দিয়ে থাকেন। অত:পর যখন তাদের নির্ধারিত সময়টি এসে উপস্থিত হয়, তখন তারা কিছুক্ষণও আগপাছ করতে পারে না।
Walaw yuakhithu Allahu alnnasa bithulmihim ma taraka AAalayha min dabbatin walakin yuakhkhiruhum ila ajalin musamman faitha jaa ajaluhum la yastakhiroona saAAatan wala yastaqdimoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যদি মানবজাতিকে তাদের যুলমের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে তাতে (যমীনে) কোনো বিচরণকারী প্রাণীকেই ছাড়তেন না। তবে তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন। যখন তাদের নির্দিষ্ট সময় চলে আসে, তখন এক মুহূর্তও পেছাতে পারে না, এবং আগাতেও পারে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর তারা আল্লাহর প্রতি তাই আরোপ করে, যা নিজেদের জন্যে অপছন্দ করে। তাদের যবান মিথ্যা কথা বলে যে: ‘কল্যাণ তাদেরই জন্যে।’ কোনো সন্দেহ নেই যে, তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নাম এবং সবার আগেই তাদেরকে নিক্ষেপ করা হবে তাতে।
WayajAAaloona lillahi ma yakrahoona watasifu alsinatuhumu alkathiba anna lahumu alhusna la jarama anna lahumu alnnara waannahum mufratoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তারা যা অপছন্দ করে, তাই তারা আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে। তাদের জিহবা মিথ্যা বিবরণ দেয় যে, নিশ্চয় তাদের জন্য শুভ পরিণাম। সন্দেহ নেই যে, তাদের জন্য রয়েছে আগুন এবং নিশ্চয় তারা সর্বাগ্রে নিক্ষিপ্ত হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর কসম! তোমার আগেও আমরা বহু জাতির কাছে রসূল পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু শয়তান তাদের কার্যকলাপ তাদের কাছে চাকচিক্যময় করে রেখেছিল। সে - ই আজো তাদের অলি। আর তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
TaAllahi laqad arsalna ila omamin min qablika fazayyana lahumu alshshaytanu aAAmalahum fahuwa waliyyuhumu alyawma walahum AAathabun aleemun
বয়ান ফাউন্ডেশন
আল্লাহর শপথ, আমি তোমার পূর্বে বহু জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করেছি। অতঃপর শয়তান তাদের জন্য তাদের কর্মকে শোভিত করেছে। তাই আজ সে তাদের অভিভাবক। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক আযাব।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যারা এ বিষয়ে মতভেদ করে তাদের সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্যে। তাছাড়া এ কিতাব মুমিনদের জন্যে জীবন যাপনের নির্দেশিকা এবং একটি রহমত।
আর আমি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি, শুধু এ জন্য যে, যে বিষয়ে তারা বিতর্ক করছে, তা তাদের জন্য তুমি স্পষ্ট করে দেবে এবং (এটি) হিদায়াত ও রহমত সেই কওমের জন্য যারা ঈমান আনে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহই নাযিল করেন আসমান থেকে পানি, অত:পর তা দিয়ে পুনর্জীবিত করেন জমিনকে মরে (শুকিয়ে) যাবার পর। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন সেইসব লোকদের জন্যে যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শুনে।
আর নিশ্চয় চতুষ্পদ জন্তুতে রয়েছে তোমাদের জন্য শিক্ষা। তার পেটের ভেতরের গোবর ও রক্তের মধ্যখান থেকে তোমাদেরকে আমি দুধ পান করাই, যা খাঁটি এবং পানকারীদের জন্য স্বাচ্ছ্যন্দকর।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর খেজুর গাছের ফল এবং আঙ্গুর থেকে তোমরা মাদক ও উত্তম খাদ্য গ্রহণ করে থাকো। এতেও সেইসব লোকদের জন্যে রয়েছে একটি নিদর্শন যারা আকল খাটায়।
আর তোমরা খেজুর গাছের ফল ও আঙ্গুর থেকে মাদক* ও উত্তম রিয্ক গ্রহণ কর। নিশ্চয় এতে এমন কওমের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যারা বুঝে। * ইমাম তাবারী বলেন, আয়াতটি মাদক নিষিদ্দ হওয়ার পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার প্রভু মৌমাছির কাছে অহি করেছেন: ‘‘তোমরা মৌচাক নির্মাণ করো পাহাড়ে - পর্বতে, গাছ - গাছালিতে এবং মানুষের নির্মিত উঁচু জায়গাতে।
Waawha rabbuka ila alnnahli ani ittakhithee mina aljibali buyootan wamina alshshajari wamimma yaAArishoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমার রব মৌমাছিকে ইংগিতে জানিয়েছে যে, ‘তুমি পাহাড়ে ও গাছে এবং তারা যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে নিবাস বানাও।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর প্রত্যেক ফল (ফুল) থেকে কিছু কিছু খাও এবং তোমার প্রভুর প্রদর্শিত সহজ পথ অনুসরণ করো।’’ এভাবে তার পেট থেকে বের হয় বিভিন্ন বর্ণের পানীয় (মধু), যাতে মানুষের জন্যে রয়েছে নিরাময়। অবশ্যি চিন্তাশীল লোকদের জন্যে এতে রয়েছে একটি নিদর্শন।
অতঃপর তুমি প্রত্যেক ফল থেকে আহার কর এবং তুমি তোমার রবের সহজ পথে চল। তার পেট থেকে এমন পানীয় বের হয়, যার রং ভিন্ন ভিন্ন, যাতে রয়েছে মানুষের জন্য রোগ নিরাময়। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে সে কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনিই তোমাদের ওফাত ঘটাবেন। তোমাদের কাউকেও কাউকেও উপনীত করা হবে জরাজীর্ণ বার্ধক্যে, যাতে করে তারা যা কিছু জানতো তা অজানা হয়ে যায়। নিশ্চয়ই জ্ঞানী এবং সক্ষম।
WaAllahu khalaqakum thumma yatawaffakum waminkum man yuraddu ila arthali alAAumuri likay la yaAAlama baAAda AAilmin shayan inna Allaha AAaleemun qadeerun
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন। তোমাদের অনেকে এমনও আছে, যাকে একেবারে বৃদ্ধ বয়সে উপনীত করা হয়, যাতে সে জ্ঞান লাভের পরেও সবকিছু অজানা হয়ে যায়। সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।
আবদুস শহীদ নাসিম
জীবিকার দিক থেকে তোমাদের কাউকেও কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে তারা তাদের অধীনস্থদের এতোটা দেয়না, যাতে তারা এ ক্ষেত্রে তাদের সমান হয়ে যায়। তবে কি তারা আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করে?
আর রিয্ক তোমাদের কতককে কতকের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন; কিন্তু যাদেরকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে, তারা তাদের রিয্ক দাসদাসীদের ফিরিয়ে দেয় না। (এই ভয়ে যে,) তারা তাতে সমান হয়ে যাবে। তবে তারা কি আল্লাহর নিআমতকে অস্বীকার করছে?
আবদুস শহীদ নাসিম
সৃষ্টি করেছেন তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্যে জুড়ি এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন ছেলে - মেয়ে ও নাতি - নাতনি। তাছাড়া তিনি তোমাদের দিয়েছেন জীবিকার উপকরণসমূহ। তারপরও কি তোমরা মিথ্যার প্রতি ঈমান আনবে, আর আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি করবে কুফুরি?
WaAllahu jaAAala lakum min anfusikum azwajan wajaAAala lakum min azwajikum baneena wahafadatan warazaqakum mina alttayyibati afabialbatili yuminoona wabiniAAmati Allahi hum yakfuroona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমাদের জন্য তোমাদের থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জোড়া থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও নাতিদের সৃষ্টি করেছেন আর তিনি তোমারেদকে পবিত্র রিয্ক দান করেছেন তারা কি বাতিলে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহর নিআমতকে অস্বীকার করে?
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি ইবাদত করবে ছাড়া এমন অক্ষমদের, যারা মহাকাশ এবং পৃথিবী থেকে রিযিক সরবরাহ করার কোনো শক্তিই রাখেনা?
Fala tadriboo lillahi alamthala inna Allaha yaAAlamu waantum la taAAlamoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
সুতরাং তোমরা আল্লাহর জন্য অন্য কোন দৃষ্টান্ত স্থাপন করো না। নিশ্চয় জানেন আর তোমরা জান না।
আবদুস শহীদ নাসিম
উপমা দিচ্ছেন অপরের অধীনস্থ এক দাসের, যে কোনো কিছুর উপর সামর্থ রাখেনা। আরো উপমা দিচ্ছেন এমন এক ব্যক্তির যাকে তিনি নিজ থেকে উত্তম রিযিক দিয়েছেন এবং সে তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে, এই দুই ব্যক্তি কি সমতুল্য? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, বরং তাদের অধিকাংশই জানেনা।
Daraba Allahu mathalan AAabdan mamlookan la yaqdiru AAala shayin waman razaqnahu minna rizqan hasanan fahuwa yunfiqu minhu sirran wajahran hal yastawoona alhamdu lillahi bal aktharuhum la yaAAlamoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
উপমা পেশ করেছেন; একজন অধিনস্ত দাস যে কোন কিছুর উপর ক্ষমতা রাখে না। আর একজন যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে উত্তম রিযক দিয়েছি, অতঃপর সে তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে। তারা কি সমান হতে পারে? সমস্ত প্রশংসা আল্লা্হর। বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
আরো উপমা দিচ্ছেন দুই ব্যক্তির, তাদের একজন বোবা, সে কোনো কিছুরই সামর্থ রাখেনা এবং সে তার মনিবের বোঝা স্বরূপ। তাকে যেখানেই পাঠানো হোক না কেন, ভালো কিছু করে আসতে পারেনা, সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য, যে ন্যায়ের আদেশ করে এবং সিরাতুল মুসতাকিমের উপর চলে?
Wadaraba Allahu mathalan rajulayni ahaduhuma abkamu la yaqdiru AAala shayin wahuwa kallun AAala mawlahu aynama yuwajjihhu la yati bikhayrin hal yastawee huwa waman yamuru bialAAadli wahuwa AAalasiratin mustaqeemin
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর উপমা পেশ করেছেন, দু’জন ব্যক্তি, তাদের একজন বোবা, যে কোন কিছুর উপর ক্ষমতা রাখে না এবং সে তার অভিভাবকের উপর বোঝা। তাকে যেখানেই পাঠানো হয়, কোন কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। সে আর ঐ ব্যক্তি কি সমান, যে ন্যায়ের আদেশ করে এবং রয়েছে সরল পথের উপর?
আবদুস শহীদ নাসিম
মহাকাশ এবং পৃথিবীর গায়েবের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই রয়েছে। কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবার ব্যাপারটা তো চোখের পলকের মতো, বরং তার চাইতেও নিকটতর। সব বিষয়ের উপর সর্বশক্তিমান।
Walillahi ghaybu alssamawati waalardi wama amru alssaAAati illa kalamhi albasari aw huwa aqrabu inna Allaha AAala kulli shayin qadeerun
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর আসমানসমূহ ও যমীনে গায়েবী বিষয় আল্লাহরই। আর কিয়ামতের ব্যাপারটি শুধু চোখের পলকের ন্যায়। কিংবা তা আরো নিকটবর্তী। নিশ্চয় সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে আল্লাহই তোমাদের বের করে এনেছেন। তখন তোমরা কিছুই জানতে না। আর তিনিই তোমাদের দিয়েছেন শ্রবণ শক্তি, দৃষ্টি শক্তি এবং হৃদয়, যাতে করে তোমরা (তাঁর) শোকর আদায় করো।
WaAllahu akhrajakum min butooni ommahatikum la taAAlamoona shayan wajaAAala lakumu alssamAAa waalabsara waalafidata laAAallakum tashkuroona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমাদেরকে বের করেছেন, তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে এমতাবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন শ্রবণশক্তি, চক্ষু ও অন্তর। যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় কর।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি শূন্য আকাশে নিয়ন্ত্রণাধীন পাখিদের প্রতি লক্ষ্য করে দেখেনি? ছাড়া কেউ তাদের ধরে রাখেনা। এতে অনেকগুলো নিদর্শন রয়েছে মুমিনদের জন্যে।
Alam yaraw ila alttayri musakhkharatin fee jawwi alssamai ma yumsikuhunna illa Allahu inna fee thalika laayatin liqawmin yuminoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা কি আকাশে (উড়ন্ত অবস্থায়) নিয়োজিত পাখিগুলোর দিকে তাকায় না? ছাড়া কেউ তাদেরকে ধরে রাখে না। নিশ্চয় তাতে নিদর্শনবলী রয়েছে সেই কওমের জন্য যারা বিশ্বাস করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহই তোমাদের জন্যে তোমাদের ঘরকে শান্তির আবাস বানিয়েছেন, তিনিই তোমাদের জন্যে পশুর চামড়া দিয়ে তাবুর ব্যবস্থা করেন, সেগুলোকে তোমরা হালকা মনে করো ভ্রমণকালে এবং অবস্থানকালে। তিনিই তোমাদের জন্যে ব্যবস্থা করেন সেগুলোর পশম, লোম ও কেশ থেকে স্বল্প কালের গৃহসামগ্রী এবং ব্যবহারের উপরকণ।
আর তোমাদের ঘরগুলোকে তোমাদের জন্য আবাস করেছেন এবং তোমাদের পশুর চামড়া দিয়ে তাবুর ব্যবস্থা করেছেন, যা খুব সহজেই তোমরা সফরকালে ও অবস্থানকালে বহন করতে পার। আর তাদের পশম, তাদের লোম ও তাদের চুল দ্বারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গৃহসামগ্রী ও ভোগ-উপকরণ (তৈরি করেছ
আবদুস শহীদ নাসিম
আর যা কিছু সৃষ্টি করেন সেগুলো থেকে তিনি তোমাদের জন্যে ছায়ার ব্যবস্থা করেন, তিনি তোমাদের জন্যে পাহাড়ে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন, তিনি তোমাদের জন্যে ব্যবস্থা করেন পরিধেয় বস্ত্রের যা তোমাদের রক্ষা করে তাপ থেকে এবং তিনি তোমাদের জন্যে ব্যবস্থা করেন বর্মের যা তোমাদের রক্ষা করে যুদ্ধে। এভাবেই তিনি তোমাদের জন্যে তাঁর নিয়ামত পূর্ণ করেন যাতে করে তোমরা তাঁর প্রতি বিনত থাকো।
আর যা সৃষ্টি করেছেন, তা থেকে তোমাদের জন্য ছায়ার ব্যবস্থা করেছেন এবং পাহাড় থেকে তোমাদের জন্য আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন, আর ব্যবস্থা করেছেন পোশাকের, যা তোমাদেরকে গরম থেকে রক্ষা করে এবং বর্মেরও ব্যবস্থা করেছেন যা তোমাদেরকে রক্ষা করে তোমাদের যুদ্ধে। এভাবেই ত
আবদুস শহীদ নাসিম
এর পরেও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে হে নবী! তোমার উপর স্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছে দেয়া ছাড়া আর কোনো দায়দায়িত্ব নেই।
তারা আল্লাহর নিআমত চিনে, তারপরও তারা তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশই ।
আবদুস শহীদ নাসিম
সেদিন তাদের কী অবস্থা হবে, যেদিন আমরা প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবো, তারপর কাফিরদেরকে (কৈফিয়ত দেয়ার) কোনো অনুমতি দেয়া হবেনা এবং তাদের কোনো ওযরও গ্রহণ করা হবেনা।
Wayawma nabAAathu min kulli ommatin shaheedan thumma la yuthanu lillatheena kafaroo wala hum yustaAAtaboona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর স্মরণ কর, যেদিন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে সাক্ষী উত্থিত করব। তারপর যারা করেছে, তাদেরকে (ওযর পেশের) অনুমতি দেয়া হবে না এবং (আল্লাহকে) সন্তুষ্ট করতেও তাদেরকে বলা হবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
যালিমরা যখন আযাব দেখতে পাবে, তখন তাদের শাস্তি আর হালকা করা হবেনা এবং তাদেরকে কোনো অবকাশও দেয়া হবেনা।
আর যা যুলম করেছে, তারা যখন আযাব দেখবে, তখন তাদের উপর থেকে তা শিথিল করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা আল্লাহর সাথে শরিকদার বানিয়েছিল, তারা যখন তাদের বানানো শরিকদারদের দেখবে, তখন বলবে: ‘প্রভু! এরাই আমাদের বানানো শরিকদার, তোমার পরিবর্তে আমরা এদেরকেই ডাকতাম।’ উত্তরে তারা বলবে: ‘অবশ্যি তোমরা মিথ্যাবাদী।’
Waitha raa allatheena ashrakoo shurakaahum qaloo rabbana haolai shurakaona allatheena kunna nadAAoo min doonika faalqaw ilayhimu alqawla innakum lakathiboona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যারা শিরক করেছে, তারা যখন তাদের শরীকদের দেখবে, তখন বলবে, ‘হে আমাদের রব, এরা হল আমাদের শরীক, যাদেরকে আমরা আপনার পরিবর্তে আহবান করতাম।’ অতঃপর তারা তাদের প্রতি উত্তরে বলবে, ‘নিশ্চয় তোমরা মিথ্যাবাদী।’
আবদুস শহীদ নাসিম
সেদিন তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং যাদেরকে তারা উদ্ভাবন করে নিয়েছিল তারা সব উধাও হয়ে যাবে।
যারা করেছে এবং আল্লাহর রাস্তায় বাধা দিয়েছে, আমি তাদেরকে আযাবের উপর আযাব বাড়িয়ে দেব। কারণ তারা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করত।
আবদুস শহীদ নাসিম
সেদিন আমরা প্রত্যেক জাতি থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী দাঁড় করাবো আর তোমাকে নিয়ে আসবো তাদের সবার বিষয়ে সাক্ষী হিসেবে। আর আমরা নাযিল করেছি তোমার প্রতি আল - কিতাব প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা সম্বলিত, আর সেটি হলো একটি পথ নির্দেশ, একটি অনুকম্পা এবং একটি সুসংবাদ মুসলিমদের জন্যে।
আর স্মরণ কর, যেদিন আমি প্রত্যেক উম্মতের কাছে, তাদের থেকেই তাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী উত্থিত করব এবং তোমাকে তাদের উপর সাক্ষীরূপে হাযির করব। আর আমি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ।
আবদুস শহীদ নাসিম
নির্দেশ দিচ্ছেন আদল (ন্যায়বিচার) ও ইহসান (উপকার) করার, আত্মীয় - স্বজনকে দান করার। আর নিষেধ করছেন ফাহেশা কাজ, অন্যায় কাজ এবং সীমালংঘন থেকে। তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।
নিশ্চয় ইনসাফ, সদাচার ও নিকট আত্মীয়দের দান করার আদেশ দেন এবং তিনি আশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করবে যখন পরস্পর অঙ্গীকার করো। তোমরা তোমাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করোনা আল্লাহকে জামিন বানিয়ে অঙ্গীকার মজবুত করার পর। তোমরা যা - ই করো না কেন তা জানেন।
Waawfoo biAAahdi Allahi itha AAahadtum wala tanqudoo alaymana baAAda tawkeediha waqad jaAAaltumu Allaha AAalaykum kafeelan inna Allaha yaAAlamu ma tafAAaloona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমরা যখন অঙ্গীকার কর তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর। তোমরা পাকাপোক্ত অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করো না এবং প্রকৃত পক্ষে তোমরা নিজদের জন্য আল্লাহকে জিম্মাদার বানিয়েছ। নিশ্চয় জানেন, যা তোমরা কর।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা হয়োনা সেই নারীর মতো, যে মজবুত করে সূতা পাকানোর পর পাক খুলে সেগুলো নষ্ট করে দেয়। তোমরা তোমাদের শপথ পরস্পরকে ঠকানোর জন্যে ব্যবহার করে থাকো, যাতে করে একদল লোক অন্য দল থেকে অধিক লাভবান হয়। এর দ্বারা তোমাদের পরীক্ষা করেন। কিয়ামতের দিন তা স্পষ্টভাবে তোমাদের জন্যে প্রকাশ করে দেবেন, যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করতে।
Wala takoonoo kaallatee naqadat ghazlaha min baAAdi quwwatin ankathan tattakhithoona aymanakum dakhalan baynakum an takoona ommatun hiya arba min ommatin innama yablookumu Allahu bihi walayubayyinanna lakum yawma alqiyamati ma kuntum feehi takhtalifoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমরা সে নারীর মত হয়ো না, যে তার পাকানো সূতো শক্ত করে পাকানোর পর টুকরো টুকরো করে ফেলে। তোমরা তোমাদের উপর অঙ্গীকারকে নিজদের মধ্যে প্রতারণা হিসেবে গ্রহণ করছ (এই উদ্দেশ্যে) যে, একদল অপর দলের চেয়ে বড় হবে। তো এর মাধ্যমে তোমাদের পরীক্ষা করেন এবং নিশ্চ
আবদুস শহীদ নাসিম
চাইলে তিনি তোমাদের এক উম্মত বানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি যাকে চান বিপথগামী করেন এবং যাকে চান সঠিক পথ দেখান। তোমরা যা করছো সে বিষয়ে অবশ্যি তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।
Walaw shaa Allahu lajaAAalakum ommatan wahidatan walakin yudillu man yashao wayahdee man yashao walatusalunna AAamma kuntum taAAmaloona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যদি চাইতেন, তোমাদের সকলকে এক জাতিতে পরিণত করতেন, কিন্তু যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন, আর যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন। তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা পরস্পরকে ঠকানোর জন্যে তোমাদের শপথকে ব্যবহার করোনা, যদি তা করো, তবে পা অবিচল হবার পর তা পিছলে যাবে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করার কারণে শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করবে, আর তোমাদের জন্যে মহা আযাব তো রয়েছেই।
আর তোমরা তোমাদের অঙ্গীকারগুলোকে তোমাদের প্রতারণা হিসেবে গ্রহণ করো না। তাহলে পা দৃঢ় হওয়ার পর পিছলে যাবে এবং তোমরা আযাব আস্বাদন করবে। কারণ তোমরা আল্লাহর রাস্তায় বাধা দিয়েছ। আর তোমাদের জন্য রয়েছে মহা আযাব।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা আল্লাহর সাথে করা অঙ্গীকার তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করোনা। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে যা রয়েছে সেটাই তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা জানতে।
Wala tashtaroo biAAahdi Allahi thamanan qaleelan innama AAinda Allahi huwa khayrun lakum in kuntum taAAlamoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমরা স্বল্প মূল্যে আল্লাহর অঙ্গীকার বিক্রি করো না। আল্লাহর কাছে যা আছে, তোমাদের জন্যই তাই উত্তম, যদি তোমরা জানতে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের কাছে যা আছে তা ফুরিয়ে যায় আর আল্লাহর কাছে যা আছে, তা অফুরন্ত। যারা সবর অবলম্বন করে আমরা তাদের আমলের চাইতেও শ্রেষ্ঠ পুরস্কার তাদের দান করবো (অথবা আমরা তাদের সর্বোত্তম আমলের ভিত্তিতে তাদের পুরস্কার দেবো।)
তার ক্ষমতা তো কেবল তাদের উপর, যারা তাকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ কর এবং যারা আল্লাহর সাথে শরীক করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা যখন একটি আয়াতের বদলে আরেকটি আয়াত উপস্থিত করি, আর আল্লাহই অধিক জানেন তিনি কী নাযিল করেন, তখন তারা বলে: ‘তুমি তো একজন মিথ্যা রচনাকারী।’ বরং তাদেরই অধিকাংশ লোক জানেনা।
Waitha baddalnaayatan makana ayatin waAllahu aAAlamu bima yunazzilu qaloo innama anta muftarin bal aktharuhum la yaAAlamoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যখন আমি একটি আয়াতের স্থানে পরিবর্তন করে আরেকটি আয়াত দেই- ভাল জানেন সে সম্পর্কে, যা তিনি নাযিল করেন- তখন তারা বলে, তুমি তো কেবল মিথ্যা রটনাকারী; রবং তাদের অধিকাংশই জানে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি বলো, তোমার প্রভুর কাছ থেকে তা (আল - কুরআন) সত্যসহ নাযিল করে রুহুল কুদুস (জিবরিল) ঈমানদারদের বিশ্বাসকে মজবুত করার জন্যে। তাছাড়া এটি একটি পথ নির্দেশ এবং সুসংবাদ মুসলিমদের জন্যে।
বল, রুহুল কুদস (জীবরীল) একে তোমার রবের পক্ষ হতে যথাযথভাবে নাযিল করেছেন। যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুদৃঢ় করার জন্য এবং হিদায়াত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা জানি, তারা (তোমার সম্পর্কে) বলে: ‘তাকে শিক্ষা দেয় তো একজন মানুষ।১’ তারা যার প্রতি একথা আরোপ করে সে তো একজন অনারব, অথচ এ কুরআন সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।
একমাত্র তারাই মিথ্যা রটায়, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে না। আর তারাই মিথ্যাবাদী।
আবদুস শহীদ নাসিম
যে কেউ ঈমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফুরি করবে এবং কুফুরির জন্যে তার হৃদয়কে উদার রাখবে, তাদের উপর আপতিত হবে আল্লাহর গজব এবং তাদের জন্যে রয়েছে বিরাট আযাব। তবে ঐ ব্যক্তি নয়, যাকে (কুফরির জন্যে) বাধ্য করা হয়েছে এবং যার হৃদয় ঈমানের উপর অটল।
Man kafara biAllahi min baAAdi eemanihi illa man okriha waqalbuhu mutmainnun bialeemani walakin man sharaha bialkufri sadran faAAalayhim ghadabun mina Allahi walahum AAathabun AAatheemun
বয়ান ফাউন্ডেশন
যে ঈমান আনার পর আল্লাহর সাথে করেছে এবং যারা তাদের অন্তর দ্বারা উন্মুক্ত করেছে, তাদের উপরই আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাআযাব। ঐ ব্যক্তি ছাড়া যাকে বাধ্য করা হয় ( করতে) অথচ তার অন্তর থাকে ঈমানে পরিতৃপ্ত।
আবদুস শহীদ নাসিম
এর কারণ, তারা দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের উপর প্রাধান্য দেয় এবং কাফিরদের সঠিক পথ দেখান না।
Thumma inna rabbaka lillatheena hajaroo min baAAdi ma futinoo thumma jahadoo wasabaroo inna rabbaka min baAAdiha laghafoorun raheemun
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারপর তোমার রব তাদের জন্য, যারা বিপর্যস্ত হওয়ার পর হিজরত করেছে, অতঃপর জিহাদ করেছে এবং সবর করেছে, এ সবের পর তোমার রব অবশ্যই ক্ষমাশীল, দুয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
স্মরণ করো, সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে আসবে এবং প্রত্যেককেই তার কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা।
Yawma tatee kullu nafsin tujadilu AAan nafsiha watuwaffa kullu nafsin ma AAamilat wahum la yuthlamoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
(স্মরণ কর সে দিনের কথা) যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের পক্ষে যুক্তি-তর্ক নিয়ে উপস্থিত হবে এবং প্রত্যেককে ব্যক্তি সে যা আমল করেছে তা পরিপূর্ণরূপে দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি যুলম করা হবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
উপমা দিচ্ছেন একটি জনপদের, যেটি ছিলো নিরাপদ নিশ্চিন্ত। সেখানে আসতো সবদিক থেকে প্রচুর জীবনোপকরণ। তারপর সেই জনপদ আল্লাহর প্রতি কুফুরি করলো, ফলে তাদের কর্মকান্ডের জন্যে তাদের আস্বাদন করান ক্ষুধা ও ভয়ের পোশাক।
আর উপমা পেশ করছেন, একটি জনপদ, যা ছিল নিরাপদ ও শান্ত। সবদিক থেকে তার রিয্ক তাতে বিপুলভাবে আসত। অতঃপর সে (জনপদ) আল্লাহর নিআমত অস্বীকার করল। তখন তারা যা করত তার কারণে তাকে ক্ষুধা ও ভয়ের পোশাক পরালেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের কাছে তাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল এসেছিল, কিন্তু তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তাদের পাকড়াও করে আযাব। আর তারা ছিলো যালিম।
আর অবশ্যই তাদের কাছে, তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল এসেছিল। তারপর তারা তাকে অস্বীকার করেছিল। ফলে আযাব তাদের পাকড়াও করেছিল এমতাবস্থায় যে, তারা ছিল যুলমকারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের যে হালাল ও উত্তম জীবিকা দিয়েছেন তা থেকে তোমরা খাও এবং তোমরা আল্লাহর নিয়ামতের শোকর আদায় করো যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করে থাকো।
অতএব তোমাদেরকে যে হালাল উত্তম রিয্ক দিয়েছেন, তোমরা তা থেকে আহার কর এবং আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় কর, যদি তোমরা তারই ইবাদাত করে থাক।
আবদুস শহীদ নাসিম
নিশ্চয়ই তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন মৃত প্রাণী, (প্রবাহিত) রক্ত, শুয়োরের মাংস এবং যা ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে জবাই করা হয়েছে তা। তবে কেউ যদি অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং সে যদি বিদ্রোহ কিংবা সীমালংঘন না করে কিছু খেয়ে নেয় (তার দোষ হবেনা), নিশ্চয়ই মহাক্ষমাশীল দয়াময়।
তিনি তো তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশ্ত এবং যে জন্তুর যবেহকালে ব্যতীত অন্য কারও নাম নেয়া হয়েছে। তবে যে নিরুপায় হয়ে, ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন ব্যতীত, (প্রয়োজন মুতাবেক গ্রহণ করবে) তবে ক্ষমাশীল, দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের জবান মিথ্যারোপ করে বলে, এটা হালাল আর এটা হারাম, তোমরা এভাবে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করোনা। যারা মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করে তারা কখনো সফল হবেনা।
Wala taqooloo lima tasifu alsinatukumu alkathiba hathahalalun wahathaharamun litaftaroo AAala Allahi alkathiba inna allatheena yaftaroona AAala Allahi alkathiba la yuflihoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমাদের জিহবা দ্বারা বানানো মিথ্যার উপর নির্ভর করে বলো না যে, এটা হালাল এবং এটা হারাম, আল্লাহর উপর মিথ্যা রটানোর জন্য। নিশ্চয় যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের ভোগ বিলাস সামান্য ক’দিনের এবং তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
Arabic, with marks
مَتَاعٌ قَلِيلٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
Transliteration
MataAAun qaleelun walahum AAathabun aleemun
বয়ান ফাউন্ডেশন
সামান্য ভোগ এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
আবদুস শহীদ নাসিম
ইহুদিদের জন্যে আমরা সে সবই হারাম করেছিলাম, যা তোমার কাছে আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি। আমরা তাদের প্রতি কোনো যুলুম করিনি, বরং তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল।
WaAAala allatheena hadoo harramna ma qasasna AAalayka min qablu wamathalamnahum walakin kanoo anfusahum yathlimoona
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যারা ইহূদী হয়েছে, তাদের উপরও আমি তাই হারাম করেছি, যা আমি তোমার কাছে ইতঃপূর্বে বর্ণনা করেছি এবং আমি তাদের উপর যুলম করিনি; বরং তারাই তাদের নিজদের উপর যুলম করত।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা অজ্ঞতাবশত পাপ কাজ করে, তারপরে তওবা করে এবং নিজেদেরকে এস্লাহ (সংশোধন) করে নেয়, নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মহাক্ষমাশীল, দয়াময়।
Thumma inna rabbaka lillatheena AAamiloo alssooa bijahalatin thumma taboo min baAAdi thalika waaslahoo inna rabbaka min baAAdiha laghafoorun raheemun
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারপর নিশ্চয় তোমার রব তাদের জন্য, যারা অজ্ঞাতসারে মন্দ কাজ করেছে, এরপর তারা তওবা করেছে এবং পরিশুদ্ধ হয়েছে। নিশ্চয় তোমার রব এসবের পর পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
ইবরাহিম ছিলো একাই একটি উম্মত, আল্লাহর অনুগত, নিষ্ঠাবান এবং সে মুশরিকদের অন্তরভুক্ত ছিলনা।
Inna ibraheema kana ommatan qanitan lillahi haneefan walam yaku mina almushrikeena
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় ইবরাহীম ছিলেন এক উম্মত*, আল্লাহর একান্ত অনুগত ও একনিষ্ঠ। তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না। * তিনি উম্মত বা জাতি ছিলেন, এই অর্থে যে, একটি জাতির মাঝে যে সমস্ত গুণাবলী পাওয়া যায়, ব্যক্তি ইবরাহীমের মাঝেই তা বিদ্যমান ছিল। কারও কারও মতে এর অর্থ ‘আদর্
আবদুস শহীদ নাসিম
সে ছিলো আল্লাহর নিয়ামতরাজির জন্যে কৃতজ্ঞ। তিনি তাকে মনোনীত করেছিলেন এবং পরিচালিত করেছিলেন সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর।
Thumma awhayna ilayka ani ittabiAA millata ibraheema haneefan wama kana mina almushrikeena
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারপর আমি তোমার প্রতি ওহী পঠিয়েছি যে, তুমি মিল্লাতে ইবরাহীমের অনুসরণ কর, যে ছিল একনিষ্ঠ এবং ছিল না মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত।
আবদুস শহীদ নাসিম
শনিবার পালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল তাদের জন্যে, যারা এ নিয়ে মতভেদ করতো। তারা যে বিষয়ে মতভেদ করতো তোমার প্রভু অবশ্যি সে বিষয়ে কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন।
শনিবার তো তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে যারা তাতে মতবিরোধ করেছে। আর নিশ্চয় তোমার রব কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন, যাতে তারা মতভেদ করত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার প্রভুর পথের দিকে মানুষকে দাওয়াত দাও হিকমত এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করবে উত্তম পন্থায়। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু জানেন, কারা সঠিক পথ থেকে বিপথগামী হয়, আর সঠিক পথ প্রাপ্তদেরও তিনি ভালোভাবে জানেন।
OdAAu ila sabeeli rabbika bialhikmati waalmawAAithati alhasanati wajadilhum biallatee hiya ahsanu inna rabbaka huwa aAAlamu biman dalla AAan sabeelihi wahuwa aAAlamu bialmuhtadeena
বয়ান ফাউন্ডেশন
তুমি তোমরা রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহবান কর এবং সুন্দরতম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রবই জানেন কে তার পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যদি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে চাও, তবে ঠিক ততোখানি নেবে যতোটা শাস্তি তোমাদের দেয়া হয়েছে। তবে তোমরা যদি সহনশীল হও, সহনশীলদের জন্যে সেটা অবশ্যি উত্তম।