You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আল আনফাল (গণিমতের মাল)
Chapter 8, 75 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
Arabic, with marks
Transliteration
মুহিউদ্দীন খান
Word by word
About this chapter
মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৭৫, রুকু সংখ্যা: ১০
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-০৪গণিমতের মাল বণ্টন সম্পর্কে প্রাথমিক নির্দেশ। সত্যিকার মুমিনদের পরিচয়।
০৫-৭৫বদর যুদ্ধের পূর্বাবস্থা এবং বদর যুদ্ধের পর্যালোচনা। বদর যুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য প্রসঙ্গ। শত্রু পক্ষের প্রতি আল্লাহর সতর্কবাণী। গণিমতের মাল কারা পাবে? যুদ্ধ বন্দীদের কি করা হবে? জিহাদ ও হিজরতের মর্যাদা।
আবদুস শহীদ নাসিম
লোকেরা তোমার কাছে জানতে চাইছে আনফাল সম্পর্কে। তুমি বলো, আনফাল হলো আল্লাহর এবং রসূলের জন্যে। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সংশোধন করে নাও তোমাদের অবস্থা। আর আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তাঁর রসূলের, যদি তোমরা হয়ে থাকো।
Yasaloonaka AAani alanfali quli alanfalu lillahi waalrrasooli faittaqoo Allaha waaslihoo thata baynikum waateeAAoo Allaha warasoolahu in kuntum mumineena
মুহিউদ্দীন খান
আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে, গনীমতের হুকুম। বলে দিন, গণীমতের মাল হল আল্লাহর এবং রসূলের। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে নাও। আর এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য কর, যদি হয়ে থাক।
জেনে রাখো, প্রকৃত হলো তারা, আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে যাদের অন্তর কেঁপে উঠে, আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করে শুনানো হলে যাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং যারা তাদের প্রভুর উপর তাওয়াক্কুল করে।
যারা , তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় পরওয়ার দেগারের প্রতি ভরসা পোষণ করে।
স্মরণ করো, তোমাদের ওয়াদা দিয়েছিলেন, দুটি দলের একটি দল তোমাদের আয়ত্তে আসবে, অথচ তোমরা চাইছিলে নিষ্কণ্টক দলটি তোমাদের আয়ত্তে আসুক। কিন্তু চাইছিলেন তাঁর বাণীর মাধ্যমে সত্যকে বাস্তবায়িত করবেন এবং কেটে দেবেন কাফিরদের শেকড়।
Waith yaAAidukumu Allahu ihda alttaifatayni annaha lakum watawaddoona anna ghayra thati alshshawkati takoonu lakum wayureedu Allahu an yuhiqqa alhaqqa bikalimatihi wayaqtaAAa dabira alkafireena
মুহিউদ্দীন খান
আর যখন দু’টি দলের একটির ব্যাপারে তোমাদের সাথে ওয়াদা করেছিলেন যে, সেটি তোমাদের হস্তগত হবে, আর তোমরা কামনা করছিলে যাতে কোন রকম কন্টক নেই, তাই তোমাদের ভাগে আসুক; অথচ চাইতেন সত্যকে স্বীয় কালামের মাধ্যমে সত্যে পরিণত করতে এবং কাফেরদের মূল কর্তন করে দিতে,
যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করে বলেছিলেন: ‘আমি তোমাদের সাহায্য করবো এক হাজার ফেরেশতা দিয়ে, তারা যাবে একের পর এক।
তোমরা যখন ফরিয়াদ করতে আরম্ভ করেছিলে স্বীয় পরওয়ারদেগারের নিকট, তখন তিনি তোমাদের ফরিয়াদের মঞ্জুরী দান করলেন যে, আমি তোমাদিগকে সাহায্য করব ধারাবহিকভাবে আগত হাজার ফেরেশতার মাধ্যমে।
এ ব্যবস্থা করেন একটি শুভ সংবাদ হিসেবে এবং এর ফলে যেনো তোমাদের মন প্রশান্তি লাভ করে। আসলে সাহায্য তো আল্লাহর কাছ থেকেই আসে। নিশ্চয়ই মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাবান।
Wama jaAAalahu Allahu illa bushra walitatmainna bihi quloobukum wama alnnasru illa min AAindi Allahi inna Allaha AAazeezun hakeemun
মুহিউদ্দীন খান
আর তো শুধু সুসংবাদ দান করলেন যাতে তোমাদের মন আশ্বস্ত হতে পারে। আর সাহায্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতে পারে না। নিঃসন্দেহে মহাশক্তির অধিকারী হেকমত ওয়ালা।
স্মরণ করো, তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের স্বস্তির জন্যে তোমাদেরকে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করেছিলেন এবং আসমান থেকে তোমাদের উপর পানি বর্ষণ করেছিলেন, যাতে করে তা দিয়ে তোমাদের পবিত্র করে দেন, তোমাদের থেকে শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর করে দেন এবং তোমাদের অন্তরসমূহকে সংহত ও মজবুত করে দেন আর তোমাদের কদমকে করে দেন মজবুত।
যখন তিনি আরোপ করেন তোমাদের উপর তন্দ্রাচ্ছন্ন তা নিজের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রশান্তির জন্য এবং তোমাদের উপর আকাশ থেকে পানি অবতরণ করেন, যাতে তোমাদিগকে পবিত্র করে দেন এবং যাতে তোমাদের থেকে অপসারিত করে দেন শয়তানের অপবিত্রতা। আর যাতে করে সুরক্ষিত করে দিতে পারেন তোমাদের অন্তরসমূহকে এবং তাতে যেন সুদৃঢ় করে দিতে পারেন তোমাদের পা গুলো।
স্মরণ করো, তোমাদের প্রভু ফেরেশতাদের প্রতি অহি করে বলেছিলেন: আমি তোমাদের সাথে আছি, তোমরা মুমিনদের অবিচল রাখো। অচিরেই আমি কাফিরদের অন্তরে সঞ্চার করে দেবো ভয় আর আতঙ্ক। অতএব তোমরা আঘাত করো তাদের গর্দানে আর আঘাত করো তাদের জোড়ায় জোড়ায়।
যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।
যুদ্ধের কৌশল কিংবা নিজেদের দলের সাথে মিলিত হবার উদ্দেশ্য ছাড়া। সেদিন যে কেউ বাহিনী থেকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে, সে আল্লাহর গজবে নিপতিত হবে এবং তার আশ্রয় হবে জাহান্নাম, আর সেটা খুবই নিকৃষ্ট ধরনের ফিরে যাবার জায়গা।
Waman yuwallihim yawmaithin duburahu illa mutaharrifan liqitalin aw mutahayyizan ila fiatin faqad baa bighadabin mina Allahi wamawahu jahannamu wabisa almaseeru
মুহিউদ্দীন খান
আর যে লোক সেদিন তাদের থেকে পশ্চাদপসরণ করবে, অবশ্য যে লড়াইয়ের কৌশল পরিবর্তনকল্পে কিংবা যে নিজ সৈন্যদের নিকট আশ্রয় নিতে আসে সে ব্যতীত অন্যরা আল্লাহর গযব সাথে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। আর তার ঠিকানা হল জাহান্নাম। বস্তুতঃ সেটা হল নিকৃষ্ট অবস্থান।
তোমরা তাদের হত্যা করোনি, বরং তাদের হত্যা করেছেন । আর তুমি যখন (তাদের দিকে কংকর) নিক্ষেপ করেছিলে তখন তুমি নিক্ষেপ করোনি, বরং আল্লাহ্ই নিক্ষেপ করেছিলেন, যাতে করে মুমিনদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে উত্তমভাবে পরীক্ষা করা যায়। নিশ্চয় সব শুনেন, সব জানেন।
Falam taqtuloohum walakinna Allaha qatalahum wama ramayta ith ramayta walakinna Allaha rama waliyubliya almumineena minhu balaan hasanan inna Allaha sameeAAun AAaleemun
মুহিউদ্দীন খান
সুতরাং তোমরা তাদেরকে হত্যা করনি, বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন। আর তুমি মাটির মুষ্ঠি নিক্ষেপ করনি, যখন তা নিক্ষেপ করেছিলে, বরং তা নিক্ষেপ করেছিলেন স্বয়ং যেন ঈমানদারদের প্রতি এহসান করতে পারেন যথার্থভাবে। নিঃসন্দেহে শ্রবণকারী; পরিজ্ঞাত।
(হে কাফিররা!) তোমরা তো ফায়সালা চেয়েছিলে। এখন ফায়সালা তোমরা পেয়ে গেছো। যদি তোমরা (যুদ্ধ সন্ত্রাস ও নির্যাতন করা থেকে) বিরত হও, তবে সেটা তোমাদের জন্যেই উত্তম। কিন্তু তোমরা যদি পুনরায় করো, তাহলে আমরাও পুনরায় শাস্তি দেবো এবং তোমাদের বাহিনী সংখ্যায় অনেক বেশি হলেও তা তোমাদের কোনো কাজেই আসবে না। অবশ্যি মুমিনদের সাথে রয়েছেন।
তোমরা যদি মীমাংসা কামনা কর, তাহলে তোমাদের নিকট মীমাংসা পৌছে গেছে। আর যদি তোমরা প্রত্যাবর্তন কর, তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম এবং তোমরা যদি তাই কর, তবে আমি ও তেমনি করব। বস্তুতঃ তোমাদের কোনই কাজে আসবে না তোমাদের দল - বল, তা যত বেশীই হোক। জেনে রেখ রয়েছেন ঈমানদারদের সাথে।
হে লোকেরা! রসূল যখন তোমাদেরকে এমন কোনো বিষয়ের দিকে ডাকে, যা তোমাদের প্রাণবন্তু করবে, তখন তোমরা ও রসূলের আহবানে সাড়া দেবে। জেনে রাখো, ব্যক্তি ও তার অন্তরের মধ্যবর্তী হয়ে থাকেন এবং তাঁরই কাছে তোমাদের হাশর করা হবে।
Ya ayyuha allatheena amanoo istajeeboo lillahi walilrrasooli itha daAAakum lima yuhyeekum waiAAlamoo anna Allaha yahoolu bayna almari waqalbihi waannahu ilayhi tuhsharoona
মুহিউদ্দীন খান
হে ঈমানদারগণ, ও তাঁর রসূলের নির্দেশ মান্য কর, যখন তোমাদের সে কাজের প্রতি আহবান করা হয়, যাতে রয়েছে তোমাদের জীবন। জেনে রেখো, মানুষের এবং তার অন্তরের মাঝে অন্তরায় হয়ে যান। বস্তুতঃ তোমরা সবাই তাঁরই নিকট সমবেত হবে।
স্মরণ করো, তোমরা ছিলে কয়েকজন মাত্র। দেশে তোমাদের দুর্বল করে রাখা হয়েছিল। তোমরা আশংকা করছিলে লোকেরা তোমাদের ছোঁ মেরে ধরে ফেলবে। সে অবস্থা থেকে উদ্ধার করে তোমাদের আশ্রয় দিয়েছেন, নিজ সাহায্যের মাধ্যমে তোমাদের শক্তিশালী করেছেন এবং উত্তম জীবিকার ব্যবস্থা করেছেন, যাতে তোমরা শোকর আদায় করো।
Waothkuroo ith antum qaleelun mustadAAafoona fee alardi takhafoona an yatakhattafakumu alnnasu faawakum waayyadakum binasrihi warazaqakum mina alttayyibati laAAallakum tashkuroona
মুহিউদ্দীন খান
আর স্মরণ কর, যখন তোমরা ছিলে অল্প, পরাজিত অবস্থায় পড়েছিলে দেশে; ভীত - সস্ত্রস্ত্র ছিলে যে, তোমাদের না অন্যেরা ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। অতঃপর তিনি তোমাদিগকে আশ্রয়ের ঠিকানা দিয়েছেন, স্বীয় সাহায্যের দ্বারা তোমাদিগকে শক্তি দান করেছেন এবং পরিচ্ছন্ন জীবিকা দিয়েছেন যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় কর।
হে লোকেরা! তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করো, তাহলে তিনি তোমাদেরকে ভালো - মন্দের মধ্যে পার্থক্য করার একটি মানদন্ড দেবেন এবং তোমাদের থেকে মুছে দেবেন তোমাদের পাপগুলো আর ক্ষমা করে দেবেন তোমাদের ত্রুটি বিচ্যুতি। তো মহা অনুগ্রহের মালিক।
Ya ayyuha allatheena amanoo in tattaqoo Allaha yajAAal lakum furqanan wayukaffir AAankum sayyiatikum wayaghfir lakum waAllahu thoo alfadli alAAatheemi
মুহিউদ্দীন খান
হে ঈমানদারগণ তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করতে থাক, তবে তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন এবং তোমাদের থেকে তোমাদের পাপকে সরিয়ে দেবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান।
কাফিররা যখন তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছিল তোমাকে বন্দী করার, কিংবা হত্যা করার, অথবা দেশ থেকে বের করে দেয়ার; তারা চক্রান্ত করছিল আর আল্লাহ্ও কৌশল করছিলেন, আর আল্লাহ্ই সর্বোত্তম কৌশলী।
Waith yamkuru bika allatheena kafaroo liyuthbitooka aw yaqtulooka aw yukhrijooka wayamkuroona wayamkuru Allahu waAllahu khayru almakireena
মুহিউদ্দীন খান
আর কাফেরেরা যখন প্রতারণা করত আপনাকে বন্দী অথবা হত্যা করার উদ্দেশ্যে কিংবা আপনাকে বের করে দেয়ার জন্য তখন তারা যেমন ছলনা করত তেমনি, আল্লাহও ছলনা করতেন। বস্তুতঃ আল্লাহর ছলনা সবচেয়ে উত্তম।
যখন তারা বলেছিল: ‘হে ! এ (দীন, এ কুরআন) যদি তোমার পক্ষ থেকে সত্য হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করো, অথবা আমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাবে নিমজ্জিত করো।’
Waith qaloo allahumma in kana hatha huwa alhaqqa min AAindika faamtir AAalaynahijaratan mina alssamai awi itina biAAathabin aleemin
মুহিউদ্দীন খান
তাছাড়া তারা যখন বলতে আরম্ভ করে যে, ইয়া , এই যদি তোমার পক্ষ থেকে (আগত) সত্য হয়ে থাকে, তবে আমাদের উপর আকাশ থেকে প্রস্তর বর্ষণ কর কিংবা আমাদের উপর বেদনাদায়ক আযাব নাযিল কর।
Wama kana Allahu liyuAAaththibahum waanta feehim wama kana Allahu muAAaththibahum wahum yastaghfiroona
মুহিউদ্দীন খান
অথচ কখনই তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন। তাছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে কখনও তাদের উপর আযাব দেবেন না।
তাদের কী বলার আছে, কেন তাদের শাস্তি দেবেন না, যখন তারা মসজিদুল হারাম থেকে (মুমিনদের) বাধা দেয়। তারা তো এই মসজিদের মুতাওয়াল্লি (তত্ত্বাবধায়ক) নয়, শুধু মুত্তাকিরাই হতে পারে এর মুতাওয়াল্লি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানেনা।
Wama lahum alla yuAAaththibahumu Allahu wahum yasuddoona AAani almasjidi alharami wama kanoo awliyaahu in awliyaohu illa almuttaqoona walakinna aktharahum la yaAAlamoona
মুহিউদ্দীন খান
আর তাদের মধ্যে এমন কি বিষয় রয়েছে, যার ফলে তাদের উপর আযাব দান করবেন না। অথচ তারা মসজিদে - হারামে যেতে বাধাদান করে, অথচ তাদের সে অধিকার নেই। এর অধিকার তো তাদেরই রয়েছে যারা । কিন্তু তাদের অধিকাংশই সে বিষয়ে অবহিত নয়।
যারা কুফুরির পথ অবলম্বন করেছে তারা তাদের অর্থ - সম্পদ ব্যয় করে মানুষকে আল্লাহর পথে বাধা দেয়ার জন্যে। তারা তাদের সম্পদ ব্যয় করেই যাবে এবং এটা তাদের হতাশার কারণ হবে। অবশেষে তারা পরাজিত হবে। যারা কুফুরি করে তাদেরকে শেষ পর্যন্ত জাহান্নামে হাশর (সমবেত) করা হবে।
নিঃসন্দেহে যেসব লোক , তারা ব্যয় করে নিজেদের ধন - সম্পদ, যাতে করে বাধাদান করতে পারে আল্লাহর পথে। বস্তুতঃ এখন তারা আরো ব্যয় করবে। তারপর তাই তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হয়ে এবং শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যাবে। আর যারা তাদেরকে দোযখের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
এমনটি করার কারণ হলো, মন্দকে ভালো থেকে আলাদা করে দিতে চান এবং মন্দদের কাউকেও কারো উপর স্থান দিতে চান, তারপর তাদের সবাইকে জমা করে নিক্ষেপ করবেন জাহান্নামে। আর তারাই হবে আসল ক্ষতিগ্রস্ত।
যাতে পৃথক করে দেন অপবিত্র ও না - পাককে পবিত্র ও পাক থেকে। আর যাতে একটির পর একটিকে স্থাপন করে সমবেত স্তুপে পরিণত করেন এবং পরে দোযখে নিক্ষেপ করেন। এরাই হল ক্ষতিগ্রস্ত।
যারা কুফুরি করে তাদের বলো, তারা যদি বিরত হয় তবে অতীতের কর্মের জন্যে তাদের ক্ষমা করা হবে, কিন্তু তারা যদি পুনরাবৃত্তি করে, তবে আগেকার লোকদের (করুণ) দৃষ্টান্ত তো তাদের সামনেই রয়েছে।
Qul lillatheena kafaroo in yantahoo yughfar lahum ma qad salafa wain yaAAoodoo faqad madat sunnatu alawwaleena
মুহিউদ্দীন খান
তুমি বলে দাও, কাফেরদেরকে যে, তারা যদি বিরত হয়ে যায়, তবে যা কিছু ঘটে গেছে ক্ষমা হবে যাবে। পক্ষান্তরে আবারও যদি তাই করে, তবে পুর্ববর্তীদের পথ নির্ধারিত হয়ে গেছে।
তাদের বিরুদ্ধে লড়ে যাও, যতোক্ষণ না ফিতনা দূর হয়ে যায় এবং দীন পুরোপুরি আল্লাহর জন্যে হয়ে যায়। তারা যদি (ফিতনা থেকে) বিরত হয়, তবে তারা যা করবে তার প্রতি লক্ষ্য রাখবেন।
Waqatiloohum hatta la takoona fitnatun wayakoona alddeenu kulluhu lillahi faini intahaw fainna Allaha bima yaAAmaloona baseerun
মুহিউদ্দীন খান
আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।
জেনে নাও, তোমরা যে গনিমত লাভ করেছো, তার পাঁচ ভাগের একভাগ আল্লাহর, রসূলের, রসূলের নিকটাত্মীয়দের, এতিমদের, মিসকিনদের এবং পথিকদের জন্যে নির্ধারন করা হলো। যদি তোমরা ঈমান রাখো আল্লাহর প্রতি এবং সেই বিষয়ের প্রতি যা আমরা নাযিল করেছি আমাদের দাসের প্রতি মীমাংসার দিন, যেদিন দুই দল পরস্পরের মোকাবেলা করেছিল। সব বিষয়ে শক্তিমান।
আর এ কথাও জেনে রাখ যে, কোন বস্তু - সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনীমত হিসাবে পাবে, তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য, রসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্নীয় - স্বজনের জন্য এবং এতীম - অসহায় ও মুসাফিরদের জন্য; যদি তোমাদের বিশ্বাস থাকে আল্লাহর উপর এবং সে বিষয়ের উপর যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি ফয়সালার দিনে, যেদিন সম্মুখীন হয়ে যায় উভয় সেনাদল। আর সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল।
স্মরণ করো, (বদর প্রান্তরে) তোমরা ছিলে উপত্যকার নিকট প্রান্তে, তারা ছিলো দূরপ্রান্তে আর আরোহী কাফেলা দল ছিলো অপেক্ষাকৃত নিম্নাঞ্চলে। তোমরা যদি পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধের (অবস্থান) সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে চাইতে, তবে সে সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তোমাদের মধ্যে মতবিরোধ ঘটতো। কিন্তু যা করার তা করে দিলেন। ফলে যারা হালাক হবার তারা যেনো সত্য প্রকাশের পর হালাক হয়, আর যারা জীবিত থাকবে তারাও যেনো সত্য প্রকাশের পর জীবিত থাকে। নিশ্চয়ই সব শুনেন, সব জানেন।
Ith antum bialAAudwati alddunya wahum bialAAudwati alquswa waalrrakbu asfala minkum walaw tawaAAadtum laikhtalaftum fee almeeAAadi walakin liyaqdiya Allahu amran kana mafAAoolan liyahlika man halaka AAan bayyinatin wayahya man hayya AAan bayyinatin wainna Allaha lasameeAAun AAaleemun
মুহিউদ্দীন খান
আর যখন তোমরা ছিলে সমরাঙ্গনের এ প্রান্তে আর তারা ছিল সে প্রান্তে অথচ কাফেলা তোমাদের থেকে নীচে নেমে গিয়েছিল। এমতাবস্থায় যদি তোমরা পারস্পরিক অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে, তবে তোমরা এক সঙ্গে সে ওয়াদা পালন করতে পারতে না। কিন্তু তা’আলা এমন এক কাজ করতে চেয়েছিলেন, যা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল যাতে সে সব লোক নিহত হওয়ার ছিল, প্রমাণ প্রতিষ্ঠার পর এবং যাদের বাঁচার ছিল, তারা বেঁচে থাকে প্রমাণ প্রতিষ্ঠার পর। আর নিশ্চিতই শ্রবণকারী, বিজ্ঞ।
স্মরণ করো, (বদর প্রান্তরে) তোমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তারা সংখ্যায় অল্প। তিনি যদি তোমাকে দেখাতেন তারা সংখ্যায় অনেক, তাহলে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলতে এবং যুদ্ধের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করতে। কিন্তু তোমাদের রক্ষা করেছেন। নিশ্চয়ই অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে তিনি অবগত।
যখন তোমাকে স্বপ্নে সেসব কাফেরের পরিমাণ অল্প করে দেখালেন; বেশী করে দেখালে তোমরা কাপুরুষতা অবলম্বন করতে এবং কাজের বেলায় বিপদ সৃষ্টি করতে। কিন্তু বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তিনি অতি উত্তমভাবেই জানেন; যা কিছু অন্তরে রয়েছে।
স্মরণ করো, যুদ্ধের ময়দানে তিনি তাদেরকে তোমাদের দৃষ্টিতে অল্প সংখ্যক দেখিয়েছেন এবং তোমাদেরকেও তাদের দৃষ্টিতে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছেন, যা ঘটার ছিলো তা সম্পন্ন করার জন্যে। সব বিষয় শেষ পর্যন্ত আল্লাহর দিকেই রুজু হয়।
Waith yureekumoohum ithi iltaqaytum fee aAAyunikum qaleelan wayuqallilukum fee aAAyunihim liyaqdiya Allahu amran kana mafAAoolan waila Allahi turjaAAu alomooru
মুহিউদ্দীন খান
আর যখন তোমাদেরকে দেখালেন সে সৈন্যদল মোকাবেলার সময় তোমাদের চোখে অল্প এবং তোমাদেরকে দেখালেন তাদের চোখে বেশী, যাতে সে কাজ করে নিতে পারেন যা ছিল নির্ধারিত। আর সব কাজই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌছায়।
হে লোকেরা! যখনই তোমরা কোনো সৈন্যদলের সাথে যুদ্ধের সম্মুখীন হবে, তখন অবশ্যি অটল অবিচল থাকবে, এবং আল্লাহকে অধিক অধিক স্মরণ করবে, তাহলে অবশ্যি তোমরা সফল হবে।
তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তাঁর রসূলের। আর তোমরা নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হয়োনা। তাহলে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং এর ফলে তোমাদের প্রতিপত্তি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং সবর করো। নিশ্চয়ই সবর অবলম্বনকারীদের সাথেই রয়েছেন।
WaateeAAoo Allaha warasoolahu wala tanazaAAoo fatafshaloo watathhaba reehukum waisbiroo inna Allaha maAAa alssabireena
মুহিউদ্দীন খান
আর তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই তা'আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে।
তোমরা ঐসব লোকদের মতো হয়োনা যারা দাম্ভিকতা প্রদর্শন ও লোক দেখানোর জন্যে ঘর থেকে বের হয়েছিল এবং যারা মানুষকে আল্লাহর পথে চলতে বাধা সৃষ্টি করে। তারা যা করে তা পরিবেষ্টন করে আছেন।
আর তাদের মত হয়ে যেয়ো না, যারা বেরিয়েছে নিজেদের অবস্থান থেকে গর্বিতভাবে এবং লোকদেরকে দেখাবার উদ্দেশে। আর আল্লাহর পথে তারা বাধা দান করত। বস্তুতঃ আল্লাহর আয়ত্বে রয়েছে সে সমস্ত বিষয় যা তারা করে।
স্মরণ করো, শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কর্মকান্ডকে চাকচিক্যময় করে রেখেছিল এবং বলেছিল: ‘আজ কোনো মানুষই তোমাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না, আমি তোমাদের পাশেই আছি।’ তারপর উভয় দল যখন মুখোমুখি হলো, তখন সে পেছন থেকে কেটে পড়লো এবং বললো: ‘তোমাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এমন কিছু দেখছি, যা তোমরা দেখছোনা। আমি আল্লাহকে ভয় পাই। কঠিন শাস্তিদাতা।’
Waith zayyana lahumu alshshaytanu aAAmalahum waqala la ghaliba lakumu alyawma mina alnnasi wainnee jarun lakum falamma taraati alfiatani nakasa AAala AAaqibayhi waqala innee bareeon minkum innee ara ma la tarawna innee akhafu Allaha waAllahu shadeedu alAAiqabi
মুহিউদ্দীন খান
আর যখন সুদৃশ্য করে দিল শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যকলাপকে এবং বলল যে, আজকের দিনে কোন মানুষই তোমাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না আর আমি হলাম তোমাদের সমর্থক, অতঃপর যখন সামনাসামনী হল উভয় বাহিনী তখন সে অতি দ্রুত পায়ে পেছনে দিকে পালিয়ে গেল এবং বলল, আমি তোমাদের সাথে না - আমি দেখছি, যা তোমরা দেখছ না; আমি ভয় করি আল্লাহকে। আর আল্লাহর আযাব অত্যন্ত কঠিন।
যখন মুনাফিকরা এবং যাদের মনে রোগ ছিলো তারা বলছিল: ‘এদের দীন এদেরকে বিভ্রান্ত করেছে।’ যে কেউ আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে, সে জেনে রাখুক, মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।
যখন মোনাফেকরা বলতে লাগল এবং যাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত, এরা নিজেদের ধর্মের উপর গর্বিত। বস্তুতঃ যারা ভরসা করে আল্লাহর উপর, সে নিশ্চিন্ত, কেননা অতি পরাক্রমশীল, সুবিজ্ঞ।
ফেরাউনের অনুসারীদের এবং তাদের পূর্ববর্তীদের মতোই এরা অস্বীকার করেছে আল্লাহর আয়াত। ফলে তাদের পাপের জন্যে তাদের শাস্তি প্রদান করেন। নিশ্চয়ই শক্তিমান, কঠোর শাস্তিদাতা।
Kadabi ali firAAawna waallatheena min qablihim kafaroo biayati Allahi faakhathahumu Allahu bithunoobihim inna Allaha qawiyyun shadeedu alAAiqabi
মুহিউদ্দীন খান
যেমন, রীতি রয়েছে ফেরাউনের অনুসারীদের এবং তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের ব্যাপারে যে, এরা আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে এবং সেজন্য তা’আলা তাদের পাকড়াও করেছেন তাদেরই পাপের দরুন। নিঃসন্দেহে মহাশক্তিশালী, কঠিন শাস্তিদাতা।
এর কারণ আল্লাহর নীতি হলো, তিনি কোনো জনগোষ্ঠীকে যে নিয়ামত দান করেন, তা ততোক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না, যতোক্ষণ পর্যন্ত তারা নিজেরাই নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন না করে। সব শুনেন, সব জানেন।
Thalika bianna Allaha lam yaku mughayyiran niAAmatan anAAamaha AAala qawmin hatta yughayyiroo ma bianfusihim waanna Allaha sameeAAun AAaleemun
মুহিউদ্দীন খান
তার কারণ এই যে, কখনও পরিবর্তন করেন না, সে সব নেয়ামত, যা তিনি কোন জাতিকে দান করেছিলেন, যতক্ষণ না সে জাতি নিজেই পরিবর্তিত করে দেয় নিজের জন্য নির্ধারিত বিষয়। বস্তুতঃ শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।
ফেরাউনের অনুসারীদের মতো এবং তাদের পূর্ববর্তীদের মতো এরাও আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে তাদের পাপের জন্যে আমরা তাদের হালাক করেছি আর ফেরাউনের অনুসারীদেরও আমরা ডুবিয়ে মেরেছিলাম। এরা সবাই ছিলো যালিম।
Kadabi ali firAAawna waallatheena min qablihim kaththaboo biayati rabbihim faahlaknahum bithunoobihim waaghraqnaala firAAawna wakullun kanoo thalimeena
মুহিউদ্দীন খান
যেমন ছিল রীতি ফেরাউনের বংশধর এবং যারা তাদের পূর্বে ছিল, তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল স্বীয় পালনকর্তার নিদর্শনসমূহকে। অতঃপর আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি তাদের পাপের দরুন এবং ডুবিয়ে মেরেছি ফেরাউনের বংশধরদেরকে। বস্তুতঃ এরা সবাই ছিল যালেম।
Waimma takhafanna min qawmin khiyanatan fainbith ilayhim AAala sawain inna Allaha la yuhibbu alkhaineena
মুহিউদ্দীন খান
তবে কোন সম্প্রদায়ের ধোঁকা দেয়ার ব্যাপারে যদি তোমাদের ভয় থাকে, তবে তাদের চুক্তি তাদের দিকেই ছুঁড়ে ফেলে দাও এমনভাবে যেন হয়ে যাও তোমরাও তারা সমান। নিশ্চয়ই ধোকাবাজ, প্রতারককে পছন্দ করেন না।
তোমরা তাদের সাথে মোকাবেলার জন্যে সাধ্যমতো শক্তি ও অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখবে, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর দুশমন ও তোমাদের দুশমনদের আতংকিত করে রাখবে। তাছাড়া অন্যদেরকেও, যাদেরকে তোমরা জানোনা। তাদের জানেন। তোমরা আল্লাহর পথে যা - ই খরচ করো না কেন, তার পুরো প্রতিদান তোমাদের দেয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা।
WaaAAiddoo lahum ma istataAAtum min quwwatin wamin ribati alkhayli turhiboona bihi AAaduwwa Allahi waAAaduwwakum waakhareena min doonihim la taAAlamoonahumu Allahu yaAAlamuhum wama tunfiqoo min shayin fee sabeeli Allahi yuwaffa ilaykum waantum la tuthlamoona
মুহিউদ্দীন খান
আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহর শুত্রুদের উপর এবং তোমাদের শত্রুদের উপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপর ও যাদেরকে তোমরা জান না; তাদেরকে চেনেন। বস্তুতঃ যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহর রাহে, তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং তোমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবে না।
এবং তাদের অন্তরে সম্প্রীতি স্থাপন করে দিয়েছেন। তুমি যদি পৃথিবীর সমস্ত সম্পদও ব্যয় করতে, তাদের অন্তরে সম্প্রীতির বন্ধন স্থাপন করতে পারতে না। কিন্তু তাদের অন্তরে সম্প্রীতির বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছেন, তিনি মহাক্ষমতাশালী, বিজ্ঞানময়।
Waallafa bayna quloobihim law anfaqta ma fee alardi jameeAAan ma allafta bayna quloobihim walakinna Allaha allafa baynahum innahu AAazeezun hakeemun
মুহিউদ্দীন খান
আর প্রীতি সঞ্চার করেছেন তাদের অন্তরে। যদি তুমি সেসব কিছু ব্যয় করে ফেলতে, যা কিছু যমীনের বুকে রয়েছে, তাদের মনে প্রীতি সঞ্চার করতে পারতে না। কিন্তু তাদের মনে প্রীতি সঞ্চার করেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি পরাক্রমশালী, সুকৌশলী।
হে নবী! মুমিনদের উদ্বুদ্ধ করো যুদ্ধের জন্যে। তোমাদের মধ্যে যদি বিশজন অবিচল ব্যক্তি থাকে, তারা বিজয়ী হবে দুইশ জনের উপর। আর তোমাদের মধ্যে যদি একশজন থাকে, তারা বিজয়ী হবে এক হাজার কাফিরের উপর। কারণ তারা নির্বোধ লোক।
Ya ayyuha alnnabiyyu harridi almumineena AAala alqitali in yakun minkum AAishroona sabiroona yaghliboo miatayni wain yakun minkum miatun yaghliboo alfan mina allatheena kafaroo biannahum qawmun la yafqahoona
মুহিউদ্দীন খান
হে নবী, আপনি মুসলমানগণকে উৎসাহিত করুন জেহাদের জন্য। তোমাদের মধ্যে যদি বিশ জন দৃঢ়পদ ব্যক্তি থাকে, তবে জয়ী হবে দু’শর মোকাবেলায়। আর যদি তোমাদের মধ্যে থাকে একশ লোক, তবে জয়ী হবে হাজার কাফেরের উপর থেকে তার কারণ ওরা জ্ঞানহীন।
এখন তোমাদের ভার লাঘব করেছেন। তিনি জানেন তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা আছে। এখন যদি তোমাদের একশ অবিচল ব্যক্তি থাকে, তারা দু’শ জনের উপর বিজয়ী হবে। তোমাদের যদি এক হাজার থাকে তারা বিজয়ী হবে দুই হাজারের উপর আল্লাহর অনুমতিক্রমে। অবিচল লোকদের সাথেই আছেন।
এখন বোঝা হালকা করে দিয়েছেন তা’আলা তোমাদের উপর এবং তিনি জেনে নিয়েছেন যে, তোমাদের মধ্য দূর্বলতা রয়েছে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যদি দৃঢ়চিত্ত একশ লোক বিদ্যমান থাকে, তবে জয়ী হবে দু’শর উপর। আর যদি তোমরা এক হাজার হও তবে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী জয়ী হবে দু’হাজারের উপর আর রয়েছেন দৃঢ়চিত্ত লোকদের সাথে।
Ma kana linabiyyin an yakoona lahu asrahatta yuthkhina fee alardi tureedoona AAarada alddunya waAllahu yureedu alakhirata waAllahu AAazeezun hakeemun
মুহিউদ্দীন খান
নবীর পক্ষে উচিত নয় বন্দীদিগকে নিজের কাছে রাখা, যতক্ষণ না দেশময় প্রচুর রক্তপাত ঘটাবে। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর, অথচ চান আখেরাত। আর হচ্ছেন পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা।
হে নবী! তোমার হাতে যেসব বন্দী আছে তাদের বলো, যদি তোমাদের মধ্যে ভালো কিছু আছে বলে দেখেন, তাহলে তোমাদের থেকে যা কিছু নেয়া হয়েছে, তোমাদেরকে তার চাইতে উত্তম কিছু দান করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন। বড়ই ক্ষমাশীল, দয়াময়।
Ya ayyuha alnnabiyyu qul liman fee aydeekum mina alasra in yaAAlami Allahu fee quloobikum khayran yutikum khayran mimma okhitha minkum wayaghfir lakum waAllahu ghafoorun raheemun
মুহিউদ্দীন খান
হে নবী, তাদেরকে বলে দাও, যারা তোমার হাতে বন্দী হয়ে আছে যে, যদি তোমাদের অন্তরে কোন রকম মঙ্গলচিন্তা রয়েছে বলে জানেন, তবে তোমাদেরকে তার চেয়ে বহুগুণ বেশী দান করবেন যা তোমাদের কাছ থেকে বিনিময়ে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া তোমাদেরকে তিনি ক্ষমা করে দিবেন। বস্তুতঃ ক্ষমাশীল, করুণাময়।
তারা যদি তোমার সাথে খেয়ানত (বিশ্বাস ভঙ্গ) করতে চায়, তবে ইতোপূর্বে তো তারা আল্লাহর সাথেও খেয়ানত করেছে। তারপর তিনি তোমাদেরকে তাদের উপর শক্তিশালী করেছেন। অবশ্যি জ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
Wain yureedoo khiyanataka faqad khanoo Allaha min qablu faamkana minhum waAllahu AAaleemun hakeemun
মুহিউদ্দীন খান
আর যদি তারা তোমার সাথে প্রতারণা করতে চায় - বস্তুতঃ তারা আল্লাহর সাথেও ইতিপূর্বে প্রতারণা করেছে, অতঃপর তিনি তাদেরকে ধরিয়ে দিয়েছেন। আর সর্ববিষয়ে পরিজ্ঞাত, সুকৌশলী।
নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে, নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে আর যারা (তাদেরকে) আশ্রয় দিয়েছে এবং সাহায্য করেছে, তারা পরস্পরের অলি। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরত করেনি, হিজরত না করা পর্যন্ত তাদের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব তোমার উপর নেই। তারা যদি দীনের ব্যাপারে তোমাদের কাছে সাহায্য চায়, সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য। তবে যদি তোমাদের এবং কোনো কওমের মধ্যে চুক্তি থাকে, সে চুক্তি ভঙ্গ করবে না। তোমরা যা আমল করো তা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।
Inna allatheena amanoo wahajaroo wajahadoo biamwalihim waanfusihim fee sabeeli Allahi waallatheena awaw wanasaroo olaika baAAduhum awliyao baAAdin waallatheena amanoo walam yuhajiroo ma lakum min walayatihim min shayin hatta yuhajiroo waini istansarookum fee alddeeni faAAalaykumu alnnasru illa AAala qawmin baynakum wabaynahum meethaqun waAllahu bima taAAmaloona baseerun
মুহিউদ্দীন খান
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে, স্বীয় জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় ও সাহায্য সহায়তা দিয়েছে, তারা একে অপরের সহায়ক। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু দেশ ত্যাগ করেনি তাদের বন্ধুত্বে তোমাদের প্রয়োজন নেই যতক্ষণ না তারা দেশত্যাগ করে। অবশ্য যদি তারা ধর্মীয় ব্যাপারে তোমাদের সহায়তা কামনা করে, তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য। কিন্তু তোমাদের সাথে যাদের সহযোগী চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে, তাদের মোকাবেলায় নয়। বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু কর, সেসবই দেখেন।
আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে তারাই সত্যিকার । তাদের জন্যে রয়েছে মাগফিরাত ও সম্মানজনক রিযিক।
আর যারা ঈমান এনেছে, নিজেদের ঘর - বাড়ী ছেড়েছে এবং আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, সাহায্য - সহায়তা করেছে, তাঁরা হলো সত্যিকার মুসলমান। তাঁদের জন্যে রয়েছে, ক্ষমা ও সম্মানজনক রুযী।
আর যারা পরে ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং তোমাদের সাথে জিহাদে শরিক হয়েছে, তারাও তোমাদের অন্তরভুক্ত। আর আত্মীয়রা আল্লাহর বিধানে একজন অন্যজন অপেক্ষা বেশি হকদার। অবশ্যি সব বিষয়ে জ্ঞানী।
আর যারা ঈমান এনেছে পরবর্তী পর্যায়ে এবং ঘর - বাড়ী ছেড়েছে এবং তোমাদের সাথে সম্মিলিত হয়ে জেহাদ করেছে, তারাও তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত। বস্তুতঃ যারা আত্নীয়, আল্লাহর বিধান মতে তারা পরস্পর বেশী হকদার। নিশ্চয়ই যাবতীয় বিষয়ে সক্ষম ও অবগত।