You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আত তাওবা
Chapter 9, 129 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
Arabic, with marks
Transliteration
সমকালীন বাংলা
About this chapter
মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১২৯, রুকু সংখ্যা: ১৬
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-৩৭মক্কা বিজয়ের পর মুশরিকদের সাথে আচরণের বিস্তারিত নীতিমালা।
৩৮-৪২তবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণে মুনাফিকদের ওজর-বাহানা। মুমিনদের প্রতি অংশগ্রহণের নির্দেশ।
৪৩-৫৯তবুক যুদ্ধে মুনাফিকদের অংশগ্রহণ না করার তীব্র সমালোচনা এবং তাদের প্রতি ভৎর্সনা।
৬০যাকাত কারা পাবে ?
০৬১-০৭০মুনাফিকদের নিকৃষ্ট নীতির সমালোচনা।
০৭১-০৭২মুমিন পুরুষ ও নারীরা পরস্পরের অলি এবং তাদের শুভ পরিণাম।
০৭৩-১১০যুদ্ধ ও জিহাদের ব্যাপারে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য। মুমিনদের বৈশিষ্ট্য। মুনাফিকদের বাড়াবাড়ি।
১১১-১২৯মুমিনদের মহোত্তম গুণাবলি। মুশরিকদের জন্য নবীর ক্ষমা প্রার্থনা করা নিষেধ। মুমিনদের প্রতি আল্লাহর ক্ষমা ও নির্দেশাবলি। আল্লাহর রসূলের অনুপম গুণাবলি।
আবদুস শহীদ নাসিম
এটি সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা এবং তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেইসব মুশরিকদের প্রতি, যাদের সাথে তোমরা পারস্পারিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে।
অতঃপর তোমরা দেশে চার মাসকাল পরিভ্রমণ কর ও জানিয়া রাখ, তোমরা কে হীনবল করিতে পারিবে না এবং নিশ্চয়ই কাফিরদের লাঞ্ছিত করিয়া থাকেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
মহান হজ্জের দিনে এবং আল্লাহর রসূলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা যাচ্ছে যে, নিশ্চয়ই মুশরিকদের ব্যাপারে দায়মুক্ত এবং তাঁর রসূলও। এখন (হে মুশরিকরা) তোমরা যদি তওবা করো, তাতেই রয়েছে তোমাদের কল্যাণ, আর যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখো, তোমরা আল্লাহকে অতিক্রম করতে (পালাতে) পারবে না। আর কাফিরদের সংবাদ দাও বেদনাদায়ক আযাবের।
Waathanun mina Allahi warasoolihi ila alnnasi yawma alhajji alakbari anna Allaha bareeon mina almushrikeena warasooluhu fain tubtum fahuwa khayrun lakum wain tawallaytum faiAAlamoo annakum ghayru muAAjizee Allahi wabashshiri allatheena kafaroo biAAathabin aleemin
সমকালীন বাংলা
মহান হজ্জের দিবসে ও তাঁহার রাসূলের পক্ষ হইতে মানুষের প্রতি ইহা এক ঘোষণা যে, নিশ্চয়ই মুশরিকদের সম্পর্কে দায়মুক্ত এবং তাঁহার রাসূলও। তোমরা যদি তওবা কর তবে তাহা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর তোমরা যদি মুখ ফিরাও তবে জানিয়া রাখ, তোমরা কে হীনবল করিতে পারিবে না এবং কাফিরদের মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও,
আবদুস শহীদ নাসিম
তবে মুশরিকদের মধ্যে যাদের সাথে তোমরা চুক্তিতে আবদ্ধ এবং তারা চুক্তি কোনো প্রকার লংঘন ও ভঙ্গ করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকেও সাহায্য করেনি, তাদের সাথে নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত চুক্তি বহাল রাখবে। কারণ, মুত্তাকিদের (ন্যায়পরায়ণদের) ভালোবাসেন।
Illa allatheena AAahadtum mina almushrikeena thumma lam yanqusookum shayan walam yuthahiroo AAalaykum ahadan faatimmoo ilayhim AAahdahum ila muddatihim inna Allaha yuhibbu almuttaqeena
সমকালীন বাংলা
তবে মুশরিকদের মধ্যে যাহাদের সঙ্গে তোমরা চুক্তিতে আবদ্ধ ও পরে যাহারা তোমাদের চুক্তি রক্ষায় কোন ত্রুটি করে নাই এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাহাকেও সাহায্য করে নাই, তাহাদের সঙ্গে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত চুক্তি পূর্ণ করিবে। নিশ্চয়ই মুক্তকীদেরকে পছন্দ করেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো শেষ হয়ে যাবে, তখন মুশরিকদের (দেশের মধ্যে) যেখানে পাবে হত্যা করবে, তাদের বন্দী করবে, অবরোধ করবে এবং প্রতিটি ঘাটিতে তাদের জন্যে ওঁৎ পেতে থাকবে। অবশ্য যদি তারা অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে, কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে, তবে তাদের রাস্তা খোলা রাখো। কারণ, নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল দয়াময়।
অতঃপর নিষিদ্ধ মাসসমূহ অতিবাহিত হইলে মুশরিকদেরকে যেখানে পাইবে হত্যা করিবে, তাহাদেরকে বন্দী করিবে, অবরোধ করিবে এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাহাদের জন্য ওঁৎ পাতিয়া থাকিবে। কিন্তু যদি তাহারা তওবা করে, কায়েম করে ও যাকাত দেয় তবে তাহাদের পথ ছাড়িয়া দিবে; নিশ্চয়ই অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তাকে আশ্রয় দাও, যাতে করে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়। তারপর তাকে তার নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেবে। কারণ তারা এমন লোক, যারা জানেনা।
Wain ahadun mina almushrikeena istajaraka faajirhu hatta yasmaAAa kalama Allahi thumma ablighhu mamanahu thalika biannahum qawmun la yaAAlamoona
সমকালীন বাংলা
মুশরিকদের মধ্যে কেহ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করিলে তুমি তাহাকে আশ্রয় দিবে যাহাতে সে আল্লাহর বাণী শুনিতে পায় ; অতঃপর তাহাকে তাহার নিরাপদ স্থানে পৌঁছাইয়া দিবে; কারণ তাহারা অজ্ঞ লোক।
আবদুস শহীদ নাসিম
ও তাঁর রসূলের কাছে কী করে মুশরিকদের চুক্তি বহাল থাকতে পারে, তাদের ছাড়া যাদের সাথে তোমরা মসজিদুল হারামের কাছে পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে (যদি তারা তোমাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তির উপর কায়েম না থাকে)। তবে, তারা যতোদিন তোমাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তির উপর কায়েম থাকবে, ততোদিন তোমরাও তাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তির উপর কায়েম থাকবে। অবশ্যি মুত্তাকিদের পছন্দ করেন।
Kayfa yakoonu lilmushrikeena AAahdun AAinda Allahi waAAinda rasoolihi illa allatheena AAahadtum AAinda almasjidi alharami fama istaqamoo lakum faistaqeemoo lahum inna Allaha yuhibbu almuttaqeena
সমকালীন বাংলা
আল্লাহ্ও তাঁহার রাসূলের নিকট মুশরিকদের চুক্তি কি করিয়া বলবৎ থাকিবে? তবে যাহাদের সঙ্গে মসজিদুল হারামের সন্নিকটে তোমরা পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হইয়াছিলে, যাবৎ তাহারা তোমাদের চুক্তিতে স্থির থাকিবে তোমরাও তাহাদের চুক্তিতে স্থির থাকিবে; নিশ্চয়ই মুক্তাকীদেরকে পছন্দ করেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
কী করে থাকবে? তারা যদি তোমাদের উপর জয়ী হয়, তবে তারা তো তোমাদের সাথের আত্মীয়তা ও অঙ্গীকারের কোনোই মর্যাদা দেয়না। তারা মুখে তোমাদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে, অথচ তাদের অন্তর তা অস্বীকার করে। তাদের অধিকাংশই ফাসিক - সীমালংঘনকারী।
কেমন করিয়া থাকিবে? তাহারা যদি তোমাদের উপর জয়ী হয়, তবে তাহারা তোমাদের আত্মীয়তার ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দিবে না; তাহারা মুখে তোমাদেরকে সন্তুষ্ট রাখে; কিন্তু তাহাদের হৃদয় উহা অস্বীকার করে; তাহাদের অধিকাংশ সত্যত্যাগী।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে আল্লাহর আয়াত এবং বাধা সৃষ্টি করে আল্লাহর পথে। নিশ্চয়ই তাদের কর্মকান্ড খুবই নিকৃষ্ট।
অতঃপর তাহারা যদি তওবা করে, কায়েম করে ও যাকাত দেয় তবে তাহারা তোমাদের দীনী ভাই ; জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আমি নিদর্শন স্পষ্টরূপে বিবৃত করি।
আবদুস শহীদ নাসিম
চুক্তি সম্পাদনের পর তারা যদি তোমাদের সাথে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করে এবং তোমাদের দীন নিয়ে বিদ্রুপ করে, তবে কুফরের (পতাকাবাহী) নেতাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো, যাতে তারা বিরত হয়, কারণ তাদের কোনো অঙ্গীকার নেই।
Wain nakathoo aymanahum min baAAdi AAahdihim wataAAanoo fee deenikum faqatiloo aimmata alkufri innahum la aymana lahum laAAallahum yantahoona
সমকালীন বাংলা
তাহাদের চুক্তির পর তাহারা যদি তাহাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং তোমাদের দীন সম্বন্ধে বিদ্রুপ করে তবে কাফিরদের প্রধানদের সঙ্গে যুদ্ধ কর; ইহারা এমন লোক যাহাদের কোন প্রতিশ্রুতি রহিল না; যেন তাহারা নিবৃত্ত হয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা কি সেই লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেনা, যারা নিজেদের অঙ্গীকার ভেঙ্গে ফেলেছে এবং রসূলকে বহিষ্কারের সংকল্প করেছিল? আর তারাই তো প্রথমে তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় করছো? অথচ আল্লাহই তো সর্বশ্রেষ্ঠ অধিকারী যে তোমরা তাঁকে ভয় করবে, যদি তোমরা হয়ে থাকো।
Ala tuqatiloona qawman nakathoo aymanahum wahammoo biikhraji alrrasooli wahum badaookum awwala marratin atakhshawnahum faAllahu ahaqqu an takhshawhu in kuntum mumineena
সমকালীন বাংলা
তোমরা কি সেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুদ্ধ করিবে না, যাহারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করিয়াছে ও রাসূলকে বহিষ্কারের জন্য সংকল্প করিয়াছে? উহারাই প্রথম তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছে। তোমরা কি তাহাদেরকে ভয় কর? ভয় করাই তোমাদের পক্ষে অধিক সমীচীন, যদি তোমরা হও।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। তোমাদের হাতে তাদের শাস্তি দেবেন, তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করবেন এবং মুমিনদের হৃদয়কে নিরাময় করে দেবেন,
তোমরা তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিবে। তোমাদের হাতে উহাদেরকে শাস্তি দিবেন, উহাদেরকে লাঞ্ছিত করিবেন, উহাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করিবেন ও মু’মিনদের চিত্ত প্রশান্ত করিবেন,
আবদুস শহীদ নাসিম
আর তিনি তাদের (মুমিনদের) অন্তরের ক্ষোভ দূর করে দেবেন। যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। অতীব জ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।
এবং তিনি উহাদের অন্তরের ক্ষোভ দূর করিবেন। যাহাকে ইচ্ছা তাহার প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হন, সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা কি মনে করেছো যে, তোমাদের এতোটুকুতেই ছেড়ে দেয়া হবে, অথচ এখন পর্যন্ত বাস্তবে জেনে নেননি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং , তাঁর রসূল ও মুমিনদের ছাড়া অন্য কাউকেও অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেনি? ভালোভাবেই জানেন তোমরা যা আমল করো।
Am hasibtum an tutrakoo walamma yaAAlami Allahu allatheena jahadoo minkum walam yattakhithoo min dooni Allahi wala rasoolihi wala almumineena waleejatan waAllahu khabeerun bima taAAmaloona
সমকালীন বাংলা
তোমরা কি মনে কর যে, তোমাদেরকে এমনি ছাড়িয়া দেওয়া হইবে যখন পর্যন্ত না প্রকাশ করেন তোমাদের মধ্যে কাহারা মুজাহিদ এবং কাহারা তাঁহার রাসূল ও মু’মিনগণ ব্যতীত অন্য কাহাকেও অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করে নাই? তোমরা যাহা কর, সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করা মুশরিকদের কাজ নয়, কারণ তারা নিজেরাই নিজেদের কুফুরির সাক্ষী। তারা এমন লোক যাদের সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। জাহান্নামেই তারা স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।
Ma kana lilmushrikeena an yaAAmuroo masajida Allahi shahideena AAala anfusihim bialkufri olaika habitat aAAmaluhum wafee alnnari hum khalidoona
সমকালীন বাংলা
মুশরিকরা যখন নিজেরাই নিজেদের স্বীকার করে তখন তাহারা আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করিবে - এমন হইতে পারে না। উহারা এমন, যাহাদের সমস্ত কর্ম ব্যর্থ হইয়াছে এবং উহারা দোজখেই স্থায়িভাবে অবস্থান করিবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ করবে তারা, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, আখিরাতের প্রতি, যারা কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং ছাড়া আর কাউকেও ভয় করেনা। আশা করা যায় এরা হিদায়াতের পথে চলবে।
Innama yaAAmuru masajida Allahi man amana biAllahi waalyawmi alakhiri waaqama alssalata waata alzzakata walam yakhsha illa Allaha faAAasa olaika an yakoonoo mina almuhtadeena
সমকালীন বাংলা
তাহারাই তো মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করিবে, যাহারা ঈমান আনে ও আখিরাতে এবং কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং ব্যতীত অন্য কাহাকেও ভয় করে না। অতএব আশা করা যায়, তাহারা হইবে সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো আর মসজিদুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণ করাকে ঐসব লোকদের কাজের সমান গণ্য করছো, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং জিহাদ করেছে আল্লাহর পথে? আল্লাহর কাছে এরা উভয়ে সমতুল্য নয়। যালিমদের সঠিক পথ দেখান না।
হাজীদের জন্য পানি সরবরাহ এবং মসজিদুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণ করাকে তোমরা কি তাহাদের পুণ্যের সমজ্ঞান কর, যাহারা ও আখিরাতে ঈমান আনে এবং পথে জিহাদ করে? নিকট উহারা সমতুল্য নয়। সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আল্লাহর কাছে তারা শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী এবং তারাই হবে ।
Khalideena feeha abadan inna Allaha AAindahu ajrun AAatheemun
সমকালীন বাংলা
সেখানে তাহারা চিরস্থায়ী হইবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট আছে মহা পুরস্কার।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমাদের বাবা ও ভাইদের অলি (অভিভাবক ও বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করোনা, যদি তারা ঈমানের উপর কুফুরিকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়। তোমাদের মধ্যে যে কেউ তাদের অলি বানাবে তারা যালিম হিসেবে গণ্য হবে।
Ya ayyuha allatheena amanoo la tattakhithoo abaakum waikhwanakum awliyaa ini istahabboo alkufra AAala aleemani waman yatawallahum minkum faolaika humu alththalimoona
সমকালীন বাংলা
হে মু’মিনগণ! তোমাদের পিতা ও ভ্রাতা যদি ঈমানের মুকাবিলায় কুফরীকে শ্রেয় জ্ঞান করে, তবে উহাদেরকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করিও না। তোমাদের মধ্যে যাহারা উহাদেরকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করে, তাহারাই ।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! তাদের বলো: ‘‘যদি তোমাদের কাছে আল্লাহর চাইতে, তাঁর রসূলের চাইতে এবং তাঁর পথে জিহাদের চাইতে বেশি প্রিয় হয় তোমাদের পিতা, সন্তান, ভাই, স্ত্রী, আত্মীয় - স্বজন, তোমাদের উপার্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা - বাণিজ্য যার মন্দাকে তোমরা ভয় পাও এবং তোমাদের প্রিয় বাসস্থান, তবে অপেক্ষা করো আল্লাহর ফায়সালা আসা পর্যন্ত। ফাসিক লোকদের সঠিক পথ দেখান না।’’
Qul in kana abaokum waabnaokum waikhwanukum waazwajukum waAAasheeratukum waamwalun iqtaraftumooha watijaratun takhshawna kasadaha wamasakinu tardawnaha ahabba ilaykum mina Allahi warasoolihi wajihadin fee sabeelihi fatarabbasoo hatta yatiya Allahu biamrihi waAllahu la yahdee alqawma alfasiqeena
সমকালীন বাংলা
বল, ‘তোমাদের নিকট যদি তাঁহার রাসূল এবং পথে জিহাদ করা অপেক্ষা অধিক প্রিয় হয় তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের স্বগোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা - বাণিজ্য - যাহার মন্দা পড়ার আশংকা কর এবং তোমাদের বাসস্থান - যাহা তোমরা ভালবাস, তবে অপেক্ষা কর আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত।’ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের সাহায্য করেছেন বহু জায়গায় এবং হোনায়েনের (যুদ্ধের) দিনও, যখন তোমাদের আনন্দিত করেছিল তোমাদের সংখ্যার আধিক্য। কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এমন কি, ভূ - খন্ড বিস্তৃত থাকা সত্ত্বেও তোমাদের জন্যে সংকীর্ণ হয়ে আসছিল, অত:পর তোমরা পিছু হটে গিয়েছিলে।
তোমাদেরকে তো সাহায্য করিয়াছেন বহু ক্ষেত্রে এবং হুনায়নের যুদ্ধের দিনে যখন তোমাদেরকে উৎফুল্ল করিয়াছিল তোমাদের সংখ্যাধিক্য; কিন্তু উহা তোমাদের কোন কাজে আসে নাই এবং বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী তোমাদের জন্য সংকুচিত হইয়াছিল, পরে তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিয়া পলায়ন করিয়াছিলে।
আবদুস শহীদ নাসিম
অবশেষে তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর রসূল ও মুমিনদের প্রতি নাযিল করেন প্রশান্তি, আরো নাযিল করেন এমন এক বাহিনী, যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। পক্ষান্তরে তিনি কঠিন শাস্তি প্রদান করেন কাফিরদের। এটাই কাফিরদের কর্মের প্রতিদান।
অতঃপর তাঁহার নিকট হইতে তাঁহার রাসূল ও মু’মিনদের উপর প্রশান্তি বর্ষণ করেন এবং এমন এক সৈন্যবাহিনী অবতীর্ণ করেন যাহা তোমরা দেখিতে পাও নাই এবং তিনি কাফিরদেরকে শাস্তি প্রদান করেন; ইহাই কাফিরদের কর্মফল।
আবদুস শহীদ নাসিম
এরপরও যাকে চান তার তওবা কবুল করবেন। পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।
Thumma yatoobu Allahu min baAAdi thalika AAala man yashao waAllahu ghafoorun raheemun
সমকালীন বাংলা
ইহার পরও যাহার প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হইবেন; অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! মুশরিকরা অপবিত্র। সুতরাং এবারের পর তারা যেনো আর মসজিদুল হারামের কাছেও না আসে। তোমরা যদি দারিদ্রের আশংকা করো, তবে চাইলে তাঁর নিজ অনুগ্রহে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।
Ya ayyuha allatheena amanoo innama almushrikoona najasun fala yaqraboo almasjida alharama baAAda AAamihim hatha wain khiftum AAaylatan fasawfa yughneekumu Allahu min fadlihi in shaa inna Allaha AAaleemun hakeemun
সমকালীন বাংলা
হে মু’মিনগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র; সুতরাং এই বৎসরের পর তাহারা যেন মসজিদুল হারামের নিকট না আসে। যদি তোমরা দারিদ্র্যের আশঙ্কা কর তবে আল্লাহর ইচ্ছা করিলে তাঁহার নিজ করুণায় তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করিবেন। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
যাদের প্রতি ইতোপূর্বে কিতাব নাযিল করা হয়েছিল তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনেনা আল্লাহর প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং ও তাঁর রসূল যা কিছু হারাম করেছেন, তা হারাম হিসেবে মানে না, আর সত্য দীনের আনুগত্য অনুসরণ করেনা, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো, যতোক্ষণ পর্যন্ত তারা নত হয়ে নিজেদের হাতে জিযিয়া (নিরাপত্তা কর) না দেবে।
Qatiloo allatheena la yuminoona biAllahi wala bialyawmi alakhiri wala yuharrimoona maharrama Allahu warasooluhu wala yadeenoona deena alhaqqi mina allatheena ootoo alkitaba hatta yuAAtoo aljizyata AAan yadin wahum saghiroona
সমকালীন বাংলা
যাহাদের প্রতি কিতাব অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাদের মধ্যে যাহারা প্রতি ঈমান আনে না, শেষদিনেও নয় এবং ও তাঁহার রাসূল যাহা হারাম করিয়াছেন তাহা হারাম গণ্য করে না এবং সত্য দীন অনুসরণ করে না, তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিবে, যে পর্যন্ত না তাহারা নত হইয়া স্বহস্তে জিযিয়া দেয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
ইহুদিরা বলে, ‘উযায়ের আল্লাহর পুত্র’। নাসারারা বলে : ‘মসিহ্ আল্লাহর পুত্র’। এগুলো তাদের মুখের কথা। এরা তাদের মতোই কথা বলে, যারা ইতোপূর্বে কুফুরি করেছিল। তাদের ধ্বংস করুন! কোন্ দিকে তারা ফিরে যাচ্ছে?
ইয়াহূদীরা বলে, ‘উযায়র আল্লাহর পুত্র’ এবং খ্রিস্টানরা বলে, ‘মসীহ্ আল্লাহর পুত্র।’ উহা তাহাদের মুখের কথা। পূর্বে যাহারা করিয়াছিল উহারা তাহাদের মত কথা বলে। উহাদেরকে ধ্বংস করুন। আর কোন্ দিকে উহাদেরকে ফিরাইয়া দেওয়া হইয়াছে!
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা ছাড়া তাদের পন্ডিত এবং সংসার বিরাগীদেরও রব বানিয়ে নিয়েছে এবং মরিয়মের পুত্র মসিহকেও। অথচ তাদেরকে এক ইলাহ্ (আল্লাহকে) ছাড়া আর কারো ইবাদত করতে আদেশ করা হয়নি। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। তারা যাদেরকে তাঁর শরিক বানায় তিনি তাদের থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।
Ittakhathoo ahbarahum waruhbanahum arbaban min dooni Allahi waalmaseeha ibna maryama wama omiroo illa liyaAAbudoo ilahan wahidan la ilaha illa huwa subhanahu AAamma yushrikoona
সমকালীন বাংলা
তাহারা ব্যতীত তাহাদের পণ্ডিতগণকে ও সংসার - বিরাগিগণকে তাহাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করিয়াছে এবং মারইয়াম - তনয় মসীহ্কেও। কিন্তু উহারা এক ইলাহের ‘ইবাদত করিবার জন্যই আদিষ্ট হইয়াছিল। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই। তাহারা যাহাকে শরীক করে তাহা হইতে তিনি কত পবিত্র!
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায় তাদের মুখের ফুৎকারে। অথচ আর কিছুই চান না তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করা ছাড়া, যদিও কাফিররা তা পছন্দ করেনা।
মুশরিকরা অপ্রীতিকর মনে করিলেও অপর সমস্ত দীনের উপর জয়যুক্ত করিবার জন্য তিনিই পথনির্দেশ ও সত্য দীনসহ তাঁহার রাসূল প্রেরণ করিয়াছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! জেনে রাখো, পাদ্রী ও সংসার বিরাগীদের অনেকেই অন্যায়ভাবে মানুষের মাল সম্পদ গ্রাস করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে। যারা সোনা রূপা (অর্থ সম্পদ) সঞ্চয় করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করেনা, তাদেরকে সংবাদ দাও বেদনাদায়ক আযাবের।
হে মু’মিনগণ! পণ্ডিত এবং সংসার বিরাগীদের মধ্যে অনেকেই লোকের ধন - সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করিয়া থাকে এবং লোককে পথ হইতে নিবৃত্ত করে। আর যাহারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং উহা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না উহাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও।
আবদুস শহীদ নাসিম
যেদিন সেগুলো জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের কপালে, পাঁজরে এবং পিঠে দাগ দেয়া হবে, সেদিন বলা হবে, এ হলো সেই সম্পদ যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমিয়ে রেখেছিলে, এখন স্বাদ গ্রহণ করো তোমাদের সঞ্চয়ের।
Yawma yuhma AAalayha fee nari jahannama fatukwa biha jibahuhum wajunoobuhum wathuhooruhum hatha ma kanaztum lianfusikum fathooqoo ma kuntum taknizoona
সমকালীন বাংলা
যেদিন জাহান্নামের অগ্নিতে উহা উত্তপ্ত করা হইবে এবং উহা দ্বারা তাহাদের ললাট, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেওয়া হইবে সেদিন বলা হইবে, ‘ইহাই উহা যাহা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করিতে। সুতরাং তোমরা যাহা পুঞ্জীভূত করিয়াছিলে তাহা আস্বাদন কর।’
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর কাছে আসমান ও জমিন সৃষ্টির দিন থেকে গণনায় মাস বারোটি। এর মধ্যে চারটি পবিত্র। এটাই প্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এ সময় তোমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করোনা। আর মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই করো, যেভাবে তারা সর্বাত্মক লড়াই করে তোমাদের বিরুদ্ধে। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই মুত্তাকিদের সাথে রয়েছেন।
Inna AAiddata alshshuhoori AAinda Allahi ithna AAashara shahran fee kitabi Allahi yawma khalaqa alssamawati waalarda minha arbaAAatun hurumun thalika alddeenu alqayyimu fala tathlimoo feehinna anfusakum waqatiloo almushrikeena kaffatan kama yuqatiloonakum kaffatan waiAAlamoo anna Allaha maAAa almuttaqeena
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন হইতেই বিধানে আল্লাহর নিকট মাস গণনায় মাস বারটি; তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস, ইহাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং ইহার মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করিও না এবং তোমরা মুশরিকদের সঙ্গে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করিবে, যেমন তাহারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করিয়া থাকে। এবং জানিয়া রাখ, তো মুত্তাকীদের সঙ্গে আছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
মাসকে পিছিয়ে দেয়া মূলত কুফুরিকে বৃদ্ধি করা। এর ফলে বিভ্রান্ত করা হয় কাফিরদের। তারা এটাকে কোনো বছর হালাল করে, আবার কোনো বছর করে হারাম। এতে তাদের উদ্দেশ্য হলো যা হারাম করেছেন সেগুলোকে হালাল করা এবং যেনো যেগুলো হারাম করেছেন সেগুলোর গণনা পূর্ণ করতে পারে। তাদের মন্দ কাজ তাদের কাছে লোভনীয় করে দেয়া হয়েছে। কাফিরদের সঠিক পথ দেখান না।
এই যে মাসকে পিছাইয়া দেওয়া কেবল বৃদ্ধি করা, যাহা দ্বারা কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করা হয়। তাহারা উহাকে কোন বৎসর বৈধ করে এবং কোন বৎসর অবৈধ করে যাহাতে তাহারা যেইগুলিকে নিষিদ্ধ করিয়াছেন, সেইগুলির গণনা পূর্ণ করিতে পারে ; অনন্তর যাহা হারাম করিয়াছেন তাহা হালাল করিতে পারে। তাহাদের মন্দ কাজগুলি তাহাদের জন্য শোভনীয় করা হইয়াছে। সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমাদের কী হলো, তোমাদের যখন আল্লাহর পথে অভিযানে বের হতে বলা হয়, তোমরা জমিনকে আকড়ে ধরে থাকো? তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে রাজি হয়ে গেছো? অথচ আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের ভোগের সামগ্রী একেবারেই তুচ্ছ।
Ya ayyuha allatheena amanoo ma lakum itha qeela lakumu infiroo fee sabeeli Allahi iththaqaltum ila alardi aradeetum bialhayati alddunya mina alakhirati fama mataAAu alhayati alddunya fee alakhirati illa qaleelun
সমকালীন বাংলা
হে মু’মিনগণ! তোমাদের কী হইল যে, তোমাদেরকে যখন পথে অভিযানে বাহির হইতে বলা হয় তখন তোমরা ভারাক্রান্ত হইয়া ভূতলে ঝুঁকিয়া পড়? তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে পার্থিব জীবনে পরিতুষ্ট হইয়াছ? আখিরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনের ভোগের উপকরণ তো অকিঞ্চিৎকর!
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যদি অভিযানে বের না হও, তোমাদের তিনি আযাব দেবেন এক বেদনাদায়ক আযাব। আর তোমাদের বদলে অপর কোনো লোকদের নিয়ে আসবেন এবং তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারবেনা। প্রতিটি বিষয়ে শক্তিমান।
যদি তোমরা অভিযানে বাহির না হও, তবে তিনি তোমাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তিদিবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করিবেন এবং তোমরা তাঁহার কোনই ক্ষতি করিতে পারিবে না। সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যদি তাকে (নবীকে) সাহায্য না করো, তবে জেনে রাখো, ইতোপূর্বেও আল্লাহই তাকে সাহায্য করেছেন, যখন কাফিররা তাকে বের করে দিয়েছিল এবং সে ছিলো দুইজনের দ্বিতীয় জন। যখন তারা দু’জনেই গুহার মধ্যে ছিলো এবং সে তার সাথিকে বলেছিল, ‘চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আমাদের সাথে আছেন।’ ফলে তার উপর নাযিল করলেন নিজের প্রশান্তি এবং তাকে সাহায্য করলেন এমন একটি সৈন্যবাহিনী দিয়ে যাদের তোমরা দেখোনি। এর মাধ্যমে তিনি কাফিরদের কথা হেয় করে দিলেন আর উপরে উঠিয়ে দিলেন আল্লাহর বাণীকে। পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।
যদি তোমরা তাহাকে সাহায্য না কর, তবেআল্লাহ্ তো তাহাকে সাহায্য করিয়াছিলেন যখন কাফিররা তাহাকে বহিষ্কার করিয়াছিল এবং সে ছিল দুইজনের দ্বিতীয় জন, যখন তাহারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিল ; সে তখন তাহার সঙ্গীকে বলিয়াছিল, ‘বিষন্ন হইও না, তো আমাদের সঙ্গে আছেন।’ অতঃপর তাঁহার উপর তাঁহার প্রশান্তিবর্ষণ করেন এবং তাহাকে শক্তিশালী করেন এমন এক সৈন্যবাহিনী দ্বারা যাহা তোমরা দেখ নাই; এবং তিনি কাফিরদের কথা হেয় করেন। আল্লাহর কথাই সর্বোপরি এবং পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা অভিযানে বেরিয়ে পড়ো হালকা অবস্থায় এবং ভারি অবস্থায় আর আল্লাহর পথে জিহাদ করো তোমাদের মাল ও জান দিয়ে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা জানতে!
অভিযানে বাহির হইয়া পড়, হালকা অবস্থায় হউক অথবা ভারি অবস্থায়, এবং সংগ্রাম কর আল্লাহর পথে তোমাদের সম্পদ ও জীবন দ্বারা। উহাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা জানিতে !
আবদুস শহীদ নাসিম
যদি সম্পদ লাভের আশু সম্ভাবনা থাকতো আর সফর যদি হতো সহজ, তাহলে অবশ্যি তারা তোমার অনুসরণ করতো। কিন্তু তাদের কাছে দীর্ঘ পথের যাত্রা কষ্টকর মনে হলো। তারা অচিরেই আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, ‘সামর্থ থাকলে অবশ্যি আমরা আপনাদের সাথে বের হতাম।’ তারা নিজেদেরই ধ্বংস করছে। জানেন তারা মিথ্যাবাদী।
AAafa Allahu AAanka lima athinta lahum hatta yatabayyana laka allatheena sadaqoo wataAAlama alkathibeena
সমকালীন বাংলা
তোমাকে ক্ষমা করিয়াছেন। কাহারা সত্যবাদী তাহা তোমার নিকট স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এবং কাহারা মিথ্যাবাদী তাহা না পর্যন্ত তুমি কেন উহাদেরকে অব্যাহতি দিলে?
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, তারা নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদে যাবার ব্যাপারে তোমার কাছে অব্যাহতি চায়না। মুত্তাকিদের সম্পর্কে অবহিত।
তোমার নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা করে কেবল উহারাই যাহারা ও শেষ দিবসে ঈমান আনে না এবং যাহাদের চিত্ত সংশয়যুক্ত। উহারা তো আপন সংশয়ে দ্বিধাগ্রস্ত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা যদি বের হতে চাইতোই, তাহলে তারা অবশ্যি এর জন্যে প্রস্ত্ততি নিতো। কিন্তু তাদের (মুনাফিকদের) যুদ্ধ যাত্রা আল্লাহই অপছন্দ করেছেন। ফলে তিনি তাদের বিরত রেখেছেন এবং তাদের বলা হয়েছে, ‘বসে থাকাদের সাথে তোমরাও বসে থাকো।’
উহারা বাহির হইতে চাহিলে উহারা নিশ্চয়ই ইহার জন্য প্রস্তুতির ব্যবস্থা করিত, কিন্তু উহাদের অভিযাত্রা আল্লাহর মনঃ পূত ছিল না। সুতরাং তিনি উহাদেরকে বিরত রাখেন এবং উহাদেরকে বলা হয়, ‘যাহারা বসিয়া আছে তাহাদের সঙ্গে বসিয়া থাক।’ বলা হয়, ‘যাহারা বসিয়া আছে তাহাদের সঙ্গে বসিয়া থাক।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা যদি যুদ্ধে বের হতো এবং তোমাদের সাথে থাকতো, তাহলে তোমাদের মধ্যে তারা কেবল বিভ্রান্তি বাড়াতো এবং তোমাদের মাঝে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের মধ্যেই কেবল ছুটাছুটি করতো। তোমাদের মধ্যেও তাদের কথা শুনার কিছু লোক আছে। যালিমদের ভালোভাবেই জানেন।
Law kharajoo feekum ma zadookum illa khabalan walaawdaAAoo khilalakum yabghoonakumu alfitnata wafeekum sammaAAoona lahum waAllahu AAaleemun bialththalimeena
সমকালীন বাংলা
উহারা তোমাদের সঙ্গে বাহির হইলে তোমাদের বিভ্রান্তিই বৃদ্ধি করিত এবং তোমাদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের মধ্যে ছুটাছুটি করিত। তোমাদের মধ্যে উহাদের জন্য কথা উহারা তোমাদের সঙ্গে বাহির হইলে তোমাদের বিভ্রান্তিই বৃদ্ধি করিত এবং তোমাদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের মধ্যে ছুটাছুটি করিত। তোমাদের মধ্যে উহাদের জন্য কথা শুনিবার লোক আছে। জালিমদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।
আবদুস শহীদ নাসিম
এর আগেও তারা ফিতনা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল এবং তোমার অনেক কাজ ওলট - পালট করে দিতে চেয়েছিল, যতোক্ষণ না তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সত্য এসেছে এবং আল্লাহর আদেশ বিজয়ী হয়েছে।
Laqadi ibtaghawoo alfitnata min qablu waqallaboo laka alomoora hatta jaa alhaqqu wathahara amru Allahi wahum karihoona
সমকালীন বাংলা
পূর্বেও উহারা ফিত্না সৃষ্টি করিতে চাহিয়াছিল এবং উহারা তোমার বহু কর্মে উলট - পালট করিয়াছিল যতক্ষণ না উহাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সত্য আসিল এবং আল্লাহর আদেশ বিজয়ী হইল।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে বলে, ‘আমাকে অব্যাহতি দিন আমাকে ফিতনায় ফেলবেন না।’ সাবধান, তারা আসলে ফিতনার মধ্যেই পড়ে আছে। অবশ্যি জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করবে।
Waminhum man yaqoolu ithan lee wala taftinnee ala fee alfitnati saqatoo wainna jahannama lamuheetatun bialkafireena
সমকালীন বাংলা
এবং উহাদের মধ্যে এমন লোক আছে যে বলে, ‘আমাকে অব্যাহতি দাও এবং আমাকে ফিত্নায় ফেলিও না।’ সাবধান! উহারাই ফিতনাতে পড়িয়া আছে। জাহান্নাম তো কাফিরদেরকে বেষ্টন করিয়াই আছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার কোনো কল্যাণ হলে তাদের মনে কষ্ট লাগে। আবার তোমার কোনো মসিবত ঘটলে তারা বলে, ‘আমরা আগেই নিজেদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেছিলাম’ এবং তারা উৎফুল্ল হয়ে কেটে পড়ে।
Qul lan yuseebana illa ma kataba Allahu lana huwa mawlana waAAala Allahi falyatawakkali almuminoona
সমকালীন বাংলা
বল, ‘আমাদের জন্য যাহা নির্দিষ্ট করিয়াছেন তাহা ব্যতীত আমাদের অন্য কিছু হইবে না; তিনি আমাদের কর্মবিধায়ক এবং আল্লাহর উপরই মু’মিনদের নির্ভর করা উচিত।’
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো : ‘তোমরা কি আমাদের দুইটি কল্যাণের একটির জন্যে অপেক্ষা করছো? অথচ আমরা অপেক্ষা করছি যেনো তাঁর পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হাতে তোমাদের শাস্তি দেন। ব্যাস্, অপেক্ষা করো, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকবো।’
Qul hal tarabbasoona bina illa ihda alhusnayayni wanahnu natarabbasu bikum an yuseebakumu Allahu biAAathabin min AAindihi aw biaydeena fatarabbasoo inna maAAakum mutarabbisoona
সমকালীন বাংলা
বল, ‘তোমরা আমাদের দুইটি মঙ্গলের একটির প্রতীক্ষা করিতেছ এবং আমরা প্রতীক্ষা করিতেছি, তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন সরাসরি নিজ পক্ষ হইতে অথবা আমাদের হস্ত দ্বারা। অতএব তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষা করিতেছি।
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো : ‘তোমরা ইচ্ছায় ব্যয় (দান) করো কিংবা অনিচ্ছায়, তোমাদের থেকে তা কখনো কবুল করা হবেনা। কারণ তোমরা সত্যত্যাগী ফাসিক গোষ্ঠী।’
Qul anfiqoo tawAAan aw karhan lan yutaqabbala minkum innakum kuntum qawman fasiqeena
সমকালীন বাংলা
বল, ‘তোমরা স্বেচ্ছায় ব্যয় কর অথবা অনিচ্ছায়, তোমাদের নিকট হইতে তাহা কিছুতেই গৃহীত হইবে না ; তোমরা তো সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের অর্থ সাহায্য গ্রহণ করতে নিষেধ করার কারণ হলো, তারা কুফুরি করেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর রসূলের প্রতি এবং আলসেমি ছাড়া তারা সালাতে আসেনা, আর অনিচ্ছাকৃত ছাড়া দান করেনা।
Wama manaAAahum an tuqbala minhum nafaqatuhum illa annahum kafaroo biAllahi wabirasoolihi wala yatoona alssalata illa wahum kusala wala yunfiqoona illa wahum karihoona
সমকালীন বাংলা
উহাদের অর্থসাহায্য গ্রহণ করা নিষেধ করা হইয়াছে এইজন্য যে, উহারা ও তাঁহার রাসূলকে অস্বীকার করে, সালাতে শৈথিল্যের সঙ্গে উপস্থিত হয় এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে অর্থ সাহায্য করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মাল - সম্পদ এবং সন্তান - সন্ততি যেনো তোমাকে তাজ্জব না করে। এগুলো দিয়ে দুনিয়ার জীবনেই তাদের শাস্তি দিতে চান। তারা থাকা অবস্থায়ই তাদের আত্মা দেহত্যাগ করবে।
সুতরাং উহাদের সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি তোমাকে যেন বিমুগ্ধ না করে, তো উহার দ্বারাই উহাদেরকে পার্থিব জীবনে শাস্তিদিতে চান। উহারা থাকা অবস্থায় উহাদের আত্বারদেহ ত্যাগ করিবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা হলফ করে বলে, তারা তোমাদেরই লোক। আসলে তারা তোমাদের লোক নয়, বরং তারা ভীরু কাপুরুষ।
Law yajidoona maljaan aw magharatin aw muddakhalan lawallaw ilayhi wahum yajmahoona
সমকালীন বাংলা
উহারা কোন আশ্রয়স্থল, কোন গিরিগুহা অথবা কোন প্রবেশস্থল পাইলে উহার দিকে পলায়ন করিবে ক্ষিপ্রগতিতে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা সাদাকা বন্টনের ব্যাপারে তোমাকে দোষারোপ করে। অত:পর সেখান থেকে তাদের কিছু দিলে তুষ্ট হয়ে যায়, আর সেখান থেকে কিছু না দিলে সাথে সাথে বিক্ষুব্ধ হয়ে যায়।
উহাদের মধ্যে এমন লোক আছে, যে সাদাকা বণ্টন সম্পর্কে তোমাকে দোষারোপ করে ; অতঃপর ইহার কিছু উহাদেরকে দেওয়া হইলে উহারা পরিতুষ্ট হয়, আর ইহার কিছু উহাদেরকে না দেওয়া হইলে তৎক্ষণাৎ উহারা বিক্ষুব্ধ হয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
ভালো হতো, এবং আল্লাহর রসূল তাদের যা দিয়েছেন তাতেই যদি তারা সন্তুষ্ট থাকতো এবং বলতো: ‘আল্লাহই আমাদের জন্যে যথেষ্ট, অচিরেই আমাদের দেবেন তাঁর অনুগ্রহ থেকে এবং তাঁর রসূলও। আমরা আল্লাহর প্রতি অনুরাগী।’
Walaw annahum radoo maatahumu Allahu warasooluhu waqaloo hasbuna Allahu sayuteena Allahu min fadlihi warasooluhu inna ila Allahi raghiboona
সমকালীন বাংলা
ভাল হইত যদি উহারা ও তাঁহার রাসূল উহাদেরকে যাহা দিয়াছেন তাহাতে পরিতুষ্ট হইত এবং বলিত, আমাদের জন্য যথেষ্ট, অচিরেই আমাদেরকে দিবেন নিজ করুণায় এবং তাঁহার রাসূলও; আমরা আল্লাহরই প্রতি অনুরক্ত।
আবদুস শহীদ নাসিম
সাদাকা (যাকাত) পাবে ফকিররা (নিঃস্ব লোকেরা), মিসকিনরা (অভাবীরা), যাকাত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা, যাদের মনজয় করা উদ্দেশ্য তারা, দাসমুক্তির জন্যে, ঋণ ভারাক্রান্ত - দেউলিয়ারা, আল্লাহর পথে এবং পথিকরা। এটা আল্লাহর দেয়া বিধান। জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান।
সাদাকা তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্তও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাহাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাহাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণ ভারাক্রান্তদের, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য। ইহা আল্লাহর বিধান। সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা নবীকে কষ্ট দেয় এবং বলে, ‘তিনি তো কর্ণপাতকারী।’ হে নবী! বলো, ‘তার কান তোমাদের জন্য কল্যাণকর, তাই শুনে। সে তো আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এবং মুমিনদেরকে বিশ্বাস করে। তোমাদের মধ্যে যারা সে তাদের জন্যে রহমত।’ যারা আল্লাহর রসূলকে কষ্ট দেয় তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
এবং উহাদের মধ্যে এমনও লোক আছে যাহারা নবীকে ক্লেশ দেয় এবং বলে, ‘সে তো কর্ণপাতকারী।’ বল, ‘তাহার কান তোমাদের জন্য যাহা মঙ্গল তাহাই শুনে।’ সে ঈমান আনে এবং মু’মিনদেরকে বিশ্বাস করে ; তোমাদের মধ্যে যাহারা সে তাহাদের জন্য রহমত এবং যাহারা আল্লাহর রাসূলকে ক্লেশ দেয় তাহাদের জন্য আছে মর্মন্তুদ শাস্তি।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা তোমাদের সন্তুষ্ট করার জন্যে তোমাদের কাছে আল্লাহর নাম নিয়ে হলফ করে। সন্তুষ্ট করার জন্যে তো এবং তাঁর রসূলই অধিক হকদার যদি তারা হয়ে থাকে।
Alam yaAAlamoo annahu man yuhadidi Allaha warasoolahu faanna lahu nara jahannama khalidan feehathalika alkhizyu alAAatheemu
সমকালীন বাংলা
উহারা কি জানে না, যে ব্যক্তি ও তাঁহার রাসূলের বিরোধিতা করে তাহার জন্য তো আছে জাহান্নামের অগ্নি, যেখানে সে স্থায়ী হইবে? উহাই চরম লাঞ্ছনা।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুনাফিকরা ভয় পায়, তাদের সম্পর্কে কোনো সূরা নাযিল না হয়, যাতে তাদের মনের খবর প্রকাশ করা হবে। হে নবী! বলো, বিদ্রুপ করতে থাকো। তোমরা যা ভয় পাচ্ছো, তা প্রকাশ করেই ছাড়বেন।
Yahtharu almunafiqoona an tunazzala AAalayhim sooratun tunabbiohum bima fee quloobihim quli istahzioo inna Allaha mukhrijun ma tahtharoona
সমকালীন বাংলা
মুনাফিকেরা ভয় করে, তাহাদের সম্পর্কে এমন এক সূরা না অবতীর্ণ হয়, যাহা উহাদের অন্তরের কথা ব্যক্ত করিয়া দিবে ! বল, ‘বিদ্রুপ করিতে থাক ; তোমরা যাহা ভয় কর তাহা প্রকাশ করিয়া দিবেন।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা অবশ্যি বলবে, ‘আমরা তো খেল তামাশা করছিলাম।’ বলো, ‘তোমরা কি আল্লাহর পথে, আল্লাহর আয়াতের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে বিদ্রুপ করছিলে?
La taAAtathiroo qad kafartum baAAda eemanikum in naAAfu AAan taifatin minkum nuAAaththib taifatan biannahum kanoo mujrimeena
সমকালীন বাংলা
‘তোমরা দোষ স্খালনের চেষ্টা করিও না। তোমরা তো ঈমান আনার পর করিয়াছ। তোমাদের মধ্যে কোন দলকে ক্ষমা করিলেও অন্য দলকে শাস্তি দিব - কারণ তাহারা অপরাধী।’
আবদুস শহীদ নাসিম
মুনাফিক পুরুষ আর মুনাফিক নারী তারা একজন আরেকজনের দোসর। তারা মন্দ কাজের আদেশ করে, ভালো কাজে নিষেধ করে এবং (দান করা থেকে) তাদের হাত গুটিয়ে রাখে। তারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে তিনিও তাদের উপেক্ষা করে আছেন। নিশ্চয়ই মুনাফিকরা ফাসিক - পাপাচারী।
Almunafiqoona waalmunafiqatu baAAduhum min baAAdin yamuroona bialmunkari wayanhawna AAani almaAAroofi wayaqbidoona aydiyahum nasoo Allaha fanasiyahum inna almunafiqeena humu alfasiqoona
সমকালীন বাংলা
মুনাফিক নর ও মুনাফিক নারী একে অপরের অনুরূপ, উহারা অসৎকর্মের নির্দেশ দেয় এবং সৎকর্ম নিষেধ করে, উহারা হাতবদ্ধ করিয়া রাখে, উহারা কে বিস্মৃত হইয়াছে, ফলে তিনিও উহাদেরকে বিস্মৃত হইয়াছেন; মুনাফিকেরা তো পাপাচারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী আর কাফিরদের ওয়াদা দিয়েছেন জাহান্নামের আগুনের, সেখানেই তারা থাকবে চিরকাল। সেটাই তাদের জন্যে যথেষ্ট। তাদের লানত দিয়েছেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আযাব।
মুনাফিক নর, মুনাফিক নারী ও কাফিরদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন জাহান্নামের অগ্নিবর, যেখানে উহারা স্থায়ী হইবে, ইহাই উহাদের জন্য যথেষ্ট এবং উহাদেরকে লা‘নত করিয়াছেন এবং উহাদের জন্য রহিয়াছে স্থায়ী শাস্তি।
আবদুস শহীদ নাসিম
(হে মুনাফিকরা!) তোমাদের অবস্থা তোমাদের আগেকার (মুনাফিকদের) মতোই। তবে তারা ছিলো তোমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী আর তাদের ধন - সম্পদ এবং সন্তান - সন্তুতিও ছিলো তোমাদের চাইতে বেশি। তাদের ভাগ্যে যা ছিলো তারা তা ভোগ করেছে। আর তোমাদের ভাগ্যে যা ছিলো তোমরাও তা ভোগ করলে যেমন - তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের ভাগ্যে যা ছিলো তা ভোগ করেছে। তারা যেমন বাহুল্য কথা - বার্তায় লিপ্ত থাকতো, তোমরাও সে রকম বাহুল্য কথা - বার্তায় লিপ্ত রয়েছো। এরাই সেইসব লোক, দুনিয়া ও আখিরাতে যাদের সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। আর এরাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত।
তোমরাও তোমাদের পূর্ববর্তীদের মত যাহারা শক্তিতে তোমাদের অপেক্ষা প্রবল ছিল এবং যাহাদের ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি ছিল তোমাদের অপেক্ষা অধিক, এবং উহারা উহাদের ভাগ্যে যাহা ছিল তাহা ভোগ করিয়াছে ; তোমাদের ভাগ্যে যাহা ছিল তোমরাও তাহা ভোগ করিলে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীরা উহাদের ভাগ্যে যাহা ছিল তাহা ভোগ করিয়াছে। উহারা যেইরূপ অনর্থক আলাপ - আলোচনায় লিপ্ত ছিল তোমরাও সেইরূপ আলাপ - আলোচনায় লিপ্ত রহিয়াছ। উহারাই তাহারা যাহাদের কর্ম দুনিয়া ও আখিরাতে ব্যর্থ এবং উহারাই ক্ষতিগ্রস্ত
আবদুস শহীদ নাসিম
এদের কাছে কি তাদের পূর্ববর্তী লোকদের খবর পৌঁছেনি? নূহ, আদ ও সামুদ জাতির, ইবরাহিমের কওম, মাদায়েনবাসী আর বিধ্বস্ত জাতির সংবাদ কি তাদের কাছে আসেনি? তাদের রসূলরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ এসেছিল। তাদের প্রতি যুলুম করা আল্লাহর নীতি নয়, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল।
Alam yatihim nabao allatheena min qablihim qawmi noohin waAAadin wathamooda waqawmi ibraheema waashabi madyana waalmutafikati atathum rusuluhum bialbayyinati fama kana Allahu liyathlimahum walakin kanoo anfusahum yathlimoona
সমকালীন বাংলা
উহাদের পূর্ববর্তী নূহ্, ‘আদ ও সামূদের সম্প্রদায়, ইব্রাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদ্ইয়ান ও বিধ্বস্ত নগরের অধিবাসীদের সংবাদ কি উহাদের নিকট আসে নাই? উহাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসহ উহাদের রাসূলগণ আসিয়াছিল। এমন নন যে, তাহাদের উপর জুলুম করেন, কিন্তু উহারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
পুরুষ আর নারী পরস্পরের অলি (বন্ধু, অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষক)। তারা ভালো কাজে আদেশ করে, মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে, কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে। এরাই সেইসব লোক, যাদের প্রতি অচিরেই রহম করবেন। নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী বিজ্ঞানময়।
নর ও নারী একে অপরের বন্ধু, ইহারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজ নিষেধ করে, কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং ও তাঁহার রাসূলের আনুগত্য করে; ইহাদেরকেই কৃপা করিবেন। নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
পুরুষ ও নারীদের ওয়াদা দিয়েছেন সেই জান্নাতের, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। সেই চিরস্থায়ী জান্নাতে থাকবে মনোরম বাসস্থান। আর তাদের জন্যে সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার থাকবে আল্লাহর রেজামন্দি। এটাই প্রকৃতপক্ষে মহাসাফল্য।
হে নবী ! ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর ও উহাদের প্রতি কঠোর হও; উহাদের আবাসস্থল জাহান্নাম, উহা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল!
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা আল্লাহর নামে হলফ করে বলে, তারা কিছু বলেনি। অথচ তারা কুফুরি কালাম উচ্চারণ করেছে এবং ইসলামে প্রবেশ করার পর কুফুরি করেছে। তারা এমন জিনিসের সংকল্প করেছিল যা তারা পায়নি। তাঁর অনুগ্রহে এবং তাঁর রসূল তাদেরকে অভাবমুক্ত করেছেন বলেই তারা বিরোধিতা করছে। এখন যদি তারা তওবা করে, এটাই হবে তাদের জন্যে উত্তম। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের আযাব দেবেন এক বেদনাদায়ক আযাব দুনিয়া ও আখিরাতে। আর পৃথিবীতে তাদের কোনো বন্ধু ও সাহায্যকারী থাকবে না।
Yahlifoona biAllahi ma qaloo walaqad qaloo kalimata alkufri wakafaroo baAAda islamihim wahammoo bima lam yanaloo wama naqamoo illa an aghnahumu Allahu warasooluhu min fadlihi fain yatooboo yaku khayran lahum wain yatawallaw yuAAaththibhumu Allahu AAathaban aleeman fee alddunya waalakhirati wama lahum fee alardi min waliyyin wala naseerin
সমকালীন বাংলা
উহারা আল্লাহর শপথ করে যে, উহারা কিছু বলে নাই ; কিন্তু উহারা তো কুফরীর কথা বলিয়াছে এবং ইসলাম গ্রহণের পর উহারা হইয়াছে ; উহারা যাহা সংকল্প করিয়াছিল তাহা পায় নাই। ও তাঁহার রাসূল নিজ কৃপায় উহাদেরকে অভাবমুক্ত করিয়াছিলেন বলিয়াই উহারা বিরোধিতা করিয়াছিল। উহারা তওবা করিলে উহাদের জন্য ভাল হইবে, কিন্তু উহারা মুখ ফিরাইয়া লইলে দুনিয়ায় ও আখিরাতে উহাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দিবেন; পৃথিবীতে উহাদের কোন অভিাভাবক নাই এবং কোন সাহায্যকারীও নাই।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর কাছে এই অঙ্গীকার করেছিল: ‘ যদি তাঁর অনুগ্রহ থেকে আমাদের দান করেন, তবে অবশ্যি আমরা সাদাকা দেবো এবং সৎকর্মশীলদের অন্তরভুক্ত হয়ে যাবো।’
Falammaatahum min fadlihi bakhiloo bihi watawallaw wahum muAAridoona
সমকালীন বাংলা
অতঃপর যখন তিনি নিজ কৃপায় উহাদেরকে দান করিলেন, তখন উহারা এই বিষয়ে কার্পণ্য করিল এবং বিরুদ্ধভাবাপন্ন হইয়া মুখ ফিরাইল।
আবদুস শহীদ নাসিম
ফলে তিনি তাদের অন্তরে মুনাফিকি স্থায়ী করে দিলেন তাঁর সাথে তাদের সাক্ষাত হবার দিন পর্যন্ত। কারণ তারা আল্লাহকে দেয়া তাদের ওয়াদা খেলাফ করেছে এবং মিথ্যাচার করেছে।
FaaAAqabahum nifaqan fee quloobihim ila yawmi yalqawnahu bima akhlafoo Allaha ma waAAadoohu wabima kanoo yakthiboona
সমকালীন বাংলা
পরিণামে তিনি উহাদের অন্তরে কপটতা স্থিত করিলেন, সঙ্গে উহাদের সাক্ষাৎ - দিবস পর্যন্ত, কারণ উহারা আল্লাহর নিকট যে অঙ্গীকার করিয়াছিল উহা ভঙ্গ করিয়াছিল; কারণ উহারা ছিল মিথ্যাচারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি জানেনা, তাদের মনের গোপন কথা এবং গোপন পরামর্শ অবগত আছেন এবং অবশ্যি জান্তা?
Alam yaAAlamoo anna Allaha yaAAlamu sirrahum wanajwahum waanna Allaha AAallamu alghuyoobi
সমকালীন বাংলা
উহারা কি জানিত না যে, উহাদের অন্তরের গোপন কথা ও উহাদের গোপন পরামর্শ অবশ্যই জানেন এবং যাহা তাহাও তিনি বিশেষভাবে জানেন?
আবদুস শহীদ নাসিম
মুমিনদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে সাদাকা (দান ও যাকাত) দেয়, আর যারা শ্রম খাটানো ছাড়া কিছুই পায়না, তাদেরকে যারা দোষারোপ ও বিদ্রুপ করে, তাদেরকেও বিদ্রুপ করেন আর তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
Allatheena yalmizoona almuttawwiAAeena mina almumineena fee alssadaqati waallatheena la yajidoona illa juhdahum fayaskharoona minhum sakhira Allahu minhum walahum AAathabun aleemun
সমকালীন বাংলা
মু’মিনদের মধ্যে যাহারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাদাকা দেয় এবং যাহারা নিজ শ্রম ব্যতিরেকে কিছুই পায় না, তাহাদেরকে যাহারা দোষারোপ করে ও বিদ্রুপ করে, উহাদেরকে বিদ্রুপ করেন, উহাদের জন্য আছে মর্মন্তুদ শাস্তি।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করো, কিংবা তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা না - ই করো, একই কথা। তুমি তাদের জন্যে সত্তরবার ক্ষমা প্রার্থনা করলেও তাদের কখনো ক্ষমা করবেন না। কারণ তারা আল্লাহর এবং তাঁর রসূলের প্রতি কুফুরি করেছে। ফাসিক - পাপাচারী লোকদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।
Istaghfir lahum aw la tastaghfir lahum in tastaghfir lahum sabAAeena marratan falan yaghfira Allahu lahum thalika biannahum kafaroo biAllahi warasoolihi waAllahu la yahdee alqawma alfasiqeena
সমকালীন বাংলা
তুমি উহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা উহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না কর একই কথা; তুমি সত্তর বার উহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিলেও উহাদেরকে কখনই ক্ষমা করিবেন না। ইহা এইজন্য যে, উহারা ও তাঁহার রাসূলের সঙ্গে করিয়াছে। পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা পেছনে রয়ে গেছে তারা আল্লাহর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে ঘরে বসে থাকার মধ্যেই আনন্দবোধ করে এবং নিজেদের মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করাকে অপছন্দ করে। তারা (তবুক যাত্রার প্রাক্কালে) বলেছিল : ‘গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়োনা।’ তাদের বলো, ‘জাহান্নামের আগুন এর চাইতেও অনেক বেশি গরম’, যদি তারা বুঝতো!
Fariha almukhallafoona bimaqAAadihim khilafa rasooli Allahi wakarihoo an yujahidoo biamwalihim waanfusihim fee sabeeli Allahi waqaloo la tanfiroo fee alharri qul naru jahannama ashaddu harran law kanoo yafqahoona
সমকালীন বাংলা
যাহারা পশ্চাতে রহিয়া গেল তাহারা রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করিয়া বসিয়া থাকাতেই আনন্দবোধ করিল এবং তাহাদের ধন - সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করা অপছন্দকরিল এবং তাহারা বলিল, ‘গরমের মধ্যে অভিযানে বাহির হইও না।’ বল, ‘উত্তাপে জাহান্নামের আগুন প্রচণ্ডতম’, যদি তাহারা বুঝিত!
আবদুস শহীদ নাসিম
সুতরাং তারা কিছুটা হেসে নিক, তারা তো প্রচুর কাঁদবে তাদের কৃতকর্মের কারণে।
যদি তোমাকে তাদের কোনো দলের কাছে ফেরত আনেন এবং তারা যদি তোমার কাছে বের হবার জন্যে অনুমতি প্রার্থনা করে, তুমি তাদের বলবে : ‘তোমরা আমার সাথে কখনো বের হবেনা এবং আমার সাথি হয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে কখনো যুদ্ধ করবে না। তোমরা তো প্রথমবার বসে থাকাকেই পছন্দ করেছিলে, সুতরাং বসে থাকো পেছনে পড়ে থাকাদের সাথে।’
যদি তোমাকে উহাদের কোন দলের নিকট ফেরত আনেন এবং উহারা অভিযানে বাহির হইবার জন্য তোমার অনুমতি প্রার্থনা করে, তখন তুমি বলিবে, ‘তোমরা তো আমার সঙ্গে কখনও বাহির হইবে না এবং তোমরা আমার সঙ্গী হইয়া কখনও শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করিবে না। তোমরা তো প্রমবার বসিয়া থাকাই পছন্দকরিয়াছিলে ; সুতরাং যাহারা পিছনে থাকে তাহাদের সঙ্গে বসিয়াই থাক।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের কেউ মরলে তুমি তার জন্যে (জানাযার) আদায় করবে না এবং তার কবরেও দাঁড়াবে না। তারা তো কুফুরি করেছে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি, আর তাদের মরণ হয়েছে ফাসিক - পাপিষ্ঠ অবস্থায়।
উহাদের মধ্যে কাহারও মৃত্যু হইলে তুমি কখনও উহার জন্য জানাযার পড়িবে না এবং উহার কবর - পার্শ্বে দাঁড়াইবে না ; উহারা তো ও তাঁহার রাসূলকে অস্বীকার করিয়াছিল এবং পাপাচারী অবস্থায় উহাদের মৃত্যু হইয়াছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের ধন - মাল আর আওলাদ সংখ্যা যেনো তোমাকে মুগ্ধ না করে। তো এর মাধ্যমে তাদেরকে দুনিয়ায় শাস্তি দিতে চান। তারা থাকা অবস্থায়ই তাদের আত্মা দেহ ত্যাগ করবে।
সুতরাং উহাদের সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি তোমাকে যেন বিমুগ্ধ না করে; তো উহার দ্বারাই উহাদেরকে পার্থিব জীবনে শাস্তি দিতে চান ; উহারা থাকা অবস্থায় উহাদের আত্বারদেহত্যাগ করিবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যখন আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার এবং তাঁর রসূলের সাথি হয়ে জিহাদ করার নির্দেশ নিয়ে কোনো সূরা নাযিল হয়, তখন তাদের (মুনাফিকদের) মধ্যে যাদের শক্তি - সামর্থ আছে, তারা তোমার কাছে এসে (যুদ্ধে যাওয়া থেকে) অব্যাহতি চায়। তারা বলে, ‘আমাদের অব্যাহতি দিন, যারা (যুদ্ধে না গিয়ে) বসে থাকে আমরা তাদের সাথেই থাকবো।’
আল্লাহর উপর ঈমান আন এবং রাসূলের সঙ্গী হইয়া জিহাদ কর’ - এই মর্মে যখন কোন সূরা অবতীর্ণ হয় তখন উহাদের মধ্যে যাহাদের শক্তি - সামর্থ্য আছে তাহারা তোমার নিকট অব্যাহতি চায় এবং বলে, ‘আমাদেরকে রেহাই দাও, যাহারা বসিয়া থাকে আমরা তাহাদের সঙ্গেই থাকিব।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা ঘরবাসিনীদের সাথে অবস্থান করাকেই পছন্দ করেছে এবং তাদের অন্তরে সীল মোহর মেরে দেয়া হয়েছে, ফলে তারা (সত্যকে) বুঝতে পারেনা।
উহাদের জন্য প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছেন জান্নাত, যাহার নিম্নদেশেনদী প্রবাহিত, যেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে; ইহাই মহাসাফল্য।
আবদুস শহীদ নাসিম
বেদুঈনদের মধ্যে কিছু লোক এসেছিল যেনো তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়, আর যারা পেছনে বসেছিল তারা ও তাঁর রসূলের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। তাদের মধ্যে যারা কুফুরি করেছে, অচিরেই তাদের স্পর্শ করবে বেদনাদায়ক আযাব।
Wajaa almuAAaththiroona mina alaAArabi liyuthana lahum waqaAAada allatheena kathaboo Allaha warasoolahu sayuseebu allatheena kafaroo minhum AAathabun aleemun
সমকালীন বাংলা
মরুবাসীদের মধ্যে কিছু লোক অজুহাত পেশ করিতে আসিল যেন ইহাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং যাহারা বসিয়া রহিল তাহারা ও তাঁহার রাসূলের সঙ্গে মিথ্যা বলিয়াছিল, উহাদের মধ্যে যাহারা করিয়াছে তাহাদের মর্মন্তুদ শাস্তি হইবেই।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা দুর্বল, যারা রোগাক্রান্ত এবং যারা অর্থ খরচে অসমর্থ (যুদ্ধে না গেলে) তাদের কোনো দোষ হবেনা যদি তারা হয়ে থাকে ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বস্ত ও আন্তরিক। যারা কল্যাণকামী তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো কারণ নেই। তো অতীব ক্ষমাশীল, দয়াময়।
Laysa AAala aldduAAafai wala AAala almarda wala AAala allatheena la yajidoona ma yunfiqoona harajun itha nasahoo lillahi warasoolihi ma AAala almuhsineena min sabeelin waAllahu ghafoorun raheemun
সমকালীন বাংলা
যাহারা দুর্বল, যাহারা পীড়িত এবং যাহারা অর্থসাহায্যে অসমর্থ, তাহাদের কোন অপরাধ নাই, যদি ও রাসূলের প্রতি তাহাদের অবিমিশ্র অনুরাগ থাকে। যাহারা সৎকর্মপরায়ণ তাহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন হেতু নাই। ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদেরও কোনো দোষ হবেনা, যারা যুদ্ধে যাবার জন্যে এসেছিল আর তুমি তাদের বলেছিলে, ‘তোমাদের জন্যে আমি কোনো বাহন পাচ্ছি না।’ তারা অর্থ ব্যয়ে অসামর্থের দু:খে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গিয়েছিল।
Wala AAala allatheena itha ma atawka litahmilahum qulta la ajidu ma ahmilukum AAalayhi tawallaw waaAAyunuhum tafeedu mina alddamAAi hazanan alla yajidoo ma yunfiqoona
সমকালীন বাংলা
উহাদেরও কোন অপরাধ নাই যাহারা তোমার নিকট বাহনের জন্য আসিলে তুমি বলিয়াছিলে, ‘তোমাদের জন্য কোন বাহন আমি পাইতেছি না’; উহারা অর্থব্যয়ে অসামর্থ্যজনিত দুঃখে অশ্রুবিগলিত নেত্রে ফিরিয়া গেল।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা অভাবমুক্ত হওয়া সত্ত্বেও অব্যাহতি চেয়েছে, অবশ্যি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণ আছে। তারা ঘরবাসিনীদের সাথে ঘরে বসে থাকাকেই পছন্দ করেছে। তাদের অন্তরে সীল মোহর মেরে দিয়েছেন, ফলে তারা কিছুই বুঝতে পারেনা।
যাহারা অভাবমুক্ত হইয়াও অব্যাহতি প্রার্থনা করিয়াছে, অবশ্যই উহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের হেতু আছে। উহারা অন্তঃপুরবাসিনীদের সঙ্গে থাকাই পছন্দকরিয়াছিল ; উহাদের অন্তর মোহর করিয়া দিয়াছেন, ফলে উহারা বুঝিতে পারে না!
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যখন ফিরে আসবে, তখন এসে তারা তোমাদের কাছে ওজর (অজুহাত) পেশ করবে। তুমি বলবে, ‘অজুহাত পেশ করোনা, আমরা তোমাদের কখনো বিশ্বাস করবোনা, তোমাদের খবর আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। তোমাদের কার্যকলাপ দেখবেন এবং তাঁর রসূল। তারপর তোমাদের পাঠানো হবে তাঁর কাছে যিনি ও দৃশ্য সবকিছু জানেন। তোমাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে তিনিই তোমাদের অবহিত করবেন।
YaAAtathiroona ilaykum itha rajaAAtum ilayhim qul la taAAtathiroo lan numina lakum qad nabbaana Allahu min akhbarikum wasayara Allahu AAamalakum warasooluhu thumma turaddoona ila AAalimi alghaybi waalshshahadati fayunabbiokum bima kuntum taAAmaloona
সমকালীন বাংলা
তোমরা উহাদের নিকট ফিরিয়া আসিলে উহারা তোমাদের নিকট অজুহাত পেশ করিবে। বলিও, ‘অজুহাত পেশ করিও না, আমরা তোমাদেরকে কখনও বিশ্বাস করিব না ; আমাদেরকে তোমাদের খবর জানাইয়া দিয়াছেন এবং অবশ্যই তোমাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করিবেন এবং তাঁহার রাসূলও। অতঃপর যিনি ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা তাঁহার নিকট তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করা হইবে এবং তিনি তোমরা যাহা করিতে, তাহা তোমাদেরকে জানাইয়া দিবেন।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা (যুদ্ধ থেকে মদিনায়) তাদের কাছে ফিরে এলে তারা আল্লাহর নামে হলফ করবে, যেনো তোমরা তাদের (যুদ্ধে না যাওয়ার) বিষয়টা উপেক্ষা করো। সুতরাং তোমরা তাদের উপেক্ষা করবে। কারণ, তারা অপবিত্র এবং তাদের (মন্দ) অর্জনের কারণে জাহান্নামই হবে তাদের আবাস।
Yahlifoona lakum litardaw AAanhum fain tardaw AAanhum fainna Allaha la yarda AAani alqawmi alfasiqeena
সমকালীন বাংলা
উহারা তোমাদের নিকট শপথ করিবে যাহাতে তোমরা উহাদের প্রতি তুষ্ট হও। তোমরা উহাদের প্রতি তুষ্ট হইলেও তো সত্যত্যাগী সম্প্রদায়ের প্রতি তুষ্ট হইবেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
বেদুঈনরা কুফুরি এবং মুনাফিকিতে কঠোর। তাঁর রসূলের প্রতি যা নাযিল করেছেন, তার সীমারেখা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার যোগ্যতা তাদের অনেক বেশি। সর্বজ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।
AlaAArabu ashaddu kufran wanifaqan waajdaru alla yaAAlamoo hudooda ma anzala Allahu AAala rasoolihi waAllahu AAaleemun hakeemun
সমকালীন বাংলা
ও কপটতায় মরুবাসীরা কঠোরতর; এবং তাঁহার রাসূলের প্রতি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন, তাহার সীমারেখা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার যোগ্যতা ইহাদের অধিক। সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
মরুবাসী বেদুঈনদের কেউ কেউ আল্লাহর পথে ব্যয় করাকে অর্থদন্ড বলে মনে করে এবং তারা তোমাদের ভাগ্য বিপর্যয়ের অপেক্ষা করে। দুর্ভাগ্য তাদেরই! সব শুনেন, সব জানেন।
Wamina alaAArabi man yattakhithu ma yunfiqu maghraman wayatarabbasu bikumu alddawaira AAalayhim dairatu alssawi waAllahu sameeAAun AAaleemun
সমকালীন বাংলা
মরুবাসীদের কেহ কেহ, যাহা তাহারা পথে ব্যয় করে তাহা অর্থদণ্ড বলিয়া গণ্য করে এবং তোমাদের ভাগ্য বিপর্যয়ের প্রতীক্ষা করে। মন্দ ভাগ্যচক্র উহাদেরই হউক। সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
আবদুস শহীদ নাসিম
মরুবাসী বেদুঈনদের কিছু লোক ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি এবং তারা যা ব্যয় করে, সেটাকে আল্লাহর নৈকট্য ও রসূলের দয়া লাভের উপায় মনে করে। আসলেই তা তাদের জন্যে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। অচিরেই তাদের দাখিল করবেন তাঁর রহমতের মধ্যে। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।
Wamina alaAArabi man yuminu biAllahi waalyawmi alakhiri wayattakhithu ma yunfiqu qurubatin AAinda Allahi wasalawati alrrasooli ala innaha qurbatun lahum sayudkhiluhumu Allahu fee rahmatihi inna Allaha ghafoorun raheemun
সমকালীন বাংলা
মরুবাসীদের কেহ কেহ ও পরকালে ঈমান রাখে এবং যাহা ব্যয় করে তাহাকে সান্নিধ্য ও রাসূলের দু‘আ লাভের উপায় মনে করে। বাস্তবিকই উহা তাহাদের জন্য আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উপায় ; তাহাদেরকে নিজ রহমতে দাখিল করিবেন। নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা (ঈমানের দাওয়াত গ্রহণে) প্রথম ও অগ্রগামী আর যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করছে, তাদের সবার প্রতি রাজি হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি রাজি। তিনি তাদের জন্যে প্রস্ত্তত রেখেছেন জান্নাত, যার নিচে দিয়ে বহমান রয়েছে নদ - নদী - নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যাহারা প্রথম অগ্রগামী এবং যাহারা নিষ্ঠার সঙ্গে তাহাদের অনুসরণ করে তাহাদের প্রতি প্রসন্ন এবং তাহারাও তাহাতে সন্তুষ্ট এবং তিনি তাহাদের জন্য প্রস্তুত করিয়াছেন জান্নাত, যাহার নিম্নদেশেনদী প্রবাহিত, যেখানে তাহারা চিরস্থায়ী হইবে। ইহা মহাসাফল্য।
আবদুস শহীদ নাসিম
বেদুঈনদের যারা তোমাদের আশপাশে থাকে, তাদের মধ্যে মুনাফিক রয়েছে এবং মদিনাবাসীদের মধ্যেও রয়েছে। তারা মুনাফিকিতে পাকা। তুমি তাদের জানো না। আমরা তাদের জানি। আমরা তাদের দুইবার শাস্তি দেবো। তারপর তাদের ফেরত পাঠানো হবে বড় আযাবের (জাহান্নামের) দিকে।
Waakharoona iAAtarafoo bithunoobihim khalatoo AAamalan salihan waakhara sayyian AAasa Allahu an yatooba AAalayhim inna Allaha ghafoorun raheemun
সমকালীন বাংলা
এবং অপর কতক লোকে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করিয়াছে, উহারা এক সৎকর্মের সঙ্গে অপর অসৎকর্ম মিশ্রিত করিয়াছে; হয়ত উহাদেরকে ক্ষমা করিবেন; নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মাল - সম্পদ থেকে সাদাকা (যাকাত) গ্রহণ করো। এর ফলে তুমি তাদের পবিত্র পরিশুদ্ধ ও উন্নত করবে। তুমি তাদের দোয়া করো। তোমার দোয়া তাদের জন্যে হবে প্রশান্তির কারণ। সব শুনেন, সব জানেন।
Alam yaAAlamoo anna Allaha huwa yaqbalu alttawbata AAan AAibadihi wayakhuthu alssadaqati waanna Allaha huwa alttawwabu alrraheemu
সমকালীন বাংলা
উহারা কি জানে না যে, তো তাঁহার বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং ‘সাদাকা’ গ্রহণ করেন, নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু?
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো, তোমরা আমল করতে থাকো, তোমাদের আমল দেখছেন আর তাঁর রসূল ও মুমিনরা। অচিরেই তোমাদের ফেরত দেয়া হবে ও দৃশ্যের জ্ঞানী মহান আল্লাহর দিকে, তারপর তিনিই তোমাদের সংবাদ দেবেন তোমাদের কর্মকান্ড (কেমন ছিলো সে) সম্পর্কে।
এবং বল, ‘তোমরা কর্ম করিতে থাক; তো তোমাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করিবেন এবং তাঁহার রাসূল ও মু’মিনগণও করিবে এবং অচিরেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতার নিকট, অতঃপর তিনি তোমরা যাহা করিতে তাহা তোমাদেরকে জানাইয়া দিবেন।’
আবদুস শহীদ নাসিম
আর আল্লাহর নির্দেশ আসার অপেক্ষায় অপর কিছু লোকের বিষয়ে ফয়সালা স্থগিত রইলো। তিনি হয় তাদের শাস্তি দেবেন, নয়তো তাদের তওবা কবুল করবেন। অতীব জ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
এবং আদেশের প্রতীক্ষায় অপর কতকের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রহিল তিনি উহাদেরকে শাস্তি দিবেন, না ক্ষমা করিবেন। সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা একটি মসজিদ তৈরি করেছে ক্ষতিসাধন, কুফুরি ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতোপূর্বে যে ব্যক্তি ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে তার গোপন ঘাটি হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে, তারা অবশ্যি হলফ করে বলবে, ‘আমরা সৎ উদ্দেশ্যেই এটা করেছি।’ সাক্ষী, তারা মিথ্যাবাদী।
Waallatheena ittakhathoo masjidan diraran wakufran watafreeqan bayna almumineena wairsadan liman haraba Allaha warasoolahu min qablu walayahlifunna in aradna illa alhusna waAllahu yashhadu innahum lakathiboona
সমকালীন বাংলা
এবং যাহারা মসজিদ নির্মাণ করিয়াছে ক্ষতিসাধন, ও মু’মিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতিপূর্বে ও তাঁহার রাসূলের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি সংগ্রাম করিয়াছে তাহার গোপন ঘাঁটিস্বরূপ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে, তাহারা অবশ্যই শপথ করিবে, ‘আমরা সদুদ্দেশ্যেই উহা করিয়াছি; সাক্ষী, তাহারা তো মিথ্যাবাদী।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি কখনো ঐ মসজিদে দাঁড়াবে না। প্রথম দিন থেকেই যে মসজিদের ভিত স্থাপন করা হয়েছে তাকওয়ার উপর, সেটাই তোমার সালাতের জন্যে অধিক উপযুক্ত। তাতে এমন লোকেরা আছে যারা পবিত্রতা অর্জন পছন্দ করে আর পবিত্রতা অজর্নকারীদের পছন্দ করেন।
La taqum feehi abadan lamasjidun ossisa AAala alttaqwa min awwali yawmin ahaqqu an taqooma feehi feehi rijalun yuhibboona an yatatahharoo waAllahu yuhibbu almuttahhireena
সমকালীন বাংলা
তুমি ইহাতে কখনও দাঁড়াইও না। যে মসজিদের ভিত্তি প্রথম দিন হইতেই স্থাপিত হইয়াছে তাক্ওয়ার উপর, উহাই তোমার সালাতের জন্য অধিক যোগ্য। সেখানে এমন লোক আছে যাহারা পবিত্রতা অর্জন ভালবাসে এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে পছন্দ করেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
যে ব্যক্তি তার ঘরের ভিত স্থাপন করে ভীতি ও আল্লাহর রেজামন্দির উপর সে উত্তম, নাকি ঐ ব্যক্তি, যে তার ঘরের ভিত স্থাপন করে কোনো গর্তের ধ্বংসোন্মুখ কিনারে, ফলে তা সেটাকে নিয়েই পড়ে যায় জাহান্নামের আগুনে। যালিম লোকদের সঠিক পথ দেখান না।
Afaman assasa bunyanahu AAala taqwa mina Allahi waridwanin khayrun am man assasa bunyanahu AAala shafa jurufin harin fainhara bihi fee nari jahannama waAllahu la yahdee alqawma alththalimeena
সমকালীন বাংলা
যে ব্যক্তি তাহার গৃহের ভিত্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উপর স্থাপন করে সে উত্তম, না ঐ ব্যক্তি উত্তম যে তাহার গৃহের ভিত্তি স্থাপন করে এক খাদের ধসোন্মুখ কিনারায়, ফলে যাহা
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের নির্মিত ঘর তাদের অন্তরে সন্দেহের কারণ হয়ে থাকবে, যতোক্ষণ না তাদের অন্তর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। অতীব জ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
La yazalu bunyanuhumu allathee banaw reebatan fee quloobihim illa an taqattaAAa quloobuhum waAllahu AAaleemun hakeemun
সমকালীন বাংলা
উহাদের গৃহ যাহা উহারা নির্মাণ করিয়াছে তাহা উহাদের অন্তরে সন্দেহের কারণ হইয়া থাকিবে। যে পর্যন্ত না উহাদের অন্তর ছিন্ন - বিচ্ছিন্ন হইয়া যায়। সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
নিশ্চয়ই মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল কিনে নিয়েছেন, বিনিময়ে তারা লাভ করবে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করবে, মরবে এবং মারবে। তাওরাত, ইনজিল এবং কুরআনে এ সম্পর্কে হক ওয়াদা রয়েছে। প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহর চাইতে শ্রেষ্ঠ আর কে আছে? তোমরা যে সওদা করেছো তার জন্যে সুসংবাদ গ্রহণ করো। এটাই মহাসাফল্য।
Inna Allaha ishtara mina almumineena anfusahum waamwalahum bianna lahumu aljannata yuqatiloona fee sabeeli Allahi fayaqtuloona wayuqtaloona waAAdan AAalayhi haqqan fee alttawrati waalinjeeli waalqurani waman awfa biAAahdihi mina Allahi faistabshiroo bibayAAikumu allathee bayaAAtum bihi wathalika huwa alfawzu alAAatheemu
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই আল্লাহ্মু’মিনদের নিকট হইতে তাহাদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করিয়া লইয়াছেন, তাহাদের জন্য জান্নাত আছে ইহার বিনিময়ে। তাহারা পথে যুদ্ধ করে, নিধন করে ও নিহত হয়। তাওরাত, ইনজীল ও কুরআনে এই সম্পর্কে তাহাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রহিয়াছে। নিজ প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহ্অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কে আছে? তোমরা যে সওদা করিয়াছ সেই সওদার জন্য আনন্দিত হও এবং উহাই তো মহাসাফল্য।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা হয়ে থাকে তওবাকারী, ইবাদতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকুকারী, সাজদাকারী, ভালো কাজের আদেশ দানকারী, মন্দ কাজে বাধাদানকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত হুদুদ (সীমারেখা) হিফাযতকারী। এসব (গুণের অধিকারী) মুমিনদের সুসংবাদ দাও।
Ma kana lilnnabiyyi waallatheena amanoo an yastaghfiroo lilmushrikeena walaw kanoo olee qurba min baAAdi ma tabayyana lahum annahum ashabu aljaheemi
সমকালীন বাংলা
আত্মীয় - স্বজন হইলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মু’মিনদের জন্য সংগত নয় যখন ইহা সুস্পষ্ট হইয়া গিয়াছে যে, নিশ্চিতই উহারা জাহান্নামী।
আবদুস শহীদ নাসিম
ইবরাহিম যে তার পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল তার কারণ, সে তাকে এর জন্যে বিশেষভাবে ওয়াদা দিয়েছিল। কিন্তু যখন তার কাছে একথা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে, সে আল্লাহর দুশমন, তখন সে তার (পিতার) সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলে। ইবরাহিম তো অতিশয় কোমল হৃদয় এবং সহনশীল।
ইব্রাহীম তাহার পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিয়াছিল, তাহাকে ইহার প্রতিশ্রুতি দিয়াছিল বলিয়া ; অতঃপর যখন ইহা তাহার নিকট সুস্পষ্ট হইল যে, সে শত্রু তখন ইব্রাহীম উহার সম্পর্ক ছিন্ন করিল। ইব্রাহীম তো কোমল হৃদয় ও সহনশীল।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর নিয়ম এটা নয় যে, তিনি কোনো জনগোষ্ঠীকে সঠিক পথ দেখানোর পর আবার বিপথগামী করে দেবেন, যতোক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, কী কী বিষয়ে তাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নিশ্চয়ই সব বিষয়ে জ্ঞানী।
Wama kana Allahu liyudilla qawman baAAda ith hadahum hatta yubayyina lahum ma yattaqoona inna Allaha bikulli shayin AAaleemun
সমকালীন বাংলা
আল্লাহ্এমন নন যে, তিনি কোন সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করিবার পর উহাদেরকে বিভ্রান্ত করিবেন - উহাদেরকে কী বিষয়ে তাক্ওয়া অবলম্বন করিতে হইবে, ইহা সুস্পষ্টরূপে ব্যক্ত না করা পর্যন্ত; নিশ্চয়ই আল্লাহ্সর্ববিষয়ে সবিশেষ অবহিত।
আবদুস শহীদ নাসিম
মহাকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌম কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর। তিনিই জীবন দান করেন, তিনিই মৃত্যু ঘটান। তিনি ছাড়া তোমাদের জন্যে আর কোনো অলিও নেই, সাহায্যকারীও নেই।
Inna Allaha lahu mulku alssamawati waalardi yuhyee wayumeetu wama lakum min dooni Allahi min waliyyin wala naseerin
সমকালীন বাংলা
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌম ক্ষমতা তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃতু ঘটান। ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক নাই, সাহায্যকারীও নাই।
আবদুস শহীদ নাসিম
অনুগ্রহের দৃষ্টি দিয়েছেন নবীর প্রতি, মুহাজিরদের প্রতি এবং আনসারদের প্রতি, যারা তার (নবীর) অনুসরণ করেছে কঠিন সংকটকালে, যদিও তাদের কিছু লোকের অন্তর বাঁকা হবার উপক্রম হয়েছিল। অত:পর তাদের তওবা কবুল করেন। অবশ্যি তাদের প্রতি অতীব কোমল, পরম দয়াময়।
Laqad taba Allahu AAala alnnabiyyi waalmuhajireena waalansari allatheena ittabaAAoohu fee saAAati alAAusrati min baAAdi ma kada yazeeghu quloobu fareeqin minhum thumma taba AAalayhim innahu bihim raoofun raheemun
সমকালীন বাংলা
অবশ্যই অনুগ্রহপরায়ণ হইলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি যাহারা তাহার অনুসরণ করিয়াছিল সংকটকালে - এমনকি যখন তাহাদের একদলের চিত্ত - বৈকল্যের উপক্রম হইয়াছিল। পরে উহাদেরকে ক্ষমা করিলেন; তিনি তো উহাদের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি ঐ তিনজনকেও ক্ষমা করে দিয়েছেন, যাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের জন্যে প্রশস্ত পৃথিবীও সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং তাদের জীবনও তাদের জন্যে দুর্বিষহ হয়ে পড়েছিল, আর তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, ছাড়া তাদের কোনো আশ্রয়স্থল নেই। তখন তিনি তাদের তওবা কবুল করলেন, যাতে করে তারা ফিরে আসে তাঁর দিকে। নিশ্চয়ই অতিশয় তওবা কবুলকারী, পরম দয়াবান।
WaAAala alththalathati allatheena khullifoo hatta ithadaqat AAalayhimu alardu bima rahubat wadaqat AAalayhim anfusuhum wathannoo an la maljaa mina Allahi illa ilayhi thumma taba AAalayhim liyatooboo inna Allaha huwa alttawwabu alrraheemu
সমকালীন বাংলা
এবং তিনি ক্ষমা করিলেন অপর তিনজনকেও, যাহাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্তস্থগিত রাখা হইয়াছিল, যে পর্যন্তনা পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাহাদের জন্য উহা সংকুচিত হইয়াছিল এবং তাহাদের জীবন তাহাদের জন্য দুর্বিষহ হইয়াছিল এবং তাহারা উপলব্ধি করিয়াছিল যে, ব্যতীত কোন আশ্রয়স্থল নাই, তাঁহার দিকে প্রত্যাবর্তন ব্যতীত, পরে তিনি উহাদের তওবা কবুল করিলেন যাহাতে উহারা তওবায় স্থির থাকে। নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
Ya ayyuha allatheena amanoo ittaqoo Allaha wakoonoo maAAa alssadiqeena
সমকালীন বাংলা
হে মু’মিনগণ! তোমরা কে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।
আবদুস শহীদ নাসিম
মদিনাবাসী এবং আশেপাশের মরু বেদুঈনদের উচিত হয়নি, আল্লাহর রসূলের সহগামী না হয়ে পেছনে পড়ে থাকা এবং তার জীবন অপেক্ষা নিজেদের জীবনের প্রতি অধিক অনুরাগী হওয়া। কারণ, আল্লাহর পথে তাদের পিপাসা, ক্লান্তি, ক্ষুধা, কাফিরদের ক্রোধ জাগিয়ে তোলে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং শত্রুদের পক্ষ থেকে কোনো আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া, এসবই তাদের আমলে সালেহ্ (নেক আমল)। নিশ্চয়ই কল্যাণপরায়নদের কর্মফল বিনষ্ট করেন না।
Ma kana liahli almadeenati waman hawlahum mina alaAArabi an yatakhallafoo AAan rasooli Allahi wala yarghaboo bianfusihim AAan nafsihi thalika biannahum la yuseebuhum thamaon wala nasabun wala makhmasatun fee sabeeli Allahi wala yataoona mawtian yagheethu alkuffara wala yanaloona min AAaduwwin naylan illa kutiba lahum bihi AAamalun salihun inna Allaha la yudeeAAu ajra almuhsineena
সমকালীন বাংলা
মদীনাবাসী ও উহাদের পার্শ্ববর্তী মরুবাসীদের জন্য সঙ্গত নয় আল্লাহর রাসূলের সহগামী না হইয়া পিছনে রহিয়া যাওয়া এবং তাহার জীবন অপেক্ষা তাহাদের নিজেদের জীবনকে প্রিয় জ্ঞান করা ; কারণ আল্লাহর পথে উহাদের তৃষ্ণা, ক্লান্তি এবং ক্ষুধায় ক্লিষ্ট হওয়া এবং কাফিরদের ক্রোধ উদ্রেক করে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং শত্রুদের নিকট হইতে কিছু প্রাপ্ত হওয়া উহাদের সৎকর্মরুপে গণ্য হয়। নিশ্চয়ই সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর তারা কম ও বেশি যা - ই ব্যয় করে এবং যে কোনো প্রান্তরই অতিক্রম করে, তা তাদের জন্যে পুণ্য হিসাবে লেখা হয়, যাতে করে তারা যা করে তাদেরকে তার চাইতে উত্তম পুরস্কার দিতে পারেন।
Wala yunfiqoona nafaqatan sagheeratan wala kabeeratan wala yaqtaAAoona wadiyan illa kutiba lahum liyajziyahumu Allahu ahsana ma kanoo yaAAmaloona
সমকালীন বাংলা
এবং উহারা ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎ যাহাই ব্যয় করে এবং যে কোন প্রান্তরই অতিক্রম করে তাহা উহাদের অনুকূলে লিপিবদ্ধ হয় - যাহাতে উহারা যাহা করে তাহা অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর পুরস্কার উহাদেরকে দিতে পারেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
সব মুমিনদের একই সাথে অভিযানে বের হওয়া উচিত নয়। তাদের প্রত্যেক দল বা গোত্র থেকে একটি অংশ বের হয়না কেন, যেনো তারা দীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে এবং তাদের জাতিকে সতর্ক করে যখন তারা তাদের কাছে ফিরে যাবে, যাতে করে তারা সতর্ক হয়।
মু’মিনদের সকলের একসঙ্গে অভিযানে বাহির হওয়া সংগত নয়, উহাদের প্রত্যেক দলের এক অংশ বহির্গত হয় না কেন, যাহাতে তাহারা দীন সম্বন্ধে জ্ঞানানুশীলন করিতে পারে এবং উহাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করিতে পারে, যখন তাহারা তাহাদের নিকট ফিরিয়া আসিবে যাহাতে তাহারা সতর্ক হয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! কাফিরদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো এবং তারা যেনো তোমাদের মধ্যে দৃঢ়তা দেখতে পায়। জেনে রাখো, মুত্তাকিদের সাথেই আছেন।
Ya ayyuha allatheena amanoo qatiloo allatheena yaloonakum mina alkuffari walyajidoo feekum ghilthatan waiAAlamoo anna Allaha maAAa almuttaqeena
সমকালীন বাংলা
হে মু’মিনগণ! কাফিরদের মধ্যে যাহারা তোমাদের নিকটবর্তী তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর এবং উহারা যেন তোমাদের মধ্যে কঠোরতা দেখিতে পায়। জানিয়া রাখ, তো মুত্তাকীদের সঙ্গে আছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
যখন কোনো সূরা নাযিল হয়, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে : ‘এটি তোমাদের কার ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছে?’ যারা এটি কেবল তাদেরই ঈমান বাড়িয়ে দেয় এবং তারাই আনন্দিত হয়।
Waitha ma onzilat sooratun faminhum man yaqoolu ayyukum zadathu hathihi eemanan faamma allatheena amanoo fazadathum eemanan wahum yastabshiroona
সমকালীন বাংলা
যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয় তখন উহাদের কেহ কেহ বলে, ‘ইহা তোমাদের মধ্যে কাহার ঈমান বৃদ্ধি করিল?’ যাহারা ইহা তাহাদেরই ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তাহারাই আনন্দিত হয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর যাদের অন্তরে রোগ আছে তাদের কলুষতার সাথে আরো কলুষতা যোগ করে এবং তাদের মরণ হয় অবস্থায়।
Awala yarawna annahum yuftanoona fee kulli AAamin marratan aw marratayni thumma la yatooboona wala hum yaththakkaroona
সমকালীন বাংলা
উহারা কি দেখে না যে, ‘উহাদেরকে প্রতি বৎসর একবার বা দুইবার বিপর্যস্তকরা হয়?’ ইহার পরও উহারা তওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না,
আবদুস শহীদ নাসিম
যখনই কোনো সূরা নাযিল হয়, তখন তারা একে অপরের দিকে তাকায় এবং ইশারায় জানতে চায় ‘কেউ তোমাদের দেখছে কি?’ অত:পর তারা সরে পড়ে। তাদের অন্তরকে সত্য থেকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন, কারণ তাদের কোনো বুঝ জ্ঞান নেই।
Waitha ma onzilat sooratun nathara baAAduhum ila baAAdin hal yarakum min ahadin thumma insarafoo sarafa Allahu quloobahum biannahum qawmun la yafqahoona
সমকালীন বাংলা
এবং যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন উহারা একে অপরের দিকে তাকায় এবং ইশারায় জিজ্ঞাসা করে ‘তোমাদেরকে কেহ লক্ষ্য করিতেছে কি?’ অতঃপর উহারা সরিয়া পড়ে। উহাদের হৃদয়কে সত্যবিমুখ করিয়াছেন, কারণ উহারা এমন এক সম্প্রদায় যাহাদের বোধশক্তি নাই।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই এসেছে একজন রসূল। তোমাদের যা কিছু বিপর্যস্ত করে তা তার জন্যে কষ্টদায়ক। সে তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি অতীব দয়ালু, পরম করুণাময়।
Laqad jaakum rasoolun min anfusikum AAazeezun AAalayhi ma AAanittum hareesun AAalaykum bialmumineena raoofun raheemun
সমকালীন বাংলা
অবশ্যই তোমাদের মধ্য হইতেই তোমাদের নিকট এক রাসূল আসিয়াছে। তোমাদেরকে যাহা বিপন্ন করে উহা তাহার জন্য কষ্টদায়ক। সে তোমাদের মঙ্গলকামী, মু’মিনদের প্রতি সে দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তুমি বলো: ‘আল্লাহ্ই আমার জন্যে যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই, তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করলাম, তিনিই মহান আরশের প্রভু।’