You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আল কাহাফ (গুহা)
Chapter 18, 110 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
Arabic, with marks
বয়ান ফাউন্ডেশন
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
About this chapter
মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১১০, রুকু সংখ্যা: ১২
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-০৮কুরআনে কোনো বক্রতা নেই। এটি সঠিক ও সুদৃঢ়। লোকেরা কুরআনের প্রতি ঈমান আনেনা বলে নবীর মনে কষ্ট।
০৯-২৬আসহাবে কাহাফের ঘটনার বিবরণ এবং এ প্রসঙ্গে উপদেশ।
২৭-৩১রসূলের প্রতি উপদেশ। যালিমদের প্রতি সতর্কতা। মুমিনদের প্রতি সুসংবাদ।
৩২-৪৪উপমার মাধ্যমে শিরকের অসারতা এবং তাওহীদের যুক্তি।
৪৫-৪৯দুনিয়ার জীবনের অসারতার উপমা। মানুষের জন্য যা কল্যাণকর। হাশর ও বিচারের দৃশ্য।
৫০-৫৩মানুষ তার শত্রু ইবলিসকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে কী করে? শিরকের অসারতা।
৫৪-৫৯কুরআনে সবকিছুর বর্ণনা থাকা সত্ত্বেও লোকেরা বিবাদ করে। সবচেয়ে বড় যালিম আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যানকারীরা।
৬০-৮২এক জ্ঞানী ব্যক্তির সন্ধানে ও সান্নিধ্যে মূসা আ.।
৮৩-১০১যুলকারনাইনের (সাইরাস দ্যা গ্রেট-এর) প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের বিবরণ এবং তার কল্যাণমূলক কার্যক্রম।
১০২-১১০বাঁচার উপায় শিরকমুক্ত আমলে সালেহ্। যারা আল্লাহর সৃষ্টিকে অলি বানায় তাদের জন্য জাহান্নাম। সর্ব নিকৃষ্ট আমলের অধিকারী কারা? মুমিনদের জন্য সুসংবাদ। আল্লাহর প্রশংসা লিখে শেষ করা যাবেনা।
আবদুস শহীদ নাসিম
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর দাসের উপর আল কিতাব (আল - কুরআন) নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো প্রকার বক্রতা - জটিলতা রাখেননি।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার উপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে রাখেননি কোন বক্রতা ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সমস্ত প্রশংসা রই যিনি তাঁহার বান্দার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন এবং উহাতে তিনি বক্রতা রাখেন নাই;
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি এটিকে করেছেন সুষম - সুপ্রতিষ্ঠিত তাঁর কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার জন্যে। আর যেসব আমলে সালেহ্ করে এটি তাদের সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্যে রয়েছে উত্তম পুরস্কার (জান্নাত)।
সরলরূপে, যাতে সে তাঁর পক্ষ থেকে কঠিন আযাব সম্পর্কে সতর্ক করে এবং সুসংবাদ দেয়, সেসব মুমিনকে, যারা সৎকর্ম করে, নিশ্চয় তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইহাকে করিয়াছেন সুপ্রতিষ্ঠিত তাঁহার কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করিবার জন্য, এবং মু’মিনগণ, যাহারা সৎকর্ম করে, তাহাদেরকে এই সুসংবাদ দিবার জন্য যে, তাহাদের জন্য আছে উত্তম পুরস্কার,
আবদুস শহীদ নাসিম
সেখানে থাকবে তারা চিরদিন চিরকাল।
Arabic, with marks
مَّاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা তাতে অনন্তকাল অবস্থান করবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহাতে তাহারা হইবে চিরস্থায়ী,
আবদুস শহীদ নাসিম
আর (এটি নাযিল করেছেন) তাদেরকে সতর্ক করার জন্যে, যারা বলে: ‘ সন্তান গ্রহণ করেছেন।’
আর যেন সতর্ক করে তাদেরকে, যারা বলে, সন্তান গ্রহণ করেছেন’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং সতর্ক করিবার জন্য উহাদেরকে যাহারা বলে যে, সন্তান গ্রহন করিয়াছেন,
আবদুস শহীদ নাসিম
আসলে এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তাদের পূর্ব পুরুষদেরও কোনো জ্ঞান ছিলনা। তাদের মুখ থেকে বের হওয়া কথা খুবই গুরুতর। তাদের কথা মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।
তুমি কি মনে করেছ যে, গুহা ও রাকীমের* অধিবাসীরা ছিল আমার আয়াতসমূহের এক বিস্ময়? * রাকীম একটি পাহাড়ের নাম, অথবা যে গ্রাম থেকে তারা বের হয়েছিল সে গ্রামের নাম, অথবা একটি ফলক- যাতে ঐ সব যুবকের নাম লিখা ছিল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি কি মনে কর যে, গুহা ও রাকীমের অধিবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর?
আবদুস শহীদ নাসিম
যুবকরা যখন গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল তারা বলেছিল: ‘আমাদের প্রভু! আমাদের দান করো তোমার পক্ষ থেকে রহমত এবং আমাদেরকে আমাদের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করার ব্যবস্থা করে দাও।’
যখন যুবকরা গুহায় আশ্রয় নিল অতঃপর বলল, ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দিন এবং আমাদের জন্য আমাদের কর্মকান্ড সঠিক করে দিন’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন যুবকরা গুহায় আশ্রয় লইল তখন তাহারা বলিয়াছিল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি নিজ হইতে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান কর এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা কর।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর আমরা তাদেরকে গুহায় কয়েক বছর ঘুমন্ত রেখে দিয়েছিলাম।
তারপর আমি তাদেরকে জাগালাম, যাতে আমি জানতে পারি, যতটুকু সময় তারা অবস্থান করেছিল, দু’দলের মধ্যে* কে তা অধিক নির্ণয়কারী। * গুহায় অবস্থান কাল নিয়ে দু’টি দল হয়েছিল। একদল বলেছিল, আমরা অবস্থান করেছি এক দিন অথবা এক দিনের কিছু কম সময়; অন্যদল বলেছিল, দীর্ঘ সময়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরে আমি উহাদেরকে জাগরিত করিলাম জানিবার জন্য যে, দুই দলের মধ্যে কোন্টি উহাদের অবস্থিতিকাল সঠিকভাবে নির্ণয় করিতে পারে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা তোমার কাছে তাদের সঠিক ঘটনা বর্ণনা করছি: তারা কয়েকজন যুবক ঈমান এনেছিল তাদের প্রভুর প্রতি এবং আমরা বৃদ্ধি করে দিয়েছিলাম তাদের হুদা (ঈমান)।
আমিই তোমাকে তাদের সংবাদ সঠিকভাবে বর্ণনা করছি। নিশ্চয় তারা কয়েকজন যুবক, যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আমি তোমার নিকট উহাদের বৃত্তান্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করিতেছি : উহারা ছিল কয়েকজন যুবক, উহারা উহাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনিয়াছিল এবং আমি উহাদের সৎপথে চলার শক্তি বৃদ্ধি করিয়াছিলাম,
আবদুস শহীদ নাসিম
আর আমরা তাদের হৃদয়ের বন্ধন মজবুত করে দিয়েছিলাম। তারা যখন উঠে দাঁড়িয়েছিল, তখন বলেছিল: ‘‘আমাদের প্রভু মহাকাশ ও পৃথিবীর প্রভু! আমরা কখনো তাঁকে ছাড়া আর কোনো ইলাহকে ডাকবো না। তেমনটি করলে সেটা হবে এক গর্হিত কাজ।
যখন তারা উঠেছিল, আমি তাদের অন্তরকে দৃঢ় করেছিলাম। তখন তারা বলল, ‘আমাদের রব আসমানসমূহ ও যমীনের রব। তিনি ছাড়া কোন ইলাহকে আমরা কখনো ডাকব না। (যদি ডাকি) তাহলে নিশ্চয় আমরা গর্হিত কথা বলব’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং আমি উহাদের চিত্ত দৃঢ় করিয়া দিলাম; উহারা যখন উঠিয়া দাঁড়াইল তখন বলিল, ‘আমাদের প্রতিপালক। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালক। আমরা কখনই তাঁহার পরিবর্তে অন্য কোন ইলাহ্কে আহ্বান করিব না ; যদি করিয়া বসি, তবে উহা অতিশয় গর্হিত হইবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
এই আমাদের কওম, তারা তাঁকে ছাড়া অন্য ইলাহ্ গ্রহণ করেছে। তারা তাদের পক্ষে স্পষ্ট প্রমাণ হাজির করে না কেন? ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করে?’’
এরা আমাদের কওম, তারা তাঁকে ছাড়া অন্যান্য উপাস্য গ্রহণ করেছে। কেন তারা তাদের ব্যাপারে স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করে না? অতএব যে আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা রটায়, তার চেয়ে বড় যালিম আর কে?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আমাদেরই এই স্বজাতিগণ, তাঁহার পরিবর্তে অনেক ইলাহ্ গ্রহণ করিয়াছে। ইহারা এই সমস্ত ইলাহ্ সম্বন্ধে স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করে না কেন? যে সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে তাহার অপেক্ষা অধিক আর কে?’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর তারা পরস্পরকে বলে: ‘‘তোমরা যখন তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছো, তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করো। তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্যে তাঁর দয়া প্রসারিত করবেন এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কার্যক্রমকে ফলপ্রসূ করার ব্যবস্থা করবেন।’’
আর যখন তোমরা তাদের থেকে আলাদা হয়েছ এবং ছাড়া যাদের তারা উপাসনা করে তাদের থেকেও, তখন গুহায় আশ্রয় নাও। তাহলে তোমাদের রব তোমাদের জন্য তার রহমত উন্মুক্ত করে দেবেন এবং তোমাদের জন্য তোমাদের জীবনোপকরণের বিষয়টি সহজ করে দেবেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমরা যখন বিচ্ছিন্ন হইলে উহাদের হইতে ও উহারা র পরিবর্তে যাহাদের ‘ইবাদত করে তাহাদের হইতে তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ কর। তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য তাঁহার দয়া বিস্তার করিবেন এবং তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজকর্মকে ফলপ্রসূ করিবার ব্যবস্থা করিবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি দেখতে পাও, তারা তাদের গুহার প্রশস্ত চত্বরে অবস্থান করছে, উদয়ের সময় সূর্য তাদের ডান পাশ হেলে যায়, আর অস্ত যাবার সময় তাদের অতিক্রম করে বাম পাশ থেকে। এটা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তরভুক্ত। যাকে সঠিক পথ দেখান সেই হিদায়াতপ্রাপ্ত হয় আর তিনি যাকে বিপথগামী করেন, তুমি কখনো তার জন্যে কোনো মুরশিদ অলি (সঠিক পথের দিশারি অভিভাবক) পাবে না।
আর তুমি দেখতে পেতে, সূর্য উদিত হলে তাদের গুহার ডানে তা হেলে পড়ছে, আর অস্ত গেলে তাদেরকে বামে রেখে কেটে যাচ্ছে, তখন তারা ছিল তার আঙিনায়। এগুলো আল্লাহর আয়াতসমূহের কিছু। যাকে হিদায়াত দেন, সে হেদায়াতপ্রাপ্ত। আর যাকে ভ্রষ্ট করেন, তুমি তার জন্য পথনির্দেশক
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি দেখিতে পাইতে উহারা গুহার প্রশস্ত চত্বরে অবস্থিত, সূর্য উদয়কালে উহাদের গুহার দক্ষিণ পার্শ্বে হেলিয়া যায় এবং অস্তকালে উহাদেরকে অতিক্রম করে বাম পার্শ্ব দিয়া, এই সমস্ত র নিদর্শন। যাহাকে সৎপথে পরিচালিত করেন, সে সৎপথপ্রাপ্ত এবং তিনি যাহাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি কখনও তাহার কোন পথপ্রদর্শনকারী অভিভাবক পাইবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি ধারণা করবে তারা জাগ্রত, অথচ তারা ঘুমন্ত। আমরা তাদের পাশ পরিবর্তন করাতাম ডান দিকে এবং বাম দিকে, আর তাদের কুকুরটি ছিলো সামনের পা দুটি গুহা দ্বারের দিকে প্রসারিত করে। তাদের দিকে তাকিয়ে দেখলে তুমি পেছন ফিরে পালাবে এবং তাদের ভয়ে আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
তুমি তাদেরকে মনে করতে জাগ্রত, অথচ তারা ছিল ঘুমন্ত, আমি তাদেরকে পাশ পরিবর্তন করাচ্ছি ডানে ও বামে এবং তাদের কুকুরটি আঙিনায় তার সামনের দু’পা বাড়িয়ে আছে। যদি তুমি তাদেরকে উঁকি মেরে দেখতে, তবে নিশ্চয় তাদের থেকে পেছনে ফিরে পালিয়ে যেতে এবং অবশ্যই তাদের কারণে ভীষ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি মনে করিতে উহারা জাগ্রত, কিন্তু উহারা ছিল নিদ্রিত। আমি উহাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাইতাম ডান দিকে ও বাম দিকে এবং উহাদের কুকুর ছিল সম্মুখের পা দুইটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করিয়া। তাকাইয়া উহাদেরকে দেখিলে তুমি পিছন ফিরিয়া পলায়ন করিতে ও উহাদের ভয়ে আতংকগ্রস্ত হইয়া পড়িতে;
আবদুস শহীদ নাসিম
এভাবেই, আমরা তাদের জাগিয়ে তুলেছিলাম যেনো তারা পরস্পরের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের একজন জিজ্ঞেস করেছিল, তোমরা এখানে কতোদিন অবস্থান করেছো? বাকিরা বললো: ‘‘আমরা এখানে একদিন বা আধা দিন অবস্থান করেছি।’ তারা বললো: তোমাদের প্রভুই অধিক জানেন তোমরা কতদিন অবস্থান করেছো? এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রা নিয়ে শহরে পাঠাও, সে দেখুক কোন্ খাবার উত্তম এবং তা থেকে কিছু খাবার নিয়ে আসুক তোমাদের জন্যে। আর সে যেনো সতর্কতা অবলম্বন করে এবং কিছুতেই যেনো তোমাদের সম্পর্কে কাউকেও কিছু জানতে না দেয়।
আর এমনিভাবে আমি তাদেরকে জাগিয়ে তুলেছিলাম, যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসা করে। তাদের একজন বলল, ‘তোমরা কতক্ষণ অবস্থান করলে’? তারা বলল, ‘আমরা একদিন কিংবা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। তারা বলল, ‘তোমরা কতক্ষণ অবস্থান করেছ, সে ব্যাপারে তোমাদের রবই অধিক জানেন। তাই
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং এইভাবেই আমি উহাদেরকে জাগরিত করিলাম যাহাতে উহারা পরস্পরের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করে। উহাদের একজন বলিল, ‘তোমরা কত কাল অবস্থান করিয়াছ?’ কেহ কেহ বলিল, ‘আমরা অবস্থান করিয়াছি এক দিন অথবা এক দিনের কিছু অংশ।’ কেহ কেহ বলিল, ‘তোমরা কত কাল অবস্থান করিয়াছ তাহা তোমাদের প্রতিপালকই ভাল জানেন। এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ নগরে প্রেরণ কর। সে যেন দেখে কোন্ খাদ্য উত্তম ও উহা হইতে যেন কিছু খাদ্য লইয়া আসে তোমাদের জন্য। সে যেন বিচক্ষণতার সহিত কাজ করে ও কিছুতেই যেন তোমাদের সম্বন্ধে কাহাকেও কিছু জানিতে না দেয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের বিষয়টি যদি তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ে তাহলে তারা তোমাদের পাথর মেরে হত্যা করবে, অথবা তোমাদের ফিরিয়ে নেবে তাদের মিল্লাতে। তখন আর তোমরা কখনো সফলতা অর্জন করবে না।’’
‘নিশ্চয় তারা যদি তোমাদের ব্যাপারে জেনে যায়, তাহলে তারা তোমাদেরকে পাথর মেরে হত্যা করবে অথবা তোমাদেরকে তাদের ধর্মে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। আর তখন তোমরা কোনভাবেই সফল হবে না’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘উহারা যদি তোমাদের বিষয় জানিতে পারে তবে তোমাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করিবে অথবা তোমাদেরকে উহাদের ধর্মে ফিরাইয়া লইবে এবং সেক্ষেত্রে তোমরা কখনও সাফল্য লাভ করিবে না।’
আবদুস শহীদ নাসিম
এভাবেই আমরা মানুষকে তাদের বিষয়টি জানিয়ে দিলাম, যাতে করে তারা জানতে পারে যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কিয়ামতের আগমনে কোনো সন্দেহ নেই। যখন তারা তাদের কর্তব্য বিষয়ে বিতর্ক করছিল, তখন অনেকে বলেছিল: ‘তাদের উপর একটি সৌধ নির্মাণ করো।’ তাদের প্রভুই তাদের বিষয়ে ভালো জানেন। নিজেদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হয়ে দেখা দিলো, তারা বললো: ‘আমরা অবশ্যি তাদের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করবো।’
আর এমনিভাবে আমি তাদের ব্যাপারে (লোকদেরকে) জানিয়ে দিলাম, যাতে তারা জানতে পারে যে, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কিয়ামতের ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। যখন তারা নিজেদের মধ্যে তাদের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক করছিল, তখন তারা বলল, ‘তাদের উপর তোমরা একটি ভবন নির্মাণ কর’। তা
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এইভাবে আমি মানুষকে উহাদের বিষয় জানাইয়া দিলাম যাহাতে তাহারা জ্ঞাত হয় যে, র প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামতে কোন সন্দেহ নাই। যখন তাহারা তাহাদের কর্তব্য বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করিতেছিল তখন অনেকে বলিল, ‘উহাদের উপর সৌধ নির্মাণ কর।’ উহাদের প্রতিপালক উহাদের বিষয় ভাল জানেন। তাহাদের কর্তব্য বিষয়ে যাহাদের মত প্রবল হইল তাহারা বলিল, আমরা তো নিশ্চয়ই উহাদের পার্শ্বে মসজিদ নির্মাণ করিব।’
আবদুস শহীদ নাসিম
কিছু লোক বলবে: ‘তারা ছিলো তিনজন এবং তাদের চতুর্থটি ছিলো তাদের কুকুর।’ অজানা বিষয়ে অনুমান করে কিছু লোক বলবে: ‘তারা ছিলো পাঁচজন এবং তাদের ষষ্ঠটি ছিলো তাদের কুকুর।’ কিছু লোক বলবে: ‘তারা ছিলো সাতজন এবং অষ্টমটি ছিলো তাদের কুকুর।’ তুমি বলো: ‘তাদের সংখ্যা কতো তা আমার প্রভুই ভালো জানেন।’ অল্প কিছু লোক ছাড়া তাদের সংখ্যা কেউই জানেনা। সাধারণ আলোচনা ছাড়া তুমি তাদের বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়োনা। আর তাদের বিষয়ে ওদের কাউকেও কিছু জিজ্ঞাসাও করোনা।
বিতর্ককারীরা বলবে, ‘তারা ছিল তিন জন, চতুর্থ হল তাদের কুকুর’। আর কতক বলবে, ‘তারা ছিল পাঁচজন, ষষ্ঠ হল তাদের কুকুর’। এসবই অজানা বিষয়ে অনুমান করে। আর কেউ কেউ বলবে, ‘তারা ছিল সাত জন; অষ্টম হল তাদের কুকুর’। বল, ‘আমার রবই তাদের সংখ্যা সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত’। কম সং
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কেহ কেহ বলিবে, ‘উহারা ছিল তিনজন, উহাদের চতুর্থটি ছিল উহাদের কুকুর’ এবং কেহ কেহ বলিবে, ‘উহারা ছিল পাঁচজন, উহাদের ষষ্ঠটি ছিল উহাদের কুকুর’, অজানা বিষয়ে অনুমানের উপর নির্ভর করিয়া। আবার কেহ কেহ বলিবে, ‘উহারা ছিল সাতজন, উহাদের অষ্টমটি ছিল উহাদের কুকুর।’ বল, ‘আমার প্রতিপালকই উহাদের সংখ্যা ভাল জানেন’; উহাদের সংখ্যা অল্প কয়েকজনই জানে। সাধারণ আলোচনা ব্যতীত তুমি উহাদের বিষয়ে বিতর্ক করিও না এবং ইহাদের কাহাকেও উহাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিও না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি কখনো কোনো বিষয়ে এভাবে বলোনা যে, ‘আমি তা আগামি কাল করবো।’
তবে ‘ যদি চান’। আর যখন ভুলে যাও, তখন তুমি তোমার রবের যিকির কর এবং বল, আশা করি, আমাকে এর চেয়েও নিকটবর্তী সত্য পথের হিদায়াত দেবেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইচ্ছা করিলে’ এই কথা না বলিয়া।” যদি ভুলিয়া যাও তবে তোমার প্রতিপালককে স্মরণ করিও এবং বলিও, ‘সম্ভবত আমার প্রতিপালক আমাকে ইহা অপেক্ষা সত্যের নিকটতর পথনির্দেশ করিবেন।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা তাদের গুহায় অবস্থান করেছিল তিনশ’ বছর আরো নয় বছর।
আর তারা তাদের গুহায় অবস্থান করেছে তিনশ’ বছর এবং এর সাথে অতিরিক্ত হয়েছিল ‘নয়’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা উহাদের গুহায় ছিল তিনশত বৎসর, আরও নয় বৎসর।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি বলো: ‘এরপরে তারা কতোকাল ছিলো তা আল্লাহ্ই ভালো জানেন।’ মহাকাশ আর পৃথিবীর কেবল তাঁরই আছে। দেখো, তিনি কতো সুন্দর দ্রষ্টা এবং শ্রোতা! তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো অলি নেই। তিনি নিজ কর্তৃত্বে কাউকে শরিক করেন না।
বল, ‘তারা যে সময়টুকু অবস্থান করেছিল, সে ব্যাপারে আল্লাহই অধিক জানেন’। আসমানসমূহ ও যমীনের গায়েবী বিষয় তাঁরই। এ ব্যাপারে তিনিই উত্তম দ্রষ্টা ও উত্তম শ্রোতা। তিনি ছাড়া তাদের কোন অভিভাবক নেই। তাঁর সিদ্ধান্তে তিনি কাউকে শরীক করেন না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি বল, ‘তাহারা কতকাল ছিল তাহা ই ভাল জানেন’, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অজ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞান তাঁহারই। তিনি কত সুন্দর দ্রষ্টা ও শ্রোতা! তিনি ব্যতীত উহাদের অন্য কোন অভিভাবক নাই। তিনি কাহাকেও নিজ কর্তৃত্বের শরীক করেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার প্রতি তোমার প্রভুর যে কিতাব অহি করা হয়েছে তুমি তা তিলাওয়াত করো। তাঁর বাণী পরিবর্তন করার কেউ নেই। তুমি কখনো তাঁকে ছাড়া আর কোনো আশ্রয় পাবেনা।
আর তোমার রবের কিতাব থেকে তোমার নিকট যে ওহী পাঠানো হয়, তুমি তা তিলাওয়াত কর। তাঁর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তনকারী নেই এবং তিনি ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল তুমি পাবে না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি তোমার প্রতি প্রত্যদিষ্ট তোমার প্রতিপালকের কিতাব হইতে পাঠ করিয়া শুনাও। তাঁহার বাক্য পরিবর্তন করিবার কেহই নাই। তুমি কখনও তাহাকে ব্যতীত অন্য কোন আশ্রয় পাইবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের প্রভুকে ডাকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে, তুমি নিজেকে তাদের সাথে অবিচলভাবে জুড়ে রাখো। পার্থিব জীবনের চাকচিক্যের উদ্দেশ্যে তুমি তাদের থেকে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়োনা। তুমি এমন কারো আনুগত্য করোনা, যার অন্তরকে আমরা আমাদের যিকির থেকে গাফিল করে দিয়েছি এবং যে তার খেয়াল খুশির অনুসরণ করে আর যার কর্মকান্ড সীমালংঘনমূলক।
আর তুমি নিজকে ধৈর্যশীল রাখ তাদের সাথে, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকে, তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশে, এবং দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তোমার দু’চোখ যেন তাদের থেকে ঘুরে না যায়। আর ওই ব্যক্তির আনুগত্য করো না, যার অন্তরকে আমি আমার যিকির থেকে গাফেল করে দিয়
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি নিজেকে ধৈর্য সহকারে রাখিবে উহাদেরই সংসর্গে যাহারা সকাল ও সন্ধ্যায় আহ্বান করে উহাদের প্রতিপালককে তাঁহার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এবং তুমি পার্থিব জীবনের শোভা কামনা করিয়া উহাদের হইতে তোমার দৃষ্টি ফিরাইয়া লইও না। তুমি তাহার আনুগত্য করিও না - যাহার চিত্তকে আমি আমার স্মরণে অমনোযোগী করিয়া দিয়াছি, যে তাহার খেয়াল - খুশির অনুসরণ করে ও যাহার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো: সত্য (আল - কুরআন) তোমাদের প্রভুর নিকট থেকেই এসেছে। সুতরাং যার ইচ্ছা ঈমান আনুক, আর যার ইচ্ছা সত্য প্রত্যাখ্যান করুক। আমরা যালিমদের জন্যে প্রস্ত্তত করে রেখেছি আগুন, তার বেষ্টনি তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে। তারা পানি পান করতে চাইলে তাদের দেয়া হবে গলিত ধাতুর মতো পানীয়, যা তাদের মুখমন্ডলকে দগ্ধ করে ফেলবে। কী যে নিকৃষ্ট পানীয় আর কতো যে নিকৃষ্ট আশ্রয় তাদের!
আর বল, ‘সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে। সুতরাং যে ইচ্ছা করে সে যেন ঈমান আনে এবং যে ইচ্ছা করে সে যেন করে। নিশ্চয় আমি যালিমদের জন্য আগুন প্রস্ত্তত করেছি, যার প্রাচীরগুলো তাদেরকে বেষ্টন করে রেখেছে। যদি তারা পানি চায়, তবে তাদেরকে দেয়া হবে এমন পানি যা গলিত
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘সত্য তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে; সুতরাং যাহার ইচ্ছা বিশ্বাস করুক ও যাহার ইচ্ছা সত্য প্রত্যাখ্যান করুক।’ নিশ্চয়ই আমি জালিমদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছি অগ্নি, যাহার বেষ্টনী উহাদেরকে পরিবেষ্টন করিয়া থাকিবে। উহারা পানীয় চাহিলে উহাদেরকে দেওয়া হইবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানীয়, যাহা উহাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করিবে; ইহা নিকৃষ্ট পানীয়। আর জাহান্নাম কত নিকৃষ্ট আশ্রয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তবে যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ্ করবে, উত্তম আমলকারীদের কর্মফল আমরা কখনো বিনষ্ট করিনা!
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, নিশ্চয় আমি এমন কারো প্রতিদান নষ্ট করব না, যে সুকর্ম করেছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে - আমি তো তাহার শ্রমফল নষ্ট করি না - সে উত্তমরূপে কার্য সম্পাদন করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের জন্যে থাকবে চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহ যেগুলোর নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী নহর। সেখানে তাদের অলংকার পরানো হবে সোনার কংকন। সেখানে তারা পরবে সূক্ষ্ম ও পুরু রেশমি সবুজ পরিচ্ছেদ। আর সেখানে তারা আসন গ্রহণ করবে সুসজ্জিত সোফায়। কতো যে উত্তম পুরস্কার! আর কতো যে উত্তম আশ্রয়স্থল।
এরাই তারা, যাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীসমূহ। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণের চুড়ি দিয়ে এবং তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু সিল্কের সবুজ পোশাক। তারা সেখানে (থাকবে) আসনে হেলান দিয়ে। কী উত্তম প্রতিদান এবং কী সুন্দর বি
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহাদেরই জন্য আছে স্থায়ী জান্নাত যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে উহাদেরকে স্বর্ণ - কংকনে অলংকৃত করা হইবে, উহারা পরিধান করিবে সূক্ষ্ম ও পুরু রেশমের সবুজ বস্ত্র ও সেখানে সমাসীন হইবে সুসজ্জিত আসনে; কত সুন্দর পুরস্কার ও উত্তম আশ্রয়স্থল!
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি তাদের জন্যে দুই ব্যক্তির উদাহরণ পেশ করো: তাদের একজনকে আমরা দিয়েছিলাম দু’টি আঙ্গুরের বাগান। দু’টি বাগানকেই আমরা খেজুর গাছ দিয়ে পরিবেষ্টন করে দিয়েছিলাম। আর দু’টি বাগানের মাঝখানের জায়গাটাকে আমরা বানিয়েছিলাম শস্যক্ষেত।
আর তুমি তাদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত পেশ কর: দুই ব্যক্তি, তাদের একজনকে আমি দু’টি আঙ্গুরের বাগান দিয়েছি এবং উভয় বাগানকে ঘিরে দিয়েছি খেজুর গাছ দ্বারা এবং উভয়ের মাঝখানে রেখেছি শস্যক্ষেত।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি উহাদের নিকট পেশ কর দুই ব্যক্তির উপমা : উহাদের একজনকে আমি দিয়াছিলাম দুইটি দ্রাক্ষা - উদ্যান এবং এই দুইটিকে আমি খর্জুর - বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত করিয়াছিলাম ও এই দুইয়ের মধ্যবর্তী স্থানকে করিয়াছিলাম শস্যক্ষেত্র।
আবদুস শহীদ নাসিম
দু’টি বাগানই প্রচুর ফল দিচ্ছিল এবং এতে কোনো প্রকার ত্রুটি করা হচ্ছিলনা। আর দু’টি বাগানের মাঝে দিয়ে আমরা জারি করে দিয়েছিলাম একটি নহর।
আর (এতে) তার ছিল বিপুল ফল-ফলাদি। তাই সে তার সঙ্গীকে কথায় কথায় বলল, ‘সম্পদে আমি তোমার চেয়ে অধিক এবং জনবলেও অনেক শক্তিশালী’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং তাহার প্রচুর ধনসম্পদ ছিল। অতঃপর কথা প্রসঙ্গে সে তাহার বন্ধুকে বলিল, ‘ধনসম্পদে আমি তোমার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ এবং জনবলে তোমার অপেক্ষা শক্তিশালী।’
আবদুস শহীদ নাসিম
এভাবে সে নিজের প্রতি যুলুম করে একদিন বাগানে প্রবেশ করে। সে (বাগানের ফলন ও সৌন্দর্যে উৎফুল্ল হয়ে) বললো: ‘‘এ বাগান কখনো বিরান হয়ে যাবে বলে আমি মনে করিনা।
আর সে তার বাগানে প্রবেশ করল, নিজের প্রতি যুলমরত অবস্থায়। সে বলল, ‘আমি মনে করি না যে, এটি কখনো ধ্বংস হবে’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এইভাবে নিজের প্রতি জুলুম করিয়া সে তাহার উদ্যানে প্রবেশ করিল। সে বলিল, ‘আমি মনে করি না যে, ইহা কখনও ধ্বংস হইয়া যাইবে;
আবদুস শহীদ নাসিম
কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে বলেও আমি মনে করিনা। আর আমাকে যদি আমার প্রভুর কাছে ফিরিয়ে নেয়াই হয়, তবে অবশ্য অবশ্যি এখন আমার যা আছে তার চাইতে উত্তম সামগ্রী আমি ফেরত পাবো।’’
‘আর আমি মনে করি না যে, কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর আমাকে যদি ফিরিয়ে নেয়া হয় আমার রবের কাছে, তবে নিশ্চয় আমি এর চেয়ে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল পাব’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আমি মনে করি না যে, কিয়ামত হইবে; আর আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবৃত্ত হই - ই তবে আমি তো নিশ্চয়ই ইহা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্থান পাইব।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তার কথার প্রসঙ্গে তার সাথি তাকে বললো: ‘‘তুমি কি তোমার সেই মহান স্রষ্টার প্রতি কুফুরি করলে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে, তার পরে মানুষের আকৃতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছেন?
কথায় কথায় তার সঙ্গী বলল, ‘তুমি কি তাকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর ‘বীর্য’ থেকে, তারপর তোমাকে অবয়ব দিয়েছেন পুরুষের’?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তদুত্তরে তাহার বন্ধু তাহাকে বলিল, ‘তুমি কি তাঁহাকে অস্বীকার করিতেছ যিনি তোমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন মৃত্তিকা ও পরে শুক্র হইতে এবং তাহার পর পূর্ণাঙ্গ করিয়াছেন মনুষ্য - আকৃতিতে?’
আবদুস শহীদ নাসিম
(তুমি যাই বলোনা কেন) সেই মহান আল্লাহ্ই কিন্তু আমার প্রভু। আমি আমার প্রভুর সাথে কাউকেও শরিক করিনা।
‘কিন্তু তিনিই , আমার রব। আর আমি আমার রবের সাথে কাউকে শরীক করি না’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘কিন্তু তিনিই আমার প্রতিপালক এবং আমি কাহাকেও আমার প্রতিপালকের শরীক করি না।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি যখন তোমার বাগানে প্রবেশ করেছিলে, তখন কেন বললে না, ‘ যা চেয়েছেন তাই হয়েছে। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো কোনো ক্ষমতা নেই?’ তুমি যদি ধনে জনে আমাকে তোমার চাইতে কম মনে করো,
‘আর যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন কেন তুমি বললে না, ‘মাশাআল্লাহ’! আল্লাহর তৌফিক ছাড়া কোন শক্তি নেই। তুমি যদি দেখ যে, আমি সম্পদে ও সন্তানে তোমার চেয়ে কম,
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘তুমি যখন তোমার উদ্যানে প্রবেশ করিলে তখন কেন বলিলে না, যাহা চাহেন তাহাই হয়, র সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নাই?’ তুমি যদি ধনে ও সন্তানে আমাকে তোমার অপেক্ষা নিকৃষ্টতর মনে কর -
আবদুস শহীদ নাসিম
তবে হয়তো আমার প্রভু তোমার বাগানের চাইতে উত্তম কিছু আমাকে দান করবেন এবং তোমার বাগান আসমান থেকে আগুন পাঠিয়ে জ্বালিয়ে দেবেন, যার ফলে বাগানটি উদ্ভিদ শূন্য মাঠে পরিণত হবে।
তবে আশা করা যায় যে, ‘আমার রব আমাকে তোমার বাগানের চেয়ে উত্তম (কিছু) দান করবেন এবং তার উপর আসমান থেকে বজ্র পাঠাবেন। ফলে তা অনুর্বর উদ্ভিদশূন্য যমীনে পরিণত হবে’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘তবে হয়ত আমার প্রতিপালক আমাকে তোমার উদ্যান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দিবেন এবং তোমার উদ্যানে আকাশ হইতে নির্ধারিত বিপর্যয় প্রেরণ করিবেন; যাহার ফলে উহা উদ্ভিদশূন্য ময়দানে পরিণত হইবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
অথবা তোমার বাগানের পানি ভূ - গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে এবং তুমি আর কখনো পানির সন্ধান লাভ করতে সক্ষম হবেনা।’’
‘কিংবা তার পানি মাটির গভীরে চলে যাবে, ফলে তা তুমি কোনভাবেই খুঁজে পাবে না’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘অথবা উহার পানি ভূগর্ভে অন্তর্হিত হইবে এবং তুমি কখনও উহার সন্ধান লাভে সক্ষম হইবে না।’
আবদুস শহীদ নাসিম
অত:পর বিপর্যয় তার ফল - ফসলকে পরিবেষ্টন করে নিলো, ফলে সে সেখানে যা খরচ করেছিল তার জন্যে হাত মুচড়িয়ে অনুতাপ করতে লাগলো, যখন তার বাগানের মাচানসমূহ ধুলিস্যাত হয়ে গেলো। তখন সে বলতে লাগলো, ‘হায়, হায়! আমি যদি আমার প্রভুর সাথে কাউকেও শরিক না করতাম!’
আর (বিপর্যয়ে) তার ফল-ফলাদি ঘিরে ফেলা হল। ফলে তাতে সে যা ব্যয় করেছিল, তার জন্য (আক্ষেপে) হাত কচলাতে লাগল এবং সেটি ধ্বংস হয়েছিল তার মাচার উপর। আর সে বলছিল, ‘হায় আক্ষেপ! আমি যদি আমার রবের সাথে কাউকে শরীক না করতাম’!
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তাহার ফল - সম্পদ বিপর্যয়ে বেষ্টিত হইয়া গেল এবং সে উহাতে যাহা ব্যয় করিয়াছিল তাহার জন্য আক্ষেপ করিতে লাগিল যখন উহা মাচানসহ ভূমিসাৎ হইয়া গেল। সে বলিতে লাগিল, ‘হায়, আমি যদি কাহাকেও আমার প্রতিপালকের শরীক না করিতাম!’
আবদুস শহীদ নাসিম
আর আল্লাহর বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করার কোনো বাহিনীই ছিলনা এবং সে নিজেও প্রতিরোধ করার সামর্থ রাখেনি।
এখানে অভিভাবকত্ব আল্লাহর, যিনি সত্য। তিনিই প্রতিদানে উত্তম এবং পরিণামে শ্রেষ্ঠ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এই ক্ষেত্রে কতৃর্ত্ব রই, যিনি সত্য ও পুরস্কার দানে ও পরিনাম নির্ধারনে তিনিই শ্রেষ্ঠ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের জন্যে দুনিয়ার জীবনের (এই) উপমা পেশ করো: দুনিয়ার জীবন হলো সেই পানির মতো যা আমরা আসমান থেকে নাযিল করি। তার ফলে জমিন থেকে ঘন সুনিবিষ্ট উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। তারপর সেগুলো শুকিয়ে চূর্ণ - বিচূর্ণ হয়ে যায়। ফলে বাতাস সেগুলোকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। প্রতিটি বিষয়ে ক্ষমতাবান।
আর আপনি তাদের জন্য পেশ করুন দুনিয়ার জীবনের উপমা তা পানির মত, যা আমি আসমান থেকে বর্ষণ করেছি। অতঃপর তার সাথে মিশ্রিত হয় যমীনের উদ্ভিদ। ফলে তা পরিণত হয় এমন শুকনো গুঁড়ায়, বাতাস যাকে উড়িয়ে নেয়। আর সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহাদের নিকট পেশ কর উপমা পার্থিব জীবনের : ইহা পানির ন্যায় যাহা আমি বর্ষণ করি আকাশ হইতে, যদ্দ্বারা ভূমিজ উদ্ভিদ ঘন - সন্নিবিষ্ট হইয়া উদ্গত হয়, অতঃপর উহা বিশুষ্ক হইয়া এমন চূর্ণ বিচূর্ণ হয় যে, বাতাসে উহাকে উড়াইয়া লইয়া যায়। সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
আবদুস শহীদ নাসিম
ধনমাল এবং সন্তান - সন্ততি দুনিয়ার জীবনের একটি সৌন্দর্য মাত্র, আর তোমার প্রভুর কাছে পুরস্কার আর প্রত্যাশিত বস্তু হিসেবে উত্তম হলো স্থায়ী ও চলমান পুণ্যকাজ।
সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দুনিয়ার জীবনের শোভা। আর স্থায়ী সৎকাজ তোমার রবের নিকট প্রতিদানে উত্তম এবং প্রত্যাশাতেও উত্তম।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ধনৈশ্বর্য ও সন্তান - সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা; এবং স্থায়ী সৎকর্ম তোমার প্রতিপালকের নিকট পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য শ্রেষ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত হিসাবেও উৎকৃষ্ট।
আবদুস শহীদ নাসিম
স্মরণ করো, যেদিন আমরা পর্বতমালাকে তলিয়ে দেবো এবং তুমি পৃথিবীকে দেখতে পাবে এক উন্মুক্ত প্রান্তর। সেদিন আমরা (সেখানে) সবাইকে হাশর (একত্র) করবো এবং একজনকেও অব্যাহতি দেবোনা।
স্মরণ কর সেদিনের কথা যেদিন আমি পর্বতকে করব সঞ্চালিত এবং তুমি পৃথিবীকে দেখবে একটি শূন্য প্রান্তর; সেদিন মানুষকে আমি একত্রিত করব এবং তাদের কেহকেও অব্যাহতি দিব না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
স্মরণ কর, যেদিন আমি পর্বতমালাকে করিব সঞ্চালিত এবং তুমি পৃথিবীকে দেখিবে উন্মুক্ত প্রান্তর, সেদিন তাহাদের সকলকে আমি একত্র করিব এবং উহাদের কাহাকেও অব্যাহতি দিব না,
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদেরকে তোমার প্রভুর সামনে সারিবদ্ধভাবে উপস্থাপন করা হবে। তখন বলা হবে, ‘আজ তোমরা আমাদের কাছে এসেছো ঠিক সেভাবে, যেভাবে আমরা প্রথমবার তোমাদের সৃষ্টি করেছিলাম। বরং তোমরা মনে করতে, তোমাদের জন্যে আমরা প্রতিশ্রুত দিনটি কখনো সংঘটিতই করবো না।’
আর তাদেরকে তোমার রবের সামনে উপস্থিত করা হবে কাতারবদ্ধ করে। ( বলবেন) ‘তোমরা আমার কাছে এসেছ তেমনভাবে, যেমন আমি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম; বরং তোমরা তো ভেবেছিলে আমি তোমাদের জন্য কোন প্রতিশ্রুত মুহূর্ত রাখিনি’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং উহাদেরকে তোমার প্রতিপালকের নিকট উপস্থিত করা হইবে সারিবদ্ধভাবে এবং বলা হইবে, ‘তোমাদেরকে প্রথমবার যেভাবে সৃষ্টি করিয়াছিলাম সেইভাবেই তোমরা আমার নিকট উপস্থিত হইয়াছ, অথচ তোমরা মনে করিতে যে, তোমাদের জন্য প্রতিশ্রুত ক্ষণ আমি কখনও উপস্থিত করিব না।’
আবদুস শহীদ নাসিম
কিতাব (আমলনামা, আমলের রেকর্ড) সামনে রাখা হবে। তুমি দেখবে, তাতে যা রেকর্ড করা আছে তার জন্যে অপরাধীরা ভয়ে আতংকগ্রস্ত থাকবে। তারা বলবে: হায় দুর্ভাগ্য আমাদের! এটা কেমন কিতাব (রেকর্ড), এ - তো আমাদের ছোট বড় কিছুই রেকর্ড করা ছাড়া বাদ দেয়নি। তারা যতো কাজই করে এসেছে সবই তাদের সামনে হাজির দেখতে পাবে। তোমার প্রভু কারো প্রতি যুলুম (অবিচার) করেন না।
আর আমলনামা রাখা হবে। তখন তুমি অপরাধীদেরকে দেখতে পাবে ভীত, তাতে যা রয়েছে তার কারণে। আর তারা বলবে, ‘হায় ধ্বংস আমাদের! কী হল এ কিতাবের! তা ছোট-বড় কিছুই ছাড়ে না, শুধু সংরক্ষণ করে’ এবং তারা যা করেছে, তা হাযির পাবে। আর তোমার রব কারো প্রতি যুলম করেন না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং উপস্থিত করা হইবে আমলনামা এবং উহাতে যাহা লিপিবদ্ধ আছে তাহার কারণে তুমি অপরাধীদেরকে দেখিবে আতংকগ্রস্ত এবং উহারা বলিবে, ‘হায়, দুর্ভাগ্য আমাদের! ইহা কেমন গ্রন্থ! উহা তো ছোট - বড় কিছুই বাদ দেয় না; বরং উহা সমস্ত হিসাব রাখিয়াছে।’ উহারা উহাদের কৃতকর্ম সম্মুখে উপস্থিত পাইবে ; তোমার প্রতিপালক কাহারও প্রতি জুলুম করেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা যখন ফেরেশতাদের বলেছিলাম, ‘আদমকে সাজদা করো’ তখন সবাই সাজদা করেছিল ইবলিস ছাড়া। সে ছিলো জিনদের একজন। সে তার প্রভুর আদেশ অমান্য করে সীমালংঘন করে। আর এখন তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে আর তার বংশধরদেরকে নিজেদের অলি (বন্ধু, অভিভাবক, পৃষ্ঠপোষক) বানিয়ে নিয়েছো? অথচ তারা হলো তোমাদের শত্রু। যালিমদের এই বদল করাটা কতো যে নিকৃষ্ট!
আর যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, তোমরা আদমকে সিজদা কর। অতঃপর তারা সিজদা করল, ইবলীস ছাড়া। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার রবের নির্দেশ অমান্য করল। তোমরা কি তাকে ও তার বংশকে আমার পরিবর্তে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? যালিমদের জন্য কী মন্দ বি
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং স্মরণ কর, আমি যখন ফিরিশ্তাগণকে বলিয়াছিলাম, ‘আদমের প্রতি সিজ্দা কর’, তখন তাহারা সকলেই সিজ্দা করিল ইব্লীস ব্যতীত; সে জিনদের একজন, সে তাহার প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করিল। তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে উহাকে এবং উহার বংশধরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করিতেছ? উহারা তো তোমাদের শত্রু। জালিমদের এই বিনিময় কত নিকৃষ্ট!
আবদুস শহীদ নাসিম
মহাবিশ্ব এবং পৃথিবীর সৃষ্টিকালে আমরা তাদের সাক্ষী রাখিনি, এমনকি তাদের নিজেদেরকে সৃষ্টি করার সময়ও নয়। আমরা বিপথগামীদেরকে সাহায্যকারী হিসাবে গ্রহণ করিনা।
আমি তাদেরকে আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টির সাক্ষী করিনি এবং না তাদের নিজদের সৃষ্টির। আর আমি পথভ্রষ্টকারীদেরকে সহায়তাকারী হিসেবে গ্রহণ করিনি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আকাশমণ্ডলীর ও পৃথিবীর সৃষ্টিকালে আমি উহাদেরকে ডাকি নাই এবং উহাদের সৃজনকালেও নয়, আমি বিভ্রান্তকারীদেরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করিবার নই।
আবদুস শহীদ নাসিম
সেদিনের কথা স্মরণ করো, যেদিন তিনি বলবেন: ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরিকদার মনে করতে তাদেরকে ডেকে আনো।’ তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তাদের ডাকে তারা কোনো সাড়া দেবেনা। আমরা তাদের উভয়ের মাঝপথে রেখে দেবো এক ধ্বংস গহবর।
আর যেদিন তিনি বলবেন, ‘তোমরা ডাক আমার শরীকদের, যাদেরকে তোমরা (শরীক) মনে করতে’। অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। আর আমি তাদের মধ্যে রেখে দেব ধ্বংসস্থল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং সেই দিনের কথা স্মরণ কর, যেদিন তিনি বলিবেন, ‘তোমরা যাহাদেরকে আমার শরীক মনে করিতে তাহাদেরকে আহ্বান কর।’ উহারা তখন তাহাদেরকে আহ্বান করিবে কিন্তু তাহারা উহাদের আহ্বানে সাড়া দিবে না এবং উহাদের উভয়ের মধ্যস্থলে রাখিয়া দিব এক ধ্বংস - গহ্বর।
আবদুস শহীদ নাসিম
অপরাধীরা আগুন দেখেই বুঝবে, তারা তাতে পড়তে যাচ্ছে এবং তারা তা থেকে বাঁচার কোনো জায়গা পাবেনা।
আর আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সকল প্রকার উপমা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। আর মানুষ সবচেয়ে বেশি তর্ককারী।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বিশদভাবে বর্ণনা করিয়াছি। মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্কপ্রিয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
মানুষের কাছে যখন হিদায়াত আসে তখন তাদেরকে ঈমান আনা এবং তাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা চাওয়া থেকে এছাড়া আর কিছুই বিরত রাখেনা যে, তারা চায়, তাদের আগের লোকদের সুন্নতই (রীতিই) তাদের কাছে আসুক, তা না হলে সরাসরি আল্লাহর আযাব আসুক।
আর যখন মানুষের নিকট হিদায়াত এসেছে, তখন তাদেরকে ঈমান আনতে কিংবা তাদের রবের কাছে ইস্তিগফার করতে বাধা প্রদান করেছে কেবল এ বিষয়টিই যে, পূর্ববর্তীদের (ব্যাপারে আমার নির্ধারিত) রীতি তাদের উপর পুনরায় নেমে আসবে কিংবা তাদের উপর আযাব সরাসরি এসে উপস্থিত হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন উহাদের নিকট পথনির্দেশ আসে তখন মানুষকে ঈমান আনা এবং তাহাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা হইতে বিরত রাখে কেবল ইহা যে, তাহাদের নিকট পূর্ববর্তীদের বেলায় অনুসৃত রীতি আসুক অথবা আসুক তাহাদের নিকট সরাসরি আযাব।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা তো আমাদের রসূলদের পাঠাই কেবল সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসেবে। অথচ কাফিররা বাতিলের পক্ষে বিতর্কে লিপ্ত হয় সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার উদ্দেশ্যে। আর তারা আমার আয়াতকে এবং যার মাধ্যমে তাদেরকে সতর্ক করা হয় তাকে বিদ্রূপের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে।
আর আমি তো রাসূলদেরকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপেই পাঠিয়েছি এবং যারা করেছে তারা বাতিল দ্বারা তর্ক করে, যাতে তার মাধ্যমে সত্যকে মিটিয়ে দিতে পারে। আর তারা আমার আয়াতসমূহকে এবং যা দিয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, তাকে উপহাস হিসেবে গ্রহণ করে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আমি কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপেই রাসূলগণকে পাঠাইয়া থাকি, কিন্তু কাফিররা মিথ্যা অবলম্বনে বিতণ্ডা করে, উহা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করিয়া দিবার জন্য এবং আমার নিদর্শনাবলী ও যদ্দ্বারা উহাদেরকে সতর্ক করা হইয়াছে সেই সমস্তকে উহারা বিদ্রপের বিষয়রূপে গ্রহণ করিয়া থাকে।
আবদুস শহীদ নাসিম
ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যাকে তার প্রভুর আয়াত স্মরণ করিয়ে দেয়ার পরও সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং সে তার কৃতকর্ম ভুলে যায়? আমরা তাদের অন্তরের উপর আবরণ সৃষ্টি করে দিয়েছি যেনো তারা তা (কুরআন) বুঝতে না পারে আর তাদের কানেও তুলা লাগিয়ে বধিরতা এঁটে দিয়েছি। ফলে তুমি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে ডাকলেও তারা কখনো হিদায়াতের পথে আসবে না।
আর তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে হতে পারে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে, অতঃপর সে তা থেকে বিমুখ হয়েছে এবং সে ভুলে গেছে যা তার দু-হাত পেশ করেছে? নিশ্চয় আমি তাদের অন্তরসমূহের উপর পর্দা দিয়ে দিয়েছি, যাতে তারা তা (কুরআন) বুঝতে না পারে। আর তাদের ক
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কোন ব্যক্তিকে তাহার প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী স্মরণ করাইয়া দেওয়ার পর সে যদি উহা হইতে মুখ ফিরাইয়া নেয় এবং তাহার কৃতকর্মসমূহ ভুলিয়া যায় তবে তাহার অপেক্ষা অধিক আর কে? আমি নিশ্চয়ই উহাদের অন্তরের উপর আবরণ দিয়াছি যেন উহারা কুরআন বুঝিতে না পারে এবং উহাদের কানে বধিরতা আঁটিয়া দিয়াছি। তুমি উহাদেরকে সৎপথে আহ্বান করিলেও উহারা কখনও সৎপথে আসিবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার প্রভু পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়। তিনি তাদের কৃতকর্মের জন্যে যদি তাদের পাকড়াও করতে চাইতেন, তবে অবশ্যি তাদের শাস্তি দানের বিষয়টি ত্বরান্বিত করতেন। বরং তাদের জন্যে রয়েছে একটি প্রতিশ্রুত সময় যা থেকে বাঁচার জন্যে তারা কিছুতেই কোনো আশ্রয়স্থল খুঁজে পাবেনা।
আর তোমার রব ক্ষমাশীল, দয়াময়। তারা যা উপার্জন করেছে, তার কারণে তিনি যদি তাদেরকে পাকড়াও করতেন তবে অবশ্যই তাদের জন্য আযাব ত্বরান্বিত করতেন। বরং তাদের জন্য রয়েছে প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা কোন আশ্রয়স্থল পাবে না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং তোমার প্রতিপালক পরম ক্ষমাশীল, দয়াবান, উহাদের কৃতকর্মের জন্য যদি তিনি উহাদেরকে পাকড়াও করিতে চাহিতেন, তবে তিনি অবশ্যই উহাদের শাস্তি ত্বরান্বিত করিতেন; কিন্তু উহাদের জন্য রহিয়াছে এক প্রতিশ্রুত মুহূর্ত, যাহা হইতে উহারা কখনই কোন আশ্রয়স্থল পাইবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা যেসব জনপদ ধ্বংস করেছি, সেগুলো ধ্বংস করেছি তো তখন, যখন তারা যুলুম করেছিল। আর তাদের ধ্বংস করার জন্যেও আমরা একটি প্রতিশ্রুত সময় নির্ধারণ করেছিলাম।
অতঃপর যখন তারা অগ্রসর হল তখন সে তার যুবককে বলল, ‘আমাদের সকালের খাবার নিয়ে আস। আমাদের এই সফরে আমরা অনেক ক্লান্তির মুখোমুখি হয়েছি’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন উহারা আরো অগ্রসর হইল মূসা তাহার সঙ্গীকে বলিল, ‘আমাদের প্রাতঃরাশ আন, আমরা তো আমাদের এই সফরে ক্লান্ত হইয়া পড়িয়াছি।’
আবদুস শহীদ নাসিম
সে বললো: ‘আপনি লক্ষ্য করেছেন কি, আমরা যখন পাথর খন্ডে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখন আমি মাছটির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শয়তানই সেটির কথা বলতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। সেটি বিস্ময়করভাবে নিজের পথ তৈরি করে নিয়ে সমুদ্রে নেমে গিয়েছিল।
সে বলল, আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে, যখন আমরা পাথরটিতে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখন আমি মাছটি হারিয়ে ফেলি। আর আমাকে তা স্মরণ করতে ভুলিয়েছে কেবল শয়তান এবং আশ্চর্যজনকভাবে তা সমুদ্রে তার পথ করে নিয়েছে’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলিল, ‘আপনি কি লক্ষ্য করিয়াছেন, আমরা যখন শিলাখণ্ডে বিশ্রাম করিতেছিলাম তখন আমি মৎস্যের কথা ভুলিয়া গিয়াছিলাম? শয়তানই উহার কথা বলিতে আমাকে ভুলাইয়া দিয়াছিল; মৎস্যটি আশ্চর্যজনকভাবে নিজের পথ করিয়া নামিয়া গেল সমুদ্রে।’
আবদুস শহীদ নাসিম
মূসা বললো: ‘আমরা তো সেই জায়গাটারই সন্ধান করছিলাম। তখন তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চললো।
অতঃপর তারা আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এক বান্দাকে পেল, যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছি এবং তাকে আমার পক্ষ থেকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর উহারা সাক্ষাৎ পাইল আমার বান্দাদের মধ্যে একজনের, যাহাকে আমি আমার নিকট হইতে অনুগ্রহ দান করিয়াছিলাম ও আমার নিকট হইতে শিক্ষা দিয়াছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান।
আবদুস শহীদ নাসিম
মূসা তাকে বললো: ‘আপনাকে সঠিক পথের যে জ্ঞান দান করা হয়েছে, তা থেকে আমাকে শিক্ষা দেবেন এই শর্তে আমি আপনার সাথি হতে পারি কি?
সে বলল, ‘তবে আপনি যদি আমাকে অনুসরণ করেন, তাহলে কোন বিষয় সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যতক্ষণ না আমি সে সম্পর্কে আপনাকে জানাই’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলিল, ‘আচ্ছা, আপনি যদি আমার অনুসরণ করিবেনই তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করিবেন না, যতক্ষণ না আমি সে সম্বন্ধে আপনাকে কিছু বলি।’
আবদুস শহীদ নাসিম
ফলে তারা দু’জনই চলতে থাকলো। অত:পর তারা যখন নৌকায় উঠলো, সে ছিদ্র করে দিলো। তখন মূসা বললো: ‘আপনি কি আরোহীদের ডুবিয়ে দেয়ার জন্যে এটি ছিদ্র করে দিলেন নৌকাটি? আপনি তো একটা গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।’
অতঃপর তারা চলতে থাক। অবশেষে যখন তারা জাহাজে চড়ল, সে তা ফুটো করে দিল। সে বলল, ‘আপনি কি তার আরোহীদের ডুবানোর জন্য তা ফুটো করে দিলেন? আপনি অবশ্যই মন্দ কাজ করলেন’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর উভয়ে চলিতে লাগিল, পরে যখন উহারা নৌকায় আরোহণ করিল তখন সে উহা বিদীর্ণ করিয়া দিল। মূসা বলিল, ‘আপনি কি আরোহীদেরকে নিমজ্জিত করিয়া দিবার জন্য উহা বিদীর্ণ করিলেন? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করিলেন।’
আবদুস শহীদ নাসিম
সে বললো: ‘আমি কি আপনাকে বলিনি, আপনি আমার সাথে থেকে কিছুতেই সবর করতে পারবেন না?’
সে বলল, ‘আমি যা ভুলে গিয়েছি, সে ব্যাপারে আমাকে ধরবেন না এবং আমাকে আমার বিষয়ে কঠোর আচরণ করবেন না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মূসা বলিল, ‘আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করিবেন না ও আমার ব্যাপারে অত্যধিক কঠোরতা অবলম্বন করিবেন না।’
আবদুস শহীদ নাসিম
পুনরায় তারা চললো। চলতে চলতে তারা যখন একটি বালকের সাক্ষাত পেলো, সে সেই বালকটিকে হত্যা করলো। মূসা বললো: ‘আপনি একজন নিষ্পাপ ব্যক্তিকে হত্যা করলেন, হত্যার অপরাধ ছাড়াই? আপনি একটি গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।’
অতঃপর তারা চলতে লাগল। অবশেষে যখন তারা এক বালকের সাক্ষাৎ পেল, তখন সে তাকে হত্যা করল। সে বলল, ‘আপনি নিষ্পাপ ব্যক্তিকে হত্যা করলেন, যে কাউকে হত্যা করেনি? আপনি তো খুবই মন্দ কাজ করলেন’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর উভয়ে চলিতে লাগিল, চলিতে চলিতে উহাদের সঙ্গে এক বালকের সাক্ষাৎ হইলে সে উহাকে হত্যা করিল। তখন মূসা বলিল, ‘আপনি কি এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করিলেন, হত্যার অপরাধ ছাড়াই? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করিলেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
সে বললো: ‘আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আপনি কিছুতেই আমার সাথে সবর করতে পারবেন না?’
মূসা বলল, ‘এরপর যদি আমি আপনাকে আর কোন বিষয়ে প্রশ্ন করি, তাহলে আপনি আমাকে আর আপনার সাথে রাখবেন না। আমার পক্ষ থেকে আপনি ওযর পেয়ে গেছেন’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মূসা বলিল, ‘ইহার পর, যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি তবে আপনি আমাকে সঙ্গে রাখিবেন না ; আমার ‘ওযর - আপত্তির চূড়ান্ত হইয়াছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
পুনরায় তারা উভয়ে চলতে শুরু করলো। চলতে চলতে এক গাঁয়ের অধিবাসীদের কাছে এসে তারা খাবার চাইলো। তারা তাদের মেহেমানদারী করতে অস্বীকার করে। তারা সেখানে একটি হেলে থাকা প্রাচীর দেখতে পায় এবং সে সেটি দাঁড় করিয়ে মজবুত করে দেয়। মূসা বললো: ‘আপনি চাইলে এ কাজের জন্যে পারিশ্রমিক নিতে পারতেন।’
অতঃপর তারা দু’জন চলতে শুরু করল। অবশেষে যখন তারা একটি জনপদের অধিবাসীদের নিকট পৌঁছল তখন তাদের কাছে কিছু খাবার চাইল; কিন্তু তারা তাদেরকে মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে একটি প্রাচীর দেখতে পেল, যা পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সে তখন প্রাচীরটি সোজ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর উভয়ে চলিতে লাগিল; চলিতে চলিতে উহারা এক জনপদের অধিবাসীদের নিকট পৌঁছিয়া তাহাদের নিকট খাদ্য চাহিল; কিন্তু তাহারা তাহাদের মেহমানদারী করিতে অস্বীকার করিল। অতঃপর সেখানে তাহারা এক পতনোন্মুখ প্রাচীর দেখিতে পাইল এবং সে উহাকে সুদৃঢ় করিয়া দিল। মূসা বলিল, ‘আপনি তো ইচ্ছা করিলে ইহার জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করিতে পারিতেন।’
আবদুস শহীদ নাসিম
সে বললো: ‘‘এখানেই আমার সাথে আপনার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেলো। যেসব বিষয়ে আপনি সবর করতে পারেননি, আমি সেগুলোর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছি।
সে বলল, ‘এখানেই আমার ও আপনার মধ্যে বিচ্ছেদ। যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি আমি এখন আপনাকে তার ব্যাখ্যা দিচ্ছি’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলিল, ‘এইখানেই আপনার এবং আমার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হইল, যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করিতে পারেন নাই আমি তাহার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করিতেছি।
আবদুস শহীদ নাসিম
প্রথমেই সেই নৌকাটির বিষয়। সেটি ছিলো কয়েকজন অভাবী লোকের, তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষণ করতো। আমি ইচ্ছা করলাম নৌকাটি ত্রুটিযুক্ত করে দেয়ার, কারণ সামনেই ছিলো এক রাজা, সে জোরপূর্বক সব নৌকা ছিনিয়ে নেয়।
‘নৌকাটির বিষয় হল, তা ছিল কিছু দরিদ্র লোকের যারা সমুদ্রে কাজ করত। আমি নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করতে চেয়েছি কারণ তাদের পেছনে ছিল এক রাজা, যে নৌকাগুলো জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিচ্ছিল’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘নৌকাটির ব্যাপার - ইহা ছিল কতিপয় দরিদ্র ব্যক্তির, উহারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষণ করিত; আমি, ইচ্ছা করিলাম নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করিতে; কারণ উহাদের পশ্চাতে ছিল এক রাজা, যে বলপ্রয়োগে নৌকাসকল ছিনাইয়া লইত।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর বালকটি, তার বাবা - মা ছিলেন , আমাদের আশংকা হয়, সে অব্যাধ্যতা ও কুফুরির মাধ্যমে তাদের বিব্রত করবে।
‘আর বালকটির বিষয় হল, তার পিতা-মাতা ছিল । অতঃপর আমি আশংকা* করলাম যে, সে সীমালংঘন ও দ্বারা তাদেরকে অতিষ্ঠ করে তুলবে’। * তাঁর আশংকা নিছক ধারণা ভিত্তিক ছিল না, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি নিশ্চিত জানতে পেরেছিলেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আর কিশোরটি, তাহার পিতামাতা ছিল । আমি আশংকা করিলাম যে, সে বিদ্রোহাচরণ ও কুফরীর দ্বারা উহাদেরকে বিব্রত করিবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাই আমরা চাইলাম তাদের প্রভু যেনো তাদেরকে ওর পরিবর্তে ওর চাইতে উত্তম, পবিত্র ও ভক্তি ভালোবাসায় নৈকট্য লাভকারী একটি সন্তান দান করেন।
‘তাই আমি চাইলাম, তাদের রব তাদেরকে তার পরিবর্তে এমন সন্তান দান করবেন, যে হবে তার চেয়ে পবিত্রতায় উত্তম এবং দয়ামায়ায় অধিক ঘনিষ্ঠ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘অতঃপর আমি চাহিলাম যে, উহাদের প্রতিপালক যেন উহাদেরকে উহার পরিবর্তে এক সন্তান দান করেন, যে হইবে পবিত্রতায় মহত্তর ও ভক্তি - ভালবাসায় ঘনিষ্ঠতর।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর প্রাচীরটির বিষয় হলো, ওটি ছিলো দুই এতিম কিশোরের। প্রাচীরের নিচে আছে তাদের গুপ্তধন আর তাদের পিতা ছিলেন একজন পুণ্যবান ব্যক্তি। সুতরাং আপনার প্রভু দয়া করে চাইলেন তারা বয়ঃপ্রাপ্ত হোক এবং তারা নিজেদের ধনভান্ডার উদ্ধার করুক। আমি কিছুই নিজ থেকে করিনি। আপনি যেসব বিষয়ে সবর করতে পারেননি, এ - ই হলো সেগুলোর ব্যাখ্যা।’’
‘আর প্রাচীরটির বিষয় হল, তা ছিল শহরের দু’জন ইয়াতীম বালকের এবং তার নিচে ছিল তাদের গুপ্তধন। আর তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। তাই আপনার রব চাইলেন যে, তারা দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে তাদের গুপ্তধন বের করে নেবে। এ সবই আপনার রবের রহমত স্বরূপ। আমি নিজ থেকে তা করিনি। এ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আর ঐ প্রাচীরটি, ইহা ছিল নগরবাসী দুই পিতৃহীন কিশোরের, ইহার নিম্নদেশে আছে উহাদের গুপ্তধন এবং উহাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। সুতরাং আপনার প্রতিপালক দয়াপরবশ হইয়া ইচ্ছা করিলেন যে, উহারা বয়ঃপ্রাপ্ত হউক এবং উহারা উহাদের ধনভাণ্ডার উদ্ধার করুক। আমি নিজ হইতে কিছু করি নাই; আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য ধারণে অপারগ হইয়াছিলেন, ইহাই তাহার ব্যাখ্যা।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা তোমার কাছে জানতে চাইছে যুলকারনাইন সম্পর্কে। তুমি বলো, আমি তার সম্পর্কে তোমাদের কাছে তিলাওয়াত করছি :
আমি তাকে যমীনে কর্তৃত্ব দান করেছিলাম এবং সববিষয়ের উপায়- উপকরণ দান করেছিলাম।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আমি তো তাহাকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দিয়াছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের উপায় - উপকরণ দান করিয়াছিলাম।
আবদুস শহীদ নাসিম
ফলে সে পথ ধরে অগ্রসর হলো।
Arabic, with marks
فَأَتْبَعَ سَبَبًا
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতঃপর সে একটি পথ অবলম্বন করল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর সে এক পথ অবলম্বন করিল।
আবদুস শহীদ নাসিম
এমন কি সে সূর্যাস্তের স্থানে এসে পৌঁছায়। সে সূর্যকে এক পংকিল জলাশয়ে অস্তমিত হতে দেখে এবং সেখানে একটি কওমকেও দেখতে পায়। আমরা তাকে বললাম, হে যুলকারনাইন! তুমি এদের শাস্তি দিতে পারো, অথবা তাদের ব্যাপারে সদয় মনোভাব গ্রহণ করতে পারো।
অবশেষে যখন সে সূর্যাস্তের স্থানে পৌঁছল, তখন সে সূর্যকে একটি কর্দমাক্ত পানির ঝর্ণায় ডুবতে দেখতে পেল এবং সে এর কাছে একটি জাতির দেখা পেল। আমি বললাম, ‘হে যুলকারনাইন, তুমি তাদেরকে আযাবও দিতে পার অথবা তাদের ব্যাপারে সদাচরণও করতে পার’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
চলিতে চলিতে সে যখন সূর্যের অস্তগমন স্থানে পৌঁছিল তখন সে সূর্যকে এক পংকিল জলাশয়ে অস্তগমন করিতে দেখিল এবং সে সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখিতে পাইল। আমি বলিলাম, ‘হে যুল - কার্নাইন! তুমি ইহাদেরকে শাস্তি দিতে পার অথবা ইহাদের ব্যাপার সদয়ভাবে গ্রহণ করিতে পার।’
আবদুস শহীদ নাসিম
সে বললো: যে কেউ যুলুম করবে, আমরা তাকে শাস্তি দেবো। তারপর সে তার প্রভুর কাছে ফিরে যাবে এবং তিনি তাকে কঠিন শাস্তি দেবেন।
‘আর যে ব্যক্তি ঈমান আনবে এবং সৎকাজ করবে, তার জন্য রয়েছে উত্তম পুরস্কার। আর আমি আমার ব্যবহারে তার সাথে নরম কথা বলব’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘তবে যে ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে তাহার জন্য প্রতিদানস্বরূপ আছে কল্যাণ এবং তাহার প্রতি ব্যবহারে আমি নম্র কথা বলিব।’
আবদুস শহীদ নাসিম
সে পুনরায় অন্যদিকে পথ ধরে অগ্রসর হলো।
Arabic, with marks
ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারপর সে আরেক পথ অবলম্বন করল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আবার সে এক পথ ধরিল,
আবদুস শহীদ নাসিম
শেষ পর্যন্ত সে সূর্যোদয়ের স্থানে এসে পৌঁছালো। সে দেখলো, সূর্য উঠছে এমন এক জাতির উপর, যাদের জন্যে সূর্য তাপ থেকে রক্ষার জন্যে আমরা কোনো অন্তরাল সৃষ্টি করিনি।
অবশেষে সে যখন সূর্যোদয়ের স্থানে এসে পৌঁছল তখন সে দেখতে পেল, তা এমন এক জাতির উপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্য আমি সূর্যের বিপরীতে কোন আড়ালের ব্যবস্থা করিনি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
চলিতে চলিতে যখন সে সূর্যোদয় - স্থলে পৌঁছিল তখন সে দেখিল উহা এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হইতেছে যাহাদের জন্য সূর্যতাপ হইতে কোন অন্তরাল আমি সৃষ্টি করি নাই;
আবদুস শহীদ নাসিম
ব্যাপার তাই ছিলো। তার কাছে যেসব খবর ছিলো আমরা তা জানতাম।
Arabic, with marks
كَذَٰلِكَ وَقَدْ أَحَطْنَا بِمَا لَدَيْهِ خُبْرًا
বয়ান ফাউন্ডেশন
প্রকৃত ঘটনা এটাই। আর তার নিকট যা ছিল, আমি সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
প্রকৃত ঘটনা ইহাই, তাহার নিকট যাহা কিছু ছিল আমি সম্যক অবগত আছি।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর সে আরেক দিকে পথ ধরে অগ্রসর হলো।
Arabic, with marks
ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারপর সে আরেক পথ অবলম্বন করল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আবার সে এক পথ ধরিল,
আবদুস শহীদ নাসিম
শেষ পর্যন্ত সে এসে পৌঁছায় দুই পর্বত প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থানে। এখানে সে আরেকটি জাতির সন্ধান পেলো। তারা কোনো কথাই বুঝার মতো ছিলো না।
অবশেষে যখন সে দুই পর্বতের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছল, তখন সেখানে সে এমন এক জাতিকে পেল, যারা তার কথা তেমন একটা বুঝতে পারছিল না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
চলিতে চলিতে সে যখন দুই পর্বত - প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থলে পৌঁছিল তখন সেখানে সে এক সম্প্রদায়কে পাইল যাহারা কোন কথা বুঝিবার মত ছিল না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলেছিল: হে যুলকারনাইন! ইয়াজুজ (জাতি) ও মাজুজ (জাতি) আমাদের দেশে এসে অশান্তি সৃষ্টি করছে। আমরা কি আপনাকে খরচ দেবো, আপনি আমাদের ও তাদের মাঝে একটি প্রাচীর গড়ে দেবেন?
তারা বলল, ‘হে যুলকারনাইন! নিশ্চয় ইয়া’জূজ ও মা’জূজ যমীনে অশান্তি সৃষ্টি করছে, তাই আমরা কি আপনাকে এ জন্য কিছু খরচ দেব যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটা প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন’?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা বলিল, ‘হে যুল - কার্নাইন! ইয়াজূজ ও মাজূজ তো পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করিতেছে। আমরা কি আপনাকে খরচ দিব যে, আপনি আমাদের ও উহাদের মধ্যে এক প্রাচীর গড়িয়া দিবেন’?
আবদুস শহীদ নাসিম
সে বললো: ‘আমার প্রভু আমাকে এ বিষয়ে যে ক্ষমতা দিয়েছেন তাই আমার জন্যে যথেষ্ট। তোমরা আমাকে শ্রমশক্তি দিয়ে সাহায্য করো, আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যবর্তী স্থানে একটি প্রাচীর গড়ে দেবো।’
সে বলল, ‘আমার রব আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, সেটাই উত্তম। সুতরাং তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মাঝখানে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলিল, ‘আমার প্রতিপালক আমাকে এই বিষয়ে যে ক্ষমতা দিয়াছেন, তাহাই উৎকৃষ্ট। সুতরাং তোমরা আমাকে শ্রম দ্বারা সাহায্য কর, আমি তোমাদের ও উহাদের মধ্যস্থলে এক মযবুত প্রাচীর গড়িয়া দিব।
আবদুস শহীদ নাসিম
‘তোমরা আমাকে অনেকগুলো লৌহ পিন্ড এনে দাও।’ তারপর লোহার স্তূপ মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা পূর্ণ হয়ে যখন দুই পর্বতের সমান হলো, তখন সে বললো: ‘তোমরা হাঁপরে হাওয়া দিতে থাকো। যখন সেগুলো আগুনের মতো উত্তপ্ত হলো, তখন সে বললো: তোমরা গলিত তামা নিয়ে আসো, আমি সেগুলো ঢেলে দেবো এর উপর।’
‘তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও’। অবশেষে যখন সে দু’পাহাড়ের মধ্যবর্তী জায়গা সমান করে দিল, তখন সে বলল, ‘তোমরা ফুঁক দিতে থাক’। অতঃপর যখন সে তা আগুনে পরিণত করল, তখন বলল, ‘তোমরা আমাকে কিছু তামা দাও, আমি তা এর উপর ঢেলে দেই’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘তোমরা আমার নিকট লৌহপিণ্ডসমূহ আনয়ন কর’, অতঃপর মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হইয়া যখন লৌহস্তূপ দুই পর্বতের সমান হইল তখন সে বলিল, ‘তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক।’ যখন উহা অগ্নিবৎ উত্তপ্ত হইল, তখন সে বলিল, ‘তোমরা গলিত তাম্র আনয়ন কর, আমি উহা ঢালিয়া দেই ইহার উপর।’
আবদুস শহীদ নাসিম
এরপর থেকে তারা আর তা অতিক্রম করতে পারলো না এবং তার মধ্যে সুড়ঙ্গও তৈরি করতে পারলো না।
সে বলল, ‘এটা আমার রবের অনুগ্রহ। অতঃপর যখন আমার রবের ওয়াদাকৃত সময় আসবে তখন তিনি তা মাটির সাথে মিশিয়ে দেবেন। আর আমার রবের ওয়াদা সত্য’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলিল, ‘ইহা আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ। যখন আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হইবে তখন তিনি উহাকে চূর্ণ - বিচূর্ণ করিয়া দিবেন এবং আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি সত্য।’
আবদুস শহীদ নাসিম
সেদিন আমরা তাদের এমন অবস্থায় ছেড়ে দেবো যে, তারা এক দল আরেক দলের উপর তরঙ্গের মতো অাঁছড়ে পড়বে এবং শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং তাদের সবাইকে এক জায়গায় জমা করে ফেলবো।
আর সেদিন আমি তাদেরকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেব যে, তারা একদল আরেক দলের উপর তরঙ্গমালার মত আছড়ে পড়বে এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্র করব।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সেই দিন আমি উহাদেরকে ছাড়িয়া দিব এই অবস্থায় যে, একদল আর একদলের উপর তরঙ্গের ন্যায় পতিত হইবে এবং শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে। অতঃপর আমি উহাদের সকলকেই একত্র করিব।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর সেদিন আমরা জাহান্নামকে সেইসব কাফিরদের জন্যে সামনে এনে হাজির করবো,
আমার স্মরণ থেকে যাদের চোখ ছিল আবরণে ঢাকা এবং যারা শুনতেও ছিল অক্ষম।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহাদের চক্ষু ছিল অন্ধ আমার নিদর্শনের প্রতি এবং যাহারা শুনিতেও ছিল অক্ষম।
আবদুস শহীদ নাসিম
কাফিররা কি ধারণা করে নিয়েছে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদের অলি হিসেবে গ্রহণ করবে? আমরা কাফিরদের জন্যে আতিথ্য হিসেবে প্রস্তুত করে রেখেছি জাহান্নাম।
যারা করছে, তারা কি মনে করেছে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে? নিশ্চয় আমি জাহান্নামকে কাফিরদের আপ্যায়নের জন্য প্রস্তুত করছি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহারা করিয়াছে তাহারা কি মনে করে যে, তাহারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করিবে? নিশ্চয়ই আমি কাফিরদের আপ্যায়নের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছি জাহান্নাম।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: আমরা কি তোমাদের সংবাদ দেবো, আমলের দিক থেকে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত কারা?
দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করছে যে, তারা ভাল কাজই করছে’!
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারাই তাহারা, ‘পার্থিব জীবনে যাহাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়, যদিও তাহারা মনে করে যে, তাহারা সৎকর্মই করিতেছে,
আবদুস শহীদ নাসিম
এরাই তাদের প্রভুর আয়াত এবং তাঁর সাথে সাক্ষাত হওয়াকে অস্বীকার করে। ফলে নিষ্ফল হয়ে যায় তাদের সব আমল। তাই আমরা কিয়ামতের দিন তাদের জন্যে ওজন কায়েম করবো না।
‘তারাই সেসব লোক, যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে। ফলে তাদের সকল আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। সুতরাং আমি তাদের জন্য কিয়ামতের দিন কোন ওজনের ব্যবস্থা রাখব না’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘উহারাই তাহারা, যাহারা অস্বীকার করে উহাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী ও তাঁহার সঙ্গে উহাদের সাক্ষাতের বিষয়। ফলে উহাদের কর্ম নিষ্ফল হইয়া যায়; সুতরাং কিয়ামতের দিন উহাদের জন্য ওজনের কোন ব্যবস্থা রাখিব না।
আবদুস শহীদ নাসিম
এরা প্রতিদান পাবে জাহান্নাম তাদের কুফুরির কারণে আর এ কারণে যে, তারা আমার আয়াত এবং আমার রসূলদেরকে বিদ্রূপের লক্ষ্যস্থল বানিয়েছে।
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের মেহমানদারির জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহাদের আপ্যায়নের জন্য আছে ফিরদাওসের উদ্যান,
আবদুস শহীদ নাসিম
চিরদিন থাকবে তারা সেখানে। তারা সেখান থেকে স্থানান্তর হতে চাইবে না।
Arabic, with marks
خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا
বয়ান ফাউন্ডেশন
সেখানে তারা স্থায়ী হবে। তারা সেখান থেকে অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হতে চাইবে না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সেখানে উহারা স্থায়ী হইবে, উহা হইতে স্থানান্তর কামনা করিবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: আমার প্রভুর কথা লেখার জন্যে সমুদ্র যদি কালি হয়, তবে আমার প্রভুর কথা শেষ হবার পূর্বেই সমুদ্র শুকিয়ে যাবে, এমনকি এ কাজের সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো সমুদ্র আনলেও।
বল, ‘আমার রবের কথা লেখার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়ে যায় তবে সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে আমার রবের কথা শেষ হওয়ার আগেই। যদিও এর সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো সমুদ্র নিয়ে আসি’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘আমার প্রতিপালকের কথা লিপিবদ্ধ করিবার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়, তবে আমার প্রতিপালকের কথা শেষ হইবার পূর্বেই সমুদ্র নিঃশেষ হইয়া যাইবে - আমরা ইহার সাহায্যার্থে ইহার অনুরূপ আরও সমুদ্র আনিলেও।’
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ। তবে আমার কাছে অহি আসে যে, তোমাদের ইলাহ্ একজন মাত্র ইলাহ্। যে কেউ তার প্রভুর সাক্ষাতের প্রত্যাশা করে, সে যেনো আমলে সালেহ্ করে এবং তার প্রভুর ইবাদতে কাউকেও শরিক না করে।
বল, ‘আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহই এক । সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষই, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহ্ একমাত্র ইলাহ্। সুতরাং যে তাহার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে ও তাহার প্রতিপালকের ‘ইবাদতে কাহাকেও শরীক না করে।’