Kitab

হুদ

Chapter 11, 123 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • Arabic, with marks
  • বয়ান ফাউন্ডেশন
  • মুহিউদ্দীন খান
About this chapter


মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১২৩, রুকু সংখ্যা: ১০

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-০৪মানবজাতিকে এক আল্লাহর ইবাদত, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাঁর দিকে ফিরে আসার দাওয়াত দিতে রসূলের প্রতি নির্দেশ। ০৫-১১আল্লাহ্ মহাজ্ঞানী, সকল জীবের রিযিকদাতা, মহাবিশ্বের স্রষ্টা। পরকালের প্রতি মানুষের অস্বীকৃতি। কারা ক্ষমা লাভ করবে? ১২-২৪কুরআনের প্রতি সন্দেহপোষণকারীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ। দুনিয়া পূজারিদের জন্য আখিরাতে কোনো অংশ নেই। আল্লাহর পথে বাধাদানকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত। যারা ঈমান আনে এবং ভালো কাজ করে তারাই সফল। ২৫-৪৯নূহ আ.-এর জাতির প্রতি তাঁর দাওয়াত ও উপদেশ, তাঁর জাতির হঠকারিতা এবং তাদের ধ্বংস ও মুমিনদের মুক্তির ইতিহাস। ৫০-৬০আদ জাতির কাছে হুদ আ.-এর দাওয়াত ও উপদেশ। আল্লাহর দিকে আসতে তাদের অস্বীকৃতি এবং তাদের ধ্বংসের ইতিহাস। ৬১-৬৮সামুদ জাতির কাছে সালেহ্ আ.-এর দাওয়াত এবং তাদের অবাধ্যতা ও ধ্বংসের ইতিহাস। ৬৯-৭৬ইবরাহিম আ.-এর কাছে ফেরেশতাদের আগমন এবং তাঁর বৃদ্ধা স্ত্রীকে পুত্র সন্তানের সুসংবাদ। ৭৭-৮৩লুত জাতির অপকর্ম, তাঁর জাতিকে ধ্বংসের জন্য ফেরেশতাদের আগমন এবং তাদের ধ্বংসের ইতিহাস। ৮৪-৯৫মাদিয়ানবাসীকে শুয়াইব আ. কর্তৃক সংশোধন প্রচেষ্টার ইতিহাস। তাদের অবাধ্যতা ও ধ্বংসের বিবরণ। ৯৬-৯৯ফিরাউন ও তার জাতির কাছে মূসা আ. এর দাওয়াত এবং তাদের অবাধ্যতার বিবরণ। ১০০-১২৩নবীর অবাধ্য হওয়ার ব্যাপারে মানবজাতির প্রতি সতর্কবাণী। নবীর দাওয়াত গ্রহণের মাধ্যমে মানবজাতির ভাগ্যবান ও দুর্ভাগা এই দুভাগে বিভক্তি। বিরুদ্ধবাদীদের মোকাবেলায় নবীর প্রতি অনুসরণীয় নির্দেশাবলি।
আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ লাম রা। এটি একটি কিতাব এর আয়াতসমূহ বিজ্ঞানময় সুবিন্যস্ত, বিশদভাবে বর্ণিত, মহাবিজ্ঞানী সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

Arabic, with marks

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ الر ۚ كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আলিফ-লাম-রা। এটি কিতাব যার আয়াতসমূহ সুস্থিত করা হয়েছে, অতঃপর বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে প্রজ্ঞাময়, সবিশেষ অবহিত সত্ত্বার পক্ষ থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

আলিফ, লা - ম, রা; এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াত সমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত অতঃপর সবিস্তারে বর্ণিত এক মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ হতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী! জানিয়ে দাও,) তোমরা ছাড়া আর কারো ইবাদত (আনুগত্য, দাসত্ব, পূজা, উপাসনা, প্রার্থনা) করোনা। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।

Arabic, with marks

أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ ۚ إِنَّنِي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

(এ মর্মে) যে, তোমরা ছাড়া কারো ইবাদাত করো না। নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।

মুহিউদ্দীন খান

যেন তোমরা ব্যতীত অন্য কারো বন্দেগী না কর। নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি তাঁরই পক্ষ হতে সতর্ককারী ও সুসংবাদ দাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর দিকে ফিরে আসো, তাহলে তিনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদের উত্তম জীবন সামগ্রী উপভোগ করার সুযোগ দেবেন এবং প্রত্যেক মর্যাদাবানকে দেবেন তার প্রাপ্য মর্যাদা। কিন্তু তোমরা যদি (একথা না মেনে) মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের জন্যে আশংকা করছি এক গুরুতর দিনের আযাবের।

Arabic, with marks

وَأَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُم مَّتَاعًا حَسَنًا إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى وَيُؤْتِ كُلَّ ذِي فَضْلٍ فَضْلَهُ ۖ وَإِن تَوَلَّوْا فَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ كَبِيرٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও। তারপর তার কাছে ফিরে যাও, (তাহলে) তিনি তোমাদেরকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উত্তম ভোগ-উপকরণ দেবেন এবং প্রর্তেক আনুগত্যশীলকে তাঁর আনুগত্য মুতাবিক দান করবেন। আর যদি তারা ফিরে যায়, তবে আমি নিশ্চয় তোমাদের উপর বড় এক দিনের আযাবের

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা নিজেদের পালনকর্তা সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অনন্তর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর। তাহলে তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করবেন এবং অধিক আমলকারীকে বেশী করে দেবেন আর যদি তোমরা বিমুখ হতে থাক, তবে আমি তোমাদের উপর এক মহা দিবসের আযাবের আশঙ্কা করছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর কাছেই হবে তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তিনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

Arabic, with marks

إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আল্লাহর নিকটই তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাশীল।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর সান্নিধ্যেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

আবদুস শহীদ নাসিম

সাবধান! তারা তাঁর কাছ থেকে নিজেদের গোপন করার জন্যে তাদের বক্ষ দ্বিভাজ করে। সাবধান! তারা যখন তাদেরকে বস্ত্র দিয়ে ঢেকে নেয়, তখন তারা যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে তিনি তা জানেন। অবশ্যি তিনি অন্তরের খবর বিশেষভাবে অবহিত।

Arabic, with marks

أَلَا إِنَّهُمْ يَثْنُونَ صُدُورَهُمْ لِيَسْتَخْفُوا مِنْهُ ۚ أَلَا حِينَ يَسْتَغْشُونَ ثِيَابَهُمْ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ ۚ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ

বয়ান ফাউন্ডেশন

জেনে রাখ, নিশ্চয় তারা তাদের বুক ফিরিয়ে নেয়, যাতে তারা তার থেকে আত্মগোপন করতে পারে। জেনে রাখ, যখন তারা কাপড় আবৃত হয়, তখন তিনি জানেন যা তারা গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে। নিশ্চয় তিনি অন্তর্যামী।

মুহিউদ্দীন খান

জেনে রাখ, নিশ্চয়ই তারা নিজেদের বক্ষদেশ ঘুরিয়ে দেয় যেন আল্লাহর নিকট হতে লুকাতে পারে। শুন, তারা তখন কাপড়ে নিজেদেরকে আচ্ছাদিত করে, তিনি তখনও জানেন যা কিছু তারা চুপিসারে বলে আর প্রকাশ্যভাবে বলে। নিশ্চয় তিনি জানেন যা কিছু অন্তর সমূহে নিহিত রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

পৃথিবীতে বিচরণকারী সব জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর। তাদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী অবস্থানস্থল সম্পর্কে তিনি অবহিত। সবই একটি স্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

Arabic, with marks

۞ وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا ۚ كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যমীনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর রিয্কের দায়িত্ব আল্লাহরই এবং তিনি জানেন তাদের আবাসস্থল ও সমাধিস্থল* । সব কিছু আছে স্পষ্ট কিতাবে**। * এখানে مستقر বা আবাসস্থল বলতে মাতৃগর্ভে অবস্থান মতান্তরে মৃত্যু পর্যন্ত দুনিয়ায় অবস্থানকে বুঝানো হয়েছে। আর مستودع দ্বার

মুহিউদ্দীন খান

আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয়টি কালে এবং তাঁর আরশ ছিলো পানির উপর তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে উত্তম তা পরীক্ষার উদ্দেশ্যে। তুমি যদি তাদের বলো: ‘তোমরা অবশ্যি মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হবে,’ তখন কাফিররা অবশ্যি বলবে: ‘এতো এক সুস্পষ্ট ম্যাজিক।’

Arabic, with marks

وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ۗ وَلَئِن قُلْتَ إِنَّكُم مَّبْعُوثُونَ مِن بَعْدِ الْمَوْتِ لَيَقُولَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তিনিই আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপর, যাতে তিনি পরীক্ষা করেন, কে তোমাদের মধ্যে আমলে সর্বোত্তম। আর তুমি যদি বল, ‘মৃত্যুর পর নিশ্চয় তোমাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে’, তবে কাফিররা অবশ্যই বলবে, ‘এতো শুধুই স্পষ্ট যাদু’।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, "নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত ওঠানো হবে, তখন কাফেরেরা অবশ্য বলে এটা তো স্পষ্ট যাদু!";

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি একটা নির্দিষ্ট সময়কাল তাদের উপর আযাব স্থগিত রাখি, তখন তারা অবশ্যি বলবে: ‘কী কারণে আসছে না সে জিনিসটি?’ সাবধান! যেদিন সেটি তাদের কাছে আসবে, তা আর ফেরত নেয়া হবেনা এবং তারা যে বিষয়টাকে নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করছে তা তাদেরকে ঘেরাও করে ফেলবে।

Arabic, with marks

وَلَئِنْ أَخَّرْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ إِلَىٰ أُمَّةٍ مَّعْدُودَةٍ لَّيَقُولُنَّ مَا يَحْبِسُهُ ۗ أَلَا يَوْمَ يَأْتِيهِمْ لَيْسَ مَصْرُوفًا عَنْهُمْ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যদি আমি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের থেকে আযাব বিলম্বিত করি, তবে তারা অবশ্যই বলবে, ‘কোন্ বস্তু তাকে ঠেকিয়ে রাখল’? সাবধান ! যেদিন তাদের উপর তা নেমে আসবে, সেদিন তাদের থেকে তা ফেরানো হবে না এবং তারা যা নিয়ে উপহাস করত, তাদেরকে তা ঘিরে ফেলবে।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি আমি এক নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত তাদের আযাব স্থগিত রাখি, তাহলে তারা নিশ্চয়ই বলবে কোন জিনিসে আযাব ঠেকিয়ে রাখছে? শুনে রাখ, যেদিন তাদের উপর আযাব এসে পড়বে, সেদিন কিন্তু তা ফিরে যাওয়ার নয়; তারা যে ব্যাপারে উপহাস করত তাই তাদেরকে ঘিরে ফেলবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি মানুষকে আমাদের রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই এবং পরে তা তাদের থেকে উঠিয়ে নেই, তখন তারা হতাশ এবং অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে।

Arabic, with marks

وَلَئِنْ أَذَقْنَا الْإِنسَانَ مِنَّا رَحْمَةً ثُمَّ نَزَعْنَاهَا مِنْهُ إِنَّهُ لَيَئُوسٌ كَفُورٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যদি আমি মানুষকে আমার পক্ষ থেকে রহমত আস্বাদন করাই, অতঃপর তার থেকে তা কেড়ে নেই, নিশ্চয় সে তখন (হয়ে পড়বে) নিরাশ, অকৃতজ্ঞ।

মুহিউদ্দীন খান

আর অবশ্যই যদি আমি মানুষকে আমার রহমতের আস্বাদ গ্রহণ করতে দেই, অতঃপর তা তার থেকে ছিনিয়ে নেই; তাহলে সে হতাশ ও কৃতঘ্ন হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করার পর আমরা যদি তাদের সুখ - সম্পদের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখন অবশ্যি তারা বলবে: ‘আমার দুঃখ - দুর্দশা কেটে গেছে।’ তখন সে উল্লসিত ও অহংকারী হয়ে পড়ে।

Arabic, with marks

وَلَئِنْ أَذَقْنَاهُ نَعْمَاءَ بَعْدَ ضَرَّاءَ مَسَّتْهُ لَيَقُولَنَّ ذَهَبَ السَّيِّئَاتُ عَنِّي ۚ إِنَّهُ لَفَرِحٌ فَخُورٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করার পর যদি আমি তাকে নিআমত আস্বাদন করাই, তাহলে সে অবশ্যই বলবে, ‘আমার থেকে বিপদ-আপদ দূর হয়ে গেছে, আর সে হবে অতি উৎফুল্ল, অহঙ্কারী।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তার উপর আপতিত দুঃখ কষ্টের পরে তাকে সুখভোগ করতে দেই, তবে সে বলতে থাকে যে, আমার অমঙ্গল দূর হয়ে গেছে, আর সে আনন্দে আত্নহারা হয়, অহঙ্কারে উদ্দত হয়ে পড়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যারা সবর অবলম্বন করে এবং আমলে সালেহ্ করে তাদের জন্যে রয়েছে মাগফিরাত এবং বিশাল পুরস্কার।

Arabic, with marks

إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَٰئِكَ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

তবে যারা সবর করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যই রয়েছে ক্ষমা ও মহা প্রতিদান।

মুহিউদ্দীন খান

তবে যারা ধৈর্য্যধারণ করেছে এবং সৎকার্য করেছে তাদের জন্য ক্ষমা ও বিরাট প্রতিদান রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

লোকেরা যে বলে: ‘তার সাথে কোনো ধনভান্ডার নাযিল হলো না কেন? কিংবা তার সাথে ফেরেশতা এলোনা কেন?’ এ কারণে কি তুমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ অহির কিছু অংশ বর্জন করবে? এবং এর ফলে কি তোমার মন ছোট হয়ে যাবে? জেনে রাখো, তুমি তো কেবলমাত্র একজন সতর্ককারী। সব বিষয়ে উকিল - দায়িত্বশীল।

Arabic, with marks

فَلَعَلَّكَ تَارِكٌ بَعْضَ مَا يُوحَىٰ إِلَيْكَ وَضَائِقٌ بِهِ صَدْرُكَ أَن يَقُولُوا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ كَنزٌ أَوْ جَاءَ مَعَهُ مَلَكٌ ۚ إِنَّمَا أَنتَ نَذِيرٌ ۚ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

তাহলে সম্ভবত তুমি তোমার উপর অবতীর্ণ ওহীর কিছু বিষয় ছেড়ে দেবে এবং তোমার বুক সঙ্কুচিত হবে এ কারণে যে, তারা বলে, ‘কেন তার উপর ধন-ভান্ডার অবতীর্ণ হয়নি, কিংবা তার সাথে ফেরেশতা আসেনি’? তুমি তো শুধু সতর্ককারী আর সব কিছুর তত্ত্বাবধায়ক।

মুহিউদ্দীন খান

আর সম্ভবতঃ ঐসব আহকাম যা ওহীর মাধ্যমে তোমার নিকট পাঠানো হয়, তার কিছু অংশ বর্জন করবে? এবং এতে মন ছোট করে বসবে? তাদের এ কথায় যে, তাঁর উপর কোন ধন - ভান্ডার কেন অবতীর্ণ হয়নি? অথবা তাঁর সাথে কোন ফেরেশতা আসেনি কেন? তুমিতো শুধু সতর্ককারী মাত্র; আর সব কিছুরই দায়িত্বভার তো আল্লাহই নিয়েছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তারা বলে: ‘সে নিজেই এটা (কুরআন) রচনা করে নিয়েছে।’ তুমি বলো: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো তবে এটির অনুরূপ দশটি সূরা নিজেরা রচনা করে আনো এবং ছাড়া আর যাদেরকে পারো (সহযোগিতা নেয়ার জন্যে) ডেকে আনো।’

Arabic, with marks

أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ ۖ قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِّثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُم مِّن دُونِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

নাকি তারা বলে, ‘সে এটা রটনা করেছে’? বল, ‘তাহলে তোমরা এর অনুরূপ দশটি সূরা বানিয়ে নিয়ে আস এবং ছাড়া যাকে পার ডেকে আন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি বলে? কোরআন তুমি তৈরী করেছ? তুমি বল, তবে তোমরাও অনুরূপ দশটি সূরা তৈরী করে নিয়ে আস এবং ছাড়া যাকে পার ডেকে নাও, যদি তোমাদের কথা সত্য হয়ে থাকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমার এ আহবানে এগিয়ে না আসে, তবে জেনে রাখো, এটি (এই কুরআন) তো আল্লাহর এলেমের ভিত্তিতে নাযিল করা হয়েছে, আর তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। সুতরাং তোমরা কি মুসলিম (মান্যকারী) হবে?

Arabic, with marks

فَإِلَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا أُنزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ وَأَن لَّا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ فَهَلْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর তারা যদি তোমাদের আহবানে সাড়া না দেয়, তাহলে জেনে রাখ, এটা আল্লাহর জ্ঞান অনুসারেই নাযিল করা হয়েছে এবং তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ্ নেই। অতঃপর তোমরা কি অনুগত হবে?

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা যদি তোমাদের কথা পুরণ করতে অপারগ হয়; তবে জেনে রাখ, এটি আল্লাহর এলম দ্বারা অবতীর্ণ হয়েছে; আরো একীন করে নাও যে, ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই। অতএব, এখন কি তোমরা আত্নসমর্পন করবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা দুনিয়ার জীবন এবং তার শোভা সৌন্দর্য কামনা করে, আমরা দুনিয়াতেই তাদের কাজের পূর্ণ প্রতিফল দিয়ে থাকি এবং সেখানে তাদের কোনো প্রকার কম দেয়া হয়না।

Arabic, with marks

مَن كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবন ও তার জৌলুস কামনা করে, আমি সেখানে তাদেরকে তাদের আমলের ফল পুরোপুরি দিয়ে দেই এবং সেখানে তাদেরকে কম দেয়া হবে না।

মুহিউদ্দীন খান

যে ব্যক্তি পার্থিবজীবন ও তার চাকচিক্যই কামনা করে, হয় আমি তাদের দুনিয়াতেই তাদের আমলের প্রতিফল ভোগ করিয়ে দেব এবং তাতে তাদের প্রতি কিছুমাত্র কমতি করা হয় না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আখিরাতে তাদের জন্যে জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই থাকেনা। তারা এখানে যা করে আখিরাতে তা নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তাদের সব কাজই অর্থহীন।

Arabic, with marks

أُولَٰئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ ۖ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

এরাই তারা, আখিরাতে যাদের জন্য আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং তারা সেখানে যা করে তা বরবাদ হয়ে যাবে আর তারা যা করত, তা সম্পূর্ণ বাতিল।

মুহিউদ্দীন খান

এরাই হল সেসব লোক আখেরাতে যাদের জন্য আগুন ছাড়া নেই। তারা এখানে যা কিছু করেছিল সবই বরবাদ করেছে; আর যা কিছু উপার্জন করেছিল, সবই বিনষ্ট হল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি ঐ লোকদের সমতুল্য হতে পারে, যারা তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট প্রমাণের (কুরআনের) উপর প্রতিষ্ঠিত, যা তিলাওয়াত করে তাঁর প্রেরিত সাক্ষী (জিবরিল) এবং যার আগে এসেছিল মূসার উপর অবতীর্ণ কিতাব পথ প্রদর্শক ও রহমত হিসাবে? তারা এর প্রতি ঈমান রাখে। মানব দলসমূহের যারাই এটিকে অস্বীকার করে আগুনই হবে তাদের প্রতিশ্রুত স্থান। সুতরাং তুমি এটির সম্পর্কে কোনো প্রকার সন্দেহে থেকোনা। এটি তো তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে এক মহাসত্য। তবে অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করেনা।

Arabic, with marks

أَفَمَن كَانَ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّهِ وَيَتْلُوهُ شَاهِدٌ مِّنْهُ وَمِن قَبْلِهِ كِتَابُ مُوسَىٰ إِمَامًا وَرَحْمَةً ۚ أُولَٰئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ ۚ وَمَن يَكْفُرْ بِهِ مِنَ الْأَحْزَابِ فَالنَّارُ مَوْعِدُهُ ۚ فَلَا تَكُ فِي مِرْيَةٍ مِّنْهُ ۚ إِنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

যারা তার রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং অনুসরণ করে তাঁর পক্ষ থেকে একজন সাক্ষী* এবং যার পূর্বে রয়েছে মূসার কিতাব পথপ্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ,(তারা কি ঐ লোকদের মত, যারা দুনিয়া ও তার জৌলুস কামনায় বিভোর?) এরাই তার প্রতি ঈমান পোষণ করে। আর যে সকল

মুহিউদ্দীন খান

আচ্ছা বল তো, যে ব্যক্তি তার প্রভুর সুস্পষ্ট পথে রয়েছে, আর সাথে সাথে আল্লাহর তরফ থেকে একটি সাক্ষীও বর্তমান রয়েছে এবং তার পূর্ববর্তী মূসা (আঃ) এর কিতাবও সাক্ষী যা ছিল পথনির্দেশক ও রহমত স্বরূপ, (তিনি কি অন্যান্যের সমান) অতএব তাঁরা কোরআনের প্রতি ঈমান আনেন। আর ঐসব দলগুলি যে কেউ তা অস্বীকার করে, দোযখই হবে তার ঠিকানা। অতএব, আপনি তাতে কোন সন্দেহে থাকবেন না। নিঃসন্দেহে তা আপনার পালনকর্তার পক্ষ হতে ধ্রুব সত্য; তথাপি অনেকেই তা বিশ্বাস করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর প্রতি আরোপ করে। তাদের উপস্থাপন করা হবে তাদের প্রভুর দরবারে এবং সাক্ষীরা বলবে: এরাই তাদের প্রভুর প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। সাবধান, যালিমদের প্রতি আল্লাহর লানত,

Arabic, with marks

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا ۚ أُولَٰئِكَ يُعْرَضُونَ عَلَىٰ رَبِّهِمْ وَيَقُولُ الْأَشْهَادُ هَٰؤُلَاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَىٰ رَبِّهِمْ ۚ أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

যারা আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা রটনা করে, তাদের চেয়ে অধিক যালিম কে? তাদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীগণ বলবে, ‘এরাই তাদের রবের ব্যাপারে মিথ্যারোপ করেছিল’। সাবধান, যালিমদের উপর আল্লাহর লা‘নত।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের চেয়ে বড় যালেম কে হতে পারে, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে। এসব লোককে তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত সম্মূখীন করা হবে আর সাক্ষিগণ বলতে থাকবে, এরাই ঐসব লোক, যারা তাদের পালনকর্তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। শুনে রাখ, যালেমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বাধা সৃষ্টি করে আল্লাহর পথে এবং তাতে সন্ধান করে বক্রতা এবং যারা আখিরাতের প্রতি অবিশ্বাসী।

Arabic, with marks

الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا وَهُم بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

যারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দেয় এবং তাকে বক্র করতে চায়। আর এরাই তো অস্বীকারকারী।

মুহিউদ্দীন খান

যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয়, আর তাতে বক্রতা খুজে বেড়ায়, এরাই আখরাতকে অস্বীকার করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা পৃথিবীতে আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না। আর প্রকৃতপক্ষে ছাড়া তো আর তাদের কোনো অলি ছিলনা। তাদের আযাব দ্বিগুণ করা হবে। তাদের শোনারও সামর্থ ছিলনা এবং তারা দেখতেও পেতোনা।

Arabic, with marks

أُولَٰئِكَ لَمْ يَكُونُوا مُعْجِزِينَ فِي الْأَرْضِ وَمَا كَانَ لَهُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ ۘ يُضَاعَفُ لَهُمُ الْعَذَابُ ۚ مَا كَانُوا يَسْتَطِيعُونَ السَّمْعَ وَمَا كَانُوا يُبْصِرُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা যমীনে (আল্লাহকে) অক্ষম করতে পারত না এবং ছাড়া তাদের কোন সাহায্যকারী ছিল না, তাদের জন্য আযাব দ্বিগুণ করা হবে। তারা শুনতে সক্ষম ছিল না এবং দেখতেও পেত না।

মুহিউদ্দীন খান

তারা পৃথিবীতেও আল্লাহকে অপারগ করতে পারবে না এবং ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারীও নেই, তাদের জন্য দ্বিগুণ শাস্তি রয়েছে; তারা শুনতে পারত না এবং দেখতেও পেত না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তাদের কল্পিত (শরিকরা) তখন তাদের থেকে উধাও হয়ে যাবে।

Arabic, with marks

أُولَٰئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

এরা তো নিজদেরই ক্ষতি করেছে, আর তারা যা রটিয়ে বেড়াত, তাদের থেকে তা হারিয়ে গেছে।

মুহিউদ্দীন খান

এরা সে লোক, যারা নিজেরাই নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, আর এরা যা কিছু মিথ্যা মা’বুদ সাব্যস্ত করেছিল, তা সবই তাদের থেকে হারিয়ে গেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো সন্দেহ নেই, আখিরাতে তারা হবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত।

Arabic, with marks

لَا جَرَمَ أَنَّهُمْ فِي الْآخِرَةِ هُمُ الْأَخْسَرُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

নিঃসন্দেহে তারাই আখিরাতে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত।

মুহিউদ্দীন খান

আখেরাতে এরাই হবে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ কোন সন্দেহ নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে, এবং আমলে সালেহ্ করে এবং তাদের প্রভুর প্রতি বিনীত হয়ে জীবন যাপন করে, তারাই হবে জান্নাতের অধিকারী, সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল।

Arabic, with marks

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَأَخْبَتُوا إِلَىٰ رَبِّهِمْ أُولَٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং বিনীত হয়েছে তাদের রবের প্রতি, তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে এবং স্বীয় পালনকর্তার সমীপে বিনতি প্রকাশ করেছে তারাই বেহেশতবাসী, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই দুই পক্ষের উপমা হলো এ রকম, যেমন একজন হলো অন্ধ ও বধির এবং অপরজন হলো চক্ষুষ্মান ও শ্রবণশক্তি সম্পন্ন। এরা দুইজন কি সমতুল্য? কেন তোমরা বুঝার চেষ্টা করোনা?

Arabic, with marks

۞ مَثَلُ الْفَرِيقَيْنِ كَالْأَعْمَىٰ وَالْأَصَمِّ وَالْبَصِيرِ وَالسَّمِيعِ ۚ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

দল দু’টির উপমা হচ্ছে অন্ধ ও বধির এবং চক্ষুষ্মান ও শ্রবণশক্তিসম্পন্নের মত, তুলনায় উভয় দল কি সমান? এরপরও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?

মুহিউদ্দীন খান

উভয় পক্ষের দৃষ্টান্ত হচ্ছে যেমন অন্ধ ও বধির এবং যে দেখতে পায় ও শুনতে পায় উভয়ের অবস্থা কি এক সমান? তবুও তোমরা কি ভেবে দেখ না?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা নূহকে পাঠিয়েছিলাম তার কওমের কাছে। (সে তাদের বলেছিল), আমি তোমাদের প্রতি একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।

Arabic, with marks

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوْمِهِ إِنِّي لَكُمْ نَذِيرٌ مُّبِينٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর অবশ্যই আমি নূহকে প্রেরণ করেছিলাম তার কওমের কাছে (এই বার্তা দিয়ে) যে, ‘আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী’।

মুহিউদ্দীন খান

আর অবশ্যই আমি নূহ (আঃ) কে তাঁর জাতির প্রতি প্রেরণ করেছি, (তিনি বললেন) নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য প্রকাশ্য সতর্ককারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ছাড়া আর কারো ইবাদত করোনা। আমি তোমাদের জন্যে এক বেদনাদায়ক দিনের আযাবের আশংকা করছি।

Arabic, with marks

أَن لَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ ۖ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ أَلِيمٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘যেন তোমরা ছাড়া কারো ইবাদাত না কর। নিশ্চয় আমি তোমাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক দিবসের আযাবের ভয় করছি’।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা ব্যতীত কারো এবাদত করবে না। নিশ্চয় আমি তোমাদের ব্যাপারে এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের আযাবের ভয় করছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তার কওমের প্রধানরা বলেছিল: ‘আমরা তো তোমাকে আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই দেখছিনা। আর আমরা বাহ্য দৃষ্টিতেই দেখছি, যারা তোমার অনুসরণ করছে তারা আমাদের মধ্যে একেবারেই নীচু শ্রেণীর। আমরা আমাদের উপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্বই দেখছি না। বরং আমরা তো মনে করি তোমরা সবাই মিথ্যাবাদী।’

Arabic, with marks

فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ مَا نَرَاكَ إِلَّا بَشَرًا مِّثْلَنَا وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْيِ وَمَا نَرَىٰ لَكُمْ عَلَيْنَا مِن فَضْلٍ بَلْ نَظُنُّكُمْ كَاذِبِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর তার কওমের নেতৃস্থানীয়রা, যারা করেছিল, তারা বলল, ‘আমরা তো তোমাকে আমাদের মত একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু দেখছি না এবং আমরা দেখছি যে, কেবল আমাদের নীচু শ্রেণীর লোকেরাই বিবেচনাহীনভাবে তোমার অনুসরণ করেছে। আর আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব আমরা দেখছি ন

মুহিউদ্দীন খান

তখন তাঁর কওমের প্রধানরা বলল আমরা তো আপনাকে আমাদের মত একজন মানুষ ব্যতীত আর কিছু মনে করি না; আর আমাদের মধ্যে যারা ইতর ও স্থুল - বুদ্ধিসম্পন্ন তারা ব্যতীত কাউকে তো আপনার আনুগত্য করতে দেখি না এবং আমাদের উপর আপনাদের কেন প্রাধান্য দেখি না, বরং আপনারা সবাই মিথ্যাবাদী বলে আমারা মনে করি।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা ভেবে দেখো, আমি যদি আমার প্রভুর প্রেরিত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর নিজ অনুগ্রহ থেকে আমাকে দান করে থাকেন আর সে বিষয়ে যদি তোমাদের অন্ধ করে দেয়া হয়ে থাকে, তবে তোমাদের অপছন্দ সত্ত্বেও কি আমি তোমাদের তা গ্রহণে বাধ্য করতে পারি?

Arabic, with marks

قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّي وَآتَانِي رَحْمَةً مِّنْ عِندِهِ فَعُمِّيَتْ عَلَيْكُمْ أَنُلْزِمُكُمُوهَا وَأَنتُمْ لَهَا كَارِهُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা কি মনে কর, যদি আমি আমার রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত হই এবং তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত দিয়ে থাকেন, আর তা তোমাদের কাছে গোপন রাখা হয়, তবে কি আমি তোমাদের উপর তোমাদের অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও তা চাপিয়ে দেব’?

মুহিউদ্দীন খান

নূহ (আঃ) বললেন - হে আমার জাতি! দেখ তো আমি যদি আমার পালনকর্তার পক্ষ হতে স্পষ্ট দলীলের উপর থাক, আর তিনি যদি তাঁর পক্ষ হতে আমাকে রহমত দান করে থাকেন, তারপরেও তা তোমাদের চোখে না পড়ে, তাহলে আমি কি উহা তোমাদের উপর তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই চাপিয়ে দিতে পারি ?

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! এ কাজের জন্যে তো আমি তোমাদের কাছে মাল - সম্পদ চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব তো আল্লাহর। আমি তো মুমিনদেরকে আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দিতে পারিনা। তারা অবশ্যি তাদের প্রভুর সাক্ষাত লাভ করবে। বরং আমি তো দেখছি তোমরাই সবাই জাহিল লোক।

Arabic, with marks

وَيَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مَالًا ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ ۚ وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الَّذِينَ آمَنُوا ۚ إِنَّهُم مُّلَاقُو رَبِّهِمْ وَلَٰكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর হে আমার কওম, এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন সম্পদ চাই না। আমার প্রতিদান শুধু আল্লাহর কাছে। যারা ঈমান এনেছে, আমি তাদের তাড়িয়ে দিতে পারি না। নিশ্চয় তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে। কিন্তু আমি তো দেখছি তোমরা এক অজ্ঞ জাতি’।

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি! আমি তো এজন্য তোমাদের কাছে কোন অর্থ চাই না; আমার পারিশ্রমিক তো আল্লাহর জিম্মায় রয়েছে। আমি কিন্তু ঈমানদারদের তাড়িয়ে দিতে পারি না। তারা অবশ্যই তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত লাভ করবে। বরঞ্চ তোমাদেরই আমি অজ্ঞ সম্প্রদায় দেখছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! আমি যদি তাদের তাড়িয়ে দেই তবে আল্লাহর পাকড়াও থেকে কে আমাকে রক্ষা করবে? তোমরা কি অনুধাবন করার চেষ্টা করবেনা?

Arabic, with marks

وَيَا قَوْمِ مَن يَنصُرُنِي مِنَ اللَّهِ إِن طَرَدتُّهُمْ ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘হে আমার কওম, যদি আমি তাদেরকে তাড়িয়ে দেই, তবে আল্লাহর আযাব থেকে কে আমাকে সাহায্য করবে? এরপরও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না’?

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি! আমি যদি তাদের তাড়িয়ে দেই তাহলে আমাকে হতে রেহাই দেবে কে? তোমরা কি চিন্তা করে দেখ না?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তো তোমাদের বলছিনা যে, আমার কাছে আল্লাহর অর্থভান্ডার রয়েছে, কিংবা আমি জানি। কিংবা আমি তো এ কথাও বলছিনা যে, আমি একজন ফেরেশতা। তোমাদের দৃষ্টিতে যারা নিম্নশ্রেণীর তাদের ব্যাপারেও আমি একথা বলিনা যে, কখনো তাদের কল্যাণ করবেন না। তাদের অন্তরে যা আছে আল্লাহ্ই তা অধিক জানেন। তোমাদের কথা মেনে নিলে তো আমি যালিমদের মধ্যে গণ্য হয়ে যাবো।’’

Arabic, with marks

وَلَا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ إِنِّي مَلَكٌ وَلَا أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لَن يُؤْتِيَهُمُ اللَّهُ خَيْرًا ۖ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا فِي أَنفُسِهِمْ ۖ إِنِّي إِذًا لَّمِنَ الظَّالِمِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর আমি তোমাদের বলছি না যে, ‘আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডারসমূহ আছে’ এবং আমি জানি না আর আমি এও বলছি না যে, ‘আমি ফেরেশতা’। তোমাদের চোখে যারা হীন, তাদের সম্পর্কে আমি বলছি না যে, ‘ তাদেরকে কখনো কোন কল্যাণ দান করবেন না’। তাদের অন্তরে যা আছে, সে সম্পর্ক

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা; আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত তাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না। তাদের মনের কথা ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘হে নূহ! তুমি তো আমাদের সাথে বিতন্ডা করেছো প্রচুর বিতন্ডা, সুতরাং তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আমাদেরকে তোমার প্রতিশ্রুত ঘটনাটি ঘটিয়ে দেখাও।’

Arabic, with marks

قَالُوا يَا نُوحُ قَدْ جَادَلْتَنَا فَأَكْثَرْتَ جِدَالَنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা বলল, ‘হে নূহ, তুমি আমাদের সাথে বাদানুবাদ করছ এবং আমাদের সাথে অতিমাত্রায় বিবাদ করেছ। অতএব যার প্রতিশ্রুতি তুমি আমাদেরকে দিচ্ছ, তা আমাদের কাছে নিয়ে আস, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও’।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - হে নূহ! আমাদের সাথে আপনি তর্ক করেছেন এবং অনেক কলহ করেছেন। এখন আপনার সেই আযাব নিয়ে আসুন, যে সম্পর্কে আপনি আমাদিগকে সতর্ক করেছেন, যদি আপনি সত্যবাদী হয়ে থাকেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

জবাবে সে বলেছিল: ‘সেই ঘটনাটা একমাত্র আল্লাহ্ই ঘটিয়ে তোমাদের দেখাতে পারেন যদি তিনি চান এবং তোমরা তা প্রতিহত করতে পারবে না।’

Arabic, with marks

قَالَ إِنَّمَا يَأْتِيكُم بِهِ اللَّهُ إِن شَاءَ وَمَا أَنتُم بِمُعْجِزِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘আল্লাহই তো তোমাদের কাছে তা হাজির করবেন, যদি তিনি চান। আর তোমরা তাকে অক্ষম করতে পারবে না’।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বলেন, উহা তোমাদের কাছে আল্লাহই আনবেন, যদি তিনি ইচ্ছা করেন তখন তোমরা পালিয়ে তাঁকে অপারগ করতে পারবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহ্ই যদি তোমাদের বিভ্রান্ত করতে চান তবে আমি নসিহত করতে চাইলেও আমার নসিহত তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না। তিনিই তোমাদের প্রভু। তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে।

Arabic, with marks

وَلَا يَنفَعُكُمْ نُصْحِي إِنْ أَرَدتُّ أَنْ أَنصَحَ لَكُمْ إِن كَانَ اللَّهُ يُرِيدُ أَن يُغْوِيَكُمْ ۚ هُوَ رَبُّكُمْ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিতে চাইলেও আমার উপদেশ তোমাদের কোন উপকারে আসবে না, যদি তোমাদের বিভ্রান্ত করতে চান। তিনি তোমাদের রব এবং তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে’।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি তোমাদের নসীহত করতে চাইলেও তা তোমাদের জন্য ফলপ্রসূ হবে না, যদি তোমাদেরকে গোমরাহ করতে চান; তিনিই তোমাদের পালনকর্তা এবং তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তারা বলে: ‘সে নিজেই এটি রচনা করে নিয়েছে।’ তুমি বলো: ‘এটি (এ কুরআন) যদি আমি রচনা করে থাকি, তবে আমার অপরাধের জন্যে আমিই দায়ী হবো। আর তোমরা যে অপরাধ করছো তার দায় দায়িত্ব থেকে আমি মুক্ত।’

Arabic, with marks

أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ ۖ قُلْ إِنِ افْتَرَيْتُهُ فَعَلَيَّ إِجْرَامِي وَأَنَا بَرِيءٌ مِّمَّا تُجْرِمُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

নাকি তারা বলে, ‘সে এটা রচনা করেছে’। বল, ‘যদি আমি তা রচনা করে থাকি, তবে আমার অপরাধ আমার উপরই বর্তাবে এবং তোমরা যে অপরাধ করছ, আমি তা থেকে মুক্ত’।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি বলে? আপনি কোরআন রচনা করে এনেছেন? আপনি বলে দিন আমি যদি রচনা করে এনে থাকি, তবে সে অপরাধ আমার, আর তোমরা যেসব অপরাধ কর তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

নূহকে অহির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, তোমার কওমের যারা ঈমান এনেছে তারা ছাড়া আর কেউই ঈমান আনবে না। সুতরাং তাদের কর্মকান্ডের কারণে তুমি আর নিরাশ হয়োনা।

Arabic, with marks

وَأُوحِيَ إِلَىٰ نُوحٍ أَنَّهُ لَن يُؤْمِنَ مِن قَوْمِكَ إِلَّا مَن قَدْ آمَنَ فَلَا تَبْتَئِسْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর নূহের কাছে ওহী পাঠানো হল যে, ‘যারা ঈমান এনেছে, তারা ছাড়া তোমার কওমের আর কেউ ঈমান আনবে না। সুতরাং তারা যা করে সে জন্য তুমি দুঃখিত হয়ো না’।

মুহিউদ্দীন খান

আর নূহ (আঃ) এর প্রতি ওহী প্রেরণ করা হলো যে, যারা ইতিমধ্যেই ঈমান এনেছে তাদের ছাড়া আপনার জাতির অন্য কেউ ঈমান আনবেনা এতএব তাদের কার্যকলাপে বিমর্ষ হবেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের তত্ত্বাবধান ও অহির ভিত্তিতে তুমি একটি নৌযান তৈরি করো এবং যারা যুলুম করেছে তাদের বিষয়ে তুমি আমার কাছে কোনো প্রকার সুপারিশ করোনা, তারা পানিতে নিমজ্জিত হবেই।

Arabic, with marks

وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا وَلَا تُخَاطِبْنِي فِي الَّذِينَ ظَلَمُوا ۚ إِنَّهُم مُّغْرَقُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর তুমি আমার চোখের সামনে ও আমার ওহী অনুসারে নৌকা তৈরী কর। আর যারা যুলম করেছে, তাদের ব্যাপারে তুমি আমার কাছে কোন আবেদন করো না। নিশ্চয় তাদেরকে ডুবানো হবে’।

মুহিউদ্দীন খান

আর আপনি আমার সম্মুখে আমারই নির্দেশ মোতাবেক একটি নৌকা তৈরী করুন এবং পাপিষ্ঠদের ব্যাপারে আমাকে কোন কথা বলবেন না। অবশ্যই তারা ডুবে মরবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে নৌযান তৈরি করছিল, তখন তার কওমের প্রধানরা তার ওখান দিয়ে যাওয়া আসার সময় এ নিয়ে তাকে উপহাস করতো। সে বলেছিল: তোমরা যদি আমাদের নিয়ে উপহাস করো, আমরাও তোমাদের নিয়ে উপহাস করবো যেভাবে তোমরা আমাদের নিয়ে উপহাস করছো।

Arabic, with marks

وَيَصْنَعُ الْفُلْكَ وَكُلَّمَا مَرَّ عَلَيْهِ مَلَأٌ مِّن قَوْمِهِ سَخِرُوا مِنْهُ ۚ قَالَ إِن تَسْخَرُوا مِنَّا فَإِنَّا نَسْخَرُ مِنكُمْ كَمَا تَسْخَرُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর সে নৌকা তৈরী করতে লাগল এবং যখনই তার কওমের নেতৃস্থানীয় কোন ব্যক্তি তার পাশ দিয়ে যেত, তাকে নিয়ে উপহাস করত। সে বলল, ‘যদি তোমরা আমাদের নিয়ে উপহাস কর, তবে আমরাও তোমাদের নিয়ে উপহাস করব, যেমন তোমরা উপহাস করছ’।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি নৌকা তৈরী করতে লাগলেন, আর তাঁর কওমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা যখন পার্শ্ব দিয়ে যেত, তখন তাঁকে বিদ্রুপ করত। তিনি বললেন, তোমরা যদি আমাদের উপহাস করে থাক, তবে তোমরা যেমন উপহাস করছ আমরাও তদ্রুপ তোমাদের উপহাস করছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, কাদের উপর এসে পড়বে অপমানকর আযাব এবং কাদের উপর হালাল হয়ে যাবে স্থায়ী আযাব।

Arabic, with marks

فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ مَن يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَيَحِلُّ عَلَيْهِ عَذَابٌ مُّقِيمٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতএব, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে, কার উপর সে আযাব আসবে যা তাকে লাঞ্ছিত করবে এবং কার উপর আপতিত হবে স্থায়ী আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর অচিরেই জানতে পারবে - লাঞ্ছনাজনক আযাব কার উপর আসে এবং চিরস্থায়ী আযাব কার উপর অবতরণ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশেষে এসে পড়ে আমাদের নির্দেশ এবং চুলা থেকে উথলে উঠতে থাকে পানির স্রোত। আমরা বললাম, তাতে উঠিয়ে নাও সব শ্রেণীর যুগলের দুইটি করে আর তোমার পরিবার পরিজনকে আর যারা ঈমান এনেছে, তবে তাদেরকে নয় যাদের ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আর তার (নূহের) সাথে ঈমান এনেছিল মাত্র কয়েকজনই।

Arabic, with marks

حَتَّىٰ إِذَا جَاءَ أَمْرُنَا وَفَارَ التَّنُّورُ قُلْنَا احْمِلْ فِيهَا مِن كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ إِلَّا مَن سَبَقَ عَلَيْهِ الْقَوْلُ وَمَنْ آمَنَ ۚ وَمَا آمَنَ مَعَهُ إِلَّا قَلِيلٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

অবশেষে যখন আমার আদেশ আসল এবং চুলা উথলে উঠল*, আমি বললাম, ‘তুমি তাতে তুলে নাও প্রত্যেক শ্রেণী থেকে জোড়া জোড়া** এবং যাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে তাদের ছাড়া তোমার পরিবারকে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে। আর তার সাথে অল্পসংখ্যকই ঈমান এনেছিল। * التنور এর আ

মুহিউদ্দীন খান

অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল এবং ভুপৃষ্ঠ উচ্ছসিত হয়ে উঠল, আমি বললামঃ সর্বপ্রকার জোড়ার দুটি করে এবং যাদের উপরে পূর্বাহ্নে হুকুম হয়ে গেছে তাদের বাদি দিয়ে, আপনার পরিজনবর্গ ও সকল ঈমানদারগণকে নৌকায় তুলে নিন। বলাবাহুল্য অতি অল্পসংখ্যক লোকই তাঁর সাথে ঈমান এনেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘তোমরা এতে আরোহণ করো। আল্লাহর নামে (আরম্ভ করছি) এর চলতি এবং এর স্থিতি। আমার প্রভু অবশ্যি পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।’

Arabic, with marks

۞ وَقَالَ ارْكَبُوا فِيهَا بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا وَمُرْسَاهَا ۚ إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর সে বলল, ‘তোমরা এতে আরোহণ কর। এর চলা ও থামা হবে আল্লাহর নামে। নিশ্চয় আমার রব অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

মুহিউদ্দীন খান

আর তিনি বললেন, তোমরা এতে আরোহন কর। আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ন, মেহেরবান।

আবদুস শহীদ নাসিম

নৌযানটি তাদের নিয়ে চলছিল তরঙ্গের মধ্যে পর্বতের মতো। আর নূহ তার ছেলেকে ডেকে বলেছিল, যে (নৌযানে আরোহন না করে) পৃথক ছিলো: ‘হে আমার পুত্র! আমাদের সাথে আরোহণ করো, কাফিরদের সাথি হয়ে থেকে যেয়োনা।’

Arabic, with marks

وَهِيَ تَجْرِي بِهِمْ فِي مَوْجٍ كَالْجِبَالِ وَنَادَىٰ نُوحٌ ابْنَهُ وَكَانَ فِي مَعْزِلٍ يَا بُنَيَّ ارْكَب مَّعَنَا وَلَا تَكُن مَّعَ الْكَافِرِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তা পাহাড়সম ঢেউয়ের মধ্যে তাদেরকে নিয়ে চলছিল এবং নূহ তার পুত্রকে ডাক দিল, আর সে ছিল আলাদা স্থানে- ‘হে আমার পুত্র, আমাদের সাথে আরোহণ কর এবং কাফিরদের সাথে থেকো না’।

মুহিউদ্দীন খান

আর নৌকাখানি তাদের বহন করে চলল পর্বত প্রমাণ তরঙ্গমালার মাঝে, আর নূহ (আঃ) তাঁর পুত্রকে ডাক দিলেন আর সে সরে রয়েছিল, তিনি বললেন, প্রিয় বৎস! আমাদের সাথে আরোহন কর এবং কাফেরদের সাথে থেকো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু সে বলেছিল: ‘আমি (উঁচু) পর্বতে আশ্রয় নিচ্ছি, যা আমাকে পানি (প্লাবন) থেকে রক্ষা করবে।’ সে (নূহ) বললো: ‘আজ আল্লাহর ফায়সালা থেকে রক্ষা করার কেউ নেই, তবে তিনি যাকে দয়া করেন সে ছাড়া। (বলতে বলতে) তরঙ্গ তাদের মাঝখানে ঢুকে গেলো এবং সে ডুবে যাওয়াদের অন্তরভুক্ত হয়ে গেলো।

Arabic, with marks

قَالَ سَآوِي إِلَىٰ جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْمَاءِ ۚ قَالَ لَا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلَّا مَن رَّحِمَ ۚ وَحَالَ بَيْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكَانَ مِنَ الْمُغْرَقِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘অচিরেই আমি একটি পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে’। সে (নূহ) বলল, ‘যার প্রতি দয়া করেছেন সে ছাড়া আজ আল্লাহর আদেশ থেকে কোন রক্ষাকারী নেই’। এরপর তাদের উভয়ের মধ্যে ঢেউ অন্তরায় হয়ে গেল। অতঃপর সে নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল ।

মুহিউদ্দীন খান

সে বলল, আমি অচিরেই কোন পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি হতে রক্ষা করবে। নূহ (আঃ) বল্লেন আজকের দিনে আল্লাহর হুকুম থেকে কোন রক্ষাকারী নেই। একমাত্র তিনি যাকে দয়া করবেন। এমন সময় উভয়ের মাঝে তরঙ্গ আড়াল হয়ে দাঁড়াল, ফলে সে নিমজ্জিত হল।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশেষে বলা হলো: ‘হে পৃথিবী, তুমি তোমার পানি গ্রাস করে নাও! হে আকাশ, তুমি বর্ষণ বন্ধ করো।’ অত:পর প্লাবন শেষ হলো এবং ফায়সালা পূর্ণ হলো এবং নৌযানটি জুদি পাহাড়ের উপর এসে স্থির হলো। আর বলা হলো: ‘নিপাত গেলো যালিম সম্প্রদায়।’

Arabic, with marks

وَقِيلَ يَا أَرْضُ ابْلَعِي مَاءَكِ وَيَا سَمَاءُ أَقْلِعِي وَغِيضَ الْمَاءُ وَقُضِيَ الْأَمْرُ وَاسْتَوَتْ عَلَى الْجُودِيِّ ۖ وَقِيلَ بُعْدًا لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর বলা হল, ‘হে যমীন, তুমি তোমার পানি চুষে নাও, আর হে আসমান, বিরত হও’। অতঃপর পানি কমে গেল এবং (আল্লাহর) সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হল, আর নৌকা জুদী পর্বতের উপর উঠল এবং ঘোষণা করা হল, ‘ধ্বংস যালিম কওমের জন্য’।

মুহিউদ্দীন খান

আর নির্দেশ দেয়া হল - হে পৃথিবী! তোমার পানি গিলে ফেল, আর হে আকাশ, ক্ষান্ত হও। আর পানি হ্রাস করা হল এবং কাজ শেষ হয়ে গেল, আর জুদী পর্বতে নৌকা ভিড়ল এবং ঘোষনা করা হল, দুরাত্না কাফেররা নিপাত যাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

নূহ তার প্রভুকে ডেকে বলেছিল: ‘আমার প্রভু! আমার ছেলে তো আমার পরিবারেরই একজন আর তোমার ওয়াদা তো সত্য এবং তুমিই তো সব বিচারকের বড় ন্যায় বিচারক।’

Arabic, with marks

وَنَادَىٰ نُوحٌ رَّبَّهُ فَقَالَ رَبِّ إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ وَأَنتَ أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর নূহ তার রবকে ডাকল এবং বলল, ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমার সন্তান আমার পরিবারভুক্ত এবং আপনার ওয়াদা নিশ্চয় সত্য। আর আপনি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক’।

মুহিউদ্দীন খান

আর নূহ (আঃ) তাঁর পালনকর্তাকে ডেকে বললেন - হে পরওয়ারদেগার, আমার পুত্র তো আমার পরিজনদের অন্তর্ভুক্ত; আর আপনার ওয়াদাও নিঃসন্দেহে সত্য আর আপনিই সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞ ফয়সালাকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বলেছিলেন: ‘হে নূহ! সে তোমার পরিবারের সদস্য নয়। সে তো এক অসৎকর্ম। ফলে এমন বিষয়ে আমার কাছে প্রার্থনা করোনা, যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি তুমি যেনো জাহিলদের মতো কথা না বলো।’

Arabic, with marks

قَالَ يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ ۖ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ ۖ فَلَا تَسْأَلْنِ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۖ إِنِّي أَعِظُكَ أَن تَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

তিনি বললেন, ‘হে নূহ, সে নিশ্চয় তোমার পরিবারভুক্ত নয়। সে অবশ্যই অসৎ কর্মপরায়ণ। সুতরাং যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, আমার কাছে তা চেয়ো না। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, যেন মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত না হও’।

মুহিউদ্দীন খান

বলেন, হে নূহ! নিশ্চয় সে আপনার পরিবারভুক্ত নয়। নিশ্চই সে দুরাচার! সুতরাং আমার কাছে এমন দরখাস্ত করবেন না, যার খবর আপনি জানেন না। আমি আপনাকে উপপদেশ দিচ্ছি যে, আপনি অজ্ঞদের দলভুক্ত হবেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বললো: ‘আমার প্রভু! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে যেনো তোমার কাছে প্রার্থনা না করি সে জন্যে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তুমি যদি আমাকে ক্ষমা না করো এবং আমার প্রতি রহম না করো, তবে তো আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বো।’

Arabic, with marks

قَالَ رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ ۖ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُن مِّنَ الْخَاسِرِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘হে আমার রব, যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই তা চাওয়া থেকে আমি অবশ্যই আপনার আশ্রয় চাই। আর যদি আপনি আমাকে মাফ না করেন এবং আমার প্রতি দয়া না করেন, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব’।

মুহিউদ্দীন খান

নূহ (আঃ) বলেন - হে আমার পালনকর্তা আমার যা নেই এমন কোন দরখাস্ত করা হতে আমি আপনার কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন, দয়া না করেন, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলা হয়েছিল: ‘হে নূহ! (নৌযান থেকে) নেমে পড়ো। আমাদের পক্ষ থেকে সালাম ও বরকত তোমার প্রতি এবং যেসব প্রজাতি তোমার সাথে রয়েছে তাদের প্রতি। আর অন্যান্য জাতিসমূহকে আমরা কিছুকাল জীবন উপভোগ করতে দেবো, তারপর আমাদের পক্ষ থেকে বেদনাদায়ক আযাব তাদেরকেও স্পর্শ করবে।’

Arabic, with marks

قِيلَ يَا نُوحُ اهْبِطْ بِسَلَامٍ مِّنَّا وَبَرَكَاتٍ عَلَيْكَ وَعَلَىٰ أُمَمٍ مِّمَّن مَّعَكَ ۚ وَأُمَمٌ سَنُمَتِّعُهُمْ ثُمَّ يَمَسُّهُم مِّنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

বলা হল, ‘হে নূহ, তোমার ও তোমার সাথে যে উম্মত রয়েছে তাদের উপর আমার পক্ষ থেকে শান্তি ও বরকতসহ অবতরণ কর। আর আরো অনেক উম্মতকে আমি জীবন উপভোগ করতে দেব, তারপর আমার পক্ষ থেকে তাদেরকে স্পর্শ করবে যন্ত্রণাদায়ক আযাব’।

মুহিউদ্দীন খান

হুকুম হল - হে নূহ (আঃ)! আমার পক্ষ হতে নিরাপত্তা এবং আপনার নিজের ও সঙ্গীয় সম্প্রদায়গুলির উপর বরকত সহকারে অবতরণ করুণ। আর অন্যান্য যেসব সম্প্রদায় রয়েছে আমি তাদের কেও উপকৃত হতে দেব। অতঃপর তাদের উপর আমার দরুন আযাব আপতিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলো গায়েবের সংবাদ তোমার প্রতি আমরা অহি করছি। তুমি কিংবা তোমার কওম ইতোপূর্বে এ বিষয়গুলো জানতে না। অতএব সবর অবলম্বন করো, পরিণামে সাফল্য মুত্তাকিদেরই জন্যে।

Arabic, with marks

تِلْكَ مِنْ أَنبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهَا إِلَيْكَ ۖ مَا كُنتَ تَعْلَمُهَا أَنتَ وَلَا قَوْمُكَ مِن قَبْلِ هَٰذَا ۖ فَاصْبِرْ ۖ إِنَّ الْعَاقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

এগুলো গায়েবের সংবাদ, আমি তোমাকে ওহীর মাধ্যমে তা জানাচ্ছি। ইতঃপূর্বে তা না তুমি জানতে এবং না তোমার কওম। সুতরাং তুমি সবর কর। নিশ্চয় শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য।

মুহিউদ্দীন খান

এটি গায়বের খবর, আমি আপনার প্রতি ওহী প্রেরন করছি। ইতিপূর্বে এটা আপনার এবং আপনার জাতির ছিল না। আপনি ধৈর্য্যধারণ করুন। যারা ভয় করে চলে, তাদের পরিণাম ভাল, সন্দেহ নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা আদ জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই ভাই হুদকে। সে তাদের বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তবে তোমরা তো কেবল মিথ্যা রচনাকারী।

Arabic, with marks

وَإِلَىٰ عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا ۚ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا مُفْتَرُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর আদ জাতির কাছে (প্রেরণ করেছিলাম) তাদের ভাই হূদকে। সে বলেছিল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের জন্য কোন (সত্য) নেই। তোমরা তো কেবল মিথ্যা রটনাকারী’।

মুহিউদ্দীন খান

আর আদ জাতির প্রতি আমি তাদের ভাই হুদকে প্রেরণ করেছি; তিনি বলেন - হে আমার জাতি, আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ভিন্ন তোমাদের কোন মাবুদ নেই, তোমরা সবাই মিথ্যা আরোপ করছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! আমি তো এ কাজের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব তাঁর, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তবু কি তোমরা বুঝার চেষ্টা করবেনা?

Arabic, with marks

يَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى الَّذِي فَطَرَنِي ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘হে আমার কওম, আমি তোমাদের কাছে এর বিনিময়ে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো কেবল তাঁরই কাছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না’?

মুহিউদ্দীন খান

হে আমার জাতি! আমি এজন্য তোমাদের কাছে কোন মজুরী চাই না; আমার মজুরী তাঁরই কাছে যিনি আমাকে পয়দা করেছেন; তবু তোমরা কেন বোঝ না?

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমাদের প্রভুর কাছে, অত:পর ফিরে আসো তাঁর দিকে। তিনি তোমাদের জন্যে আকাশ থেকে প্রচুর পানি বর্ষণ করবেন এবং বর্তমান শক্তির সাথে আরো শক্তি বাড়িয়ে দেবেন। তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়োনা।’’

Arabic, with marks

وَيَا قَوْمِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَىٰ قُوَّتِكُمْ وَلَا تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘হে আমার কওম, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও অতঃপর তার কাছে তাওবা কর, তাহলে তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি পাঠাবেন এবং তোমাদের শক্তির সাথে আরো শক্তি বৃদ্ধি করবেন। আর তোমরা অপরাধী হয়ে বিমুখ হয়ো না’।

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার কওম! তোমাদের পালন কর্তার কাছে তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর; তিনি আসমান থেকে তোমাদের উপর বৃষ্টি ধারা প্রেরণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির উপর শক্তি বৃদ্ধি করবেন, তোমরা কিন্তু অপরাধীদের মত বিমুখ হয়ো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘‘হে হুদ! তুমি তো আমাদের কাছে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসোনি। আমরা তো তোমার কথায় আমাদের ইলাহদের (দেব দেবীদের) পরিত্যাগ করতে পারিনা। তাছাড়া আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাসীও নই।

Arabic, with marks

قَالُوا يَا هُودُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍ وَمَا نَحْنُ بِتَارِكِي آلِهَتِنَا عَن قَوْلِكَ وَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা বলল, ‘হে হূদ, তুমি আমাদের কাছে কোন স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসনি, আর তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করব না এবং আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাসীও নই’।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - হে হুদ, তুমি আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে আস নাই, আমরা তোমার কথায় আমাদের দেব - দেবীদের বর্জন করতে পারি না আর আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনয়নকারীও নই।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা বলছি, তোমাদের উপর আমাদের দেব - দেবীদের অভিশাপ পড়েছে।’’ সে বলেছিল: ‘‘আমি আল্লাহকে সাক্ষী বানাচ্ছি এবং তোমরাও সাক্ষী থাকো, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক করছো আমি তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছি।

Arabic, with marks

إِن نَّقُولُ إِلَّا اعْتَرَاكَ بَعْضُ آلِهَتِنَا بِسُوءٍ ۗ قَالَ إِنِّي أُشْهِدُ اللَّهَ وَاشْهَدُوا أَنِّي بَرِيءٌ مِّمَّا تُشْرِكُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আমরা তো কেবল বলছি যে, ‘আমাদের কোন কোন উপাস্য তোমাকে অমঙ্গল দ্বারা আক্রান্ত করেছে’। সে বলল, ‘নিশ্চয় আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি আর তোমরা সাক্ষী থাক যে, আমি অবশ্যই তা থেকে মুক্ত যাকে তোমরা শরীক কর,

মুহিউদ্দীন খান

বরং আমরাও তো বলি যে, আমাদের কোন দেবতা তোমার উপরে শোচনীয় ভূত চাপিয়ে দিয়েছে। হুদ বললেন - আমি আল্লাহকে সাক্ষী করেছি আর তোমাও সাক্ষী থাক যে, আমার কোন সম্পর্ক নাই তাঁদের সাথে যাদের কে তোমরা শরিক করছ;

আবদুস শহীদ নাসিম

ছাড়া তোমরা সবাই মিলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো, তারপর আমাকে কোনো অবকাশ দিও না।

Arabic, with marks

مِن دُونِهِ ۖ فَكِيدُونِي جَمِيعًا ثُمَّ لَا تُنظِرُونِ

বয়ান ফাউন্ডেশন

ছাড়া। সুতরাং তোমরা সকলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর তারপর আমাকে অবকাশ দিও না’।

মুহিউদ্দীন খান

তাকে ছাড়া, তোমরা সবাই মিলে আমার অনিষ্ট করার প্রয়াস চালাও, অতঃপর আমাকে কোন অবকাশ দিও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তো তাওয়াক্কুল করেছি আল্লাহর উপর যিনি আমার প্রভু এবং তোমাদেরও প্রভু। এমন কোনো জীব নেই, যে তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই। নিশ্চয়ই আমার প্রভু সঠিক সরল পথের উপর প্রতিষ্ঠিত।

Arabic, with marks

إِنِّي تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ رَبِّي وَرَبِّكُم ۚ مَّا مِن دَابَّةٍ إِلَّا هُوَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا ۚ إِنَّ رَبِّي عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আমি অবশ্যই তাওয়াক্কুল করেছি আমার রব ও তোমাদের রব আল্লাহর উপর, প্রতিটি বিচরণশীল প্রাণীরই তিনি নিয়ন্ত্রণকারী। নিশ্চয় আমার রব সরল পথে আছেন’।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আল্লাহর উপর নিশ্চিত ভরসা করেছি যিনি আমার এবং তোমাদের পরওয়ারদেগার। পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নাই যা তাঁর র্পূণ আয়ত্তাধীন নয়। আমার পালকর্তার সরল পথে সন্দেহ নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখো, আমি তোমাদের কাছে যে বার্তা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আমার প্রভু তোমাদের পরিবর্তে ভিন্ন কোনো কওমকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। আমার প্রভু সব কিছুর রক্ষক।’’

Arabic, with marks

فَإِن تَوَلَّوْا فَقَدْ أَبْلَغْتُكُم مَّا أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَيْكُمْ ۚ وَيَسْتَخْلِفُ رَبِّي قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّونَهُ شَيْئًا ۚ إِنَّ رَبِّي عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَفِيظٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘অতঃপর তোমরা যদি বিমুখ হও, তবে যা নিয়ে আমি তোমাদের কাছে প্রেরিত হয়েছি তা তো তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আর আমার রব তোমাদেরকে ছাড়া অন্য এক জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করবেন। আর তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয় আমার রব সব কিছুর হেফাযতকারী’।

মুহিউদ্দীন খান

তথাপি যদি তোমরা মুখ ফেরাও, তবে আমি তোমাদেরকে তা পৌছিয়েছি যা আমার কাছে তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছে; আর আমার পালনকর্তা অন্য কোন জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, আর তোমরা তাঁর কিছুই বিগড়াতে পারবে না; নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগারই প্রতিটি বস্তুর হেফাজতকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পৌঁছে, আমরা হুদকে এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমাদের দয়ায় নাজাত দিয়েছিলাম এবং তাদের রক্ষা করেছিলাম কঠিন আযাব থেকে।

Arabic, with marks

وَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا هُودًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَنَجَّيْنَاهُم مِّنْ عَذَابٍ غَلِيظٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যখন আমার আদেশ আসল, আমি হূদকে ও যারা তার সাথে ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে রহমত দ্বারা রক্ষা করলাম এবং আমি কঠোর আযাব থেকে তাদেরকে নাজাত দিলাম।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমার আদেশ যখন উপস্থিত হল, তখন আমি নিজ রহমতে হুদ এবং তাঁর সঙ্গী ঈমানদারগণকে পরিত্রাণ করি এবং তাদেরকে এক কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা ছিলো আদ জাতি, তারা তাদের প্রভুর আয়াত অস্বীকার করেছিল এবং তাঁর রসূলদের অমান্য করেছিল এবং প্রত্যেক অহংকারী স্বৈরাচারীর অনুসরণ করেছিল।

Arabic, with marks

وَتِلْكَ عَادٌ ۖ جَحَدُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَعَصَوْا رُسُلَهُ وَاتَّبَعُوا أَمْرَ كُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

এই আদ জাতি, তারা তাদের রবের আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছিল এবং অমান্য করেছিল তাঁর রাসূলদের, আর তারা অনুসরণ করেছিল প্রত্যেক উদ্ধত, হঠকারীর নির্দেশ।

মুহিউদ্দীন খান

এ ছিল আদ জাতি, যারা তাদের পালনকর্তার আয়াতকে অমান্য করেছে, আর তদীয় রসূলগণের অবাধ্যতা করেছে এবং প্রত্যেক উদ্ধত বিরোধীদের আদেশ পালন করেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

দুনিয়ার জীবনে তাদের অভিশাপগ্রস্ত করা হয়েছিল এবং কিয়ামতের দিনও হবে তারা অভিশাপগ্রস্ত। সাবধান, আদ জাতি তাদের প্রভুকে অস্বীকার করেছিল। সাবধান, নিপাত গিয়েছিল আদ জাতি, যারা ছিলো হুদের কওম।

Arabic, with marks

وَأُتْبِعُوا فِي هَٰذِهِ الدُّنْيَا لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ أَلَا إِنَّ عَادًا كَفَرُوا رَبَّهُمْ ۗ أَلَا بُعْدًا لِّعَادٍ قَوْمِ هُودٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর এই দুনিয়াতে লা‘নত তাদের পেছনে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে এবং কিয়ামত দিবসেও। জেনে রাখ, নিশ্চয় আদ জাতি তাদের রবের সাথে করেছে। জেনে রাখ, হূদের কওম আদ জাতির জন্য রয়েছে ধ্বংস।

মুহিউদ্দীন খান

এ দুনিয়ায় তাদের পিছনে পিছনে লা’নত রয়েছে এবং কেয়ামতের দিনেও; জেনে রাখ, আদ জাতি তাদের পালনকর্তাকে অস্বীকার করেছে, হুদের জ্ঞাতি আদ জাতির প্রতি অভিসম্পাত রয়েছে জেনে রাখ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা সামুদ জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই ভাই সালেহকে। সে তাদের বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন জমিন থেকে এবং তাতেই তোমাদের তামির (প্রতিষ্ঠিত) করেছেন। অতএব, তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁরই দিকে ফিরো আসো। অবশ্যি আমার প্রভু অতি কাছে এবং ডাকে সাড়া দানকারী।’

Arabic, with marks

۞ وَإِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا ۚ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ هُوَ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَاسْتَعْمَرَكُمْ فِيهَا فَاسْتَغْفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ ۚ إِنَّ رَبِّي قَرِيبٌ مُّجِيبٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর সামূদ জাতির প্রতি (পাঠিয়েছিলাম)তাদের ভাই সালিহকে। সে বলল,‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) নেই, তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে এবং সেখানে তোমাদের জন্য আবাদের* ব্যবস্থা করেছেন । সুতরাং তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা

মুহিউদ্দীন খান

আর সামুদ জাতি প্রতি তাদের ভাই সালেহ কে প্রেরণ করি; তিনি বললেন, হে আমার জাতি। আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন উপাস্য নাই। তিনিই যমীন হতে তোমাদেরকে পয়দা করেছেন, তন্মধ্যে তোমাদেরকে বসতি দান করেছেন। অতএব; তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর অতঃপর তাঁরই দিকে ফিরে চল আমার পালনকর্তা নিকটেই আছেন, কবুল করে থাকেন; সন্দেহ নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘হে সালেহ্! ইতোপূর্বে তুমি ছিলে আমাদের আশা - ভরসার স্থল। আর এখন কি তুমি আমাদের পূর্বপুরুষরা যাদের ইবাদত করতো তাদের ইবাদত করতে আমাদের নিষেধ করছো? তুমি আমাদের যেদিকে ডাকছো সে বিষয়ে অবশ্যি আমরা বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে রয়েছি।

Arabic, with marks

قَالُوا يَا صَالِحُ قَدْ كُنتَ فِينَا مَرْجُوًّا قَبْلَ هَٰذَا ۖ أَتَنْهَانَا أَن نَّعْبُدَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا وَإِنَّنَا لَفِي شَكٍّ مِّمَّا تَدْعُونَا إِلَيْهِ مُرِيبٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা বলল, ‘হে সালিহ, তুমি তো ইতঃপূর্বে আমাদের মধ্যে ছিলে প্রত্যাশিত। তুমি কি আমাদেরকে নিষেধ করছ তাদের ইবাদাত করতে আমাদের পিতৃপুরুষরা যাদের ইবাদাত করত? তুমি আমাদেরকে যার দিকে আহবান করছ, সে ব্যাপারে নিশ্চয় আমরা ঘোর সন্দেহের মধ্যে আছি’।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - হে সালেহ, ইতিপূর্বে তোমার কাছে আমাদের বড় আশা ছিল। আমাদের বাপ - দাদা যা পূজা করত তুমি কি আমাদেরকে তার পূজা করতে নিষেধ কর? কিন্তু যার প্রতি তুমি আমাদের আহবান জানাচ্ছ আমাদের তাতে এমন সন্দেহ রয়েছে যে, মন মোটেই সায় দিচ্ছে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমাদের মতামত কী, আমি যদি আমার প্রভুর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে কোনো অনুগ্রহ দান করেন, তখন আমাকে কে রক্ষা করবে যদি আমি তাঁর অবাধ্য হই? তোমরা আমার ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বাড়াতে পারবে না।

Arabic, with marks

قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّي وَآتَانِي مِنْهُ رَحْمَةً فَمَن يَنصُرُنِي مِنَ اللَّهِ إِنْ عَصَيْتُهُ ۖ فَمَا تَزِيدُونَنِي غَيْرَ تَخْسِيرٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা কী মনে কর, যদি আমি আমার রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের উপর থাকি এবং তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত দান করেন, তাহলে কে আমাকে আল্লাহর (আযাব) থেকে সাহায্য করবে, যদি আমি তাঁর অবাধ্য হই? সুতরাং তোমরা তো কেবল আমার ক্ষতিই বৃদ্ধি করছ’।

মুহিউদ্দীন খান

সালেহ বললেন - হে আমার জাতি! তোমরা কি মনে কর, আমি যদি আমার পালনকর্তার পক্ষ হতে বুদ্ধি বিবেচনা লাভ করে থাকি আর তিনি যদি আমাকে নিজের তরফ হতে রহমত দান করে থাকেন, অতঃপর আমি যদি তাঁর অবাধ্য হই তবে তার থেকে কে আমায় রক্ষা করবে? তোমরা তো আমার ক্ষতি ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করতে পরবে না

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! এটি আল্লাহর উটনী তোমাদের জন্যে একটি নিদর্শন। তোমরা এটিকে আল্লাহর জমিনে চরে খেতে দাও। তোমরা এটিকে মন্দ (উদ্দেশ্যে) স্পর্শ করোনা, করলে তোমাদের উপর আপতিত হবে আশু আযাব।

Arabic, with marks

وَيَا قَوْمِ هَٰذِهِ نَاقَةُ اللَّهِ لَكُمْ آيَةً فَذَرُوهَا تَأْكُلْ فِي أَرْضِ اللَّهِ وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابٌ قَرِيبٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর হে আমার কওম, এটি আল্লাহর উট, তোমাদের জন্য নিদর্শনস্বরূপ। তাই তোমরা একে ছেড়ে দাও, সে আল্লাহর যমীনে (বিচরণ করে) খাবে এবং কোনরূপ মন্দভাবে তাকে স্পর্শ করো না, তাহলে তোমাদেরকে আশু আযাব পাকড়াও করবে’।

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি! আল্লাহর এ উষ্ট্রীটি তোমাদের জন্য নিদর্শন, অতএব তাকে আল্লাহর যমীনে বিচরণ করে খেতে দাও, এবং তাকে মন্দভাবে স্পর্শও করবে না। নতুবা অতি সত্বর তোমাদেরকে আযাব পাকড়াও করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তারা সেটিকে হত্যা করে। তখন সে তাদের বলেছিল: ‘তোমরা তোমাদের ঘরে মাত্র তিনদিন উপভোগ করো। এটি একটি অনিবার্য সত্য ওয়াদা।’

Arabic, with marks

فَعَقَرُوهَا فَقَالَ تَمَتَّعُوا فِي دَارِكُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ ۖ ذَٰلِكَ وَعْدٌ غَيْرُ مَكْذُوبٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর তারা তাকে হত্যা করল। তাই সে বলল, ‘তোমরা তিন দিন নিজ নিজ গৃহে আনন্দে কাটাও। এ এমন এক ওয়াদা, যা মিথ্যা হবার নয়’।

মুহিউদ্দীন খান

তবু তারা উহার পা কেটে দিল। তখন সালেহ বললেন - তোমরা নিজেদের গৃহে তিনটি দিন উপভোগ করে নাও। ইহা এমন ওয়াদা যা মিথ্যা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পৌঁছালো আমরা আমাদের অনুগ্রহে সালেহ্ এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদের রক্ষা করলাম সেদিনের চরম লাঞ্ছনা থেকে। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মহাশক্তিধর পরাক্রমশালী।

Arabic, with marks

فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا صَالِحًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَمِنْ خِزْيِ يَوْمِئِذٍ ۗ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ الْقَوِيُّ الْعَزِيزُ

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর যখন আমার আদেশ এল, তখন সালিহ ও তার সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে রহমত দ্বারা নাজাত দিলাম এবং (নাজাত দিলাম) সেই দিনের লাঞ্ছনা থেকে। নিশ্চয় তোমার রব, তিনি শক্তিশালী, পরাক্রমশালী।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমার আযাব যখন উপস্থিত হল, তখন আমি সালেহকে ও তদীয় সঙ্গী ঈমানদারগণকে নিজ রহমতে উদ্ধার করি, এবং সেদিনকার অপমান হতে রক্ষা করি। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা তিনি সর্বশক্তিমান পরাক্রমশালী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা যুলুম করেছিল তাদের পাকড়াও করলো এক বিকট শব্দ। ফলে তারা তাদের ঘরে ঘরে উপুড় হয়ে পড়েছিল।

Arabic, with marks

وَأَخَذَ الَّذِينَ ظَلَمُوا الصَّيْحَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دِيَارِهِمْ جَاثِمِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যারা যুলম করেছিল, বিকট আওয়াজ তাদেরকে পাকড়াও করল, ফলে তারা নিজদের গৃহে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকল।

মুহিউদ্দীন খান

আর ভয়ঙ্কর গর্জন পাপিষ্ঠদের পাকড়াও করল, ফলে ভোর হতে না হতেই তারা নিজ নিজ গৃহসমূহে উপুর হয়ে পড়ে রইল।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবস্থা এমন হয়েছিল যেনো তারা কখনো সেখানে বসবাসই করেনি। সাবধান, সামুদ জাতি তাদের প্রভুকে অস্বীকার করেছিল। সাবধান, সামুদ জাতি সমূলে নিপাত হয়ে গিয়েছিল।

Arabic, with marks

كَأَن لَّمْ يَغْنَوْا فِيهَا ۗ أَلَا إِنَّ ثَمُودَ كَفَرُوا رَبَّهُمْ ۗ أَلَا بُعْدًا لِّثَمُودَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

যেন তারা সেগুলোতে বসবাসই করেনি। জেনে রাখ, নিশ্চয় সামূদ জাতি তাদের রবের সাথে করেছে। জেনে রাখ, সামূদ জাতির জন্য রয়েছে ধ্বংস।

মুহিউদ্দীন খান

যেন তাঁরা কোনদিনই সেখানে ছিল না। জেনে রাখ, নিশ্চয় সামুদ জাতি তাদের পালনকর্তার প্রতি অস্বীকার করেছিল। আরো শুনে রাখ, সামুদ জাতির জন্য অভিশাপ রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের দূত (ফেরেশতারা) সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল ইবরাহিমের কাছে। এসে তারা বলেছিল: ‘সালাম!’ সেও বলেছিল: ‘সালাম।’ অত:পর সে দেরি না করে ভুনা করা গো - নিয়ে এলো (তাদের মেহমানদারির জন্যে)।

Arabic, with marks

وَلَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُنَا إِبْرَاهِيمَ بِالْبُشْرَىٰ قَالُوا سَلَامًا ۖ قَالَ سَلَامٌ ۖ فَمَا لَبِثَ أَن جَاءَ بِعِجْلٍ حَنِيذٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর অবশ্যই আমার ফেরেশতারা সুসংবাদ নিয়ে ইবরাহীমের কাছে আসল, তারা বলল, ‘সালাম’। সেও বলল, ‘সালাম’। বিলম্ব না করে সে একটি ভুনা গো নিয়ে আসল।

মুহিউদ্দীন খান

আর অবশ্যই আমার প্রেরিত ফেরেশতারা ইব্রাহীমেরে কাছে সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল তারা বলল সালাম, তিনিও বললেন - সালাম। অতঃপর অল্পক্ষণের মধ্যেই তিনি একটি ভুনা করা নিয়ে এলেন!

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যখন দেখলো, তারা সে (খাবারের) দিকে হাত বাড়াচ্ছে না, তখন সে তাদের আগমনকে অশুভ মনে করলো এবং তাদের ব্যাপারে তার মনে ভয় ঢুকলো। তারা বললো: ‘আপনি ভয় পাবেননা, আমরা তো লুতের কওমের কাছে প্রেরিত হয়েছি।’

Arabic, with marks

فَلَمَّا رَأَىٰ أَيْدِيَهُمْ لَا تَصِلُ إِلَيْهِ نَكِرَهُمْ وَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً ۚ قَالُوا لَا تَخَفْ إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَىٰ قَوْمِ لُوطٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর যখন সে দেখতে পেল, তাদের হাত এর প্রতি পৌঁছছে না, তখন তাদেরকে অস্বাভাবিক মনে করল এবং সে তাদের থেকে ভীতি অনুভব করল। তারা বলল, ‘ভয় করো না, নিশ্চয় আমরা লূতের কওমের কাছে প্রেরিত হয়েছি’।

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু যখন দেখলেন যে, আহার্য্যের দিকে তাদের হস্ত প্রসারিত হচ্ছে না, তখন তিনি সন্ধিগ্ধ হলেন এবং মনে মনে তাঁদের সম্পর্কে ভয় অনুভব করতে লাগলেন। তারা বলল - ভয় পাবেন না। আমরা লূতের কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার স্ত্রী দাঁড়ানো ছিলো, সে (তার স্ত্রী) হেসে ফেললো। তখন আমরা তাকে সুসংবাদ দিলাম (পুত্র) ইসহাকের এবং ইসহাকের পরে (নাতি) ইয়াকুবের।

Arabic, with marks

وَامْرَأَتُهُ قَائِمَةٌ فَضَحِكَتْ فَبَشَّرْنَاهَا بِإِسْحَاقَ وَمِن وَرَاءِ إِسْحَاقَ يَعْقُوبَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তার স্ত্রী দাঁড়ানো ছিল, সে হেসে উঠল। অতঃপর আমি তাকে সুসংবাদ দিলাম ইসহাকের ও ইসহাকের পরে ইয়া‘কূবের।

মুহিউদ্দীন খান

তাঁর স্ত্রীও নিকটেই দাড়িয়েছিল, সে হেসে ফেলল। অতঃপর আমি তাকে ইসহাকের জন্মের সুখবর দিলাম এবং ইসহাকের পরের ইয়াকুবেরও।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ইবরাহিমের স্ত্রী সারাহ্) বললো: ‘হায় হায়, আমি সন্তানের মা হবো, অথচ আমি একজন বৃদ্ধা এবং আমার স্বামীও বৃদ্ধ, এ - তো এক বিস্ময়কর ব্যাপার!’

Arabic, with marks

قَالَتْ يَا وَيْلَتَىٰ أَأَلِدُ وَأَنَا عَجُوزٌ وَهَٰذَا بَعْلِي شَيْخًا ۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَيْءٌ عَجِيبٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘হায়, কী আশ্চর্য! আমি সন্তান প্রসব করব, অথচ আমি বৃদ্ধা, আর এ আমার স্বামী, বৃদ্ধ? এটা তো অবশ্যই এক আশ্চর্যজনক ব্যাপার’!

মুহিউদ্দীন খান

সে বলল - কি দুর্ভাগ্য আমার! আমি সন্তান প্রসব করব? অথচ আমি বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে এসে উপনীত হয়েছি আর আমার স্বামীও বৃদ্ধ, এতো ভারী আশ্চর্য কথা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আপনি কি আল্লাহর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিস্ময়বোধ করছেন? হে আহলে বাইত (হে ঘরবাসী)! এটা তো আপনাদের প্রতি আল্লাহর রহমত এবং বরকত। নিশ্চয়ই তিনি সপ্রশংসিত ও সম্মানিত।’

Arabic, with marks

قَالُوا أَتَعْجَبِينَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ ۖ رَحْمَتُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ ۚ إِنَّهُ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা বলল, ‘আল্লাহর সিদ্ধান্তে তুমি আশ্চর্য হচ্ছ? হে নবী পরিবার, তোমাদের উপর আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত। নিশ্চয় তিনি প্রশংসিত সম্মানিত’।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - তুমি আল্লাহর হুকুম সম্পর্কে বিস্ময়বোধ করছ? হে গৃহবাসীরা, তোমাদের উপর আল্লাহর রহমত ও প্রভুত বরকত রয়েছে। নিশ্চয় প্রশংসিত মহিমাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইবরাহিমের থেকে যখন আতংক দূর হয়ে গেলো এবং সে সুসংবাদ লাভ করলো, তখন সে লুতের কওমের ব্যাপারে বিতর্ক করতে থাকলো।

Arabic, with marks

فَلَمَّا ذَهَبَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الرَّوْعُ وَجَاءَتْهُ الْبُشْرَىٰ يُجَادِلُنَا فِي قَوْمِ لُوطٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর যখন ইবরাহীম থেকে ভয় দূর হল এবং তার কাছে সুসংবাদ এল, তখন সে লূতের কওম সম্পর্কে আমার সাথে বাদানুবাদ করতে লাগল।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন ইব্রাহীম (আঃ) এর আতঙ্ক দূর হল এবং তিনি সুসংবাদ প্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি আমার সাথে তর্ক শুরু করলেন কওমে লূত সম্পর্কে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই ইবরাহিম ছিলো এক সহনশীল, কোমল হৃদয় এবং আল্লাহমুখী মানুষ।

Arabic, with marks

إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَحَلِيمٌ أَوَّاهٌ مُّنِيبٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় ইবরাহীম অত্যন্ত সহনশীল, অধিক অনুনয় বিনয়কারী, আল্লাহমুখী।

মুহিউদ্দীন খান

ইব্রাহীম (আঃ) বড়ই ধৈর্য্যশীল, কোমল অন্তর, আল্লাহমুখী সন্দেহ নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ইবরাহিম! এ (বিতর্ক) থেকে বিরত হও, (তাদের প্রতি তো) তোমার প্রভুর নির্দেশ এসে গেছে। তাদের উপর এক অপ্রতিরোধ্য আযাব এসে যাচ্ছে।

Arabic, with marks

يَا إِبْرَاهِيمُ أَعْرِضْ عَنْ هَٰذَا ۖ إِنَّهُ قَدْ جَاءَ أَمْرُ رَبِّكَ ۖ وَإِنَّهُمْ آتِيهِمْ عَذَابٌ غَيْرُ مَرْدُودٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

হে ইবরাহীম, তুমি এ থেকে বিরত হও। নিশ্চয় তোমার রবের সিদ্ধান্ত এসে গেছে এবং নিশ্চয় তাদের উপর আসবে আযাব, যা প্রতিহত হবার নয়।

মুহিউদ্দীন খান

ইব্রাহীম, এহেন ধারণা পরিহার কর; তোমার পালনকর্তার হুকুম এসে গেছে, এবং তাদের উপর সে আযাব অবশ্যই আপতিত হবে, যা কখনো প্রতিহত হবার নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর আমাদের দূত (ফেরেশতারা) যখন লুতের কাছে এলো, তাদের আগমনে সে বিষন্ন হয়ে পড়লো এবং তাদের (তার জাতিকে) রক্ষায় নিজেকে অক্ষম মনে করলো, আর বললো: ‘এ তো এক শোকাবহ দিন।’

Arabic, with marks

وَلَمَّا جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوطًا سِيءَ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَقَالَ هَٰذَا يَوْمٌ عَصِيبٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যখন লূতের কাছে আমার ফেরেশতা আসল, তখন তাদের (আগমনের) কারণে তার অস্বস্তিবোধ হল এবং তার অন্তর খুব সঙ্কুচিত হয়ে গেল। আর সে বলল, ‘এ তো কঠিন দিন’।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ লূত (আঃ) এর নিকট উপস্থিত হল। তখন তাঁদের আগমনে তিনি দুচিন্তাগ্রস্ত হলেন এবং তিনি বলতে লাগলেন, আজ অত্যন্ত কঠিন দিন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তার কওম তার দিকে উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটে এলো এবং আগে থেকে তারা কুকাজে অভ্যস্ত ছিলো। সে বললো: ‘হে আমার কওম! এই যে আমার (কওমের) কন্যারা রয়েছে, তোমাদের জন্যে এরাই পবিত্র (তোমরা তাদের বিয়ে করে নাও)। আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার মেহমানদের ব্যাপারে আমাকে অপমানিত করোনা। তোমাদের মধ্যে কি একজন ভালো মানুষও নেই?’

Arabic, with marks

وَجَاءَهُ قَوْمُهُ يُهْرَعُونَ إِلَيْهِ وَمِن قَبْلُ كَانُوا يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ ۚ قَالَ يَا قَوْمِ هَٰؤُلَاءِ بَنَاتِي هُنَّ أَطْهَرُ لَكُمْ ۖ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَلَا تُخْزُونِ فِي ضَيْفِي ۖ أَلَيْسَ مِنكُمْ رَجُلٌ رَّشِيدٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তার কওম তার কাছে ছুটে আসল এবং ইতঃপূর্বে তারা মন্দ কাজ করত। সে বলল, ‘হে আমার কওম, এরা আমার মেয়ে, তারা তোমাদের জন্য পবিত্র। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার মেহমানদের ব্যাপারে তোমরা আমাকে অপমানিত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কোন সুবোধ ব্যক্তি নেই’?

মুহিউদ্দীন খান

আর তাঁর কওমের লোকেরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে তার (গৃহ) পানে ছুটে আসতে লাগল। পূর্ব থেকেই তারা কু - কর্মে তৎপর ছিল। লূত (আঃ) বললেন - হে আমার কওম, এ আমার কন্যারা রয়েছে, এরা তোমাদের জন্য অধিক পবিত্রতমা। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং অতিথিদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো না, তোমাদের মধ্যে কি কোন ভাল মানুষ নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘তুমি তো জানো, তোমার কন্যাদের আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা কী চাই তুমি তো তা ভালো করেই জানো।’

Arabic, with marks

قَالُوا لَقَدْ عَلِمْتَ مَا لَنَا فِي بَنَاتِكَ مِنْ حَقٍّ وَإِنَّكَ لَتَعْلَمُ مَا نُرِيدُ

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা বলল, ‘তুমি অবশ্যই জান, তোমার মেয়েদের ব্যাপারে আমাদের কোন প্রয়োজন নেই। আর আমরা কী চাই, তা তুমি নিশ্চয় জান’।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল ু তুমি তো জানই, তোমার কন্যাদের নিয়ে আমাদের কোন গরজ নেই। আর আমরা কি চাই, তাও তুমি অবশ্যই জান।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘তোমাদের উপর যদি আমার শক্তি থাকতো অথবা আমি যদি আশ্রয় পেতাম কোনো সুদৃঢ় স্তম্ভের!’

Arabic, with marks

قَالَ لَوْ أَنَّ لِي بِكُمْ قُوَّةً أَوْ آوِي إِلَىٰ رُكْنٍ شَدِيدٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘তোমাদের প্রতিরোধে যদি আমার কোন শক্তি থাকত অথবা আমি কোন সুদৃঢ় স্তম্ভের আশ্রয় নিতে পারতাম’*! *‘সুদৃঢ় স্তম্ভ’ বলতে শক্তিশালী সৈন্যসামন্ত কিংবা কওম অথবা গোত্র বুঝানো হয়েছে।

মুহিউদ্দীন খান

লূত (আঃ) বললেন - হায়, তোমাদের বিরুদ্ধে যদি আমার শক্তি থাকত অথবা আমি কোন সূদৃঢ় আশ্রয় গ্রহণ করতে সক্ষম হতাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: হে লুত! আমরা তো আপনার প্রভুর দূত। ওরা কখনো তোমার কাছে পৌঁছাতে পারবে না। আপনি রাতের কোনো এক সময় আপনার পরিবার পরিজন নিয়ে বের হয়ে পড়ুন এবং আপনাদের কেউই যেনো পেছনে না তাকায়। তবে আপনার স্ত্রীকে সাথে নেবেন না। তাদের যা ঘটবে তারও তাই ঘটবে। প্রভাতই তাদের নির্ধারিত সময়। প্রভাত কি ঘনিয়ে আসেনি?

Arabic, with marks

قَالُوا يَا لُوطُ إِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَن يَصِلُوا إِلَيْكَ ۖ فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِّنَ اللَّيْلِ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنكُمْ أَحَدٌ إِلَّا امْرَأَتَكَ ۖ إِنَّهُ مُصِيبُهَا مَا أَصَابَهُمْ ۚ إِنَّ مَوْعِدَهُمُ الصُّبْحُ ۚ أَلَيْسَ الصُّبْحُ بِقَرِيبٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা বলল, ‘হে লূত, আমরা তোমার রবের প্রেরিত ফেরেশতা, তারা কখনো তোমার কাছে পৌঁছতে পারবে না। সুতরাং তুমি তোমার পরিবার নিয়ে রাতের কোন এক অংশে রওয়ানা হও, আর তোমাদের কেউ পিছে তাকাবে না। তবে তোমার স্ত্রী (রওয়ানা হবে না), কেননা তাকে তা-ই আক্রান্ত করবে যা তাদেরকে

মুহিউদ্দীন খান

মেহমান ফেরেশতাগন বলল - হে লূত (আঃ) আমরা তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হতে প্রেরিত ফেরেশতা। এরা কখনো তোমার দিকে পৌঁছাতে পারবে না। ব্যস তুমি কিছুটা রাত থাকতে থাকতে নিজের লোকজন নিয়ে বাইরে চলে যাও। আর তোমাদের কেউ যেন পিছনে ফিরে না তাকায়। কিন্তু তোমার স্ত্রী নিশ্চয় তার উপরও তা আপতিত হবে, যা ওদের উপর আপতিত হবে। ভোর বেলাই তাদের প্রতিশ্রুতির সময়, ভোর কি খুব নিকটে নয়?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পৌছে, তখন আমরা সেই জনপদকে উল্টে দিয়েছি এবং তার উপর অনবরত বর্ষণ করেছি পাথর কঙ্কর।

Arabic, with marks

فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِّن سِجِّيلٍ مَّنضُودٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর যখন আমার আদেশ এসে গেল, তখন আমি জনপদের উপরকে নীচে উল্টে দিলাম এবং ক্রমাগত পোড়ামাটির পাথর বর্ষণ করলাম,

মুহিউদ্দীন খান

অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল, তখন আমি উক্ত জনপদকে উপরকে নীচে করে দিলাম এবং তার উপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ করলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে সেগুলো ছিলো (তাদের) নাম লেখা কঙ্কর। সেই জনপদ (তোমার প্রতিপক্ষ) এই যালিমদের থেকে দূরে নয়।

Arabic, with marks

مُّسَوَّمَةً عِندَ رَبِّكَ ۖ وَمَا هِيَ مِنَ الظَّالِمِينَ بِبَعِيدٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

যা চি‎‎হ্নত ছিল তোমার রবের কাছে। আর তা যালিমদের থেকে দূরে নয়।

মুহিউদ্দীন খান

যার প্রতিটি তোমার পালনকর্তার নিকট চিহ্নিত ছিল। আর সেই পাপিষ্ঠদের থেকে খুব দূরেও নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা মাদায়ানে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই ভাই শুয়াইবকে। সে তাদের বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তোমরা মাপে এবং ওজনে কম করোনা। আমি তো তোমাদের স্বচ্ছল দেখছি। আমি তোমাদের উপর আশংকা করছি এক সর্বগ্রাসী দিনের আযাবের।

Arabic, with marks

۞ وَإِلَىٰ مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا ۚ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ وَلَا تَنقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ ۚ إِنِّي أَرَاكُم بِخَيْرٍ وَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ مُّحِيطٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর মাদইয়ানে আমি (পাঠিয়েছিলাম) তাদের ভাই শু‘আইবকে। সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) নেই এবং মাপ ও ওযন কম করো না; আমি তো তোমাদের প্রাচুর্যশীল দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের উপর এক সর্বগ্রাসী দিনের আযাবের ভয় করছি’।

মুহিউদ্দীন খান

আর মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েব (আঃ) কে প্রেরণ করেছি। তিনি বললেন - হে আমার কওম! আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া আমাদের কোন মাবুদ নাই। আর পরিমাপে ও ওজনে কম দিও না, আজ আমি তোমাদেরকে ভাল অবস্থায়ই দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের উপর এমন একদিনের আযাবের আশঙ্কা করছি যেদিনটি পরিবেষ্টনকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! ইনসাফের সাথে পূর্ণ করে দাও মাপ এবং ওজন। মানুষকে তাদের প্রাপ্য সামগ্রী কম দিও না এবং দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িয়োনা।

Arabic, with marks

وَيَا قَوْمِ أَوْفُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর হে আমার কওম, মাপ ও ওযন পূর্ণ কর ইনসাফের সাথে এবং মানুষকে তাদের পণ্য কম দিও না; আর যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়িও না,

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি, ন্যায়নিষ্ঠার সাথে ঠিকভাবে পরিমাপ কর ও ওজন দাও এবং লোকদের জিনিসপত্রে কোনরূপ ক্ষতি করো না, আর পৃথিবীতে ফাসাদ করে বেড়াবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর অনুমোদিত বাকিটাই (লাভটাই) তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তুমি হও। আমি তোমাদের উপর পাহারাদার নই।’’

Arabic, with marks

بَقِيَّتُ اللَّهِ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ۚ وَمَا أَنَا عَلَيْكُم بِحَفِيظٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আল্লাহর দেয়া উদ্বৃত্ত লাভ তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা হও। আর আমি তো তোমাদের হিফাযতকারী নই’।

মুহিউদ্দীন খান

প্রদত্ত উদ্ধৃত্ত তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা হও, আর আমি তো তোমাদের উপর সদা পর্যবেক্ষণকারী নই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলেছিল: ‘হে শুয়াইব! তোমার কি তোমাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পূর্ব পুরুষরা যে সবের ইবাদত করতো আমরা যেনো সেগুলোকে ত্যাগ করি? কিংবা আমাদের ধন - সম্পদ নিয়ে আমরা যা ইচ্ছে তাই করি? শুধু তুমি রয়ে গেলে একজন উঁচু মনের ধৈর্যশীল সৎ মানুষ।’

Arabic, with marks

قَالُوا يَا شُعَيْبُ أَصَلَاتُكَ تَأْمُرُكَ أَن نَّتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا أَوْ أَن نَّفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ ۖ إِنَّكَ لَأَنتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা বলল, ‘হে শু‘আইব, তোমার কি তোমাকে এই নির্দেশ প্রদান করে যে, আমাদের পিতৃপুরুষগণ যাদের ইবাদাত করত, আমরা তাদের ত্যাগ করি? অথবা আমাদের সম্পদে আমরা ইচ্ছামত যা করি তাও (ত্যাগ করি?) তুমি তো বেশ সহনশীল সুবোধ’!

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনার কি আপনাকে ইহাই শিক্ষা দেয় যে, আমরা ঐসব উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব আমাদের বাপ - দাদারা যাদের উপাসনা করত? অথবা আমাদের ধন - সম্পদে ইচ্ছামত যা কিছু করে থাকি, তা ছেড়ে দেব? আপনি তো একজন খাস মহৎ ব্যক্তি ও সৎপথের পথিক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা কি ভেবে দেখেছো, আমি যদি আমার প্রভুর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে উত্তম জীবিকা দান করেন (তবে আমি কী করে তাঁর অবাধ্য হই?)। আমি চাইনা, তোমাদেরকে আমি যা নিষেধ করছি, আমি নিজেই তার বিপরীত আচরণ করি। আমি তো আমার সাধ্যমতো সংশোধন করতে চাই। আমি তো ততোটাই করি যতোটা আমাকে তৌফিক দেন। তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করেছি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী।

Arabic, with marks

قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّي وَرَزَقَنِي مِنْهُ رِزْقًا حَسَنًا ۚ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَىٰ مَا أَنْهَاكُمْ عَنْهُ ۚ إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ ۚ وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ ۚ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা কী মনে কর, আমি যদি আমার রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের উপর থাকি এবং তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম রিয্ক দান করে থাকেন (তাহলে কী করে আমি আমার দায়িত্ব পরিত্যাগ করব)! যে কাজ থেকে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি, তোমাদের বিরোধিতা করে সে

মুহিউদ্দীন খান

শোয়ায়েব (আঃ) বললেন - হে দেশবাসী, তোমরা কি মনে কর! আমি যদি আমার পরওয়ারদেগারের পক্ষ হতে সুস্পষ্ট দলীলের উপর কায়েম থাকি আর তিনি যদি নিজের তরফ হতে আমাকে উত্তম রিযিক দান করে থাকেন, (তবে কি আমি তাঁর হুকুম অমান্য করতে পারি?) আর আমি চাই না যে তোমাদেরকে যা ছাড়াতে চাই পরে নিজেই সে কাজে লিপ্ত হব, আমি তো যথাসাধ্য শোধরাতে চাই। আল্লাহর মদদ দ্বারাই কিন্তু কাজ হয়ে থাকে, আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি এবং তাঁরই প্রতি ফিরে যাই।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! আমার বিরুদ্ধাচরণ যেনো তোমাদেরকে এমন অপরাধে লিপ্ত না করে, যার ফলে তোমাদের উপর সে রকম বিপদ এসে পড়ে, যে রকম আপদ আপতিত হয়েছিল নূহের কওম, হুদের কওম, কিংবা সালেহর কওমের উপর। আর লুতের কওমের ঘটনা তো তোমাদের থেকে বেশি দূরের নয়।

Arabic, with marks

وَيَا قَوْمِ لَا يَجْرِمَنَّكُمْ شِقَاقِي أَن يُصِيبَكُم مِّثْلُ مَا أَصَابَ قَوْمَ نُوحٍ أَوْ قَوْمَ هُودٍ أَوْ قَوْمَ صَالِحٍ ۚ وَمَا قَوْمُ لُوطٍ مِّنكُم بِبَعِيدٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর হে আমার কওম, আমার সাথে বৈরিতা তোমাদেরকে যেন এমন কাজে প্ররোচিত না করে যার ফলে তোমাদের সেরূপ আযাব আসবে যেরূপ এসেছিল নূহের কওমের উপর অথবা হূদের কওমের উপর অথবা সালিহের কওমের উপর। আর লূতের কওম তো তোমাদের থেকে দূরে নয়’।

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি! আমার সাথে জিদ করে তোমরা নূহ বা হুদ অথবা সালেহ (আঃ) এর কওমের মত নিজেদের উপর আযাব ডেকে আনবে না। আর লূতের জাতি তো তোমাদের থেকে খুব দূরে নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তারপর তাঁরই দিকে ফিরে আসো। নিশ্চয়ই আমার প্রভু পরম দয়াবান, বন্ধুসুলভ।’’

Arabic, with marks

وَاسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ ۚ إِنَّ رَبِّي رَحِيمٌ وَدُودٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ইস্তিগফার কর অতঃপর তাঁরই কাছে তাওবা কর। নিশ্চয় আমার রব পরম দয়ালু, অতীব ভালবাসা পোষণকারী’।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমাদের পালনকর্তার কাছে মার্জনা চাও এবং তাঁরই পানে ফিরে এসো নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগার খুবই মেহেরবান অতিস্নেহময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলেছিল: ‘হে শুয়াইব! তুমি যা বলছো তার অনেক কথাই আমরা বুঝতে পারছিনা। আমাদের মাঝে তো আমরা তোমাকে দুর্বল দেখতে পাচ্ছি। আমাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর মেরে হত্যাই করতাম আর আমাদের উপর তুমি শক্তিমান নও।’

Arabic, with marks

قَالُوا يَا شُعَيْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِّمَّا تَقُولُ وَإِنَّا لَنَرَاكَ فِينَا ضَعِيفًا ۖ وَلَوْلَا رَهْطُكَ لَرَجَمْنَاكَ ۖ وَمَا أَنتَ عَلَيْنَا بِعَزِيزٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা বলল, ‘হে শু‘আইব, তুমি যা বল, তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না। আর তোমাকে তো আমরা আমাদের মধ্যে দুর্বলই দেখতে পাচ্ছি। যদি তোমার আত্মীয়-স্বজন না থাকত, তবে আমরা তোমাকে অবশ্যই পাথর মেরে হত্যা করতাম। আর আমাদের উপর তুমি শক্তিশালী নও’।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনি যা বলেছেন তার অনেক কথাই আমরা বুঝি নাই, আমারা তো আপনাকে আমাদের মধ্যে দূর্বল ব্যক্তি রূপে মনে করি। আপনার ভাই বন্ধুরা না থাকলে আমরা আপনাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করতাম। আমাদের দৃষ্টিতে আপনি কোন মর্যাদাবান ব্যক্তি নন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্কটা কি আল্লাহর চাইতেও তোমাদের উপর বেশি শক্তিশালী? অথচ তোমরা তাঁকেই সম্পূর্ণ পেছনে ফেলে রেখেছো। জেনে রাখো, তোমরা যা করছো আমার প্রভু তা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।’

Arabic, with marks

قَالَ يَا قَوْمِ أَرَهْطِي أَعَزُّ عَلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَاتَّخَذْتُمُوهُ وَرَاءَكُمْ ظِهْرِيًّا ۖ إِنَّ رَبِّي بِمَا تَعْمَلُونَ مُحِيطٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘হে আমার কওম! আমার স্বজনরা কি তোমাদের কাছে অপেক্ষা অধিক সম্মানিত? আর তোমরা তাঁকে একেবারে পেছনে ঠেলে দিলে? তোমরা যা কর, নিশ্চয় আমার রব তা পরিবেষ্টন করে আছেন’।

মুহিউদ্দীন খান

শোয়ায়েব (আঃ) বলেন - হে আমার জাতি, আমার ভাই বন্ধুরা কি তোমাদের কাছে আল্লাহর চেয়ে প্রভাবশালী? আর তোমরা তাকে বিস্মৃত হয়ে পেছনে ফেলে রেখেছ, নিশ্চয় তোমাদের কার্যকলাপ আমার পালনকর্তার আয়ত্তে রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিজেদের কর্মকান্ড করতে থাকো, আমিও আমার কাজ করে যাবো। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, কার উপর এসে পড়ে অপমানকর আযাব এবং কে মিথ্যাবাদী? তোমরা অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’’

Arabic, with marks

وَيَا قَوْمِ اعْمَلُوا عَلَىٰ مَكَانَتِكُمْ إِنِّي عَامِلٌ ۖ سَوْفَ تَعْلَمُونَ مَن يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَمَنْ هُوَ كَاذِبٌ ۖ وَارْتَقِبُوا إِنِّي مَعَكُمْ رَقِيبٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর হে আমার কওম, তোমরা তোমাদের অবস্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করছি। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কার কাছে আসবে সে আযাব যা তাকে লাঞ্ছিত করবে এবং কে মিথ্যাবাদী। আর তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান।

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি, তোমরা নিজ স্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করছি, অচিরেই জানতে পারবে কার উপর অপমানকর আযাব আসে আর কে মিথ্যাবাদী? আর তোমরাও অপেক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পড়েছিল, আমরা আমাদের রহমতে নাজাত দিয়েছিলাম শুয়াইবকে এবং যারা তার সাথে ঈমান এনেছিল তাদেরকে। আর মহা বিকট শব্দ পাকড়াও করে নিয়েছিল যালিমদেরকে। ফলে তারা তাদের ঘরে ঘরে উপুড় হয়ে পড়েছিল।

Arabic, with marks

وَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا شُعَيْبًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَأَخَذَتِ الَّذِينَ ظَلَمُوا الصَّيْحَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دِيَارِهِمْ جَاثِمِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যখন আমার আদেশ আসল, তখন শু‘আইব ও তার সাথে যারা ঈমান এনেছে, তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে রহমত দ্বারা নাজাত দিলাম এবং যারা যুলম করেছিল তাদেরকে পাকড়াও করল বিকট আওয়াজ। ফলে তারা নিজ নিজ গৃহে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকল।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমার হুকুম যখন এল, আমি শোয়ায়েব (আঃ) ও তাঁর সঙ্গী ঈমানদারগণকে নিজ রহমতে রক্ষা করি আর পাপিষ্ঠদের উপর বিকট গর্জন পতিত হলো। ফলে ভোর না হতেই তারা নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবস্থা এমন হয়েছিল, যেনো তারা কখনো সেখানে বসবাসই করেনি। সাবধান! মাদায়েনবাসী ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল যেমন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল সামুদ জাতি।

Arabic, with marks

كَأَن لَّمْ يَغْنَوْا فِيهَا ۗ أَلَا بُعْدًا لِّمَدْيَنَ كَمَا بَعِدَتْ ثَمُودُ

বয়ান ফাউন্ডেশন

যেন তারা সেখানে বসবাসই করেনি। জেনে রাখ, ধ্বংস মাদইয়ানের জন্য, যেরূপ ধ্বংস হয়েছে সামূদ জাতি।

মুহিউদ্দীন খান

যেন তারা সেখানে কখনো বসবাসই করে নাই। জেনে রাখ, সামুদের প্রতি অভিসম্পাতের মত মাদইয়ানবাসীর উপরেও অভিসম্পাত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসাকে পাঠিয়েছিলাম আমাদের নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে,

Arabic, with marks

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ بِآيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُّبِينٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর আমি মূসাকে আমার আয়াতসমূহ* ও স্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে পাঠিয়েছি, * এখানে ‘আয়াত’ বলতে তাওরাতকে বুঝানো হয়েছে এবং স্পষ্ট প্রমাণ দ্বারা আল্লাহর দেয়া বিশেষ নিদর্শনসমূহ বুঝানো হয়েছে।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি মূসা (আঃ) কে প্রেরণ করি আমার নিদর্শনাদি ও সুস্পষ্ট সনদসহ;

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে। কিন্তু তারা ফেরাউনের নির্দেশের অনুসরণ করে, অথচ ফেরাউনের নির্দেশ ন্যায্য ছিলনা।

Arabic, with marks

إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَاتَّبَعُوا أَمْرَ فِرْعَوْنَ ۖ وَمَا أَمْرُ فِرْعَوْنَ بِرَشِيدٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

ফির‘আউন ও তার নেতৃবৃন্দের কাছে। অতঃপর তারা ফির‘আউনের নির্দেশের অনুসরণ করল। আর ফির‘আউনের নির্দেশ সঠিক ছিল না।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে, তবুও তারা ফেরাউনের হুকুমে চলতে থাকে, অথচ ফেরাউনের কোন কথা ন্যায় সঙ্গত ছিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিয়ামতের দিন সে তার (অনুগামী) কওমের সামনে সামনেই থাকবে এবং তাদের নিয়ে প্রবেশ করবে জাহান্নামে। যেখানে তাদের প্রবেশ করানো হবে তা কতো যে নিকৃষ্ট জায়গা!

Arabic, with marks

يَقْدُمُ قَوْمَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَوْرَدَهُمُ النَّارَ ۖ وَبِئْسَ الْوِرْدُ الْمَوْرُودُ

বয়ান ফাউন্ডেশন

কিয়ামত দিবসে সে তার কওমের অগ্রভাগে থাকবে এবং তাদেরকে আগুনে উপনীত করে দেবে। যেখানে তারা উপনীত হবে সেটা উপনীত হওয়ার কতইনা নিকৃষ্ট স্থান!

মুহিউদ্দীন খান

কেয়ামতের দিন সে তার জাতির লোকদের আগে আগে থাকবে এবং তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পৌঁছে দিবে। আর সেটা অতীব নিকৃষ্ট স্থান, সেখানে তারা পৌঁছেছে।।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই দুনিয়ায় এবং কিয়ামতের দিনেও তাদেরকে লানতের অনুগামী করা হয়েছে। তাদেরকে যে পুরস্কার দেয়া হবে, তা কতো যে নিকৃষ্ট পুরস্কার!

Arabic, with marks

وَأُتْبِعُوا فِي هَٰذِهِ لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ ۚ بِئْسَ الرِّفْدُ الْمَرْفُودُ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর এখানে (দুনিয়ায়) লা‘নত তাদের পেছনে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে এবং কিয়ামত দিবসেও। কি নিকৃষ্ট প্রতিদান, যা তাদের দেয়া হবে।

মুহিউদ্দীন খান

আর এ জগতেও তাদের পেছনে লানত রয়েছে এবং কিয়ামতের দিনেও; অত্যন্ত জঘন্য প্রতিফল, যা তারা পেয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ হলো জনপদসমূহের সংবাদ যা আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করছি। সেগুলোর মধ্যে কিছু (জনপদের চি‎হ্ন‎‎) এখনো বিদ্যমান আছে, আর কিছু হয়ে গেছে বিলীন।

Arabic, with marks

ذَٰلِكَ مِنْ أَنبَاءِ الْقُرَىٰ نَقُصُّهُ عَلَيْكَ ۖ مِنْهَا قَائِمٌ وَحَصِيدٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

এ হচ্ছে জনপদসমূহের কিছু সংবাদ, যা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি। তা থেকে কিছু আছে বিদ্যমান এবং কিছু হয়েছে বিলুপ্ত।

মুহিউদ্দীন খান

এ হচ্ছে কয়েকটি জনপদের সামান্য ইতিবৃত্ত, যা আমি আপনাকে শোনাচ্ছি। তন্মধ্যে কোন কোনটি এখনও বর্তমান আছে আর কোন কোনটির শিকড় কেটে দেয়া হয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের প্রতি যুলুম করিনি, বরং তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল। তাদের উপর যখন আমাদের শাস্তির ফায়সালা এসেছিল, তখন তারা আল্লাহকে ছাড়া যাদের ডাকতো সেই সব ইলাহরা তাদের কিছুমাত্র কাজে আসেনি। তারা তাদের ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই বাড়ায়নি।

Arabic, with marks

وَمَا ظَلَمْنَاهُمْ وَلَٰكِن ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ۖ فَمَا أَغْنَتْ عَنْهُمْ آلِهَتُهُمُ الَّتِي يَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ مِن شَيْءٍ لَّمَّا جَاءَ أَمْرُ رَبِّكَ ۖ وَمَا زَادُوهُمْ غَيْرَ تَتْبِيبٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর আমি তাদের উপর যুলম করিনি, বরং তারা নিজদের উপর যুলম করেছে। তারপর যখন তোমার রবের নির্দেশ আসল তখন ছাড়া যে সব উপাস্যকে তারা ডাকত, তারা তাদের কোন উপকার করেনি এবং তারা ধ্বংস ছাড়া তাদের আর কিছুই বৃদ্ধি করেনি।

মুহিউদ্দীন খান

আমি কিন্তু তাদের প্রতি জুলুম করি নাই বরং তারা নিজেরাই নিজের উপর অবিচার করেছে। ফলে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যেসব মাবুদকে ডাকতো আপনার পালনকর্তার হুকুম যখন এসে পড়ল, তখন কেউ কোন কাজে আসল না। তারা শুধু বিপর্যয়ই বৃদ্ধি করল।

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো জনপদ যখন যুলুম করতে থাকে, তখন তোমার প্রভু তাদেরকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকেন। তাঁর শাস্তি বড়ই কঠিন বেদনাদায়ক।

Arabic, with marks

وَكَذَٰلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَىٰ وَهِيَ ظَالِمَةٌ ۚ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর এরূপই হয় তোমার রবের পাকড়াও যখন তিনি পাকড়াও করেন অত্যাচারী জনপদসমূহকে। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও বড়ই যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমার পরওয়ারদেগার যখন কোন পাপপূর্ণ জনপদকে ধরেন, তখন এমনিভাবেই ধরে থাকেন। নিশ্চয় তাঁর পাকড়াও খুবই মারাত্নক, বড়ই কঠোর।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর মধ্যে রয়েছে নিদর্শন তাদের জন্যে, যারা আখিরাতের আযাবকে ভয় পায়। সেদিন সব মানুষকে জমা করা হবে এবং সেটাই হবে উপস্থিতির দিন।

Arabic, with marks

إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّمَنْ خَافَ عَذَابَ الْآخِرَةِ ۚ ذَٰلِكَ يَوْمٌ مَّجْمُوعٌ لَّهُ النَّاسُ وَذَٰلِكَ يَوْمٌ مَّشْهُودٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন তার জন্য যে আখিরাতের আযাবকে ভয় করে। সেটি এমন একটি দিন, যেদিন সকল মানুষকে সমবেত করা হবে এবং সেটি এমন এক দিন, যেদিন সবাই হাযির হবে।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে এমন প্রতিটি মানুষের জন্য যে আখেরাতের আযাবকে ভয় করে। উহা এমন একদিন, যে দিন সব মানুষেই সমবেত হবে, সেদিনটি যে হাযিরের দিন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটাকে আমরা একটা নির্দিষ্ট কালের জন্যে স্থগিত রেখেছি মাত্র।

Arabic, with marks

وَمَا نُؤَخِّرُهُ إِلَّا لِأَجَلٍ مَّعْدُودٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর নির্দিষ্ট কিছুকালের জন্যই আমি তা বিলম্বিত করছি।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি যে উহা বিলম্বিত করি, তা শুধু একটি ওয়াদার কারণে যা নির্ধারিত রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে দিনটি যখন আসবে তখন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউই কথা বলতে পারবে না। তাদের মধ্যে কিছু লোক হবে হতভাগ্য আর কিছু লোক হবে ভাগ্যবান।

Arabic, with marks

يَوْمَ يَأْتِ لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

যেদিন তা আসবে সেদিন তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ কথা বলবে না। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে কেউ দুর্ভাগা, আর কেউ সৌভাগ্যবান।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন তা আসবে সেদিন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কোন কথা বলতে পারে না। অতঃপর কিছু লোক হবে হতভাগ্য আর কিছু লোক সৌভাগ্যবান।

আবদুস শহীদ নাসিম

হতভাগারা থাকবে জাহান্নামে। সেখানে তাদের জন্যে থাকবে কেবল চিৎকার আর আর্তনাদ।

Arabic, with marks

فَأَمَّا الَّذِينَ شَقُوا فَفِي النَّارِ لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَشَهِيقٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর যারা হয়েছে দুর্ভাগা, তারা থাকবে আগুনে। সেখানে থাকবে তাদের চীৎকার ও আর্তনাদ।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব যারা হতভাগ্য তারা দোযখে যাবে, সেখানে তারা আর্তনাদ ও চিৎকার করতে থাকবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানেই স্থায়ীভাবে পড়ে থাকবে তারা যতোদিন মহাকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, যদি না তোমার প্রভু অন্য কিছু চান। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু যা চান তাই করেন।

Arabic, with marks

خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ فَعَّالٌ لِّمَا يُرِيدُ

বয়ান ফাউন্ডেশন

সেখানে তারা স্থায়ী হবে, যতদিন পর্যন্ত আসমানসমূহ ও যমীন থাকবে*, অবশ্য তোমার রব যা চান**। নিশ্চয় তোমার রব তা-ই করে যা তিনি ইচ্ছা করেন। *‘যতদিন পর্যন্ত আসমানসমূহ ও যমীন থাকবে’- এ কথা দ্বারা আরবী ভাষায় চিরস্থায়ীত্বের উদাহরণ দেয়া হয়ে থাকে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা সেখানে চিরকাল থাকবে, যতদিন আসমান ও যমীন বর্তমান থাকবে। তবে তোমার প্রতিপালক অন্য কিছু ইচ্ছা করলে ভিন্ন কথা। নিশ্চয় তোমার পরওয়ারদেগার যা ইচ্ছা করতে পারেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা হবে ভাগ্যবান, তারা থাকবে জান্নাতে। চিরকাল তারা সেখানে (উপভোগ করতে) থাকবে, যতোদিন বিদ্যমান থাকবে মহাকাশ ও পৃথিবী, যদি না তোমার প্রভু ভিন্ন কিছু চান। এ এক অনন্ত অবিরাম পুরস্কার।

Arabic, with marks

۞ وَأَمَّا الَّذِينَ سُعِدُوا فَفِي الْجَنَّةِ خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ ۖ عَطَاءً غَيْرَ مَجْذُوذٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যারা ভাগ্যবান হয়েছে, তারা জান্নাতে থাকবে, সেখানে তারা স্থায়ী হবে যতদিন পর্যন্ত আসমানসমূহ ও যমীন থাকবে, অবশ্য তোমার রব যা চান*, অব্যাহত প্রতিদানস্বরূপ। * অর্থাৎ ইচ্ছা করলে তাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে দিতে পারেন। তবে তিনি তা করবেন না। কেননা তিনি

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা সৌভাগ্যবান তারা বেহেশতের মাঝে, সেখানেই চিরদিন থাকবে, যতদিন আসমান ও যমীন বর্তমান থাকবে। তবে তোমার প্রভু অন্য কিছু ইচ্ছা করলে ভিন্ন কথা। এ দানের ধারাবাহিকতা কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তারা যে সবের ইবাদত করে সেগুলোর ভ্রান্ত বাতিল হবার ব্যাপারে তুমি মোটেও সংশয়ে থেকোনা। আগে তাদের বাপ - দাদারা যাদের ইবাদত করতো তারাও তাদেরই ইবাদত করে। আমরা অবশ্যি তাদের প্রাপ্য অংশ কিছুমাত্র কম না করে পুরোপুরি দেবো।

Arabic, with marks

فَلَا تَكُ فِي مِرْيَةٍ مِّمَّا يَعْبُدُ هَٰؤُلَاءِ ۚ مَا يَعْبُدُونَ إِلَّا كَمَا يَعْبُدُ آبَاؤُهُم مِّن قَبْلُ ۚ وَإِنَّا لَمُوَفُّوهُمْ نَصِيبَهُمْ غَيْرَ مَنقُوصٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

সুতরাং এরা যাদের উপাসনা করে, তুমি তাদের ব্যাপারে সংশয়ে থেকো না। তারা তো ইবাদাত করে, যেমন ইতঃপূর্বে ইবাদাত করত তাদের পিতৃপুরুষগণ। নিশ্চয় আমি তাদের অংশ হ্রাস না করে তাদেরকে পুরোপুরি দেব।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তারা যেসবের উপাসনা করে তুমি সে ব্যাপারে কোনরূপ ধোঁকায় পড়বে না। তাদের পূর্ববর্তী বাপ - দাদারা যেমন পূজা উপাসনা করত, এরাও তেমন করছে। আর নিশ্চয় আমি তাদেরকে আযাবের ভাগ কিছু মাত্রও কম না করেই পুরোপুরি দান করবো।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসাকেও কিতাব দিয়েছিলাম এবং তা নিয়েও মতভেদ করা হয়েছিল। তোমার প্রভুর পূর্ব ফায়সালা না থাকলে তাদের মাঝেও মীমাংসা হয়ে যেতো। তারা অবশ্যি এ (কিতাব) নিয়ে ভ্রান্তিকর সংশয়ের মধ্যে ছিলো।

Arabic, with marks

وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ فَاخْتُلِفَ فِيهِ ۚ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۚ وَإِنَّهُمْ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مُرِيبٍ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতে মতবিরোধ করা হয়েছিল। যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকত*, তবে তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়ে যেত। আর নিশ্চয় তারা এ ব্যাপারে ঘোর সন্দেহে রয়েছে। * অর্থাৎ অপরাধীকে শাস্তির ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করবেন

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি মূসা (আঃ) - কে অবশ্যই কিতাব দিয়েছিলাম অতঃপর তাতে বিরোধ সৃষ্টি হল; বলাবাহুল্য তোমার পালনকর্তার পক্ষ হতে, একটি কথা যদি আগেই বলা না হত, তাহলে তাদের মধ্যে চুড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যেত তারা এ ব্যাপারে এমনই সন্দেহ প্রবণ যে, কিছুতেই নিশ্চিত হতে পারছে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন নির্ধারিত সময়টি আসবে, তখন অবশ্যি তোমার প্রভু তাদের প্রত্যেককে তার আমলের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন। তারা যা আমল করে সে বিষয়ে তিনি পুরোপুরি অবহিত।

Arabic, with marks

وَإِنَّ كُلًّا لَّمَّا لَيُوَفِّيَنَّهُمْ رَبُّكَ أَعْمَالَهُمْ ۚ إِنَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর নিশ্চয় তোমার রব সবাইকে তাদের আমলের প্রতিদান পুরোপুরি দান করবেন। তারা যা আমল করে, অবশ্যই তিনি সে ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত।

মুহিউদ্দীন খান

আর যত লোকই হোক না কেন, যখন সময় হবে, তোমার প্রভু তাদের সকলেরই আমলের প্রতিদান পুরোপুরি দান করবেন। নিশ্চয় তিনি তাদের যাবতীয় কার্যকলাপের খবর রাখেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তোমাকে যে রকম নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার উপর কায়েম থাকো তুমি এবং তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তারা, আর সীমালংঘন করোনা। তোমরা যা আমল করো সবই তাঁর দৃষ্টিপথে রয়েছে।

Arabic, with marks

فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَمَن تَابَ مَعَكَ وَلَا تَطْغَوْا ۚ إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ

বয়ান ফাউন্ডেশন

সুতরাং যেভাবে তুমি নির্দেশিত হয়েছ সেভাবে তুমি ও তোমার সাথী যারা তাওবা করেছে, সকলে অবিচল থাক। আর সীমালঙ্ঘন করো না। তোমরা যা করছ নিশ্চয় তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তুমি এবং তোমার সাথে যারা তওবা করেছে সবাই সোজা পথে চলে যাও - যেমন তোমায় হুকুম দেয়া হয়েছে এবং সীমা লঙ্ঘন করবে না, তোমরা যা কিছু করছ, নিশ্চয় তিনি তার প্রতি দৃষ্টি রাখেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা যুলুম করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়োনা, তাহলে তোমাদের স্পর্শ করবে জাহান্নামের আগুন এবং ছাড়া তোমাদের আর কোনো অলি থাকবে না, আর তোমাদেরকে সাহায্যও করা হবেনা।

Arabic, with marks

وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যারা যুলম করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না; অন্যথায় আগুন তোমাদেরকে স্পর্শ করবে এবং ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক থাকবে না। অতঃপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।

মুহিউদ্দীন খান

আর পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুঁকবে না। নতুবা তোমাদেরকেও আগুনে ধরবে। আর ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু নাই। অতএব কোথাও সাহায্য পাবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

কায়েম করো দিনের দুই প্রান্তে (অর্থাৎ ফজর এবং যোহর, আসর ও মাগরিব) এবং রাতের প্রথমাংশে (অর্থাৎ এশার )। নিশ্চয়ই পুণ্য মিটিয়ে দেয় পাপকে। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্যে একটি উপদেশ।

Arabic, with marks

وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ ۚ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ۚ ذَٰلِكَ ذِكْرَىٰ لِلذَّاكِرِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তুমি কায়েম কর দিবসের দু’প্রান্তে এবং রাতের প্রথম অংশে*। নিশ্চয়ই ভালকাজ মন্দকাজকে মিটিয়ে দেয়। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য উপদেশ। * দিনের প্রথম প্রান্তে ফজরের , দ্বিতীয় প্রান্তে যোহর ও আসরের আর রাতের প্রথম অংশে মাগরিব ও ইশার । [তাফ

মুহিউদ্দীন খান

আর দিনের দুই প্রান্তেই ঠিক রাখবে, এবং রাতের প্রান্তভাগে পূর্ণ কাজ অবশ্যই পাপ দূর করে দেয়, যারা স্মরণ রাখে তাদের জন্য এটি এক মহা স্মারক।

আবদুস শহীদ নাসিম

সবর অবলম্বন করো। অবশ্যি বিনষ্ট করেন না পূণ্যবানদের কর্মফল।

Arabic, with marks

وَاصْبِرْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

তুমি সবর কর, নিশ্চয়ই তাআলা ইহসানকারীদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

আর ধৈর্য্যধারণ কর, নিশ্চয়ই পূণ্যবানদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমাদের পূর্ব প্রজন্মের যাদের রক্ষা করেছিলাম, তাদের স্বল্প সংখ্যক ছাড়া বাকিরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করতে নিষেধ করতো না কেন? যালিমরা সে সময়েরই অনুসরণ করতো যাতে সুখ - স্বাচ্ছন্দ পেতো। আসলে তারা ছিলো অপরাধী।

Arabic, with marks

فَلَوْلَا كَانَ مِنَ الْقُرُونِ مِن قَبْلِكُمْ أُولُو بَقِيَّةٍ يَنْهَوْنَ عَنِ الْفَسَادِ فِي الْأَرْضِ إِلَّا قَلِيلًا مِّمَّنْ أَنجَيْنَا مِنْهُمْ ۗ وَاتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مَا أُتْرِفُوا فِيهِ وَكَانُوا مُجْرِمِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতএব তোমাদের পূর্বের প্রজন্মসমূহের মধ্যে এমন প্রজ্ঞাবান কেন হয়নি, যারা যমীনে ফাসাদ করা থেকে নিষেধ করত? অল্প সংখ্যক ছাড়া, যাদেরকে আমি তাদের মধ্য থেকে নাজাত দিয়েছিলাম। আর যারা যুলম করেছে, তারা বিলাসিতার পেছনে পড়ে ছিল এবং তারা ছিল অপরাধী।

মুহিউদ্দীন খান

কাজেই, তোমাদের পূর্ববতী জাতি গুলির মধ্যে এমন সৎকর্মশীল কেন রইল না, যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে বাধা দিত; তবে মুষ্টিমেয় লোক ছিল যাদেরকে আমি তাদের মধ্য হতে রক্ষা করেছি। আর পাপিষ্ঠরা তো ভোগ বিলাসে মত্ত ছিল যার সামগ্রী তাদেরকে যথেষ্ট দেয়া হয়েছিল। আসলে তারা ছিল মহা অপরাধী।

আবদুস শহীদ নাসিম

অধিবাসীরা সংশোধনকামী থাকা অবস্থায় তোমার প্রভু অন্যায়ভাবে কোনো জনপদকে ধ্বংস করেন না।

Arabic, with marks

وَمَا كَانَ رَبُّكَ لِيُهْلِكَ الْقُرَىٰ بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا مُصْلِحُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তোমার রব এমন নন যে, তিনি অন্যায়ভাবে জনপদসমূহ ধ্বংস করে দেবেন, অথচ তার অধিবাসীরা সংশোধনকারী।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমার পালনকর্তা এমন নন যে, জনবসতিগুলোকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন, সেখানকার লোকেরা সৎকর্মশীল হওয়া সত্ত্বেও।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু চাইলে সব মানুষকে এক উম্মত বানাতে পারতেন। কিন্তু তারা বিভেদকারীই থেকে যাবে।

Arabic, with marks

وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً ۖ وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

যদি তোমার রব চাইতেন, তবে সকল মানুষকে এক উম্মতে পরিণত করতেন, কিন্তু তারা পরস্পর মতবিরোধকারী রয়ে গেছে,

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমার পালনকর্তা যদি ইচ্ছা করতেন, তবে অবশ্যই সব মানুষকে একই জাতিসত্তায় পরিনত করতে পারতেন আর তারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হতো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তোমার প্রভু যাদের রহম করেন তারা ছাড়া। আর তিনি এ জন্যেই তাদের সৃষ্টি করেছেন। ‘আমি অবশ্যি জিন এবং ইনসানকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করবো’ - তোমার প্রভুর এ ঘোষণা পূর্ণ হবেই।

Arabic, with marks

إِلَّا مَن رَّحِمَ رَبُّكَ ۚ وَلِذَٰلِكَ خَلَقَهُمْ ۗ وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

তবে যাদেরকে তোমার রব দয়া করেছেন, তারা ছাড়া। আর এজন্যই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমার রবের কথা চূড়ান্ত হয়েছে যে, ‘নিশ্চয়ই আমি জাহান্নাম ভরে দেব জিন ও মানুষ দ্বারা একত্রে’।

মুহিউদ্দীন খান

তোমার পালনকর্তা যাদের উপর রহমত করেছেন, তারা ব্যতীত সবাই চিরদিন মতভেদ করতেই থাকবে এবং এজন্যই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমার আল্লাহর কথাই পূর্ণ হল যে, অবশ্যই আমি জাহান্নামকে জ্বিন ও মানুষ দ্বারা একযোগে ভর্তি করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

(পূর্বের) রসূলদের এসব সংবাদ আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করছি এ জন্যে, যেনো এর মাধ্যমে আমরা তোমার হৃদয়কে দৃঢ় করি, আর এর মাধ্যমে তোমার কাছে এসেছে সত্য (ইতিহাস)। তাছাড়া এটি হলো মুমিনদের জন্যে উপদেশ এবং সতর্কবাণী।

Arabic, with marks

وَكُلًّا نَّقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنبَاءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِ فُؤَادَكَ ۚ وَجَاءَكَ فِي هَٰذِهِ الْحَقُّ وَمَوْعِظَةٌ وَذِكْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর রাসূলদের এসকল সংবাদ আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি যার দ্বারা আমি তোমার মনকে স্থির করি আর এতে তোমার কাছে এসেছে সত্য এবং মুমিনদের জন্য উপদেশ ও স্মরণ।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি রসূলগণের সব বৃত্তান্তই তোমাকে বলছি, যদ্দ্বারা তোমার অন্তরকে মজবুত করছি। আর এভাবে তোমার নিকট মহাসত্য এবং ঈমানদারদের জন্য নসীহত ও স্বরণীয় বিষয়বস্তু এসেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনেনা, তাদের বলে দাও: ‘‘তোমাদের অবস্থানে থেকে তোমরা তোমাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাও, আমরাও করে যাবো আমাদের কাজ।

Arabic, with marks

وَقُل لِّلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ اعْمَلُوا عَلَىٰ مَكَانَتِكُمْ إِنَّا عَامِلُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যারা ঈমান আনছে না তাদেরকে বল, ‘তোমরা স্ব স্ব অবস্থানে কাজ কর আমরাও কাজ করছি।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা ঈমান আনে না, তাদেরকে বলে দাও যে, তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় কাজ করে যাও আমরাও কাজ করে যাই।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমরা অপেক্ষা করো, আমরাও থাকলাম অপেক্ষায়।’’

Arabic, with marks

وَانتَظِرُوا إِنَّا مُنتَظِرُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

এবং তোমরা অপেক্ষা কর আমরাও অপেক্ষমান’।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তোমরাও অপেক্ষা করে থাক, আমরাও অপেক্ষায় রইলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীর তো আল্লাহ্ই জানেন। সকল বিষয় তাঁরই কাছে রুজু হয়। সুতরাং তুমি তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করো। তোমরা যা করো সে বিষয়ে তোমার প্রভু গাফিল নন।

Arabic, with marks

وَلِلَّهِ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِلَيْهِ يُرْجَعُ الْأَمْرُ كُلُّهُ فَاعْبُدْهُ وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ ۚ وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ

বয়ান ফাউন্ডেশন

আসমানসমূহ ও যমীনের আল্লাহরই এবং তাঁরই কাছে সব বিষয় প্রত্যাবর্তিত হবে। সুতরাং তুমি তাঁর ইবাদাত কর এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল কর। আর তোমরা যা কিছু কর সে ব্যাপারে তোমার রব গাফেল নন।

মুহিউদ্দীন খান

আর আল্লাহর কাছেই আছে আসমান ও যমীনের গোপন তথ্য; আর সকল কাজের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে; অতএব, তাঁরই বন্দেগী কর এবং তাঁর উপর ভরসা রাখ, আর তোমাদের কার্যকলাপ সম্বন্ধে তোমার পালনকর্তা কিন্তু বে - খবর নন।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme