You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আল হুজুরাত (বাসগৃহসমূহ)
Chapter 49, 18 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
Word by word
Arabic, with marks
সমকালীন বাংলা
About this chapter
মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১৮, রুকু সংখ্যা: ০২
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-০৫আল্লাহর রসূলের প্রটোকল।
০৬-১০ফাসিকের সংবাদ গ্রহণে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ। রসূলের আনুগত্যের নির্দেশ। মুমিনদের দু’পক্ষ বিবাদে জড়িয়ে পড়লে বিরোধ মীমাংসার পদ্ধতি।
১১-১২মুমিনদের প্রতি কতিপয় মন্দ গুণাবলি পরিহার করার নির্দেশ।
১৩সৃষ্টিগতভাবে সব মানুষ সমান। আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদাবান লোক তারা, যারা তাকওয়ার দিক থেকে অগ্রগামী।
১৪-১৮প্রকৃত মুমিন কারা? ইসলাম গ্রহণ করা আল্লাহর উপকার করা নয়, বরং এটা ইসলাম গ্রহণকারীদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমরা ও তাঁর রসূলের সামনে কোনো বিষয়ে অগ্রগামী হয়ে যেয়োনা। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই সব দেখেন, সব শুনেন।
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; হে মু’মিনগণ ! ও তাঁহার রাসূলের সমক্ষে তোমরা কোন বিষয়ে অগ্রণী হইও না এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় সবকছিু শুননে ও জাননে।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমরা নবীর আওয়াযের উপর নিজেদের আওয়াযকে উঁচু করোনা এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উঁচু স্বরে কথা বলো তার সাথে সেভাবে উঁচু স্বরে কথা বলোনা। কারণ, এর ফলে নিষ্ফল হয়ে যাবে তোমাদের আমল, যা তোমরা টেরও পাবেনা।
হে মু’মিনগণ ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করিও না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বল তাহার সঙ্গে সেইরূপ উচ্চস্বরে কথা বলিও না, কারণ ইহাতে তোমাদের কর্ম নিষ্ফল হইয়া যাইবে তোমাদের অজ্ঞাতসারে।
আবদুস শহীদ নাসিম
নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর রসূলের সামনে নিজেদের আওয়ায নিচু করে, তাদের অন্তরকে তাকওয়ার জন্যে পরীক্ষা করে নিয়েছেন। তাদের জন্যে রয়েছে মাগফিরাত এবং এক মহাপুরস্কার।
যাহারা আল্লাহর রাসূলের সম্মুখে নিজেদের কণ্ঠস্বর নিচু করে, তাহাদের অন্তরকে তাক্ওয়ার জন্য পরীক্ষা করিয়া লইয়াছেন। তাহাদের জন্য রহিয়াছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।
আবদুস শহীদ নাসিম
(হে নবী !) নিশ্চয়ই যারা তোমাকে তোমার ঘরের বাইরে থেকে ডাকাডাকি করে, তাদের অধিকাংশই বে - আকল।
তুমি বাহির হইয়া উহাদের নিকট আসা পর্যন্তযদি উহারা ধৈর্য ধারণ করিত, তাহাই উহাদের তবে তা - ই তাদরে জন্যে মঙ্গলজনক হত। ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! কোনো ফাসিক ব্যক্তি যদি তোমাদের কাছে কোনো খবর নিয়ে আসে, তোমরা তাকে পরীক্ষা করে দেখবে। কারণ, অজ্ঞতাবশত যেনো তোমরা কোনো গোষ্ঠীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না বসো এবং পরে যেনো তোমাদের কৃতকর্মের জন্যে তোমাদের অনুতপ্ত হতে না হয়।
হে মু’মিনগণ! যদি কোন পাপাচারী তোমাদের নিকট কোন বার্তা আনয়ন করে, তোমরা তাহা পরীক্ষা করিয়া দেখিবে, পাছে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোন সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত করিয়া বস, এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদেরকে অনুতপ্ত হইতে হয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা মনে রাখবে, তোমাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লাহর রসূল। সে অনেক বিষয়ে তোমাদের কথা মেনে নিলে তোমরাই সমস্যায় পড়বে। কিন্তু তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় বানিয়ে দিয়েছেন এবং ঈমানকে তোমাদের হৃদয়ে করেছেন সুশোভিত। আর তিনি তোমাদের অপ্রিয় করে দিয়েছেন কুফুরি, ফাসেকি এবং অবাধ্যতাকে। এরাই সঠিক পথের অনুসারী,
তোমরা জানিয়া রাখ যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল রহিয়াছেন ; তিনি বহু বিষয়ে তোমাদের কথা শুনিলে তোমরাই কষ্ট পাইতে। কিন্তু তোমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করিয়াছেন এবং উহাকে তোমাদের হৃদয়গ্রাহী করিয়াছেন ; , পাপাচার ও অবাধ্যতাকে করিয়াছেন তোমাদের নিকট অপ্রিয়। উহারাই সৎপথ অবলম্বনকারী,
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর অনুগ্রহ এবং দান হিসেবে। সর্বজ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান।
মুমিনদের দুটি দল যদি দ্বন্দ - সংঘাতে লিপ্ত হয়, তবে তোমরা তাদের মাঝে মীমাংসা করে দেবে। তাদের একটি দল যদি অপর দলের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করে, তবে যারা বাড়াবাড়ি করে তাদের বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ করবে যতোক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে, তখন তাদের মাঝে ন্যায়সংগত ভাবে ফায়সালা করে দাও এবং সুবিচার করো, নিশ্চয়ই পছন্দ করেন সুবিচারকদের।
মু’মিনদের দুই দল দ্বন্দে¡ লিপ্ত হইলে তোমরা তাহাদের মধ্যে মীমাংসা করিয়া দিবে; আর তাহাদের একদল অপর দলের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করিলে, যাহারা বাড়াবাড়ি করে তাহাদের বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ করিবে, যতক্ষণ না তাহারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরিয়া আসে - যদি তাহারা ফিরিয়া আসে তাহাদের মধ্যে ন্যায়ের সঙ্গে ফয়সালা করিবে এবং সুবিচার করিবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই, সুতরাং তোমরা ভাইদের মাঝে মীমাংসা করে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে করে তোমরা রহমত প্রাপ্ত হও।
মু’মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই ; সুতরাং তোমরা ভ্রাতৃগণের মধ্যে শান্তিস্থাপন কর আর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তােমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও। ভয় কর, যাহাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! কোনো পুরুষ যেনো অন্য পুরুষকে তিরস্কার না করে। কারণ যাকে তিরস্কার করা হয়, সে তিরস্কারকারী থেকে উত্তম হতে পারে। কোনো নারীও যেনো অপর নারীকে উপহাস না করে। কারণ, যাকে উপহাস করা হয়, সে উপহাসকারিণীর চাইতে উত্তম হতে পারে। তোমরা পরস্পরের প্রতি দোষারোপ করোনা এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকোনা। ঈমান আনার পর মন্দ নামে ডাকা অতি মন্দ। (এমনটি করার পর) যারা তওবা করবে না (অনুতপ্ত হবেনা) তারা যালিম।
হে মু’মিনগণ! কোন পুরুষ যেন অপর কোন পুরুষকে উপহাস না করে; কেননা যাহাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হইতে পারে এবং কোন নারী অপর কোন নারীকেও যেন উপহাস না করে; কেননা যাহাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা উত্তম হইতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করিও না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডাকিও না; ঈমানের পর মন্দ নাম অতি মন্দ। যাহারা তওবা না করে তাহারাই ।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমরা বেশি বেশি ধারণা অনুমান করা থেকে দূরে থাকো, কারণ কোনো কোনো ধারণা অনুমান পাপ। তোমরা অপরের গোপন বিষয় সন্ধান করোনা এবং একে অপরের গীবত করোনা। তোমাদের কেউ কি তার মরা ভাইয়ের গোশ্ত খেতে চাইবে? তোমরা এমন কাজকে ঘৃণাই করো। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তওবা কবুলকারী, পরম দয়াবান।
হে মু’মিনগণ ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান হইতে দূরে থাক ; কারণ অনুমান কোন কোন ক্ষেত্রে পাপ। এবং তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করিও না এবং একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা করিও না। তোমাদের মধ্যে কি কেহ তাহার মৃত ভ্রাতার গোশত্ খাইতে চাইবে? বস্তুত তোমরা তো ইহাকে ঘৃণ্যই মনে কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ; তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে মানুষ! আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে, তারপর তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে করে তোমরা পরস্পরের সাথে পরিচিত হতে পারো। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান, যে অধিক । নিশ্চয়ই জ্ঞানী এবং অবগত।
হে মানুষ ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছি এক পুরুষ ও এক নারী হইতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করিয়াছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাহাতে তোমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হইতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে অধিক । নিশ্চয় সবকিছু জানেন, সমস্ত খবর রাখেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
বেদুঈনরা বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি।’ তুমি বলো: ‘তোমরা ঈমান আনোনি, বরং তোমরা বলো: ‘আমরা আত্মসমর্পণ করেছি।’ কারণ, ঈমান এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি। তোমরা যদি ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো, তাহলে তোমাদের আমল কিছুমাত্র কমানো হবেনা। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।
বেদুঈনরা বলে, ‘আমরা ঈমান আনিলাম।’ বল, ‘তোমরা ঈমান আন নাই’, বরং তোমরা বল, ‘আমরা আত্মসর্মপণ করিয়াছি’ ; কারণ ঈমান এখনও তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করে নাই। যদি তোমরা আল্লাহর ও তাঁহার রাসূলের আনুগত্য কর তবে তোমাদের কর্মফল সামান্য পরিমাণও যদি তােমরা ও তাঁর রসূলরে আনুগত্য কর, তবে তা তোমাদের র্কম বন্দিুমাত্রও নস্ফিল করা হবে না। নিশ্চয়, ক্ষমাশীল, পরম মহেরেবান।
আবদুস শহীদ নাসিম
হলো তারা, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রসূলের প্রতি এবং অত:পর আর সন্দেহ পোষণ করেনি, বরং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে মাল - সম্পদ এবং জান - প্রাণ দিয়ে, এরাই (ঈমানের দাবিতে) সত্যবাদী।
বল, ‘তোমরা কি তোমাদের দীন সম্পর্কে অবহিত করিতেছ? অথচ জানেন যাহা কিছু আছে আকাশমণ্ডলীতে এবং যাহা কিছু আছে পৃথিবীতে। সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা মনে করে, ইসলামে প্রবেশ করে তারা তোমাকে ধন্য করেছে। বলো: ‘তোমাদের ইসলামে প্রবেশ আমাকে ধন্য করেছে মনে করোনা। বরং তোমাদেরকে ঈমানের দিকে পরিচালিত করে আল্লাহ্ই তোমাদের ধন্য করেছেন। যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো (তবে একথা স্বীকার করো)।
উহারা আত্মসর্মপণ করিয়া তোমাকে ধন্য করিয়াছে মনে করে। বল, ‘তোমাদের আত্মসর্মপণ আমাকে ধন্য করিয়াছে মনে করিও না, বরং ঈমানের দিকে পরিচালিত করিয়া তোমাদেরকে ধন্য করিয়াছেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’
আবদুস শহীদ নাসিম
নিশ্চয়ই জানেন মহাকাশ এবং পৃথিবীর সমস্ত ()। তোমরা যা করো, তা দেখেন।