You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
মুনাফিকুন (মুনাফিকরা)
Chapter 63, 11 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
Word by word
সমকালীন বাংলা
About this chapter
মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১১, রুকু সংখ্যা: ০২
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-০৮মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য। মুনাফিকদের আল্লাহ্ কখনো ক্ষমা করবেন না।
০৯-১১মুমিনদের প্রতি উপদেশ। সন্তান ও সম্পদ যেনো আল্লাহর পথে বাধা না হয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুনাফিকরা যখন তোমার কাছে আসে, তারা বলে: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, ‘আপনি অবশ্যি আল্লাহর রসূল’। তুমি যে আল্লাহর রসূল তা জানেন। তবে সাক্ষ্য দিচ্ছেন, মুনাফিকরা অবশ্যি মিথ্যাবাদী।
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; যখন মুনাফিকরা তোমার কাছে আসে, তারা বলে, “আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল।” আর জানেন যে আপনি অবশ্যই তাঁর রাসূল। আর সাক্ষ্য দেন যে মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা তাদের শপথকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, আর তারা আল্লাহর পথে (আসতে মানুষকে) বাধা দেয়। তাদের কর্মকান্ড কতো যে নিকৃষ্ট!
তা এজন্য যে, তারা ঈমান এনেছিল, তারপর অবিশ্বাস করল। ফলে তাদের অন্তরের উপর মোহর লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই তারা বুঝতে পারে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি যখন তাদের দেখো, তাদের দেহ - আকৃতি তোমাকে মুগ্ধ করে, আর তারা কথা বললে তুমি সাগ্রহে তাদের কথা শুনো, যদিও তারা মূলত দেয়ালে ঠেকানো (শুকনো) কাঠের কুঁদার মতো। তারা প্রতিটি শব্দ তাদের বিরুদ্ধে মনে করে। এরা তোমাদের শত্রু। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। তাদের ধ্বংস করুন। বিভ্রান্ত হয়ে তারা কোথায় যাচ্ছে?
আর যখন তুমি তাদের দেখো, তাদের অবয়ব তোমাকে মুগ্ধ করে। আর যদি তারা কথা বলে, তুমি তাদের কথা শোনো। তারা যেন ঠেস দিয়ে রাখা কাঠের গুঁড়ি। তারা সকল উচ্চ শব্দকে নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। তারাই শত্রু; অতএব তাদের থেকে সতর্ক থাকো। তাদের ধ্বংস করুন! তারা কতই না বিপথগামী!
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের যখন বলা হয়: ‘এসো আল্লাহর রসূল তোমাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন,’ তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। তুমি দেখছো, দাম্ভিকতার সাথে তারা ফিরে যায়।
আর যখন তাদের বলা হয়, “এসো, আল্লাহর রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন,” তখন তারা তাদের মাথা ঘুরিয়ে নেয়, আর তুমি তাদেরকে অহংকারভরে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখো।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করো আর নাই করো, দুটোই তাদের জন্যে সমান, কখনো তাদের ক্ষমা করবেন না। ফাসিকদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।
তাদের জন্য সমান—তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো অথবা না করো, কখনো তাদের ক্ষমা করবেন না। নিশ্চয়ই অবাধ্য জাতিকে পথনির্দেশ করেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলে: ‘আল্লাহর রসূলের কাছে যারা আছে তোমরা তাদের জন্যে ব্যয় করোনা, যাতে করে তারা তার কাছ থেকে সরে পড়ে।’ অথচ মহাকাশ এবং পৃথিবীর ভান্ডারের মালিক তো । তবে, মুনাফিকরা বুঝেনা।
তারাই বলে, “তোমরা আল্লাহর রাসূলের কাছে যারা আছে তাদের জন্য ব্যয় করো না, যতক্ষণ না তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।”, অথচ আকাশসমূহ ও পৃথিবীর ধনভাণ্ডার আল্লাহরই। কিন্তু মুনাফিকরা বোঝে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলে: ‘এবার আমরা মদিনায় ফিরে গেলে সেখান থেকে ইযযতওয়ালারা (সম্মানিতরা) নিচুদের বের করে দেবে।’ অথচ সমস্ত ইযযত তো আল্লাহর, তাঁর রসূলের এবং মুমিনদের, কিন্তু মুনাফিকরা জানেনা।
তারা বলে, “আমরা যদি মাদীনায় ফিরে যাই, তবে অবশ্যই সম্মানিতরা সেখান থেকে অপমানিতদের বের করে দেবে।” অথচ সম্মান তো আল্লাহর, তাঁর রাসূলের এবং মুমিনদের। কিন্তু মুনাফিকরা জানে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমাদের ধনমাল এবং সন্তান - সন্ততি যেনো তোমাদেরকে আল্লাহর যিকির থেকে উদাসীন না করে। যারা সে রকম হবে, তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
হে যারা ঈমান এনেছো, তোমাদের সম্পদ ও সন্তানেরা যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে। আর যারা তা করবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের কারো মৃত্যু আসার আগেই তোমাদেরকে আমরা যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো (আল্লাহর পথে)। তা না হলে মৃত্যু এলে বলবে: ‘আমার প্রভু! আমাকে আরো কিছুকাল অবকাশ দাও, যাতে আমি দান করতে পারি এবং পুণ্যবান লোকদের অন্তরভুক্ত হতে পারি।’
আর আমি তোমাদেরকে যা জীবিকা দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করো, তোমাদের কারো কাছে মৃত্যু আসার আগে। তখন সে বলবে, “হে আমার পালনকর্তা, যদি আপনি আমাকে আরেকটু সময় দিতেন, তবে আমি দান করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।”
আবদুস শহীদ নাসিম
কখনো দেরি করেন না, যখন কারো নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয়ে যায়। তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে খবর রাখেন।