এটি একটি সূরা। আমরা এটি নাযিল করেছি এবং ফরয করে দিয়েছি এর বিধান। আর এতে নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ, যাতে করে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।
سُورَةٌ أَنزَلْنَٰهَا وَفَرَضْنَٰهَا وَأَنزَلْنَا فِيهَآ ءَايَٰتٍۭ بَيِّنَٰتٍ لَّعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
Chapter 24, 64 verses
এটি একটি সূরা। আমরা এটি নাযিল করেছি এবং ফরয করে দিয়েছি এর বিধান। আর এতে নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ, যাতে করে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।
سُورَةٌ أَنزَلْنَٰهَا وَفَرَضْنَٰهَا وَأَنزَلْنَا فِيهَآ ءَايَٰتٍۭ بَيِّنَٰتٍ لَّعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
জিনাকারী নারী এবং জিনাকারী পুরুষ তাদের প্রত্যেককে বেত্রাঘাত করো একশটি করে।১ আল্লাহর আইন বাস্তবায়নে তাদের প্রতি দয়া যেনো তোমাদের প্রভাবিত না করে যদি তোমরা ঈমান রাখো আল্লাহর প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি। আর তাদের শাস্তি দেখার জন্যে একদল যেনো উপস্থিত থাকে।
ٱلزَّانِيَةُ وَٱلزَّانِى فَٱجْلِدُوا۟ كُلَّ وَٰحِدٍ مِّنْهُمَا مِا۟ئَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٌ فِى دِينِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَ
জিনাকারী বিয়ে করেনা কোনো জিনাকারিনী কিংবা মুশরিক নারী ছাড়া। আর কোনো জিনাকারিনীও বিয়ে করেনা কোনো জিনাকারী কিংবা মুশরিক ছাড়া। এটা হারাম করে দেয়া হলো মুমিনদের জন্যে।
ٱلزَّانِى لَا يَنكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَٱلزَّانِيَةُ لَا يَنكِحُهَآ إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ وَحُرِّمَ ذَٰلِكَ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ
যারা সতী সাধ্বী নারীদের প্রতি (ব্যভিচারের) অপবাদ আরোপ করে, তারপর চারজন সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হয় তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করো এবং কখনো তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করবেনা। কারণ, তারা ফাসিক (সীমালঙ্ঘনকারী)।
وَٱلَّذِينَ يَرْمُونَ ٱلْمُحْصَنَٰتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا۟ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَآءَ فَٱجْلِدُوهُمْ ثَمَٰنِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا۟ لَهُمْ شَهَٰدَةً أَبَدًا وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَٰسِقُونَ
তবে যারা এমনটি করার পর অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয়, তাদের কথা ভিন্ন। কারণ তো পরম ক্ষমাশীল অতীব দয়াবান।
إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُوا۟ مِنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ وَأَصْلَحُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
আর যারা নিজ স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করবে, অথচ নিজেরা ছাড়া তাদের আর কোনো সাক্ষী নেই, তাদের একজনের সাক্ষ্যই চার সাক্ষীর সমতুল্য হবে। এভাবে যে, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলবে, সে অবশ্যি সত্যবাদী।
وَٱلَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَٰجَهُمْ وَلَمْ يَكُن لَّهُمْ شُهَدَآءُ إِلَّآ أَنفُسُهُمْ فَشَهَٰدَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَٰدَٰتٍۭ بِٱللَّهِ إِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ
পঞ্চমবার বলবে, তার উপর আল্লাহর লা’নত নেমে আসুক যদি সে মিথ্যাবাদী হয়।
وَٱلْخَٰمِسَةُ أَنَّ لَعْنَتَ ٱللَّهِ عَلَيْهِ إِن كَانَ مِنَ ٱلْكَٰذِبِينَ
আর তার স্ত্রীর দন্ডও রহিত হয়ে যাবে যদি সে চারবার আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামী মিথ্যাবাদী।
وَيَدْرَؤُا۟ عَنْهَا ٱلْعَذَابَ أَن تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَٰدَٰتٍۭ بِٱللَّهِ إِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلْكَٰذِبِينَ
আর পঞ্চমবার বলবে, তার নিজের উপর আল্লাহর গজব নেমে আসুক যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয়।
وَٱلْخَٰمِسَةَ أَنَّ غَضَبَ ٱللَّهِ عَلَيْهَآ إِن كَانَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ
(তোমাদের কেউই রক্ষা পেতোনা) যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত না হতো এবং তিনি যদি তওবা কবুলকারী প্রজ্ঞাবান না হতেন।
وَلَوْلَا فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُۥ وَأَنَّ ٱللَّهَ تَوَّابٌ حَكِيمٌ
যারা এই অপবাদ রচনা করেছে২ তারা তো তোমাদেরই একটি গ্রুপ। এ ঘটনাকে তোমাদের জন্যে ক্ষতিকর মনে করোনা, বরং ওটা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। এ মিথ্যা ঘটনা রটনাকারী প্রত্যেকের জন্যে তাই রয়েছে, যে যা পাপ কামাই করেছে। আর তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি৩ এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে তার জন্যে রয়েছে বিরাট আযাব।
إِنَّ ٱلَّذِينَ جَآءُو بِٱلْإِفْكِ عُصْبَةٌ مِّنكُمْ لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّا لَّكُم بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ لِكُلِّ ٱمْرِئٍ مِّنْهُم مَّا ٱكْتَسَبَ مِنَ ٱلْإِثْمِ وَٱلَّذِى تَوَلَّىٰ كِبْرَهُۥ مِنْهُمْ لَ
পুরুষ এবং নারীরা যখন এই (অপবাদের) ঘটনা শুনলো, তখন কেন তারা নিজেদের সম্পর্কে সুধারণা করলো না এবং কেন বললোনা: ‘এ তো এক সুস্পষ্ট অপবাদ।’
لَّوْلَآ إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ ٱلْمُؤْمِنُونَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتُ بِأَنفُسِهِمْ خَيْرًا وَقَالُوا۟ هَٰذَآ إِفْكٌ مُّبِينٌ
তারা কেন এ ব্যাপারে চারজন সাক্ষী হাজির করলোনা? যেহেতু তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, তাই তারা আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী।
لَّوْلَا جَآءُو عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَآءَ فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا۟ بِٱلشُّهَدَآءِ فَأُو۟لَٰٓئِكَ عِندَ ٱللَّهِ هُمُ ٱلْكَٰذِبُونَ
তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং রহমত না হতো, তাহলে তোমরা যে অন্যায়ে লিপ্ত হয়েছিলে তার জন্যে তোমাদের দুনিয়া এবং আখিরাতে স্পর্শ করতো মহাশাস্তি।
وَلَوْلَا فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُۥ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ لَمَسَّكُمْ فِى مَآ أَفَضْتُمْ فِيهِ عَذَابٌ عَظِيمٌ
তোমরা মুখে মুখে তা ছড়াচ্ছিলে এবং মুখে এমন বিষয় উচ্চারণ করে যাচ্ছিলে যার কোনো এলেম তোমাদের ছিলনা। তোমরা এটাকে মনে করছিলে সহজ। অথচ এটা ছিলো এক জঘন্য বিষয় আল্লাহর কাছে।
إِذْ تَلَقَّوْنَهُۥ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُم مَّا لَيْسَ لَكُم بِهِۦ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُۥ هَيِّنًا وَهُوَ عِندَ ٱللَّهِ عَظِيمٌ
তোমরা এই (অপবাদ) শুনার সাথে সাথে কেন বললেনা: ‘এ বিষয়ে আমাদের কথা বলা উচিত নয়, পবিত্র, এ - তো এক বিরাট অপবাদ।’
وَلَوْلَآ إِذْ سَمِعْتُمُوهُ قُلْتُم مَّا يَكُونُ لَنَآ أَن نَّتَكَلَّمَ بِهَٰذَا سُبْحَٰنَكَ هَٰذَا بُهْتَٰنٌ عَظِيمٌ
তোমাদের ওয়ায (উপদেশ) করছেন, তোমরা যেনো অনুরূপ কাজে আর কখনো জড়িত না হও, যদি তোমরা হয়ে থাকো।
يَعِظُكُمُ ٱللَّهُ أَن تَعُودُوا۟ لِمِثْلِهِۦٓ أَبَدًا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
তোমাদের জন্যে পরিষ্কারভাবে বয়ান করছেন আয়াতসমূহ। জ্ঞানী এবং প্রজ্ঞাবান।
وَيُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلْءَايَٰتِ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
যারা মুমিনদের মাঝে ফাহেশার প্রচার প্রসার পছন্দ করে, তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব দুনিয়া এবং আখিরাতে। জানেন, তোমরা জানোনা।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ ٱلْفَٰحِشَةُ فِى ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
(তোমরা রক্ষা পেতেনা) যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং রহমত না হতো এবং যদি কোমল ও দয়াবান না হতেন।
وَلَوْلَا فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُۥ وَأَنَّ ٱللَّهَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
হে লোকেরা! তোমরা ইত্তেবা (অনুসরণ) করোনা শয়তানের পদাংক। যে কেউ ইত্তেবা করবে শয়তানের পদাংকের, সে জেনে রাখুক, শয়তান নিশ্চয়ই নির্দেশ দেয় ফাহেশা এবং গর্হিত কাজের। তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং রহমত না হতো, তাহলে তোমাদের কেউ কখনো পবিত্র থাকতে পারতোনা। আল্লাহ্ই পবিত্র রাখেন যাকে ইচ্ছা করেন। সব শুনেন, সব জানেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَتَّبِعُوا۟ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيْطَٰنِ وَمَن يَتَّبِعْ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيْطَٰنِ فَإِنَّهُۥ يَأْمُرُ بِٱلْفَحْشَآءِ وَٱلْمُنكَرِ وَلَوْلَا فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُۥ مَا
তোমাদের মধ্যে যারা ধন - মালে প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেনো কসম খেয়ে না বলে যে, তারা আত্মীয় - স্বজন, মিসকিন (অভাবী) এবং আল্লাহর পথে হিজরতকারীদের কিছুই দেবেনা। তারা যেনো তাদের ক্ষমা করে দেয় এবং তাদের দোষ - ত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাওনা যে, তোমাদের ক্ষমা করে দিন? আর তো পরম ক্ষমাশীল দয়াবান।
وَلَا يَأْتَلِ أُو۟لُوا۟ ٱلْفَضْلِ مِنكُمْ وَٱلسَّعَةِ أَن يُؤْتُوٓا۟ أُو۟لِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْمَسَٰكِينَ وَٱلْمُهَٰجِرِينَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَلْيَعْفُوا۟ وَلْيَصْفَحُوٓا۟ أَلَا تُحِبُّونَ أَن يَغْفِرَ ٱللَّهُ
যারা সতী সাধ্বী সরলমনা নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তাদের প্রতি লা’নত বর্ষিত হয়েছে দুনিয়া এবং আখিরাতে, আর তাদের জন্যে রয়েছে বিরাট আযাব।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَرْمُونَ ٱلْمُحْصَنَٰتِ ٱلْغَٰفِلَٰتِ ٱلْمُؤْمِنَٰتِ لُعِنُوا۟ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তাদের জবান, তাদের হাত, তাদের পা তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে,
يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ
সেদিন তাদের পুরোপুরি দেবেন তাদের সত্যিকার প্রতিফল এবং (তখন) তারা জানতে পারবে আল্লাহ্ই প্রকৃত সত্য, স্পষ্টভাষী।
يَوْمَئِذٍ يُوَفِّيهِمُ ٱللَّهُ دِينَهُمُ ٱلْحَقَّ وَيَعْلَمُونَ أَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْحَقُّ ٱلْمُبِينُ
খবিছ নারীরা খবিছ পুরুষদের জন্যে এবং খবিছ পুরুষরা খবিছ নারীদের জন্যে। আর পবিত্র নারীরা পবিত্র পুরুষদের জন্যে এবং পবিত্র পুরুষরা পবিত্র নারীদের জন্যে। লোকেরা যা বলে তা থেকে এরা পবিত্র। তাদের জন্যে রয়েছে মাগফিরাত এবং সম্মানজনক রিযিক।
ٱلْخَبِيثَٰتُ لِلْخَبِيثِينَ وَٱلْخَبِيثُونَ لِلْخَبِيثَٰتِ وَٱلطَّيِّبَٰتُ لِلطَّيِّبِينَ وَٱلطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَٰتِ أُو۟لَٰٓئِكَ مُبَرَّءُونَ مِمَّا يَقُولُونَ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ
হে লোকেরা! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য ঘরে অনুমতি না নিয়ে এবং ঘরবাসীদের সালাম না দিয়ে ঢুকে পড়োনা। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম নিয়ম। আশা করা যায় তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَدْخُلُوا۟ بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُوا۟ وَتُسَلِّمُوا۟ عَلَىٰٓ أَهْلِهَا ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
যদি তোমরা ঘরে কাউকেও না পাও, তাহলে তোমরা সে ঘরে প্রবেশ করোনা যতোক্ষণ না তোমাদের অনুমতি দেয়া হয়। আর যদি তোমাদের ফিরে যেতে বলা হয়, তবে ফিরে যাও। এটাই তোমাদের জন্যে পবিত্রতম পন্থা। জ্ঞাত তোমরা যা আমল করো।
فَإِن لَّمْ تَجِدُوا۟ فِيهَآ أَحَدًا فَلَا تَدْخُلُوهَا حَتَّىٰ يُؤْذَنَ لَكُمْ وَإِن قِيلَ لَكُمُ ٱرْجِعُوا۟ فَٱرْجِعُوا۟ هُوَ أَزْكَىٰ لَكُمْ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ
এমন ঘরে প্রবেশ করার মধ্যে তোমাদের কোনো দোষ হবেনা, যে ঘরে কেউ বসবাস করেনা যদি সেখানে তোমাদের মাল সামগ্রী থাকে। তোমরা কী প্রকাশ করো আর কী গোপন করো তা জানেন।
لَّيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَدْخُلُوا۟ بُيُوتًا غَيْرَ مَسْكُونَةٍ فِيهَا مَتَٰعٌ لَّكُمْ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا تَكْتُمُونَ
হে নবী! পুরুষদের বলো: তারা যেনো (নারীদের থেকে) নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং হিফাযত করে নিজেদের যৌন জীবনকে। এটা তাদের জন্যে পবিত্রতম পন্থা। তারা যা করে সে বিষয়ে ভালোভাবে অবহিত।
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا۟ مِنْ أَبْصَٰرِهِمْ وَيَحْفَظُوا۟ فُرُوجَهُمْ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرٌۢ بِمَا يَصْنَعُونَ
আর নারীদের বলো, তারা যেনো (পুরুষদের থেকে) নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং হিফাযত করে নিজেদের যৌন জীবন। যা সাধারণত প্রকাশ থাকে, তা ছাড়া নিজেদের যীনত (সৌন্দর্য) যেনো তারা প্রকাশ না করে। তাদের চাদর (বা ওড়না) দিয়ে যেনো তাদের গলা এবং বক্ষ ঢেকে রাখে। তারা যেনো তাদের যীনত (সৌন্দর্য) প্রকাশ না করে এদের সম্মুখে ছাড়া: তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনপুত, আপন নারীকুল, তাদের মালিকানাধীন দাস - দাসী, যৌন কামনাহীন পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গসমূহ সম্পর্কে চেতনাহীন শিশু। তারা যেনো তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পা ফেলে না চলে। হে মুমিনরা! তোমরা সবাই অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসো, যাতে করে তোমরা অর্জন করো সফলতা।
وَقُل لِّلْمُؤْمِنَٰتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَٰرِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ
তোমাদের মধ্যে যাদের স্বামী নেই এবং যাদের স্ত্রী নেই, তাদের বিয়ে দিয়ে দাও, আর তোমাদের দাস দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরকেও। তারা যদি অভাবী হয়ে থাকে, তবে নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করবেন। উদার, জ্ঞানী।
وَأَنكِحُوا۟ ٱلْأَيَٰمَىٰ مِنكُمْ وَٱلصَّٰلِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَآئِكُمْ إِن يَكُونُوا۟ فُقَرَآءَ يُغْنِهِمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ
যাদের বিয়ে করার (আর্থিক) সামর্থ নেই, তাদেরকে তাঁর অনুগ্রহে অভাবমুক্ত করা পর্যন্ত তারা যেনো সংযম অবলম্বন করে। তোমাদের দাসদাসীদের মধ্যে কেউ তার মুক্তির জন্যে লিখিত চুক্তি করতে চাইলে তোমরা তাদের সাথে লিখিত চুক্তি করে নাও, যদি তোমরা তাদের মধ্যে কল্যাণ দেখতে পাও। আর তোমাদের যে সম্পদ দিয়েছেন তা থেকে তাদের দান করো। পার্থিব জীবনের (অর্থ) লোভে তোমরা তোমাদের দাসীদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য করোনা যদি তারা তাদের সতীত্ব রক্ষা করতে চায়। আর কেউ তাদেরকে বাধ্য করলে, বাধ্য হওয়াদের ব্যাপারে ক্ষমাশীল, দয়াময়।
وَلْيَسْتَعْفِفِ ٱلَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحًا حَتَّىٰ يُغْنِيَهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ وَٱلَّذِينَ يَبْتَغُونَ ٱلْكِتَٰبَ مِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُكُمْ فَكَاتِبُوهُمْ إِنْ عَلِمْتُمْ فِيهِمْ خَيْرًا وَءَاتُو
আমরা তোমাদের কাছে নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ এবং তোমাদের আগেকার লোকদের উদাহরণ আর সতর্ক সচেতন লোকদের জন্যে উপদেশ।
وَلَقَدْ أَنزَلْنَآ إِلَيْكُمْ ءَايَٰتٍ مُّبَيِّنَٰتٍ وَمَثَلًا مِّنَ ٱلَّذِينَ خَلَوْا۟ مِن قَبْلِكُمْ وَمَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِينَ
মহাকাশ এবং পৃথিবীর নূর। তাঁর নূরের উপমা হলো একটি প্রদীপ ঘর। তাতে আছে প্রদীপ। প্রদীপটি স্থাপিত একটি কাঁচের পরিবেষ্টনীর মধ্যে। কাঁচের পরিবেষ্টনীটি যেনো উজ্জ্বল নক্ষত্র। সেটি জ্বালানো হয় পবিত্র যয়তুন গাছের তেল দিয়ে। সেটি পূর্বেরও নয়, পশ্চিমেরও নয়। আগুন সেটিকে স্পর্শ না করলেও যেনো সেটির তেলই ছড়াচ্ছে উজ্জ্বল আলো। নূরের উপর নূর। যাকে ইচ্ছা পথ দেখান তাঁর নূরের দিকে। মানুষের জন্যে এভাবেই দৃষ্টান্ত দিয়ে থাকেন। সব বিষয়ে জ্ঞানী।
ٱللَّهُ نُورُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ مَثَلُ نُورِهِۦ كَمِشْكَوٰةٍ فِيهَا مِصْبَاحٌ ٱلْمِصْبَاحُ فِى زُجَاجَةٍ ٱلزُّجَاجَةُ كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّىٌّ يُوقَدُ مِن شَجَرَةٍ مُّبَٰرَكَةٍ زَيْتُونَةٍ لَّا شَرْق
সেইসব ঘর, যেসব ঘরে তাঁর নাম সমুন্নত ও স্মরণ করতে অনুমতি দিয়েছেন, সকাল - সন্ধ্যায় সেগুলোতে তাঁর তসবিহ করে
فِى بُيُوتٍ أَذِنَ ٱللَّهُ أَن تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا ٱسْمُهُۥ يُسَبِّحُ لَهُۥ فِيهَا بِٱلْغُدُوِّ وَٱلْءَاصَالِ
সেইসব লোক, যাদেরকে ব্যবসা - বাণিজ্য ও বেচা - কেনা বিরত রাখেনা আল্লাহর যিকির, কায়েম ও যাকাত প্রদান থেকে। তারা ভয় করে সেই দিনটিকে যেদিন মানুষের অন্তর আর চোখ উল্টে যাবে।
رِجَالٌ لَّا تُلْهِيهِمْ تِجَٰرَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ ٱللَّهِ وَإِقَامِ ٱلصَّلَوٰةِ وَإِيتَآءِ ٱلزَّكَوٰةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ ٱلْقُلُوبُ وَٱلْأَبْصَٰرُ
যাতে করে তাদের আমলের উত্তম পুরস্কার তাদের দিতে পারেন এবং বৃদ্ধি করে দিতে পারেন তাঁর অনুগ্রহ থেকে। আর যাকে ইচ্ছা রিযিক দিয়ে থাকেন বিনা হিসাবে।
لِيَجْزِيَهُمُ ٱللَّهُ أَحْسَنَ مَا عَمِلُوا۟ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِۦ وَٱللَّهُ يَرْزُقُ مَن يَشَآءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ
আর যারা কুফুরি করে, তাদের আমলের উপমা হলো মরুভূমির মরীচিকা, পীপাসার্ত ব্যক্তি যাকে মনে করে পানি। যখন সে সেখানে এসে পৌঁছে, কিছুই পায়না। সে তো সেখানে পায় কেবল আল্লাহকে। তিনি তাকে তার কর্মফল পূর্ণমাত্রায় দিয়ে দেবেন, আর দ্রুত হিসাবগ্রহণকারী।
وَٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَعْمَٰلُهُمْ كَسَرَابٍۭ بِقِيعَةٍ يَحْسَبُهُ ٱلظَّمْـَٔانُ مَآءً حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءَهُۥ لَمْ يَجِدْهُ شَيْـًٔا وَوَجَدَ ٱللَّهَ عِندَهُۥ فَوَفَّىٰهُ حِسَابَهُۥ وَٱللَّهُ سَرِيعُ ٱلْحِسَا
অথবা (তাদের আমলের) উপমা হলো গভীর সমুদ্রের অন্ধকাররাশি, যাকে ঢেকে রাখে ঢেউয়ের উপর ঢেউ, তার উপর কালো মেঘপুঞ্জ। অন্ধকার রাশির স্তর একটির উপর একটি। সে যখন তার হাত বের করে, আদৌ দেখতে পায় না। যাকে নূর দান করেন না, তার কোনো নূর নেই।
أَوْ كَظُلُمَٰتٍ فِى بَحْرٍ لُّجِّىٍّ يَغْشَىٰهُ مَوْجٌ مِّن فَوْقِهِۦ مَوْجٌ مِّن فَوْقِهِۦ سَحَابٌ ظُلُمَٰتٌۢ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ إِذَآ أَخْرَجَ يَدَهُۥ لَمْ يَكَدْ يَرَىٰهَا وَمَن لَّمْ يَجْعَلِ
তুমি দেখোনা মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যারাই আছে তারা সবাই এবং উড়ন্ত পাখিকুল তসবিহ করছে আল্লাহর। তারা প্রত্যেকেই জেনেছে তার (ইবাদত) ও তসবিহর পদ্ধতি। তারা যা করে তা জ্ঞাত আছেন।
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يُسَبِّحُ لَهُۥ مَن فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱلطَّيْرُ صَٰٓفَّٰتٍ كُلٌّ قَدْ عَلِمَ صَلَاتَهُۥ وَتَسْبِيحَهُۥ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِمَا يَفْعَلُونَ
মহাকাশ ও পৃথিবীর কর্তৃত্ব আল্লাহর এবং আল্লাহর কাছেই হবে সবার প্রত্যাবর্তন।
وَلِلَّهِ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَإِلَى ٱللَّهِ ٱلْمَصِيرُ
তুমি কি দেখোনা, আল্লাহ্ই তো পরিচালিত করেন মেঘমালাকে, তারপর সেগুলোকে একত্র করেন, অত:পর পুঞ্জীভুত করেন, তারপর তুমি দেখতে পাও সেগুলোর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে বৃষ্টির পানি। আকাশের জমে যাওয়া মেঘস্তূপ থেকে তিনি বর্ষণ করেন শিলা, আর তা দিয়ে তিনি যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন এবং যাকে ইচ্ছা তা থেকে রক্ষা করেন উপর থেকে সরিয়ে দিয়ে। তার বিদ্যুতের ঝলক দৃষ্টি প্রায় কেড়ে নেয়।
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يُزْجِى سَحَابًا ثُمَّ يُؤَلِّفُ بَيْنَهُۥ ثُمَّ يَجْعَلُهُۥ رُكَامًا فَتَرَى ٱلْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلَٰلِهِۦ وَيُنَزِّلُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مِن جِبَالٍ فِيهَا مِنۢ بَرَدٍ فَيُصِ
আল্লাহ্ই পরিবর্তন ঘটান রাত আর দিনের। দৃষ্টিবান লোকদের জন্যে এতে রয়েছে একটি শিক্ষা।
يُقَلِّبُ ٱللَّهُ ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّأُو۟لِى ٱلْأَبْصَٰرِ
প্রতিটি জীবকে সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে। তাদের কিছু জীব চলে পেটে ভর দিয়ে, কিছু চলে দুই পায়ে এবং কিছু চলে চার পায়ে। সৃষ্টি করেন যা তিনি চান। নিশ্চয়ই সব বিষয়ে শক্তিমান।
وَٱللَّهُ خَلَقَ كُلَّ دَآبَّةٍ مِّن مَّآءٍ فَمِنْهُم مَّن يَمْشِى عَلَىٰ بَطْنِهِۦ وَمِنْهُم مَّن يَمْشِى عَلَىٰ رِجْلَيْنِ وَمِنْهُم مَّن يَمْشِى عَلَىٰٓ أَرْبَعٍ يَخْلُقُ ٱللَّهُ مَا يَشَآءُ إِنَّ
নিশ্চয়ই আমরা নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ। যাকে ইচ্ছা হিদায়াত করেন সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে।
لَّقَدْ أَنزَلْنَآ ءَايَٰتٍ مُّبَيِّنَٰتٍ وَٱللَّهُ يَهْدِى مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٍ مُّسْتَقِيمٍ
তারা বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি আর আমরা আনুগত্য মেনে নিলাম।’ কিন্তু এর পরই তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়। আসলে তারা নয়।
وَيَقُولُونَ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلرَّسُولِ وَأَطَعْنَا ثُمَّ يَتَوَلَّىٰ فَرِيقٌ مِّنْهُم مِّنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ وَمَآ أُو۟لَٰٓئِكَ بِٱلْمُؤْمِنِينَ
তাদেরকে যখন এবং তাঁর রসূলের দিকে ডাকা হয় তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেয়ার জন্যে, তখন তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়
وَإِذَا دُعُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُم مُّعْرِضُونَ
আর যদি তাদের প্রাপ্য কোনো অধিকারের বিষয় হয়, তখন তারা বিনীত হয়ে রসূলের কাছে ছুটে আসে।
وَإِن يَكُن لَّهُمُ ٱلْحَقُّ يَأْتُوٓا۟ إِلَيْهِ مُذْعِنِينَ
তাদের অন্তরে কি ব্যাধি আছে, নাকি তারা সংশয়ে নিমজ্জিত? আর নাকি তারা ভয় করে যে, এবং তাঁর রসূল তাদের প্রতি যুলুম করবেন? আসল কথা হলো তারা যালিম।
أَفِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌ أَمِ ٱرْتَابُوٓا۟ أَمْ يَخَافُونَ أَن يَحِيفَ ٱللَّهُ عَلَيْهِمْ وَرَسُولُهُۥ بَلْ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ
মুমিনদেরকে যখন ও আল্লাহর রসূলের দিকে ডাকা হয় তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেয়ার জন্যে তখন তাদের কথা একটাই হয়ে থাকে যে, ‘আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম।’ এসব লোকই হবে ।
إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ ٱلْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَن يَقُولُوا۟ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ
যারা ও তাঁর রসূলের ইতায়াত (আনুগত্য) করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে আত্মরক্ষা করে, তারাই অর্জন করবে সাফল্য।
وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَيَخْشَ ٱللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَآئِزُونَ
তারা (মুনাফিকরা) শক্তভাবে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলে, তুমি তাদের নির্দেশ দিলে তারা অবশ্যি (যুদ্ধে) বের হবে। বলো: তোমরা কসম খেয়োনা, তোমাদের থেকে প্রচলিত আনুগ্যতই কাম্য। তোমরা যা করো সে বিষয়ে গভীরভাবে অবহিত।
وَأَقْسَمُوا۟ بِٱللَّهِ جَهْدَ أَيْمَٰنِهِمْ لَئِنْ أَمَرْتَهُمْ لَيَخْرُجُنَّ قُل لَّا تُقْسِمُوا۟ طَاعَةٌ مَّعْرُوفَةٌ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرٌۢ بِمَا تَعْمَلُونَ
হে নবী! বলো: তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর এবং আনুগত্য করো এই রসূলের। যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার (রসূলের) প্রতি অর্পিত দায়িত্বের জন্যে সে - ই দায়ী হবে, আর তোমরা দায়ী হবে তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্যে। তোমরা যদি আনুগত্য করো, তবেই সঠিক পথ পাবে। স্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছে দেয়া ছাড়া আমাদের রসূলের উপর আর কোনো দায়িত্ব নেই।
قُلْ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُم مَّا حُمِّلْتُمْ وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا۟ وَمَا عَلَى ٱلرَّسُولِ إِلَّا ٱلْبَلَٰغُ ٱلْمُبِينُ
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, তাদেরকে ওয়াদা দিচ্ছেন, তিনি তাদের ভূ - খন্ডে প্রতিনিধিত্ব (রাষ্ট্রক্ষমতা) দান করবেন, যেমন তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতা দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের। তিনি তাদের জন্যে প্রতিষ্ঠিতি করে দেবেন তাদের দীনকে, যা তিনি তাদের জন্যে মনোনীত করেছেন এবং তাদেরকে ত্রাস ও ভীতির বদলে দেবেন শান্তি ও নিরাপত্তা। তখন তারা কেবল আমারই দাসত্ব করবে এবং আমার সাথে কাউকেও শরিক করবেনা। তবে এরপরও যারা কুফুরি করবে তারা হবে ফাসিক (সীমালঙ্ঘনকারী পাপিষ্ঠ)।
وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مِنكُمْ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِى ٱلْأَرْضِ كَمَا ٱسْتَخْلَفَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ ٱلَّذِى ٱرْتَضَىٰ لَهُمْ وَلَي
তোমরা কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং আনুগত্য করো এই রসূলের, আশা করা যায় তোমরা অনুকম্পা লাভ করবে।
وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
তোমরা পৃথিবীতে কাফিরদের কখনো প্রবল পরাক্রমশালী মনে করোনা। তাদের আশ্রয় তো হবে জাহান্নামে, যা খুবই নিকৃষ্ট ফিরে যাবার জায়গা।
لَا تَحْسَبَنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مُعْجِزِينَ فِى ٱلْأَرْضِ وَمَأْوَىٰهُمُ ٱلنَّارُ وَلَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ
হে লোকেরা, তোমাদের মালিকানাধীন দাসদাসীরা এবং তোমাদের যারা এখনো বয়োপ্রাপ্ত হয়নি, তারা যেনো তিনটি সময় তোমাদের কক্ষে প্রবেশ কালে অনুমতি নেয়: ফজর সালাতের আগে, দুপুরে যখন তোমাদের পোশাক খুলে রাখো তখন এবং এশার সালাতের পরে। এই তিনটি তোমাদের গোপনীয়তা অবলম্বনের সময়। এই সময় ছাড়া বাকি সময়ে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করলে তোমাদেরও এবং তাদেরও কোনো দোষ হবেনা। তোমাদের একে অপরের কাছে তো যাতায়াত করতেই হয়। এভাবেই বয়ান করেন তোমাদের জন্যে তাঁর আয়াতসমূহ। জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لِيَسْتَـْٔذِنكُمُ ٱلَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَٰنُكُمْ وَٱلَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا۟ ٱلْحُلُمَ مِنكُمْ ثَلَٰثَ مَرَّٰتٍ مِّن قَبْلِ صَلَوٰةِ ٱلْفَجْرِ وَحِينَ تَضَعُونَ ثِيَابَكُم مِّ
তোমাদের বাচ্চারা যখন বয়োপ্রাপ্ত হয়, তখন তারাও যেনো অনুমতি চেয়ে নেয় যেভাবে অনুমতি নেয় তাদের বয়োজ্যেষ্ঠরা। এভাবেই বর্ণনা করেন তোমাদের জন্যে তাঁর আয়াত। জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান।
وَإِذَا بَلَغَ ٱلْأَطْفَٰلُ مِنكُمُ ٱلْحُلُمَ فَلْيَسْتَـْٔذِنُوا۟ كَمَا ٱسْتَـْٔذَنَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمْ ءَايَٰتِهِۦ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
বৃদ্ধ নারীরা, যারা বিয়ের আশা রাখেনা, তারা যদি তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে বহিরাবরণ খুলে রাখে, তবে তাদের কোনো দোষ হবেনা। তবে সংযত থাকাই তাদের জন্যে উত্তম। সব শুনেন, সব জানেন।
وَٱلْقَوَٰعِدُ مِنَ ٱلنِّسَآءِ ٱلَّٰتِى لَا يَرْجُونَ نِكَاحًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَن يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَٰتٍۭ بِزِينَةٍ وَأَن يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَّهُنَّ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِ
অন্ধদের দোষ নেই, খোড়াদের দোষ নেই এবং রোগীদেরও দোষ নেই (তারা যদি অনুমতি ছাড়া কারো কিছু খেয়ে নেয়), আর তোমাদের নিজেদেরও দোষ হবেনা তোমরা যদি (অনুমতি ছাড়া) খাও তোমাদের নিজেদের ঘরে, তোমাদের পিতাদের ঘরে, তোমাদের মায়েদের ঘরে, তোমাদের ভাইদের ঘরে, তোমাদের বোনদের ঘরে, তোমাদের চাচাদের ঘরে, তোমাদের ফুফুদের ঘরে, তোমাদের মামাদের ঘরে, তোমাদের খালাদের ঘরে, সেইসব ঘরে যেসব ঘরের চাবি তোমাদের অধিকারে থাকে এবং তোমাদের বন্ধুদের ঘরে। তোমরা একত্রে খাও কিংবা আলাদা আলাদা খাও তাতে তোমাদের কোনো দোষ হবেনা। যখনই তোমরা ঘরে দাখিল হবে নিজেদের প্রতি সালাম করবে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া অভিবাদন কল্যাণময় ও উত্তম। এভাবেই তোমাদের জন্যে বয়ান করেন আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে, যাতে করে তোমরা আকল খাটাও।
لَّيْسَ عَلَى ٱلْأَعْمَىٰ حَرَجٌ وَلَا عَلَى ٱلْأَعْرَجِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى ٱلْمَرِيضِ حَرَجٌ وَلَا عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمْ أَن تَأْكُلُوا۟ مِنۢ بُيُوتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ ءَابَآئِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أُمَّهَٰتِكُمْ
তো তারাই, যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রসূলের প্রতি, আর রসূলের সাথে সামষ্টিক বিষয়ে একত্র হলে তারা অনুমতি ছাড়া চলে যায়না। যারা (প্রয়োজনে) তোমার কাছে অনুমতি চায় তারাই ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি। তারা তাদের কোনো প্রয়োজনে (বৈঠক থেকে) বাইরে যেতে তোমার কাছে অনুমতি চাইলে তুমি যাকে ইচ্ছা অনুমতি দেবে এবং তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে মাগফিরাত প্রার্থনা করবে। কারণ তো অতীব ক্ষমাশীল দয়াময়।
إِنَّمَا ٱلْمُؤْمِنُونَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَإِذَا كَانُوا۟ مَعَهُۥ عَلَىٰٓ أَمْرٍ جَامِعٍ لَّمْ يَذْهَبُوا۟ حَتَّىٰ يَسْتَـْٔذِنُوهُ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسْتَـْٔذِنُونَكَ أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِين
(হে মুমিনরা!) রসূলের আহবানকে তোমাদের পরস্পরকে আহবান করার সমতুল্য মনে করোনা। তোমাদের যারা (রসূলের ডাকা বৈঠক থেকে) অনুমতি ছাড়াই সরে পড়ে, তাদের জানেন। সুতরাং যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচারণ করে তারা যেনো সতর্ক হয় এ জন্যে যে, তাদের উপর ফিতনা এসে পড়তে পারে, কিংবা তাদের উপর আপতিত হতে পারে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
لَّا تَجْعَلُوا۟ دُعَآءَ ٱلرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَآءِ بَعْضِكُم بَعْضًا قَدْ يَعْلَمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنكُمْ لِوَاذًا فَلْيَحْذَرِ ٱلَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِۦٓ أَن تُصِيبَهُمْ فِ
সাবধান, জেনে রাখো, মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। তোমরা যেসব কাজে নিরত আছো সবই জানেন। যেদিন তাদেরকে তাঁর (আল্লাহর) কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে সেদিন তিনি তাদের অবহিত করবেন তারা কী কাজ করেছিল? প্রতিটি বিষয়ে জ্ঞাত।
أَلَآ إِنَّ لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ قَدْ يَعْلَمُ مَآ أَنتُمْ عَلَيْهِ وَيَوْمَ يُرْجَعُونَ إِلَيْهِ فَيُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا۟ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌۢ