You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আন নিসা (নারী)
Chapter 4, 176 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
বয়ান ফাউন্ডেশন
Arabic, with marks
Arabic
Word by word
About this chapter
মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১৭৬, রুকু সংখ্যা: ২৪
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০০১এক ব্যক্তি থেকে মানব বংশের বিস্তার হয়েছে। রক্ত সম্পর্কের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।
০২-১০এতিম এবং এতিমদের সম্পদ তত্ত্বাবধানের বিষয়ে উপদেশ ও নির্দেশাবলি। একত্রে কতজন স্ত্রী রাখা যাবে?
১১-১৪ ওয়ারিশি পাবে কারা এবং কে কতটুকু পাবে? আল্লাহর দেয়া ওয়ারিশি আইন না মানার বেদনাদায়ক পরিণতি।
১৫-১৮কারো স্ত্রী ব্যভিচার করলে তার বিধান। তাওবার নিয়ম।
১৯-২১স্ত্রী গ্রহণ ও বর্জন সংক্রান্ত বিধান।
২২-২৮কাদেরকে বিয়ে করা হারাম? বিয়ের পন্থা।
২৯-৩৩মুমিনদের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলি।
৩৪-৩৫পারিবারিক জীবনে পুরুষের কর্তৃত্ব।
৩৬-৪২ মুমিনদের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলি।
৪৩ সালাতের জন্যে পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতি।
৪৪-৫৭ইহুদিদের সীমালঙ্ঘন। শিরকের গুণাহ্ মাফ করা হবেনা।
৫৮-৭৬ মুমিনদের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলি।
৭৭-৯১মুনাফিকি আচরণ। মুমিনদের প্রতি উপদেশ।
৯২-৯৩মুমিনকে হত্যা করা নিষিদ্ধ। ভুলবশত হত্যা করলে তার বিধান।
৯৪-১০০যুদ্ধ, জিহাদ ও হিজরত।
১০১-১০৪কসর ও ভয়কালীন সালাত।
১০৫-১১৫নবীর প্রতি কিতাবের বিধান অনুযায়ী ফায়সালা দেয়ার নির্দেশ। নবীর বিরোধিতাকারীরা জাহান্নামি।
১১৬-১২৬শিরকমুক্ত ঈমানের পথে আমল করার আহবান।
১২৭-১৩০কতিপয় দাম্পত্য বিধান।
১৩১-১৪১মুমিনদের প্রতি উপদেশ ও নির্দেশাবলি।
১৪২-১৫২মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য।
১৫৩-১৬২ইহুদি-খৃষ্টানদের হঠকারিতা ও বাহুল্য দাবি-দাওয়া।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে মানুষ! তোমরা সতর্ক হও তোমাদের রবের প্রতি, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একটি আত্মা থেকে। আর তা থেকেই সৃষ্টি করেছেন তার জুড়ি। অত:পর তাদের দু’জন থেকে সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য পুরুষ ও নারী। তোমরা ভয় করো আল্লাহকে, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা (পরস্পর থেকে) তোমাদের অধিকার দাবি করো। আর সতর্ক হও রক্ত সম্পর্কের নিকটাত্মীয়দের (অধিকারের) ব্যাপারে। নিশ্চয়ই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধানকারী পাহারাদার।
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক নফ্স থেকে। আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাক। আর ভয় কর রক্ত-সম্পর্কিত
بسم الله الرحمن الرحيم يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالا كثيرا ونساء ۚ واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام ۚ إن الله كان عليكم رقيبا
দিয়ে দাও এতিমদেরকে তাদের মাল - সম্পদ। ভালো সম্পদের সাথে মন্দ সম্পদ বদল করোনা। তোমরা গ্রাস করোনা তাদের মাল - সম্পদ তোমাদের মাল - সম্পদের সাথে মিশিয়ে নিয়ে। কারণ, এটা একটা কবিরা গুনাহ্।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমরা ইয়াতীমদেরকে তাদের ধন-সম্পদ দিয়ে দাও এবং তোমরা অপবিত্র বস্ত্তকে পবিত্র বস্ত্ত দ্বারা পরিবর্তন করো না এবং তাদের ধন-সম্পদকে তোমাদের ধন-সম্পদের সাথে খেয়ো না। নিশ্চয় তা বড় পাপ।
আর তোমরা যদি আশংকা করো, এতিম - মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে যেসব নারীদের তোমরা পছন্দ করো, তাদের মধ্য থেকে বিয়ে করে নাও দুই, তিন, বা চারজনকে। কিন্তু, যদি আশংকা করো (একাধিক বিয়ে করলে) স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফ করতে পারবেনা, সে ক্ষেত্রে একটি বিয়ে করো, অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত মেয়ে। বেইনসাফি থেকে বাঁচার জন্যে এ ব্যবস্থাই অধিকতর সঠিক।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীমদের ব্যাপারে তোমরা ইনসাফ করতে পারবে না, তাহলে তোমরা বিয়ে কর নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে; দু’টি, তিনটি অথবা চারটি। আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ করতে পারবে না, তবে একটি অথবা তোমাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে। এটা অ
আর তোমরা (যাদের বিয়ে করবে তাদের অর্থাৎ) স্ত্রীদের মোহর খোলামনে আনন্দচিত্তে দিয়ে দাও। তবে তারা নিজেরাই যদি সন্তুষ্টচিত্তে (মোহরানার) কিছু অংশ মাফ করে দেয়, তবে তোমরাও সানন্দে তা গ্রহণ করতে পারো।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমরা নারীদেরকে সন্তুষ্টচিত্তে তাদের মোহর দিয়ে দাও, অতঃপর যদি তারা তোমাদের জন্য তা থেকে খুশি হয়ে কিছু ছাড় দেয়, তাহলে তোমরা তা সানন্দে তৃপ্তিসহকারে খাও।
তোমরা নির্বোধদের হাতে তোমাদের মাল - সম্পদ তুলে দিওনা, যা তোমাদের জীবন ধারণের মাধ্যম বানিয়েছেন। তবে তা থেকে তাদের খাওয়া পরার ব্যবস্থা করবে এবং তাদের সাথে উত্তম - উপদেশমূলক কথা বলবে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমরা নির্বোধদের হাতে তোমাদের ধন-সম্পদ দিও না, যাকে তোমাদের জন্য করেছেন জীবিকার মাধ্যম এবং তোমরা তা থেকে তাদেরকে আহার দাও, তাদেরকে পরিধান করাও এবং তাদের সাথে উত্তম কথা বল।
আর তোমরা এতিমদের যাচাই - পরীক্ষা করতে থাকো, যতোদিন তারা বিবাহযোগ্য - বালেগ না হয়। অত:পর যদি তোমরা তাদের মধ্যে ভালোমন্দ যাচাই করার মতো যোগ্যতার সন্ধান পাও, তখন তাদের মাল - সম্পদ তাদের হাতে সোপর্দ করে দাও। তারা বড় হয়ে তাদের সম্পদ ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এই ভয়ে অপচয় করে তাদের সম্পদ তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলোনা। যে (এতিমের যে তত্ত্বাবধানকারী) সম্পদশালী, সে যেনো (এতিমদের সম্পদ থেকে তত্ত্বাবধানের খরচ নেয়া থেকে) বিরত থাকে। তবে অভাবী হলে প্রচলিত সঙ্গত পরিমাণ গ্রহণ করবে। যখন তাদের সম্পদ তাদের হাতে সোপর্দ করবে, তখন তাতে সাক্ষী রাখবে। আর হিসাব নেয়ার জন্যে আল্লাহই কাফী (যথেষ্ট)।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমরা ইয়াতীমদেরকে পরীক্ষা কর যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছে। সুতরাং যদি তোমরা তাদের মধ্যে বিবেকের পরিপক্কতা দেখতে পাও, তবে তাদের ধন-সম্পদ তাদেরকে দিয়ে দাও। আর তোমরা তাদের সম্পদ খেয়ো না অপচয় করে এবং তারা বড় হওয়ার আগে তাড়াহুড়া করে। আর যে ধনী সে যেন সং
وابتلوا اليتامى حتى إذا بلغوا النكاح فإن آنستم منهم رشدا فادفعوا إليهم أموالهم ۖ ولا تأكلوها إسرافا وبدارا أن يكبروا ۚ ومن كان غنيا فليستعفف ۖ ومن كان فقيرا فليأكل بالمعروف ۚ فإذا دفعتم إليهم أموالهم فأشهدوا عليهم ۚ وكفى بالله حسيبا
বাবা - মা ও আত্মীয় - স্বজনের রেখে যাওয়া অর্থ - সম্পদে পুরুষ (ওয়ারিশদের) অংশ রয়েছে, আর আর বাবা - মা ও আত্মীয় - স্বজনের রেখে যাওয়া অর্থ সম্পদে নারী (ওয়ারিশদের)ও অংশ রয়েছে, তা কমই হোক কিংবা বেশি। (উভয়ের) প্রাপ্য নির্ধারিত ও বিধিবদ্ধ।
বয়ান ফাউন্ডেশন
পুরুষদের জন্য মাতা পিতা ও নিকটাত্মীয়রা যা রেখে গিয়েছে তা থেকে একটি অংশ রয়েছে। আর নারীদের জন্য রয়েছে মাতা পিতা ও নিকটাত্মীয়রা যা রেখে গিয়েছে তা থেকে একটি অংশ- তা থেকে কম হোক বা বেশি হোক- নির্ধারিত হারে।
(ওয়ারিশি অর্থ - সম্পদ) বণ্টনকালে (ওয়ারিশ নয় এমন) আত্মীয় এবং এতিম ও অভাবী লোক উপস্থিত থাকলে তাদেরকে তা থেকে কিছু দেবে এবং তাদের সাথে উত্তমভাবে কথা বলবে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যদি বণ্টনে নিকটাত্মীয় এবং ইয়াতীম ও মিসকীনরা উপস্থিত হয়, তাহলে তোমরা তাদেরকে তা থেকে আহার দেবে এবং তাদের সাথে তোমরা উত্তম কথা বলবে।
একথা ভেবে সবারই ভয় করা উচিত যে, তারাও যদি অসহায় সন্তান রেখে (মারা) যেতো, তবে (মৃত্যুর সময়) তারা কতো যে উদ্বিগ্ন হতো! সুতরাং তারা যেনো আল্লাহকে ভয় করে এবং সরল - সঠিক কথা বলে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তাদের ভয় করা উচিৎ যে, যদি তারা তাদের পেছনে অসহায় সন্তান রেখে যেত, তাহলে তারা তাদের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হত। সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং যেন সঠিক কথা বলে।
তোমাদের অসিয়ত (নির্দেশ) করছেন তোমাদের সন্তানদের (উত্তরাধিকার) সম্পর্কে: এক ছেলে সন্তান পাবে দুই মেয়ে সন্তানের সমান।কিন্তু তারা(ওয়ারিশরা) যদি শুধু মেয়ে সন্তান হয় এবং তারা যদি দুয়ের অধিক হয়, তবে তারা পরিত্যক্ত অর্থ - সম্পদের তিনভাগের দুইভাগ পাবে। কিন্তু কেউ যদি একমাত্র কন্যা রেখে যায়, তবে সে (পরিত্যক্ত সম্পদের) অর্ধেক পাবে। কেউ যদি সন্তান (এবং পিতা - মাতা) রেখে মারা যায়, তাহলে তার বাবা - মা প্রত্যেকেই ছয় ভাগের একভাগ করে পাবে। কিন্তু সে যদি নিঃসন্তান হয় এবং ওয়ারিশ হিসেবে বাবা - মা দু’জনকেই রেখে যায়, তবে তার মা পাবে তিনভাগের একভাগ। তবে সে যদি ভাইবোনও রেখে যায়, তবে তার মা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ। এভাবে ওয়ারিশি বণ্টন করতে হবে মৃত ব্যক্তি যদি কোনো অসিয়ত করে যায় কিংবা কোনো দেনা রেখে যায়, সেগুলো পরিশোধ করার পর।তোমরা তো জানো না, তোমাদের বাবা - মা এবং সন্তানের মধ্যে তোমাদের জন্য লাভের দিক থেকে কে বেশি নিকটবর্তী? (উত্তরাধিকার বণ্টন এবং বণ্টনের এই হার) কর্তৃক নির্ধারিত আইন। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞানী এবং পরিপূর্ণ প্রজ্ঞার অধিকারী।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন, এক ছেলের জন্য দুই মেয়ের অংশের সমপরিমাণ। তবে যদি তারা দুইয়ের অধিক মেয়ে হয়, তাহলে তাদের জন্য হবে, যা সে রেখে গেছে তার তিন ভাগের দুই ভাগ; আর যদি একজন মেয়ে হয় তখন তার জন্য অর্ধেক। আর তার মাতা পিতা উ
يوصيكم الله في أولادكم ۖ للذكر مثل حظ الأنثيين ۚ فإن كن نساء فوق اثنتين فلهن ثلثا ما ترك ۖ وإن كانت واحدة فلها النصف ۚ ولأبويه لكل واحد منهما السدس مما ترك إن كان له ولد ۚ فإن لم يكن له ولد وورثه أبواه فلأمه الثلث ۚ فإن كان له إخوة فلأمه السدس ۚ من بعد وصية يوصي بها أو دين ۗ آباؤكم وأبناؤكم لا تدرون أيهم أقرب لكم نفعا ۚ فريضة من الله ۗ إن الله كان عليما حكيما
তোমাদের স্ত্রীরা যদি সন্তান না রেখে মারা যায়, তবে তাদের পরিত্যক্ত অর্থ - সম্পদের অর্ধেক তোমরা (স্বামীরা) পাবে। কিন্তু তারা যদি সন্তান রেখে যায়, তবে তাদের পরিত্যাক্ত অর্থ - সম্পদের চার ভাগের এক ভাগ তোমরা (স্বামীরা) পাবে, অসিয়ত এবং দেনা পরিশোধ করার পর। তোমাদের (স্বামীদের) পরিত্যক্ত অর্থ - সম্পদের চার ভাগের এক ভাগ তারা (স্ত্রীরা) পাবে, যদি তোমাদের কোনো সন্তান না থাকে। কিন্তু তোমাদের সন্তান থাকলে তোমাদের পরিত্যক্ত অর্থ - সম্পদের আট ভাগের এক ভাগ তারা পাবে, তোমাদের অসিয়ত এবং দেনা পরিশোধের পর। যদি এমন কোনো পুরুষ বা নারী মারা যায়, যার (ওয়ারিশি পাওয়ার জন্যে) সন্তান নেই, বাবা - মাও বেঁচে নেই, তবে একজন ভাই এবং একজন বোন আছে, সে ক্ষেত্রে উভয়ের প্রত্যেকেই ছয় ভাগের একভাগ পাবে। কিন্তু (তার ওয়ারিশ) এর চাইতে বেশি হলে তারা প্রত্যেকেই এক তৃতীয়াংশ (তিন ভাগের এক ভাগে) সমান অংশীদার হবে। এসব বণ্টনই অসিয়ত এবং ঋণ পরিশোধের পর করতে হবে, যদি তা ক্ষতিকর না হয়। (ওয়ারিশি বণ্টন বিষয়ে) এগুলো হলো আল্লাহর অসিয়ত (নির্দেশ, আইন, বিধান)। আর মহাজ্ঞানী, মহাধৈর্যশীল।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীগণ যা রেখে গেছে তার অর্ধেক, যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তারা যা রেখে গেছে তা থেকে তোমাদের জন্য চার ভাগের এক ভাগ। তারা যে অসিয়ত করে গেছে তা পালনের পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর। আর স্ত্রীদের জন্য তোমরা
۞ ولكم نصف ما ترك أزواجكم إن لم يكن لهن ولد ۚ فإن كان لهن ولد فلكم الربع مما تركن ۚ من بعد وصية يوصين بها أو دين ۚ ولهن الربع مما تركتم إن لم يكن لكم ولد ۚ فإن كان لكم ولد فلهن الثمن مما تركتم ۚ من بعد وصية توصون بها أو دين ۗ وإن كان رجل يورث كلالة أو امرأة وله أخ أو أخت فلكل واحد منهما السدس ۚ فإن كانوا أكثر من ذلك فهم شركاء في الثلث ۚ من بعد وصية يوصى بها أو دين غير مضار ۚ وصية من الله ۗ والله عليم حليم
এগুলো (ওয়ারিশি বিষয়ে) আল্লাহর নির্ধারিত সীমানা। যে কেউ এবং তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে দাখিল করবেন জান্নাতসমূহের মধ্যে, যেগুলোর নিচে দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে নদ - নদী নহর। সেগুলোর মধ্যে তারা থাকবে চিরকাল। আর এটাই মহাসাফল্য।
বয়ান ফাউন্ডেশন
এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। আর যে ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর এটা মহা সফলতা ।
কিন্তু যে কেউ অমান্য করবে এবং তাঁর রসূলের নির্দেশ এবং লংঘন করবে তাঁর (আল্লাহর নির্ধারিত) সীমানা, তিনি তাকে দাখিল করবেন আগুনে (জাহান্নামে)। সেখানেই সে থাকবে চিরকাল। তা ছাড়া তার জন্যে রয়েছে অপমানকর আযাব।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যে ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার জন্যই রয়েছে অপমানজনক আযাব।
তোমাদের যেসব নারী ফাহেশা কাজে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয় (বলে অভিযোগ উঠে), তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করাও। তারা (চারজনই) যদি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়, তবে তাকে গৃহবন্দী করে রাখো যতোদিন না তার মৃত্যু হয়, অথবা এ ধরনের নারীদের বিষয়ে কোনো বিধান নাযিল করেন।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমাদের নারীদের মধ্য থেকে যারা ব্যভিচার করে, তোমরা তাদের উপর তোমাদের মধ্য থেকে চার জন সাক্ষী উপস্থিত কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য দেয় তবে তোমরা তাদেরকে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ রাখ যতক্ষণ না মৃত্যু তাদের জীবন শেষ করে দেয়। অথবা তাদের জন্য কোন পথ তৈরি করে দ
তোমাদের মধ্যে যে দুইজন ঐ কর্মে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হবে, (প্রমাণিত হলে) তাদের দন্ড দাও। আর তারা যদি তওবা করে এবং নিজেদের ইসলাহ করে নেয়, তবে তাদের (শাস্তি) উপেক্ষা করো। নিশ্চয়ই তওবা কবুলকারী পরম দয়াবান।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমাদের মধ্য থেকে যে দু’জন অপকর্ম করবে, তাদেরকে তোমরা আযাব দাও। অতঃপর যদি তারা তাওবা করে এবং শুধরিয়ে নেয় তবে তোমরা তাদের থেকে বিরত থাক। নিশ্চয় তাওবা কবূলকারী, দয়ালু ।
জেনে রাখো, সেই সব লোকদের তওবাই কবুল করেন, যারা অজ্ঞতা বা ভুলবশত মন্দ কর্ম করে ফেলে এবং পরক্ষণেই ভীষণ অনুতপ্ত হয় ও তওবা করে। এরাই সেইসব লোক যাদের তওবা কবুল করেন। আর তো সর্বজ্ঞানী প্রজ্ঞাময়।
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় তাওবা কবূল করা আল্লাহর জিম্মায় তাদের জন্য, যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে। তারপর শীঘ্রই তাওবা করে। অতঃপর এদের তাওবা কবুল করবেন আর মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
ঐসব লোকদের অনুতপ্ত হওয়া বা তওবা করা নিষ্ফল, যারা মন্দ কর্ম চালিয়ে যেতেই থাকে। অত:পর যখন তাদের কারো মউত এসে হাজির হয়, তখন সে বলে: ‘আমি এখন তওবা করছি’। আর ঐসব লোকদের তওবাও নিষ্ফল, যাদের মউত হয় কুফুরিতে নিমজ্জিত থাকা অবস্থায়। এসব লোকদের জন্যেই আমরা প্রস্তুত রেখেছি বেদনাদায়ক আযাব (Painful torment)।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তাওবা নাই তাদের, যারা অন্যায় কাজ করতে থাকে, অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু এসে যায়, তখন বলে, আমি এখন তাওবা করলাম, আর তাওবা তাদের জন্য নয়, যারা অবস্থায় মারা যায়; আমি এদের জন্যই তৈরী করেছি যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
হে ঐসব লোক যারা ঈমান এনেছো! তোমাদের জন্যে হালাল নয় নারীদের ওয়ারিশ হয়ে বসা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। আর তোমরা তাদের হয়রানি করো না তাদেরকে দেয়া সম্পদের (মোহরানার) কিছু অংশ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে। তবে তারা প্রমাণিত ফাহেশা কাজে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয়ে থাকলে ভিন্ন কথা। তাদের সাথে ভদ্রোচিত ও সম্মানজনকভাবে বাস করো। তোমরা যদি তাদের (স্ত্রীদের) অপছন্দ করো, তবে এমনো হতে পারে যে, তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করছো, অথচ তাতে দান করবেন প্রভূত কল্যাণ।
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে মুমিনগণ, তোমাদের জন্য হালাল নয় যে, তোমরা জোর করে নারীদের ওয়ারিছ হবে। আর তোমরা তাদেরকে আবদ্ধ করে রেখো না, তাদেরকে যা দিয়েছ তা থেকে তোমরা কিছু নিয়ে নেয়ার জন্য, তবে যদি তারা প্রকাশ্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। আর তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস কর। আর যদি তোমরা ত
يا أيها الذين آمنوا لا يحل لكم أن ترثوا النساء كرها ۖ ولا تعضلوهن لتذهبوا ببعض ما آتيتموهن إلا أن يأتين بفاحشة مبينة ۚ وعاشروهن بالمعروف ۚ فإن كرهتموهن فعسى أن تكرهوا شيئا ويجعل الله فيه خيرا كثيرا
তোমরা যদি একজন স্ত্রী বাদ দিয়ে তার জায়গায় আরেকজন স্ত্রী গ্রহণ করার এরাদা করো, এবং (যাকে বাদ দেবে) তাকে যদি প্রচুর অর্থ - সম্পদও দিয়ে থাকো, তবে তা থেকে কিছুই ফেরত নিওনা। তোমরা কি অপবাদ দিয়ে এবং সুস্পষ্ট পাপ কাজ করে তা ফেরত নেবে?
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রীকে বদলাতে চাও আর তাদের কাউকে তোমরা প্রদান করেছ প্রচুর সম্পদ, তবে তোমরা তা থেকে কোন কিছু নিও না। তোমরা কি তা নেবে অপবাদ এবং প্রকাশ্য গুনাহের মাধ্যমে?
তোমরা তাদের নিকাহ (বিয়ে) করোনা, যাদের নিকাহ করেছে তোমাদের পিতা ও পিতামহ। তবে অতীতে যা হবার হয়েছে। কারণ এ কাজ একটি ফাহেশা ও ঘৃণ্য কাজ এবং চরম নিকৃষ্ট পন্থা।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমরা বিবাহ করো না নারীদের মধ্য থেকে যাদেরকে বিবাহ করেছে তোমাদের পিতৃপুরুষগণ। তবে পূর্বে যা সংঘটিত হয়েছে (তা ক্ষমা করা হল)। নিশ্চয় তা হল অশ্লীলতা ও ঘৃণিত বিষয় এবং নিকৃষ্ট পথ।
তোমাদের জন্যে (বিয়ে করা) হারাম করা হলো: তোমাদের মা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধ - মা, দুধ বোন, শাশুড়ী। আর তোমাদের স্ত্রীদের যাদের সাথে তোমরা সহবাস করেছো তাদের পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত কন্যা, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে। তবে যে স্ত্রীর সাথে সহবাস করোনি (অর্থাৎ সহবাস করার পূর্বেই যাদের তালাক দিয়েছো) তাদের পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত কন্যাকে বিয়ে করতে বাধা নেই। এছাড়া তোমাদের জন্যে হারাম তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের (তালাক দেয়া) স্ত্রী। হারাম দুই বোনকে একত্রে বিবাহাধীন করা, তবে পূর্বে (জাহেলি যুগে) যা হবার হয়েছে। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতাদেরকে, তোমাদের মেয়েদেরকে, তোমাদের বোনদেরকে, তোমাদের ফুফুদেরকে, তোমাদের খালাদেরকে, ভাতিজীদেরকে, ভাগ্নীদেরকে, তোমাদের সে সব মাতাকে যারা তোমাদেরকে দুধপান করিয়েছে, তোমাদের দুধবোনদেরকে, তোমাদের শ্বাশুড়ীদেরকে, তোমরা যেসব
حرمت عليكم أمهاتكم وبناتكم وأخواتكم وعماتكم وخالاتكم وبنات الأخ وبنات الأخت وأمهاتكم اللاتي أرضعنكم وأخواتكم من الرضاعة وأمهات نسائكم وربائبكم اللاتي في حجوركم من نسائكم اللاتي دخلتم بهن فإن لم تكونوا دخلتم بهن فلا جناح عليكم وحلائل أبنائكم الذين من أصلابكم وأن تجمعوا بين الأختين إلا ما قد سلف ۗ إن الله كان غفورا رحيما
তাছাড়া বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ সব নারীই তোমাদের জন্যে হারাম। তবে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের বিয়ে করতে পারো। এগুলো তোমাদের জন্যে আল্লাহর দেয়া অবশ্য মান্য বিধান। উল্লেখিত নারীদের বাইরে যতো নারী আছে নিজেদের অর্থ - সম্পদের (মোহরানার) বিনিময়ে তাদের (যাকে চাও) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা তোমাদের জন্যে হালাল করা হলো। তবে বিবাহ বহির্ভূত যৌন লালসা তৃপ্ত করার জন্যে কিছুতেই নয়। (বিয়ে করে) তাদের থেকে তোমরা যে যৌন স্বাদ আস্বাদন করো, তার বিনিময়ে তাদের মোহরানা ফরয হিসেবে পরিশোধ করে দাও। মোহরানা নির্ধারণের পর তোমরা যদি কোনো বিষয়ে (নির্ধারিত পরিমাণের চাইতে বেশি প্রদান করতে) রাজি হয়ে যাও, তাতে তোমাদের কোনো দোষ হবেনা। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর (হারাম করা হয়েছে) নারীদের মধ্য থেকে সধবাদেরকে। তবে তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে (দাসীগণ) তারা ছাড়া। এটি তোমাদের উপর আল্লাহর বিধান এবং এরা ছাড়া সকল নারীকে তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে যে, তোমরা তোমাদের অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে চাইবে বিবাহ করে, অবৈধ য
۞ والمحصنات من النساء إلا ما ملكت أيمانكم ۖ كتاب الله عليكم ۚ وأحل لكم ما وراء ذلكم أن تبتغوا بأموالكم محصنين غير مسافحين ۚ فما استمتعتم به منهن فآتوهن أجورهن فريضة ۚ ولا جناح عليكم فيما تراضيتم به من بعد الفريضة ۚ إن الله كان عليما حكيما
তোমাদের মধ্যে যে সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারীদের বিয়ে করার সামর্থ রাখেনা, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের কাউকেও বিয়ে করবে। তোমাদের ঈমান সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত। তোমরা একজন আরেকজন থেকে (অর্থাৎ তোমরা একই আদর্শ ও একই উম্মতভুক্ত)। সুতরাং তাদের বিয়ে করো তাদের অভিভাবকদের এযেন (অনুমতি) সাপেক্ষে এবং পরিশোধ করে দাও তাদের মোহরানা প্রচলিত ন্যায্য নিয়মে। তারা হবে সতী - সুরক্ষিত, অবৈধ যৌন নিবেদিতা নয় এবং ছেলে - বন্ধু গ্রহণকারিণীও নয়। তারা যখন বিবাহের দুর্গে আবদ্ধ হবে, তখন যদি ফাহেশা কাজে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয়, তখন তাদের দন্ড হবে স্বাধীন সম্ভ্রান্ত নারীদের দন্ডের অর্ধেক। (বিয়ের) এই বিধানটি দেয়া হলো তোমাদের মধ্যকার সেসব লোকদের জন্যে যারা (বিয়ে না করলে) দীনের বিধান লংঘন এবং স্বাস্থ্যহানির আশংকা করে। তবে সবর অবলম্বন করা তোমাদের জন্যে উত্তম। পরম ক্ষমাশীল পরম দয়াবান।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন- নারীদেরকে বিবাহ করার সামর্থ্য রাখে না, সে (বিবাহ করবে) তোমাদের যুবতীদের মধ্য থেকে, তোমাদের হাত যাদের মালিক হয়েছে তাদের কাউকে। আর তোমাদের ঈমান সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। তোমরা একে অন্যের থেকে (এসেছ)। সুতরাং
ومن لم يستطع منكم طولا أن ينكح المحصنات المؤمنات فمن ما ملكت أيمانكم من فتياتكم المؤمنات ۚ والله أعلم بإيمانكم ۚ بعضكم من بعض ۚ فانكحوهن بإذن أهلهن وآتوهن أجورهن بالمعروف محصنات غير مسافحات ولا متخذات أخدان ۚ فإذا أحصن فإن أتين بفاحشة فعليهن نصف ما على المحصنات من العذاب ۚ ذلك لمن خشي العنت منكم ۚ وأن تصبروا خير لكم ۗ والله غفور رحيم
তোমাদের জন্যে বয়ান করে দেয়ার এরাদা করেছেন (হালাল এবং হারামের বিধান) এবং তোমাদের পরিচালিত করতে চাইছেন তোমাদের পূর্ববর্তী ভালো লোকদের নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে। আর তিনি কবুল করে নিতে চাইছেন তোমাদের তওবা - অনুশোচনা। তো আলিমুল হাকিম (সর্বজান্তা সর্বজ্ঞানী)।
বয়ান ফাউন্ডেশন
চান তোমাদের জন্য বিস্তারিত বর্ণনা করতে, তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ববর্তীদের আদর্শ প্রদর্শন করতে এবং তোমাদের তাওবা কবূল করতে। আর মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
হে ঐসব লোক যারা ঈমান এনেছো! তোমরা তোমাদের পরস্পরের মাল - সম্পদ গ্রাস করোনা বাতিল পন্থায়। তবে পরস্পরের রাজি খুশির ভিত্তিতে তেজারত (ব্যবসা) করার মধ্যে দোষ নেই। তোমরা নিজেদের হত্যা করোনা। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি দয়াবান।
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে মুমিনগণ, তোমরা পরস্পরের মধ্যে তোমাদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা। আর তোমরা নিজেরা নিজদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয় তোমাদের ব্যাপারে পরম দয়ালু।
তোমরা যদি কবিরা গুনাহসমূহ পরিহার করে চলো, যেগুলো করতে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তাহলে আমরা তোমাদের ছোট খাটো সব গুনাহখাতা মুছে (expiate) দেবো এবং তোমাদের দাখিল করবো অতীব সম্মান ও মর্যাদার জায়গায় (জান্নাতে)।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তোমরা যদি সেসব কবীরা গুনাহ পরিহার কর, যা থেকে তোমাদের বারণ করা হয়েছে, তাহলে আমি তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাব সম্মানজনক প্রবেশস্থলে।
তাঁর যেসব (অনুগ্রহ) দান করে তোমাদের একজনকে আরেকজনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন, তোমরা সেগুলোর লালসা করোনা। পুরুষ যা উপার্জন করে, তার অংশ হবে সে অনুযায়ী, আর নারী যা উপার্জন করে তার অংশ সে অনুযায়ী। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো তাঁর অনুগ্রহ থেকে। নিশ্চয়ই প্রতিটি বিষয়ে অবহিত।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না সে সবের, যার মাধ্যমে তোমাদের এক জনকে অন্য জনের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। পুরুষদের জন্য রয়েছে অংশ, তারা যা উপার্জন করে তা থেকে এবং নারীদের জন্য রয়েছে অংশ, যা তারা উপার্জন করে তা থেকে। আর তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ চাও। নি
পিতা - মাতা ও আত্মীয় স্বজনের রেখে যাওয়া প্রতিটি অর্থ - সম্পদের জন্যে আমরা উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ তাদেরকে তাদের অংশ দিয়ে দেবে। নিশ্চয়ই প্রতিটি বিষয়ের সাক্ষী।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর আমি প্রত্যেকের জন্য নির্ধারণ করেছি উত্তরাধিকারী, পিতা-মাতা ও নিকট আত্মীয়-স্বজন যা রেখে যায় এবং যাদের সাথে তোমরা চুক্তি করেছ, তা থেকে* । সুতরাং তোমরা তাদেরকে তাদের অংশ দিয়ে দাও। নিশ্চয় সবকিছুর উপর সাক্ষী। * চুক্তিভিত্তিক উত্তরাধিকারের বিষয়টি জাহ
পুরুষরা নারীদের অভিভাবক ও ব্যবস্থাপক। কারণ, তাদের একের উপর অপরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। তাছাড়া পুরুষরা তাদের (নারীদের) জন্যে নিজেদের মাল - সম্পদ ব্যয় করবে। সতী সাধ্বী স্ত্রীরা হয়ে থাকে অনুগত এবং তারা স্বামীর অনুপস্থিতিতে হেফাযত করে তাদের যা হেফাযত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তোমরা যেসব স্ত্রীর ব্যাপারে অবাধ্যতার আশংকা করো তাদেরকে (প্রথমে) বুঝাও উপদেশ দাও, (দ্বিতীয় পর্যায়ে) তাদের সাথে শয্যা গ্রহণ করতে অস্বীকার করো, (তাতেও সুপথে না এলে অবশেষে) প্রহার করো (হালকাভাবে, যদি তা উপকারী হয়)। যে কোনো পর্যায়ে যখন তারা তোমাদের অনুগত হয়ে যাবে, তখন আর তাদের উপর নির্যাতন চালাবার বাহানা তালাশ করোনা। নিশ্চয়ই মহান এবং শ্রেষ্ঠ।
বয়ান ফাউন্ডেশন
পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক, এ কারণে যে, তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা নিজদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা অনুগত, তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে হিফাযাতকারিনী ঐ বিষয়ের যা হিফাযাত করেছেনে। আর তোমরা যাদের অব
الرجال قوامون على النساء بما فضل الله بعضهم على بعض وبما أنفقوا من أموالهم ۚ فالصالحات قانتات حافظات للغيب بما حفظ الله ۚ واللاتي تخافون نشوزهن فعظوهن واهجروهن في المضاجع واضربوهن ۖ فإن أطعنكم فلا تبغوا عليهن سبيلا ۗ إن الله كان عليا كبيرا
তোমরা যদি তাদের (অর্থাৎ স্বামী - স্ত্রী) দুইজনের মাঝে সম্পর্ক ফাটল - এর আশংকা করো, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন সালিশ এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ (মোট দুইজন সালিশ) নিযুক্ত করো। তারা উভয়ে শান্তি চাইলে তাদের মাঝে মীমাংসার তৌফিক দান করবেন। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞানী, সর্ববিষয়ে অবহিত।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা কর তাহলে স্বামীর পরিবার থেকে একজন বিচারক এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন বিচারক পাঠাও। যদি তারা মীমাংসা চায় তাহলে উভয়ের মধ্যে মিল করে দেবেন। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞানী, সম্যক অবগত।
তোমরা সবাই এক আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করোনা। পিতা - মাতার প্রতি ইহ্সান করো এবং আত্মীয় - স্বজন, এতিম, মিসকিন, আত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ব সাথি, ভ্রমণ পথের সাক্ষাত লাভকারী পথিক এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস - দাসীদের প্রতিও ইহ্সান করো। নিশ্চয়ই অহংকারী দাম্ভিকদের পছন্দ করেননা।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তোমরা ইবাদাত কর আল্লাহর, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে, নিকট আত্মীয়ের সাথে, ইয়াতীম, মিসকীন, নিকট আত্মীয়- প্রতিবেশী, অনাত্মীয়- প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সাথে। নিশ্চয় আল্
۞ واعبدوا الله ولا تشركوا به شيئا ۖ وبالوالدين إحسانا وبذي القربى واليتامى والمساكين والجار ذي القربى والجار الجنب والصاحب بالجنب وابن السبيل وما ملكت أيمانكم ۗ إن الله لا يحب من كان مختالا فخورا
(এবং তিনি এমন লোকদেরও পছন্দ করেননা,) যারা নিজেরা বখিলি করে, মানুষকেও বখিলি করার আদেশ করে এবং নিজ অনুগ্রহ ভান্ডার থেকে তাদের যা দিয়েছেন সেগুলো গোপন করে। আমরা অকৃতজ্ঞদের জন্যে প্রস্তুত করে রেখেছি অবমাননাকর আযাব।
বয়ান ফাউন্ডেশন
যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয়; আর গোপন করে তা, যা তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে দান করেছেন। আর আমি প্রস্তুত করে রেখেছি কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাকর আযাব।
আর যারা নিজেদের মাল - সম্পদ ব্যয় করে লোক দেখাবার উদ্দেশ্যে এবং (প্রকৃতপক্ষে) ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখেনা ( তাদেরও পছন্দ করেন না)। মূলত শয়তান যার সাথি, তার সাথি বড়ই নিকৃষ্ট!
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যারা নিজ ধন-সম্পদ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে এবং ঈমান আনে না আল্লাহর প্রতি এবং না শেষ দিনের প্রতি। আর শয়তান যার সঙ্গী হয়, সঙ্গী হিসেবে কতইনা নিকৃষ্ট সে!
যারা কুফুরির পথ অবলম্বন করেছে এবং এই রসূলের অবাধ্য হয়েছে, সেদিন তারা কামনা করবে, হায়, মাটি যদি তাদেরকে তার গর্ভে ঢুকিয়ে নিতো! সেদিন তারা আল্লাহর নিকট থেকে কোনো কথাই গোপন করতে পারবে না।
বয়ান ফাউন্ডেশন
যারা করেছে এবং রাসূলের অবাধ্য হয়েছে তারা সেদিন কামনা করবে, যদি যমীনকে তাদের সাথে (মিশিয়ে) সমান করে দেয়া হত, আর তারা আল্লাহর কাছে কোন কথা গোপন করতে পারবে না।
হে লোকেরা! তোমরা সালাতের নিকটবর্তীও হয়োনা নেশাগ্রস্ত অবস্থায়১২ যতোক্ষণ না তোমরা যা বলো তা বুঝতে পারো। অনুরূপ জুনুবি (গোসল ফরয) অবস্থায়ও গোসল না করা পর্যন্ত সালাতের কাছে যেয়ো না; তবে ভ্রমণরত (মুসাফির অবস্থায়) থাকলে ভিন্ন কথা। আর তোমরা যদি পীড়িত - অসুস্থ হও, অথবা সফরে থাকো, কিংবা তোমাদের কেউ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে এসে থাকে, অথবা যদি তোমরা নারী সহবাস করে থাকো এবং এসব অবস্থায় পানি না পাও, তবে পাক মাটি দিয়ে তাইয়াম্মুম করে নিও, (এভাবে যারা) মাসেহ্ করবে নিজেদের মুখমন্ডল এবং হাত, নিশ্চয়ই (তাদের ব্যাপারে) অতীব পাপমোচনকারী এবং পরম ক্ষমাশীল।
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে মুমিনগণ, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা বুঝতে পার যা তোমরা বল এবং অপবিত্র অবস্থায়ও না, যতক্ষণ না তোমরা গোসল কর, তবে যদি তোমরা পথ অতিক্রমকারী হও*। আর যদি তোমরা অসুস্থ হও বা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রস্রাব-পায়খানা থ
يا أيها الذين آمنوا لا تقربوا الصلاة وأنتم سكارى حتى تعلموا ما تقولون ولا جنبا إلا عابري سبيل حتى تغتسلوا ۚ وإن كنتم مرضى أو على سفر أو جاء أحد منكم من الغائط أو لامستم النساء فلم تجدوا ماء فتيمموا صعيدا طيبا فامسحوا بوجوهكم وأيديكم ۗ إن الله كان عفوا غفورا
যারা ইহুদি হয়েছে তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা কথাকে স্থানচ্যুত করে বিকৃত করে। তারা বলে: ‘আমরা তোমার কথা শুনলাম এবং অমান্য করলাম’; আর শুনে, না শুনার মতো; নিজেদের জিহবা কুঞ্চিত করে দীনের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রকাশ করে তারা আরো বলে: ‘রায়েনা’।১৩ অথচ তারা যদি বলতো: ‘আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম’, ‘শুনুন’ এবং ‘আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন’, তবে সেটাই তাদের জন্যে উত্তম ও সঙ্গত হতো। কিন্তু তাদের অবিশ্বাসের জন্যে তাদেরকে অভিশপ্ত করেছেন। সুতরাং স্বল্প সংখ্যক ছাড়া তারা ঈমান আনবেনা।
বয়ান ফাউন্ডেশন
ইয়াহূদীদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা কালামসমূহকে তার স্থান থেকে পরিবর্তন করে ফেলে এবং বলে, ‘আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম’। আর তুমি শোন না শোনার মত, তারা নিজদের জিহবা বাঁকা করে এবং দীনের প্রতি খোঁচা মেরে বলে, ‘রা‘ইনা’* । আর তারা যদি বলত, ‘আমরা শুনলাম ও মান্য ক
من الذين هادوا يحرفون الكلم عن مواضعه ويقولون سمعنا وعصينا واسمع غير مسمع وراعنا ليا بألسنتهم وطعنا في الدين ۚ ولو أنهم قالوا سمعنا وأطعنا واسمع وانظرنا لكان خيرا لهم وأقوم ولكن لعنهم الله بكفرهم فلا يؤمنون إلا قليلا
হে ঐসব লোক, যাদেরকে ইতোপূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছে! তোমাদের কাছে যা আছে (অর্থাৎ তাওরাত ও ইনজিল) তার সত্যায়নকারী যে কিতাব আমরা (মুহাম্মদের প্রতি) নাযিল করেছি, তোমরা তার প্রতি ঈমান আনো আমরা চেহারাগুলোকে বিকৃত করে পেছনের দিকে ফিরিয়ে দেয়ার পূর্বেই, অথবা শনিবার ওয়ালাদের যেমন অভিশপ্ত করেছি, সেরকম অভিশপ্ত করার পূর্বেই। আল্লাহর নির্দেশ কার্যকর হয়েই থাকে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে কিতাবপ্রাপ্তগণ, তোমরা ঈমান আন, তার প্রতি যা আমি নাযিল করেছি তোমাদের সাথে যা আছে তার সত্যায়নকারীরূপে। আমি চেহারাসমূহকে বিকৃত করে তা তাদের পিঠের দিকে ফিরিয়ে দেয়া অথবা তাদেরকে লা‘নত করার পূর্বে যেমনিভাবে লা‘নত করেছি আসহাবুস্ সাবতকে* । আর আল্লাহর নির্দেশ ক
يا أيها الذين أوتوا الكتاب آمنوا بما نزلنا مصدقا لما معكم من قبل أن نطمس وجوها فنردها على أدبارها أو نلعنهم كما لعنا أصحاب السبت ۚ وكان أمر الله مفعولا
আল্লাহর সাথে শিরক করা হলে (সে পাপ) ক্ষমা করবেননা। এছাড়া অন্য পাপসমূহ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করে দেবেন। যে আল্লাহর সাথে শিরক করে, সে তো উদ্ভাবন করে নেয় এক মহাপাপ।
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এ ছাড়া অন্যান্য পাপ, যার জন্য তিনি চান। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে অবশ্যই মহাপাপ রচনা করে।
তুমি কি তাদের (ইহুদি ও খৃস্টানদের) দেখোনি, যাঁরা নিজেরাই নিজেদেরকে পুত - পবিত্রতার সার্টিফিকেট দেয়? বরং যাকে চান, শুদ্ধ ও পবিত্র করে দেন। তিনি কারো প্রতি বিন্দু পরিমাণ যুলুম করেন না।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা নিজদেরকে পবিত্র মনে করে? বরং যাকে চান তাকে পবিত্র করেন। আর তাদেরকে সূতা পরিমাণ যুলমও করা হবে না।
তুমি কি তাদের দেখোনি যাদের কিতাবের অংশ বিশেষ দেয়া হয়েছে? তারা জিবত্১৪ ও তাগুতের প্রতি বিশ্বাস রাখে। তারা কাফিরদের সম্পর্কে বলে: ‘যারা ঈমানের পথে চলে তাদের চাইতে এদের পথই অধিকতর সঠিক।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যাদেরকে কিতাবের এক অংশ দেয়া হয়েছে? তারা জিবত* ও তাগূতের প্রতি ঈমান আনে এবং কাফিরদেরকে বলে, এরা মুমিনদের তুলনায় অধিক সঠিক পথপ্রাপ্ত। * জিবত الجبتঅর্থ: মূর্তি , প্রতিমা, যাদুকর, ভেলকিবাজ, যাদু, ভেলকি ইত্যাদি।
নাকি তাঁর অনুগ্রহ - ভান্ডার থেকে মানুষকে (মুহাম্মদ সা. ও তার অনুসারীদেরকে) যা দিয়েছেন, সে কারণে তারা তাদের প্রতি হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরছে? যদি তাই হয়, তবে তো আমরা ইবরাহিমের বংশধরদের (বনি ইসরাঈলকেও) কিতাব এবং হিকমাহ্ দিয়েছিলাম। আরো দিয়েছিলাম এক বিশাল সাম্রাজ্য।
বয়ান ফাউন্ডেশন
বরং তারা কি লোকদেরকে হিংসা করে, স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তার কারণে? তাহলে তো আমি ইবরাহীমের বংশধরকে কিতাব ও হিকমত দান করেছি এবং তাদেরকে দিয়েছি বিশাল রাজত্ব।
যারা আমার আয়াত মেনে নিতে অস্বীকার করে, অচিরেই আমরা তাদের দগ্ধ করবো আগুনে। যখনই তাদের চামড়া দগ্ধ হয়ে যাবে, তখনই নতুন চামড়া দিয়ে তা বদল করে দেবো, যাতে করে তারা (লাগাতার) আযাবের স্বাদ গ্রহণ করতে পারে। নিশ্চয়ই মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, অচিরেই আমি তাদেরকে প্রবেশ করাব আগুনে। যখনই তাদের চামড়াগুলো পুড়ে যাবে তখনই আমি তাদেরকে পালটে দেব অন্য চামড়া দিয়ে যাতে তারা আস্বাদন করে আযাব। নিশ্চয় পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ (উত্তম, ন্যায় ও পুণ্যের কাজ) করে, অচিরেই আমরা তাদের দাখিল করবো জান্নাতে, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। তাছাড়া সেখানে তারা পাবে পবিত্র স্বামী এবং স্ত্রী। আর আমরা তাদের দাখিল করবো সুবিস্তৃত চিরস্নিগ্ধ ছায়ায়।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, অচিরেই আমি তাদেরকে প্রবেশ করাব জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা হবে স্থায়ী। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে পবিত্র স্ত্রীগণ এবং তাদেরকে আমি প্রবেশ করাব বিস্তৃত ঘন ছায়ায়।
নিশ্চয়ই তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমানত তার হকদারকে দিয়ে দিতে। তিনি আরো নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা যখন মানুষের মাঝে বিচার ফায়সালা করবে, ন্যায় ও ইনসাফের সাথে সুবিচার করবে। তোমাদের অতি উত্তম উপদেশ দিচ্ছেন। নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে। আর যখন মানুষের মধ্যে ফয়সালা করবে তখন ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা করবে। নিশ্চয় তোমাদেরকে কতইনা সুন্দর উপদেশ দিচ্ছেন। নিশ্চয় সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
হে লোকেরা যারা ঈমান এনেছো! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো এই রসূলের, আর তোমাদের (মুসলিমদের) মধ্যকার সেইসব লোকদের যারা দায়িত্বশীল ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত। আর তোমরা যখনই কোনো বিষয়ে মতভেদ ও মতবিরোধ করবে, তা (ফায়সালার জন্যে) উপস্থাপন করো ও রসূলের (কুরআন ও সুন্নাহর) নিকট, যদি তোমরা ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর পন্থা এবং পরিণতির দিক থেকেও সর্বোত্তম।
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর ও আনুগত্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের। অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ করাও- যদি তোমরা ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে
يا أيها الذين آمنوا أطيعوا الله وأطيعوا الرسول وأولي الأمر منكم ۖ فإن تنازعتم في شيء فردوه إلى الله والرسول إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر ۚ ذلك خير وأحسن تأويلا
তুমি কি তাদের দেখোনি, যারা (অর্থাৎ মুনাফিকরা) দাবি করে, তারা তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা নাযিল করা হয়েছে, সে সবগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে; কিন্তু তারা বিচার ফায়সালার জন্যে তাগুতের দ্বারস্থ হয়, অথচ তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাগুতকে প্রত্যাখ্যান করতে। মূলত শয়তান তাদের বিপথগামী করে নিয়ে যেতে চায় বহুদূর।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা দাবী করে যে, নিশ্চয় তারা ঈমান এনেছে তার উপর, যা নাযিল করা হয়েছে তোমার প্রতি এবং যা নাযিল করা হয়েছে তোমার পূর্বে। তারা তাগূতের কাছে বিচার নিয়ে যেতে চায় অথচ তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাকে অস্বীকার করতে। আর শয়তান চায় তাদেরকে ঘোর
ألم تر إلى الذين يزعمون أنهم آمنوا بما أنزل إليك وما أنزل من قبلك يريدون أن يتحاكموا إلى الطاغوت وقد أمروا أن يكفروا به ويريد الشيطان أن يضلهم ضلالا بعيدا
তাদের কৃতকর্মের জন্যে যখন তাদের উপর কোনো মসিবত আপতিত হবে, তখন কী অবস্থা দাঁড়াবে? তখন তারা তোমার কাছে এসে হলফ করে বলবে: আল্লাহর কসম, আমরা কল্যাণ এবং সম্প্রীতি ছাড়া আর অন্য কিছু চাইনি।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
সুতরাং তখন কেমন হবে, যখন তাদের উপর কোন মুসীবত আসবে, সেই কারণে যা তাদের হাত পূর্বেই প্রেরণ করেছে? তারপর তারা আল্লাহর নামে শপথ করা অবস্থায় তোমার কাছে আসবে যে, আমরা কল্যাণ ও সম্প্রীতি ভিন্ন অন্য কিছু চাইনি।
তারা (মুনাফিক), তাদের মনের খবর ভালো করেই জানেন। সুতরাং তাদের উপেক্ষা করো, আর তাদের ওয়ায (উপদেশ দান) করো এবং তাদের উদ্দেশ্যে এমনভাবে কথা বলো, যেনো তাদের মর্ম স্পর্শ করে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
ওরা হল সেসব লোক, যাদের অন্তরে কি আছে তা জানেন। সুতরাং তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও এবং তাদেরকে সদুপদেশ দাও। আর তাদেরকে তাদের নিজদের ব্যাপারে মর্মস্পর্শী কথা বল।
আল্লাহর নির্দেশে তাঁর আনুগত্য করা হবে - এ উদ্দেশ্য ছাড়া আমরা একজন রসূলও পাঠাইনি। তারা (মুনাফিকরা) নিজেদের প্রতি কোনো যুলুম করার পর যদি এ পন্থা অবলম্বন করতো যে, তোমার কাছে ছুটে আসতো, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতো এবং রসূলও তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতো, তাহলে অবশ্যি তারা আল্লাহকে পরম ক্ষমাশীল ও পরম দায়াবান পেতো।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর আমি যে কোন রাসূল প্রেরণ করেছি তা কেবল এ জন্য, যেন আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাদের আনুগত্য করা হয়। আর যদি তারা- যখন নিজদের প্রতি যুলম করেছিল তখন তোমার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত এবং রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইত তাহলে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তাওবা কবূ
কিন্তু না (তাদের অবস্থা তা নয়), তোমার প্রভুর শপথ, এরা কখনো হতে পারবেনা, যতোক্ষণনা তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদ বিসম্বাদে তোমাকে হাকিম (Judge) নিযুক্ত করে, অত:পর তোমার ফায়সালা সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং বিনীতভাবে তোমার ফায়সালা তসলিম (গ্রহণ) করে নেয়।
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতএব তোমার রবের কসম, তারা হবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক নির্ধারণ করে, তারপর তুমি যে ফয়সালা দেবে সে ব্যাপারে নিজদের অন্তরে কোন দ্বিধা অনুভব না করে এবং পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেয়।
(এমন কি স্বয়ং) আমরাও যদি তাদের নির্দেশ দিতাম: ‘তোমার নিজেদের হত্যা করো অথবা নিজেদের গৃহ ত্যাগ করো’, তবে অল্প কিছু লোক ছাড়া তারা তা করতো না। তাদেরকে যে ওয়ায (উপদেশ দান) করা হয়েছে তারা যদি তা পালন করতো, তবে তা হতো তাদের জন্যে কল্যাণকর এবং তাদের ঈমানের দৃঢ়তা সাধনকারী।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যদি আমি তাদের উপর লিখে দিতাম যে, তোমরা নিজদের হত্যা কর কিংবা নিজ গৃহ থেকে বের হয়ে যাও, তাহলে তাদের কম সংখ্যক লোকই তা বাস্তবায়ন করত। আর যে উপদেশ তাদেরকে দেয়া হয় যদি তারা তা বাস্তবায়ন করত, তাহলে সেটি হত তাদের জন্য উত্তম এবং স্থিরতায় সুদৃঢ়।
এবং অবশ্যি আমরা তাদের পরিচালিত করতাম সিরাতুল মুসতাকিমে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর অবশ্যই আমি প্রদর্শন করতাম তাদেরকে সরল পথ।
Arabic, with marks
وَلَهَدَيْنَاهُمْ صِرَاطًا مُّسْتَقِيمًا
Arabic
ولهديناهم صراطا مستقيما
Word by word
وَلَهَدَيْنَٰهُمْ صِرَٰطًا مُّسْتَقِيمًا
আবদুস শহীদ নাসিম
আর যে কেউ আনুগত্য করবে আল্লাহর এবং এই রসূলের, তারা সঙ্গি হবে আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্ত নবী, সিদ্দিক, শহীদ এবং পুণ্যবানদের। সঙ্গি হিসেবে এরা কতোইনা উত্তম!
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যারা ও রাসূলের আনুগত্য করে তারা তাদের সাথে থাকবে, যাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে। আর সাথী হিসেবে তারা হবে উত্তম।
তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে (যুদ্ধে যেতে) গড়িমসি করে। তারপর তোমাদের কোনো মসিবত স্পর্শ করলে সে বলে: ‘ আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, আমি তাদের সাথে যাইনি।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছে, যে অবশ্যই বিলম্ব করবে। সুতরাং তোমাদের কোন বিপদ আপতিত হলে সে বলবে, ‘ আমার উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, আমি তাদের সাথে উপস্থিত ছিলাম না’।
আর তোমরা যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো অনুগ্রহ লাভ করো, তখন তোমাদের ও তার মধ্যে যেনো কোনো সম্পর্ক নেই এমন ভাব দেখিয়ে সে অবশ্যি বলবে: ‘হায়, আমি যদি তাদের সাথে থাকতাম, তবে আমিও বিরাট সাফল্য লাভ করতাম।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন অনুগ্রহ এসে পৌঁছলে অবশ্যই সে বলবে যেন তোমাদের ও তার মধ্যে কোন হৃদ্যতা ছিল না, ‘হায়! যদি আমি তাদের সাথে থাকতাম, তাহলে আমি মহাসফলতা অর্জন করতাম।
সুতরাং যারা আখিরাতের (সাফল্যের) বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে বিক্রয় করে দেয়ার সাহস রাখে, তারাই আল্লাহর পথে লড়াই করুক। যে কেউ আল্লাহর পথে লড়াই করবে, সে নিহত হোক, কিংবা বিজয়ী হোক, আমরা অচিরেই তাকে প্রদান করবো মহাপুরস্কার।
বয়ান ফাউন্ডেশন
সুতরাং যারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবন বিক্রয় করে তারা যেন আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করে। আর যে আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করবে অতঃপর সে নিহত হোক কিংবা বিজয়ী, অচিরেই আমি তাকে দেব মহা পুরস্কার।
তোমাদের কী হয়েছে, কেন তোমরা লড়াই করছোনা আল্লাহর পথে! সেইসব দুর্বল অসহায় নর, নারী ও শিশুদের জন্যে, যারা ফরিয়াদ করে বলছে: ‘আমাদের প্রভু! আমাদের বের করে নাও এই জনপদ থেকে। এর অধিবাসীরা যালিম। আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে একজন অলির (অভিভাবকের) ব্যবস্থা করে দাও এবং ব্যবস্থা করে দাও একজন সাহায্যকারীর।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমাদের কী হল যে, তোমরা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করছ না! অথচ দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুরা বলছে, ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে বের করুন এ জনপদ থেকে যার অধিবাসীরা যালিম এবং আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একজন অভিভাবক নির্ধারণ করুন। আর নির্ধারণ করুন আপনার পক্ষ থেকে একজ
وما لكم لا تقاتلون في سبيل الله والمستضعفين من الرجال والنساء والولدان الذين يقولون ربنا أخرجنا من هذه القرية الظالم أهلها واجعل لنا من لدنك وليا واجعل لنا من لدنك نصيرا
যারা ঈমান এনেছে তারা লড়াই করে আল্লাহর পথে, আর যারা কুফুরি করেছে তারা লড়াই করে তাগুতের পথে। সুতরাং তোমরা লড়াই করো শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে। অবশ্যই শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল।
বয়ান ফাউন্ডেশন
যারা ঈমান এনেছে তারা লড়াই করে আল্লাহর রাস্তায়, আর যারা করেছে তারা লড়াই করে তাগূতের পথে। সুতরাং তোমরা লড়াই কর শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে। নিশ্চয় শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল।
তুমি কি তাদের অবস্থা দেখছোনা, যাদের বলা হয়েছিল: ‘তোমাদের হাত সংবরণ করো, কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো।’ তারপর যখন তাদের জন্যে যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হলো, তখন তাদেরই একটি দল মানুষকে ভয় করতে থাকলো আল্লাহকে ভয় করার মতো, কিংবা তার চেয়েও বেশি ভয়। তারা বলতে থাকলো: ‘আমাদের প্রভু! আমাদের কেন যুদ্ধের নির্দেশ দিলে? প্রভু! আমাদেরকে কিছুকালের অবকাশ দাও।’ হে নবী! বলো: ‘পার্থিব ভোগ - সম্ভার তো সামান্য। মুত্তাকিদের জন্যে আখিরাতই সর্বোত্তম। তোমাদের প্রতি বিন্দু পরিমাণও যুলুম করা হবেনা।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
তুমি কি তাদেরকে দেখনি যাদেরকে বলা হয়েছিল, তোমরা তোমাদের হাত গুটিয়ে নাও এবং কায়েম কর ও যাকাত প্রদান কর? অতঃপর তাদের উপর যখন লড়াই ফরয করা হল, তখন তাদের একদল মানুষকে ভয় করতে লাগল আল্লাহকে ভয় করার অনুরূপ অথবা তার চেয়ে কঠিন ভয়। আর বলল, ‘হে আমাদের রব, আপন
ألم تر إلى الذين قيل لهم كفوا أيديكم وأقيموا الصلاة وآتوا الزكاة فلما كتب عليهم القتال إذا فريق منهم يخشون الناس كخشية الله أو أشد خشية ۚ وقالوا ربنا لم كتبت علينا القتال لولا أخرتنا إلى أجل قريب ۗ قل متاع الدنيا قليل والآخرة خير لمن اتقى ولا تظلمون فتيلا
তোমরা যেখানেই অবস্থান করো না কেন, মউত তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি তোমরা উঁচু মজবুত দুর্গে অবস্থান করলেও। তাদের কোনো কল্যাণ হলে তারা বলে: ‘এটা হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর কোনো অকল্যাণ হলে বলে: এটা হয়েছে তোমার কারণে।’ তুমি বলো: ‘সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে।’ এই লোকদের কী হলো, তারা যে কোনো কথাই বুঝেনা!
বয়ান ফাউন্ডেশন
তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবে, যদিও তোমরা সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান কর। আর যদি তাদের কাছে কোন কল্যাণ পৌঁছে তবে বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’। আর যদি কোন অকল্যাণ পৌঁছে, তখন বলে, ‘এটি তোমার পক্ষ থেকে’। বল, ‘সব কিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে’। সুতরাং
أينما تكونوا يدرككم الموت ولو كنتم في بروج مشيدة ۗ وإن تصبهم حسنة يقولوا هذه من عند الله ۖ وإن تصبهم سيئة يقولوا هذه من عندك ۚ قل كل من عند الله ۖ فمال هؤلاء القوم لا يكادون يفقهون حديثا
তুমি যা কিছু কল্যাণ লাভ করো তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই, আর তোমার যা কিছু অকল্যাণ হয়, তা হয় তোমার নিজের কারণে। আমরা তোমাকে মানুষের জন্যে পাঠিয়েছি একজন রসূল হিসেবে। আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী হিসেবে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তোমার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যে অকল্যাণ তোমার কাছে পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য রাসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট।
তারা বলে: ‘আমরা আনুগত্য করি।’ তারপর তোমার কাছ থেকে চলে গেলে রাতে তাদের একদল লোক তাদের কথার বিপরীত পরামর্শ করে। তারা রাতে যা সলাপরামর্শ করে তা লিখে রাখেন। সুতরাং তুমি তাদের উপেক্ষা করো এবং আল্লাহর উপর ভরসা করো। উকিল হিসেবে আল্লাহই কাফী (যথেষ্ট)।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তারা বলে, ‘আনুগত্য (করি)’; অতঃপর যখন তারা তোমার কাছ থেকে বের হয়ে যায়, তাদের একদল যা বলে, রাতে তার বিপরীত পরিকল্পনা করে। আর লিখে রাখেন, তারা রাতে যা পরিকল্পনা করে। সুতরাং তুমি তাদেরকে এড়িয়ে চল এবং আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল কর। কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্ল
যখনই তাদের কাছে শান্তি বা ত্রাসের কোনো সংবাদ আসে, তারা তা প্রচার করে বেড়ায়। তারা যদি (তা না করে) সেটা রসূল বা তাদের দায়িত্বশীলদের গোচরে আনতো, তবে তাদের মাঝে যারা উদ্ভাবনী যোগ্যতার অধিকারী তারা এর যথার্থতা অনুধাবন করতে পারতো। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং রহমত না থাকলে তোমাদের স্বল্প সংখ্যক ছাড়া বাকিরা শয়তানের অনুসরণ করতো।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যখন তাদের কাছে শান্তি কিংবা ভীতিজনক কোন বিষয় আসে, তখন তারা তা প্রচার করে। আর যদি তারা সেটি রাসূলের কাছে এবং তাদের কর্তৃত্বের অধিকারীদের কাছে পৌঁছে দিত, তাহলে অবশ্যই তাদের মধ্যে যারা তা উদ্ভাবন করে তারা তা জানত। আর যদি তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর
وإذا جاءهم أمر من الأمن أو الخوف أذاعوا به ۖ ولو ردوه إلى الرسول وإلى أولي الأمر منهم لعلمه الذين يستنبطونه منهم ۗ ولولا فضل الله عليكم ورحمته لاتبعتم الشيطان إلا قليلا
সুতরাং তোমরা লড়াই করো আল্লাহর পথে। তোমাকে দায়ী করা হবে শুধু তোমার নিজের জন্যে। মুমিনদের উৎসাহ দিয়ে যাও। হয়তো কাফিরদের শক্তি নিবারণ করবেন। আল্লাহই প্রবল শক্তিধর এবং কঠোরতর শাস্তিদাতা।
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতএব তুমি আল্লাহর রাস্তায় লড়াই কর। তুমি শুধু তোমার নিজের ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং মুমিনদেরকে উদ্বুদ্ধ কর। আশা করা যায় অচিরেই কাফিরদের শক্তি প্রতিহত করবেন। আর শক্তিতে প্রবলতর এবং শাস্তিদানে কঠোরতর।
তোমাদের কী হলো, মুনাফিকদের ব্যাপারে যে তোমরা দুই দল হয়ে গেলে? অথচ তাদের কৃতকর্মের জন্যে তাদেরকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়েছেন। যাকে গোমরাহ করেছেন, তোমরা কি তাকে হিদায়াতের পথে চালাতে চাও? যাকে গোমরাহ্ করে দেন, তুমি তার জন্যে কখনো কোনো পথ পাবেনা।
বয়ান ফাউন্ডেশন
সুতরাং মুনাফিকদের ব্যাপারে তোমাদের কী হল যে, তোমরা দু’ দল হয়ে গেলে? অথচ তারা যা কামাই করেছে তার জন্য তাদেরকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন। যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন তোমরা কি তাকে হিদায়াত করতে চাও? আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন তুমি কখনো তার জন্য কো
তারা কামনা করে তোমরা যেনো কুফুরি করো, যেমন তারা কুফুরি করেছে, যাতে করে তোমরা তাদের বরাবর হয়ে যাও। সুতরাং আল্লাহর পথে হিজরত না করা পর্যন্ত তাদের কাউকেও অলি (বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করোনা। তারা যদি অস্বীকার করে, তবে তাদের যেখানে পাবে, গ্রেফতার করবে এবং হত্যা করবে। আর তাদের কাউকেও অলি (বন্ধু) এবং সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করোনা।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা কামনা করে, যদি তোমরা করতে যেভাবে তারা করেছে। অতঃপর তোমরা সমান হয়ে যেতে। সুতরাং আল্লাহর রাস্তায় হিজরত না করা পর্যন্ত তাদের মধ্য থেকে কাউকে তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। অতএব তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং তাদেরকে যেখান
ودوا لو تكفرون كما كفروا فتكونون سواء ۖ فلا تتخذوا منهم أولياء حتى يهاجروا في سبيل الله ۚ فإن تولوا فخذوهم واقتلوهم حيث وجدتموهم ۖ ولا تتخذوا منهم وليا ولا نصيرا
তবে তাদেরকে নয়, যারা এমন জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক রাখে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ, অথবা যারা তোমাদের কাছে এমন অবস্থায় আসে যখন তাদের মন থাকে তোমাদের সাথে, কিংবা তাদের সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করতে তারা সংকোচ বোধ করে। চাইলে তিনি তাদেরকে তোমাদের উপর ক্ষমতাবান করে দিতেন এবং তারা অবশ্যি তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতো। এখন যদি তারা তোমাদের থেকে সরে দাঁড়ায়, তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের কাছে শান্তির প্রস্তাব দেয়, তবে তোমাদের জন্যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো পথ রাখেননি।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তবে (তাদেরকে হত্যা করো না) যারা মিলিত হয় এমন কওমের সাথে, যাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সন্ধিচুক্তি রয়েছে। অথবা তোমাদের কাছে আসে এমন অবস্থায় যে, তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে কিংবা তাদের কওমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তাদের মন সঙ্কুচিত হয়ে গিয়েছে। আর চাইলে অ
إلا الذين يصلون إلى قوم بينكم وبينهم ميثاق أو جاءوكم حصرت صدورهم أن يقاتلوكم أو يقاتلوا قومهم ۚ ولو شاء الله لسلطهم عليكم فلقاتلوكم ۚ فإن اعتزلوكم فلم يقاتلوكم وألقوا إليكم السلم فما جعل الله لكم عليهم سبيلا
তোমরা অপর এমন কিছু লোক পাবে, যারা তোমাদের সাথে এবং তাদের সম্প্রদায়ের সাথে শান্তি চাইবে। যখন তাদেরকে ফিতনার দিকে আহবান করা হয়, তখনই তারা এ ব্যাপারে তাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে। যদি তারা তোমাদের কাছ থেকে চলে না যায় এবং তোমাদের কাছে শান্তির প্রস্তাব না দেয় এবং তাদের হাত গুটিয়ে না রাখে, তবে তাদের যেখানেই পাবে গ্রেফতার করবে এবং হত্যা করবে। আমরা তোমাদেরকে এদের বিরুদ্ধে অবস্থানের সুস্পষ্ট অধিকার দিলাম।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তোমরা অচিরেই অন্য লোককে পাবে, যারা তোমাদের কাছে নিরাপত্তা চাইবে এবং নিরাপত্তা চাইবে তাদের কওমের কাছে। যখনই তাদেরকে ফিতনার দিকে ফিরানো হয়, তারা সেখানে ফিরে যায়। সুতরাং যদি তারা তোমাদের থেকে সরে না যায় এবং তোমাদের কাছে সন্ধি প্রস্তাব উপস্থাপন না করে এবং নিজ
ستجدون آخرين يريدون أن يأمنوكم ويأمنوا قومهم كل ما ردوا إلى الفتنة أركسوا فيها ۚ فإن لم يعتزلوكم ويلقوا إليكم السلم ويكفوا أيديهم فخذوهم واقتلوهم حيث ثقفتموهم ۚ وأولئكم جعلنا لكم عليهم سلطانا مبينا
কোনো মুমিনের জন্যে অপর মুমিনকে হত্যা করা বৈধ নয়, তবে ভুলবশত করলে ভিন্ন কথা। কেউ যদি ভুলবশত কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তাহলে এর বিধান হলো, একজন দাসকে মুক্ত করা এবং নিহতের পরিবারবর্গকে গ্রহণযোগ্য মুক্তিপণ প্রদান করা, যদি তারা ক্ষমা করে না দেয়। আর যদি নিহত ব্যক্তি তোমাদের শত্রুপক্ষের লোক হয় এবং হয় তবে এক দাস মুক্ত করবে। আর যদি সে এমন কোনো সম্প্রদায়ের লোক হয় যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ, তবে তাদের পরিবারবর্গকে গ্রহণযোগ্য মুক্তিপণ প্রদান করবে এবং একজন দাস মুক্ত করবে। কিন্তু কারো যদি সঙ্গতি না থাকে তবে লাগাতার দুইমাস রোযা রাখবে। এটাই আল্লাহর পক্ষ থেকে তওবা করার ব্যবস্থা, আর সর্বজ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর কোন মুমিনের কাজ নয় অন্য মুমিনকে হত্যা করা, তবে ভুলবশত (হলে ভিন্ন কথা)। যে ব্যক্তি ভুলক্রমে কোন মুমিনকে হত্যা করবে, তাহলে একজন দাসকে মুক্ত করতে হবে এবং দিয়াত (রক্ত পণ দিতে হবে) যা হস্তান্তর করা হবে তার পরিজনদের কাছে। তবে তারা যদি সদাকা (ক্ষমা) করে
وما كان لمؤمن أن يقتل مؤمنا إلا خطأ ۚ ومن قتل مؤمنا خطأ فتحرير رقبة مؤمنة ودية مسلمة إلى أهله إلا أن يصدقوا ۚ فإن كان من قوم عدو لكم وهو مؤمن فتحرير رقبة مؤمنة ۖ وإن كان من قوم بينكم وبينهم ميثاق فدية مسلمة إلى أهله وتحرير رقبة مؤمنة ۖ فمن لم يجد فصيام شهرين متتابعين توبة من الله ۗ وكان الله عليما حكيما
আর কেউ যদি কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃত হত্যা করে, তবে তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সে চিরকাল সেখানেই থাকবে। তার প্রতি রুষ্ট এবং তিনি তাকে অভিশাপ দেন, আর তার জন্যে তিনি প্রস্তুত রেখেছেন বিশাল আযাব।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যে ইচ্ছাকৃত কোন মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হচ্ছে জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার উপর ক্রুদ্ধ হবেন, তাকে লা‘নত করবেন এবং তার জন্য বিশাল আযাব প্রস্তুত করে রাখবেন।
হে লোকেরা! তোমরা যখন আল্লাহর পথে রওয়ানা করবে, তখন পরীক্ষা করে নেবে (কে বন্ধু, কে শত্রু)। কেউ তোমাদের সালাম করলে দুনিয়ার স্বার্থ কামনায় তাকে বলো না: ‘তুমি নও।’ তোমরা যদি পার্থিব জীবনের স্বার্থ হাসিল করতে চাও, তবে আল্লাহর কাছে রয়েছে অনেক গনিমত। তোমরাও তো আগে এরকমই ছিলে, তারপর তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। সুতরাং তোমরা পরীক্ষা করে নেবে। তোমরা যা করো, নিশ্চয়ই সে বিষয়ে খবর রাখেন।
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে মুমিনগণ, যখন তোমরা আল্লাহর রাস্তায় বের হবে তখন যাচাই করবে এবং যে তোমাদেরকে সালাম দেবে দুনিয়ার জীবনের সম্পদের আশায় তাকে বলবে না যে, ‘তুমি নও’। বস্ত্ততঃ আল্লাহর কাছে প্রচুর গনীমত আছে। তোমরাতো পূর্বে এরূপই ছিলে। অতঃপর তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ কর
يا أيها الذين آمنوا إذا ضربتم في سبيل الله فتبينوا ولا تقولوا لمن ألقى إليكم السلام لست مؤمنا تبتغون عرض الحياة الدنيا فعند الله مغانم كثيرة ۚ كذلك كنتم من قبل فمن الله عليكم فتبينوا ۚ إن الله كان بما تعملون خبيرا
মুমিনদের মধ্যে যারা অক্ষম না হওয়া সত্ত্বেও ঘরে বসে থাকে, তারা আর যারা নিজেদের ধনমাল এবং জান প্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা সমান নয়। যারা নিজেদের ধনমাল এবং জানপ্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে তাদেরকে ঘরে বসে থাকাদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন। তবে প্রত্যেককেই কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। যারা ঘরে বসে থাকে, তাদের উপর মুজাহিদদের মহাপুরস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
বয়ান ফাউন্ডেশন
বসে থাকা মুমিনগণ, যারা ওযরগ্রস্ত নয় এবং নিজদের জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীগণ এক সমান নয়। নিজদের জান ও মাল দ্বারা জিহাদকারীদের মর্যাদা বসে থাকাদের উপর অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর প্রত্যেককেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং
لا يستوي القاعدون من المؤمنين غير أولي الضرر والمجاهدون في سبيل الله بأموالهم وأنفسهم ۚ فضل الله المجاهدين بأموالهم وأنفسهم على القاعدين درجة ۚ وكلا وعد الله الحسنى ۚ وفضل الله المجاهدين على القاعدين أجرا عظيما
নিজেদের প্রতি যুলুম করতে থাকা লোকদের যখন ফেরেশতারা ওফাত ঘটাতে আসে, তারা বলে: ‘তোমরা কী অবস্থার মধ্যে ছিলে?’ তখন তারা বলে: ‘আমরা দেশে দুর্বল অসহায় ছিলাম।’ তখন তারা বলে: ‘কেন আল্লাহর পৃথিবী কি প্রশস্ত ছিলনা যেখানে তোমরা হিজরত করতে পারতে?’ এরাই সেইসব লোক যাদের আবাস হবে জাহান্নাম আর সেটা কতো যে নিকৃষ্ট আবাস!
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় যারা নিজদের প্রতি যুলমকারী, ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করার সময় বলে, ‘তোমরা কী অবস্থায় ছিলে’? তারা বলে, ‘আমরা যমীনে দুর্বল ছিলাম’। ফেরেশতারা বলে, ‘আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা তাতে হিজরত করতে’? সুতরাং ওরাই তারা যাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম। আ
إن الذين توفاهم الملائكة ظالمي أنفسهم قالوا فيم كنتم ۖ قالوا كنا مستضعفين في الأرض ۚ قالوا ألم تكن أرض الله واسعة فتهاجروا فيها ۚ فأولئك مأواهم جهنم ۖ وساءت مصيرا
যে হিজরত করবে আল্লাহর পথে সে জগতে বহু আশ্রয়স্থল এবং প্রাচুর্য লাভ করবে। যে কেউ নিজের ঘর থেকে আল্লাহর ও তার রসূলের দিকে মুহাজির হিসেবে বের হবে, এ পথে তার মৃত্যু হলে তার পুরস্কারের দায়িত্ব আল্লাহর। তো পরম ক্ষমাশীল পরম দয়াময়।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যে আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করবে, সে যমীনে বহু আশ্রয়ের জায়গা ও সচ্ছলতা পাবে। আর যে ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে মুহাজির হয়ে নিজ ঘর থেকে বের হয় তারপর তাকে মৃত্যু পেয়ে বসে, তাহলে তার প্রতিদান আল্লাহর উপর অবধারিত হয়। আর ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
۞ ومن يهاجر في سبيل الله يجد في الأرض مراغما كثيرا وسعة ۚ ومن يخرج من بيته مهاجرا إلى الله ورسوله ثم يدركه الموت فقد وقع أجره على الله ۗ وكان الله غفورا رحيما
তোমরা যখন ভ্রমণে বের হও, তখন যদি তোমরা আশংকা করো যে, কাফিররা তোমাদের জন্যে ফিতনা সৃষ্টি করবে, তবে কসর করলে তোমাদের কোনো দোষ হবেনা। নিশ্চয়ই কাফিররা তোমাদের সুস্পষ্ট দুশমন।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যখন তোমরা যমীনে সফর করবে, তখন তোমাদের কসর করাতে কোন দোষ নেই। যদি আশঙ্কা কর যে, কাফিররা তোমাদেরকে ফিতনায় ফেলবে*। নিশ্চয় কাফিররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। * শত্রুদের আক্রমণের আশঙ্কা না থাকলেও সফরে ‘কসর’ করা যাবে। কেননা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই
(হে নবী!) যখন তুমি তাদের মাঝে থাকো এবং (যুদ্ধ ও ত্রাস চলাকালে) তাদের সাথে নিয়ে সালাতে দাঁড়াও, তখন তাদের মধ্য থেকে একটি গ্রুপ তোমার সাথে সালাতে দাঁড়াবে এবং তারা তাদের অস্ত্রশস্ত্র সাথে রাখবে। তারপর তারা সাজদা করে নিলে পেছনে গিয়ে অবস্থান নেবে এবং অপর গ্রুপ - যারা এখনো সালাতে অংশ নেয়নি এসে তোমার সাথে সালাতে অংশ নেবে। তারাও সতর্কতা অবলম্বন করবে এবং নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র সাথে রাখবে। কারণ, কাফিররা তো চায়, তোমরা তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র এবং মাল সামানের ব্যাপারে সামান্য গাফিল হলেই তারা তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। তবে, তোমরা যদি বৃষ্টির কারণে অসুবিধা বোধ করো, কিংবা অসুস্থ থাকো, তবে অস্ত্র রেখে দিলে কোনো অসুবিধা নেই, কিন্তু সতর্ক থাকবে। জেনে রাখো, কাফিরদের জন্যে প্রস্তুত করে রেখেছেন অপমানকর আযাব।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যখন তুমি তাদের মধ্যে থাকবে। অতঃপর তাদের জন্য কায়েম করবে, তখন যেন তাদের মধ্য থেকে একদল তোমার সাথে দাঁড়ায় এবং তারা তাদের অস্ত্র ধারণ করে। এরপর যখন সিজদা করে ফেলবে, তখন তারা যেন তোমাদের পেছনে অবস্থান নেয়। আর অপর একটি দল যারা আদায় করেনি তারা যে
وإذا كنت فيهم فأقمت لهم الصلاة فلتقم طائفة منهم معك وليأخذوا أسلحتهم فإذا سجدوا فليكونوا من ورائكم ولتأت طائفة أخرى لم يصلوا فليصلوا معك وليأخذوا حذرهم وأسلحتهم ۗ ود الذين كفروا لو تغفلون عن أسلحتكم وأمتعتكم فيميلون عليكم ميلة واحدة ۚ ولا جناح عليكم إن كان بكم أذى من مطر أو كنتم مرضى أن تضعوا أسلحتكم ۖ وخذوا حذركم ۗ إن الله أعد للكافرين عذابا مهينا
তারপর যখন তোমরা সমাপ্ত করবে, তখন দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহর যিকির করবে। তারপর যখন নিরাপদ বোধ করবে, তখন যথা নিয়মে আদায় করবে। নির্ধারিত সময়ে কায়েম করা মুমিনদের জন্যে এক লিখিত বিধান।
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতঃপর যখন তোমরা পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহর স্মরণ করবে। অতঃপর যখন নিশ্চিন্ত হবে তখন (পূর্বের নিয়মে) কায়েম করবে। নিশ্চয় মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয।
শত্রু কওমের সন্ধানে তোমরা দুর্বলতা প্রদর্শন করোনা, যদি তোমরা যন্ত্রণা ভোগ করে থাকো তবে তারাও তোমাদের মতোই যন্ত্রণা পায়। আল্লাহর কাছে তোমরা এমন জিনিস আশা করো, যা তারা আশা করেনা। জ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর শত্রু সম্প্রদায় অনুসন্ধানে তোমরা দুর্বল হয়ো না। যদি তোমরা ব্যথা পেয়ে থাক তাহলে তারাও তো ব্যথা পাচ্ছে, যেভাবে তোমরা ব্যথা পাচ্ছ। আর তোমরা আল্লাহর নিকট থেকে আশা করছ যা তারা আশা করছে না। সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আমরা তোমার প্রতি সত্যতা ও বাস্তবতার নিরিখে নাযিল করেছি এই কিতাব, যাতে তোমাকে যে সঠিক পথ জানিয়েছেন সে অনুযায়ী মানুষের মাঝে বিচার ফায়সালা করে দিতে পারো। তুমি কখনো খিয়ানতকারীদের পক্ষে বিতর্ক করোনা।
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি যথাযথভাবে কিতাব নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষের মধ্যে ফয়সালা কর সে অনুযায়ী যা তোমাকে দেখিয়েছেন। আর তুমি খিয়ানতকারীদের পক্ষে বিতর্ককারী হয়ো না।
তারা মানুষ থেকে তাদের দুষ্কর্ম গোপন করতে চায়, কিন্তু আল্লাহর থেকে গোপন করতে পারেনা, তিনি তাদের সাথেই থাকেন রাত্রে যখন তারা তাঁর অপছন্দনীয় সলাপরামর্শ করে। তারা যা করে তা পরিবেষ্টন করে আছেন।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা মানুষের কাছ থেকে লুকাতে চায়, আর আল্লাহর কাছ থেকে লুকাতে চায় না। অথচ তিনি তাদের সাথেই থাকেন যখন তারা রাতে এমন কথার পরিকল্পনা করে যা তিনি পছন্দ করেন না। আর তারা যা করে তা পরিবেষ্টন করে আছেন।
হ্যাঁ, তোমরা ইহজীবনে তাদের পক্ষে বিতর্ক করছো, কিন্তু কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে কে বিতর্ক করবে তাদের পক্ষে? কিংবা কে হবে তাদের পক্ষে উকিল?
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে, তোমরাই তো তারা, যারা দুনিয়ার জীবনে তাদের পক্ষে বিতর্ক করেছ। সুতরাং কিয়ামতের দিন তাদের পক্ষে আল্লাহর সাথে কে বিতর্ক করবে? কিংবা কে হবে তাদের তত্ত্বাবধায়ক?
তোমার প্রতি যদি আল্লাহর ফজল (অনুগ্রহ) এবং রহমত (দয়া) না হতো, তাহলে তাদের একটি দল তোমাকে বিপথগামী করতে চাইতো। আসলে তারা তো নিজেদের ছাড়া আর কাউকেও পথভ্রষ্ট করেনা। তারা তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তো তোমার প্রতি নাযিল করেছেন আল কিতাব (আল কুরআন) এবং হিকমাহ (কর্মকৌশল ও কার্যনির্বাহী জ্ঞান) আর তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা তুমি জানতে না। তোমার প্রতি আল্লাহর ফজল বিরাট।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমার উপর যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া না হত তবে তাদের মধ্য থেকে একদল তোমাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেই ফেলেছিল! আর তারা নিজদের ছাড়া কাউকে পথভ্রষ্ট করে না এবং তারা তোমার কোনই ক্ষতি করতে পারে না। আর তোমার প্রতি নাযিল করেছেন কিতাব ও হিকমাত এবং তো
ولولا فضل الله عليك ورحمته لهمت طائفة منهم أن يضلوك وما يضلون إلا أنفسهم ۖ وما يضرونك من شيء ۚ وأنزل الله عليك الكتاب والحكمة وعلمك ما لم تكن تعلم ۚ وكان فضل الله عليك عظيما
তাদের অধিকাংশ গোপন সলাপরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই। তবে কল্যাণ থাকে (সেই ব্যক্তির গোপন পরামর্শে) যে নির্দেশ দেয় দান করার, ভালো কাজ করার কিংবা মানুষের মাঝে শান্তি স্থাপন করার। আল্লাহর সন্তোষ কামনায় কেউ যদি এসব কাজ করে, আমরা শীঘ্রি তাকে দান করবো মহাপু
বয়ান ফাউন্ডেশন
তাদের গোপন পরামর্শের অধিকাংশে কোন কল্যাণ নেই। তবে (কল্যাণ আছে) যে নির্দেশ দেয় সদাকা কিংবা ভালো কাজ অথবা মানুষের মধ্যে মীমাংসার। আর যে তা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করবে তবে অচিরেই আমি তাকে মহাপুরস্কার দান করব।
কারো কাছে হিদায়াত (সত্যপথ) সুস্পষ্ট হবার পরও যদি সে রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অবলম্বন করে, তাহলে সে যেদিকে মুখ ফিরিয়েছে আমরা তাকে সে দিকেই ফিরিয়ে দেবো এবং তাকে প্রবেশ করাবো জাহান্নামে, যা চরম নিকৃষ্ট আবাস।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যে রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তার জন্য হিদায়াত প্রকাশ পাওয়ার পর এবং মুমিনদের পথের বিপরীত পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে ফেরাব যেদিকে সে ফিরে এবং তাকে প্রবেশ করাব জাহান্নামে। আর আবাস হিসেবে তা খুবই মন্দ।
নিশ্চয়ই তাঁর সাথে শিরক করার পাপ ক্ষমা করবেন না, এ ছাড়া অন্যগুলো ক্ষমা করে দেবেন যাকে ইচ্ছা করবেন। যে কেউ আল্লাহর সাথে শিরক করে সে তো পথহারা হয়ে চলে যায় বহু দূরে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় ক্ষমা করেন না তাঁর সাথে শরীক করাকে এবং এ ছাড়া যাকে চান ক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে তো ঘোর পথভ্রষ্টতায় পথভ্রষ্ট হল।
আমি অবশ্যি তাদের পথভ্রষ্ট করবো, তাদের মনে মিথ্যা আকাংখা সৃষ্টি করবো, তারা আমার নির্দেশ মতো পশুর কান ছিদ্র করবে এবং আমি তাদের নির্দেশ দিয়ে যাবোই এবং তারা অবশ্যি আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করতে থাকবে।’’ যে কেউ আল্লাহর পরিবর্তে এই শয়তানকে অলি (বন্ধু ও পৃষ্ঠপোষক) হিসেবে গ্রহণ করবে, সে অবশ্যি নিমজ্জিত হবে সুস্পষ্ট ক্ষতির মধ্যে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
‘আর অবশ্যই আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, মিথ্যা আশ্বাস দেব এবং অবশ্যই তাদেরকে আদেশ দেব, ফলে তারা পশুর কান ছিদ্র করবে এবং অবশ্যই তাদেরকে আদেশ করব, ফলে অবশ্যই তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে’। আর যারা আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, তারা তো স্পষ্
পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, আমরা অবশ্যি তাদের দাখিল করবো জান্নাতে, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ নদী নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। কথার দিক থেকে আল্লাহর চাইতে সত্যবাদী আর কে?
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, অচিরেই তাদেরকে আমি প্রবেশ করাব জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ। সেখানে তারা হবে স্থায়ী। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। আর কথায় অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী কে?
তোমাদের খেয়াল খুশি কিংবা আহলে কিতাবের খেয়াল খুশি মতো কাজ হবেনা। যে মন্দ কাজ করবে, তার প্রতিফল সে পাবেই এবং সে আল্লাহর পরিবর্তে কোনো অলি বা সাহায্যকারী পাবেনা।
বয়ান ফাউন্ডেশন
না তোমাদের আশায় এবং না কিতাবীদের আশায় (কাজ হবে)। যে মন্দকাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। আর সে তার জন্য ছাড়া কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।
যে কোনো পুরুষ বা নারী অবস্থায় আমলে সালেহ্ করবে, তারা অবশ্যি দাখিল হবে জান্নাতে এবং তাদের প্রতি কণা পরিমাণও অবিচার করা হবেনা।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর পুরুষ কিংবা নারীর মধ্য থেকে যে নেককাজ করবে এমতাবস্থায় যে, সে , তাহলে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি খেজুর বীচির আবরণ পরিমাণ যুলমও করা হবে না।
দীনের দিক থেকে ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কে আছে, যে মুহসিন (পুণ্যবান) অবস্থায় আল্লাহর বাধ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে এবং একনিষ্ঠভাবে ইবরাহিমের মিল্লাত (আদর্শ) অনুসরণ করেছে? আর তো ইবরাহিমকে নিজের বন্ধু হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর দীনের ব্যাপারে তার তুলনায় কে উত্তম, যে সৎকর্মপরায়ণ অবস্থায় আল্লাহর কাছে নিজকে পূর্ণ সমর্পণ করল এবং একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীমের আদর্শ অনুসরণ করল? আর ইবরাহীমকে পরম বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।
নারীদের ব্যাপারে তারা তোমার কাছে জানতে চাইছে। তুমি বলো তাদের ব্যাপারে তোমাদের ফতোয়া দিচ্ছেন, আর এতিম নারীদের ব্যাপারে, যাদের প্রাপ্য তোমরা পরিশোধ করোনা, অথচ তোমরা তাদের বিয়ে করতে চাও এবং অসহায় শিশুদের ব্যাপারে আর এতিমদের ব্যাপারে তোমাদের সুবিচার সম্পর্কে যা তোমাদের এই কিতাবে তিলাওয়াত করে শুনানো হয়, তা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন। আর তোমরা যে কোনো কল্যাণকর কাজই করোনা কেন, তা বিশেষভাবে জ্ঞাত।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা তোমার কাছে নারীদের ব্যাপারে সমাধান চায়। বল, তাদের ব্যাপারে তোমাদেরকে সমাধান দিচ্ছেন এবং সমাধান দিচ্ছে ঐ আয়াতসমূহ যা কিতাবে তোমাদেরকে পাঠ করে শুনানো হয় ইয়াতীম নারীদের ব্যাপারে। যাদেরকে তোমরা প্রদান কর না যা তাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, অথচ তো
ويستفتونك في النساء ۖ قل الله يفتيكم فيهن وما يتلى عليكم في الكتاب في يتامى النساء اللاتي لا تؤتونهن ما كتب لهن وترغبون أن تنكحوهن والمستضعفين من الولدان وأن تقوموا لليتامى بالقسط ۚ وما تفعلوا من خير فإن الله كان به عليما
কোনো নারী যদি তার স্বামীর দুর্ব্যবহার কিংবা উপেক্ষার আশংকা করে, তবে তারা আপোস মীমাংসা করতে চাইলে তাদের কোনো দোষ হবেনা। তাছাড়া আপোস - মীমাংসাই উত্তম। লোভের কারণে মানুষ স্বভাবত কৃপণ। তোমরা যদি ইহ্সান করো এবং আল্লাহকে ভয় করো, তবে জেনে রাখো, তোমরা যা করো তার খবর রাখেন।
বয়ান ফাউন্ডেশন
যদি কোন নারী তার স্বামীর পক্ষ থেকে কোন দুর্ব্যবহার কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তাহলে তারা উভয়ে কোন মীমাংসা করলে তাদের কোন অপরাধ নেই। আর মীমাংসা কল্যাণকর এবং মানুষের মধ্যে কৃপণতা বিদ্যমান রয়েছে। আর যদি তোমরা সৎকর্ম কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে তোমরা
وإن امرأة خافت من بعلها نشوزا أو إعراضا فلا جناح عليهما أن يصلحا بينهما صلحا ۚ والصلح خير ۗ وأحضرت الأنفس الشح ۚ وإن تحسنوا وتتقوا فإن الله كان بما تعملون خبيرا
তোমরা যতোই আকাংখা করোনা কেন, তোমরা কিছুতেই স্ত্রীদের মাঝে সমান ব্যবহার করতে পারবে না। সুতরাং তোমরা কোনো একজনের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়োনা এবং অন্যকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে দিওনা। তোমরা যদি সংশোধন করে নাও এবং আল্লাহকে ভয় করো, তবে নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল দয়াবান।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমরা যতই কামনা কর না কেন তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে সমান আচরণ করতে কখনো পারবে না। সুতরাং তোমরা (একজনের প্রতি) সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না, যার ফলে তোমরা (অপরকে) ঝুলন্তের মত করে রাখবে। আর যদি তোমরা মীমাংসা করে নাও এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে নিশ্চয় পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। ইতোপূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তাদেরকে এবং বিশেষভাবে তোমাদেরকে আমরা অসিয়ত (নির্দেশ) করছি: ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো।’ তোমরা যদি এটা অস্বীকার করো, তবে জেনে রাখো, নিশ্চয়ই মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর এবং মুখাপেক্ষাহীন সপ্রশংসিত।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আল্লাহর জন্যই রয়েছে আসমানসমূহে যা আছে এবং যা আছে যমীনে। আর তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমি নির্দেশ দিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আর যদি কর তাহলে আসমানসমূহে যা আছে এবং যা আছে যমীনে সব আল্লাহরই। আর অভাবহীন,
ولله ما في السماوات وما في الأرض ۗ ولقد وصينا الذين أوتوا الكتاب من قبلكم وإياكم أن اتقوا الله ۚ وإن تكفروا فإن لله ما في السماوات وما في الأرض ۚ وكان الله غنيا حميدا
কেউ যদি (শুধু) দুনিয়ার সওয়াব (পুরস্কার) চায়, তবে সে জেনে রাখুক, আল্লাহর কাছে দুনিয়া এবং উভয় স্থানের সওয়াবই (পুরস্কারই) রয়েছে। সব কিছু শুনেন, সব কিছু দেখেন।
বয়ান ফাউন্ডেশন
যে দুনিয়ার প্রতিদান চায় তবে আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রতিদান রয়েছে। আর সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
হে লোকেরা! তোমরা সুবিচারের উপর মজবুত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকো আল্লাহর সাক্ষী হিসেবে, তা যদি তোমাদের নিজেদের, কিংবা তোমাদের পিতা - মাতা বা নিকটজনের বিরুদ্ধেও যায়। সে বিত্তবান হোক কিংবা অভাবী, তাদের উভয়েরই ঘনিষ্ঠতর। সুতরাং তোমরা সুবিচার করতে গিয়ে খেয়াল খুশির অনুগামী হয়োনা। তোমরা যদি পেঁচালো কথা বলো, কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে জেনে রাখো, তোমরা যা করো সে বিষয়ে খবর রাখেন।
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর জন্য সাক্ষীরূপে। যদিও তা তোমাদের নিজদের কিংবা পিতা-মাতার অথবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। যদি সে বিত্তশালী হয় কিংবা দরিদ্র, তবে উভয়ের ঘনিষ্ঠতর। সুতরাং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে তোমরা প্রবৃত্তির অনু
۞ يا أيها الذين آمنوا كونوا قوامين بالقسط شهداء لله ولو على أنفسكم أو الوالدين والأقربين ۚ إن يكن غنيا أو فقيرا فالله أولى بهما ۖ فلا تتبعوا الهوى أن تعدلوا ۚ وإن تلووا أو تعرضوا فإن الله كان بما تعملون خبيرا
হে লোকেরা! তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি, আর সেই কিতাবের প্রতি যা তিনি নাযিল করেছেন তাঁর রসূলের কাছে এবং ঐ কিতাবের প্রতিও যা তিনি নাযিল করেছেন তার পূর্বে। যে কেউ কুফুরি করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রসূলদের প্রতি এবং পরকালের প্রতি, সে তো বিপথগামী হয়ে চলে যাবে বহু দূর।
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে মুমিনগণ, তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি এবং সে কিতাবের প্রতি যা তিনি তাঁর রাসূলের উপর নাযিল করেছেন এবং সে কিতাবের প্রতি যা তিনি পূর্বে নাযিল করেছেন। আর যে , তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ দিনকে অস্বীকার করবে
يا أيها الذين آمنوا آمنوا بالله ورسوله والكتاب الذي نزل على رسوله والكتاب الذي أنزل من قبل ۚ ومن يكفر بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر فقد ضل ضلالا بعيدا
যারা ঈমান এনেছে, তারপর কুফুরি করেছে, তারপর ঈমান এনেছে, তারপরও কুফুরি করেছে, তারপর কুফুরিতে অগ্রসর হয়েছে। কিছুতেই তাদের ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে সঠিক পথও দেখাবেন না।
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে তারপর করেছে, আবার ঈমান এনেছে তারপর করেছে, এরপর কুফরীকে বাড়িয়ে দিয়েছে, তাদেরকে ক্ষমা করার নন এবং তাদেরকে পথ প্রদর্শন করার নন।
তিনি তো তোমাদের জন্যে কিতাবে একথা আগেই নাযিল করেছেন যে, তোমরা যখন শুনবে আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে বিদ্রূপ করা হচ্ছে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবেনা যতোক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে চলে যাবে। তা না হলে তোমরাও তাদের অনুরূপ বলে গণ্য হবে। মুনাফিক এবং কাফিরদের জাহান্নামে একত্র করবেন।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তিনি তো কিতাবে তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করা হচ্ছে এবং সেগুলো নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে, তাহলে তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা অন্য কথায় নিবিষ্ট হয়, তা না হলে তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে। নিশ্চয় মু
وقد نزل عليكم في الكتاب أن إذا سمعتم آيات الله يكفر بها ويستهزأ بها فلا تقعدوا معهم حتى يخوضوا في حديث غيره ۚ إنكم إذا مثلهم ۗ إن الله جامع المنافقين والكافرين في جهنم جميعا
যারা তোমাদের অকল্যাণের অপেক্ষায় থাকে, তারপর যখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের বিজয় অর্জিত হয়, তখন তারা বলে: ‘আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না?’ আর যদি কাফিরদের আংশিক বিজয় হয়, তখন তারা বলে: ‘আমরা কি তোমাদের পরিবেষ্টন করে রাখিনি এবং মুমিনদের হাত থেকে রক্ষা করিনি?’ কিয়ামতের দিনই তোমাদের মাঝে ফয়সালা করে দেবেন। কখনো মুমিনদের বিরুদ্ধে কাফিরদের কোনো পথ করে দেবেন না।
বয়ান ফাউন্ডেশন
যারা তোমাদের ব্যাপারে (অকল্যাণের) অপেক্ষায় থাকে, অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে যদি তোমাদের বিজয় হয় তবে তারা বলে, ‘আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না’? আর যদি কাফিরদের আংশিক বিজয় হয়, তবে তারা বলে, ‘আমরা কি তোমাদের উপর কর্তৃত্ব করিনি এবং মুমিনদের কবল থেকে তোমাদেরকে রক
الذين يتربصون بكم فإن كان لكم فتح من الله قالوا ألم نكن معكم وإن كان للكافرين نصيب قالوا ألم نستحوذ عليكم ونمنعكم من المؤمنين ۚ فالله يحكم بينكم يوم القيامة ۗ ولن يجعل الله للكافرين على المؤمنين سبيلا
মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে ধোকাবাজি করে। আসলে তিনিই তাদের ধোকায় ফেলে রেখেছেন। তারা যখন সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়ায়, তখন আলস্যের সাথে দাঁড়ায়। তারা সালাতে আসে লোক দেখানোর জন্যে এবং খুব কমই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় মুনাফিকরা আল্লাহকে ধোঁকা দেয়। আর তিনি তাদেরকে ধোঁকায় ফেলেন। আর যখন তারা সালাতে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায়, তারা লোকদেরকে দেখায় এবং তারা আল্লাহকে কমই স্মরণ করে।
তবে যারা তওবা করে, নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয়, আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং আল্লাহর জন্যে নিজেদের দীনকে একনিষ্ঠ করে নেয়, তারা মুমিনদের সাথে থাকবে। শীঘ্রি মুমিনদের দান করবেন মহাপুরস্কার।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তবে যারা তাওবা করে নিজদেরকে শুধরে নেয়, আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং আল্লাহর জন্য নিজদের দীনকে খালেস করে, তারা মুমিনদের সাথে থাকবে। আর অচিরেই মুমিনদেরকে মহাপুরস্কার দান করবেন।
যারা কুফুরি করে আল্লাহর প্রতি, তাঁর রসূলদের প্রতি আর ও তাঁর রসূলদের মধ্যে ফারাক সৃষ্টি করে দিতে চায় এবং বলে: ‘আমরা কিছু মানি, আর কিছু মানি না’ আর তারা এ দুয়ের মধ্যবর্তী কোনো পথ অবলম্বন করতে চায়,
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় যারা ও তাঁর রাসূলগণের সাথে করে এবং ও তাঁর রাসূলগণের মধ্যে পার্থক্য করতে চায় এবং বলে, ‘আমরা কতককে বিশ্বাস করি আর কতকের সাথে করি’ এবং তারা এর মাঝামাঝি একটি পথ গ্রহণ করতে চায় ।
আর যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি, তাঁর রসূলদের প্রতি এবং তাদের কারো মধ্যে কোনো ফারাক করেনা, অচিরেই এদের তিনি পুরস্কার দেবেন তাদের প্রাপ্য পুরস্কার, এবং ক্ষমাশীল দয়াময়।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যারা ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাদের কারো মধ্যে পার্থক্য করেনি, তাদেরকে অচিরেই তিনি তাদের প্রতিদান দিবেন এবং ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আহলে কিতাবের লোকেরা তোমার কাছে দাবি করে, তুমি যেনো আসমান থেকে তাদের জন্যে একটি কিতাব নাযিল করো। মূসার কাছে তারা এর চাইতেও বড় জিনিস দাবি করেছিল। তারা (মূসাকে) বলেছিল: ‘আমাদেরকে প্রকাশ্যে আল্লাহকে দেখাও’। তাদের এই সীমালংঘনের কারণে বজ্রাঘাতে তারা মারা পড়েছিল। তারপরেও তারা গরুর বাছুরকে দেবতা হিসেবে গ্রহণ করেছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পর। তারপরও আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলাম এবং মূসাকে প্রদান করেছিলাম সুস্পষ্ট প্রমাণ।
বয়ান ফাউন্ডেশন
কিতাবীগণ তোমার নিকট চায় যে, আসমান থেকে তুমি তাদের উপর একটি কিতাব নাযিল কর। অথচ তারা মূসার কাছে এর চেয়ে বড় কিছু চেয়েছিল, যখন তারা বলেছিল, ‘আমাদেরকে সামনাসামনি আল্লাহকে দেখাও’। ফলে তাদেরকে তাদের অন্যায়ের কারণে বজ্র পাকড়াও করেছিল। অতঃপর তারা বাছুরকে (উপাস্যর
يسألك أهل الكتاب أن تنزل عليهم كتابا من السماء ۚ فقد سألوا موسى أكبر من ذلك فقالوا أرنا الله جهرة فأخذتهم الصاعقة بظلمهم ۚ ثم اتخذوا العجل من بعد ما جاءتهم البينات فعفونا عن ذلك ۚ وآتينا موسى سلطانا مبينا
আমরা তাদের থেকে অঙ্গীকার নেয়ার জন্যে তুর পাহাড়কে তাদের উপরে তুলে ধরেছিলাম এবং তাদের বলেছিলাম: ‘অবনত শিরে এই গেইট দিয়ে প্রবেশ করো।’ আমরা তাদের আরো বলেছিলাম: ‘শনিবারে বাড়াবাড়ি করোনা’। তাদের থেকে আমরা মজবুত অঙ্গীকার আদায় করেছিলাম।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তাদের অঙ্গীকার গ্রহণের জন্য তূরকে তাদের উপর তুলে ধরেছিলাম এবং তাদেরকে বলেছিলাম, ‘দরজায় প্রবেশ কর অবনত হয়ে’। তাদেরকে আমি আরও বলেছিলাম, ‘শনিবারে সীমালঙ্ঘন করো না’ এবং আমি তাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলাম।
তারা অভিশপ্ত হয়েছে তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে, আল্লাহর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করার কারণে, অন্যায়ভাবে নবীদের হত্যা করার কারণে এবং তাদের এই কথার কারণে যে: ‘আমাদের অন্তর আচ্ছাদিত’। বরং তাদের কুফুরির কারণে তাদের অন্তর সীলমোহর করে দিয়েছেন। ফলে তারা আর ঈমান আনবে না, স্বল্প সংখ্যক ছাড়া।
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতঃপর (তাদের শাস্তি দেয়া হয়েছিল) তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ, আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে করা, অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করা এবং এ কথা বলার কারণে যে, ‘আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত’। বরং তাদের কুফরীর কারণে অন্তরের উপর মোহর এঁটে দিয়েছিলেন। সুতরাং স্বল্পসংখ্যক
আর তাদের এ কথার কারণেও যে, ‘আমরা আল্লাহর রসূল মরিয়মের পুত্র ঈসা মসিহ্কে হত্যা করেছি।’ অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি, ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের এ রকম বিভ্রম হয়েছিল। যারা তার সম্পর্কে মতভেদ করেছিল, তারা অবশ্যি এ বিষয়ে সংশয়ের মধ্যে ছিলো। অনুমানের অনুগামী হওয়া ছাড়া এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞানই ছিলনা। তারা যে তাকে হত্যা করেনি, তা নিশ্চিত।
বয়ান ফাউন্ডেশন
এবং তাদের এ কথার কারণে যে, ‘আমরা আল্লাহর রাসূল মারইয়াম পুত্র ঈসা মাসীহকে হত্যা করেছি’। অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং তাকে শূলেও চড়ায়নি। বরং তাদেরকে ধাঁধায় ফেলা হয়েছিল। আর নিশ্চয় যারা তাতে মতবিরোধ করেছিল, অবশ্যই তারা তার ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে ছিল। ধারণার
وقولهم إنا قتلنا المسيح عيسى ابن مريم رسول الله وما قتلوه وما صلبوه ولكن شبه لهم ۚ وإن الذين اختلفوا فيه لفي شك منه ۚ ما لهم به من علم إلا اتباع الظن ۚ وما قتلوه يقينا
আহলে কিতাবের প্রতিটি মানুষ অবশ্যি তার (ঈসার) প্রতি ঈমান আনবে তার মৃত্যুর আগে এবং কিয়ামতের দিন সে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
কিতাবীদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তার মৃত্যুর পূর্বে তার প্রতি ঈমান আনবে না* এবং কিয়ামতের দিনে সে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে। * কিয়ামতের পূর্বে ঈসা আঃ যখন অবতরণ করবেন, তখন সে যুগের ইয়াহূদী ও নাসারারা পুরো বিষয়টি উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে এবং সকলেই মৃত্যুর মুহূ
ইহুদিদের যুলুমের কারণে আমরা তাদের জন্যে হারাম করে দিয়েছি ভালো ভালো সেসব জিনিস, যা তাদের জন্যে হালাল ছিলো এবং আল্লাহর পথে যে তারা অনেককে বাধা দেয় সে কারণে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
সুতরাং ইয়াহূদীদের যুলমের কারণে আমি তাদের উপর উত্তম খাবারগুলো হারাম করেছিলাম, যা তাদের জন্য হালাল করা হয়েছিল এবং আল্লাহর রাস্তা থেকে অনেককে তাদের বাধা প্রদানের কারণে।
তাছাড়া তাদের সুদ গ্রহণের কারণে, যা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল। আর অন্যায়ভাবে মানুষের অর্থসম্পদ গ্রাস করার করণে। আমরা কাফিরদের জন্যে তৈরি করে রেখেছি বেদানাদায়ক আযাব।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তাদের সুদ গ্রহণের কারণে, অথচ তা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল এবং অবৈধভাবে মানুষের সম্পদ খাওয়ার কারণে। আর আমি তাদের মধ্য থেকে কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করেছি যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
তাদের মধ্যে যারা জ্ঞানে গভীরতা রাখে তারা এবং মুমিনরা ঈমান রাখে যা আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি সেটার প্রতি এবং যা আমরা তোমার আগে নাযিল করেছি তার প্রতিও। তারা কায়েমকারী, যাকাত প্রদানকারী এবং ও পরকালের প্রতি ঈমান পোষণকারী। আমরা এদের শীঘ্রি প্রদান করবো মহাপুরস্কার।
বয়ান ফাউন্ডেশন
কিন্তু তাদের মধ্যে যারা জ্ঞানে পরিপক্ক এবং মুমিনগণ- যারা তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে এবং যা নাযিল হয়েছে তোমার পূর্বে- তাতে ঈমান আনে। আর যারা প্রতিষ্ঠাকারী ও যাকাত প্রদানকারী এবং ও শেষ দিনে ঈমান আনয়নকারী, তাদেরকে অচিরেই আমি মহাপুরস্কার প্রদান ক
لكن الراسخون في العلم منهم والمؤمنون يؤمنون بما أنزل إليك وما أنزل من قبلك ۚ والمقيمين الصلاة ۚ والمؤتون الزكاة والمؤمنون بالله واليوم الآخر أولئك سنؤتيهم أجرا عظيما
আমরা তোমার কাছে অহি পাঠিয়েছি, যেমন পাঠিয়েছিলাম নূহের কাছে এবং তার পরের নবীদের কাছে, ইবরাহিম, ইসমাঈল, ইয়াকুব ও তার বংশধরদের কাছে এবং ঈসা, আইউব, ইউনুস, হারূণ ও সুলাইমানের কাছে, আর আমরা দাউদকে দিয়েছিলাম যবুর।
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় আমি তোমার নিকট ওহী পাঠিয়েছি, যেমন ওহী পাঠিয়েছি নূহ ও তার পরবর্তী নবীগণের নিকট এবং আমি ওহী পাঠিয়েছি ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়া‘কূব, তার বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ূব, ইউনুস, হারূন ও সুলায়মানের নিকট এবং দাঊদকে প্রদান করেছি যাবূর।
۞ إنا أوحينا إليك كما أوحينا إلى نوح والنبيين من بعده ۚ وأوحينا إلى إبراهيم وإسماعيل وإسحاق ويعقوب والأسباط وعيسى وأيوب ويونس وهارون وسليمان ۚ وآتينا داوود زبورا
তারা ছিলো সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রসূল, যাতে করে রসূল আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অভিযোগ করার সুযোগ না থাকে। আর তো মহাশক্তিমান ও মহাপ্রজ্ঞাবান।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর (পাঠিয়েছি) রাসূলগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে, যাতে আল্লাহর বিপক্ষে রাসূলদের পর মানুষের জন্য কোন অজুহাত না থাকে। আর মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় ।
সাক্ষ্য দিচ্ছেন তোমার প্রতি যা নাযিল করেছেন তার মাধ্যমে যে, তিনি তা নাযিল করেছেন নিজ জ্ঞানের ভিত্তিতে, ফেরেশতারাও এ সাক্ষ্য দেয়। আর সাক্ষী হিসেবে তো আল্লাহই যথেষ্ট।
বয়ান ফাউন্ডেশন
কিন্তু সাক্ষ্য দিচ্ছেন, যা তোমার নিকট তিনি নাযিল করেছেন তার মাধ্যমে। তিনি তা নাযিল করেছেন নিজ জ্ঞানে এবং ফেরেশতারাও সাক্ষ্য দিচ্ছে। আর আল্লাহই সাক্ষীরূপে যথেষ্ট।
হে মানুষ! এই রসূল তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এসেছে মহাসত্য নিয়ে। সুতরাং তোমরা তার প্রতি ঈমান আনো, এটাই হবে তোমাদের জন্যে কল্যাণবহ। কিন্তু তোমরা যদি অস্বীকার করো, তবে জেনে রাখো, মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। আর মহাজ্ঞানী, মহাপ্রজ্ঞাবান।
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে মানুষ, অবশ্যই তোমাদের নিকট রাসূল এসেছে, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য নিয়ে। সুতরাং তোমরা ঈমান আন, তা তোমাদের জন্য উত্তম হবে। আর যদি কর, তবে নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনে যা রয়েছে, তা আল্লাহর জন্যই এবং সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
হে আহলে কিতাব! তোমরা তোমাদের দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করোনা এবং আল্লাহর সম্পর্কে সত্য ছাড়া বলোনা। নিশ্চয়ই মরিয়মের পুত্র ঈসা মসিহ্ আল্লাহর একজন রসূল এবং তাঁর বাণী, যা তিনি নিক্ষেপ করেছিলেন মরিয়মের প্রতি, আর সে আল্লাহর একটি আদেশ। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলদের প্রতি, আর তোমরা তিন খোদা বলো না। তোমরা এ থেকে বিরত হও, এটাই তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। নিশ্চয়ই একমাত্র ইলাহ্। তাঁর সন্তান থাকবে - এমন বিষয় থেকে তিনি পবিত্র। মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তো তাঁর। উকিল হিসেবে আল্লাহই কাফী (যথেষ্ট)।
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে কিতাবীগণ, তোমরা তোমাদের দীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর উপর সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না। মারইয়ামের পুত্র মাসীহ ঈসা কেবলমাত্র আল্লাহর রাসূল ও তাঁর কালিমা, যা তিনি প্রেরণ করেছিলেন মারইয়ামের প্রতি এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ। সুতরাং তোমরা ও তাঁর
يا أهل الكتاب لا تغلوا في دينكم ولا تقولوا على الله إلا الحق ۚ إنما المسيح عيسى ابن مريم رسول الله وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه ۖ فآمنوا بالله ورسله ۖ ولا تقولوا ثلاثة ۚ انتهوا خيرا لكم ۚ إنما الله إله واحد ۖ سبحانه أن يكون له ولد ۘ له ما في السماوات وما في الأرض ۗ وكفى بالله وكيلا
মসিহ্ (ঈসা) আল্লাহর বান্দা হওয়াকে কখনো ছোট করে দেখেনি, নৈকট্য লাভকারী ফেরেশতারাও নয়। যে কেউ আল্লাহর দাসত্ব করাকে হেয় জ্ঞান করবে এবং অহংকার করবে, তিনি তাদের সবাইকে অবশ্যি তাঁর কাছে জমা করবেন।
বয়ান ফাউন্ডেশন
মাসীহ কখনো আল্লাহর বান্দা হতে (নিজকে) হেয় মনে করে না এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারাও না, আর যারা তাঁর ইবাদাতকে হেয় জ্ঞান করে এবং অহঙ্কার করে, তবে অচিরেই তাদের সবাইকে তাঁর নিকট সমবেত করবেন।
তবে যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ্ করবে, তিনি তাদের পুরোপুরি দান করবেন তাদের পুরস্কার এবং নিজ অনুগ্রহ থেকে তাদের আরো বেশি করে দেবেন। কিন্তু যারা হেয় জ্ঞান করবে এবং অহংকার করবে তাদের তিনি আযাব দেবেন বেদনাদায়ক আযাব। তারা আল্লাহর পরিবর্তে কোনো পৃষ্ঠপোষক কিংবা সাহায্যকারী পাবেনা।
বয়ান ফাউন্ডেশন
পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তিনি তাদেরকে তাদের পুরষ্কার পরিপূর্ণ দেবেন এবং তাঁর অনুগ্রহে তাদেরকে বাড়িয়ে দেবেন। আর যারা হেয় জ্ঞান করেছে এবং অহঙ্কার করেছে, তিনি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং তারা তাদের জন্য ছাড়া কোন অভিভাবক ও
فأما الذين آمنوا وعملوا الصالحات فيوفيهم أجورهم ويزيدهم من فضله ۖ وأما الذين استنكفوا واستكبروا فيعذبهم عذابا أليما ولا يجدون لهم من دون الله وليا ولا نصيرا
হে মানুষ! অবশ্যি তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে একটি প্রমাণ, (মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ) আর আমরা তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি একটি সুস্পষ্ট নূর (আল কুরআন)।
বয়ান ফাউন্ডেশন
হে মানুষ, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট প্রমাণ এসেছে এবং আমি তোমাদের নিকট স্পষ্ট আলো নাযিল করেছি।
তাই যারা ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি এবং মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে তাঁকে, তিনি তাদের দাখিল করবেন তাঁর রহমত ও অনুগ্রহের মধ্যে এবং তাদের পরিচালিত করবেন তাঁর দিকে সিরাতুল মুসতাকিমে (সরল সঠিক পথে)।
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতঃপর যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাকে আঁকড়ে ধরেছে তিনি অবশ্যই তাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে দয়া ও অনুগ্রহে প্রবেশ করাবেন এবং তাঁর দিকে সরল পথ দেখাবেন।
লোকেরা তোমার কাছে ফতোয়া চাইছে। তুমি বলো: তোমাদের ফতোয়া দিচ্ছেন নিঃসন্তান পিতা - মাতাহীন ব্যক্তির ব্যাপারে: কোনো পুরুষ মারা গেলে তার যদি সন্তান না থাকে এবং থাকে যদি শুধু একজন বোন, তবে সে পাবে পরিত্যক্ত সম্পদের অর্ধেক। আর তার ঐ একক বোনটি যদি (তার আগে) মারা যায় তবে সে হবে তার ওয়ারিশ যদি তার কোনো সন্তান না থাকে। আর যদি দুই বোন থাকে, তবে তারা পাবে তার পরিত্যক্ত সম্পদের দুই তৃতীয়াংশ। কিন্তু যদি তারা একাধিক ভাই - বোন থাকে সে ক্ষেত্রে এক পুরুষের অংশ হবে দুই নারীর সমান। তোমাদের জন্যে সুস্পষ্ট বিধান দিচ্ছেন, যাতে করে তোমরা বিভ্রান্ত না হও। প্রতিটি বিষয়ে জ্ঞানী।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা তোমার কাছে সমাধান চায়। বল, ‘ তোমাদেরকে সমাধান দিচ্ছেন ‘কালালা’* সম্পর্কে। কোন ব্যক্তি যদি মারা যায় এমন অবস্থায় যে, তার কোন সন্তান নেই এবং তার এক বোন রয়েছে, তবে সে যা রেখে গিয়েছে বোনের জন্য তার অর্ধেক, আর সে (মহিলা)যদি সন্তানহীনা হয় তবে তার ভাই
يستفتونك قل الله يفتيكم في الكلالة ۚ إن امرؤ هلك ليس له ولد وله أخت فلها نصف ما ترك ۚ وهو يرثها إن لم يكن لها ولد ۚ فإن كانتا اثنتين فلهما الثلثان مما ترك ۚ وإن كانوا إخوة رجالا ونساء فللذكر مثل حظ الأنثيين ۗ يبين الله لكم أن تضلوا ۗ والله بكل شيء عليم