You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
হুদ
Chapter 11, 123 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
বয়ান ফাউন্ডেশন
Arabic, with marks
Arabic
About this chapter
মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১২৩, রুকু সংখ্যা: ১০
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-০৪মানবজাতিকে এক আল্লাহর ইবাদত, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাঁর দিকে ফিরে আসার দাওয়াত দিতে রসূলের প্রতি নির্দেশ।
০৫-১১আল্লাহ্ মহাজ্ঞানী, সকল জীবের রিযিকদাতা, মহাবিশ্বের স্রষ্টা। পরকালের প্রতি মানুষের অস্বীকৃতি। কারা ক্ষমা লাভ করবে?
১২-২৪কুরআনের প্রতি সন্দেহপোষণকারীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ। দুনিয়া পূজারিদের জন্য আখিরাতে কোনো অংশ নেই। আল্লাহর পথে বাধাদানকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত। যারা ঈমান আনে এবং ভালো কাজ করে তারাই সফল।
২৫-৪৯নূহ আ.-এর জাতির প্রতি তাঁর দাওয়াত ও উপদেশ, তাঁর জাতির হঠকারিতা এবং তাদের ধ্বংস ও মুমিনদের মুক্তির ইতিহাস।
৫০-৬০আদ জাতির কাছে হুদ আ.-এর দাওয়াত ও উপদেশ। আল্লাহর দিকে আসতে তাদের অস্বীকৃতি এবং তাদের ধ্বংসের ইতিহাস।
৬১-৬৮সামুদ জাতির কাছে সালেহ্ আ.-এর দাওয়াত এবং তাদের অবাধ্যতা ও ধ্বংসের ইতিহাস।
৬৯-৭৬ইবরাহিম আ.-এর কাছে ফেরেশতাদের আগমন এবং তাঁর বৃদ্ধা স্ত্রীকে পুত্র সন্তানের সুসংবাদ।
৭৭-৮৩লুত জাতির অপকর্ম, তাঁর জাতিকে ধ্বংসের জন্য ফেরেশতাদের আগমন এবং তাদের ধ্বংসের ইতিহাস।
৮৪-৯৫মাদিয়ানবাসীকে শুয়াইব আ. কর্তৃক সংশোধন প্রচেষ্টার ইতিহাস। তাদের অবাধ্যতা ও ধ্বংসের বিবরণ।
৯৬-৯৯ফিরাউন ও তার জাতির কাছে মূসা আ. এর দাওয়াত এবং তাদের অবাধ্যতার বিবরণ।
১০০-১২৩নবীর অবাধ্য হওয়ার ব্যাপারে মানবজাতির প্রতি সতর্কবাণী। নবীর দাওয়াত গ্রহণের মাধ্যমে মানবজাতির ভাগ্যবান ও দুর্ভাগা এই দুভাগে বিভক্তি। বিরুদ্ধবাদীদের মোকাবেলায় নবীর প্রতি অনুসরণীয় নির্দেশাবলি।
আবদুস শহীদ নাসিম
আলিফ লাম রা। এটি একটি কিতাব এর আয়াতসমূহ বিজ্ঞানময় সুবিন্যস্ত, বিশদভাবে বর্ণিত, মহাবিজ্ঞানী সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আলিফ-লাম-রা। এটি কিতাব যার আয়াতসমূহ সুস্থিত করা হয়েছে, অতঃপর বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে প্রজ্ঞাময়, সবিশেষ অবহিত সত্ত্বার পক্ষ থেকে।
بسم الله الرحمن الرحيم الر ۚ كتاب أحكمت آياته ثم فصلت من لدن حكيم خبير
আবদুস শহীদ নাসিম
(হে নবী! জানিয়ে দাও,) তোমরা ছাড়া আর কারো ইবাদত (আনুগত্য, দাসত্ব, পূজা, উপাসনা, প্রার্থনা) করোনা। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।
বয়ান ফাউন্ডেশন
(এ মর্মে) যে, তোমরা ছাড়া কারো ইবাদাত করো না। নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।
তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর দিকে ফিরে আসো, তাহলে তিনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদের উত্তম জীবন সামগ্রী উপভোগ করার সুযোগ দেবেন এবং প্রত্যেক মর্যাদাবানকে দেবেন তার প্রাপ্য মর্যাদা। কিন্তু তোমরা যদি (একথা না মেনে) মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের জন্যে আশংকা করছি এক গুরুতর দিনের আযাবের।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও। তারপর তার কাছে ফিরে যাও, (তাহলে) তিনি তোমাদেরকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উত্তম ভোগ-উপকরণ দেবেন এবং প্রর্তেক আনুগত্যশীলকে তাঁর আনুগত্য মুতাবিক দান করবেন। আর যদি তারা ফিরে যায়, তবে আমি নিশ্চয় তোমাদের উপর বড় এক দিনের আযাবের
সাবধান! তারা তাঁর কাছ থেকে নিজেদের গোপন করার জন্যে তাদের বক্ষ দ্বিভাজ করে। সাবধান! তারা যখন তাদেরকে বস্ত্র দিয়ে ঢেকে নেয়, তখন তারা যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে তিনি তা জানেন। অবশ্যি তিনি অন্তরের খবর বিশেষভাবে অবহিত।
বয়ান ফাউন্ডেশন
জেনে রাখ, নিশ্চয় তারা তাদের বুক ফিরিয়ে নেয়, যাতে তারা তার থেকে আত্মগোপন করতে পারে। জেনে রাখ, যখন তারা কাপড় আবৃত হয়, তখন তিনি জানেন যা তারা গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে। নিশ্চয় তিনি অন্তর্যামী।
ألا إنهم يثنون صدورهم ليستخفوا منه ۚ ألا حين يستغشون ثيابهم يعلم ما يسرون وما يعلنون ۚ إنه عليم بذات الصدور
আবদুস শহীদ নাসিম
পৃথিবীতে বিচরণকারী সব জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর। তাদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী অবস্থানস্থল সম্পর্কে তিনি অবহিত। সবই একটি স্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যমীনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর রিয্কের দায়িত্ব আল্লাহরই এবং তিনি জানেন তাদের আবাসস্থল ও সমাধিস্থল* । সব কিছু আছে স্পষ্ট কিতাবে**। * এখানে مستقر বা আবাসস্থল বলতে মাতৃগর্ভে অবস্থান মতান্তরে মৃত্যু পর্যন্ত দুনিয়ায় অবস্থানকে বুঝানো হয়েছে। আর مستودع দ্বার
۞ وما من دابة في الأرض إلا على الله رزقها ويعلم مستقرها ومستودعها ۚ كل في كتاب مبين
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনিই মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয়টি কালে এবং তাঁর আরশ ছিলো পানির উপর তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে উত্তম তা পরীক্ষার উদ্দেশ্যে। তুমি যদি তাদের বলো: ‘তোমরা অবশ্যি মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হবে,’ তখন কাফিররা অবশ্যি বলবে: ‘এতো এক সুস্পষ্ট ম্যাজিক।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তিনিই আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপর, যাতে তিনি পরীক্ষা করেন, কে তোমাদের মধ্যে আমলে সর্বোত্তম। আর তুমি যদি বল, ‘মৃত্যুর পর নিশ্চয় তোমাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে’, তবে কাফিররা অবশ্যই বলবে, ‘এতো শুধুই স্পষ্ট যাদু’।
وهو الذي خلق السماوات والأرض في ستة أيام وكان عرشه على الماء ليبلوكم أيكم أحسن عملا ۗ ولئن قلت إنكم مبعوثون من بعد الموت ليقولن الذين كفروا إن هذا إلا سحر مبين
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা যদি একটা নির্দিষ্ট সময়কাল তাদের উপর আযাব স্থগিত রাখি, তখন তারা অবশ্যি বলবে: ‘কী কারণে আসছে না সে জিনিসটি?’ সাবধান! যেদিন সেটি তাদের কাছে আসবে, তা আর ফেরত নেয়া হবেনা এবং তারা যে বিষয়টাকে নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করছে তা তাদেরকে ঘেরাও করে ফেলবে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যদি আমি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের থেকে আযাব বিলম্বিত করি, তবে তারা অবশ্যই বলবে, ‘কোন্ বস্তু তাকে ঠেকিয়ে রাখল’? সাবধান ! যেদিন তাদের উপর তা নেমে আসবে, সেদিন তাদের থেকে তা ফেরানো হবে না এবং তারা যা নিয়ে উপহাস করত, তাদেরকে তা ঘিরে ফেলবে।
ولئن أذقنا الإنسان منا رحمة ثم نزعناها منه إنه ليئوس كفور
আবদুস শহীদ নাসিম
আর দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করার পর আমরা যদি তাদের সুখ - সম্পদের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখন অবশ্যি তারা বলবে: ‘আমার দুঃখ - দুর্দশা কেটে গেছে।’ তখন সে উল্লসিত ও অহংকারী হয়ে পড়ে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করার পর যদি আমি তাকে নিআমত আস্বাদন করাই, তাহলে সে অবশ্যই বলবে, ‘আমার থেকে বিপদ-আপদ দূর হয়ে গেছে, আর সে হবে অতি উৎফুল্ল, অহঙ্কারী।
إلا الذين صبروا وعملوا الصالحات أولئك لهم مغفرة وأجر كبير
আবদুস শহীদ নাসিম
লোকেরা যে বলে: ‘তার সাথে কোনো ধনভান্ডার নাযিল হলো না কেন? কিংবা তার সাথে ফেরেশতা এলোনা কেন?’ এ কারণে কি তুমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ অহির কিছু অংশ বর্জন করবে? এবং এর ফলে কি তোমার মন ছোট হয়ে যাবে? জেনে রাখো, তুমি তো কেবলমাত্র একজন সতর্ককারী। সব বিষয়ে উকিল - দায়িত্বশীল।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তাহলে সম্ভবত তুমি তোমার উপর অবতীর্ণ ওহীর কিছু বিষয় ছেড়ে দেবে এবং তোমার বুক সঙ্কুচিত হবে এ কারণে যে, তারা বলে, ‘কেন তার উপর ধন-ভান্ডার অবতীর্ণ হয়নি, কিংবা তার সাথে ফেরেশতা আসেনি’? তুমি তো শুধু সতর্ককারী আর সব কিছুর তত্ত্বাবধায়ক।
فلعلك تارك بعض ما يوحى إليك وضائق به صدرك أن يقولوا لولا أنزل عليه كنز أو جاء معه ملك ۚ إنما أنت نذير ۚ والله على كل شيء وكيل
আবদুস শহীদ নাসিম
নাকি তারা বলে: ‘সে নিজেই এটা (কুরআন) রচনা করে নিয়েছে।’ তুমি বলো: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো তবে এটির অনুরূপ দশটি সূরা নিজেরা রচনা করে আনো এবং ছাড়া আর যাদেরকে পারো (সহযোগিতা নেয়ার জন্যে) ডেকে আনো।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
নাকি তারা বলে, ‘সে এটা রটনা করেছে’? বল, ‘তাহলে তোমরা এর অনুরূপ দশটি সূরা বানিয়ে নিয়ে আস এবং ছাড়া যাকে পার ডেকে আন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।
أم يقولون افتراه ۖ قل فأتوا بعشر سور مثله مفتريات وادعوا من استطعتم من دون الله إن كنتم صادقين
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা যদি তোমার এ আহবানে এগিয়ে না আসে, তবে জেনে রাখো, এটি (এই কুরআন) তো আল্লাহর এলেমের ভিত্তিতে নাযিল করা হয়েছে, আর তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। সুতরাং তোমরা কি মুসলিম (মান্যকারী) হবে?
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতঃপর তারা যদি তোমাদের আহবানে সাড়া না দেয়, তাহলে জেনে রাখ, এটা আল্লাহর জ্ঞান অনুসারেই নাযিল করা হয়েছে এবং তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ্ নেই। অতঃপর তোমরা কি অনুগত হবে?
أولئك الذين ليس لهم في الآخرة إلا النار ۖ وحبط ما صنعوا فيها وباطل ما كانوا يعملون
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি ঐ লোকদের সমতুল্য হতে পারে, যারা তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট প্রমাণের (কুরআনের) উপর প্রতিষ্ঠিত, যা তিলাওয়াত করে তাঁর প্রেরিত সাক্ষী (জিবরিল) এবং যার আগে এসেছিল মূসার উপর অবতীর্ণ কিতাব পথ প্রদর্শক ও রহমত হিসাবে? তারা এর প্রতি ঈমান রাখে। মানব দলসমূহের যারাই এটিকে অস্বীকার করে আগুনই হবে তাদের প্রতিশ্রুত স্থান। সুতরাং তুমি এটির সম্পর্কে কোনো প্রকার সন্দেহে থেকোনা। এটি তো তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে এক মহাসত্য। তবে অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করেনা।
বয়ান ফাউন্ডেশন
যারা তার রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং অনুসরণ করে তাঁর পক্ষ থেকে একজন সাক্ষী* এবং যার পূর্বে রয়েছে মূসার কিতাব পথপ্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ,(তারা কি ঐ লোকদের মত, যারা দুনিয়া ও তার জৌলুস কামনায় বিভোর?) এরাই তার প্রতি ঈমান পোষণ করে। আর যে সকল
أفمن كان على بينة من ربه ويتلوه شاهد منه ومن قبله كتاب موسى إماما ورحمة ۚ أولئك يؤمنون به ۚ ومن يكفر به من الأحزاب فالنار موعده ۚ فلا تك في مرية منه ۚ إنه الحق من ربك ولكن أكثر الناس لا يؤمنون
আবদুস শহীদ নাসিম
ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর প্রতি আরোপ করে। তাদের উপস্থাপন করা হবে তাদের প্রভুর দরবারে এবং সাক্ষীরা বলবে: এরাই তাদের প্রভুর প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। সাবধান, যালিমদের প্রতি আল্লাহর লানত,
বয়ান ফাউন্ডেশন
যারা আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা রটনা করে, তাদের চেয়ে অধিক যালিম কে? তাদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীগণ বলবে, ‘এরাই তাদের রবের ব্যাপারে মিথ্যারোপ করেছিল’। সাবধান, যালিমদের উপর আল্লাহর লা‘নত।
الذين يصدون عن سبيل الله ويبغونها عوجا وهم بالآخرة هم كافرون
আবদুস শহীদ নাসিম
এরা পৃথিবীতে আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না। আর প্রকৃতপক্ষে ছাড়া তো আর তাদের কোনো অলি ছিলনা। তাদের আযাব দ্বিগুণ করা হবে। তাদের শোনারও সামর্থ ছিলনা এবং তারা দেখতেও পেতোনা।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা যমীনে (আল্লাহকে) অক্ষম করতে পারত না এবং ছাড়া তাদের কোন সাহায্যকারী ছিল না, তাদের জন্য আযাব দ্বিগুণ করা হবে। তারা শুনতে সক্ষম ছিল না এবং দেখতেও পেত না।
إن الذين آمنوا وعملوا الصالحات وأخبتوا إلى ربهم أولئك أصحاب الجنة ۖ هم فيها خالدون
আবদুস শহীদ নাসিম
এই দুই পক্ষের উপমা হলো এ রকম, যেমন একজন হলো অন্ধ ও বধির এবং অপরজন হলো চক্ষুষ্মান ও শ্রবণশক্তি সম্পন্ন। এরা দুইজন কি সমতুল্য? কেন তোমরা বুঝার চেষ্টা করোনা?
বয়ান ফাউন্ডেশন
দল দু’টির উপমা হচ্ছে অন্ধ ও বধির এবং চক্ষুষ্মান ও শ্রবণশক্তিসম্পন্নের মত, তুলনায় উভয় দল কি সমান? এরপরও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
أن لا تعبدوا إلا الله ۖ إني أخاف عليكم عذاب يوم أليم
আবদুস শহীদ নাসিম
তখন তার কওমের প্রধানরা বলেছিল: ‘আমরা তো তোমাকে আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই দেখছিনা। আর আমরা বাহ্য দৃষ্টিতেই দেখছি, যারা তোমার অনুসরণ করছে তারা আমাদের মধ্যে একেবারেই নীচু শ্রেণীর। আমরা আমাদের উপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্বই দেখছি না। বরং আমরা তো মনে করি তোমরা সবাই মিথ্যাবাদী।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতঃপর তার কওমের নেতৃস্থানীয়রা, যারা করেছিল, তারা বলল, ‘আমরা তো তোমাকে আমাদের মত একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু দেখছি না এবং আমরা দেখছি যে, কেবল আমাদের নীচু শ্রেণীর লোকেরাই বিবেচনাহীনভাবে তোমার অনুসরণ করেছে। আর আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব আমরা দেখছি ন
فقال الملأ الذين كفروا من قومه ما نراك إلا بشرا مثلنا وما نراك اتبعك إلا الذين هم أراذلنا بادي الرأي وما نرى لكم علينا من فضل بل نظنكم كاذبين
আবদুস শহীদ নাসিম
সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা ভেবে দেখো, আমি যদি আমার প্রভুর প্রেরিত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর নিজ অনুগ্রহ থেকে আমাকে দান করে থাকেন আর সে বিষয়ে যদি তোমাদের অন্ধ করে দেয়া হয়ে থাকে, তবে তোমাদের অপছন্দ সত্ত্বেও কি আমি তোমাদের তা গ্রহণে বাধ্য করতে পারি?
বয়ান ফাউন্ডেশন
সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা কি মনে কর, যদি আমি আমার রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত হই এবং তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত দিয়ে থাকেন, আর তা তোমাদের কাছে গোপন রাখা হয়, তবে কি আমি তোমাদের উপর তোমাদের অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও তা চাপিয়ে দেব’?
قال يا قوم أرأيتم إن كنت على بينة من ربي وآتاني رحمة من عنده فعميت عليكم أنلزمكموها وأنتم لها كارهون
আবদুস শহীদ নাসিম
হে আমার কওম! এ কাজের জন্যে তো আমি তোমাদের কাছে মাল - সম্পদ চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব তো আল্লাহর। আমি তো মুমিনদেরকে আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দিতে পারিনা। তারা অবশ্যি তাদের প্রভুর সাক্ষাত লাভ করবে। বরং আমি তো দেখছি তোমরাই সবাই জাহিল লোক।
বয়ান ফাউন্ডেশন
‘আর হে আমার কওম, এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন সম্পদ চাই না। আমার প্রতিদান শুধু আল্লাহর কাছে। যারা ঈমান এনেছে, আমি তাদের তাড়িয়ে দিতে পারি না। নিশ্চয় তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে। কিন্তু আমি তো দেখছি তোমরা এক অজ্ঞ জাতি’।
আমি তো তোমাদের বলছিনা যে, আমার কাছে আল্লাহর অর্থভান্ডার রয়েছে, কিংবা আমি জানি। কিংবা আমি তো এ কথাও বলছিনা যে, আমি একজন ফেরেশতা। তোমাদের দৃষ্টিতে যারা নিম্নশ্রেণীর তাদের ব্যাপারেও আমি একথা বলিনা যে, কখনো তাদের কল্যাণ করবেন না। তাদের অন্তরে যা আছে আল্লাহ্ই তা অধিক জানেন। তোমাদের কথা মেনে নিলে তো আমি যালিমদের মধ্যে গণ্য হয়ে যাবো।’’
বয়ান ফাউন্ডেশন
‘আর আমি তোমাদের বলছি না যে, ‘আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডারসমূহ আছে’ এবং আমি জানি না আর আমি এও বলছি না যে, ‘আমি ফেরেশতা’। তোমাদের চোখে যারা হীন, তাদের সম্পর্কে আমি বলছি না যে, ‘ তাদেরকে কখনো কোন কল্যাণ দান করবেন না’। তাদের অন্তরে যা আছে, সে সম্পর্ক
ولا أقول لكم عندي خزائن الله ولا أعلم الغيب ولا أقول إني ملك ولا أقول للذين تزدري أعينكم لن يؤتيهم الله خيرا ۖ الله أعلم بما في أنفسهم ۖ إني إذا لمن الظالمين
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলেছিল: ‘হে নূহ! তুমি তো আমাদের সাথে বিতন্ডা করেছো প্রচুর বিতন্ডা, সুতরাং তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আমাদেরকে তোমার প্রতিশ্রুত ঘটনাটি ঘটিয়ে দেখাও।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা বলল, ‘হে নূহ, তুমি আমাদের সাথে বাদানুবাদ করছ এবং আমাদের সাথে অতিমাত্রায় বিবাদ করেছ। অতএব যার প্রতিশ্রুতি তুমি আমাদেরকে দিচ্ছ, তা আমাদের কাছে নিয়ে আস, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও’।
আল্লাহ্ই যদি তোমাদের বিভ্রান্ত করতে চান তবে আমি নসিহত করতে চাইলেও আমার নসিহত তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না। তিনিই তোমাদের প্রভু। তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
‘আর আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিতে চাইলেও আমার উপদেশ তোমাদের কোন উপকারে আসবে না, যদি তোমাদের বিভ্রান্ত করতে চান। তিনি তোমাদের রব এবং তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে’।
ولا ينفعكم نصحي إن أردت أن أنصح لكم إن كان الله يريد أن يغويكم ۚ هو ربكم وإليه ترجعون
আবদুস শহীদ নাসিম
নাকি তারা বলে: ‘সে নিজেই এটি রচনা করে নিয়েছে।’ তুমি বলো: ‘এটি (এ কুরআন) যদি আমি রচনা করে থাকি, তবে আমার অপরাধের জন্যে আমিই দায়ী হবো। আর তোমরা যে অপরাধ করছো তার দায় দায়িত্ব থেকে আমি মুক্ত।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
নাকি তারা বলে, ‘সে এটা রচনা করেছে’। বল, ‘যদি আমি তা রচনা করে থাকি, তবে আমার অপরাধ আমার উপরই বর্তাবে এবং তোমরা যে অপরাধ করছ, আমি তা থেকে মুক্ত’।
وأوحي إلى نوح أنه لن يؤمن من قومك إلا من قد آمن فلا تبتئس بما كانوا يفعلون
আবদুস শহীদ নাসিম
আমাদের তত্ত্বাবধান ও অহির ভিত্তিতে তুমি একটি নৌযান তৈরি করো এবং যারা যুলুম করেছে তাদের বিষয়ে তুমি আমার কাছে কোনো প্রকার সুপারিশ করোনা, তারা পানিতে নিমজ্জিত হবেই।
বয়ান ফাউন্ডেশন
‘আর তুমি আমার চোখের সামনে ও আমার ওহী অনুসারে নৌকা তৈরী কর। আর যারা যুলম করেছে, তাদের ব্যাপারে তুমি আমার কাছে কোন আবেদন করো না। নিশ্চয় তাদেরকে ডুবানো হবে’।
واصنع الفلك بأعيننا ووحينا ولا تخاطبني في الذين ظلموا ۚ إنهم مغرقون
আবদুস শহীদ নাসিম
সে নৌযান তৈরি করছিল, তখন তার কওমের প্রধানরা তার ওখান দিয়ে যাওয়া আসার সময় এ নিয়ে তাকে উপহাস করতো। সে বলেছিল: তোমরা যদি আমাদের নিয়ে উপহাস করো, আমরাও তোমাদের নিয়ে উপহাস করবো যেভাবে তোমরা আমাদের নিয়ে উপহাস করছো।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর সে নৌকা তৈরী করতে লাগল এবং যখনই তার কওমের নেতৃস্থানীয় কোন ব্যক্তি তার পাশ দিয়ে যেত, তাকে নিয়ে উপহাস করত। সে বলল, ‘যদি তোমরা আমাদের নিয়ে উপহাস কর, তবে আমরাও তোমাদের নিয়ে উপহাস করব, যেমন তোমরা উপহাস করছ’।
فسوف تعلمون من يأتيه عذاب يخزيه ويحل عليه عذاب مقيم
আবদুস শহীদ নাসিম
অবশেষে এসে পড়ে আমাদের নির্দেশ এবং চুলা থেকে উথলে উঠতে থাকে পানির স্রোত। আমরা বললাম, তাতে উঠিয়ে নাও সব শ্রেণীর যুগলের দুইটি করে আর তোমার পরিবার পরিজনকে আর যারা ঈমান এনেছে, তবে তাদেরকে নয় যাদের ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আর তার (নূহের) সাথে ঈমান এনেছিল মাত্র কয়েকজনই।
বয়ান ফাউন্ডেশন
অবশেষে যখন আমার আদেশ আসল এবং চুলা উথলে উঠল*, আমি বললাম, ‘তুমি তাতে তুলে নাও প্রত্যেক শ্রেণী থেকে জোড়া জোড়া** এবং যাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে তাদের ছাড়া তোমার পরিবারকে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে। আর তার সাথে অল্পসংখ্যকই ঈমান এনেছিল। * التنور এর আ
۞ وقال اركبوا فيها بسم الله مجراها ومرساها ۚ إن ربي لغفور رحيم
আবদুস শহীদ নাসিম
নৌযানটি তাদের নিয়ে চলছিল তরঙ্গের মধ্যে পর্বতের মতো। আর নূহ তার ছেলেকে ডেকে বলেছিল, যে (নৌযানে আরোহন না করে) পৃথক ছিলো: ‘হে আমার পুত্র! আমাদের সাথে আরোহণ করো, কাফিরদের সাথি হয়ে থেকে যেয়োনা।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তা পাহাড়সম ঢেউয়ের মধ্যে তাদেরকে নিয়ে চলছিল এবং নূহ তার পুত্রকে ডাক দিল, আর সে ছিল আলাদা স্থানে- ‘হে আমার পুত্র, আমাদের সাথে আরোহণ কর এবং কাফিরদের সাথে থেকো না’।
وهي تجري بهم في موج كالجبال ونادى نوح ابنه وكان في معزل يا بني اركب معنا ولا تكن مع الكافرين
আবদুস শহীদ নাসিম
কিন্তু সে বলেছিল: ‘আমি (উঁচু) পর্বতে আশ্রয় নিচ্ছি, যা আমাকে পানি (প্লাবন) থেকে রক্ষা করবে।’ সে (নূহ) বললো: ‘আজ আল্লাহর ফায়সালা থেকে রক্ষা করার কেউ নেই, তবে তিনি যাকে দয়া করেন সে ছাড়া। (বলতে বলতে) তরঙ্গ তাদের মাঝখানে ঢুকে গেলো এবং সে ডুবে যাওয়াদের অন্তরভুক্ত হয়ে গেলো।
বয়ান ফাউন্ডেশন
সে বলল, ‘অচিরেই আমি একটি পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে’। সে (নূহ) বলল, ‘যার প্রতি দয়া করেছেন সে ছাড়া আজ আল্লাহর আদেশ থেকে কোন রক্ষাকারী নেই’। এরপর তাদের উভয়ের মধ্যে ঢেউ অন্তরায় হয়ে গেল। অতঃপর সে নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল ।
قال سآوي إلى جبل يعصمني من الماء ۚ قال لا عاصم اليوم من أمر الله إلا من رحم ۚ وحال بينهما الموج فكان من المغرقين
আবদুস শহীদ নাসিম
অবশেষে বলা হলো: ‘হে পৃথিবী, তুমি তোমার পানি গ্রাস করে নাও! হে আকাশ, তুমি বর্ষণ বন্ধ করো।’ অত:পর প্লাবন শেষ হলো এবং ফায়সালা পূর্ণ হলো এবং নৌযানটি জুদি পাহাড়ের উপর এসে স্থির হলো। আর বলা হলো: ‘নিপাত গেলো যালিম সম্প্রদায়।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর বলা হল, ‘হে যমীন, তুমি তোমার পানি চুষে নাও, আর হে আসমান, বিরত হও’। অতঃপর পানি কমে গেল এবং (আল্লাহর) সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হল, আর নৌকা জুদী পর্বতের উপর উঠল এবং ঘোষণা করা হল, ‘ধ্বংস যালিম কওমের জন্য’।
ونادى نوح ربه فقال رب إن ابني من أهلي وإن وعدك الحق وأنت أحكم الحاكمين
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি বলেছিলেন: ‘হে নূহ! সে তোমার পরিবারের সদস্য নয়। সে তো এক অসৎকর্ম। ফলে এমন বিষয়ে আমার কাছে প্রার্থনা করোনা, যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি তুমি যেনো জাহিলদের মতো কথা না বলো।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
তিনি বললেন, ‘হে নূহ, সে নিশ্চয় তোমার পরিবারভুক্ত নয়। সে অবশ্যই অসৎ কর্মপরায়ণ। সুতরাং যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, আমার কাছে তা চেয়ো না। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, যেন মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত না হও’।
قال يا نوح إنه ليس من أهلك ۖ إنه عمل غير صالح ۖ فلا تسألن ما ليس لك به علم ۖ إني أعظك أن تكون من الجاهلين
আবদুস শহীদ নাসিম
তখন সে বললো: ‘আমার প্রভু! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে যেনো তোমার কাছে প্রার্থনা না করি সে জন্যে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তুমি যদি আমাকে ক্ষমা না করো এবং আমার প্রতি রহম না করো, তবে তো আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বো।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
সে বলল, ‘হে আমার রব, যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই তা চাওয়া থেকে আমি অবশ্যই আপনার আশ্রয় চাই। আর যদি আপনি আমাকে মাফ না করেন এবং আমার প্রতি দয়া না করেন, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব’।
قال رب إني أعوذ بك أن أسألك ما ليس لي به علم ۖ وإلا تغفر لي وترحمني أكن من الخاسرين
আবদুস শহীদ নাসিম
বলা হয়েছিল: ‘হে নূহ! (নৌযান থেকে) নেমে পড়ো। আমাদের পক্ষ থেকে সালাম ও বরকত তোমার প্রতি এবং যেসব প্রজাতি তোমার সাথে রয়েছে তাদের প্রতি। আর অন্যান্য জাতিসমূহকে আমরা কিছুকাল জীবন উপভোগ করতে দেবো, তারপর আমাদের পক্ষ থেকে বেদনাদায়ক আযাব তাদেরকেও স্পর্শ করবে।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
বলা হল, ‘হে নূহ, তোমার ও তোমার সাথে যে উম্মত রয়েছে তাদের উপর আমার পক্ষ থেকে শান্তি ও বরকতসহ অবতরণ কর। আর আরো অনেক উম্মতকে আমি জীবন উপভোগ করতে দেব, তারপর আমার পক্ষ থেকে তাদেরকে স্পর্শ করবে যন্ত্রণাদায়ক আযাব’।
قيل يا نوح اهبط بسلام منا وبركات عليك وعلى أمم ممن معك ۚ وأمم سنمتعهم ثم يمسهم منا عذاب أليم
আবদুস শহীদ নাসিম
এগুলো গায়েবের সংবাদ তোমার প্রতি আমরা অহি করছি। তুমি কিংবা তোমার কওম ইতোপূর্বে এ বিষয়গুলো জানতে না। অতএব সবর অবলম্বন করো, পরিণামে সাফল্য মুত্তাকিদেরই জন্যে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
এগুলো গায়েবের সংবাদ, আমি তোমাকে ওহীর মাধ্যমে তা জানাচ্ছি। ইতঃপূর্বে তা না তুমি জানতে এবং না তোমার কওম। সুতরাং তুমি সবর কর। নিশ্চয় শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য।
تلك من أنباء الغيب نوحيها إليك ۖ ما كنت تعلمها أنت ولا قومك من قبل هذا ۖ فاصبر ۖ إن العاقبة للمتقين
আবদুস শহীদ নাসিম
আর আমরা আদ জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই ভাই হুদকে। সে তাদের বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তবে তোমরা তো কেবল মিথ্যা রচনাকারী।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর আদ জাতির কাছে (প্রেরণ করেছিলাম) তাদের ভাই হূদকে। সে বলেছিল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের জন্য কোন (সত্য) নেই। তোমরা তো কেবল মিথ্যা রটনাকারী’।
وإلى عاد أخاهم هودا ۚ قال يا قوم اعبدوا الله ما لكم من إله غيره ۖ إن أنتم إلا مفترون
আবদুস শহীদ নাসিম
হে আমার কওম! আমি তো এ কাজের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব তাঁর, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তবু কি তোমরা বুঝার চেষ্টা করবেনা?
বয়ান ফাউন্ডেশন
‘হে আমার কওম, আমি তোমাদের কাছে এর বিনিময়ে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো কেবল তাঁরই কাছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না’?
يا قوم لا أسألكم عليه أجرا ۖ إن أجري إلا على الذي فطرني ۚ أفلا تعقلون
আবদুস শহীদ নাসিম
হে আমার কওম! তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমাদের প্রভুর কাছে, অত:পর ফিরে আসো তাঁর দিকে। তিনি তোমাদের জন্যে আকাশ থেকে প্রচুর পানি বর্ষণ করবেন এবং বর্তমান শক্তির সাথে আরো শক্তি বাড়িয়ে দেবেন। তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়োনা।’’
বয়ান ফাউন্ডেশন
‘হে আমার কওম, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও অতঃপর তার কাছে তাওবা কর, তাহলে তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি পাঠাবেন এবং তোমাদের শক্তির সাথে আরো শক্তি বৃদ্ধি করবেন। আর তোমরা অপরাধী হয়ে বিমুখ হয়ো না’।
ويا قوم استغفروا ربكم ثم توبوا إليه يرسل السماء عليكم مدرارا ويزدكم قوة إلى قوتكم ولا تتولوا مجرمين
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলেছিল: ‘‘হে হুদ! তুমি তো আমাদের কাছে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসোনি। আমরা তো তোমার কথায় আমাদের ইলাহদের (দেব দেবীদের) পরিত্যাগ করতে পারিনা। তাছাড়া আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাসীও নই।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা বলল, ‘হে হূদ, তুমি আমাদের কাছে কোন স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসনি, আর তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করব না এবং আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাসীও নই’।
قالوا يا هود ما جئتنا ببينة وما نحن بتاركي آلهتنا عن قولك وما نحن لك بمؤمنين
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা বলছি, তোমাদের উপর আমাদের দেব - দেবীদের অভিশাপ পড়েছে।’’ সে বলেছিল: ‘‘আমি আল্লাহকে সাক্ষী বানাচ্ছি এবং তোমরাও সাক্ষী থাকো, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক করছো আমি তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছি।
বয়ান ফাউন্ডেশন
‘আমরা তো কেবল বলছি যে, ‘আমাদের কোন কোন উপাস্য তোমাকে অমঙ্গল দ্বারা আক্রান্ত করেছে’। সে বলল, ‘নিশ্চয় আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি আর তোমরা সাক্ষী থাক যে, আমি অবশ্যই তা থেকে মুক্ত যাকে তোমরা শরীক কর,
আমি তো তাওয়াক্কুল করেছি আল্লাহর উপর যিনি আমার প্রভু এবং তোমাদেরও প্রভু। এমন কোনো জীব নেই, যে তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই। নিশ্চয়ই আমার প্রভু সঠিক সরল পথের উপর প্রতিষ্ঠিত।
বয়ান ফাউন্ডেশন
‘আমি অবশ্যই তাওয়াক্কুল করেছি আমার রব ও তোমাদের রব আল্লাহর উপর, প্রতিটি বিচরণশীল প্রাণীরই তিনি নিয়ন্ত্রণকারী। নিশ্চয় আমার রব সরল পথে আছেন’।
إني توكلت على الله ربي وربكم ۚ ما من دابة إلا هو آخذ بناصيتها ۚ إن ربي على صراط مستقيم
আবদুস শহীদ নাসিম
আর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখো, আমি তোমাদের কাছে যে বার্তা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আমার প্রভু তোমাদের পরিবর্তে ভিন্ন কোনো কওমকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। আমার প্রভু সব কিছুর রক্ষক।’’
বয়ান ফাউন্ডেশন
‘অতঃপর তোমরা যদি বিমুখ হও, তবে যা নিয়ে আমি তোমাদের কাছে প্রেরিত হয়েছি তা তো তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আর আমার রব তোমাদেরকে ছাড়া অন্য এক জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করবেন। আর তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয় আমার রব সব কিছুর হেফাযতকারী’।
فإن تولوا فقد أبلغتكم ما أرسلت به إليكم ۚ ويستخلف ربي قوما غيركم ولا تضرونه شيئا ۚ إن ربي على كل شيء حفيظ
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পৌঁছে, আমরা হুদকে এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমাদের দয়ায় নাজাত দিয়েছিলাম এবং তাদের রক্ষা করেছিলাম কঠিন আযাব থেকে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যখন আমার আদেশ আসল, আমি হূদকে ও যারা তার সাথে ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে রহমত দ্বারা রক্ষা করলাম এবং আমি কঠোর আযাব থেকে তাদেরকে নাজাত দিলাম।
وتلك عاد ۖ جحدوا بآيات ربهم وعصوا رسله واتبعوا أمر كل جبار عنيد
আবদুস শহীদ নাসিম
দুনিয়ার জীবনে তাদের অভিশাপগ্রস্ত করা হয়েছিল এবং কিয়ামতের দিনও হবে তারা অভিশাপগ্রস্ত। সাবধান, আদ জাতি তাদের প্রভুকে অস্বীকার করেছিল। সাবধান, নিপাত গিয়েছিল আদ জাতি, যারা ছিলো হুদের কওম।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর এই দুনিয়াতে লা‘নত তাদের পেছনে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে এবং কিয়ামত দিবসেও। জেনে রাখ, নিশ্চয় আদ জাতি তাদের রবের সাথে করেছে। জেনে রাখ, হূদের কওম আদ জাতির জন্য রয়েছে ধ্বংস।
وأتبعوا في هذه الدنيا لعنة ويوم القيامة ۗ ألا إن عادا كفروا ربهم ۗ ألا بعدا لعاد قوم هود
আবদুস শহীদ নাসিম
আর আমরা সামুদ জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই ভাই সালেহকে। সে তাদের বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন জমিন থেকে এবং তাতেই তোমাদের তামির (প্রতিষ্ঠিত) করেছেন। অতএব, তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁরই দিকে ফিরো আসো। অবশ্যি আমার প্রভু অতি কাছে এবং ডাকে সাড়া দানকারী।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর সামূদ জাতির প্রতি (পাঠিয়েছিলাম)তাদের ভাই সালিহকে। সে বলল,‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) নেই, তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে এবং সেখানে তোমাদের জন্য আবাদের* ব্যবস্থা করেছেন । সুতরাং তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা
۞ وإلى ثمود أخاهم صالحا ۚ قال يا قوم اعبدوا الله ما لكم من إله غيره ۖ هو أنشأكم من الأرض واستعمركم فيها فاستغفروه ثم توبوا إليه ۚ إن ربي قريب مجيب
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলেছিল: ‘হে সালেহ্! ইতোপূর্বে তুমি ছিলে আমাদের আশা - ভরসার স্থল। আর এখন কি তুমি আমাদের পূর্বপুরুষরা যাদের ইবাদত করতো তাদের ইবাদত করতে আমাদের নিষেধ করছো? তুমি আমাদের যেদিকে ডাকছো সে বিষয়ে অবশ্যি আমরা বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে রয়েছি।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা বলল, ‘হে সালিহ, তুমি তো ইতঃপূর্বে আমাদের মধ্যে ছিলে প্রত্যাশিত। তুমি কি আমাদেরকে নিষেধ করছ তাদের ইবাদাত করতে আমাদের পিতৃপুরুষরা যাদের ইবাদাত করত? তুমি আমাদেরকে যার দিকে আহবান করছ, সে ব্যাপারে নিশ্চয় আমরা ঘোর সন্দেহের মধ্যে আছি’।
قالوا يا صالح قد كنت فينا مرجوا قبل هذا ۖ أتنهانا أن نعبد ما يعبد آباؤنا وإننا لفي شك مما تدعونا إليه مريب
আবদুস শহীদ নাসিম
সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমাদের মতামত কী, আমি যদি আমার প্রভুর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে কোনো অনুগ্রহ দান করেন, তখন আমাকে কে রক্ষা করবে যদি আমি তাঁর অবাধ্য হই? তোমরা আমার ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বাড়াতে পারবে না।
বয়ান ফাউন্ডেশন
সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা কী মনে কর, যদি আমি আমার রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের উপর থাকি এবং তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত দান করেন, তাহলে কে আমাকে আল্লাহর (আযাব) থেকে সাহায্য করবে, যদি আমি তাঁর অবাধ্য হই? সুতরাং তোমরা তো কেবল আমার ক্ষতিই বৃদ্ধি করছ’।
قال يا قوم أرأيتم إن كنت على بينة من ربي وآتاني منه رحمة فمن ينصرني من الله إن عصيته ۖ فما تزيدونني غير تخسير
আবদুস শহীদ নাসিম
হে আমার কওম! এটি আল্লাহর উটনী তোমাদের জন্যে একটি নিদর্শন। তোমরা এটিকে আল্লাহর জমিনে চরে খেতে দাও। তোমরা এটিকে মন্দ (উদ্দেশ্যে) স্পর্শ করোনা, করলে তোমাদের উপর আপতিত হবে আশু আযাব।
বয়ান ফাউন্ডেশন
‘আর হে আমার কওম, এটি আল্লাহর উট, তোমাদের জন্য নিদর্শনস্বরূপ। তাই তোমরা একে ছেড়ে দাও, সে আল্লাহর যমীনে (বিচরণ করে) খাবে এবং কোনরূপ মন্দভাবে তাকে স্পর্শ করো না, তাহলে তোমাদেরকে আশু আযাব পাকড়াও করবে’।
فعقروها فقال تمتعوا في داركم ثلاثة أيام ۖ ذلك وعد غير مكذوب
আবদুস শহীদ নাসিম
অত:পর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পৌঁছালো আমরা আমাদের অনুগ্রহে সালেহ্ এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদের রক্ষা করলাম সেদিনের চরম লাঞ্ছনা থেকে। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মহাশক্তিধর পরাক্রমশালী।
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতঃপর যখন আমার আদেশ এল, তখন সালিহ ও তার সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে রহমত দ্বারা নাজাত দিলাম এবং (নাজাত দিলাম) সেই দিনের লাঞ্ছনা থেকে। নিশ্চয় তোমার রব, তিনি শক্তিশালী, পরাক্রমশালী।
كأن لم يغنوا فيها ۗ ألا إن ثمود كفروا ربهم ۗ ألا بعدا لثمود
আবদুস শহীদ নাসিম
আমাদের দূত (ফেরেশতারা) সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল ইবরাহিমের কাছে। এসে তারা বলেছিল: ‘সালাম!’ সেও বলেছিল: ‘সালাম।’ অত:পর সে দেরি না করে ভুনা করা গো - নিয়ে এলো (তাদের মেহমানদারির জন্যে)।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর অবশ্যই আমার ফেরেশতারা সুসংবাদ নিয়ে ইবরাহীমের কাছে আসল, তারা বলল, ‘সালাম’। সেও বলল, ‘সালাম’। বিলম্ব না করে সে একটি ভুনা গো নিয়ে আসল।
ولقد جاءت رسلنا إبراهيم بالبشرى قالوا سلاما ۖ قال سلام ۖ فما لبث أن جاء بعجل حنيذ
আবদুস শহীদ নাসিম
সে যখন দেখলো, তারা সে (খাবারের) দিকে হাত বাড়াচ্ছে না, তখন সে তাদের আগমনকে অশুভ মনে করলো এবং তাদের ব্যাপারে তার মনে ভয় ঢুকলো। তারা বললো: ‘আপনি ভয় পাবেননা, আমরা তো লুতের কওমের কাছে প্রেরিত হয়েছি।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতঃপর যখন সে দেখতে পেল, তাদের হাত এর প্রতি পৌঁছছে না, তখন তাদেরকে অস্বাভাবিক মনে করল এবং সে তাদের থেকে ভীতি অনুভব করল। তারা বলল, ‘ভয় করো না, নিশ্চয় আমরা লূতের কওমের কাছে প্রেরিত হয়েছি’।
قالت يا ويلتى أألد وأنا عجوز وهذا بعلي شيخا ۖ إن هذا لشيء عجيب
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বললো: ‘আপনি কি আল্লাহর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিস্ময়বোধ করছেন? হে আহলে বাইত (হে ঘরবাসী)! এটা তো আপনাদের প্রতি আল্লাহর রহমত এবং বরকত। নিশ্চয়ই তিনি সপ্রশংসিত ও সম্মানিত।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা বলল, ‘আল্লাহর সিদ্ধান্তে তুমি আশ্চর্য হচ্ছ? হে নবী পরিবার, তোমাদের উপর আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত। নিশ্চয় তিনি প্রশংসিত সম্মানিত’।
يا إبراهيم أعرض عن هذا ۖ إنه قد جاء أمر ربك ۖ وإنهم آتيهم عذاب غير مردود
আবদুস শহীদ নাসিম
অত:পর আমাদের দূত (ফেরেশতারা) যখন লুতের কাছে এলো, তাদের আগমনে সে বিষন্ন হয়ে পড়লো এবং তাদের (তার জাতিকে) রক্ষায় নিজেকে অক্ষম মনে করলো, আর বললো: ‘এ তো এক শোকাবহ দিন।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যখন লূতের কাছে আমার ফেরেশতা আসল, তখন তাদের (আগমনের) কারণে তার অস্বস্তিবোধ হল এবং তার অন্তর খুব সঙ্কুচিত হয়ে গেল। আর সে বলল, ‘এ তো কঠিন দিন’।
ولما جاءت رسلنا لوطا سيء بهم وضاق بهم ذرعا وقال هذا يوم عصيب
আবদুস শহীদ নাসিম
তখন তার কওম তার দিকে উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটে এলো এবং আগে থেকে তারা কুকাজে অভ্যস্ত ছিলো। সে বললো: ‘হে আমার কওম! এই যে আমার (কওমের) কন্যারা রয়েছে, তোমাদের জন্যে এরাই পবিত্র (তোমরা তাদের বিয়ে করে নাও)। আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার মেহমানদের ব্যাপারে আমাকে অপমানিত করোনা। তোমাদের মধ্যে কি একজন ভালো মানুষও নেই?’
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তার কওম তার কাছে ছুটে আসল এবং ইতঃপূর্বে তারা মন্দ কাজ করত। সে বলল, ‘হে আমার কওম, এরা আমার মেয়ে, তারা তোমাদের জন্য পবিত্র। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার মেহমানদের ব্যাপারে তোমরা আমাকে অপমানিত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কোন সুবোধ ব্যক্তি নেই’?
قالوا لقد علمت ما لنا في بناتك من حق وإنك لتعلم ما نريد
আবদুস শহীদ নাসিম
সে বললো: ‘তোমাদের উপর যদি আমার শক্তি থাকতো অথবা আমি যদি আশ্রয় পেতাম কোনো সুদৃঢ় স্তম্ভের!’
বয়ান ফাউন্ডেশন
সে বলল, ‘তোমাদের প্রতিরোধে যদি আমার কোন শক্তি থাকত অথবা আমি কোন সুদৃঢ় স্তম্ভের আশ্রয় নিতে পারতাম’*! *‘সুদৃঢ় স্তম্ভ’ বলতে শক্তিশালী সৈন্যসামন্ত কিংবা কওম অথবা গোত্র বুঝানো হয়েছে।
তারা বললো: হে লুত! আমরা তো আপনার প্রভুর দূত। ওরা কখনো তোমার কাছে পৌঁছাতে পারবে না। আপনি রাতের কোনো এক সময় আপনার পরিবার পরিজন নিয়ে বের হয়ে পড়ুন এবং আপনাদের কেউই যেনো পেছনে না তাকায়। তবে আপনার স্ত্রীকে সাথে নেবেন না। তাদের যা ঘটবে তারও তাই ঘটবে। প্রভাতই তাদের নির্ধারিত সময়। প্রভাত কি ঘনিয়ে আসেনি?
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা বলল, ‘হে লূত, আমরা তোমার রবের প্রেরিত ফেরেশতা, তারা কখনো তোমার কাছে পৌঁছতে পারবে না। সুতরাং তুমি তোমার পরিবার নিয়ে রাতের কোন এক অংশে রওয়ানা হও, আর তোমাদের কেউ পিছে তাকাবে না। তবে তোমার স্ত্রী (রওয়ানা হবে না), কেননা তাকে তা-ই আক্রান্ত করবে যা তাদেরকে
قالوا يا لوط إنا رسل ربك لن يصلوا إليك ۖ فأسر بأهلك بقطع من الليل ولا يلتفت منكم أحد إلا امرأتك ۖ إنه مصيبها ما أصابهم ۚ إن موعدهم الصبح ۚ أليس الصبح بقريب
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পৌছে, তখন আমরা সেই জনপদকে উল্টে দিয়েছি এবং তার উপর অনবরত বর্ষণ করেছি পাথর কঙ্কর।
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতঃপর যখন আমার আদেশ এসে গেল, তখন আমি জনপদের উপরকে নীচে উল্টে দিলাম এবং ক্রমাগত পোড়ামাটির পাথর বর্ষণ করলাম,
আর আমরা মাদায়ানে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই ভাই শুয়াইবকে। সে তাদের বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তোমরা মাপে এবং ওজনে কম করোনা। আমি তো তোমাদের স্বচ্ছল দেখছি। আমি তোমাদের উপর আশংকা করছি এক সর্বগ্রাসী দিনের আযাবের।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর মাদইয়ানে আমি (পাঠিয়েছিলাম) তাদের ভাই শু‘আইবকে। সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) নেই এবং মাপ ও ওযন কম করো না; আমি তো তোমাদের প্রাচুর্যশীল দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের উপর এক সর্বগ্রাসী দিনের আযাবের ভয় করছি’।
بقيت الله خير لكم إن كنتم مؤمنين ۚ وما أنا عليكم بحفيظ
আবদুস শহীদ নাসিম
তখন তারা বলেছিল: ‘হে শুয়াইব! তোমার কি তোমাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পূর্ব পুরুষরা যে সবের ইবাদত করতো আমরা যেনো সেগুলোকে ত্যাগ করি? কিংবা আমাদের ধন - সম্পদ নিয়ে আমরা যা ইচ্ছে তাই করি? শুধু তুমি রয়ে গেলে একজন উঁচু মনের ধৈর্যশীল সৎ মানুষ।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা বলল, ‘হে শু‘আইব, তোমার কি তোমাকে এই নির্দেশ প্রদান করে যে, আমাদের পিতৃপুরুষগণ যাদের ইবাদাত করত, আমরা তাদের ত্যাগ করি? অথবা আমাদের সম্পদে আমরা ইচ্ছামত যা করি তাও (ত্যাগ করি?) তুমি তো বেশ সহনশীল সুবোধ’!
قالوا يا شعيب أصلاتك تأمرك أن نترك ما يعبد آباؤنا أو أن نفعل في أموالنا ما نشاء ۖ إنك لأنت الحليم الرشيد
আবদুস শহীদ নাসিম
তখন সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা কি ভেবে দেখেছো, আমি যদি আমার প্রভুর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে উত্তম জীবিকা দান করেন (তবে আমি কী করে তাঁর অবাধ্য হই?)। আমি চাইনা, তোমাদেরকে আমি যা নিষেধ করছি, আমি নিজেই তার বিপরীত আচরণ করি। আমি তো আমার সাধ্যমতো সংশোধন করতে চাই। আমি তো ততোটাই করি যতোটা আমাকে তৌফিক দেন। তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করেছি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী।
বয়ান ফাউন্ডেশন
সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা কী মনে কর, আমি যদি আমার রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের উপর থাকি এবং তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম রিয্ক দান করে থাকেন (তাহলে কী করে আমি আমার দায়িত্ব পরিত্যাগ করব)! যে কাজ থেকে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি, তোমাদের বিরোধিতা করে সে
قال يا قوم أرأيتم إن كنت على بينة من ربي ورزقني منه رزقا حسنا ۚ وما أريد أن أخالفكم إلى ما أنهاكم عنه ۚ إن أريد إلا الإصلاح ما استطعت ۚ وما توفيقي إلا بالله ۚ عليه توكلت وإليه أنيب
আবদুস শহীদ নাসিম
হে আমার কওম! আমার বিরুদ্ধাচরণ যেনো তোমাদেরকে এমন অপরাধে লিপ্ত না করে, যার ফলে তোমাদের উপর সে রকম বিপদ এসে পড়ে, যে রকম আপদ আপতিত হয়েছিল নূহের কওম, হুদের কওম, কিংবা সালেহর কওমের উপর। আর লুতের কওমের ঘটনা তো তোমাদের থেকে বেশি দূরের নয়।
বয়ান ফাউন্ডেশন
‘আর হে আমার কওম, আমার সাথে বৈরিতা তোমাদেরকে যেন এমন কাজে প্ররোচিত না করে যার ফলে তোমাদের সেরূপ আযাব আসবে যেরূপ এসেছিল নূহের কওমের উপর অথবা হূদের কওমের উপর অথবা সালিহের কওমের উপর। আর লূতের কওম তো তোমাদের থেকে দূরে নয়’।
তখন তারা বলেছিল: ‘হে শুয়াইব! তুমি যা বলছো তার অনেক কথাই আমরা বুঝতে পারছিনা। আমাদের মাঝে তো আমরা তোমাকে দুর্বল দেখতে পাচ্ছি। আমাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর মেরে হত্যাই করতাম আর আমাদের উপর তুমি শক্তিমান নও।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা বলল, ‘হে শু‘আইব, তুমি যা বল, তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না। আর তোমাকে তো আমরা আমাদের মধ্যে দুর্বলই দেখতে পাচ্ছি। যদি তোমার আত্মীয়-স্বজন না থাকত, তবে আমরা তোমাকে অবশ্যই পাথর মেরে হত্যা করতাম। আর আমাদের উপর তুমি শক্তিশালী নও’।
قالوا يا شعيب ما نفقه كثيرا مما تقول وإنا لنراك فينا ضعيفا ۖ ولولا رهطك لرجمناك ۖ وما أنت علينا بعزيز
আবদুস শহীদ নাসিম
সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্কটা কি আল্লাহর চাইতেও তোমাদের উপর বেশি শক্তিশালী? অথচ তোমরা তাঁকেই সম্পূর্ণ পেছনে ফেলে রেখেছো। জেনে রাখো, তোমরা যা করছো আমার প্রভু তা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।’
বয়ান ফাউন্ডেশন
সে বলল, ‘হে আমার কওম! আমার স্বজনরা কি তোমাদের কাছে অপেক্ষা অধিক সম্মানিত? আর তোমরা তাঁকে একেবারে পেছনে ঠেলে দিলে? তোমরা যা কর, নিশ্চয় আমার রব তা পরিবেষ্টন করে আছেন’।
قال يا قوم أرهطي أعز عليكم من الله واتخذتموه وراءكم ظهريا ۖ إن ربي بما تعملون محيط
আবদুস শহীদ নাসিম
হে আমার কওম! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিজেদের কর্মকান্ড করতে থাকো, আমিও আমার কাজ করে যাবো। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, কার উপর এসে পড়ে অপমানকর আযাব এবং কে মিথ্যাবাদী? তোমরা অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’’
বয়ান ফাউন্ডেশন
‘আর হে আমার কওম, তোমরা তোমাদের অবস্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করছি। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কার কাছে আসবে সে আযাব যা তাকে লাঞ্ছিত করবে এবং কে মিথ্যাবাদী। আর তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান।
ويا قوم اعملوا على مكانتكم إني عامل ۖ سوف تعلمون من يأتيه عذاب يخزيه ومن هو كاذب ۖ وارتقبوا إني معكم رقيب
আবদুস শহীদ নাসিম
অত:পর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পড়েছিল, আমরা আমাদের রহমতে নাজাত দিয়েছিলাম শুয়াইবকে এবং যারা তার সাথে ঈমান এনেছিল তাদেরকে। আর মহা বিকট শব্দ পাকড়াও করে নিয়েছিল যালিমদেরকে। ফলে তারা তাদের ঘরে ঘরে উপুড় হয়ে পড়েছিল।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যখন আমার আদেশ আসল, তখন শু‘আইব ও তার সাথে যারা ঈমান এনেছে, তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে রহমত দ্বারা নাজাত দিলাম এবং যারা যুলম করেছিল তাদেরকে পাকড়াও করল বিকট আওয়াজ। ফলে তারা নিজ নিজ গৃহে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকল।
আমরা মূসাকে পাঠিয়েছিলাম আমাদের নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে,
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর আমি মূসাকে আমার আয়াতসমূহ* ও স্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে পাঠিয়েছি, * এখানে ‘আয়াত’ বলতে তাওরাতকে বুঝানো হয়েছে এবং স্পষ্ট প্রমাণ দ্বারা আল্লাহর দেয়া বিশেষ নিদর্শনসমূহ বুঝানো হয়েছে।
আমরা তাদের প্রতি যুলুম করিনি, বরং তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল। তাদের উপর যখন আমাদের শাস্তির ফায়সালা এসেছিল, তখন তারা আল্লাহকে ছাড়া যাদের ডাকতো সেই সব ইলাহরা তাদের কিছুমাত্র কাজে আসেনি। তারা তাদের ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই বাড়ায়নি।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর আমি তাদের উপর যুলম করিনি, বরং তারা নিজদের উপর যুলম করেছে। তারপর যখন তোমার রবের নির্দেশ আসল তখন ছাড়া যে সব উপাস্যকে তারা ডাকত, তারা তাদের কোন উপকার করেনি এবং তারা ধ্বংস ছাড়া তাদের আর কিছুই বৃদ্ধি করেনি।
وكذلك أخذ ربك إذا أخذ القرى وهي ظالمة ۚ إن أخذه أليم شديد
আবদুস শহীদ নাসিম
এর মধ্যে রয়েছে নিদর্শন তাদের জন্যে, যারা আখিরাতের আযাবকে ভয় পায়। সেদিন সব মানুষকে জমা করা হবে এবং সেটাই হবে উপস্থিতির দিন।
বয়ান ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন তার জন্য যে আখিরাতের আযাবকে ভয় করে। সেটি এমন একটি দিন, যেদিন সকল মানুষকে সমবেত করা হবে এবং সেটি এমন এক দিন, যেদিন সবাই হাযির হবে।
সেখানেই স্থায়ীভাবে পড়ে থাকবে তারা যতোদিন মহাকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, যদি না তোমার প্রভু অন্য কিছু চান। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু যা চান তাই করেন।
বয়ান ফাউন্ডেশন
সেখানে তারা স্থায়ী হবে, যতদিন পর্যন্ত আসমানসমূহ ও যমীন থাকবে*, অবশ্য তোমার রব যা চান**। নিশ্চয় তোমার রব তা-ই করে যা তিনি ইচ্ছা করেন। *‘যতদিন পর্যন্ত আসমানসমূহ ও যমীন থাকবে’- এ কথা দ্বারা আরবী ভাষায় চিরস্থায়ীত্বের উদাহরণ দেয়া হয়ে থাকে।
خالدين فيها ما دامت السماوات والأرض إلا ما شاء ربك ۚ إن ربك فعال لما يريد
আবদুস শহীদ নাসিম
আর যারা হবে ভাগ্যবান, তারা থাকবে জান্নাতে। চিরকাল তারা সেখানে (উপভোগ করতে) থাকবে, যতোদিন বিদ্যমান থাকবে মহাকাশ ও পৃথিবী, যদি না তোমার প্রভু ভিন্ন কিছু চান। এ এক অনন্ত অবিরাম পুরস্কার।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যারা ভাগ্যবান হয়েছে, তারা জান্নাতে থাকবে, সেখানে তারা স্থায়ী হবে যতদিন পর্যন্ত আসমানসমূহ ও যমীন থাকবে, অবশ্য তোমার রব যা চান*, অব্যাহত প্রতিদানস্বরূপ। * অর্থাৎ ইচ্ছা করলে তাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে দিতে পারেন। তবে তিনি তা করবেন না। কেননা তিনি
۞ وأما الذين سعدوا ففي الجنة خالدين فيها ما دامت السماوات والأرض إلا ما شاء ربك ۖ عطاء غير مجذوذ
আবদুস শহীদ নাসিম
সুতরাং তারা যে সবের ইবাদত করে সেগুলোর ভ্রান্ত বাতিল হবার ব্যাপারে তুমি মোটেও সংশয়ে থেকোনা। আগে তাদের বাপ - দাদারা যাদের ইবাদত করতো তারাও তাদেরই ইবাদত করে। আমরা অবশ্যি তাদের প্রাপ্য অংশ কিছুমাত্র কম না করে পুরোপুরি দেবো।
বয়ান ফাউন্ডেশন
সুতরাং এরা যাদের উপাসনা করে, তুমি তাদের ব্যাপারে সংশয়ে থেকো না। তারা তো ইবাদাত করে, যেমন ইতঃপূর্বে ইবাদাত করত তাদের পিতৃপুরুষগণ। নিশ্চয় আমি তাদের অংশ হ্রাস না করে তাদেরকে পুরোপুরি দেব।
فلا تك في مرية مما يعبد هؤلاء ۚ ما يعبدون إلا كما يعبد آباؤهم من قبل ۚ وإنا لموفوهم نصيبهم غير منقوص
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা মূসাকেও কিতাব দিয়েছিলাম এবং তা নিয়েও মতভেদ করা হয়েছিল। তোমার প্রভুর পূর্ব ফায়সালা না থাকলে তাদের মাঝেও মীমাংসা হয়ে যেতো। তারা অবশ্যি এ (কিতাব) নিয়ে ভ্রান্তিকর সংশয়ের মধ্যে ছিলো।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতে মতবিরোধ করা হয়েছিল। যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকত*, তবে তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়ে যেত। আর নিশ্চয় তারা এ ব্যাপারে ঘোর সন্দেহে রয়েছে। * অর্থাৎ অপরাধীকে শাস্তির ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করবেন
وإن كلا لما ليوفينهم ربك أعمالهم ۚ إنه بما يعملون خبير
আবদুস শহীদ নাসিম
সুতরাং তোমাকে যে রকম নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার উপর কায়েম থাকো তুমি এবং তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তারা, আর সীমালংঘন করোনা। তোমরা যা আমল করো সবই তাঁর দৃষ্টিপথে রয়েছে।
বয়ান ফাউন্ডেশন
সুতরাং যেভাবে তুমি নির্দেশিত হয়েছ সেভাবে তুমি ও তোমার সাথী যারা তাওবা করেছে, সকলে অবিচল থাক। আর সীমালঙ্ঘন করো না। তোমরা যা করছ নিশ্চয় তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা।
فاستقم كما أمرت ومن تاب معك ولا تطغوا ۚ إنه بما تعملون بصير
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা যুলুম করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়োনা, তাহলে তোমাদের স্পর্শ করবে জাহান্নামের আগুন এবং ছাড়া তোমাদের আর কোনো অলি থাকবে না, আর তোমাদেরকে সাহায্যও করা হবেনা।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর যারা যুলম করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না; অন্যথায় আগুন তোমাদেরকে স্পর্শ করবে এবং ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক থাকবে না। অতঃপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
ولا تركنوا إلى الذين ظلموا فتمسكم النار وما لكم من دون الله من أولياء ثم لا تنصرون
আবদুস শহীদ নাসিম
কায়েম করো দিনের দুই প্রান্তে (অর্থাৎ ফজর এবং যোহর, আসর ও মাগরিব) এবং রাতের প্রথমাংশে (অর্থাৎ এশার )। নিশ্চয়ই পুণ্য মিটিয়ে দেয় পাপকে। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্যে একটি উপদেশ।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর তুমি কায়েম কর দিবসের দু’প্রান্তে এবং রাতের প্রথম অংশে*। নিশ্চয়ই ভালকাজ মন্দকাজকে মিটিয়ে দেয়। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য উপদেশ। * দিনের প্রথম প্রান্তে ফজরের , দ্বিতীয় প্রান্তে যোহর ও আসরের আর রাতের প্রথম অংশে মাগরিব ও ইশার । [তাফ
আমরা তোমাদের পূর্ব প্রজন্মের যাদের রক্ষা করেছিলাম, তাদের স্বল্প সংখ্যক ছাড়া বাকিরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করতে নিষেধ করতো না কেন? যালিমরা সে সময়েরই অনুসরণ করতো যাতে সুখ - স্বাচ্ছন্দ পেতো। আসলে তারা ছিলো অপরাধী।
বয়ান ফাউন্ডেশন
অতএব তোমাদের পূর্বের প্রজন্মসমূহের মধ্যে এমন প্রজ্ঞাবান কেন হয়নি, যারা যমীনে ফাসাদ করা থেকে নিষেধ করত? অল্প সংখ্যক ছাড়া, যাদেরকে আমি তাদের মধ্য থেকে নাজাত দিয়েছিলাম। আর যারা যুলম করেছে, তারা বিলাসিতার পেছনে পড়ে ছিল এবং তারা ছিল অপরাধী।
ولو شاء ربك لجعل الناس أمة واحدة ۖ ولا يزالون مختلفين
আবদুস শহীদ নাসিম
তবে তোমার প্রভু যাদের রহম করেন তারা ছাড়া। আর তিনি এ জন্যেই তাদের সৃষ্টি করেছেন। ‘আমি অবশ্যি জিন এবং ইনসানকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করবো’ - তোমার প্রভুর এ ঘোষণা পূর্ণ হবেই।
বয়ান ফাউন্ডেশন
তবে যাদেরকে তোমার রব দয়া করেছেন, তারা ছাড়া। আর এজন্যই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমার রবের কথা চূড়ান্ত হয়েছে যে, ‘নিশ্চয়ই আমি জাহান্নাম ভরে দেব জিন ও মানুষ দ্বারা একত্রে’।
إلا من رحم ربك ۚ ولذلك خلقهم ۗ وتمت كلمة ربك لأملأن جهنم من الجنة والناس أجمعين
আবদুস শহীদ নাসিম
(পূর্বের) রসূলদের এসব সংবাদ আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করছি এ জন্যে, যেনো এর মাধ্যমে আমরা তোমার হৃদয়কে দৃঢ় করি, আর এর মাধ্যমে তোমার কাছে এসেছে সত্য (ইতিহাস)। তাছাড়া এটি হলো মুমিনদের জন্যে উপদেশ এবং সতর্কবাণী।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আর রাসূলদের এসকল সংবাদ আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি যার দ্বারা আমি তোমার মনকে স্থির করি আর এতে তোমার কাছে এসেছে সত্য এবং মুমিনদের জন্য উপদেশ ও স্মরণ।
মহাকাশ এবং পৃথিবীর তো আল্লাহ্ই জানেন। সকল বিষয় তাঁরই কাছে রুজু হয়। সুতরাং তুমি তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করো। তোমরা যা করো সে বিষয়ে তোমার প্রভু গাফিল নন।
বয়ান ফাউন্ডেশন
আসমানসমূহ ও যমীনের আল্লাহরই এবং তাঁরই কাছে সব বিষয় প্রত্যাবর্তিত হবে। সুতরাং তুমি তাঁর ইবাদাত কর এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল কর। আর তোমরা যা কিছু কর সে ব্যাপারে তোমার রব গাফেল নন।