তোয়া সিন মিম।
ত্ব-সীন-মীম।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ طسم
طسٓمٓ
Chapter 26, 227 verses
তোয়া সিন মিম।
ত্ব-সীন-মীম।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ طسم
طسٓمٓ
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ
تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُبِينِ
তারা হচ্ছে না বলে তুমি হয়তো মনের দুঃখে নিজেকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।
তারা হবে না বলে হয়ত তুমি আত্মবিনাশী হয়ে পড়বে।
لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ
لَعَلَّكَ بَٰخِعٌ نَّفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا۟ مُؤْمِنِينَ
আমরা চাইলে আসমান থেকে তাদের জন্যে একটি নিদর্শন নাযিল করতাম, তখন সেটার প্রতি তাদের গর্দান নুইয়ে পড়তো।
আমি ইচ্ছা করলে আসমান থেকে তাদের উপর এমন নিদর্শন অবতীর্ণ করতাম ফলে তার প্রতি তাদের ঘাড়গুলো নত হয়ে যেত।
إِن نَّشَأْ نُنَزِّلْ عَلَيْهِم مِّنَ السَّمَاءِ آيَةً فَظَلَّتْ أَعْنَاقُهُمْ لَهَا خَاضِعِينَ
إِن نَّشَأْ نُنَزِّلْ عَلَيْهِم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ ءَايَةً فَظَلَّتْ أَعْنَٰقُهُمْ لَهَا خَٰضِعِينَ
যখনই তাদের কাছে রহমানের পক্ষ থেকে নতুন কোনো যিকির (উপদেশ বার্তা) আসে, তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
আর যখনই তাদের কাছে পরম করুণাময়ের পক্ষ থেকে কোন নতুন উপদেশ আসে তখনই তারা তা থেকে বিমুখ হয়।
وَمَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍ مِّنَ الرَّحْمَٰنِ مُحْدَثٍ إِلَّا كَانُوا عَنْهُ مُعْرِضِينَ
وَمَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍ مِّنَ ٱلرَّحْمَٰنِ مُحْدَثٍ إِلَّا كَانُوا۟ عَنْهُ مُعْرِضِينَ
তারা তো অস্বীকার করেছে। সুতরাং তারা যা নিয়ে বিদ্রূপ করছে তার প্রকৃত খবর তাদের কাছে অচিরেই এসে পড়বে।
অতএব অবশ্যই তারা অস্বীকার করেছে। কাজেই তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তার সংবাদ অচিরেই তাদের কাছে এসে পড়বে।
فَقَدْ كَذَّبُوا فَسَيَأْتِيهِمْ أَنبَاءُ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
فَقَدْ كَذَّبُوا۟ فَسَيَأْتِيهِمْ أَنۢبَٰٓؤُا۟ مَا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ
তারা কি জমিনের দিকে তাকিয়ে দেখেনা? আমরা তাতে সব ধরনের কতো যে উত্তম উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি!
তারা কি যমীনের প্রতি লক্ষ করেনি? আমি তাতে প্রত্যেক প্রকারের বহু উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উদগত করেছি।
أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى الْأَرْضِ كَمْ أَنبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍ كَرِيمٍ
أَوَلَمْ يَرَوْا۟ إِلَى ٱلْأَرْضِ كَمْ أَنۢبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍ كَرِيمٍ
অবশ্যি এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
নিশ্চয় এতে আছে নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই নয়।
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মহাপরাক্রমশালী, পরম দরয়াবান।
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহা পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
স্মরণ করো, তোমার প্রভু মূসাকে ডেকে বলেছিলেন, তুমি যালিম কওমের কাছে যাও,
আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব মূসাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি যালিম সম্প্রদায়ের কাছে যাও’।
وَإِذْ نَادَىٰ رَبُّكَ مُوسَىٰ أَنِ ائْتِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
وَإِذْ نَادَىٰ رَبُّكَ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱئْتِ ٱلْقَوْمَ ٱلظَّٰلِمِينَ
ফেরাউনের কওমের কাছে। তাদের বলো: ‘তারা কি সতর্ক হবেনা?’
‘ফির‘আউনের সম্প্রদায়ের কাছে। তারা কি ভয় করবে না’?
قَوْمَ فِرْعَوْنَ ۚ أَلَا يَتَّقُونَ
قَوْمَ فِرْعَوْنَ أَلَا يَتَّقُونَ
তখন মূসা বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার আশংকা হয়, তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।
মূসা বলল, ‘হে আমার রব, আমি অবশ্যই আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে অস্বীকার করবে’।
قَالَ رَبِّ إِنِّي أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ
قَالَ رَبِّ إِنِّىٓ أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ
আমার মন ছোট হয়ে আসছে আর আমার যবানও সঞ্চালিত হচ্ছে না, সুতরাং তুমি হারূণকে রিসালাত দান করো।
‘আর আমার বক্ষ সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে। আমার জিহবা চলছে না। সুতরাং আপনি হারুনের প্রতি ওহী পাঠান’।
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَىٰ هَارُونَ
وَيَضِيقُ صَدْرِى وَلَا يَنطَلِقُ لِسَانِى فَأَرْسِلْ إِلَىٰ هَٰرُونَ
আমার বিরুদ্ধে তাদের একটা অভিযোগও আছে, তাই আমি আশংকা করছি তারা আমাকে হত্যা করবে।’’
‘আর আমার বিরুদ্ধে তাদের কাছে একটি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ফলে আমি আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করে ফেলবে’।
وَلَهُمْ عَلَيَّ ذَنبٌ فَأَخَافُ أَن يَقْتُلُونِ
وَلَهُمْ عَلَىَّ ذَنۢبٌ فَأَخَافُ أَن يَقْتُلُونِ
বললেন: ‘কখনো নয়। সুতরাং তোমরা দু’জনই যাও আমাদের নিদর্শনসমূহ নিয়ে, আমরাও তোমাদের সাথে থাকবো, সব শুনবো।’
বললেন, ‘কখনো নয়। তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শনাদিসহ যাও। অবশ্যই আমি আছি তোমাদের সাথে শ্রবণকারী’।
قَالَ كَلَّا ۖ فَاذْهَبَا بِآيَاتِنَا ۖ إِنَّا مَعَكُم مُّسْتَمِعُونَ
قَالَ كَلَّا فَٱذْهَبَا بِـَٔايَٰتِنَآ إِنَّا مَعَكُم مُّسْتَمِعُونَ
তোমরা ফেরাউনের কাছে যাও, তাকে বলো: ‘‘আমরা রাব্বুল আলামিনের রসূল।
‘সুতরাং তোমরা উভয়ে ফির‘আউনের কাছে গিয়ে বল, নিশ্চয় আমরা বিশ্বজগতের রবের রাসূল’।
فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولَا إِنَّا رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ
فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولَآ إِنَّا رَسُولُ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
তুমি বনি ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।’’
‘যাতে তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে পাঠাও’।
أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ
أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ
ফেরাউন বললো: ‘‘আমরা কি শৈশবে তোমাকে আমাদের মধ্যে লালন পালন করিনি? তুমি তো তোমার জীবনের অনেক বছর আমাদের মধ্যে কাটিয়েছো।
ফির‘আউন বলল, ‘আমরা কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মাঝে লালন পালন করিনি? আর তুমি তোমার জীবনের অনেক বছর আমাদের মধ্যে অবস্থান করেছ’।
قَالَ أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَ
قَالَ أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَ
আর তুমি তোমার একটা কর্ম করেছিলে। তুমি এক অকৃতজ্ঞ।’’
‘আর তুমি তোমার কর্ম যা করার তা করেছ এবং তুমি অকৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত’।
وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ الَّتِي فَعَلْتَ وَأَنتَ مِنَ الْكَافِرِينَ
وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ ٱلَّتِى فَعَلْتَ وَأَنتَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَ
মূসা বললো: ‘‘আমি তো সে কাজটি করেছিলাম তখন, যখন আমি ছিলাম জ্ঞানহীন।
মূসা বলল, ‘আমি এটি তখন করেছিলাম, যখন আমি ছিলাম বিভ্রান্ত’।
قَالَ فَعَلْتُهَا إِذًا وَأَنَا مِنَ الضَّالِّينَ
قَالَ فَعَلْتُهَآ إِذًا وَأَنَا۠ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ
তখন তো আমি তোমাদের ভয়ে পালিয়ে চলে গিয়েছিলাম। তারপর আমার প্রভু আমাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন এবং আমাকে রসূলদের একজন মনোনীত করেন।
‘অতঃপর যখন আমি তোমাদেরকে ভয় করলাম, তখন আমি তোমাদের থেকে পালিয়ে গেলাম। তারপর আমার রব আমাকে প্রজ্ঞা দান করলেন এবং আমাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করলেন’।
فَفَرَرْتُ مِنكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِي رَبِّي حُكْمًا وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُرْسَلِينَ
فَفَرَرْتُ مِنكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِى رَبِّى حُكْمًا وَجَعَلَنِى مِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছো, তার কারণ তো হলো, তুমি বনি ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করে রেখেছো।’’
‘আর এই তো সে অনুগ্রহ যার খোঁটা তুমি আমাকে দিচ্ছ যে, তুমি বনী ইসরাঈলকে দাস বানিয়ে রেখেছ’।
وَتِلْكَ نِعْمَةٌ تَمُنُّهَا عَلَيَّ أَنْ عَبَّدتَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ
وَتِلْكَ نِعْمَةٌ تَمُنُّهَا عَلَىَّ أَنْ عَبَّدتَّ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ
ফেরাউন বললো: ‘রাব্বুল আলামিন কে?’
ফির‘আউন বলল, ‘সৃষ্টিকুলের রব কে?’
قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ
قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ ٱلْعَٰلَمِينَ
মূসা বললো: ‘তিনি হলেন মালিক মহাকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে সবকিছুর যদি তোমরা একীন রাখো।’
মূসা বলল, ‘আসমানসমূহ ও যমীন এবং এতদোভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা নিশ্চিত হয়ে থাক।’
قَالَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۖ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ
قَالَ رَبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَآ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ
ফেরাউন তার পারিষদবর্গকে লক্ষ্য করে বললো: ‘(মূসা কী বলছে) তোমরা কি শুনছো না?’
ফির‘আউন তার আশেপাশে যারা ছিল তাদেরকে বলল, ‘তোমরা কি মনোযোগসহ শুনছ না’?
قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُ أَلَا تَسْتَمِعُونَ
قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُۥٓ أَلَا تَسْتَمِعُونَ
মূসা বললো: ‘তিনি তোমাদেরও রব এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষদেরও রব।’
মূসা বলল, ‘তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদেরও রব’।
قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ
قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ ءَابَآئِكُمُ ٱلْأَوَّلِينَ
ফেরাউন বললো: ‘তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের এই রসূল তো একজন পাগল।’
ফির‘আউন বলল, ‘তোমাদের কাছে প্রেরিত তোমাদের এই রাসূল নিশ্চয়ই পাগল’।
قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ
قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ ٱلَّذِىٓ أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ
মূসা বললো: ‘তিনি মাশরিক, মাগরিব এবং এই উভয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে, সবকিছুর রব যদি তোমরা আকল রাখো।’
মূসা বলল, ‘তিনি পূর্ব ও পশ্চিম এবং এতদোভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা বুঝে থাক’।
قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۖ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ
قَالَ رَبُّ ٱلْمَشْرِقِ وَٱلْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَآ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ
ফেরাউন বললো: ‘তুমি যদি আমাকে ছাড়া আর কাউকেও হিসেবে গ্রহণ করো, তাহলে অবশ্যি আমি তোমাকে কারাগারে অবরুদ্ধ করে রাখবো।’
ফির‘আউন বলল, ‘যদি তুমি আমাকে ছাড়া কাউকে ইলাহরূপে গ্রহণ কর, তাহলে অবশ্যই আমি তোমাকে কয়েদীদের অন্তর্ভুক্ত করব’।
قَالَ لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلَٰهًا غَيْرِي لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ
قَالَ لَئِنِ ٱتَّخَذْتَ إِلَٰهًا غَيْرِى لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ ٱلْمَسْجُونِينَ
মূসা বললো: ‘আমি যদি তোমার কাছে সুস্পষ্ট নির্দশন হাজির করি, তবু?’
মূসা বলল, ‘যদি আমি তোমার কাছে স্পষ্ট কোন বিষয় নিয়ে আসি, তবুও’?
قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَيْءٍ مُّبِينٍ
قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَىْءٍ مُّبِينٍ
ফেরাউন বললো: ‘তবে হাজির করো যদি সত্যবাদী হও।’
ফির‘আউন বলল, ‘তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে তা নিয়ে এসো’।
قَالَ فَأْتِ بِهِ إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ
قَالَ فَأْتِ بِهِۦٓ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ
তখন মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো আর সাথে সাথে তা সুস্পষ্ট অজগরে পরিণত হয়ে গেলো।
অতঃপর সে তার লাঠি ফেলে দিল, ফলে তৎক্ষণাৎ তা একটি স্পষ্ট অজগর হয়ে গেল।
فَأَلْقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُّبِينٌ
فَأَلْقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ ثُعْبَانٌ مُّبِينٌ
এরপর (মূসা তার বগলে হাত ঢুকিয়ে) হাত বের করে আনলো, সাথে সাথে তা দর্শকদের দৃষ্টিতে ধবধবে সাদা দেখাতে লাগলো।
আর সে তার হাত বের করল, ফলে তা তৎক্ষণাৎ দর্শকদের সামনে উজ্জ্বল-সাদা হয়ে দেখা দিল।
وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ
وَنَزَعَ يَدَهُۥ فَإِذَا هِىَ بَيْضَآءُ لِلنَّٰظِرِينَ
ফেরাউন তাকে পরিবেষ্টন করে থাকা তার পারিষদবর্গকে বললো: ‘এ - তো এক পন্ডিত ম্যাজেসিয়ান।
ফির‘আউন তার আশপাশের পারিষদদের উদ্দেশ্যে বলল, ‘এ তো এক বিজ্ঞ যাদুকর।’
قَالَ لِلْمَلَإِ حَوْلَهُ إِنَّ هَٰذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ
قَالَ لِلْمَلَإِ حَوْلَهُۥٓ إِنَّ هَٰذَا لَسَٰحِرٌ عَلِيمٌ
সে তার ম্যাজিকের সাহায্যে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এখন তোমরা তার ব্যাপারে কী করতে বলো?’
‘সে তোমাদেরকে তার যাদুর মাধ্যমে তোমাদের দেশ থেকে বের করতে চায়। অতএব, তোমরা আমাকে কী পরামর্শ দাও?’
يُرِيدُ أَن يُخْرِجَكُم مِّنْ أَرْضِكُم بِسِحْرِهِ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ
يُرِيدُ أَن يُخْرِجَكُم مِّنْ أَرْضِكُم بِسِحْرِهِۦ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ
তারা বললো: ‘তাকে আর তার ভাইকে কিছু অবকাশ দিন এবং বিভিন্ন শহরে সংগ্রহকারীদের পাঠান।
তারা বলল, ‘তাকে ও তার ভাইকে কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দাও, আর সংগ্রহকারীদেরকে নগরে-নগরে পাঠিয়ে দাও।’
قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَابْعَثْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ
قَالُوٓا۟ أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَٱبْعَثْ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ
তারা আপনার জন্যে দক্ষ ম্যাজেসিয়ানদের হাজির করবে।’
‘তারা তোমার নিকট প্রত্যেক বিজ্ঞ যাদুকরকে নিয়ে আসুক’।
يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍ
يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍ
তারপর নির্দিষ্ট দিনে এবং নির্দিষ্ট সময়ে ম্যাজেসিয়ানদের জমা করা হলো,
অতঃপর এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে যাদুকরদের একত্র করা হল।
فَجُمِعَ السَّحَرَةُ لِمِيقَاتِ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ
فَجُمِعَ ٱلسَّحَرَةُ لِمِيقَٰتِ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ
জনগণকে বলা হলো: ‘তোমরাও কি জমায়েত হচ্ছো?’
আর লোকদের বলা হল, ‘তোমরা কি সমবেত হবে?’
وَقِيلَ لِلنَّاسِ هَلْ أَنتُم مُّجْتَمِعُونَ
وَقِيلَ لِلنَّاسِ هَلْ أَنتُم مُّجْتَمِعُونَ
‘হয়তো আমরা ম্যাজেসিয়ানদের অনুসরণ করতে পারি যদি তারা বিজয়ী হয়।’
‘যাতে আমরা যাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি, যদি তারা বিজয়ী হয়’।
لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ السَّحَرَةَ إِن كَانُوا هُمُ الْغَالِبِينَ
لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ ٱلسَّحَرَةَ إِن كَانُوا۟ هُمُ ٱلْغَٰلِبِينَ
ম্যাজেসিয়ানরা হাজির হলে তারা ফেরাউনকে বললো: ‘আমরা জয়ী হলে আমাদের জন্যে পুরস্কার থাকবে তো?’
অতঃপর যখন যাদুকররা আসল,তারা ফির‘আউনকে বলল,‘যদি আমরাই বিজয়ী হই, তবে আমাদের জন্য কি সত্যিই পুরস্কার আছে?’
فَلَمَّا جَاءَ السَّحَرَةُ قَالُوا لِفِرْعَوْنَ أَئِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِن كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِينَ
فَلَمَّا جَآءَ ٱلسَّحَرَةُ قَالُوا۟ لِفِرْعَوْنَ أَئِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِن كُنَّا نَحْنُ ٱلْغَٰلِبِينَ
ফেরাউন বললো: ‘হ্যাঁ, তাছাড়া তোমরা আমার সভাসদদের অন্তরভুক্ত হবে।’
সে বলল, ‘হ্যাঁ এবং নিশ্চয় তোমরা তখন আমার ঘনিষ্টজনদের অন্তর্ভুক্ত হবে’।
قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ إِذًا لَّمِنَ الْمُقَرَّبِينَ
قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ إِذًا لَّمِنَ ٱلْمُقَرَّبِينَ
মূসা তাদের বললো: ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করার নিক্ষেপ করো।’
মূসা তাদের বলল, ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ কর’।
قَالَ لَهُم مُّوسَىٰ أَلْقُوا مَا أَنتُم مُّلْقُونَ
قَالَ لَهُم مُّوسَىٰٓ أَلْقُوا۟ مَآ أَنتُم مُّلْقُونَ
তারা তাদের সব রশি এবং লাঠি নিক্ষেপ করলো। তারা বললো: ‘ফেরাউনের ইযযতের কসম, আমরাই জয়ী হবো।’
অতঃপর তারা তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল এবং বলল, ‘ফির‘আউনের মর্যাদার কসম! অবশ্যই আমরা বিজয়ী হব।’
فَأَلْقَوْا حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ الْغَالِبُونَ
فَأَلْقَوْا۟ حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا۟ بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ ٱلْغَٰلِبُونَ
অত:পর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো। সাথে সাথে সেটি কৃত্রিম সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে থাকলো।
তারপর মূসা তার লাঠি ফেলল, ফলে তৎক্ষণাৎ তা তাদের মিথ্যা প্রদর্শনীগুলো গ্রাস করে ফেলল।
فَأَلْقَىٰ مُوسَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ
فَأَلْقَىٰ مُوسَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ
তখন ম্যাজেসিয়ানরা সাজদায় আনত হয়ে পড়লো।
ফলে যাদুকররা সিজদাবনত হয়ে পড়ল।
فَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ
فَأُلْقِىَ ٱلسَّحَرَةُ سَٰجِدِينَ
তারা বললো: ‘আমরা ঈমান আনলাম রাব্বুল আলামিনের প্রতি,
তারা বলল, ‘আমরা ঈমান আনলাম সকল সৃষ্টির রবের প্রতি’।
قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ
قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
যিনি হারূণ এবং মূসারও রব।’
‘মূসা ও হারুনের রব’।
رَبِّ مُوسَىٰ وَهَارُونَ
رَبِّ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ
ফেরাউন বললো: ‘আমি তোমাদের অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রধান, সে - ই তোমাদের ম্যাজিক শিখিয়েছে, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে (এর পরিণতি)। আমি অবশ্যি বিপরীত দিক থেকে তোমাদের হাত পা কেটে দেবো এবং তোমাদের সবাইকে শূলবিদ্ধ করে ছাড়বো।’
ফির‘আউন বলল, ‘আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার পূর্বেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয় সে তোমাদের গুরু যে তোমাদের যাদু শিক্ষা দিয়েছে। অতএব অচিরেই তোমরা জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাতসমূহ ও তোমাদের পাসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব এবং অবশ্যই তোমাদের সকলকে
قَالَ آمَنتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ ۖ إِنَّهُ لَكَبِيرُكُمُ الَّذِي عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ فَلَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ۚ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُم مِّنْ خِلَافٍ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ
قَالَ ءَامَنتُمْ لَهُۥ قَبْلَ أَنْ ءَاذَنَ لَكُمْ إِنَّهُۥ لَكَبِيرُكُمُ ٱلَّذِى عَلَّمَكُمُ ٱلسِّحْرَ فَلَسَوْفَ تَعْلَمُونَ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُم مِّنْ خِلَٰفٍ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ
তারা বললো: ‘‘ক্ষতি নেই, আমরা আমাদের প্রভুর কাছে ফিরে যাবো।
তারা বলল, ‘কোন ক্ষতি নেই তাতে। অবশ্যই আমরা তো আমাদের রবের দিকেই ফিরে যাব।’
قَالُوا لَا ضَيْرَ ۖ إِنَّا إِلَىٰ رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ
قَالُوا۟ لَا ضَيْرَ إِنَّآ إِلَىٰ رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ
আমরা আকাঙ্ক্ষা করি, আমাদের প্রভু আমাদের গুনাহ্ খাতা ক্ষমা করে দেবেন, কারণ আমরা সবার আগে হয়েছি।’’
‘আমরা আশা করি যে, আমাদের রব আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেবেন, কারণ আমরা মুমিনদের মধ্যে প্রথম।’
إِنَّا نَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَايَانَا أَن كُنَّا أَوَّلَ الْمُؤْمِنِينَ
إِنَّا نَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَٰيَٰنَآ أَن كُنَّآ أَوَّلَ ٱلْمُؤْمِنِينَ
আমরা মূসার প্রতি অহি করে নির্দেশ দিয়েছিলাম: আমার দাসদের নিয়ে রাতের বেলায় বেরিয়ে পড়ো, তোমাদের কিন্তু পিছে থেকে ধাওয়া করা হবে।
আর আমি মূসার প্রতি এ মর্মে ওহী পাঠিয়েছিলাম যে, ‘আমার বান্দাদের নিয়ে রাত্রিকালে যাত্রা শুরু কর, নিশ্চয়ই তোমাদের পিছু নেয়া হবে।’
۞ وَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ مُوسَىٰ أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِي إِنَّكُم مُّتَّبَعُونَ
وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِىٓ إِنَّكُم مُّتَّبَعُونَ
তারপর ফেরাউন শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারী পাঠিয়ে দিলো,
অতঃপর ফির‘আউন নগরে- নগরে একত্রকারীদেরকে পাঠাল।
فَأَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ
فَأَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ
এই বলে যে, এরা তো অল্প কিছু লোক,
‘নিশ্চয়ই এরা তো ক্ষুদ্র একটি দল।’
إِنَّ هَٰؤُلَاءِ لَشِرْذِمَةٌ قَلِيلُونَ
إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ لَشِرْذِمَةٌ قَلِيلُونَ
এবং তারা আমাদের ক্রোধ উদ্রেককারী।
‘আর এরা অবশ্যই আমাদের ক্রোধের উদ্রেক ঘটিয়েছে।’
وَإِنَّهُمْ لَنَا لَغَائِظُونَ
وَإِنَّهُمْ لَنَا لَغَآئِظُونَ
আর আমরা সবাই তো সদা সতর্ক।
‘আর আমরা সবাই তো যথেষ্ট সতর্ক।’
وَإِنَّا لَجَمِيعٌ حَاذِرُونَ
وَإِنَّا لَجَمِيعٌ حَٰذِرُونَ
অত:পর আমরা তাদের (ফেরাউন এবং তার দলবলকে) বের করে এনেছি তাদের মনোরম উদ্যান আর ঝরণাধারাসমূহ থেকে,
তারপর আমি তাদেরকে উদ্যানমালা ও ঝর্ণাধারাসমূহ থেকে বের করে আনলাম।
فَأَخْرَجْنَاهُم مِّن جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ
فَأَخْرَجْنَٰهُم مِّن جَنَّٰتٍ وَعُيُونٍ
ধন - ভান্ডারসমূহ এবং বিলাসবহুল প্রাসাদসমূহ থেকে।
আর ধনভান্ডার ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান থেকে।
وَكُنُوزٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ
وَكُنُوزٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ
তাদের সাথে এমনটিই ঘটেছিল। অপরদিকে বনি ইসরাঈলকে আমরা সবকিছুর ওয়ারিশ বানিয়ে দিয়েছিলাম।
এরূপই এবং আমি বনী ইসরাঈলকে এসবের ওয়ারিস বানিয়েছিলাম।
كَذَٰلِكَ وَأَوْرَثْنَاهَا بَنِي إِسْرَائِيلَ
كَذَٰلِكَ وَأَوْرَثْنَٰهَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ
তারা সূর্যোদয়ের সময় তাদের পেছনে এসে পড়েছিল।
তারপর তারা সূর্যোদয়ের প্রাক্কালে তাদের পিছু নিল।
فَأَتْبَعُوهُم مُّشْرِقِينَ
فَأَتْبَعُوهُم مُّشْرِقِينَ
তারপর দুইদল যখন একে অপরকে দেখলো, মূসার সাথিরা বলে উঠলো: ‘নিশ্চয়ই আমরা ধরা পড়ে যাচ্ছি।’
অতঃপর যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সাথীরা বলল, অবশ্যই ‘আমরা ধরা পড়ে গেলাম!’
فَلَمَّا تَرَاءَى الْجَمْعَانِ قَالَ أَصْحَابُ مُوسَىٰ إِنَّا لَمُدْرَكُونَ
فَلَمَّا تَرَٰٓءَا ٱلْجَمْعَانِ قَالَ أَصْحَٰبُ مُوسَىٰٓ إِنَّا لَمُدْرَكُونَ
মূসা বললো: ‘না, কখনো নয়, নিশ্চয়ই আমার সাথে আমার প্রভু রয়েছেন, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।’
মূসা বলল, ‘কক্ষনো নয়; আমার সাথে আমার রব রয়েছেন। নিশ্চয় অচিরেই তিনি আমাকে পথনির্দেশ দেবেন’।
قَالَ كَلَّا ۖ إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ
قَالَ كَلَّآ إِنَّ مَعِىَ رَبِّى سَيَهْدِينِ
তখন আমরা অহির মাধ্যমে মূসাকে নির্দেশ দিলাম: ‘তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করো।’ সাথে সাথে তা বিভক্ত হয়ে গেলো এবং প্রত্যেক ভাগ বড় পর্বতের মতো হয়ে গেলো।
অতঃপর আমি মূসার প্রতি ওহী পাঠালাম, ‘তোমার লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত কর।’ ফলে তা বিভক্ত হয়ে গেল। তারপর প্রত্যেক ভাগ বিশাল পাহাড়সদৃশ হয়ে গেল।
فَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ مُوسَىٰ أَنِ اضْرِب بِّعَصَاكَ الْبَحْرَ ۖ فَانفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِيمِ
فَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱضْرِب بِّعَصَاكَ ٱلْبَحْرَ فَٱنفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَٱلطَّوْدِ ٱلْعَظِيمِ
তারপর আমরা সেখানে এনে হাজির করলাম পরের দলটিকে।
আর আমি অপর দলটিকে সেই জায়গায় নিকটবর্তী করলাম,
وَأَزْلَفْنَا ثَمَّ الْآخَرِينَ
وَأَزْلَفْنَا ثَمَّ ٱلْءَاخَرِينَ
আমরা মূসা আর তার সাথিদের সবাইকে উদ্ধার করলাম,
আর আমি মূসা ও তার সাথে যারা ছিল সকলকে উদ্ধার করলাম,
وَأَنجَيْنَا مُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُ أَجْمَعِينَ
وَأَنجَيْنَا مُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُۥٓ أَجْمَعِينَ
তারপর ডুবিয়ে মারলাম পরবর্তীদের।
তারপর অপর দলটিকে ডুবিয়ে দিলাম।
ثُمَّ أَغْرَقْنَا الْآخَرِينَ
ثُمَّ أَغْرَقْنَا ٱلْءَاخَرِينَ
নিশ্চয়ই এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, তবে তাদের অধিকাংশই নয়।
নিশ্চয় এর মধ্যে রয়েছে নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই নয়।
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
আর তোমার প্রভু অবশ্যি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়াবান।
আর নিশ্চয় তোমার রব তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
তাদের প্রতি ইবরাহিমের সংবাদ তিলাওয়াত করো।
আর তুমি তাদের নিকট ইবরাহীমের ঘটনা বর্ণনা কর,
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ إِبْرَاهِيمَ
وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ إِبْرَٰهِيمَ
যখন সে তার বাপ ও কওমকে বলেছিল: ‘তোমরা কোন্ জিনিসের ইবাদত করছো?’
যখন সে তার পিতা ও তার কওমকে বলেছিল, ‘তোমরা কিসের ইবাদাত কর?’
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا تَعْبُدُونَ
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِۦ مَا تَعْبُدُونَ
তারা বলেছিল: ‘আমরা ভাস্কর্যদের (মূর্তি দেবতাদের) পূজা করি এবং আমরা নিষ্ঠার সাথে তাদের প্রতি নত হই।’
তারা বলল, ‘আমরা মূর্তির পূজা করি। অতঃপর এগুলোর পূজায় আমরা নিষ্ঠার সাথে রত থাকি’।
قَالُوا نَعْبُدُ أَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عَاكِفِينَ
قَالُوا۟ نَعْبُدُ أَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عَٰكِفِينَ
ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা দোয়া করলে তারা কি তোমাদের দোয়া শুনে?
সে বলল, ‘যখন তোমরা ডাক তখন তারা কি তোমাদের সে ডাক শুনতে পায়?’
قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ
قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ
তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?’’
‘অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে’?
أَوْ يَنفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ
أَوْ يَنفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ
তারা বললো: ‘না, তবে আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের এভাবে করতে দেখেছি।’
তারা বলল, ‘বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি, তারা এরূপই করত’।
قَالُوا بَلْ وَجَدْنَا آبَاءَنَا كَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَ
قَالُوا۟ بَلْ وَجَدْنَآ ءَابَآءَنَا كَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَ
ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা কিসের পূজা উপাসনা করছো তা কি ভেবে দেখছোনা?
ইবরাহীম বলল, ‘তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, তোমরা যাদের পূজা কর’।
قَالَ أَفَرَأَيْتُم مَّا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ
قَالَ أَفَرَءَيْتُم مَّا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ
তোমরা এবং তোমাদের অতীত বাপ দাদারা?
‘তোমরা এবং তোমাদের অতীত পিতৃপুরুষেরা?’
أَنتُمْ وَآبَاؤُكُمُ الْأَقْدَمُونَ
أَنتُمْ وَءَابَآؤُكُمُ ٱلْأَقْدَمُونَ
তারা সবাই আমার দুশমন, রাব্বুল আলামিন ছাড়া।
‘সকল সৃষ্টির রব ছাড়া অবশ্যই তারা আমার শত্রু’।
فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِّي إِلَّا رَبَّ الْعَالَمِينَ
فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِّىٓ إِلَّا رَبَّ ٱلْعَٰلَمِينَ
কারণ, তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
‘যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনিই আমাকে হিদায়াত দিয়েছেন।’
الَّذِي خَلَقَنِي فَهُوَ يَهْدِينِ
ٱلَّذِى خَلَقَنِى فَهُوَ يَهْدِينِ
তিনি আমাকে খাওয়ান, পান করান।
‘আর যিনি আমাকে খাওয়ান এবং পান করান’।
وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِ
وَٱلَّذِى هُوَ يُطْعِمُنِى وَيَسْقِينِ
আমি রোগগ্রস্ত হলে তিনিই আমাকে নিরাময় করে দেন।
‘আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন যিনি আমাকে আরোগ্য করেন’।
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
তিনিই আমার মউত ঘটাবেন এবং পুনরায় হায়াত দেবেন।
‘আর যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন তারপর আমাকে জীবিত করবেন’।
وَالَّذِي يُمِيتُنِي ثُمَّ يُحْيِينِ
وَٱلَّذِى يُمِيتُنِى ثُمَّ يُحْيِينِ
তাঁর ব্যাপারে আমি আশা করি, তিনি আমাকে আমার গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দেবেন প্রতিদান দিবসে।
‘আর যিনি আশা করি, বিচার দিবসে আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেবেন’।
وَالَّذِي أَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لِي خَطِيئَتِي يَوْمَ الدِّينِ
وَٱلَّذِىٓ أَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لِى خَطِيٓـَٔتِى يَوْمَ ٱلدِّينِ
আমার প্রভু! আমাকে প্রজ্ঞা দান করো এবং মিলিত করো সালেহ্ লোকদের সাথে।
‘হে আমার রব, আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের সাথে শামিল করে দিন’।
رَبِّ هَبْ لِي حُكْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ
رَبِّ هَبْ لِى حُكْمًا وَأَلْحِقْنِى بِٱلصَّٰلِحِينَ
পরবর্তী লোকদের মধ্যে আমার সুখ্যাতি দান করো।
‘এবং পরবর্তীদের মধ্যে আমার সুনাম-সুখ্যাতি অব্যাহত রাখুন’,
وَاجْعَل لِّي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ
وَٱجْعَل لِّى لِسَانَ صِدْقٍ فِى ٱلْءَاخِرِينَ
আমাকে জান্নাতুন নায়ীমের ওয়ারিশদের অন্তরভুক্ত করো।
‘আর আপনি আমাকে সুখময় জান্নাতের ওয়ারিসদের অন্তর্ভুক্ত করুন’।
وَاجْعَلْنِي مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِيمِ
وَٱجْعَلْنِى مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ ٱلنَّعِيمِ
আমার বাবাকে ক্ষমা করে দাও, কারণ তিনি গোমরাহদেরই একজন।
‘আর আমার পিতাকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিল’।
وَاغْفِرْ لِأَبِي إِنَّهُ كَانَ مِنَ الضَّالِّينَ
وَٱغْفِرْ لِأَبِىٓ إِنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ
পুনরুত্থান দিবসে তুমি আমাকে অপমাণিত করোনা,
‘আর যেদিন পুনরুত্থিত করা হবে সেদিন আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না’।
وَلَا تُخْزِنِي يَوْمَ يُبْعَثُونَ
وَلَا تُخْزِنِى يَوْمَ يُبْعَثُونَ
যেদিন মাল সম্পদ এবং সন্তান - সন্ততি কোনো উপকারে আসবেনা,
‘যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন উপকারে আসবে না’।
يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ
يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ
তবে উপকার লাভ করবে সে, যে হাজির হবে শুদ্ধ শান্ত কলব নিয়ে।’’
‘তবে যে আল্লাহর কাছে আসবে সুস্থ অন্তরে’।
إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
إِلَّا مَنْ أَتَى ٱللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
সেদিন মুত্তাকিদের কাছেই নিয়ে আসা হবে জান্নাত।
আর মুত্তাকীদের জন্য জান্নাত নিকটবর্তী করা হবে,
وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ
وَأُزْلِفَتِ ٱلْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ
আর বিভ্রান্তদের জন্যে খুলে দেয়া হবে জাহান্নাম।
এবং পথভ্রষ্টকারীদের জন্য জাহান্নাম উন্মোচিত করা হবে।
وَبُرِّزَتِ الْجَحِيمُ لِلْغَاوِينَ
وَبُرِّزَتِ ٱلْجَحِيمُ لِلْغَاوِينَ
তাদের বলা হবে: ‘‘তারা এখন কোথায়, তোমরা যাদের ইবাদত (উপাসনা) করতে
আর তাদেরকে বলা হবে, ‘তারা কোথায় যাদের তোমরা ইবাদাত করতে’?
وَقِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ
وَقِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ
আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি এখন তোমাদের সাহায্য করতে পারবে, নাকি তারা আত্মরক্ষা করতে পারবে?’’
ছাড়া? তারা কি তোমাদেরকে সাহায্য করছে, না নিজেদের সাহায্য করতে পারছে?
مِن دُونِ اللَّهِ هَلْ يَنصُرُونَكُمْ أَوْ يَنتَصِرُونَ
مِن دُونِ ٱللَّهِ هَلْ يَنصُرُونَكُمْ أَوْ يَنتَصِرُونَ
তারপর তাদের এবং বিপথগামীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে মাথা নীচের দিকে দিয়ে।
অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টকারীদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে,
فَكُبْكِبُوا فِيهَا هُمْ وَالْغَاوُونَ
فَكُبْكِبُوا۟ فِيهَا هُمْ وَٱلْغَاوُۥنَ
এবং ইবলিস বাহিনীর সবাইকেও।
আর ইবলীসের সকল সৈন্যবাহিনীকে।
وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ
وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ
তারা সেখানে তর্কাতর্কি করে বলবে:
সেখানে পরস্পর ঝগড়া করতে গিয়ে তারা বলবে,
قَالُوا وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ
قَالُوا۟ وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ
আল্লাহর কসম, আমরা স্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত ছিলাম।
আল্লাহর কসম! আমরা তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিলাম',
تَاللَّهِ إِن كُنَّا لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
تَٱللَّهِ إِن كُنَّا لَفِى ضَلَٰلٍ مُّبِينٍ
যখন আমরা তোমাদেরকে রাব্বুল আলামিনের বরাবর মনে করতাম।
‘যখন আমরা তোমাদেরকে সকল সৃষ্টির রবের সমকক্ষ বানাতাম’।
إِذْ نُسَوِّيكُم بِرَبِّ الْعَالَمِينَ
إِذْ نُسَوِّيكُم بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
অপরাধীরাই আমাদের বিপথগামী করেছিল।
‘আর অপরাধীরাই শুধু আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল’;
وَمَا أَضَلَّنَا إِلَّا الْمُجْرِمُونَ
وَمَآ أَضَلَّنَآ إِلَّا ٱلْمُجْرِمُونَ
ফলে আজ আমাদের কোনো শাফায়াতকারী নেই,
‘অতএব, আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই’।
فَمَا لَنَا مِن شَافِعِينَ
فَمَا لَنَا مِن شَٰفِعِينَ
এবং কোনো প্রাণের বন্ধুও নেই।
‘এবং কোন অন্তরঙ্গ বন্ধুও নেই’।
وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍ
وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍ
আমরা যদি একবার সুযোগ পেতাম ফিরে যাবার, তাহলে অবশ্যি হয়ে যেতাম।
‘হায়, আমাদের যদি আরেকটি সুযোগ হত, তবে আমরা মুমিনদের অর্ন্তভুক্ত হতাম’।
فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَكُونَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ
এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশ নয়।
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
নূহের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
নূহ-এর কওম রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল।
كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ الْمُرْسَلِينَ
كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ ٱلْمُرْسَلِينَ
স্মরণ করো, তাদের ভাই নূহ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
যখন তাদের ভাই নূহ তাদেরকে বলেছিল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রাসূল’।
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
তোমাদের (সতর্ক করার) একাজ করার জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
‘আর এর উপর আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না; আমার প্রতিদান শুধু সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’’
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো? তোমাকে অনুসরণ করে তো নিম্ন শ্রেণীর লোকেরা।’
‘তারা বলল, ‘আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব, অথচ নিম্নশ্রেণীর লোকেরা তোমাকে অনুসরণ করছে’?
۞ قَالُوا أَنُؤْمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الْأَرْذَلُونَ
قَالُوٓا۟ أَنُؤْمِنُ لَكَ وَٱتَّبَعَكَ ٱلْأَرْذَلُونَ
নূহ বলেছিল: ‘‘তারা (আগে) কী করতো তা আমি জানিনা।
নূহ বলল, ‘তারা কি করে তা আমার কী প্রয়োজন’?
قَالَ وَمَا عِلْمِي بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
قَالَ وَمَا عِلْمِى بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ
তাদের হিসাব নেয়ার দায়িত্ব তো আল্লাহর, যদি তোমরা বুঝতে!
‘তাদের হিসাব গ্রহণ তো কেবল আমার রবের দায়িত্বে, যদি তোমরা জানতে’।
إِنْ حِسَابُهُمْ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّي ۖ لَوْ تَشْعُرُونَ
إِنْ حِسَابُهُمْ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّى لَوْ تَشْعُرُونَ
মুমিনদের আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দেয়া আমার কাজ নয়।
‘আর আমি তো মুমিনদেরকে তাড়িয়ে দেয়ার নই’।
وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الْمُؤْمِنِينَ
وَمَآ أَنَا۠ بِطَارِدِ ٱلْمُؤْمِنِينَ
আমি তো একজন স্পষ্ট সতর্ককারী ছাড়া আর কিছু নই।’’
‘আমি তো কেবল সুস্পষ্ট সতর্ককারী’।
إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ مُّبِينٌ
إِنْ أَنَا۠ إِلَّا نَذِيرٌ مُّبِينٌ
তখন তারা বলেছিল: ‘হে নূহ! তুমি যদি এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে পাথর নিক্ষেপ করে যাদের মারা হয়েছে তুমিও তাদের অন্তরভুক্ত হবে।’
তারা বলল, ‘হে নূহ, তুমি যদি বিরত না হও তবে অবশ্যই তুমি প্রস্তরাঘাতে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত হবে’।
قَالُوا لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَا نُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ الْمَرْجُومِينَ
قَالُوا۟ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَٰنُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمَرْجُومِينَ
নূহ ফরিয়াদ করে বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার কওম আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
নূহ বলল, ‘হে আমার রব, আমার কওম আমাকে অস্বীকার করেছে’;
قَالَ رَبِّ إِنَّ قَوْمِي كَذَّبُونِ
قَالَ رَبِّ إِنَّ قَوْمِى كَذَّبُونِ
সুতরাং তুমি আমার ও তাদের মাঝে একটা চূড়ান্ত ফায়সালা করে দাও আর নাজাত দাও আমাকে এবং আমার সাথি মুমিনদের।’’
‘সুতরাং আপনি আমার ও তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন আর আমাকে ও আমার সাথে যেসব , আছে তাদেরকে রক্ষা করুন’।
فَافْتَحْ بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ فَتْحًا وَنَجِّنِي وَمَن مَّعِيَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
فَٱفْتَحْ بَيْنِى وَبَيْنَهُمْ فَتْحًا وَنَجِّنِى وَمَن مَّعِىَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ
তখন আমি তাকে এবং তার সাথিদেরকে নৌযানে বোঝাই করে রক্ষা করেছি,
অতঃপর আমি তাকে এবং তার সাথে যারা বোঝাই নৌকায় ছিল তাদেরকে নাজাত দিলাম।
فَأَنجَيْنَاهُ وَمَن مَّعَهُ فِي الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ
فَأَنجَيْنَٰهُ وَمَن مَّعَهُۥ فِى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِ
আর বাকি সবাইকে ডুবিয়ে দিয়েছি পানিতে।
তারপর বাকীদের ডুবিয়ে দিলাম।
ثُمَّ أَغْرَقْنَا بَعْدُ الْبَاقِينَ
ثُمَّ أَغْرَقْنَا بَعْدُ ٱلْبَاقِينَ
নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন, আর তাদের বেশীর ভাগ ছিল না।
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, পরম দয়াবান।
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
আদ জাতিও প্রত্যাখ্যান করেছিল রসূলদের।
‘আদ জাতি রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল,
كَذَّبَتْ عَادٌ الْمُرْسَلِينَ
كَذَّبَتْ عَادٌ ٱلْمُرْسَلِينَ
স্মরণ করো, তাদের ভাই হুদ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
যখন তাদের ভাই হূদ তাদেরকে বলেছিল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ هُودٌ أَلَا تَتَّقُونَ
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ هُودٌ أَلَا تَتَّقُونَ
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রাসূল’।
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘সুতরাং আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
আমি তো তোমাদের (সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা, আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
‘আর এর উপর আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না; আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
তোমরা কেন প্রতিটি উঁচু স্থানে অনর্থক স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করছো?
‘তোমরা কি প্রতিটি উঁচু স্থানে বেহুদা স্তম্ভ নির্মাণ করছ’?
أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ آيَةً تَعْبَثُونَ
أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ ءَايَةً تَعْبَثُونَ
তোমরা এমন সব শৈল্পিক প্রাসাদ নির্মাণ করছো যেনো তোমরা এখানে চিরস্থায়ী হবে!
‘আর তোমরা সুদৃঢ় প্রাসাদ নির্মাণ করছ, যেন তোমরা স্থায়ী হবে’।
وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ
وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ
যখন তোমরা ক্ষমতা পাও, তখন স্বৈরাচারি ক্ষমতা প্রয়োগ করো।
‘আর তোমরা যখন কাউকে পাকড়াও কর, পাকড়াও কর স্বেচ্ছাচারী হয়ে’।
وَإِذَا بَطَشْتُم بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ
وَإِذَا بَطَشْتُم بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ
সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে অনুসরণ কর’।
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
ভয় করো তাঁকে যিনি তোমাদের সব (উত্তম সামগ্রী) দিয়ে সাহায্য করেছেন যা তোমরা জানো।
আর তাঁকে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন এমন কিছু দিয়ে, যা তোমরা জান'।
وَاتَّقُوا الَّذِي أَمَدَّكُم بِمَا تَعْلَمُونَ
وَٱتَّقُوا۟ ٱلَّذِىٓ أَمَدَّكُم بِمَا تَعْلَمُونَ
তিনি তোমাদের সাহায্য করেছেন পশু সম্পদ এবং সন্তান সন্ততি দিয়ে,
‘তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন চতুষ্পদ জন্তু ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা’,
أَمَدَّكُم بِأَنْعَامٍ وَبَنِينَ
أَمَدَّكُم بِأَنْعَٰمٍ وَبَنِينَ
বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারা দিয়ে।
‘আর উদ্যান ও ঝর্ণা দ্বারা’।
وَجَنَّاتٍ وَعُيُونٍ
وَجَنَّٰتٍ وَعُيُونٍ
আমি আশংকা করছি তোমাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় কোনো আযাব এসে পড়ার।’’
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের উপর এক মহাদিবসের আযাবের ভয় করছি’।
إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
إِنِّىٓ أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি আমাদের ওয়ায করো কিংবা না করো দুটোই সমান।
তারা বলল, ‘তুমি আমাদের উপদেশ দাও অথবা না দাও, উভয়ই আমাদের জন্য সমান’।
قَالُوا سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُن مِّنَ الْوَاعِظِينَ
قَالُوا۟ سَوَآءٌ عَلَيْنَآ أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُن مِّنَ ٱلْوَٰعِظِينَ
আগেকার লোকদের এটাই (ওয়ায করা বা উপদেশ দেয়াটাই) স্বভাব।
‘এটি তো পূর্ববর্তীদেরই চরিত্র,।
إِنْ هَٰذَا إِلَّا خُلُقُ الْأَوَّلِينَ
إِنْ هَٰذَآ إِلَّا خُلُقُ ٱلْأَوَّلِينَ
যাদের শাস্তি দেয়া হবে আমরা তাদের অন্তরভুক্ত নই।’’
‘আর আমরা আযাবপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হব না’।
وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ
وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ
এভাবে তারা তাকে (হুদকে) প্রত্যাখ্যান করে, ফলে আমরাও তাদের হালাক (ধ্বংস) করে দেই। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করল, ফলে তাদেরকে আমি ধ্বংস করে দিলাম; নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে। আর তাদের অধিকাংশ ছিল না।
فَكَذَّبُوهُ فَأَهْلَكْنَاهُمْ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
فَكَذَّبُوهُ فَأَهْلَكْنَٰهُمْ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর অতীব দয়াবান।
আর নিশ্চয় তোমার রব তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
সামুদ জাতিও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
সামূদ জাতি রাসুলদেরকে অস্বীকার করেছিল,
كَذَّبَتْ ثَمُودُ الْمُرْسَلِينَ
كَذَّبَتْ ثَمُودُ ٱلْمُرْسَلِينَ
স্মরণ করো, তাদের ভাই সালেহ্ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
যখন তাদের ভাই সালিহ তাদেরকে বলেছিল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ صَالِحٌ أَلَا تَتَّقُونَ
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ صَٰلِحٌ أَلَا تَتَّقُونَ
আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল’;
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
(তোমাদের সতর্ক করার) এ কাজের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
‘আর এর উপর আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না; আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
তোমরা এখানে যে হালে আছো, তোমাদের কি এ রকম নিরাপদ ছেড়ে দেয়া হবে?
‘তোমাদেরকে কি এখানে যা আছে তাতে নিরাপদে ছেড়ে দেয়া হবে’?
أَتُتْرَكُونَ فِي مَا هَاهُنَا آمِنِينَ
أَتُتْرَكُونَ فِى مَا هَٰهُنَآ ءَامِنِينَ
এসব বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারার মধ্যে?
‘উদ্যান ও ঝর্ণায়’,
فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ
فِى جَنَّٰتٍ وَعُيُونٍ
এসব (সবুজ) শস্যক্ষেত আর সুকোমল ছড়া বিশিষ্ট খেজুরের বাগানে?
‘আর ক্ষেত-খামার ও কোমল শীষবিশিষ্ট খেজুর বাগানে’?
وَزُرُوعٍ وَنَخْلٍ طَلْعُهَا هَضِيمٌ
وَزُرُوعٍ وَنَخْلٍ طَلْعُهَا هَضِيمٌ
তোমরা তো দক্ষতার সাথে পাহাড় কেটে আবাস নির্মাণ করছো।
‘আর তোমরা নৈপুণ্যের সাথে পাহাড় কেটে বাড়ী নির্মাণ করছ’।
وَتَنْحِتُونَ مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا فَارِهِينَ
وَتَنْحِتُونَ مِنَ ٱلْجِبَالِ بُيُوتًا فَٰرِهِينَ
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘সুতরাং আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
সীমা লঙ্ঘনকারীদের হুকুম মতো চলোনা,
‘এবং সীমালংঘনকারীদের নির্দেশের আনুগত্য করো না’-
وَلَا تُطِيعُوا أَمْرَ الْمُسْرِفِينَ
وَلَا تُطِيعُوٓا۟ أَمْرَ ٱلْمُسْرِفِينَ
যারা দেশে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়াচ্ছে এবং কোনো প্রকার সংশোধনের কাজ করছেনা।’’
‘যারা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না’।
الَّذِينَ يُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ
ٱلَّذِينَ يُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।
তারা বলল, ‘তুমিতো যাদুগ্রস্তদের একজন।
قَالُوا إِنَّمَا أَنتَ مِنَ الْمُسَحَّرِينَ
قَالُوٓا۟ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلْمُسَحَّرِينَ
তুমি তো আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে (তোমার রসূল হবার) কোনো প্রমাণ হাজির করো।’’
‘তুমি তো কেবল আমাদের মত মানুষ, সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে কোন নিদর্শন নিয়ে এসো’।
مَا أَنتَ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا فَأْتِ بِآيَةٍ إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ
مَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا فَأْتِ بِـَٔايَةٍ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ
তখন সে বলেছিল: ‘‘(প্রমাণ হলো) এই উটনী। কুয়ার পানি পানে এর জন্যেও পালা থাকবে, তোমাদের জন্যেও পালা থাকবে নির্দিষ্ট দিনে।
সালিহ বলল, ‘এটি একটি উষ্ট্রী; তার জন্য পানি পানের পালা একদিন আর তোমাদের পানি পানের পালা আরেক নির্দিষ্ট দিনে’।
قَالَ هَٰذِهِ نَاقَةٌ لَّهَا شِرْبٌ وَلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ
قَالَ هَٰذِهِۦ نَاقَةٌ لَّهَا شِرْبٌ وَلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ
এর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তোমরা একে স্পর্শও করোনা, করলে তোমাদের পাকড়াও করবে এক মহাদিবসের আযাব।’’
‘আর তোমরা তাকে কোন অনিষ্ট কিছু করো না; যদি কর তবে এক মহাদিবসের আযাব তোমাদেরকে পেয়ে বসবে’।
وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَظِيمٍ
وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوٓءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَظِيمٍ
কিন্তু তারা সেটিকে হত্যা করলো। পরিণামে তারা হলো লাঞ্ছিত।
অতঃপর তারা সেটি জবেহ করল; ফলে তারা অনুতপ্ত হল।
فَعَقَرُوهَا فَأَصْبَحُوا نَادِمِينَ
فَعَقَرُوهَا فَأَصْبَحُوا۟ نَٰدِمِينَ
আর তাদের গ্রাস করলো আযাব। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
অতএব আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল, নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে, আর তাদের অধিকাংশ ছিল না।
فَأَخَذَهُمُ الْعَذَابُ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
فَأَخَذَهُمُ ٱلْعَذَابُ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু্।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
লুতের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
লূতের সম্প্রদায় রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল।
كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍ الْمُرْسَلِينَ
كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍ ٱلْمُرْسَلِينَ
স্মরণ করো, তাদের ভাই লুত তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
যখন তাদেরকে তাদের ভাই লূত বলেছিল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ لُوطٌ أَلَا تَتَّقُونَ
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ لُوطٌ أَلَا تَتَّقُونَ
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল’।
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
‘আর আমি এর উপর তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
জগতের মধ্যে তোমরাই পুরুষদের সাথে যৌনকর্ম করছো,
‘সৃষ্টিকুলের মধ্যে তোমরা কি কেবল পুরুষদের সাথে উপগত হও’?
أَتَأْتُونَ الذُّكْرَانَ مِنَ الْعَالَمِينَ
أَتَأْتُونَ ٱلذُّكْرَانَ مِنَ ٱلْعَٰلَمِينَ
আর তোমরা বর্জন করছো তোমাদের স্ত্রীদের, যাদেরকে তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা এক চরম সীমালঙ্ঘনকারী কওম।’’
‘আর তোমাদের রব তোমাদের জন্য যে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে তোমরা ত্যাগ কর, বরং তোমরা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়’।
وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُم مِّنْ أَزْوَاجِكُم ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ عَادُونَ
وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُم مِّنْ أَزْوَٰجِكُم بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ عَادُونَ
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘হে লুত! তুমি যদি তোমার এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে অবশ্যি তোমাকে (এ দেশ থেকে) বের করে দেয়া হবে।’
তারা বলল, ‘হে লূত, তুমি যদি বিরত না হও, তাহলে তুমি অবশ্যই বহিস্কৃতদের অন্তর্ভুক্ত হবে’।
قَالُوا لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَا لُوطُ لَتَكُونَنَّ مِنَ الْمُخْرَجِينَ
قَالُوا۟ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَٰلُوطُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُخْرَجِينَ
লুত বলেছিল: ‘‘আমি তোমাদের এ কাজকে অবশ্যি ঘৃণা করি।
লূত বলল, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কাজকে ঘৃণা করি’।
قَالَ إِنِّي لِعَمَلِكُم مِّنَ الْقَالِينَ
قَالَ إِنِّى لِعَمَلِكُم مِّنَ ٱلْقَالِينَ
হে আমার প্রভু! আমাকে এবং আমার পরিবার পরিজনকে তাদের এ কর্মকান্ড থেকে রক্ষা করো।’’
‘হে আমার রব, তারা যা করছে, তা থেকে আমাকে ও আমার পরিবার-পরিজনকে তুমি রক্ষা কর’।
رَبِّ نَجِّنِي وَأَهْلِي مِمَّا يَعْمَلُونَ
رَبِّ نَجِّنِى وَأَهْلِى مِمَّا يَعْمَلُونَ
ফলে, আমরা তাকে এবং তার পরিবারের সবাইকে নাজাত দিয়েছিলাম
অতঃপর আমি তাকে ও তার পরিবার-পরিজন সবাইকে রক্ষা করলাম।
فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ أَجْمَعِينَ
فَنَجَّيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ أَجْمَعِينَ
এক বৃদ্ধাকে ছাড়া, সে হয়েছিল অবস্থানকারীদের অন্তরভুক্ত।
পেছনে অবস্থানকারিণী এক বৃদ্ধা ছাড়া।
إِلَّا عَجُوزًا فِي الْغَابِرِينَ
إِلَّا عَجُوزًا فِى ٱلْغَٰبِرِينَ
তারপর বাকি সবাইকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
তারপর অন্যদেরকে আমি ধ্বংস করে দিলাম।
ثُمَّ دَمَّرْنَا الْآخَرِينَ
ثُمَّ دَمَّرْنَا ٱلْءَاخَرِينَ
আমরা তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম এক চূড়ান্ত বর্ষণ! যাদের সতর্ক করা হয়েছিল তাদের জন্যে এ বর্ষণ ছিলো কতো যে নিকৃষ্ট!
আর আমি তাদের উপর শিলাবৃষ্টি বর্ষণ করলাম। সুতরাং সেই বৃষ্টি ভয় প্রদর্শিতদের জন্য কতইনা মন্দ ছিল!
وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًا ۖ فَسَاءَ مَطَرُ الْمُنذَرِينَ
وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًا فَسَآءَ مَطَرُ ٱلْمُنذَرِينَ
এর মধ্যেও রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
নিশ্চয় এতে এক নিদর্শন রয়েছে। আর তাদের অধিকাংশই ছিল না।
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
তোমার প্রভু, নিশ্চিতই তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
আইকাবাসীরাও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
আইকার অধিবাসীরা রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল।
كَذَّبَ أَصْحَابُ الْأَيْكَةِ الْمُرْسَلِينَ
كَذَّبَ أَصْحَٰبُ لْـَٔيْكَةِ ٱلْمُرْسَلِينَ
স্মরণ করো, শুয়াইব তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
যখন শু‘আইব তাদেরকে বলল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَيْبٌ أَلَا تَتَّقُونَ
إِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَيْبٌ أَلَا تَتَّقُونَ
আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল’।
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের উপর।
‘আর আমি এর উপর তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
মাপ পূর্ণ করে দেবে। যারা মাপে কম দেয় তোমরা তাদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।
‘মাপ পূর্ণ করে দাও এবং যারা মাপে ঘাটতি করে, তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না’।
۞ أَوْفُوا الْكَيْلَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُخْسِرِينَ
أَوْفُوا۟ ٱلْكَيْلَ وَلَا تَكُونُوا۟ مِنَ ٱلْمُخْسِرِينَ
ওজন দেবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়।
‘আর সঠিক দাঁড়ি পাল্লায় ওজন কর’।
وَزِنُوا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيمِ
وَزِنُوا۟ بِٱلْقِسْطَاسِ ٱلْمُسْتَقِيمِ
মানুষকে তাদের জিনিসপত্র কম দিওনা এবং দেশে ফাসাদ সৃষ্টিকারী হয়োনা।
আর লোকদেরকে তাদের প্রাপ্যবস্তু কম দিও না এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করো না'।
وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ
وَلَا تَبْخَسُوا۟ ٱلنَّاسَ أَشْيَآءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا۟ فِى ٱلْأَرْضِ مُفْسِدِينَ
সেই মহান সত্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের আগে যারা বিগত হয়েছে তাদেরও সৃষ্টি করেছেন।’’
‘যিনি তোমাদেরকে ও পূর্ববর্তী প্রজন্মসমূহকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর তাকওয়া অবলম্বন কর’।
وَاتَّقُوا الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالْجِبِلَّةَ الْأَوَّلِينَ
وَٱتَّقُوا۟ ٱلَّذِى خَلَقَكُمْ وَٱلْجِبِلَّةَ ٱلْأَوَّلِينَ
তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।
তারা বলল, ‘তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত’।
قَالُوا إِنَّمَا أَنتَ مِنَ الْمُسَحَّرِينَ
قَالُوٓا۟ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلْمُسَحَّرِينَ
তুমি তো আমাদেরই মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। আমরা তো মনে করি তুমি মিথ্যাবাদীদেরই একজন।
‘তুমি কেবল আমাদের মত একজন মানুষ। আর আমরা তোমাকে অবশ্যই মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করি’।
وَمَا أَنتَ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا وَإِن نَّظُنُّكَ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ
وَمَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا وَإِن نَّظُنُّكَ لَمِنَ ٱلْكَٰذِبِينَ
তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আকাশ ভেঙ্গে তার একটি খন্ড আমাদের উপর ফেলো।’’
‘অতএব, তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে আসমান থেকে এক টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও’।
فَأَسْقِطْ عَلَيْنَا كِسَفًا مِّنَ السَّمَاءِ إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ
فَأَسْقِطْ عَلَيْنَا كِسَفًا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ
তখন সে বলেছিল: ‘তোমরা যা করছো আমার প্রভু তা ভালোভাবেই জানেন।’
সে বলল, ‘তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আমার রব অধিক জ্ঞাত’।
قَالَ رَبِّي أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ
قَالَ رَبِّىٓ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ
এভাবে তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব তাদের গ্রাস করে নেয়। সেটা ছিলো এক ভয়াবহ দিনের আযাব।
অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করল। ফলে তাদেরকে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব পাকড়াও করল। অবশ্যই তা ছিল এক মহা দিবসের আযাব।
فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمْ عَذَابُ يَوْمِ الظُّلَّةِ ۚ إِنَّهُ كَانَ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمْ عَذَابُ يَوْمِ ٱلظُّلَّةِ إِنَّهُۥ كَانَ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
নিশ্চয় এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে। আর তাদের অধিকাংশই ছিল না।
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।
আর নিশ্চয় তোমার রব তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
নিশ্চয়ই এ কুরআন রাব্বুল আলামিনের নাযিলকৃত।
আর নিশ্চয় এ কুরআন সৃষ্টিকুলের রবেরই নাযিলকৃত।
وَإِنَّهُ لَتَنزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ
وَإِنَّهُۥ لَتَنزِيلُ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
এটি নিয়ে নাযিল হয়েছে রুহুল আমিন (জিবরিল)
বিশ্বস্ত আত্মা* এটা নিয়ে অবতরণ করেছে। * এখানে 'বিশ্বস্ত আত্মা'দ্বারা জিবরীল (আ:) কে বুঝানো হয়েছে।
نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ
نَزَلَ بِهِ ٱلرُّوحُ ٱلْأَمِينُ
তোমার হৃদয়ে, যাতে করে তুমি হতে পারো একজন সতর্ককারী।
তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।
عَلَىٰ قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِينَ
عَلَىٰ قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ ٱلْمُنذِرِينَ
(সেটি নাযিল করা হয়েছে) সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।
সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُّبِينٍ
بِلِسَانٍ عَرَبِىٍّ مُّبِينٍ
আগের কিতাবগুলোতেও এর উল্লেখ আছে।
আর অবশ্যই তা রয়েছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।
وَإِنَّهُ لَفِي زُبُرِ الْأَوَّلِينَ
وَإِنَّهُۥ لَفِى زُبُرِ ٱلْأَوَّلِينَ
এটা কি তাদের জন্যে একটা নিদর্শন নয় যে, এ বিষয়ে অবগত রয়েছে বনি ইসরাঈলের আলেমরা?
এটা কি তাদের জন্য একটি নিদর্শন নয় যে, বনী ইসরাঈলের পন্ডিতগণ তা জানে?
أَوَلَمْ يَكُن لَّهُمْ آيَةً أَن يَعْلَمَهُ عُلَمَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ
أَوَلَمْ يَكُن لَّهُمْ ءَايَةً أَن يَعْلَمَهُۥ عُلَمَٰٓؤُا۟ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ
আমরা যদি এ (কুরআন) নাযিল করতাম কোনো অনারবের উপর,
আর আমি যদি এটাকে কোন অনারবের প্রতি নাযিল করতাম।
وَلَوْ نَزَّلْنَاهُ عَلَىٰ بَعْضِ الْأَعْجَمِينَ
وَلَوْ نَزَّلْنَٰهُ عَلَىٰ بَعْضِ ٱلْأَعْجَمِينَ
আর সে যদি এটি তাদের কাছে পাঠ করতো, তবে তারা এর প্রতি ঈমান আনতোনা।
অতঃপর সে তা তাদের নিকট পাঠ করত। তবুও তারা এতে হত না।
فَقَرَأَهُ عَلَيْهِم مَّا كَانُوا بِهِ مُؤْمِنِينَ
فَقَرَأَهُۥ عَلَيْهِم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ مُؤْمِنِينَ
এভাবেই আমরা অপরাধীদের অন্তরে (অবিশ্বাস) সঞ্চার করে দিয়েছি।
এভাবেই আমি বিষয়টি অপরাধীদের অন্তরে সঞ্চার করেছি।
كَذَٰلِكَ سَلَكْنَاهُ فِي قُلُوبِ الْمُجْرِمِينَ
كَذَٰلِكَ سَلَكْنَٰهُ فِى قُلُوبِ ٱلْمُجْرِمِينَ
তারা ঈমান আনবেনা যতোদিন না সচোক্ষে দেখতে পায় বেদনাদায়ক আযাব।
যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এতে ঈমান আনবে না।
لَا يُؤْمِنُونَ بِهِ حَتَّىٰ يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ
لَا يُؤْمِنُونَ بِهِۦ حَتَّىٰ يَرَوُا۟ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَلِيمَ
হ্যাঁ, সেটা এসে পড়বে আকস্মিক এবং তারা টেরই পাবেনা।
সুতরাং তা আকস্মিকভাবে তাদের নিকট এসে পড়বে, অথচ তারা উপলদ্ধি করতে পারবে না।
فَيَأْتِيَهُم بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ
فَيَأْتِيَهُم بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ
তখন তারা বলবে: ‘আমাদের কি অবকাশ দেয়া হবে?’
তখন তারা বলবে, ‘আমাদেরকে কি অবকাশ দেয়া হবে?’
فَيَقُولُوا هَلْ نَحْنُ مُنظَرُونَ
فَيَقُولُوا۟ هَلْ نَحْنُ مُنظَرُونَ
তারা কি দ্রুত আগমন চায় আমাদের আযাবের?
তাহলে কি তারা আমার আযাব ত্বরান্বিত করতে চায়?
أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ
أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ
তুমি কি দেখোনি, আমরা তো অনেক বছর তাদের ভোগ বিলাস করতে দিয়েছি।
তুমি কি লক্ষ্য করেছ, আমি যদি তাদেরকে দীর্ঘকাল ভোগ-বিলাসের সুযোগ দিতাম।
أَفَرَأَيْتَ إِن مَّتَّعْنَاهُمْ سِنِينَ
أَفَرَءَيْتَ إِن مَّتَّعْنَٰهُمْ سِنِينَ
তার পরেই এসেছিল সেই জিনিস (তাদের ধ্বংস) যার ওয়াদা তাদের দেয়া হয়েছিল।
অতঃপর তাদেরকে যে বিষয়ে ওয়াদা করা হয়েছে, তা তাদের নিকট এসে পড়ত,
ثُمَّ جَاءَهُم مَّا كَانُوا يُوعَدُونَ
ثُمَّ جَآءَهُم مَّا كَانُوا۟ يُوعَدُونَ
তাদের ভোগ বিলাসের উপকরণসমূহ তাদের কোনো কাজেই আসেনি।
তখন যা তাদের ভোগ-বিলাসের জন্য দেয়া হয়েছিল, তা তাদের কোনই কাজে আসত না।
مَا أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا يُمَتَّعُونَ
مَآ أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يُمَتَّعُونَ
আমরা এমন কোনো জনপদ হালাক করিনি যার জন্যে সতর্ককারীরা ছিলনা।
আর আমি এমন কোন জনপদকে ধ্বংস করিনি, যাতে কোন সতর্ককারী আসেনি।
وَمَا أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا لَهَا مُنذِرُونَ
وَمَآ أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا لَهَا مُنذِرُونَ
এটি একটি উপদেশ। (তাদের ব্যাপারে) আমরা অন্যায় আচরণ করিনি।
এটা উপদেশস্বরূপ; আর আমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।
ذِكْرَىٰ وَمَا كُنَّا ظَالِمِينَ
ذِكْرَىٰ وَمَا كُنَّا ظَٰلِمِينَ
এ কুরআন নিয়ে শয়তানরা নাযিল হয়নি।
আর শয়তানরা তা নিয়ে অবতরণ করেনি।
وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ الشَّيَاطِينُ
وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ ٱلشَّيَٰطِينُ
এ কাজের তারা যোগ্যও নয় এবং এ কাজের সামর্থও তাদের নেই।
আর এটা তাদের জন্য উচিৎ নয় এবং তারা এর ক্ষমতাও রাখে না।
وَمَا يَنبَغِي لَهُمْ وَمَا يَسْتَطِيعُونَ
وَمَا يَنۢبَغِى لَهُمْ وَمَا يَسْتَطِيعُونَ
তাদেরকে তো এটা শোনার সুযোগ থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
নিশ্চয়ই তাদেরকে এর শ্রবণ থেকে আড়ালে রাখা হয়েছে।
إِنَّهُمْ عَنِ السَّمْعِ لَمَعْزُولُونَ
إِنَّهُمْ عَنِ ٱلسَّمْعِ لَمَعْزُولُونَ
সুতরাং তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ্ ডেকোনা, ডাকলে দন্ডপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বে।
অতএব, তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহকে ডেকো না, তাহলে তুমি আযাবপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
فَلَا تَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَٰهًا آخَرَ فَتَكُونَ مِنَ الْمُعَذَّبِينَ
فَلَا تَدْعُ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ فَتَكُونَ مِنَ ٱلْمُعَذَّبِينَ
তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করো।
আর তুমি তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক কর।
وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ ٱلْأَقْرَبِينَ
আর যারা তোমার অনুসরণ করে সেসব মুমিনদের প্রতি তুমি স্নেহ - মমতার ডানা অবনমিত করো।
আর মুমিনদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করে, তাদের প্রতি তুমি তোমার বাহুকে অবনত কর।
وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
وَٱخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ
তারা যদি তোমার অবাধ্য হয়, তবে তুমি বলো: ‘তোমাদের কর্মকান্ড থেকে আমি দায়মুক্ত।’
তারপর যদি তারা তোমার অবাধ্য হয়, তাহলে বল, ‘তোমরা যা কর, নিশ্চয় আমি তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত’।
فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّي بَرِيءٌ مِّمَّا تَعْمَلُونَ
فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّى بَرِىٓءٌ مِّمَّا تَعْمَلُونَ
মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবানের উপর তাওয়াক্কুল করো,
‘আর তুমি মহাপরাক্রমশালী পরম দয়ালুর উপর তাওয়াক্কুল কর,
وَتَوَكَّلْ عَلَى الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ
وَتَوَكَّلْ عَلَى ٱلْعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِ
যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দাঁড়াও (সালাতে)।
‘যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দন্ডায়মান হও’
الَّذِي يَرَاكَ حِينَ تَقُومُ
ٱلَّذِى يَرَىٰكَ حِينَ تَقُومُ
তাছাড়া সাজদাকারীদের সাথে তোমার উঠাবসাও তিনি দেখেন।
‘এবং সিজদাকারীদের মধ্যে তোমার উঠাবসা’।
وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ
وَتَقَلُّبَكَ فِى ٱلسَّٰجِدِينَ
তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
‘নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী’।
إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ
(হে মানুষ!) তোমাদের সংবাদ দেবো কি, শয়তানরা কার ঘাড়ে সওয়ার হয়?
‘আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দেব, কার নিকট শয়তানরা অবতীর্ণ হয়’?
هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَىٰ مَن تَنَزَّلُ الشَّيَاطِينُ
هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَىٰ مَن تَنَزَّلُ ٱلشَّيَٰطِينُ
তারা তো সওয়ার হয় প্রত্যেক কট্টর মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের ঘাড়ে।
তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক চরম মিথ্যাবাদী ও পাপীর নিকট।
تَنَزَّلُ عَلَىٰ كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ
تَنَزَّلُ عَلَىٰ كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ
তারা কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
তারা কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
يُلْقُونَ السَّمْعَ وَأَكْثَرُهُمْ كَاذِبُونَ
يُلْقُونَ ٱلسَّمْعَ وَأَكْثَرُهُمْ كَٰذِبُونَ
কবিদের অনুসরণ করে তো বিভ্রান্তরাই।
আর বিভ্রান্তরাই কবিদের অনুসরণ করে।
وَالشُّعَرَاءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ
وَٱلشُّعَرَآءُ يَتَّبِعُهُمُ ٱلْغَاوُۥنَ
তুমি দেখোনা তারা উদ্ভ্রান্তের মতো প্রত্যেক উপত্যকায়ই ঘুমিয়ে পড়ে?
তুমি কি লক্ষ্য করো নি যে, তারা প্রত্যেক উপত্যকায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়?
أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِي كُلِّ وَادٍ يَهِيمُونَ
أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِى كُلِّ وَادٍ يَهِيمُونَ
আর তারা তাই বলে, যা তারা করেনা।
আর নিশ্চয় তারা এমন কথা বলে, যা তারা করে না।
وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ
وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ
তবে তারা নয়, যারা ঈমান আনে, আমলে সালেহ্ করে, আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে এবং অত্যাচারিত হবার পরই প্রতিশোধ গ্রহণ করে। যারা যুলুম করে তারা শীঘ্রি জানতে পারবে কোন্ ফিরে যাবার জায়গায় তারা ফিরে যাবে?
তবে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আর আল্লাহকে অনেক স্মরণ করেছে। আর তারা নির্যাতিত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেয়। আর যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কোন্ প্রত্যাবর্তন স্থলে তারা প্রত্যাবর্তন করবে।
إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَذَكَرُوا اللَّهَ كَثِيرًا وَانتَصَرُوا مِن بَعْدِ مَا ظُلِمُوا ۗ وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيَّ مُنقَلَبٍ يَنقَلِبُونَ
إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَذَكَرُوا۟ ٱللَّهَ كَثِيرًا وَٱنتَصَرُوا۟ مِنۢ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا۟ وَسَيَعْلَمُ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓا۟ أَىَّ مُنقَلَبٍ يَنقَلِبُونَ