শপথ সূর্যের এবং তার উজ্জ্বলতার।
কসম সূর্যের ও তার কিরণের।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; শপথ সূর্যের এবং তার জ্যোতির,
Chapter 91, 15 verses
শপথ সূর্যের এবং তার উজ্জ্বলতার।
কসম সূর্যের ও তার কিরণের।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; শপথ সূর্যের এবং তার জ্যোতির,
শপথ চাঁদের, যখন সে তিলাওয়াত করে তাকে (সূর্যকে)।
কসম চাঁদের, যখন তা সূর্যের অনুগামী হয়।
وَالْقَمَرِ إِذَا تَلَاهَا
এবং চাঁদের, যখন তা তার অনুসরণ করে,
শপথ দিনের, যখন সে প্রকাশ করে তার (সূর্যের) উজ্জ্বলতাকে।
কসম দিবসের, যখন তা সূর্যকে প্রকাশ করে।
وَالنَّهَارِ إِذَا جَلَّاهَا
এবং দিনের, যখন তা তাকে প্রকাশ করে,
শপথ রাতের, যখন সে ঢেকে দেয় তাকে (সূর্যকে)।
কসম রাতের, যখন তা সূর্যকে ঢেকে দেয়।
وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَاهَا
এবং রাতের, যখন তা তাকে আচ্ছন্ন করে,
শপথ আকাশের এবং তাঁর, যিনি তা বানিয়েছেন।
কসম আসমানের এবং যিনি তা বানিয়েছেন।
وَالسَّمَاءِ وَمَا بَنَاهَا
এবং আকাশের, এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন,
শপথ পৃথিবীর এবং তাঁর, যিনি এটিকে বিছিয়ে দিয়েছেন।
কসম যমীনের এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন।
وَالْأَرْضِ وَمَا طَحَاهَا
এবং পৃথিবীর, এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন,
শপথ মানবের (মানব সত্তার) আর তাঁর, যিনি তাকে যথাযথভাবে গঠন করেছেন
এবং প্রাণের, এবং তাঁর, যিনি তা সুগঠিত করেছেন,
وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا
এবং প্রাণের, এবং যিনি সেটিকে সুগঠিত করেছেন,
তারপর তার মধ্যে ইল্হাম করেছেন ফুজুর (সীমালংঘনের প্রবণতা) এবং তাকওয়া (সীমার মধ্যে অবস্থানের প্রবণতা)।
অতঃপর তিনি তাকে অবহিত করেছেন তার পাপসমূহ ও তার তাকওয়া সম্পর্কে।
فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا
অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও তার সংযমশীলতা অনুপ্রাণিত করেছেন,
নি:সন্দেহে সফল হলো সে, যে তাযকিয়া (পরিশুদ্ধ, উন্নত ও বিকশিত) করলো নিজেকে।
নিঃসন্দেহে সে হয়েছে, যে তাকে পরিশুদ্ধ করেছে।
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا
নিশ্চয়ই সফল হয়েছে সে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে,
নি:সন্দেহে ব্যর্থ হলো সে, যে দুষিত ও কলুষিত করে ধসিয়ে দিলো নিজেকে।
এবং সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তা (নাফস)-কে কলুষিত করেছে।
وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا
এবং অবশ্যই ব্যর্থ হয়েছে সে, যে নিজেকে কলুষিত করেছে,
সামুদ সম্প্রদায় নিজের তাগুতি আচরণ দিয়ে অস্বীকার করেছিল (আল্লাহর রসূলকে)।
সামূদ জাতি আপন অবাধ্যতাবশত অস্বীকার করেছিল।
كَذَّبَتْ ثَمُودُ بِطَغْوَاهَا
সামূদ অস্বীকার করেছিল তাদের অবাধ্যতার কারণে,
তখন তাদের মধ্যকার সবচেয়ে বড় দুষ্ট হতভাগ্যটি (মুজিযার উটনীকে হত্যার জন্যে) তৎপর হয়ে উঠেছিল।
যখন তাদের সর্বাধিক হতভাগা ব্যক্তিটি তৎপর হয়ে উঠল।
إِذِ انبَعَثَ أَشْقَاهَا
যখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়েছিল,
তখন আল্লাহর রসূল (সালেহ) তাদের বলেছিল: সাবধান! এটি আল্লাহর (পক্ষ থেকে আসা) উটনী (এটিকে মন্দ উদ্দেশ্যে স্পর্শ করোনা) এবং এটিকে পানি পান করতে বাধা দিওনা।
তখন আল্লাহর রাসূল তাদেরকে বলেছিল, ‘আল্লাহর উষ্ট্রী ও তার পানি পান সম্পর্কে সতর্ক হও।’
فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ نَاقَةَ اللَّهِ وَسُقْيَاهَا
তখন আল্লাহর রাসূল তাদেরকে বলেছিলেন, ‘আল্লাহর উটনী ও তার পান করায় বাধা দিও না,’
কিন্তু তারা তাকে (রসূলকে) অস্বীকার করলো এবং হত্যা করলো উটনীকে। ফলে তাদের প্রভু তাদের উপর চাপিয়ে দিলেন ধ্বংস তাদের অপরাধের কারণে এবং ধ্বংস স্তুপের মধ্যে সমান করে রেখে দিলেন তাদেরকে।
কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করল এবং উষ্ট্রীকে যবেহ করল। ফলে তাদের রব তাদের অপরাধের কারণে তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দিলেন। অতঃপর তা একাকার করে দিলেন।
فَكَذَّبُوهُ فَعَقَرُوهَا فَدَمْدَمَ عَلَيْهِمْ رَبُّهُم بِذَنبِهِمْ فَسَوَّاهَا
কিন্তু তারা তাঁকে অস্বীকার করেছিল এবং সেটিকে হত্যা করেছিল; ফলে তাদের প্রতিপালক তাদের পাপের কারণে তাদের ধ্বংস করে দিলেন এবং সমান করে দিলেন,
আর কাজের পরিণতির কোনো ভয় তাঁর (আল্লাহর) নেই।
আর তিনি এর পরিণামকে ভয় করেন না।
وَلَا يَخَافُ عُقْبَاهَا
এবং তিনি তাঁর পরিণামের ভয় করেন না।