Kitab

আল হাশর (সমাবেশ)

Chapter 59, 24 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • বয়ান ফাউন্ডেশন
  • সমকালীন বাংলা
About this chapter


মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ২৪, রুকু সংখ্যা: ০৩

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-০৬ইহুদিদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং তাদের উৎখাতের বিবরণ। ০৭-১০ফায়দা লাভ করবে কারা? ১১-১৭মুনাফিকদের আচরণ শয়তানের আচরণের মতো। ১৮-২৪মুমিনদের প্রতি উপদেশ। কুরআনের মর্যাদা। আসমাউল হুসনা।
আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তসবিহ করে আল্লাহর। তিনি মহাশক্তিধর, মহাপ্রজ্ঞাবান।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আসমানসমূহে ও যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করছে এবং তিনি মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

সমকালীন বাংলা

আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; আকাশসমূহে এবং পৃথিবীতে যা আছে, সবকিছুই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। আর তিনিই মহাশক্তিশালী, মহাপ্রজ্ঞাবান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই আহলে কিতাবের কাফিরদের (বনু নজিরের ইহুদিদের) বের করে দিয়েছেন তাদের আবাস থেকে প্রথমবার সমবেতভাবে। তারা বেরিয়ে যাবে বলে তো তোমরা কল্পনাও করোনি। আর তারা মনে করেছিল তাদের দুর্গগুলো তাদের রক্ষা করবে আল্লাহর পাকড়াও থেকে। কিন্তু তাদের এমন একদিক থেকে শাস্তি দিলেন, যা ছিলো তাদের কল্পনারও বাইরে। আর তাদের অন্তরে সঞ্চার করে দিয়েছিলেন ভীতি। তারা নিজেদের হাতেই নিজেদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে ফেলছিল এবং মুমিনদের হাতেও। সুতরাং উপদেশ গ্রহণ করো হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিরা!

বয়ান ফাউন্ডেশন

আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা করেছিল তিনিই তাদেরকে তাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছিলেন প্রথমবারের মত। তোমরা ধারণাও করনি যে, তারা বেরিয়ে যাবে। আর তারা ধারণা করেছিল যে, তাদের দুর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করবে। কিন্তু আল্লাহর আযাব এমন এক দিক থ

সমকালীন বাংলা

তিনিই কিতাবপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছে, তাদেরকে প্রথম সমাবেশে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। তোমরা ধারণাও করনি যে তারা বের হবে, আর তারাও মনে করেছিল যে তাদের দুর্গসমূহ তাদেরকে থেকে রক্ষা করবে। কিন্তু এমন দিক থেকে তাদের কাছে এসেছেন, যা তারা ধারণাও করেনি, এবং তিনি তাদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করেছেন। তারা নিজেদের ঘর নিজেদের হাতে এবং মুমিনদের হাতে ধ্বংস করছিল। অতএব, হে দৃষ্টিসম্পন্নরা, শিক্ষা গ্রহণ করো।

Note

এটি অস্বীকারকারীদের বা কাফিরদের (বনু নজিরের ইহুদিদের) সময়ের 

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের নির্বাসনের সিদ্ধান্ত না দিলেও পৃথিবীতে তাদের অন্য কোনো শাস্তি দিতেন। আর আখিরাতে তাদের জন্যে রয়েছে আগুনের আযাব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যদি তাদের জন্য নির্বাসন লিপিবদ্ধ না করতেন, তবে তিনি তাদেরকে দুনিয়াতে শাস্তি দিতেন এবং তাদের জন্য আখিরাতে রয়েছে আগুনের শাস্তি।

সমকালীন বাংলা

আর যদি তাদের জন্য নির্বাসন নির্ধারণ না করতেন, তবে তিনি অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়াতেই শাস্তি দিতেন। আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে আগুনের শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর কারণ, তারা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। আর যারাই আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে, অবশ্যি কঠোর শাস্তিদাতা।

বয়ান ফাউন্ডেশন

এটি এ জন্য যে, তারা সত্যিই ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল। আর যে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে, তবে নিশ্চয় আযাব প্রদানে কঠোর।

সমকালীন বাংলা

এটি এ কারণে যে তারা ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করেছে। আর যে আল্লাহর বিরোধিতা করে, তবে নিশ্চয়ই শাস্তি প্রদানে কঠোর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে খেজুরগাছগুলো কেটেছিলে কিংবা কান্ডের উপর রেখে দিয়েছিলে তাতো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে করেছিলে এবং এজন্যে, যেনো তাদের লাঞ্ছিত করেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তোমরা যে সব নতুন খেজুর গাছ কেটে ফেলছ অথবা সেগুলোকে তাদের মূলের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দিয়েছ। তা তো ছিল আল্লাহর অনুমতিক্রমে এবং যাতে তিনি ফাসিকদের লাঞ্ছিত করতে পারেন।

সমকালীন বাংলা

তোমরা যে কোনো খেজুরগাছ কেটেছো অথবা যেগুলোকে তাদের শিকড়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দিয়েছো, তা আল্লাহর অনুমতিক্রমেই হয়েছে এবং যাতে তিনি অবাধ্যদের লাঞ্ছিত করেন।

Note

এখানে "যেগুলোকে তাদের শিকড়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দিয়েছো" বলতে যেগুলোকে না কেটে রেখে দিয়েছো বুঝানো হয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইহুদিদের থেকে তাঁর রসূলকে যে ফায় (যুদ্ধ ছাড়াই লব্ধ সম্পদ) পাইয়ে দিয়েছেন তার জন্যে তোমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে আরোহণ করে যুদ্ধ করোনি। যার উপর ইচ্ছা তাঁর রসূলকে কর্তৃত্ব প্রদান করেন। প্রতিটি বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

বয়ান ফাউন্ডেশন

ইয়াহুদীদের নিকট থেকে তাঁর রাসূলকে ফায়* হিসেবে যা দিয়েছেন তোমরা তার জন্য কোন ঘোড়া বা উটে আরোহণ করে অভিযান পরিচালনা করনি। বরং তাঁর রাসূলগণকে যাদের ওপর ইচ্ছা কতৃত্ব প্রদান করেন। সকল কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। *যুদ্ধ ছাড়াই যে ধন-সম্পদ অর্জি

সমকালীন বাংলা

আর তাঁর রাসূলকে তাদের কাছ থেকে যা ফিরিয়ে দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা কোনো ঘোড়া বা উট দৌড়াওনি। কিন্তু তাঁর রাসূলদেরকে যাদের উপর ইচ্ছা কর্তৃত্ব দান করেন। আর সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

জনপদবাসীদের থেকে তাঁর রসূলকে যা কিছু দিয়েছেন, তা আল্লাহর, তাঁর রসূলের, রসূলের আত্মীয়দের, এতিমদের, মিসকিনদের এবং পথিকদের, যাতে করে তোমাদের মধ্যে যারা বিত্তশালী, কেবল তাদের মাঝেই অর্থ - সম্পদ আবর্তিত না হয়। রসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করে, তা থেকে বিরত থাকো। আল্লাহকে ভয় করো নিশ্চয়ই কঠোর শাস্তিদাতা।

বয়ান ফাউন্ডেশন

জনপদবাসীদের নিকট থেকে তাঁর রাসূলকে ফায় হিসেবে যা দিয়েছেন তা আল্লাহর, রাসূলের, আত্মীয়-স্বজনদের, ইয়াতীমদের, মিসকীন ও মুসাফিরদের এটি এ জন্য যে, যাতে ধন-সম্পদ তোমাদের মধ্যকার বিত্তশালীদের মাঝেই কেবল আবর্তিত না থাকে। রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর

সমকালীন বাংলা

জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে যা ফিরিয়ে দিয়েছেন, তা , রাসূল, নিকটাত্মীয়, এতিম, দরিদ্র এবং পথিকের জন্য, যাতে তা তোমাদের ধনীদের মধ্যেই শুধু আবর্তিত না হয়। আর রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদেরকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই শাস্তি প্রদানে কঠোর।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই সম্পদ অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্যে যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও অর্থ - সম্পদ থেকে উৎখাত হয়ে এসেছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ এবং সন্তুষ্টি কামনা করে, তারা ও তাঁর রসূলকে সাহায্য করে। তারা সত্যবাদী।

বয়ান ফাউন্ডেশন

এই সম্পদ নিঃস্ব মুহাজিরগণের জন্য ও যাদেরকে নিজেদের ঘর-বাড়ী ও ধন-সম্পত্তি থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। অথচ এরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির অন্বেষণ করে এবং ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করেন। এরাই তো সত্যবাদী।

সমকালীন বাংলা

এটি সেই দরিদ্র প্রবাসীদের জন্য, যারা তাদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে এবং ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই সত্যবাদী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তাদের জন্যেও, যারা মুহাজিরদের আসার পূর্ব থেকেই এ নগরীতে বসবাস করে আসছে এবং ঈমান এনেছে। তারা হিজরত করে আসা লোকদের ভালোবাসে। মুহাজিরদের যা দেয়া হয়েছে, তার জন্যে তারা অন্তরে আশা পোষণ করেনা। মূলত তারা তাদেরকে নিজেদের উপর অগ্রাধিকার দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও। যারা মনের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত, তারাই সাফল্য অর্জনকারী।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে যারা মদীনাকে নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং ঈমান এনেছিল (তাদের জন্যও এ সম্পদে অংশ রয়েছে), আর যারা তাদের কাছে হিজরত করে এসেছে তাদেরকে ভালবাসে। আর মুহাজরিদেরকে যা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য এরা তাদের অন্তরে কোন ঈর্ষা অনুভব করে না।

সমকালীন বাংলা

আর যারা তাদের আগে এই স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং বিশ্বাস এনেছিল, তারা তাদের কাছে যারা দেশত্যাগ করে এসেছে, তাদেরকে ভালোবাসে। আর তাদেরকে যা দেওয়া হয়েছে, তার জন্য তারা নিজেদের অন্তরে কোনো প্রয়োজন অনুভব করে না। আর তারা নিজেদের উপর তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা নিজেরাই অভাবগ্রস্ত থাকে। আর যে নিজের মনের কৃপণতা থেকে রক্ষা পায়, তারাই সফল।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: ‘আমাদের প্রভু! ক্ষমা করে দাও আমাদেরকে, ঈমানের দিক থেকে আমাদের সাবেক (অগ্রগামী) ভাইদেরকে এবং আমাদের অন্তরে মুমিনদের জন্যে কোনো বিদ্বেষ রেখোনা। আমাদের প্রভু! নিশ্চয়ই তুমি পরম দয়াবান, পরম করুণাময়।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু।

সমকালীন বাংলা

আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে, “হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরকে ক্ষমা করুন, যারা ঈমানে আমাদের আগে অগ্রগামী হয়েছে। আর যারা ঈমান এনেছে, তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের পালনকর্তা, নিশ্চয়ই আপনি অতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু।”

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা মুনাফিকি করে, তুমি কি তাদের দেখোনা? তারা তাদের আহলে কিতাবের ভাইদের বলে: ‘তোমাদের যদি বহিষ্কার করা হয়, তবে আমরাও অবশ্যি তোমাদের সাথে দেশ ত্যাগ করবো এবং আমরা তোমাদের ব্যাপারে কখনো কারো কথা শুনবোনা। তোমরা আক্রান্ত হলে অবশ্যি আমরা তোমাদের সাহায্য করবো।’ সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তারা অবশ্য অবশ্যি মিথ্যাবাদী।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তুমি কি মুনাফিকদেরকে দেখনি যারা আহলে কিতাবের মধ্য হতে তাদের ভাইদেরকে বলে, ‘তোমাদেরকে বের করে দেয়া হলে আমরাও তোমাদের সাথে অবশ্য বেরিয়ে যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনোই কারো আনুগত্য করব না। আর তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা হলে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্

সমকালীন বাংলা

তুমি কি তাদের দেখনি, যারা কপটতা করেছে? তারা কিতাবপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছে, তাদের ভাইদের বলে, “তোমরা যদি বের করে দেওয়া হও, তবে অবশ্যই আমরা তোমাদের সঙ্গে বের হয়ে যাবো এবং তোমাদের ব্যাপারে কখনো কারও কথা মানবো না। আর যদি তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়, তবে অবশ্যই আমরা তোমাদের সাহায্য করবো।” আর সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।

Note

কপটতা means "Hypocrisy"

আবদুস শহীদ নাসিম

ওদেরকে বহিষ্কার করা হলে এরা দেশ ত্যাগ করবেনা, ওরা আক্রান্ত হলে এরা সাহায্যও করবেনা। এরা সাহায্য করতে গেলেও, পেছনে ফিরে পালাবে, তারপর তারা আর কোনো সাহায্য পাবেনা।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা (ইহুদিরা) যদি বহিষ্কৃত হয় তবে এরা (মুনাফিকরা) কখনো তাদের সাথে বেরিয়ে যাবে না আর তাদের (ইয়াহুদীদের) সাথে যদি যুদ্ধ করা হয় এরা (মুনাফিকরা) কখনো তাদেরকে সাহায্য করবে না। আর যদি তাদেরকে সাহায্য করে তবে তারা অবশ্যই পিঠ দেখিয়ে পালাবে; এরপর তারা কোন সাহায্য

সমকালীন বাংলা

যদি তাদের বের করে দেওয়া হয়, তারা তাদের সঙ্গে বের হবে না। আর যদি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়, তারা তাদের সাহায্য করবে না। আর যদি তারা তাদের সাহায্য করেও, তবে তারা অবশ্যই পেছন ফিরে পালাবে। তারপর তাদেরকে সাহায্য করা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূলত এদের মনে আল্লাহর চেয়ে তোমাদের ভয়ই বেশি, কারণ তারা বেবুঝ লোক।

বয়ান ফাউন্ডেশন

প্রকৃতপক্ষে তাদের অন্তরে আল্লাহর চাইতে তোমাদের ভয় বেশী; এটা এ কারণে যে, তারা অবুঝ সম্প্রদায়।

সমকালীন বাংলা

এদের মনে আল্লাহর চেয়ে তোমাদের ভয়ই বেশি, কারণ তারা এমন এক সম্প্রদায়, যারা বোঝে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সবাই সংঘবদ্ধ হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবেনা, করতে পারবে কেবল সুরক্ষিত জনপদের অভ্যন্তরে থেকে কিংবা দুর্গ প্রাচীরের অন্তরাল থেকে। তাদের পরস্পরের মধ্যেই তো যুদ্ধ প্রকট। তুমি মনে করছো তারা ঐক্যবদ্ধ, অথচ তাদের হৃদয়গুলো বিচ্ছিন্ন। এর কারণ, তারা বেআকল লোক।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা সম্মিলিতিভাবে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না তবে সুরক্ষিত জনপদের মধ্যে অবস্থান করে বা দেয়ালের পেছন হতে; তারা নিজেরা নিজেদেরকে প্রবল শক্তিধর মনে করে; তুমি তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ মনে করছ অথচ তাদের অন্তরসমূহ বিচ্ছিন্ন। এটি এজন্য যে, তারা নির্বোধ সম্প্রদায়।

সমকালীন বাংলা

তারা সংঘবদ্ধ হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না, তবে সুরক্ষিত নগর অথবা দুর্গ প্রাচীরের আড়ালে থেকে। তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধ প্রবল। তুমি  মনে করো তারা ঐক্যবদ্ধ, অথচ ভিতরে তাদের মধ্যে মিল নাই। কারণ তারা এমন এক সম্প্রদায়, যারা বোঝে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এদের অবস্থা তাদের অল্প আগের লোকদের মতো, যারা তাদের কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করেছে। এছাড়াও তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তাদের অব্যবহিত পূর্বসূরিদের ন্যায়, যারা নিজেদের কৃতকর্মের কুফল আস্বাদন করেছে; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।

সমকালীন বাংলা

তাদের অবস্থা তাদের পূর্বসূরিদের মতো, যারা নিকট অতীতে তাদের কাজের পরিণতি আস্বাদন করেছিল; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের অবস্থা শয়তানের মতো। সে মানুষকে বলে: ‘কুফুরি করো।’ অত:পর সে যখন কুফুরি করে, তখন শয়তান বলে: ‘তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি রাববুল আলামিনকে ভয় করি।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

(এরা) শয়তান-এর ন্যায়, সে মানুষকে বলেছিল, ‘কুফরি কর’, অতঃপর যখন সে কুফরি করল তখন সে বলল, আমি তোমার থেকে মুক্ত; নিশ্চয় আমি সকল সৃষ্টির রব আল্লাহকে ভয় করি।

সমকালীন বাংলা

এরা শয়তানের মতো, যখন সে মানুষকে বলে, “অবিশ্বাস করো।” অতঃপর যখন সে অবিশ্বাস করে, তখন সে বলে, “নিশ্চয়ই আমি তোমার থেকে মুক্ত। নিশ্চয়ই আমি আল্লাহকে, সৃষ্টিজগতের পালনকর্তাকে ভয় করি।”

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে দু’জনের পরিণতিই হবে জাহান্নাম। সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল। এটাই যালিমদের প্রতিদান।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তাদের দু’জনের পরিণতি ছিল এই যে, তারা দু’জনেই জাহান্নামী হবে, সেখানে তারা স্থায়ী হবে; আর এটাই যালিমদের প্রতিদান।

সমকালীন বাংলা

অতএব, তাদের উভয়ের পরিণতি হলো তারা আগুনে থাকবে, সেখানে চিরস্থায়ী হবে। আর এটিই জুলুমকারীদের প্রতিফল।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। প্রত্যেক ব্যক্তিই যেনো ভেবে দেখে, সে আগামিকালের (পরকালের) জন্যে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে? আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই খবর রাখেন তোমরা যা আমল করো।

বয়ান ফাউন্ডেশন

হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর; আর প্রত্যেকের উচিত চিন্তা করে দেখা সে আগামীকালের জন্য কি প্রেরণ করেছে; তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা কর নিশ্চয় সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।

সমকালীন বাংলা

হে যারা ঈমান এনেছো, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আর প্রত্যেক ব্যক্তি যেনো দেখে যে সে আগামীকালের জন্য কী পাঠিয়েছে। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে সব জানেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ঐসব লোকদের মতো হয়োনা যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে আল্লাহ্ও তাদের আত্মবিস্মৃত করে দিয়েছেন। এরাই ফাসিক।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তোমরা তাদের মত হইও না, যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল ফলে আল্লাহও তাদেরকে আত্মবিস্মৃত করে দিয়েছিলেন; আর তারাই হল ফাসিক।

সমকালীন বাংলা

আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে; ফলে তিনি তাদের নিজেদেরকেই ভুলিয়ে দিয়েছেন। তারাই অবাধ্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

জাহান্নামিরা আর জান্নাতিরা সমান নয়। কারণ, জান্নাতিরা হবে ।

বয়ান ফাউন্ডেশন

জাহান্নামবাসী ও জান্নাতবাসীরা সমান নয়; জান্নাতবাসীরাই ।

সমকালীন বাংলা

আগুনের অধিবাসী এবং বেহেশতের অধিবাসী সমান নয়। বেহেশতের অধিবাসীরাই সফল।

Note

"আগুনের" অধিবাসী বলতে "জাহান্নামের" অধিবাসী এবং "বেহেস্তের" অধিবাসী বলতে "জান্নাতের" অধিবাসী বুঝানো হয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি এ কুরআনকে কোনো পাহাড়ের উপর নাযিল করতাম, তবে তুমি সেটাকে দেখতে আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হয়ে পড়ছে। আমরা এসব দৃষ্টান্ত প্রদান করি মানুষের জন্যে যাতে করে তারা চিন্তা - ভাবনা করে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

এ কুরআনকে যদি আমি পাহাড়ের ওপর নাযিল করতাম তবে তুমি অবশ্যই তাকে দেখতে, আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ। মানুষের জন্য আমি এ উদাহরণগুলি পেশ করি; হয়ত তারা চিন্তাভাবনা করবে।

সমকালীন বাংলা

যদি আমরা এই কুরআনকে কোনো পর্বতের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি অবশ্যই তাকে দেখতে যে, আল্লাহর ভয়ে তা অবনত ও বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আর এসব দৃষ্টান্ত আমরা মানুষের জন্য দিই, যাতে তারা চিন্তা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই , তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। তিনি ও দৃশ্যের জ্ঞানী। তিনি পরম করুণাময়, পরম দয়াবান।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তিনিই , যিনি ছাড়া কোন নেই; দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞাতা; তিনিই পরম করুণাময়, দয়ালু।

সমকালীন বাংলা

তিনি , তিনি ছাড়া কোনো নেই। তিনি ও দৃশ্যমান সবকিছু জানেন। তিনি পরম করুণাময়, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই , তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। তিনিই সার্বভৌম সম্রাট, তিনি সব ত্রুটি থেকে পবিত্র, তিনি শান্তি (দাতা), তিনি নিরাপত্তাদাতা, তিনি রক্ষক, তিনি মহাশক্তিধর, তিনি প্রবল - প্রচন্ড, তিনি সর্বোচ্চ - মহান। তারা (তাঁর সাথে) যাদের শরিক করে, তিনি সেগুলো থেকে পবিত্র - মহান।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তিনিই ; যিনি ছাড়া কোন নেই, তিনিই বাদশাহ, মহাপবিত্র, ত্রুটিমুক্ত, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষক, মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী, অতীব মহিমান্বিত, তারা যা শরীক করে তা হতে পবিত্র মহান।

সমকালীন বাংলা

তিনি , তিনি ছাড়া কোনো নেই। তিনি রাজা, পবিত্র, শান্তির উৎস, নিরাপত্তাদাতা, রক্ষক, মহাপরাক্রমশালী, পরাক্রমশালী, মহিমান্বিত। তারা যাকে শরিক করে, তা থেকে পবিত্র।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই , স্রষ্টা, সৃষ্টির উদ্ভাবক, আকৃতিদাতা, সব সুন্দর নাম তাঁরই। মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুই তাঁর তসবিহ্ করে। তিনি মহাশক্তিধর, মহাপ্রজ্ঞাবান।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তিনিই , স্রষ্টা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদানকারী; তাঁর রয়েছে সুন্দর নামসমূহ; আসমান ও যমীনে যা আছে সবই তার মহিমা ঘোষণা করে। তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

সমকালীন বাংলা

তিনি , সৃষ্টিকর্তা, সৃষ্টির সূচনাকারী, আকৃতি-প্রদানকারী। তাঁরই জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবকিছুই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাবান।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme