তোয়া সিন মিম।
তা - সীন - মীম।
بسم الله الرحمن الرحيم طسم
ত্বা, সীন, মীম।
طسٓمٓ
Chapter 26, 227 verses
তোয়া সিন মিম।
তা - সীন - মীম।
بسم الله الرحمن الرحيم طسم
ত্বা, সীন, মীম।
طسٓمٓ
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
এইগুলি সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
تلك آيات الكتاب المبين
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُبِينِ
তারা হচ্ছে না বলে তুমি হয়তো মনের দুঃখে নিজেকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।
উহারা হইতেছে না বলিয়া তুমি হয়ত মনোকষ্টে আত্মবিনাশী হইয়া পড়িবে।
لعلك باخع نفسك ألا يكونوا مؤمنين
তারা বিশ্বাস করে না বলে আপনি হয়তো মর্মব্যথায় আত্নঘাতী হবেন।
لَعَلَّكَ بَٰخِعٌ نَّفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا۟ مُؤْمِنِينَ
আমরা চাইলে আসমান থেকে তাদের জন্যে একটি নিদর্শন নাযিল করতাম, তখন সেটার প্রতি তাদের গর্দান নুইয়ে পড়তো।
আমি ইচ্ছা করিলে আকাশ হইতে উহাদের নিকট এক নিদর্শন প্রেরণ করিতাম, ফলে উহাদের গ্রীবা বিনত হইয়া পড়িত উহার প্রতি।
إن نشأ ننزل عليهم من السماء آية فظلت أعناقهم لها خاضعين
আমি যদি ইচ্ছা করি, তবে আকাশ থেকে তাদের কাছে কোন নিদর্শন নাযিল করতে পারি। অতঃপর তারা এর সামনে নত হয়ে যাবে।
إِن نَّشَأْ نُنَزِّلْ عَلَيْهِم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ ءَايَةً فَظَلَّتْ أَعْنَٰقُهُمْ لَهَا خَٰضِعِينَ
যখনই তাদের কাছে রহমানের পক্ষ থেকে নতুন কোনো যিকির (উপদেশ বার্তা) আসে, তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
যখনই উহাদের কাছে দয়াময়ের নিকট হইতে কোন নূতন উপদেশ আসে, তখনই উহারা উহা হইতে মুখ ফিরাইয়া নেয়।
وما يأتيهم من ذكر من الرحمن محدث إلا كانوا عنه معرضين
যখনই তাদের কাছে রহমান এর কোন নতুন উপদেশ আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
وَمَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍ مِّنَ ٱلرَّحْمَٰنِ مُحْدَثٍ إِلَّا كَانُوا۟ عَنْهُ مُعْرِضِينَ
তারা তো অস্বীকার করেছে। সুতরাং তারা যা নিয়ে বিদ্রূপ করছে তার প্রকৃত খবর তাদের কাছে অচিরেই এসে পড়বে।
উহারা তো অস্বীকার করিয়াছে। সুতরাং উহারা যাহা লইয়া ঠাট্টা - বিদ্রপ করিত তাহার প্রকৃত বার্তা তাহাদের নিকট শীঘ্রই আসিয়া পড়িবে।
فقد كذبوا فسيأتيهم أنباء ما كانوا به يستهزئون
অতএব তারা তো মিথ্যারোপ করেছেই; সুতরাং যে বিষয় নিয়ে তারা ঠাট্টা - বিদ্রুপ করত, তার যথার্থ স্বরূপ শীঘ্রই তাদের কাছে পৌছবে।
فَقَدْ كَذَّبُوا۟ فَسَيَأْتِيهِمْ أَنۢبَٰٓؤُا۟ مَا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ
তারা কি জমিনের দিকে তাকিয়ে দেখেনা? আমরা তাতে সব ধরনের কতো যে উত্তম উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি!
উহারা কি যমীনের দিকে লক্ষ্য করে না? আমি উহাতে প্রত্যেক প্রকারের কত উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উদ্গত করিয়াছি।
أولم يروا إلى الأرض كم أنبتنا فيها من كل زوج كريم
তারা কি ভুপৃষ্ঠের প্রতি দৃষ্টিপাত করে না? আমি তাতে সর্বপ্রকার বিশেষ - বস্তু কত উদগত করেছি।
أَوَلَمْ يَرَوْا۟ إِلَى ٱلْأَرْضِ كَمْ أَنۢبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍ كَرِيمٍ
অবশ্যি এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
নিশ্চয় ইহাতে আছে নিদর্শন, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মহাপরাক্রমশালী, পরম দরয়াবান।
নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আপনার পালনকর্তা তো পরাক্রমশালী পরম দয়ালু।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
স্মরণ করো, তোমার প্রভু মূসাকে ডেকে বলেছিলেন, তুমি যালিম কওমের কাছে যাও,
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক মূসাকে ডাকিয়া বলিলেন, ‘তুমি সম্প্রদায়ের নিকট যাও,
وإذ نادى ربك موسى أن ائت القوم الظالمين
যখন আপনার পালনকর্তা মূসাকে ডেকে বললেনঃ তুমি পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়ের নিকট যাও;
وَإِذْ نَادَىٰ رَبُّكَ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱئْتِ ٱلْقَوْمَ ٱلظَّٰلِمِينَ
ফেরাউনের কওমের কাছে। তাদের বলো: ‘তারা কি সতর্ক হবেনা?’
‘ফির‘আওনের সম্প্রদায়ের নিকট; উহারা কি ভয় করে না?’
قوم فرعون ۚ ألا يتقون
ফেরাউনের সম্প্রদায়ের নিকট; তারা কি ভয় করে না?
قَوْمَ فِرْعَوْنَ أَلَا يَتَّقُونَ
তখন মূসা বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার আশংকা হয়, তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।
তখন সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক ! আমি আশংকা করি যে, উহারা আমাকে অস্বীকার করিবে,
قال رب إني أخاف أن يكذبون
সে বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমার আশংকা হচ্ছে যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে দেবে।
قَالَ رَبِّ إِنِّىٓ أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ
আমার মন ছোট হয়ে আসছে আর আমার যবানও সঞ্চালিত হচ্ছে না, সুতরাং তুমি হারূণকে রিসালাত দান করো।
‘এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই ! সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও।
ويضيق صدري ولا ينطلق لساني فأرسل إلى هارون
এবং আমার মন হতবল হয়ে পড়ে এবং আমার জিহবা অচল হয়ে যায়। সুতরাং হারুনের কাছে বার্তা প্রেরণ করুন।
وَيَضِيقُ صَدْرِى وَلَا يَنطَلِقُ لِسَانِى فَأَرْسِلْ إِلَىٰ هَٰرُونَ
আমার বিরুদ্ধে তাদের একটা অভিযোগও আছে, তাই আমি আশংকা করছি তারা আমাকে হত্যা করবে।’’
‘আমার বিরুদ্ধে তো উহাদের এক অভিযোগ আছে, আমি আশংকা করি উহারা আমাকে হত্যা করিবে।’
ولهم علي ذنب فأخاف أن يقتلون
আমার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ আছে। অতএব আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।
وَلَهُمْ عَلَىَّ ذَنۢبٌ فَأَخَافُ أَن يَقْتُلُونِ
বললেন: ‘কখনো নয়। সুতরাং তোমরা দু’জনই যাও আমাদের নিদর্শনসমূহ নিয়ে, আমরাও তোমাদের সাথে থাকবো, সব শুনবো।’
বলিলেন, ‘না, কখনই নহে, অতএব তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শনসহ যাও, আমি তো তোমাদের সঙ্গে আছি, শ্রবণকারী।
قال كلا ۖ فاذهبا بآياتنا ۖ إنا معكم مستمعون
বলেন, কখনই নয় তোমরা উভয়ে যাও আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে। আমি তোমাদের সাথে থেকে শোনব।
قَالَ كَلَّا فَٱذْهَبَا بِـَٔايَٰتِنَآ إِنَّا مَعَكُم مُّسْتَمِعُونَ
তোমরা ফেরাউনের কাছে যাও, তাকে বলো: ‘‘আমরা রাব্বুল আলামিনের রসূল।
‘অতএব তোমরা উভয়ে ফির‘আওনের নিকট যাও এবং বল, ‘আমরা তো জগতসমূহের প্রতিপালকের রাসূল,
فأتيا فرعون فقولا إنا رسول رب العالمين
অতএব তোমরা ফেরআউনের কাছে যাও এবং বল, আমরা বিশ্বজগতের পালনকর্তার রসূল।
فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولَآ إِنَّا رَسُولُ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
তুমি বনি ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।’’
‘আমাদের সঙ্গে যাইতে দাও বনী ইসরাঈলকে।’
أن أرسل معنا بني إسرائيل
যাতে তুমি বনী - ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।
أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ
ফেরাউন বললো: ‘‘আমরা কি শৈশবে তোমাকে আমাদের মধ্যে লালন পালন করিনি? তুমি তো তোমার জীবনের অনেক বছর আমাদের মধ্যে কাটিয়েছো।
ফির‘আওন বলিল, ‘আমরা কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মধ্যে লালন - পালন করি নাই? আর তুমি তো তোমার জীবনের বহু বৎসর আমাদের মধ্যে কাটাইয়াছ,
قال ألم نربك فينا وليدا ولبثت فينا من عمرك سنين
ফেরাউন বলল, আমরা কি তোমাকে শিশু অবস্থায় আমাদের মধ্যে লালন - পালন করিনি? এবং তুমি আমাদের মধ্যে জীবনের বহু বছর কাটিয়েছ।
قَالَ أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَ
আর তুমি তোমার একটা কর্ম করেছিলে। তুমি এক অকৃতজ্ঞ।’’
‘এবং তুমি তোমার কর্ম যাহা করিবার তাহা তো করিয়াছ ; তুমি অকৃতজ্ঞ।’
وفعلت فعلتك التي فعلت وأنت من الكافرين
তুমি সেই - তোমরা অপরাধ যা করবার করেছ। তুমি হলে কৃতঘ্ন।
وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ ٱلَّتِى فَعَلْتَ وَأَنتَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَ
মূসা বললো: ‘‘আমি তো সে কাজটি করেছিলাম তখন, যখন আমি ছিলাম জ্ঞানহীন।
মূসা বলিল, ‘আমি তো ইহা করিয়াছিলাম তখন, যখন ছিলাম অনবধান।
قال فعلتها إذا وأنا من الضالين
মূসা বলল, আমি সে অপরাধ তখন করেছি, যখন আমি ভ্রান্ত ছিলাম।
قَالَ فَعَلْتُهَآ إِذًا وَأَنَا۠ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ
তখন তো আমি তোমাদের ভয়ে পালিয়ে চলে গিয়েছিলাম। তারপর আমার প্রভু আমাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন এবং আমাকে রসূলদের একজন মনোনীত করেন।
‘অতঃপর আমি যখন তোমাদের ভয়ে ভীত হইলাম তখন আমি তোমাদের নিকট হইতে পলাইয়া গিয়াছিলাম। তৎপর আমার প্রতিপালক আমাকে জ্ঞান দান করিয়াছেন এবং আমাকে রাসূল করিয়াছেন।
ففررت منكم لما خفتكم فوهب لي ربي حكما وجعلني من المرسلين
অতঃপর আমি ভীত হয়ে তোমাদের কাছ থেকে পলায়ন করলাম। এরপর আমার পালনকর্তা আমাকে প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং আমাকে পয়গম্বর করেছেন।
فَفَرَرْتُ مِنكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِى رَبِّى حُكْمًا وَجَعَلَنِى مِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছো, তার কারণ তো হলো, তুমি বনি ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করে রেখেছো।’’
‘আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করিতেছ, তাহা তো এই যে, তুমি বনী ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করিয়াছ।’
وتلك نعمة تمنها علي أن عبدت بني إسرائيل
আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা বলছ, তা এই যে, তুমি বনী - ইসলাঈলকে গোলাম বানিয়ে রেখেছ।
وَتِلْكَ نِعْمَةٌ تَمُنُّهَا عَلَىَّ أَنْ عَبَّدتَّ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ
ফেরাউন বললো: ‘রাব্বুল আলামিন কে?’
ফির‘আওন বলিল, ‘জগতসমূহের প্রতিপালক আবার কী?’
قال فرعون وما رب العالمين
ফেরাউন বলল, বিশ্বজগতের পালনকর্তা আবার কি?
قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ ٱلْعَٰلَمِينَ
মূসা বললো: ‘তিনি হলেন মালিক মহাকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে সবকিছুর যদি তোমরা একীন রাখো।’
মূসা বলিল, ‘তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত হও।’
قال رب السماوات والأرض وما بينهما ۖ إن كنتم موقنين
মূসা বলল, তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা যদি তোমরা হও।
قَالَ رَبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَآ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ
ফেরাউন তার পারিষদবর্গকে লক্ষ্য করে বললো: ‘(মূসা কী বলছে) তোমরা কি শুনছো না?’
ফির‘আওন তাহার পারিষদবর্গকে লক্ষ্য করিয়া বলিল, ‘তোমরা শুনিতেছ তো !’
قال لمن حوله ألا تستمعون
ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, তোমরা কি শুনছ না?
قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُۥٓ أَلَا تَسْتَمِعُونَ
মূসা বললো: ‘তিনি তোমাদেরও রব এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষদেরও রব।’
মূসা বলিল, ‘তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষগণেরও প্রতিপালক।’
قال ربكم ورب آبائكم الأولين
মূসা বলল, তিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরও পালনকর্তা।
قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ ءَابَآئِكُمُ ٱلْأَوَّلِينَ
ফেরাউন বললো: ‘তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের এই রসূল তো একজন পাগল।’
ফির‘আওন বলিল, ‘তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের রাসূল তো নিশ্চয়ই পাগল।’
قال إن رسولكم الذي أرسل إليكم لمجنون
ফেরাউন বলল, তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের রসূলটি নিশ্চয়ই বদ্ধ পাগল।
قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ ٱلَّذِىٓ أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ
মূসা বললো: ‘তিনি মাশরিক, মাগরিব এবং এই উভয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে, সবকিছুর রব যদি তোমরা আকল রাখো।’
মূসা বলিল, ‘তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের এবং উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক; যদি তোমরা বুঝিতে !’
قال رب المشرق والمغرب وما بينهما ۖ إن كنتم تعقلون
মূসা বলল, তিনি পূর্ব, পশ্চিম ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর পালনকর্তা, যদি তোমরা বোঝ।
قَالَ رَبُّ ٱلْمَشْرِقِ وَٱلْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَآ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ
ফেরাউন বললো: ‘তুমি যদি আমাকে ছাড়া আর কাউকেও হিসেবে গ্রহণ করো, তাহলে অবশ্যি আমি তোমাকে কারাগারে অবরুদ্ধ করে রাখবো।’
ফির‘আওন বলিল, ‘তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে ইলাহ্রূপে গ্রহণ কর আমি তোমাকে অবশ্যই কারারুদ্ধ করিব।’
قال لئن اتخذت إلها غيري لأجعلنك من المسجونين
ফেরাউন বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে উপাস্যরূপে গ্রহণ কর তবে আমি অবশ্যই তোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করব।
قَالَ لَئِنِ ٱتَّخَذْتَ إِلَٰهًا غَيْرِى لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ ٱلْمَسْجُونِينَ
মূসা বললো: ‘আমি যদি তোমার কাছে সুস্পষ্ট নির্দশন হাজির করি, তবু?’
মূসা বলিল, ‘আমি যদি তোমার নিকট কোন স্পষ্ট নিদর্শন আনয়ন করি, তবুও?’
قال أولو جئتك بشيء مبين
মূসা বলল, আমি তোমার কাছে কোন স্পষ্ট বিষয় নিয়ে আগমন করলেও কি?
قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَىْءٍ مُّبِينٍ
ফেরাউন বললো: ‘তবে হাজির করো যদি সত্যবাদী হও।’
ফির‘আওন বলিল, ‘তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে উহা উপস্থিত কর।’
قال فأت به إن كنت من الصادقين
ফেরাউন বলল, তুমি সত্যবাদী হলে তা উপস্থিত কর।
قَالَ فَأْتِ بِهِۦٓ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ
তখন মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো আর সাথে সাথে তা সুস্পষ্ট অজগরে পরিণত হয়ে গেলো।
অতঃপর মূসা তাহার লাঠি নিক্ষেপ করিলে তৎক্ষণাৎ উহা এক সাক্ষাৎ অজগর হইল।
فألقى عصاه فإذا هي ثعبان مبين
অতঃপর তিনি লাঠি নিক্ষেপ করলে মুহূর্তের মধ্যে তা সুস্পষ্ট অজগর হয়ে গেল।
فَأَلْقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ ثُعْبَانٌ مُّبِينٌ
এরপর (মূসা তার বগলে হাত ঢুকিয়ে) হাত বের করে আনলো, সাথে সাথে তা দর্শকদের দৃষ্টিতে ধবধবে সাদা দেখাতে লাগলো।
এবং মূসা হাত বাহির করিল আর তৎক্ষণাৎ উহা দর্শকদের দৃষ্টিতে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতিভাত হইল।
ونزع يده فإذا هي بيضاء للناظرين
আর তিনি তার হাত বের করলেন, তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের কাছে সুশুভ্র প্রতিভাত হলো।
وَنَزَعَ يَدَهُۥ فَإِذَا هِىَ بَيْضَآءُ لِلنَّٰظِرِينَ
ফেরাউন তাকে পরিবেষ্টন করে থাকা তার পারিষদবর্গকে বললো: ‘এ - তো এক পন্ডিত ম্যাজেসিয়ান।
ফির‘আওন তাহার পারিষদবর্গকে বলিল, ‘এ তো এক সুদক্ষ জাদুকর !
قال للملإ حوله إن هذا لساحر عليم
ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, নিশ্চয় এ একজন সুদক্ষ জাদুকর।
قَالَ لِلْمَلَإِ حَوْلَهُۥٓ إِنَّ هَٰذَا لَسَٰحِرٌ عَلِيمٌ
সে তার ম্যাজিকের সাহায্যে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এখন তোমরা তার ব্যাপারে কী করতে বলো?’
‘এ তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হইতে তাহার জাদুবলে বহিষ্কার করিতে চায়। এখন তোমরা কী করিতে বল?’
يريد أن يخرجكم من أرضكم بسحره فماذا تأمرون
সে তার জাদু বলে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিস্কার করতে চায়। অতএব তোমাদের মত কি?
يُرِيدُ أَن يُخْرِجَكُم مِّنْ أَرْضِكُم بِسِحْرِهِۦ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ
তারা বললো: ‘তাকে আর তার ভাইকে কিছু অবকাশ দিন এবং বিভিন্ন শহরে সংগ্রহকারীদের পাঠান।
উহারা বলিল, ‘তাহাকে ও তাহার ভ্রাতাকে কিছু অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে সংগ্রাহকদেরকে পাঠাও,
قالوا أرجه وأخاه وابعث في المدائن حاشرين
তারা বলল, তাকে ও তার ভাইকে কিছু অবকাশ দিন এবং শহরে শহরে ঘোষক প্রেরণ করুন।
قَالُوٓا۟ أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَٱبْعَثْ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ
তারা আপনার জন্যে দক্ষ ম্যাজেসিয়ানদের হাজির করবে।’
‘যেন তাহারা তোমার নিকট প্রতিটি অভিজ্ঞ জাদুকর উপস্থিত করে।’
يأتوك بكل سحار عليم
তারা যেন আপনার কাছে প্রত্যেকটি দক্ষ জাদুকর কে উপস্থিত করে।
يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍ
তারপর নির্দিষ্ট দিনে এবং নির্দিষ্ট সময়ে ম্যাজেসিয়ানদের জমা করা হলো,
অতঃপর এক নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট সময়ে জাদুকরদেরকে একত্র করা হইল,
فجمع السحرة لميقات يوم معلوم
অতঃপর এক নির্দিষ্ট দিনে জাদুকরদেরকে একত্রিত করা হল।
فَجُمِعَ ٱلسَّحَرَةُ لِمِيقَٰتِ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ
জনগণকে বলা হলো: ‘তোমরাও কি জমায়েত হচ্ছো?’
এবং লোকদেরকে বলা হইল, ‘তোমরাও সমবেত হইতেছ কি?
وقيل للناس هل أنتم مجتمعون
এবং জনগণের মধ্যে ঘোষণা করা হল, তোমরাও সমবেত হও।
وَقِيلَ لِلنَّاسِ هَلْ أَنتُم مُّجْتَمِعُونَ
‘হয়তো আমরা ম্যাজেসিয়ানদের অনুসরণ করতে পারি যদি তারা বিজয়ী হয়।’
যেন আমরা জাদুকরদের অনুসরণ করিতে পারি, যদি উহারা বিজয়ী হয়।’
لعلنا نتبع السحرة إن كانوا هم الغالبين
যাতে আমরা জাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি - যদি তারাই বিজয়ী হয়।
لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ ٱلسَّحَرَةَ إِن كَانُوا۟ هُمُ ٱلْغَٰلِبِينَ
ম্যাজেসিয়ানরা হাজির হলে তারা ফেরাউনকে বললো: ‘আমরা জয়ী হলে আমাদের জন্যে পুরস্কার থাকবে তো?’
অতঃপর জাদুকরেরা আসিয়া ফিরা‘আওনকে বলিল, ‘আমরা যদি বিজয়ী হই আমাদের জন্য পুরস্কার থাকিবে তো?
فلما جاء السحرة قالوا لفرعون أئن لنا لأجرا إن كنا نحن الغالبين
যখন যাদুকররা আগমণ করল, তখন ফেরআউনকে বলল, যদি আমরা বিজয়ী হই, তবে আমরা পুরস্কার পাব তো?
فَلَمَّا جَآءَ ٱلسَّحَرَةُ قَالُوا۟ لِفِرْعَوْنَ أَئِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِن كُنَّا نَحْنُ ٱلْغَٰلِبِينَ
ফেরাউন বললো: ‘হ্যাঁ, তাছাড়া তোমরা আমার সভাসদদের অন্তরভুক্ত হবে।’
ফিরা‘আওন বলিল, ‘হ্যাঁ, তখন তোমরা অবশ্যই আমার ঘনিষ্ঠদের শামিল হইবে।’
قال نعم وإنكم إذا لمن المقربين
ফেরাউন বলল, হঁ্যা এবং তখন তোমরা আমার নৈকট্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ إِذًا لَّمِنَ ٱلْمُقَرَّبِينَ
মূসা তাদের বললো: ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করার নিক্ষেপ করো।’
মূসা উহাদেরকে বলিল, ‘তোমাদের যাহা নিক্ষেপ করিবার তাহা নিক্ষেপ কর।’
قال لهم موسى ألقوا ما أنتم ملقون
মূসা (আঃ) তাদেরকে বললেন, নিক্ষেপ কর তোমরা যা নিক্ষেপ করবে।
قَالَ لَهُم مُّوسَىٰٓ أَلْقُوا۟ مَآ أَنتُم مُّلْقُونَ
তারা তাদের সব রশি এবং লাঠি নিক্ষেপ করলো। তারা বললো: ‘ফেরাউনের ইযযতের কসম, আমরাই জয়ী হবো।’
অতঃপর উহারা উহাদের রজ্জু ও লাঠি নিক্ষেপ করিল এবং উহারা বলিল, ‘ফির‘আওনের ইয্যতের শপথ! আমরাই বিজয়ী হইব।’
فألقوا حبالهم وعصيهم وقالوا بعزة فرعون إنا لنحن الغالبون
অতঃপর তারা তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল এবং বলল, ফেরাউনের ইযযতের কসম, আমরাই বিজয়ী হব।
فَأَلْقَوْا۟ حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا۟ بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ ٱلْغَٰلِبُونَ
অত:পর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো। সাথে সাথে সেটি কৃত্রিম সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে থাকলো।
অতঃপর মূসা তাহার লাঠি নিক্ষেপ করিল, সহসা উহা উহাদের অলীক সৃষ্টিগুলিকে গ্রাস করিতে লাগিল।
فألقى موسى عصاه فإذا هي تلقف ما يأفكون
অতঃপর মূসা তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করল, হঠাৎ তা তাদের অলীক কীর্তিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল।
فَأَلْقَىٰ مُوسَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ
তখন ম্যাজেসিয়ানরা সাজদায় আনত হয়ে পড়লো।
তখন জাদুকরেরা সিজ্দাবনত হইয়া পড়িল।
فألقي السحرة ساجدين
তখন জাদুকররা সেজদায় নত হয়ে গেল।
فَأُلْقِىَ ٱلسَّحَرَةُ سَٰجِدِينَ
তারা বললো: ‘আমরা ঈমান আনলাম রাব্বুল আলামিনের প্রতি,
এবং বলিল, ‘আমরা ঈমান আনয়ন করিলাম জগতসমূহের প্রতিপালকের প্রতি -
قالوا آمنا برب العالمين
তারা বলল, আমরা রাব্বুল আলামীনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম।
قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
যিনি হারূণ এবং মূসারও রব।’
‘যিনি মূসা ও হারূনেরও প্রতিপালক।’
رب موسى وهارون
যিনি মূসা ও হারুনের রব।
رَبِّ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ
ফেরাউন বললো: ‘আমি তোমাদের অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রধান, সে - ই তোমাদের ম্যাজিক শিখিয়েছে, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে (এর পরিণতি)। আমি অবশ্যি বিপরীত দিক থেকে তোমাদের হাত পা কেটে দেবো এবং তোমাদের সবাইকে শূলবিদ্ধ করে ছাড়বো।’
ফির‘আওন বলিল, ‘কী ! আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়ার পূর্বেই তোমরা উহাতে বিশ্বাস করিলে? সে - ই তো তোমাদের প্রধান যে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়াছে। শীঘ্রই তোমরা ইহার পরিণাম জানিবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত এবং তোমাদের পা বিপরীত দিক হইতে কর্তন করিব এবং তোমাদের সকলকে শূলবিদ্ধ করিবই।’
قال آمنتم له قبل أن آذن لكم ۖ إنه لكبيركم الذي علمكم السحر فلسوف تعلمون ۚ لأقطعن أيديكم وأرجلكم من خلاف ولأصلبنكم أجمعين
ফেরাউন বলল, আমার অনুমতি দানের পূর্বেই তোমরা কি তাকে মেনে নিলে? নিশ্চয় সে তোমাদের প্রধান, যে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়েছে। শীঘ্রই তোমরা পরিণাম জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কর্তন করব। এবং তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব।
قَالَ ءَامَنتُمْ لَهُۥ قَبْلَ أَنْ ءَاذَنَ لَكُمْ إِنَّهُۥ لَكَبِيرُكُمُ ٱلَّذِى عَلَّمَكُمُ ٱلسِّحْرَ فَلَسَوْفَ تَعْلَمُونَ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُم مِّنْ خِلَٰفٍ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ
তারা বললো: ‘‘ক্ষতি নেই, আমরা আমাদের প্রভুর কাছে ফিরে যাবো।
উহারা বলিল, ‘কোন ক্ষতি নাই, আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকটই প্রত্যাবর্তন করিব।
قالوا لا ضير ۖ إنا إلى ربنا منقلبون
তারা বলল, কোন ক্ষতি নেই। আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করব।
قَالُوا۟ لَا ضَيْرَ إِنَّآ إِلَىٰ رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ
আমরা আকাঙ্ক্ষা করি, আমাদের প্রভু আমাদের গুনাহ্ খাতা ক্ষমা করে দেবেন, কারণ আমরা সবার আগে হয়েছি।’’
‘আমরা তো আশা করি, আমাদের প্রতিপালক আমাদের অপরাধ মার্জনা করিবেন, কারণ আমরা মু’মিনদের মধ্যে অগ্রণী।’
إنا نطمع أن يغفر لنا ربنا خطايانا أن كنا أول المؤمنين
আমরা আশা করি, আমাদের পালনকর্তা আমাদের ক্রটি - বিচ্যুতি মার্জনা করবেন। কারণ, আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারীদের মধ্যে অগ্রণী।
إِنَّا نَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَٰيَٰنَآ أَن كُنَّآ أَوَّلَ ٱلْمُؤْمِنِينَ
আমরা মূসার প্রতি অহি করে নির্দেশ দিয়েছিলাম: আমার দাসদের নিয়ে রাতের বেলায় বেরিয়ে পড়ো, তোমাদের কিন্তু পিছে থেকে ধাওয়া করা হবে।
আমি মূসার প্রতি ওহী করিয়াছিলাম এই মর্মে : ‘আমার বান্দাদেরকে লইয়া রাত্রিকালে বাহির হও, তোমাদের তো পশ্চাদ্ধাবন করা হইবে।’
۞ وأوحينا إلى موسى أن أسر بعبادي إنكم متبعون
আমি মূসাকে আদেশ করলাম যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে বের হয়ে যাও, নিশ্চয় তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।
وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِىٓ إِنَّكُم مُّتَّبَعُونَ
তারপর ফেরাউন শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারী পাঠিয়ে দিলো,
অতঃপর ফির‘আওন শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারী পাঠাইল,
فأرسل فرعون في المدائن حاشرين
অতঃপর ফেরাউন শহরে শহরে সংগ্রাহকদেরকে প্রেরণ করল,
فَأَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ
এই বলে যে, এরা তো অল্প কিছু লোক,
এই বলিয়া, ‘ইহারা তো ক্ষুদ্র একটি দল
إن هؤلاء لشرذمة قليلون
নিশ্চয় এরা (বনী - ইসরাঈলরা) ক্ষুদ্র একটি দল।
إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ لَشِرْذِمَةٌ قَلِيلُونَ
এবং তারা আমাদের ক্রোধ উদ্রেককারী।
এবং ‘উহারা তো আমাদের ক্রোধ উদ্রেক করিয়াছে ;
وإنهم لنا لغائظون
এবং তারা আমাদের ক্রোধের উদ্রেক করেছে।
وَإِنَّهُمْ لَنَا لَغَآئِظُونَ
আর আমরা সবাই তো সদা সতর্ক।
এবং আমরা তো সকলেই সদাশংকিত।’
وإنا لجميع حاذرون
এবং আমরা সবাই সদা শংকিত।
وَإِنَّا لَجَمِيعٌ حَٰذِرُونَ
অত:পর আমরা তাদের (ফেরাউন এবং তার দলবলকে) বের করে এনেছি তাদের মনোরম উদ্যান আর ঝরণাধারাসমূহ থেকে,
পরিণামে আমি ফির‘আওন গোষ্ঠীকে বহিষ্কার করিলাম উহাদের উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণ হইতে
فأخرجناهم من جنات وعيون
অতঃপর আমি ফেরআউনের দলকে তাদের বাগ - বাগিচা ও ঝর্ণাসমূহ থেকে বহিষ্কার করলাম।
فَأَخْرَجْنَٰهُم مِّن جَنَّٰتٍ وَعُيُونٍ
ধন - ভান্ডারসমূহ এবং বিলাসবহুল প্রাসাদসমূহ থেকে।
এবং ধনভাণ্ডার ও সুরম্য সৌধমালা হইতে।
وكنوز ومقام كريم
এবং ধন - ভান্ডার ও মনোরম স্থানসমূহ থেকে।
وَكُنُوزٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ
তাদের সাথে এমনটিই ঘটেছিল। অপরদিকে বনি ইসরাঈলকে আমরা সবকিছুর ওয়ারিশ বানিয়ে দিয়েছিলাম।
এইরূপই ঘটিয়াছিল এবং বনী ইসরাঈলকে করিয়াছিলাম এই সমুদয়ের অধিকারী।
كذلك وأورثناها بني إسرائيل
এরূপই হয়েছিল এবং বনী - ইসলাঈলকে করে দিলাম এসবের মালিক।
كَذَٰلِكَ وَأَوْرَثْنَٰهَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ
তারা সূর্যোদয়ের সময় তাদের পেছনে এসে পড়েছিল।
উহারা সূর্যোদয়কালে তাহাদের পশ্চাতে আসিয়া পড়িল।
فأتبعوهم مشرقين
অতঃপর সুর্যোদয়ের সময় তারা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।
فَأَتْبَعُوهُم مُّشْرِقِينَ
তারপর দুইদল যখন একে অপরকে দেখলো, মূসার সাথিরা বলে উঠলো: ‘নিশ্চয়ই আমরা ধরা পড়ে যাচ্ছি।’
অতঃপর যখন দুই দল পরস্পরকে দেখিল, তখন মূসার সঙ্গীরা বলিল, ‘আমরা তো ধরা পড়িয়া গেলাম।’
فلما تراءى الجمعان قال أصحاب موسى إنا لمدركون
যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সঙ্গীরা বলল, আমরা যে ধরা পড়ে গেলাম।
فَلَمَّا تَرَٰٓءَا ٱلْجَمْعَانِ قَالَ أَصْحَٰبُ مُوسَىٰٓ إِنَّا لَمُدْرَكُونَ
মূসা বললো: ‘না, কখনো নয়, নিশ্চয়ই আমার সাথে আমার প্রভু রয়েছেন, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।’
মূসা বলিল, ‘কখনই নহে ! আমার সঙ্গে আছেন আমার প্রতিপালক ; সত্বর তিনি আমাকে পথনির্দেশ করিবেন।’
قال كلا ۖ إن معي ربي سيهدين
মূসা বলল, কখনই নয়, আমার সাথে আছেন আমার পালনকর্তা। তিনি আমাকে পথ বলে দেবেন।
قَالَ كَلَّآ إِنَّ مَعِىَ رَبِّى سَيَهْدِينِ
তখন আমরা অহির মাধ্যমে মূসাকে নির্দেশ দিলাম: ‘তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করো।’ সাথে সাথে তা বিভক্ত হয়ে গেলো এবং প্রত্যেক ভাগ বড় পর্বতের মতো হয়ে গেলো।
অতঃপর মূসার প্রতি ওহী করিলাম, ‘তোমার যষ্টি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত কর।’ ফলে উহা বিভক্ত হইয়া প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতসদৃশ হইয়া গেল ;
فأوحينا إلى موسى أن اضرب بعصاك البحر ۖ فانفلق فكان كل فرق كالطود العظيم
অতঃপর আমি মূসাকে আদেশ করলাম, তোমার লাঠি দ্বারা সমূদ্রকে আঘাত কর। ফলে, তা বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতসদৃশ হয়ে গেল।
فَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱضْرِب بِّعَصَاكَ ٱلْبَحْرَ فَٱنفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَٱلطَّوْدِ ٱلْعَظِيمِ
তারপর আমরা সেখানে এনে হাজির করলাম পরের দলটিকে।
আমি সেখানে উপনীত করিলাম অপর দলটিকে,
وأزلفنا ثم الآخرين
আমি সেথায় অপর দলকে পৌঁছিয়ে দিলাম।
وَأَزْلَفْنَا ثَمَّ ٱلْءَاخَرِينَ
আমরা মূসা আর তার সাথিদের সবাইকে উদ্ধার করলাম,
এবং আমি উদ্ধার করিলাম মূসা ও তাহার সঙ্গী সকলকে,
وأنجينا موسى ومن معه أجمعين
এবং মূসা ও তাঁর সংগীদের সবাইকে বাঁচিয়ে দিলাম।
وَأَنجَيْنَا مُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُۥٓ أَجْمَعِينَ
তারপর ডুবিয়ে মারলাম পরবর্তীদের।
তৎপর নিমজ্জিত করিলাম অপর দলটিকে।
ثم أغرقنا الآخرين
অতঃপর অপর দলটিকে নিমজ্জত কললাম।
ثُمَّ أَغْرَقْنَا ٱلْءَاخَرِينَ
নিশ্চয়ই এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, তবে তাদের অধিকাংশই নয়।
ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয় এতে একটি নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই ছিল না।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
আর তোমার প্রভু অবশ্যি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়াবান।
তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আপনার পালনকর্তা অবশ্যই পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
তাদের প্রতি ইবরাহিমের সংবাদ তিলাওয়াত করো।
উহাদের নিকট ইব্রাহীমের বৃত্তান্ত বর্ণনা কর।
واتل عليهم نبأ إبراهيم
আর তাদেরকে ইব্রাহীমের বৃত্তান্ত শুনিয়ে দিন।
وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ إِبْرَٰهِيمَ
যখন সে তার বাপ ও কওমকে বলেছিল: ‘তোমরা কোন্ জিনিসের ইবাদত করছো?’
সে যখন তাহার পিতা ও তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমরা কিসের ‘ইবাদত কর?’
إذ قال لأبيه وقومه ما تعبدون
যখন তাঁর পিতাকে এবং তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা কিসের এবাদত কর?
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِۦ مَا تَعْبُدُونَ
তারা বলেছিল: ‘আমরা ভাস্কর্যদের (মূর্তি দেবতাদের) পূজা করি এবং আমরা নিষ্ঠার সাথে তাদের প্রতি নত হই।’
উহারা বলিল, ‘আমরা মূর্তির পূজা করি এবং আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে উহাদের পূজায় নিরত থাকিব।’
قالوا نعبد أصناما فنظل لها عاكفين
তারা বলল, আমরা প্রতিমার পূজা করি এবং সারাদিন এদেরকেই নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে থাকি।
قَالُوا۟ نَعْبُدُ أَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عَٰكِفِينَ
ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা দোয়া করলে তারা কি তোমাদের দোয়া শুনে?
সে বলিল, ‘তোমরা প্রার্থনা করিলে উহারা কি শুনে?’
قال هل يسمعونكم إذ تدعون
ইব্রাহীম (আঃ) বললেন, তোমরা যখন আহবান কর, তখন তারা শোনে কি?
قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ
তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?’’
‘অথবা উহারা কি তোমাদের উপকার কিংবা অপকার করিতে পারে?’
أو ينفعونكم أو يضرون
অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?
أَوْ يَنفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ
তারা বললো: ‘না, তবে আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের এভাবে করতে দেখেছি।’
উহারা বলিল, ‘না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এইরূপই করিতে দেখিয়াছি।’
قالوا بل وجدنا آباءنا كذلك يفعلون
তারা বললঃ না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি, তারা এরূপই করত।
قَالُوا۟ بَلْ وَجَدْنَآ ءَابَآءَنَا كَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَ
ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা কিসের পূজা উপাসনা করছো তা কি ভেবে দেখছোনা?
সে বলিল, ‘তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ, কিসের পূজা করিতেছ,
قال أفرأيتم ما كنتم تعبدون
ইব্রাহীম বললেন, তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, যাদের পূজা করে আসছ।
قَالَ أَفَرَءَيْتُم مَّا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ
তোমরা এবং তোমাদের অতীত বাপ দাদারা?
‘তোমরা এবং তোমাদের অতীত পিতৃপুরুষেরা?
أنتم وآباؤكم الأقدمون
তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষেরা ?
أَنتُمْ وَءَابَآؤُكُمُ ٱلْأَقْدَمُونَ
তারা সবাই আমার দুশমন, রাব্বুল আলামিন ছাড়া।
‘উহারা সকলেই আমার শত্রু, জগতসমূহের প্রতিপালক ব্যতীত;
فإنهم عدو لي إلا رب العالمين
বিশ্বপালনকর্তা ব্যতীত তারা সবাই আমার শত্রু।
فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِّىٓ إِلَّا رَبَّ ٱلْعَٰلَمِينَ
কারণ, তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
‘যিনি আমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন, তিনিই আমাকে পথ প্রদর্শন করেন।
الذي خلقني فهو يهدين
যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনিই আমাকে পথপ্রদর্শন করেন,
ٱلَّذِى خَلَقَنِى فَهُوَ يَهْدِينِ
তিনি আমাকে খাওয়ান, পান করান।
‘তিনিই আমাকে দান করেন আহার্য ও পানীয়।
والذي هو يطعمني ويسقين
যিনি আমাকে আহার এবং পানীয় দান করেন,
وَٱلَّذِى هُوَ يُطْعِمُنِى وَيَسْقِينِ
আমি রোগগ্রস্ত হলে তিনিই আমাকে নিরাময় করে দেন।
‘এবং রোগাক্রান্ত হইলে তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন ;
وإذا مرضت فهو يشفين
যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন।
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
তিনিই আমার মউত ঘটাবেন এবং পুনরায় হায়াত দেবেন।
‘এবং তিনিই আমার মৃত্যু ঘটাইবেন, অতঃপর পুনর্জীবিত করিবেন।
والذي يميتني ثم يحيين
যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর পুনর্জীবন দান করবেন।
وَٱلَّذِى يُمِيتُنِى ثُمَّ يُحْيِينِ
তাঁর ব্যাপারে আমি আশা করি, তিনি আমাকে আমার গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দেবেন প্রতিদান দিবসে।
‘এবং আশা করি, তিনি কিয়ামত দিবসে আমার অপরাধ মার্জনা করিয়া দিবেন।
والذي أطمع أن يغفر لي خطيئتي يوم الدين
আমি আশা করি তিনিই বিচারের দিনে আমার ক্রটি - বিচ্যুতি মাফ করবেন।
وَٱلَّذِىٓ أَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لِى خَطِيٓـَٔتِى يَوْمَ ٱلدِّينِ
আমার প্রভু! আমাকে প্রজ্ঞা দান করো এবং মিলিত করো সালেহ্ লোকদের সাথে।
‘হে আমার প্রতিপালক ! আমাকে জ্ঞান দান কর এবং সৎকর্মপরায়ণদের শামিল কর।
رب هب لي حكما وألحقني بالصالحين
হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর
رَبِّ هَبْ لِى حُكْمًا وَأَلْحِقْنِى بِٱلصَّٰلِحِينَ
পরবর্তী লোকদের মধ্যে আমার সুখ্যাতি দান করো।
‘আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে যশস্বী কর,
واجعل لي لسان صدق في الآخرين
এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর।
وَٱجْعَل لِّى لِسَانَ صِدْقٍ فِى ٱلْءَاخِرِينَ
আমাকে জান্নাতুন নায়ীমের ওয়ারিশদের অন্তরভুক্ত করো।
‘এবং আমাকে সুখময় জান্নাতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর,
واجعلني من ورثة جنة النعيم
এবং আমাকে নেয়ামত উদ্যানের অধিকারীদের অন্তর্ভূক্ত কর।
وَٱجْعَلْنِى مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ ٱلنَّعِيمِ
আমার বাবাকে ক্ষমা করে দাও, কারণ তিনি গোমরাহদেরই একজন।
‘আর আমার পিতাকে ক্ষমা কর, তিনি তো পথভ্রষ্টদের শামিল ছিলেন।
واغفر لأبي إنه كان من الضالين
এবং আমার পিতাকে ক্ষমা কর। সে তো পথভ্রষ্টদের অন্যতম।
وَٱغْفِرْ لِأَبِىٓ إِنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ
পুনরুত্থান দিবসে তুমি আমাকে অপমাণিত করোনা,
‘এবং আমাকে লাঞ্ছিত করিও না পুনরুত্থান দিবসে
ولا تخزني يوم يبعثون
এবং পূনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত করো না,
وَلَا تُخْزِنِى يَوْمَ يُبْعَثُونَ
যেদিন মাল সম্পদ এবং সন্তান - সন্ততি কোনো উপকারে আসবেনা,
‘যেদিন ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি কোন কাজে আসিবে না ;
يوم لا ينفع مال ولا بنون
যে দিবসে ধন - সম্পদ ও সন্তান সন্ততি কোন উপকারে আসবে না;
يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ
তবে উপকার লাভ করবে সে, যে হাজির হবে শুদ্ধ শান্ত কলব নিয়ে।’’
‘সেদিন উপকৃত হইবে কেবল সে, যে র নিকট আসিবে বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ লইয়া।’
إلا من أتى الله بقلب سليم
কিন্তু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে।
إِلَّا مَنْ أَتَى ٱللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
সেদিন মুত্তাকিদের কাছেই নিয়ে আসা হবে জান্নাত।
মুত্তাকীদের নিকটবর্তী করা হইবে জান্নাত,
وأزلفت الجنة للمتقين
জান্নাত আল্লাহভীরুদের নিকটবর্তী করা হবে।
وَأُزْلِفَتِ ٱلْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ
আর বিভ্রান্তদের জন্যে খুলে দেয়া হবে জাহান্নাম।
এবং পথভ্রষ্টদের জন্য উন্মোচিত করা হইবে জাহান্নাম ;
وبرزت الجحيم للغاوين
এবং বিপথগামীদের সামনে উম্মোচিত করা হবে জাহান্নাম।
وَبُرِّزَتِ ٱلْجَحِيمُ لِلْغَاوِينَ
তাদের বলা হবে: ‘‘তারা এখন কোথায়, তোমরা যাদের ইবাদত (উপাসনা) করতে
উহাদেরকে বলা হইবে, ‘তাহারা কোথায়, তোমরা যাহাদের ‘ইবাদত করিতে -
وقيل لهم أين ما كنتم تعبدون
তাদেরকে বলা হবেঃ তারা কোথায়, তোমরা যাদের পূজা করতে।
وَقِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ
আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি এখন তোমাদের সাহায্য করতে পারবে, নাকি তারা আত্মরক্ষা করতে পারবে?’’
‘র পরিবর্তে? উহারা কি তোমাদের সাহায্য করিতে পারে অথবা উহারা কি আত্মরক্ষা করিতে সক্ষম?
من دون الله هل ينصرونكم أو ينتصرون
আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, অথবা তারা প্রতিশোধ নিতে পারে?
مِن دُونِ ٱللَّهِ هَلْ يَنصُرُونَكُمْ أَوْ يَنتَصِرُونَ
তারপর তাদের এবং বিপথগামীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে মাথা নীচের দিকে দিয়ে।
অতঃপর উহাদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হইবে অধোমুখী করিয়া,
فكبكبوا فيها هم والغاوون
অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে আধোমুখি করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে।
فَكُبْكِبُوا۟ فِيهَا هُمْ وَٱلْغَاوُۥنَ
এবং ইবলিস বাহিনীর সবাইকেও।
এবং ইব্লীসের বাহিনীর সকলকেও।
وجنود إبليس أجمعون
এবং ইবলীস বাহিনীর সকলকে।
وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ
তারা সেখানে তর্কাতর্কি করে বলবে:
উহারা সেখানে বিতর্কে লিপ্ত হইয়া বলিবে,
قالوا وهم فيها يختصمون
তারা তথায় কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়ে বলবেঃ
قَالُوا۟ وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ
আল্লাহর কসম, আমরা স্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত ছিলাম।
র শপথ ! আমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই ছিলাম,
تالله إن كنا لفي ضلال مبين
আল্লাহর কসম, আমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম।
تَٱللَّهِ إِن كُنَّا لَفِى ضَلَٰلٍ مُّبِينٍ
যখন আমরা তোমাদেরকে রাব্বুল আলামিনের বরাবর মনে করতাম।
‘যখন আমরা তোমাদেরকে জগতসমূহের প্রতিপালকের সমকক্ষ গণ্য করিতাম।
إذ نسويكم برب العالمين
যখন আমরা তোমাদেরকে বিশ্ব - পালনকর্তার সমতুল্য গন্য করতাম।
إِذْ نُسَوِّيكُم بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
অপরাধীরাই আমাদের বিপথগামী করেছিল।
‘আমাদেরকে দুষ্কৃতিকারীরাই বিভ্রান্ত করিয়াছিল।
وما أضلنا إلا المجرمون
আমাদেরকে দুষ্টকর্মীরাই গোমরাহ করেছিল।
وَمَآ أَضَلَّنَآ إِلَّا ٱلْمُجْرِمُونَ
ফলে আজ আমাদের কোনো শাফায়াতকারী নেই,
‘পরিণামে আমাদের কোন সুপারিশকারী নাই।
فما لنا من شافعين
অতএব আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই।
فَمَا لَنَا مِن شَٰفِعِينَ
এবং কোনো প্রাণের বন্ধুও নেই।
‘এবং কোন সহৃদয় বন্ধুও নাই।
ولا صديق حميم
এবং কোন সহৃদয় বন্ধু ও নেই।
وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍ
আমরা যদি একবার সুযোগ পেতাম ফিরে যাবার, তাহলে অবশ্যি হয়ে যেতাম।
‘হায়, যদি আমাদের একবার প্রত্যাবর্তনের সুযোগ ঘটিত, তাহা হইলে আমরা মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত হইয়া যাইতাম!
فلو أن لنا كرة فنكون من المؤمنين
হায়, যদি কোনরুপে আমরা পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেতাম, তবে আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম।
فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَكُونَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ
এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে, কিন্তু উহাদের অধিকাংশ নহে।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয়, এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই নয়।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।
তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
নূহের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
নূহের সম্প্রদায় রাসূলগণের প্রতি মিথ্যা আরোপ করিয়াছিল।
كذبت قوم نوح المرسلين
নূহের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যারোপ করেছে।
كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ ٱلْمُرْسَلِينَ
স্মরণ করো, তাদের ভাই নূহ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
যখন উহাদের ভ্রাতা নূহ্ উহাদেরকে বলিল, ‘তোমরা কি সাবধান হইবে না?
إذ قال لهم أخوهم نوح ألا تتقون
যখন তাদের ভ্রাতা নূহ তাদেরকে বললেন, তোমাদের কি ভয় নেই?
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
إني لكم رسول أمين
আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত বার্তাবাহক।
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
অতএব তােমরা কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
তোমাদের (সতর্ক করার) একাজ করার জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
‘আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্য কোন প্রতিদান চাহি না ; আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তাই দেবেন।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’’
‘সুতরাং তােমরা কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।’
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো? তোমাকে অনুসরণ করে তো নিম্ন শ্রেণীর লোকেরা।’
উহারা বলিল, ‘আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিব অথচ ইতরজনেরা তোমার অনুসরণ করিতেছে?’
۞ قالوا أنؤمن لك واتبعك الأرذلون
তারা বলল, আমরা কি তোমাকে মেনে নেব যখন তোমার অনুসরণ করছে ইতরজনেরা?
قَالُوٓا۟ أَنُؤْمِنُ لَكَ وَٱتَّبَعَكَ ٱلْأَرْذَلُونَ
নূহ বলেছিল: ‘‘তারা (আগে) কী করতো তা আমি জানিনা।
নূহ্ বলিল, ‘উহারা কী করিত তাহা আমার নাই।’
قال وما علمي بما كانوا يعملون
নূহ বললেন, তারা কি কাজ করছে, তা আমার কি দরকার?
قَالَ وَمَا عِلْمِى بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ
তাদের হিসাব নেয়ার দায়িত্ব তো আল্লাহর, যদি তোমরা বুঝতে!
উহাদের হিসাব গ্রহণ তো আমার প্রতিপালকেরই কাজ; যদি তোমরা বুঝিতে!
إن حسابهم إلا على ربي ۖ لو تشعرون
তাদের হিসাব নেয়া আমার পালনকর্তারই কাজ; যদি তোমরা বুঝতে!
إِنْ حِسَابُهُمْ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّى لَوْ تَشْعُرُونَ
মুমিনদের আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দেয়া আমার কাজ নয়।
‘মু’মিনদেরকে তাড়াইয়া দেওয়া আমার কাজ নহে।
وما أنا بطارد المؤمنين
আমি মুমিনগণকে তাড়িয়ে দেয়ার লোক নই।
وَمَآ أَنَا۠ بِطَارِدِ ٱلْمُؤْمِنِينَ
আমি তো একজন স্পষ্ট সতর্ককারী ছাড়া আর কিছু নই।’’
‘আমি তো কেবল একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।’
إن أنا إلا نذير مبين
আমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
إِنْ أَنَا۠ إِلَّا نَذِيرٌ مُّبِينٌ
তখন তারা বলেছিল: ‘হে নূহ! তুমি যদি এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে পাথর নিক্ষেপ করে যাদের মারা হয়েছে তুমিও তাদের অন্তরভুক্ত হবে।’
উহারা বলিল, ‘হে নূহ্ ! তুমি যদি নিবৃত্ত না হও তবে তুমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে নিহতদের শামিল হইবে।’
قالوا لئن لم تنته يا نوح لتكونن من المرجومين
তারা বলল, হে নূহ যদি তুমি বিরত না হও, তবে তুমি নিশ্চিতই প্রস্তরাঘাতে নিহত হবে।
قَالُوا۟ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَٰنُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمَرْجُومِينَ
নূহ ফরিয়াদ করে বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার কওম আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
নূহ্ বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক ! আমার সম্প্রদায়ই তো আমাকে অস্বীকার করিতেছে।
قال رب إن قومي كذبون
নূহ বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় তো আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।
قَالَ رَبِّ إِنَّ قَوْمِى كَذَّبُونِ
সুতরাং তুমি আমার ও তাদের মাঝে একটা চূড়ান্ত ফায়সালা করে দাও আর নাজাত দাও আমাকে এবং আমার সাথি মুমিনদের।’’
‘সুতরাং তুমি আমার ও উহাদের মধ্যে স্পষ্ট মীমাংসা করিয়া দাও এবং আমাকে ও আমার সঙ্গে যেসব আছে, তাহাদেরকে রক্ষা কর।’
فافتح بيني وبينهم فتحا ونجني ومن معي من المؤمنين
অতএব, আমার ও তাদের মধ্যে কোন ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সংগী মুমিনগণকে রক্ষা করুন।
فَٱفْتَحْ بَيْنِى وَبَيْنَهُمْ فَتْحًا وَنَجِّنِى وَمَن مَّعِىَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ
তখন আমি তাকে এবং তার সাথিদেরকে নৌযানে বোঝাই করে রক্ষা করেছি,
অতঃপর আমি তাহাকে ও তাহার সঙ্গে যাহারা ছিল, তাহাদেরকে রক্ষা করিলাম বোঝাই নৌযানে।
فأنجيناه ومن معه في الفلك المشحون
অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর সঙ্গিগণকে বোঝাই করা নৌকায় রক্ষা করলাম।
فَأَنجَيْنَٰهُ وَمَن مَّعَهُۥ فِى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِ
আর বাকি সবাইকে ডুবিয়ে দিয়েছি পানিতে।
তৎপর অবশিষ্ট সকলকে নিমজ্জিত করিলাম।
ثم أغرقنا بعد الباقين
এরপর অবশিষ্ট সবাইকে নিমজ্জত করলাম।
ثُمَّ أَغْرَقْنَا بَعْدُ ٱلْبَاقِينَ
নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
ইহাতে অবশ্যই রহিয়াছে নিদর্শন, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই নয়।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, পরম দয়াবান।
এবং তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
আদ জাতিও প্রত্যাখ্যান করেছিল রসূলদের।
‘আদ সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছিল।
كذبت عاد المرسلين
আদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
كَذَّبَتْ عَادٌ ٱلْمُرْسَلِينَ
স্মরণ করো, তাদের ভাই হুদ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
যখন উহাদের ভ্রাতা হূদ উহাদেরকে বলিল, ‘তোমরা কি সাবধান হইবে না?
إذ قال لهم أخوهم هود ألا تتقون
তখন তাদের ভাই হুদ তাদেরকে বললেনঃ তোমাদের কি ভয় নেই?
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ هُودٌ أَلَا تَتَّقُونَ
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
إني لكم رسول أمين
আমি তোমাদের বিশ্বস্ত রসূল।
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
অতএব কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
আমি তো তোমাদের (সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা, আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
‘আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্য কোন প্রতিদান চাহি না, আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট আছে।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো পালনকর্তা দেবেন।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
তোমরা কেন প্রতিটি উঁচু স্থানে অনর্থক স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করছো?
‘তোমরা কি প্রতিটি উচ্চ স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করিতেছ নিরর্থক?
أتبنون بكل ريع آية تعبثون
তোমরা কি প্রতিটি উচ্চস্থানে অযথা নিদর্শন নির্মান করছ?
أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ ءَايَةً تَعْبَثُونَ
তোমরা এমন সব শৈল্পিক প্রাসাদ নির্মাণ করছো যেনো তোমরা এখানে চিরস্থায়ী হবে!
‘আর তোমরা প্রাসাদ নির্মাণ করিতেছ এই মনে করিয়া যে, তোমরা চিরস্থায়ী হইবে।
وتتخذون مصانع لعلكم تخلدون
এবং বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ, যেন তোমরা চিরকাল থাকবে?
وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ
যখন তোমরা ক্ষমতা পাও, তখন স্বৈরাচারি ক্ষমতা প্রয়োগ করো।
‘এবং যখন তোমরা আঘাত হান তখন আঘাত হানিয়া থাক কঠোরভাবে।
وإذا بطشتم بطشتم جبارين
যখন তোমরা আঘাত হান, তখন জালেম ও নিষ্ঠুরের মত আঘাত হান।
وَإِذَا بَطَشْتُم بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ
সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
অতএব তোমরা কে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
ভয় করো তাঁকে যিনি তোমাদের সব (উত্তম সামগ্রী) দিয়ে সাহায্য করেছেন যা তোমরা জানো।
‘ভয় কর তাঁহাকে যিনি তোমাদেরকে দান করিয়াছেন সেই সমুদয়, যাহা তোমরা জান।
واتقوا الذي أمدكم بما تعلمون
ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে সেসব বস্তু দিয়েছেন, যা তোমরা জান।
وَٱتَّقُوا۟ ٱلَّذِىٓ أَمَدَّكُم بِمَا تَعْلَمُونَ
তিনি তোমাদের সাহায্য করেছেন পশু সম্পদ এবং সন্তান সন্ততি দিয়ে,
‘তিনি তোমাদেরকে দান করিয়াছেন চতুষ্পদ জন্তু ও সন্তান - সন্ততি।
أمدكم بأنعام وبنين
তোমাদেরকে দিয়েছেন চতুষ্পদ জন্তু ও পুত্র - সন্তান,
أَمَدَّكُم بِأَنْعَٰمٍ وَبَنِينَ
বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারা দিয়ে।
‘উদ্যান ও প্রস্রবণ;
وجنات وعيون
এবং উদ্যান ও ঝরণা।
وَجَنَّٰتٍ وَعُيُونٍ
আমি আশংকা করছি তোমাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় কোনো আযাব এসে পড়ার।’’
‘আমি তো তোমাদের জন্য আশংকা করি মহাদিবসের শাস্তির।’
إني أخاف عليكم عذاب يوم عظيم
আমি তোমাদের জন্যে মহাদিবসের শাস্তি আশংকা করি।
إِنِّىٓ أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি আমাদের ওয়ায করো কিংবা না করো দুটোই সমান।
উহারা বলিল, ‘তুমি উপদেশ দাও অথবা না - ই দাও, উভয়ই আমাদের জন্য সমান।
قالوا سواء علينا أوعظت أم لم تكن من الواعظين
তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও অথবা উপদেশ নাই দাও, উভয়ই আমাদের জন্যে সমান।
قَالُوا۟ سَوَآءٌ عَلَيْنَآ أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُن مِّنَ ٱلْوَٰعِظِينَ
আগেকার লোকদের এটাই (ওয়ায করা বা উপদেশ দেয়াটাই) স্বভাব।
ইহা তো পূর্ববর্তীদেরই স্বভাব।
إن هذا إلا خلق الأولين
এসব কথাবার্তা পূর্ববর্তী লোকদের অভ্যাস বৈ নয়।
إِنْ هَٰذَآ إِلَّا خُلُقُ ٱلْأَوَّلِينَ
যাদের শাস্তি দেয়া হবে আমরা তাদের অন্তরভুক্ত নই।’’
‘আমরা শাস্তিপ্রাপ্তদের শামিল নই।’
وما نحن بمعذبين
আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না।
وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ
এভাবে তারা তাকে (হুদকে) প্রত্যাখ্যান করে, ফলে আমরাও তাদের হালাক (ধ্বংস) করে দেই। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
অতঃপর উহারা তাহাকে প্রত্যাখ্যান করিল এবং আমি উহাদেরকে ধ্বংস করিলাম। ইহাতে অবশ্যই আছে নিদর্শন ; কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।
فكذبوه فأهلكناهم ۗ إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
অতএব, তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলতে লাগল এবং আমি তাদেরকে নিপাত করে দিলাম। এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
فَكَذَّبُوهُ فَأَهْلَكْنَٰهُمْ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর অতীব দয়াবান।
এবং তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
এবং আপনার পালনকর্তা, তিনি তো প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
সামুদ জাতিও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
সামূদ সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছিল।
كذبت ثمود المرسلين
সামুদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
كَذَّبَتْ ثَمُودُ ٱلْمُرْسَلِينَ
স্মরণ করো, তাদের ভাই সালেহ্ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
যখন উহাদের ভ্রাতা সালিহ্ উহাদেরকে বলিল, ‘তোমরা কি সাবধান হইবে না?
إذ قال لهم أخوهم صالح ألا تتقون
যখন তাদের ভাই সালেহ, তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ صَٰلِحٌ أَلَا تَتَّقُونَ
আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
إني لكم رسول أمين
আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘অতএব তোমরা কে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর,
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
(তোমাদের সতর্ক করার) এ কাজের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
‘আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্য কোন প্রতিদান চাহি না, আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তাই দেবেন।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
তোমরা এখানে যে হালে আছো, তোমাদের কি এ রকম নিরাপদ ছেড়ে দেয়া হবে?
‘তোমাদেরকে কি নিরাপদ অবস্থায় ছাড়িয়া রাখা হইবে, যাহা এইখানে আছে উহাতে -
أتتركون في ما هاهنا آمنين
তোমাদেরকে কি এ জগতের ভোগ - বিলাসের মধ্যে নিরাপদে রেখে দেয়া হবে?
أَتُتْرَكُونَ فِى مَا هَٰهُنَآ ءَامِنِينَ
এসব বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারার মধ্যে?
‘উদ্যানে, প্রস্রবণে
في جنات وعيون
উদ্যানসমূহের মধ্যে এবং ঝরণাসমূহের মধ্যে ?
فِى جَنَّٰتٍ وَعُيُونٍ
এসব (সবুজ) শস্যক্ষেত আর সুকোমল ছড়া বিশিষ্ট খেজুরের বাগানে?
‘ও শস্যক্ষেত্রে এবং সুকোমল গুচ্ছবিশিষ্ট খর্জুর বাগানে?
وزروع ونخل طلعها هضيم
শস্যক্ষেত্রের মধ্যে এবং মঞ্জুরিত খেজুর বাগানের মধ্যে ?
وَزُرُوعٍ وَنَخْلٍ طَلْعُهَا هَضِيمٌ
তোমরা তো দক্ষতার সাথে পাহাড় কেটে আবাস নির্মাণ করছো।
‘তোমরা তো নৈপুণ্যের সঙ্গে পাহাড় কাটিয়া গৃহ নির্মাণ করিতেছ।
وتنحتون من الجبال بيوتا فارهين
তোমরা পাহাড় কেটে জাঁক জমকের গৃহ নির্মাণ করছ।
وَتَنْحِتُونَ مِنَ ٱلْجِبَالِ بُيُوتًا فَٰرِهِينَ
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘তোমরা কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
فاتقوا الله وأطيعون
সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
সীমা লঙ্ঘনকারীদের হুকুম মতো চলোনা,
‘এবং সীমালংঘনকারীদের আদেশ মান্য করিও না ;
ولا تطيعوا أمر المسرفين
এবং সীমালংঘনকারীদের আদেশ মান্য কর না;
وَلَا تُطِيعُوٓا۟ أَمْرَ ٱلْمُسْرِفِينَ
যারা দেশে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়াচ্ছে এবং কোনো প্রকার সংশোধনের কাজ করছেনা।’’
‘যাহারা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, শান্তি স্থাপন করে না।’
الذين يفسدون في الأرض ولا يصلحون
যারা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না;
ٱلَّذِينَ يُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।
উহারা বলিল, ‘তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্যতম।
قالوا إنما أنت من المسحرين
তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্থুরেদ একজন।
قَالُوٓا۟ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلْمُسَحَّرِينَ
তুমি তো আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে (তোমার রসূল হবার) কোনো প্রমাণ হাজির করো।’’
‘তুমি তো আমাদের মত একজন মানুষ, কাজেই তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে একটি নিদর্শন উপস্থিত কর।’
ما أنت إلا بشر مثلنا فأت بآية إن كنت من الصادقين
তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নও। সুতরাং যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে কোন নিদর্শন উপস্থিত কর।
مَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا فَأْتِ بِـَٔايَةٍ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ
তখন সে বলেছিল: ‘‘(প্রমাণ হলো) এই উটনী। কুয়ার পানি পানে এর জন্যেও পালা থাকবে, তোমাদের জন্যেও পালা থাকবে নির্দিষ্ট দিনে।
সালিহ্ বলিল, ‘এই একটি উষ্ট্রী, ইহার জন্য আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্য আছে নির্ধারিত দিনে পানি পানের পালা ;
قال هذه ناقة لها شرب ولكم شرب يوم معلوم
সালেহ বললেন এই উষ্ট্রী, এর জন্যে আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্যে আছে পানি পানের পালা নির্দিষ্ট এক - এক দিনের।
قَالَ هَٰذِهِۦ نَاقَةٌ لَّهَا شِرْبٌ وَلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ
এর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তোমরা একে স্পর্শও করোনা, করলে তোমাদের পাকড়াও করবে এক মহাদিবসের আযাব।’’
‘এবং উহার কোন অনিষ্ট সাধন করিও না; করিলে মহাদিবসের শাস্তি তোমাদের উপর আপতিত হইবে।’
ولا تمسوها بسوء فيأخذكم عذاب يوم عظيم
তোমরা একে কোন কষ্ট দিও না। তাহলে তোমাদেরকে মহাদিবসের আযাব পাকড়াও করবে।
وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوٓءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَظِيمٍ
কিন্তু তারা সেটিকে হত্যা করলো। পরিণামে তারা হলো লাঞ্ছিত।
কিন্তু উহারা উহাকে বধ করিল, পরিণামে উহারা অনুতপ্ত হইল।
فعقروها فأصبحوا نادمين
তারা তাকে বধ করল ফলে, তারা অনুতপ্ত হয়ে গেল।
فَعَقَرُوهَا فَأَصْبَحُوا۟ نَٰدِمِينَ
আর তাদের গ্রাস করলো আযাব। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
অতঃপর শাস্তি উহাদেরকে গ্রাস করিল। ইহাতে অবশ্যই রহিয়াছে নিদর্শন, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।
فأخذهم العذاب ۗ إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
এরপর আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল। নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
فَأَخَذَهُمُ ٱلْعَذَابُ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।
তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
লুতের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
লূতের সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছিল,
كذبت قوم لوط المرسلين
লূতের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍ ٱلْمُرْسَلِينَ
স্মরণ করো, তাদের ভাই লুত তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
যখন উহাদের ভ্রাতা লূত উহাদেরকে বলিল, তোমারা কি সাবধান হইবে না?
إذ قال لهم أخوهم لوط ألا تتقون
যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না ?
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ لُوطٌ أَلَا تَتَّقُونَ
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
إني لكم رسول أمين
আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
সুতরাং তােমরা কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
‘আমি ইহার জন্য তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাহি না, আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তা দেবেন।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
জগতের মধ্যে তোমরাই পুরুষদের সাথে যৌনকর্ম করছো,
‘বিশ্বজগতের মধ্যে তো তোমরাই পুরুষের সঙ্গে উপগত হও,
أتأتون الذكران من العالمين
সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরূষদের সাথে কুকর্ম কর?
أَتَأْتُونَ ٱلذُّكْرَانَ مِنَ ٱلْعَٰلَمِينَ
আর তোমরা বর্জন করছো তোমাদের স্ত্রীদের, যাদেরকে তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা এক চরম সীমালঙ্ঘনকারী কওম।’’
‘এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করিয়াছেন তাহাদেরকে তোমরা বর্জন করিয়া থাক। তোমরা তো সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’
وتذرون ما خلق لكم ربكم من أزواجكم ۚ بل أنتم قوم عادون
এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগনকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।
وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُم مِّنْ أَزْوَٰجِكُم بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ عَادُونَ
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘হে লুত! তুমি যদি তোমার এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে অবশ্যি তোমাকে (এ দেশ থেকে) বের করে দেয়া হবে।’
উহারা বলিল, ‘হে লূত ! তুমি যদি নিবৃত্ত না হও, তবে অবশ্যই তুমি নির্বাসিত হইবে।’
قالوا لئن لم تنته يا لوط لتكونن من المخرجين
তারা বলল, হে লূত, তুমি যদি বিরত না হও, তবে অবশ্যই তোমাকে বহিস্কৃত করা হবে।
قَالُوا۟ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَٰلُوطُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُخْرَجِينَ
লুত বলেছিল: ‘‘আমি তোমাদের এ কাজকে অবশ্যি ঘৃণা করি।
লূত বলিল, ‘আমি তো তোমাদের এই কর্মকে ঘৃণা করি।
قال إني لعملكم من القالين
লূত বললেন, আমি তোমাদের এই কাজকে ঘৃণা করি।
قَالَ إِنِّى لِعَمَلِكُم مِّنَ ٱلْقَالِينَ
হে আমার প্রভু! আমাকে এবং আমার পরিবার পরিজনকে তাদের এ কর্মকান্ড থেকে রক্ষা করো।’’
‘হে আমার প্রতিপালক ! আমাকে এবং আমার পরিবার - পরিজনকে, উহারা যাহা করে, তাহা হইতে রক্ষা কর।
رب نجني وأهلي مما يعملون
হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এবং আমার পরিবারবর্গকে তারা যা করে, তা থেকে রক্ষা কর।
رَبِّ نَجِّنِى وَأَهْلِى مِمَّا يَعْمَلُونَ
ফলে, আমরা তাকে এবং তার পরিবারের সবাইকে নাজাত দিয়েছিলাম
অতঃপর আমি তাহাকে এবং তাহার পরিবার - পরিজন সকলকে রক্ষা করিলাম
فنجيناه وأهله أجمعين
অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম।
فَنَجَّيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ أَجْمَعِينَ
এক বৃদ্ধাকে ছাড়া, সে হয়েছিল অবস্থানকারীদের অন্তরভুক্ত।
এক বৃদ্ধা ব্যতীত, যে ছিল পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
إلا عجوزا في الغابرين
এক বৃদ্ধা ব্যতীত, সে ছিল ধ্বংস প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।
إِلَّا عَجُوزًا فِى ٱلْغَٰبِرِينَ
তারপর বাকি সবাইকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
অতঃপর অপর সকলকে ধ্বংস করিলাম।
ثم دمرنا الآخرين
এরপর অন্যদেরকে নিপাত করলাম।
ثُمَّ دَمَّرْنَا ٱلْءَاخَرِينَ
আমরা তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম এক চূড়ান্ত বর্ষণ! যাদের সতর্ক করা হয়েছিল তাদের জন্যে এ বর্ষণ ছিলো কতো যে নিকৃষ্ট!
তাহাদের উপর শাস্তিমূলক বৃষ্টি বর্ষণ করিয়াছিলাম, ভীতি প্রদর্শিতদের জন্য এই বৃষ্টি ছিল কত নিকৃষ্ট।
وأمطرنا عليهم مطرا ۖ فساء مطر المنذرين
তাদের উপর এক বিশেষ বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। ভীতি - প্রদর্শিত দের জন্যে এই বৃষ্টি ছিল কত নিকৃষ্ট।
وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًا فَسَآءَ مَطَرُ ٱلْمُنذَرِينَ
এর মধ্যেও রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
তোমার প্রভু, নিশ্চিতই তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।
তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
আইকাবাসীরাও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
আয়কাবাসীরা রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছিল,
كذب أصحاب الأيكة المرسلين
বনের অধিবাসীরা পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
كَذَّبَ أَصْحَٰبُ لْـَٔيْكَةِ ٱلْمُرْسَلِينَ
স্মরণ করো, শুয়াইব তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
যখন শু‘আয়ব উহাদেরকে বলিয়াছিল, তোমরা কি সাবধান হইবে না?
إذ قال لهم شعيب ألا تتقون
যখন শো’আয়ব তাদের কে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?
إِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَيْبٌ أَلَا تَتَّقُونَ
আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
إني لكم رسول أمين
আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘সুতরাং তােমরা কে ভয় কর ও আমার আনুগত্য কর।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের উপর।
‘আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্য কোন প্রতিদান চাহি না। আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তাই দেবেন।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
মাপ পূর্ণ করে দেবে। যারা মাপে কম দেয় তোমরা তাদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।
‘তোমরা মাপে পূর্ণ মাত্রায় দিবে ; যাহারা মাপে ঘাটতি করে তোমরা তাহাদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।
۞ أوفوا الكيل ولا تكونوا من المخسرين
মাপ পূর্ণ কর এবং যারা পরিমাপে কম দেয়, তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
أَوْفُوا۟ ٱلْكَيْلَ وَلَا تَكُونُوا۟ مِنَ ٱلْمُخْسِرِينَ
ওজন দেবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়।
‘এবং ওজন করিবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়।
وزنوا بالقسطاس المستقيم
সোজা দাঁড়ি - পাল্লায় ওজন কর।
وَزِنُوا۟ بِٱلْقِسْطَاسِ ٱلْمُسْتَقِيمِ
মানুষকে তাদের জিনিসপত্র কম দিওনা এবং দেশে ফাসাদ সৃষ্টিকারী হয়োনা।
‘লোকদেরকে তাহাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিবে না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটাইবে না।
ولا تبخسوا الناس أشياءهم ولا تعثوا في الأرض مفسدين
মানুষকে তাদের বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে ফিরো না।
وَلَا تَبْخَسُوا۟ ٱلنَّاسَ أَشْيَآءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا۟ فِى ٱلْأَرْضِ مُفْسِدِينَ
সেই মহান সত্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের আগে যারা বিগত হয়েছে তাদেরও সৃষ্টি করেছেন।’’
‘এবং ভয় কর তাঁহাকে যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্বে যাহারা গত হইয়াছে তাহাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন।’
واتقوا الذي خلقكم والجبلة الأولين
ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী লোক - সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করেছেন।
وَٱتَّقُوا۟ ٱلَّذِى خَلَقَكُمْ وَٱلْجِبِلَّةَ ٱلْأَوَّلِينَ
তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।
উহারা বলিল, ‘তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত ;
قالوا إنما أنت من المسحرين
তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্যতম।
قَالُوٓا۟ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلْمُسَحَّرِينَ
তুমি তো আমাদেরই মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। আমরা তো মনে করি তুমি মিথ্যাবাদীদেরই একজন।
‘তুমি আমাদের মতই একজন মানুষ। আমরা মনে করি, তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্যতম।
وما أنت إلا بشر مثلنا وإن نظنك لمن الكاذبين
তুমি আমাদের মত মানুষ বৈ তো নও। আমাদের ধারণা - তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।
وَمَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا وَإِن نَّظُنُّكَ لَمِنَ ٱلْكَٰذِبِينَ
তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আকাশ ভেঙ্গে তার একটি খন্ড আমাদের উপর ফেলো।’’
‘তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আকাশের এক খণ্ড আমাদের উপর ফেলিয়া দাও।’
فأسقط علينا كسفا من السماء إن كنت من الصادقين
অতএব, যদি সত্যবাদী হও, তবে আকাশের কোন টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও।
فَأَسْقِطْ عَلَيْنَا كِسَفًا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ
তখন সে বলেছিল: ‘তোমরা যা করছো আমার প্রভু তা ভালোভাবেই জানেন।’
সে বলিল, ‘আমার প্রতিপালক ভাল জানেন তোমরা যাহা কর।’
قال ربي أعلم بما تعملون
শো’আয়ব বললেন, তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আমার পালনকর্তা ভালরূপে অবহিত।
قَالَ رَبِّىٓ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ
এভাবে তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব তাদের গ্রাস করে নেয়। সেটা ছিলো এক ভয়াবহ দিনের আযাব।
অতঃপর উহারা তাহাকে প্রত্যাখ্যান করিল, পরে উহাদেরকে মেঘাচ্ছন্ন দিবসের শাস্তি গ্রাস করিল। ইহা তো ছিল এক ভীষণ দিবসের শাস্তি !
فكذبوه فأخذهم عذاب يوم الظلة ۚ إنه كان عذاب يوم عظيم
অতঃপর তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে দিল। ফলে তাদেরকে মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব পাকড়াও করল। নিশ্চয় সেটা ছিল এক মহাদিবসের আযাব।
فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمْ عَذَابُ يَوْمِ ٱلظُّلَّةِ إِنَّهُۥ كَانَ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
ইহাতে অবশ্যই রহিয়াছে নিদর্শন, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।
এবং তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
নিশ্চয়ই এ কুরআন রাব্বুল আলামিনের নাযিলকৃত।
নিশ্চয়ই আল - কুরআন জগতসমূহের প্রতিপালক হইতে অবতীর্ণ।
وإنه لتنزيل رب العالمين
এই কোরআন তো বিশ্ব - জাহানের পালনকর্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ।
وَإِنَّهُۥ لَتَنزِيلُ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
এটি নিয়ে নাযিল হয়েছে রুহুল আমিন (জিবরিল)
জিব্রাঈল ইহা লইয়া অবতরণ করিয়াছে
نزل به الروح الأمين
বিশ্বস্ত ফেরেশতা একে নিয়ে অবতরণ করেছে।
نَزَلَ بِهِ ٱلرُّوحُ ٱلْأَمِينُ
তোমার হৃদয়ে, যাতে করে তুমি হতে পারো একজন সতর্ককারী।
তোমার হৃদয়ে, যাহাতে তুমি সতর্ককারী হইতে পার।
على قلبك لتكون من المنذرين
আপনার অন্তরে, যাতে আপনি ভীতি প্রদর্শণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন,
عَلَىٰ قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ ٱلْمُنذِرِينَ
(সেটি নাযিল করা হয়েছে) সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।
অবতীর্ণ করা হইয়াছে সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
بلسان عربي مبين
সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
بِلِسَانٍ عَرَبِىٍّ مُّبِينٍ
আগের কিতাবগুলোতেও এর উল্লেখ আছে।
পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে অবশ্যই ইহার উল্লেখ আছে।
وإنه لفي زبر الأولين
নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।
وَإِنَّهُۥ لَفِى زُبُرِ ٱلْأَوَّلِينَ
এটা কি তাদের জন্যে একটা নিদর্শন নয় যে, এ বিষয়ে অবগত রয়েছে বনি ইসরাঈলের আলেমরা?
বনী ইস্রাঈলের পণ্ডিতগণ ইহা অবগত আছে - ইহা কি উহাদের জন্য নিদর্শন নহে?
أولم يكن لهم آية أن يعلمه علماء بني إسرائيل
তাদের জন্যে এটা কি নিদর্শন নয় যে, বনী - ইসরাঈলের আলেমগণ এটা অবগত আছে?
أَوَلَمْ يَكُن لَّهُمْ ءَايَةً أَن يَعْلَمَهُۥ عُلَمَٰٓؤُا۟ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ
আমরা যদি এ (কুরআন) নাযিল করতাম কোনো অনারবের উপর,
আমি যদি ইহা কোন আ‘জামীর প্রতি অবতীর্ণ করিতাম
ولو نزلناه على بعض الأعجمين
যদি আমি একে কোন ভিন্নভাষীর প্রতি অবতীর্ণ করতাম,
وَلَوْ نَزَّلْنَٰهُ عَلَىٰ بَعْضِ ٱلْأَعْجَمِينَ
আর সে যদি এটি তাদের কাছে পাঠ করতো, তবে তারা এর প্রতি ঈমান আনতোনা।
এবং উহা সে উহাদের নিকট পাঠ করিত, তবে উহারা উহাতে ঈমান আনিত না ;
فقرأه عليهم ما كانوا به مؤمنين
অতঃপর তিনি তা তাদের কাছে পাঠ করতেন, তবে তারা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত না।
فَقَرَأَهُۥ عَلَيْهِم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ مُؤْمِنِينَ
এভাবেই আমরা অপরাধীদের অন্তরে (অবিশ্বাস) সঞ্চার করে দিয়েছি।
এইভাবে আমি অপরাধীদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করিয়াছি।
كذلك سلكناه في قلوب المجرمين
এমনিভাবে আমি গোনাহগারদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করেছি।
كَذَٰلِكَ سَلَكْنَٰهُ فِى قُلُوبِ ٱلْمُجْرِمِينَ
তারা ঈমান আনবেনা যতোদিন না সচোক্ষে দেখতে পায় বেদনাদায়ক আযাব।
উহারা ইহাতে ঈমান আনিবে না যতক্ষণ না উহারা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে;
لا يؤمنون به حتى يروا العذاب الأليم
তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে না, যে পর্যন্ত প্রত্যক্ষ না করে মর্মন্তুদ আযাব।
لَا يُؤْمِنُونَ بِهِۦ حَتَّىٰ يَرَوُا۟ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَلِيمَ
হ্যাঁ, সেটা এসে পড়বে আকস্মিক এবং তারা টেরই পাবেনা।
ফলে তাহা উহাদের নিকট আসিয়া পড়িবে আকস্মিকভাবে ; উহারা কিছুই বুঝিতে পারিবে না।
فيأتيهم بغتة وهم لا يشعرون
অতঃপর তা আকস্মিকভাবে তাদের কাছে এসে পড়বে, তারা তা বুঝতে ও পারবে না।
فَيَأْتِيَهُم بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ
তখন তারা বলবে: ‘আমাদের কি অবকাশ দেয়া হবে?’
তখন উহারা বলিবে, ‘আমাদেরকে কি অবকাশ দেওয়া হইবে?’
فيقولوا هل نحن منظرون
তখন তারা বলবে, আমরা কি অবকাশ পাব না?
فَيَقُولُوا۟ هَلْ نَحْنُ مُنظَرُونَ
তারা কি দ্রুত আগমন চায় আমাদের আযাবের?
উহারা কি তবে আমার শাস্তি ত্বরান্বিত করিতে চায়?
أفبعذابنا يستعجلون
তারা কি আমার শাস্তি দ্রুত কামনা করে?
أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ
তুমি কি দেখোনি, আমরা তো অনেক বছর তাদের ভোগ বিলাস করতে দিয়েছি।
তুমি ভাবিয়া দেখ যদি আমি তাহাদেরকে দীর্ঘকাল ভোগ - বিলাস করিতে দেই,
أفرأيت إن متعناهم سنين
আপনি ভেবে দেখুন তো, যদি আমি তাদেরকে বছরের পর বছর ভোগ - বিলাস করতে দেই,
أَفَرَءَيْتَ إِن مَّتَّعْنَٰهُمْ سِنِينَ
তার পরেই এসেছিল সেই জিনিস (তাদের ধ্বংস) যার ওয়াদা তাদের দেয়া হয়েছিল।
এবং পরে উহাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হইয়াছিল তাহা উহাদের নিকট আসিয়া পড়ে,
ثم جاءهم ما كانوا يوعدون
অতঃপর যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হত, তা তাদের কাছে এসে পড়ে।
ثُمَّ جَآءَهُم مَّا كَانُوا۟ يُوعَدُونَ
তাদের ভোগ বিলাসের উপকরণসমূহ তাদের কোনো কাজেই আসেনি।
তখন উহাদের ভোগ - বিলাসের উপকরণ উহাদের কোন কাজে আসিবে কি?
ما أغنى عنهم ما كانوا يمتعون
তখন তাদের ভোগ বিলাস তা তাদের কি কোন উপকারে আসবে?
مَآ أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يُمَتَّعُونَ
আমরা এমন কোনো জনপদ হালাক করিনি যার জন্যে সতর্ককারীরা ছিলনা।
আমি এমন কোন জনপদ ধ্বংস করি নাই যাহার জন্য সতর্ককারী ছিল না ;
وما أهلكنا من قرية إلا لها منذرون
আমি কোন জনপদ ধ্বংস করিনি; কিন্তু এমতাবস্থায় যে, তারা সতর্ককারী ছিল।
وَمَآ أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا لَهَا مُنذِرُونَ
এটি একটি উপদেশ। (তাদের ব্যাপারে) আমরা অন্যায় আচরণ করিনি।
ইহা উপদেশস্বরূপ, আর আমি অন্যায়াচারী নই,
ذكرى وما كنا ظالمين
স্মরণ করানোর জন্যে, এবং আমার কাজ অন্যায়াচরণ নয়।
ذِكْرَىٰ وَمَا كُنَّا ظَٰلِمِينَ
এ কুরআন নিয়ে শয়তানরা নাযিল হয়নি।
শয়তানেরা উহাসহ অবতীর্ণ হয় নাই।
وما تنزلت به الشياطين
এই কোরআন শয়তানরা অবতীর্ণ করেনি।
وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ ٱلشَّيَٰطِينُ
এ কাজের তারা যোগ্যও নয় এবং এ কাজের সামর্থও তাদের নেই।
উহারা এই কাজের যোগ্য নয় এবং উহারা ইহার সামর্থ্যও রাখে না।
وما ينبغي لهم وما يستطيعون
তারা এ কাজের উপযুক্ত নয় এবং তারা এর সামর্থ্য রাখে না।
وَمَا يَنۢبَغِى لَهُمْ وَمَا يَسْتَطِيعُونَ
তাদেরকে তো এটা শোনার সুযোগ থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
উহাদেরকে তো শ্রবণের সুযোগ হইতে দূরে রাখা হইয়াছে।
إنهم عن السمع لمعزولون
তাদেরকে তো শ্রবণের জায়গা থেকে দূরে রাখা রয়েছে।
إِنَّهُمْ عَنِ ٱلسَّمْعِ لَمَعْزُولُونَ
সুতরাং তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ্ ডেকোনা, ডাকলে দন্ডপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বে।
অতএব তুমি অন্য কোন ইলাহ্কে র সঙ্গে ডাকিও না, ডাকিলে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।
فلا تدع مع الله إلها آخر فتكون من المعذبين
অতএব, আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। করলে শাস্তিতে পতিত হবেন।
فَلَا تَدْعُ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ فَتَكُونَ مِنَ ٱلْمُعَذَّبِينَ
তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করো।
তোমার নিকট - আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করিয়া দাও।
وأنذر عشيرتك الأقربين
আপনি নিকটতম আত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দিন।
وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ ٱلْأَقْرَبِينَ
আর যারা তোমার অনুসরণ করে সেসব মুমিনদের প্রতি তুমি স্নেহ - মমতার ডানা অবনমিত করো।
এবং যাহারা তোমার অনুসরণ করে সেই সমস্ত মু’মিনদের প্রতি বিনয়ী হও।
واخفض جناحك لمن اتبعك من المؤمنين
এবং আপনার অনুসারী মুমিনদের প্রতি সদয় হোন।
وَٱخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ
তারা যদি তোমার অবাধ্য হয়, তবে তুমি বলো: ‘তোমাদের কর্মকান্ড থেকে আমি দায়মুক্ত।’
উহারা যদি তোমার অবাধ্যতা করে, তুমি বলিও, ‘তোমরা যাহা কর তাহা হইতে আমি দায়মুক্ত।’
فإن عصوك فقل إني بريء مما تعملون
যদি তারা আপনার অবাধ্য করে, তবে বলে দিন, তোমরা যা কর, তা থেকে আমি মুক্ত।
فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّى بَرِىٓءٌ مِّمَّا تَعْمَلُونَ
মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবানের উপর তাওয়াক্কুল করো,
তুমি নির্ভর কর পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু র উপর,
وتوكل على العزيز الرحيم
আপনি ভরসা করুন পরাক্রমশালী, পরম দয়ালুর উপর,
وَتَوَكَّلْ عَلَى ٱلْعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِ
যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দাঁড়াও (সালাতে)।
যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দণ্ডায়মান হও,
الذي يراك حين تقوم
যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি নামাযে দন্ডায়মান হন,
ٱلَّذِى يَرَىٰكَ حِينَ تَقُومُ
তাছাড়া সাজদাকারীদের সাথে তোমার উঠাবসাও তিনি দেখেন।
এবং দেখেন সিজ্দাকারীদের সঙ্গে তোমার উঠাবসা।
وتقلبك في الساجدين
এবং নামাযীদের সাথে উঠাবসা করেন।
وَتَقَلُّبَكَ فِى ٱلسَّٰجِدِينَ
তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
إنه هو السميع العليم
নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ
(হে মানুষ!) তোমাদের সংবাদ দেবো কি, শয়তানরা কার ঘাড়ে সওয়ার হয়?
তোমাদেরকে কি আমি জানাইব কাহার নিকট শয়তানরা অবতীর্ণ হয়?
هل أنبئكم على من تنزل الشياطين
আমি আপনাকে বলব কি কার নিকট শয়তানরা অবতরণ করে?
هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَىٰ مَن تَنَزَّلُ ٱلشَّيَٰطِينُ
তারা তো সওয়ার হয় প্রত্যেক কট্টর মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের ঘাড়ে।
উহারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেকটি ঘোর মিথ্যাবাদী ও পাপীর নিকট।
تنزل على كل أفاك أثيم
তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক মিথ্যাবাদী, গোনাহগারের উপর।
تَنَزَّلُ عَلَىٰ كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ
তারা কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
উহারা কান পাতিয়া থাকে এবং উহাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
يلقون السمع وأكثرهم كاذبون
তারা শ্রুত কথা এনে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
يُلْقُونَ ٱلسَّمْعَ وَأَكْثَرُهُمْ كَٰذِبُونَ
কবিদের অনুসরণ করে তো বিভ্রান্তরাই।
এবং কবিদেরকে অনুসরণ করে বিভ্রান্তরাই।
والشعراء يتبعهم الغاوون
বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে।
وَٱلشُّعَرَآءُ يَتَّبِعُهُمُ ٱلْغَاوُۥنَ
তুমি দেখোনা তারা উদ্ভ্রান্তের মতো প্রত্যেক উপত্যকায়ই ঘুমিয়ে পড়ে?
তুমি কি দেখ না উহারা উদ্ভ্রান্ত হইয়া প্রত্যেক উপত্যকায় ঘুরিয়া বেড়ায়?
ألم تر أنهم في كل واد يهيمون
তুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই উদভ্রান্ত হয়ে ফিরে?
أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِى كُلِّ وَادٍ يَهِيمُونَ
আর তারা তাই বলে, যা তারা করেনা।
এবং তাহারা তো বলে যাহা তাহারা করে না।
وأنهم يقولون ما لا يفعلون
এবং এমন কথা বলে, যা তারা করে না।
وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ
তবে তারা নয়, যারা ঈমান আনে, আমলে সালেহ্ করে, আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে এবং অত্যাচারিত হবার পরই প্রতিশোধ গ্রহণ করে। যারা যুলুম করে তারা শীঘ্রি জানতে পারবে কোন্ ফিরে যাবার জায়গায় তারা ফিরে যাবে?
কিন্তু উহারা ব্যতীত, যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং কে অধিক স্মরণ করে ও অত্যাচারিত হইবার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। অত্যাচারীরা শীঘ্রই জানিবে কোন্ স্থলে উহারা প্রত্যাবর্তন করিবে।
إلا الذين آمنوا وعملوا الصالحات وذكروا الله كثيرا وانتصروا من بعد ما ظلموا ۗ وسيعلم الذين ظلموا أي منقلب ينقلبون
তবে তাদের কথা ভিন্ন, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কে খুব স্মরণ করে এবং নিপীড়িত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। নিপীড়নকারীরা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের গন্তব্যস্থল কিরূপ।
إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَذَكَرُوا۟ ٱللَّهَ كَثِيرًا وَٱنتَصَرُوا۟ مِنۢ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا۟ وَسَيَعْلَمُ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓا۟ أَىَّ مُنقَلَبٍ يَنقَلِبُونَ