Kitab

আন নামল (পিঁপড়া)

Chapter 27, 93 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • Arabic, with marks
  • মুহিউদ্দীন খান
About this chapter


মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ২২৭, রুকু সংখ্যা: ১১

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-০৬কুরআন কাদের দিশারি, আর কাদের দিশারি নয়? ০৭-১৪মূসা আ.-কে নবুয়্যত ও মুজিযা প্রদান। ফিরাউন কর্তৃক আল্লাহর নিদর্শন প্রত্যাখ্যান। ১৫-৪৪সুলাইমান আ.-কে আল্লাহ্ সমৃদ্ধ সাম্রাজ্য দিয়েছিলেন। সুলাইমান আ. কর্তৃক সাবার রাণীকে দাওয়াত দানের ইতিহাস। ৪৫-৫৩সামুদ জাতির কাছে সালেহ্ আ.-এর দাওয়াত দানের ইতিহাস। সালেহ্ আ. এর বিরুদ্ধে তাদের জঘন্য ষড়যন্ত্র ও তাদের ধ্বংস। ৫৪-৫৯লুত আ. কর্তৃক তাঁর জাতিকে সংশোধনের চেষ্টা। তাদের প্রত্যাখ্যান ও ধ্বংস। ৬০-৮২নবীদের প্রতি সালাম। তাওহীদের যুক্তি এবং শিরক খন্ডণ। দাব্বাতুল আরদ প্রকাশিত হবে। ৮৩-৯৩হাশর ও বিচার। ভালো আমলকারীদের পরিণতি এবং মন্দ আমলকারীদের পরিণতি। আল্লাহর দাসত্ব, আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ এবং কুরআনের অনুসরণই মুক্তির পথ।
আবদুস শহীদ নাসিম

তোয়া সিন। এগুলো আয়াত আল কুরআন ও সুস্পষ্ট কিতাবের,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তা - সীন ; এইগুলি আয়াত আল - কুরআনের এবং সুস্পষ্ট কিতাবের;

Arabic, with marks

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ طس ۚ تِلْكَ آيَاتُ الْقُرْآنِ وَكِتَابٍ مُّبِينٍ

মুহিউদ্দীন খান

ত্বা - সীন; এগুলো আল - কোরআনের আয়াত এবং আয়াত সুস্পষ্ট কিতাবের।

আবদুস শহীদ নাসিম

হিদায়াত ও সুসংবাদ সেইসব মুমিনদের জন্যে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পথনির্দেশ ও সুসংবাদ মু’মিনদের জন্য।

Arabic, with marks

هُدًى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ

মুহিউদ্দীন খান

মুমিনদের জন্যে পথ নির্দেশ ও সুসংবাদ।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কায়েম করে , প্রদান করে যাকাত এবং তারা আখিরাতের প্রতি রাখে একীন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা কায়েম করে ও যাকাত দেয় আর তাহারাই আখিরাতে নিশ্চিত ।

Arabic, with marks

الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُم بِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ

মুহিউদ্দীন খান

যারা কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং পরকালে নিশ্চিত বিশ্বাস করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা ঈমান রাখেনা আখিরাতের প্রতি, আমরা তাদের চোখে তাদের কর্মকান্ডকে চাকচিক্যময় করে দিয়েছি, ফলে তারা বিভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহাদের দৃষ্টিতে তাহাদের কর্মকে আমি শোভন করিয়াছি, ফলে উহারা বিভ্রান্তিতে ঘুরিয়া বেড়ায়;

Arabic, with marks

إِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ زَيَّنَّا لَهُمْ أَعْمَالَهُمْ فَهُمْ يَعْمَهُونَ

মুহিউদ্দীন খান

যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের দৃষ্টিতে তাদের কর্মকান্ডকে সুশোভিত করে দিয়েছি। অতএব, তারা উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা সেইসব লোক যাদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট ধরনের আযাব, আর আখিরাতে তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহাদেরই জন্য রহিয়াছে কঠিন শাস্তি এবং ইহারাই আখিরাতে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত।

Arabic, with marks

أُولَٰئِكَ الَّذِينَ لَهُمْ سُوءُ الْعَذَابِ وَهُمْ فِي الْآخِرَةِ هُمُ الْأَخْسَرُونَ

মুহিউদ্দীন খান

তাদের জন্যেই রয়েছে মন্দ শাস্তি এবং তারাই পরকালে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাকে এই কুরআন দেয়া হচ্ছে প্রজ্ঞাবান সর্বজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই তোমাকে আল - কুরআন দেওয়া হইতেছে প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞের নিকট হইতে।

Arabic, with marks

وَإِنَّكَ لَتُلَقَّى الْقُرْآنَ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ عَلِيمٍ

মুহিউদ্দীন খান

এবং আপনাকে কোরআন প্রদত্ত হচ্ছে প্রজ্ঞাময়, জ্ঞানময় আল্লাহর কাছ থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, মূসা তার পরিবারবর্গকে বলেছিল: ‘আমি আগুন দেখেছি। শীঘ্রি আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্যে কোনো খবর নিয়ে আসবো, অথবা নিয়ে আসবো সেখান থেকে জ্বলন্ত অঙ্গার, যেনো তোমরা আগুন পোহাতে পারো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর সেই সময়ের কথা, যখন মূসা তাহার পরিবারবর্গকে বলিয়াছিল, ‘আমি আগুন দেখিয়াছি, সত্বর আমি সেখান হইতে তোমাদের জন্য কোন খবর আনিব অথবা তোমাদের জন্য আনিব জ্বলন্ত অঙ্গার, যাহাতে তোমরা আগুন পোহাইতে পার।

Arabic, with marks

إِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِأَهْلِهِ إِنِّي آنَسْتُ نَارًا سَآتِيكُم مِّنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ آتِيكُم بِشِهَابٍ قَبَسٍ لَّعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ

মুহিউদ্দীন খান

যখন মূসা তাঁর পরিবারবর্গকে বললেনঃ আমি অগ্নি দেখেছি, এখন আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্যে কোন খবর আনতে পারব অথবা তোমাদের জন্যে জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসতে পারব যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা সেখানে আসতেই ঘোষণা দেয়া হলো: ‘কল্যাণের অধিকারী করে দেয়া হলো যারা আছে এই আগুনের মধ্যে এবং এর চারপাশে, আর রাব্বুল আলামিন পবিত্র ও মহান।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে যখন উহার নিকট আসিল, তখন ঘোষিত হইল ‘ধন্য, যাহারা আছে এই আলোর মধ্যে এবং যাহারা আছে ইহার চতুষ্পার্শ্বে, জগতসমূহের প্রতিপালক ‌ পবিত্র ও মহিমান্বিত।

Arabic, with marks

فَلَمَّا جَاءَهَا نُودِيَ أَن بُورِكَ مَن فِي النَّارِ وَمَنْ حَوْلَهَا وَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে আসলেন তখন আওয়াজ হল ধন্য তিনি, যিনি আগুনের স্থানে আছেন এবং যারা আগুনের আশেপাশে আছেন। বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা পবিত্র ও মহিমান্বিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মূসা! নিশ্চয়ই আমি , আযিযুল হাকিম (মহাশক্তিধর, প্রজ্ঞাময়)।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে মূসা! আমি তো , পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়,

Arabic, with marks

يَا مُوسَىٰ إِنَّهُ أَنَا اللَّهُ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

মুহিউদ্দীন খান

হে মূসা, আমি , প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো। তারপর সে যখন দেখলো সেটি সাপের মতো ছুটাছুটি করছে, সে পেছনে ফিরে দৌড়াতে থাকলো এবং ফিরেও তাকালোনা। তখন তাকে ডেকে বলা হলো: ‘‘হে মূসা! ভয় পেয়োনা, নিশ্চয়ই আমার কাছে এসে রসূলরা ভয় পায়না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর।’ অতঃপর যখন সে উহাকে সর্পের ন্যায় ছুটাছুটি করিতে দেখিল তখন সে পিছনের দিকে ছুটিতে লাগিল এবং ফিরিয়াও তাকাইল না। বলা হইল, ‘হে মূসা! ভীত হইও না, নিশ্চয়ই আমি এমন, আমার সান্নিধ্যে রাসূলগণ ভয় পায় না;

Arabic, with marks

وَأَلْقِ عَصَاكَ ۚ فَلَمَّا رَآهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَانٌّ وَلَّىٰ مُدْبِرًا وَلَمْ يُعَقِّبْ ۚ يَا مُوسَىٰ لَا تَخَفْ إِنِّي لَا يَخَافُ لَدَيَّ الْمُرْسَلُونَ

মুহিউদ্দীন খান

আপনি নিক্ষেপ করুন আপনার লাঠি। অতঃপর যখন তিনি তাকে সর্পের ন্যায় ছুটাছুটি করতে দেখলেন, তখন তিনি বিপরীত দিকে ছুটতে লাগলেন এবং পেছন ফিরেও দেখলেন না। হে মূসা, ভয় করবেন না। আমি যে রয়েছি, আমার কাছে পয়গম্বরগণ ভয় করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যারা যুলুম করে এবং তারপর মন্দ কাজের পরিবর্তে পুণ্য কাজ করে, তাদের প্রতি আমি পরম ক্ষমাশীল দয়াময়

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তবে যাহারা জুলুম করিবার পর মন্দ কর্মের পরিবর্তে সৎকর্ম করে, তাহাদের প্রতি আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

Arabic, with marks

إِلَّا مَن ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسْنًا بَعْدَ سُوءٍ فَإِنِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ

মুহিউদ্দীন খান

তবে যে বাড়াবাড়ি করে এরপর মন্দ কর্মের পরিবর্তে সৎকর্ম করে। নিশ্চয় আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার হাত তোমার জেবে (বগলে) দাখিল করো, দেখবে সেটি ধবধবে সাদা হয়ে বের হবে কোনো ক্ষতি ছাড়াই। (এ দুটি) ফেরাউন ও তার কওমের প্রতি দেয়া নয়টি নিদর্শনের অন্তরভুক্ত। তারা অবশ্যি এক ফাসিক (সীমালঙ্ঘনকারী) কওম।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং তোমার হাত তোমার বগলে রাখ, ইহা বাহির হইয়া আসিবে শুভ্র নির্মল অবস্থায়। ইহা ফির‘আওন ও তাহার সম্প্রদায়ের নিকট আনীত নয়টি নিদর্শনের অন্তর্গত। উহারা তো সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।’

Arabic, with marks

وَأَدْخِلْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ ۖ فِي تِسْعِ آيَاتٍ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَقَوْمِهِ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ

মুহিউদ্দীন খান

আপনার হাত আপনার বগলে ঢুকিয়ে দিন, সুশুভ্র হয়ে বের হবে নির্দোষ অবস্থায়। এগুলো ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের কাছে আনীত নয়টি নিদর্শনের অন্যতম। নিশ্চয় তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তাদের কাছে যখন আমাদের সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এলো, তারা বললো: ‘এতো সুস্পষ্ট ম্যাজিক।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর যখন উহাদের নিকট আমার স্পষ্ট নিদর্শন আসিল, উহারা বলিল, ‘ইহা সুস্পষ্ট জাদু।’

Arabic, with marks

فَلَمَّا جَاءَتْهُمْ آيَاتُنَا مُبْصِرَةً قَالُوا هَٰذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার উজ্জল নিদর্শনাবলী আগমন করল, তখন তারা বলল, এটা তো সুস্পষ্ট জাদু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যুলুম ও দাম্ভিকতার সাথে নিদর্শনগুলো প্রত্যাখ্যান করে, যদিও তাদের অন্তরে সেগুলো সত্য বলে একীন হয়েছিল। এখন দেখো, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কী রকম হয়েছিল!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা অন্যায় ও উদ্ধতভাবে নিদর্শনগুলি প্রত্যাখ্যান করিল, যদিও উহাদের অন্তর এইগুলিকে সত্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছিল। দেখ, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হইয়াছিল!

Arabic, with marks

وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا ۚ فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ

মুহিউদ্দীন খান

তারা অন্যায় ও অহংকার করে নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল। অতএব দেখুন, অনর্থকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা দাউদ এবং সুলাইমানকে দিয়েছিলাম বিশেষ এলেম। তারা বলেছিল: আল হামদুলিল্লাহ - সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের মর্যাদা দিয়েছেন তাঁর বহু বান্দার উপর

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি অবশ্যই দাঊদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করিয়াছিলাম এবং তাহারা উভয়ে বলিয়াছিল, সকল প্রশংসা ‌র যিনি আমাদরেকে তাহার বহু বান্দাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছেন।’

Arabic, with marks

وَلَقَدْ آتَيْنَا دَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ عِلْمًا ۖ وَقَالَا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي فَضَّلَنَا عَلَىٰ كَثِيرٍ مِّنْ عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ

মুহিউদ্দীন খান

আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুলাইমান হয়েছিল দাউদের ওয়ারিশ। সে বলেছিল: ‘হে মানুষ! আমাদেরকে পাখির ভাষা শেখানো হয়েছে এবং সবকিছুই দেয়া হয়েছে আমাদের। অবশ্যি এটা আল্লাহর একটা সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুলায়মান হইয়াছিল দাঊদের উত্তরাধিকারী এবং সে বলিয়াছিল, ‘হে মানুষ! আমাকে বিহংগকুলের ভাষা শিক্ষা দেওয়া হইয়াছে এবং আমাকে সকল কিছু দেওয়া হইয়াছে, ইহা অবশ্যই সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।’

Arabic, with marks

وَوَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُودَ ۖ وَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنطِقَ الطَّيْرِ وَأُوتِينَا مِن كُلِّ شَيْءٍ ۖ إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِينُ

মুহিউদ্দীন খান

সুলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘হে লোক সকল, আমাকে উড়ন্ত পক্ষীকূলের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে এবং আমাকে সব কিছু দেয়া হয়েছে। নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব। ’

আবদুস শহীদ নাসিম

সুলাইমানের জন্যে হাশর (সমবেত) করা হয় তার বাহিনীকে, যাদের মধ্যে ছিলো জিন, ইনসান ও পাখি। তাদের বিন্যস্ত করা হয় বিভিন্ন গ্রুপে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুলায়মানের সম্মুখে সমবেত করা হইল তাহার বাহিনীকে - জিন, মানুষ ও বিহংগকুলকে এবং উহাদেরকে বিন্যস্ত করা হইল বিভিন্ন ব্যূহে।

Arabic, with marks

وَحُشِرَ لِسُلَيْمَانَ جُنُودُهُ مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ وَالطَّيْرِ فَهُمْ يُوزَعُونَ

মুহিউদ্দীন খান

সুলায়মানের সামনে তার সেনাবাহিনীকে সমবেত করা হল। জ্বিন - মানুষ ও পক্ষীকুলকে, অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন ব্যূহে বিভক্ত করা হল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন পিঁপড়ার উপত্যকায় এসে পৌঁছে, তখন একটি পিঁপড়া বলে উঠে: ‘হে পিঁপীলিকার দল! তোমরা দাখিল হয়ে যাও তোমাদের ঘরে। সুলাইমান এবং তার বাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদের পায়ের তলায় পিষে না ফেলে।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন উহারা পিপীলিকা - অধ্যুষিত উপত্যকায় পৌঁছিল তখন এক পিপীলিকা বলিল, ‘হে পিপীলিকা - বাহিনী! তোমরা তোমাদের গৃহে প্রবেশ কর, যেন সুলায়মান এবং তাহার বাহিনী তাহাদের অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পদতলে পিষিয়া না ফেলে।’

Arabic, with marks

حَتَّىٰ إِذَا أَتَوْا عَلَىٰ وَادِ النَّمْلِ قَالَتْ نَمْلَةٌ يَا أَيُّهَا النَّمْلُ ادْخُلُوا مَسَاكِنَكُمْ لَا يَحْطِمَنَّكُمْ سُلَيْمَانُ وَجُنُودُهُ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ

মুহিউদ্দীন খান

যখন তারা পিপীলিকা অধ্যূষিত উপত্যকায় পৌঁছাল, তখন এক পিপীলিকা বলল, হে পিপীলিকার দল, তোমরা তোমাদের গৃহে প্রবেশ কর। অন্যথায় সুলায়মান ও তার বাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পিষ্ট করে ফেলবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার কথায় সুলাইমান মৃদু হেসে বললো: ‘আমার প্রভু! আমাকে সামর্থ দাও, আমি যেনো তোমার নিয়ামতের শোকর আদায় করতে পারি, যা তুমি দান করেছো আমার প্রতি এবং আমার পিতামাতার প্রতি, আর আমি যেনো সেই রকম পুণ্য আমল করতে পারি যাতে তুমি সন্তুষ্ট হবে, আর দয়া করে আমাকে দাখিল করো তোমার পুণ্যবান দাসদের মধ্যে।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুলায়মান উহার উক্তিতে মৃদু হাস্য করিল এবং বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সামর্থ্য দাও যাহাতে আমি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতে পারি, আমার প্রতি ও আমার পিতামাতার প্রতি তুমি যে অনুগ্রহ করিয়াছ তাহার জন্য এবং যাহাতে আমি সৎকার্য করিতে পারি, যাহা তুমি পসন্দ কর এবং তোমার অনুগ্রহে আমাকে তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের শামিল কর।’

Arabic, with marks

فَتَبَسَّمَ ضَاحِكًا مِّن قَوْلِهَا وَقَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ

মুহিউদ্দীন খান

তার কথা শুনে সুলায়মান মুচকি হাসলেন এবং বললেন, হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমাকে সামর্থ্য দাও যাতে আমি তোমার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা - মাতাকে দান করেছ এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকর্ম করতে পারি এবং আমাকে নিজ অনুগ্রহে তোমার সৎকর্মপরায়ন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুলাইমান সন্ধান নিলো পাখিদের। সে বললো, কী হলো হুদহুদকে দেখছিনা যে? সে অনুপস্থিত নাকি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুলায়মান বিহংগদলের সন্ধান লইল এবং বলিল, ‘ব্যাপার কি, হুদ্‌হুদ্‌কে দেখিতেছি না যে! সে অনুপস্থিত না কি ?

Arabic, with marks

وَتَفَقَّدَ الطَّيْرَ فَقَالَ مَا لِيَ لَا أَرَى الْهُدْهُدَ أَمْ كَانَ مِنَ الْغَائِبِينَ

মুহিউদ্দীন খান

সুলায়মান পক্ষীদের খোঁজ খবর নিলেন, অতঃপর বললেন, কি হল, হুদহুদকে দেখছি না কেন? নাকি সে অনুপস্থিত?

আবদুস শহীদ নাসিম

সে সুস্পষ্ট প্রমাণ না নিয়ে এলে আমি অবশ্যি তাকে কঠোর শাস্তি দেবো অথবা যবেহ্ করে ফেলবো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘সে উপযুক্ত কারণ না দর্শাইলে আমি অবশ্যই উহাকে কঠিন শাস্তি দিব অথবা যবেহ্ করিব।’

Arabic, with marks

لَأُعَذِّبَنَّهُ عَذَابًا شَدِيدًا أَوْ لَأَذْبَحَنَّهُ أَوْ لَيَأْتِيَنِّي بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ

মুহিউদ্দীন খান

আমি অবশ্যই তাকে কঠোর শাস্তি দেব কিংবা হত্যা করব অথবা সে উপস্থিত করবে উপযুক্ত কারণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর অবিলম্বেই সে এসে উপস্থিত হলো এবং বললো: ‘‘আমি অবগত হয়েছি এমন একটা বিষয় যেটি আপনি অবগত নন। আমি আপনার জন্যে সাবা থেকে একটি নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অনতিবিলম্বে হুদ্‌হুদ্ আসিয়া পড়িল এবং বলিল, ‘আপনি যাহা অবগত নন আমি তাহা অবগত হইয়াছি এবং ‘সাবা’ হইতে সুনিশ্চিত সংবাদ লইয়া আসিয়াছি।

Arabic, with marks

فَمَكَثَ غَيْرَ بَعِيدٍ فَقَالَ أَحَطتُ بِمَا لَمْ تُحِطْ بِهِ وَجِئْتُكَ مِن سَبَإٍ بِنَبَإٍ يَقِينٍ

মুহিউদ্দীন খান

কিছুক্ষণ পড়েই হুদ এসে বলল, আপনি যা অবগত নন, আমি তা অবগত হয়েছি। আমি আপনার কাছে সাবা থেকে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে আগমন করেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি এক নারীকে দেখতে পেয়েছি তাদের উপর রাজত্ব করছেন। সমস্ত বস্তু সম্ভার তাকে দেয়া হয়েছে এবং তার রয়েছে এক বিশাল সিংহাসন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো এক নারীকে দেখিলাম উহাদের উপর রাজত্ব করিতেছে। তাহাকে দেওয়া হইয়াছে সকল কিছু হইতেই এবং তাহার আছে এক বিরাট সিংহাসন।

Arabic, with marks

إِنِّي وَجَدتُّ امْرَأَةً تَمْلِكُهُمْ وَأُوتِيَتْ مِن كُلِّ شَيْءٍ وَلَهَا عَرْشٌ عَظِيمٌ

মুহিউদ্দীন খান

আমি এক নারীকে সাবাবাসীদের উপর রাজত্ব করতে দেখেছি। তাকে সবকিছুই দেয়া হয়েছে এবং তার একটা বিরাট সিংহাসন আছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তাকে এবং তার কওমকে দেখতে পেলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সাজদা করছে। শয়তান তাদের কর্মকান্ড তাদের কাছে চাকচিক্যময় করে রেখেছে এবং সে তাদের সঠিক পথে আসার ব্যাপারে প্রতিবন্ধক হয়ে আছে, ফলে তারা হিদায়াত লাভ করছেনা।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তাহাকে ও তাহার সম্প্রদায়কে দেখিলাম তাহারা ‌র পরিবর্তে সূর্যকে সিজ্‌দা করিতেছে। শয়তান উহাদের কার্যাবলী উহাদের নিকট শোভন করিয়াছে এবং উহাদেরকে সৎপথ হইতে নিবৃত্ত করিয়াছে, ফলে উহারা সৎপথ পায় না;

Arabic, with marks

وَجَدتُّهَا وَقَوْمَهَا يَسْجُدُونَ لِلشَّمْسِ مِن دُونِ اللَّهِ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ فَهُمْ لَا يَهْتَدُونَ

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা করছে। শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যাবলী সুশোভিত করে দিয়েছে। অতঃপর তাদেরকে সৎপথ থেকে নিবৃত্ত করেছে। অতএব তারা সৎপথ পায় না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে প্রতিবন্ধক হয়ে আছে এ জন্যে, যাতে তারা আল্লাহকে সাজদা না করে, যিনি মহাকাশ ও পৃথিবীর গুপ্ত বস্তুকে প্রকাশ করেন এবং যিনি জানেন তোমরা যা গোপন করো এবং যা করো এলান (প্রকাশ)।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘নিবৃত্ত করিয়াছে এইজন্য যে, উহারা যেন সিজ্‌দা না করে ‌কে যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর লুক্কায়িত বস্তুকে প্রকাশ করেন, যিনি জানেন, যাহা তোমরা গোপন কর এবং যাহা তোমরা ব্যক্ত কর।

Arabic, with marks

أَلَّا يَسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي يُخْرِجُ الْخَبْءَ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُخْفُونَ وَمَا تُعْلِنُونَ

মুহিউদ্দীন খান

তারা আল্লাহকে সেজদা করে না কেন, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের গোপন বস্তু প্রকাশ করেন এবং জানেন যা তোমরা গোপন কর ও যা প্রকাশ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

, তিনি ছাড়া নেই কোনো ইলাহ্, তিনি মহান আরশের মালিক।’ (সাজদা)

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘‌, তিনি ব্যতীত কােন ইলাহ্‌ নাই, তিনি মহাআরশের অধিপতি।’

Arabic, with marks

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ۩

মুহিউদ্দীন খান

ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি মহা আরশের মালিক।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুলাইমান বললো: ‘‘আমি দেখবো, তুমি সত্য বলছো, নাকি তুমি মিথ্যাবাদী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুলায়মান বলিল, ‘আমি দেখিব তুমি কি সত্য বলিয়াছ, না তুমি মিথ্যাবাদী?

Arabic, with marks

۞ قَالَ سَنَنظُرُ أَصَدَقْتَ أَمْ كُنتَ مِنَ الْكَاذِبِينَ

মুহিউদ্দীন খান

সুলায়মান বললেন, এখন আমি দেখব তুমি সত্য বলছ, না তুমি মিথ্যবাদী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি আমার এই পত্রটি নিয়ে যাও এবং তাদের কাছে পৌঁছে দাও। তারপর তাদের থেকে সরে থাকবে এবং লক্ষ্য করবে তাদের প্রতিক্রিয়া।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তুমি যাও আমার এই পত্র লইয়া এবং ইহা তাহাদের নিকট অর্পণ কর ; অতঃপর তাহাদের নিকট হইতে সরিয়া থাকিও এবং লক্ষ্য করিও তাহাদের প্রতিক্রিয়া কি?’

Arabic, with marks

اذْهَب بِّكِتَابِي هَٰذَا فَأَلْقِهْ إِلَيْهِمْ ثُمَّ تَوَلَّ عَنْهُمْ فَانظُرْ مَاذَا يَرْجِعُونَ

মুহিউদ্দীন খান

তুমি আমার এই পত্র নিয়ে যাও এবং এটা তাদের কাছে অর্পন কর। অতঃপর তাদের কাছ থেকে সরে পড় এবং দেখ, তারা কি জওয়াব দেয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (রাণী) বললো: ‘‘হে আমার পারিষদবর্গ! আমার কাছে পৌঁছেছে একটি সম্মানিত পত্র,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই নারী বলিল, ‘হে পারিষদবর্গ! আমাকে এক সম্মানিত পত্র দেওয়া হইয়াছে ;

Arabic, with marks

قَالَتْ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ إِنِّي أُلْقِيَ إِلَيَّ كِتَابٌ كَرِيمٌ

মুহিউদ্দীন খান

বিলকীস বলল, হে পরিষদবর্গ, আমাকে একটি সম্মানিত পত্র দেয়া হয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি প্রেরিত হয়েছে সুলাইমানের পক্ষ থেকে এবং সেটির বক্তব্য হলো: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ইহা সুলায়মানের নিকট হইতে এবং ইহা এই: দয়াময়, পরম দয়ালু ‌র নামে,

Arabic, with marks

إِنَّهُ مِن سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

মুহিউদ্দীন খান

সেই পত্র সুলায়মানের পক্ষ থেকে এবং তা এইঃ সসীম দাতা, পরম দয়ালু, আল্লাহর নামে শুরু;

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার উপর ঔদ্ধত্য করোনা, বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অহমিকাবশে আমাকে অমান্য করিও না, এবং আনুগত্য স্বীকার করিয়া আমার নিকট উপস্থিত হও।’

Arabic, with marks

أَلَّا تَعْلُوا عَلَيَّ وَأْتُونِي مُسْلِمِينَ

মুহিউদ্দীন খান

আমার মোকাবেলায় শক্তি প্রদর্শন করো না এবং বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও।

আবদুস শহীদ নাসিম

রাণী বললো: ‘‘হে আমার পারিষদবর্গ। তোমরা আমাকে ফতোয়া (মত) দাও এ বিষয়ে আমার করণীয় সম্পর্কে। আমি তো কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনা তোমাদের উপস্থিতি (পরামর্শ) ছাড়া।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই নারী বলিল, ‘হে পারিষদবর্গ! আমার এই সমস্যায় তোমাদের অভিমত দাও। আমি কোন ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না তোমাদের উপস্থিতি ব্যতীত।

Arabic, with marks

قَالَتْ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ أَفْتُونِي فِي أَمْرِي مَا كُنتُ قَاطِعَةً أَمْرًا حَتَّىٰ تَشْهَدُونِ

মুহিউদ্দীন খান

বিলকীস বলল, হে পরিষদবর্গ, আমাকে আমার কাজে পরামর্শ দাও। তোমাদের উপস্থিতি ব্যতিরেকে আমি কোন কাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা তো একটি শক্তিশালী এবং কঠোর যোদ্ধা জাতি। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তো আপনারই। আপনি ভেবে দেখুন কী নির্দেশ দেবেন।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘আমরা তো শক্তিশালী ও কঠোর যোদ্ধা; তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আপনারই, কী আদেশ করিবেন তাহা আপনি ভাবিয়া দেখুন।’

Arabic, with marks

قَالُوا نَحْنُ أُولُو قُوَّةٍ وَأُولُو بَأْسٍ شَدِيدٍ وَالْأَمْرُ إِلَيْكِ فَانظُرِي مَاذَا تَأْمُرِينَ

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, আমরা শক্তিশালী এবং কঠোর যোদ্ধা। এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আপনারই। অতএব আপনি ভেবে দেখুন, আমাদেরকে কি আদেশ করবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (রাণী) বললো: ‘‘রাজা বাদশারা যখন (যুদ্ধের জন্যে) কোনো জনপদে প্রবেশ করে, তারা সে জনপদকে বিপর্যস্ত করে দেয় এবং সেখানকার সম্মানিত ব্যক্তিদের করে ছাড়ে অপদস্থ। এরাও এ রকমই করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘রাজা - বাদশাহরা যখন কোন জনপদে প্রবেশ করে তখন উহাকে বিপর্যস্ত করিয়া দেয় এবং সেখানকার মর্যাদাবান ব্যক্তিদেরকে অপদস্থ করে, ইহারাও এইরূপই করিবে;

Arabic, with marks

قَالَتْ إِنَّ الْمُلُوكَ إِذَا دَخَلُوا قَرْيَةً أَفْسَدُوهَا وَجَعَلُوا أَعِزَّةَ أَهْلِهَا أَذِلَّةً ۖ وَكَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَ

মুহিউদ্দীন খান

সে বলল, রাজা বাদশারা যখন কোন জনপদে প্রবেশ করে, তখন তাকে বিপর্যস্ত করে দেয় এবং সেখানকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গকে অপদস্থ করে। তারাও এরূপই করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তাদের কাছে হাদিয়া (উপঢৌকন) পাঠাতে চাই। দেখি, আমার দূতেরা তাদের কী প্রতিক্রিয়া নিয়ে ফিরে আসে?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তাহাদের নিকট উপঢৌকন পাঠাইতেছি, দেখি, দূতেরা কী লইয়া ফিরিয়া আসে।’

Arabic, with marks

وَإِنِّي مُرْسِلَةٌ إِلَيْهِم بِهَدِيَّةٍ فَنَاظِرَةٌ بِمَ يَرْجِعُ الْمُرْسَلُونَ

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাঁর কাছে কিছু উপঢৌকন পাঠাচ্ছি; দেখি প্রেরিত লোকেরা কি জওয়াব আনে।

আবদুস শহীদ নাসিম

দূত যখন সুলাইমানের কাছে এলো, সুলাইমান বললো: ‘‘তোমরা কি আমাকে ধনমাল দিয়ে সাহায্য করতে চাও? আমাকে যা দিয়েছেন, তা তোমাদের যা দিয়েছেন তার চাইতে উত্তম। তোমরা তো তোমাদের হাদিয়া নিয়ে আনন্দবোধ করছো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দূত সুলায়মানের নিকট আসিলে সুলায়মান বলিল, ‘তোমরা কি আমাকে ধন - সম্পদ দিয়া সাহায্য করিতেছ? আমাকে যাহা দিয়াছেন, তাহা তোমাদেরকে যাহা দিয়াছেন তাহা হইতে উৎকৃষ্ট অথচ তোমরা তোমাদের উপঢৌকন লইয়া উৎফুল্ল বোধ করিতেছ।

Arabic, with marks

فَلَمَّا جَاءَ سُلَيْمَانَ قَالَ أَتُمِدُّونَنِ بِمَالٍ فَمَا آتَانِيَ اللَّهُ خَيْرٌ مِّمَّا آتَاكُم بَلْ أَنتُم بِهَدِيَّتِكُمْ تَفْرَحُونَ

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন দূত সুলায়মানের কাছে আগমন করল, তখন সুলায়মান বললেন, তোমরা কি ধনসম্পদ দ্বারা আমাকে সাহায্য করতে চাও? আমাকে যা দিয়েছেন, তা তোমাদেরকে প্রদত্ত বস্তু থেকে উত্তম। বরং তোমরাই তোমাদের উপঢৌকন নিয়ে সুখে থাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তাদের কাছে ফিরে যাও, আমি তাদের বিরুদ্ধে এমন এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে আসবো যার মোকাবেলা করার শক্তি তাদের নেই। আমি অবশ্যি তাদেরকে সে দেশ থেকে লাঞ্ছিত করে বহিষ্কার করবো এবং তখন তারা ছোট হয়ে থাকবে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘উহাদের নিকট ফিরিয়া যাও, আমি অবশ্যই উহাদের বিরুদ্ধে লইয়া আসিব এক সৈন্যবাহিনী যাহার মুকাবিলা করিবার শক্তি উহাদের নাই। আমি অবশ্যই উহাদেরকে সেখান হইতে বহিষ্কার করিব লাঞ্ছিতভাবে এবং উহারা হইবে অবনমিত।’

Arabic, with marks

ارْجِعْ إِلَيْهِمْ فَلَنَأْتِيَنَّهُم بِجُنُودٍ لَّا قِبَلَ لَهُم بِهَا وَلَنُخْرِجَنَّهُم مِّنْهَا أَذِلَّةً وَهُمْ صَاغِرُونَ

মুহিউদ্দীন খান

ফিরে যাও তাদের কাছে। এখন অবশ্যই আমি তাদের বিরুদ্ধে এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে আসব, যার মোকাবেলা করার শক্তি তাদের নেই। আমি অবশ্যই তাদেরকে অপদস্থ করে সেখান থেকে বহিষ্কৃত করব এবং তারা হবে লাঞ্ছিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুলাইমান বললো: ‘হে আমার পারিষদবর্গ! তারা আমার কাছে বশ্যতা স্বীকার করে এসে পৌঁছার আগেই তোমাদের কে তার সিংহাসনটি আমার কাছে নিয়ে আসবে?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুলায়মান আরো বলিল, ‘হে আমার পরিষদবর্গ! তাহারা আত্মসমর্পণ করিয়া আমার নিকট আসিবার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তাহার সিংহাসন আমার নিকট লইয়া আসিবে?’

Arabic, with marks

قَالَ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ أَيُّكُمْ يَأْتِينِي بِعَرْشِهَا قَبْلَ أَن يَأْتُونِي مُسْلِمِينَ

মুহিউদ্দীন খান

সুলায়মান বললেন, হে পরিষদবর্গ, তারা আত্নসমর্পণ করে আমার কাছে আসার পূর্বে কে বিলকীসের সিংহাসন আমাকে এনে দেবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

এক শক্তিশালী জিন বললো: ‘সেটি আমি নিয়ে আসবো আপনি আপনার আসন থেকে উঠার আগেই এবং এ ব্যাপারে আমি শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এক শক্তিশালী জিন বলিল, ‘আপনি আপনার স্থান হইতে উঠিবার পূর্বেই আমি উহা আনিয়া দিব এবং এই ব্যাপারে আমি অবশ্যই ক্ষমতাবান, বিশ্বস্ত।’

Arabic, with marks

قَالَ عِفْرِيتٌ مِّنَ الْجِنِّ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَن تَقُومَ مِن مَّقَامِكَ ۖ وَإِنِّي عَلَيْهِ لَقَوِيٌّ أَمِينٌ

মুহিউদ্দীন খান

জনৈক দৈত্য - জিন বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার পূর্বে আমি তা এনে দেব এবং আমি একাজে শক্তিবান, বিশ্বস্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

যার কাছে কিতাবের এলেম ছিলো, এমন এক ব্যক্তি উঠে বললো: ‘আপনি চোখের পলক ফেলার আগেই আমি সেটা আপনাকে এনে দিচ্ছি।’ সুলাইমান যখন সেটা নিজের সামনে রক্ষিত অবস্থায় দেখতে পেলো, বললো: ‘এটা আমার প্রভুর অনুগ্রহ, এর দ্বারা তিনি আমাকে পরীক্ষা করতে চান আমি কৃতজ্ঞ থাকি, নাকি অকৃতজ্ঞ হই। আর যে কেউ শোকর আদায় করে সে নিজের কল্যাণেই শোকর আদায় করে। আর যে কেউ অকৃতজ্ঞ হয়, সে জেনে রাখুক, আমার প্রভু মুখাপেক্ষাহীন, মর্যাদাবান।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিতাবের জ্ঞান যাহার ছিল, সে বলিল, ‘আপনি চক্ষুর পলক ফেলিবার পূর্বেই আমি উহা আপনাকে আনিয়া দিব।’ সুলায়মান যখন উহা সম্মুখে রক্ষিত অবস্থায় দেখিল তখন সে বলিল, ‘ইহা আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ, যাহাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করিতে পারেন - আমি কৃতজ্ঞ না অকৃতজ্ঞ। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে তো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নিজেরই কল্যাণের জন্য এবং যে অকৃতজ্ঞ, সে জানিয়া রাখুক যে, আমার প্রতিপালক অভাবমুক্ত, মহানুভব।’

Arabic, with marks

قَالَ الَّذِي عِندَهُ عِلْمٌ مِّنَ الْكِتَابِ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَن يَرْتَدَّ إِلَيْكَ طَرْفُكَ ۚ فَلَمَّا رَآهُ مُسْتَقِرًّا عِندَهُ قَالَ هَٰذَا مِن فَضْلِ رَبِّي لِيَبْلُوَنِي أَأَشْكُرُ أَمْ أَكْفُرُ ۖ وَمَن شَكَرَ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ ۖ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ رَبِّي غَنِيٌّ كَرِيمٌ

মুহিউদ্দীন খান

কিতাবের জ্ঞান যার ছিল, সে বলল, আপনার দিকে আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা আপনাকে এনে দেব। অতঃপর সুলায়মান যখন তা সামনে রক্ষিত দেখলেন, তখন বললেন এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন যে, আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, না অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং যে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে জানুক যে, আমার পালনকর্তা অভাবমুক্ত কৃপাশীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুলাইমান বললো: ‘তার সিংহাসনটি ওলটপালট করে তার জন্যে আনকোরা করে দাও। দেখি, সে কি চিনতে পারে, নাকি না চেনাদের অন্তরভুক্ত হয়?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুলায়মান বলিল, ‘তাহার সিংহাসনের আকৃতি অপরিচিত করিয়া বদলাইয়া দাও; দেখি সে সঠিক দিশা পায়, না সে বিভ্রান্তদের শামিল হয়;

Arabic, with marks

قَالَ نَكِّرُوا لَهَا عَرْشَهَا نَنظُرْ أَتَهْتَدِي أَمْ تَكُونُ مِنَ الَّذِينَ لَا يَهْتَدُونَ

মুহিউদ্দীন খান

সুলায়মান বললেন, বিলকীসের সামনে তার সিংহাসনের আকার - আকৃতি বদলিয়ে দাও, দেখব সে সঠিক বুঝতে পারে, না সে তাদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের দিশা নেই ?

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন রাণী এসে পৌঁছালো, তাকে বলা হলো: ‘আপনার সিংহাসন কি এ রকম?’ সে বললো: ‘এটা যেনো সেটাই? আমাদের ইতোপূর্বে অবগত করানো হয়েছে এবং আমরা বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছি।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই নারী যখন আসিল, তখন তাহাকে জিজ্ঞাসা করা হইল, ‘তোমার সিংহাসন কি এইরূপই?’ সে বলিল, ‘ইহা তো যেন উহাই।’ আমাদেরকে ইতিপূর্বেই প্রকৃত জ্ঞান দান করা হইয়াছে এবং আমরা আত্মসর্মপণও করিয়াছি।’

Arabic, with marks

فَلَمَّا جَاءَتْ قِيلَ أَهَٰكَذَا عَرْشُكِ ۖ قَالَتْ كَأَنَّهُ هُوَ ۚ وَأُوتِينَا الْعِلْمَ مِن قَبْلِهَا وَكُنَّا مُسْلِمِينَ

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন বিলকীস এসে গেল, তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, তোমার সিংহাসন কি এরূপই? সে বলল, মনে হয় এটা সেটাই। আমরা পূর্বেই সমস্ত অবগত হয়েছি এবং আমরা আজ্ঞাবহও হয়ে গেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদত করতো তাই তাকে সত্য থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছিল। সে তো কওমেরই একজন ছিলো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌র পরিবর্তে সে যাহার পূজা করিত তাহাই তাহাকে সত্য হইতে নিবৃত্ত করিয়াছে, সে ছিল সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।

Arabic, with marks

وَصَدَّهَا مَا كَانَت تَّعْبُدُ مِن دُونِ اللَّهِ ۖ إِنَّهَا كَانَتْ مِن قَوْمٍ كَافِرِينَ

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর পরিবর্তে সে যার এবাদত করত, সেই তাকে ঈমান থেকে নিবৃত্ত করেছিল। নিশ্চয় সে সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে বলা হলো: ‘এই প্রাসাদে দাখিল হোন।’ সে যখন তা দেখলো, মনে করলো একটি জলাশয়। তখন তার পায়ের কিছু অংশ থেকে বস্ত্র গুটিয়ে উন্মুক্ত করে নিলো। সুলাইমান বললো: ‘এতো (পানি নয়) স্বচ্ছ স্ফটিকের তৈরি প্রাসাদ।’ তখন সে (রাণী) বললো: ‘আমার প্রভু! আমি আমার নিজের প্রতি অবিচার করে আসছিলাম, এখন আমি সুলাইমানের সাথে রাব্বুল আলামিনের উদ্দেশ্যে আত্মসমর্পণ করলাম।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাকে বলা হইল, ‘এই প্রাসাদে প্রবেশ কর।’ যখন সে উহা দেখিল তখন সে উহাকে এক গভীর জলাশয় মনে করিল এবং সে তাহার পদদ্বয় অনাবৃত করিল। সুলায়মান বলিল, ‘ইহা তো স্বচ্ছ স্ফটিক মণ্ডিত প্রাসাদ।’ সেই নারী বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করিয়াছিলাম, আমি সুলায়মানের সঙ্গে জগতসমূহের প্রতিপালক ‌র নিকট আত্মসমর্পণ করিতেছি।’

Arabic, with marks

قِيلَ لَهَا ادْخُلِي الصَّرْحَ ۖ فَلَمَّا رَأَتْهُ حَسِبَتْهُ لُجَّةً وَكَشَفَتْ عَن سَاقَيْهَا ۚ قَالَ إِنَّهُ صَرْحٌ مُّمَرَّدٌ مِّن قَوَارِيرَ ۗ قَالَتْ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

মুহিউদ্দীন খান

তাকে বলা হল, এই প্রাসাদে প্রবেশ কর। যখন সে তার প্রতি দৃষ্টিপাত করল সে ধারণা করল যে, এটা স্বচ্ছ গভীর জলাশয়। সে তার পায়ের গোছা খুলে ফেলল। সুলায়মান বলল, এটা তো স্বচ্ছ স্ফটিক নির্মিত প্রাসাদ। বিলকীস বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি সুলায়মানের সাথে বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা আল্লাহর কাছে আত্নসমর্পন করলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা সামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালেহকে পাঠিয়েছিলাম এই নির্দেশ দিয়ে: ‘তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত (আনুগত্য দাসত্ব, পূজা উপাসনা) করো।’ তখন তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি অবশ্যই সামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাহাদের ভ্রাতা সালিহ্‌কে পাঠাইয়াছিলাম এই আদেশসহঃ ‘তােমরা ‌র ‘ইবাদত কর’, কিন্তু উহারা দ্বিধাবিভক্ত হইয়া বিতর্কে লিপ্ত হইল।

Arabic, with marks

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ فَإِذَا هُمْ فَرِيقَانِ يَخْتَصِمُونَ

মুহিউদ্দীন খান

আমি সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ভাই সালেহকে এই মর্মে প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। অতঃপর তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে প্রবৃত্ত হল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সালেহ্ বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা কল্যাণের আগে দ্রুত অকল্যাণ চাইছো কেন? তোমরা কেন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইছোনা, যাতে করে তোমরা রহম প্রাপ্ত হও।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন কল্যাণের পূর্বে অকল্যাণ ত্বরান্বিত করিতে চাহিতেছ ? কেন তোমরা ‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছ না, যাহাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হইতে পার?’

Arabic, with marks

قَالَ يَا قَوْمِ لِمَ تَسْتَعْجِلُونَ بِالسَّيِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ ۖ لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

মুহিউদ্দীন খান

সালেহ বললেন, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা কল্যাণের পূর্বে দ্রুত অকল্যাণ কামনা করছ কেন? তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না কেন? সম্ভবতঃ তোমরা দয়াপ্রাপ্ত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা তোমাকে এবং তোমার সাথিদেরকে আমাদের অমঙ্গলের কারণ মনে করি।’ সে বললো: ‘তোমাদের মঙ্গল অমঙ্গল তো আল্লাহর এখতিয়ারে। বরং তোমরা এমন একটি কওম যাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘তোমাকে ও তোমার সঙ্গে যাহারা আছে তাহাদেরকে আমরা অমঙ্গলের কারণ মনে করি।’ সালিহ্ বলিল, ‘তোমাদের শুভাশুভ ‌র ইখ্‌তিয়ারে, বস্তুত তোমরা এমন এক সম্প্রদায় যাহাদেরকে পরীক্ষা করা হইতেছে।’

Arabic, with marks

قَالُوا اطَّيَّرْنَا بِكَ وَبِمَن مَّعَكَ ۚ قَالَ طَائِرُكُمْ عِندَ اللَّهِ ۖ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تُفْتَنُونَ

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা আছে, তাদেরকে আমরা অকল্যাণের প্রতীক মনে করি। সালেহ বললেন, তোমাদের মঙ্গলামঙ্গল আল্লাহর কাছে; বরং তোমরা এমন সম্প্রদায়, যাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেই শহরে ছিলো নয় ব্যক্তি যারা দেশে ফাসাদ সৃষ্টি করতো এবং সংশোধন হতোনা

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর সেই শহরে ছিল এমন নয় ব্যক্তি, যাহারা দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করিত এবং সৎকর্ম করিত না।

Arabic, with marks

وَكَانَ فِي الْمَدِينَةِ تِسْعَةُ رَهْطٍ يُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ

মুহিউদ্দীন খান

আর সেই শহরে ছিল এমন একজন ব্যক্তি, যারা দেশময় অনর্থ সৃষ্টি করে বেড়াত এবং সংশোধন করত না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলো: আমরা অবশ্যি রাতের বেলায় তাকে (সালেহকে) এবং তার পরিবারবর্গকে আক্রমণ করে হত্যা করবো, তারপর তার অলিকে বলবো: তার পরিবারবর্গকে কারা হত্যা করেছে তা আমরা দেখিনি। আমরা অবশ্যি সত্যবাদী।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘তোমরা ‌র নামে শপথ গ্রহণ কর, ‘আমরা রাত্রিকালে তাহাকে ও তাহার পরিবার - পরিজনকে অবশ্যই আক্রমণ করিব; অতঃপর তাহার অভিভাবককে নিশ্চয় বলিব,‘তাহার পরিবার - পরিজনের হত্যা আমরা প্রত্যক্ষ করি নাই; আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।’

Arabic, with marks

قَالُوا تَقَاسَمُوا بِاللَّهِ لَنُبَيِّتَنَّهُ وَأَهْلَهُ ثُمَّ لَنَقُولَنَّ لِوَلِيِّهِ مَا شَهِدْنَا مَهْلِكَ أَهْلِهِ وَإِنَّا لَصَادِقُونَ

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, তোমরা পরস্পরে আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ কর যে, আমরা রাত্রিকালে তাকে ও তার পরিবারবর্গকে হত্যা করব। অতঃপর তার দাবীদারকে বলে দেব যে, তার পরিবারবর্গের হত্যাকান্ড আমরা প্রত্যক্ষ করিনি। আমরা নিশ্চয়ই সত্যবাদী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা এই জঘন্য চক্রান্ত করেছিল, আর এদিকে আমরাও করেছি একটি কৌশল যা তারা টেরই পায়নি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা এক চক্রান্ত করিয়াছিল এবং আমিও এক কৌশল অবলম্বন করিলাম, কিন্তু উহারা বুঝিতে পারে নাই।

Arabic, with marks

وَمَكَرُوا مَكْرًا وَمَكَرْنَا مَكْرًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ

মুহিউদ্দীন খান

তারা এক চক্রান্ত করেছিল এবং আমিও এক চক্রান্ত করেছিলাম। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর লক্ষ্য করে দেখো তাদের চক্রান্তের পরিণতি কী হয়েছে, আমরা তাদেরকে এবং তাদের গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব দেখ, উহাদের চক্রান্তের পরিণাম কী হইয়াছে - আমি অবশ্যই উহাদেরকে ও উহাদের সম্প্রদায়ের সকলকে ধ্বংস করিয়াছি।

Arabic, with marks

فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ مَكْرِهِمْ أَنَّا دَمَّرْنَاهُمْ وَقَوْمَهُمْ أَجْمَعِينَ

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, দেখ তাদের চক্রান্তের পরিনাম, আমি অবশ্রই তাদেরকে এবং তাদের সম্প্রদায়কে নাস্তনাবুদ করে দিয়েছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ তো তাদের ঘরবাড়ি বিরাণ হয়ে আছে তাদের যুলুমের পরিণতিতে। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন জ্ঞানী লোকদের জন্যে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই তো উহাদের ঘরবাড়ি - সীমালংঘনহেতু যাহা জনশূন্য অবস্থায় পড়িয়া আছে; ইহাতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে।

Arabic, with marks

فَتِلْكَ بُيُوتُهُمْ خَاوِيَةً بِمَا ظَلَمُوا ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّقَوْمٍ يَعْلَمُونَ

মুহিউদ্দীন খান

এই তো তাদের বাড়ীঘর - তাদের অবিশ্বাসের কারণে জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। নিশ্চয় এতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন আছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা (সেই অশুভ পরিণতি থেকে) নাজাত দিয়েছিলাম তাদেরকে, যারা ঈমান এনেছিল এবং অবলম্বন করেছিল তাকওয়া।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যাহারা ও ছিল তাহাদেরকে আমি উদ্ধার করিয়াছি।

Arabic, with marks

وَأَنجَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ

মুহিউদ্দীন খান

যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং ছিল, তাদেরকে আমি উদ্ধার করেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো লুতের কথা! সে তার কওমকে বলেছিল: ‘‘তোমরা জেনে শুনে কেন ফাহেশা কাজ করছো?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর লূতের কথা, সে তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমরা জানিয়া - শুনিয়া কেন অশ্লীল কাজ করিতেছ,

Arabic, with marks

وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ وَأَنتُمْ تُبْصِرُونَ

মুহিউদ্দীন খান

স্মরণ কর লূতের কথা, তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেন, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ করছ? অথচ এর পরিণতির কথা তোমরা অবগত আছ!

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যৌন কামনা চরিতার্থ করার জন্যে নারীর পরিবর্তে পুরুষ গমন করছো? তোমরা তো এক চরম জাহেল সম্প্রদায়।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীকে ছাড়িয়া পুরুষে উপগত হইবে? তোমরা তো এক অজ্ঞ সম্প্রদায়।’

Arabic, with marks

أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّن دُونِ النِّسَاءِ ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীদেরকে ছেড়ে পুরুষে উপগত হবে? তোমরা তো এক বর্বর সম্প্রদায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

জবাবে তার কওম কেবল একথাই বলেছিল: ‘লুতের অনুসারীদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। তারা বড় পবিত্র থাকতে চাইছে!’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উত্তরে তাহার সম্প্রদায় শুধু বলিল, ‘লূত - পরিবারকে তোমাদের জনপদ হইতে বহিষ্কার কর, ইহারা তো এমন লোক যাহারা পবিত্র সাজিতে চায়।

Arabic, with marks

۞ فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَن قَالُوا أَخْرِجُوا آلَ لُوطٍ مِّن قَرْيَتِكُمْ ۖ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ

মুহিউদ্দীন খান

উত্তরে তাঁর কওম শুধু এ কথাটিই বললো, লূত পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। এরা তো এমন লোক যারা শুধু পাকপবিত্র সাজতে চায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে আমরা নাজাত দিয়েছিলাম তাকে এবং তার পরিবারবর্গকে তার স্ত্রীকে ছাড়া। তাকে আমরা ধ্বংস প্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত করে দিয়েছিলাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর আমি তাহাকে ও তাহার পরিজনবর্গকে উদ্ধার করিলাম, তাহার স্ত্রী ব্যতীত, তাহাকে করিয়াছিলাম ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।

Arabic, with marks

فَأَنجَيْنَاهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ قَدَّرْنَاهَا مِنَ الْغَابِرِينَ

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে উদ্ধার করলাম তাঁর স্ত্রী ছাড়া। কেননা, তার জন্যে ধ্বংসপ্রাপ্তদের ভাগ্যই নির্ধারিত করেছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম ভয়ংকর (পাথর) বর্ষণ। যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে তাদের প্রতি বর্ষণ ছিলো কতো যে নিকৃষ্ট!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের উপর ভয়ংকর বৃষ্টি বর্ষণ করিয়াছিলাম, ভীতি প্রদর্শিতদের জন্য এই বর্ষণ ছিল কত নিকৃষ্ট!

Arabic, with marks

وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًا ۖ فَسَاءَ مَطَرُ الْمُنذَرِينَ

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম মুষলধারে বৃষ্টি। সেই সতর্ককৃতদের উপর কতই না মারাত্নক ছিল সে বৃষ্টি।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আর তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি সালাম। শ্রেষ্ঠ কি , নাকি ওরা যাদেরকে তাঁর সাথে শরিক করে তারা?’ (অবশ্যি )।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘সকল প্রশংসা ‌রই এবং শান্তি তাঁহার মনোনীত বান্দাদের প্রতি!’ শ্রেষ্ঠ কি ‌, না উহারা যাহাদেরকে শরীক করে তাহারা?

Arabic, with marks

قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَامٌ عَلَىٰ عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَىٰ ۗ آللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ

মুহিউদ্দীন খান

বল, সকল প্রশংসাই আল্লাহর এবং শান্তি তাঁর মনোনীত বান্দাগণের প্রতি! শ্রেষ্ঠ কে? না ওরা - তারা যাদেরকে শরীক সাব্যস্ত করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই কি শ্রেষ্ঠ নন, যিনি সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ এবং এই পৃথিবী এবং যিনি আসমান থেকে তোমাদের জন্যে নাযিল করেন পানি। তারপর আমরা তা থেকে উদগত করি মনোরম উদ্যান, যার গাছ - গাছালি সৃষ্টি করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। তারপরও কি আল্লাহর সাথে কোনো ইলাহ্ আছে বলে মনে করো? আসলে তারা এমন একটি কওম যারা (অন্যদেরকে) আল্লাহর সমকক্ষ বানায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বরং তিনি, যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং আকাশ হইতে তোমাদের জন্য বর্ষণ করেন বৃষ্টি ; অতঃপর আমি উহা দ্বারা মনোরম উদ্যান সৃষ্টি করি, উহার বৃক্ষাদি উদ্‌গত করিবার ক্ষমতা তোমাদের নাই। ‌র সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কি? তবুও উহারা এমন এক সম্প্রদায় যাহারা সত্যবিচ্যুত হয়।

Arabic, with marks

أَمَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَأَنزَلَ لَكُم مِّنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنبَتْنَا بِهِ حَدَائِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ مَّا كَانَ لَكُمْ أَن تُنبِتُوا شَجَرَهَا ۗ أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ ۚ بَلْ هُمْ قَوْمٌ يَعْدِلُونَ

মুহিউদ্দীন খান

বল তো কে সৃষ্টি করেছেন নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং আকাশ থেকে তোমাদের জন্যে বর্ষণ করেছেন পানি; অতঃপর তা দ্বারা আমি মনোরম বাগান সৃষ্টি করেছি। তার বৃক্ষাদি উৎপন্ন করার শক্তিই তোমাদের নেই। অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বরং তারা সত্যবিচ্যুত সম্প্রদায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই কি (একমাত্র ইলাহ্) নন, যিনি পৃথিবীকে বানিয়েছেন বাস উপযোগী এবং এর মাঝে মাঝে সৃষ্টি করে দিয়েছেন নদ - নদী - নহর? তাকে স্থিতিশীল রাখার জন্যে স্থাপন করে দিয়েছেন পাহাড় পর্বত এবং দুই দরিয়ার মাঝে সৃষ্টি করে দিয়েছেন অন্তরায়। তা সত্ত্বেও আল্লাহর সাথে আরো ইলাহ্ আছে কি? বরং তাদের অধিকাংশই জানেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বরং তিনি, যিনি পৃথিবীকে করিয়াছেন বাসোপযোগী এবং উহার মাঝে মাঝে প্রবাহিত করিয়াছেন নদীনালা এবং উহাতে স্থাপন করিয়াছেন সুদৃঢ় পর্বত ও দুই দরিয়ার মধ্যে সৃষ্টি করিয়াছেন অন্তরায় ; ‌র সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কি? তবুও উহাদের অনেকেই জানে না।

Arabic, with marks

أَمَّن جَعَلَ الْأَرْضَ قَرَارًا وَجَعَلَ خِلَالَهَا أَنْهَارًا وَجَعَلَ لَهَا رَوَاسِيَ وَجَعَلَ بَيْنَ الْبَحْرَيْنِ حَاجِزًا ۗ أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ

মুহিউদ্দীন খান

বল তো কে পৃথিবীকে বাসোপযোগী করেছেন এবং তার মাঝে মাঝে নদ - নদী প্রবাহিত করেছেন এবং তাকে স্থিত রাখার জন্যে পর্বত স্থাপন করেছেন এবং দুই সমুদ্রের মাঝখানে অন্তরায় রেখেছেন। অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই কি (একমাত্র ইলাহ্) নন, যিনি অশান্ত হৃদয়ের প্রার্থনাকারীর ডাকে সাড়া দেন এবং দূর করে দেন তার দুঃখ দুর্দশা? তিনিই তো তোমাদেরকে পৃথিবীতে খলিফা বানিয়েছেন। তারপরও তাঁর সাথে আরো ইলাহ্ আছে কি? তোমরা খুব কমই শিক্ষা গ্রহণ করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বরং তিনি, যিনি আর্তের আহ্‌বানে সাড়া দেন, যখন সে তাঁহাকে ডাকে এবং বিপদ - আপদ দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেন। ‌র সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কি? তোমরা উপদেশ অতি সামান্যই গ্রহণ করিয়া থাক।

Arabic, with marks

أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الْأَرْضِ ۗ أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ ۚ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ

মুহিউদ্দীন খান

বল তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে পুর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তোমরা অতি সামান্যই ধ্যান কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই কি (একমাত্র ইলাহ্) নন, যিনি তোমাদেরকে স্থল ও পানি পথের অন্ধকারে পথনির্দেশ দান করেন এবং যিনি সুসংবাদবাহী বাতাস পাঠান তাঁর রহমত (বৃষ্টি) বর্ষণের আগে। তারপরও তাঁর সাথে আরো ইলাহ্ আছে কি? তারা তাঁর সাথে যাদেরকে শরিক করে, তাদের থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বরং তিনি, যিনি তোমাদেরকে স্থলের ও পানির অন্ধকারে পথ প্রদর্শন করেন এবং যিনি স্বীয় অনুগ্রহের প্রাক্কালে সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন। ‌র সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কি? উহারা যাহাকে শরীক করে তাহা হইতে বহু ঊর্ধ্বে।

Arabic, with marks

أَمَّن يَهْدِيكُمْ فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَن يُرْسِلُ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ ۗ أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ ۚ تَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ

মুহিউদ্দীন খান

বল তো কে তোমাদেরকে জলে ও স্থলে অন্ধকারে পথ দেখান এবং যিনি তাঁর অনুগ্রহের পূর্বে সুসংবাদবাহী বাতাস প্রেরণ করেন? অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তারা যাকে শরীক করে, তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং তিনিই (একমাত্র ইলাহ্) যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর পুনরায় সৃষ্টি করবেন। আসমান ও জমিন থেকে কে তোমাদের রিযিক দেয়? তারপরও তাঁর সাথে আরো ইলাহ্ আছে কি? বলো: ‘তোমাদের প্রমাণ হাজির করো যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বরং তিনি, যিনি আদিতে সৃষ্টি করেন, অতঃপর উহার পুনরাবৃত্তি করিবেন এবং যিনি তোমাদেরকে আকাশ ও পৃথিবী হইতে জীবনোপকরণ দান করেন। ‌র সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কি? বল, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ কর।’

Arabic, with marks

أَمَّن يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَمَن يَرْزُقُكُم مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ۗ أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ ۚ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ

মুহিউদ্দীন খান

বল তো কে প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন এবং কে তোমাদেরকে আকাশ ও মর্ত্য থেকে রিযিক দান করেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বলুন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যারাই আছে, ছাড়া কেউই জানেনা। তারা কখন পুনরুত্থিত হবে তাও তারা জানেনা।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘ ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে কেহই বিষয়ের জ্ঞান রাখে না এবং উহারা জানে না উহারা কখন উত্থিত হইবে।’

Arabic, with marks

قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ ۚ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

না, সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, বরং তারা সে সম্পর্কে সন্দেহে আছে, বরং সে বিষয়ে তারা অন্ধ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সম্পর্কে উহাদের জ্ঞান তো নিঃশেষ হইয়াছে ; উহারা তো এ বিষয়ে সন্দিগ্ধ, বরং এ বিষয়ে উহারা অন্ধ।

Arabic, with marks

بَلِ ادَّارَكَ عِلْمُهُمْ فِي الْآخِرَةِ ۚ بَلْ هُمْ فِي شَكٍّ مِّنْهَا ۖ بَلْ هُم مِّنْهَا عَمُونَ

মুহিউদ্দীন খান

বরং পরকাল সম্পর্কে তাদের জ্ঞান নিঃশেষ হয়ে গেছে; বরং তারা এ বিষয়ে সন্দেহ পোষন করছে বরং এ বিষয়ে তারা অন্ধ।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিররা বলে: ‘‘আমরা এবং আমাদের পূর্ব পুরুষরা যখন মাটির সাথে মিশে যাবো, তখন কি আমাদের পুনরায় জীবিত করে উঠিয়ে আনা হবে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কাফিররা বলে, ‘আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষেরা মৃত্তিকায় পর্যবসিত হইয়া গেলেও কি আমাদেরকে উত্থিত করা হইবে?

Arabic, with marks

وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَإِذَا كُنَّا تُرَابًا وَآبَاؤُنَا أَئِنَّا لَمُخْرَجُونَ

মুহিউদ্দীন খান

কাফেররা বলে, যখন আমরা ও আমাদের বাপ - দাদারা মৃত্তিকা হয়ে যাব, তখনও কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

এ বিষয়ে তো আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকে ইতোপূর্বেও ধমক দেয়া হয়েছিল। এ - তো আগের কালের লোকদের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এই বিষয়ে তো আমাদেরকে এবং পূর্বে আমাদের পূর্বপুরুষগণকেও ভীতি প্রদর্শন করা হইয়াছিল। ইহা তো পূর্ববর্তীদের উপকথা ব্যতীত আর কিছু নহে।’

Arabic, with marks

لَقَدْ وُعِدْنَا هَٰذَا نَحْنُ وَآبَاؤُنَا مِن قَبْلُ إِنْ هَٰذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ

মুহিউদ্দীন খান

এই ওয়াদাপ্রাপ্ত হয়েছি আমরা এবং পূর্ব থেকেই আমাদের বাপ - দাদারা। এটা তো পূর্ববর্তীদের উপকথা বৈ কিছু নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘পৃথিবী ভ্রমণ করে দেখো, অপরাধীদের পরিণতি কী হয়েছিল?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং দেখ অপরাধীদের পরিণাম কিরূপ হইয়াছে।’

Arabic, with marks

قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, পৃথিবী পরিভ্রমণ কর এবং দেখ অপরাধীদের পরিণতি কি হয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের ব্যাপারে দুঃখ করোনা, আর তাদের চক্রান্তের কারণে মনও ছোট করোনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের সম্পর্কে তুমি দুঃখ করিও না এবং উহাদের ষড়যন্ত্রে মনঃক্ষুণ্ন হইও না।

Arabic, with marks

وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُن فِي ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ

মুহিউদ্দীন খান

তাদের কারণে আপনি দুঃখিত হবেন না এবং তারা যে চক্রান্ত করেছে এতে মনঃক্ষুন্ন হবেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘কখন আসবে এই ওয়াদার সময়টি, সত্যবাদী হয়ে থাকলে বলো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, কখন এই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হইবে?’

Arabic, with marks

وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, এই ওয়াদা কখন পূর্ণ হবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি বলো: ‘তোমরা যা নিয়ে তাড়াহুড়া করছো তার কিছু কিছু বিষয় তোমাদের নিকটবর্তী হয়ে গেছে।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমরা যে বিষয় ত্বরান্বিত করিতে চাহিতেছ সম্ভবত তাহার কিছু তোমাদের নিকটবর্তী হইয়াছে।’

Arabic, with marks

قُلْ عَسَىٰ أَن يَكُونَ رَدِفَ لَكُم بَعْضُ الَّذِي تَسْتَعْجِلُونَ

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, অসম্ভব কি, তোমরা যত দ্রুত কামনা করছ তাদের কিয়দংশ তোমাদের পিঠের উপর এসে গেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মানুষের প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই শোকর আদায় করেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল; কিন্তু উহাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ।

Arabic, with marks

وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَشْكُرُونَ

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তা মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু তাদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু অবশ্যি জানেন তাদের মন যা গোপন করে আর যা তারা এলান (প্রকাশ) করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের অন্তর যাহা গোপন করে এবং উহারা যাহা প্রকাশ করে তাহা তোমার প্রতিপালক অবশ্যই জানেন।

Arabic, with marks

وَإِنَّ رَبَّكَ لَيَعْلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُورُهُمْ وَمَا يُعْلِنُونَ

মুহিউদ্দীন খান

তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে আপনার পালনকর্তা অবশ্যই তা জানেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আসমান ও জমিনে এমন কোনো নেই, যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে রেকর্ড করা নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশে ও পৃথিবীতে এমন কোন গোপন রহস্য নাই, যাহা সুস্পষ্ট কিতাবে নাই।

Arabic, with marks

وَمَا مِنْ غَائِبَةٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ

মুহিউদ্দীন খান

আকাশে ও পৃথিবীতে এমন কোন গোপন ভেদ নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে না আছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

বনি ইসরাঈল যেসব বিষয়ে মতভেদ করে, তার অধিকাংশই এ কুরআন তাদের বলে দেয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বনী ইসরাঈল যেই সমস্ত বিষয়ে মতভেদ করে, এই কুরআন তাহার অধিকাংশ তাহাদের নিকট বিবৃত করে।

Arabic, with marks

إِنَّ هَٰذَا الْقُرْآنَ يَقُصُّ عَلَىٰ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَكْثَرَ الَّذِي هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ

মুহিউদ্দীন খান

এই কোরআন বণী ইসরাঈল যেসব বিষয়ে মতবিরোধ করে, তার অধিকাংশ তাদের কাছে বর্ণনা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর নিশ্চয়ই এ কুরআন মুমিনদের জন্যে হিদায়াত এবং রহমত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং নিশ্চয়ই ইহা মু’মিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।

Arabic, with marks

وَإِنَّهُ لَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ

মুহিউদ্দীন খান

এবং নিশ্চিতই এটা মুমিনদের জন্যে হেদায়েত ও রহমত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু তাঁর বিধান মতো তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, মহাজ্ঞানী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার প্রতিপালক তো তাঁহার বিধান অনুযায়ী উহাদের মধ্যে ফায়সালা করিয়া দিবেন। তিনি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ।

Arabic, with marks

إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِي بَيْنَهُم بِحُكْمِهِ ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْعَلِيمُ

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তা নিজ শাসনক্ষমতা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন। তিনি পরাক্রমশালী, সুবিজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব তাওয়াক্কুল করো আল্লাহর উপর। নিশ্চয়ই তুমি সুস্পষ্ট সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব ‌র উপর নির্ভর কর ; তুমি তো স্পষ্ট সত্যে প্রতিষ্ঠিত।

Arabic, with marks

فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۖ إِنَّكَ عَلَى الْحَقِّ الْمُبِينِ

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আপনি আল্লাহর উপর ভরসা করুন। নিশ্চয় আপনি সত্য ও স্পষ্ট পথে আছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তো মৃতকে কথা শুনাতে পারবেনা এবং বধিরকেও পারবেনা আহবান শুনাতে, যখন তারা মুখ ফিরিয়ে চলে যায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মৃতকে তো তুমি কথা শোনাইতে পারিবে না, বধিরকেও পারিবে না আহ্বান শোনাইতে, যখন উহারা পিঠ ফিরাইয়া চলিয়া যায়।

Arabic, with marks

إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَىٰ وَلَا تُسْمِعُ الصُّمَّ الدُّعَاءَ إِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِينَ

মুহিউদ্দীন খান

আপনি আহবান শোনাতে পারবেন না মৃতদেরকে এবং বধিরকেও নয়, যখন তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি অন্ধদের সঠিক পথে আনতে পারবেনা তাদের ভুল পথ থেকে। তুমি শুনাতে পারবে তো কেবল তাদেরকে, যারা আমাদের আয়াতের প্রতি ঈমান আনে, আর তারাই হয়ে থাকে আত্মসমর্পণকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি অন্ধদেরকে উহাদের পথভ্রষ্টতা হইতে পথে আনিতে পারিবে না। তুমি শোনাইতে পারিবে কেবল তাহাদেরকে, যাহারা আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে। আর তাহারাই আত্মসর্মপণকারী।

Arabic, with marks

وَمَا أَنتَ بِهَادِي الْعُمْيِ عَن ضَلَالَتِهِمْ ۖ إِن تُسْمِعُ إِلَّا مَن يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا فَهُم مُّسْلِمُونَ

মুহিউদ্দীন খান

আপনি অন্ধদেরকে তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে ফিরিয়ে সৎপথে আনতে পারবেন না। আপনি কেবল তাদেরকে শোনাতে পারবেন, যারা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে। অতএব, তারাই আজ্ঞাবহ।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন ঘোষিত শাস্তি তাদের নিকটবর্তী হবে, তখন আমরা মাটির ভেতর থেকে তাদের জন্যে বের করে আনবো একটি জীব (দাববাতুল আর্দ), যে তাদের সাথে কথা বলবে। কারণ, মানুষ আমাদের আয়াতের প্রতি একীন রাখেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন ঘোষিত শাস্তি উহাদের নিকট আসিবে তখন আমি মৃত্তিকাগর্ভ হইতে বাহির করিব এক জীব, যাহা উহাদের সঙ্গে কথা বলিবে, এইজন্য যে, মানুষ আমার নিদর্শনে অবিশ্বাসী।

Arabic, with marks

۞ وَإِذَا وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِمْ أَخْرَجْنَا لَهُمْ دَابَّةً مِّنَ الْأَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا بِآيَاتِنَا لَا يُوقِنُونَ

মুহিউদ্দীন খান

যখন প্রতিশ্রুতি (কেয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি জীব নির্গত করব। সে মানুষের সাথে কথা বলবে। এ কারণে যে মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো সেদিনের কথা, যেদিন আমরা প্রত্যেক উম্মত থেকে একটি দলকে সমবেত করবো। যারা আমাদের আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করতো; তাদেরকে সারিবদ্ধ করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর সেই দিনের কথা, যেই দিন আমি সমবেত করিব প্রত্যেক সম্প্রদায় হইতে এক - একটি দলকে, যাহারা আমার নিদর্শনাবলী প্রত্যাখ্যান করিত আর উহাদেরকে সারিবদ্ধ করা হইবে।

Arabic, with marks

وَيَوْمَ نَحْشُرُ مِن كُلِّ أُمَّةٍ فَوْجًا مِّمَّن يُكَذِّبُ بِآيَاتِنَا فَهُمْ يُوزَعُونَ

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন আমি একত্রিত করব একেকটি দলকে সেসব সম্প্রদায় থেকে, যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলত; অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তারা উপস্থিত হবে, বলবেন: তোমরাই কি আমার আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছিলে? অথচ সেটাকে তোমাদের জ্ঞানে ধারণ করতে পারোনি? এছাড়াও তোমরা আর কী কী করেছিলে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন উহারা সমাগত হইবে তখন ‌ উহাদেরকে বলিবেন, ‘তোমরা কি আমার নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করিয়াছিলে, অথচ উহা তোমরা জ্ঞানায়ত্ত করিতে পার নাই? বরং তোমরা আরও কিছু করিতেছিলে?’

Arabic, with marks

حَتَّىٰ إِذَا جَاءُوا قَالَ أَكَذَّبْتُم بِآيَاتِي وَلَمْ تُحِيطُوا بِهَا عِلْمًا أَمَّاذَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

মুহিউদ্দীন খান

যখন তারা উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন বলবেন, তোমরা কি আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছিলে? অথচ এগুলো সম্পর্কে তোমাদের পুর্ণ জ্ঞান ছিল না। না তোমরা অন্য কিছু করছিলে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের যুলুমের কারণে তাদের উপর ঘোষিত শাস্তি এসে পড়বে, ফলে তারা কথাই বলতে পারবেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সীমালংঘন হেতু উহাদের উপর ঘোষিত শাস্তি আসিয়া পড়িবে; ফলে উহারা কিছুই বলিতে পারিবে না।

Arabic, with marks

وَوَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِم بِمَا ظَلَمُوا فَهُمْ لَا يَنطِقُونَ

মুহিউদ্দীন খান

জুলুমের কারণে তাদের কাছে আযাবের ওয়াদা এসে গেছে। এখন তারা কোন কিছু বলতে পারবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি দেখেনা আমরা রাতকে সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্যে, আর দিনকে বানিয়েছি দৃশ্যমান। বিশ্বাসীদের জন্যে অবশ্যি এতে রয়েছে নিদর্শন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা কি অনুধাবন করে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করিয়াছি উহাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিবসকে করিয়াছি আলোকপ্রদ? ইহাতে সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে।

Arabic, with marks

أَلَمْ يَرَوْا أَنَّا جَعَلْنَا اللَّيْلَ لِيَسْكُنُوا فِيهِ وَالنَّهَارَ مُبْصِرًا ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিনকে করেছি আলোকময়। নিশ্চয় এতে সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন শিঙ্গায় (প্রথমবার) ফুৎকার দেয়া হবে, সেদিন মহাকাশ ও পৃথিবীর সবাই বিহবল হয়ে পড়বে, তবে যাদের চাইবেন তারা ছাড়া। সবাই বিনীত হয়ে তাঁর কাছে উপস্থিত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যেদিন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে, সেই দিন আকাশমণ্ডলীর ও পৃথিবীর সকলেই ভীত - বিহবল হইয়া পড়িবে, তবে ‌ যাহাদেরকে চাহিবেন তাহারা ব্যতীত এবং সকলেই তাঁহার নিকট আসিবে বিনীত অবস্থায়।

Arabic, with marks

وَيَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ فَفَزِعَ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَن شَاءَ اللَّهُ ۚ وَكُلٌّ أَتَوْهُ دَاخِرِينَ

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, অতঃপর যাদেরকে ইচ্ছা করবেন, তারা ব্যতীত নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যারা আছে, তারা সবাই ভীতবিহ্বল হয়ে পড়বে এবং সকলেই তাঁর কাছে আসবে বিনীত অবস্থায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি পাহাড় পর্বত দেখছো, মনে করছো সেগুলো অটল, অথচ সেদিন সেগুলো মেঘমালার মতোই ধাবিত হবে। এটাই আল্লাহর সৃষ্টি - কৌশল, যিনি প্রতিটি বস্ত্তকে করেছেন সুষম। তোমরা যা করো সে বিষয়ে তিনি খবর রাখেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি পর্বতমালা দেখিতেছ, মনে করিতেছ উহা অচল, অথচ উহারা হইবে মেঘপুঞ্জের ন্যায় সঞ্চরমাণ। ইহা ‌রই সৃষ্টি নৈপুণ্য, যিনি সমস্ত কিছুকে করিয়াছেন সুষম। তোমরা যাহা কর সে সম্বন্ধে তিনি সম্যক অবগত।

Arabic, with marks

وَتَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ ۚ صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ ۚ إِنَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَفْعَلُونَ

মুহিউদ্দীন খান

তুমি পর্বতমালাকে দেখে অচল মনে কর, অথচ সেদিন এগুলো মেঘমালার মত চলমান হবে। এটা আল্লাহর কারিগরী, যিনি সবকিছুকে করেছেন সুসংহত। তোমরা যা কিছু করছ, তিনি তা অবগত আছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে ভালো কাজ নিয়ে আসবে, সে পাবে তার চাইতে উত্তম প্রতিফল। তারা সেদিনকার শংকা থেকে থাকবে মুক্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে কেহ সৎকর্ম লইয়া আসিবে, সে উহা হইতে উৎকৃষ্ট প্রতিফল পাইবে এবং সেই দিন উহারা শংকা হইতে নিরাপদ থাকিবে।

Arabic, with marks

مَن جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ خَيْرٌ مِّنْهَا وَهُم مِّن فَزَعٍ يَوْمَئِذٍ آمِنُونَ

মুহিউদ্দীন খান

যে কেউ সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে উৎকৃষ্টতর প্রতিদান পাবে এবং সেদিন তারা গুরুতর অস্থিরতা থেকে নিরাপদ থাকবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যে মন্দ কাজ নিয়ে আসবে তাকে উপুড় করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে। তোমরা যা করতে তারই প্রতিফল তোমাদের দেয়া হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে কেহ অসৎকর্ম লইয়া আসিবে, তাহাকে অধোমুখে নিক্ষেপ করা হইবে দোযখে এবং উহাদেরকে বলা হইবে, ‘তোমরা যাহা করিতে তাহারই প্রতিফল তোমাদেরকে দেওয়া হইতেছে।’

Arabic, with marks

وَمَن جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَكُبَّتْ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ هَلْ تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

মুহিউদ্দীন খান

এবং যে মন্দ কাজ নিয়ে আসবে, তাকে অগ্নিতে অধঃমূখে নিক্ষেপ করা হবে। তোমরা যা করছিলে, তারই প্রতিফল তোমরা পাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এই নগরীর প্রভুর ইবাদত করতে যিনি এটিকে করেছেন সম্মানিত। সব কিছুই তাঁর। আমাকে আরো আদেশ দেয়া হয়েছে আমি যেনো আত্মসমর্পণকারীদের অন্তরভুক্ত হই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো আদিষ্ট হইয়াছি এই নগরীর প্রভুর ‘ইবাদত করিতে, যিনি ইহাকে করিয়াছেন সম্মানিত। সমস্ত কিছু তাঁহারই। আমি আরও আদিষ্ট হইয়াছি, যেন আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হই।

Arabic, with marks

إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ رَبَّ هَٰذِهِ الْبَلْدَةِ الَّذِي حَرَّمَهَا وَلَهُ كُلُّ شَيْءٍ ۖ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ

মুহিউদ্দীন খান

আমি তো কেবল এই নগরীর প্রভুর এবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি, যিনি একে সম্মানিত করেছেন। এবং সব কিছু তাঁরই। আমি আরও আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি আজ্ঞাবহদের একজন হই।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমি যেনো তিলাওয়াত (অনুসরণ) করি আল কুরআন। অত:পর যে কেউ সঠিক পথে চলবে, সে সঠিক পথে চলবে নিজেরই কল্যাণে। আর যে কেউ ভুল পথ অবলম্বন করবে, তুমি তার ব্যাপারে বলবে: আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি আরও আদিষ্ট হইয়াছি, কুরআন তিলাওয়াত করিতে; অতএব যে ব্যক্তি সৎপথ অনুসরণ করে, সে সৎপথ অনুসরণ করে নিজেরই কল্যাণের জন্য। আর কেহ ভ্রান্তপথ অবলম্বন করিলে তুমি বলিও, ‘আমি তো কেবল সতর্ককারীদের মধ্যে একজন।’

Arabic, with marks

وَأَنْ أَتْلُوَ الْقُرْآنَ ۖ فَمَنِ اهْتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ ۖ وَمَن ضَلَّ فَقُلْ إِنَّمَا أَنَا مِنَ الْمُنذِرِينَ

মুহিউদ্দীন খান

এবং যেন আমি কোরআন পাঠ করে শোনাই। পর যে ব্যক্তি সৎপথে চলে, সে নিজের কল্যাণার্থেই সৎপথে চলে এবং কেউ পথভ্রষ্ট হলে আপনি বলে দিন, আমি তো কেবল একজন ভীতি প্রদর্শনকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: আল হামদুলিল্লাহ! তিনি শীঘ্রি তোমাদের দেখাবেন তাঁর নিদর্শনসমূহ, তখন তোমরা তা বুঝতে পারবে। তোমরা যা আমল করছো সে ব্যাপারে তোমার প্রভু গাফিল নন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর বল, ‘সকল প্রশংসা ‌রই, তিনি তোমাদেরকে সত্বর দেখাইবেন তাঁহার নিদর্শন; তখন তোমরা উহা বুঝিতে পারিবে।’ তোমরা যাহা কর সে সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালক গাফিল নন।

Arabic, with marks

وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ سَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ فَتَعْرِفُونَهَا ۚ وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ

মুহিউদ্দীন খান

এবং আরও বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। সত্বরই তিনি তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমাদেরকে দেখাবেন। তখন তোমরা তা চিনতে পারবে। এবং তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আপনার পালনকর্তা গাফেল নন।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme