You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
মুহাম্মদ
Chapter 47, 38 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মুহিউদ্দীন খান
জহুরুল হক
About this chapter
মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৩৮, রুকু সংখ্যা: ০৪
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-১১কাফিররা আল্লাহর পথে বাধাদান করে, তাই তাদের সব কর্মকান্ড ব্যর্থ হয়ে যাবে। মুহাম্মদ সা. এর উপর অবতীর্ণ কিতাবের প্রতি যারা ঈমান আনে, আল্লাহ্ তাদের সাহায্য করবেন, কারণ তিনি তাদের মাওলা। কাফিরদের কোনো মাওলা নেই।
১২-১৯মুমিনদের প্রাপ্য জান্নাত আর কাফিরদের প্রাপ্য জাহান্নামের তুলনা। যারা হিদায়াতের পথে চলে আল্লাহ্ তাদের হিদায়াত ও তাকওয়া বাড়িয়ে দেন। নবীকে তাঁর ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ।
২০-৩০মুনাফিক ও দুর্বল মুমিনদের অবস্থার বিবরণ। দুর্বলতার কারণ কুরআন অনুধাবন না করা। যারা ঈমানের দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করে, মৃত্যুকালে তাদের পেটানো হয়।
৩১-৩৮আল্লাহ্ মুমিনদের পরীক্ষা করেন খাঁটি মুজাহিদদের বাছাই করার জন্য। কুফুরির উপর মৃত্যুবরণকারীদের আল্লাহ্ কখনো ক্ষমা করবেন না। আল্লাহর পথে ব্যয়ে কৃপণতা করা মুমিনের কাজ নয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা কুফুরির পথ ধরেছে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করছে, তিনি ব্যর্থ করে দিয়েছেন তাদের সমস্ত কর্মকান্ড।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহারা করে এবং অপরকে র পথ হইতে নিবৃত্ত করে তিনি তাহাদের কর্ম ব্যর্থ করিয়া দেন।
মুহিউদ্দীন খান
যারা করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাদের সকল কর্ম ব্যর্থ করে দেন।
জহুরুল হক
যারা অবিশ্বাস পোষণ করে এবং র পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে, তিনি তাদের ক্রিয়াকলাপ ব্যর্থ করে দেবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে আর মুহাম্মদের প্রতি যা (যে কিতাব) নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি ঈমান এনেছে, আর তা তো তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে মহাসত্য, তিনি তাদের থেকে দূরীভূত করে দেবেন তাদের মন্দ আমলগুলো এবং সংশোধন করে দেবেন তাদের অবস্থা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং মুহাম্মাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাতে বিশ্বাস করে, আর উহাই তাহাদের প্রতিপালক হইতে প্রেরিত সত্য, তিনি তাহাদের মন্দ কর্মগুলি বিদূরিত করিবেন এবং তাহাদের অবস্থা ভাল করিবেন।
মুহিউদ্দীন খান
আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে মুহাম্মদের প্রতি অবতীর্ণ সত্যে বিশ্বাস করে, তাদের মন্দ কর্মসমূহ মার্জনা করেন এবং তাদের অবস্থা ভাল করে দেন।
জহুরুল হক
আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে, আর বিশ্বাস করছে তাতে যা মুহাম্মদের কাছে অবতীর্ণ হয়েছে - - আর সেটিই হচ্ছে তাদের প্রভুর কাছ থেকে আগত মহাসত্য - - তিনি তাদের মন্দ কার্যাবলী তাদের থেকে দূর করে দেবেন, আর ভাল করে দেবেন তাদের অবস্থা।
আবদুস শহীদ নাসিম
এর কারণ হলো, যারা কুফুরি করে তারা অনুসরণ করে মিথ্যা - বাতিলের। আর যারা ঈমান আনে তারা ইত্তেবা (অনুসরণ) করে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ মহাসত্যের। এভাবেই দৃষ্টান্ত দিয়ে থাকেন মানুষের জন্যে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইহা এইজন্য যে, যাহারা করে তাহারা মিথ্যার অনুসরণ করে এবং যাহারা ঈমান আনে তাহারা তাহাদের প্রতিপালক - প্রেরিত সত্যের অনুসরণ করে। এইভাবে মানুষের জন্য তাহাদের দৃষ্টান্ত প্রদান করেন।
মুহিউদ্দীন খান
এটা এ কারণে যে, যারা , তারা বাতিলের অনুসরণ করে এবং যারা , তারা তাদের পালনকর্তার নিকট থেকে আগত সত্যের অনুসরণ করে। এমনিভাবে মানুষের জন্যে তাদের দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন।
জহুরুল হক
এইটিই, কেননা নিঃসন্দেহ যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা মিথ্যার অনুসরণ করে, আর যেহেতু যারা ঈমান এনেছে তারা তাদের প্রভুর কাছ থেকে আসা সত্যের অনুগমন করে। এইভাবে লোকেদের জন্য তাদের দৃষ্টান্তগুলো স্থাপন করেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যখন যুদ্ধে কাফিরদের মোকাবেলা করবে, তখন তাদের গর্দানে আঘাত করবে এবং তাদেরকে কচু কাটা করে ছাড়বে। অবশেষে যখন তোমরা তাদের পরাস্ত করবে, তখন তাদের কষে বাঁধবে। তারপর হয় দয়া, নয়তো মুক্তিপণ। তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, যতোক্ষণ না যুদ্ধ তার অস্ত্র নামিয়ে ফেলে। এটাই নিয়ম। ইচ্ছা করলে তাদের শাস্তি দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি চান তোমাদের একের দ্বারা অন্যকে পরীক্ষা করতে। আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তিনি কখনো তাদের আমল বিনষ্ট করেন না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতএব যখন তোমরা কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধে মুকাবিলা কর তখন তাহাদের গর্দানে আঘাত কর, পরিশেষে যখন তোমরা উহাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পরাভূত করিবে তখন উহাদেরকে কষিয়া বাঁধিবে ; অতঃপর হয় অনুকম্পা, নয় মুক্তিপণ। তোমরা জিহাদ চালাইবে যতক্ষণ না যুদ্ধ ইহার অস্ত্র নামাইয়া ফেলে। ইহাই বিধান। ইহা এইজন্য যে, ইচ্ছা করিলে উহাদেরকে শাস্তি দিতে পারিতেন, কিন্তু তিনি চাহেন তোমাদের একজনকে অপরের দ্বারা পরীক্ষা করিতে। যাহারা র পথে নিহত হয় তিনি কখনও তাহাদের র্কম বিনষ্ট হইতে দেন না।
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর যখন তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের গর্দার মার, অবশেষে যখন তাদেরকে পূর্ণরূপে পরাভূত কর তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে ফেল। অতঃপর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, না হয় তাদের নিকট হতে মুক্তিপণ লও। তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে যে পর্যন্ত না শত্রুপক্ষ অস্ত্র সমর্পণ করবে! একথা শুনলে। ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান। যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, কখনই তাদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না।
জহুরুল হক
সেজন্য যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের সাথে যখন তোমরা মোকাবিলা কর তখন গর্দান মারা, পরিশেষে যখন তোমরা তাদের পরাজিত করবে তখন মজবুত করে বাঁধবে, তখন এরপরে হয় সদয়ভাবে মুক্তিদান, না হয় মুক্তিপণ গ্রহণ - - যতক্ষণ না যুদ্ধ তার অস্ত্রভার নামিয়ে দেয়, এমনটাই। আর যদি চাইতেন তাহলে তিনিই তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারতেন, কিন্ত এইজন্য যে তোমাদের কারোকে যেন অপরের দ্বারা তিনি সুনিয়ন্ত্রিত করতে পারেন। আর যাদের র পথে শহীদ করা হয় তাদের ক্রিয়াকর্মকে তিনি কখনো লক্ষ্যহারা হতে দেবেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং সংশোধন করে দেন তাদের অবস্থা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তিনি তাহাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তাহাদের অবস্থা ভাল করিয়া দেন।
মুহিউদ্দীন খান
তিনি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করবেন এবং তাদের অবস্থা ভাল করবেন।
জহুরুল হক
তিনি তাদের পথপ্রদর্শন করবেন এবং তাদের অবস্থা ভালো করবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি তাদের দাখিল করবেন জান্নাতে, যার পরিচয় তিনি তাদের জানিয়ে দিয়েছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তিনি তাহাদেরকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার কথা তিনি তাহাদেরকে জানাইয়াছিলেন।
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যা তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন।
জহুরুল হক
আর তাদের প্রবেশ করাবেন স্বর্গোদ্যানসমূহে, তিনি তাদের কাছে এটি পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো, তিনিও সাহায্য করবেন তোমাদের, এবং অটল অবিচল রাখবেন তোমাদের কদম।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে মু’মিনগণ ! যদি তোমরা কে সাহায্য কর, তোমাদেরকে সাহায্য করিবেন এবং তোমাদের অবস্থান দৃঢ় করিবেন।
মুহিউদ্দীন খান
হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করবেন।
জহুরুল হক
ওহে যারা ঈমান এনেছ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর তবে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন, আর তিনি তোমাদের পদক্ষেপ সুদৃঢ় করবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর যারা কুফুরি করেছে তাদের জন্যে রয়েছে দুর্দশা এবং তিনি ব্যর্থ করে দেবেন তাদের সমস্ত কর্মকান্ড।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহারা করিয়াছে তাহাদের জন্য রহিয়াছে দুর্ভোগ এবং তিনি তাহাদের কর্ম ব্যর্থ করিয়া দিবেন।
মুহিউদ্দীন খান
আর যারা , তাদের জন্যে আছে দুর্গতি এবং তিনি তাদের কর্ম বিনষ্ট করে দিবেন।
জহুরুল হক
আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের জন্য দুর্ভোগ রয়েছে, আর তাদের ক্রিয়া - কলাপকে তিনি ব্যর্থ করে দেবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
এর কারণ, যা (যে বিধান) অবতীর্ণ করেছেন তা তারা অপছন্দ করে, ফলে তিনি নিষ্ফল করে দেবেন তাদের সমস্ত আমল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইহা এইজন্য যে, যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন উহারা তাহা অপসন্দ করে। সুতরাং উহাদের কর্ম নিষ্ফল করিয়া দিবেন।
মুহিউদ্দীন খান
এটা এজন্যে যে, যা নাযিল করেছেন, তারা তা পছন্দ করে না। অতএব, তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দিবেন।
জহুরুল হক
এমনটাই, কেননা যা অবতারণ করেছেন তারা তা বিতৃষ্ণার সাথে প্রত্যাখ্যান করে, কাজেই তিনি তাদের ক্রিয়াকলাপ নিষ্ফল করে দিয়েছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে দেখতে পায়না, তাদের আগেকার (প্রত্যাখ্যানকারীদের) কী পরিণতি হয়েছিল? তাদের ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। আর এই কাফিরদের জন্যেও রয়েছে একই পরিণাম।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা কি পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে নাই এবং দেখে নাই উহাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হইয়াছে? উহাদেরকে ধ্বংস করিয়াছেন এবং কাফিরদের জন্য রহিয়াছে অনুরূপ পরিণাম।
মুহিউদ্দীন খান
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি অতঃপর দেখেনি যে, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছে? তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন এবং কাফেরদের অবস্থা এরূপই হবে।
জহুরুল হক
তারা কি তবে পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে নি? তাহলে তারা দেখতে পেত কেমন হয়েছিল তাদের পরিণাম যারা এদের আগে ছিল। তাদের ঘায়েল করেছিলেন, আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে এর অনুরূপ।
আবদুস শহীদ নাসিম
এর কারণ, মুমিনদের মাওলা (অভিভাবক), আর কাফিরদের কোনো মাওলা নেই।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইহা এইজন্য যে, তো মু’মিনদের অভিভাবক এবং কাফিরদের তো কোন অভিভাবকই নাই।
মুহিউদ্দীন খান
এটা এজন্যে যে, মুমিনদের হিতৈষী বন্ধু এবং কাফেরদের কোন হিতৈষী বন্ধু নাই।
জহুরুল হক
এমনটাই, কেননা যারা ঈমান এনেছে তাদের অভিভাবক নিশ্চয়ই , আর অবিশ্বাসীদের ক্ষেত্রে তো - - তাদের জন্য কোনো মুরব্বী নেই।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে তাদের দাখিল করবেন জান্নাতে, যার নিচে দিয়ে জারি থাকবে নদ - নদী - নহর। আর যারা কুফুরি করেছে, তারা মত্ত আছে ভোগ - বিলাসে এবং খায় জানোয়ারের মতো। জাহান্নামই হবে তাদের আবাস।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহাদেরকে দাখিল করিবেন জান্নাতে যাহার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত; কিন্তু যাহারা করে উহারা ভোগ - বিলাসে মত্ত থাকে এবং জন্তু - জানোয়ারের মত উদর পূর্তি করে; আর জাহান্নামই উহাদের নিবাস।
মুহিউদ্দীন খান
যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার নিম্নদেশে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। আর যারা , তারা ভোগ - বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুস্পদ জন্তুর মত আহার করে। তাদের বাসস্থান জাহান্নাম।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজে করছে তাদের প্রবেশ করাবেন স্বর্গোউদ্যানসমূহে যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলছে ঝরনারাজি। আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা ভোগ - বিলাস করে ও খায়দায় যেমন জন্তু জানোয়াররা খেয়ে থাকে, আর আগুনই তাদের আবাসস্থল।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাকে যে জনপদ থেকে তারা বের করে দিয়েছে তার চাইতে অনেক বেশি শক্তিধর কতো যে জনপদ ছিলো, আমরা তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি, তাদের কোনো সাহায্যকারী ছিলনা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা তোমার যে জনপদ হইতে তোমাকে বিতাড়িত করিয়াছে তাহা অপেক্ষা অতি শক্তিশালী কত জনপদ ছিল; আমি উহাদেরকে ধ্বংস করিয়াছি এবং উহাদের সাহায্যকারী কেহ ছিল না।
মুহিউদ্দীন খান
যে জনপদ আপনাকে বহিস্কার করেছে, তদপেক্ষা কত শক্তিশালী জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি, অতঃপর তাদেরকে সাহায্য করার কেউ ছিল না।
জহুরুল হক
আর জনপদগুলোর কতটা যে - - যা ছিল আরো বেশি শক্তিশালী তোমার জনবসতির চাইতে যেটি তোমাকে বহিস্কার করেছে - - আমরা তাদের ধ্বংস করে দিয়েছিলাম, আর তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী ছিল না।
আবদুস শহীদ নাসিম
যে ব্যক্তি তার প্রভুর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত, সে কি ঐসব ব্যক্তির সমতুল্য, যাদের কাছে নিজেদের মন্দ কর্মকান্ড মনে হয় চমৎকার এবং যারা দৌড়ায় নিজেদের কামনা - বাসনার পেছনে?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যে ব্যক্তি তাহার প্রতিপালক - প্রেরিত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত, সে কি তাহার ন্যায়, যাহার নিকট নিজের মন্দ কর্মগুলি শোভন প্রতীয়মান হয় এবং যাহারা নিজ খেয়াল - খুশির অনুসরণ করে?
মুহিউদ্দীন খান
যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত নিদর্শন অনুসরণ করে, সে কি তার সমান, যার কাছে তার মন্দ কর্ম শোভনীয় করা হয়েছে এবং যে তার খেয়াল - খুশীর অনুসরণ করে।
জহুরুল হক
যে তার প্রভুর কাছ থেকে এক স্পষ্ট প্রমাণের উপরে রয়েছে সে কি তবে তার মতো যার কাছে তার মন্দ কার্যকলাপকে চিত্তাকর্ষক করা হয়েছে? ফলে তারা নিজেদের কামনা - বাসনারই অনুসরণ করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুত্তাকিদের যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হলো, তাতে রয়েছে অনাবিল পানির নদ - নদী - নহর। রয়েছে দুধের নহর, যার স্বাদ কখনো পরিবর্তন হয়না। রয়েছে সুরা পায়ীদের জন্যে সুস্বাদু সুরার নহর। রয়েছে পরিশোধিত মধুর নহর। তাছাড়া সেখানে তাদের জন্যে থাকবে সব ধরনের ফলফলারি, থাকবে মাগফিরাত তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে। এরা কি ওদের সমতুল্য, যারা চিরকাল জ্বলতে থাকবে জাহান্নামে, যাদের পান করানো হবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি, যা ছিন্ন ভিন্ন করে দেবে তাদের নাড়িভুড়ি?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে তাহার দৃষ্টান্ত : উহাতে আছে নির্মল পানির নহর, আছে দুধের নহর যাহার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সুরার নহর, আছে পরিশোধিত মধুর নহর এবং সেখানে উহাদের জন্য থাকিবে বিবিধ ফলমূল আর তাহাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে ক্ষমা। মুত্তাকীরা কি তাহাদের ন্যায়, যাহারা জাহান্নামে স্থায়ী হইবে এবং যাহাদেরকে পান করিতে দেওয়া হইবে ফুটন্ত পানি যাহা উহাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন - বিচ্ছিন্ন করিয়া দিবে?
মুহিউদ্দীন খান
পরহেযগারদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপঃ তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফল - মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেযগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেবে?
জহুরুল হক
ধর্মভীরুদের জন্য যে জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছে তার উপমা হচ্ছে - - তাতে রয়েছে ঝরনারাজি এমন পানির যা পরিবর্তিত হয় না, আর দুধের নদীসমূহ যার স্বাদ বদলায় না, আর সুরার স্রোত যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু, আর ছাঁকা মধুর নদীগুলো। আর তাদের জন্য সে - সবে রয়েছে সব রকমের ফলফসল, আর তাদের প্রভুর কাছ থেকে রয়েছে পরিত্রাণ। তার মতো যে আগুনের মধ্যে অবস্থানকারী, অথবা যাদের পান করানো হবে ফুটন্ত পানি, ফলে তাদের নাড়িভুঁড়ি তা ছিড়ে ফেলবে?
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা তোমার কথা শুনে, তারপর তোমার কাছ থেকে বাইরে গিয়ে যাদের জ্ঞান দেয়া হয়েছে তাদের বলে: ‘এইমাত্র সে কী বললো?’ আসলে এরা সেইসব লোক, যাদের অন্তর সীলমোহর করে দিয়েছেন এবং যারা নিজেদের কামনা - বাসনার পেছনে দৌড়ায়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহাদের মধ্যে কতক তোমার কথা শ্রবণ করে, অতঃপর তোমার নিকট হইতে বাহির হইয়া যাহারা জ্ঞানপ্রাপ্ত তাহাদেরকে বলে, ‘এইমাত্র সে কী বলিল?’ ইহাদের অন্তর মোহর করিয়া দিয়াছেন এবং উহারা নিজেদের খেয়াল - খুশিরই অনুসরণ করে।
মুহিউদ্দীন খান
তাদের মধ্যে কতক আপনার দিকে কান পাতে, অতঃপর যখন আপনার কাছ থেকে বাইরে যায়, তখন যারা শিক্ষিত, তাদেরকে বলেঃ এইমাত্র তিনি কি বললেন ? এদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তারা নিজেদের খেয়াল - খুশীর অনুসরণ করে।
জহুরুল হক
আর তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা তোমার কথা শোনে, তারপর তারা যখন তোমার কাছ থেকে বেরিয়ে যায় তখন যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তাদের বলে, ''সে এইমাত্র কী বললে!’’ এরাই তারা যাদের হৃদয়ের উপরে মোহর মেরে দিয়েছেন, আর তারা নিজেদের খেয়ালখুশিরই অনুসরণ করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা হিদায়াতের পথ অবলম্বন করে, তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দেন এবং তাদের দান করেন তাদের তাকওয়া।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহারা সৎপথ অবলম্বন করে তাহাদের সৎপথে চলিবার শক্তি বৃদ্ধি করেন এবং তাহাদেরকে হইবার শক্তি দান করেন।
মুহিউদ্দীন খান
যারা সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে, তাদের সৎপথপ্রাপ্তি আরও বেড়ে যায় এবং তাদেরকে তাকওয়া দান করেন।
জহুরুল হক
আর যারা সৎপথে চলে, তিনি তাদের জন্য পথ প্রদর্শন করা বাড়িয়ে দেন, আর তাদের প্রদান করেন তাদের ধর্মনিষ্ঠা।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি এ জন্যে অপেক্ষা করছে যে, আকস্মিক কিয়ামত তাদের উপর এসে পড়ুক? জেনে রাখো, কিয়ামতের লক্ষণ তো দেখা দিয়েছে। কিয়ামত এসে পড়লে কেমন করে গ্রহণ করবে তারা উপদেশ?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা কি কেবল এইজন্য অপেক্ষা করিতেছে যে, কিয়ামত উহাদের নিকট আসিয়া পড়ুক আকস্মিকভাবে? কিয়ামতের লক্ষণসমূহ তো আসিয়াই পড়িয়াছে। কিয়ামত আসিয়া পড়িলে উহারা উপদেশ গ্রহণ করিবে কেমন করিয়া!
মুহিউদ্দীন খান
তারা শুধু এই অপেক্ষাই করছে যে, কেয়ামত অকস্মাৎ তাদের কাছে এসে পড়ুক। বস্তুতঃ কেয়ামতের লক্ষণসমূহ তো এসেই পড়েছে। সুতরাং কেয়ামত এসে পড়লে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কেমন করে ?
জহুরুল হক
তারা কি তবে তাকিয়ে রয়েছে শুধু ঘড়ির জন্য যাতে এটি তাদের উপরে এসে পড়ে অতর্কিতভাবে? তবে তো এর লক্ষণগুলো এসেই পড়েছে। সুতরাং কেমন হবে তাদের ব্যাপার যখন তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে?
আবদুস শহীদ নাসিম
জেনে রাখো, ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। সুতরাং তুমি ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমার এবং পুরুষ ও নারীদের ত্রুটির জন্যে। জানেন তোমাদের সব গতিবিধি এবং অবস্থান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সুতরাং জানিয়া রাখ, ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই, ক্ষমা প্রার্থনা কর তোমার এবং নর - নারীদের ত্রুটির জন্য। তোমাদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন।
মুহিউদ্দীন খান
জেনে রাখুন, ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। ক্ষমাপ্রার্থনা করুন, আপনার ক্রটির জন্যে এবং পুরুষ ও নারীদের জন্যে। , তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞাত।
জহুরুল হক
অতএব তুমি জেনে রাখ যে ব্যতীত অন্য উপাস্য নেই, আর তোমার ভুল - ভ্রান্তির জন্যে তুমি পরিত্রাণ খোঁজো, আর পুরুষ ও নারীদের জন্যেও। আর জানেন তোমাদের গতিবিধি এবং তোমাদের অবস্থান।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুমিনরা বলে: ‘এমন একটি সূরা নাযিল হয়না কেন (যাতে যুদ্ধের নির্দেশ থাকবে?)’ তারপর যখন কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তকর সূরা নাযিল হয়, যাতে যুদ্ধের নির্দেশ থাকে, তখন তুমি দেখবে, যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা মরণের ভয়ে হতভম্ব মানুষের মতো তোমার দিকে তাকাচ্ছে। তাদের জন্যে উত্তম হতো
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মু’মিনরা বলে, ‘একটি সূরা অবতীর্ণ হয় না কেন?’ অতঃপর যদি দ্ব্যর্থহীন কোন সূরা অবতীর্ণ হয় এবং উহাতে যুদ্ধের কোন নির্দেশ থাকে তুমি দেখিবে যাহাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তাহারা মৃত্যুভয়ে বিহ্বল মানুষের মত তোমার দিকে তাকাইতেছে। শোচনীয় পরিণাম উহাদের।
মুহিউদ্দীন খান
যারা , তারা বলেঃ একটি সূরা নাযিল হয় না কেন? অতঃপর যখন কোন দ্ব্যর্থহীন সূরা নাযিল হয় এবং তাতে জেহাদের উল্লেখ করা হয়, তখন যাদের অন্তরে রোগ আছে, আপনি তাদেরকে মৃত্যুভয়ে মূর্ছাপ্রাপ্ত মানুষের মত আপনার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখবেন। সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্যে।
জহুরুল হক
আর যারা ঈমান এনেছে তারা বলে - - ''একটি সূরা কেন অবতীর্ণ হয় না?’’ কিন্ত যখন একটি সিদ্ধান্তমূলক সূরা অবতীর্ণ হয় আর তাতে যুদ্ধের উল্লেখ থাকে তখন যাদের হৃদয়ে ব্যাধি রয়েছে তাদের তুমি দেখতে পাবে তোমার দিকে তাকাচ্ছে মৃত্যুর কারণে মুর্চ্ছিত লোকের দৃষ্টির ন্যায়। সুতরাং ধিক্ তাদের জন্য!
আবদুস শহীদ নাসিম
আনুগত্য করা এবং পজেটিভ কথা বলা। সুতরাং সিদ্ধান্ত যখন চূড়ান্ত হয়, তখন যদি তারা আল্লাহকে দেয়া অংগীকার পূর্ণ করতো, সেটাই হতো তাদের জন্যে কল্যাণকর।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আনুগত্য ও ন্যায়সংগত বাক্য উহাদের জন্য উত্তম ছিল; সুতরাং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হইল, যদি উহারা র প্রতি পদত্ত অঙ্গীকার পূরণ করিত, তবে তাহাদের জন্য ইহা অবশ্যই মঙ্গলজনক হইত।
মুহিউদ্দীন খান
তাদের আনুগত্য ও মিষ্ট বাক্য আছে। অতএব, জেহাদের সিন্ধান্ত হলে যদি তারা আল্লাহর প্রতি পদত্ত অংগীকার পূর্ণ করে, তবে তাদের জন্যে তা মঙ্গলজনক হবে।
জহুরুল হক
আনুগত্য ও সদয়বাক্য! অতএব যখন ব্যাপারটি সন্বন্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে যায় তখন তারা যদি র প্রতি সত্যনিষ্ঠ থাকে তাহলে সেটিই তো তাদের জন্য মঙ্গলজনক।
আবদুস শহীদ নাসিম
তবে কি তোমরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হইলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করিবে।
মুহিউদ্দীন খান
ক্ষমতা লাভ করলে, সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং আত্নীয়তা বন্ধন ছিন্ন করবে।
জহুরুল হক
কিন্ত যদি তোমাদের শাসনভার দেওয়া যায় তাহলে তোমাদের থেকে তো আশা করা যাবে যে তোমরা অবশ্যই দেশে ফসাদ সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের রক্ত - সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
এরা হলো সেইসব লোক, যাদের প্রতি লানত করেন এবং যাদের বধির ও দৃষ্টিহীন করে দেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইহাদেরকেই লা’নত করেন আর করেন বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীণ।
মুহিউদ্দীন খান
এদের প্রতিই অভিসম্পাত করেন, অতঃপর তাদেরকে বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন।
জহুরুল হক
এরাই তারা যাদের প্রতি ধিক্কার দিয়েছেন, ফলে তিনি তাদের বধির বানিয়েছেন এবং তাদের দৃষ্টি অন্ধ করে দিয়েছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা - গবেষণা করে না? নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তবে কি উহারা কুরআন সম্বন্ধে অভিনিবেশ সহকারে চিন্তা করে না? না উহাদের অন্তর তালাবদ্ধ?
মুহিউদ্দীন খান
তারা কি কোরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?
জহুরুল হক
কি! তারা কি তবে কুরআন সন্বন্ধে ভাববে না, না কি হৃদয়ের উপরে সেগুলোর তালা দেয়া রয়েছে?
আবদুস শহীদ নাসিম
হিদায়াত সুস্পষ্ট হবার পর যারা তা পরিত্যাগ করে, শয়তান তাদের মন্দ কাজসমূহকে তাদের কাছে শোভনীয় করে তুলে ধরে এবং তাদের মিথ্যা আশা দেয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহারা নিজেদের নিকট সৎপথ ব্যক্ত হইবার পর উহা পরিত্যাগ করে, শয়তান উহাদের কাজকে শোভন করিয়া দেখায় এবং উহাদেরকে মিথ্যা আশা দেয়।
মুহিউদ্দীন খান
নিশ্চয় যারা সোজা পথ ব্যক্ত হওয়ার পর তৎপ্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে, শয়তান তাদের জন্যে তাদের কাজকে সুন্দর করে দেখায় এবং তাদেরকে মিথ্যা আশা দেয়।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ যারা তাদের পিঠ ফিরিয়ে ঘুরে যায় তাদের কাছে সৎপথ সুস্পষ্ট হবার পরেও, শয়তান তাদের জন্য হাল্কা করে দিয়েছে এবং তাদের জন্য সুদীর্ঘ করেছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
এর কারণ, যা নাযিল করেছেন সেটা তারা অপছন্দ করে এবং তারা বলে: ‘আমরা কোনো কোনো বিষয় মেনে নেবো।’ তাদের গোপন অভিসন্ধি অবগত আছেন।
এটা এজন্য যে, তারা তাদেরকে বলে, যারা আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব অপছন্দ করেঃ আমরা কোন কোন ব্যাপারে তোমাদের কথা মান্য করব। তাদের গোপন পরামর্শ অবগত আছেন।
জহুরুল হক
এইটাই! কেননা যা অবতারণ করেছেন তাতে যারা ঘৃণা করে তাদের কাছে তারা বলে, ''আমরা তোমাদের মেনে চলব কোনো - কোনো ব্যাপারে।’’ আর জানেন তাদের গোপনীয়তা।
আবদুস শহীদ নাসিম
তখন কেমন হবে, যখন ফেরেশতারা তাদের ওফাত ঘটাতে এসে মুখমন্ডল আর পিঠে কষাঘাত করতে থাকবে?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ফিরিশ্তারা যখন উহাদের মুখমণ্ডলে ও পৃষ্ঠদেশে আঘাত করিতে করিতে প্রাণ হরণ করিবে, তখন উহাদের দশা কেমন হইবে।
মুহিউদ্দীন খান
ফেরেশতা যখন তাদের মুখমন্ডল ও পৃষ্ঠদেশে আঘাত করতে করতে প্রাণ হরণ করবে, তখন তাদের অবস্থা কেমন হবে?
জহুরুল হক
কিন্ত কেমন হবে যখন ফিরিশ্তারা তাদের মুখে ও তাদের পিঠে আঘাত হানতে হানতে তাদের মৃত্যু ঘটাবে?
আবদুস শহীদ নাসিম
এর কারণ, তারা (সারাজীবন) সেই জিনিসের পেছনেই ছুটেছে যা আল্লাহকে করেছে অসন্তুষ্ট এবং তারা অপছন্দ করেছে সেই পথ যাতে হতেন সন্তুষ্ট। ফলে তিনি নিষ্ফল করে দিয়েছেন তাদের সমস্ত কৃতকর্ম।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইহা এইজন্য যে, উহারা তাহার অনুসরণ করে, যাহা র অসন্তোষ জন্মায় এবং তাঁহার সন্তুষ্টিকে অপ্রিয় গণ্য করে ; তিনি ইহাদের কর্ম নিষ্ফল করিয়া দেন।
মুহিউদ্দীন খান
এটা এজন্যে যে, তারা সেই বিষয়ের অনুসরণ করে, যা আল্লাহর অসন্তোষ সৃষ্টি করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করে। ফলে তিনি তাদের কর্মসমূহ ব্যর্থ করে দেন।
জহুরুল হক
এইটিই! কেননা কে যা অসন্তষ্ট করে তারা তারই অনুসরণ করে আর তাঁর সন্তষ্টিলাভকে তারা অপছন্দ করে, সেজন্য তিনি তাদের ক্রিয়াকলাপ ব্যর্থ করে দেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা কি ধরে নিয়েছে যে, কখনো তাদের মনের বিদ্বেষ প্রকাশ করে দেবেন না?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তাহারা কি মনে করে যে, কখনো উহাদের বিদ্বেষভাব প্রকাশ করিয়া দিবেন না?
মুহিউদ্দীন খান
যাদের অন্তরে রোগ আছে, তারা কি মনে করে যে, তাদের অন্তরের বিদ্বেষ প্রকাশ করে দেবেন না?
জহুরুল হক
অথবা, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা কি ভাবে যে কদাপি তাদের বিদ্বেষভাব প্রকাশ করবেন না?
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা চাইলে তোমাকে তাদের পরিচয় দিয়ে দিতাম, ফলে লক্ষণ দেখলেই তাদের তুমি চিনতে পারতে। তবে তুমি অবশ্যি তাদের কথার ভংগিতে তাদের চিনতে পারবে। তাদের আমল সম্পর্কে অবগত।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আমি ইচ্ছা করিলে তোমাকে উহাদের পরিচয় দিতাম। ফলে তুমি উহাদের লক্ষণ দেখিয়া উহাদেরকে চিনিতে পারিতে, তবে তুমি অবশ্যই কথার ভংগিতে উহাদেরকে চিনিতে পারিবে। তোমাদের র্কম সম্পর্কে অবগত।
মুহিউদ্দীন খান
আমি ইচ্ছা করলে আপনাকে তাদের সাথে পরিচিত করে দিতাম। তখন আপনি তাদের চেহারা দেখে তাদেরকে চিনতে পারতেন এবং আপনি অবশ্যই কথার ভঙ্গিতে তাদেরকে চিনতে পারবেন। তোমাদের কর্মসমূহের খবর রাখেন।
জহুরুল হক
আর আমরা যদি চাইতাম তবে আমরা নিশ্চয়ই তোমাকে তাদের দেখাতাম, তখন তুমি আলবৎ তাদের চিনতে পারতে তাদের চেহারার দ্বারা। আর তুমি তো অবশ্যই তাদের চিনতে পারবে তাদের কথার ধরনে। আর জানেন তোমাদের কাজকর্ম।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা অবশ্যি তোমাদের পরীক্ষা করবো, যতোদিন না আমরা (বাস্তবে) জেনে নেবো তোমাদের মধ্যকার (প্রকৃত) মুজাহিদ ও সবর (দৃঢ়তা) অবলম্বনকারীদের। এ জন্যে আমরা তোমাদের অবস্থা পরীক্ষা করি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করিব, যতক্ষণ না আমি জানিয়া লই তোমাদের মধ্যে জিহাদকারী ও ধৈর্যশীলদেরকে এবং আমি তোমাদের ব্যাপারে পরীক্ষা করি।
মুহিউদ্দীন খান
আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যে পর্যন্ত না ফুটিয়ে তুলি তোমাদের জেহাদকারীদেরকে এবং সবরকারীদেরকে এবং যতক্ষণ না আমি তোমাদের অবস্থান সমূহ যাচাই করি।
জহুরুল হক
আর আমরা নিশ্চয়ই তোমাদের যাচাই করব যতক্ষণ না আমরা জানতে পারি তোমাদের মধ্যের কঠোর সংগ্রামশীলদের ও অধ্যবসায়ীদের, আর তোমাদের খবর আমরা পরীক্ষা করেছি।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা কুফুরি করে, মানুষকে আল্লাহর পথে আসতে বাধা দেয় এবং নিজেদের কাছে সঠিক পথ সুস্পষ্ট হবার পরও রসূলের বিরোধিতা করে, তারা কখনো আল্লাহর ক্ষতি করতে পারবে না। তিনি অচিরেই ধ্বংস করে দেবেন তাদের সমস্ত আমল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহারা করে এবং মানুষকে র পথ হইতে নিবৃত্ত করে এবং নিজেদের নিকট পথের দিশা ব্যক্ত হইবার পর রাসূলের বিরোধিতা করে, উহারা র কোনই ক্ষতি করিতে পারিবে না। তিনি তো তাহাদের কর্ম ব্যর্থ করিবেন।
মুহিউদ্দীন খান
নিশ্চয় যারা এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে এবং নিজেদের জন্যে সৎপথ ব্যক্ত হওয়ার পর রসূলের (সঃ) বিরোধিতা করে, তারা আল্লাহর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না এবং তিনি ব্যর্থ করে দিবেন তাদের কর্মসমূহকে।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ যারা অবিশ্বাস পোষণ করে ও র পথ থেকে সরিয়ে রাখে এবং রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের কাছে সৎপথ সুস্পষ্ট হবার পরেও, তারা কখনো র কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আর অচিরেই তিনি তাদের ক্রিয়াকলাপ নিষ্ফল করে দেবেন।
হে মু’মিনগণ ! তোমরা র আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর, আর তোমাদের কর্ম বিনষ্ট করিও না।
মুহিউদ্দীন খান
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রসূলের (সাঃ) আনুগত্য কর এবং নিজেদের কর্ম বিনষ্ট করো না।
জহুরুল হক
ওহে যারা ঈমান এনেছ! কে মেনে চলো ও রসূলের আজ্ঞা পালন করো, আর তোমাদের ক্রিয়াকর্ম বিফল করো না।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা কুফুরি করে এবং মানুষকে আল্লাহর পথে আসতে বাধা দেয়, তারপর অবস্থায় মারা যায়, তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহারা করে ও র পথ হইতে মানুষকে নিবৃত্ত করে, অতঃপর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, কখনই তাহাদেরকে ক্ষমা করিবেন না।
মুহিউদ্দীন খান
নিশ্চয় যারা এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে, অতঃপর অবস্থায় মারা যায়, কখনই তাদেরকে ক্ষমা করবেন না।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ যারা অবিশ্বাস পোষণ করে ও র পথ থেকে সরিয়ে রাখে, তারপর মারা যায় অথচ তারা অবিশ্বাসী থাকে, সে - ক্ষেত্রে কখনো তাদের পরিত্রাণ করবেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা ভয় পেয়োনা এবং সন্ধির প্রস্তাব করোনা, তোমরাই উপরে থাকবে। তোমাদের সাথে আছেন। তিনি কখনো তোমাদের আমল বিনষ্ট করবেন না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সুতরাং তোমরা হীনবল হইও না এবং সন্ধির প্রস্তাব করিও না, তোমরাই প্রবল; তোমাদের সঙ্গে আছেন, তিনি তোমাদের কর্মফল কখনও ক্ষুণ্ন করিবেন না।
মুহিউদ্দীন খান
অতএব, তোমরা হীনবল হয়ো না এবং সন্ধির আহবান জানিও না, তোমরাই হবে প্রবল। আল্লাহই তোমাদের সাথে আছেন। তিনি কখনও তোমাদের কর্ম হ্রাস করবেন না।
জহুরুল হক
অতএব তোমরা ঢিলেমি করো না এবং শান্তির প্রতি আহ্বান করো, আর তোমরাই তো উপরহাত হবে, আর তোমাদের সঙ্গে রয়েছেন, আর তিনি কখনো তোমাদের কার্যাবলী তোমাদের জন্য ব্যাহত করবেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
দুনিয়ার জীবনটা তো একটা খেল তামাশা। তোমরা যদি ঈমান আনো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তাহলে তোমাদের পুরস্কার দেবেন। তিনি তোমাদের থেকে তোমাদের মাল - সম্পদ চান না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পার্থিব জীবন তো কেবল ক্রীড়া - কৌতুক, যদি তোমরা ঈমান আন, তাকওয়া অবলম্বন কর, তোমাদেরকে তোমাদের পুরষ্কার দিবেন এবং তিনি তোমাদের ধন - সম্পদ চান না।
মুহিউদ্দীন খান
পার্থিব জীবন তো কেবল খেলাধুলা, যদি তোমরা হও এবং সংযম অবলম্বন কর, তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিদান দেবেন এবং তিনি তোমাদের ধন - সম্পদ চাইবেন না।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ এই দুনিয়ার জীবন শুধু খেলাধূলা ও আমোদ - প্রমোদ। আর যদি তোমরা ঈমান আনো ও ধর্মভীরুতা অবলন্বন কর তবে তিনি তোমাদের প্রদান করবেন তোমাদের পুরস্কার, আর তিনি তোমাদের থেকে তোমাদের ধনসম্পদ চাইবেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি যদি তোমাদের মাল - সম্পদ চাইতেন এবং সেজন্যে তোমাদের চাপ দিতেন, তাহলে তোমরা বখিলি করতে। তখন তিনি তোমাদের বিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ করে দিতেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমাদের নিকট হইতে তিনি তাহা চাহিলে ও তজ্জন্য তোমাদের উপর চাপ দিলে তোমরা তো কার্পণ্য করিবে এবং তখন তিনি তোমাদের বিদ্বেষভাব প্রকাশ করিয়া দিবেন।
মুহিউদ্দীন খান
তিনি তোমাদের কাছে ধন - সম্পদ চাইলে অতঃপর তোমাদেরকে অতিষ্ঠ করলে তোমরা কার্পণ্য করবে এবং তিনি তোমাদের মনের সংকীর্ণতা প্রকাশ করে দেবেন।
জহুরুল হক
যদি তিনি তোমাদের কাছ থেকে তা চাইতেন এবং তোমাদের চাপ দিতেন, তাহলে তোমরা কার্পণ্য করবে, আর তিনি প্রকাশ করে দিচ্ছেন তোমাদের বিদ্বেষ।
আবদুস শহীদ নাসিম
হাঁ, তোমরাই তো তারা, যাদের আল্লাহর পথে ব্যয় করতে ডাকা হচ্ছে, অথচ তোমাদের কেউ কেউ বখিলি করছে। যারা বখিলি করে তারা তো বখিলি করে নিজেদের প্রতিই। প্রাচুর্যশীল আর তোমরা হলে অভাবী। তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তিনি তোমাদের বদলে অন্য লোকদেরকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, তারা তোমাদের মতো হবেনা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
দেখ, তোমরাই তো তাহারা যাহাদেরকে র পথে ব্যয় করিতে বলা হইতেছে অথচ তোমাদের অনেকে কৃপণতা করিতেছে। যাহারা কার্পণ্য করে তাহারা তো কার্পণ্য করে নিজেদেরই প্রতি। অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্ত। যদি তোমরা বিমুখ হও, তিনি অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলবর্তী করিবেন; তাহারা তোমাদের মত হইবে না।
মুহিউদ্দীন খান
শুন, তোমরাই তো তারা, যাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করার আহবান জানানো হচ্ছে, অতঃপর তোমাদের কেউ কেউ কৃপণতা করছে। যারা কৃপণতা করছে, তারা নিজেদের প্রতিই কৃপণতা করছে। অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্থ। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, এরপর তারা তোমাদের মত হবে না।
জহুরুল হক
দেখো, তোমরাই তো তারা যাদের আহ্বান করা হচ্ছে যেন তোমরা র পথে ব্যয় কর, কিন্ত তোমাদের মধ্যে রয়েছে তারা যারা কৃপণতা করছে, বস্তুতঃ যে কার্পণ্য করে সে তো বখিলি করছে তার নিজেরই বিরুদ্ধে। আর ধনবান, এবং তোমরা অভাবগ্রস্ত। আর তোমরা যদি ফিরে যাও তবে তিনি তোমাদের স্থলে অন্য লোকদের বদলে আনবেন, তখন তারা তোমাদের মতন হবে না।