Kitab

আন নহল (মৌমাছি)

Chapter 16, 128 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • মুহিউদ্দীন খান
About this chapter


মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১২৮, রুকু সংখ্যা: ১৬

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-০৩আল্লাহ শিরক থেকে পবিত্র। তিনি তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা রসূল নিযুক্ত করেন। ০৪-২১মানুষ সৃষ্টি এবং মানুষের প্রতি আল্লাহর সীমাহীন অনুগ্রহ। ২২-৩৫অহংকারী লোকেরা ঈমান আনেনা। তারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। যালিমদের মৃত্যুকালীন এবং মৃত্যু পরবর্তীকালীন দুরবস্থা। আল্লাহভীরুদের নীতি এবং তাদের মৃত্যুকালীন ও মৃত্যু পরবর্তী সুন্দর অবস্থা। ৩৬-৪০আল্লাহ সব জাতির কাছে রসূল পাঠিয়েছেন। সব মানুষ হিদায়েতের পথে আসেনা। ৪১-৪২ইসলামের কারণে নিগৃহীত ও নির্যাতিতদের মহাপুরস্কার। ৪৩-৬৫কুরআনের ব্যাখ্যা দেয়ার দায়িত্ব রসূলের। ইসলাম ও নবীর প্রতি ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি সতর্কবাণী। আল্লাহর তাওহীদের যুক্তি। সকল মতবিরোধের সমাধান আল কুরআন। ৬৬-৮৩মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের বিবরণ। শিরকের অসারতা। মানুষের কাছে সত্যের দাওয়াত পৌঁছে দেয়া নবীর দায়িত্ব। ৮৪-৮৯প্রত্যাখ্যানকারীদের ও মুশরিকদের পরকালীন দুরবস্থা। কুরআনে প্রতিটি বিষয়ের বর্ণনা ও নির্দেশিকা রয়েছে। ৯০-৯৬ মানুষের জন্য ন্যায় ও সঠিক নীতিমালা। ৯৭উত্তম আমল সুন্দর জীবনের গ্যারান্টি। ৯৮-১১১কুরআন পাঠের সূচনায় শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ। কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য। অবিশ্বাসীদের জন্য দুঃসংবাদ। ইসলামের কারণে নির্যাতিতদের জন্য সুসংবাদ। ১১২-১১৩আল্লাহর অনুগ্রহের অকৃতজ্ঞতা ও রসূলের আদর্শ প্রত্যাখ্যানের পরিণতি। ১১৪-১১৯হালাল ও হারামের বিধান। ১২০-১২৪ইবরাহিমের আনুগত্যের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি। মুহাম্মদ সা. এর প্রতি ইবরাহিমের আদর্শ অনুসরণের নির্দেশ। ১২৫-১২৮আল্লাহর পথে দাওয়াত দানের পন্থা।
আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর নির্দেশ আসবেই, সুতরাং তোমরা তাড়াহুড়া করোনা। তিনি অবশ্যি পবিত্র এবং তারা তাঁর সাথে যাদের শরিক করে তিনি তাদের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌র আদেশ আসিবেই; সুতরাং উহা ত্বরান্বিত করিতে চাহিও না। তিনি মহিমান্বিত এবং উহারা যাহাকে শরীক করে তিনি তাহার ঊর্ধ্বে।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে। অতএব এর জন্যে তাড়াহুড়া করো না। ওরা যেসব শরীক সাব্যস্ত করছে সেসব থেকে তিনি পবিত্র ও বহু উর্ধ্বে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাঁর বান্দাদের যাদেরকে চান, তাদের প্রতি ফেরেশতা এবং রূহকে (জিবরাইলকে) পাঠান এই আদেশসহ: তোমরা সতর্ক করো যে, নিশ্চয়ই আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই, সুতরাং তোমরা আমাকে ভয় করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহার প্রতি ইচ্ছা স্বীয় নির্দেশে ওহীসহ ফিরিশ্‌তা প্রেরণ করেন এই বলিয়া যে, তোমরা সতর্ক কর, নিশ্চয়ই আমি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই; সুতরাং আমাকে ভয় কর।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি স্বীয় নির্দেশে বান্দাদের মধ্যে যার কাছে ইচ্ছা, নির্দেশসহ ফেরেশতাদেরকে এই মর্মে নাযিল করেন যে, হুশিয়ার করে দাও, আমি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। অতএব আমাকে ভয় কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ এবং এই পৃথিবী বাস্তবতার সাথে। তারা তাঁর সাথে যাদের শরিক করে, তিনি তাদের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি যথাযথভাবে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন; উহারা যাহা শরীক করে তিনি তাহার ঊর্ধ্বে।

মুহিউদ্দীন খান

যিনি যথাবিধি আকাশরাজি ও ভূ - মন্ডল সৃষ্টি করেছেন। তারা যাকে শরীক করে তিনি তার বহু উর্ধ্বে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে। অথচ সে প্রকাশ্যে বিতর্ক করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি শুক্র হইতে মানুষ সৃষ্টি করিয়াছেন; অথচ দেখ, সে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী!

মুহিউদ্দীন খান

তিনি মানবকে এক ফোটা বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছেন। এতদসত্বেও সে প্রকাশ্য বিতন্ডাকারী হয়ে গেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি চারপায়ী পশুদেরও সৃষ্টি করেছেন। তোমাদের জন্যে সেগুলোতে রয়েছে শীত নিবারক উপকরণ এবং আরো অনেক উপকারী জিনিস এবং সেগুলোর কতক তোমরা খেয়ে থাকো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করিয়াছেন; তোমাদের জন্য উহাতে শীত নিবারক উপকরণ ও বহু উপকার রহিয়াছে। এবং উহা হইতে তোমরা আহার করিয়া থাক।

মুহিউদ্দীন খান

তুষ্পদ জন্তুকে তিনি সৃষ্টি করেছেন। এতে তোমাদের জন্যে শীত বস্ত্রের উপকরণ আছে। আর অনেক উপকার হয়েছে এবং কিছু সংখ্যককে তোমরা আহার্যে পরিণত করে থাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা বিকেলে যখন সেগুলোকে চারণভূমি থেকে ফিরিয়ে আনো আর সকালে যখন চারণভূমির দিকে নিয়ে যাও, তখন তোমরা সেগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করে থাকো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমরা যখন গোধূলি লগ্নে উহাদেরকে চারণভূমি হইতে গৃহে লইয়া আস এবং প্রভাতে যখন উহাদেরকে চারণভূমিতে লইয়া যাও তখন তোমরা উহার সৌন্দর্য উপভোগ কর।

মুহিউদ্দীন খান

এদের দ্বারা তোমাদের সম্মান হয়, যখন বিকালে চারণভূমি থেকে নিয়ে আস এবং সকালে চারণ ভূমিতে নিয়ে যাও।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সেগুলো তোমাদের বোঝা বইয়ে নিয়ে যায় এমন স্থানে যেখানে প্রাণান্তকর কষ্ট করা ছাড়া তোমরা পৌঁছাতে পারতে না। তোমাদের প্রভু অবশ্যি দয়াবান, দয়াশীল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং উহারা তোমাদের ভার বহন করিয়া লইয়া যায় এমন দেশে যেখানে প্রাণান্ত ক্লেশ ব্যতীত তোমরা পৌঁছিতে পারিতে না। তোমাদের প্রতিপালক অবশ্যই দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।

মুহিউদ্দীন খান

এরা তোমাদের বোঝা এমন শহর পর্যন্ত বহন করে নিয়ে যায়, যেখানে তোমরা প্রাণান্তকর পরিশ্রۦম ব্যতীত পৌছাতে পারতে না। নিশ্চয় তোমাদের প্রভু অত্যন্ত দয়াদ্র, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের আরোহণ এবং সৌন্দর্যের জন্যে তিনি সৃষ্টি করেছেন ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা। তিনি (তোমাদের কল্যাণে) আরো এমন সব জিনিস সৃষ্টি করবেন, যা তোমরা জানোনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের আরোহণের জন্য ও শোভার জন্য তিনি সৃষ্টি করিয়াছেন অশ্ব, অশ্বতর ও গর্দভ এবং তিনি সৃষ্টি করেন এমন অনেক কিছু, যাহা তোমরা অবগত নও।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের আরোহণের জন্যে এবং শোভার জন্যে তিনি ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি এমন জিনিস সৃষ্টি করেন যা তোমরা জান না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সঠিক পথ দেখানো আল্লাহর দায়িত্ব, যেহেতু অনেক বক্র পথ রয়েছে। তিনি চাইলে তোমাদের সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করতেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সরল পথ ‌র কাছে পৌঁছায়, কিন্তু পথগুলির মধ্যে বক্র পথও আছে। তিনি ইচ্ছা করিলে তোমাদের সকলকেই সৎপথে পরিচালিত করিতেন।

মুহিউদ্দীন খান

সরল পথ পর্যন্ত পৌছে এবং পথগুলোর মধ্যে কিছু বক্র পথও রয়েছে। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে সৎপথে পরিচালিত করতে পারতেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তোমাদের জন্যে আসমান থেকে নাযিল করেন পানি। তাতে রয়েছে তোমাদের জন্যে পানীয়, তা থেকেই জন্মায় গাছ - গাছালি উদ্ভিদ যাতে তোমরা চরিয়ে থাকো পশু।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই আকাশ হইতে বারিবর্ষণ করেন। উহাতে তোমাদের জন্য রহিয়াছে পানীয় এবং উহা হইতে জন্মায় উদ্ভিদ যাহাতে তোমরা পশুচারণ করিয়া থাক।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি তোমাদের জন্যে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন। এই পানি থেকে তোমরা পান কর এবং এ থেকেই উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, যাতে তোমরা পশুচারণ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তা থেকেই তিনি তোমাদের জন্যে জন্মান শস্য, যয়তুন, খেজুর গাছ, আঙ্গুর এবং সব রকমের ফল ফলারি। চিন্তাশীল লোকদের জন্যে অবশ্যি এতে রয়েছে নিদর্শ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি তোমাদের জন্য উহার দ্বারা জন্মান শস্য, যায়তূন, খর্জুর বৃক্ষ, দ্রাক্ষা এবং সর্বপ্রকার ফল। অবশ্যই ইহাতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রহিয়াছে নিদর্শন।

মুহিউদ্দীন খান

এ পানি দ্বারা তোমাদের জন্যে উৎপাদন করেন ফসল, যয়তুন, খেজুর, আঙ্গুর ও সর্বপ্রকার ফল। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীলদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করে দিয়েছেন রাত আর দিনকে এবং সূর্য আর চাঁদকে। নক্ষত্ররাজিও অধীন হয়েছে তাঁরই নির্দেশে। এতে নিদর্শন রয়েছে আকল খাটানো লোকদের জন্যে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করিয়াছেন রজনী, দিবস, সূর্য এবং চন্দ্রকে; আর নক্ষত্ররাজিও অধীন হইয়াছে তাঁহারই নির্দেশে। অবশ্যই ইহাতে বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য রহিয়াছে নিশ্চিত নিদর্শন -

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করেছেন রাত্রি, দিন, সূর্য এবং চন্দ্রকে। তারকাসমূহ তাঁরই বিধানের কর্মে নিয়োজিত রয়েছে। নিশ্চয়ই এতে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি যে তোমাদের জন্যে বিভিন্ন রঙের বস্ত্ত সৃষ্টি করেছেন, তাতেও নিদর্শন রয়েছে সেইসব লোকদের জন্যে যারা শিক্ষা গ্রহণ করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তিনি বিবিধ প্রকার বস্তুও যাহা তোমাদের জন্য পৃথিবীতে সৃষ্টি করিয়াছেন, ইহাতে রহিয়াছে নিশ্চিত নিদর্শন সেই সম্প্রদায়ের জন্য যাহারা উপদেশ গ্রহণ করে।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে যেসব রং - বেরঙের বস্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেগুলোতে নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্যে যারা চিন্তা - ভাবনা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি সমুদ্রকেও তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে করে তোমরা তা থেকে আহরণ করতে পারো তাজা গোশত (মাছ) এবং কুড়িয়ে আনতে পারো বিভিন্ন রকম রত্ন, যা তোমরা তোমাদের ভূষণ হিসেবে পরে থাকো। তোমরা দেখতে পাচ্ছো, তার বুক চিরে চলাচল করে নৌযান, তা এজন্যে যেনো তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো এবং তাঁর শোকর আদায় করতে পারো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই সমুদ্রকে অধীন করিয়াছেন, যাহাতে তোমরা উহা হইতে তাজা মৎস্য আহার করিতে পার এবং যাহাতে উহা হইতে আহরণ করিতে পার রত্নাবলী, যাহা তোমরা ভূষণরূপে পরিধান কর; এবং তোমরা দেখিতে পাও, উহার বুক চিরিয়া নৌযান চলাচল করে এবং উহা এইজন্য যে, তোমরা যেন তাঁহার অনুগ্রহ সন্ধান করিতে পার এবং তোমরা যেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর;

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন সমুদ্রকে, যাতে তা থেকে তোমরা তাজা মাংস খেতে পার এবং তা থেকে বের করতে পার পরিধেয় অলঙ্কার। তুমি তাতে জলযান সমূহকে পানি চিরে চলতে দেখবে এবং যাতে তোমরা আল্লাহর কৃপা অন্বেষণ কর এবং যাতে তার অনুগ্রহ স্বীকার কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পাহাড় - পর্বত স্থাপন করে দিয়েছেন যাতে তা তোমাদের নিয়ে কাঁপতে না থাকে। তিনিই জারি করে দিয়েছেন নদ - নদী এবং চালু করে দিয়েছেন চলাচলের পথ,যাতে করে তোমরা সঠিকভাবেপৌঁছুতে পারো গন্তব্যে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করিয়াছেন, যাহাতে পৃথিবী তোমাদেরকে লইয়া আন্দোলিত না হয় এবং স্থাপন করিয়াছেন নদ - নদী ও পথ, যাহাতে তোমরা তোমাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছিতে পার;

মুহিউদ্দীন খান

এবং তিনি পৃথিবীর উপর বোঝা রেখেছেন যে, কখনো যেন তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে - দুলে না পড়ে এবং নদী ও পথ তৈরী করেছেন, যাতে তোমরা পথ প্রদর্শিত হও।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাছাড়া রয়েছে নির্ণায়ক চিহ্নসমূহ, আর নক্ষত্রের সাহায্যেও তারা পথের নির্দেশনা পায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং পথনির্ণায়ক চিহ্নসমূহও। আর উহারা নক্ষত্রের সাহায্যেও পথের নির্দেশ পায়।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তিনি পথ নির্ণয়ক বহু চিহ্ন সৃষ্টি করেছেন, এবং তারকা দ্বারা ও মানুষ পথের নির্দেশ পায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যিনি সৃষ্টি করেন তিনি কি তার সমতুল্য, যে সৃষ্টি করে না? তোমরা কি শিক্ষা গ্রহণ করবেনা?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং যিনি সৃষ্টি করেন তিনি কি তাহারই মত, যে সৃষ্টি করে না? তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করিবে না?

মুহিউদ্দীন খান

যিনি সৃষ্টি করে, তিনি কি সে লোকের সমতুল্য যে সৃষ্টি করতে পারে না? তোমরা কি চিন্তা করবে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ গণনা করো তবে সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবেনা। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল, দয়াময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা ‌র অনুগ্রহ গণনা করিলে উহার সংখ্যা নির্ণয় করিতে পারিবে না। ‌ তো অবশ্যই ক্ষমাপরায়ণ, পরম দয়ালু।

মুহিউদ্দীন খান

যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় ক্ষমাশীল, দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

জানেন, তোমরা যা গোপন করো আর যা প্রকাশ করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা যাহা গোপন রাখ এবং যাহা প্রকাশ কর ‌ তাহা জানেন।

মুহিউদ্দীন খান

জানেন যা তোমরা গোপন কর এবং যা তোমরা প্রকাশ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ছাড়া অন্যদের ডাকে, তারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তাদেরই সৃষ্টি করা হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা ‌ ব্যতীত অপর যাহাদেরকে আহ্বান করে তাহারা কিছুই সৃষ্টি করে না, তাহাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়।

মুহিউদ্দীন খান

এবং যারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যদের ডাকে, ওরা তো কোন বস্তুই সৃষ্টি করে না; বরং ওরা নিজেরাই সৃজিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা মৃত, নির্জীব, তাদের কখন পুনরুত্থিত করা হবে সে বিষয়ে তাদের কোনো চেতনাই নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা নিষ্প্রাণ, নির্জীব এবং কখন তাহাদেরকে পুনরুত্থিত করা হইবে সে বিষয়ে তাহাদের কোন চেতনা নাই।

মুহিউদ্দীন খান

তারা মৃত - প্রাণহীন এবং কবে পুনরুত্থিত হবে, জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের ইলাহ্ এক ও একক ইলাহ্। সুতরাং যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান আনেনা, তাদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং তারা দাম্ভিক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের ইলাহ্ এক ইলাহ্, সুতরাং যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহাদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং তাহারা অহংকারী।

মুহিউদ্দীন খান

আমাদের একক । অনন্তর যারা পরজীবনে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং তারা অহংকার প্রদর্শন করেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিঃসন্দেহে জানেন, তারা যা গোপন করে এবং তারা যা প্রকাশ করে। অবশ্যি তিনি দাম্ভিকদের পছন্দ করেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা নিঃসন্দেহ যে, ‌ জানেন যাহা উহারা গোপন করে এবং যাহা উহারা প্রকাশ করে। তিনি তো অহংকারীদেরকে পছন্দকরেন না।

মুহিউদ্দীন খান

নিঃসন্দেহে তাদের গোপন ও প্রকাশ্য যাবতীয় বিষয়ে অবগত। নিশ্চিতই তিনি অহংকারীদের পছন্দ করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদের বলা হয়: ‘তোমাদের প্রভু কী নাযিল করেছেন?’ তারা বলে: ‘আগের কালের লোকদের কাহিনী।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন উহাদেরকে বলা হয়, ‘তোমাদের প্রতিপালক কি অবতীর্ণ করিয়াছেন?’ তখন উহারা বলে, ‘পূর্ববর্তীদের উপকথা!’

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাদেরকে বলা হয়ঃ তোমাদের পালনকর্তা কি নাযিল করেছেন? তারা বলেঃ পূর্ববর্তীদের কিসসা - কাহিনী।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে কিয়ামতের দিন তারা বহন করবে তাদের পাপের ভার পূর্ণমাত্রায় এবং অজ্ঞতা নিয়ে যাদের বিপথগামী করেছিল তাদের পাপের বোঝাও। তারা যা বহন করবে, তা কতো যে নিকৃষ্ট!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফলে কিয়ামত দিবসে উহারা বহন করিবে উহাদের পাপভার পূর্ণ মাত্রায় এবং পাপভার তাহাদেরও যাহাদেরকে উহারা অজ্ঞতাহেতু বিভ্রান্ত করিয়াছে। দেখ, উহারা যাহা বহন করিবে তাহা কত নিকৃষ্ট!

মুহিউদ্দীন খান

ফলে কেয়ামতের দিন ওরা পূর্ণমাত্রায় বহন করবে ওদের পাপভার এবং পাপভার তাদেরও যাদেরকে তারা তাদের অজ্ঞতাহেতু বিপথগামী করে শুনে নাও, খুবই নিকৃষ্ট বোঝা যা তারা বহন করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের আগেকার লোকরাও চক্রান্ত করেছিল, ফলে তাদের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিলেন এবং ইমারতের ছাদ ধ্বসে পড়েছিল তাদের উপর। আর তাদের উপর আযাব এসে পড়েছিল এমন দিক থেকে, যা তারা টেরও পায়নি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের পূর্ববর্তীরাও চক্রান্ত করিয়াছিল; উহাদের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করিয়াছিলেন; ফলে ইমারতের ছাদ উহাদের উপর ধসিয়া পড়িল এবং উহাদের প্রতি শাস্তি আসিল এমন দিক হইতে যাহা ছিল উহাদের ধারণার অতীত।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় চক্রান্ত করেছে তাদের পূর্ববর্তীরা, অতঃপর তাদের চক্রান্তের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিলেন। এরপর উপর থেকে তাদের মাথায় ছাদ ধ্বসে পড়ে গেছে এবং তাদের উপর আযাব এসেছে যেখান থেকে তাদের ধারণা ছিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর পরে কিয়ামতের দিন তিনি তাদের লাঞ্ছিত করবেন এবং তাদের জিজ্ঞেস করবেন, ‘কোথায় (তোমাদের মনগড়া) আমার সেইসব শরিকদাররা, যাদের ব্যাপারে তোমরা বিতর্ক করতে?’ যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছিল, তারা বলবে: আজকের অপমান আর অকল্যাণ কাফিরদের জন্যে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পরে কিয়ামতের দিন তিনি উহাদেরকে লাঞ্ছিত করিবেন এবং তিনি বলিবেন, ‘কোথায় আমার সেই সমস্ত শরীক যাহাদের সম্বন্ধে তোমরা বিতণ্ডা করিতে?’ যাহাদেরকে জ্ঞান দান করা হইয়াছিল তাহারা বলিবে, ‘আজ লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল কাফিরদের - ’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর কেয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেনঃ আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের ব্যাপারে তোমরা খুব হঠকারিতা করতে ? যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েছিল তারা বলবেঃ নিশ্চয়ই আজকের দিনে লাঞ্ছনা ও দুর্গতি কাফেরদের জন্যে,

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু ঘটায় নিজেদের প্রতি যুলুম করতে থাকা অবস্থায়। তখন তারা আত্মসমর্পণ করে দিয়ে বলে: ‘আমরা কোনো মন্দ কাজ করতাম না।’ হ্যাঁ, ভালো ভাবেই জানেন তোমরা কী করতে?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহাদের মৃত্যু ঘটায় ফিরিশ্‌তাগণ উহারা নিজেদের প্রতি জুলুম করিতে থাকা অবস্থায়; অতঃপর উহারা আত্মসর্মপণ করিয়া বলিবে, ‘আমরা কোন মন্দ কর্ম করিতাম না।’ এবং নিশ্চয়ই তোমরা যাহা করিতে সে বিষয়ে ‌ সবিশেষ অবহিত।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরেশতারা তাদের জান এমতাঅবস্থায় কবজ করে যে, তারা নিজেদের উপর যুলুম করেছে। তখন তারা অনুগত্য প্রকাশ করবে যে, আমরা তো কোন মন্দ কাজ করতাম না। হঁ্যা নিশ্চয় সববিষয় অবগত আছেন, যা তোমরা করতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এখন জাহান্নামের দরজাগুলো দিয়ে দাখিল হয়ে যাও সেখানে চিরকাল পড়ে থাকার জন্যে। দাম্ভিকদের আবাসস্থল কতো যে নিকৃষ্ট!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং তোমরা দ্বারগুলি দিয়া জাহান্নামে প্রবেশ কর, সেখানে তোমরা স্থায়ী হইবে। দেখ, অহংকারীদের আবাসস্থল কত নিকৃষ্ট!

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, জাহান্নামের দরজসমূহে প্রবেশ কর, এতেই অনন্তকাল বাস কর। আর অহংকারীদের আবাসস্থল কতই নিকৃষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা তাকওয়া অবলম্বন করতো তাদের বলা হবে: ‘তোমাদের প্রভু কী নাযিল করেছিলেন?’ তারা বলবে: ‘মহাকল্যাণ।’ যারা এই দুনিয়ায় ইহসান করে তাদের জন্যে রয়েছে হাসানা (কল্যাণ) আর তাদের জন্যে আখিরাতের আবাস আরো উত্তম। মুত্তাকিদের বাসস্থান কতো যে চমৎকার!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যাহারা ছিল তাহাদেরকে বলা হইবে, ‘তোমাদের প্রতিপালক কী অবতীর্ণ করিয়াছিলেন?’ তাহারা বলিবে, ‘মহাকল্যাণ’। যাহারা সৎকর্ম করে তাহাদের জন্য আছে এই দুনিয়ায় মঙ্গল এবং আখিরাতের আবাস আরও উৎকৃষ্ট এবং মুত্তাকীদের আবাসস্থল কত উত্তম! -

মুহিউদ্দীন খান

পরহেযগারদেরকে বলা হয়ঃ তোমাদের পালনকর্তা কি নাযিল করেছেন? তারা বলেঃ মহাকল্যাণ। যারা এ জগতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে কল্যাণ রয়েছে এবং পরকালের গৃহ আরও উত্তম। পরহেযগারদের গৃহ কি চমৎকার?

আবদুস শহীদ নাসিম

তাহলো চিরস্থায়ী জান্নাত, সেখানে তারা দাখিল হবে। তার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। সেখানে তাদের জন্যে থাকবে যা তারা চাইবে। এভাবেই দিয়ে থাকেন মুত্তাকিদের পুরস্কার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহা স্থায়ী জান্নাত যাহাতে তাহারা প্রবেশ করিবে; উহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; তাহারা যাহা কিছু কামনা করিবে উহাতে তাহাদের জন্য তাহাই থাকিবে। এইভাবেই ‌ পুরস্কৃত করেন মুত্তাকীদেরকে,

মুহিউদ্দীন খান

সর্বদা বসবাসের উদ্যান, তারা যাতে প্রবেশ করবে। এর পাদদেশে দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হয় তাদের জন্যে তাতে তা - ই রয়েছে, যা তারা চায় এমনিভাবে প্রতিদান দেবেন আল্লাহর পরহেযগারদেরকে,

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরেশতারা তাদের ওফাত ঘটায় পবিত্র জীবন - যাপন করা অবস্থায়। তারা (তাদের ওফাত ঘটাতে এসে) বলে: ‘সালামুন আলাইকুম - আপনাদের প্রতি বর্ষিত হোক শান্তি, আপনারা দাখিল হোন জান্নাতে আপনাদের উত্তম আমলের বিনিময়ে।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফিরিশ্‌তাগণ যাহাদের মৃত্যু ঘটায় পবিত্র থাকা অবস্থায়। ফিরিশ্‌তাগণ বলিবে, ‘তোমাদের প্রতি শান্তি! তোমরা যাহা করিতে তাহার ফলে জান্নাতে প্রবেশ কর।’

মুহিউদ্দীন খান

ফেরেশতা যাদের জান কবজ করেন তাদের পবিত্র থাকা অবস্থায়। ফেরেশতারা বলেঃ তোমাদের প্রতি শাস্তি বর্ষিত হোক। তোমরা যা করতে, তার প্রতিদানে জান্নাতে প্রবেশ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (কাফিররা) কি তাদের কাছে ফেরেশতা আসার অপেক্ষায় রয়েছে, নাকি তাদের প্রভুর নির্দেশ আসার অপেক্ষায়? তাদের আগেকার লোকেরাও এ রকমই করতো। তাদের প্রতি যুলুম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা শুধু প্রতীক্ষা করে উহাদের নিকট ফিরিশ্‌তা আগমনের অথবা তোমার প্রতিপালকের শাস্তি আগমনের। উহাদের পূর্ববর্তীরা এইরূপই করিত। ‌ উহাদের প্রতি কোন জুলুম করেন নাই, কিন্তু উহারাই নিজেদের প্রতি জুলুম করিত।

মুহিউদ্দীন খান

কাফেররা কি এখন অপেক্ষা করছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতারা আসবে কিংবা আপনার পালনকর্তার নির্দেশ পৌছবে? তাদের পূর্ববর্তীরা এমনই করেছিল। তাদের প্রতি অবিচার করেননি; কিন্তু তারা স্বয়ং নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তাদের উপর আপতিত হয়েছিল তাদেরই মন্দ কাজের শাস্তি এবং সেই জিনিসই তাদের পরিবেষ্টন করে নিয়েছিল যা নিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রূপ করতো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং উহাদের উপর আপতিত হইয়াছিল উহাদেরই মন্দ কর্মের শাস্তি এবং উহাদেরকে পরিবেষ্টন করিয়াছিল তাহাই, যাহা লইয়া উহারা ঠাট্টা - বিদ্রপ করিত।

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং তাদের মন্দ কাজের শাস্তি তাদেরই মাথায় আপতিত হয়েছে এবং তারা যে ঠাট্টা বিদ্রুপ করত, তাই উল্টে তাদের উপর পড়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা শিরক করে তারা বলে: ‘ ইচ্ছা করলে আমরা তাঁর ছাড়া আর কারো ইবাদত করতাম না, আমরাও না, আমাদের পূর্ব পুরুষরাও না এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া আমরা কোনো কিছুই হারাম করতাম না।’ তাদের আগেকার লোকেরা এ রকমই (বাহানাবাজি) করতো। পরিষ্কারভাবে বার্তা পৌঁছে দেয়া ছাড়া রসূলদের উপর আর কোনো দায়িত্ব আছে কি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুশরিকরা বলিবে, ‌ ইচ্ছা করিলে আমাদের পিতৃপুরুষেরা ও আমরা তাঁহাকে ব্যতীত অপর কোন কিছুর ‘ইবাদত করিতাম না এবং তাঁহার অনুজ্ঞা ব্যতীত আমরা কোন কিছু নিষিদ্ধ করিতাম না।’ উহাদের পূর্ববর্তীরা এইরূপই করিত। রাসূলদের কর্তব্য তো কেবল সুস্পষ্ট বাণী পৌঁছাইয়া দেওয়া।

মুহিউদ্দীন খান

মুশরিকরা বললঃ যদি চাইতেন, তবে আমরা তাঁকে ছাড়া কারও এবাদত করতাম না এবং আমাদের পিতৃপুরুষেরাও করত না এবং তাঁর নির্দেশ ছাড়া কোন বস্তুই আমরা হারাম করতাম না। তাদের পূর্ববর্তীরা এমনই করেছে। রাসূলের দায়িত্ব তো শুধুমাত্র সুস্পষ্ট বাণী পৌছিয়ে দেয়া।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা প্রতিটি জাতির কাছে রসূল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দেয়ার জন্যে যে: ‘তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত (আনুগত্য, দাসত্ব, প্রার্থনা, উপাসনা) করো এবং তাগুতকে ত্যাগ করো।’ ফলে তাদের কিছু লোককে হিদায়াত করেছেন আর কিছু লোকের জন্যে সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছিল গোমরাহি। সুতরাং পৃথিবীতে ভ্রমণ করে দেখো, সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের পরিণতি কী হয়েছিল?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌র ‘ইবাদত করিবার ও তাগূতকে বর্জন করিবার নির্দেশ দিবার জন্য আমি তো প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠাইয়াছি। অতঃপর উহাদের কতককে ‌ সৎপথে পরিচালিত করেন এবং উহাদের কতকের উপর পথভ্রান্তি সাব্যস্ত হইয়াছিল; সুতরাং পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং দেখ, যাহারা সত্যকে মিথ্যা বলিয়াছে তাহাদের পরিণাম কী হইয়াছে!

মুহিউদ্দীন খান

আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাগুত থেকে নিরাপদ থাক। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে হেদায়েত করেছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তাদের হিদায়াতের আকাংখী হলেও সেসব লোকদের হিদায়াত করেন না, যারা ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করে। আর তাদের কোনো সাহায্যকারীও হবেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি উহাদের পথ প্রদর্শন করিতে আগ্রহী হইলেও ‌ যাহাকে বিভ্রান্ত করিয়াছেন, তাহাকে তিনি সৎপথে পরিচালিত করিবেন না এবং উহাদের কোন সাহায্যকারীও নাই।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি তাদেরকে সুপথে আনতে আগ্রহী হলেও যাকে বিপথগামী করেন তিনি তাকে পথ দেখান না এবং তাদের কোন সাহায্যকারী ও নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা জোর দিয়ে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলে: ‘যারা মরে যায় তাদের পুনরুত্থিত করবেননা।’ হ্যাঁ, অবশ্যি তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করবেন। তবে অধিকাংশ লোকই তা জানেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা দৃঢ়তার সঙ্গে ‌র শপথ করিয়া বলে, ‘যাহার মৃত্যু হয় ‌ তাহাকে পুনর্জীবিত করিবেন না।’ কেন নয়, তিনি তাঁহার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করিবেনই। কিন্তু অধিকাংশ মানষু ইহা অবগত নহে -

মুহিউদ্দীন খান

তারা আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করে যে, যার মৃত্যু হয় তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না। অবশ্যই এর পাকাপোক্ত ওয়াদা হয়ে গেছে। কিন্তু, অধিকাংশ লোক জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তিনি তাদের পুনরুত্থিত করবেন) যে বিষয়ে তারা মতানৈক্য করতো তা তাদেরকে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেয়ার জন্যে, এবং কাফিররাও যেনো জানতে পারে যে, তারা ছিলো মিথ্যাবাদী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি পুনরুত্থিত করিবেন যে বিষয়ে উহাদের মতানৈক্য ছিল তাহা উহাদেরকে স্পষ্টভাবে দেখাইবার জন্য এবং যাহাতে কাফিররা জানিতে পারে যে, উহারাই ছিল মিথ্যাবাদী।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি পুনরুজ্জীবিত করবেনই, যাতে যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতানৈক্য ছিল তা প্রকাশ করা যায় এবং যাতে কাফেরেরা জেনে নেয় যে, তারা মিথ্যাবাদী ছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা কোনো কিছু করার ইচ্ছা করলে সে বিষয়ে শুধু এতোটুকু বলি, ‘হও’ আর সাথে সাথে তা হয়ে যায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি কোন কিছু ইচ্ছা করিলে সেই বিষয়ে আমার কথা কেবল এই যে, আমি বলি, ‘হও’, ফলে উহা হইয়া যায়।

মুহিউদ্দীন খান

আমি যখন কোন কিছু করার ইচ্ছা করি; তখন তাকে কেবল এতটুকুই বলি যে, হয়ে যাও,। সুতরাং তা হয়ে যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা অত্যাচারিত হবার পর হিজরত করেছে, আমরা অবশ্যি দুনিয়ায় তাদের উত্তম আবাস দেবো, আর আখিরাতের পুরস্কার তো অনেক বড়। হায়, তারা যদি এটা জানতো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা অত্যাচারিত হইবার পর ‌র পথে হিজরত করিয়াছে, আমি অবশ্যই তাহাদেরকে দুনিয়ায় উত্তম আবাস দিব; এবং আখিরাতের পুরস্কারই তো শ্রেষ্ঠ। হায়, উহারা যদি তাহা জানিত!

মুহিউদ্দীন খান

যারা নির্যাতিত হওয়ার পর আল্লাহর জন্যে গৃহত্যাগ করেছে, আমি অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়াতে উত্তম আবাস দেব এবং পরকালের পুরস্কার তো সর্বাধিক; হায়! যদি তারা জানত।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা সবর অবলম্বন করে এবং তাদের প্রভুর উপর তাওয়াক্কুল করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ধৈর্য ধারণ করে ও তাহাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে।

মুহিউদ্দীন খান

যারা দৃঢ়পদ রয়েছে এবং তাদের পালনকর্তার উপর ভরসা করেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার আগে আমরা যাদের পাঠিয়েছিলাম এবং অহি করেছিলাম, তারা পুরুষ (মানুষই) ছিলো। তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার পূর্বে আমি ওহীসহ পুরুষই প্রেরণ করিয়াছিলাম, তোমরা যদি না জান তবে জ্ঞানীগণকে জিজ্ঞাসা কর -

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পূর্বেও আমি প্রত্যাদেশসহ মানবকেই তাদের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের না থাকে;

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদেরকে আমরা পাঠিয়েছিলাম স্পষ্ট প্রমাণ এবং গ্রন্থাবলি দিয়ে। আর তোমার প্রতি আমরা নাযিল করেছি ‘আয যিকির’ (আল - কুরআন) মানুষকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্যে যা তাদের জন্যে নাযিল করা হয়েছে এবং তারা যেনো চিন্তা - ভাবনা করতে পারে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রেরণ করিয়াছিলাম স্পষ্টভাবে প্রমাণাদি ও গ্রন্থাবলীসহ এবং তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি, মানুষকে সুস্পষ্ট বুঝাইয়া দিবার জন্য যাহা তাহাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হইয়াছিল, যাহাতে উহারা চিন্তা করে।

মুহিউদ্দীন খান

প্রেরণ করেছিলাম তাদেরকে নিদর্শনাবলী ও অবতীর্ণ গ্রন্থসহ এবং আপনার কাছে আমি স্মরণিকা অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি লোকদের সামনে ঐসব বিষয় বিবৃত করেন, যে গুলো তোদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে, যাতে তারা চিন্তা - ভাবনা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা অন্যায় কাজের ষড়যন্ত্র করে তারা কি নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে যে, তাদের নিয়ে জমিনকে তলিয়ে দেবেন না, কিংবা এমন জায়গা থেকে তাদের উপর আযাব এসে পড়বেনা যার চিন্তাও তারা করেনি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা কুকর্মের ষড়যন্ত্র করে তাহারা কি এ বিষয়ে নির্ভয় হইয়াছে যে, উহাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করিবেন না অথবা এমন দিক হইতে শাস্তি আসিবে না, যাহা উহাদের ধারণাতীত?

মুহিউদ্দীন খান

যারা কুচক্র করে, তারা কি এ বিষয়ে ভয় করে না যে, তাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দিবেন কিংবা তাদের কাছে এমন জায়গা থেকে আযাব আসবে যা তাদের ধারণাতীত।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথবা তাদের চলাফেরা করতে থাকা অবস্থায়ই তাদের পাকড়াও করবেন না? শাস্তি যখন এসে পড়বে তখন তারা তা ব্যর্থ করতে পারবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অথবা চলাফেরা করিতে থাকাকালে তিনি উহাদের ধৃত করিবেন না? উহারা তো ইহা ব্যর্থ করিতে পারিবে না।

মুহিউদ্দীন খান

কিংবা চলাফেরার মধ্যেই তাদেরকে পাকড়াও করবে, তারা তো তা ব্যর্থ করতে পারবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিংবা তাদেরকে ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় তিনি ধরে ফেলবেন না? তোমাদের প্রভু অবশ্যি পরম দয়াশীল, করুণাময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অথবা উহাদেরকে তিনি ভীত - সন্ত্রস্ত অবস্থায় ধৃত করিবেন না? তোমাদের প্রতিপালক তো অবশ্যই দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।

মুহিউদ্দীন খান

কিংবা ভীতি প্রদর্শনের পর তাদেরকে পাকড়াও করবেন? তোমাদের পালনকর্তা তো অত্যন্ত নম্র, দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি দেখেনা, যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সেগুলোর ছায়া ডানে এবং বামে ঢলে পড়ে আল্লাহর প্রতি সাজদাবনত হয়?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা কি লক্ষ্য করে না ‌র সৃষ্ট বস্তুর প্রতি, যাহার ছায়া দক্ষিণে ও বামে ঢলিয়া পড়িয়া ‌র প্রতি সিজ্‌দাবনত হয়?

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি আল্লাহর সৃজিত বস্তু দেখে না, যার ছায়া আল্লাহর প্রতি বিনীতভাবে সেজদাবনত থেকে ডান ও বাম দিকে ঝুঁকে পড়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশে যা কিছু আছে এবং পৃথিবীতে যতো জীবজন্তু আছে সবাই আল্লাহর জন্যে সাজদাবনত হয়, আর ফেরেশতারাও তাঁকে সাজদা করে এবং তারা অহংকার করেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌কেই সিজ্‌দা করে যাহা কিছু আছে আকাশমণ্ডলীতে, পৃথিবীতে যত জীবজন্তু আছে সে সমস্ত এবং ফিরিশ্‌তাগণও, উহারা অহংকার করে না।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু নভোমন্ডলে আছে এবং যা কিছু ভুমন্ডলে আছে এবং ফেরেশতাগণ; তারা অহংকার করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তাদের উপর থেকে তাদের প্রভুর ভয়ে ভীত থাকে এবং তারা কেবল তাই করে যা তাদের নির্দেশ দেয়া হয়। (সাজদা)

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা ভয় করে উহাদের উপর উহাদের প্রতিপালককে এবং উহাদেরকে যাহা আদেশ করা হয় উহারা তাহা করে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তাদের উপর পরাক্রমশালী তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে এবং তারা যা আদেশ পায়, তা করে

আবদুস শহীদ নাসিম

বলেছেন: ‘তোমরা দুই ইলাহ্ গ্রহণ করোনা। তিনি তো একমাত্র ইলাহ্। তাই তোমরা কেবল আমাকেই ভয় করো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ বলিলেন, ‘তোমরা দুই ইলাহ্ গ্রহণ করিও না; তিনিই তো একমাত্র ইলাহ্। সুতরাং আমাকেই ভয় কর।’

মুহিউদ্দীন খান

বললেনঃ তোমরা দুই উপাস্য গ্রহণ করো না উপাস্য তো মাত্র একজনই। অতএব আমাকেই ভয় কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। আর অবিচ্ছিন্ন আনুগত্য পাওয়ার মালিক কেবল তিনিই। তোমরা কি ছাড়া অন্য কাউকেও ভয় করবে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা তাঁহারই এবং নিরবচ্ছিন্ন আনুগত্য তাঁহারই প্রাপ্য। তোমরা কি ‌ ব্যতিত অপরকে ভয় করিবে?

মুহিউদ্দীন খান

যা কিছু নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে আছে তা তাঁরই এবাদত করা শাশ্বত কর্তব্য। তোমরা কি ব্যতীত কাউকে ভয় করবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের সাথে যতো নিয়ামত রয়েছে সবই তো আল্লাহর প্রদত্ত। তাছাড়া তোমাদেরকে যখনই কোনো দু:খ - দুর্দশা স্পর্শ করে, তখনো তো তোমরা ব্যাকুল হয়ে কেবল তাঁকেই ডাকো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের নিকট যে সমস্ত নিয়ামত রহিয়াছে তাহা তো ‌রই নিকট হইতে; আবার যখন দুঃখ - দৈন্য তোমাদেরকে স্পর্শ করে তখন তোমরা তাঁহাকেই ব্যাকুলভাবে আহ্বান কর।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কাছে যে সমস্ত নেয়ামত আছে, তা আল্লাহরই পক্ষ থেকে। অতঃপর তোমরা যখন দুঃখে - কষ্টে পতিত হও তখন তাঁরই নিকট কান্নাকাটি কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তিনি যখন তোমাদের দু:খ - দুর্দশা দূর করে দেন, তখন তোমাদেরই একটি দল তাদের প্রভুর সাথে শরিক করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আবার যখন ‌ তোমাদের দুঃখ - দৈন্য দূরীভূত করেন তখন তোমাদের একদল উহাদের প্রতিপালকের শরীক করে -

মুহিউদ্দীন খান

এরপর যখন তোমাদের কষ্ট দুরীভূত করে দেন, তখনই তোমাদের একদল স্বীয় পালনকর্তার সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করতে থাকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে আমরা তাদের যা কিছু দিয়েছি তারা তা অস্বীকার করে। সুতরাং ভোগ করে নাও, অচিরেই জানতে পারবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি উহাদেরকে যাহা দান করিয়াছি তাহা অস্বীকার করিবার জন্য। সুতরাং ভোগ করিয়া লও, অচিরেই জানিতে পারিবে।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে ঐ নেয়ামত অস্বীকার করে, যা আমি তাদেরকে দিয়েছি। অতএব মজা ভোগ করে নাও - সত্বরই তোমরা জানতে পারবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা তাদের যে রিযিক দিয়েছি তারা তার একাংশ নির্ধারণ করে তাদের (বাতিল উপাস্যদের) জন্যে, যাদের ব্যাপারে তারা কিছুই জানেনা। আল্লাহর কসম, তোমরা যে মিথ্যা রচনা করছো সে সম্পর্কে অবশ্যি তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি উহাদেরকে যে রিযিক দান করি উহারা তাহার এক অংশ নির্ধারণ করে তাহাদের জন্য যাহাদের সম্বন্ধে উহারা কিছুই জানে না। শপথ ‌র! তোমরা যে মিথ্যা উদ্ভাবন কর সেই সম্বন্ধে তোমাদেরকে অবশ্যই প্রশ্ন করা হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আমার দেয়া জীবনোপকরণ থেকে তাদের জন্যে একটি অংশ নির্ধারিত করে, যাদের কোন খবরই তারা রাখে না। আল্লাহর কসম, তোমরা যে অপবাদ আরোপ করছ, সে সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আল্লাহর জন্যে কন্যা সন্তান নির্ধারণ করে, যা থেকে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র, আর তাদের জন্যে সেই (সন্তান) যা তারা কামনা করে!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা নির্ধারণ করে ‌র জন্য কন্যা সন্তান - তিনি পবিত্র, মহিমান্বিত এবং উহাদের জন্য তাহাই, যাহা উহারা কামনা করে!

মুহিউদ্দীন খান

তারা আল্লাহর জন্যে কন্যা সন্তান নির্ধারণ করে - তিনি পবিত্র মহিমান্বিত এবং নিজেদের জন্যে ওরা তাই স্থির করে যা ওরা চায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তাদের কাউকেও যখন কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন তাদের চেহারা কালো হয়ে যায় এবং সে চরম মনোকষ্টে দগ্ধ হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের কাহাকেও যখন কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয় তখন তাহার মুখমণ্ডল কালো হইয়া যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন তারা মুখ কাল হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে যে সংবাদ দেয়া হয় তার গ্লানিতে সে সমাজ থেকে আত্মগোপন করে। সে ভাবতে থাকে, গ্লানি সত্ত্বেও সে কি তাকে রেখে দেবে, নাকি মাটিতে পুতে ফেলবে? সাবধান, তোমাদের সিদ্ধান্ত চরম নিকৃষ্ট।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাকে যে সংবাদ দেওয়া হয়, তাহার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় হইতে আত্মগোপন করে। সে চিন্তা করে হীনতা সত্ত্বেও সে উহাকে রাখিয়া দিবে, না মাটিতে পুঁতিয়া দিবে! সাবধান! উহারা যাহা সিদ্ধান্ত নেয় তাহা কত নিকৃষ্ট।

মুহিউদ্দীন খান

তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে, না তাকে মাটির নীচে পুতে ফেলবে। শুনে রাখ, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান আনেনা, তারা ভীষণ নিকৃষ্ট স্বভাবের লোক। সর্বশ্রেষ্ঠ মহোত্তম স্বভাব - প্রকৃতি আল্লাহর এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাবান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না উহারা নিকৃষ্ট প্রকৃতির, আর ‌ তো মহত্তম প্রকৃতির; এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

মুহিউদ্দীন খান

যারা পরকাল বিশ্বাস করে না, তাদের উদাহরণ নিকৃষ্ট এবং আল্লাহর উদাহরণই মহান, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যদি মানুষকে তার যুলুমের জন্যে পাকড়াও করতেন, তাহলে পৃথিবীর বুকে কোনো জীবকেই রেহাই দিতেন না। কিন্তু তিনি একটি নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত তাদের অবকাশ দিয়ে থাকেন। অত:পর যখন তাদের নির্ধারিত সময়টি এসে উপস্থিত হয়, তখন তারা কিছুক্ষণও আগপাছ করতে পারে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ যদি মানুষকে তাহাদের সীমালংঘনের জন্য শাস্তি দিতেন তবে ভূপৃষ্ঠে কোন জীব - জন্তুকেই রেহাই দিতেন না; কিন্তু তিনি এক নিদির্ষ্ট কাল পর্যন্ত তাহাদেরকে অবকাশ দিয়া থাকেন। অতঃপর যখন তাহাদের সময় আসে তখন তাহারা মুহূর্তকাল বিলম্ব অথবা ত্বরা করিতে পারে না।

মুহিউদ্দীন খান

যদি লোকদেরকে তাদের অন্যায় কাজের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভুপৃষ্ঠে চলমান কোন কিছুকেই ছাড়তেন না। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুতি সময় পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন। অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহুর্তও বিলম্বিত কিংবা তরাম্বিত করতে পারবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তারা আল্লাহর প্রতি তাই আরোপ করে, যা নিজেদের জন্যে অপছন্দ করে। তাদের যবান মিথ্যা কথা বলে যে: ‘কল্যাণ তাদেরই জন্যে।’ কোনো সন্দেহ নেই যে, তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নাম এবং সবার আগেই তাদেরকে নিক্ষেপ করা হবে তাতে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহা তাহারা অপছন্দকরে তাহাই তাহারা আল্লাহর প্রতি আরোপ করে। তাহাদের জিহ্বা মিথ্যা বর্ণনা করে যে, মঙ্গল তাহাদেরই জন্য। নিঃসন্দেহে তাহাদের জন্য আছে দোযখ এবং তাহাদেরকেই সর্বাগ্রে উহাতে নিক্ষেপ করা হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

যা নিজেদের মন চায় না তারই তারা আল্লাহর জন্যে সাব্যস্ত করে এবং তাদের জিহবা মিথ্যা বর্ণনা করে যে, তাদের জন্যে রয়েছে কল্যাণ। স্বতঃসিদ্ধ কথা যে, তাদের জন্যে রয়েছে আগুন এবং তাদেরকেই সর্বাগ্রে নিক্ষেপ করা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর কসম! তোমার আগেও আমরা বহু জাতির কাছে রসূল পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু শয়তান তাদের কার্যকলাপ তাদের কাছে চাকচিক্যময় করে রেখেছিল। সে - ই আজো তাদের অলি। আর তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শপথ ‌র! আমি তোমার পূর্বেও বহু জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করিয়াছি; কিন্তু শয়তান ঐসব জাতির কার্যকলাপ উহাদের দৃষ্টিতে শোভন করিয়াছিল; সুতরাং সে - ই আজ উহাদের অভিভাবক এবং উহাদেরই জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর কসম, আমি আপনার পূর্বে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে রাসূল প্রেরণ করেছি, অতঃপর শয়তান তাদেরকে কর্ম সমূহ শোভনীয় করে দেখিয়েছে। আজ সেই তাদের অভিভাবক এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যারা এ বিষয়ে মতভেদ করে তাদের সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্যে। তাছাড়া এ কিতাব মুমিনদের জন্যে জীবন যাপনের নির্দেশিকা এবং একটি রহমত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছি যাহারা এ বিষয়ে মতভেদ করে তাহাদেরকে সুস্পষ্টভাবে বুঝাইয়া দিবার জন্য এবং মু’মিনদের জন্য পথনির্দেশ ও দয়াস্বরূপ।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আপনার প্রতি এ জন্যেই গ্রন্থ নাযিল করেছি, যাতে আপনি সরল পথ প্রদর্শনের জন্যে তাদের কে পরিষ্কার বর্ণনা করে দেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং ঈমানদারকে ক্ষমা করার জন্যে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহই নাযিল করেন আসমান থেকে পানি, অত:পর তা দিয়ে পুনর্জীবিত করেন জমিনকে মরে (শুকিয়ে) যাবার পর। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন সেইসব লোকদের জন্যে যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শুনে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন এবং তদ্দ্বারা তিনি ভূমিকে উহার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। অবশ্যই ইহাতে নিদর্শন আছে, যে সম্প্রদায় কথা শুনে তাহাদের জন্য।

মুহিউদ্দীন খান

আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, তদ্বারা যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেছেন। নিশ্চয় এতে তাদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে, যারা শ্রবণ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

গবাদি পশুর মধ্যেও তোমাদের জন্যে রয়েছে একটি শিক্ষা। তাদের পেটের গোবর ও রক্তের মধ্য থেকে আমরা তোমাদের পান করাই খাঁটি দুধ, যা পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অবশ্যই গবাদিপশুর মধ্যে তোমাদের জন্য শিক্ষা রহিয়াছে। উহাদের উদরস্থিত গোবর ও রক্তের মধ্য হইতে তোমাদেরকে পান করাই বিশুদ্ধ দুগ্ধ, যাহা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তুদের মধ্যে চিন্তা করার অবকাশ রয়েছে। আমি তোমাদেরকে পান করাই তাদের উদরস্থিত বস্তুসমুহের মধ্যে থেকে গোবর ও রক্ত নিঃসৃত দুগ্ধ যা পানকারীদের জন্যে উপাদেয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর খেজুর গাছের ফল এবং আঙ্গুর থেকে তোমরা মাদক ও উত্তম খাদ্য গ্রহণ করে থাকো। এতেও সেইসব লোকদের জন্যে রয়েছে একটি নিদর্শন যারা আকল খাটায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং খর্জুর - বৃক্ষের ফল ও আঙ্গুর হইতে তোমরা মাদক ও উত্তম খাদ্য গ্রহণ করিয়া থাক; ইহাতে অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য রহিয়াছে নিদর্শন।

মুহিউদ্দীন খান

এবং খেজুর বৃক্ষ ও আঙ্গুর ফল থেকে তোমরা মধ্য ও উত্তম খাদ্য তৈরী করে থাক, এতে অবশ্যই বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু মৌমাছির কাছে অহি করেছেন: ‘‘তোমরা মৌচাক নির্মাণ করো পাহাড়ে - পর্বতে, গাছ - গাছালিতে এবং মানুষের নির্মিত উঁচু জায়গাতে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে উহার অন্তরে ইঙ্গিত দ্বারা নির্দেশ দিয়াছেন, ‘গৃহ নির্মাণ কর পাহাড়ে, বৃক্ষে ও মানুষ যে গৃহ নির্মাণ করে তাহাতে;

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তা মধু মক্ষিকাকে আদেশ দিলেনঃ পর্বতগাহ্রে, বৃক্ষ এবং উঁচু চালে গৃহ তৈরী কর,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর প্রত্যেক ফল (ফুল) থেকে কিছু কিছু খাও এবং তোমার প্রভুর প্রদর্শিত সহজ পথ অনুসরণ করো।’’ এভাবে তার পেট থেকে বের হয় বিভিন্ন বর্ণের পানীয় (মধু), যাতে মানুষের জন্যে রয়েছে নিরাময়। অবশ্যি চিন্তাশীল লোকদের জন্যে এতে রয়েছে একটি নিদর্শন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ইহার পর প্রত্যেক ফল হইতে কিছু কিছু আহার কর, অতঃপর তোমার প্রতিপালকের সহজ পথ অনুসরণ কর।’ উহার উদর হইতে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়; যাহাতে মানুষের জন্য রহিয়াছে আরোগ্য। অবশ্যই ইহাতে রহিয়াছে নিদর্শন চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।

মুহিউদ্দীন খান

এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথ সমূহে চলমান হও। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনিই তোমাদের ওফাত ঘটাবেন। তোমাদের কাউকেও কাউকেও উপনীত করা হবে জরাজীর্ণ বার্ধক্যে, যাতে করে তারা যা কিছু জানতো তা অজানা হয়ে যায়। নিশ্চয়ই জ্ঞানী এবং সক্ষম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ই তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন; অতঃপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাইবেন এবং তোমাদের মধ্যে কাহাকেও কাহাকেও উপনীত করা হইবে নিকৃষ্টতম বয়সে; ফলে উহারা যাহা কিছু জানিত সে সমন্ধে উহারা স্বজ্ঞান থাকিবে না। নিশ্চই ‌ সর্বজ্ঞ সর্বশক্তিমান।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এরপর তোমাদের মৃত্যুদান করেন। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ পৌছে যায় জরাগ্রস্ত অকর্মন্য বয়সে, ফলে যা কিছু তারা জানত সে সম্পর্কে তারা সজ্ঞান থাকবে না। নিশ্চয় সু - বিজ্ঞ সর্বশক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

জীবিকার দিক থেকে তোমাদের কাউকেও কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে তারা তাদের অধীনস্থদের এতোটা দেয়না, যাতে তারা এ ক্ষেত্রে তাদের সমান হয়ে যায়। তবে কি তারা আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ জীবনোপকরণে তোমাদের কাহাকেও কাহারও উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছেন। যাহাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হইয়াছে তাহারা তাহাদের অধীনস্থ দাস - দাসীদেরকে নিজেদের জীবনোপকরণ হইতে এমন কিছু দেয় না যাহাতে উহারা এ বিষয়ে তাহাদের সমান হইয়া যায়। তবে কি উহারা ‌র অনুগ্রহ অস্বীকার করে?

মুহিউদ্দীন খান

তা’আলা জীবনোপকরণে তোমাদের একজনকে অন্যজনের চাইতে শ্রেষ্টত্ব দিয়েছেন। অতএব যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে, তারা তাদের অধীনস্থ দাস - দাসীদেরকে স্বীয় জীবিকা থেকে এমন কিছু দেয় না, যাতে তারা এ বিষয়ে তাদের সমান হয়ে যাবে। তবে কি তারা আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সৃষ্টি করেছেন তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্যে জুড়ি এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন ছেলে - মেয়ে ও নাতি - নাতনি। তাছাড়া তিনি তোমাদের দিয়েছেন জীবিকার উপকরণসমূহ। তারপরও কি তোমরা মিথ্যার প্রতি ঈমান আনবে, আর আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি করবে কুফুরি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ‌ তোমাদের হইতেই তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করিয়াছেন এবং তোমাদের যুগল হইতে তোমাদের জন্য পুত্র - পৌত্রাদি সৃষ্টি করিয়াছেন এবং তোমাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করিয়াছেন। তবুও কি উহারা মিথ্যায় বিশ্বাস করিবে এবং উহারা কি ‌র অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে? -

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের জন্যে তোমাদেরই শ্রেণী থেকে জোড়া পয়দা করেছেন এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদেরকে পুত্র ও পৌত্রাদি দিয়েছেন এবং তোমাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছেন। অতএব তারা কি মিথ্যা বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি ইবাদত করবে ছাড়া এমন অক্ষমদের, যারা মহাকাশ এবং পৃথিবী থেকে রিযিক সরবরাহ করার কোনো শক্তিই রাখেনা?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং উহারা কি ‘ইবাদত করিবে ‌ ব্যতীত অপরের যাহাদের আকাশমণ্ডলী অথবা পৃথিবী হইতে কোন জীবনোপকরণ সরবরাহ করিবার শক্তি নাই! - এবং উহারা কিছুই করিতে সক্ষম নয়।

মুহিউদ্দীন খান

তারা ব্যতীত এমন বস্তুর ইবাদত করে, যে তাদের জন্যে ভুমন্ডল ও নভোমন্ডল থেকে সামান্য রুযী দেওয়ার ও অধিকার রাখে না এবং মুক্তি ও রাখে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তোমরা আল্লাহর কোনো মেছাল (সাদৃশ্য ও সমকক্ষ) সাব্যস্ত করোনা। জানেন এবং তোমরা জানোনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং তোমরা ‌র কোন সদৃশ স্থির করিও না। ‌ জানেন এবং তোমরা জান না।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আল্লাহর কোন সদৃশ সাব্যস্ত করো না, নিশ্চয় জানেন এবং তোমরা জান না।

আবদুস শহীদ নাসিম

উপমা দিচ্ছেন অপরের অধীনস্থ এক দাসের, যে কোনো কিছুর উপর সামর্থ রাখেনা। আরো উপমা দিচ্ছেন এমন এক ব্যক্তির যাকে তিনি নিজ থেকে উত্তম রিযিক দিয়েছেন এবং সে তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে, এই দুই ব্যক্তি কি সমতুল্য? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, বরং তাদের অধিকাংশই জানেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ উপমা দিতেছেন অপরের অধিকারভুক্ত এক দাসের, যে কোন কিছুর উপর শক্তি রাখে না এবং এমন এক ব্যক্তির যাহাকে তিনি নিজ হইতে উত্তম রিযিক দান করিয়াছেন এবং সে উহা হইতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে; উহারা কি একে অপরের সমান? সকল প্রশংসা ‌রই প্রাপ্য অথচ উহাদের অধিকাংশই ইহা জানে না।

মুহিউদ্দীন খান

একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন, অপরের মালিকানাধীন গোলামের যে, কোন কিছুর উপর শক্তি রাখে না এবং এমন একজন যাকে আমি নিজের পক্ষ থেকে চমৎকার রুযী দিয়েছি। অতএব, সে তা থেকে ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে উভয়ে কি সমান হয়? সব প্রশংসা আল্লাহর, কিন্তু অনেক মানুষ জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো উপমা দিচ্ছেন দুই ব্যক্তির, তাদের একজন বোবা, সে কোনো কিছুরই সামর্থ রাখেনা এবং সে তার মনিবের বোঝা স্বরূপ। তাকে যেখানেই পাঠানো হোক না কেন, ভালো কিছু করে আসতে পারেনা, সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য, যে ন্যায়ের আদেশ করে এবং সিরাতুল মুসতাকিমের উপর চলে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ আরও উপমা দিতেছেন দুই ব্যক্তির : উহাদের একজন মূক, কোন কিছুরই শক্তি রাখে না এবং সে তাহার প্রভুর ভারস্বরূপ; তাহাকে যেখানেই পাঠান হউক না কেন সে ভাল কিছুই করিয়া আসিতে পারে না ; সে কি সমান হইবে ঐ ব্যক্তির, যে ন্যায়ের নির্দেশ দেয় এবং যে আছে সরল পথে?

মুহিউদ্দীন খান

আরেকটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন, দু’ব্যক্তির, একজন বোবা কোন কাজ করতে পারে না। সে মালিকের উপর বোঝা। যেদিকে তাকে পাঠায়, কোন সঠিক কাজ করে আসে না। সে কি সমান হবে ঐ ব্যক্তির, যে ন্যায় বিচারের আদেশ করে এবং সরল পথে কায়েম রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীর গায়েবের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই রয়েছে। কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবার ব্যাপারটা তো চোখের পলকের মতো, বরং তার চাইতেও নিকটতর। সব বিষয়ের উপর সর্বশক্তিমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর বিষয়ের জ্ঞান ‌রই এবং কিয়ামতের ব্যাপার তো চক্ষুর পলকের ন্যায়, বরং উহা অপেক্ষাও স্বত্বর। নিশ্চয়ই ‌ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

মুহিউদ্দীন খান

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন রহস্য আল্লাহর কাছেই রয়েছে। কিয়ামতের ব্যাপারটি তো এমন, যেমন চোখের পলক অথবা তার চাইতেও নিকটবর্তী। নিশ্চয় সব কিছুর উপর শক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে আল্লাহই তোমাদের বের করে এনেছেন। তখন তোমরা কিছুই জানতে না। আর তিনিই তোমাদের দিয়েছেন শ্রবণ শক্তি, দৃষ্টি শক্তি এবং হৃদয়, যাতে করে তোমরা (তাঁর) শোকর আদায় করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ‌ তোমাদেরকে বাহির করিয়াছেন তোমাদের মাতৃগর্ভ হইতে এমন অবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানিতে না। তিনি তোমাদেরকে দিয়াছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং হৃদয়, যাহাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে বের করেছেন। তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি শূন্য আকাশে নিয়ন্ত্রণাধীন পাখিদের প্রতি লক্ষ্য করে দেখেনি? ছাড়া কেউ তাদের ধরে রাখেনা। এতে অনেকগুলো নিদর্শন রয়েছে মুমিনদের জন্যে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা কি লক্ষ্য করে না আকাশের শূন্যগর্ভে নিয়ন্ত্রণাধীন বিহংগের প্রতি? ‌ ব্যতীত অন্য কেহই সেইগুলিকে স্থির রাখে না। অবশ্যই ইহাতে নিদর্শন রহিয়াছে সম্প্রদায়ের জন্য।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি উড়ন্ত পাখীকে দেখে না? এগুলো আকাশের অন্তরীক্ষে আজ্ঞাধীন রয়েছে। ছাড়া কেউ এগুলোকে আগলে রাখে না। নিশ্চয় এতে বিশ্বাসীদের জন্যে নিদর্শনবলী রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহই তোমাদের জন্যে তোমাদের ঘরকে শান্তির আবাস বানিয়েছেন, তিনিই তোমাদের জন্যে পশুর চামড়া দিয়ে তাবুর ব্যবস্থা করেন, সেগুলোকে তোমরা হালকা মনে করো ভ্রমণকালে এবং অবস্থানকালে। তিনিই তোমাদের জন্যে ব্যবস্থা করেন সেগুলোর পশম, লোম ও কেশ থেকে স্বল্প কালের গৃহসামগ্রী এবং ব্যবহারের উপরকণ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ‌ তোমাদের গৃহকে করেন তোমাদের আবাসস্থল এবং তিনি তোমাদের জন্য পশুচর্মের তাঁবুর ব্যবস্থা করেন, তোমরা উহাকে সহজ মনে কর ভ্রমণকালে এবং অবস্থানকালে। এবং তিনি তোমাদের জন্য ব্যবস্থা করেন উহাদের পশম, লোম ও কেশ হইতে কিছু কালের গৃহসামগ্রী ও ব্যবহার - উপকরণ।

মুহিউদ্দীন খান

করে দিয়েছেন তোমাদের গৃহকে অবস্থানের জায়গা এবং চতুস্পদ জন্তুর চামড়া দ্বারা করেছেন তোমার জন্যে তাঁবুর ব্যবস্থা। তোমরা এগুলোকে সফরকালে ও অবস্থান কালে পাও। ভেড়ার পশম, উটের বাবরি চুল ও ছাগলের লোম দ্বারা কত আসবাবপত্র ও ব্যবহারের সামগ্রী তৈরী করেছেন এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যা কিছু সৃষ্টি করেন সেগুলো থেকে তিনি তোমাদের জন্যে ছায়ার ব্যবস্থা করেন, তিনি তোমাদের জন্যে পাহাড়ে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন, তিনি তোমাদের জন্যে ব্যবস্থা করেন পরিধেয় বস্ত্রের যা তোমাদের রক্ষা করে তাপ থেকে এবং তিনি তোমাদের জন্যে ব্যবস্থা করেন বর্মের যা তোমাদের রক্ষা করে যুদ্ধে। এভাবেই তিনি তোমাদের জন্যে তাঁর নিয়ামত পূর্ণ করেন যাতে করে তোমরা তাঁর প্রতি বিনত থাকো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ‌ যাহা কিছু সৃষ্টি করিয়াছেন তাহা হইতে তিনি তোমাদের জন্য ছায়ার ব্যবস্থা করেন এবং তোমাদের জন্য পাহাড়ে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন এবং তোমাদের জন্য ব্যবস্থা করেন পরিধেয় বস্ত্রের; উহা তোমাদেরকে তাপ হইতে রক্ষা করে এবং তিনি ব্যবস্থা করেন তোমাদের জন্য বর্মের, উহা তোমাদেরকে যুদ্ধে রক্ষা করে। এইভাবে তিনি তোমাদের প্রতি তাঁহার অনুগ্রহ পূর্ণ করেন যাহাতে তোমরা আত্মসমর্পণ কর।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের জন্যে সৃজিত বস্তু দ্বারা ছায়া করে দিয়েছেন এবং পাহাড় সমূহে তোমাদের জন্যে আত্ন গোপনের জায়গা করেছেন এবং তোমাদের জন্যে পোশাক তৈরী করে দিয়েছেন, যা তোমাদেরকে গ্রীষ্ম এবং বিপদের সময় রক্ষা করে। এমনিভাবে তিনি তোমাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহের পূর্ণতা দান করেন, যাতে তোমরা আত্নসমর্পণ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর পরেও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে হে নবী! তোমার উপর স্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছে দেয়া ছাড়া আর কোনো দায়দায়িত্ব নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহারা যদি মুখ ফিরাইয়া নেয় তবে তোমার কর্তব্য তো কেবল স্পষ্টভাবে বাণী পৌঁছাইয়া দেওয়া।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যদি তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে, তবে আপনার কাজ হল সুস্পষ্ট ভাবে পৌছে দেয়া মাত্র।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আল্লাহর নিয়ামত চিনতে পারে, তারপরেও সেগুলো অস্বীকার করে। আসলে তাদের অধিকাংশই ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা ‌র নিয়ামত চিনিতে পারে; তারপরও সেগুলি উহারা অস্বীকার করে এবং উহাদের অধিকাংশই ।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আল্লাহর অনুগ্রহ চিনে, এরপর অস্বীকার করে এবং তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তাদের কী অবস্থা হবে, যেদিন আমরা প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবো, তারপর কাফিরদেরকে (কৈফিয়ত দেয়ার) কোনো অনুমতি দেয়া হবেনা এবং তাদের কোনো ওযরও গ্রহণ করা হবেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায় হইতে এক একজন সাক্ষী উত্থিত করিব সেদিন কাফিরদেরকে অনুমতি দেওয়া হইবে না এবং উহাদের কোন ওযরও গৃহীত হইবে না।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব, তখন কাফেরদেরকে অনুমতি দেয়া হবে না এবং তাদের তওবা ও গ্রহণ করা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যালিমরা যখন আযাব দেখতে পাবে, তখন তাদের শাস্তি আর হালকা করা হবেনা এবং তাদেরকে কোনো অবকাশও দেয়া হবেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন জালিমরা শাস্তি প্রত্যক্ষ করিবে তখন উহাদের শাস্তিলঘু করা হইবে না এবং উহাদেরকে কোন অবকাশ দেওয়া হইবে না।

মুহিউদ্দীন খান

যখন জালেমরা আযাব প্রত্যক্ষ করবে, তখন তাদের থেকে তা লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে কোন অবকাশ দেয়া হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর সাথে শরিকদার বানিয়েছিল, তারা যখন তাদের বানানো শরিকদারদের দেখবে, তখন বলবে: ‘প্রভু! এরাই আমাদের বানানো শরিকদার, তোমার পরিবর্তে আমরা এদেরকেই ডাকতাম।’ উত্তরে তারা বলবে: ‘অবশ্যি তোমরা মিথ্যাবাদী।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুশরিকরা যাহাদেরকে ‌র শরীক করিয়াছিল, তাহাদেরকে যখন দেখিবে তখন তাহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! ইহারাই তাহারা, যাহাদেরকে আমরা তোমার শরীক করিয়াছিলাম, যাহাদেরকে আমরা আহ্বান করিতাম তোমার পরিবর্তে; অতঃপর তদুত্তরে উহারা বলিবে, ‘তোমরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।’

মুহিউদ্দীন খান

মুশরিকরা যখন ঐ সব বস্তুকে দেখবে, যেসবকে তারা আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্ত করেছিল, তখন বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা এরাই তারা যারা আমাদের শেরেকীর উপাদান, তোমাকে ছেড়ে আমরা যাদেরকে ডাকতাম। তখন ওরা তাদেরকে বলবেঃ তোমরা মিথ্যাবাদী।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং যাদেরকে তারা উদ্ভাবন করে নিয়েছিল তারা সব উধাও হয়ে যাবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই দিন তাহারা নিকট আত্মসর্মপণ করিবে এবং তাহারা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করিত তাহা তাহাদের জন্য নিষ্ফল হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন তারা আল্লাহর সামনে আত্নসমর্পন করবে এবং তারা যে মিথ্যা অপবাদ দিত তা বিস্মৃত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কুফুরি করেছে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, আমরা তাদের আযাবের উপর আযাব বাড়িয়ে দেবো, কারণ তারা ফাসাদ সৃষ্টি করেছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি শাস্তির পর শাস্তি বৃদ্ধি করিব কাফিরদের ও ‌র পথে বাধাদানকারীদের; কারণ তাহারা অশান্তি সৃষ্টি করিত।

মুহিউদ্দীন খান

যারা হয়েছে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, আমি তাদেরকে আযাবের পর আযাব বাড়িয়ে দেব। কারণ, তারা অশান্তি সৃষ্টি করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন আমরা প্রত্যেক জাতি থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী দাঁড় করাবো আর তোমাকে নিয়ে আসবো তাদের সবার বিষয়ে সাক্ষী হিসেবে। আর আমরা নাযিল করেছি তোমার প্রতি আল - কিতাব প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা সম্বলিত, আর সেটি হলো একটি পথ নির্দেশ, একটি অনুকম্পা এবং একটি সুসংবাদ মুসলিমদের জন্যে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই দিন আমি উত্থিত করিব প্রত্যেক সম্প্রদায়ে তাহাদেরই মধ্য হইতে তাহাদের বিষয়ে এক একজন সাক্ষী এবং তোমাকে আমি আনিব সাক্ষীরূপে ইহাদের বিষয়ে। আমি আত্মাসমপর্ণকারীদের জন্য প্রত্যেক বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, পথনির্দেশ, দয়া ও সুসংবাদস্বরূপ তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করিলাম।

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে আমি একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব তাদের বিপক্ষে তাদের মধ্য থেকেই এবং তাদের বিষয়ে আপনাকে সাক্ষী স্বরূপ উপস্থাপন করব। আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাযিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ।

আবদুস শহীদ নাসিম

নির্দেশ দিচ্ছেন আদল (ন্যায়বিচার) ও ইহসান (উপকার) করার, আত্মীয় - স্বজনকে দান করার। আর নিষেধ করছেন ফাহেশা কাজ, অন্যায় কাজ এবং সীমালংঘন থেকে। তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই ‌ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয় - স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি নিষেধ করেন অশ্লীলতা, অসৎকর্ম ও সীমালংঘন; তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন যাহাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।

মুহিউদ্দীন খান

ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্নীয় - স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করবে যখন পরস্পর অঙ্গীকার করো। তোমরা তোমাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করোনা আল্লাহকে জামিন বানিয়ে অঙ্গীকার মজবুত করার পর। তোমরা যা - ই করো না কেন তা জানেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা ‌র অঙ্গীকার পূর্ণ করিও যখন পরস্পর অঙ্গীকার কর এবং তোমরা ‌কে তোমাদের যামিন করিয়া শপথ দৃঢ় করিবার পর উহা ভঙ্গ করিও না। তোমরা যাহা কর নিশ্চয়ই ‌ তা জানেন।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করার পর সে অঙ্গীকার পূর্ণ কর এবং পাকাপাকি কসম করার পর তা ভঙ্গ করো না, অথচ তোমরা আল্লাহকে জামিন করেছ। তোমরা যা কর তা জানেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা হয়োনা সেই নারীর মতো, যে মজবুত করে সূতা পাকানোর পর পাক খুলে সেগুলো নষ্ট করে দেয়। তোমরা তোমাদের শপথ পরস্পরকে ঠকানোর জন্যে ব্যবহার করে থাকো, যাতে করে একদল লোক অন্য দল থেকে অধিক লাভবান হয়। এর দ্বারা তোমাদের পরীক্ষা করেন। কিয়ামতের দিন তা স্পষ্টভাবে তোমাদের জন্যে প্রকাশ করে দেবেন, যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করতে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা সেই নারীর মত হইও না, যে তাহার সূতা মযবুত করিয়া পাকাইবার পর উহার পাক খুলিয়া নষ্ট করিয়া দেয়। তোমাদের শপথ তোমরা পরস্পরকে প্রবঞ্চনা করিবার জন্য ব্যবহার করিয়া থাক, যাহাতে একদল অন্যদল অপেক্ষা অধিক লাভবান হও। ‌ তো ইহা দ্বারা কেবল তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন। ‌ কিয়ামতের দিন তাহা নিশ্চয়ই স্পষ্টভাবে প্রকাশ করিয়া দিবেন যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করিতে।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা ঐ মহিলার মত হয়ো না, যে পরিশ্রমের পর কাটা সূতা টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ফেলে, তোমরা নিজেদের কসমসমূহকে পারস্পরিক প্রবঞ্চনার বাহানা রূপে গ্রহণ কর এজন্যে যে, অন্য দল অপেক্ষা এক দল অধিক ক্ষমতাবান হয়ে যায়। এতদ্বারা তো শুধু তোমাদের পরীক্ষা করেন। অবশ্যই কিয়ামতের দিন প্রকাশ করে দেবেন, যে বিষয়ে তোমরা কলহ করতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

চাইলে তিনি তোমাদের এক উম্মত বানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি যাকে চান বিপথগামী করেন এবং যাকে চান সঠিক পথ দেখান। তোমরা যা করছো সে বিষয়ে অবশ্যি তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইচ্ছা করিলে ‌ তোমাদেরকে এক জাতি করিতে পারিতেন, কিন্তু তিনি যাহাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। তোমরা যাহা কর সে বিষয়ে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে এক জাতি করে দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিপথগামী করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। তোমরা যা কর সে বিষয়ে অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা পরস্পরকে ঠকানোর জন্যে তোমাদের শপথকে ব্যবহার করোনা, যদি তা করো, তবে পা অবিচল হবার পর তা পিছলে যাবে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করার কারণে শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করবে, আর তোমাদের জন্যে মহা আযাব তো রয়েছেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পরস্পর প্রবঞ্চনা করিবার জন্য তোমরা তোমাদের শপথকে ব্যবহার করিও না; করিলে পা স্থির হওয়ার পর পিছলাইয়া যাইবে এবং ‌র পথে বাধা দেওয়ার কারণে তোমরা শাস্তির আস্বাদ গ্রহণ করিবে; তোমাদের জন্য রহিয়াছে মহাশাস্তি।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা স্বীয় কসমসমূহকে পারস্পরিক কলহ দ্বন্দ্বের বাহানা করো না। তা হলে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পা ফসকে যাবে এবং তোমরা শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করবে এ কারণে যে, তোমরা আমার পথে বাধা দান করেছ এবং তোমাদের কঠোর শাস্তি হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা আল্লাহর সাথে করা অঙ্গীকার তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করোনা। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে যা রয়েছে সেটাই তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা জানতে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা ‌র সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করিও না। ‌র নিকট যাহা আছে কেবল তাহাই তোমাদের জন্য উত্তম - যদি তোমরা জানিতে!

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকারের বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে যা আছে, তা উত্তম তোমাদের জন্যে, যদি তোমরা জ্ঞানী হও।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কাছে যা আছে তা ফুরিয়ে যায় আর আল্লাহর কাছে যা আছে, তা অফুরন্ত। যারা সবর অবলম্বন করে আমরা তাদের আমলের চাইতেও শ্রেষ্ঠ পুরস্কার তাদের দান করবো (অথবা আমরা তাদের সর্বোত্তম আমলের ভিত্তিতে তাদের পুরস্কার দেবো।)

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের নিকট যাহা আছে তাহা নিঃশেষ হইবে এবং ‌র নিকট যাহা আছে তাহা স্থায়ী। যাহারা ধৈর্য ধারণ করে আমি নিশ্চয়ই তাহাদেরকে তাহারা যাহা করে তাহা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করিব।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কাছে যা আছে নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং আল্লাহর কাছে যা আছে, কখনও তা শেষ হবে না। যারা সবর করে, আমি তাদেরকে প্রাপ্য প্রতিদান দেব তাদের উত্তম কর্মের প্রতিদান স্বরূপ যা তারা করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কোনো পুরুষ বা নারী আমলে সালেহ্ করবে অবস্থায়, আমরা অবশ্যি তাকে পবিত্র জীবন দান করবো এবং তাদেরকে তাদের আমলের চাইতে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করবো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হইয়া পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ সৎকর্ম করিবে তাহাকে আমি নিশ্চয়ই পবিত্র জীবন দান করিব এবং তাহাদেরকে তাহাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করিব।

মুহিউদ্দীন খান

যে সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং সে ঈমাণদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং প্রতিদানে তাদেরকে তাদের উত্তম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরষ্কার দেব যা তারা করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যখন কুরআন পাঠ করবে, তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চেয়ে নেবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন কুরআন পাঠ করিবে তখন অভিশপ্ত শয়তান হইতে ‌র শরণ লইবে।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, যখন আপনি কোরআন পাঠ করেন তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করুন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে এবং তাদের প্রভুর উপর তাওয়াক্কুল করে তাদের উপর তার (শয়তানের) কোনো কর্তৃত্ব নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই উহার কোন আধিপত্য নাই তাহাদের উপর যাহারা ঈমান আনে ও তাহাদের প্রতিপালকেরই উপর নির্ভর করে।

মুহিউদ্দীন খান

তার আধিপত্য চলে না তাদের উপর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আপন পালন কর্তার উপর ভরসা রাখে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে তো কর্তৃত্ব খাটায় কেবল তাদের উপর, যারা তাকে অলি (অভিভাবক) বানিয়ে নিয়েছে এবং যারা মুশরিক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহার আধিপত্য তো কেবল তাহাদেরই উপর যাহারা উহাকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে এবং যাহারা ‌র শরীক করে।

মুহিউদ্দীন খান

তার আধিপত্য তো তাদের উপরই চলে, যারা তাকে বন্ধু মনে করে এবং যারা তাকে অংশীদার মানে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যখন একটি আয়াতের বদলে আরেকটি আয়াত উপস্থিত করি, আর আল্লাহই অধিক জানেন তিনি কী নাযিল করেন, তখন তারা বলে: ‘তুমি তো একজন মিথ্যা রচনাকারী।’ বরং তাদেরই অধিকাংশ লোক জানেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি যখন এক আয়াতের পরিবর্তে অন্য এক আয়াত উপস্থিত করি - ‌ যাহা অবতীর্ণ করেন তাহা তিনিই ভাল জানেন, তখন তাহারা বলে, ‘তুমি তো কেবল মিথ্যা উদ্ভাবনকারী’; কিন্তু উহাদের অধিকাংশই জানে না।

মুহিউদ্দীন খান

এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি বলো, তোমার প্রভুর কাছ থেকে তা (আল - কুরআন) সত্যসহ নাযিল করে রুহুল কুদুস (জিবরিল) ঈমানদারদের বিশ্বাসকে মজবুত করার জন্যে। তাছাড়া এটি একটি পথ নির্দেশ এবং সুসংবাদ মুসলিমদের জন্যে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে রুহুল - কুদুস জিবরাঈল সত্যসহ কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছে, যাহারা তাহাদেরকে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত করিবার জন্য এবং হিদায়াত ও সুসংবাদস্বরূপ মুসলিমদের জন্য।’

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, একে পবিত্র ফেরেশতা পালনকর্তার পক্ষ থেকে নিশ্চিত সত্যসহ নাযিল করেছেন, যাতে মুমিনদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং এটা মুসলমানদের জন্যে পথ নির্দেশ ও সু - সংবাদ স্বরূপ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা জানি, তারা (তোমার সম্পর্কে) বলে: ‘তাকে শিক্ষা দেয় তো একজন মানুষ।১’ তারা যার প্রতি একথা আরোপ করে সে তো একজন অনারব, অথচ এ কুরআন সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো জানি, তাহারা বলে, ‘তাহাকে শিক্ষা দেয় এক মানুষ।’ উহারা যাহার প্রতি ইহা আরোপ করে তাহার ভাষা তো আরবী নয়; কিন্তু কুরআনের ভাষা স্পষ্ট আরবী ভাষা।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তো ভালভাবেই জানি যে, তারা বলেঃ তাকে জনৈক ব্যক্তি শিক্ষা দেয়। যার দিকে তারা ইঙ্গিত করে, তার ভাষা তো আরবী নয় এবং এ কোরআন পরিষ্কার আরবী ভাষায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর আয়াতের প্রতি ঈমান আনেনা, তাদের সঠিক পথ দেখাননা। তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ‌র নিদর্শনে বিশ্বাস করে না, তাহাদেরকে ‌ হিদায়াত করেন না এবং তাহাদের জন্য আছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

মুহিউদ্দীন খান

যারা আল্লাহর কথায় বিশ্বাস করে না, তাদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

মিথ্যা রচনা করে তো তারা, যারা আল্লাহর আয়াতের প্রতি ঈমান আনেনা। তারাই হলো মিথ্যাবাদী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ‌র নিদর্শনে বিশ্বাস করে না তাহারা তো কেবল মিথ্যা উদ্ভাবন করে এবং তাহারাই মিথ্যাবাদী।

মুহিউদ্দীন খান

মিথ্যা কেবল তারা রচনা করে, যারা আল্লাহর নিদর্শনে বিশ্বাস করে না এবং তারাই মিথ্যাবাদী।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কেউ ঈমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফুরি করবে এবং কুফুরির জন্যে তার হৃদয়কে উদার রাখবে, তাদের উপর আপতিত হবে আল্লাহর গজব এবং তাদের জন্যে রয়েছে বিরাট আযাব। তবে ঐ ব্যক্তি নয়, যাকে (কুফরির জন্যে) বাধ্য করা হয়েছে এবং যার হৃদয় ঈমানের উপর অটল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কেহ তাহার ঈমান আনার পর ‌কে অস্বীকার করিলে এবং কুফরীর জন্য হৃদয় উন্মুক্ত রাখিলে তাহার উপর আপতিত হইবে ‌র গযব এবং তাহার জন্য আছে মহাশাস্তি; তবে তাহার জন্য নয়, যাহাকে কুফরীর জন্য বাধ্য করা হয় কিন্তু তাহার চিত্ত ঈমানে অবিচলিত।

মুহিউদ্দীন খান

যার উপর জবরদস্তি করা হয় এবং তার অন্তর বিশ্বাসে অটল থাকে সে ব্যতীত যে কেউ হওয়ার পর আল্লাহতে অবিশ্বাসী হয় এবং কুফরীর জন্য মন উম্মুক্ত করে দেয় তাদের উপর আপতিত হবে আল্লাহর গযব এবং তাদের জন্যে রয়েছে শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর কারণ, তারা দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের উপর প্রাধান্য দেয় এবং কাফিরদের সঠিক পথ দেখান না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা এইজন্য যে, তাহারা দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের উপর প্রাধান্য দেয় এবং ‌ সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

এটা এ জন্যে যে, তারা পার্থিব জীবনকে পরকালের চাইতে প্রিয় মনে করেছে এবং অবিশ্বাসীদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা সেইসব লোক, যাদের হৃদয়ে, কানে এবং চোখে সীলমোহর মেরে দিয়েছেন। এরাই গাফিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারাই তাহারা, ‌ যাহাদের অন্তর, কর্ণ ও চক্ষু মোহর করিয়া দিয়াছেন এবং উহারাই গাফিল।

মুহিউদ্দীন খান

এরাই তারা, তা’য়ালা এদেরই অন্তর, কর্ণ ও চক্ষুর উপর মোহর মেরে দিয়েছেন এবং এরাই কান্ড জ্ঞানহীন।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চিতই আখিরাতে এরা হবে ক্ষতিগ্রস্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই উহারা তো আখিরাতে হইবে ক্ষতিগ্রস্ত।

মুহিউদ্দীন খান

বলাবাহুল্য পরকালে এরাই ক্ষতি গ্রস্ত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা নির্যাতিত হবার পর হিজরত করেছে, তারপর জিহাদ করেছে এবং অটল থেকেছে, তোমার প্রভু এই অটল থাকার পর তাদের প্রতি অবশ্যি পরম ক্ষমাশীল দয়াবান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা নির্যাতিত হইবার পর হিজরত করে, পরে জিহাদ করে এবং ধৈর্য ধারণ করেন, তোমার প্রতিপালক এই সবের পর, তাহাদের প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

মুহিউদ্দীন খান

যারা দুঃখ - কষ্ট ভোগের পর দেশত্যাগী হয়েছে অতঃপর জেহাদ করেছে, নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা এসব বিষয়ের পরে অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে আসবে এবং প্রত্যেককেই তার কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর সেই দিনকে, যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি আত্মসমর্থনে যুক্তি উপস্থিত করিতে আসিবে এবং প্রত্যেককে তাহার কৃতকর্মের পূর্ণফল দেওয়া হইবে। এবং তাহাদের প্রতি জুলুম করা হইবে না।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি আত্ন - সমর্থনে সওয়াল জওয়াব করতে করতে আসবে এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাদের কৃতকর্মের পূর্ণ ফল পাবে এবং তাদের উপর জুলুম করা হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

উপমা দিচ্ছেন একটি জনপদের, যেটি ছিলো নিরাপদ নিশ্চিন্ত। সেখানে আসতো সবদিক থেকে প্রচুর জীবনোপকরণ। তারপর সেই জনপদ আল্লাহর প্রতি কুফুরি করলো, ফলে তাদের কর্মকান্ডের জন্যে তাদের আস্বাদন করান ক্ষুধা ও ভয়ের পোশাক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ দৃষ্টান্ত দিতেছেন এক জনপদের যাহা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত, যেখানে আসিত সর্বদিক হইতে উহার প্রচুর জীবনোপকরণ; অতঃপর উহা ‌র অনুগ্রহ অস্বীকার করিল, ফলে তাহারা যাহা করিত তজ্জন্য তাহাদেরকে স্বাদ গ্রহণ করাইলেন ক্ষুধা ও ভীতির আচ্ছাদনের।

মুহিউদ্দীন খান

দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন একটি জনপদের, যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত, তথায় প্রত্যেক জায়গা থেকে আসত প্রচুর জীবনোপকরণ। অতঃপর তারা আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। তখন তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের কারণে স্বাদ আস্বাদন করালেন, ক্ষুধা ও ভীতির।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কাছে তাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল এসেছিল, কিন্তু তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তাদের পাকড়াও করে আযাব। আর তারা ছিলো যালিম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের নিকট তো আসিয়াছিল এক রাসূল তাহা - দেরই মধ্য হইতে, কিন্তু তাহারা তাহাকে অস্বীকার করিয়াছিল। ফলে সীমালংঘন করা অবস্থায় শাস্তি তাহাদেরকে গ্রাস করিল।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের কাছে তাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল আগমন করেছিলেন। অনন্তর ওরা তাঁর প্রতি মিথ্যারোপ করল। তখন আযাব এসে তাদরকে পাকড়াও করল এবং নিশ্চিতই ওরা ছিল পাপাচারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের যে হালাল ও উত্তম জীবিকা দিয়েছেন তা থেকে তোমরা খাও এবং তোমরা আল্লাহর নিয়ামতের শোকর আদায় করো যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করে থাকো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ তোমাদেরকে হালাল ও পবিত্র যাহা দিয়াছেন তাহা হইতে তোমরা আহার কর এবং ‌র অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর যদি তোমরা কেবল তাঁহারই ‘ইবাদত কর।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তোমাদেরকে যেসব হালাল ও পবিত্র বস্তু দিয়েছেন, তা তোমরা আহার কর এবং আল্লাহর অনুগ্রহের জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর যদি তোমরা তাঁরই এবাদতকারী হয়ে থাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন মৃত প্রাণী, (প্রবাহিত) রক্ত, শুয়োরের মাংস এবং যা ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে জবাই করা হয়েছে তা। তবে কেউ যদি অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং সে যদি বিদ্রোহ কিংবা সীমালংঘন না করে কিছু খেয়ে নেয় (তার দোষ হবেনা), নিশ্চয়ই মহাক্ষমাশীল দয়াময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ তো কেবল মৃত জন্তু, রক্ত, শূকর - মাংস এবং যাহা যবেহকালে ‌র পরিবর্তে অন্যের নাম লওয়া হইয়াছে তাহাই তোমাদের জন্য হারাম করিয়াছেন, কিন্তু কেহ অবাধ্য কিংবা সীমা লঙ্ঘনকারী না হইয়া অনোন্যপায় হইলে ‌ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

মুহিউদ্দীন খান

অবশ্যই তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন রক্ত, শুকরের মাংস এবং যা জবাই কালে ছাড়া অন্যের নাম উচ্চারণ করা হয়েছে। অতঃপর কেউ সীমালঙ্ঘন কারী না হয়ে নিরুপায় হয়ে পড়লে তবে, ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের জবান মিথ্যারোপ করে বলে, এটা হালাল আর এটা হারাম, তোমরা এভাবে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করোনা। যারা মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করে তারা কখনো সফল হবেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা আরোপ করে বলিয়া ‌র প্রতি মিথ্যা আরোপ করিবার জন্য তোমরা বলিও না, ‘ইহা হালাল এবং উহা হারাম।’ নিশ্চয়ই যাহারা ‌ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করিবে তাহারা হইবে না।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের মুখ থেকে সাধারনতঃ যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে তেমনি করে তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বল না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে, তাদের মঙ্গল হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের ভোগ বিলাস সামান্য ক’দিনের এবং তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের সুখ - সম্ভোগ সামান্যই এবং উহাদের জন্য রহিয়াছে মর্মন্তুদ শাস্তি।

মুহিউদ্দীন খান

যৎসামান্য সুখ - সম্ভোগ ভোগ করে নিক। তাদের জন্যে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইহুদিদের জন্যে আমরা সে সবই হারাম করেছিলাম, যা তোমার কাছে আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি। আমরা তাদের প্রতি কোনো যুলুম করিনি, বরং তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইয়াহূদীদের জন্য আমি তো কেবল তাহাই হারাম করিয়াছিলাম যাহা তোমার নিকট আমি পূর্বে উল্লেখ করিয়াছি এবং আমি উহাদের উপর কোন জুলুম করি নাই, কিন্তু উহারাই জুলুম করিত নিজেদের প্রতি।

মুহিউদ্দীন খান

ইহুদীদের জন্যে আমি তো কেবল তাই হারাম করেছিলাম যা ইতিপূর্বে আপনার নিকট উল্লেখ করেছি। আমি তাদের প্রতি কোন জুলুম করিনি, কিন্তু তারাই নিজেদের উপর জুলুম করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা অজ্ঞতাবশত পাপ কাজ করে, তারপরে তওবা করে এবং নিজেদেরকে এস্লাহ (সংশোধন) করে নেয়, নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মহাক্ষমাশীল, দয়াময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর যাহারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কর্ম করে তাহারা পরে তওবা করিলে ও নিজেদেরকে সংশোধন করিলে তাহাদের জন্য তোমার প্রতিপালক অবশ্য অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

মুহিউদ্দীন খান

অনন্তর যারা অজ্ঞতাবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর তওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয়, আপনার পালনকর্তা এসবের পরে তাদের জন্যে অবশ্যই ক্ষমাশীল, দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইবরাহিম ছিলো একাই একটি উম্মত, আল্লাহর অনুগত, নিষ্ঠাবান এবং সে মুশরিকদের অন্তরভুক্ত ছিলনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইব্‌রাহিম ছিল এক ‘উম্মত’, ‌র অনুগত, একনিষ্ঠ এবং সে ছিল না মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত;

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় ইব্রাহীম ছিলেন এক সম্প্রদায়ের প্রতীক, সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে এক আল্লাহরই অনুগত এবং তিনি শেরককারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে ছিলো আল্লাহর নিয়ামতরাজির জন্যে কৃতজ্ঞ। তিনি তাকে মনোনীত করেছিলেন এবং পরিচালিত করেছিলেন সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে ছিল ‌র অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞ; ‌ তাহাকে মনোনীত করিয়াছিলেন এবং তাহাকে পরিচালিত করিয়াছিলেন সরল পথে।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি তাঁর অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী ছিলেন। তাঁকে মনোনীত করেছিলেন এবং সরল পথে পরিচালিত করেছিলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাকে দুনিয়ায় দিয়েছিলাম কল্যাণ এবং নিশ্চয়ই আখিরাতেও সে থাকবে সালেহ্ লোকদের অন্তরভুক্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তাহাকে দুনিয়ায় দিয়াছিলাম মঙ্গল এবং আখিরাতেও, সে নিশ্চয়ই সৎকর্মপরায়ণদের অন্যতম।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাঁকে দুনিয়াতে দান করেছি কল্যাণ এবং তিনি পরকালেও সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভূক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমরা তোমাকে অহির মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছি: তুমি নিষ্ঠাবান ইবরাহিমের মিল্লাতের (আদর্শের) অনুসরণ করো। সে মুশরিকদের অন্তরভুক্ত ছিলনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এখন আমি তোমাদের প্রতি প্রত্যাদেশ করিলাম, ‘তুমি একনিষ্ঠ ইব্‌রাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর; এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আপনার প্রতি প্রত্যাদেশ প্রেরণ করেছি যে, ইব্রাহীমের অনুসরণ করুন, যিনি একনিষ্ঠ ছিলেন এবং শিরককারীদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

শনিবার পালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল তাদের জন্যে, যারা এ নিয়ে মতভেদ করতো। তারা যে বিষয়ে মতভেদ করতো তোমার প্রভু অবশ্যি সে বিষয়ে কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শনিবার পালন তো কেবল তাহাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হইয়াছিল, যাহারা এ সম্বন্ধে মতভেদ করিত। যে বিষয়ে উহারা মতভেদ করিত তোমার প্রতিপালক তো অবশ্যই কিয়ামতের দিন সে বিষয়ে উহাদের বিচার - মীমাংসা করিয়া দিবেন।

মুহিউদ্দীন খান

শনিবার দিন পালন যে, নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা তাদের জন্যেই যারা এতে মতবিরোধ করেছিল। আপনার পালনকর্তা কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুর পথের দিকে মানুষকে দাওয়াত দাও হিকমত এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করবে উত্তম পন্থায়। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু জানেন, কারা সঠিক পথ থেকে বিপথগামী হয়, আর সঠিক পথ প্রাপ্তদেরও তিনি ভালোভাবে জানেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং উহাদের সঙ্গে তর্ক করিবে উত্তম পন্থায়। তোমার প্রতিপালক, তাঁহার পথ ছাড়িয়া কে বিপথগামী হয়, সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত এবং কাহারা সৎপথে আছে তাহাও তিনি সবিশেষ অবহিত।

মুহিউদ্দীন খান

আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহবান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরূপে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন পছন্দ যুক্ত পন্থায়। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষ ভাবে জ্ঞাত রয়েছেন, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে চাও, তবে ঠিক ততোখানি নেবে যতোটা শাস্তি তোমাদের দেয়া হয়েছে। তবে তোমরা যদি সহনশীল হও, সহনশীলদের জন্যে সেটা অবশ্যি উত্তম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যদি তোমরা শাস্তি দাওই, তবে ঠিক ততখানি শাস্তি দিবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হইয়াছে। তবে তোমরা ধৈর্য ধারণ করিলে ধৈর্যশীলদের জন্য উহাই তো উত্তম।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর, তবে ঐ পরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করবে, যে পরিমাণ তোমাদেরকে কষ্ট দেয়া হয়। যদি সবর কর, তবে তা সবরকারীদের জন্যে উত্তম।

আবদুস শহীদ নাসিম

সহনশীল হও, কারণ তোমার সহনশীলতা তো আল্লাহর সাহায্যেই পেয়েছো। তাদের জন্যে দু:খ করোনা এবং তাদের ষড়যন্ত্রে তুমি মনকেও সংকুচিত করোনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি ধৈর্য ধারণ কর, তোমার ধৈর্য তো ‌রই সাহায্যে। উহাদের দরুন দুঃখ করিও না এবং উহাদের ষড়যন্ত্রে তুমি মনঃক্ষুণ্ন হইও না।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি সবর করবেন। আপনার সবর আল্লাহর জন্য ব্যতীত নয়, তাদের জন্যে দুঃখ করবেন না এবং তাদের চক্রান্তের কারণে মন ছোট করবেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের সাথেই রয়েছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা কল্যাণপরায়ণ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ তাহাদেরই সঙ্গে আছে যাহারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যাহারা সৎকর্মপরায়ণ।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় তাদের সঙ্গে আছেন, যারা এবং যারা সৎকর্ম করে।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme