Kitab

ফাতির (সৃষ্টির সূচনাকারী)

Chapter 35, 45 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • জহুরুল হক
  • Word by word
About this chapter


মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৪৫, রুকু সংখ্যা: ০৫

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-০৭আল্লাহ্ ফেরেশতাদের বার্তাবাহক বানান এবং তাদের ডানা আছে। পূর্ববর্তী অনেক রসূলকেই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। দুনিয়ার জীবন এবং শয়তান যেনো তোমাদের প্রতারিত না করে। ০৮-১৪প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য দুঃখ করোনা। পুনরুত্থানের যুক্তি। তাওহীদের যুক্তি। ১৫-৩৭মানুষ আল্লাহর মুখাপেক্ষী। কেউ কারো পাপের বোঝা বইবেনা। আত্মশুদ্ধিতে ব্যক্তিরই কল্যাণ। অন্ধকার আর আলো এক নয়। চিন্তাশীল, জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করে। ভালো কাজের প্রতিযোগিতাকারীদের জন্য সুসংবাদ। ৩৮-৩৯আল্লাহ্ মানুষকে পৃথিবীর প্রতিনিধি বানিয়েছেন। অকৃতজ্ঞদের জন্য রয়েছে ধ্বংস। ৪০-৪৫যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক করা হয় তারা সম্পূর্ণ অক্ষম। রসূলকে প্রত্যাখ্যানকারীরা আল্লাহর পাকড়াও থেকে রক্ষা পাবেনা। দুনিয়ার জীবনে আল্লাহ্ কিছুটা অবকাশ দেন মাত্র।
আবদুস শহীদ নাসিম

আলহামদু লিল্লাহ - সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি মহাকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা, যিনি ফেরেশতাদের বার্তাবাহক নিয়োগ করেন, যারা দুই দুই, তিন তিন কিংবা চার চার পাখা বিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে বৃদ্ধি করেন যা ইচ্ছা করেন। নিশ্চয়ই প্রতিটি বিষয়ের উপর শক্তিমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সকল প্রশংসা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা ‌রই - যিনি বাণীবাহক করেন ফিরিশ্‌তাদেরকে যাহারা দুই দুই, তিন তিন অথবা চার চার পক্ষবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যাহা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। ‌ র্সববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

জহুরুল হক

সমস্ত প্রশংসা ‌র - - মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আদিস্রষ্টা, ফিরিশ্‌তাদের সৃষ্টিকর্তা বাণীবাহকরূপে - - দুই বা তিন বা চারখানা ডানা সংযুক্ত। তিনি সৃষ্টির সঙ্গে বাড়াতে থাকেন যা - কিছু তিনি চান। নিঃসন্দেহ সব - কিছুর উপরে সর্বশক্তি মান।

Word by word

ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ جَاعِلِ ٱلْمَلَٰٓئِكَةِ رُسُلًا أُو۟لِىٓ أَجْنِحَةٍ مَّثْنَىٰ وَثُلَٰثَ وَرُبَٰعَ يَزِيدُ فِى ٱلْخَلْقِ مَا يَشَآءُ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِير

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের প্রতি কোনো রহমত খুলে দিলে তা রোধ করার কেউ নেই। আর তিনি নিজেই কিছু বন্ধ করে দিতে চাইলে তারপর তা উন্মুক্ত করারও কেউ নেই। তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতীব প্রজ্ঞাবান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ মানুষের প্রতি কোন অনুগ্রহ অবারিত করিলে কেহ উহা নিবারণকারী নাই এবং তিনি কিছু নিরুদ্ধ করিতে চাহিলে তৎপর কেহ উহার উন্মুক্তকারী নাই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

জহুরুল হক

লোকেদের জন্য করুণা থেকে যা খুলে ধরেন সেটি তবে রোধ করবার কেউ থাকবে না, আর যা তিনি রোধ করে রাখেন সেটি তবে এরপরে পাঠানোর কেউ থাকবে না। আর তিনি মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।

Word by word

مَّا يَفْتَحِ ٱللَّهُ لِلنَّاسِ مِن رَّحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا وَمَا يُمْسِكْ فَلَا مُرْسِلَ لَهُۥ مِنۢ بَعْدِهِۦ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! তোমরা স্মরণ করো তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা। ছাড়া এমন কোনো স্রষ্টা আছে কি, যে আকাশ এবং পৃথিবী থেকে তোমাদের রিযিক প্রদান করে। কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। সুতরাং তোমরা ভুল পথে যাচ্ছো কোথায়?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মানুষ! তোমাদের প্রতি ‌র অনুগ্রহ স্মরণ কর। ‌ ব্যতীত কি কোন স্রষ্টা আছে, যে তোমাদেরকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী হইতে রিযিক দান করে? তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই। সুতরাং কোথায় তোমরা বিপথে চালিত হইতেছ?

জহুরুল হক

ওহে মানবগোষ্ঠী! তোমাদের উপরে ‌র অনুগ্রহ স্মরণ করো। ছাড়া কি অন্য স্রষ্টা রয়েছে যে মহাকাশ ও পৃথিবী থেকে তোমাদের জীবিকা দান করে? তিনি ব্যতীত অন্য উপাস্য নেই, সুতরাং কোথা থেকে তোমাদের ফেরানো হচ্ছে!

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ هَلْ مِنْ خَٰلِقٍ غَيْرُ ٱللَّهِ يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ فَأَنَّىٰ تُؤْفَكُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেই, তবে তোমার আগেও বহু রসূলকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সব বিষয় শেষ পর্যন্ত ফিরে যায় আল্লাহর কাছেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তবে তোমার পূর্বেও রাসূলগণের প্রতি মিথ্যা আরোপ করা হয়েছিল। ‌র নিকটই সকল বিষয় প্রত্যানীত হইবে।

জহুরুল হক

আর যদি তারা মিথ্যা আরোপ করে তবে তোমার আগেও রসূলগণ অবশ্য মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত হয়েছিলেন। আর ‌র তরফেই সব ব্যাপারকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

Word by word

وَإِن يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِّن قَبْلِكَ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرْجَعُ ٱلْأُمُورُ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। সুতরাং দুনিয়ার জীবন যেনো তোমাদের প্রতারিত না করে। আর বড় প্রতারকও যেনো তোমাদেরকে আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারিত না করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মানুষ ! নিশ্চয়ই ‌র প্রতিশ্রুতি সত্য; সুতরাং পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রতারিত না করে এবং সেই প্রবঞ্চক যেন কিছুতেই ‌ সম্পর্কে তোমাদেরকে প্রবঞ্চিত না করে।

জহুরুল হক

ওহে মানবগোষ্ঠী! নিঃসন্দেহ ‌র ওয়াদা ধ্রুব সত্য, কাজেই এই দুনিয়ার জীবন তোমাদের যেন কিছুতেই প্রবঞ্চনা না করে।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّكُمُ ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا وَلَا يَغُرَّنَّكُم بِٱللَّهِ ٱلْغَرُورُ

আবদুস শহীদ নাসিম

শয়তান তোমাদের শত্রু। সুতরাং তাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ করো। সে তো তার অনুসারী দলবলকে আহবান জানায়, যেনো তারা সায়ীরের (জাহান্নামের) পথিক হয়ে যায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শয়তান তো তোমাদের শত্রু ; সুতরাং তাহাকে শত্রু হিসাবে গ্রহণ কর। সে তো তাহার দলবলকে আহ্বান করে কেবল এইজন্য যে, উহারা যেন জাহান্নামী হয়।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ শয়তান তোমাদের শত্রু, কাজেই তাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ কর! সে তো তার সাঙ্গোপাঙ্গকে কেবলই আহ্বান করে যেন তারা জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দা হয়।

Word by word

إِنَّ ٱلشَّيْطَٰنَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَٱتَّخِذُوهُ عَدُوًّا إِنَّمَا يَدْعُوا۟ حِزْبَهُۥ لِيَكُونُوا۟ مِنْ أَصْحَٰبِ ٱلسَّعِيرِ

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কুফুরি করে তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাব। আর যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, তাদের জন্যে রয়েছে মাগফিরাত এবং মহাপুরস্কার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা করে তাহাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি এবং যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহাদের জন্য আছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।

জহুরুল হক

যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের জন্য আছে কঠোর শাস্তি। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে পরিত্রাণ ও এক বিরাট প্রতিদান।

Word by word

ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তি যার কাছে তার মন্দ কাজ চাকচিক্যময় করে দেয়া হয় এবং সে সেটাকেই উত্তম মনে করে, সে কি সঠিক পথের অনুসারীর সমতুল্য? নিশ্চয়ই যাকে ইচ্ছা গোমরাহ করেন, আর সঠিক পথ দেখান যাকে ইচ্ছা করেন। অতএব তুমি তাদের জন্যে আক্ষেপ করে তোমার জীবন ধ্বংস করোনা। নিশ্চয়ই জানেন তারা যা করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কাহাকেও যদি তাহার মন্দকর্ম শোভন করিয়া দেখান হয় এবং সে ইহাকে উত্তম মনে করে, সেই ব্যক্তি কি তাহার সমান যে সৎকর্ম করে? ‌ যাহাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। অতএব ইহাদের জন্য আক্ষেপ করিয়া তোমার প্রাণ যেন ধ্বংস না হয়। উহারা যাহা করে নিশ্চয়ই ‌ তাহা জানেন।

জহুরুল হক

কাউকেও যদি তার মন্দ কাজকে তার কাছে চিত্তাকর্ষক করা হয় এবং সেও এটি ভাল বলে দেখে সে কি তবে? সুতরাং অবশ্য বিপথে চলতে দেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন, আর সৎপথে পরিচালিত করেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন। অতএব তুমি তাদের জন্য আক্ষেপের দ্বারা তোমার নিজেকে বিনাশ হতে দিয়ো না। নিঃসন্দেহ তারা যা করে সে সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।

Word by word

أَفَمَن زُيِّنَ لَهُۥ سُوٓءُ عَمَلِهِۦ فَرَءَاهُ حَسَنًا فَإِنَّ ٱللَّهَ يُضِلُّ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُ فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرَٰتٍ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌۢ بِمَا يَصْنَعُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

, তিনিই বাতাস পাঠান, তা দিয়ে পরিচালিত করেন মেঘমালা। তারপর আমরা তা মৃত ভূ - খন্ডের দিকে পরিচালিত করি। তারপর তা দিয়ে আমরা মৃত জমিনকে জীবিত করি। এভাবেই মৃত্যুর পর (মানুষকে) পুনরায় জীবিত করে উঠানো হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ই বায়ু প্রেরণ করিয়া উহা দ্বারা মেঘমালা সঞ্চারিত করেন। অতঃপর আমি উহা নির্জীব ভূখণ্ডের দিকে পরিচালিত করি, অতঃপর আমি উহা দ্বারা ধরিত্রীকে উহার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করি। এইরূপেই মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করিয়া উঠানো হইবে।

জহুরুল হক

আর ‌ই তিনি যিনি বায়ুপ্রবাহ পাঠান, ফলে এটি মেঘমালা সঞ্চালিত করে, তারপর আমরা তাকে নিয়ে যাই মৃত ভূখন্ডের দিকে, ফলে তার দ্বারা আমরা পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পরে জীবনদান করি। এইভাবেই পুনরুত্থান হয়।

Word by word

وَٱللَّهُ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ ٱلرِّيَٰحَ فَتُثِيرُ سَحَابًا فَسُقْنَٰهُ إِلَىٰ بَلَدٍ مَّيِّتٍ فَأَحْيَيْنَا بِهِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا كَذَٰلِكَ ٱلنُّشُورُ

আবদুস শহীদ নাসিম

কেউ যদি ইযযত লাভ করতে চায়, সে জেনে রাখুক, ইযযত পুরোটাই আল্লাহর। তাঁর দিকেই উত্থিত হয় পবিত্র বাণীসমূহ এবং সেগুলোকে উত্থিত করে আমলে সালেহ্। যারা দুষ্কর্মের চক্রান্ত করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাব। আর তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কেহ সম্মান ও ক্ষমতা চাহিলে সে জানিয়া রাখুক, সকল সম্মান ও ক্ষমতা তো ‌রই। তাঁহারই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ সমুত্থিত হয় এবং সৎকর্ম উহাকে উন্নীত করে, আর যাহারা মন্দ কাজের ফন্দি আঁটে তাহাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। তাহাদের ফন্দি ব্যর্থ হইবেই।

জহুরুল হক

যে কেউ মানসম্মান চায় সমস্ত মানসম্মান তো ‌র। তাঁরই দিকে উত্থিত হয় সকল খাঁটি বাক্যালাপ, আর পূণ্যময় কাজ - - তিনি তার উন্নতি সাধন করেন। আর যারা মন্দ কাজের ফন্দি আঁটে তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। আর এদের ফন্দি - - তা ব্যর্থ হবেই।

Word by word

مَن كَانَ يُرِيدُ ٱلْعِزَّةَ فَلِلَّهِ ٱلْعِزَّةُ جَمِيعًا إِلَيْهِ يَصْعَدُ ٱلْكَلِمُ ٱلطَّيِّبُ وَٱلْعَمَلُ ٱلصَّٰلِحُ يَرْفَعُهُۥ وَٱلَّذِينَ يَمْكُرُونَ ٱلسَّيِّـَٔاتِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَكْرُ أُو۟لَٰٓئ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে, তারপর তোমাদের বানিয়ে দিয়েছেন যুগল। আল্লাহর এলেমের মধ্যে ছাড়া কোনো নারী গর্ভও ধারণ করেনা, প্রসবও করেনা। কোনো দীর্ঘায়ু ব্যক্তির বয়স বাড়ানো হয়না, কিংবা তা থেকে কমানোও হয়না, যা একটি কিতাবে লেখা থাকেনা। এটা আল্লাহর জন্যে খুবই সহজ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন মৃত্তিকা হইতে; অতঃপর শুক্রবিন্দু হইতে, অতঃপর তোমাদেরকে করিয়াছেন যুগল ! ‌র অজ্ঞাতসারে কোন নারী গর্ভধারণ করে না এবং প্রসবও করে না। কোন দীর্ঘায়ু ব্যক্তির আয়ু বৃদ্ধি করা হয় না এবং তাহার আয়ু হ্রাস করা হয় না, কিন্তু তাহা তো রহিয়াছে ‘কিতাবে’। ইহা ‌র জন্য সহজ।

জহুরুল হক

আর তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর শুক্রকীট থেকে, তারপরে তিনি তোমাদের বানিয়েছেন যুগল। আর কোনো নারী গর্ভধারণ করে না অথবা প্রসব করে না তাঁর জানার বাইরে। আর কোনো বয়স্ক লোকের বয়েস বাড়ে না এবং তার বয়েস থেকে কিছু কমেও না, বরং তা রয়েছে কিতাবে। এটি নিশ্চয়ই ‌র পক্ষে সহজসাধ্য।

Word by word

وَٱللَّهُ خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ جَعَلَكُمْ أَزْوَٰجًا وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَىٰ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِۦ وَمَا يُعَمَّرُ مِن مُّعَمَّرٍ وَلَا يُنقَصُ مِنْ عُمُرِهِۦٓ إ

আবদুস শহীদ নাসিম

দরিয়া দুটি সমতুল্য নয়। এটির পানি মুখরোচক, মিষ্টি, সুপেয়। আর ওটির পানি লোনা, খর। প্রত্যেকটি থেকেই তোমরা তাজা গোশত (মাছ) আহার করো এবং বের করে আনো অলংকার সামগ্রী যা তোমরা পরিধান করো। তোমরা দেখতে পাও, সেগুলোর বুক চিরে চলাচল করে নৌযান, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো এবং আদায় করতে পারো তাঁর শোকরিয়া।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দরিয়া দুইটি একরূপ নয় : একটির পানি সুমিষ্ট ও সুপেয়, অপরটির পানি লোনা, খর। প্রত্যেকটি হইতে তোমরা তাজা গোশ্‌ত আহার কর এবং আহরণ কর অলংকার যাহা তোমরা পরিধান কর, এবং তোমরা দেখ উহার বুক চিরিয়া নৌযান চলাচল করে যাহাতে তোমরা তাঁহার অনুগ্রহ অনুসন্ধান করিতে পার এবং যাহাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

জহুরুল হক

আর দুটি সাগর একসমান নয়, এই একটি বিশুদ্ধ, তৃষ্ণানিবারক, যার পানকরণ সুমিষ্ট, আর এইটি লোনা, বিস্বাদ। তবুও তাদের প্রত্যেকটি থেকে তোমরা টাটকা মাংস খাও, আর বের করে আনো অলংকার যা তোমরা পরো। আর তুমি দেখতে পাও জাহাজগুলো তাতে বুকচিরে চলছে যেন তোমরা তাঁর করুণাভান্ডার থেকে রোজগার করতে পারো, আর যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো।

Word by word

وَمَا يَسْتَوِى ٱلْبَحْرَانِ هَٰذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ سَآئِغٌ شَرَابُهُۥ وَهَٰذَا مِلْحٌ أُجَاجٌ وَمِن كُلٍّ تَأْكُلُونَ لَحْمًا طَرِيًّا وَتَسْتَخْرِجُونَ حِلْيَةً تَلْبَسُونَهَا وَتَرَى ٱلْفُلْكَ فِيهِ مَوَاخِرَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি রাতকে প্রবেশ করিয়ে দেন দিনের মধ্যে এবং দিনকে প্রবেশ করিয়ে দেন রাতের মধ্যে। তিনি তাঁর নিয়মের অধীন করে দিয়েছেন সূর্য আর চাঁদকে। প্রত্যেকেই ভ্রমণ করে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। তিনিই , তোমাদের প্রভু। সমগ্র কর্তৃত্ব তাঁর। তোমরা তাঁর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো তারা খেজুর আঁটির উপরের আবরণের সমান কর্তৃত্বও রাখেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করান এবং দিবসকে প্রবিষ্ট করান রাত্রিতে, তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে করিয়াছেন নিয়মাধীন ; প্রত্যেকে পরিভ্রমণ করে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত। তিনিই ‌, তোমাদের প্রতিপালক। আধিপত্য তাঁহারই। এবং তোমরা ‌র পরিবর্তে যাহাদেরকে ডাক তাহারা তো খর্জুর আঁটির আবরণেরও অধিকারী নয়।

জহুরুল হক

তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান ও দিনকে প্রবেশ করান রাতের মধ্যে, আর তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন - - প্রত্যেকটিই ভেসে চলে এক নির্দিষ্টকালের জন্য। এই হচ্ছেন ‌, তোমাদের প্রভু, তাঁরই হচ্ছে সার্বভৌমত্ব। কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়ে যাদের তোমরা ডাক তারা তো তুচ্ছ কিছুরও ক্ষমতা রাখে না।

Word by word

يُولِجُ ٱلَّيْلَ فِى ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِى ٱلَّيْلِ وَسَخَّرَ ٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِى لِأَجَلٍ مُّسَمًّى ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمْ لَهُ ٱلْمُلْكُ وَٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِهِۦ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তাদের ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শুনেনা, শুনলেও সাড়া দেয়না। তোমরা যে তাদের শরিক বানিয়েছো কিয়ামতের দিন তারা তা অস্বীকার করবে। সর্বজ্ঞানী আল্লাহর মতো কেউই তোমাকে সংবাদ দিতে পারেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা তাহাদেরকে আহ্বান করিলে তাহারা তোমাদের আহ্‌বান শুনিবে না এবং শুনিলেও তোমাদের আহবানে সাড়া দিবে না। তোমরা তাহাদেরকে যে শরীক করিয়াছ তাহা উহারা কিয়ামতের দিন অস্বীকার করিবে। সর্বজ্ঞের ন্যায় কেহই তোমাকে অবহিত করিতে পারে না।

জহুরুল হক

যদি তোমরা তাদের ডাক তারা তোমাদের ডাক শুনবে না, আর তারা যদিও শুনতে পায় তবু তারা তোমাদের প্রতি সাড়া দেবে না। আর কিয়ামতের দিনে তারা অস্বীকার করবে তোমাদের শরীক করার কথা। আর কেউ তোমাকে জানাতে পারে না পূর্ণ - ওয়াকিফহালের।

Word by word

إِن تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا۟ دُعَآءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا۟ مَا ٱسْتَجَابُوا۟ لَكُمْ وَيَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! তোমরা আল্লাহর নিকট ফকির - আল্লাহর মুখাপেক্ষী, অথচ মুখাপেক্ষাহীন সপ্রশংসিত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মানুষ ! তােমরা তো ‌র মুখাপেক্ষী ; কিন্তু ‌, তিনি অভাবমুক্ত, প্রশংসার্হ।

জহুরুল হক

ওহে মানবজাতি! তোমরা তো ‌র মুখাপেক্ষী, - - আর ‌, তিনি স্বয়ংসমৃদ্ধ, পরম প্রশংসিত।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ أَنتُمُ ٱلْفُقَرَآءُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱللَّهُ هُوَ ٱلْغَنِىُّ ٱلْحَمِيدُ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি চাইলে তোমাদের সরিয়ে দিতে পারেন এবং নিয়ে আসতে পারেন একটি নতুন সৃষ্টি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি ইচ্ছা করিলে তোমাদেরকে অপসৃত করিতে পারেন এবং এক নূতন সৃষ্টি আনয়ন করিতে পারেন।

জহুরুল হক

যদি তিনি চান তবে তিনি তোমাদের গত করে দেবেন এবং নিয়ে আসবেন এক নতুন সৃষ্টি, - -

Word by word

إِن يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ وَيَأْتِ بِخَلْقٍ جَدِيدٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা আল্লাহর জন্যে মোটেও কঠিন নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা ‌র পক্ষে কঠিন নয়।

জহুরুল হক

আর এটি ‌র জন্যে মোটেই কঠিন নয়।

Word by word

وَمَا ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ بِعَزِيزٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করবেনা। কোনো ভারবাহী ব্যক্তি যদি কাউকেও তার বোঝা বহন করতে ডাকে, তবে নিকটাত্মীয় হলেও সামান্য ভারও বহন করে দেবেনা। তুমি তো কেবল তাদেরকেই সতর্ক করতে পারো, যারা না দেখেও তাদের প্রভুকে ভয় করে এবং কায়েম করে। যে আত্মোন্নয়ন করবে, সে আত্মোন্নয়ন করবে নিজের কল্যাণের জন্যেই। সবার প্রত্যাবর্তন হবে আল্লাহরই দিকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কোন বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করিবে না; কোন ভারাক্রান্ত ব্যক্তি যদি কাহাকেও ইহা বহন করিতে আহবান করে তবে উহার কিছুই বহন করা হইবে না - সে নিকট - আত্মীয় হইলেও। তুমি কেবল তাহাদেরকেই সতর্ক করিতে পার যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে না দেখিয়া ভয় করে এবং কায়েম করে। যে কেহ নিজকে পরিশোধন করে সে তো পরিশোধন করে নিজেরই কল্যাণের জন্য। ‌রই দিকে প্রত্যাবর্তন।

জহুরুল হক

আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বইবে না। আর গুরুভারে পীড়িত কেউ যদি তার বোঝার জন্যে ডাকে, তা থেকে কিছুই বয়ে নেওয়া হবে না, যদিও সে নিকটা‌ত্মীয় হয়। তুমি তো সাবধান করতে পার কেবলমাত্র তাদের যারা তাদের প্রভুকে ভয় করে আড়ালে, আর কায়েম করে। আর যে কেউ নিজেকে পবিত্র করে, সে তো তবে পবিত্র করে তার নিজেরই জন্যে। আর ‌র কাছেই প্রত্যাবর্তন।

Word by word

وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ وَإِن تَدْعُ مُثْقَلَةٌ إِلَىٰ حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَىْءٌ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَىٰٓ إِنَّمَا تُنذِرُ ٱلَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِٱلْغَيْبِ وَأَقَامُوا۟

আবদুস শহীদ নাসিম

অন্ধ আর চক্ষুষ্মান সমতুল্য নয়,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সমান নয় অন্ধ ও চক্ষুষ্মান,

জহুরুল হক

আর অন্ধ ও চক্ষুষ্মান একসমান নয়,

Word by word

وَمَا يَسْتَوِى ٱلْأَعْمَىٰ وَٱلْبَصِيرُ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সমতুল্য নয় অন্ধকাররাশি আর আলো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর না অন্ধকার ও আলো,

জহুরুল হক

আর অন্ধকার ও আলোকও নয়,

Word by word

وَلَا ٱلظُّلُمَٰتُ وَلَا ٱلنُّورُ

আবদুস শহীদ নাসিম

সমতুল্য নয় রোদ আর ছায়া,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর না ছায়া ও রৌদ্র,

জহুরুল হক

আর ছায়া ও উত্তপ্ত নৈশ - বায়ুপ্রবাহও নয়।

Word by word

وَلَا ٱلظِّلُّ وَلَا ٱلْحَرُورُ

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং সমতুল্য নয় জীবিতরা আর মৃতরা। যাকে ইচ্ছা করেন শুনার (বুঝার) তৌফিক দেন, কিন্তু যারা কবরে রয়েছে তুমি কিছুতেই তাদের শুনাতে পারবেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং সমান নয় জীবিত ও মৃত। ‌ই যাহাকে ইচ্ছা শ্রবণ করান; তুমি শোনাইতে সমর্থ হইবে না যাহারা কবরে রহিয়াছে তাহাদেরকে।

জহুরুল হক

আর জীবন্ত এবং মৃতও একসমান নয়। নিঃসন্দেহ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে শুনিয়ে থাকেন, আর যারা কবরে রয়েছে তাদের তুমি শোনাতে সক্ষম নও।

Word by word

وَمَا يَسْتَوِى ٱلْأَحْيَآءُ وَلَا ٱلْأَمْوَٰتُ إِنَّ ٱللَّهَ يُسْمِعُ مَن يَشَآءُ وَمَآ أَنتَ بِمُسْمِعٍ مَّن فِى ٱلْقُبُورِ

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি একজন সতর্ককারী ছাড়া কিছু নও।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি একজন সতর্ককারী মাত্র।

জহুরুল হক

তুমি একজন সতর্ককারী বৈ তো নও।

Word by word

إِنْ أَنتَ إِلَّا نَذِيرٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা সত্যসহ তোমাকে রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছি সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসেবে। এমন কোনো উম্মত ছিলনা যার কাছে আমরা সতর্ককারী পাঠাইনি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো তোমাকে সত্যসহ প্রেরণ করিয়াছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে; এমন কোন সম্প্রদায় নাই যাহার নিকট সতর্ককারী প্রেরিত হয় নাই।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা তোমাকে পাঠিয়েছি সত্যের সঙ্গে - - সুসংবাদদাতারূপে ও সতর্ককারীরূপে। আর এমন কোন সম্প্রদায় নেই যাদের মধ্যে একজন সতর্ককারী না গেছেন।

Word by word

إِنَّآ أَرْسَلْنَٰكَ بِٱلْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَإِن مِّنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা যদি তোমাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে, তবে তাদের আগেকার লোকেরাও এভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাদের কাছে রসূলরা সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছিল, গ্রন্থাবলি এবং আলোদানকারী কিতাব নিয়ে এসেছিল,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তবে ইহাদের পূর্ববর্তীগণও তো মিথ্যা আরোপ করিয়াছিল - তাহাদের নিকট আসিয়াছিল তাহাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শন, গ্রন্থাদি ও দীপ্তিমান কিতাবসহ।

জহুরুল হক

আর এরা যদি তোমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তাহলে এদের আগে যারা ছিল তারাও মিথ্যা আরোপ করেছিল, তাদের কাছে তাদের রসূলগণ এসেছিলেন সুস্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, আর ধর্মগ্রন্থাবলী নিয়ে ও উজ্জ্বল গ্রন্থ নিয়ে।

Word by word

وَإِن يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ جَآءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِٱلْبَيِّنَٰتِ وَبِٱلزُّبُرِ وَبِٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُنِيرِ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যারা কুফুরি করেছিল আমরা তাদের পাকড়াও করেছিলাম, কী যে ভয়ংকর ছিলো সে পাকড়াও।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর আমি কাফিরদেরকে শাস্তি দিয়াছিলাম। কী ভয়ংকর আমার শাস্তি!

জহুরুল হক

তারপর আমি তাদের পাকড়াও করলাম যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল, সুতরাং কেমন হয়েছিল তাদের প্রতি আমার বিতৃষ্ণা!

Word by word

ثُمَّ أَخَذْتُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি দেখোনা, নাযিল করেন আসমান থেকে পানি, তারপর তা দিয়ে আমরা উৎপন্ন করি নানা রঙের ফলফলারি? আর পাহাড়ের মধ্যেও আছে নানা বর্ণের পাথর - শুভ্র সাদা, বিচিত্র লাল, নিকষ কালো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি দেখ না, ‌ আকাশ হইতে বৃষ্টিপাত করেন; এবং আমি ইহা দ্বারা বিচিত্র বর্ণের ফলমূল উদ্‌গত করি। আর পাহাড়ের মধ্যে আছে বিচিত্র বর্ণের পথ - শুভ্র, লাল ও নিকষ কাল।

জহুরুল হক

তুমি কি দেখতে পাও নি যে নিঃসন্দেহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন? তারপর আমরা তার দ্বারা উৎপাদন করি ফলফসল - - যার রঙচঙ নানান ধরনের। আর পাহাড়গুলোতে আছে স্তর, সাদা ও লাল, বিচিত্র তার বর্ণ, আর নিকষ কালো।

Word by word

أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءً فَأَخْرَجْنَا بِهِۦ ثَمَرَٰتٍ مُّخْتَلِفًا أَلْوَٰنُهَا وَمِنَ ٱلْجِبَالِ جُدَدٌۢ بِيضٌ وَحُمْرٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَٰنُهَا وَغَرَابِيبُ سُودٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে মানুষ, জীব - জন্তু এবং পশুর মধ্যেও রয়েছে নানা রঙ, নানা বর্ণ। নিশ্চয়ই আল্লাহকে ভয় করে তাঁর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী তারা। অবশ্যি মহাপরাক্রমশালী, অতীব ক্ষমাশীল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইভাবে রং - বেরং - এর মানুষ, জন্তু ও আন‘আম রহিয়াছে। ‌র বান্দাদের মধ্যে যাহারা জ্ঞানী তাহারাই তাঁহাকে ভয় করে ; ‌ পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।

জহুরুল হক

আর লোকেদের ও জীবজন্তুর ও গবাদি - পশুর মধ্যেও তাদের রঙচঙে এ ধরনের বৈচিত্র রয়েছে। নিঃসন্দেহ তাঁর বান্দাদের মধ্যের আলীম - পন্ডিত ব্যক্তিবর্গ ‌কে ভয় করে। নিশ্চয়ই মহাশক্তিশালী, পরিত্রাণকারী।

Word by word

وَمِنَ ٱلنَّاسِ وَٱلدَّوَآبِّ وَٱلْأَنْعَٰمِ مُخْتَلِفٌ أَلْوَٰنُهُۥ كَذَٰلِكَ إِنَّمَا يَخْشَى ٱللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ ٱلْعُلَمَٰٓؤُا۟ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা তিলাওয়াত করে আল্লাহর কিতাব, কায়েম করে , আর তাদের যে রিযিক দিয়েছেন তা থেকে (আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে) ব্যয় করে গোপনে এবং প্রকাশ্যে, তারাই আশা করে এমন তিজারতের (ব্যবসায়ের) যার কোনোই ক্ষয় নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ‌র কিতাব তিলাওয়াত করে, কায়েম করে, আমি তাহাদেরকে যে রিযিক দিয়াছি তাহা হইতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তাহারাই আশা করে এমন ব্যবসায়ের, যাহার ক্ষয় নাই।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা ‌র গ্রন্থ পাঠ করে আর কায়েম করে, আর আমরা তাদের যে জীবনোপকরণ দান করেছি তা থেকে তারা গোপনে ও প্রকাশ্যভাবে খরচ করে থাকে, তারা এমন একটি বাণিজ্যের আশা রাখে যা কখনো বিনষ্ট হবে না, - -

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَٰبَ ٱللَّهِ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَأَنفَقُوا۟ مِمَّا رَزَقْنَٰهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً يَرْجُونَ تِجَٰرَةً لَّن تَبُورَ

আবদুস শহীদ নাসিম

কারণ, তাদের প্রচেষ্টার পূর্ণ প্রতিদান দেবেন এবং নিজের অনুগ্রহ থেকে আরো অধিক দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল গুণগ্রাহী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইজন্য যে, ‌ তাহাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দিবেন এবং তিনি নিজ অনুগ্রহে তাহাদেরকে আরও বেশি দিবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।

জহুরুল হক

যেন তিনি তাদের পারিশ্রমিক পুরোপুরি তাদের দিতে পারেন এবং তাঁর করুণাভান্ডার থেকে তাদের বাড়িয়ে দিতে পারেন। নিঃসন্দেহ তিনি পরিত্রাণকারী, গুণগ্রাহী।

Word by word

لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِۦٓ إِنَّهُۥ غَفُورٌ شَكُورٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমার প্রতি যে কিতাব নাযিল করেছি তা মহাসত্য, এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী। নিশ্চয়ই তাঁর দাসদের সবকিছু জানেন এবং দেখেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তোমার প্রতি যে কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছি তাহা সত্য, ইহা পূর্ববর্তী কিতাবের প্রত্যায়নকারী। নিশ্চয়ই তাঁহার বান্দাদের সমস্ত কিছু জানেন ও দেখেন।

জহুরুল হক

আর আমরা তোমার কাছে গ্রন্থ থেকে যা প্রত্যাদিষ্ট করেছি তা সত্য, সমর্থন করছে যা এর আগে রয়েছে। নিঃসন্দেহ তাঁর বান্দাদের সন্বন্ধে পূর্ণ - ওয়াকিবহাল, সর্বদ্রষ্টা।

Word by word

وَٱلَّذِىٓ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ مِنَ ٱلْكِتَٰبِ هُوَ ٱلْحَقُّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ إِنَّ ٱللَّهَ بِعِبَادِهِۦ لَخَبِيرٌۢ بَصِيرٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমরা কিতাবের ওয়ারিশ বানালাম আমাদের বান্দাদের মধ্যে যাদের মনোনীত করেছি তাদের। তাদের মধ্যে রয়েছে কেউ নিজের প্রতি যুলুমকারী, কেউ মধ্যপন্থী, আর কেউ আল্লাহর ইচ্ছায় কল্যাণের কাজে অগ্রগামী। এ এক মহাঅনুগ্রহ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর আমি কিতাবের অধিকারী করিলাম আমার বান্দাদের মধ্য হইতে যাহাদেরকে আমি মনোনীত করিয়াছি; তবে তাহাদের কেহ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেহ মধ্যপন্থী এবং কেহ ‌র ইচ্ছায় কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী। ইহাই মহাঅনুগ্রহ -

জহুরুল হক

তারপর আমরা গ্রন্থখানা উত্তরাধিকার করতে দিয়েছি তাদের যাদের আমরা নির্বাচন করেছি আমাদের দাসদের মধ্য থেকে, তবে তাদের মধ্যে কেউ নিজেদের অন্তরা‌ত্মার প্রতি অন্যায়কারী, আর তাদের মধ্যে কেউ হচ্ছে মধ্যমপন্থী, আর তাদের মধ্যে রয়েছে ‌র অনুমতিক্রমে ভালোকাজে অগ্রগামী। এইটিই হচ্ছে মহান অনুগ্রহ প্রাচুর্য্য।

Word by word

ثُمَّ أَوْرَثْنَا ٱلْكِتَٰبَ ٱلَّذِينَ ٱصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِّنَفْسِهِۦ وَمِنْهُم مُّقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌۢ بِٱلْخَيْرَٰتِ بِإِذْنِ ٱللَّهِ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْفَضْلُ ٱلْكَبِيرُ

আবদুস শহীদ নাসিম

চিরস্থায়ী জান্নাতে তারা দাখিল হবে। সেখানে তাদের অলংকার পরানো হবে সোনার কংকন, মুক্তার অলংকার আর তাদের পোশাক হবে রেশমি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্থায়ী জান্নাত, যাহাতে তাহারা প্রবেশ করিবে, সেখানে তাহাদেরকে স্বর্ণ - নির্মিত কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হইবে এবং সেখানে তাহাদের পোশাক - পরিচ্ছদ হইবে রেশমের।

জহুরুল হক

নন্দন কানন - - তারা এটিতে প্রবেশ করবে, সেখানে তাদের অলঙ্কৃত করানো হবে সোনা ও মুক্তোর কঙ্কন দিয়ে, আর তাদের পোশাক - পরিচ্ছদ সেখানে হবে রেশমের।

Word by word

جَنَّٰتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٍ وَلُؤْلُؤًا وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলবে: ‘‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি দূর করে দিয়েছেন আমাদের সব দুঃখ - দুশ্চিন্তা। নিশ্চয়ই আমাদের প্রভু পরম ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তাহারা বলিবে, ‘সকল প্রশংসা ‌র, যিনি আমাদের দুঃখ - দুর্দশা দূরীভূত করিয়াছেন; আমাদের প্রতিপালক তো ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী;

জহুরুল হক

আর তারা বলবে - - ''সকল প্রশংসা ‌র, যিনি আমাদের থেকে দুঃখ - দুর্দশা দূর করে দিয়েছেন। আমাদের প্রভু অবশ্যই পরিত্রাণকারী, গুণগ্রাহী, - -

Word by word

وَقَالُوا۟ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِىٓ أَذْهَبَ عَنَّا ٱلْحَزَنَ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

যিনি অনুগ্রহ করে আমাদের দিয়েছেন স্থায়ী আবাস, যেখানে আমাদের স্পর্শ করেনা কোনো কষ্ট, কিংবা কোনো ক্লান্তি।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যিনি নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী আবাস দিয়াছেন যেখানে ক্লেশ আমাদেরকে স্পর্শ করে না এবং ক্লান্তিও স্পর্শ করে না।’

জহুরুল হক

''যিনি তাঁর অনুগ্রহপ্রাচুর্য বশতঃ আমাদের বসবাস করিয়েছেন স্থায়ী বাসস্থানে, সেখানে পরিশ্রম আমাদের স্পর্শ করবে না, আর সেখানে আমাদের স্পর্শ করবে না পরিশ্রান্তি।’’

Word by word

ٱلَّذِىٓ أَحَلَّنَا دَارَ ٱلْمُقَامَةِ مِن فَضْلِهِۦ لَا يَمَسُّنَا فِيهَا نَصَبٌ وَلَا يَمَسُّنَا فِيهَا لُغُوبٌ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা কুফুরি করে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে তাদের জন্যে মৃত্যুর ফায়সালা দেয়া হবেনা, ফলে তারা আর মরবেনা এবং তাদের থেকে আযাবও লাঘব করা হবেনা। এভাবেই আমরা শাস্তি দেবো প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু যাহারা করে তাহাদের জন্য আছে জাহান্নামের আগুন। উহাদের মৃত্যুর আদেশ দেওয়া হইবে না যে, উহারা মরিবে এবং উহাদের হইতে জাহান্নামের শাস্তিও লাঘব করা হইবে না। এইভাবে আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে শাস্তি দিয়া থাকি।

জহুরুল হক

পক্ষান্তরে যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, তা নিঃশেষ হয়ে যাবে না তাদের জন্যে, যার ফলে তারা মরে যেতে পারে, আর তাদের উপর থেকে এর শাস্তির কিছুটাও কমানো হবে না! এইভাবেই আমরা প্রতিদান দিই প্রত্যেক অবিশ্বাসীকে।

Word by word

وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ لَا يُقْضَىٰ عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُوا۟ وَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُم مِّنْ عَذَابِهَا كَذَٰلِكَ نَجْزِى كُلَّ كَفُورٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সেখানে আর্তনাদ করে বলবে: ‘আমাদের প্রভু! আমাদের এখান থেকে বের করো। এতোদিন আমরা যে আমল করেছি, তার পরিবর্তে আমরা এখন থেকে পুণ্য কাজ করবো।’ ( বলবেন:) ‘আমরা কি তোমাদের একটা দীর্ঘ জীবন দেইনি, যাতে কেউ সতর্ক হতে চাইলে সতর্ক হতে পারতো? তাছাড়া তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিল। সুতরাং এখন আস্বাদন করো আযাব, যালিমদের জন্যে কোনো সাহায্যকারী নেই।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেখানে তাহারা আর্তনাদ করিয়া বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে নিষ্কৃতি দাও, আমরা সৎকর্ম করিব, পূর্বে যাহা করিতাম তাহা করিব না।’ ‌ বলিবেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এতো দীর্ঘ জীবন দান করি নাই যে, তখন কেহ সতর্ক হইতে চাহিলে সতর্ক হইতে পারিতে? তোমাদের নিকট তো সতর্ককারীও আসিয়াছিল। সুতরাং শাস্তি আস্বাদন কর; জালিমদের কোন সাহায্যকারী নাই।’

জহুরুল হক

আর সেখানে তারা আর্তনাদ করবে - - ''আমাদের প্রভু! আমাদের বের করে আনো, আমরা ভালো কাজ করব, - - তা ব্যতীত যা আমরা করতাম।’’ ''আমরা কি তোমাদের দীর্ঘজীবন দিই নি যেন, যে মনোযোগ দিতে চায় সে সেখানে মনোযোগ দিতে পারে, আর তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিলেন? তাই আস্বাদন কর, আর অন্যায়কারীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।’’

Word by word

وَهُمْ يَصْطَرِخُونَ فِيهَا رَبَّنَآ أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَٰلِحًا غَيْرَ ٱلَّذِى كُنَّا نَعْمَلُ أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُم مَّا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَن تَذَكَّرَ وَجَآءَكُمُ ٱلنَّذِيرُ فَذُوقُوا۟ فَمَا لِلظَّٰلِمِي

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই মহাকাশ এবং পৃথিবীর - এর জ্ঞানী, নিশ্চয়ই তোমাদের অন্তরে যা আছে সে বিষয়ে জ্ঞানী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই ‌ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর বিষয় অবগত আছেন। অন্তরে যাহা রহিয়াছে সে সম্বন্ধে তিনি সবিশেষ অবহিত।

জহুরুল হক

নিশ্চয়ই মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর বিষয় - বস্তুর সম্যক জ্ঞাতা। তিনি বুকের ভেতরে যা রয়েছে সে - সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।

Word by word

إِنَّ ٱللَّهَ عَٰلِمُ غَيْبِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ إِنَّهُۥ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তোমাদের বানিয়েছেন পৃথিবীর প্রতিনিধি। সুতরাং যে কেউ কুফুরি করবে, তার কুফুরির দায় তাকেই বহন করতে হবে। কাফিরদের কুফুরি কেবল তাদের প্রভুর ক্রোধই বৃদ্ধি করে এবং কাফিরদের কুফুরি কেবল তাদের ক্ষতিই বাড়িয়ে দেয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করিয়াছেন। সুতরাং কেহ করিলে তাহার কুফরীর জন্য সে নিজেই দায়ী হইবে। কাফিরদের কেবল উহাদের প্রতিপালকের ক্রোধই বৃদ্ধি করে এবং কাফিরদের উহাদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।

জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি পৃথিবীতে তোমাদের প্রতিনিধি বানিয়েছেন। সুতরাং যে অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধেই তাহলে যাবে তার অবিশ্বাস। আর অবিশ্বাসীদের জন্য তাদের অবিশ্বাস তাদের প্রভুর নজরে কিছুই বাড়ায় না বিতৃষ্ণা ব্যতীত, আর অবিশ্বাসীদের জন্য তাদের অবিশ্বাস ক্ষতি ব্যতীত আর কিছুই বাড়ায় না।

Word by word

هُوَ ٱلَّذِى جَعَلَكُمْ خَلَٰٓئِفَ فِى ٱلْأَرْضِ فَمَن كَفَرَ فَعَلَيْهِ كُفْرُهُۥ وَلَا يَزِيدُ ٱلْكَٰفِرِينَ كُفْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ إِلَّا مَقْتًا وَلَا يَزِيدُ ٱلْكَٰفِرِينَ كُفْرُهُمْ إِلَّا خَسَارًا

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! তাদের বলো: ‘তোমরা ভেবে দেখেছো কি তোমাদের সেইসব শরিকদের কথা, আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ডাকো, আমাকে দেখাও আল্লাহর পরিবর্তে তারা কী সৃষ্টি করেছে? নাকি মহাকাশ সৃষ্টিতে তাদের কোনো অংশ আছে? নাকি আমরা তাদের কোনো কিতাব দিয়েছি যার প্রমাণের উপর তারা নির্ভর করে? বরং যালিমরা নিজেরাই নিজেদের পরস্পরকে মিথ্যা ও প্রতারণামূলক ওয়াদা দিয়ে থাকে।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমরা ‌র পরিবর্তে যাহাদেরকে ডাক সেই সকল শরীকের কথা ভাবিয়া দেখিয়াছ কি? তাহারা পৃথিবীতে কিছু সৃষ্টি করিয়া থাকিলে আমাকে দেখাও; অথবা আকাশমণ্ডলীর সৃষ্টিতে উহাদের কোন অংশ আছে কি? না কি আমি উহাদেরকে এমন কোন কিতাব দিয়াছি যাহার প্রমাণের উপর ইহারা নির্ভর করে?’ বস্তুত জালিমরা একে অপরকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়া থাকে। -

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''তোমরা কি ভেবে দেখেছ তোমাদের অংশীদেবতাদের কথা যাদের তোমরা ‌কে বাদ দিয়ে ডাক? আমাকে দেখাও তো পৃথিবীর কোনো অংশ তারা সৃষ্টি করেছে, না কি তাদের কোনো শরিকানা রয়েছে মহাকাশমন্ডলে?’’ না কি আমরা তাদের এমন কোনো গ্রন্থ দিয়েছি যার থেকে তারা স্পষ্ট প্রমাণের উপরে রয়েছে? না, অন্যায়াচারীরা তাদের একে অন্যকে প্রতারণা করা ব্যতীত অন্য প্রতি‌শ্রুতি দেয় না।

Word by word

قُلْ أَرَءَيْتُمْ شُرَكَآءَكُمُ ٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَرُونِى مَاذَا خَلَقُوا۟ مِنَ ٱلْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ أَمْ ءَاتَيْنَٰهُمْ كِتَٰبًا فَهُمْ عَلَىٰ بَيِّنَتٍ مِّنْ

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহ্ই মহাকাশ ও পৃথিবীকে সংরক্ষণ করে রাখেন যাতে সেগুলোর পতন না হয়। সেগুলোর যদি পতন হয়ই তবে তিনি ছাড়া আর কে আছে, যে সেগুলোর পতন রোধ করবে? তিনি অতীব সহনশীল ক্ষমাপরায়ণ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে সংরক্ষণ করেন, যাহাতে উহারা স্থানচ্যুত না হয়, উহারা স্থানচ্যুত হইলে তিনি ব্যতীত কে উহাদেরকে রক্ষা করিবে? তিনি তো অতি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।

জহুরুল হক

আলবৎ মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে ধরে রেখেছেন পাছে তারা কক্ষচ্যুত হয়, আর যদি বা তারা কক্ষচ্যুত হয় তাহলে তিনি ব্যতীত তাদের ধরে রাখবার মতো কেউ নেই। নিঃসন্দেহ তিনি অতি অমায়িক, পরিত্রাণকারী।

Word by word

إِنَّ ٱللَّهَ يُمْسِكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ أَن تَزُولَا وَلَئِن زَالَتَآ إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّنۢ بَعْدِهِۦٓ إِنَّهُۥ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর কসম খেয়ে বলতো, তাদের কাছে যদি সতর্ককারী আসে, তবে তারা অন্যান্য সম্প্রদায়ের চাইতে হিদায়াতের অধিকতর অনুসারী হবে। কিন্তু যখন তাদের কাছে সতর্ককারী এলো, তখন তার আগমন তাদের পলায়নই বৃদ্ধি করে দিলো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহারা দৃঢ়তার সঙ্গে ‌র শপথ করিয়া বলিত যে, ইহাদের নিকট কোন সতর্ককারী আসিলে ইহারা অন্য সকল সম্প্রদায় অপেক্ষা সৎপথের অধিকতর অনুসারী হইবে; কিন্তু ইহাদের নিকট যখন সতর্ককারী আসিল তখন তাহা কেবল উহাদের বিমুখতাই বৃদ্ধি করিল -

জহুরুল হক

আর তারা ‌র নামে শপথ খায় তাদের সব চাইতে জোরালো শপথের দ্বারা যে যদি তাদের কাছে একজন সতর্ককারী আসতেন তাহলে তারা নিশ্চয়ই অন্যান্য সম্প্রদায়ের যে কোনোটির চেয়ে অধিকতর সৎপথাবলন্বী হতো। কিন্তু যখন তাদের কাছে একজন সতর্ককারী এলেন তখন তাতে বিতৃষ্ণা ব্যতীত তাদের আর কিছুই বাড়লো না, - -

Word by word

وَأَقْسَمُوا۟ بِٱللَّهِ جَهْدَ أَيْمَٰنِهِمْ لَئِن جَآءَهُمْ نَذِيرٌ لَّيَكُونُنَّ أَهْدَىٰ مِنْ إِحْدَى ٱلْأُمَمِ فَلَمَّا جَآءَهُمْ نَذِيرٌ مَّا زَادَهُمْ إِلَّا نُفُورًا

আবদুস শহীদ নাসিম

পৃথিবীতে তাদের দাম্ভিকতা প্রকাশ ও নিকৃষ্ট কুটকৌশলের কারণে। নিকৃষ্ট কুটকৌশল তার উদ্যোক্তাদেরই পরিবেষ্টন করে। তবে কি তারা আগেকার লোকদের রীতিরই অপেক্ষা করছে? তোমরা কখনো আল্লাহর সুন্নতে কোনো পরিবর্তন পাবেনা এবং তোমরা আল্লাহর সুন্নতে (বিধানে) কোনো ব্যতিক্রমও পাবেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে। কূট ষড়যন্ত্র উহার উদ্যোক্তাদেরকেই পরিবেষ্টন করে। তবে কি ইহারা প্রতীক্ষা করিতেছে পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রযুক্ত বিধানের? কিন্তু তুমি ‌র বিধানের কখনও কোন পরিবর্তন পাইবে না এবং ‌র বিধানের কোন ব্যতিক্রমও দেখিবে না।

জহুরুল হক

উদ্ধত ব্যবহারে এই পৃথিবীতে ও কুটিল ষড়যন্ত্রে। আর কুটিল ষড়যন্ত্র অন্য কাউকে ঘেরাও করে না তার কর্তাদের ব্যতীত। কাজেই তারা কি পূর্ববর্তীদের নজির ছাড়া আর কিছুর প্রতীক্ষা করে? কিন্তু তুমি তো ‌র বিধানের কোনো পরিবর্তন কখনও পাবে না, আর তুমি কখনো ‌র বিধানের কোনো ব্যতিক্রম পাবে না।

Word by word

ٱسْتِكْبَارًا فِى ٱلْأَرْضِ وَمَكْرَ ٱلسَّيِّئِ وَلَا يَحِيقُ ٱلْمَكْرُ ٱلسَّيِّئُ إِلَّا بِأَهْلِهِۦ فَهَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا سُنَّتَ ٱلْأَوَّلِينَ فَلَن تَجِدَ لِسُنَّتِ ٱللَّهِ تَبْدِيلًا وَلَن تَجِدَ لِسُن

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে দেখেনা? তাহলে তাদের আগেকার লোকদের পরিণতি কী হয়েছিল তা দেখতে পেতো। তারা তো এদের চাইতেও অধিকতর শক্তিশালী ছিলো। মহাকাশ ও পৃথিবীতে কোনো কিছুই আল্লাহকে অক্ষম করার ক্ষমতা রাখেনা। নিশ্চয়ই তিনি অতীব জ্ঞানী এবং শক্তিমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহারা কি পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে নাই ? তাহা হইলে ইহাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হইয়াছিল তাহা দেখিতে পাইত। উহারা তো ইহাদের অপেক্ষা অধিকতর বলশালী ছিল। ‌ এমন নন যে, আকাশমণ্ডলী এবং পৃথিবীর কোন কিছুই তাঁহাকে অক্ষম করিতে পারে; তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।

জহুরুল হক

তারা কি তবে পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে না, তাহলে তারা দেখতে পেতো কেমন হয়েছিল তাদের পরিণাম যারা ছিল এদের অগ্রগামী, আর তারা ছিল এদের চেয়েও শক্তিতে প্রবল? আর এমন নন যে তাঁর থেকে কোন - কিছু এড়িয়ে যেতে পারে মহাকাশমন্ডলীতে, আর পৃথিবীতেও নয়। নিঃসন্দেহ তিনি হচ্ছেন সর্বজ্ঞাতা, পরম ক্ষমতাবান।

Word by word

أَوَلَمْ يَسِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَيَنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَكَانُوٓا۟ أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُعْجِزَهُۥ مِن شَىْءٍ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَلَا فِى

আবদুস শহীদ নাসিম

যদি মানুষকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পাকড়াও করতেন, জমিনের বুকে কোনো জীব - জন্তুকেই রেহাই দিতেন না। তবে তিনি একটি নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত তাদের অবকাশ দিয়ে থাকেন। কিন্তু যখনই তাদের নির্ধারিত কাল এসে যাবে, অবশ্যি বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি রাখবেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ মানুষকে তাহাদের কৃতকর্মের জন্য শাস্তি দিলে ভূপৃষ্ঠে কোন জীব - জন্তুকেই রেহাই দিতেন না, কিন্তু তিনি এক নিদির্ষ্ট কাল পর্যন্ত তাহাদেরকে অবকাশ দিয়া থাকেন। অতঃপর তাহাদের নির্দিষ্ট কাল আসিয়া গেলে ‌ তো আছেন তাঁহার বান্দাদের সম্যক দ্রষ্টা।

জহুরুল হক

আর যদি লোকেদের পাকড়াও করতেন তারা যা অর্জন করেছে সেজন্য, তাহলে এর পিঠে তিনি জীবজন্তুদের কাউকেও ছাড়তেন না, কিন্তু তিনি এক নির্ধারিত কাল পর্যন্ত তাদের অবকাশ দিয়ে থাকেন। সুতরাং যখন তাদের নির্ধারিত কাল এসে যায় তখন আলবৎ তাঁর বান্দাদের প্রতি সর্বদ্রষ্টা।

Word by word

وَلَوْ يُؤَاخِذُ ٱللَّهُ ٱلنَّاسَ بِمَا كَسَبُوا۟ مَا تَرَكَ عَلَىٰ ظَهْرِهَا مِن دَآبَّةٍ وَلَٰكِن يُؤَخِّرُهُمْ إِلَىٰٓ أَجَلٍ مُّسَمًّى فَإِذَا جَآءَ أَجَلُهُمْ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِعِبَادِهِۦ بَصِير

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme