Kitab

আল মায়েদা (দস্তরখান)

Chapter 5, 120 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
About this chapter

মদিনার অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১২০, রুকু সংখ্যা: ১৬

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-০৫অঙ্গীকার পূর্ণ করো। ইহরাম অবস্থায় শিকার নিষেধ। যেসব প্রাণী খাওয়া নিষিদ্ধ। ইসলাম পূর্ণাঙ্গ। সব পবিত্র জিনিস হালাল। আহলে কিতাবের খাবার হালাল। আহলে কিতাবের সতী মেয়েদের বিয়ে করা হালাল। শিকারের বিধান। ০৬সালাতের জন্য অযু ও তায়াম্মুমের বিধান। ০৭-১১মুমিনদের প্রতি ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বনের নির্দেশ। ১২-২৬বনি ইসরাঈলের প্রতি উপদেশ এবং তাদের সীমালঙ্ঘনের ইতিহাস। ২৭-৩১ আদমের এক পুত্র কর্তৃক আরেক পুত্র হত্যার ঘটনা। ৩২ বনি ইসরাঈলিদের জন্যে হত্যার বিধান। ৩৩-৩৪ বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের জন্যে বিধান। ৩৫-৩৭ তাকওয়া, উসিলা ও জিহাদের নির্দেশ। ৩৮-৪০ চোরের দন্ড। ৪১-৫০ আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করার নির্দেশ। ৫১-৮৬ ইহুদি এবং খ্রিষ্টানদেরকে অভিভাবক, পৃষ্ঠপোষক ও বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে মুমিনদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা। তারা তাওরাত ও ইঞ্জিল প্রতিষ্ঠিত করেনি। খ্রিষ্টানরা ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করে শিরকে নিমজ্জিত হয়েছে। ইসরাঈলিদেরকে তাদের নবীরাও অভিশাপ দিয়েছেন। মুমিনদের জঘন্য শত্রু ইহুদি ও মুশ্রিকরা, খ্রিষ্টানরা কিছুটা বন্ধুভাবাপন্ন, কারণ তাদের মধ্যে কিছু বিনয়ী ও সত্য সন্ধানী পাদ্রী আছে। ৮৭-১০৮ মুমিনদের জন্যে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বিধান। ১০৯-১২০ ঈসা আ. এর রিসালাত, মুজিযা ও দাওয়াত। কিয়ামতের দিন তাঁকে আল্লাহর প্রশ্ন।
আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমাদের অংগীকার পূরণ করো। তোমাদের জন্যে হালাল করা হলো গৃহপালিত চতুস্পদ পশু, সেগুলো ছাড়া যেগুলো (সামনে) তিলাওয়াত করা হচ্ছে ; তবে ইহরাম অবস্থায় তোমাদের জন্যে শিকার করা বৈধ নয়। নিশ্চয়ই হুকুম প্রদান করেন যা তিনি চান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ ! তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করিবে। যাহা তোমাদের নিকট বর্ণিত হইতেছে তাহা ব্যতীত চতুষ্পদ আন‘আম তোমাদের জন্য হালাল করা হইল, তবে ইহ্‌রাম অবস্থায় শিকার করাকে বৈধ মনে করিবে না। নিশ্চয়ই যাহা ইচ্ছা আদেশ করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহর নিদর্শন সমূহকে, হারাম মাসকে, কাবায় প্রেরিত কুরবানির পশুকে, (কুরবানির) উদ্দেশ্যে গলায় চিহ্ন পরানো পশুকে এবং নিজেদের প্রভুর রেজামন্দি ও অনুগ্রহ সন্ধানে বায়তুল হারাম অভিমুখী যাত্রীদের অবমাননা করাকে হালাল করে নিয়োনা। যখন তোমরা ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যাবে, তখন শিকার করো। মসজিদে হারামে প্রবেশ করতে তোমাদের বাধা দিয়েছে বলে কোনো কওমের প্রতি বিদ্বেষ যেনো তোমাদেরকে কিছুতেই সীমালংঘনে প্ররোচিত না করে। আর পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো, তবে পাপও সীমালংঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করোনা। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই কঠিন শাস্তি দাতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ ! ‌র নিদর্শনের, পবিত্র মাসের, কুরবানীর জন্য কা‘বায় প্রেরিত পশুর, গলায় পরান চিহ্নবিশিষ্ট পশুর এবং নিজ প্রতিপালকের অনুগ্রহ ও সন্তোষ লাভের আশায় পবিত্র গৃহ অভিমুখে যাত্রীদের পবিত্রতার অবমাননা করিবে না। যখন তোমরা ইহ্‌রামমুক্ত হইবে তখন শিকার করিতে পার। তোমাদেরকে মসজিদুল হারামে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণে কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন কখনই সীমালংঘনে প্ররোচিত না করে। সৎকর্ম ও তাক্ওয়ায় তোমরা পরস্পর সহযোগিতা করিবে এবং পাপ ও সীমালংঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করিবে না। ‌কে ভয় করিবে। নিশ্চয়ই শাস্তিদানে কঠোর।

আবদুস শহীদ নাসিম

হারাম করে দেয়া হলো তোমাদের জন্যে মৃত পশু, রক্ত, শুয়োরের মাংস, ছাড়া অন্য কারো নামে যবেহ্ করা পশু। দমবন্ধ হয়ে মরে যাওয়া পশু, আঘাতে মৃত পশু, উপর থেকে পড়ে মরা পশু, সিং - এর গুতোয় মরা পশু এবং সেই পশু যাকে হিংস্র জানোয়ার ছিন্ন ভিন্ন করে খেয়েছে। তবে এর মধ্যে যেগুলোকে তোমরা যবেহ্ করার সুযোগ পাও (সেগুলো হালাল)। আর যেগুলো আস্তানা বা বেদিতে যবাই করা হয়েছে সেগুলোও হারাম। আরো হারাম করা হয়েছে জুয়ার তীরের (অর্থাৎ জুয়াবাজির) মাধ্যমে ভাগ্য নির্ণয় করা। এগুলো সবই ফাসেকি কাজ। আজ কাফিররা তোমাদের দীনের বিরোধিতার কাজে হতাশ হয়ে পড়েছে। সুতরাং তাদের ভয় পেয়োনা, কেবল আমাকে ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্যে পূর্ণ করে দিলাম তোমাদের দীন, পরিপূর্ণ করে দিলাম তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত (আল কুরআন) এবং তোমাদের জন্যে দীন (জীবন ব্যবস্থা) মনোনীত করলাম ইসলামকে। কেউ পাপের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে ক্ষুধার তাড়নায় যদি বাধ্য হয়ে (হারামকৃত জিনিসগুলো থেকে কিছু খায়) তবে অবশ্যি ক্ষমাশীল দয়াময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের জন্য হারাম করা হইয়াছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকর - মাংস, ‌ ব্যতীত অপরের নামে যবেহকৃত পশু আর শ্বাসরোধে মৃত জন্তু, প্রহারে মৃত জন্তু, পতনে মৃত জন্তু, শৃংগাঘাতে মৃত জন্তু এবং হিংস্র পশুতে খাওয়া জন্তু; তবে যাহা তোমরা যবেহ্ করিতে পারিয়াছ তাহা ব্যতীত, আর যাহা মূর্তি পূজার বেদীর উপর বলি দেওয়া হয় তাহা এবং জুয়ার তীর দ্বারা ভাগ্য নির্ণয় করা - এই সব পাপকাজ। আজ কাফিররা তোমাদের দীনের বিরুদ্ধাচরণে হতাশ হইয়াছে; সুতরাং তাহাদেরকে ভয় করিও না, শুধু আমাকে ভয় কর। আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দীন পূর্ণাংগ করিলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন মনোনীত করিলাম। তবে কেহ পাপের দিকে না ঝুঁকিয়া ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হইলে তখন তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমার কাছে জানতে চাইছে, তাদের জন্য কী হালাল করা হয়েছে? তুমি তাদের বলো: তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে সব ভালো জিনিস। তোমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তার আলোকে তোমরা শিকারী পশু পাখিদের যা প্রশিক্ষণ দাও, তারা তোমাদের জন্য যা শিকার করে আনে সেগুলো খাও। তবে সেগুলোতে আল্লাহর নাম নেবে, আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

লোকে তোমাকে প্রশ্ন করে, তাহাদের জন্য কী কী হালাল করা হইয়াছে ? বল, ‘সমস্ত ভাল জিনিস তোমাদের জন্য হালাল করা হইয়াছে এবং শিকারী পশু - পাখি যাহাদেরকে তোমরা শিকার শিক্ষা দিয়াছ যেভাবে ‌ তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়াছেন, উহারা যাহা তোমাদের জন্য ধরিয়া আনে তাহা ভক্ষণ করিবে এবং ইহাতে ‌র নাম নিবে আর ‌কে ভয় করিবে; নিশ্চয়ই হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত তৎপর।’

আবদুস শহীদ নাসিম

আজ তোমাদের জন্য হালাল করা হলো সব ভালো - পবিত্র জিনিস। পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের খাদ্য দ্রব্য (যবাই করা পশু) তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাদ্য দ্রব্যও তাদের জন্য হালাল। তোমাদের জন্য (বিয়ে করা হালাল) সতী সাধ্বী নারীদেরকে এবং তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের সতী সাধ্বী নারীদেরকে যদি তোমরা তাদের মোহরানা প্রদান করো বিয়ে করার উদ্দেশ্যে, ব্যভিচার এবং গোপন প্রণয়িনী হিসেবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে নয়। যে কেউ ঈমানের পথে আসতে অস্বীকার করবে, নিষ্ফল হয়ে যাবে তার আমল এবং আখিরাতে সে অন্তরভুক্ত হবে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আজ তোমাদের জন্য সমস্ত ভাল জিনিস হালাল করা হইল, যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে তাহাদের খাদ্যদ্রব্য তোমাদের জন্য হালাল ও তোমাদের খাদ্যদ্রব্য তাহাদের জন্য হালাল; এবং সচ্চরিত্রা নারী ও তোমাদের পূর্বে যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে তাহাদের সচ্চরিত্রা নারী তোমাদের জন্য বৈধ করা হইল যদি তোমরা তাহাদের মাহ্‌র প্রদান কর বিবাহের জন্য - প্রকাশ্য ব্যভিচার অথবা গোপন প্রণয়িনী গ্রহণের জন্য নয়। কেহ ঈমান প্রত্যাখ্যান করিলে তাহার কর্ম নিষ্ফল হইবে এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা ! তোমরা যখন সালাতের জন্য উঠবে তখন ধুয়ে নেবে তোমাদের মুখমন্ডল এবং তোমাদের হাত কনুই পর্যন্ত, আর মাসেহ্ করে নেবে তোমাদের মাথা এবং ধুয়ে নেবে তোমাদের পা টাক্নু পর্যন্ত। কিন্তু তোমরা যদি অপবিত্র থাকো তাহলে (আগেই) পবিত্র হয়ে নেবে। তবে যদি রোগাক্রান্ত হয়ে থাকো, কিংবা সফরে থাকো, অথবা তোমাদের কেউ যদি পায়খানায় গিয়ে আসো, কিংবা স্ত্রীর সাথে সংগম করে থাকো, অতঃপর যদি পানি না পাও, তবে তাইয়াম্মুম করে নাও ভালো মাটি দিয়ে। তা দিয়ে মাসেহ্ করে নেবে তোমাদের মুখমন্ডল এবং হাত। তোমাদের কষ্টে ফেলতে চান না, বরং তিনি চান তোমাদের পবিত্র করতে এবং তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করতে, যাতে করে তোমরা হতে পারো শোকরগুজার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য প্রস্তুত হইবে তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করিবে এবং তোমাদের মাথা মসেহ্ করিবে এবং পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত করিবে; যদি তোমরা অপবিত্র থাক, তবে বিশেষভাবে পবিত্র হইবে। তোমরা যদি পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেহ শৌচস্থান হইতে আসে, অথবা তোমরা স্ত্রীর সঙ্গে সংগত হও এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করিবে এবং উহা দ্বারা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মসেহ্ করিবে। ‌ তোমাদেরকে কষ্ট দিতে চান না ; বরং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করিতে চান ও তোমাদের প্রতি তাঁহার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করিতে চান; যাহাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করো আর সেই অংগীকারের কথা যার সাথে তিনি তোমাদের শক্তভাবে আবদ্ধ করেছিলেন, যখন তোমরা বলেছিলে: ‘আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম।’ আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই ভালোভাবে জানেন অন্তরের খবর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, তোমাদের প্রতি ‌র অনুগ্রহ এবং যে অঙ্গীকারে তিনি তোমাদেরকে আবদ্ধ করিয়াছিলেন তাহা। যখন তোমরা বলিয়াছিলে, ‘শ্রবণ করিলাম ও মান্য করিলাম’ এবং ‌কে ভয় কর ; অন্তরে যাহা আছে সে সম্বন্ধে তো সবিশেষ অবহিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঈমান আনা লোকেরা! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদাতা হিসেবে অটল অবিচল থাকো। কোনো কওমের প্রতি বিদ্বেষ যেনো তোমাদেরকে ন্যায়নীতি বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা আদল ও ইনসাফের নীতি গ্রহণ করো। এটাই তাকওয়ার জন্যে নিকটতর। আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই তোমাদের আমল (কর্মকান্ড) সম্পর্কে বিশেষভাবে খবর রাখেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! ‌র উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানে তোমরা অবিচল থাকিবে ; কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন কখনও সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে, সুবিচার করিবে, ইহা তাক্ওয়ার নিকটতর এবং ‌কে ভয় করিবে, তোমরা যাহা কর নিশ্চয়ই ‌ তাহার সম্যক খবর রাখেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

ওয়াদা দিয়েছেন: যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ করে তাদের জন্যে রয়েছে মাগফিরাত এবং বিশাল পুরস্কার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে ‌ তাহাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন, তাহাদের জন্য ক্ষমা এবং মহাপুরস্কার আছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা কুফুরির পথ অবলম্বন করে এবং প্রত্যাখ্যান করে আমাদের আয়াত, তারা হবে জাহিমের (জ্বলন্ত আগুনের) অধিবাসী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা করে এবং আমার আয়াতকে মিথ্যা জ্ঞান করে তাহারা অগ্নির অধিবাসী।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমাদের প্রতি আল্লাহর সেই অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো যখন একদল লোক তোমাদের উপর হাত উঠাতে চেয়েছিল, তখন তিনিই তোমাদের থেকে তাদের হাত গুটিয়ে রেখেছিলেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আর মুমিনরা তাওয়াক্কুল করুক আল্লাহরই উপর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমাদের প্রতি ‌র অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন এক সম্প্রদায় তোমাদের বিরুদ্ধে হস্ত উত্তোলন করিতে চাহিয়াছিল, তখন ‌ তাহাদের হাত তোমাদের দিক হইতে নিবৃত্ত করিয়াছিলেন। এবং ‌কে ভয় কর, আর ‌রই প্রতি মু’মিনগণ নির্ভর করুক।

আবদুস শহীদ নাসিম

(দেখো), বনি ইসরাঈলের অংগীকার গ্রহণ করেছিলেন এবং আমরা তাদের মধ্য থেকে বারোজন নকিব (নেতা) নিয়োগ করেছিলাম। তাদের বলেছিলেন: আমি তোমাদের সাথে আছি তোমরা যদি কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো, আমার রসূলদের প্রতি ঈমান রাখো, তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করো এবং আল্লাহকে করযে হাসানা দাও। তাহলে অবশ্যি তোমাদের থেকে মুছে দেবো তোমাদের পাপসমূহ এবং অবশ্য অবশ্যি তোমাদের দাখিল করবো জান্নাতসমূহে, যেগুলোর নিচে দিয়ে জারি থাকবে নদ নদী নহর। এরপরও যদি (তোমাদের) কেউ কুফুরিতে নিমজ্জিত হয়, সে বিপথগামী হয়ে যাবে সোজা পথ থেকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর ‌ তো বনী ইসরাঈলের অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছিলেন এবং তাহাদের মধ্য হইতে দ্বাদশ নেতা নিযুক্ত করিয়াছিলাম ; আর ‌ বলিয়াছিলেন, ‘আমি তোমাদের সঙ্গে আছি ; তোমরা যদি কায়েম কর, যাকাত দাও, আমার রাসূলগণের প্রতি ঈমান আন ও তাহাদেরকে সম্মান কর এবং ‌কে উত্তম ঋণ প্রদান কর, তবে তোমাদের পাপ অবশ্যই মোচন করিব এবং নিশ্চয় তোমাদেরকে দাখিল করিব জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। ইহার পরও কেহ করিলে সে তো সরল পথ হারাইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অংগীকার ভংগের কারণে আমরা তাদেরকে (বনি ইসরাঈলকে) লানত করেছি এবং তাদের অন্তরগুলোকে করে দিয়েছি কঠিন। তারা বিকৃত করতো কথাকে আসল অর্থ থেকে এবং তাদের যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তার একাংশ তারা ভুলে গিয়েছিল। সব সময় তুমি তাদের অল্প কিছু লোক ছাড়া বাকিদেরকে খিয়ানতকারী দেখতে পাবে। সুতরাং তুমি তাদের ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো, নিশ্চয়ই কল্যাণকামীদের মহববত করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের জন্য আমি তাহাদেরকে লা‘নত করিয়াছি ও তাহাদের হৃদয় কঠিন করিয়াছি ; তাহারা শব্দগুলির আসল অর্থ বিকৃত করে এবং তাহারা যাহা উপদিষ্ট হইয়াছিল উহার এক অংশ ভুলিয়া গিয়াছে। তুমি সর্বদা উহাদের অল্পসংখ্যক ব্যতীত সকলকেই বিশ্বাসঘাতকতা করিতে দেখিতে পাইবে, সুতরাং উহাদেরকে ক্ষমা কর ও উপেক্ষা কর, নিশ্চয়ই ‌ সৎকর্মপরায়ণদেরকে ভালবাসেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের থেকেও অংগীকার গ্রহণ করেছিলাম যারা বলে আমরা নাসারা (খৃষ্টান)। কিন্তু তাদের যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তার একাংশ তারা ভুলে থেকেছিল। সুতরাং আমরা কিয়ামতকাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে দুশমনি ও বিদ্বেষ জাগিয়ে রেখেছি। অচিরেই (বিচারের দিন) তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম অবহিত করবেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা বলে, ‘আমরা খ্রিস্টান’, তাহাদেরও অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছিলাম ; কিন্তু তাহারা যাহা উপদিষ্ট হইয়াছিল তাহার এক অংশ ভুলিয়া গিয়াছে। সুতরাং আমি তাহাদের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী শত্রুতা ও বিদ্বেষ জাগরূক রাখিয়াছি ; তাহারা যাহা করিত ‌ তাহাদেরকে অচিরেই তাহা জানাইয়া দিবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আহলে কিতাব! এখন তো তোমাদের কাছে আমাদের রসূল (মুহাম্মদ) এসে গেছে। সে আল কিতাবের এমন অনেক বিষয়ই তোমাদের কাছে প্রকাশ করেছে, যা তোমরা গোপন করে রাখছিলে, আর অনেক বিষয় সে ক্ষমার চোখেও দেখছে। তোমাদের কাছে তো এসে গেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আলো (অর্থাৎ রসূল মুহাম্মদ) এবং একটি সুস্পষ্ট কিতাব (আল কুরআন)।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে কিতাবীগণ! আমার রাসূল তোমাদের নিকট আসিয়াছে, তোমরা কিতাবের যাহা গোপন করিতে সে উহার অনেক কিছু তোমাদের নিকট প্রকাশ করে এবং অনেক কিছু উপেক্ষা করিয়া থাকে। ‌র নিকট হইতে এক জ্যোতি ও স্পষ্ট কিতাব তোমাদের নিকট আসিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর মাধ্যমে সেইসব লোকদের সালামের (শান্তি ও নিরাপত্তার) পথ দেখান, যারা তাঁর সন্তোষ লাভের আকাংখী, আর নিজ অনুমতিক্রমে তিনি তাদেরকে অন্ধকাররাশি থেকে বের করে নিয়ে আসেন আলোতে এবং তাদের পরিচালিত করেন সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ‌র সন্তুষ্টি লাভ করিতে চায়, ইহা দ্বারা তিনি তাহাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ অনুমতিক্রমে অন্ধকার হইতে বাহির করিয়া আলোর দিকে লইয়া যান এবং উহাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বলে, ‘মসিহ ইবনে মরিয়মই ’, তারা কুফুরি করেছে। বলো, যদি মসিহ্ ইবনে মরিয়মকে, তার মাকে এবং বিশ্বের সব মানুষকে হালাক করে দিতে চান, তাহলে তাঁকে তাঁর এই এরাদা থেকে বিরত রাখার ক্ষমতা কার আছে? মহাকাশ, পৃথিবী এবং এদুয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর মালিক তো । তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। আর সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা বলে, ‘মার্‌ইয়াম - তনয় মসীহ্ই ’, তাহারা তো করিয়াছেই। বল, ‘ মার্‌ইয়াম - তনয় মসীহ্, তাঁহার মাতা এবং দুনিয়ার সকলকে যদি ধ্বংস করিতে ইচ্ছা করেন তবে তাঁহাকে বাধা দিবার শক্তি কাহার আছে ?’ আসমান ও যমীনের এবং ইহাদের মধ্যে যাহা কিছু আছে তাহার সার্বভৌমত্ব ‌রই। তিনি যাহা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইহুদি এবং নাসারারা বলে: ‘আমরা আল্লাহর সন্তান এবং তাঁর প্রিয়পাত্র।’ বলো: তাহলে তোমাদের অপরাধের জন্যে তিনি তোমাদের শাস্তি দেন কেন? বরং তোমরা তো সে রকমই মানুষ, যেমন তিনি অন্যান্য মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তিনি ক্ষমা করে দেন যাকে ইচ্ছা এবং আযাব দেন যাকে ইচ্ছা। মহাকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। সবাইকে ফিরে যেতে হবে তাঁরই কাছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানগণ বলে, ‘আমরা ‌র পুত্র ও তাঁহার প্রিয়।’ বল, ‘তবে কেন তিনি তোমাদের পাপের জন্য তোমাদেরকে শাস্তি দেন ? না, তোমরা মানুষ তাহাদেরই মতো যাহাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন।’ যাহাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দেন ; আস্‌মান ও যমীনের এবং ইহাদের মধ্যে যাহা কিছু আছে তাহার সার্বভৌমত্ব ‌রই, আর প্রত্যাবর্তন তাঁহারই দিকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আহলে কিতাব! এখন তো তোমাদের কাছে এসে গেছে আমার রসূল (মুহাম্মদ) দীনের সমস্ত বিষয় তোমাদের জন্যে সুস্পষ্ট করার জন্যে দীর্ঘকাল রসূলদের আসা বন্ধ থাকার পর, যাতে করে তোমরা বলতে না পারো যে: ‘আমাদের কাছে তো কোনো সুসংবাদদাতা কিংবা সতর্ককারী আসেনি।’ এখন তো তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী এসে গেছে। সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে কিতাবীগণ! রাসূল প্রেরণে বিরতির পর আমার রাসূল তোমাদের নিকট আসিয়াছে। সে তোমাদের নিকট স্পষ্ট ব্যাখ্যা করিতেছে যাহাতে তোমরা বলিতে না পার, ‘কোন সুসংবাদবাহী ও সতর্ককারী আমাদের নিকট আসে নাই।’ এখন তো তোমাদের নিকট একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী আসিয়াছে। সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

(স্মরণ করো) যখন মূসা তার কওমকে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমাদের প্রতি আল্লাহর সেই নিয়ামত - এর কথা স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে অনেক নবী প্রেরণ করেছিলেন, তোমাদের বানিয়েছিলেন শাসক এবং তোমাদের দিয়েছিলেন (এতোসব) যা বিশ্বজগতের আর কাউকেও দেয়া হয়নি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, যখন মূসা তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা তোমাদের প্রতি ‌র অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্য হইতে নবী করিয়াছিলেন ও তোমাদেরকে রাজ্যাধিপতি করিয়াছিলেন এবং বিশ্বজগতে কাহাকেও যাহা তিনি দেন নাই তাহা তোমাদেরকে দিয়াছিলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম, দাখিল হও পবিত্র ভূমিতে (জেরুযালেমে) যা লিখে দিয়েছেন তোমাদের জন্যে, পেছনে হটে যেয়োনা, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের জন্য যে পবিত্র ভূমি নির্দিষ্ট করিয়াছেন তাহাতে তোমরা প্রবেশ কর এবং পশ্চাদপসরণ করিও না; করিলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হইয়া পড়িবে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘হে মূসা! সেখানে যে রয়েছে একটি দুর্ধর্ষ জাতি! আমরা কিছুতেই সেখানে দাখিল হবোনা, যদি না তারা সেখান থেকে বের হয়ে যায়। তারা যদি সেখান থেকে বের হয়ে যায়, তবেই আমরা দাখিল হবো সেখানে।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘হে মূসা! সেখানে এক দুর্দান্ত সম্প্রদায় রহিয়াছে এবং তাহারা সেই স্থান হইতে বাহির না হওয়া পর্যন্ত আমরা কখনই সেখানে কিছুতেই প্রবেশ করিব না; তাহারা সেই স্থান হইতে বাহির হইয়া গেলেই আমরা প্রবেশ করিব।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে (তাদের মধ্য থেকে) দুইজন লোক যারা ভয় করছিল এবং যাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলেন তারা বললো: ‘তোমরা (তাদের সাথে লড়াই করে) দরজা দিয়ে দাখিল হয়ে যাও। যখনই তোমরা দাখিল হয়ে যাবে তোমরাই গালিব (জয়ী) হবে। আর আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করো যদি তোমরা হয়ে থাকো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ভয় করিতেছিল তাহাদের মধ্যে দুইজন - যাহাদের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছিলেন, তাহারা বলিল, ‘তোমরা তাহাদের মুকাবিলা করিয়া দ্বার দিয়া প্রবেশ কর, প্রবেশ করিলেই তোমরা জয়ী হইবে এবং তোমরা হইলে ‌র উপরই নির্ভর কর।’

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তারা একইভাবে বললো: ‘হে মূসা! আমরা ততোদিন সেখানে কিছুতেই দাখিল হবোনা যতোদিন তারা সেখানে অবস্থান করবে। সুতরাং তুমি আর তোমার রব গিয়ে (তাদের সাথে) যুদ্ধ করো, আমরা এখানেই বসে থাকবো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘হে মূসা! তাহারা যত দিন সেখানে থাকিবে তত দিন আমরা সেখানে প্রবেশ করিবই না; সুতরাং তুমি আর তোমার প্রতিপালক যাও এবং যুদ্ধ কর, আমরা এখানেই বসিয়া থাকিব।’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (মূসা) বললো: ‘আমার রব! আমার তো আমার নিজের এবং আমার ভাই (হারূণ) - এর ছাড়া আর কারো উপর কর্তৃত্ব নেই। সুতরাং তুমি আমাদের এবং এই ফাসিক (সীমালংঘনকারী) লোকদের মধ্যে ফায়সালা করে দাও।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার ও আমার ভ্রাতা ব্যতীত অপর কাহারও উপর আমার আধিপত্য নাই; সুতরাং তুমি আমাদের ও সত্যত্যাগী সম্প্রদায়ের মধ্যে ফয়সালা করিয়া দাও।’

আবদুস শহীদ নাসিম

বললেন: ‘যাও এখন থেকে চল্লিশ বছর তাদের জন্যে এই ভূ - খন্ড নিষিদ্ধ করে দেয়া হলো। তারা (মরু) ভূমিতে উদ্ভ্রান্তের মতো বেড়াবে। সুতরাং তুমি এই ফাসিকদের জন্যে ব্যথিত হয়োনা।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বলিলেন, ‘তবে ইহা চল্লিশ বৎসর তাহাদের জন্য নিষিদ্ধ রহিল, তাহারা পৃথিবীতে উদ্ভ্রন্ত হইয়া ঘুরিয়া বেড়াইবে, সুতরাং তুমি সত্যত্যাগী সম্প্রদায়ের জন্য দুঃখ করিও না।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তাদের প্রতি হকভাবে তিলাওয়াত করো আদমের দুই পুত্রের (হাবিল ও কাবিলের) সংবাদ। তারা যখন কুরবানি করেছিল, তখন একজনের (হাবিলের) কুরবানি কবুল করা হয়, আর অপর জনের (কাবিলের) কুরবানি কবুল করা হয়নি। সে বললো: ‘আমি অবশ্য অবশ্যি তোমাকে কতল করবো।’ অপরজন বললো: ‘‘ তো কেবল মুত্তাকিদের থেকেই (কুরবানি) কবুল করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত তুমি তাহাদেরকে যথাযথভাবে শোনাও। যখন তাহারা উভয়ে কুরবানী করিয়াছিল তখন একজনের কুরবানী কবূল হইল এবং অন্যজনের কবূল হইল না। সে বলিল, ‘আমি তোমাকে হত্যা করিবই।’ অপরজন বলিল, ‘অবশ্যই মুত্তাকীদের কুরবানী কবূল করেন।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যদি আমাকে কতল করার জন্যে হাত বাড়াও, আমি কিন্তু তোমাকে কতল করার জন্যে হাত বাড়াবোনা। আমি রাববুল আলামিনকে ভয় করি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমাকে হত্যা করার জন্য তুমি হাত তুলিলেও তোমাকে হত্যা করার জন্য আমি হাত তুলিব না; আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালক ‌কে ভয় করি।’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি চাই তুমি আমার এবং তোমার পাপের ভার বহন করো এবং জাহান্নামের অধিবাসী হয়ে যাও, আর এটাই যালিমদের (সঠিক) জাযা (কর্মফল)।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তুমি আমার ও তোমার পাপের ভার বহন কর এবং দোজখবাসী হও - ইহাই আমি চাই এবং ইহা জালিমদের কর্মফল।’

আবদুস শহীদ নাসিম

অতরপর তার নফস্ তার ভাইকে কতল করার কাজে তাকে প্ররোচিত করলো এবং সে তাকে কতল করলো আর ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তরভুক্ত হয়ে গেলো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তাহার চিত্ত ভ্রাতৃহত্যায় তাহাকে উত্তেজিত করিল। ফলে সে তাহাকে হত্যা করিল; তাই সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হইল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার ভাইয়ের লাশ কিভাবে ঢাকবে তা দেখানোর জন্যে একটি কাক পাঠালেন। সে এসে মাটি খুঁড়তে থাকলো। এটা দেখে সে (হত্যাকারী কাবিল) বললো: হায়, আমার ভাইয়ের লাশ ঢাকার ব্যাপারে আমি কি এই কাকটির মতো হতেও অক্ষম। অতপর সে লজ্জিত - অনুতপ্ত হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর একটি কাক পাঠাইলেন, যে তাহার ভ্রাতার শবদেহ কিভাবে গোপন করা যায় তাহা দেখাইবার জন্য মাটি খনন করিতে লাগিল। সে বলিল, ‘হায়! আমি কি এই কাকের মতও হইতে পারিলাম না, যাহাতে আমার ভ্রাতার শবদেহ গোপন করিতে পারি!’ অতঃপর সে অনুতপ্ত হইল।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ প্রেক্ষিতে আমরা বনি ইসরাঈলের জন্যে বিধান লিখে দিলাম: কাউকেও কতল করা বা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করার মতো ঘটনা ঘটানো ছাড়াই যদি কেউ কাউকেও কতল করে, তবে সে যেনো সমস্ত মানুষকে কতল করলো। আর কেউ যদি কারো প্রাণ রক্ষা করে, তবে সে যেনো সমস্ত মানুষের প্রাণ রক্ষা করলো। তাদের কাছে তো আমাদের রসূলরা স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারপরও তাদের অনেকেই পৃথিবীতে সীমালংঘনকারীই থেকে গেলো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই কারণেই বনী ইসরাঈলের প্রতি বিধান দিলাম যে, নরহত্যা অথবা দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কাজ করা হেতু ব্যতীত কেহ কাহাকেও হত্যা করিলে সে যেন দুনিয়ার সকল মানুষকেই হত্যা করিল ; আর কেহ কাহারও প্রাণ রক্ষা করিলে সে যেন সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করিল। তাহাদের নিকট তো আমার রাসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণ আনিয়াছিল, কিন্তু ইহার পরও তাহাদের অনেকে দুনিয়ায় সীমালংঘন - কারীই রহিয়া গেল।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের এই কাজের জাযা (শাস্তি) হলো: তাদের হত্যা করা হবে, অথবা শূলবিদ্ধ করা হবে, কিংবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে, নতুবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এ হলো তাদের দুনিয়ার লাঞ্ছনা, আর আখিরাতে তাদের জন্যে রয়েছে বিরাট আযাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ও তাঁহার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কাজ করিয়া বেড়ায় ইহাই তাহাদের শাস্তি যে, তাহাদেরকে হত্যা করা হইবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হইবে অথবা বিপরীত দিক হইতে তাহাদের হাত ও পা কাটিয়া ফেলা হইবে অথবা তাহাদেরকে দেশ হইতে নির্বাসিত করা হইবে। দুনিয়ায় ইহাই তাহাদের লাঞ্ছনা ও পরকালে তাহাদের জন্য মহাশাস্তি রহিয়াছে;

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্য, যারা তোমাদের আয়ত্বে আসার আগেই তওবা করবে, (তাদের জন্যে এ শাস্তি প্রযোজ্য হবেনা)। জেনে রাখো, ক্ষমাশীল দয়াময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে, তোমাদের আয়ত্তাধীনে আসিবার পূর্বে যাহারা তওবা করিবে তাহাদের জন্য নয়। সুতরাং জানিয়া রাখ, অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঈমান আনা লোকেরা! আল্লাহকে ভয় করো এবং আল্লাহর দিকে উসিলা তালাশ করো আর জিহাদ করো তাঁর পথে, অবশ্যি তোমরা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! ‌কে ভয় কর, তাঁহার নৈকট্য লাভের উপায় অন্বেষণ কর ও তাঁহার পথে সংগ্রাম কর, যাহাতে তোমরা হইতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কুফুরিকে আঁকড়ে ধরবে, পৃথিবীর সব কিছু যদি তাদের হয় এবং সমপরিমাণ যদি আরো থাকে, কিয়ামত কালের আযাব থেকে মুক্তির জন্যে (তারা সবই মুক্তিপণ স্বরূপ দিয়ে দিতে চাইবে, কিন্তু) তাদের থেকে তা কবুল করা হবেনা। তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা করিয়াছে, কিয়ামতের দিন শাস্তি হইতে মুক্তির জন্য পণস্বরূপ দুনিয়ায় যাহা কিছু আছে, যদি তাহাদের তাহার সমস্তই থাকে এবং তাহার সঙ্গে সমপরিমাণ আরও থাকে, তবুও তাহাদের নিকট হইতে তাহা গৃহীত হইবে না এবং তাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আগুন থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তারা তা থেকে বেরুতে পারবেনা এবং তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আযাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা দোজখ হইতে বাহির হইতে চাহিবে; কিন্তু তাহারা উহা হইতে বাহির হইবার নয় এবং তাহাদের জন্য স্থায়ী শাস্তি রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

চোর পুরুষ হোক আর নারী হোক, তাদের হাত কেটে দাও। এটা তাদের কৃতকর্মের জাযা (শাস্তি), আল্লাহর পক্ষ থেকে সঠিক দন্ড, দুর্জয় শক্তিমান মহাপ্রজ্ঞাময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পুরুষ চোর এবং নারী চোর, তাহাদের হস্তচ্ছেদন কর; ইহা তাহাদের কৃতকর্মের ফল এবং ‌র পক্ষ হইতে দৃষ্টান্তমূলক দণ্ড; পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যুলুম করার পর কেউ যদি তওবা করে এবং নিজেকে ইসলাহ্ করে নেয়, তার তওবা কবুল করবেন। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু সীমালংঘন করার পর কেহ তওবা করিলে ও নিজেকে সংশোধন করিলে অবশ্যই তাহার তওবা কবূল করিবেন; তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি জানোনা যে, মহাকাশ এবং পৃথিবীর কর্তৃত্ব আল্লাহর? তিনি যাকে চান শাস্তি দেন এবং যাকে চান ক্ষমা করে দেন। প্রতিটি বিষয়ে শক্তিমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি জান না, আসমান ও যমীনের সার্বভৌমত্ব ‌রই ? যাহাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দেন আর যাহাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করেন এবং সর্ববিষয়ে শক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে রসূল! তুমি মনে কষ্ট পেয়োনা ঐসব লোকদের কর্মকান্ডে, যারা দ্রুতবেগে কুফুরির দিকে অগ্রসর হয়, তারা সেইসব লোকদের অন্তরভুক্ত, যারা মুখে বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি’ অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনেনি; আর সেইসব ইহুদির কর্মকান্ডে যারা অন্য এমন লোকদের মিথ্যা কথা শুনতে তৎপর যারা তোমার কাছে আসেনা। তারা সুবিন্যস্ত কথাকে তার সঠিক অর্থ থেকে সরিয়ে বিকৃত অর্থ করে। তারা বলে: ‘এরকম বিধান দিলে গ্রহণ করো, সেরকম না দিলে বর্জন করো।’ যাকে ফিতনায় ফেলতে চান, তার জন্যে তোমার কিছুই করার ক্ষমতা নেই। এরা সেসব লোক, যাদের অন্তরগুলোকে পবিত্র করতে চাননা। তাদের জন্যে দুনিয়ায় রয়েছে লাঞ্ছনা আর আখিরাতে তাদের জন্যে রয়েছে বিরাট আযাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে রাসূল! তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যাহারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয় - যাহারা মুখে বলে, ‘ঈমান আনিয়াছি’, অথচ তাহাদের অন্তর ঈমান আনে না এবং ইয়াহূদীদের মধ্যে যাহারা অসত্য শ্রবণে তৎপর, তোমার নিকট আসে না এমন এক ভিন্ন দলের পক্ষে যাহারা কান পাতিয়া থাকে। শব্দগুলি যথাযথ সুবিন্যস্ত থাকার পরও তাহারা সেগুলির অর্থ বিকৃত করে। তাহারা বলে, ‘এই প্রকার বিধান দিলে গ্রহণ করিও এবং উহা না দিলে বর্জন করিও।’ এবং যাহার পথচ্যুতি চান তাহার জন্য ‌র নিকট তোমার কিছুই করিবার নাই। তাহাদের হৃদয়কে বিশুদ্ধ করিতে চান না; তাহাদের জন্য আছে দুনিয়ায় লাঞ্ছনা আর আখিরাতে রহিয়াছে তাহাদের জন্য মহাশাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা মিথ্যা কথা শুনতে খুবই উৎসাহী, তারা হারাম (সুদ ঘুষ) খেতে আসক্ত। তারা (বিচার চাইতে) তোমার কাছে এলে তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দিও, অথবা তাদের উপেক্ষা করবে। তুমি তাদের উপেক্ষা করলে তারা তোমার কোনোই ক্ষতি করতে পারবেনা। আর যদি তাদের মধ্যে ফায়সালা করো ন্যায় বিচার করবে। কারণ ন্যায় বিচারকদের পছন্দ করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা মিথ্যা শ্রবণে অত্যন্ত আগ্রহশীল এবং অবৈধ ভক্ষণে অত্যন্ত আসক্ত; তাহারা যদি তোমার নিকট আসে তবে তাহাদের বিচার নিষ্পত্তি করিও অথবা তাহাদেরকে উপেক্ষা করিও। তুমি যদি তাহাদেরকে উপেক্ষা কর তবে তাহারা তোমার কোন ক্ষতি করিতে পারিবে না। আর যদি বিচার নিষ্পত্তি কর তবে তাহাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করিও ; নিশ্চয়ই ন্যায়পরায়ণদের ভালবাসেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কী করে তোমার উপর তাদের বিচার ফায়সালার দায়িত্ব অর্পণ করবে, কারণ তাদের কাছে তো তাওরাত রয়েছে আর তাতেই আল্লাহর আইন বিদ্যমান রয়েছে? তা সত্তেবও তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আসলে তারা মুমিনই নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা তোমার উপর কিরূপে বিচারভার ন্যস্ত করিবে অথচ তাহাদের নিকট রহিয়াছে তাওরাত যাহাতে ‌র আদেশ আছে ? ইহার পরও তাহারা মুখ ফিরাইয়া নেয় এবং উহারা নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাওরাত নাযিল করেছিলাম, তাতে ছিলো হিদায়াত এবং নূর (জ্ঞান)। নবীরা, যারা ছিলো আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পিত তার ভিত্তিতে ইহুদিদের ফায়সালা দিতো, রাবিব এবং জ্ঞানীরাও তার ভিত্তিতে তাদের ফায়সালা দিতো, কারণ তাদের বানানো হয়েছিল আল্লাহর কিতাবের হিফাযতকারী এবং তার (কিতাবের) সাক্ষী। সুতরাং মানুষকে ভয় পেয়োনা, আমাকে ভয় করো আর বিক্রয় করোনা আমার আয়াতকে তুচ্ছ মূল্যে। যারা আল্লাহর নাযিল করা বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করেনা, তারা ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই আমি তাওরাত অবতীর্ণ করিয়াছিলাম; উহাতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো; নবীগণ, যাহারা ‌র অনুগত ছিল তাহারা ইয়াহূদীদেরকে তদনুসারে বিধান দিত, আরও বিধান দিত রাব্বানীগণ এবং বিদ্বানগণ; কারণ তাহাদেরকে ‌র কিতাবের রক্ষক করা হইয়াছিল এবং তাহারা ছিল উহার সাক্ষী। সুতরাং মানুষকে ভয় করিও না, আমাকেই ভয় কর এবং আমার আয়াতসমূহ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করিও না। যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তদনুসারে যাহারা বিধান দেয় না, তাহারাই ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাতে (তাওরাতে এই বিধান) লিখে দিয়েছিলাম: জীবনের বদলে জীবন, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত এবং জখমের বদলে কিসাস (অনুরূপ যখম)। আর কেউ যদি ক্ষমা করে দেয় তা তারই জন্যে কাফ্ফারা (হবে)। যারা আল্লাহর নাযিল করা বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করেনা, তারা যালিম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তাহাদের জন্য উহাতে বিধান দিয়াছিলাম, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত এবং যখমের বদলে অনুরূপ যখম। অতঃপর কেহ উহা ক্ষমা করিলে উহাতে তাহারই পাপ মোচন হইবে। যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তদনুসারে যাহারা বিধান দেয় না, তাহারাই ।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর তাদেরই আদর্শের উপর আমরা পাঠিয়েছিলাম ঈসা ইবনে মরিয়মকে তার পূর্বে নাযিল করা তাওরাতের সত্যায়নকারী হিসেবে। আর আমরা তাকে দিয়েছিলাম ইনজিল, তাতে ছিলো হিদায়াত এবং নূর (জ্ঞান)। আর এ (ইনজিল) ছিলো তার পূর্বে অবতীর্ণ তাওরাতের সমর্থক এবং মুত্তাকিদের জন্যে হিদায়াত ও উপদেশ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মার্‌ইয়াম - তনয় ‘ঈসাকে তাহার পূর্বে অবতীর্ণ তাওরাতের প্রত্যায়নকারীরূপে উহাদের পশ্চাতে প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং তাহার পূর্বে অবতীর্ণ তাওরাতের প্রত্যায়নকারীরূপে এবং মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশ ও উপদেশরূপে তাহাকে ইন্‌জীল দিয়াছিলাম; উহাতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইনজিলের বাহকরা যেনো ফায়সালা করে সে বিধান অনুযায়ী যা তাতে নাযিল করেছেন। যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করেনা তারা ফাসিক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইন্‌জীল - অনুসারিগণ যেন, উহাতে যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তদনুসারে বিধান দেয়। যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তদনুসারে যাহারা বিধান দেয় না, তাহারাই ফাসিক।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি আল কিতাব (আল কুরআন) বাস্তব সত্য বিধান দিয়ে ইতোপূর্বে নাযিলকৃত কিতাবের সত্যায়নকারী এবং সত্যের সংরক্ষণকারী হিসেবে। অতএব তাদের মাঝে ফায়সালা করো আল্লাহর নাযিল করা বিধান অনুযায়ী। তোমার কাছে যে সত্য বিধান এসেছে তা ত্যাগ করে তাদের ইচ্ছা বাসনার অনুসরণ করোনা। আমরা তোমাদের প্রত্যেকের জন্যে একটি (পৃথক) শরিয়ত ও একটি আলোকিত চলার পথ দিয়েছি। চাইলে তোমাদের সবাইকে একটি উম্মতই বানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে চান তোমাদেরকে প্রদত্ত বিধানের ভিত্তিতে। সুতরাং কল্যাণের কাজে প্রতিযোগিতা করো। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছেই ফিরে যেতে হবে। তোমরা যেসব বিষয়ে মতভেদ করছিলে সেখানে তিনি তোমাদের সেগুলো অবহিত করবেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছি ইহার পূর্বে অবতীর্ণ কিতাবের প্রত্যায়নকারী ও সংরক্ষকরূপে। সুতরাং যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তদনুসারে তুমি তাহাদের বিচার নিষ্পত্তি করিও এবং যে সত্য তোমার নিকট আসিয়াছে তাহা ত্যাগ করিয়া তাহাদের খেয়াল - খুশির অনুসরণ করিও না। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য শরী‘আত ও স্পষ্ট পথ নির্ধারণ করিয়াছি। ইচ্ছা করিলে তোমাদেরকে এক জাতি করিতে পারিতেন, কিন্তু তিনি তোমাদেরকে যাহা দিয়াছেন তদ্‌দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষা করিতে চান। সুতরাং সৎকর্মে তোমরা প্রতিযোগিতা কর। ‌র দিকেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করিতেছিলে, সে সম্বন্ধে তিনি তোমাদেরকে অবহিত করিবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের মাঝে ফায়সালা করো সেই বিধান দিয়ে যা নাযিল করেছেন এবং তাদের ইচ্ছা বাসনার অনুসরণ করোনা। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো, তোমার প্রতি যে বিধান নাযিল করেছেন তার কোনো অংশ থেকে যেনো তারা তোমাকে বিচ্যুত না করে। তারা যদি (তোমার থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখো, তাদের কোনো কোনো পাপের জন্যে তাদের শাস্তি দিতে চান। নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে অনেকেই নিশ্চিত ফাসিক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছি যাহাতে তুমি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তদনুযায়ী তাহাদের বিচারনিষ্পত্তি কর, তাহাদের খেয়াল - খুশির অনুসরণ না কর এবং তাহাদের সম্বন্ধে সতর্ক হও যাহাতে যাহা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করিয়াছেন উহারা তাহার কিছু হইতে তোমাকে বিচ্যুত না করে। যদি তাহারা মুখ ফিরাইয়া নেয় তবে জানিয়া রাখ যে, তাহাদের কোন কোন পাপের জন্য তাহাদেরকে শাস্তি দিতে চান এবং মানুষের মধ্যে অনেকেই তো সত্যত্যাগী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে কি তারা জাহেলি যুগের বিধান চায়? যারা আল্লাহর প্রতি একীন রাখে, তাদের কাছে বিধানদাতা হিসেবে আল্লাহর চাইতে অধিকতর কল্যাণকামী আর কে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে কি তাহারা জাহিলী যুগের বিধি - বিধান কামনা করে? নিশ্চিত সম্প্রদায়ের জন্য বিধানদানে অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠতর ?

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঈমান ওয়ালা লোকেরা! তোমরা ইহুদি ও নাসারাদের অলি (বন্ধু, অভিভাবক, পৃষ্ঠপোষক) হিসেবে গ্রহণ করোনা। তারা নিজেরা পরস্পরের অলি। তোমাদের কেউ যদি তাদের অলি হিসেবে গ্রহণ করে, তবে সে হবে তাদেরই লোক। যালিম লোকদের সঠিক পথ দেখান না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমরা ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না, তাহারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেহ তাহাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিলে সে তাহাদেরই একজন হইবে। নিশ্চয়ই সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি দেখতে পাবে, যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা (অর্থাৎ মুনাফিকরা) অচিরেই তাদের (ইহুদি, খৃষ্টান ও মুশরিকদের) সাথে মিলবে - বন্ধুতা করবে। তারা বলবে: ‘আমাদের আশংকা হয় (ওদের সাথে মিলে না গেলে) আমাদের দুরাবস্থা সৃষ্টি হবে।’ অচিরেই হয়তো বিজয়, নয়তো এমন কিছু দেবেন যার ফলে তারা মনের মধ্যে যা গোপন করে রেখেছিল তার জন্যে লজ্জিত - অনুতপ্ত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যাহাদের অন্তঃকরণে ব্যাধি রহিয়াছে তুমি তাহাদেরকে সত্বর তাহাদের সঙ্গে মিলিত হইতে দেখিবে এই বলিয়া, ‘আমাদের আশংকা হয় আমাদের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটিবে।’ হয়তো বিজয় অথবা তাঁহার নিকট হইতে এমন কিছু দিবেন যাহাতে তাহারা তাহাদের অন্তরে যাহা গোপন রাখিয়াছিল তজ্জন্য অনুতপ্ত হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান এনেছে তারা বলবে: এরাই কি তারা? যারা আল্লাহর নামে কঠিন শপথ গ্রহণ করেছিল যে, তারা তোমাদের সাথেই আছে? তাদের সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে, ফলে তারা হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং মু’মিনগণ বলিবে, ‘ইহারাই কি তাহারা, যাহারা ‌র নামে দৃঢ়ভাবে শপথ করিয়াছিল যে, তাহারা তোমাদের সঙ্গেই আছে?’ তাহাদের কাজ নিষ্ফল হইয়াছে ; ফলে তাহারা ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমাদের মধ্য থেকে কেউ (বা কোনো গোষ্ঠী) তার দীন থেকে ফিরে গেলে অচিরেই এমন একদল লোককে (দীনের মধ্যে) নিয়ে আসবেন, যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে। তারা হবে মুমিনদের প্রতি কোমল, কাফিরদের প্রতি কঠোর। তারা জিহাদ করবে আল্লাহর পথে এবং ভয় করবেনা কোনো নিন্দুকের নিন্দা। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ - যাকে ইচ্ছা তিনি দান করেন। বড়ই প্রশস্ত - উদার ও মহাজ্ঞানী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমাদের মধ্যে কেহ দীন হইতে ফিরিয়া গেলে নিশ্চয়ই এমন এক সম্প্রদায় আনিবেন যাহাদেরকে তিনি ভালবাসিবেন এবং যাহারা তাঁহাকে ভালবাসিবে; তাহারা মু’মিনদের প্রতি কোমল ও কাফিরদের প্রতি কঠোর হইবে; তাহারা ‌র পথে জিহাদ করিবে এবং কোন নিন্দুকের নিন্দার ভয় করিবে না; ইহা ‌র অনুগ্রহ, যাহাকে ইচ্ছা তিনি দান করেন এবং প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

(জেনে রাখো) তোমাদের অলি (বন্ধু, অভিভাবক, পৃষ্ঠপোষক) তো এবং তাঁর রসূল আর সেইসব লোক যারা ঈমান এনেছে, যারা কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং যারা (আল্লাহর প্রতি) সদা বিনত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের বন্ধু তো , তাঁহার রাসূল ও মু’মিনগণ - যাহারা বিনত হইয়া কায়েম করে ও যাকাত দেয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলকে আর লোকদেরকে অলি হিসেবে গ্রহণ করে, তারা জেনে রাখুক, আল্লাহর দলই হবে গালিব (বিজয়ী)।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কেহ , তাঁহার রাসূল এবং মু’মিনদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিলে ‌র দলই তো বিজয়ী হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! ইতোপূর্ব যাদের কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দীনকে খেল তামাশার বস্তু বানিয়ে নিয়েছে, তাদেরকে এবং কাফিরদেরকে অলি হিসেবে গ্রহণ করোনা। আল্লাহকে ভয় করো যদি তোমরা হয়ে থাকো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ ! তোমাদের পূর্বে যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে তাহাদের মধ্যে যাহারা তোমাদের দীনকে হাসি - তামাশা ও ক্রীড়ার বস্তুরূপে গ্রহণ করে তাহাদেরকে ও কাফিরদেরকে তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না এবং যদি তোমরা হও তবে ‌কে ভয় কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যখন সালাতের আহবান করো তখন তারা সেটাকে খেল তামাশা হিসেবে গ্রহণ করে। এর কারণ তারা বে - আকল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা যখন সালাতের জন্য আহ্বান কর তখন তাহারা উহাকে হাসি - তামাশা ও ক্রীড়ার বস্তুরূপে গ্রহণ করে - ইহা এইহেতু যে, তাহারা এমন এক সম্প্রদায় যাহাদের বোধশক্তি নাই।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: হে আহলে কিতাব! আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি বলে এবং আমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি আর পূর্বে যা নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি ঈমান এনেছি বলে কি তোমরা আমাদের থেকে প্রতিশোধ নেবে? আসলে তোমাদের অধিকাংশ লোকই ফাসিক (সীমালংঘনকারী)।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘হে কিতাবীগণ! একমাত্র এই কারণেই না তোমরা আমাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ কর যে, আমরা ও আমাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে এবং যাহা পূর্বে অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাতে আমরা ঈমান আনিয়াছি এবং তোমাদের অধিকাংশই তো ফাসিক।’

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী! তাদের) বলো: আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কাছে এর চাইতেও নিকৃষ্ট পরিণতির সংবাদ জানাবো কি? (তা হলো) যাদের লা’নত করেছেন, যাদের উপর গজব আপতিত করেছেন এবং যাদের কিছু লোককে বানর ও শূয়োর বানিয়েছেন আর যারা তাগুতের ইবাদত করে, মর্যাদার দিক থেকে তারাই নিকৃষ্ট এবং সরল সঠিক পথ থেকে তারাই অধিকতর বিপথগামী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে ইহা অপেক্ষা নিকৃষ্ট পরিণামের সংবাদ দিব যাহা ‌র নিকট আছে? যাহাকে ‌ লা‘নত করিয়াছেন, যাহার উপর তিনি ক্রোধান্বিত, যাহাদের কতককে তিনি বানর ও কতককে শূকর করিয়াছেন এবং যাহারা তাগূতের ‘ইবাদত করে, মর্যাদায় তাহারাই নিকৃষ্ট এবং সরল পথ হইতে সর্বাধিক বিচ্যুত।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমার কাছে এলে বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি’, অথচ তারা কুফুরি সাথে নিয়েই (তোমার কাছে) দাখিল হয় এবং তা নিয়েই খারিজ (বের) হয়। তারা যা গোপন করে তা ভালোভাবেই জানেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা যখন তোমাদের নিকট আসে তখন বলে, ‘আমরা ঈমান আনিয়াছি’, কিন্তু তাহারা কুফর লইয়াই প্রবেশ করে এবং উহা লইয়াই বাহির হইয়া যায়। তাহারা যাহা গোপন করে, তাহা বিশেষভাবে অবহিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি দেখবে, তাদের অনেকেই পাপ, সীমালংঘন ও হারামখুরিতে তৎপর। তাদের এই আমল বড়ই নিকৃষ্ট।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের অনেককেই তুমি দেখিবে পাপে, সীমালংঘনে ও অবৈধ ভক্ষণে তৎপর ; তাহারা যাহা করে নিশ্চয় তাহা নিকৃষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের রিবিব ও যাজকরা তাদেরকে তাদের পাপ কথা এবং হারাম খুরি থেকে কেন নিষেধ করেনা? আসলে তাদের কর্ম বড়ই নিকৃষ্ট।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

রাব্বানীগণ ও পণ্ডিতগণ কেন তাহাদেরকে পাপ কথা বলিতে ও অবৈধ ভক্ষণে নিষেধ করে না ? ইহারা যাহা করে নিশ্চয় তাহাও নিকৃষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইহুদিরা বলে: ‘আল্লাহর হাত বাঁধা (অর্থাৎ তিনি কৃপণ)।’ মূলত তাদের হাতই আবদ্ধ এবং তারা যা বলে সে জন্যে তারা অভিশপ্ত। বরং আল্লাহর দুই হাত অবাধ প্রসারিত, তিনি যেভাবে চান দান করেন। তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা তাদের অনেকেরই আল্লাহদ্রোহীতা ও কুফুরি বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা তাদের মধ্যে কিয়ামতকাল পর্যন্ত শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে দিয়েছি। তারা যখনই যুদ্ধের আগুন উস্কায়, তখনই তা নিভিয়ে দেন। তারা বিশ্বে ফাসাদ সৃষ্টির কাজে তৎপর। অথচ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইয়াহূদীরা বলে, ‘‌র হাত রুদ্ধ’; উহারাই রুদ্ধহস্ত এবং উহারা যাহা বলে তজ্জন্য উহারা অভিশপ্ত, বরং ‌র উভয় হস্তই প্রসারিত; যেভাবে ইচ্ছা তিনি দান করেন। তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে যাহা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে তাহা তাহাদের অনেকের ধর্মদ্রোহিতা ও বৃদ্ধি করিবেই। তাহাদের মধ্যে আমি কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চার করিয়াছি। যতবার তাহারা যুদ্ধের অগ্নি করে ততবার উহা নির্বাপিত করেন এবং তাহারা দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কাজ করিয়া বেড়ায়; ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্তদেরকে ভালবাসেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আহলে কিতাবরা যদি ঈমান আনতো এবং তাকওয়া অবলম্বন করতো, আমরা তাদের থেকে মুছে দিতাম তাদের পাপ এবং তাদের দাখিল করতাম জান্নাতুন নায়ীমে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিতাবীগণ যদি ঈমান আনিত ও ভয় করিত তাহা হইলে আমি তাহাদের দোষ অবশ্যই অপনোদন করিতাম এবং তাহাদেরকে সুখময় জান্নাতে দাখিল করিতাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তাওরাত, ইনজিল এবং (এখন) তাদের কাছে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে যা (যে কুরআন) নাযিল হয়েছে তা কায়েম ও প্রবর্তন করতো, তাহলে তারা তাদের উপর থেকে এবং নিচে থেকে আহার লাভ করতো। তাদের মধ্যে কিছু মধ্যপন্থী লোক আছে বটে, তবে তাদের অনেকেই যা করে তা নেহাতই নিকৃষ্ট।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা যদি তাওরাত, ইন্‌জীল ও তাহাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তাহাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহা প্রতিষ্ঠিত করিত, তাহা হইলে তাহারা তাহাদের উপর ও পদতল হইতে আহার্য লাভ করিত। তাহাদের মধ্যে একদল রহিয়াছে যাহারা মধ্যপন্থী; কিন্তু তাহাদের অধিকাংশ যাহা করে তাহা নিকৃষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে রসূল! তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে তোমার কাছে যা নাযিল হয়েছে তা (মানুষের কাছে) পৌঁছে দাও। যদি তা না করো, তবে তুমি তাঁর বার্তা পৌঁছালেনা। আল্লাহ্ই তোমাকে রক্ষা করবেন মানুষের অনিষ্ট থেকে। নিশ্চয়ই হিদায়াত করেন না লোকদেরকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে রাসূল! তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহা প্রচার কর ; যদি না কর তবে তো তুমি তাঁহার বার্তা প্রচার করিলে না। তোমাকে মানুষ হইতে রক্ষা করিবেন। নিশ্চয়ই সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: হে আহলে কিতাব! তোমরা তাওরাত, ইনজিল এবং তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে যা (যে কুরআন) নাযিল হয়েছে তা কায়েম ও প্রবর্তন না করা পর্যন্ত তোমাদের কোনো (ধর্মীয়) ভিত্তি নেই। তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা তাদের অনেকের মধ্যেই আল্লাহদ্রোহীতা ও কুফুরি বাড়িয়ে দেয়ার কারণ হয়েছে। সুতরাং এই কওমের জন্যে দুঃখিত হয়োনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘হে কিতাবীগণ! তাওরাত, ইন্‌জীল ও যাহা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে তোমরা তাহা প্রতিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত তোমাদের কোন ভিত্তিই নাই।’ তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহা তাহাদের অনেকের ধর্মদ্রোহিতা ও অবিশ্বাসই বর্ধিত করিবে। সুতরাং তুমি সম্প্রদায়ের জন্য দুঃখ করিও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে তাদের মধ্যে, যারা ইহুদি হয়েছে তাদের মধ্যে এবং সাবি ও নাসারাদের মধ্যে যারা ও পরকালের প্রতি ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং দুশ্চিন্তাও নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মু’মিনগণ, ইয়াহূদীগণ, সাবীগণ ও খ্রিস্টানগণের মধ্যে কেহ ও আখিরাতে ঈমান আনিলে এবং সৎকাজ করিলে তাহাদের কোন ভয় নাই এবং তাহারা দুঃখিত হইবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা বনি ইসরাঈলের অংগীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং তাদের প্রতি পাঠিয়েছিলাম অনেক রসূল। যখনই তাদের কাছে কোনো রসূল এসেছিল এমন কিছু (বিধান) নিয়ে যা তাদের মনপূত হয়নি, তখনই তারা কিছু রসূলকে অস্বীকার করেছে এবং হত্যা করেছে কিছু রসূলকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি বনী ইসরাঈলের নিকট হইতে অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছিলাম ও তাহাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করিয়াছিলাম। যখনই কোন রাসূল তাহাদের নিকট এমন কিছু আনে যাহা তাহাদের মনঃপূত নয়, তখনই তাহারা কতককে মিথ্যাবাদী বলে ও কতককে হত্যা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথচ তারা ধরে নিয়েছিল তাদের কোনো ফিতনা (শাস্তি) হবেনা। ফলে তারা (তাদের বদ্ধমূল নীতি ও ধারণায়) অন্ধ ও বধির হয়ে পড়েছিল। তারপরও তাদের প্রতি ক্ষমাশীল দৃষ্টি প্রদান করেন। কিন্তু এর পরেও তাদের অনেকেই অন্ধ ও বধির হয়ে যায়। তারা যা করছে তার প্রতি দৃষ্টি রেখে চলেছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা মনে করিয়াছিল, তাহাদের কোন শাস্তি হইবে না ; ফলে তাহারা অন্ধ ও বধির হইয়া গিয়াছিল। অতঃপর তাহাদের প্রতি ক্ষমাশীল হইয়াছিলেন। পুনরায় তাহাদের অনেকেই অন্ধ ও বধির হইয়াছিল। তাহারা যাহা করে তাহার সম্যক দ্রষ্টা।

আবদুস শহীদ নাসিম

ওরা তো কুফুরি করেছেই যারা বলে: ‘মসিহ্ ইবনে মরিয়মই ।’ অথচ মসিহ্ তাদের বলেছিল: ‘হে বনি ইসরাঈল! তোমরা আমার রব ও তোমাদের রব একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো। জেনে রাখো, যে কেউ আল্লাহর সাথে (কাউকেও) শরিক বানাবে, তার জন্যে হারাম করে দেবেন জান্নাত এবং তার আবাস হবে জাহান্নাম। আর যালিমদের জন্যে থাকবেনা কোনো সাহায্যকারী।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা বলে, ‘‌ই মার্‌ইয়াম - তনয় মসীহ্’, তাহারা তো করিয়াছেই। অথচ মসীহ্ বলিয়াছিল, ‘হে বনী ইস্‌রাঈল! তোমরা আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক ‌র ‘ইবাদত কর।’ কেহ ‌র শরীক করিলে তাহার জন্য জান্নাত অবশ্যই নিষিদ্ধ করিবেন এবং তাহার আবাস জাহান্নাম। জালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই।

আবদুস শহীদ নাসিম

ওরাও কুফুরি করেছে যারা বলে: ‘ হলেন তিন জনের একজন।’ অথচ এক ইলাহ্ () ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। তারা যা বলে তা থেকে যদি বিরত না হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যারা কুফুরি করবে, অবশ্যি তাদের স্পর্শ করবে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা বলে, ‘ তো তিনের মধ্যে একজন, তাহারা তো করিয়াছেই - যদিও এক ইলাহ্ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই। তাহারা যাহা বলে তাহা হইতে নিবৃত্ত না হইলে তাহাদের মধ্যে যাহারা করিয়াছে, তাহাদের উপর অবশ্যই মর্মন্তুদ শাস্তি আপতিত হইবেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি ফিরে আসবেনা আল্লাহর দিকে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করবেনা তাঁর কাছে? তো পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে কি তাহারা ‌র দিকে প্রত্যাবর্তন করিবে না ও তাঁহার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিবে না ? তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

মসিহ্ ইবনে মরিয়ম একজন রসূল ছাড়া আর কিছুই নয়। তার আগেও (তার মতো) বহু রসূল বিগত হয়েছে। তার মা ছিলো এক সত্যনিষ্ঠ নারী। তারা দুজনেই খাবার খেতো। দেখো কতো পরিষ্কার করে আমরা তাদের জন্যে নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করছি। তারপর এটাও দেখো, কিভাবে তারা সত্যের প্রতি মিথ্যারোপ করছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মার্‌ইয়াম - তনয় মসীহ্ তো কেবল একজন রাসূল। তাহার পূর্বে বহু রাসূল গত হইয়াছে এবং তাহার মাতা পরম সত্যনিষ্ঠ ছিল। তাহারা উভয়ে খাদ্যাহার করিত। দেখ, আমি উহাদের জন্য আয়াতসমূহ কিরূপ বিশদভাবে বর্ণনা করি; আরও দেখ, উহারা কিভাবে সত্যবিমুখ হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী!) তাদের বলো: তোমরা কি ছাড়া এমন কারো ইবাদত করবে যার কোনো ক্ষমতাই নেই তোমাদের কোনো ক্ষতি কিংবা উপকার করার? একমাত্র আল্লাহ্ই সবকিছু শুনেন এবং সব কিছু জানেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমরা কি ব্যতীত এমন কিছুর ‘ইবাদত কর, তোমাদের ক্ষতি বা উপকার করার কোন ক্ষমতা যাহার নাই ? সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: হে আহলে কিতাব! তোমরা সত্যের বিরুদ্ধে গিয়ে তোমাদের দীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করোনা এবং তোমরা এমন লোকদের মনগড়া বিষয়ের অনুসরণ করোনা ইতোপূর্বে যারা নিজেরাও হয়েছে বিপথগামী আর অনেক মানুষকেও করেছে পথভ্রষ্ট। আসলে তারা সরল সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে বিপথে চলে গেছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘হে কিতাবীগণ! তোমরা তোমাদের দীন সম্বন্ধে অন্যায় বাড়াবাড়ি করিও না; এবং যে সম্প্রদায় ইতোপূর্বে পথভ্রষ্ট হইয়াছে, অনেককে পথভ্রষ্ট করিয়াছে ও সরল পথ হইতে বিচ্যুত হইয়াছে, তাহাদের খেয়াল - খুশির অনুসরণ করিও না।’

আবদুস শহীদ নাসিম

বনি ইসরাঈলের যারা কুফুরি করেছিল, তাদের উপর লা’নত বর্ষিত হয়েছিল দাউদ এবং ঈসা ইবনে মরিয়মের যবানে। এর কারণ, তারা ছিলো নাফরমান এবং সীমালংঘনকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বনী ইস্‌রাঈলের মধ্যে যাহারা করিয়াছিল তাহারা দাঊদ ও মার্‌ইয়াম - তনয় কর্তৃক অভিশপ্ত হইয়াছিল - ইহা এহেতু যে, তাহারা ছিল অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যেসব মুনকার - মন্দ কাজ করতো ,তা থেকে তারা পরস্পরকে নিষেধ করতোনা। তাদের কার্যক্রম ছিলো খুবই মন্দ - নিকৃষ্ট।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা যেসব গর্হিত কাজ করিত উহা হইতে তাহারা একে অন্যকে বারণ করিত না। তাহারা যাহা করিত তাহা কতই না নিকৃষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি দেখবে, তাদের অনেকেই কাফিরদের অলি (বন্ধু, অভিভাবক, পৃষ্ঠপোষক) বানিয়ে নিয়েছে। তাদের কর্মকান্ড এতোই নিকৃষ্ট, যার কারণে তাদের প্রতি বিরূপ হয়েছেন আর আযাবের মধ্যেই থাকবে তারা চিরকাল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের অনেককে তুমি কাফিরদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করিতে দেখিবে। কত নিকৃষ্ট তাহাদের কৃতকর্ম! - যে কারণে তাহাদের উপর ক্রোধান্বিত হইয়াছেন। তাহাদের শাস্তিভোগ স্থায়ী হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আল্লাহর প্রতি, এই নবীর প্রতি এবং তার প্রতি যা নাযিল হয়েছে সেটার প্রতি যদি ঈমান আনতো তাহলে ওদেরকে অলি হিসেবে গ্রহণ করতো না। কিন্তু তাদের অনেকেই ফাসিক - সীমালংঘনকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা আল্লাহে, নবীতে ও তাহার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাতে ঈমান আনিলে উহাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিত না, কিন্তু তাহাদের অনেকে ফাসিক।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি তুমি মানুষের মাঝে মুমিনদের প্রতি শত্রুতার ক্ষেত্রে সবচে’ শক্ত অবস্থানে পাবে ইহুদিদের, আর যারা শিরক করে তাদের। আর তাদের সাথে বন্ধুতার ক্ষেত্রে সবচে’ নিকটে পাবে ঐ লোকদের যারা বলে আমরা নাসারা (খৃষ্টান)। এর কারণ, তাদের মধ্যে রয়েছে অনেক (সত্যনিষ্ঠ) পাদ্রী আর দুনিয়া বিমুখ ব্যক্তি এবং তারা অহংকার করে বেড়ায় না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অবশ্য মু’মিনদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে ইয়াহূদী ও মুশরিকদেরকেই তুমি সর্বাধিক উগ্র দেখিবে এবং যাহারা বলে ‘আমরা খ্রিস্টান’ মানুষের মধ্যে তাহাদেরকেই তুমি মু’মিনদের নিকটতর বন্ধুত্বে দেখিবে; কারণ তাহাদের মধ্যে অনেক পণ্ডিত ও সংসার - বিরাগী আছে, আর তাহারা অহংকারও করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই রসূলের কাছে যে কিতাব নাযিল হয়েছে তারা যখন তা শুনে, তুমি দেখবে তখন সত্য উপলব্ধির কারণে তাদের চোখ অশ্রুসিক্ত। তারা বলে: ‘‘আমাদের প্রভু! আমরা ঈমান আনলাম, আমাদেরকে সাক্ষীদের অন্তরভুক্ত করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

রাসূলের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহা যখন তাহারা শ্রবণ করে তখন তাহারা যে সত্য উপলব্ধি করে তাহার জন্য তুমি তাহাদের চক্ষু অশ্রু - বিগলিত দেখিবে। তাহারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান আনিয়াছি; সুতরাং তুমি আমাদেরকে সাক্ষ্যদানকারীদের তালিকাভুক্ত কর।’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের জন্যে আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের কাছে যে মহাসত্য এসেছে তার প্রতি ঈমান না আনার কোনো কারণ নেই; যেহেতু আমাদের তীব্র আকাংখা তো হলো আমাদের প্রভু যেনো আমাদেরকে সালেহ্ লোকদের মধ্যে দাখিল করেন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহে ও আমাদের নিকট আগত সত্যে আমাদের ঈমান না আনার কী কারণ থাকিতে পারে যখন আমরা প্রত্যাশা করি, ‘ আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভূক্ত করুন?’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের একথার জন্যে তাদের পুরস্কার দিয়েছেন জান্নাতসমূহ, সেগুলোর নিচে দিয়ে বহমান রয়েছে নদ - নদী - নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। কল্যাণকামীদের এটাই পুরস্কার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তাহাদের এই কথার জন্য তাহাদের পুরস্কার নির্দিষ্ট করিয়াছেন জান্নাত - যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; তাহারা সেখানে স্থায়ী হইবে। ইহা সৎকর্মপরায়ণদের পুরস্কার।

আবদুস শহীদ নাসিম

অন্যদিকে যারা কুফুরি করে এবং অস্বীকার করে আমাদের আয়াতসমূহকে, তারা হবে জাহিমের (জাহান্নামের) অধিবাসী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা করিয়াছে ও আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করিয়াছে তাহারাই জাহান্নামবাসী।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমাদের জন্যে যেসব ভালো জিনিস হালাল করেছেন, তোমরা সেগুলোকে হারাম সাব্যস্ত করোনা এবং সীমালংঘন করোনা; কারণ সীমালংঘনকারীদের পছন্দ করেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমাদের জন্য উৎকৃষ্ট যেসব বস্তু হালাল করিয়াছেন সেই সমুদয়কে তোমরা হারাম করিও না এবং সীমালংঘন করিও না। নিশ্চয়ই সীমালংঘনকারীদেরকে পসন্দ করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদেরকে যেসব হালাল উত্তম জীবিকা দিয়েছেন সেগুলো থেকে খাও এবং সেই মহান আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর প্রতি তোমরা ()।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদেরকে যে হালাল ও উৎকৃষ্ট জীবিকা দিয়াছেন তাহা হইতে ভক্ষণ কর এবং ভয় কর আল্লাহকে, যাঁহার প্রতি তোমরা ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের অযথা শপথের জন্যে তোমাদের পাকড়াও করবেন না। কিন্তু তোমাদের ইচ্ছাকৃত শপথের জন্যে তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন। এর কাফ্ফারা হলো দশজন মিসকিনকে আহার করানো মধ্যম ধরণের আহার, যে রকম তোমরা তোমাদের আহলকে খাইয়ে থাকো। অথবা তাদেরকে বস্ত্রদান করা, নতুবা একজন দাসমুক্ত করা। যে এগুলো করতে পারবেনা সে তিন দিন রোযা রাখবে। তোমরা যদি শপথ করো তবে এটাই তার কাফ্ফারা। তোমরা তোমাদের শপথ রক্ষা করো। এভাবেই তোমাদের জন্যে ব্যাখ্যা করেন তাঁর আয়াত, যাতে করে তোমরা শোকর আদায় করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের বৃথা শপথের জন্য তোমাদেরকে দায়ী করিবেন না, কিন্তু যেসব শপথ তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে কর সেই সকলের জন্য তিনি তোমাদেরকে দায়ী করিবেন। অতঃপর ইহার কাফ্‌ফারা দশজন দরিদ্রকে মধ্যম ধরনের আহার্য দান, যাহা তোমরা তোমাদের পরিজনদের খাইতে দাও, অথবা তাহাদেরকে বস্ত্রদান, কিংবা একজন দাস মুক্তি এবং যাহার সামর্থ্য নাই তাহার জন্য তিনদিন সিয়াম পালন। তোমরা শপথ করিলে ইহাই তোমাদের শপথের কাফ্‌ফারা, তোমরা তোমাদের শপথ রক্ষা করিও। এইভাবে তোমাদের জন্য তাঁহার বিধানসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! জেনে রাখো, মদ, জুয়া, আস্তানা এবং ভাগ্য নির্ণয়ের শর - এগুলো সবই নোংরা শয়তানি কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো বর্জন করো, তবেই হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা উহা বর্জন কর - যাহাতে তোমরা হইতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

শয়তান তো চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে সে তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাবে এবং তোমাদের বাধা দেবে আল্লাহর যিক্র ও থেকে। তারপরও কি তোমরা তা থেকে বিরত হবেনা?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাইতে চায় এবং তোমাদেরকে ‌র স্মরণে ও সালাতে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হইবে না ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং এই রসূলের আনুগত্য করো আর সতর্ক - সাবধান থাকো। কিন্তু তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তবে জেনে রাখো, আমাদের রসূলের দায়িত্ব তো কেবল পরিষ্কারভাবে বার্তা পৌঁছে দেয়া।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা ‌র আনুগত্য কর ও রাসূলের আনুগত্য কর এবং সতর্ক হও; যদি তোমরা মুখ ফিরাইয়া নেও তবে জানিয়া রাখ, স্পষ্ট প্রচারই আমার রাসূলের কর্তব্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ করে তারা পূর্বে যা - ই খেয়েছে তার গুনাহ্ ধরা হবেনা যদি তারা তাকওয়া অবলম্বন করে, ঈমানের উপর অটল থাকে এবং আমলে সালেহ করে। যদি তারা সতর্ক থাকে এবং থাকে, তারপরও সতর্ক থাকে এবং কল্যাণের পথ অবলম্বন করে, আর তো কল্যাণের পথ অবলম্বনকারীদেরই পছন্দ করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহারা পূর্বে যাহা ভক্ষণ করিয়াছে তজ্জন্য তাহাদের কোন গুনাহ্ নাই; যদি তাহারা সাবধান হয় এবং ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, সাবধান হয় ও বিশ্বাস করে, পুনরায় সাবধান হয় ও সৎকর্ম করে এবং সৎকর্মপরায়ণদেরকে ভালবাসেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! (ইহরাম অবস্থায়) তোমাদের হাত ও বর্শা যা শিকার করে সে বিষয়ে অবশ্যি তোমাদের পরীক্ষা করবেন। কারণ, তিনি জানতে চান, না দেখেও কে আল্লাহকে ভয় করে চলে। এরপর থেকে যে কেউ সীমালংঘন করবে, তার জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমাদের হাত ও বর্শা যাহা শিকার করে সে বিষয়ে অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করিবেন, যাহাতে অবহিত হন কে তাঁহাকে না দেখিয়াও ভয় করে। সুতরাং ইহার পর কেহ সীমালংঘন করিলে তাহার জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! ইহরাম অবস্থায় তোমরা শিকার (করে প্রাণী) হত্যা করোনা। তোমাদের কেউ যদি (এ অবস্থায়) ইচ্ছাকৃত তা হত্যা করে তবে তার বিনিময় হবে সমসংখ্যক গৃহপালিত জন্তু, যা কাবার উদ্দেশ্যে কুরবানির জন্যে পাঠাতে হবে, এ বিষয়টির ফায়সালা করে দেবে তোমাদের মধ্যকার দুইজন ন্যায়পরায়ন ব্যক্তি। অথবা এর কাফ্ফারা হবে মিসকিনদের খাবার দেয়া, অথবা সমসংখ্যক রোযা রাখা। (এই কাফ্ফারা নির্ধারণ করা হলো) যাতে করে সে তার কাজের ফল ভোগ করে। পূর্বে যা কিছু হয়েছে তা মাফ করে দিয়েছেন। এরপরেও যদি কেউ অনুরূপ কাজ করে, তবে তাকে দন্ড প্রদান করবেন। মহাপরাক্রমশালী, কঠোর শাস্তিদাতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! ইহ্‌রামে থাকাকালে তোমরা শিকার - জন্তু হত্যা করিও না; তোমাদের মধ্যে কেহ ইচ্ছাকৃতভাবে উহা হত্যা করিলে যাহা সে হত্যা করিল তাহার বিনিময় হইতেছে অনুরূপ গৃহপালিত জন্তু, যাহার ফয়সালা করিবে তোমাদের মধ্যে দুইজন ন্যায়বান লোক - কা‘বায় প্রেরিতব্য কুরবানীরূপে। অথবা উহার কাফ্‌ফারা হইবে দরিদ্রকে খাদ্য দান করা কিংবা সমসংখ্যক সিয়াম পালন করা, যাহাতে সে আপন কৃতকর্মের ফল ভোগ করে। যাহা গত হইয়াছে তাহা ক্ষমা করিয়াছেন। কেহ উহা পুনরায় করিলে তাহার শাস্তি দিবেন এবং পরাক্রমশালী, শাস্তিদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের জন্যে সমুদ্রের শিকার এবং সেই শিকার খাওয়া হালাল করে দেয়া হলো - তোমাদের ও পর্যটকদের ভোগ্যসামগ্রী হিসেবে। আর তোমাদের জন্যে স্থলভাগের শিকার হারাম করে দেয়া হলো যতোদিন যতো সময় তোমরা ইহরাম অবস্থায় থাকবে। আল্লাহকে ভয় করো, তিনি তোমাদের হাশর করবেন তাঁর কাছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার ও উহা ভক্ষণ হালাল করা হইয়াছে, তোমাদের ও পর্যটকদের ভোগের জন্য। তোমরা যতক্ষণ ইহ্‌রামে থাকিবে ততক্ষণ স্থলের শিকার তোমাদের জন্য হারাম। তোমরা ভয় কর ‌কে, যাঁহার নিকট তোমাদেরকে একত্র করা হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তায়ালা মর্যাদাপূর্ণ কাবা ঘরকে, হারাম মাসকে, কুরবানির পশুকে এবং কুরবানি করার উদ্দেশ্যে মালা পরানো পশুকে মানুষের জন্যে কল্যাণকর নির্ধারণ করেছেন। এর কারণ হলো, যাতে করে তোমরা জানতে পারো মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই জানেন এবং সব বিষয়ে সর্বজ্ঞানী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পবিত্র কা‘বাগৃহ, পবিত্র মাস, কুরবানীর জন্য কা‘বায় প্রেরিত পশু ও গলায় মালা পরিহিত পশুকে মানুষের কল্যাণের জন্য নির্ধারণ করিয়াছেন। ইহা এইহেতু যে, তোমরা যেন জানিতে পার - যাহা কিছু আসমান ও যমীনে আছে তাহা জানেন এবং তো সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে রাখো, কঠিন শাস্তিদাতা এবং তিনি পরম ক্ষমাশীল পরম দয়াময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

জানিয়া রাখ, নিশ্চয়ই শাস্তিদানে কঠোর এবং পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর রসূলের উপর বার্তা পৌঁছে দেয়া ছাড়া আর কোনো দায়িত্ব নেই। তোমরা যা প্রকাশ করো আর যা গোপন করো, সবই জানেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রচার করাই কেবল রাসূলের কর্তব্য। আর তোমরা যাহা প্রকাশ কর ও গোপন রাখ তাহা জানেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! তাদের বলো: মন্দ আর ভালো এক নয়, যদিও মন্দের আধিক্য তোমাকে তাজ্জব করে। অতএব, আল্লাহকে ভয় করো হে বুঝ বুদ্ধি সম্পন্ন লোকেরা, অবশ্যি তোমরা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘মন্দ ও ভাল এক নয়; যদিও মন্দের আধিক্য তোমাকে চমৎকৃত করে। সুতরাং হে বোধশক্তিসম্পন্নেরা ! ‌কে ভয় কর - যাহাতে তোমরা হইতে পার।’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করোনা, যেগুলো তোমাদের কাছে প্রকাশ হলে সেগুলো তোমাদের কষ্ট দেবে। কুরআন নাযিল হবার সময়কালেই যদি তোমরা ঐসব প্রশ্ন করো, তবে সেগুলো তোমাদের কাছে প্রকাশ করে দেয়া হবে। সেগুলো ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর তো পরম ক্ষমাশীল পরম সহনশীল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমরা সেই সব বিষয়ে প্রশ্ন করিও না যাহা তোমাদের নিকট প্রকাশ হইলে তাহা তোমাদেরকে কষ্ট দিবে। কুরআন নাযিলের সময় তোমরা যদি সেই সব বিষয়ে প্রশ্ন কর তবে উহা তোমাদের নিকট প্রকাশ করা হইবে। সেই সব ক্ষমা করিয়াছেন এবং ক্ষমাশীল, সহনশীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের আগে একটি কওম সেগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল, পরে তারা হয়ে যায় সেগুলো অস্বীকারকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের পূর্বেও তো এক সম্প্রদায় এই প্রকার প্রশ্ন করিয়াছিল; অতঃপর তাহারা উহা প্রত্যাখ্যান করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

বাহিরা, সায়িবা, অসিলা এবং হাম আল্লাহর নির্ধারিত নয়। তবে যারা কুফুরি করে তারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে। তাদের অধিকাংশই বে - আক্কেল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বাহীরাঃ, সাইবাঃ, ওয়াসীলাঃ ও হাম স্থির করেন নাই; কিন্তু কাফিরগণ ‌র প্রতি মিথ্যা আরোপ করে এবং তাহাদের অধিকাংশই উপলব্ধি করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের যখন বলা হয়: ‘এসো আল্লাহর নাযিল করা কিতাবের দিকে এবং রসূলের দিকে (ফায়সালা গ্রহণ করার জন্যে)’, তখন তারা বলে: ‘আমরা আমাদের বাপ - দাদাদের যেসব নিয়ম - আচারের উপর পেয়েছি সেগুলোই আমাদের জন্যে যথেষ্ট।’ তাদের বাপ - দাদারা যদিও কিছুই জানতোনা এবং হিদায়াত প্রাপ্তও ছিলনা, তারপরও কি তারা তাদেরই অনুসরণ করবে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন তাহাদেরকে বলা হয়, ‘ যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহার দিকে ও রাসূলের দিকে আস’, তাহারা বলে, ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যাহাতে পাইয়াছি তাহাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।’ যদিও তাহাদের পূর্বপুরুষগণ কিছুই জানিত না এবং সৎপথপ্রাপ্তও ছিল না, তবুও কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমাদের দায় দায়িত্ব তোমাদেরই উপর। যারা বিপথগামী হয়েছে তারা তোমাদের কোনোই ক্ষতি করতে পারবেনা যদি তোমরা হিদায়াতের (সঠিক পথের) উপর অটল থাকো। আল্লাহর কাছে তোমাদের সবারই ফিরে আসতে হবে। তারপর তিনি তোমাদের সংবাদ দেবেন তোমাদের আমল সম্পর্কে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমাদের দায়িত্ব তোমাদেরই উপর। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে যে পথভ্রষ্ট হইয়াছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করিতে পারিবে না। ‌র দিকেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন; অতঃপর তোমরা যাহা করিতে তিনি সে সম্বন্ধে তোমাদেরকে অবহিত করিবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমাদের কারো যখন মউতের সময় হাজির হয়, তখন অসিয়ত করার সময় দুইজন সুবিচারক লোককে সাক্ষী রাখবে। আর তোমরা যদি সফরে থাকা অবস্থায় মউতের মসিবতে পড়ো, তাহলে অন্য লোকদের মধ্য থেকে দুইজন সাক্ষী রাখো। তোমাদের সন্দেহ হলে সালাতের পর তাদেরকে অপেক্ষমান রাখবে, তারপর তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে: ‘আমরা এর বিনিময়ে কোনো মূল্য গ্রহণ করবোনা যদি সে নিকটাত্মীয়ও হয় এবং আল্লাহর সাক্ষ্য গোপন রাখবোনা, রাখলে অবশ্যি আমরা পাপীদের মধ্যে গণ্য হবো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমাদের কাহারও যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন ওসিয়াত করার সময় তোমাদের মধ্য হইতে দুইজন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখিবে; তোমরা সফরে থাকিলে এবং তোমাদের মৃত্যুর বিপদ উপস্থিত হইলে তোমাদের ছাড়া অন্য লোকদের মধ্য হইতে দুইজন সাক্ষী মনোনীত করিবে। তোমাদের সন্দেহ হইলে সালাতের পর তাহাদেরকে অপেক্ষমাণ রাখিবে। অতঃপর তাহারা ‌র নামে শপথ করিয়া বলিবে, ‘আমরা উহার বিনিময়ে কোন মূল্য গ্রহণ করিব না - যদি সে আত্মীয়ও হয় এবং আমরা ‌র সাক্ষ্য গোপন করিব না; করিলে অবশ্যই পাপীদের অন্তর্ভুক্ত হইব।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা দুজন অপরাধে লিপ্ত হয়েছে বলে যদি প্রকাশ পায়, তবে যাদের স্বার্থহানি ঘটে তাদের মধ্য থেকে নিকটতম দু’জন ওদের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে: ‘আমাদের সাক্ষ্য অবশ্যি তাদের দু’জনের সাক্ষ্য থেকে অধিকতর হক এবং আমরা সীমালংঘন করিনি। সীমালংঘন করলে অবশ্যি আমরা যালিম বলে গণ্য হবো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যদি ইহা প্রকাশ পায় যে, তাহারা দুইজন অপরাধে লিপ্ত হইয়াছে তবে যাহাদের স্বার্থহানি ঘটিয়াছে তাহাদের মধ্য হইতে নিকটতম দুইজন তাহাদের স্থলবর্তী হইবে এবং ‌র নামে শপথ করিয়া বলিবে, ‘আমাদের সাক্ষ্য অবশ্যই তাহাদের সাক্ষ্য হইতে অধিকতর সত্য এবং আমরা সীমালংঘন করি নাই - করিলে অবশ্যই আমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হইব।’

আবদুস শহীদ নাসিম

এ পদ্ধতিতেই সঠিক সাক্ষ্যদানের, অথবা শপথের পর তোমাদেরকে পুনরায় শপথ করানো হবে - এ ভয় থেকে বাঁচার অধিকতর সম্ভাবনা রয়েছে। আল্লাহকে ভয় করো এবং (আল্লাহর বাণী) শুনো। ফাসিকদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই পদ্ধতিতেই অধিকতর সম্ভাবনা আছে লোকের যথাযথ সাক্ষ্যদানের অথবা শপথের পর আবার তাহাদেরকে শপথ করান হইবে - এই ভয়ের। ‌কে ভয় কর এবং শ্রবণ কর, ফাসিক সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মনে রেখো, যেদিন সব রসূলকে একত্র করবেন এবং তাদের জিজ্ঞেস করবেন: ‘(তোমরা আমার বাণী ও বিধান পৌঁছানোর পর) কী জবাব পেয়েছিলে?’ তারা বলবে: ‘এ বিষয়ে আমাদের কোনো এলেম নেই। সমস্ত - এর ব্যাপারে কেবল তুমিই মহাজ্ঞানী।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, যে দিন রাসূলগণকে একত্র করিবেন এবং জিজ্ঞাসা করিবেন, ‘তোমরা কী উত্তর পাইয়াছিলে?’ তাহারা বলিবে, ‘এই বিষয়ে আমাদের কোন জ্ঞানই নাই; তুমিই তো সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।’

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, যখন বলবেন: হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! তোমার প্রতি এবং তোমার মায়ের প্রতি আমার নিয়ামতের কথা মনে করো: যখন আমি তোমাকে সহযোগিতা করেছিলাম রুহুল কুদুসকে (জিবরিলকে) দিয়ে, দোলনায় থাকা অবস্থায় এবং পরিণত বয়েসে তুমি কথা বলেছো, এবং আমি তোমাকে শিক্ষা দিয়েছিলাম আল কিতাব, আল হিক্মাহ্, তাওরাত ও ইনজিল। তুমি আমার অনুমতিক্রমে কাদামাটি দিয়ে পাখির মতো আকৃতি তৈরি করতে এবং তাতে ফুঁ দিতে আর সাথে সাথে তা পাখি হয়ে যেতো। আমার অনুমতিক্রমে তুমি কুষ্ঠরোগী ও জন্মান্ধকে নিরাময় করতে, আর আমার অনুমতিক্রমে তুমি মৃতকে জীবিত করতে। আরো স্মরণ করো, আমিই তো বনি ইসরাঈলকে তোমার থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলাম যখন তুমি তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিলে, তখন তাদের মধ্যে যারা কুফুরিতে লিপ্ত ছিলো তারা বলেছিল: ‘এ তো এক স্পষ্ট ম্যাজিক।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, বলিবেন, ‘হে মার্‌ইয়াম - তনয় ‘ঈসা! তোমার প্রতি ও তোমার জননীর প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর, পবিত্র আত্মা দ্বারা আমি তোমাকে শক্তিশালী করিয়াছিলাম এবং তুমি দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সঙ্গে কথা বলিতে; তোমাকে কিতাব, হিক্‌মত, তাওরাত ও ইন্‌জীল শিক্ষা দিয়াছিলাম; তুমি কর্দম দ্বারা আমার অনুমতিক্রমে পাখিসদৃশ আকৃতি গঠন করিতে এবং উহাতে ফুৎকার দিতে; ফলে আমার অনুমতিক্রমে উহা পাখি হইয়া যাইত; জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্তকে তুমি আমার অনুমতিক্রমে নিরাময় করিতে এবং আমার অনুমতিক্রমে তুমি মৃতকে জীবিত করিতে; আমি তোমা হইতে বনী ইস্‌রাঈলকে নিবৃত্ত রাখিয়াছিলাম ; তুমি যখন তাহাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আনিয়াছিলে তখন তাহাদের মধ্যে যাহারা করিয়াছিল তাহারা বলিতেছিল, ‘ইহা তো স্পষ্ট জাদু।’

আবদুস শহীদ নাসিম

আরো স্মরণ করো, যখন আমি হাওয়ারীদের অহি (আদেশ) করেছিলাম: ‘তোমরা আমার প্রতি এবং আমার রসূলের প্রতি ঈমান আনো,’ তখন তারা বলেছিল: ‘আমরা ঈমান আনলাম এবং তুমি সাক্ষী থাকো আমরা মুসলিম (অনুগত, আত্মসমর্পিত)।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আরও স্মরণ কর, আমি যখন ‘হাওয়ারীদেরকে এই আদেশ দিয়াছিলাম যে, ‘তোমরা আমার প্রতি ও আমার রাসূলের প্রতি ঈমান আন’, তাহারা বলিয়াছিল, ‘আমরা ঈমান আনিলাম এবং তুমি সাক্ষী থাক যে, আমরা তো মুসলিম।’

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো যখন হাওয়ারীরা বলেছিল: ‘হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! তোমার প্রভু কি আমাদের জন্যে আসমান থেকে খাবারে পূর্ণ একটি মায়েদা (খাঞ্চা) পাঠাতে পারবেন’? তখন সে বলেছিল: ‘তোমরা হয়ে থাকলে আল্লাহকে ভয় করো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, হাওয়ারীগণ বলিয়াছিল, ‘হে মার্‌ইয়াম - তনয় ‘ঈসা ! তোমার প্রতিপালক কি আমাদের জন্য আসমান হইতে খাদ্য - পরিপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করিতে সক্ষম ?’ সে বলিয়াছিল, ‘‌কে ভয় কর, যদি তোমরা হও।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমাদের বাসনা, আমরা সেই মায়েদা (খাঞ্চা) থেকে খাবো এবং তাতে আমাদের হৃদয় প্রশান্তি লাভ করবে আর আমরা জানতে পারবো, আপনি আমাদের সত্য বলেছেন এবং আমরা এর সাক্ষী হয়ে থাকবো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিয়াছিল, ‘আমরা চাই যে, উহা হইতে কিছু খাইব ও আমাদের চিত্ত প্রশান্তি লাভ করিবে। আর আমরা জানিতে চাই যে, তুমি আমাদেরকে সত্য বলিয়াছ এবং আমরা উহার সাক্ষী থাকিতে চাই।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন ঈসা ইবনে মরিয়ম বললো: ‘হে আমাদের প্রভু! তুমি আসমান থেকে আমাদের জন্যে একটি খাবারে পূর্ণ মায়েদা (খাঞ্চা) নাযিল করো। এটা আমাদের জন্যে এবং আমাদের পূর্ব ও পরবর্তী লোকদের জন্যে হবে আনন্দের কারণ এবং তোমার পক্ষ থেকে হবে একটি নিদর্শন। আর আমাদের রিযিক দান করো, কারণ তুমিই তো সর্বোত্তম রিযিক দাতা।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মার্‌ইয়াম - তনয় ‘ঈসা বলিল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আসমান হইতে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ কর; ইহা আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য হইবে আনন্দোৎসবস্বরূপ এবং তোমার নিকট হইতে নিদর্শন। আর আমাদেরকে জীবিকা দান কর; তুমিই তো শ্রেষ্ঠ জীবিকাদাতা।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন বললেন: ‘আমি অবশ্যি তোমাদের জন্যে তা নাযিল করবো বটে, কিন্তু এরপর যদি তোমাদের কেউ কুফুরিতে নিমজ্জিত হয়, আমি তাকে আযাব দেবো এমন আযাব যা জগদ্বাসীর আর কাউকেও দিইনি।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বলিলেন, ‘আমিই তোমাদের নিকট উহা প্রেরণ করিব; কিন্তু ইহার পর তোমাদের মধ্যে কেহ করিলে তাহাকে এমন শাস্তি দিব, যে শাস্তি বিশ্বজগতের অপর কাহাকেও দিব না।’

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন বলবেন: ‘হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! তুমি কি মানুষকে বলেছিলে: তোমরা ছাড়াও আমাকে এবং আমার মাকে দু’জন ইলাহ্ (উপাস্য) হিসেবে গ্রহণ করো?’ সে বলবে: ‘‘তুমি মহামহিম, যা বলার অধিকার আমার নেই আমি তা বলতে পারিনা। আমি যদি তা বলতাম তবে অবশ্যি তুমি তা জানতে। আমার অন্তরে যা আছে তুমি তা জানো, কিন্তু তোমার অন্তরে যা আছে তা আমি জানিনা। নিশ্চয়ই তুমি সম্পর্কে মহাজ্ঞানী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন বলিবেন, ‘হে মার্‌ইয়াম - তনয় ‘ঈসা! তুমি কি লোকদেরকে বলিয়াছিলে, তোমরা ব্যতীত আমাকে ও আমার জননীকে দুই ইলাহরূপে গ্রহণ কর ?’ সে বলিবে, ‘তুমিই মহিমান্বিত! যাহা বলার অধিকার আমার নাই তাহা বলা আমার পক্ষে শোভন নয়। যদি আমি তাহা বলিতাম তবে তুমি তো তাহা জানিতে। আমার অন্তরের কথা তো তুমি অবগত আছ, কিন্তু তোমার অন্তরের কথা আমি অবগত নই ; তুমি সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি আমাকে যা আদেশ করেছো তা ছাড়া আমি তাদের আর কিছুই বলিনি এবং তাহলো: তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত (আনুগত্য দাসত্ব ও উপাসনা) করো যিনি আমার প্রভু এবং তোমাদেরও প্রভু। যতোদিন আমি তাদের মাঝে ছিলাম ততোদিন আমি তাদের কার্যকলাপের সাক্ষী ছিলাম। আর যখন তুমি আমাকে উঠিয়ে নিয়েছো তখন তো তুমিই ছিলে তাদের কার্যকলাপের তত্ত্বাবধায়ক আর তুমিই সব বিষয়ের সাক্ষী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি আমাকে যে আদেশ করিয়াছ তাহা ব্যতীত তাহাদেরকে আমি কিছুই বলি নাই, তাহা এই : ‘তোমরা আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক ‌র ‘ইবাদত কর এবং যত দিন আমি তাহাদের মধ্যে ছিলাম তত দিন আমি ছিলাম তাহাদের কার্যকলাপের সাক্ষী; কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলিয়া লইলে তখন তুমিই তো ছিলে তাহাদের কার্যকলাপের তত্ত্বাবধায়ক এবং তুমিই সর্ববিষয়ে সাক্ষী।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যদি তাদের শাস্তি দাও তবে তারা তো তোমারই দাস, আর তুমি যদি তাদের ক্ষমা করে দাও, তবে নিশ্চয়ই তুমি মহাশক্তিমান প্রজ্ঞাবান।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তুমি যদি তাহাদেরকে শাস্তি দাও তবে তাহারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাহাদেরকে ক্ষমা কর তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’

আবদুস শহীদ নাসিম

বলবেন: আজ হলো সেইদিন যেদিন কেবল সত্যপন্থীরাই তাদের সত্যপন্থার জন্যে উপকৃত হবে। তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাতসমূহ, যেগুলোর নিচে দিয়ে জারি থাকবে নদ - নদী - নহর। সেখানে থাকবে তারা চিরকাল চিরদিন। তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট, আর এটাই মহাসাফল্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বলিবেন, ‘এই সেই দিন যেদিন সত্যবাদিগণ তাহাদের সত্যতার জন্য উপকৃত হইবে, তাহাদের জন্য আছে জান্নাত যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। তাহারা সেখানে চিরস্থায়ী হইবে; তাহাদের প্রতি প্রসন্ন এবং তাহারাও তাঁহার প্রতি সন্তুষ্ট; ইহাই মহাসফলতা।’

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ, পৃথিবী এবং এগুলোতে যা কিছু আছে সব কিছুর কর্তৃত্ব আল্লাহর এবং তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আসমান ও যমীন এবং উহাদের মধ্যে যাহা কিছু আছে তাহার সার্বভৌমত্ব ‌রই এবং তিনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme