আলিফ লাম মিম সোয়াদ।
আলিফ, লাম, মীম, ছোয়াদ।
بسم الله الرحمن الرحيم المص
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লা-ম্ মী-ছোয়া-দ্।
Chapter 7, 206 verses
আলিফ লাম মিম সোয়াদ।
আলিফ, লাম, মীম, ছোয়াদ।
بسم الله الرحمن الرحيم المص
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লা-ম্ মী-ছোয়া-দ্।
এটি একটি কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করা হচ্ছে। সুতরাং এর ব্যাপারে যেনো তোমার মনে কোনো প্রকার সংকোচ না থাকে। এটি নাযিল করার উদ্দেশ্য হলো, তুমি এর মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করবে আর এটি একটি উপদেশ মুমিনদের জন্যে।
এটি একটি গ্রন্থ, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে করে আপনি এর মাধ্যমে ভীতি - প্রদর্শন করেন। অতএব, এটি পৌছে দিতে আপনার মনে কোনরূপ সংকীর্ণতা থাকা উচিত নয়। আর এটিই বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ।
كتاب أنزل إليك فلا يكن في صدرك حرج منه لتنذر به وذكرى للمؤمنين
কিতা-বুন্ উন্যিলা ইলাইকা ফালা-ইয়াকুন্ ফী ছোয়াদ্রিকা হারাজুম্ মিন্হু লিতুন্যিরা বিহী অযিক্রা-লিল্মু”মিনীন্।
তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা নাযিল করা হচ্ছে তোমরা কেবল তারই ইত্তেবা (অনুসরণ) করো। তাঁকে (আল্লাহকে) ছাড়া অন্য অলিদের অনুসরণ করোনা। তবে তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।
তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতি পালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য সাথীদের অনুসরণ করো না।
اتبعوا ما أنزل إليكم من ربكم ولا تتبعوا من دونه أولياء ۗ قليلا ما تذكرون
ইত্তাবি'ঊ মা য় উন্যিলা ইলাইকুম্ র্মি রব্বিকুম্ অলা-তাত্তাবি'উ মিন্ দূনিহী য় আওলিয়া - আ ক্বালীলাম্ মা-তাযাক্কারূন্।
কতো যে জনপদ আমরা হালাক করে দিয়েছি। আমাদের শাস্তি সে জনপদে এসে পড়েছিল রাতের বেলা অথবা দুপুরে যখন তারা ছিলো বিশ্রামরত।
আর তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর। অনেক জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি। তাদের কাছে আমার আযাব রাত্রি বেলায় পৌছেছে অথবা দ্বিপ্রহরে বিশ্রামরত অবস্থায়।
وكم من قرية أهلكناها فجاءها بأسنا بياتا أو هم قائلون
অকাম্ মিন্ র্ক্বাইয়াতিন্ আহ্লাক্না-হা-ফাজ্বা - য়াহা-বা'সুনা-বাইয়া-তান্ আও হুম্ ক্বা - য়িলূন্।
আমাদের শাস্তি যখন তাদের উপর এসে পড়েছিল, তখন তাদের মুখে শুধু একটি কথাই ছিলো: ‘অবশ্যি আমরা যালিম।’
অনন্তর যখন তাদের কাছে আমার আযাব উপস্থিত হয়, তখন তাদের কথা এই ছিল যে, তারা বললঃ নিশ্চয় আমরা অত্যাচারী ছিলাম।
فما كان دعواهم إذ جاءهم بأسنا إلا أن قالوا إنا كنا ظالمين
ফামা-কা-না দা'ওয়া-হুম্ ইয্ জ্বা - য়াহুম্ বা'সুনা য় ইল্লা য় আন্ ক্বা-লূ য় ইন্না-কুন্না-জোয়া-লিমীন্।
যাদের কাছে রসূল পাঠানো হয়েছে তাদেরকে অবশ্যি আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করবো এবং জিজ্ঞাসাবাদ করবো রসূলদেরও।
অতএব, আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব যাদের কাছে রসূল প্রেরিত হয়েছিল এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব রসূলগণকে।
فلنسألن الذين أرسل إليهم ولنسألن المرسلين
ফালানাস্য়ালান্নাল্লাযীনা র্উসিলা ইলাইহিম্ অলানাস্য়ালান্নাল্ র্মুসালীন্।
তারপর পূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তিতে তাদের কর্মকান্ডের বিবরণ তাদের সামনে তুলে ধরবো, আমরা তো আর (তাদের থেকে) ছিলাম না।
অতঃপর আমি স্বজ্ঞানে তাদের কাছে অবস্থা বর্ণনা করব। বস্তুতঃ আমি অনুপস্থিত তো ছিলাম না।
فلنقصن عليهم بعلم ۖ وما كنا غائبين
ফালানাকুছ্ছোয়ান্না 'আলাইহিম্ বি'ইল্মিওঁ অমা-কুন্না-গা - য়িবীন্।
সেদিনকার ওজন (ন্যায়বিচার) মহাসত্য ও বাস্তব। তারপর যাদের (নেক আমলের) পাল্লা ভারি হবে তারাই হবে ।
আর সেদিন যথার্থই ওজন হবে। অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে।
والوزن يومئذ الحق ۚ فمن ثقلت موازينه فأولئك هم المفلحون
অল্অয্নু ইয়াওমায়িযিনিল্ হাক্ব কু ফামান্ ছাকুলাত্ মাওয়া-যীনুহূ ফাউলা - য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।
আর যাদের (ভালো কাজের) পাল্লা হবে হালকা, তারা হবে ঐসব লোক যারা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে আমাদের আয়াতের প্রতি যুলুম করার মাধ্যমে।
এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারাই এমন হবে, যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে। কেননা, তারা আমার আয়াত সমূহ অস্বীকার করতো।
ومن خفت موازينه فأولئك الذين خسروا أنفسهم بما كانوا بآياتنا يظلمون
অমান্ খাফ্ফাত্ মাওয়া-যীনুহু ফাউলা - য়িকাল্লাযীনা খাসিরূ য় আন্ফুসাহুম্ বিমা-কা-নূ-বিআ-ইয়া-তিনা-ইয়াজ্লিমূন্।
আমরা তোমাদের এই পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি আর এখানেই তোমাদের জন্যে ব্যবস্থা করে দিয়েছি জীবিকার। খুব কমই তোমরা শোকর আদায় করো।
আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে ঠাই দিয়েছি এবং তোমাদের জীবিকা নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
ولقد مكناكم في الأرض وجعلنا لكم فيها معايش ۗ قليلا ما تشكرون
অলাক্বাদ্ মাক্কান্না-কুম্ ফিল্ র্আদ্বি অজ্বা'আল্না-লাকুম্ ফীহা-মা'আ-য়িশ্ ক্বালীলাম্ মা-তাশ্কুরূন্।
আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তারপর তোমাদের আকৃতি দান করেছি, তারপর ফেরেশতাদের বলেছি, সাজদা করো আদমের প্রতি। তখন তারা সবাই সাজদা করেছিল ইবলিস ছাড়া। সে সাজদাকারীদের সাথে শামিল হয়নি।
আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, এরপর আকার - অবয়ব, তৈরী করেছি। অতঃপর আমি ফেরেশতাদেরকে বলছি - আদমকে সেজদা কর তখন সবাই সেজদা করেছে, কিন্তু ইবলীস সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত ছিল না।
ولقد خلقناكم ثم صورناكم ثم قلنا للملائكة اسجدوا لآدم فسجدوا إلا إبليس لم يكن من الساجدين
অলাক্বাদ্ খালাকনা-কুম্ ছুম্মা ছোয়াওর্য়্যানা-কুম্ ছুম্মা কুল্না-লিল্মালা - য়িকাতিস্ জুদূ লিআ-দামা ফাসাজ্বাদূ য় ইল্লা য় ইব্লীস্ লাম্ ইয়াকুম্ মিনাস্ সা-জ্বিদীন্।
তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: ‘আমার নির্দেশ সত্ত্বেও কোন্ জিনিস তোমাকে বিরত রাখলো সাজদা করা থেকে?’ সে জবাব দেয়: ‘আমি তার (আদমের) চাইতে উত্তম। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো আগুন থেকে আর তাকে সৃষ্টি করেছো মাটি থেকে।’
বললেনঃ আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে সেজদা করতে বারণ করল? সে বললঃ আমি তার চাইতে শ্রেষ্ট। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।
قال ما منعك ألا تسجد إذ أمرتك ۖ قال أنا خير منه خلقتني من نار وخلقته من طين
ক্বা-লা মা-মানা'আকা আল্লা-তাস্জুদা ইয্ আর্মাতুক্ ক্বা-লা আনা-খাইরুম্ মিন্হু খালাক্বতানী মিন্ না-রিওঁ অখলাকতাহূ মিন্ ত্বীন্।
তিনি বললেন: ‘বেরিয়ে যা এখান থেকে। এখানে থেকে অহংকার করার কোনো অধিকার তোর নেই। বেরিয়ে যা, নিশ্চয়ই তুই নিচু ও হীনদের একজন।’
বললেন তুই এখান থেকে যা। এখানে অহংকার করার কোন অধিকার তোর নাই। অতএব তুই বের হয়ে যা। তুই হীনতমদের অন্তর্ভুক্ত।
قال فاهبط منها فما يكون لك أن تتكبر فيها فاخرج إنك من الصاغرين
ক্বা-লা ফাহ্বিত্ব মিন্হা-ফামা-ইয়াকূনু লাকা আন্ তাতাকাব্বারা ফীহা-ফাখ্রুজ ইন্নাকা মিনাছ্ ছোয়া-গিরীন্।
সে বললো: ‘আমাকে পুনরুত্থানকাল পর্যন্ত অবকাশ দিন।’
সে বললঃ আমাকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।
قال أنظرني إلى يوم يبعثون
ক্বা-লা আর্ন্জিনী য় ইলা-ইয়াওমি ইয়ুব্'আছূন্।
তিনি বললেন: ‘যা, তুই অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত।’
বললেনঃ তোকে সময় দেয়া হল।
قال إنك من المنظرين
ক্বা-লা ইন্নাকা মিনাল্ মুন্জোয়ারীন্।
তখন সে বললো: ‘‘যেহেতু তুমি আমাকে বিপথগামী করলে, তাই আমি তাদের (আদম সন্তানদের বিপথগামী করার) জন্যে তোমার সরল সঠিক পথে ওঁৎ পেতে থাকবো।
সে বললঃ আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো।
قال فبما أغويتني لأقعدن لهم صراطك المستقيم
ক্বা-লা ফাবিমা য় আগ্ওয়াইতানী লাআক'উদান্না লাহুম্ ছিরা-ত্বোয়াকাল্ মুস্তাক্বীম্।
তারপর আমি আসবো তাদের সামনে থেকে, তাদের পেছন থেকে, তাদের ডানে থেকে এবং তাদের বামে থেকে। ফলে তুমি তাদের অধিকাংশকেই পাবেনা শোকর গুজার।’’
এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।
ثم لآتينهم من بين أيديهم ومن خلفهم وعن أيمانهم وعن شمائلهم ۖ ولا تجد أكثرهم شاكرين
ছুম্মা লাআ-তিয়ান্নাহুম্ মিম্ বাইনি আইদীহিম্ অমিন্ খাল্ফিহিম্ অ'আন্ আইমা-নিহিম্ অ আন্ শামা - য়িলিহিম্ অলা-তাজ্বিদু আক্ছারাহুম্ শা-কিরীন্।
তিনি বললেন: ‘‘তুই বেরিয়ে যা ওখান থেকে ধিকৃত ও বিতাড়িত হয়ে। তাদের যে কেউ তোর অনুসরণ করবে, আমি অবশ্যি তোদের সবাইকে দিয়ে পূর্ণ করবো জাহান্নাম।
বললেনঃ বের হয়ে যা এখান থেকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে। তাদের যে কেউ তোর পথেচলবে, নিশ্চয় আমি তোদের সবার দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করে দিব।
قال اخرج منها مذءوما مدحورا ۖ لمن تبعك منهم لأملأن جهنم منكم أجمعين
ক্বা-লাখ্ রুজ মিন্হা- মায্ঊমাম্ মাদ্হূরা- লামান্ তাবি'আকা মিন্হুম্ লাআম্লায়ান্না জ্বাহান্নামা মিন্কুম্ আজমা'ঈন্।
আর হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী বসবাস করো জান্নাতে। খাও যেখান থেকে ইচ্ছা। তবে তোমরা এই গাছটির কাছেও যেয়োনা, গেলে তোমরা যালিমদের মধ্যে শামিল হয়ে পড়বে।’’
হে আদম তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর। অতঃপর সেখান থেকে যা ইচ্ছা খাও তবে এ বৃক্ষের কাছে যেয়োনা তাহলে তোমরা গোনাহগার হয়ে যাবে।
ويا آدم اسكن أنت وزوجك الجنة فكلا من حيث شئتما ولا تقربا هذه الشجرة فتكونا من الظالمين
অ ইয়া য় আ-দামুস্কুন্ আন্তা অযাওজুকাল্ জ্বান্নাতা ফাকুলা-মিন্ হাইছূ শিতুমা অলা-তাকরবা- হা-যিহিশ্ শাজ্বারাতা ফাতাকূনা-মিনাজ্জোয়া-লিমীন্
তারপর শয়তান অস্অসা দিলো তাদের দুজনকে যাতে করে তাদের লজ্জাস্থান যা গোপন রাখা হয়েছিল তাদের কাছে, তা তাদের জন্যে প্রকাশ হয়ে পড়ে। সে তাদের বললো: ‘তোমাদের প্রভু যে তোমাদেরকে এই গাছের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তার কারণ, পাছে তোমরা ফেরেশতা হয়ে না পড়ো, কিংবা তোমরা (এখানে) স্থায়ী হয়ে না যাও।’
অতঃপর শয়তান উভয়কে প্ররোচিত করল, যাতে তাদের অঙ্গ, যা তাদের কাছে গোপন ছিল, তাদের সামনে প্রকাশ করে দেয়। সে বললঃ তোমাদের পালনকর্তা তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করেননি; তবে তা এ কারণে যে, তোমরা না আবার ফেরেশতা হয়ে যাও - কিংবা হয়ে যাও চিরকাল বসবাসকারী।
فوسوس لهما الشيطان ليبدي لهما ما ووري عنهما من سوآتهما وقال ما نهاكما ربكما عن هذه الشجرة إلا أن تكونا ملكين أو تكونا من الخالدين
ফাঅস্অসা লাহুমাশ্ শাইত্বোয়া-নু লিইয়ুব্দিয়া লাহুমা- মা-ঊরিয়া 'আন্ হুমা- মিন্ সাওআ-তিহিমা-অক্বা-লা মা- নাহা-কুমা- রব্বুকুমা-'আন্ হা-যিহিশ্ শাজ্বারতি ইল্লা য় আন্ তাকূনা- মালাকাইনি আও তাকূনা-মিনাল্ খা-লিদীন্।
সে তাদের কাছে কসম খেয়ে বললো: ‘অবশ্যি আমি তোমাদের একজন কল্যাণকামী।’
সে তাদের কাছে কসম খেয়ে বললঃ আমি অবশ্যই তোমাদের হিতাকাঙ্খী।
وقاسمهما إني لكما لمن الناصحين
অক্বা-সামাহুমা য় ইন্নী লাকুমা- লামিনান্ না-ছিহীন্।
এভাবে সে তাদের প্রতারিত করে অধপতিত করলো। তারপর যখন তারা সেই গাছের (ফল) আস্বাদন করলো, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়লো এবং জান্নাতের পাতা দিয়ে তারা নিজেদের ঢেকে নিতে থাকলো। এসময় তাদের প্রভু তাদের ডেকে বললেন: ‘আমি কি তোমাদেরকে এই গাছটির কাছে যেতে নিষেধ করিনি? আমি কি বলিনি শয়তান তোমাদের সুস্পষ্ট দুশমন?’
অতঃপর প্রতারণাপূর্বক তাদেরকে সম্মত করে ফেলল। অনন্তর যখন তারা বৃক্ষ আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের সামনে খুলে গেল এবং তারা নিজের উপর বেহেশতের পাতা জড়াতে লাগল। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করিনি এবং বলিনি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
فدلاهما بغرور ۚ فلما ذاقا الشجرة بدت لهما سوآتهما وطفقا يخصفان عليهما من ورق الجنة ۖ وناداهما ربهما ألم أنهكما عن تلكما الشجرة وأقل لكما إن الشيطان لكما عدو مبين
ফাদাল্লা-হুমা-বিগুরূরিন্ ফালাম্মা- যা-ক্বাশ্ শাজ্বারতা বাদাত্ লাহুমা- সাওআ-তুহুমা-অ ত্বোয়াফিক্বা-ইয়াখ্ছিফা-নি 'আলাইহিমা- মিওঁ অরাক্বিল্ জান্নাহ্ অ না-দা-হুমা- রব্বুহুমা য় আলাম্ আন্হাকুমা- 'আন্ তিল্কুমাশ্ শাজ্বারতি অআকুল্ লাকুমা য় ইন্নাশ্ শাইত্বোয়া-না লাকুমা-'আদুওয়্যুম্ মুবীন্।
তখন তারা ফরিয়াদ করলো: ‘আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছি। এখন তুমি যদি আমাদের ক্ষমা না করো এবং আমাদের দয়া না করো, তাহলে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শামিল হয়ে পড়বো।’
তারা উভয়ে বললঃ হে আমাদের পালনকর্তা আমরা নিজেদের প্রতি জুলম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব।
قالا ربنا ظلمنا أنفسنا وإن لم تغفر لنا وترحمنا لنكونن من الخاسرين
ক্ব-লা-রব্বানা- জোয়ালাম্না- আন্ফুসানা- অইল্লাম্ তার্গ্ফিলানা-অর্তাহাম্না-লানাকূনান্না মিনাল্ খা-সিরীন্।
তিনি বললেন: ‘নেমে যাও, তোমরা পরস্পরের শত্রু। পৃথিবীতে একটা নির্দিষ্টকাল তোমরা অবস্থান করবে এবং ওখানেই তোমাদের জীবিকার ব্যবস্থা থাকবে।’
বললেনঃ তোমরা নেমে যাও। তোমরা এক অপরের শত্রু। তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে বাসস্থান আছে এবং একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত ফল ভোগ আছে।
قال اهبطوا بعضكم لبعض عدو ۖ ولكم في الأرض مستقر ومتاع إلى حين
ক্ব-লাহ্বিত্বুবা'দ্বুকুম্ লিবা'দ্বিন্ 'আদুওয়্যুন্ অলাকুম্ ফিল্র্আদ্বি মুস্তার্ক্বারুওঁ অমাতা-'উন্ ইলা-হীন্।
তিনি আরো বললেন: ‘সেখানেই তোমরা জীবন যাপন করবে এবং সেখানেই তোমাদের মৃত্যু হবে আর সেখান থেকেই তোমাদের খারিজ (বের) করে আনা হবে।’
বললেনঃ তোমরা সেখানেই জীবিত থাকবে, সেখানেই মৃত্যুবরন করবে এবং সেখান থেকেই পুনরুঙ্খিত হবে।
قال فيها تحيون وفيها تموتون ومنها تخرجون
ক্ব-লা ফীহা-তাহ্ইয়াওনা অফীহা-তামূতূনা অমিন্হা-তুখ্রজুন্।
হে আদম সন্তান! আমরা তোমাদের জন্যে এক ধরণের পোশাক নাযিল করেছি তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার জন্যে আচ্ছাদন হিসেবে এবং শোভাবর্ধক হিসেবে, আর রয়েছে ‘তাকওয়ার পোশাক’, এ পোশাকই উত্তম। এ হলো আল্লাহর আয়াত, যাতে করে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
হে বনী - আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতেরঅন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা - ভাবনা করে।
يا بني آدم قد أنزلنا عليكم لباسا يواري سوآتكم وريشا ۖ ولباس التقوى ذلك خير ۚ ذلك من آيات الله لعلهم يذكرون
ইয়া-বানী য় আ-দামা ক্বাদ্ আন্যাল্না- 'আলাইকুম্ লিবা-সাইঁ ইয়ুওয়া-রী সাও আ-তিকুম্ অরীশা- অ লিবা-সুত্তাক্বাওয়া- যা-লিকা খার্ই যা-লিকা মিন্ আ-ইয়া-তিল্লা-হি লা'আল্লাহুম্ ইয়ায্যাক্কারূন্।
হে বনি আদম! শয়তান যেনো তোমাদের ফিতনায় না ফেলে যেভাবে (ফিতনায় ফেলে) তোমাদের (আদি) পিতা মাতাকে বের করে দিয়েছিল জান্নাত থেকে। সে তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখাবার জন্যে তাদের লেবাস খসিয়ে দিয়েছিল। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে এমনভাবে দেখে, যেভাবে তোমরা তাদের দেখোনা। যারা ঈমান আনেনা তাদের জন্যে আমরা অলি বানিয়ে দিয়েছি শয়তানদের।
হে বনী - আদম শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি - যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, , যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না।
يا بني آدم لا يفتننكم الشيطان كما أخرج أبويكم من الجنة ينزع عنهما لباسهما ليريهما سوآتهما ۗ إنه يراكم هو وقبيله من حيث لا ترونهم ۗ إنا جعلنا الشياطين أولياء للذين لا يؤمنون
ইয়া-বানী য় আ-দামা লা- ইয়াফ্তিনান্নাকুমুশ্ শাইত্বোয়া-নু কামায় আখ্রজ্বা আবাওয়াইকুম্ মিনাল্ জ্বান্নাতি ইয়ান্যি'উ 'আন্হুমা-লিবা-সাহুমা-লিইয়ুরিয়াহুমা- সাওআ-তিহিমা- ইন্নাহূ ইয়ার-কুম্ হুঅ অক্বাবীলুহূ মিন্ হাইছু লা- তারাওনাহুম্ ইন্না- জ্বা'আল্নাশ্ শাইয়া-ত্বীনা আওলিয়া - য়া লিল্লাযীনা লা-ইয়ুমিনূন্।
তারা যখন কোনো ফাহেশা কাজ করে, তখন বলে: ‘আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের এরকম করতে দেখেছি। আল্লাহ্ই আমাদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন।’ বলো: ‘ ফাহেশা কাজের নির্দেশ দেননা। কেন তোমরা আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করছো যা তোমরা জানোনা?’
তারা যখন কোন মন্দ কাজ করে, তখন বলে আমরা বাপ - দাদাকে এমনি করতে দেখেছি এবং আল্লাহও আমাদেরকে এ নির্দেশই দিয়েছেন। মন্দকাজের আদেশ দেন না। এমন কথা আল্লাহর প্রতি কেন আরোপ কর, যা তোমরা জান না।
وإذا فعلوا فاحشة قالوا وجدنا عليها آباءنا والله أمرنا بها ۗ قل إن الله لا يأمر بالفحشاء ۖ أتقولون على الله ما لا تعلمون
অইযা- ফা'আলূ ফা-হিশাতান্ ক্বা-লূ অজ্বাদ্না-'আলাইহা য় আ-বা - য়ানা অল্লা-হু আমারানা- বিহা-কুল ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ামুরু বিল্ ফাহ্শা - ই আতাকুলূনা 'আলাল্লা-হি মা-লা- তা'লামূন্।
বলো: আমার প্রভু ইনসাফের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রত্যেক মসজিদে (সালাতে) তোমরা তোমাদের লক্ষ্য স্থির করবে এবং আল্লাহর জন্যে আনুগত্য একনিষ্ঠ করে তাঁকে ডাকবে। তিনি তোমাদের প্রথম যেভাবে সৃষ্টি করেছেন, তোমরা ঠিক সেভাবেই ফিরে আসবে।
আপনি বলে দিনঃ আমার প্রতিপালক সুবিচারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তোমরা প্রত্যেক সেজদার সময় স্বীয় মুখমন্ডল সোজা রাখ এবং তাঁকে খাঁটি আনুগত্যশীল হয়ে ডাক। তোমাদেরকে প্রথমে যেমন সৃষ্টি করেছেন, পুনর্বারও সৃজিত হবে।
قل أمر ربي بالقسط ۖ وأقيموا وجوهكم عند كل مسجد وادعوه مخلصين له الدين ۚ كما بدأكم تعودون
কুল্ আমারা রব্বী বিল্কি¦স্্তি অ আক্বীমূ উজুহাকুম্ 'ইন্দা কুল্লি মাস্জ্বিদিওঁ অদ্'ঊহু মুখ্লিছীনা লাহুদ দীন্ কামা- বাদায়াকুম্ তা'ঊদূন্।
একদলকে তিনি হিদায়াত দান করেছেন, আরেক দলের উপর গোমরাহি নির্ধারিত হয়ে গেছে। কারণ, তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানদের অলি বানিয়ে নিয়েছে এবং ধারণা করছে তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত।
একদলকে পথ প্রদর্শন করেছেন এবং একদলের জন্যে পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়ে গেছে। তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছে এবং ধারণা করে যে, তারা সৎপথে রয়েছে।
فريقا هدى وفريقا حق عليهم الضلالة ۗ إنهم اتخذوا الشياطين أولياء من دون الله ويحسبون أنهم مهتدون
ফারীক্বান্ হাদা- অফারীক্বান্ হাকক্বা 'আলাইহিমুদ¦ দোয়ালা-লাহ্ ইন্নাহুমুত্ তাখাযুশ্ শাইয়া-ত্বীনা আওলিয়া - য়া মিন্ দূনি ল্লা-হি অইয়াহ্সাবূনা আন্নামহুম্ মুহ্তাদূন্।
হে আদম সন্তান! প্রত্যেক মসজিদের (সালাতের) সময় তোমরা তোমাদের সুন্দর পোশাক পরবে। আর আহার করবে, পান করবে, কিন্তু অপচয় করবেনা, কারণ তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেননা।
হে বনী - আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও, খাও ও পান কর এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।
۞ يا بني آدم خذوا زينتكم عند كل مسجد وكلوا واشربوا ولا تسرفوا ۚ إنه لا يحب المسرفين
ইয়া -বানী য় আ-দামা খুযূ যীনাতাকুম্ 'ইন্দা কুল্লি মাস্জ্বিদিওঁ অকুলূ অশ্রাবূ অলা-তুস্রিফূ ইন্নাহূ লাইয়ুহিব্বুল্ মুস্রিফীন্।
হে নবী! বলো: ‘ তাঁর বান্দাদের জন্যে যেসব সুন্দর বস্ত্ত আর উত্তম জীবিকা সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো হারাম করলো কে?’ বলো: ‘সেগুলো তো মুমিনদেরই জন্যে এই দুনিয়ার জীবনে, বিশেষ করে কিয়ামত কালে।’ এভাবেই আমরা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করি আয়াত যারা জ্ঞান রাখে তাদের জন্যে।
আপনি বলুনঃ আল্লাহর সাজ - সজ্জাকে, যা তিনি বান্দাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র খাদ্রবস্তুসমূহকে কে হারাম করেছে? আপনি বলুনঃ এসব নেয়ামত আসলে পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্যে এবং কিয়ামতের দিন খাঁটিভাবে তাদেরই জন্যে। এমনিভাবে আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি তাদের জন্যে যারা বুঝে।
قل من حرم زينة الله التي أخرج لعباده والطيبات من الرزق ۚ قل هي للذين آمنوا في الحياة الدنيا خالصة يوم القيامة ۗ كذلك نفصل الآيات لقوم يعلمون
কুল্ মান্ র্হারামা যীনাতাল্লা-হিল্লাতী য় আখরাজ্বা লি'ইবা-দিহী অত্ত্বাইয়িবা-তি মির্না রিয্ক্ব কুল্ হিয়া লিল্লাযীনা আ-মানূ ফিল্ হাইয়া- তিদ্দুন্য়া-খা-লিছোয়াতাইঁ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ কাযা-লিকা নুফাছছিলুল্ আ-ইয়া-তি লিক্বাওমিইঁ ইয়া' লামূন্।
বলো: ‘আমার প্রভু হারাম করে দিয়েছেন গোপন ও প্রকাশ্য ফাহেশা (অশ্লীল) কাজ, পাপকাজ, না হক বিদ্রোহ, তোমাদের আল্লাহর সাথে শিরক করা যার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি, এবং না জেনে বুঝে তোমাদের আল্লাহর সম্পর্কে কথা বলা।
আপনি বলে দিনঃ আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গোনাহ, অন্যায় - অত্যাচার আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোন, সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জান না।
قل إنما حرم ربي الفواحش ما ظهر منها وما بطن والإثم والبغي بغير الحق وأن تشركوا بالله ما لم ينزل به سلطانا وأن تقولوا على الله ما لا تعلمون
কুল্ ইন্নামা- র্হারামা রব্বিয়াল্ ফাওয়া-হিশা মা-জোয়াহারা মিন্হা-অমা-বাত্বোয়ানা অল্ইছ্মি অল্বাগ্ইয়া বিগাইরিল্ হাকক্বি অআন্ তুশ্রিকূ বিল্লা-হি মা-লাম্ ইয়ুনায্যিল্ বিহী সুল্ত্বোয়া-নাওঁ অআন্ তাকুলূ 'আলাল্লা-হি মা-লা-তা'লামূন্।
প্রত্যেক উম্মতের একটি কাল - সীমা রয়েছে, যখন তাদের সেই সময়টি এসে পড়বে, তখন তারা মুহূর্তকাল বিলম্বও করতে পারবেনা এবং তার পূর্বেও সে কালটি শেষ করতে পারবেনা।
প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একটি মেয়াদ রয়েছে। যখন তাদের মেয়াদ এসে যাবে, তখন তারা না এক মুহুর্ত পিছে যেতে পারবে, আর না এগিয়ে আসতে পারবে।
ولكل أمة أجل ۖ فإذا جاء أجلهم لا يستأخرون ساعة ۖ ولا يستقدمون
অলিকুল্লি উম্মাতিন্ আজ্বালুন্ ফাইযা-জ্বা - য়া আজ্বালুহুম্ লা-ইয়াস্তা' খিরূনা সা-'আতাওঁ অলা- ইয়াস্তাকদিমূন্।
হে বনি আদম! যখন তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে রসূলরা এসে আমার আয়াত পেশ করবে, তখন যারা সতর্ক হবে এবং নিজেদের এসলাহ (সংশোধন) করে নেবে, তাদের কোনো ভয় ভীতিও থাকবেনা, দুঃখ দুশ্চিন্তাও থাকবেনা।
হে বনী - আদম, যদি তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে পয়গম্বর আগমন করে তোমাদেরকে আমার আয়াত সমূহ শুনায়, তবে যে ব্যক্তি সংযত হয় এবং সৎকাজ অবলম্বন করে, তাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
يا بني آدم إما يأتينكم رسل منكم يقصون عليكم آياتي ۙ فمن اتقى وأصلح فلا خوف عليهم ولا هم يحزنون
ইয়া-বানী য় আ-দামা ইম্মা- ইয়া তিয়ান্নাকুম্ রুসূলুম্ মিন্কুম্ ইয়াকুছ্ছূনা 'আলাইকুম্ আ-ইয়া-তী ফামানিত্তাক্বা- অআছ্লাহা ফালা-খাওফুন্ 'আলাইহিম্ অলা-হুম্ ইয়াহ্যানূন্।
আর যারা প্রত্যাখ্যান করবে আমার আয়াত এবং তার বিরুদ্ধে প্রকাশ করবে দাম্ভিকতা, তারা হবে আগুনের অধিবাসী এবং চিরকাল থাকবে তারা সেখানে।
যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলবে এবং তা থেকে অহংকার করবে, তারাই দোযখী এবং তথায় চিরকাল থাকবে।
والذين كذبوا بآياتنا واستكبروا عنها أولئك أصحاب النار ۖ هم فيها خالدون
অল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-অস্তাক্বারূ 'আন্হা য় উলা - য়িকা আছ্হা-বুন্ না-রি হুম্ ফীহা-খা-লিদূন্।
ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করে, কিংবা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে তাঁর আয়াতকে? তাদের নসিবে যা লেখা আছে তা তাদের কাছে পৌঁছুবেই। অবশেষে তাদের কাছে পৌঁছে যাবে আমাদের নির্দেশ বাহকরা (ফেরেশতারা) তাদেরকে ওফাত (মৃত্যু) দেয়ার জন্যে। তারা তাদের জিজ্ঞাসা করবে: ‘তোমরা ছাড়া যাদের ডাকতে তারা কোথায়? তারা বলবে: ‘ওরা আমাদের থেকে উধাও হয়ে গেছে।’ তখন তারা তাদের নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে, তারা সত্যি ছিলো।
অতঃপর ঐ ব্যক্তির চাইতে অধিক জালেম কে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা তার নির্দেশাবলীকে মিথ্যা বলে? তারা তাদের গ্রন্থে লিখিত অংশ পেয়ে যাবে। এমন কি, যখন তাদের কাছে আমার প্রেরিত ফেরশতারা প্রাণ নেওয়ার জন্যে পৌছে, তখন তারা বলে; তারা কোথায় গেল, যাদের কে তোমরা ব্যতীত আহবান করতে? তারা উত্তর দেবেঃ আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে, তারা নিজেদের সম্পর্কে স্বীকার করবে যে, তারা অবশ্যই ছিল।
فمن أظلم ممن افترى على الله كذبا أو كذب بآياته ۚ أولئك ينالهم نصيبهم من الكتاب ۖ حتى إذا جاءتهم رسلنا يتوفونهم قالوا أين ما كنتم تدعون من دون الله ۖ قالوا ضلوا عنا وشهدوا على أنفسهم أنهم كانوا كافرين
ফামান্ আজ্লামু মিম্মানিফ্ তারা-'আলাল্লা-হি কাযিবান্ আও কায্য়াবা বিআ-ইয়া-তিহ্উলা - য়িকা ইয়ানা-লুহুম্ নাছীবুহুম্ মিনাল্ কিতা-ব্ হাত্তা য় ইযা-জ্বা - য়াত্হুম্ রুসুলুনা-ইয়াতাঅফ্ফাওনাহুম্ ক্বা-লূ য় আইনা মা- কুন্তুম্ তাদ্'ঊনা মিন দূনিল্লা-হ্ক্বা-লূ দ্বোয়াল্লূ 'আন্না-অশাহিদূ 'আলায় আন্ফুসিহিম্ আন্নাহুম্ কা-নূ কা-ফিরীন্।
বলবেন: ‘তোমাদের আগে যেসব জিন ও মানব সম্প্রদায় গত হয়েছে, তাদের সাথে জাহান্নামে দাখিল হও।’ যখনই একটি দল তাতে প্রবেশ করবে তখনই অপর দলকে তারা লানত দেবে। যখন সবাই তাতে একত্র হবে, তখন পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের বলবে: ‘আমাদের প্রভু! এরাই আমাদের গোমরাহ করেছিল, সুতরাং তাদের আগুনের আযাব দ্বিগুণ করে দাও।’ তিনি বলবেন: ‘প্রত্যেকের জন্যেই রয়েছে দ্বিগুণ, তবে তোমরা তা জানোনা।’
বলবেনঃ তোমাদের পূর্বে জিন ও মানবের যেসব সম্প্রদায় চলে গেছে, তাদের সাথে তোমরাও দোযখে যাও। যখন এক সম্প্রদায় প্রবেশ করবে; তখন অন্য সম্প্রদায়কে অভিসম্পাত করবে। এমনকি, যখন তাতে সবাই পতিত হবে, তখন পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক এরাই আমাদেরকে বিপথগামী করেছিল। অতএব, আপনি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন। বলবেন প্রত্যেকেরই দ্বিগুণ; তোমরা জান না।
قال ادخلوا في أمم قد خلت من قبلكم من الجن والإنس في النار ۖ كلما دخلت أمة لعنت أختها ۖ حتى إذا اداركوا فيها جميعا قالت أخراهم لأولاهم ربنا هؤلاء أضلونا فآتهم عذابا ضعفا من النار ۖ قال لكل ضعف ولكن لا تعلمون
ক্বা-লাদ্ খুলূ ফী য় উমামিন্ ক্বাদ্ খালাত্ মিন্ ক্বাব্লিকুম্ মিনাল্ জ্বিন্নি অল্ ইন্সি ফিন্না-র কুল্লামা- দাখালাত্ উম্মাতুল্ লা'আনাত্ উখ্ত্াহা হাত্তায় ইযাদ্দা-রাকূ ফীহা-জ্বামী'আন্ ক্বা-লাত্ উখ্রা-হুম্ লিঊয় লা-হুম্ রব্বানা- হা য় উলা - য়ি অদ্বোয়াল্লূনা- ফাআ-তিহিম্ 'আযা-বান্ দ্বি'ফাম্ মিনান্ না-র ক্বা-লা লিকুল্লি দ্বি'ফুওঁ অলা-কিল্লা-তা'লামূন্।
পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের বলবে: ‘আমাদের উপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সুতরাং তোমরা তোমাদের অর্জনের জন্যে স্বাদ গ্রহণ করো আযাবের।’
পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদেরকে বলবেঃ তাহলে আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই অতএব, শাস্তি আস্বাদন কর স্বীয় কর্মের কারণে।
وقالت أولاهم لأخراهم فما كان لكم علينا من فضل فذوقوا العذاب بما كنتم تكسبون
অক্বা-লাত্ ঊলা-হুম্ লিউখ্রা-হুম্ ফামা-কা-না লাকুম্'আলাইনা- মিন্ ফাদ্ব্লিন্ ফাযূকুল্ 'আযা-বা বিমা-কুনতুম্ তাক্সিবূন্।
যারা আমাদের আয়াতের প্রতি মিথ্যারোপ করে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তার বিরুদ্ধে অহংকার করেছে, তাদের জন্যে আসমানের দুয়ার খোলা হবেনা এবং সূচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ না করা পর্যন্ত তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। এরকম প্রতিফলই আমরা অপরাধীদের দিয়ে থাকি।
নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং এগুলো থেকে অহংকার করেছে, তাদের জন্যে আকাশের দ্বার উম্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। যে পর্যন্ত না সূচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। আমি এমনিভাবে পাপীদেরকে শাস্তি প্রদান করি।
إن الذين كذبوا بآياتنا واستكبروا عنها لا تفتح لهم أبواب السماء ولا يدخلون الجنة حتى يلج الجمل في سم الخياط ۚ وكذلك نجزي المجرمين
ইন্নাল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা- অস্তাক্বারূ 'আন্হা- লা-তুফাত্তাহু লাহুম্ আব্ওয়া-বুস্ সামা - য়ি অলা- ইয়াদ্খুলূনাল্ জ্বান্নাতা হাত্তা-ইয়ালিজ্বাল্ জ্বামালু ফী সাম্মিল্ খিয়া-ত্ব অকাযা-লিকা নাজযিল্ মুজরিমীন্।
জাহান্নামই হবে তাদের নিচের শয্যা এবং তাদের উপরের আচ্ছাদন। এভাবেই আমরা শাস্তি দিয়ে থাকি যালিমদের।
তাদের জন্যে নরকাগ্নির শয্যা রয়েছে এবং উপর থেকে চাদর। আমি এমনিভাবে জালেমদেরকে শাস্তি প্রদান করি।
لهم من جهنم مهاد ومن فوقهم غواش ۚ وكذلك نجزي الظالمين
লাহুম্ মিন্ জ্বাহান্নামা মিহা-দুঁও অমিন্ ফাওক্বিহিম্ গাওয়া-শ্ অকাযা-লিকা নাজযিজ্জোয়া-লিমীন্।
পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ করবে, তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী, চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। আমরা কাউকেও তার সাধ্যের বাইরে বোঝা অর্পণ করিনা।
যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে আমি কাউকে তার সামর্থ্যের চাইতে বেশী বোঝা দেই না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা তাতেই চিরকাল থাকবে।
والذين آمنوا وعملوا الصالحات لا نكلف نفسا إلا وسعها أولئك أصحاب الجنة ۖ هم فيها خالدون
অল্লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি লা- নুকাল্লিফু নাফ্সান্ ইল্লা-উস্'আহা য় উলা-য়িকা আছ্হা-বুল্ জ্বান্নাতি হুম্ ফীহা- খা-লিদূন্।
আমরা দূর করে দেবো তাদের অন্তরের সব ঈর্ষা। তাদের নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ নদী নহর। তারা বলবে: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের এই জান্নাতের পথ দেখিয়েছেন। আমাদের পথ না দেখালে আমরা কখনো (জান্নাতের) পথ পেতাম না। আমাদের কাছে আমাদের প্রভুর রসূলরা সত্য নিয়ে এসেছিলেন।’ তখন তাদের ডেকে বলা হবে: ‘তোমাদের আমলের কারণেই তোমাদের এই জান্নাতের ওয়ারিশ বানানো হয়েছে।
তাদের অন্তরে যা কিছু দুঃখ ছিল, আমি তা বের করে দেব। তাদের তলদেশ দিয়ে নির্ঝরণী প্রবাহিত হবে। তারা বলবেঃ শোকর, যিনি আমাদেরকে এ পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। আমরা কখনও পথ পেতাম না, যদি আমাদেরকে পথ প্রদর্শন না করতেন। আমাদের প্রতিপালকের রসূল আমাদের কাছে সত্যকথা নিয়ে এসেছিলেন। আওয়াজ আসবেঃ এটি জান্নাত। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হলে তোমাদের কর্মের প্রতিদানে।
ونزعنا ما في صدورهم من غل تجري من تحتهم الأنهار ۖ وقالوا الحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله ۖ لقد جاءت رسل ربنا بالحق ۖ ونودوا أن تلكم الجنة أورثتموها بما كنتم تعملون
অনাযা'না- মা- ফী ছুদূরিহিম্ মিন্ গিল্লিন্ তাজরী মিন্ তাহ্তিহিমুল্ আন্হা-রু অক-লুল্ হামদু লিল্লা-হিল্লাযী হাদা-না- লিহা-যা- অমা- কুন্না- লিনাহ্তাদিয়া লাওলা য় আন্ হাদা-নাল্লা-হু লাক্বাদ্ জ্বা-য়াত্ রুসুলু রব্বিনা- বিল্হাক অনূ দূ য় আন্ তিল্কুমুল্ জ্বান্নাতু ঊরিছ্তুমূহা-বিমা-কুন্তুম্ তা'মালূন্।
জান্নাতবাসীরা জাহান্নামবাসীদের ডেকে বলবে: ‘আমাদের প্রভু আমাদের যে ওয়াদা দিয়েছিলেন আমরা তা সত্য পেয়েছি। তোমাদের প্রভু তোমাদের যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তোমরা কি তা সত্য পেয়েছো?’ তারা বলবে: ‘হ্যাঁ।’ তখন একজন ঘোষণাকারী তাদের মাঝে ঘোষণা করবে: ‘‘যালিমদের উপর আল্লাহর লানত,
জান্নাতীরা দোযখীদেরকে ডেকে বলবেঃ আমাদের সাথে আমাদের প্রতিপালক যে ওয়াদা করেছিলেন, তা আমরা সত্য পেয়েছি? অতএব, তোমরাও কি তোমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য পেয়েছ? তারা বলবেঃ হ্যাঁ। অতঃপর একজন ঘোষক উভয়ের মাঝখানে ঘোষণা করবেঃ আল্লাহর অভিসম্পাত জালেমদের উপর।
ونادى أصحاب الجنة أصحاب النار أن قد وجدنا ما وعدنا ربنا حقا فهل وجدتم ما وعد ربكم حقا ۖ قالوا نعم ۚ فأذن مؤذن بينهم أن لعنة الله على الظالمين
অনা-দা য় আছ্হা-বুল্ জান্নাতি আছহা-বান্না-রি আন্ ক্বাদ্ অজ্বাদ্না- মা- অ'আদানা-রব্বুনা- হাক্বক্বান্ ফাহাল্ অজ্বাত্তুম্ মা- অ'আদা রব্বুকুম্ হাকক্বা- ক্ব-লূ না'আম্ ফাআয্যানা মুয়ায্যিনুম্ বাইনাহুম্ আল্লা'নাতুল্লা-হি 'আলাজ্জোয়া-লিমীন্।
যারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করতো এবং তাতে বক্রতা খুঁজে বেড়াতো এবং তারা আখিরাতের প্রতি ছিলো অবিশ্বাসী - ।’’
যারা আল্লাহর পথে বাধা দিত এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করত। তারা পরকালের বিষয়েও অবিশ্বাসী ছিল।
الذين يصدون عن سبيل الله ويبغونها عوجا وهم بالآخرة كافرون
আল্লাযীনা ইয়াছুদ্দূনা 'আন্ সাবীলিল্লা-হি অ ইয়াব্গূনাহা- ই'ওয়াজ্বান্ অহুম্ বিল্আ-খিরাতি কা-ফিরূন্।
(জান্নাত ও জাহান্নাম) উভয়ের মাঝে থাকবে একটি হিজাব (পর্দা), আর কিছু লোক থাকবে আ’রাফে। তারা সবাইকে চিনবে তাদের লক্ষণ দেখেই। তারা জান্নাতবাসীদের ডেকে বলে: আপনাদের প্রতি সালাম। তারা তখনো জান্নাতে দাখিল হয়নি, তবে প্রত্যাশা করবে।
উভয়ের মাঝখানে একটি প্রাচীর থাকবে এবং আরাফের উপরে অনেক লোক থাকবে। তারা প্রত্যেককে তার চিহ্ন দ্বারা চিনে নেবে। তারা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কিন্তু প্রবেশ করার ব্যাপারে আগ্রহী হবে।
وبينهما حجاب ۚ وعلى الأعراف رجال يعرفون كلا بسيماهم ۚ ونادوا أصحاب الجنة أن سلام عليكم ۚ لم يدخلوها وهم يطمعون
অবাইনাহুমা- হিজ্বা-বুন্ অ 'আলাল্ আ'রা-ফি রিজ্বা-লুঁই ইয়া'রিফূনা কুল্লাম্ বিসীমা-হুম অনা-দাও আছ্হা-বাল্ জ্বান্নাতি আন্ সালা-মুন্ 'আলাইকুম লাম্ ইয়াদ্খুলূহা-অহুম্ ইয়াত্বমা'ঊন্।
আর যখন তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেয়া হবে জাহান্নামবাসীদের প্রতি, তখন তারা বলবে: ‘আমাদের প্রভু! আমাদেরকে এই যালিম লোকদের সাথি করোনা।’
যখন তাদের দৃষ্টি দোযখীদের উপর পড়বে, তখন বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এ জালেমদের সাথী করো না।
۞ وإذا صرفت أبصارهم تلقاء أصحاب النار قالوا ربنا لا تجعلنا مع القوم الظالمين
অ ইযা-ছুরিফাত্ আব্ছোয়া-রুহুম্ তিল্কা- য়া আছ্হা-বিন্ না-রি ক্ব-লূ রব্বানা- লা-তাজু'আল্না- মা'আল্ ক্বাওমিজ্জোয়া-লিমীন্।
আরাফবাসী (জাহান্নামের) যেসব লোককে লক্ষণ দেখে চিনবে তাদের ডেকে বলবে: ‘তোমাদের দল এবং তোমাদের অহংকার তোমাদের কোনো কাজে এলোনা।’
আরাফবাসীরা যাদেরকে তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনবে, তাদেরকে ডেকে বলবে তোমাদের দলবল ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোন কাজে আসেনি।
ونادى أصحاب الأعراف رجالا يعرفونهم بسيماهم قالوا ما أغنى عنكم جمعكم وما كنتم تستكبرون
অনা-দা য় আছ্হা-বুল্ ' আ'রা-ফি রিজ্বা-লাইঁ ইয়া'রিফূনাহুম্ বিসীমা-হুম্ ক্বা-লূ মা য় আগ্না- 'আন্কুম্ জ্বাম্'উকুম্ অমা-কুন্তুম্ তাস্তাক্রিবূন্।
এরা কি তারা নয় যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করে বলতে, এদের প্রতি দয়া করবেন না। অথচ তাদেরকেই বলা হয়েছে: ‘তোমরা দাখিল হও জান্নাতে, তোমাদের কোনো ভয়ভীতিও নেই আর দুঃখ দুশ্চিন্তাও নেই।’
এরা কি তারাই; যাদের সম্পর্কে তোমরা কসম খেয়ে বলতে যে, এদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন না। প্রবেশ কর জান্নাতে। তোমাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তোমরা দুঃখিত হবে না।
أهؤلاء الذين أقسمتم لا ينالهم الله برحمة ۚ ادخلوا الجنة لا خوف عليكم ولا أنتم تحزنون
আ হা য় উলা - য়িল্লাযীনা আকসাম্তুম্ লা-ইয়ানা-লুহুমুল্লা-হু বিরহ্মাহ্ উদ্খুলুল্ জ্বান্নাতা লা-খাওফুন্ 'আলাইকুম্ অলা য় আন্তুম্ তাহ্যানূন্।
জাহান্নামবাসী জান্নাতবাসীকে ডেকে বলবে: ‘আমাদের দিকে কিছু পানি ঢেলে দাও, অথবা তোমাদের যে রিযিক দিয়েছেন তা থেকে কিছু দাও।’ তখন তারা বলবে: ‘‘ এদুটি জিনিসই হারাম করে দিয়েছেন কাফিরদের জন্যে,
দোযখীরা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ আমাদের উপর সামান্য পানি নিক্ষেপ কর অথবা তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছেন, তা থেকেই কিছু দাও। তারা বলবেঃ এই উভয় বস্তু কাফেরদের জন্যে নিষিদ্ধ করেছেন,
ونادى أصحاب النار أصحاب الجنة أن أفيضوا علينا من الماء أو مما رزقكم الله ۚ قالوا إن الله حرمهما على الكافرين
অনা-দা য় আছ্হা-বুন্না-রি আছহা-বাল্ জ্বান্নাতি আন্ আফীদ্বূ 'আলাইনা- মিনাল্ মা - য়ি আও মিম্মা- রাযাক্বাকুমুল্লা-হ্ ক্বা-লূ য় ইন্নাল্লা-হা র্হারামাহুমা- 'আলাল্ কা-ফিরীন্।
যারা তাদের দীনকে খেল তামাশা হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং দুনিয়ার জীবন যাদেরকে প্রতারিত করে রেখেছিল।’’ সুতরাং আজ আমরা তাদের ভুলে থাকবো, যেভাবে তারা (দুনিয়ার জীবনে) তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে ভুলে থেকেছিল এবং যেভাবে তারা আমাদের আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
তারা স্বীয় ধর্মকে তামাশা ও খেলা বানিয়ে নিয়েছিল এবং পার্থিব জীবন তাদের কে ধোকায় ফেলে রেখেছিল। অতএব, আমি আজকে তাদেরকে ভুলে যাব; যেমন তারা এ দিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিল এবং যেমন তারা আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করত।
الذين اتخذوا دينهم لهوا ولعبا وغرتهم الحياة الدنيا ۚ فاليوم ننساهم كما نسوا لقاء يومهم هذا وما كانوا بآياتنا يجحدون
আল্লাযীনাত্ তাখাযূ দীনাহুম্ লাহ্ওয়াওঁ অলা'ইবাওঁ অর্গারাত্হুমুল্ হাইয়া-তুদ্দুন্ইয়া - ফাল্ইয়াওমা নান্সা-হুম্ কামা-নাসূ লিক্বা - য়া ইয়াওমিহিম্ হা-যা- অমা কা-নূ বিআ-ইয়া-তিনা- ইয়াজহাদূন।
আমরা তাদের এমন একটি কিতাব পৌঁছিয়েছিলাম, যা ছিলো পূর্ণ জ্ঞানের বিশদ ব্যাখ্যা এবং হিদায়াত ও রহমত বিশ্বাসীদের জন্যে।
আমি তাদের কাছে গ্রন্থ পৌছিয়েছি, যা আমি স্বীয় জ্ঞানে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, যা পথপ্রদর্শক এবং মুমিনদের জন্যে রহমত।
ولقد جئناهم بكتاب فصلناه على علم هدى ورحمة لقوم يؤمنون
অলাক্বাদ্ জ্বি'না-হুম্ বিকিতা-বিন্ ফাছ্ছোয়াল্না-হু 'আলা-'ইল্মিন্ হুদাওঁ অরহ্মাতাল লিক্বাওমিইঁঁ ইয়ুমিনূন্।
তারা কি এর পরিণামের অপেক্ষায় আছে? যেদিন তার পরিণামকাল এসে উপস্থিত হবে সেদিন সেটিকে ভুলে থাকা লোকেরা বলবে: ‘আমাদের কাছে আমাদের প্রভুর রসূলরা সত্যবার্তা নিয়ে এসেছিলেন, এখন শাফায়াতকারী পাওয়া যাবে কি, যারা আমাদের জন্যে শাফায়াত করবে? অথবা আমাদের দুনিয়ায় ফেরত পাঠানো হোক। আমরা অবশ্যি এতোদিন যা আমল করতাম তার চাইতে ভিন্নতর আমল করবো।’ এরা নিজেরাই নিজেদেরকে ক্ষতির মধ্যে নিক্ষেপ করে এসেছে এবং তারা যেসব মিথ্যা রচনা করেছিল সবই উধাও হয়ে গেছে।
তারা কি এখন এ অপেক্ষায়ই আছে যে, এর বিষয়বস্তু প্রকাশিত হোক? যেদিন এর বিষয়বস্তু প্রকাশিত হবে, সেদিন পূর্বে যারা একে ভূলে গিয়েছিল, তারা বলবেঃ বাস্তবিকই আমাদের প্রতিপালকের পয়গম্বরগণ সত্যসহ আগমন করেছিলেন। অতএব, আমাদের জন্যে কোন সুপারিশকারী আছে কি যে, সুপারিশ করবে অথবা আমাদেরকে পুনঃ প্রেরণ করা হলে আমরা পূর্বে যা করতাম তার বিপরীত কাজ করে আসতাম। নিশ্চয় তারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা মনগড়া যা বলত, তা উধাও হয়ে যাবে।
هل ينظرون إلا تأويله ۚ يوم يأتي تأويله يقول الذين نسوه من قبل قد جاءت رسل ربنا بالحق فهل لنا من شفعاء فيشفعوا لنا أو نرد فنعمل غير الذي كنا نعمل ۚ قد خسروا أنفسهم وضل عنهم ما كانوا يفترون
হাল্ ইয়ান্জুরূনা ইল্লা- তাওয়ীলাহ্ ইয়াওমা ইয়াতী তাওয়ীলূহূ ইয়াকুলুল্লাযীনা নাসূহু মিন্ ক্বাব্লু ক্বাদ্ জ্বা - য়াত্ রুসুলু রব্বিনা- বিল্হাক ফাহাল্ লানা-মিন্ শুফা'আ - য়া ফাইয়াশ্ফা'উ লানা য় আও নুরাদ্দু ফানা'মালা গাইরাল্লাযী কুন্না-না'মাল্ ক্বাদ্ খাসিরূ য় আন্ফুসাহুম্ অদ্বোয়াল্লা 'আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াফ্তারূন্।
তোমাদের প্রভু তো তিনি, যিনি মহাকাশ এবং এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয়টি কালে, অতপর সমাসীন হয়েছেন আরশের উপর। তিনি দিনকে ঢেকে দেন রাত দিয়ে। তারা পরস্পরকে অবিরামভাবে দ্রুত অনুসরণ করে। সূর্য, চাঁদ এবং তারকারাজি তাঁরই নির্দেশের অধীন। সাবধান, সৃষ্টিও তাঁর, নির্দেশও তাঁর। মহাকল্যাণের মালিক আল্লাহ্ই মহাজগতের প্রভু।
নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক । তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। , বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
إن ربكم الله الذي خلق السماوات والأرض في ستة أيام ثم استوى على العرش يغشي الليل النهار يطلبه حثيثا والشمس والقمر والنجوم مسخرات بأمره ۗ ألا له الخلق والأمر ۗ تبارك الله رب العالمين
ইন্না রব্বাকুমুল্লা-হুল্লাযী খালাক্বাস্ সামা-ওয়া-তি অল্ আরদ্বোয়া ফী সিত্তাতি আইয়্যা-মিন্ ছুম্মাস্ তাওয়া-'আলাল্ 'র্আশি ইয়ুগ্শিল্ লাইলান্ নাহা-রা ইয়াত্বলুবুহূ হাছীছাওঁ অশ্শাম্সা অল্ক্বামারা অন্নুজুমা মুসাখ্খারা-তিম্ বিআম্রিহ্ আলা-লাহুল্ খাল্ক্ব অল্ আর্ম তাবা-রাকাল্লা-হু রব্বুল্ 'আ-লামীন্।
তোমাদের প্রভুকে ডাকো বিনয়ের সাথে এবং গোপনে। সীমালংঘনকারীদের তিনি পছন্দ করেন না।
তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাক, কাকুতি - মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
ادعوا ربكم تضرعا وخفية ۚ إنه لا يحب المعتدين
উদ্'উ রব্বাকুম তাদ্বোর্য়ারু'আওঁ অখুফ্ইয়াহ্ ইন্নাহূ লা-ইয়ুহিব্বুল্ মু'তাদীন্।
এসলাহের পর পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করোনা। তাঁকে ডাকো ভয় এবং আশা নিয়ে। অবশ্যি আল্লাহর রহমত কল্যাণপরায়ণদের খুব নিকটে।
পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও ঠিক করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। তাঁকে আহবান কর ভয় ও আশা সহকারে। নিশ্চয় আল্লাহর করুণা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।
ولا تفسدوا في الأرض بعد إصلاحها وادعوه خوفا وطمعا ۚ إن رحمت الله قريب من المحسنين
অলা- তুফসিদূ ফিল্ আরদ্বি বা'দা ইছ্লা-হিহা- অদ্'ঊহু খাওফাওঁ অত্বোয়ামা'আ- ইন্না রহ্মাতাল্লা-হি ক্বারীবুম্ মিনাল্ মুহ্সিনীন্
তিনি তাঁর রহমত বর্ষণের আগে সুসংবাদ বাহক হিসেবে বাতাস পাঠান, অতপর তা যখন ঘন মেঘ বইয়ে আনে, তখন আমরা তা মরা শুকনো জমিনের দিকে পাঠাই এবং সেখানে আমরা নাযিল করি (আমাদের রহমতের) পানি (বৃষ্টি)। অতপর তা থেকে আমরা উৎপন্ন করি সব ধরণের ফল - ফসল। এভাবেই আমরা জীবন দান করে বের করে আনবো মৃতদেরকে। আশা করা যায় তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে।
তিনিই বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ু পাঠিয়ে দেন। এমনকি যখন বায়ুরাশি পানিপূর্ন মেঘমালা বয়ে আনে, তখন আমি এ মেঘমালাকে একটি মৃত শহরের দিকে হঁ্যাকিয়ে দেই। অতঃপর এ মেঘ থেকে বৃষ্টি ধারা বর্ষণ করি। অতঃপর পানি দ্বারা সব রকমের ফল উৎপন্ন করি। এমনি ভাবে মৃতদেরকে বের করব - যাতে তোমরা চিন্তা কর।
وهو الذي يرسل الرياح بشرا بين يدي رحمته ۖ حتى إذا أقلت سحابا ثقالا سقناه لبلد ميت فأنزلنا به الماء فأخرجنا به من كل الثمرات ۚ كذلك نخرج الموتى لعلكم تذكرون
অহুঅল্লাযী ইর্য়ুসির্লু রিয়া-হা বুশ্রাম্ বাইনা ইয়াদাই রহ্মাতিহ্ হাত্তা য় ইযা য় আক্বাল্লাত্ সাহা-বান্ ছিক্বা-লান্ সুকনা-হু লিবালাদিম্ মাইয়্যিতিন্ ফাআন্যাল্না- বিহিল মা - য়া ফাআখ্ রাজনা-বিহী মিন্ কুল্লিছ্ ছামারা-ত্ কাযা-লিকা নুখ্রিজুল মাওতা- লা'আল্লাকুম্ তাযাক্কারূন্।
উত্তম ভূমি থেকে তার প্রভুর অনুমতিক্রমে ফসল উৎপন্ন হয়, আর নিকৃষ্ট ভূমিতে প্রচন্ড পরিশ্রম ছাড়া কিছুই জন্মায়না। এভাবেই শোকরগুজার লোকদের জন্যে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেন তাঁর আয়াত।
যে শহর উৎকৃষ্ট, তার ফসল তার প্রতিপালকের নির্দেশে উৎপন্ন হয় এবং যা নিকৃষ্ট তাতে অল্পই ফসল উৎপন্ন হয়। এমনিভাবে আমি আয়াতসমূহ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বর্ণনা করি কৃতজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্যে।
والبلد الطيب يخرج نباته بإذن ربه ۖ والذي خبث لا يخرج إلا نكدا ۚ كذلك نصرف الآيات لقوم يشكرون
অল্ বালাদুত্ব ত্বোয়াইয়্যিবু ইয়াখ্রুজু নাবা-তুহূ বিইয্নি রব্বিহী অল্লাযী খাবুছা লা-ইয়াখ্রুজু ইল্লা- নাকিদা- কাযা-লিকা নুছোর্য়ারিফুল্ আ-ইয়া-তি লিক্বাওমিইঁ ইয়াশ্কুরূন্।
আমরা নূহকে পাঠিয়েছিলাম তার কওমের কাছে। সে তাদের বলেছিল: হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। আমি তোমাদের উপর এক মহাদিনের আযাবের আশংকা করছি।
নিশ্চয় আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের প্রতি পাঠিয়েছি। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। আমি তোমাদের জন্যে একটি মহাদিবসের শাস্তির আশঙ্কা করি।
لقد أرسلنا نوحا إلى قومه فقال يا قوم اعبدوا الله ما لكم من إله غيره إني أخاف عليكم عذاب يوم عظيم
লাক্বাদ্ আরসাল্না- নূহান্ ইলা-ক্বাওমিহী ফাক্ব-লা ইয়া-ক্বাওমি'বুদুল্লা-হা মা-লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন গাইরুহ্ ইন্নী য় আখা-ফু 'আলাইকুম্ 'আযা-বা ইয়াওমিন্ 'আজীম্।
তখন তার কওমের নেতারা বলেছিল: ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, তুমি সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছো।’
তার সম্প্রদায়ের সর্দাররা বললঃ আমরা তোমাকে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতার মাঝে দেখতে পাচ্ছি।
قال الملأ من قومه إنا لنراك في ضلال مبين
ক্ব-লাল্ মালাউ মিন্ ক্বাওমিহী য় ইন্না-লানারা-কা ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।
সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! আমার মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি নেই, বরং আমি রাববুল আলামিনের একজন রসূল।
সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, আমি কখনও ভ্রান্ত নই; কিন্তু আমি বিশ্বপ্রতিপালকের রসূল।
قال يا قوم ليس بي ضلالة ولكني رسول من رب العالمين
ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি লাইসা বী দ্বোয়ালা-লাতুওঁ অলা-কিন্নী রাসূলুম্ র্মি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।
আমি তো তোমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি আমার প্রভুর বার্তা। আমি তোমাদের কল্যাণকামী। আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে সেসব বিষয় জানি, যা তোমরা জানোনা।
তোমাদেরকে প্রতিপালকের পয়গাম পৌঁছাই এবং তোমাদেরকে সদুপদেশ দেই। আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমনসব বিষয় জানি, যেগুলো তোমরা জান না।
أبلغكم رسالات ربي وأنصح لكم وأعلم من الله ما لا تعلمون
উবাল্লিগুকুম্ রিসা-লা-তি রব্বী অ আন্ছোয়াহু লাকুম্ অআ'লামু মিনাল্লা-হি মা-লা-তা'-লামূন্।
তোমরা কি তাজ্জব হচ্ছো যে, তোমাদেরই একজনের মাধ্যমে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে একটি উপদেশ এসেছে - যাতে করে সে তোমাদের সতর্ক করতে পারে এবং যেনো তোমরা সতর্ক হও আর যেনো তোমরা রহমত প্রাপ্ত হও?’’
তোমরা কি আশ্চর্যবোধ করছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকেই একজনের বাচনিক উপদেশ এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে, যেন তোমরা সংযত হও এবং যেন তোমরা অনুগৃহীত হও।
أوعجبتم أن جاءكم ذكر من ربكم على رجل منكم لينذركم ولتتقوا ولعلكم ترحمون
আঅ 'আজ্বিব্তুম্ আন্ জ্বা - য়াকুম্ যিক্রুম্ র্মি রব্বিকুম্ 'আলা-রাজুলিম্ মিন্কুম্ লিইয়ুন্যিরাকুম্ অলিতাত্তাকু অলা'আল্লাকুম্ র্তুহামূন।
কিন্তু তারা তাকে মিথ্যা আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে আমরা তাকে আর তার সাথে যারা নৌযানে উঠেছিল তাদেরকে নাজাত দেই, আর ডুবিয়ে দেই তাদেরকে যারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের আয়াত। মূলত, তারা ছিলো একটি অন্ধ কওম।
অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। আমি তাকে এবং নৌকাস্থিত লোকদেরকে উদ্ধার করলাম এবং যারা মিথ্যারোপ করত, তাদেরকে ডুবিয়ে দিলাম। নিশ্চয় তারা ছিল অন্ধ।
فكذبوه فأنجيناه والذين معه في الفلك وأغرقنا الذين كذبوا بآياتنا ۚ إنهم كانوا قوما عمين
ফাকায্যাবূহু ফাআন্জ্বাইনা-হু অল্লাযীনা মা'আহূ ফিল্ফুল্কি অআগ্রাকনাল্ লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা- ইন্নাহুম্ কা-নূ ক্বাওমান্ 'আমীন্।
আমরা আদ জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই ভাই হুদকে। সে তাদের বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত - আনুগত্য করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তোমরা কি সতর্ক হবেনা?’
আদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি তাদের ভাই হুদকে। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতিত তোমাদের কোন উপাস্য নেই।
۞ وإلى عاد أخاهم هودا ۗ قال يا قوم اعبدوا الله ما لكم من إله غيره ۚ أفلا تتقون
অইলা- 'আ-দিন্ আখা-হুম্ হূদা- ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি'বুদুল্লা-হা মা- লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গাইরুহ্ আফালা-তাত্তাকুন্ ।
তার জাতির প্রধানরা যারা ছিলো তারা বলেছিল: ‘আমাদের মতে তুমি অবশ্যি বোকামিতে নিমজ্জিত রয়েছো এবং আমাদের ধারণা, তুমি একজন মিথ্যাবাদী।’
তারা স্প্রদায়ের সর্দররা বললঃ আমরা তোমাকে নির্বোধ দেখতে পাচ্ছি এবং আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করি।
قال الملأ الذين كفروا من قومه إنا لنراك في سفاهة وإنا لنظنك من الكاذبين
ক্ব-লাল্ মালাউল্লাযীনা কাফারূ মিন্ কওমিহী য় ইন্না-লানারা-কা ফী সাফা-হাতিওঁ অইন্না-লানাজুন্ন ুকা মিনাল্ কা-যিবীন্।
সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! আমার মধ্যে কোনো বোকামি নেই, বরং আমি রাববুল আলামিনের পক্ষ থেকে একজন রসূল।
সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, আমি মোটেই নির্বোধ নই, বরং আমি বিশ্ব প্রতিপালকের প্রেরিত পয়গম্বর।
قال يا قوم ليس بي سفاهة ولكني رسول من رب العالمين
ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি লাইসা বী সাফা-হাতুওঁ অলা-কিন্নী রাসূলুম্ র্মি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।
আমি তো তোমাদের কাছে আমার প্রভুর বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি, আর আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত কল্যাণকামী।
তোমাদের কে প্রতিপালকের পয়গাম পৌঁছাই এবং আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী বিশ্বস্ত।
أبلغكم رسالات ربي وأنا لكم ناصح أمين
উবাল্লিগুকুম্ রিসা-লাতি রব্বী অ আনা লাকুম্ না-ছিহুন্ আমীন্।
তোমরা কি তাজ্জব হচ্ছো যে, তোমাদেরই একজনের মাধ্যমে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে একটি উপদেশ এসেছে - যাতে করে সে তোমাদের সতর্ক করতে পারে? স্মরণ করো যখন নূহের কওমকে (ধ্বংস করার) পর তিনি তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং দৈহিক গঠনে তোমাদেরকে অধিক হৃষ্টপুষ্ট ও বলিষ্ঠ করেছেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহসমূহের কথা স্মরণ করো, যাতে করে তোমরা সফলতা অর্জন করো।’’
তোমরা কি আশ্চর্য্যবোধ করছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকেই একজনের বাচনিক উপদেশ এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে। তোমরা স্মরণ কর, যখন তোমাদেরকে কওমে নূহের পর সর্দার করেছেন এবং তোমাদের দেহের বিস্তৃতি বেশী করেছেন। তোমরা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ কর - যাতে তোমাদের মঙ্গল হয়।
أوعجبتم أن جاءكم ذكر من ربكم على رجل منكم لينذركم ۚ واذكروا إذ جعلكم خلفاء من بعد قوم نوح وزادكم في الخلق بسطة ۖ فاذكروا آلاء الله لعلكم تفلحون
আঅ'আজ্বিব্তুম্ আন্ জ্বা - য়াকুম্ যিক্রুম্ র্মি রব্বিকুম্ 'আলা-রাজুলিম্ মিন্কুম্ লিইয়ুন্যিরাকুম্ অয্কুরূ য় ইয্ জ্বা'আলাকুম্ খুলাফা - য়া মিম্ বা'দ্বি ক্বওমি নূহিওঁ অযা-দাকুম্ ফিল্ খাল্ক্বি বাছ্ত্বোয়াতান্ ফায্কুরূ য় আ-লা - য়াল্লা-হি লা'আল্লাকুম্ তুফ্লিহূন্।
তারা বলেছিল: ‘তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যে এসেছো যে, আমরা কেবল এক আল্লাহর ইবাদত - আনুগত্য করবো আর আমাদের পূর্ব পুরুষরা যাদের ইবাদত করতো তাদের পরিত্যাগ করবো? সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো, তবে আমাদেরকে যে জিনিসের ওয়াদা দিচ্ছো তা এনে দেখাও।’
তারা বললঃ তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যে এসেছ যে আমরা এক আল্লাহর এবাদত করি এবং আমাদের বাপ - দাদা যাদের পূজা করত, তাদেরকে ছেড়ে দেই? অতএব নিয়ে আস আমাদের কাছে যাদ্দ্বারা আমাদেরকে ভয় দেখাচ্ছ, যদি তুমি সত্যবাদী হও।
قالوا أجئتنا لنعبد الله وحده ونذر ما كان يعبد آباؤنا ۖ فأتنا بما تعدنا إن كنت من الصادقين
ক্ব-লূ য় আজ্বিতানা-লিনা'বুদাল্লা-হা অহ্দাহূ অ নাযারা মা- কা-না ইয়া'বুদু আ-বা - উনা- ফা'তিনা- বিমা- তা'ইদুনা য় ইন্ কুন্তা মিনাছ্ ছোয়া-দিক্বীন্।
সে বলেছিল: ‘তোমাদের উপর তোমাদের প্রভুর শাস্তি এবং গজব আপতিত হবেই। তোমরা কি আমার সাথে এমন কতগুলো নাম সম্পর্কে বিবাদ করছো, যে নামগুলো রেখেছো তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষরা? তো সেগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাঠাননি। সুতরাং অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’
সে বললঃ অবধারিত হয়ে গেছে তোমাদের উপর তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে শাস্তি ও ক্রোধ। আমার সাথে ঐসব নাম সম্পর্কে কেন তর্ক করছ, যেগুলো তোমরা ও তোমাদের বাপ - দাদারা রেখেছে। এদের কোন মন্দ অবর্তীণ করেননি। অতএব অপেক্ষা কর। আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।
قال قد وقع عليكم من ربكم رجس وغضب ۖ أتجادلونني في أسماء سميتموها أنتم وآباؤكم ما نزل الله بها من سلطان ۚ فانتظروا إني معكم من المنتظرين
ক্ব-লা ক্বদ্ অক্বা'আ 'আলাইকুম্ র্মি রব্বিকুম্ রিজসুওঁ অগাদ্বোয়াব্ আতুজ্বা-দিলূনানী ফী য় আস্মা - য়িন্ সাম্মাইতুমূহা য় আন্তুম্ অ আ-বা - উকুম্ মা-নায্যালাল্লা-হু বিহা-মিন্ সুলত্বোয়া-ন্ ফান্তাজিরূ য় ইন্নী মা'আকুম্ মিনাল্ মুন্তাজিরীন্।
অবশেষে আমরা তাকে (হুদকে) এবং তার সাথিদেরকে আমাদের রহমতে নাজাত দিয়েছি, আর শেকড় কেটে দিয়েছি তাদের, যারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের আয়াত এবং যারা ছিলনা।
অনন্তর আমি তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে রক্ষা করলাম এবং যারা আমার আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করত তাদের মূল কেটে দিলাম। তারা মান্যকারী ছিল না।
فأنجيناه والذين معه برحمة منا وقطعنا دابر الذين كذبوا بآياتنا ۖ وما كانوا مؤمنين
ফাআন্জ্বাইনা-হু অল্লাযীনা মা'আহূ বিরহ্মাতিম্ মিন্না-অক্বাত্বোয়া'না- দা-বিরাল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা- অমা-কা-নূ মুমিনীন্।
আর আমরা সামুদ জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম তাদের ভাই সালেহ্কে। সে তাদের বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত (আনুগত্য, দাসত্ব ও উপাসনা) করো। তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। আল্লাহর এই উটনি তোমাদের জন্যে একটি নিদর্শন। এটিকে আল্লাহর জমিনে চরে খেতে দাও। কোনো বদ নিয়্যতে এটিকে স্পর্শও করোনা, করলে তোমাদের পাকড়াও করবে বেদনাদায়ক আযাব।
সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি তাদের ভাই সালেহকে। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতিত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি প্রমাণ এসে গেছে। এটি আল্লাহর উষ্টী তোমাদের জন্যে প্রমাণ। অতএব একে ছেড়ে দাও, আল্লাহর ভুমিতে চড়ে বেড়াবে। একে অসৎভাবে স্পর্শ করবে না। অন্যথায় তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি পাকড়াও করবে।
وإلى ثمود أخاهم صالحا ۗ قال يا قوم اعبدوا الله ما لكم من إله غيره ۖ قد جاءتكم بينة من ربكم ۖ هذه ناقة الله لكم آية ۖ فذروها تأكل في أرض الله ۖ ولا تمسوها بسوء فيأخذكم عذاب أليم
অইলা-ছামূদা আখা-হুম্ ছোয়া-লিহা-। ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি'বুদু ল্লা-হা মা-লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গাইরুহ্ ক্বদ্ জ্বা - য়াত্কুম্ বাইয়্যিনাতুম্ র্মি রব্বিকুম্ হা-যিহী না-ক্বাতুল্লা-হি লাকুম্ আ-ইয়াতান্ ফাযারূহা-তাকুল্ ফী য় র্আদ্বিল্লা-হি অলা- তামাস্সূহা-বিস্সূ - য়িন্ ফাইয়াখুযাকুম্ 'আযা-বুন্ আলীম্।
স্মরণ করো, আদ জাতির পরে তিনি তোমাদেরকে (তাদের) স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং এমনভাবে তোমাদেরকে ভূ - খন্ডে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, তোমরা সমতল ভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ করছো। আর পাহাড় কেটে বানাচ্ছো ঘর। অতএব তোমরা (তোমাদের প্রতি) আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো এবং ভূ - খন্ডে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়িয়োনা।’’
তোমরা স্মরণ কর, যখন তোমাদেরকে আদ জাতির পরে সর্দার করেছেন; তোমাদেরকে পৃথিবীতে ঠিকানা দিয়েছেন। তোমরা নরম মাটিতে অট্টালিকা নির্মান কর এবং পর্বত গাত্র খনন করে প্রকোষ্ঠ নির্মাণ কর। অতএব আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করো না।
واذكروا إذ جعلكم خلفاء من بعد عاد وبوأكم في الأرض تتخذون من سهولها قصورا وتنحتون الجبال بيوتا ۖ فاذكروا آلاء الله ولا تعثوا في الأرض مفسدين
অয্কুরূ য় ইয্ জ্বা'আলাকুম্ খুলাফা - য়া মিম্ বা'দি 'আ-দিওঁ অ বাওয়্যায়াকুম্ ফিল্ র্আদ্বি তাত্তাখিযূনা মিন্ সুহূলিহা-কুছূরাওঁ অতান্হিতূনাল্ জ্বিবা-লা বুইয়ূতান্ ফায্কুরূ য় আ-লা - য়াল্লা-হি অলা-তা'ছাও ফিল্ র্আদ্বি মুফ্সিদীন্।
তার কওমের দাম্ভিক নেতারা দুর্বল করে রাখা ঈমানদারদের বলেছিল: ‘তোমরা কি এটা জানো যে, সালেহ তার প্রভুর পক্ষ থেকে প্রেরিত?’ তারা বলেছিল: ‘হ্যাঁ, তাঁকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে, আমরা তাতে ।’
তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক সর্দাররা দারিদ্রদেরকে জিজ্ঞেস করলঃ তোমরা কি বিশ্বাস কর যে সালেহ কে তার পালনকর্তা প্রেরণ করেছেন; তারা বলল আমরা তো তার আনীত বিষয়ের প্রতি ।
قال الملأ الذين استكبروا من قومه للذين استضعفوا لمن آمن منهم أتعلمون أن صالحا مرسل من ربه ۚ قالوا إنا بما أرسل به مؤمنون
ক্বা-লাল্ মালাউল্ লাযীনাস্ তাক্বারূ মিন্ ক্বওমিহী লিল্লাযীনাস্ তুদ্ব্'ইফূ লিমান্ আ-মানা মিন্ হুম্ আতা'লামূনা আন্না ছোয়া-লিহাম্ র্মুসালুম্ র্মি রব্বিহ্ ক্বা-লূ য় ইন্না- বিমা য় র্উসিলা বিহী- মু'মিনূন্।
তখন দাম্ভিকরা বলেছিল: ‘তোমরা যা বিশ্বাস করো, আমরা তা অস্বীকার করি।’
দাম্ভিকরা বললঃ তোমরা যে বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেছ, আমরা তাতে অস্বীকৃত।
قال الذين استكبروا إنا بالذي آمنتم به كافرون
ক্ব-লাল্লাযীনাস্ তাক্বারূ য় ইন্না- বিল্লাযী য় আ-মান্তুম্ বিহী ক্বা-ফিরূন্।
অতপর তারা সেই উটনিকে হত্যা করে, আর অবাধ্য হয় আল্লাহর আদেশের এবং বলে: ‘হে সালেহ্! তুমি যদি একজন রসূলই হয়ে থাকো, তবে যে শাস্তির ভয় আমাদের দেখিয়েছো তা নিয়ে আসো।’
অতঃপর তারা উষ্ট্রীকে হত্যা করল এবং স্বীয় প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল। তারা বললঃ হে ছালেহ, নিয়ে এস যদ্দ্বারা আমাদেরকে ভয় দেখাতে, যদি তুমি রসূল হয়ে থাক।
فعقروا الناقة وعتوا عن أمر ربهم وقالوا يا صالح ائتنا بما تعدنا إن كنت من المرسلين
ফা'আক্বারুন্ না-ক্বাতা অ'আতাও 'আন্ আম্রি রব্বিহিম্ অক্বা-লূ ইয়া-ছোয়া-লিহুতিনা-বিমা-তা'ইদুনা য় ইন্ কুন্তা মিনাল্ র্মুসালীন্।
তারপর তাদের পাকড়াও করে এক প্রচন্ড ভূমিকম্প। ফলে তাদের সকাল হয় নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায়।
অতঃপর পাকড়াও করল তাদেরকে ভূমিকম্প। ফলে সকাল বেলায় নিজ নিজ গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।
فأخذتهم الرجفة فأصبحوا في دارهم جاثمين
ফাআখাযাত্হুর্মু রাজফাতু ফাআছ্বাহূ ফী দা-রিহিম্ জ্বা-ছিমীন্।
তখন সে (সালেহ্) তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলেছিল: ‘হে আমার কওম! আমি তোমাদের কাছে আমার প্রভুর বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং তোমাদের জন্যে কল্যাণকর নসিহত করেছিলাম, কিন্তু তোমরা কল্যাণকামীদের পছন্দ করোনা।’
ছালেহ তাদের কাছ থেকে প্রস্থান করলো এবং বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, আমি তোমাদের কাছে স্বীয় প্রতিপালকের পয়গাম পৌছিয়েছি এবং তোমাদের মঙ্গল কামনা করেছি কিন্তু তোমরা মঙ্গলকাঙ্খীদেরকে ভালবাস না।
فتولى عنهم وقال يا قوم لقد أبلغتكم رسالة ربي ونصحت لكم ولكن لا تحبون الناصحين
ফাতাঅল্লা 'আন্হুম্ অক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি লাক্বাদ্ আব্লাগ্তুকুম্ রিসা-লাতা রব্বী অনাছোয়াহ্তু লাকুম্ অলা-কিল্ লা-তুহিব্বূনান্ না-ছিহীন্।
আর লুতকেও (আমরা পাঠিয়েছিলাম একটি জাতির কাছে)। সে তার কওমকে বলেছিল: ‘‘তোমরা কি এমন কুকর্মেই লিপ্ত থাকবে, যে কর্মে তোমাদের আগে জগতের কোনো লোকই লিপ্ত হয়নি?
এবং আমি লূতকে প্রেরণ করেছি। যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বললঃ তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সারা বিশ্বের কেউ করেনি ?
ولوطا إذ قال لقومه أتأتون الفاحشة ما سبقكم بها من أحد من العالمين
অলূত্বোয়ান্ ইয্ ক্ব-লা লিক্বাওমিহী য় আতাতূ নাল্ ফা-হিশাতা মা- সাবাক্বাকুম্ বিহা-মিন্ আহাদিম্ মিনাল্ 'আ-লামীন্।
তোমরা যৌন তৃপ্তির জন্যে নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের কাছে যাচ্ছো। তোমরা তো এক চরম সীমালংঘনকারী জাতি।’’
তোমরা তো কামবশতঃ পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে। বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ।
إنكم لتأتون الرجال شهوة من دون النساء ۚ بل أنتم قوم مسرفون
ইন্নাকুম্ লাতা”তূর্না রিজ্বা-লা শাহ্অতাম্ মিন্ দূনিন্ নিসা - ই বাল্ আন্তুম্ ক্বাওমুম্ মুস্রিফূন্।
জবাবে তার কওম কেবল একথাই বলেছিল: ‘এদেরকে তোমাদের জনবসতি থেকে বের করে দাও, এরা বড় পাক পবিত্র থাকতে চায়।’
তাঁর সম্প্রদায় এ ছাড়া কোন উত্তর দিল না যে, বের করে দাও এদেরকে শহর থেকে। এরা খুব সাধু থাকতে চায়।
وما كان جواب قومه إلا أن قالوا أخرجوهم من قريتكم ۖ إنهم أناس يتطهرون
অমা- কা-না জ্বাঅ-বা ক্বওমিহী য় ইল্লা য় আন্ ক্ব-লূ য় আখ্রিজুহুম্ মিন্ র্ক্বইয়াতিকুম্ ইন্নাহুম্ উনা-সুইঁ ইয়াতাত্বোয়াহ্হারূন্।
পরিণতিতে আমরা তাকে (লুতকে) এবং তার পরিবার পরিজনকে নাজাত দেই তার স্ত্রীকে ছাড়া, কারণ সে (মহিলা) ছিলো পেছনে থাকাদেরই একজন।
অতঃপর আমি তাকে ও তাঁর পরিবার পরিজনকে বাঁচিয়ে দিলাম, কিন্তু তার স্ত্রী। সে তাদের মধ্যেই রয়ে গেল, যারা রয়ে গিয়েছিল। আমি তাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করলাম।
فأنجيناه وأهله إلا امرأته كانت من الغابرين
ফাআন্জ্বাইনা-হু অআহ্লাহূ য় ইল্লাম্রায়াতাহূ কা-নাত্ মিনাল্ গা-বিরীন্।
আর তাদের উপর আমরা (পাথর) বর্ষণ করেছিলাম ভীষণ বর্ষণ। ফলে অপরাধীদের পরিণতি কী রকম হয়েছিল লক্ষ্য করে দেখো।
অতএব, দেখ গোনাহগারদের পরিণতি কেমন হয়েছে।
وأمطرنا عليهم مطرا ۖ فانظر كيف كان عاقبة المجرمين
অআম্ত্বোর্য়ানা 'আলাইহিম্ মাত্বোয়ারা- ফার্ন্জু কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুল্ মুজরিমীন্।
আর মাদায়ানের অধিবাসীদের কাছে আমরা পাঠিয়েছিলাম তাদের ভাই শুয়াইবকে। সে তাদের বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো, তোমাদের জন্যে তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে, অতএব মাপ ও ওজন ঠিকঠিকভাবে পূর্ণ করে দেবে। মানুষকে তাদের প্রাপ্য জিনিস কম দেবেনা এবং শান্তি শৃংখলা প্রতিষ্ঠিত হবার পর দেশে ফাসাদ (বিশৃংখলা) সৃষ্টি করবেনা। এটাই তোমাদের জন্যে কল্যাণের পথ যদি তোমরা হও।
আমি মাদইয়ানের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েবকে প্রেরণ করেছি। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রমাণ এসে গেছে। অতএব তোমরা মাপ ও ওজন পূর্ন কর এবং মানুষকে তাদের দ্রব্যদি কম দিয়ো না এবং ভুপৃষ্টের সংস্কার সাধন করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। এই হল তোমাদের জন্যে কল্যাণকর, যদি তোমরা হও।
وإلى مدين أخاهم شعيبا ۗ قال يا قوم اعبدوا الله ما لكم من إله غيره ۖ قد جاءتكم بينة من ربكم ۖ فأوفوا الكيل والميزان ولا تبخسوا الناس أشياءهم ولا تفسدوا في الأرض بعد إصلاحها ۚ ذلكم خير لكم إن كنتم مؤمنين
অইলা-মাদ্ইয়ানা আখা-হুম্ শু'আইবা-ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি'বুদুল্লা- হা মা- লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গাইরুহ্ ক্বাদ্ জ্বা - য়াত্কুম্ বাইয়্যিনাতুম্ র্মি রব্বিকুম্ ফাআওফুল্ কাইলা অল্ মীযা-না অলা-তাব্খাসুন্না-সা আশ্ইয়া - য়াহুম্ অলা-তুফ্সিদূ ফিল্ আরদ্বি বা'দা ইছ্লা-হিহা- যা-লিকুম্ খাইরুল্লাকুম্ ইন্ কুন্তুম্ মুমিনীন্।
যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি ত্রাস সৃষ্টি করার জন্যে তোমরা পথে পথে বসে থেকোনা, তাদেরকে আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করোনা এবং তাতে বক্রতা সন্ধান করোনা। স্মরণ করো, যখন তোমরা সংখ্যায় ছিলে গুটি কয়েক, তারপর তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দিয়েছিলেন। আরো লক্ষ্য করে দেখো, অতীতে ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের কী পরিণতি হয়েছিল?
তোমরা পথে ঘাটে এ কারণে বসে থেকো না যে, বিশ্বাসীদেরকে হুমকি দিবে, আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করবে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করবে। স্মরণ কর, যখন তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে অতঃপর তোমাদেরকে অধিক করেছেন এবং লক্ষ্য কর কিরূপ অশুভ পরিণতি হয়েছে অনর্থকারীদের।
ولا تقعدوا بكل صراط توعدون وتصدون عن سبيل الله من آمن به وتبغونها عوجا ۚ واذكروا إذ كنتم قليلا فكثركم ۖ وانظروا كيف كان عاقبة المفسدين
অলা-তাক'উদূ বিকুল্লি ছিরা-ত্বিন্ তূ'ইদূনা অতাছুদ্দূনা 'আন্ সাবীলিল্লা-হি মান্্ আ-মানা বিহী অতাবগূনাহা-'ইওয়াজ্বান্ অয্কুরূ য় ইয্ কুন্তুম্ ক্বলীলান্ ফাকাছ্ছারাকুম্ অন্জুরূ কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুল্ মুফ্সিদীন্।
আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি যদি তোমাদের একটি দল ঈমান আনে এবং আরেকটি দল যদি ঈমান না এনে থাকে, তবে অপেক্ষা করো আমাদের মাঝে ফায়সালা করে না দেয়া পর্যন্ত। প্রকৃতপক্ষে তিনিই সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।’’
আর যদি তোমাদের একদল ঐ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং একদল বিশ্বাস স্থাপন করে যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং একদল বিশ্বাস স্থাপন না করে, তবে ছবর কর যে পর্যন্ত আমাদের মধ্যে মীমাংসা না করে দেন। তিনিই শ্রেষ্ট মীমাংসাকারী।
وإن كان طائفة منكم آمنوا بالذي أرسلت به وطائفة لم يؤمنوا فاصبروا حتى يحكم الله بيننا ۚ وهو خير الحاكمين
অইন্ কা-না ত্বোয়া - য়িফাতুম্ মিন্কুম্ আ-মানূ বিল্লাযী য় র্উসিল্তু বিহী-অত্বোয়া - রিফাতুল্ লাম্ ইয়ুমিনূ ফাছ্বিরূ হাত্তা-ইয়াহ্কুমাল্লা-হু বাইনানা-অহুঅ খাইরুল্ হা-কিমীন্।
(তার বক্তব্যের জবাবে) তার কওমের অহংকারী নেতারা বলেছিল: ‘হে শুয়াইব! আমরা তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বের করে দেবো, অথবা তোমাদের ফিরিয়ে আনবো আমাদের আদর্শে।’ সে (শুয়াইব) বলেছিল: ‘‘আমরা যদি এটাকে ঘৃণা করি, তবু?
তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক সর্দাররা বললঃ হে শোয়ায়েব, আমরা অবশ্যই তোমাকে এবং তোমার সাথে বিশ্বাস স্থাপনকারীদেরকে শহর থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করবে। শোয়ায়েব বললঃ আমরা অপছন্দ করলেও কি ?
۞ قال الملأ الذين استكبروا من قومه لنخرجنك يا شعيب والذين آمنوا معك من قريتنا أو لتعودن في ملتنا ۚ قال أولو كنا كارهين
ক্ব-লাল্ মালাউল্লাযীনাস্ তাক্বারূ মিন্ ক্বওমিহী লানুখ্রিজ্বান্নাকা ইয়া-শু'আইবু অল্লাযীনা আ-মানূ মা'আকা মিন্ র্ক্বইয়াতিনা য় আও লাতা'উদুন্না ফী মিল্লাতিনা- ক্ব-লা আঅ লাও কুন্না-কা-রিহীন্।
তোমাদের ধর্মের আদর্শ থেকে আমাদের নাজাত দেয়ার পর আবার যদি আমরা তাতে ফিরে যাই, তবে তো আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করবো। আমরা তাতে ফিরে যেতে পারিনা, তবে আমাদের প্রভু চাইলে ভিন্ন কথা। আমাদের প্রভুর জ্ঞান সব কিছু পরিব্যাপ্ত। আমরা তাওয়াক্কুল করেছি আল্লাহর উপর। হে আমাদের প্রভু! তুমি আমাদের ও আমাদের কওমের মাঝে হকভাবে ফায়সালা করে দাও, তুমিই সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।’’
আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদকারী হয়ে যাব যদি আমরা তোমাদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করি, অথচ তিনি আমাদেরকে এ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আমাদের কাজ নয় এ ধর্মে প্রত্যাবর্তন করা, কিন্তু আমাদের প্রতি পালক যদি চান। আমাদের প্রতিপালক প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। আল্লাহর প্রতিই আমরা ভরসা করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ফয়সালা করে ছিল যথার্থ ফয়সালা। আপনিই শ্রেষ্টতম ফসলা ফয়সালাকারী।
قد افترينا على الله كذبا إن عدنا في ملتكم بعد إذ نجانا الله منها ۚ وما يكون لنا أن نعود فيها إلا أن يشاء الله ربنا ۚ وسع ربنا كل شيء علما ۚ على الله توكلنا ۚ ربنا افتح بيننا وبين قومنا بالحق وأنت خير الفاتحين
ক্বদিফ্তারাইনা-'আলাল্লা-হি কাযিবান্ ইন্ 'উদ্না-ফী মিল্লাতিকুম্ বা'দা ইয্ নাজ্জ্বা-নাল্লা-হু মিন্হা- অমা-ইয়াকূনূ লানা য় আন্না'ঊদা ফী হা য় ইল্লা য় আইঁ ইয়াশা - য়াল্লা-হু রব্বুনা- অসি'আ রব্বুনা-কুল্লা শাইয়িন্ 'ইল্মা- 'আলাল্লা-হি তাওয়াক্কাল্না- রব্বানাফ্তাহ্ বাইনানা- অবাইনা ক্বওমিনা-বিল্হাকক্বি অআন্তা খাইরুল্ ফা-তিহীন্।
তার কওমের নেতারা (জনগণকে) বলেছিল: ‘তোমরা যদি শুয়াইবের অনুসরণ করো, তবে অবশ্যি তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
তার সম্প্রদায়ের সর্দাররা বললঃ যদি তোমরা শোয়ায়েবের অনুসরণ কর, তবে নিশ্চিতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
وقال الملأ الذين كفروا من قومه لئن اتبعتم شعيبا إنكم إذا لخاسرون
অক্ব-লাল্ মালাউল্লাযীনা কাফারূ মিন্ ক্বওমিহী লায়িনিত্ তাবা'তুম্ শু'আইবান্ ইন্নাকুম ইযাল্লাখা-সিরূন্।
অতএব তাদের পাকড়াও করে এক প্রচন্ড ভূমিকম্প। ফলে তাদের সকাল হয় নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায়।
অনন্তর পাকড়াও করল তাদেরকে ভূমিকম্প। ফলে তারা সকাল বেলায় গৃহ মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।
فأخذتهم الرجفة فأصبحوا في دارهم جاثمين
ফাআখাযাত্হুর্মু রাজফাতু ফাআছ্বাহূ ফী দা-রিহীম জ্বা-ছিমীন্।
যারা শুয়াইবকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারা যেনো কখনো সেখানে বসবাসই করেনি। যারা শুয়াইবকে প্রত্যাখ্যান করেছিল তারাই হয় ক্ষতিগ্রস্ত।
শোয়ায়েবের প্রতি মিথ্যারোপকারীরা যেন কোন দিন সেখানে বসবাসই করেনি। যারা শোয়ায়েবের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল, তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হল।
الذين كذبوا شعيبا كأن لم يغنوا فيها ۚ الذين كذبوا شعيبا كانوا هم الخاسرين
আল্লাযীনা কায্যাবূ শু'আইবান্ কাআল লাম্ ইয়াগ্নাও ফীহা-আল্লাযীনা কায্যাবূ শু'আইবান্ কা-নূ হুমুল খা-সিরীন্।
ফলে সে (শুয়াইব) তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে: ‘হে আমার কওম! আমি তোমাদের কাছে আমার প্রভুর বার্তা পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদের জন্যে কল্যাণের নসিহত করেছি। সুতরাং এখন আমি কেমন করে কুফুরিকে আঁকড়ে ধরে থাকা লোকদের জন্যে আক্ষেপ করি?’
অনন্তর সে তাদের কাছ থেকে প্রস্থান করল এবং বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, আমি তোমাদেরকে প্রতিপালকের পয়গাম পৌছে দিয়েছি এবং তোমাদের হিত কামনা করেছি। এখন আমি কাফেরদের জন্যে কেন দুঃখ করব।
فتولى عنهم وقال يا قوم لقد أبلغتكم رسالات ربي ونصحت لكم ۖ فكيف آسى على قوم كافرين
ফাতাওয়াল্লা-'আন্হুম্ অক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি লাক্বদ্ আব্লাগ্তুকুম্ রিসা-লা-তি রব্বী অনাছোয়াহ্তু লাকুম্ ফাকাইফা আ-সা- 'আলা-ক্বওমিন্ কা-ফিরীন্।
আমরা যখনই কোনো জনপদে কোনো নবী পাঠিয়েছি, সেখানকার অধিবাসীদের দারিদ্র ও দুঃখ কষ্টে ফেলেছি, যাতে করে তারা বিনয়াবনত হয়।
আর আমি কোন জনপদে কোন নবী পাঠাইনি, তবে (এমতাবস্থায়) যে পাকড়াও করেছি সে জনপদের অধিবাসীদিগকে কষ্ট ও কঠোরতার মধ্যে, যাতে তারা শিথিল হয়ে পড়ে।
وما أرسلنا في قرية من نبي إلا أخذنا أهلها بالبأساء والضراء لعلهم يضرعون
অমা য় র্আসাল্না- ফী র্ক্বইয়াতিম্ মিন্ নাবিয়্যিন ইল্লা য় আখায্না য়আহ্লাহা-বিল্বা'সা-য়ি অদ্ব দ্বোর্য়ারা-য়ি লা'আল্লাহুম্ ইয়াদ্ব দ্বোর্য়ারা'ঊন্।
তারপর আমরা দুরাবস্থাকে ভালো অবস্থায় বদল করে দেই, এমনকি তারা প্রাচুর্যের অধিকারী হয় এবং বলে: ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা অনেক কষ্ট ও স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করেছিল।’ তখন আকস্মিক আমরা তাদের পাকড়াও করি এবং তারা টেরও পায়না।
অতঃপর অকল্যাণের স্থলে তা কল্যাণে বদলে দিয়েছে। এমনকি তারা অনেক বেড়ে গিয়েছি এবং বলতে শুরু করেছে, আমাদের বাপ - দাদাদের উপরও এমন আনন্দ - বেদনা এসেছে। অতঃপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি এমন আকস্মিকভাবে যে তারা টেরও পায়নি।
ثم بدلنا مكان السيئة الحسنة حتى عفوا وقالوا قد مس آباءنا الضراء والسراء فأخذناهم بغتة وهم لا يشعرون
ছুম্মা বাদ্দাল্না-মাকা-নাস্ সাইয়িয়াতিল্ হাসানাতা হাত্তা- 'আফাও অক্ব-লূ ক্বদ্ মাস্সা আ-বা - য়ানাদ্ব্ দ্বোর্য়ারা - উ অর্স্সারা - উ ফাআখায্না-হুম্ বাগ্তাতাওঁ অহুম্ লা-ইয়াশ্'উরূন্।
জনপদবাসী যদি ঈমান আনতো এবং তাকওয়া অবলম্বন করতো, তাহলে অবশ্যি আমরা তাদের জন্যে খুলে দিতাম আসমান ও জমিনের বরকতের দ্বার। কিন্তু তারা (নবীদের শিক্ষা) প্রত্যাখ্যান করে এবং আমরাও তাদের কর্মকান্ডের জন্যে তাদের পাকড়াও করি।
আর যদি সে জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং পরহেযগারী অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের প্রতি আসমানী ও পার্থিব নেয়ামত সমূহ উম্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। সুতরাং আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি তাদের কৃতকর্মের বদলাতে।
ولو أن أهل القرى آمنوا واتقوا لفتحنا عليهم بركات من السماء والأرض ولكن كذبوا فأخذناهم بما كانوا يكسبون
অলাও আন্না আহ্লাল্ কুর য় আ-মানূ অত্তাক্বও লাফাতাহ্না-'আলাইহিম্ বারাকা-তিম্ মিনাস্ সামা - য়ি অল্র্আদ্বি অলা-কিন্ কায্যাবূ ফাআখায্না-হুম্ বিমা-কা-নূ ইয়াক্সিবূন্।
জনপদের অধিবাসীরা কি এই ভয় রাখেনা যে, আমার শাস্তি তাদের উপর এসে পড়তে পারে রাত্রে যখন তারা থাকবে ঘুমন্ত?
এখনও কি এই জনপদের অধিবাসীরা এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত যে, আমার আযাব তাদের উপর রাতের বেলায় এসে পড়বে অথচ তখন তারা থাকবে ঘুমে অচেতন।
أفأمن أهل القرى أن يأتيهم بأسنا بياتا وهم نائمون
আফাআমিনা আহ্লুল্ কুরা য় আইঁ ইয়াতিয়াহুম্ বাসুনা বাইয়া-তাওঁ অহুম্ না - য়িমূন্।
অথবা শহরবাসীরা কি এই ভয়ও রাখেনা যে, তাদের উপর আমার শাস্তি এসে পড়বে সকাল বেলা আর তারা থাকবে খেলায় নিরত?
আর এই জনপদের অধিবাসীরা কি নিশ্চিন্ত হয়ে পড়েছে যে, তাদের উপর আমার আযাব দিনের বেলাতে এসে পড়বে অথচ তারা তখন থাকবে খেলা - ধুলায় মত্ত।
أوأمن أهل القرى أن يأتيهم بأسنا ضحى وهم يلعبون
আওয়া আমিনা আহলুল্ কুর য় আইঁ ইয়া তিয়াহুম্ বাসুনা- দ্বুহাওঁ অহুম্ ইয়াল্'আবূন্।
তারা কি ভয় পায়না আল্লাহর কৌশলকে? আল্লাহর কৌশলকে কেউই নিরাপদ মনে করেনা ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা ছাড়া।
তারা কি আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? বস্তুতঃ আল্লাহর পাকড়াও থেকে তারাই নিশ্চিন্ত হতে পারে, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।
أفأمنوا مكر الله ۚ فلا يأمن مكر الله إلا القوم الخاسرون
আফাআমিনূ মাক্রল্লা-হি ফালা-ইয়ামানু মাক্রল্লা-হি ইল্লাল্ ক্বওমুল্ খা-সিরূন্।
কোনো জনপদে তার অধিবাসীদের ধ্বংস হবার পর যারা তার উত্তরাধিকারী হয়, তারা কি এই দিশাটাও পায়না যে, আমরা চাইলে তাদের পাপের জন্যে তাদের শাস্তি দিতে পারি? অথবা মোহর মেরে দিতে পারি তাদের অন্তরে, যার ফলে তারা আর শুনবেনা?
তাদের নিকট কি একথা প্রকাশিত হয়নি, যারা উত্তারাধিকার লাভ করেছে। সেখানকার লোকদের ধ্বংসপ্রাপ্ত হবার পর যদি আমি ইচ্ছা করতাম, , তবে তাদেরকে তাদের পাপের দরুন পাকড়াও করে ফেলতাম। বস্তুতঃ আমি মোহর এঁটে দিয়েছি তাদের অন্তরসমূহের উপর। কাজেই এরা শুনতে পায় না।
أولم يهد للذين يرثون الأرض من بعد أهلها أن لو نشاء أصبناهم بذنوبهم ۚ ونطبع على قلوبهم فهم لا يسمعون
আঅলাম্ ইয়াহ্দি লিল্লাযীনা ইয়ারিছুনাল্ র্আদ্বোয়া মিম্ বা'দ্বি আহ্লিহা য় আল্লাও নাশা - উ আছোয়াব্না-হুম্ বিযুনূবিহিম্ অনাত্ববা'উ 'আলা-কুলূবিহিম্ ফাহুম্ লা-ইয়াস্মা'ঊন্।
সেই সব জনপদের কিছু সংবাদ আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করেছি। মূলত, তাদের কাছে এসেছিল তাদের রসূলরা সুস্পষ্ট প্রমাণসমূহ নিয়ে, কিন্তু যা তারা আগে প্রত্যাখ্যান করেছিল তার প্রতি আর তারা ঈমান আনার ছিলনা। এভাবেই মোহর মেরে দেন কাফিরদের হৃদয়ে।
এগুলো হল সে সব জনপদ যার কিছু বিবরণ আমি আপনাকে অবহিত করছি। আর নিশ্চিতই ওদের কাছে পৌছেছিলেন রসূল নিদর্শন সহকারে। অতঃপর কস্মিনকালও এরা ঈমান আনবার ছিল না, তারপরে যা তার ইতিপূর্বে মিথ্যা বলে প্রতিপন্ন করেছে। এভাবেই কাফেরদের অন্তরে মোহর এঁটে দেন।
تلك القرى نقص عليك من أنبائها ۚ ولقد جاءتهم رسلهم بالبينات فما كانوا ليؤمنوا بما كذبوا من قبل ۚ كذلك يطبع الله على قلوب الكافرين
তিল্কাল্ কুরা- নাকুছ্ছু 'আলাইকা মিন্ 'আম্বা - য়িহা- অলাক্বদ্ জ্বা - য়াত্হুম্ রুসুলুহুম্ বিল্বাইয়্যিনা-তি ফামা-কা-নূ লিইয়ুমিনু বিমা-কায্যাবূ মিন্ ক্বব্ল্ কাযা-লিকা ইয়াত্ববা'উল্লা-হু 'আলা-কুলূবিল্ কা-ফিরীন্।
আমরা অধিকাংশকেই অংগীকার পালনকারী পাইনি। আমরা তাদের অধিকাংশকেই পেয়েছি ফাসিক (সীমালংঘনকারী পাপাচারী)।
আর তাদের অধিকাংশ লোককেই আমি প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নকারীরূপে পাইনি; বরং তাদের অধিকাংশকে পেয়েছি হুকুম অমান্যকারী।
وما وجدنا لأكثرهم من عهد ۖ وإن وجدنا أكثرهم لفاسقين
অমা- অজ্বাদ্না- লিআক্ছারিহিম্ মিন্ 'আহদিন্ অইওঁ ওয়াজ্বাদ্না য় আক্ছারাহুম্ লাফা-সিক্বীন্।
তাদের পরে আমরা মূসাকে পাঠিয়েছিলাম আমাদের নিদর্শনসমূহ নিয়ে ফেরাউন এবং তার পারিষদবর্গের কাছে। কিন্তু তারা সেগুলো প্রত্যাখ্যান করে। এখন দেখো, সেসব ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কী হয়েছিল?
অতঃপর আমি তাদের পরে মূসাকে পাঠিয়েছি নিদর্শনাবলী দিয়ে ফেরাউন ও তার সভাসদদের নিকট। বস্তুতঃ ওরা তাঁর মোকাবেলায় করেছে। সুতরাং চেয়ে দেখ, কি পরিণতি হয়েছে অনাচারীদের।
ثم بعثنا من بعدهم موسى بآياتنا إلى فرعون وملئه فظلموا بها ۖ فانظر كيف كان عاقبة المفسدين
ছুম্মা বা'আছ্না-মিম্ বা'দিহিম্ মূসা-বিআ-ইয়া-তিনা য় ইলা-র্ফি'আউনা অমালায়িহী ফাজোয়ালামূ বিহা-ফার্ন্জু কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুল্ মুফ্সিদীন্।
মূসা বলেছিল: ‘‘হে ফেরাউন! আমি মহাজগতের প্রভুর পক্ষ থেকে একজন রসূল।
আর মূসা বললেন, হে ফেরাউন, আমি বিশ্ব - পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত রসূল।
وقال موسى يا فرعون إني رسول من رب العالمين
অক্ব-লা মূসা-ইয়া-র্ফি'আউনু ইন্নী রসূলুম্ র্মি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।
সত্যকথা হলো, আমি আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া বলবোনা। আমি তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছি, সুতরাং বনি ইসরাঈলকে আমার সাথে যেতে দাও।’’
আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সত্য এসেছে, তার ব্যতিক্রম কিছু না বলার ব্যাপারে আমি সুদৃঢ়। আমি তোমাদের পরওয়ারদেগারের নিদর্শন নিয়ে এসেছি। সুতরাং তুমি বনী ইসরাঈলদেরকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও।
حقيق على أن لا أقول على الله إلا الحق ۚ قد جئتكم ببينة من ربكم فأرسل معي بني إسرائيل
হাক্বীকুন্ 'আলা য় আল্লা য় আকুলা 'আলাল্লা-হি ইল্লাল্ হাক ক্বাদ্ জ্বি” তুকুম্ বিবাইয়্যিনাতিম্ র্মি রব্বিকুম্ ফাআরসিল্ মা'ই ইয়া বানী য় ইস্রা-ঈল্।
তখন সে বলেছিল: ‘তুমি কোনো নিদর্শন যদি এনেই থাকো, সত্যবাদী হলে তা প্রমাণ করো।’
সে বলল, যদি তুমি কোন নিদর্শন নিয়ে এসে থাক, তাহলে তা উপস্থিত কর যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক।
قال إن كنت جئت بآية فأت بها إن كنت من الصادقين
ক্ব-লা ইন্ কুন্তা জিতা বিআ-ইয়াতিন্ ফাতি বিহা য় ইন্ কুন্তা মিনাছ্ ছোয়া-দ্বিকীন্।
সে (মূসা) তখন তার লাঠি নিক্ষেপ করে, আর সাথে সাথে তা জাজ্জ্বল্যমান অজগর হয়ে যায়।
তখন তিনি নিক্ষেপ করলেন নিজের লাঠিখানা এবং তাৎক্ষণাৎ তা জলজ্যান্ত এক অজগরে রূপান্তরিত হয়ে গেল।
فألقى عصاه فإذا هي ثعبان مبين
ফাআল্ক্বা-'আছোয়া-হু ফাইযা-হিয়া ছু'বা-নুম্ মুবীন্।
আর সে তার (বগলে হাত ঢুকিয়ে) হাত বের করলো, তক্ষুনি তা দর্শকদের জন্যে ধবধবে সাদা হয়ে গেলো।
আর বের করলেন নিজের হাত এবং তা সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের চোখে ধবধবে উজ্জ্বল দেখাতে লাগল।
ونزع يده فإذا هي بيضاء للناظرين
অনাযা'আ ইয়াদাহূ ফাইযা-হিয়া বাইদ্বোয়া-উ লিন্না-জিরীন্।
ফেরাউনের কওম প্রধানরা বললো: ‘‘এতো অবশ্যি এক পন্ডিত ম্যাজেসিয়ান।
ফেরাউনের সাঙ্গ - পাঙ্গরা বলতে লাগল, নিশ্চয় লোকটি বিজ্ঞ - যাদুকর।
قال الملأ من قوم فرعون إن هذا لساحر عليم
ক্ব-লাল্ মালাউ মিন্ ক্বওমি র্ফি'আউনা ইন্না হা-যা- লাসা-হিরুন্ 'আলীম্।
সে চায় তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে খারিজ করে (তাড়িয়ে) দিতে। এখন বলো, তোমরা কী পরামর্শ দিচ্ছো?’’
সে তোমাদিগকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এ ব্যাপারে তোমাদের কি মত?
يريد أن يخرجكم من أرضكم ۖ فماذا تأمرون
ইয়ুরীদু আইঁ ইয়ুখ্রিজ্বাকুম্ মিন্ র্আদ্বিকুম্ ফামা-যা- তামুরূন্।
তারা বললো: ‘‘তাকে এবং তার ভাইকে সামান্য অবকাশ দিন আর এদিকে (ম্যাজেসিয়ানদের ডেকে আনতে) শহর গুলোতে লোক পাঠিয়ে দিন।
তারা বলল, আপনি তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দান করুন এবং শহরে বন্দরে লোক পাঠিয়ে দিন লোকদের সমবেত করার জন্য।
قالوا أرجه وأخاه وأرسل في المدائن حاشرين
ক্ব-লূ য় র্আজ্বিহ্ অআখা-হু অর্আসিল্ ফিল্ মাদা - য়িনি হা-শিরীন্।
তারা দক্ষ ম্যাজেসিয়ানদের আপনার কাছে এনে হাজির করবে।’’
যাতে তারা পরাকাষ্ঠাসম্পন্ন বিজ্ঞ যাদুকরদের এনে সমবেত করে।
يأتوك بكل ساحر عليم
ইয়াতূকা বিকুল্লি সা-হিরিন্ 'আলীম্।
ম্যাজেসিয়ানরা ফেরাউনের কাছে এসেই বললো: ‘আমরা যদি জয়ী হই আমাদের জন্যে পুরস্কার থাকবে তো?’
বস্তুতঃ যাদুকররা এসে ফেরাউনের কাছে উপস্থিত হল। তারা বলল, আমাদের জন্যে কি কোন পারিশ্রমিক নির্ধারিত আছে, যদি আমরা জয়লাভ করি?
وجاء السحرة فرعون قالوا إن لنا لأجرا إن كنا نحن الغالبين
অজ্বা - য়াস সাহারাতু র্ফি'আউনা ক্ব-লূ য় ইন্না লানা-লাআজরান্ ইন্ কুন্না নাহ্নুল্ গ-লিবীন্।
সে বললো: হ্যাঁ (অবশ্যি থাকবে) তাছাড়া তোমরা আমার নিকটের লোকদের অন্তরভুক্ত হবে।
সে বলল, হ্যাঁ এবং অবশ্যই তোমরা আমার নিকটবর্তী লোক হয়ে যাবে।
قال نعم وإنكم لمن المقربين
ক্ব-লা না'আম্ অইন্নাকুম্ লামিনাল্ মুর্ক্বারবীন্।
তারা বললো: ‘মূসা! আপনি আগে নিক্ষেপ করবেন, নাকি আমরাই হবো পয়লা নিক্ষেপকারী?’
তারা বলল, হে মূসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর অথবা আমরা নিক্ষেপ করছি।
قالوا يا موسى إما أن تلقي وإما أن نكون نحن الملقين
ক্ব-লূ ইয়া-মূসা য় ইম্মা য় আন্ তুল্ক্বিয়া অইম্মা য় আন্ নাকূনা নাহ্নুল্ মুল্ক্বীন্।
সে বললো: ‘তোমরাই (আগে) নিক্ষেপ করো।’ তারপর তারা (দড়ি এবং লাঠি) নিক্ষেপ করলো, লোকদের চোখে ধাঁধাঁ সৃষ্টি করলো এবং তাদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করে দিলো। আসলেই তারা বড় রকমের ম্যাজিক দেখিয়েছিল।
তিনি বললেন, তোমরাই নিক্ষেপ কর। যখন তারা নিক্ষেপ করল তখন লোকদের চোখগুলোকে বাধিয়ে দিল, ভীত - সন্ত্রস্ত করে তুলল এবং মহাযাদু প্রদর্শন করল।
قال ألقوا ۖ فلما ألقوا سحروا أعين الناس واسترهبوهم وجاءوا بسحر عظيم
ক্ব-লা আল্ক্ব ফালাম্মা য় আল্ক্বও সাহারূ য় আ'ইয়ুনান্ না-সি অর্স্তাহাবূহুম্ অজ্বা - ঊ বিসিহ্রিন্ 'আজ্বীম্।
তখন আমরা মূসার কাছে অহি করলাম: ‘তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো।’ সাথে সাথে সেটি তাদের মিথ্যা সৃষ্টিগুলো গিলে ফেলতে থাকলো।
তারপর আমি ওহীযোগে মূসাকে বললাম, এবার নিক্ষেপ কর তোমার লাঠিখানা। অতএব সঙ্গে সঙ্গে তা সে সমুদয়কে গিলতে লাগল, যা তারা বানিয়েছিল যাদু বলে।
۞ وأوحينا إلى موسى أن ألق عصاك ۖ فإذا هي تلقف ما يأفكون
অআওহাইনা য় ইলা-মূসা য় আন্ আল্ক্বি 'আছোয়া-কা ফাইযা-হিয়া তাল্ক্বফু মা- ইয়া ফিকূন্।
ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো এবং বাতিল প্রমাণিত হয়ে গেলো তাদের কর্মকান্ড।
সুতরাং এভাবে প্রকাশ হয়ে গেল সত্য বিষয় এবং ভুল প্রতিপন্ন হয়ে গেল যা কিছু তারা করেছিল।
فوقع الحق وبطل ما كانوا يعملون
ফাঅক্বা'আল্ হাককু অবাত্বোয়ালা মা-কা-নূ ইয়া'মালূন্।
সেখানেই তারা পরাস্ত হয়ে গেলো এবং হয়ে গেলো অধ:পতিত লাঞ্ছিত।
সুতরাং তারা সেখানেই পরাজিত হয়ে গেল এবং অতীব লাঞ্ছিত হল।
فغلبوا هنالك وانقلبوا صاغرين
ফাগুলিবূ হুনা-লিকা অন্ক্বালাবূ ছোয়া-গিরীন্।
তখন ম্যাজেসিয়ানরা সাজদায় লুটিয়ে পড়লো।
এবং যাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল।
وألقي السحرة ساجدين
অ উল্ক্বিয়াস্ সাহারাতু সা-জ্বিদীন্।
তারা বললো: আমরা ঈমান আনলাম রাববুল আলামিনের প্রতি,
বলল, আমরা ঈমান আনছি মহা বিশ্বের পরওয়ারদেগারের প্রতি।
قالوا آمنا برب العالمين
ক্বা-লূ য় আ-মান্না-বিরব্বিল্ 'আ-লামীন্।
যিনি মূসা এবং হারূণের রব।
যিনি মূসা ও হারুনের পরওয়ারদেগার।
رب موسى وهارون
রব্বি মূসা-অহারূন্।
ফেরাউন বললো: ‘‘আমার অনুমতি ছাড়াই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? আসলে এটা একটা ষড়যন্ত্র। তোমরা (উভয় পক্ষ মিলে) এই ষড়যন্ত্র এঁটেছো নগরবাসীকে তাদের নগর থেকে বের করে দেয়ার জন্যে। অচিরেই তোমরা এ কাজের পরিণাম দেখতে পাবে।
ফেরাউন বলল, তোমরা কি (তাহলে) আমার অনুমতি দেয়ার আগেই ঈমান আনলে! এটা প্রতারণা, যা তোমরা এ নগরীতে প্রদর্শন করলে। যাতে করে এ শহরের অধিবাসীদিগকে শহর থেকে বের করে দিতে পার। সুতরাং তোমরা শীঘ্রই বুঝতে পারবে।
قال فرعون آمنتم به قبل أن آذن لكم ۖ إن هذا لمكر مكرتموه في المدينة لتخرجوا منها أهلها ۖ فسوف تعلمون
ক্বা-লা র্ফি'আউনু আ-মান্তুম বিহী ক্বব্লা আন্ আ-যানা লাকুম্ ইন্না হা-যা-লামাক্রুম্ মার্কাতুমূহু ফিল্ মাদীনাতি লিতুখ্রিজু মিন্হা য় আহ্লাহা- ফাসাওফা তা'লামূন্।
আমি বিপরীত দিক থেকে তোমাদের হাত ও পা কেটে দেবো, তারপর তোমাদের সবাইকে করবো শূলবিদ্ধ।’’
অবশ্যই আমি কেটে দেব তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে। তারপর তোমাদের সবাইকে শূলীতে চড়িয়ে মারব।
لأقطعن أيديكم وأرجلكم من خلاف ثم لأصلبنكم أجمعين
লাউক্বাত্ত্বি'আন্না আইদিয়াকুম্ অর্আজুলাকুম্ মিন্ খিলা-ফিন্ ছুম্মা লাউছোয়াল্লিবান্নাকুম্ আজমা'ঈন্।
তখন তারা বলেছিল: ‘‘আমরা অবশ্যি ফিরে যাবো আমাদের প্রভুর কাছে।
তারা বলল, আমাদেরকে তো মৃত্যুর পর নিজেদের পরওয়ারদেগারের নিকট ফিরে যেতেই হবে।
قالوا إنا إلى ربنا منقلبون
ক্ব-লূ য় ইন্না য় ইলা-রব্বিনা-মুন্ক্বলিবূন্।
তুমি তো কেবল একারণেই আমাদের থেকে প্রতিশোধ নিচ্ছো যে, আমরা আমাদের প্রভুর নির্দেশের প্রতি ঈমান এনেছি, যখন তা আমাদের সামনে প্রমাণিত হয়েছে।’’ (তারা দোয়া করেছিল:) ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে সবর করার শক্তি দাও এবং আমাদের ওফাত দান করো মুসলিম হিসেবে।’
বস্তুতঃ আমাদের সাথে তোমার শত্রুতা তো এ কারণেই যে, আমরা ঈমান এনেছি আমাদের পরওয়ারদেগারের নিদর্শনসমূহের প্রতি যখন তা আমাদের নিকট পৌঁছেছে। হে আমাদের পরওয়ারদেগার আমাদের জন্য ধৈর্য্যের দ্বার খুলে দাও এবং আমাদেরকে মুসলমান হিসাবে মৃত্যু দান কর।
وما تنقم منا إلا أن آمنا بآيات ربنا لما جاءتنا ۚ ربنا أفرغ علينا صبرا وتوفنا مسلمين
অমা-তানক্বিমু মিন্না য় ইল্লা য় আন্ আ-মান্না- বিআ-ইয়া-তি রব্বিনা-লাম্মা-জ্বা - য়াত্না- রব্বানা য় আফ্রিগ্ 'আলাইনা- ছব্বাওঁ অতাওয়াফ্ফানা-মুস্লিমীন্।
ফেরাউন কওমের প্রধানরা বললো: ‘(হে ফেরাউন!) আপনি কি মূসা এবং তার কওমকে দেশে ফাসাদ সৃষ্টির আর আপনাকে ও আপনার ইলাহ্দের ত্যাগ করার জন্যে সুযোগ দিয়ে রাখবেন?’ সে বললো: ‘অচিরেই আমরা কতল করবো তাদের পুত্রদেরকে আর জীবিত রাখবো কন্যা সন্তানদের। আমরা তাদের উপর প্রবল শক্তিধর।’
ফেরাউনের সম্প্রদায়ের র্সদাররা বলল, তুমি কি এমনি ছেড়ে দেবে মূসা ও তার সম্প্রদায়কে। দেশময় হৈ - চৈ করার জন্য এবং তোমাকে ও তোমার দেব - দেবীকে বাতিল করে দেবার জন্য। সে বলল, আমি এখনি হত্যা করব তাদের পুত্র সন্তানদিগকে; আর জীবিত রাখব মেয়েদেরকে। বস্তুতঃ আমরা তাদের উপর প্রবল।
وقال الملأ من قوم فرعون أتذر موسى وقومه ليفسدوا في الأرض ويذرك وآلهتك ۚ قال سنقتل أبناءهم ونستحيي نساءهم وإنا فوقهم قاهرون
অক্ব-লাল্ মালাউ মিন্ ক্বওমি ফির'আউনা আতাযারু মূসা- অক্বওমাহূ লিইয়ুফ্সিদূ ফিল্ র্আদ্বি অইয়াযারাকা অআ-লিহাতাক্ ক্ব-লা সানুক্বত্তিলু আব্না-য়াহুম্ আনাস্তাহ্য়ী নিসা - আহুম্ অইন্না ফাওক্বাহুম্ ক্বা-হিরূ-ন্।
মূসা তার কওমকে বললো: ‘তোমরা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো এবং সবর করো। নিশ্চয়ই এ বিশ্বের মালিক আল্লাহ্ই। তিনি তাঁর দাসদের যাকে চাইবেন এর উত্তরাধিকারী করবেন। শুভ পরিণাম তো মুত্তাকিদের জন্যেই।’
মূসা বললেন তার কওমকে, সাহায্য প্রার্থনা কর আল্লাহর নিকট এবং ধৈর্য্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই এ পৃথিবী আল্লাহর। তিনি নিজের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন এবং শেষ কল্যাণ মুত্তাকীদের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে।
قال موسى لقومه استعينوا بالله واصبروا ۖ إن الأرض لله يورثها من يشاء من عباده ۖ والعاقبة للمتقين
ক্ব-লা মূসা-লিক্বওমিহিস্ তা'ঈনূ বিল্লা-হি অছ্বিরূ ইন্নাল্ আরদ্বোয়া লিল্লা-হি ইয়ূরিছুহা- মাইঁ ইয়াশা - উ মিন্ 'ইবা-দিহ্ অল্ 'আ-ক্বিবাতু লিল্মুত্তাক্বীন্।
তারা বললো: ‘তুমি আমাদের কাছে আসার আগেও আমরা নির্যাতিত হয়েছি এবং তুমি আসার পরেও।’ সে বললো: ‘অচিরেই তোমাদের প্রভু তোমাদের দুশমনকে হালাক করে দেবেন এবং পৃথিবীতে তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তারপর দেখবেন, তোমরা কেমন আমল করো।’
তারা বলল, আমাদের কষ্ট ছিল তোমার আসার পূর্বে এবং তোমার আসার পরে। তিনি বললেন, তোমাদের পরওয়ারদেগার শীঘ্রই তোমাদের শক্রদের ধ্বংস করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দেশে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন। তারপর দেখবেন, তোমরা কেমন কাজ কর।
قالوا أوذينا من قبل أن تأتينا ومن بعد ما جئتنا ۚ قال عسى ربكم أن يهلك عدوكم ويستخلفكم في الأرض فينظر كيف تعملون
ক্ব-লূ য় ঊযীনা- মিন্ ক্বব্লি আন্ তাতিয়ানা-অমিম্ বা'দি মা-জ্বিতানা- ক্ব-লা 'আসা- রব্বুকুম্ আঁই ইয়ুহ্লিকা 'আদুওয়্যাকুম্ অইয়াস্তাখ্লিফাকুম্ ফিল্ র্আদ্বি ফাইয়ান্জুরা কাইফা তা'মালূন্।
আমরা ফেরাউনের অনুসারীদের দুর্ভিক্ষ আর ফসল হানির মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছি যাতে করে তারা উপলব্ধি করে।
তারপর আমি পাকড়াও করেছি - ফেরাউনের অনুসারীদেরকে দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে এবং ফল ফসলের ক্ষয় - ক্ষতির মাধ্যমে যাতে করে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
ولقد أخذنا آل فرعون بالسنين ونقص من الثمرات لعلهم يذكرون
অলাক্বদ্ আখায্না য় আ-লা ফির'আউনা বিস্সিনীনা অনাকছিম্ মিনাছ্ ছামার-তি লা'আল্লাহুম্ ইয়ায্যাক্কারূন্।
যখনই তাদের কল্যাণ হতো তারা বলতো, আমরা এরই হকদার। আর যখনই তাদের স্পর্শ করতো কোনো অকল্যাণ, তখনই মূসা ও তার সাথিদেরকে তারা অলক্ষুণে গণ্য করতো। তাদের অকল্যাণ তো আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বুঝ - জ্ঞান রাখেনা।
অতঃপর যখন শুভদিন ফিরে আসে, তখন তারা বলতে আরম্ভ করে যে, এটাই আমাদের জন্য উপযোগী। আর যদি অকল্যাণ এসে উপস্থিত হয় তবে তাতে মূসার এবং তাঁর সঙ্গীদের অলক্ষণ বলে অভিহিত করে। শুনে রাখ তাদের অলক্ষণ যে, আল্লাহরই এলেমে রয়েছে, অথচ এরা জানে না।
فإذا جاءتهم الحسنة قالوا لنا هذه ۖ وإن تصبهم سيئة يطيروا بموسى ومن معه ۗ ألا إنما طائرهم عند الله ولكن أكثرهم لا يعلمون
ফাইযা-জ্বা - য়াত্হুমুল্ হাসানাতু ক্ব-লূ লানা-হা-যিহী অইন্ তুছিব্হুম্ সাইয়িয়াতুইঁ ইয়াত্ত্বোইয়্যারূ বিমূসা- অমাম্ মা'আহ্ আলা য় ইন্নামা- ত্বোয়া - য়িরুহুম্ 'ইন্দাল্লা-হি অলা-কিন্না আক্ছারাহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।
তারা বলতো, আমাদের জাদু করার জন্যে তুমি যে নিদর্শনই দেখাওনা কেন, আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো না।
তারা আরও বলতে লাগল, আমাদের উপর জাদু করার জন্য তুমি যে নিদর্শনই নিয়ে আস না কেন আমরা কিন্তু তোমার উপর ঈমান আনছি না।
وقالوا مهما تأتنا به من آية لتسحرنا بها فما نحن لك بمؤمنين
অক্ব-লূ মাহ্মা-তাতিনা- বিহী মিন্ আ-ইয়াতিল্ লিতাস্হারানা-বিহা-ফামা-নাহ্নু লাকা বিমুমিনীন্।
আমরা তাদের প্রতি (নিদর্শন হিসেবে) পাঠিয়েছিলাম তুফান (প্লাবন), পঙ্গপাল, উকুন, ব্যঙ এবং রক্ত। এগুলো ছিলো বিস্তারিত ও স্পষ্ট নিদর্শন। কিন্তু তারা অহংকার করে। মূলত তারা ছিলো এক অপরাধী কওম।
সুতরাং আমি তাদের উপর পাঠিয়ে দিলাম তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত প্রভৃতি বহুবিধ নিদর্শন একের পর এক। তারপরেও তারা গর্ব করতে থাকল। বস্তুতঃ তারা ছিল অপরাধপ্রবণ।
فأرسلنا عليهم الطوفان والجراد والقمل والضفادع والدم آيات مفصلات فاستكبروا وكانوا قوما مجرمين
ফার্আসালনা- 'আলাইহিমুত্তুফা-না অল্ জ্বার-দা অল্ কুম্মালা অদ্ব্দ্বোয়াফা-দি'আ অদ্দামা আ-ইয়া-তিম্ মুফাছ্ছলা-তিন ফাস্তাক্বারূ অকা-নূ ক্বওমাম্ মুজরিমীন্।
যখনই তাদের উপর এর কোনো একটি শাস্তি আসতো, তারা বলতো: ‘হে মূসা! তোমার প্রভুর কাছে আমাদের জন্যে দোয়া করো, তিনি তোমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন (ঈমান আনলে আমাদের থেকে আযাব অপসারণ করার), এখন যদি সে অনুযায়ী তিনি আমাদের থেকে আযাব অপসারণ করেন, তবে অবশ্যি আমরা ঈমান আনবো এবং বনি ইসরাঈলকে তোমার সাথে যেতে দেবো।’
আর তাদের উপর যখন কোন আযাব পড়ে তখন বলে, হে মূসা আমাদের জন্য তোমার পরওয়ারদেগারের নিকট সে বিষয়ে দোয়া কর যা তিনি তোমার সাথে ওয়াদা করে রেখেছেন। যদি তুমি আমাদের উপর থেকে এ আযাব সরিয়ে দাও, তবে অবশ্যই আমরা ঈমান আনব তোমার উপর এবং তোমার সাথে বনী - ইসরাঈলদেরকে যেতে দেব।
ولما وقع عليهم الرجز قالوا يا موسى ادع لنا ربك بما عهد عندك ۖ لئن كشفت عنا الرجز لنؤمنن لك ولنرسلن معك بني إسرائيل
অলাম্মা-অক্বা'আ 'আলাইহির্মু রিজযু ক্ব-লূ ইয়া-মূসাদ্'উ লানা- রব্বাকা বিমা-'আহিদা 'ইন্দাকা লায়িন্ কাশাফ্তা 'আর্ন্না রিজযা লানুমিনান্না লাকা অলার্নুসিলান্না মা'আকা বানী য় ইস্রা-ঈল্।
যখনই আমরা তাদেরকে তাদের জন্যে নির্ধারিত কোনো একটি আযাব দূরীভূত করে দিয়েছি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে, তখনই তারা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
অতঃপর যখন আমি তাদের উপর থেকে আযাব তুলে নিতাম নির্ধারিত একটি সময় পর্যন্ত - যেখান পর্যন্ত তাদেরকে পৌছানোর উদ্দেশ্য ছিল, তখন তড়িঘড়ি তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করত।
فلما كشفنا عنهم الرجز إلى أجل هم بالغوه إذا هم ينكثون
ফালাম্মা- কাশাফ্না- আন্হুর্মু রিজযা ইলা য় আজ্বালিন্ হুম্ বা-লিগূহু ইযা-হুম্ ইয়ান্কুছূন্।
ফলে, আমরা তাদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি এবং তাদের ডুবিয়ে দিয়েছি গভীর সমুদ্রে। কারণ, তারা আমাদের নিদর্শন সমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং তা থেকে তারা ছিলো গাফিল।
সুতরাং আমি তাদের কাছে থেকে বদলা নিয়ে নিলাম - বস্তুতঃ তাদেরকে সাগরে ডুবিয়ে দিলাম। কারণ, তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল আমার নিদর্শনসমূহকে এবং তৎপ্রতি অনীহা প্রদর্শন করেছিল।
فانتقمنا منهم فأغرقناهم في اليم بأنهم كذبوا بآياتنا وكانوا عنها غافلين
ফান্তাক্বাম্না- মিন্হুম্ ফাআগ্রাকনা-হুম ফিল্ইয়াম্মি বিআন্নাহুম্ কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-অ কা-নূ-'আন্হা গ-ফিলীন্।
তারপর সেই লোকদেরকে আমরা আমাদের বরকতপ্রাপ্ত ভূমির পূর্ব ও পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিলাম, যাদেরকে রাখা হয়েছিল দূর্বল করে। আর এভাবেই বনি ইসরাঈল সম্পর্কে তোমার প্রভুর শুভ বাণী পূর্ণতা লাভ করে, কারণ তারা সবর অবলম্বন করেছিল। পক্ষান্তরে ফেরাউন ও তার কওম যেসব শিল্প ও স্থাপত্য নির্মাণ করেছিল, সেগুলো আমরা করে দিয়েছিলাম ধ্বংস।
আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত তাদেরকেও আমি উত্তরাধিকার দান করেছি এ ভুখন্ডের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের যাতে আমি বরকত সন্নিহিত রেখেছি এবং পরিপূর্ণ হয়ে গেছে তোমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত কল্যাণ বনী - ইসরাঈলদের জন্য তাদের ধৈর্য্যধারণের দরুন। আর ধ্বংস করে দিয়েছে সে সবকিছু যা তৈরী করেছিল ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় এবং ধ্বংস করেছি যা কিছু তারা সুউচ্চ নির্মাণ করেছিল।
وأورثنا القوم الذين كانوا يستضعفون مشارق الأرض ومغاربها التي باركنا فيها ۖ وتمت كلمت ربك الحسنى على بني إسرائيل بما صبروا ۖ ودمرنا ما كان يصنع فرعون وقومه وما كانوا يعرشون
অআওরাছ্নাল্ ক্বওমাল্লাযীনা কা-নূ ইয়ুস্তাদ্ব্'আফূনা মাশা-রিক্বাল্ র্আদ্বি অ মাগ-রিবাহাল্ লাতী বা-রাক্না-ফীহা- অতাম্মাত্ কালিমাতু রব্বিকাল্ হুস্না- 'আলা- বানী য় ইস্রা - ঈলা বিমা-ছাবারূ অদার্ম্মানা- মা-কা-না ইয়াছ্না'উ র্ফি'আউনু অক্বওমুহূ অমা- কা-নূ ইয়া'রিশূন্।
বনি ইসরাঈলকে আমরা সমুদ্র পার করিয়ে দেই। পথিমধ্যে মূর্তিপূজায় নিরত একটি জাতির কাছে এসে তারা উপনীত হয়। তখন তারা মূসাকে বলে: ‘হে মূসা! আমাদেরকেও এদের ইলাহ্র (দেবতার) মতো ইলাহ্ বানিয়ে দাও।’ সে বললো: ‘তোমরা একটি জাহিল কওম।’
বস্তুতঃ আমি সাগর পার করে দিয়েছি বনী - ইসরাঈলদিগকে। তখন তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে পৌছাল, যারা স্বহস্তনির্মিত মূর্তিপুজায় নিয়োজিত ছিল। তারা বলতে লাগল, হে মূসা; আমাদের উপাসনার জন্যও তাদের মূর্তির মতই একটি মূর্তি নির্মাণ করে দিন। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে বড়ই অজ্ঞতা রয়েছে।
وجاوزنا ببني إسرائيل البحر فأتوا على قوم يعكفون على أصنام لهم ۚ قالوا يا موسى اجعل لنا إلها كما لهم آلهة ۚ قال إنكم قوم تجهلون
অজ্বা-অয্না-বিবানী য় ইস্রা - ঈ লাল্ বাহ্রা ফাআতাও 'আলা ক্বওমিইঁ ইয়া'কুফূনা 'আলা য় আছ্না-মিল্ লাহুম্ ক্ব-লূ ইয়া-মূসাজ'আল্ লানা য় ইলা-হান্ কামা- লাহুম্ আ-লিহাহ্ ক্ব-লা ইন্নাকুম্ ক্বওমুন্ তাজহালূন্।
(মূসা আরো বললো:) ‘এসব লোক যেসব কাজে জড়িত রয়েছে তা তো ধ্বংসপ্রাপ্ত হবেই আর তারা যা করছে সবই বাতিল।’
এরা যে, কাজে নিয়োজিত রয়েছে তা ধ্বংস হবে এবং যা কিছু তারা করেছে তা যে ভুল!
إن هؤلاء متبر ما هم فيه وباطل ما كانوا يعملون
ইন্না হা য় উলা - য়ি মুতাব্বারুম্ মা-হুম ফীহি অবা-ত্বিলুম্ মা-কা-নূ ইয়া'মালূন্।
সে আরো বলেছিল: ‘আমি কি তোমাদের জন্যে ছাড়া অন্য ইলাহ্ খুঁজবো, অথচ তিনি তোমাদের মর্যাদাবান করেছেন জগতবাসীর উপর?’
তিনি বললেন, তাহলে কি আল্লাহকে ছাড়া তোমাদের জন্য অন্য কোন উপাস্য অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদিগকে সারা বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
قال أغير الله أبغيكم إلها وهو فضلكم على العالمين
ক্ব-লা আগইরল্লা-হি আব্গীকুম্ ইলা-হাওঁ অহুঅ ফাদ্ব্দ্বোয়ালাকুম্ 'আলাল্ 'আ-লামীন্।
স্মরণ করো, আমরা তোমাদের নাজাত দিয়েছিলাম ফেরাউনের অনুসারীদের থেকে। তারা তোমাদের নির্যাতন করতো নিকৃষ্ট আযাব দিয়ে। তারা হত্যা করতো তোমাদের পুত্র সন্তানদের, আর জীবিত রাখতো তোমাদের নারীদের। তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এতে তোমাদের জন্যে ছিলো এক বিরাট পরীক্ষা।
আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদেরকে ফেরাউনের লোকদের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছি; তারা তোমাদেরকে দিত নিকৃষ্ট শাস্তি, তোমাদের পুত্র - সন্তানদের মেরে ফেলত এবং মেয়েদের বাঁচিয়ে রাখত। এতে তোমাদের প্রতি তোমাদের পরওয়ারদেগারের বিরাট পরীক্ষা রয়েছে।
وإذ أنجيناكم من آل فرعون يسومونكم سوء العذاب ۖ يقتلون أبناءكم ويستحيون نساءكم ۚ وفي ذلكم بلاء من ربكم عظيم
অইয আন্জ্বাইনা-কুম্ মিন্ আ-লি র্ফি'আউনা ইয়াসূমূনাকুম্ সু - য়াল্ 'আযা-বি ইয়ুক্বত্তিলূনা আব্না - য়াকুম্ অ ইয়াস্তাহ্ইয়ূনা নিসা -য়াকুম অ ফী যা-লিকুম্ বালা - উম্ র্মি রব্বিকুম্ 'আজীম্।
স্মরণ করো, আমরা মূসাকে ত্রিশ রাতের ওয়াদা দিয়েছিলাম এবং আরো দশ বাড়িয়ে দিয়ে তা পূর্ণ করেছিলাম। এভাবে তোমার প্রভুর নির্ধারিত সময়কাল তিনি চল্লিশ রাতে পূর্ণ করেন। মূসা বলেছিল তার ভাই হারূণকে: ‘আমার অনুপস্থিতিতে তুমি আমার কওমে আমার প্রতিনিধিত্ব করবে এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করবেনা।’
আর আমি মূসাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি ত্রিশ রাত্রির এবং সেগুলোকে পূর্ন করেছি আরো দশ দ্বারা। বস্তুতঃ এভাবে চল্লিশ রাতের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে। আর মূসা তাঁর ভাই হারুনকে বললেন, আমার সম্প্রদায়ে তুমি আমার প্রতিনিধি হিসাবে থাক। তাদের সংশোধন করতে থাক এবং হাঙ্গামা সৃষ্টিকারীদের পথে চলো না।
۞ وواعدنا موسى ثلاثين ليلة وأتممناها بعشر فتم ميقات ربه أربعين ليلة ۚ وقال موسى لأخيه هارون اخلفني في قومي وأصلح ولا تتبع سبيل المفسدين
অ অ'আদ্না-মূসা-ছালা-ছীনা লাইলাতাওঁ অআত্মাম্না-হা-বি'আশ্রিন্ ফাতাম্মা মীক্ব-তু রব্বিহী য় র্আবা'ঈনা লাইলাতান্ অক্ব-লা মূসা-লিআখীহি হা-রূনাখ্ লুফ্নী ফী ক্বওমী অ আছ্লিহ্ অলা-তাত্তাবি' সাবীলাল্ মুফ্সিদীন্।
মূসা যখন আমার মিকাতে (নির্ধারিত সময় ও স্থানে) উপস্থিত হয়েছিল, এবং তার প্রভু তার সাথে কথা বলেছিলেন, তখন সে বললো: ‘আমার প্রভু! আমাকে দেখা দাও, আমি তোমাকে দেখবো।’ তিনি বললেন: ‘তুমি কখনো আমাকে দেখতে পাবেনা। তবে তুমি পাহাড়ের প্রতি তাকাও, পাহাড় যদি তার স্বস্থানে অটল থাকে, তাহলেই তুমি আমাকে দেখবে।’ তারপর তোমার প্রভু যখন পাহাড়ের দিকে তাজাল্লি (জ্যোতি) প্রকাশ করলেন, তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিলো এবং মূসা পড়ে গেলো সংজ্ঞাহীন হয়ে। তারপর যখন সে সংজ্ঞা ফিরে পেলো, তখন বললো: ‘মহাপবিত্র ত্রুটিমুক্ত তুমি, আমি অনুতপ্ত হয়ে তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম এবং আমিই বিশ্বাসীদের প্রথম।’
তারপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন এবং তাঁর সাথে তার পরওয়ারদেগার কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, হে আমার প্রভু, তোমার দীদার আমাকে দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে পাবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে দেখতে থাক, সেটি যদি স্বস্থানে দঁড়িয়ে থাকে তবে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে। তারপর যখন তার পরওয়ারদগার পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, সেটিকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে এল; বললেন, হে প্রভু! তোমার সত্তা পবিত্র, তোমার দরবারে আমি তওবা করছি এবং আমিই সর্বপ্রথম বিশ্বাস স্থাপন করছি।
ولما جاء موسى لميقاتنا وكلمه ربه قال رب أرني أنظر إليك ۚ قال لن تراني ولكن انظر إلى الجبل فإن استقر مكانه فسوف تراني ۚ فلما تجلى ربه للجبل جعله دكا وخر موسى صعقا ۚ فلما أفاق قال سبحانك تبت إليك وأنا أول المؤمنين
অলাম্মা-জ্বা - য়া মূসা-লিমীক্ব-তিনা-অকাল্লামাহূ রব্বুহূ ক্ব-লা রব্বি আরিনী য় আর্ন্জু ইলাইক্ ক্ব-লা লান্ তারা-নী অলা-কিনিন্ জুর ইলাল্ জ্বাবালি ফায়িনিস্ তার্ক্বরা মাকা- নাহূ ফাসাওফা তারা-নী 'ফালাম্মা- তাজ্বাল্লা-রব্বুহূ লিল্জ্বাবালি জ্বা'আলাহূ দাক্কাঁও অ র্খারা মূসা-ছোয়া'ইক্বান্ ফালাম্মা য় আফা-ক্বা ক্ব-লা সুব্হা-নাকা তুব্তু ইলাইকা অ'আনা আও ওয়ালুল্ মু”মিনীন্।
তিনি বললেন: ‘হে মূসা! আমি তোমাকে মানব সমাজের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি আমার রিসালাত প্রদান করে এবং তোমার সাথে আমার কথা বলার মাধ্যমে। সুতরাং আমি তোমাকে যা দিয়েছি তা আঁকড়ে ধরো এবং শোকরগুজারদের অন্তরভুক্ত হও।
(পরওয়ারদেগার) বললেন, হে মূসা, আমি তোমাকে আমার বার্তা পাঠানোর এবং কথা বলার মাধ্যমে লোকদের উপর বিশিষ্টতা দান করেছি। সুতরাং যা কিছু আমি তোমাকে দান করলাম, গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞ থাক।
قال يا موسى إني اصطفيتك على الناس برسالاتي وبكلامي فخذ ما آتيتك وكن من الشاكرين
ক্ব-লা ইয়া-মূসা য় ইন্নিছ্ ত্বোয়াফাইতুকা 'আলান্ না-সি বিরিসা-লা-তী অবিকালা-মী ফাখুয্ মা য় আ-তাইতুকা অকুম্ মিনাশ্ শা-কিরীন্।
আমরা তার জন্যে ফলকে সব বিষয়ের উপদেশ এবং সব বিষয়ের সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা লিখে দিয়েছি। সুতরাং এগুলো শক্ত করে আঁকড়ে ধরো এবং তোমার কওমকে এগুলোর উত্তম নির্দেশাবলি গ্রহণ করার নির্দেশ দাও। আমি অচিরেই তোমাদেরকে ফাসিকদের আবাস দেখাবো।
আর আমি তোমাকে পটে লিখে দিয়েছি সর্বপ্রকার উপদেশ ও বিস্তারিত সব বিষয়। অতএব, এগুলোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং স্বজাতিকে এর কল্যাণকর বিষয়সমূহ দৃঢ়তার সাথে পালনের নির্দেশ দাও।
وكتبنا له في الألواح من كل شيء موعظة وتفصيلا لكل شيء فخذها بقوة وأمر قومك يأخذوا بأحسنها ۚ سأريكم دار الفاسقين
অকাতাব্না-লাহূ ফিল্ আল্ওয়া-হি মিন্ কুল্লি শাইয়িম্ মাও 'ইজোয়াতাঁও অতাফ্ছীলাল্ লিকুল্লি শাইয়্যিন্ ফাখুয্হা-বিকুওআতিঁও অ”র্মু ক্বওমাকা ইয়াখুযূ বিআহ্সানিহা- সাঊরীকুম্ দা-রল্ ফা-সিক্বীন্।
যারা অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে অহংকার করে বেড়ায় আমি অচিরেই আমার আয়াত থেকে তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেবো। তারা প্রতিটি নিদর্শন দেখলেও তাতে বিশ্বাস করবেনা, তারা সঠিক পথ দেখলেও সেটিকে (নিজেদের পথ) হিসেবে গ্রহণ করবেনা। কিন্তু ভ্রান্ত পথ দেখলেই সেটাকে চলার পথ হিসেবে গ্রহণ করবে। এর কারণ তারা আমাদের আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সে ব্যাপারে তারা গাফিল।
আমি আমার নিদর্শনসমূহ হতে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখি, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে গর্ব করে। যদি তারা সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে ফেলে, তবুও তা বিশ্বাস করবে না। আর যদি হেদায়েতের পথ দেখে, তবে সে পথ গ্রহণ করে না। অথচ গোমরাহীর পথ দেখলে তাই গ্রহণ করে নেয়। এর কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে মনে করেছে এবং তা থেকে বেখবর রয়ে গেছে।
سأصرف عن آياتي الذين يتكبرون في الأرض بغير الحق وإن يروا كل آية لا يؤمنوا بها وإن يروا سبيل الرشد لا يتخذوه سبيلا وإن يروا سبيل الغي يتخذوه سبيلا ۚ ذلك بأنهم كذبوا بآياتنا وكانوا عنها غافلين
সাআস্রিফু 'আন্ আ-ইয়া-তিয়াল্লাযীনা ইয়াতাকাব্বারূনা ফিল্ র্আদ্বি বিগইরিল্ হাক অইঁ ইয়ারাও কুল্লা আ-ইয়াতিল্ লা-ইয়ু”মিনূ বিহা- অইঁ ইয়ারাও সাবীর্লা রুশ্দি লা-ইয়াত্তাখিযূহু সাবীলান্ অইঁ ইয়ারাও সাবীলাল্ গাইয়্যি ইয়াত্তাখিযূহু সাবীলা- যা-লিকা বিআন্নাহুম্ কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-অকা-নূ 'আন্হা-গ-ফিলীন্।
যারা আমাদের আয়াত এবং আখিরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে, নিষ্ফল হয়ে গেছে তাদের সমস্ত আমল। তারা যা করে তার বাইরে তাদেরকে কোনো প্রতিফল (শাস্তি) দেয়া হবেনা।
বস্তুতঃ যারা মিথ্যা জেনেছে আমার আয়াতসমূকে এবং আখেরাতের সাক্ষাতকে, তাদের যাবতীয় কাজকর্ম ধ্বংস হয়ে গেছে। তেমন বদলাই সে পাবে যেমন আমল করত।
والذين كذبوا بآياتنا ولقاء الآخرة حبطت أعمالهم ۚ هل يجزون إلا ما كانوا يعملون
অল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তি-না অলিক্ব - য়িল্ আ-খিরাতি হাবিত্বোয়াত্ আ'মা-লুহুম্ হাল্ ইয়ুজযাওনা ইল্লা-মা-কা-নূ ইয়া'মালূন্।
মূসার কওম তার অনুপস্থিতিতে তাদের অলংকার দিয়ে একটি গো - বাছুরের দেহাবয়ব তৈরি করে, যার থেকে হাম্বা ধ্বনি বের হতো। তারা কি দেখেনি যে, সেটি তাদের সাথে কথা বলেনা এবং তাদের পথও দেখায়না? তারা সেটিকে (দেবতা হিসেবে) গ্রহণ করে। আসলে তারা ছিলো যালিম।
আর বানিয়ে নিল মূসার সম্প্রদায় তার অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলংকারাদির দ্বারা একটি তা থেকে বেরুচ্ছিল ‘হাম্বা হাম্বা’ শব্দ। তারা কি একথাও লক্ষ্য করল না যে, সেটি তাদের সাথে কথাও বলছে না এবং তাদেরকে কোন পথও বাতলে দিচ্ছে না! তারা সেটিকে উপাস্য বানিয়ে নিল। বস্তুতঃ তারা ছিল জালেম।
واتخذ قوم موسى من بعده من حليهم عجلا جسدا له خوار ۚ ألم يروا أنه لا يكلمهم ولا يهديهم سبيلا ۘ اتخذوه وكانوا ظالمين
অত্তাখাযা ক্বওমু মূসা-মিম্ বা'দিহী মিন্ হুলিয়্যিহিম্ 'ইজলান্ জ্বাসাদাল্ লাহূ খুওয়ার্- আলাম্ ইয়ারাও আন্নাহূ লাইয়ুকাল্লিমুহুম্ অলা-ইয়াহ্দীহিম্ সাবীলা-। ইত্তাখাযূহু অকা-নূ জোয়া-লিমীন্।
তারা যখন অনুতপ্ত হলো এবং দেখলো যে, তারা বিপথগামী হয়ে গেছে, তখন তারা বললো: ‘আমাদের প্রভু যদি আমাদের প্রতি রহম না করেন এবং আমাদের ক্ষমা করে না দেন, তবে অবশ্যি আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বো।’
অতঃপর যখন তারা অনুতপ্ত হল এবং বুঝতে পারল যে, আমরা নিশ্চিতই গোমরাহ হয়ে পড়েছি, তখন বলতে লাগল, আমাদের প্রতি যদি আমাদের পরওয়ারদেগার করুণা না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ধবংস হয়ে যাব।
ولما سقط في أيديهم ورأوا أنهم قد ضلوا قالوا لئن لم يرحمنا ربنا ويغفر لنا لنكونن من الخاسرين
অলাম্মা-সুক্বিত্বোয়া ফী য় আইদীহিম্ অরাআও আন্নাহুম্ ক্বদ্ দ্বোয়াল্লূ ক্ব-লূ লায়িল্লাম্ ইর্য়াহাম্না- রব্বুনা-অইয়ার্গ্ফি লানা- লানাকূনান্না মিনাল্ খা-সিরীন্।
মূসা যখন ক্ষুদ্ধ হয়ে তার কওমের কাছে ফিরে এলো, বললো: ‘তোমরা আমার অনুপস্থিতিতে আমার চরম নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্ব করেছো। তোমাদের প্রভুর আদেশের আগেই তোমরা তাড়াহুড়া করলে?’ এবং সে ফলকগুলো ফেলে দেয় এবং তার ভাইয়ের চুল ধরে নিজের দিকে টেনে আনে। সে (তার ভাই হারূণ) বললো: ‘হে আমার সহোদর! লোকেরা আমাকে দুর্বল করে রেখেছিল এবং আমাকে প্রায় হত্যাই করে ফেলেছিল। তুমি আমার সাথে এমন আচরণ করোনা যাতে শত্রুরা আনন্দিত হয় এবং আমাকে যালিম কওমের অন্তরভুক্ত করোনা।’
তারপর যখন মূসা নিজ সম্প্রদায়ে ফিরে এলেন রাগাম্বিত ও অনুতপ্ত অবস্থায়, তখন বললেন, আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা আমার কি নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্বটাই না করেছ। তোমরা নিজ পরওয়ারদেগারের হুকুম থেকে কি তাড়াহুড়া করে ফেললে এবং সে তখতীগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং নিজের ভাইয়ের মাথার চুল চেপে ধরে নিজের দিকে টানতে লাগলেন। ভাই বললেন, হে আমার মায়ের পুত্র, লোকগুলো যে আমাকে দুর্বল মনে করল এবং আমাকে যে মেরে ফেলার উপক্রম করেছিল। সুতরাং আমার উপর আর শত্রুদের হাসিও না। আর আমাকে জালিমদের সারিতে গন্য করো না।
ولما رجع موسى إلى قومه غضبان أسفا قال بئسما خلفتموني من بعدي ۖ أعجلتم أمر ربكم ۖ وألقى الألواح وأخذ برأس أخيه يجره إليه ۚ قال ابن أم إن القوم استضعفوني وكادوا يقتلونني فلا تشمت بي الأعداء ولا تجعلني مع القوم الظالمين
অলাম্মা রজ্বা'আ মূসা য় ইলা- ক্বওমিহী গদ্ব্বা-না আসিফান্ ক্ব-লা-বি”সামা খালাফ্তুমূনী মিম্ বা'দী আ'আজ্বিল্তুম্ আম্রা রব্বিকুম্ অআল্ক্বল্ আল্ওয়া-হা অআখাযা বিরা”সি আখীহি ইয়াজ্বর্ ুরুহূ য় ইলাইহ্ ক্ব-লাব্না উম্মা ইন্নাল্ ক্বওমাস্ তাদ্ব'আফূনী অকা-দূ ইয়াকতুলূনানী ফালা-তুশ্মিত্ বিয়াল্ 'আদা - য়া অলা-তাজআল্নী মা'আল ক্বওমিজ্জোয়া-লিমীন্
সে (মূসা) বললো: ‘আমার প্রভু! আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার ভাইকেও, আর আমাদের দাখিল করো তোমরা রহমতের মধ্যে। তুমিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ রহমওয়ালা।’
মূসা বললেন, হে আমার পরওয়ারদেগার, ক্ষমা কর আমাকে আর আমার ভাইকে এবং আমাদেরকে তোমার রহমতের অন্তর্ভুক্ত কর। তুমি যে সর্বাধিক করুণাময়।
قال رب اغفر لي ولأخي وأدخلنا في رحمتك ۖ وأنت أرحم الراحمين
ক্ব-লা রব্বির্গ্ফিলী অলিআখী অআদ্খিল্না- ফী রহ্মাতিকা অ আন্তা র্আহার্মু র-হিমীন্।
যারা গো - বাছুরকে দেবতা হিসাবে গ্রহণ করেছে তাদের উপর এই দুনিয়ার জীবনেই তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে আপতিত হবে গজব আর যিল্লতি। এভাবেই আমরা শাস্তি দিয়ে থাকি মিথ্যা রচনাকারীদের।
অবশ্য যারা গোবৎসকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে, তাদের উপর তাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে পার্থিব এ জীবনেই গযব ও লাঞ্জনা এসে পড়বে। এমনি আমি অপবাদ আরোপকারীদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি।
إن الذين اتخذوا العجل سينالهم غضب من ربهم وذلة في الحياة الدنيا ۚ وكذلك نجزي المفترين
ইন্নাল্ লাযীনাত্ তাখাযুল্ 'ইজলা সাইয়ানা-লুহুম্ গাদ্বোয়াবুম্ র্মি রব্বিহিম্ অযিল্লাতুন্ ফিল্ হা ইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া- অকাযা-লিকা নাজযিল্ মুফ্তারীন্।
যারা মন্দ কাজ করার পর অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসে (তওবা করে) এবং ঈমানের ভিত্তিতে জীবন যাপন করে, নিশ্চয়ই তোমার প্রভু এরপরও পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।
আর যারা মন্দ কাজ করে, তারপরে তওবা করে নেয় এবং ঈমান নিয়ে আসে, তবে নিশ্চয়ই তোমার পরওয়ারদেগার তওবার পর অবশ্য ক্ষমাকারী, করুণাময়।
والذين عملوا السيئات ثم تابوا من بعدها وآمنوا إن ربك من بعدها لغفور رحيم
অল্লাযীনা 'আমিলুস্ সাইয়িয়া-তি ছুম্মা তা-বূ মিম্ বা'দিহা- অআ-মানূ য় ইন্না রব্বাকা মিম্ বা'দিহা- লাগফূর্রু রহীম্।
যখন থেমে গেলো মূসার রাগ, তখন সে তুলে নিলো ফলকগুলো। যারা তাদের প্রভুর জন্যে একমুখী হয়ে যায় তাদের জন্যে সেই নোস্খাগুলোতে লিখিত ছিলো হিদায়াত ও রহমত।
তারপর যখন মূসার রাগ পড়ে গেল, তখন তিনি তখতীগুলো তুলে নিলেন। আর যা কিছু তাতে লেখা ছিল, তা ছিল সে সমস্ত লোকের জন্য হেদায়েত ও রহমত যারা নিজেদের পরওয়ারদেগারকে ভয় করে।
ولما سكت عن موسى الغضب أخذ الألواح ۖ وفي نسختها هدى ورحمة للذين هم لربهم يرهبون
অলাম্মা- সাকাতা 'আম্ মূসাল্ গদ্বোয়াবু আখাযাল্ আল্ওয়া-হা অফী নুস্খাতিহা-হুদাঁও অরহ্মাতুল্ লিল্লাযীনা হুম্ লিরব্বিহিম্ ইর্য়াহাবূন্।
মূসা তার কওম থেকে সত্তর ব্যক্তিকে আমার নির্ধারিত স্থানে নিয়ে আসার জন্যে মনোনীত করে। যখন সেখানে তাদেরকে প্রচন্ড ভূমিকম্প পাকড়াও করলো, মূসা ফরিয়াদ করলো: ‘‘আমার প্রভু! তুমি চাইলে (তো) এখানে আসার আগেই তাদের মেরে ফেলতে পারতে এবং আমাকেও। আমাদের মধ্যকার নির্বোধ লোকদের কর্মকান্ডের জন্যে কি তুমি আমাদের ধ্বংস করে দেবে? এটা তো তোমার একটা পরীক্ষা ছাড়া আর কিছু নয়। এর দ্বারা তুমি যাকে চাও গোমরাহ করে দাও আর যাকে চাও সঠিক পথ দেখাও। তুমিই আমাদের অলি। তাই আমাদের ক্ষমা করে দাও এবং রহম করো আমাদের প্রতি। তুমিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল।
আর মূসা বেছে নিলেন নিজের সম্প্রদায় থেকে সত্তর জন লোক আমার প্রতিশ্রুত সময়ের জন্য। তারপর যখন তাদেরকে ভূমিকম্প পাকড়াও করল, তখন বললেন, হে আমার পরওয়ারদেগার, তুমি যদি ইচ্ছা করতে, তবে তাদেরকে আগেই ধ্বংস করে দিতে এবং আমাকেও। আমাদেরকে কি সে কর্মের কারণে ধ্বংস করছ, যা আমার সম্প্রদায়ের নির্বোধ লোকেরা করেছে? এসবই তোমার পরীক্ষা; তুমি যাকে ইচ্ছা এতে পথ ভ্রষ্ট করবে এবং যাকে ইচ্ছা সরলপথে রাখবে। তুমি যে আমাদের রক্ষক - সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের উপর করুনা কর। তাছাড়া তুমিই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী।
واختار موسى قومه سبعين رجلا لميقاتنا ۖ فلما أخذتهم الرجفة قال رب لو شئت أهلكتهم من قبل وإياي ۖ أتهلكنا بما فعل السفهاء منا ۖ إن هي إلا فتنتك تضل بها من تشاء وتهدي من تشاء ۖ أنت ولينا فاغفر لنا وارحمنا ۖ وأنت خير الغافرين
অখ্তা-রা মূসা- ক্বওমাহূ সাব্'ঈনা রাজুলাল্ লিমীক্ব-তিনা- ফালাম্মা য় আখাযাত্হুর্মু রাজফাতু ক্ব-লা রব্বি লাও শি”তা আহ্লাক্তাহুম্ মিন্ ক্বব্লু অ ইয়্যা-ইয়া আতুহ্লিকুনা- বিমা-ফা'আলাস্ সুফাহা - য়ু মিন্না- ইন্ হিয়া ইল্লা- ফিত্নাতুক্ তুদ্ধিল্লু বিহা-মান্ তাশা - য়ু অতাহ্দী মান্ তাশা - য়ু আন্তা অলিয়্যুনা-ফার্গ্ফিলানা-র্অহাম্না- অআন্তা খাইরুল্ গ-ফিরীন্।
আমাদের জন্যে এই দুনিয়াতে কল্যাণ লিখে দাও এবং আখিরাতেও। আমরা তোমার দিকেই পথ ধরলাম।’’ তার প্রভু বললেন: আমার শাস্তি যাকে আমি চাই দিয়ে থাকি, কিন্তু আমার রহমত সব কিছুর উপর পরিব্যাপ্ত। তা আমি বিশেষভাবে লিখে দেবো সেইসব লোকদের জন্যে, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, যাকাত পরিশোধ করে দেয় এবং যারা ঈমান রাখে আমার আয়াতের প্রতি।
আর পৃথিবীতে এবং আখেরাতে আমাদের জন্য কল্যাণ লিখে দাও। আমরা তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি। তা’আলা বললেন, আমার আযাব তারই উপর পরিব্যাপ্ত। সুতরাং তা তাদের জন্য লিখে দেব যারা ভয় রাখে, যাকাত দান করে এবং যারা আমার আয়তসমুহের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে।
۞ واكتب لنا في هذه الدنيا حسنة وفي الآخرة إنا هدنا إليك ۚ قال عذابي أصيب به من أشاء ۖ ورحمتي وسعت كل شيء ۚ فسأكتبها للذين يتقون ويؤتون الزكاة والذين هم بآياتنا يؤمنون
অক্তুব্ লানা-ফী হা-যিহিদ্ দুন্ইয়া- হাসানাতাঁও অফিল্ আ-খারতি ইন্না-হুদ্না য় ইলাইক্ ক্ব-লা 'আযা-বী য় উছীবু বিহী মান্ আশা - য়ু অরহ্মাতী অসি'আত্ কুল্লা শাইয়িন্ ফাসাআক্তুবুহা- লিল্লাযীনা ইয়াত্তাকুনা অইয়ুতূনায্ যাকা-তা অল্লাযীনা হুম্ বিআ-ইয়া-তিনা ইয়ু”মিনূন্।
যারা ইত্তেবা (অনুসরণ) করবে আমার এই রসূল উম্মি নবীর, যার উল্লেখ তারা লিপিবদ্ধ পায় তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত এবং ইনজিলে, সে তাদেরকে ভালো কাজের আদেশ দেয়, মন্দ কাজ থেকে বারণ করে, তাদের জন্যে সব ভালো জিনিস হালাল করে, সব নোংরা অপবিত্র জিনিস হারাম করে এবং তাদেরকে মুক্ত করে সেইসব গুরুভার ও শৃংখল থেকে, যেগুলো তাদের উপর বোঝা হয়ে চেপেছিল। অতএব যারা তার প্রতি ঈমান আনবে, তাকে সম্মান প্রদর্শন করবে, তাকে সাহায্য করবে এবং সেই নূর (কুরআন) - এর ইত্তেবা করবে, যা নাযিল করা হয়েছে তার সাথে, তারাই হবে ।
সেসমস্ত লোক, যারা আনুগত্য অবলম্বন করে এ রসূলের, যিনি উম্মী নবী, যাঁর সম্পর্কে তারা নিজেদের কাছে রক্ষিত তওরাত ও ইঞ্জিলে লেখা দেখতে পায়, তিনি তাদেরকে নির্দেশ দেন সৎকর্মের, বারণ করেন অসৎকর্ম থেকে; তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষনা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তুসমূহ এবং তাদের উপর থেকে সে বোঝা নামিয়ে দেন এবং বন্দীত্ব অপসারণ করেন যা তাদের উপর বিদ্যমান ছিল। সুতরাং যেসব লোক তাঁর উপর ঈমান এনেছে, তাঁর সাহচর্য অবলম্বন করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং সে নূরের অনুসরণ করেছে যা তার সাথে অবতীর্ণ করা হয়েছে, শুধুমাত্র তারাই নিজেদের উদ্দেশ্য সফলতা অর্জন করতে পেরেছে।
الذين يتبعون الرسول النبي الأمي الذي يجدونه مكتوبا عندهم في التوراة والإنجيل يأمرهم بالمعروف وينهاهم عن المنكر ويحل لهم الطيبات ويحرم عليهم الخبائث ويضع عنهم إصرهم والأغلال التي كانت عليهم ۚ فالذين آمنوا به وعزروه ونصروه واتبعوا النور الذي أنزل معه ۙ أولئك هم المفلحون
আল্লাযীনা ইয়াত্তাবিঊ'র্না রসূলান্ নাবিইয়্যাল্ উম্মিইয়্যাল্ লাযী ইয়াজ্বিদূনাহূ মাক্তূবান্ 'ইন্দাহুম্ ফিত্তাওরা-তি অল্ ইনজ্বীল্ ইয়া”মুরুহুম্ বিল্মা'রূফি অইয়ান্হা-হুম্ 'আনিল মুন্কারি অইয়ুহিল্লু লাহুমুত্ ত্বোয়াইয়্যিবা-তি অইয়ুর্হারিমু 'আলাইহিমুল্ খাবা - য়িছা অইয়াদ্বোয়া'উ 'আন্হুম্ ইছ্রাহুম্ অল্ আগ্লা-লাল্লাতী কা-নাত্ 'আলাইহিম্ ফাল্লাযীনা আ-মানূ বিহী অ'আয্যারূহু অনাছোয়ারূহু অত্তাবা'উন্ নূরাল্লাযী য় উন্যিলা মা'আহূ য় উলা- য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।
(হে মুহাম্মদ!) বলো: ‘হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি সেই মহান আল্লাহর রসূল, যিনি মহাকাশ এবং এই পৃথিবীর কর্তৃত্বের মালিক। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর উম্মি নবীর প্রতি, যে ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর বাণীর প্রতি। তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, অবশ্যি সঠিক পথ পাবে।’
বলে দাও, হে মানব মন্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি প্রেরিত রসূল, সমগ্র আসমান ও যমীনে তার রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর উপর তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর উপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহর এবং তাঁর সমস্ত কালামের উপর। তাঁর অনুসরণ কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার।
قل يا أيها الناس إني رسول الله إليكم جميعا الذي له ملك السماوات والأرض ۖ لا إله إلا هو يحيي ويميت ۖ فآمنوا بالله ورسوله النبي الأمي الذي يؤمن بالله وكلماته واتبعوه لعلكم تهتدون
কুল্ ইয়া য় আইয়্যুহান্না-সু ইন্নী রসূলু ল্লা-হি ইলাইকুম্ জ্বামী'আনি ল্লাযী লাহূ মুল্কুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি লা য় ইলা-হা ইল্লা- হুঅ ইয়ুহ্য়ী অইয়ুমীতু ফাআ-মিনূ বিল্লা-হি অরসূলিহিন্ নাবিয়্যিল্ উম্মিয়্যিল্লাযী ইয়ু”মিনূ বিল্লা-হি অকালিমা-তিহী অত্তাবিঊ'হু লা'আল্লাকুম্ তাহ্তাদূন্।
মূসার কওমের মধ্যে এমন একদল লোকও আছে যারা অন্যদেরকে সত্যের ভিত্তিতে পথ দেখায় এবং তার ভিত্তিতেই বিচার করে।
বস্তুতঃ মূসার সম্প্রদায়ে একটি দল রয়েছে যারা সত্যপথ নির্দেশ করে এবং সে মতেই বিচার করে থাকে।
ومن قوم موسى أمة يهدون بالحق وبه يعدلون
অমিন্ ক্বওমি মূসা য় উম্মাতুঁই ইয়াহ্দূনা বিলহাকক্বি অবিহী ইয়া'দিলূন্।
আমরা তাদের বিভক্ত করেছি বারো গোত্রে। মূসার কওম যখন তার কাছে পানি সমস্যার সমাধান করার আবেদন করেছিল, আমরা তাকে অহি করে নির্দেশ দিলাম, এই পাথরটিতে তোমার লাঠি দিয়ে আঘাত করো। ফলে (তার আঘাতের সাথে সাথে) তা থেকে বারোটি ঝরণাধারা উৎসারিত হয়ে গেলো। প্রত্যেক গোত্রের লোকেরা তাদের নিজ নিজ পানির জায়গা চিনে নিলো। তাছাড়া আমরা মেঘমালা দিয়ে তাদের উপর ছায়া বিস্তার করেছিলাম এবং তাদের জন্যে নাযিল করেছিলাম মান্না এবং সালওয়া। (তাদের বলেছিলাম:) আমরা তোমাদের যে ভালো জীবিকা দিয়েছি তা থেকে খাও। কিন্তু, তারা আমাদের প্রতি যুলুম করেনি, যুলুম করেছিল তাদের নিজেদের প্রতিই।
আর আমি পৃথক পৃথক করে দিয়েছি তাদের বার জন পিতামহের সন্তানদেরকে বিরাট বিরাট দলে, এবং নির্দেশ দিয়েছি মুসাকে, যখন তার কাছে তার সম্প্রদায় পানি চাইল যে, স্বীয় যষ্টির দ্বারা আঘাত কর এ পাথরের উপর। অতঃপর এর ভেতর থেকে ফুটে বের হল বারটি প্রস্রবণ। প্রতিটি গোত্র চিনে নিল নিজ নিজ ঘাঁটি। আর আমি ছায়া দান করলাম তাদের উপর মেঘের এবং তাদের জন্য অবতীর্ন করলাম মান্না ও সালওয়া। যে পরিচ্ছন্ন বস্তুত জীবিকারূপে আমি তোমাদের দিয়েছি, তা থেকে তোমরা ভক্ষণ কর। বস্তুতঃ তারা আমার কোন ক্ষতি করেনি, বরং ক্ষতি করেছে নিজেদেরই।
وقطعناهم اثنتي عشرة أسباطا أمما ۚ وأوحينا إلى موسى إذ استسقاه قومه أن اضرب بعصاك الحجر ۖ فانبجست منه اثنتا عشرة عينا ۖ قد علم كل أناس مشربهم ۚ وظللنا عليهم الغمام وأنزلنا عليهم المن والسلوى ۖ كلوا من طيبات ما رزقناكم ۚ وما ظلمونا ولكن كانوا أنفسهم يظلمون
অক্বাত্ত্বোয়া'না- হুমুছ্নাতাই 'আশ্রাতা আস্বা-ত্বোয়ান্ উমামা- অআওহাইনা য় ইলা-মূসা য় ইযিস্ তাস্ক্ব-হু ক্বওমুহূ য় আনিদ্ব্রিব্ বি'আছোয়া-কাল্ হাজ্বারা ফাম্বাজ্বাসাত্ মিন্হুছ্ নাতা-'আশ্রাতা 'আইনা-ক্বদ্ 'আলিমা কুল্লু উনা-সিম্ মাশ্রাবাহুম্ অজোয়াল্লাল্না-'আলাইহিমুল্ গমা-মা অআন্যাল্না-'আলাইহিমুল্ মান্না অস্সাল্ওয়া-কুলূ মিন্ ত্বোয়াইয়্যিবা-তি মা-রযাকনা-কুম অমা-জোয়ালামূনা-অলা-কিন্ কা-নূ য় আন্ফুসাহুম্ ইয়াজ্লিমূন্।
তাদের বলা হয়েছিল: তোমরা এই বসতিতে বসবাস করো, সেখানে যেখান থেকে ইচ্ছা খাও এবং বলো, হিত্তাতুন (আমাদের ক্ষমা করো) আর নত শিরে দাখিল হও (সদর) গেইট দিয়ে, তাহলে আমরা তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেবো। কল্যাণপরায়ণদের আমরা অচিরেই আরো অধিক দান করবো।
আর যখন তাদের প্রতি নির্দেশ হল যে, তোমরা এ নগরীতে বসবাস কর এবং খাও তা থেকে যেখান থেকে ইচ্ছা এবং বল, আমাদের ক্ষমা করুন। আর দরজা দিয়ে প্রবেশ কর প্রণত অবস্থায়। তবে আমি ক্ষমা করে দেব তোমাদের পাপসমুহ। অবশ্য আমি সৎকর্মীদিগকে অতিরিক্ত দান করব।
وإذ قيل لهم اسكنوا هذه القرية وكلوا منها حيث شئتم وقولوا حطة وادخلوا الباب سجدا نغفر لكم خطيئاتكم ۚ سنزيد المحسنين
অইয্ ক্বীলা লাহুমুস্ কুনূ হা-যিহিল্ ক্বারইয়াতা অকুলূ মিন্হা-হাইছু শি”তুম্ অকূলূ হিত্ত্বোয়াতুঁও অদ্খুলুল্ বা-বা সুজ্জ্বাদান্ নার্গ্ফিলাকুম্ খাত্বী - য়া-তিকুম্ সানাযীদুল্ মুহ্সিনীন্।
কিন্তু তাদের মধ্যে যারা যুলুম করেছিল, তাদের যা বলা হয়েছিল সেকথা বদল করে তারা অন্য কথা বললো। ফলে আমরা আসমান থেকে তাদের জন্যে নাযিল করেছিলাম শাস্তি তাদের যুলুমের কারণে।
অনন্তর জালেমরা এতে অন্য শব্দ বদলে দিল তার পরিবর্তে, যা তাদেরকে বলা হয়েছিল। সুতরাং আমি তাদের উপর আযাব পাঠিয়েছি আসমান থেকে তাদের অপকর্মের কারণে।
فبدل الذين ظلموا منهم قولا غير الذي قيل لهم فأرسلنا عليهم رجزا من السماء بما كانوا يظلمون
ফাবাদ্দালাল্লাযীনা জোয়ালামূ মিন্হুম্ ক্বওলান্ গইরাল্ লাযী ক্বীলা লাহুম্ ফাআরসাল্না-'আলাইহিম্ রিজযাম্ মিনাস্ সামা-য়ি বিমা-কা-নূ ইয়াজ্লিমূন্।
তাদের জিজ্ঞাসা করো সেই বসতি সম্পর্কে যাদের অবস্থান ছিলো সাগরের পাড়েই। সেখানে তারা শনিবারে সীমালংঘন করতো। শনিবার উদযাপনের দিন মাছ পানির উপরিভাগে ভেসে তাদের কাছে আসতো। যেদিন তারা শনিবার উদযাপন করতো না, সেদিন তারা তাদের কাছে আসতোনা। এভাবে আমরা তাদের পরীক্ষা করেছিলাম তাদের ফাসেকির কারণে।
আর তাদের কাছে সে জনপদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর যা ছিল নদীর তীরে অবস্থিত। যখন শনিবার দিনের নির্দেশের ব্যাপারে সীমাতিক্রম করতে লাগল, যখন আসতে লাগল মাছগুলো তাদের কাছে শনিবার দিন পানির উপর, আর যেদিন শনিবার হত না, আসত না। এভাবে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি। কারণ, তারা ছিল নাফরমান।
واسألهم عن القرية التي كانت حاضرة البحر إذ يعدون في السبت إذ تأتيهم حيتانهم يوم سبتهم شرعا ويوم لا يسبتون ۙ لا تأتيهم ۚ كذلك نبلوهم بما كانوا يفسقون
অস্য়াল্হুম্ 'আনিল্ র্ক্বইয়াতিল্ লাতী কা-নাত্ হা-দ্বিরাতাল্ বাহ্র্। ইয্ ইয়া'দূনা ফিস্ সাব্তি ইয্ তা”তীহিম্ হীতা-নুহুম্ ইয়াওমা সাব্তিহিম্ র্শুরা'আঁও অইয়াওমা লা-ইয়াস্বিতূনা লা-তা'তীহিম্্ কাযা-লিকা নাব্লূহুম্ বিমা-কা-নূ ইয়াফ্সুকুন্।
স্মরণ করো, তাদের একদল বলেছিল, তোমরা এমন লোকদের কেন উপদেশ দাও যাদের ধ্বংস করে দেবেন, কিংবা কঠিন আযাব দেবেন? তারা বলেছিল: ‘তোমাদের প্রভুর কাছে দায়িত্ব মুক্তি লাভের জন্যে এবং যাতে করে তারা সতর্ক হয়।’
আর যখন তাদের মধ্যে থেকে এক সম্প্রদায় বলল, কেন সে লোকদের সদুপদেশ দিচ্ছেন, যাদেরকে ধ্বংস করে দিতে চান কিংবা আযাব দিতে চান কঠিন আযাব? সে বললঃ তোমাদের পালনকর্তার সামনে দোষ ফুরাবার জন্য এবং এজন্য যেন তারা ভীত হয়।
وإذ قالت أمة منهم لم تعظون قوما ۙ الله مهلكهم أو معذبهم عذابا شديدا ۖ قالوا معذرة إلى ربكم ولعلهم يتقون
অইয্ ক্ব-লাত্ উম্মাতুম্ মিন্হুম্ লিমা তা'ইজূনা ক্বওমা-নি ল্লা-হু মুহ্লিকুহুম্ আও মু'আয্যিবুহুম্ 'আযা-বান্ শাদী-দা- ক্ব-লূ মা'যিরাতান্ ইলা-রব্বিকুম্ অলা'আল্লাহুম্ ইয়াত্তাকুন্।
তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গিয়েছিল, তখন আমরা তাদেরকে মুক্তি দিয়েছিলাম যারা মন্দ কাজ থেকে বারণ করতো। আর কঠিন আযাব দিয়ে পাকড়াও করেছিলাম তাদেরকে যারা যুলুম করেছিল এবং ফাসেকিতে লিপ্ত ছিলো।
অতঃপর যখন তারা সেসব বিষয় ভুলে গেল, যা তাদেরকে বোঝানো হয়েছিল, তখন আমি সেসব লোককে মুক্তি দান করলাম যারা মন্দ কাজ থেকে বারণ করত। আর পাকড়াও করলাম, গোনাহগারদেরকে নিকৃষ্ট আযাবের মাধ্যমে তাদের না - ফরমানীর দরুন।
فلما نسوا ما ذكروا به أنجينا الذين ينهون عن السوء وأخذنا الذين ظلموا بعذاب بئيس بما كانوا يفسقون
ফালাম্মা- না-সূ মা- যুক্কিরূ বিহী য় আন্জ্বাইনাল্লাযীনা ইয়ান্হাওনা-'আনিস্ সূ - য়ি আখায্নাল্লাযীনা জোয়ালামূ বি'আযা-বিম্ বায়ীসিম্ বিমা-কা-নূ ইয়াফ্সুকুন্।
তারপর তারা তখন ঔদ্ধত্যের সাথে নিষেধ করা কাজ করতে শুরু করেছিল, তখন আমরা তাদের বলেছিলাম: ‘নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও।’
তারপর যখন তারা এগিয়ে যেতে লাগল সে কর্মে যা থেকে তাদের বারণ করা হয়েছিল, তখন আমি নির্দেশ দিলাম যে, তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।
فلما عتوا عن ما نهوا عنه قلنا لهم كونوا قردة خاسئين
ফাল্লাম্মা-'আতাও 'আম্মা-নুহূ 'আন্হু কুল্না-লাহুম্ কূনূ ক্বিরাদাতান্ খা-সিঈন্।
স্মরণ করো, তোমার প্রভু তাদের বলেছিলেন, তিনি কিয়ামত পর্যন্ত তাদের উপর এমন লোকদের পাঠাবেন, যারা তাদের কঠিন আযাব দিতে থাকবে। তোমার প্রভু অবশ্যি শাস্তি প্রদানে তৎপর এবং অবশ্যি তিনি পরম ক্ষমাশীল দয়াময়ও।
আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন যে, অবশ্যই কেয়ামত দিবস পর্যন্ত ইহুদীদের উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দান করতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা শীঘ্র শাস্তি দানকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।
وإذ تأذن ربك ليبعثن عليهم إلى يوم القيامة من يسومهم سوء العذاب ۗ إن ربك لسريع العقاب ۖ وإنه لغفور رحيم
অইয্ তায়ায্যানা রব্বুকা লাইয়াব্'আছান্না 'আলাইহিম্ ইলা- ইয়াওমিল্ ক্বিয়া-মাতি মাঁই ইয়াসূমুহুম্ সূ - য়াল্ 'আযা-ব্ ইন্না রব্বিকা লাসারী'উল্ 'ইক্ব-বি অইন্নাহূ লাগাফূর্রু রহীম্।
আমরা তাদেরকে বিশ্বময় বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে ছড়িয়ে রেখেছি। তাদের মধ্যে কিছু ভালো লোকও আছে, আবার ভিন্ন রকমও আছে। আমরা তাদের কল্যাণ এবং অকল্যাণ দুটো দিয়েই পরীক্ষা করেছি, যাতে করে তারা (মন্দ কাজ থেকে) ফিরে আসে।
আর আমি তাদেরকে বিভক্ত করে দিয়েছি দেশময় বিভিন্ন শ্রেনীতে, তাদের মধ্যে কিছু রয়েছে ভাল আর কিছু রয়েছে অন্য রকম! তাছাড়া আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি ভাল ও মন্দের মাধ্যমে যাতে তারা ফিরে আসে।
وقطعناهم في الأرض أمما ۖ منهم الصالحون ومنهم دون ذلك ۖ وبلوناهم بالحسنات والسيئات لعلهم يرجعون
অক্বত্ত্বোয়া'না-হুম্ ফিল্ র্আদ্বি উমামান মিন্ হুমুছ্ ছোয়া-লিহূনা অমিনহুম্ দূনা যা-লিকা অবালাওনা-হুম্ বিল্হাসানা-তি অস্সাইয়্যিয়া- তি লা'আল্লাহুম্ ইর্য়াজ্বি'ঊন্।
এরপর অযোগ্য উত্তরসূরীরা একের পর এক তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কিতাবের ওয়ারিশ হয়। তারা (কিতাবের বিনিময়ে) তুচ্ছ দুনিয়ার সামগ্রী গ্রহণ করে এবং বলে, আমাদের ক্ষমা করা হবে। কিন্তু পরক্ষণে অনুরূপ সামগ্রী তাদের সামনে এলেই তারা তা আবার গ্রহণ করে। তাদের কাছ থেকে কি কিতাবের অংগীকার নেয়া হয়নি যে, তারা সত্য ছাড়া আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলবেনা। কিতাবে যা আছে তারা তো তা পাঠ করেই। যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্যে আখিরাতের ঘরই উত্তম, তোমরা কি অনুধাবন করবেনা ?
তারপর তাদের পেছনে এসেছে কিছু অপদার্থ, যারা উত্তরাধিকারী হয়েছে কিতাবের; তারা নিকৃষ্ট পার্থিব উপকরণ আহরণ করছে এবং বলছে, আমাদের ক্ষমা করে দেয়া হবে। বস্তুতঃ এমনি ধরনের উপকরণ যদি আবারো তাদের সামনে উপস্থিত হয়, তবে তাও তুলে নেবে। তাদের কাছথেকে কিতাবে কি অঙ্গীকার নেয়া হয়নি যে, আল্লাহর প্রতি সত্য ছাড়া কিছু বলবে না? অথচ তারা সে সবই পাঠ করেছে, যা তাতে লেখা রয়েছে। বস্তুতঃ আখেরাতের আলয় ভীতদের জন্য উত্তম - তোমরা কি তা বোঝ না ?
فخلف من بعدهم خلف ورثوا الكتاب يأخذون عرض هذا الأدنى ويقولون سيغفر لنا وإن يأتهم عرض مثله يأخذوه ۚ ألم يؤخذ عليهم ميثاق الكتاب أن لا يقولوا على الله إلا الحق ودرسوا ما فيه ۗ والدار الآخرة خير للذين يتقون ۗ أفلا تعقلون
ফাখালাফা মিম্ বা'দ্বিহিম্ খাল্ফুঁও অরিছুল্ কিতা-বা ইয়াখুযূনা 'আরাদ্বোয়া হা-যাল্ আদ্না-অইয়াকুলূনা সাইয়ুগ্ফারু লানা -অইঁ ইয়াতিহিম্ 'আরাদ্বুম্ মিছ্লুহূ ইয়া”খুযূহ আলাম্ ইয়ু”খায্ 'আলাইহিম্ মীছাকুল্ কিতা-বি আল্লা-ইয়াকুলূ 'আলাল্লা-হি ইল্লাল্ হাকক্বা অদারাসূ মা-ফীহ্ অদ্দা-রুল্ আ-খিরাতু খইরুল্ লিল্লাযীনা ইয়াত্তাকুন্ আফালা-তা'ক্বিলূন্।
যারা কিতাবকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরবে এবং কায়েম করবে, আমরা এসব পুন্যবানদের কর্মফল বিনষ্ট করিনা।
আর যেসব লোক সুদৃঢ়ভাবে কিতাবকে আঁকড়ে থাকে এবং প্রতিষ্ঠা করে নিশ্চয়ই আমি বিনষ্ট করব না সৎকর্মীদের সওয়াব।
والذين يمسكون بالكتاب وأقاموا الصلاة إنا لا نضيع أجر المصلحين
অল্লাযীনা ইয়ুমাস্সিকূনা বিল্কিতা-বি অ আক্ব-মুছ্ ছলা-হ ইন্না-লা-নুদ্বীউ' আজরাল্ মুছ্লিহীন্।
স্মরণ করো, আমরা তাদের উপর পর্বত তুলে ধরেছিলাম, সেটা ছিলো যেনো একটি ছাতা। তারা মনে করছিল, সেটি তাদের উপর ধপ করে পড়বে। তখন আমরা তাদের বলেছিলাম: আমরা তোমাদের যা (যে কিতাব) দিয়েছি, সেটি মজবুত করে আঁকড়ে ধরো এবং তাতে যা আছে তা চর্চা করো, আশা করা যায় তোমরা তাকওয়াবান হবে।
আর যখন আমি তুলে ধরলাম পাহাড়কে তাদের উপরে সামিয়ানার মত এবং তারা ভয় করতে লাগল যে, সেটি তাদের উপর পড়বে, তখন আমি বললাম, ধর, যা আমি তোমাদের দিয়েছি, দৃঢ়ভাবে এবং স্মরণ রেখো যা তাতে রয়েছে, যেন তোমরা বাঁচতে পার।
۞ وإذ نتقنا الجبل فوقهم كأنه ظلة وظنوا أنه واقع بهم خذوا ما آتيناكم بقوة واذكروا ما فيه لعلكم تتقون
অইয্ নাতাকনাল্ জ্বাবালা ফাওক্বহুম্ কাআন্নাহূ জুল্লাতুঁও ওয়াজোয়ান্নূ য় আন্নাহূ অ কি'উম্ বিহিম্ খুযূ মা য় আ-তাইনা-কুম্ বিকুও অতিঁও অয্কুরূ মা-ফীহি লা'আল্লাকুম্ তাত্তাকুন্।
স্মরণ করো, তোমার প্রভু বনি আদমের পিঠ থেকে তাদের বংশধরদের বের করেছিলেন এবং তাদের নিজেদের উপর নিজেদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেছিলেন: ‘আমি কি তোমাদের রব নই?’ তারা বলেছিল: ‘হাঁ অবশ্যি, আমরা সাক্ষী থাকলাম।’ এটা এজন্যে করেছিলাম যেনো কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পারো যে ‘আমরা এ বিষয়ে গাফিল ছিলাম।’
আর যখন তোমার পালনকর্তা বনী আদমের পৃষ্টদেশ থেকে বের করলেন তাদের সন্তানদেরকে এবং নিজের উপর তাদেরকে প্রতিজ্ঞা করালেন, আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই ? তারা বলল, অবশ্যই, আমরা অঙ্গীকার করছি। আবার না কেয়ামতের দিন বলতে শুরু কর যে, এ বিষয়টি আমাদের ছিল না।
وإذ أخذ ربك من بني آدم من ظهورهم ذريتهم وأشهدهم على أنفسهم ألست بربكم ۖ قالوا بلى ۛ شهدنا ۛ أن تقولوا يوم القيامة إنا كنا عن هذا غافلين
অইয্ আখাযা রব্বুকা মিম্ বানী য় আ-দামা মিন্ জুহূরিহিম্ র্যুরিয়্যাতাহুম্ অআশ্হাদাহুম্ 'আলা য় আন্ফুসিহিম্ আলাস্তু বিরব্বিকুম ক্ব-লূ বালা- শাহিদ্না-আন্ তাকুলূ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি ইন্না-কুন্না-'আন্ হা-যা- গ-ফিলীন্।
কিংবা যেনো একথা বলতে না পারো যে: ‘আমাদের পূর্ব পুরুষরাই তো আমাদের আগে শিরক করেছে, আমরা তো ছিলাম তাদের পরবর্তী বংশধর। তুমি কি বাতিল পথ অবলম্বনকারীদের জন্যে আমাদের হালাক করবে?’
অথবা বলতে শুরু কর যে, অংশীদারিত্বের প্রথা তো আমাদের বাপ - দাদারা উদ্ভাবন করেছিল আমাদের পূর্বেই। আর আমরা হলাম তাদের পশ্চাৎবর্তী সন্তান - সন্ততি। তাহলে কি সে কর্মের জন্য আমাদেরকে ধ্বংস করবেন, যা পথভ্রষ্টরা করেছে?
أو تقولوا إنما أشرك آباؤنا من قبل وكنا ذرية من بعدهم ۖ أفتهلكنا بما فعل المبطلون
আও তাকুলূ য় ইন্নামা য় আশ্রাকা আ-বা - য়ুনা-মিন্ ক্বাব্লু অকুন্না- যুররিয়্যাতাম্ মিম্ বা'দিহিম্ আফাতুহ্লিকুনা-বিমা-ফা'আলাল্ মুব্ত্বিলূন্।
এভাবেই আমরা বিশদভাবে বর্ণনা করি আমাদের আয়াত, যাতে করে তারা (হিদায়াতের পথে) ফিরে আসে।
বস্তুতঃ এভাবে আমি বিষয়সমূহ সবিস্তারে বর্ণনা করি, যাতে তারা ফিরে আসে।
وكذلك نفصل الآيات ولعلهم يرجعون
অকাযা-লিকা নুফাছ্ছিলুল্ আ-ইয়া-তি অলা'আল্লাহুম্ ইয়ারজ্বিঊ'ন।
তাদের প্রতি তিলাওয়াত করো ঐ ব্যক্তির সংবাদ যাকে আমরা দিয়েছিলাম আমাদের আয়াত। কিন্তু সে তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং শয়তান তার পেছনে লাগে, আর সে হয়ে যায় পথভ্রষ্টদের একজন।
আর আপনি তাদেরকে শুনিয়ে দিন, সে লোকের অবস্থা, যাকে আমি নিজের নিদর্শনসমূহ দান করেছিলাম, অথচ সে তা পরিহার করে বেরিয়ে গেছে। আর তার পেছনে লেগেছে শয়তান, ফলে সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়েছে।
واتل عليهم نبأ الذي آتيناه آياتنا فانسلخ منها فأتبعه الشيطان فكان من الغاوين
অত্লু 'আলাইহিম্ নাবায়াল্লাযী য় আ-তাইনা-হু আ-ইয়া-তিনা-ফান্সালাখা মিন্হা-ফাআত্বা'আহুশ্ শাইত্বোয়া-নু ফাকা-না মিনাল্ গা-ওয়ীন্।
আমরা চাইলে এ (কিতাব) দিয়ে তাকে অনেক উপরে উঠাতে পারতাম, কিন্তু সে জমিনকে আঁকড়ে ধরে থাকলো এবং অনুসরণ করলো নিজের কামনা বাসনার। ফলে তার উপমা হলো কুকুর, যার উপর বোঝা চাপালেও সে জিহ্বা বের করে হাঁপায়, আর বোঝা না চাপালেও জিহ্বা বের করে হাঁপায়। এটা হলো ঐ লোকদের উপমা, যারা প্রত্যাখ্যান করে আমাদের আয়াত। তুমি এই কাহিনীটি তাদের শুনাও যাতে করে তারা চিন্তাভাবনা করে।
অবশ্য আমি ইচ্ছা করলে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিতাম সে সকল নিদর্শনসমূহের দৌলতে। কিন্তু সে যে অধঃপতিত এবং নিজের রিপুর অনুগামী হয়ে রইল। সুতরাং তার অবস্থা হল কুকুরের মত; যদি তাকে তাড়া কর তবুও হাঁপাবে আর যদি ছেড়ে দাও তবুও হাঁপাবে। এ হল সেসব লোকের উদাহরণ; যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার নিদর্শনসমূহকে। অতএব, আপনি বিবৃত করুন এসব কাহিনী, যাতে তারা চিন্তা করে।
ولو شئنا لرفعناه بها ولكنه أخلد إلى الأرض واتبع هواه ۚ فمثله كمثل الكلب إن تحمل عليه يلهث أو تتركه يلهث ۚ ذلك مثل القوم الذين كذبوا بآياتنا ۚ فاقصص القصص لعلهم يتفكرون
অলাও শিনা লারাফা'না-হু বিহা-অলা-কিন্নাহূ য় আখ্লাদা ইলাল্ আরদ্বি অত্তাবা'আ হাওয়া-হু ফামাছালুহূ কামাছালিল্ কাল্বি ইন্ তাহ্মিল্ 'আলাইহি ইয়াল্হাছ্ আও তাত্রুক্হু ইয়াল্হাছ্ যা-লিকা মাছালুল্ ক্বাওমিল্লাযীনা কাযযাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-ফাক্ছুছিল্ ক্বাছোয়াছোয়া লা'আল্লাহুম্ ইয়াতাফাক্কারূন্।
ঐ লোকদের উপমা যে কতো নিকৃষ্ট যারা প্রত্যাখ্যান করে আমাদের আয়াত এবং যুলুম করে তাদের নিজেদের প্রতি!
তাদের উদাহরণ অতি নিকৃষ্ট, যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার আয়াত সমূহকে এবং তারা নিজেদেরই ক্ষতি সাধন করেছে।
ساء مثلا القوم الذين كذبوا بآياتنا وأنفسهم كانوا يظلمون
সা - য়া মাছালা-নিল্ ক্বাওমুল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-অআন্ফুসাহুম্ কা-নূ ইয়াজ্লিমূন্।
যাকে সঠিক পথ দেখান, সে - ই পায় সঠিক পথ। আর তিনি যাদের বিপথগামী করেন তারাই আসল ক্ষতিগ্রস্ত।
যাকে পথ দেখাবেন, সেই পথপ্রাপ্ত হবে। আর যাকে তিনি পথ ভ্রষ্ট করবেন, সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
من يهد الله فهو المهتدي ۖ ومن يضلل فأولئك هم الخاسرون
মাইঁ ইয়াহ্দি ল্লা-হু ফাহুঅল্ মুহ্তাদী অমাঁই ইয়্যুদ্ব্লিল্ ফায়ুলা - য়িকা হুমুল্ খ-সিরূন্।
আমরা জাহান্নামের জন্যেই তৈরি করেছি জিন ও ইনসানের অনেককে। তাদের অন্তর আছে, তবে তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করেনা। তাদের চোখ আছে, তবে তা দিয়ে তারা দেখেনা। তাদের কান আছে, তবে তা দিয়ে তারা শুনেনা। এরা হলো পশুর মতো, বরং তারা আরো অধিক বিভ্রান্ত এবং তারা অচেতন।
আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।
ولقد ذرأنا لجهنم كثيرا من الجن والإنس ۖ لهم قلوب لا يفقهون بها ولهم أعين لا يبصرون بها ولهم آذان لا يسمعون بها ۚ أولئك كالأنعام بل هم أضل ۚ أولئك هم الغافلون
অলাক্বদ্যারা”না-লিজ্বাহান্নামা কাছীরাম্ মিনাল্ জ্বিন্নি অল্ইন্সি লাহুম্ কুলূবুল্ লা-ইয়াফ্ক্বহূনা বিহা-অলাহুম্ আ'ইয়ুনুল্ লা-ইয়ুব্ছিরূনা বিহা- অলাহুম্ আ-যা-নুল্ লা-ইয়াস্মা'ঊনা বিহা- উলা - য়িকা কাল্আন্'আ-মি বাল্ হুম্ আদ্বোয়াল্ উলা - য়িকা হুমুল্ গ-ফিলূন্।
সুন্দরতম নামসমূহ আল্লাহর, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামে ডাকো। যারা তাঁর নাম বিকৃত করে, তাদের ত্যাগ করো। অচিরেই তাদেরকে তাদের কর্মের প্রতিফল দেয়া হবে।
আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই তাঁকে ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর, যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল শীঘ্রই পাবে।
ولله الأسماء الحسنى فادعوه بها ۖ وذروا الذين يلحدون في أسمائه ۚ سيجزون ما كانوا يعملون
অলিল্লা-হিল্ আস্মা - য়ুল্ হুস্না- ফাদ্'ঊহু বিহা-অযারুল্লাযীনা ইয়ুল্হিদূনা ফী য় আস্মা - য়িহ্ সাইয়ুজযাওনা মা- কা-নূ ইয়া'মালূন্।
আমরা যাদের সৃষ্টি করেছি, তাদের মধ্যে এমন লোকেরাও আছে যারা সত্যের ভিত্তিতে (মানুষকে) সঠিক পথ দেখায়, এবং তার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার করে।
আর যাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি, তাদের মধ্যে এমন এক দল রয়েছে যারা সত্য পথ দেখায় এবং সে অনুযায়ী ন্যায়চিার করে।
وممن خلقنا أمة يهدون بالحق وبه يعدلون
অমিম্মান্ খলাকনা য় উম্মাতুঁই ইয়াহ্দূনা বিল্হাকক্বি অবিহী ইয়া'দিলূন্।
যারা প্রত্যাখ্যান করে আমাদের আয়াত, আমরা ক্রমান্বয়ে তাদেরকে এমনভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবো যে, তারা তা জানতেও পারবেনা।
বস্তুতঃ যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার আয়াতসমূহকে, আমি তাদেরকে ক্রমান্বয়ে পাকড়াও করব এমন জায়গা থেকে, যার সম্পর্কে তাদের ধারণাও হবে না।
والذين كذبوا بآياتنا سنستدرجهم من حيث لا يعلمون
অল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা সানাস্তাদ্রিজুহুম্ মিন্ হাইছু লা-ইয়া'লামূন্।
আমি তাদের অবকাশ দেই, জেনে রাখো, আমার কৌশল অত্যন্ত মজবুত।
বস্তুতঃ আমি তাদেরকে ঢিল দিয়ে থাকি। নিঃসন্দেহে আমার কৌশল সুনিপুণ।
وأملي لهم ۚ إن كيدي متين
অউম্লী লাহুম্ ইন্না কাইদী মাতীন্।
তারা কি চিন্তা - ফিকির করে দেখেনা যে, তাদের সাথি (মুহাম্মদ) কোনো উন্মাদ ব্যক্তি নয়। সে তো একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী!
তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, তাদের সঙ্গী লোকটির মস্তিষ্কে কোন বিকৃতি নেই? তিনি তো ভীতি প্রদর্শনকারী প্রকৃষ্টভাবে।
أولم يتفكروا ۗ ما بصاحبهم من جنة ۚ إن هو إلا نذير مبين
আওয়ালাম্ ইয়াতাফাক্কারূ মা-বিছোয়া-হিবিহিম্ মিন্ জ্বিন্নাহ্ ইন্ হুঅ ইল্লা- নাযীরুম্ মুবীন্।
তারা কি নজর করে দেখেনা মহাকাশ ও পৃথিবীর কর্তৃত্বের প্রতি, আল্লাহর সৃষ্টি করা প্রতিটি বস্ত্তর প্রতি এবং এটার প্রতি যে, হয়তো তাদের নির্ধারিত সময়টি নিকটবর্তী হয়েছে! এরপরে আর কোন্ কথাটির প্রতি তারা ঈমান আনবে?
তারা কি প্রত্যক্ষ করেনি আকাশ ও পৃথিবীর রাজ্য সম্পর্কে এবং যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা’আলা বস্তু সামগ্রী থেকে এবং এ ব্যাপারে যে, তাদের সাথে কৃত ওয়াদার সময় নিকটবর্তী হয়ে এসেছে? বস্তুতঃ এরপর কিসের উপর ঈমান আনবে?
أولم ينظروا في ملكوت السماوات والأرض وما خلق الله من شيء وأن عسى أن يكون قد اقترب أجلهم ۖ فبأي حديث بعده يؤمنون
আওয়ালাম্ ইয়ান্জুরূ ফী মালাকূতিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি অমা-খলাক্বাল্লা-হু মিন্ শাইয়িঁও অআন্ 'আসা য় আঁই ইয়াকূনা ক্বাদিক তারাবা আজ্বালুহুম্ ফাবিআইয়্যি হাদীছিম্ বা'দাহূ ইউমিনূন্।
যাদের বিপথে পরিচালিত করেন, তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করার আর কেউ নেই এবং তিনি তাদেরকে তার অবাধ্যতার মধ্যে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াতে সুযোগ দেন।
যাকে পথভ্রষ্ট করেন। তার কোন পথপ্রদর্শক নেই। আর তাদেরকে তাদের দুষ্টামীতে মত্ত অবস্তায় ছেড়ে দিয়ে রাখেন।
من يضلل الله فلا هادي له ۚ ويذرهم في طغيانهم يعمهون
মাইঁ ইয়ুদ্ব্লিলিল্লা-হু ফালা-হা-দিয়া-লাহ্ অ ইয়াযারুহুম্ ফী ত্ব ুগ্ইয়া-নি হম্ ইয়া'মাহূন্।
তারা তোমার কাছে জানতে চাইছে, কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে কবে? তুমি বলো: ‘এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আমার প্রভুর কাছেই রয়েছে। কেবল তিনিই সময় মতো তা প্রকাশ করবেন। সেটা হবে মহাকাশ এবং পৃথিবীতে একটি ভয়ংকর ঘটনা। সেটা তোমাদের কাছে আসবে একেবারেই আকস্মিক।’ তারা এমনভাবে তোমাকে প্রশ্ন করছে যেনো এ বিষয়ে তুমি জানো। তুমি বলো: এ বিষয়ের জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছে। তবে অধিকাংশ মানুষই জানেনা।
আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কেয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন এর খবর তো আমার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। তিনিই তা অনাবৃত করে দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও যমীনের জন্য সেটি অতি কঠিন বিষয়। যখন তা তোমাদের উপর আসবে অজান্তেই এসে যাবে। আপনাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেন আপনি তার অনুসন্ধানে লেগে আছেন। বলে দিন, এর সংবাদ বিশেষ করে আল্লাহর নিকটই রয়েছে। কিন্তু তা অধিকাংশ লোকই উপলব্ধি করে না।
يسألونك عن الساعة أيان مرساها ۖ قل إنما علمها عند ربي ۖ لا يجليها لوقتها إلا هو ۚ ثقلت في السماوات والأرض ۚ لا تأتيكم إلا بغتة ۗ يسألونك كأنك حفي عنها ۖ قل إنما علمها عند الله ولكن أكثر الناس لا يعلمون
ইয়াস্য়ালূনাকা 'আনিস্ সা-আ'তি আইইয়া-না র্মুসা-হা- কুল্ ইন্নামা- 'ইলমুহা-'ইন্দা রব্বী লা-ইউজ্বাল্লীহা- লিওয়াকতিহা য় ইল্লা- হুঅ ছাকুলাত্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ লা-তা”তীকুম্ ইল্লা-বাগ্তাহ্ ইয়াস্য়ালূনাকা কাআন্নাকা হাফিইয়ুন্ 'আন্হা- কুল্ ইন্নামা-'ইল্মুহা-'ইন্দাল্লা-হি অলা-কিন্না আক্ছারান্ না-সি লা-ইয়া'লামূন্।
বলো: ‘আমার নিজের ভালো মন্দের ব্যাপারেও আমার কোনো হাত নেই, তবে যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। আমি যদি জানতামই, তবে তো বেশি বেশি আমার নিজের কল্যাণ করতাম এবং কোনো অনিষ্টই আমাকে স্পর্শ করতোনা। আমি তো লোকদের জন্যে সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা ছাড়া আর কিছুই নই।’
আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য।
قل لا أملك لنفسي نفعا ولا ضرا إلا ما شاء الله ۚ ولو كنت أعلم الغيب لاستكثرت من الخير وما مسني السوء ۚ إن أنا إلا نذير وبشير لقوم يؤمنون
কুল্ লা য় আম্লিকু লিনাফ্সী নাফ্'আঁও অলা-দ্বোর্য়ারান্ ইল্লা-মা-শা - য়াল্লা-হ্ অলাও কুন্তু আ'লামুল্ গইবা লাস্তার্ক্ছাতু মিনাল্ খার্ই অমা- মাস্সানিয়াস্ সূ - য়ু ইন্ আনা-ইল্লা-নাযীরুঁও অবাশীরুল্ লিক্বওমিইঁ ইয়ুমিনূন্।
তিনি তোমাদের একজন মাত্র ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে যেনো সে তার কাছে শান্তি পায়। অতপর যখন সে তাকে ঝাপটে ধরে (সংগম করে) তখন সে হালকা গর্ভধারণ করে এবং তা নিয়েই চলা ফেরা করে। গর্ভ যখন ভারি হয়, তখন দুজনেই তাদের প্রভুর কাছে দোয়া করে: প্রভু! যদি আমাদেরকে একটি সালেহ্ (সৎ ও যোগ্য) সন্তান দান করো, তাহলে অবশ্যি আমরা শোকরগুজার হয়ে থাকবো।
তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্তা থেকে; আর তার থেকেই তৈরী করেছেন তার জোড়া, যাতে তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে। অতঃপর পুরুষ যখন নারীকে আবৃত করল, তখন, সে গর্ভবতী হল। অতি হালকা গর্ভ। সে তাই নিয়ে চলাফেরা করতে থাকল। তারপর যখন বোঝা হয়ে গেল, তখন উভয়েই আল্লাহকে ডাকল যিনি তাদের পালনকর্তা যে, তুমি যদি আমাদিগকে সুস্থ ও ভাল দান কর তবে আমরা তোমার শুকরিয়া আদায় করব।
۞ هو الذي خلقكم من نفس واحدة وجعل منها زوجها ليسكن إليها ۖ فلما تغشاها حملت حملا خفيفا فمرت به ۖ فلما أثقلت دعوا الله ربهما لئن آتيتنا صالحا لنكونن من الشاكرين
হুঅ ল্লাযী খালাক্বাকুম্ মিন্ নাফ্সিঁও ওয়া- হিদাতিঁও অজা'আলা মিন্হা- যাওজ্বাহা- লিইয়াস্কুনা ইলাইহা-ফালাম্মা- তাগাশ্শা-হা-হামালাত্ হাম্লান্ খাফীফান্ ফার্মারাত বিহী ফালাম্মা য় আছ্ক্বলাদ্ দা'আঅল্লা-হা রব্বাহুমা- লায়িন্ আ-তাইতানা-ছোয়া-লিহাল্ লানাকূনান্না মিনশ্ শা -কিরীন্।
তারপর তিনি যখন তাদের যোগ্য সন্তান দান করেন, তারা তাদেরকে যা দেয়া হয় সে সম্পর্কে আল্লাহর সাথে শরিক করে। কিন্তু তারা আল্লাহর সাথে যাদের শরিক করে, তিনি তাদের চাইতে অনেক উর্ধ্বে।
অতঃপর তাদেরকে যখন সুস্থ ও ভাল দান করা হল, তখন দানকৃত বিষয়ে তার অংশীদার তৈরী করতে লাগল। বস্তুতঃ তাদের শরীক সাব্যস্ত করা থেকে বহু উর্ধে।
فلما آتاهما صالحا جعلا له شركاء فيما آتاهما ۚ فتعالى الله عما يشركون
ফালাম্মা য় আ-তা-হুমা-। ছোয়া-লিহান্ জ্বা'আলা- লাহূ শুরাকা - য়া ফীমা য় আ-তা-হুমা-ফাতা'আলাল্লা-হু 'আম্মা-ইয়ুশ্রিকূন্।
তারা কি আল্লাহর সাথে এমন বস্ত্তকে শরিক করে যারা কিছু সৃষ্টি করেনা, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট?
তারা কি এমন কাউকে শরীক সাব্যস্ত করে, যে একটি বস্তুও সৃষ্টি করেনি, বরং তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
أيشركون ما لا يخلق شيئا وهم يخلقون
আইয়ুশ্রিকূনা মা-লা- ইয়াখ্লুকু শাইয়াঁও অহুম্ ইয়ুখ্লাকুন্।
তারা না তাদেরকে সাহায্য করতে পারে, আর না নিজেদেরকে সাহায্য করতে পারে।
আর তারা, না তাদের সাহায্য করতে পারে, না নিজের সাহায্য করতে পারে।
ولا يستطيعون لهم نصرا ولا أنفسهم ينصرون
অলা-ইয়াস্তাত্বীঊ'না লাহুম্ নাছ্রাঁও অলা য় আন্ফুসাহুম্ ইয়ান্ছুরূন্।
তোমরা তাদেরকে হিদায়াতের দিকে দাওয়াত দিলে তারা তোমাদের অনুসরণ করেনা। আসলে তাদের দাওয়াত দাও, আর না দিয়ে চুপ থাকো, দুটোই সমান।
আর তোমরা যদি তাদেরকে আহবান কর সুপথের দিকে, তবে তারা তোমাদের আহবান অনুযায়ী চলবে না। তাদেরকে আহবান জানানো কিংবা নীরব থাকা উভয়টিই তোমাদের জন্য সমান।
وإن تدعوهم إلى الهدى لا يتبعوكم ۚ سواء عليكم أدعوتموهم أم أنتم صامتون
অইন্ তাদ্'ঊহুম্ ইলাল্ হুদা- লা ইয়াত্তাবি'ঊকুম্ সাত্তয়া - য়ুন্ 'আলাইকুম্ আদ্'আওতুমূহুম আম্ আন্তুম্ ছোয়া-মিতূন্।
তোমরা ছাড়া যাদেরকে ডাকো তারা তো তোমাদের মতোই (আল্লাহর) দাস। সুতরাং তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো তাহলে তাদের ডাকো আর তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দিক তো!
আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা সবাই তোমাদের মতই বান্দা। অতএব, তোমরা যাদেরকে ডাক, তখন তাদের পক্ষেও তো তোমাদের সে ডাক কবুল করা উচিত যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক?
إن الذين تدعون من دون الله عباد أمثالكم ۖ فادعوهم فليستجيبوا لكم إن كنتم صادقين
ইন্না ল্লাযীনা তাদ্'ঊনা মিন্ দূনিল্লা-হি 'ইবা-দুন্ আম্ছা-লুকুম্ ফাদ্'ঊহুম্ ফাল্ ইয়াস্তাজ্বীবূ লাকুম্ ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।
তাদের কি পা আছে, যা দিয়ে তারা চলে? নাকি তাদের হাত আছে, যা দিয়ে তারা ধরে? কিংবা তাদের কি চোখ আছে যা দিয়ে তারা দেখে? আর নাকি তাদের কান আছে যা দিয়ে তারা শুনে? বলো: ‘‘তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরিকদার বানিয়েছো তাদের ডাকো, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো এবং আমাকে অবকাশ দিয়োনা।
তাদের কি পা আছে, যদ্বারা তারা চলাফেরা করে, কিংবা তাদের কি হাত আছে, যদ্বারা তারা ধরে। অথবা তাদের কি চোখ আছে যদ্বারা তারা দেখতে পায় কিংবা তাদের কি কান আছে যদ্বারা শুনতে পায়? বলে দাও, তোমরা ডাক তোমাদের অংশীদারদিগকে, অতঃপর আমার অমঙ্গল কর এবং আমাকে অবকাশ দিও না।
ألهم أرجل يمشون بها ۖ أم لهم أيد يبطشون بها ۖ أم لهم أعين يبصرون بها ۖ أم لهم آذان يسمعون بها ۗ قل ادعوا شركاءكم ثم كيدون فلا تنظرون
আলাহুম্ র্আজুলুঁই ইয়াম্শূনা বিহা য় আম্ লাহুম্ আইদিঁই ইয়াব্ত্বিশূনা বিহা য় আম্ লাহুম্ আ'ইয়ুনুঁই ইয়ুব্ছিরূনা বিহা য় আম্ লাহুম্ আ -যা-নুঁই ইয়াস্মা'ঊনা বিহা- কুলিদ্'ঊ শুরাকা - য়াকুম্ ছুম্মা কীদূনি ফালা-তুন্জিরূন্।
জেনে রাখো, আমার অলি হলেন , যিনি কিতাব নাযিল করেছেন আর তিনি তো কেবল পুণ্যবানদের অলি হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেন।’’
আমার সহায় তো হলেন , যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। বস্তুত; তিনিই সাহায্য করেন সৎকর্মশীল বান্দাদের।
إن وليي الله الذي نزل الكتاب ۖ وهو يتولى الصالحين
ইন্না অলিয়্যিয়া ল্লা-হু ল্লাযী নায্যালাল্ কিতা-বা অহুঅ ইয়াতাওয়াল্লাছ্ ছোয়া-লিহীন্।
তোমরা ছাড়া যাদের ডাকো, তারা তোমাদের সাহায্য করার সামর্থ রাখেনা, এমনকি তারা নিজেদেরকেও নিজেরা সাহায্য করতে পারেনা।
আর তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাক তারা না তোমাদের কোন সাহায্য করতে পারবে, না নিজেদের আত্নরক্ষা করতে পারবে।
والذين تدعون من دونه لا يستطيعون نصركم ولا أنفسهم ينصرون
অল্লাযীনা তাদ্'ঊনা মিন্ দূনিহী লা- ইয়াস্তাত্বী'ঊনা নাছ্রাকুম্ অলা য় আন্ফুসাহুম্ ইয়ান্ছুরূন্।
তুমি যদি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে আহবান করো, তারা কিছুই শুনবেনা। তুমি দেখবে তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, অথচ তারা কিছুই দেখেনা।
আর তুমি যদি তাদেরকে সুপথে আহবান কর, তবে তারা তা কিছুই শুনবে না। আর তুমি তো তাদের দেখছই, তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, অথচ তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না।
وإن تدعوهم إلى الهدى لا يسمعوا ۖ وتراهم ينظرون إليك وهم لا يبصرون
অইন্ তাদ্'ঊহুম্ ইলাল্ হুদা-লা-ইয়াস্মা'ঊ অতা-রাহুম্ ইয়ান্জুরূনা ইলাইকা অহুম্ লা- ইয়ুব্ছিরূন্।
ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করো, উত্তম কাজের আদেশ দাও এবং যালিমদের উপেক্ষা করে চলো।
আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খ জাহেলদের থেকে দূরে সরে থাক।
خذ العفو وأمر بالعرف وأعرض عن الجاهلين
খুযিল্ 'আফ্ওয়া ওয়া”র্মু বিল্'র্উফি অ'আরিদ্ব্ 'আনিল্ জ্বা-হিলীন্।
যদি শয়তানের কোনো কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি সব শুনেন, সব জানেন।
আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর শরণাপন্ন হও তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।
وإما ينزغنك من الشيطان نزغ فاستعذ بالله ۚ إنه سميع عليم
অইম্মা-ইয়ান্যাগান্নাকা মিনাশ্ শাইত্বোয়া-নি নায্গুন্ ফাস্তাই'য্ বিল্লা-হ্ইন্নাহূ সামী'ঊন্ 'আলীম্।
তাকওয়া (সতর্কতা) অবলম্বনকারী লোকদের শয়তান যখন কুমন্ত্রণা দেয়, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং সাথে সাথে তাদের চোখ খুলে যায়।
যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের উপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে সাথেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে উঠে।
إن الذين اتقوا إذا مسهم طائف من الشيطان تذكروا فإذا هم مبصرون
ইন্নাল্লাযীনাত্ তাক্বাও ইযা-মাস্সাহুম্ ত্বোয়া - য়িফুম্ মিনাশ্ শাইত্বো-নি তাযাক্কারূ ফাইযা-হুম্ মুব্ছিরূন্।
অথচ তাদের সংগি সাথিরা তাদের টেনে নেয় বিপথগামীতার দিকে এবং তারা কোনো প্রকার কসুর করেনা।
পক্ষান্তরে যারা শয়তানের ভাই, তাদেরকে সে ক্রমাগত পথভ্রষ্ট তার দিকে নিয়ে যায় অতঃপর তাতে কোন কমতি করে না।
وإخوانهم يمدونهم في الغي ثم لا يقصرون
অইখওয়া-নুহুম্ ইয়ামুদ্দূনাহুম্ ফিল্ গইয়্যি ছুম্মা লা- ইয়ুকছিরূন্।
তুমি যখন তাদের সামনে কোনো নিদর্শন পেশ করছোনা, তখন তারা বলে, তুমি নিজেই কেন একটি নিদর্শন বাছাই করে নিচ্ছনা? তুমি বলো: আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রভুর পক্ষ থেকে আমাকে অহি করা হয়। এই (কুরআন) তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে একটি অন্তরদৃষ্টির আলো, একটি হিদায়াত এবং একটি রহমত লোকদের জন্যে।
আর যখন আপনি তাদের নিকট কোন নিদর্শন নিয়ে না যান, তখন তারা বলে, আপনি নিজের পক্ষ থেকে কেন অমুকটি নিয়ে আসলেন না, তখন আপনি বলে দিন, আমি তো সে মতেই চলি যে হুকুম আমার নিকট আসে আমার পরওয়ারদেগারের কাছ থেকে। এটা ভাববার বিষয় তোমাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এবং হেদায়েত ও রহমত সেসব লোকের জন্য যারা ঈমান এনেছে।
وإذا لم تأتهم بآية قالوا لولا اجتبيتها ۚ قل إنما أتبع ما يوحى إلي من ربي ۚ هذا بصائر من ربكم وهدى ورحمة لقوم يؤمنون
অইযা-লাম্ তা”তিহিম্ বিআ-ইয়াতিন্ ক্ব-লূ লাওলাজতাবাইতাহা- কুল্ ইন্নামা য় আত্তাবিউ' মা-ইয়ূহা য় ইলাইয়্যা র্মি রব্বী হা-যা-বাছোয়া - য়িরু র্মি রব্বিকুম্ অহুদাঁও অ রহ্মাতুল্ লিকওমিঁই ইয়ু”মিনূন্।
যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তার দিকে মনোযোগ আরোপ করে শুনো এবং নীরবতা অবলম্বন করো, যাতে করে তোমরা রহমত প্রাপ্ত হও।
আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়।
وإذا قرئ القرآن فاستمعوا له وأنصتوا لعلكم ترحمون
অইযা-কুরিয়াল্ ক্বর্আ-নু ফাস্তামি'ঊ লাহূ অ 'আন্ছিতূ লা'আল্লাকুম্ র্তুহামূন্।
তোমার প্রভুকে স্মরণ করো মনে মনে, বিনয়ের সাথে, অন্তরে ভয় নিয়ে, অনুচ্চ স্বরে, সকালে এবং সন্ধ্যায়। আর তুমি (এ ব্যাপারে) উদাসীনদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।
আর স্মরণ করতে থাক স্বীয় পালনকর্তাকে আপন মনে ক্রন্দনরত ও ভীত - সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং এমন স্বরে যা চিৎকার করে বলা অপেক্ষা কম; সকালে ও সন্ধ্যায়। আর বে - খবর থেকো না।
واذكر ربك في نفسك تضرعا وخيفة ودون الجهر من القول بالغدو والآصال ولا تكن من الغافلين
অর্য্কু রব্বাকা ফী নাফ্সিকা তাদ্বোর্য়ারুআঁও অখীফাতাঁও অদূনাল্ জ্বাহ্রি মিনাল্ ক্বওলি বিল্গুদুওয়্যি অল্ আ-ছোয়া-লি অলা-তাকুম্ মিনাল্ গ-ফিলীন্।
তোমার প্রভুর কাছাকাছি যারা রয়েছে তারা তাঁর আনুগত্য ও দাসত্ব করার ব্যাপারে কোনো প্রকার অহংকার করেনা। তারা তাঁর তসবিহ্ করে এবং তাঁরই জন্যে সাজদা - অবনত থাকে।
নিশ্চয়ই যারা তোমার পরওয়ারদেগারের সান্নিধ্যে রয়েছেন, তারা তাঁর বন্দেগীর ব্যাপারে অহঙ্কার করেন না এবং স্মরণ করেন তাঁর পবিত্র সত্তাকে; আর তাঁকেই সেজদা করেন।
إن الذين عند ربك لا يستكبرون عن عبادته ويسبحونه وله يسجدون ۩
ইন্নাল্লাযীনা 'ইন্দা রব্বিকা লা-ইয়াস্তাক্বিরূনা 'আন্ 'ইবা-দাতিহী অইয়ুসাব্বিহূনাহূ অলাহূ ইয়াস্জুদূন্।