Kitab

আল হজ্জ

Chapter 22, 78 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • মুহিউদ্দীন খান
  • বাংলা উচ্চারণ
About this chapter


মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৭৮, রুকু সংখ্যা: ১০

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-১০কিয়ামতের ভয়াবহতা। পুনরুত্থানের বিষয়ে সন্দেহ পোষণকারীদের জন্য মানুষ সৃষ্টি ও পানির সাহায্যে শুকনো ভূমি থেকে উদ্ভিদ উৎপন্নের উপমা। পুনরুত্থানে বিতর্ককারীদের কাছে কোনো যুক্তিও নাই প্রমাণও নাই। ১১-২২যারা সীমানায় অবস্থান করে আল্লাহর ইবাদত করে তারা দুনিয়া ও আখিরাত দুটোই হারায়। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ সব ধর্ম বিশ্বাসীদের মাঝে ফায়সালা করবেন। মহাবিশ্বের সবকিছু আল্লাহকে সাজদা করে, কিন্তু সব মানুষ আল্লাহকে সাজদা করেনা। তারা জাহান্নামী। ২৩-২৫তবে যারা ঈমান আনে ও আমলে সালেহ্ করে, তারা জান্নাতে যাবে। যারা কুফুরি করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব। ২৬-৩৮কাবা নির্মাণ ও হজ্জের সূচনার ইতিহাস। কুরবানির বিধান। ৩৯-৪১আল্লাহর রসূলকে যুদ্ধের অনুমতি প্রদান। ইসলামি রাষ্ট্রের কার্যক্রম। ৪২-৭২সব নবীকেই তাদের জাতির লোকেরা প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে আল্লাহ্ তাদের পাকড়াও করেছিলেন। রসূল একজন সতর্ককারী। আল্লাহর পথে হিজরত ও শাহাদাতের মর্যাদা। আল্লাহ্ মহাবিশ্বের মালিক ও পরিচালক। আল্লাহ্ প্রত্যেক উম্মতকে ইবাদতের পদ্ধতি দিয়েছেন। মুশরিকরা কুরআনের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৭৩-৭৮আল্লাহর সাথে যাদেরকে শরিক করা হয় তারা সম্পূর্ণ অক্ষম। মুমিনদের প্রতি উপদেশ।
আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! তোমরা ভয় করো তোমাদের প্রভুকে। কিয়ামতের ভূ - কম্পন হবে এক ভয়ংকর ব্যাপার!

মুহিউদ্দীন খান

হে লোক সকল! তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। নিশ্চয় কেয়ামতের প্রকম্পন একটি ভয়ংকর ব্যাপার।

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ইয়া য় আইয়্যুহান্না-সুত্তাকু রব্বাকুম্ ইন্না যাল্যালাতাস্ সা-'আতি শাইয়্যুন্ 'আজীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক বুকের দুধ খাওয়ানো (মা) ভুলে যাবে তার দুগ্ধপায়ী সন্তানকে। প্রত্যেক গর্ভবতী প্রসব করে দেবে তার গর্ভের বোঝা। তুমি মানুষদের দেখবে মাতাল, অথচ তারা নেশাগ্রস্ত নয়, বরং আল্লাহর আযাবই হবে এমন ভয়ানক কঠোর।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যধাত্রী তার দুধের শিশুকে বিস্মৃত হবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করবে এবং মানুষকে তুমি দেখবে মাতাল; অথচ তারা মাতাল নয় বস্তুতঃ আল্লাহর আযাব সুকঠিন।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াওমা তারওনাহা- তায্হালু কুল্লু র্মুদ্বি'আতিন্ 'আম্মা য় র্আদ্বোয়া'আত্ অ তাদ্বোয়া'ঊ কুল্লু যা-তি হাম্লিন্ হাম্লাহা- অ তারন্না-সা সুকার-অমা-হুম্ বিসুকা-র-অলা-কিন্না 'আযা-বা ল্লা-হি শাদীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিছু লোক আছে এলেম ছাড়াই আল্লাহর ব্যাপারে বিতর্ক করে এবং অনুসরণ করে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের।

মুহিউদ্দীন খান

কতক মানুষ অজ্ঞানতাবশতঃ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে।

বাংলা উচ্চারণ

অ মিনান্ না-সি মাইঁ ইয়ুজ্বা-দিলু ফীল্লা-হি বিগইরি 'ইল্মিওঁ অইয়াত্তাবি'উ কুল্লা শাইত্বোয়া-নিম্ মারীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার সম্পর্কে লিখে দেয়া হয়েছে যে, তার সাথে যে কেউ বন্ধুত্ব করবে, সে অবশ্যি তাকে গোমরাহ করে ছাড়বে এবং পরিচালিত করবে জ্বলন্ত আগুনের আযাবের দিকে।

মুহিউদ্দীন খান

শয়তান সম্পর্কে লিখে দেয়া হয়েছে যে, যে কেউ তার সাথী হবে, সে তাকে বিভ্রান্ত করবে এবং দোযখের আযাবের দিকে পরিচালিত করবে।

বাংলা উচ্চারণ

কুতিবা 'আলাইহি আন্নাহূ মান্ তাওয়াল্লা-হু ফাআন্নাহূ ইয়ুদ্বিল্লুহূ অ ইয়াহ্দীহি ইলা-'আযা-বিস্ সা'র্ঈ।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! তোমরা যদি পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দেহের মধ্যে থাকো, তবে ভেবে দেখো, আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে, তারপর নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে, তারপর আলাকা (শক্তভাবে আঁটকে থাকা পিন্ড) থেকে, তারপর পূর্ণ আকৃতি অথবা অপূর্ণ আকৃতির গোশত পিন্ড থেকে। তোমাদের কাছে স্পষ্ট করার জন্যে (এ তত্ত্ব পেশ করছি)। আমরা যা ইচ্ছা করি তা মায়ের গর্ভে একটা নিদিষ্ট সময় স্থিত করি। তারপর তোমাদের বের করে আনি শিশু হিসেবে। তারপর তোমরা পৌঁছে যাও পরিণত বয়েসে। তখন তোমাদের কারো ওফাত হয়, আবার তোমাদের কাউকে পৌঁছে দিই দুর্বলতম বয়েসে, যার ফলে তারা যা কিছু জানতো, সে সম্পর্কে আর কিছুই অবগত থাকেনা। তুমি জমিনকে দেখছো শুকনো, তারপর আমরা যখন পানি বর্ষণ করি, তখন তা শস্য - শ্যামল হয় এবং আন্দোলিত হয়, আর তা উৎপন্ন করে সব ধরনের সুদৃশ্য উদ্ভিদ।

মুহিউদ্দীন খান

হে লোকসকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হও, তবে (ভেবে দেখ - ) আমি তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে। আর আমি এক নির্দিষ্ট কালের জন্যে মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই, এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপর যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান থাকে না। তুমি ভূমিকে পতিত দেখতে পাও, অতঃপর আমি যখন তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন তা সতেজ ও স্ফীত হয়ে যায় এবং সর্বপ্রকার সুদৃশ্য উদ্ভিদ উৎপন্ন করে।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহান্না-সু ইন্ কুন্তুম্ ফী রইবিম্ মিনাল্ বাছি ফাইন্না- খলাক্বনা-কুম্ মিন্ তুরা-বিন্ ছুম্মা মিন্ নুত্বফাতিন্ ছুম্মা মিন্ 'আলাক্বতিন্ ছুম্মা মিন্ মুদ্বগতিম্ মুখল্লাক্বতিঁও অগইরি মুখল্লাক্বতিল্লি লিনুবাইয়্যিনা লাকুম্ অনুর্ক্বিরু ফিল্ র্আহা-মি মা-নাশা - য়ু ইলা য় আজ্বালিম্ মুসাম্মান্ ছুম্মা নুখ্রিজুকুম্ ত্বিফ্লান্ ছুম্মা লিতাব্লুগূ য় আশুদ্দাকুম্ অ মিন্কুম্ মাইঁ ইয়ুতাওয়াফ্ফা-অমিন্কুম্ মাইঁ ইয়ুরদ্দু ইলা য় র্আযালিল্ উমুরি লিকাইলা-ইয়া'লামা মিম্ বা'দ্বি 'ইল্মিন শাইয়া- অতারাল্ র্আদ্বোয়া হা-মিদাতান্ ফাইযা য় আন্যাল্না- 'আলাইহাল্ মা - য়াহ্ তায্যাত্ অরবাত্ অআম্বাতাত্ মিন্ কুল্লি যাওজ্বিম্ বাহীজু।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা এ জন্যে যে, সত্য এবং তিনি জীবিত করেন মৃতকে, আর তিনি সব বিষয়ে শক্তিমান।

মুহিউদ্দীন খান

এগুলো এ কারণে যে, সত্য এবং তিনি মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা হুওয়াল্ হাককু অআন্নাহূ ইয়ুহ্য়িল্ মাওতা অ আন্নাহূ 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বর্দী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর কিয়ামত অবশ্যি আসবে, তাতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই এবং কবরে যারা আছে অবশ্যি তাদের পুনরুত্থিত করবেন।

মুহিউদ্দীন খান

এবং এ কারণে যে, কেয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে সন্দেহ নেই এবং এ কারণে যে, কবরে যারা আছে, তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন।

বাংলা উচ্চারণ

অ আন্নাস্ সা'আতা আ- তিয়াতুল্লা-রইবা ফীহা-অআন্নাল্লা-হা ইয়াব্ 'আছু মান্ ফিল্ কুবূর্ ।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিছু লোক আছে, যারা এলেম ছাড়াই আল্লাহর ব্যাপারে বিতর্ক করে। তাছাড়া তাদের কাছে সঠিক পথের দিশাও নেই, নূর (সত্যজ্ঞান) বিতরণকারী কিতাবও নেই।

মুহিউদ্দীন খান

কতক মানুষ জ্ঞান; প্রমাণ ও উজ্জ্বল কিতাব ছাড়াই সম্পর্কে বিতর্ক করে।

বাংলা উচ্চারণ

অ মিনান্না-সি মাইঁ ইয়ুজ্বা-দিলু ফিল্লা-হি বিগইরি 'ইল্মিঁও অলা-হুদাঁও অলা-কিতা-বিম্ মুর্নী।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে ঘাড় বাঁকিয়ে বিতর্ক করে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করতে। দুনিয়াতেও তার জন্যে লাঞ্ছনা, আর কিয়ামতের দিন আমরা তাকে আস্বাদন করাবো দগ্ধ হবার যন্ত্রণা।

মুহিউদ্দীন খান

সে পার্শ্ব পরিবর্তন করে বিতর্ক করে, যাতে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে দেয়। তার জন্যে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা আছে এবং কেয়ামতের দিন আমি তাকে দহন - যন্ত্রণা আস্বাদন করাব।

বাংলা উচ্চারণ

ছা-নিয়া 'ঈত্বফিহী লিইয়ুদ্বিল্লা 'আন্ সাবীলিল্লা-হ্ লাহূ ফীদ্দুন্ইয়া-খিয্ইয়ুঁও অনুযীকুহূ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি 'আযা-বাল্ হারীক্ব।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তাকে বলা হবে: এটা তোমার কৃতকর্মের ফল। তো তাঁর বান্দাদের প্রতি যুলুম করেননা।

মুহিউদ্দীন খান

এটা তোমার দুই হাতের কর্মের কারণে, বান্দাদের প্রতি জুলুম করেন না।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা বিমা-ক্বদ্দামাত্ ইয়াদা-কা অআন্না ল্লা-হা লাইসা বিজোয়াল্লা-মিল্লিল্ 'আবীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আছে, আল্লাহর ইবাদত করে সীমানায় দাঁড়িয়ে। তখন কল্যাণ লাভ করলে তার মন শান্ত হয়, আর বিপদ এলে সে সীমানা থেকে নেমে আগের জায়গায় চলে যায়। এসব লোক দুনিয়াও হারায়, আখিরাতও হারায়। এ এক সুস্পষ্ট ক্ষতি।

মুহিউদ্দীন খান

মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধা - দ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে আল্লাহর এবাদত করে। যদি সে কল্যাণ প্রাপ্ত হয়, তবে এবাদতের উপর কায়েম থাকে এবং যদি কোন পরীক্ষায় পড়ে, তবে পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। সে ইহকালে ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত। এটাই প্রকাশ্য ক্ষতি

বাংলা উচ্চারণ

অ মিনা ন্না-সি মাইঁইয়া'বুদুল্লা-হা 'আলা-র্হাফিন্ ফাইন্ আছোয়া-বাহূ খইরু নিত্বমায়ান্না বিহী অ ইন্ আছোয়া-বাত্হু ফিত্নাতুনিন্ ক্বলাবা 'আলা-অজ্বহিহী খাসিরা দ্দুন্ইয়া-অল্আ-খিরহ্ যা-লিকা হুওয়াল খুস্র-নুল্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে আল্লাহর পরিবর্তে যাদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করে, তারা না তার ক্ষতি করতে পারে, আর না উপকার। এ এক চরম বিপথগামিতা।

মুহিউদ্দীন খান

সে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে, যে তার অপকার করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না। এটাই চরম পথভ্রষ্টতা।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াদ্'ঊ মিন্ দূনিল্লা-হি মা-লা ইয়ার্দ্বুরুহূ অমা-লা-ইয়ান্ফা'ঊহ্ যা-লিকা হুওয়াদ্ব্ দ্বোয়ালা-লুল্ বা'ঈদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যাকে ডাকে তার ক্ষতির দিকটাই উপকারের চাইতে নিকটতর। কতো যে নিকৃষ্ট মাওলা (অভিভাবক) আর কতো যে নিকৃষ্ট সাথি এরা।

মুহিউদ্দীন খান

সে এমন কিছুকে ডাকে, যার অপকার উপকারের আগে পৌছে। কত মন্দ এই বন্ধু এবং কত মন্দ এই সঙ্গী।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াদ্'ঊ লামান্ দ্বোর্য়ারুহূ য় আকরাবু মিন্ নাফ্'ইহ্ লাবিসাল্ মাওলা-অলাবিসাল্ আর্শী।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তাদের দাখিল করবেন জান্নাতে (উদ্যানসমূহে), যাদের নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদীর - নহর। যা ইচ্ছা করেন, তাই করেন।

মুহিউদ্দীন খান

যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশ দিয়ে নির্ঝরণীসমূহ প্রবাহিত হয়। যা ইচ্ছা তাই করেন।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লা-হা ইয়ুদ্খিলুল লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলুছ্ছোয়া-লিহা-তি জ্বান্না-তিন্ তাজুরী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হার্- ইন্নাল্লা-হা ইয়াফ্'আলু মা-ইয়ুরীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে মনে করে তাকে কখনো সাহায্য করবেন না দুনিয়া এবং আখিরাতে, সে একটি রশি আকাশের দিকে লম্বা করে টানিয়ে নিক, তারপর (আকাশে উঠে) সেটা কেটে দিক, তারপর সে দেখুক তার কৌশল তার ক্রোধের কারণ দূর করতে পারে কিনা।

মুহিউদ্দীন খান

সে ধারণা করে যে, কখনই ইহকালে ও পরকালে রাসূলকে সাহায্য করবেন না, সে একটি রশি আকাশ পর্যন্ত ঝুলিয়ে নিক; এরপর কেটে দিক; অতঃপর দেখুক তার এই কৌশল তার আক্রোশ দূর করে কিনা।

বাংলা উচ্চারণ

মান্ কা-না ইয়াজুন্নুআল্লাইঁইয়ান্ ছুরাহুল্লা-হু ফিদ্দুনইয়া-অল্আ-খিরতি ফাল্ইয়াম্দুদ্ বিসাবাবিন্ ইলাস্ সামা - য়ি ছুম্মাল্ ইয়াকত্বোয়া' ফাল্ইয়ার্ন্জু হাল্ ইয়ুয্ হিবান্না-কাইদুহূ মা-ইয়াগীজ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে আমরা এ কুরআন নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াত আকারে, আর অবশ্যি যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ দেখান।

মুহিউদ্দীন খান

এমনিভাবে আমি সুস্পষ্ট আয়াত রূপে কোরআন নাযিল করেছি এবং - ই যাকে ইচ্ছা হেদায়েত করেন।

বাংলা উচ্চারণ

অ কাযা-লিকা আন্যাল্না-হু আ-ইয়া-তিম্ বাইয়্যিনা-তিঁও অ আন্নাল্লা-হা ইয়াহ্দি মাইঁ ইয়ুরীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, যারা ইহুদি হয়েছে, এছাড়া সাবী, খৃষ্টান, মজুসি (অগ্নিপূজারি), আর যারা শিরক করেছে, কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন। সব বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী - সাক্ষী।

মুহিউদ্দীন খান

যারা মুসলমান, যারা ইহুদী, সাবেয়ী, খ্রীষ্টান, অগ্নিপুজক এবং যারা মুশরেক, কেয়ামতের দিন অবশ্যই তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেবেন। সবকিছুই আল্লাহর দৃষ্টির সামনে।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না ল্লাযীনা আ-মানূ অল্লাযীনা হা-দু অছ্ছোয়া-বিয়ীনা অন্ নাছোয়া-রা অল্মাজু সা অল্লাযীনা আশ্রাকূ য় ইন্নাল্লা-হা ইয়াফ্ছিলু বাইনাহুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ ইন্নাল্লা-হা 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ শাহীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি দেখছোনা, আল্লাহকে সাজদা করছে সবাই, যারা মহাকাশে আছে, যারা পৃথিবীতে আছে, সূর্য, চাঁদ, নক্ষত্ররাজি, পাহাড় পর্বত, বৃক্ষলতা, জীব - জানোয়ার, এছাড়া মানুষের মধ্যেও অনেকেই। আর অনেকের জন্যেই অবধারিত হয়ে গেছে আযাব। যাকে অপমানিত করেন, তাকে সম্মানিত করার কেউ নেই। তাই করেন, যা ইচ্ছা করেন। (সাজদা)

মুহিউদ্দীন খান

তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু আছে নভোমন্ডলে, যা কিছু আছে ভুমন্ডলে, সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি পর্বতরাজি বৃক্ষলতা, জীবজন্তু এবং অনেক মানুষ। আবার অনেকের উপর অবধারিত হয়েছে শাস্তি। যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন, তাকে কেউ সম্মান দিতে পারে না। যা ইচ্ছা তাই করেন

বাংলা উচ্চারণ

আলাম্ তার আন্নাল্লা-হা ইয়াস্জ্বু লাহূ মান্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমান্ ফিল্ র্আদ্বি অশ্শাম্সু অল্ক্বমারু অন্নু মু অল্জ্বিবা-লু অশ্শাজ্বারু অদ্দাওয়া - ব্বু অকাছীরুম্ মিনান্না-স্ অকাছীরুন্ হাকক্ব 'আলাইহিল্ 'আযা-ব্ অ মাইঁ ইয়ুহিনিল্লা-হু ফামা-লাহূ মিম্ মুক্রিম্ ইন্নাল্লা-হা ইয়াফ্ 'আলু মা-ইয়াশা - য়্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা বিবাদে লিপ্ত দুটি পক্ষ, তারা বিবাদ করছে তাদের প্রভুর বিষয়ে। যারা কুফুরি করে তাদের জন্যে প্রস্ত্তত করা হয়েছে আগুনের পোশাক। তাদের মাথার উপর থেকে ঢালা হবে টগবগে ফুটন্ত পানি।

মুহিউদ্দীন খান

এই দুই বাদী বিবাদী, তারা তাদের পালনকর্তা সম্পর্কে বিতর্ক করে। অতএব যারা , তাদের জন্যে আগুনের পোশাক তৈরী করা হয়েছে। তাদের মাথার উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয়া হবে।

বাংলা উচ্চারণ

হা-যা-নি খছ্মা- নিখ্ তাছোয়ামূ ফী রব্বিহিম্ ফাল্লাযীনা কাফারূ কুত্ত্বি'আত্ লাহুম্ ছিয়া-বুম্ মিন্ নার্- ইয়ুছোয়াবুন্ ফাওক্বি রুয়ূ সিহিমুল্ হামীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর ফলে তাদের পেটে যা আছে এবং শরীরের চামড়া বিগলিত হয়ে পড়বে।

মুহিউদ্দীন খান

ফলে তাদের পেটে যা আছে, তা এবং চর্ম গলে বের হয়ে যাবে।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ুছ্ হারু বিহী মা-ফী বুত্ব ূনিহিম্ অল্ জুলূদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এছাড়া তাদের জন্যে থাকবে লোহার মুগুর।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের জন্যে আছে লোহার হাতুড়ি।

বাংলা উচ্চারণ

অ লাহুম্ মাক্ব-মি'ঊ মিন্ হাদীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখনই যন্ত্রণার জ্বালায় তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদের ফিরিয়ে দেয়া হবে তাতে। বলা হবে: আস্বাদন করো দগ্ধ হবার যন্ত্রণা।

মুহিউদ্দীন খান

তারা যখনই যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে। বলা হবেঃ দহন শাস্তি আস্বাদন কর।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্লামা য় আরা দূ য় আইঁ ইয়াখ্রুজু মিন্হা-মিন্ গম্মিন্ উ'ঈ দূ ফীহা-অযূকু 'আযা-বাল্ হারীক।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তাদের দাখিল করবেন জান্নাত (উদ্যান)সমূহে, যাদের নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। তাদেরকে সেখানে অলংকার পরানো হবে সোনার এবং মুক্তার। সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমি পোশাক।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, তাদেরকে দাখিল করবেন উদ্যান সমূহে, যার তলদেশ দিয়ে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হবে। তাদেরকে তথায় স্বর্ণ - কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং তথায় তাদের পোশাক হবে রেশমী।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লা-হা ইয়ুদ্খিলুল্লাযীনা আ-মানূ অ 'আমিলুছ্ছোয়া-লিহা-তি জ্বান্নাতিন্ তাজ্বরী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হা-রু ইয়ুহাল্লাওনা ফীহা মিন্ আসাওয়িরা মিন্ যাহাবিঁও অ লুলুওয়া অলিবা-সুহুম্ ফীহা-হার্রী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তাদেরকে (দুনিয়ায়) সুন্দর ও উত্তম কথা বলার পথ দেখানো হয়েছিল এবং পরিচালিত করা হয়েছিল প্রশংসিত আল্লাহর পথে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা পথপ্রদর্শিত হয়েছিল সৎবাক্যের দিকে এবং পরিচালিত হয়েছিল প্রশংসিত আল্লাহর পথপানে।

বাংলা উচ্চারণ

অহুদূ য় ইলাত্ত্বোয়ায়্যিবি মিনাল্ ক্বওলি অহুদূ য় ইলা-ছির-ত্বিল্ হামীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

পক্ষান্তরে যারা কুফুরি করে এবং আল্লাহর পথে চলতে ও মসজিদুল হারামে যেতে বাধা সৃষ্টি করে, যে ঘরকে আমরা করে দিয়েছি স্থানীয় এবং বহিরাগত সকলের জন্যে সমান অধিকার সম্পন্ন (তাদের জন্যে শাস্তি অবধারিত)। যারাই তাতে (মসজিদুল হারামে) সীমালঙ্ঘন করে পাপ করবে, তাদেরকেই আমরা আস্বাদন করাবো বেদনাদায়ক আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

যারা কুফর করে ও আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং সেই মসজিদে হারাম থেকে বাধা দেয়, যাকে আমি প্রস্তুত করেছি স্থানীয় ও বহিরাগত সকল মানুষের জন্যে সমভাবে এবং যে মসজিদে হারামে অন্যায়ভাবে কোন ধর্মদ্রোহী কাজ করার ইচছা করে, আমি তাদেরকে যন্ত্রানাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাব।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ অইয়াছুদ্দু 'আন্ সাবীলিল্লা-হি অল্ মাস্জ্বিদিল্ হারা-মিল্লাযী জ্বা'আল্না-হু লিন্না-সি সাওয়া - য়ানিল্ 'আ-কিফু ফীহি অল্ বা-দ্ অমাইঁ ইয়ুরিদ্ ফীহি বিইল্হা-দিম্ বিজুল্মিন্ নুযিক্বহু মিন্ 'আযা- বিন্ আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, আমরা ইবরাহিমের জন্যে নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সেই ঘর (নির্মাণের) স্থান, আর তাকে বলে দিয়েছিলাম: আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করোনা এবং আমার ঘরকে পবিত্র রাখবে তাদের জন্যে, যারা তাওয়াফ করে, যারা সালাতে দাঁড়ায় এবং রুকু ও সাজদা করে।

মুহিউদ্দীন খান

যখন আমি ইব্রাহীমকে বায়তুল্লাহর স্থান ঠিক করে দিয়েছিলাম যে, আমার সাথে কাউকে শরীক করো না এবং আমার গৃহকে পবিত্র রাখ তাওয়াফকারীদের জন্যে, নামাযে দন্ডায়মানদের জন্যে এবং রকু সেজদাকারীদের জন্যে।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয্ বাওয়্যানা-লিইব্রা- হীমা মাকা-নাল্ বাইতি আল্লা-তুশ্রিক্বী শাইয়াঁও অ ত্বোয়ার্হ্হি বাইতিয়া লিত্ত্বোয়া - য়িফীনা অল্ক্ব - য়িমীনা র্অ রুক্কা'ইস্ সুজুদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(আর আমরা ইবরাহিমকে এই নির্দেশও দিয়েছিলাম যে) মানুষের মাঝে হজ্জের ঘোষণা প্রচার করে দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং উটের পিঠে করে। তারা আসবে দূর দূরান্ত থেকে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং মানুষের মধ্যে হজ্বের জন্যে ঘোষণা প্রচার কর। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে দূর - দূরান্ত থেকে।

বাংলা উচ্চারণ

অ আয্যিন্ ফিন্না-সি বিল্হাজ্জ্বি ইয়াতূকা-রিজ্বা-লাঁও অ 'আলা-কুল্লি দ্বোয়া-মিরিইঁ ইয়া তীনা মিন্ কুল্লি ফাজ্জ্বিন্ 'আমীক।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে করে তারা তাদের জন্যে উপকারী স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে, আর যেনো তাদেরকে জীবিকা হিসেবে তিনি যেসব চারপায়ী জানোয়ার দান করেছেন সেগুলোর উপর নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে। আর তোমরা (সেই কুরবানি করা পশুর গোশ্ত) নিজেরা খাও এবং অভাবী ও মুখাপেক্ষী লোকদের খেতে দাও।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থান পর্যন্ত পৌছে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে তাঁর দেয়া চতুস্পদ জন্তু যবেহ করার সময়। অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং দুঃস্থ - অভাবগ্রস্থকে আহার করাও।

বাংলা উচ্চারণ

লিইয়াশ্হাদূ মানা-ফি'আ লাহুম্ অইয়ায্কুরুস্ মাল্লা- হি ফী য় আইয়্যা-মিম্ মা'লূ মা-তিন্ 'আলা-মা-রযাক্বহুম্ মিম্ বাহীমাতিল্ আন্'আ-মি ফাকুলূ মিন্হা-অআত্ব 'ইমুল্ বা - য়িসা ল্ ফার্ক্বী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তারা যেনো তাদের (দৈহিক) অপরিচ্ছন্নতা দূর করে এবং তাদের মানত পুরা করে, আর (আমার) এই প্রাচীন ঘরের তাওয়াফ করে।

মুহিউদ্দীন খান

এরপর তারা যেন দৈহিক ময়লা দূর করে দেয়, তাদের মানত পূর্ণ করে এবং এই সুসংরক্ষিত গৃহের তাওয়াফ করে।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মাল্ ইয়াকদ্ব তাফাছাহুম্ অল্ইয়ূফূ নুযূরহুম্ অল্ইয়াত্ত্বোয়াওঅফূ বিল্ বাইতিল্ 'আতীক্ব।

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলোই (হজ্জের বিধান)। এছাড়া যে আল্লাহর পবিত্র (স্থান ও অনুষ্ঠান) সমূহের প্রতি সম্মান দেখাবে, তার প্রভুর কাছে সেটা হবে তার জন্যে উত্তম। আর তোমাদের জন্যে হালাল করে দেয়া হলো গবাদি পশু সেগুলো ছাড়া, যেগুলোর বিষয়ে আগেই তোমাদের তিলাওয়াত করা (বিবরণ দেয়া) হয়েছে। সুতরাং তোমরা মূর্তি পূজার নোংরামি বর্জন করো এবং বর্জন করো মিথ্যা কথা

মুহিউদ্দীন খান

এটা শ্রবণযোগ্য। আর কেউ আল্লাহর সম্মানযোগ্য বিধানাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে পালনকর্তার নিকট তা তার জন্যে উত্তম। উল্লেখিত ব্যতিক্রমগুলো ছাড়া তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে। সুতরাং তোমরা মূর্তিদের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাক এবং মিথ্যা কথন থেকে দূরে সরে থাক;

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা অমাইঁ ইয়ু 'আজ্জিম্ হুরুমা-তিল্লা-হি ফাহুওয়া খাইরুল্লাহূ 'ইন্দা রব্বিহ্ অউহিল্লাত্ লাকুমুল্ আন্'আ-মু ইল্লা-মা ইয়ুত্লা- 'আলাইকুম্ ফাজুতানির্বু রিজ্বসা মিনাল্ আওছা-নি অজুতানিবূ ক্বওলায্ র্যূ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে এবং তাঁর সাথে কোনো শরিক না করে। যে কেউ আল্লাহর সাথে শরিক করবে, সে যেনো আকাশ থেকে ছিটকে পড়ে গেলো আর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেলো, কিংবা প্রবল বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে নিক্ষেপ করলো এক নিরুদ্দেশ স্থানে।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর দিকে একনিষ্ট হয়ে, তাঁর সাথে শরীক না করে; এবং যে কেউ আল্লাহর সাথে শরীক করল; সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল, অতঃপর মৃতভোজী পাখী তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোন দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল।

বাংলা উচ্চারণ

হুনাফা - য়া লিল্লা-হি গইরা মুশ্রিকীনা বিহ্ অমাইঁ ইয়ুশ্রিক্ বিল্লা-হি ফাকাআন্নামা-র্খর মিনাস্ সামা - য়ি ফাতাখ্ত্বোয়াফুহুত্বত্বোয়াইরু আও তাহ্ওয়ী বির্হি রীহু ফী মাকা-নিন্ সাহীক্ব।

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলো (আল্লাহর নির্দেশাবলি), আর যারাই আল্লাহর নিদর্শনাবলির প্রতি সম্মান দেখাবে, সেটা হবে অন্তরের তাকওয়ার প্রকাশ।

মুহিউদ্দীন খান

এটা শ্রবণযোগ্য কেউ আল্লাহর নামযুক্ত বস্তুসমুহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে তা তো তার হৃদয়ের প্রসূত।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা অমাইঁ ইয়ু'আজ্জিম্ শা'আ - য়িরাল্লা-হি ফাইন্নাহা-মিন্ তাকওয়াল্ কুলূব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলোর (এসব পশুর) মধ্যে তোমাদের জন্যে রয়েছে উপকার একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে, তারপর তাদের কুরবানির স্থান আমার প্রাচীন ঘরের কাছে।

মুহিউদ্দীন খান

চতুস্পদ জন্তুসমূহের মধ্যে তোমাদের জন্যে নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত উপকার রয়েছে। অতঃপর এগুলোকে পৌছাতে হবে মুক্ত গৃহ পর্যন্ত।

বাংলা উচ্চারণ

লাকুম্ ফীহা- মানা-ফি'উ ইলা য় আজ্বালিম্ মুসাম্মান্ ছুম্মা মাহিল্লুহা য় ইলাল্্ বাইতিল্ 'আতীক।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কুরবানির একটি নিয়ম করে দিয়েছি, তাদেরকে জীবিকা হিসেবে যেসব চারপায়ী জানোয়ার দিয়েছেন, সেগুলোর উপর যেনো তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। তোমাদের ইলাহ্ তো একমাত্র ইলাহ্। সুতরাং তোমরা কেবল তাঁরই প্রতি আত্মসর্মপণ করো। আর হে নবী, সুসংবাদ দাও বিনয়ীদের,

মুহিউদ্দীন খান

আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কোরবানী নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা আল্লাহর দেয়া চতুস্পদ জন্তু যবেহ কারার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। অতএব তোমাদের তো একমাত্র সুতরাং তাঁরই আজ্ঞাধীন থাক এবং বিনয়ীগণকে সুসংবাদ দাও;

বাংলা উচ্চারণ

অলিকুল্লি উম্মাতিন্ জ্বা'আল্না-মান্সাকা ল্লিইয়ায্ কুরুস্ মাল্লা-হি 'আলা-মা-রযাক্বহুম্ মিম্ বাহীমাতিল্ আন্'আ-ম্ ফাইলা-হুকুম্ ইলা-হুঁও অ-হিদুন্ ফালাহূ য় আস্লিমূ অবাশ্শিরিল্ মুখ্বিতীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদের কলব কেঁপে উঠে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে, যারা সবর অবলম্বন করে বিপদ মসিবতে, কায়েম করে এবং আমাদের দেয়া জীবিকা থেকে খরচ করে (আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে)।

মুহিউদ্দীন খান

যাদের অন্তর আল্লাহর নাম স্মরণ করা হলে ভীত হয় এবং যারা তাদের বিপদাপদে ধৈর্য্যধারণ করে এবং যারা কায়েম করে ও আমি যা দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা ইযা-যুকিরাল্লা-হু অজ্বিলাত্ কুলূবুহুম্ অছ্ছোয়া-বিরীনা 'আলা-মা য় আছোয়া-বাহুম্ অল্মুক্বীমিছ্ ছলা-তি অমিম্মা -রযাকনা-হুম্ ইয়ুন্ফিকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর উটকে আমরা বানিয়েছি আল্লাহর একটি নিদর্শন তোমাদের জন্যে। আর তাতে রয়েছে তোমাদের জন্যে কল্যাণ। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো অবস্থায় তোমরা তাদের উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো। যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যাবে, তখন তোমরা তা থেকে খাও এবং তা থেকে খেতে দাও ধৈর্যশীল অভাবীদের ও প্রার্থী অভাবীদের। এভাবেই আমরা সেগুলো করে দিয়েছি তোমাদের অধীন, যাতে করে তোমরা শোকর আদায় করো।

মুহিউদ্দীন খান

এবং কা’বার জন্যে উৎসর্গীকৃত উটকে আমি তোমাদের জন্যে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন করেছি। এতে তোমাদের জন্যে মঙ্গল রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে বাঁধা অবস্থায় তাদের যবেহ করার সময় তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর। অতঃপর যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তা থেকে তোমরা আহার কর এবং আহার করাও যে কিছু যাচ্ঞা করে না তাকে এবং যে যাচ্ঞা করে তাকে। এমনিভাবে আমি এগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

বাংলা উচ্চারণ

অল্ বুদ্না জ্বা'আল্না-হা-লাকুম্ মিন্ শা'আ - য়িরিল্লা-হি লাকুম্ ফীহা-খইরুন্ ফায্ কুরুস্মা ল্লা-হি 'আলাইহা-ছওয়া - ফ্ফা ফাইযা-অজ্বাবাত্ জুনূ বুহা-ফাকুলূ মিন্হা-অআত্ব'ইমুল্ ক্ব-নি'আ অল্ মু'র্তা অকাযা-লিকা সার্খ্খনা-হা- লাকুম্ লা'আল্লাকুম্ তাশ্কুরূন্ ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর কাছে পৌঁছায়না তার (কুরবানির) গোশত এবং রক্ত, বরঞ্চ পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই সেগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে করে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতে পারো তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত (কুরআন) দান করেছেন তার ভিত্তিতে। সুসংবাদ দাও কল্যাণকামীদের।

মুহিউদ্দীন খান

এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া। এমনিভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের বশ করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা কর এ কারণে যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন।

বাংলা উচ্চারণ

লাইঁইয়ানা-লাল্লা-হা লুহূমুহা-অলা-দিমা - য়ুহা- অলা- কিঁ ইয়ানা-লুহু ত্তাক্বওয়া- মিন্কুম্ কাযা-লিকা সাখ্খরহা-লাকুম্ লিতুকাব্বিরুল্ লা-হা 'আলা-মা-হাদা-কুম্ অবাশ্শিরিল্ মুহ্সিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মুমিনদের রক্ষা করেন। কোনো বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেননা।

মুহিউদ্দীন খান

মুমিনদের থেকে শত্রুদেরকে হটিয়ে দেবেন। কোন বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লা-হা ইয়ুদা-ফি'উ 'আনিল্লাযীনা আ-মানূ ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ূহিবুকুল্লা খাওয়্যা-নিন্ কার্ফূ।

আবদুস শহীদ নাসিম

অনুমতি দেয়া হলো (প্রতিরোধের) যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে, কারণ তাদের প্রতি যুলুম করা হয়েছে। অবশ্যি তাদের সাহায্য করতে সক্ষম।

মুহিউদ্দীন খান

যুদ্ধে অনুমতি দেয়া হল তাদেরকে যাদের সাথে কাফেররা যুদ্ধ করে; কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম।

বাংলা উচ্চারণ

উযিনা লিল্লাযীনা ইয়ুক্ব-তালূনা বিআন্নাহুম্ জুলিমূ অ ইন্নাল্লা-হা 'আলা-নাস্রিহিম্ লাক্বার্দী।

আবদুস শহীদ নাসিম

(কারণ) তাদেরকে না হকভাবে খারিজ করে দেয়া হয়েছে তাদের ঘর - বাড়ি থেকে। (তাদের বের করে দেয়া হয়েছে) শুধু এ কারণে যে, তারা বলে: ‘ আমাদের রব।’ যদি একদল মানুষকে অন্য দল দিয়ে প্রতিহত না করতেন, তাহলে অবশ্যি বিধ্বস্ত হয়ে যেতো (খৃষ্টান) বৈরাগীদের উপাসনালয়, গীর্জা, ইহুদিদের উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ যেগুলোতে বেশি বেশি স্মরণ করা হয় আল্লাহর নাম। আর অবশ্যি ঐ ব্যক্তিকে সাহায্য করেন যে তাঁকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই শক্তিধর মহাপরাক্রমশালী।

মুহিউদ্দীন খান

যাদেরকে তাদের ঘর - বাড়ী থেকে অন্যায়ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে শুধু এই অপরাধে যে, তারা বলে আমাদের পালনকর্তা । যদি মানবজাতির একদলকে অপর দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে (খ্রীষ্টানদের) নির্ঝন গির্জা, এবাদত খানা, (ইহুদীদের) উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত, যেগুলাতে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা আল্লাহর সাহায্য করে। নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী শক্তিধর।

বাংলা উচ্চারণ

নিল্লাযীনা উখ্রিজু মিন্ দিয়া-রিহিম্ বিগইরি হাক্বকিন্ ইল্লা য় আইঁ ইয়াকুলূ রব্বুনাল্লা-হ্ অলাওলা-দাফ্'উল্লা-হি ন্না-সা বা'দ্বোয়াহুম্ বিবা'দ্বিল্লা-হুদ্দিমাত্ ছওয়া-মি'উ অবিয়া'উওঁ অ ছলাওয়া-তুওঁ অমাসা-জ্বিদু ইয়ুয্কারু ফীহাস্মুল্লা-হি কাছীর- অলা-ইয়ান্ ছুরন্নাল্ লা-হু মাইঁ ইয়ান্ছুরুহ্ ইন্নাল্লা-হা লাক্বওয়িয়্যুন্ 'আযীয্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(এসব লোক হলো তারা) যাদের আমরা জমিনে প্রতিষ্ঠা দান করলে তারা কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে, এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর সব কাজের পরিণাম তো আল্লাহর দায়িত্বে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে শক্তি - সামর্থ্য দান করলে তারা কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। প্রত্যেক কর্মের পরিণাম আল্লাহর এখতিয়ারভূক্ত।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা ইম্ মাক্কান্না-হুম্ ফিল্ র্আদ্বি আক্ব-মুছ্ ছলা-তা অআ-তায়ুয্ যাকা-তা অ আমারূ বিল্ মা'রূফি অ নাহাও 'আনিল্ মুর্ন্কা অ লিল্লা-হি 'আ-ক্বিবাতুল্ উর্মূ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেই, তবে তাদের আগেও অস্বীকার করেছিল নূহ, আদ ও সামুদ জাতি।

মুহিউদ্দীন খান

তারা যদি আপনাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে তাদের পূর্বে মিথ্যাবাদী বলেছে কওমে নূহ, আদ, সামুদ,

বাংলা উচ্চারণ

অইঁ ইয়ুকায্যিবূকা ফাক্বদ্ কায্যাবাত্ ক্বব্লাহুম্ ক্বওমু নূহিঁও অ 'আ-দুঁও অ ছামূদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইবরাহিম এবং লুতের জাতিও।

মুহিউদ্দীন খান

ইব্রাহীম ও লূতের সম্প্রদায়ও।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বওমু ইব্রা-হীমা অক্বওমু লূত্ব।

আবদুস শহীদ নাসিম

মাদইয়ানবাসীরাও। এছাড়া অস্বীকার করা হয়েছিল মূসাকেও। আমরা কাফিরদের অবকাশ দিয়েছি, তারপর পাকড়াও করেছি। কেমন অসহনীয় ছিলো আমার শাস্তি!

মুহিউদ্দীন খান

এবং মাদইয়ানের অধিবাসীরা এবং মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল মূসাকেও। অতঃপর আমি কাফেরদেরকে সুযোগ দিয়েছিলাম এরপর তাদেরকে পাকড়াও করেছিলাম অতএব কি ভীষণ ছিল আমাকে অস্বীকৃতির পরিণাম।

বাংলা উচ্চারণ

অ আছ্হা-বু মাদ্ইয়ানা অ কুয্যিবা মূসা-ফাআম্লাইতু লিল্কা-ফিরীনা ছুম্মা আখয্তুহুম্ ফাকাইফা কা-না নার্কী।

আবদুস শহীদ নাসিম

কতো যে জনপদ আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। কারণ, সেগুলোর অধিবাসীরা ছিলো যালিম। সেসব জনপদ তাদের ঘরের ছাদসহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। কতো যে কূপ পরিত্যাক্ত হয়েছিল, আর কতো যে সুদৃঢ় প্রাসাদ।

মুহিউদ্দীন খান

আমি কত জনপদ ধ্বংস করেছি এমতাবস্থায় যে, তারা ছিল গোনাহগার। এই সব জনপদ এখন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে এবং কত কূপ পরিত্যক্ত হয়েছে ও কত সুদৃঢ় প্রাসাদ ধ্বংস হয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

ফাকাআইয়িম্ মিন্ র্ক্বইয়াতিন্ আহ্ লাক্না-হা-অহিয়া জোয়া-লিমাতুন্ ফাহিয়া খ-ওয়িয়াতুন্ 'আলা-'উরূ শিহা-অ বিরিম্ মু'আত্ত্বোয়ালাতিঁও অক্বাছ্রিম্ মাশীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি জমিনের বুকে পরিভ্রমণ করেনা? আর তাদের যদি আকলওয়ালা কলব থাকতো এবং শুনার মতো কান থাকতো! আর তাদের চোখ তো অন্ধ নয়, মূলত অন্ধ হলো তাদের বুকের মধ্যকার কলব (হৃদয়)।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি এই উদ্দেশ্যে দেশ ভ্রমণ করেনি, যাতে তারা সমঝদার হৃদয় ও শ্রবণ শক্তি সম্পন্ন কর্ণের অধিকারী হতে পারে? বস্তুতঃ চক্ষু তো অন্ধ হয় না, কিন্তু বক্ষ স্থিত অন্তরই অন্ধ হয়।

বাংলা উচ্চারণ

আফালাম্ ইয়াসীরূ ফিল্ র্আদ্বি ফাতাকূনা লাহুম্ ক্বলূবুইঁ ইয়া'ক্বিলূনা বিহা য় আও আ-যা-নুঁই ইয়াস্মা'ঊনা বিহা-ফাইন্নাহা-লা-তা'মাল্ আব্ছোয়া-রু অলা-কিন্ তা'মাল্ক্বুলূবু ল্লাতী ফিছ্ছুর্দূ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমাকে দ্রুত আযাব এনে দিতে বলে। অথচ কখনো তাঁর ওয়াদা খেলাফ করেন না। আল্লাহর কাছে একদিন হলো তোমাদের হিসাবের হাজার বছরের সমান।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে। অথচ কখনও তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। আপনার পালনকর্তার কাছে একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়াস্তা'জ্বিলূনাকা বিল্ 'আযা-বি অলাইঁ ইয়ুখ্ লিফাল্লা-হু ওয়া'দাহ্ অ ইন্না ইয়াওমান্ 'ইন্দা রব্বিকা কাআল্ফি সানাতিম্ মিম্মা- তা'উদ্দূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কতো যে যালিম জনপদকে আমি অবকাশ দিয়েছি, তারপর তাদের পাকড়াও করেছি। আমার কাছেই হবে তাদের (শেষ) প্রত্যাবর্তন।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমি কত জনপদকে অবকাশ দিয়েছি এমতাবস্থায় যে, তারা গোনাহগার ছিল। এরপর তাদেরকে পাকড়াও করেছি এবং আমার কাছেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

বাংলা উচ্চারণ

অ কায়াইয়িম্মিন্ র্ক্বইয়াতিন্ আম্লাইতু লাহা-অহিয়া জোয়া-লিমাতুন্ ছুম্মা আখয্তুহা-অইলাইয়্যাল্ মার্ছী।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী!) বলো: ‘হে মানুষ! আমি তোমাদের জন্যে একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।’

মুহিউদ্দীন খান

বলুনঃ হে লোক সকল! আমি তো তোমাদের জন্যে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ককারী।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইয়া য় আইয়ুহান্না-সু ইন্নামা য় আনা লাকুম্ নাযীরুম্ মুবীন।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ্ করবে, তাদের জন্যে থাকবে মাগফিরাত এবং সম্মানজনক জীবিকা।

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যে আছে পাপ মার্জনা এবং সম্মানজনক রুযী।

বাংলা উচ্চারণ

ফাল্লাযীনা আ-মানূ অ 'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি লাহুম্ মাগ্ফিরাতুঁও অরিয্ক্ব ুন্ কারীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা আমার আয়াতকে খাটো করার চেষ্টা করবে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী।

মুহিউদ্দীন খান

এবং যারা আমার আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করার জন্যে চেষ্টা করে, তারাই দোযখের অধিবাসী।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা সা'আও ফী য় আ-ইয়া-তিনা- মু'আজ্বিযীনা উলা - য়িকা আছ্হা-বুল্ জ্বাহীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার আগে আমরা যে রসূল কিংবা যে নবীই পাঠিয়েছি, তাদের কেউ যখনই কোনো আকাঙক্ষা করেছে, তখনই শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় কিছু নিক্ষেপ করেছে। কিন্তু শয়তান যা নিক্ষেপ করে তা মুছে দেন এবং তখনই তাঁর আয়াতসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। সর্বজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আপনার পূর্বে যে সমস্ত রাসূল ও নবী প্রেরণ করেছি, তারা যখনই কিছু কল্পনা করেছে, তখনই শয়তান তাদের কল্পনায় কিছু মিশ্রণ করে দিয়েছে। অতঃপর দূর করে দেন শয়তান যা মিশ্রণ করে। এরপর তাঁর আয়াতসমূহকে সু - প্রতিষ্ঠিত করেন এবং জ্ঞানময়, প্রজ্ঞাময়।

বাংলা উচ্চারণ

অমা য় র্আসাল্না-মিন্ ক্বব্লিকা র্মি রসূলিঁও অলা-নাবিয়্যিন্ ইল্লা য় ইযা-তামান্না য় আল্ক্বশ্ শাইত্বোয়া-নু ফী য় উম্নিয়্যাতিহী ফাইয়ান্সাখুল্লা-হু মা-ইয়ুল্ক্বিশ্ শাইত্বোয়া-নু ছুম্মা ইয়ুহ্কিমুল্লা-হু আ-ইয়াতিহ্ অল্লা-হু 'আলীমুন্ হাকীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা এ জন্যে যে, শয়তান যা নিক্ষেপ করে সেটাকে আমরা পরীক্ষা বানাই তাদের জন্যে যাদের কলবে রোগ আছে এবং যারা পাষন্ডহৃদয়। নিশ্চয়ই যালিমরা রয়েছে অনেক মতভেদ ও সন্দেহের মধ্যে।

মুহিউদ্দীন খান

এ কারণে যে, শয়তান যা মিশ্রণ করে, তিনি তা পরীক্ষাস্বরূপ করে দেন, তাদের জন্যে, যাদের অন্তরে রোগ আছে এবং যারা পাষাণহৃদয়। গোনাহগাররা দূরবর্তী বিরোধিতায় লিপ্ত আছে।

বাংলা উচ্চারণ

লিইয়াজ্ব'আলা মা-ইয়ুল্ক্বিশ্ শাইত্বোয়া-নু ফিত্নাতা ল্লিল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম্ মারাদ্বঁ ূও অল্ক্ব-সিয়াতি কুলূবুহুম্ অইন্নাজ্জোয়া-লিমীনা লাফী শিক্ব-ক্বিম্ বা'ঈদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর এটা এ জন্যেও, যাতে করে যাদের জ্ঞান দেয়া হয়েছে তারা জানতে পারে যে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে মহাসত্য। তারপর তারা যেনো তাতে ঈমান আনে এবং সেটার অনুগত হয়। অবশ্যি তাদেরকে পরিচালিত করেন সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে, যারা ঈমান আনে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং এ কারণেও যে, যাদেরকে জ্ঞানদান করা হয়েছে; তারা যেন জানে যে এটা আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে সত্য; অতঃপর তারা যেন এতে বিশ্বাস স্তাপন করে এবং তাদের অন্তর যেন এর প্রতি বিজয়ী হয়। আল্লাহই বিশ্বাস স্থাপনকারীকে সরল পথ প্রদর্শন করেন।

বাংলা উচ্চারণ

অলিইয়া' লামাল্লাযীনা ঊতুল্ 'ইল্মা আন্নাহুল্ হাক্বকুর্মি রব্বিকা ফাইয়ুমিনূ বিহী ফাতুখ্বিতা লাহূ কুলূবুহুম্ অ ইন্নাল্লা-হা লাহা- দিল্লাযীনা আ-মানূ য় ইলা-ছির-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিররা তাতে সন্দেহ পোষণ করতেই থাকবে, যতোদিন না তাদের কাছে আকস্মিকভাবে কিয়ামত এসে পড়ে, অথবা এসে পড়ে এক বন্ধ্যা দিনের আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

কাফেররা সর্বদাই সন্দেহ পোষন করবে যে পর্যন্ত না তাদের কাছে আকস্মিকভাবে কেয়ামত এসে পড়ে অথবা এসে পড়ে তাদের কাছে এমন দিবসের শাস্তি যা থেকে রক্ষার উপায় নেই।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-ইয়াযা-লুল্লাযীনা কাফারূ ফী র্মিইয়াতিম্ মিন্হু হাত্তা-তাতিয়াহুমুস্ সা-'আতু বাগ্তাতান্ আও ইয়াতিয়াহুম্ 'আযাবু ইয়াওমিন্ 'আক্বীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন সমস্ত কর্তৃত্ব থাকবে আল্লাহর হাতে। তিনি তাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন। তারপর যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে (বলে প্রমাণিত হবে), তারা থাকবে জান্নাতুন নায়ীমে।

মুহিউদ্দীন খান

রাজত্ব সেদিন আল্লাহরই; তিনিই তাদের বিচার করবেন। অতএব যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে তারা নেয়ামত পূর্ণ কাননে থাকবে।

বাংলা উচ্চারণ

আল্মুল্কু ইয়াওমায়িযিল্লিল্লা-হ্ ইয়াহ্কুমু বাইনাহুম্ ফাল্লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলূছ্ ছোয়া-লিহা-তি ফী জ্বান্না-তি ন্না'ঈম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা কুফুরি করেছে এবং আমাদের আয়াতকে অস্বীকার করেছে (বলে প্রমাণিত হবে), তাদের জন্যে থাকবে অপমানকর আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

এবং যারা কুফরি করে এবং আমার আয়াত সমূহকে মিথ্যা বলে তাদের জন্যে লাঞ্ছনাকর শাস্তি রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা কাফারূ অকায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা ফাউলা - য়িকা লাহুম্ 'আযা-বুম্ মুহীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর পথে হিজরত করেছে, তারপর নিহত হয়েছে, কিংবা তাদের মৃত্যু হয়েছে, অবশ্যি তাদের উত্তম রিযিক দান করবেন। আর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম রিযিকদাতা।

মুহিউদ্দীন খান

যারা আল্লাহর পথে গৃহ ত্যাগ করেছে, এরপর নিহত হয়েছে অথবা মরে গেছে; তাদেরকে অবশ্যই উৎকৃষ্ট জীবিকা দান করবেন এবং সর্বোৎকৃষ্ট রিযিক দাতা।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা হা-জ্বারূ ফী সাবীলিল্লাহি ছুম্মা কুতিলূ য় আও-মা তূ লাইর্য়াযু ক্বান্নাহুমুল্লা-হু রিয্ক্বান্ হাসানা অইন্নাল্লা-হা লাহুঅ খইর্রু র-যিক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তাদের দাখিল করবেন এমন (উদ্যানে) যা তারা পছন্দ করবে। নিশ্চয়ই জ্ঞানী এবং সহনশীল।

মুহিউদ্দীন খান

তাদেরকে অবশ্যই এমন এক স্থানে পৌছাবেন, যাকে তারা পছন্দ করবে এবং জ্ঞানময়, সহনশীল।

বাংলা উচ্চারণ

লাইয়ুদ্খিলান্নাহুম্ মুদ্খলাইঁ ইর্য়াদ্বোয়াওনাহ্ অইন্নাল্লা-হা লা'আলীমুন্ হালীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ রকমই হবে। কোনো ব্যক্তি যদি নির্যাতিত হয়ে অনুরূপ প্রতিশোধ গ্রহণ করে, তারপরও যদি সে আবার নির্যাতিত হয়, অবশ্য অবশ্যি তাকে সাহায্য করবেন। নিশ্চয়ই কোমল, ক্ষমাশীল।

মুহিউদ্দীন খান

এ তো শুনলে, যে ব্যক্তি নিপীড়িত হয়ে নিপীড়ন পরিমাণে প্রতিশোধ গ্রহণ করে এবং পুনরায় সে নিপীড়িত হয়, অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন। নিশ্চয় মার্জনাকারী ক্ষমাশীল।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা অমান্ 'আ-ক্ববা বিমিছ্লি মা-'ঊক্বিবা বিহী ছুম্মা বুগিইয়া 'আলাইহি লা-ইয়্ন্ ছুরান্নাহুল্লা-হ্ ইন্নাল্লাহা লা'আফুয়্যুন্ গর্ফূ।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর কারণ, রাতকে প্রবেশ করিয়ে দেন দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাতের মধ্যে, আর নিশ্চয়ই সব শুনেন, সব দেখেন।

মুহিউদ্দীন খান

এটা এ জন্যে যে, রাত্রিকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাত্রির মধ্য দাখিল করে দেন এবং সবকিছু শোনেন, দেখেন।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা ইয়ূলিজু ল্লাইলা ফিন

আবদুস শহীদ নাসিম

এর কারণ এটাও যে, আল্লাহ্ই একমাত্র মহাসত্য, আর আল্লাহর পরিবর্তে তারা যা ডাকে তা অসত্য, বাতিল। আর আল্লাহ্ই মর্যাদাবান ও শ্রেষ্ঠ।

মুহিউদ্দীন খান

এটা এ কারণেও যে, আল্লাহই সত্য; আর তাঁর পরিবর্তে তারা যাকে ডাকে, তা অসত্য এবং আল্লাহই সবার উচ্চে, মহান।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি দেখোনা, নাযিল করেন আসমান থেকে পানি, আর তখন জমিন সবুজ শ্যামল হয়ে উঠে। নিশ্চয়ই সূক্ষ্মদর্শী, সব বিষয়ে অবগত।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি কি দেখ না যে, আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর ভূপৃষ্ট সবুজ - শ্যামল হয়ে উঠে। নিশ্চয় সুক্ষদর্শী, সর্ববিষয়ে খবরদার।

বাংলা উচ্চারণ

আলাম্ তারা আন্নাল্লা-হা আন্যালা মিনাস্ সামা - য়ি মা - য়ান্ ফাতুছ্ বিহুল্ র্আদ্বু মুখ্ দ্বোর্য়ারহ্ ইন্নাল্লা-হা লাত্বীফুন্ খর্বী।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। নিশ্চয়ই অভাবমুক্ত। সপ্রশংসিত।

মুহিউদ্দীন খান

নভোমন্ডল ও ভুপৃষ্ঠে যা কিছু আছে, সব তাঁরই এবং আল্লাহই অভাবমুক্ত প্রশংসার অধিকারী।

বাংলা উচ্চারণ

লাহূ মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ র্আদ্ব্ অইন্নাল্লা-হা লাহুওয়াল্ গানিইয়ুল্ হামীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি দেখোনা, যে তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করে রেখেছেন পৃথিবীতে যা আছে সবকিছুকে এবং তাঁরই নির্দেশে সমুদ্রে চলাচল করা নৌযানকে। তিনিই স্থির রাখেন আসমানকে তাঁর অনুমতি ছাড়া পৃথিবীর উপর পতিত হওয়া থেকে। নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি অতীব কোমল, পরম দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি কি দেখ না যে, ভূপৃষ্টে যা আছে এবং সমুদ্রে চলমান নৌকা তৎসমুদয়কে নিজ আদেশে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন এবং তিনি আকাশ স্থির রাখেন, যাতে তাঁর আদেশ ব্যতীত ভূপৃষ্টে পতিত না হয়। নিশ্চয় মানুষের প্রতি করুণাশীল, দয়াবান।

বাংলা উচ্চারণ

আলাম্ তার আন্নাল্লা-হা সাখ্খার লাকুম্ মা-ফিল্ র্আদ্বি অল্ফুল্কা তাজ্বরী ফীল্ বাহ্রি বিআম্রিহ্ অইয়ুম্সিকুস্ সামা - য়া আন্ তাক্বা'আ 'আলাল্ র্আদ্বি ইল্লা-বিইয্নিহ্ ইন্নাল্লা-হা বিন্না-সি লারায়ূর্ফু রহীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তোমাদের জীবন দান করেন, অত:পর মৃত্যু দেন, তারপর আবার জীবিত করবেন। নিশ্চয়ই মানুষ ভীষণ অকৃতজ্ঞ।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই তোমাদেরকে জীবিত করেছেন, অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে মৃত্যুদান করবেন ও পুনরায় জীবিত করবেন। নিশ্চয় মানুষ বড় অকৃতজ্ঞ।

বাংলা উচ্চারণ

অহুওয়াল্লাযী য় আহ্ইয়া-কুম্ ছুম্মা ইয়ুমীতুকুম্ ছুম্মা ইয়ুহ্য়ীকুম্ ইন্নাল্ ইন্সা-না লাকার্ফূ ।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রতিটি উম্মতের জন্যে আমরা নির্ধারিত করে দিয়েছি ইবাদত করার পদ্ধতি, যা তারা অনুসরণ করে। সুতরাং তারা যেনো এ বিষয়ে তোমার সাথে বিতর্ক না করে। তুমি তাদেরকে তোমার প্রভুর দিকে আহবান করো, নিশ্চয়ই তুমি রয়েছো সরল সঠিক পথের উপর প্রতিষ্ঠিত।

মুহিউদ্দীন খান

আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে এবাদতের একটি নিয়ম - কানুন নির্ধারণ করে দিয়েছি, যা তারা পালন করে। অতএব তারা যেন এ ব্যাপারে আপনার সাথে বিতর্ক না করে। আপনি তাদেরকে পালনকর্তার দিকে আহবান করুন। নিশ্চয় আপনি সরল পথেই আছেন।

বাংলা উচ্চারণ

লিকুল্লি উম্মাতিন্ জ্বা'আল্না- মান্সাকান্ হুম্ না-সিকূহু ফালা-ইয়ুনা-যি'উন্নাকা ফিল্ আম্রি ওয়াদ্'উ ইলা-রব্বিক্ ইন্নাকা লা 'আলা-হুদাম্ মুস্তাক্বীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমার সাথে বিতর্ক করে, তবে তুমি বলো: তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ্ই ভালো জানেন।

মুহিউদ্দীন খান

তারা যদি আপনার সাথে বিতর্ক করে, তবে বলে দিন, তোমরা যা কর, সে সর্ম্পকে অধিক জ্ঞাত।

বাংলা উচ্চারণ

অইন্ জ্বা-দালূকা ফাকুলিল্লা-হু 'আলামু বিমা-তা'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করছো, কিয়ামতের দিন সে বিষয়ে ফায়সালা করে দেবেন।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যে বিষয়ে মতবিরোধ করছ, কিয়ামতের দিন সেই বিষয়ে তোমাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা-হু ইয়াহ্কুমু বাইনাকুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি ফীমা-কুন্তুম্ ফীহি তাখ্তালিফূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি জানোনা, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই জানেন? সবই কিতাবে রেকর্ড করা আছে। আর এ কাজ আল্লাহর জন্যে খুবই সহজ।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি কি জান না যে, জানেন যা কিছু আকাশে ও ভুমন্ডলে আছে এসব কিতাবে লিখিত আছে। এটা আল্লাহর কাছে সহজ।

বাংলা উচ্চারণ

আলাম্ তা'লাম্ আন্নাল্লা-হা ইয়া'লামু মা-ফিস্ সামা - য়ি অল্র্আদ্ব্ ইন্না যা-লিকা ফী কিতা-ব্ ইন্না যা-লিকা 'আলাল্লা-হি ইয়ার্সী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন সবের ইবাদত করে যাদের পক্ষে কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি এবং এ সম্পর্কে তাদেরও কোনো জ্ঞান নেই। যালিমদের কোনো সাহায্যকারী হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর পূজা করে, যার কোন সনদ নাযিল করা হয়নি এবং সে সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই। বস্তুতঃ জালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়া'বুদূনা মিন্ দূনিল্লা-হি মা-লাম্ ইয়ুনায্যিল্ বিহী সুল্ত্বোয়া-নাঁও অমা-লাইসা লাহুম্ বিহী 'ইল্ম্ অমা-লিজ্জোয়া-লিমীনা মিন্ নার্ছী।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদের প্রতি আমাদের সুস্পষ্ট আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, তখন তুমি কাফিরদের চেহারায় লক্ষ্য করো অসন্তোষ। তারা তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্যত হয়, যারা তিলাওয়াত করে আমাদের আয়াত। তুমি বলো: আমি কি এর চাইতেও মন্দ কিছুর সংবাদ তোমাদের দেবো? তাহলো জাহান্নাম! এর ওয়াদাই কাফিরদের দিয়েছেন। আর এটা যে ফিরে যাবার কতো নিকৃষ্ট জায়গা!

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হয়, তখন তুমি কাফেরদের চোখে মুখে অসন্তোষের লক্ষণ প্রত্যক্ষ করতে পারবে। যারা তাদের কাছে আমার আয়াত সমূহ পাঠ করে, তারা তাদের প্রতি মার মুখো হয়ে উঠে। বলুন, আমি কি তোমাদেরকে তদপেক্ষা মন্দ কিছুর সংবাদ দেব? তা আগুন; কাফেরদেরকে এর ওয়াদা দিয়েছেন। এটা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-তুত্লা 'আলাইহিম্ আ-ইয়া-তুনা- বাইয়্যিনা-তিন্ তা'রিফু ফী উজু হিল্ লাযীনা কাফারূল্ মুর্ন্কা ইয়াকা-দূনা ইয়াস্ত্ব ূনা বিল্লাযীনা ইয়াত্লূনা 'আলাইহিম্ আ-ইয়া-তিনা- কুল্ আফায়ুনাব্বিয়ুকুম্ বির্শারিম্ মিন্ যা-লিকুম্ আন্নার্- অ 'আদাহা ল্লা-হুল্ লাযীনা কাফারূ অবিসাল্ মার্ছী।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! একটি উপমা দেয়া হচ্ছে, মনোযোগ দিয়ে তা শুনো। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো, তারা একটা মাছিও সৃষ্টি করতে পারেনা, এ উদ্দেশ্যে তারা সবাই একত্র হলেও নয়। আর মাছি যদি তার থেকে কিছু ছিনিয়ে নিয়ে যায়, তাও তার থেকে উদ্ধার করতে পারেনা। সাহায্য সন্ধানকারী এবং যার কাছে সাহায্য সন্ধান করা হয়, (তারা উভয়ই) কতো যে দুবর্ল!

মুহিউদ্দীন খান

হে লোক সকল! একটি উপমা বর্ণনা করা হলো, অতএব তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোন; তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের পূজা কর, তারা কখনও একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতে পারবে না, প্রার্থনাকারী ও যার কাছে প্রার্থনা করা হয়, উভয়েই শক্তিহীন।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহান্না-সু দ্বুরিবা মাছালুন্ ফাস্তামি'ঊ লাহ্ ইন্নাল্লাযীনা তাদ্'ঊ না মিন্ দূনিল্লা-হি লাইঁ ইয়াখ্লুকু যুবা-বাঁও অলাওয়িজ্বতাম'ঊলাহ্ অ ইঁইয়াস্লুব্ হুমুয্ যুবা-বু শাইয়া ল্লা-ইয়াস্ তান্ক্বিযূহু মিন্হু দ্বোয়া'উফাত্বত্বোয়া-লিবু অল্মাত্লূব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আল্লাহর যথার্থ মর্যাদা উলব্ধি করেনা। নিশ্চয়ই শক্তিধর, পরাক্রমশালী।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা বোঝেনি। নিশ্চয় শক্তিধর, মহাপরাক্রমশীল।

বাংলা উচ্চারণ

মা-ক্বদারু ল্লা-হা হাক্বক্ব ক্বদ্রিহ্ ইন্নাল্লা-হা লাক্বওয়ি্যুন্ 'আযীয্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরেশতাদের থেকে বাণী বাহক মনোনীত করেন এবং মানুষের মধ্য থেকেও মনোনীত করেন। সব শুনেন, সব দেখেন।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন। সর্বশ্রোতা, সর্ব দ্রষ্টা!

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা-হু ইয়াছ্ ত্বোয়াফী মিনাল্ মালা - য়িকাতি রুসুলাঁও অ মিনান্না-স্ ইন্নাল্লা-হা সামীউ'ম্ বার্ছী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের সামনে এবং পেছনে যা আছে সবই তিনি জানেন, আর সব বিষয় ফিরে যায় আল্লাহরই কাছে।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি জানেন যা তাদের সামনে আছে এবং যা পশ্চাতে আছে এবং সবকিছু আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া'লামু মা-বাইনা আইদীহিম্ অমা-খালফাহুম্ অইলা ল্লা-হি র্তুজ্বা'উল্ উর্মূ।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! রুকু করো, সাজদা করো এবং ইবাদত করো তোমাদের প্রভুর, আর (মানব) কল্যাণের কাজ করো, অবশ্যি তোমরা হবে। (সাজদা)

মুহিউদ্দীন খান

হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর এবং সৎকাজ সম্পাদন কর, যাতে তোমরা হতে পার।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মার্নু কা'ঊ অস্জ্ব ুদূ ওয়া'বুদূ রব্বাকুম্ অফ্'আলুল্ খইর লা'আল্লাকুম্ তুফ্লিহূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর জিহাদ করো আল্লাহর মধ্যে (উদ্দেশ্যে) জিহাদের হক আদায় করে। তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন এবং দীনের ব্যাপারে তিনি তোমাদের উপর কোনো কষ্ট চাপিয়ে দেননি। তোমাদের পিতা ইবরাহিমের আদর্শের উপর তোমরা প্রতিষ্ঠিত হও। আল্লাহ্ই তোমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’ পূর্বেও এবং এই কিতাবেও, যাতে করে এই রসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হয় আর তোমরাও সাক্ষী হও মানব জাতির উপর। অতএব তোমরা কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং আঁকড়ে ধরো আল্লাহকে। তিনিই তোমাদের মাওলা (অভিভাবক)। কতো যে উত্তম মাওলা তিনি এবং কতো যে উত্তম সাহায্যকারী!

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা আল্লাহর জন্যে শ্রম স্বীকার কর যেভাবে শ্রম স্বীকার করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে পছন্দ করেছেন এবং ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি। তোমরা তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের ধর্মে কায়েম থাক। তিনিই তোমাদের নাম মুসলমান রেখেছেন পূর্বেও এবং এই কোরআনেও, যাতে রসূল তোমাদের জন্যে সাক্ষ্যদাতা এবং তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলির জন্যে। সুতরাং তোমরা কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে শক্তভাবে ধারণ কর। তিনিই তোমাদের মালিক। অতএব তিনি কত উত্তম মালিক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী।

বাংলা উচ্চারণ

অ জ্বা-হিদূ ফিল্লা-হি হাক্বক্বা জ্বিহা -দিহ্ হুওয়াজ্বতাবা-কুম্ অমা-জ্বা'আলা আলাইকুম্ ফিদ্দীনি মিন্ হারাজ্ব্ মিল্লাতা আবীকুম্ ইব্রা-হীম্ হুঅ ছাম্মা-কুমুল্ মুস্লিমীনা মিন্ ক্বাব্লু অফী হাযা-লিয়াকূর্না রাসূলু শাহীদান্ 'আলাইকুম্ অ তাকূনূ শুহাদা - য়া 'আলান্ না-সি ফাআক্বীমুছ্ ছলা-তা অ আ-তুয্ যাকা- তা অ'তাছিমূ বিল্লা-হ্ হুঅ মাওলা-কুম্ ফানি'মাল্ মাওলা-অনি'মান্নার্ছী।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme