Kitab

আল হাদিদ (লোহা, ইস্পাত)

Chapter 57, 29 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • মুহিউদ্দীন খান
  • বাংলা উচ্চারণ
About this chapter


মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ২৯, রুকু সংখ্যা: ০৪

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-০৬মহাবিশ্বের সবকিছু আল্লাহর হুকুম মতো চলছে। আল্লাহ্ মহাবিশ্বের মালিক, জীবন মৃত্যুর মালিক। তিনি আদি ও অন্ত। তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন ছয়টি কালে। তিনি মহাবিশ্বের সম্রাট ও সর্বময় কর্তৃত্বের মালিক। ০৭-১১ঈমান আনার এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করার আহবান। ১২-১৯মুমিনদের পরকালীন নিষ্কৃতি। মুনাফিক ও কাফিরদের জন্য জাহান্নাম। আল্লাহর পথে দানকারীরা বহুগুণ বেশি ফেরত পাবে। ২০-২৪দুনিয়ার জীবন প্রকৃত জীবন নয়, পরকালীন জীবনই প্রকৃত জীবন। ২৫রসূলদের পাঠানোর উদ্দেশ্য। ২৬-২৯অতীতের রসূলদের দাওয়াতও কিছু লোক গ্রহণ করেছিল, কিছুলোক গ্রহণ করেনি। ঈমানের পথ আলোকিত পথ।
আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবাই আল্লাহর তসবিহ করছে এবং তিনি মহাশক্তিধর মহাপ্রজ্ঞাবান।

মুহিউদ্দীন খান

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবাই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি শক্তিধর; প্রজ্ঞাময়।

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম সাব্বাহা-লিল্লা-হি মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি অহুওয়াল্ 'আযীযুল্ হাকীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁর। তিনিই জীবনদান করেন এবং মউত ঘটান। তিনি প্রতিটি বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

মুহিউদ্দীন খান

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। তিনি সবকিছু করতে সক্ষম।

বাংলা উচ্চারণ

লাহু মুল্কুস্ সামা- ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি ইয়ুহ্য়ী অ ইয়ুমীতু অ হুওয়া 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বর্দী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনি প্রকাশ্য, তিনি গোপন এবং প্রতিটি বিষয়ে তিনি জ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ, তিনিই প্রকাশমান ও অপ্রকাশমান এবং তিনি সব বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।

বাংলা উচ্চারণ

হুওয়াল্ আউয়্যালু অল্ আ-খিরু অজ্জোয়া-হিরু অল্বা-ত্বিনু অহুওয়া বিকুল্লি শাইয়িন্ 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি সেই সত্তা, যিনি সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ ও পৃথিবী ছয়টি কালে, অত:পর তিনি সমাসীন হয়েছেন আরশে। তিনি জানেন যা প্রবেশ করে জমিনে এবং যা বের হয় জমিন থেকে, যা নাযিল হয় আসমান থেকে এবং যা মে’রাজ হয় (উঠে যায়) আসমানে। তিনি তোমাদের সাথে থাকেন, তোমরা যেখানেই থাকো। তোমরা যা করো তিনি সবকিছুর দ্রষ্টা।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি নভোমন্ডল ও ভূ - মন্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে, অতঃপর আরশের উপর সমাসীন হয়েছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা ভূমি থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক। তোমরা যা কর, তা দেখেন।

বাংলা উচ্চারণ

হুওয়া ল্লাযী খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া ফী সিত্তাতি আইয়্যা-মিন্ ছুম্মাস্ তাওয়া -'আলাল্ 'আরশ্ ইয়া'লামু মা ইয়ালিজুফিল্ র্আদ্বি অমা-ইয়াখ্রুজুমিন্হা-অমা-ইয়ান্যিলু মিনাস্ সামা-য়ি অমা-ইয়া'রুজু ফীহা- অহুওয়া মা'আকুম্ আইনা মা-কুন্তুম্ অল্লা-হু বিমা-তা'মালুনা বার্ছী।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁরই। আল্লাহর দিকেই ফিরে যায় সমস্ত বিষয়।

মুহিউদ্দীন খান

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব তাঁরই। সবকিছু তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করবে।

বাংলা উচ্চারণ

লাহূ মুল্কুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ অ ইলাল্লা-হি র্তুজ্বাউ'ল্ উর্মূ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই রাতকে ঢুকিয়ে দেন দিনের মধ্যে এবং দিনকে ঢুকিয়ে দেন রাতের মধ্যে এবং তিনিই অন্তরযামী।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে প্রবিষ্ট করেন রাত্রিতে। তিনি অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞাত।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ূলিজুল্লাইলা ফিন্নাহা-রি অইয়ু লিজুন্ নাহা-রা ফিল্ লাইল্ অহুওয়া 'আলীমুম্ বিযা-তিছ্ ছুর্দূ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি, তাঁর রসূলের প্রতি, আর তোমাদের যা কিছুর উত্তরাধিকারী করেছেন তা থেকে ব্যয় করো (আল্লাহর পথে)। তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনে এবং ব্যয় করে (আল্লাহর পথে) তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তিনি তোমাদেরকে যার উত্তরাধিকারী করেছেন, তা থেকে ব্যয় কর। অতএব, তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও ব্যয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার।

বাংলা উচ্চারণ

আ-মিনূ বিল্লা-হি অরাসূলিহী অ আন্ফিকুমিম্মা-জ্বা'আলাকুম্ মুস্তাখ্লাফীনা ফীহ্ ফাল্লাযীনা আ-মানূ মিন্কুম্ অআন্ফাকু লাহুম্ আজ্ব রুন্ কার্বী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কী হয়েছে, কেন তোমরা ঈমান আনোনা আল্লাহর প্রতি, অথচ রসূল তোমাদের দাওয়াত দিচ্ছেন ঈমান আনতে তোমাদের প্রভুর প্রতি, আর তো তোমাদের থেকে মজবুত অংগীকার গ্রহণ করেছেনই, যদি তোমরা হয়ে থাকো।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কি হল যে, তোমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছ না, অথচ রসূল তোমাদেরকে তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার দাওয়াত দিচ্ছেন? তো পূর্বেই তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছেন - যদি তোমরা হও।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-লাকুম্ লা-তুমিনূনা বিল্লা-হি র্অ রাসূলু ইয়াদ্'ঊকুম্ লিতুমিনূ বিরব্বিকুম্ অক্বদ্ আখাযা মীছা-ক্বকুম্ ইন্ কুন্তুম্ মুমিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তাঁর দাসের প্রতি নাযিল করেন সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ যা তোমাদের বের করে আনে অন্ধকাররাশি থেকে আলোতে এবং অবশ্যি তোমাদের প্রতি পরম করুণাময়, পরম দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই তাঁর দাসের প্রতি প্রকাশ্য আয়াত অবতীর্ণ করেন, যাতে তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোকে আনয়ন করেন। নিশ্চয় তোমাদের প্রতি করুণাময়, পরম দয়ালু।

বাংলা উচ্চারণ

হুওয়াল্লাযী ইয়ুনায্যিলু 'আলা-আব্দিহী য় আ-ইয়া-তিম্ বাইয়িনা-তিল্ লিইয়ুখ্রিজ্বাকুম্ মিনাজ্ জুলুমা-তি ইলান্নরু অইন্নাল্লা-হা বিকুম্ লারয়ূফুর রহীম্।

অল্লাযীনা আ-মানূ বিল্লা-হি অরুসুলিহী য় উলা-য়িকা হুমছ্ ছিদ্দীকুনা অশ্ শুহাদা-য়ু 'ইন্দা রব্বিহিম্ লাহুম্ আজ্ব রুহুম্ অনূরুহুম্ অল্লাযীনা কাফারূ অকায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা য় উলা-য়িকা আছ্হা- বুল্ জ্বাহীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কী হয়েছে, তোমরা কেন ব্যয় করবেনা আল্লাহর পথে? অথচ মহাকাশ এবং পৃথিবীর মালিকানা তো আল্লাহরই। তোমাদের যারা বিজয়ের আগে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে, তারা ঐসব লোকদের চেয়ে মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ, যারা ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে বিজয়ের পরে। তবে উভয়ের জন্যেই কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। তোমরা যা আমল করো সে বিষয়ে খবর রাখেন

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কিসে বাধা দেয়, যখন আল্লাহই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উত্তরাধিকারী? তোমাদের মধ্যে যে মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে, সে সমান নয়। এরূপ লোকদের মর্যদা বড় তাদের অপেক্ষা, যার পরে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে। তবে উভয়কে কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-লাকুম্ আল্লা-তুন্ফিক্বুফী সাবীলিল্লা-হি অলিল্লা-হি মীরাছুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি লা-ইয়াস্ তাওয়ী মিন্কুম্ মান্ আন্ফাক্বা মিন্ ক্বব্লিল্ ফাত্হি অক্ব- তাল্ উলা-য়িকা আ'জোয়ামু দারাজ্বাতাম্ মিনাল্ লাযীনা আন্ফাক্বু মিম্ বা'দু অক্ব-তালূ অকুল্লাওঁ অআ'দাল্লা-হুল্ হুস্না- অল্লা-হু বিমা-তা'মালূনা খর্বী।

আবদুস শহীদ নাসিম

কে আছে আল্লাহকে ‘করজে হাসানা’ (উত্তম ঋণ) দেবে, তাহলে তার জন্যে তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেবেন। তাছাড়া তার জন্যে থাকবে সম্মানজনক পুরস্কার।

মুহিউদ্দীন খান

কে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে উত্তম ধার দিবে, এরপর তিনি তার জন্যে তা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন এবং তার জন্যে রয়েছে সম্মানিত পুরস্কার।

বাংলা উচ্চারণ

মান যাল্লাযী ইয়ুক্ব রিদ্বুল্লা-হা র্ক্বদ্বোয়ান্ হাসানান্ ফাইয়ুদ্বোয়া-ই'ফাহূ লাহূ অলাহূ-আজ্ব্রুন্ কারীম্

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তুমি দেখবে, পুরুষ এবং নারীদের, তাদের নূর (আলো) তাদের সামনে এবং ডানে দৌড়াদৌড়ি করছে। তাদের বলা হবে: ‘আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার নিচে দিয়ে জারি থাকবে নদ নদী নহর। সেখানে থাকবে তোমরা চিরকাল। আর এটাই মহাসাফল্য।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন আপনি দেখবেন পুরুষ ও নারীদেরকে, তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটোছুটি করবে বলা হবেঃ আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াওমা তারাল্ মুমিনীনা অল্মু'মিনা-তি ইয়াস্'আ- নূরুহুম্ বাইনা আইদীহিম্ অবিআইমা-নিহিম্ বুশ্র-কুমুল্ ইয়াওমা জ্বান্না-তুন্ তাজ্ব রী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হা-রু খ-লিদীনা ফীহা- যা-লিকা হুওয়াল্ ফাওযুল্ 'আজীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন মুনাফিক পুরুষ এবং মুনাফিক নারীরা মুমিনদের বলবে: ‘আপনারা আমাদের জন্যে একটু অপেক্ষা করুন, যাতে আমরা আপনাদের নূর থেকে কিছু (আলো) গ্রহণ করতে পারি।’ তখন তাদের বলা হবে: ‘তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যাও এবং আলোর সন্ধান করোগিয়ে।’ তখন উভয়ের মাঝখানে স্থাপিত হয়ে যাবে একটি প্রাচীর, যাতে থাকবে একটি দরজা। তার ভেতরভাগে থাকবে রহমত (জান্নাত), আর বহির্ভাগে থাকবে আযাব (জাহান্নাম)।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন কপট পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও ও আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াওমা ইয়াকু লুল্ মুনা-ফিক্ব ূনা অল্ মুনা-ফিক্ব-তু লিল্লাযীনা আ-মানুন্ জুরূনা- নাক্ব্ তাবিস্ মিন্ নূরিকুম্ ক্বী র্লাজ্বি'ঊ অর-য়াকুম্ ফাল্তামিসূ নূরা- ফাদুরিবা বাইনাহুম্ বিসূরিল্লাহূ বা-ব্ বা-ত্বিনুহূ ফীর্হি রহ্মাতু অজোয়া-হিরুহূ মিন্ ক্বিবালিহিল্ 'আযা-ব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন মুনাফিকরা মুমিনদের ডেকে বলবে: ‘আমরা কি (পৃথিবীতে) আপনাদের সাথে ছিলাম না?’ তখন তারা বলবে: ‘হাঁ ছিলে, তবে তোমরা নিজেরাই নিজেদের ফিতনায় (পরীক্ষায়) ফেলেছিলে, তোমরা (আমাদের অমঙ্গলের) অপেক্ষা করছিলে, সন্দেহ পোষণ করছিলে এবং অবাস্তব আকাঙ্ক্ষা তোমাদের প্রতারিত করে রেখেছিল। এমনি করে আল্লাহর হুকুম (মৃত্যু কিংবা ইসলামের বিজয়) এসে পড়েছিল, আর মহাপ্রতারক (শয়তান) আল্লাহর ব্যাপারে তোমাদের প্রতারিত করে রেখেছিল।

মুহিউদ্দীন খান

তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হঁ্যা কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এই সবই তোমাদেরকে সম্পর্কে প্রতারিত করেছে।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ুনা-দূনাহুম্ আলাম্ নাকুম্ মা'আকুম্ ক্ব-লূ বালা-অলা- কিন্নাকুম্ ফাতান্তুম্ আন্ফুসাকুম্ অ তারব্বাছ্তুম্ র্অতাব্তুম্ অর্গরত্কুমুল্ আমা-নিয়্যু হাত্তা-জ্বা-য়া আমরুল্লা-হি অর্গরকুম্ বিল্লা-হিল্ গর্রূ।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং আজ তোমাদের থেকে কোনো ফিদিয়া (মুক্তিপণ) গ্রহণ করা হবেনা এবং কাফিরদের থেকেও নয়। জাহান্নামই হবে তোমাদের আবাস এবং সেটাই হবে তোমাদের মাওলা (তত্ত্বাবধায়ক), আর সেটা যে কতো নিকৃষ্ট পরিণাম!

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপন গ্রহণ করা হবে না। এবং কাফেরদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের সবার আবাস্থল জাহান্নাম। সেটাই তোমাদের সঙ্গী। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তন স্থল।

বাংলা উচ্চারণ

ফাল্ইয়াওমা লা- ইয়ুখাযু মিন্কুম্ ফিদ্ইয়াতুঁও অলা-মিনাল্লাযীনা কাফারূ মাওয়া-কুমুন্ নার্- হিয়া মাওলা-কুম্ অবিসাল্ মার্ছী।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর যিকির এবং তিনি যে মহাসত্য (আল কুরআন) নাযিল করেছেন তার পাঠে তাদের হৃদয় বিগলিত হবার সময় কি এখনো হয়নি? ইতোপূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছিল, এরা যেনো তাদের মতো না হয়। (তাদের অবস্থা এমন হয়েছিল যে,) একটা দীর্ঘসময় অতিবাহিত হবার পর তাদের অন্তর কঠিন হয়ে পড়েছিল এবং তাদের অনেকেই হয়ে পড়েছিল ফাসিক।

মুহিউদ্দীন খান

যারা , তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।

বাংলা উচ্চারণ

আলাম্ ইয়ানি লিল্লাযীনা আ-মানূ য় আন্ তাখ্শা'আ ক্ব লূবুহুম্ লিযিক্রিল্লা-হি অমা-নাযালা মিনাল্ হাক্ব ক্বি অলা-ইয়াকূনূ কাল্লাযীনা উতুল্ কিতা-বা মিন্ ক্বব্লু ফাত্বোয়া-লা 'আলাইহিমুল্ আমাদু ফাক্বসাত্ কুলূ বুহুম্ অকাছীরুম্ মিন্হুম্ ফা-সিকু ন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে রাখো, মরে শুকিয়ে যাবার পর জমিনকে পুনর্জীবিত করেন। এভাবে আমরা তোমাদের জন্যে বিশদ বিবরণ দেই আমাদের আয়াতের, যাতে করে তোমরা বুঝতে পারো।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা জেনে রাখ, আল্লাহই ভূ - ভাগকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন। আমি পরিস্কারভাবে তোমাদের জন্যে আয়াতগুলো ব্যক্ত করেছি, যাতে তোমরা বোঝ।

বাংলা উচ্চারণ

ই'লামূ য় আন্নাল্লা-হা ইয়ুহ্য়িল্ র্আদ্বোয়া বা'দা মাওতিহা- ক্বদ্ বাইইয়ান্না-লাকুমুল্ আ-ইয়া-তি লা'আল্লাকুম্ তা'ক্বিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই দানশীল পুরুষ এবং দানশীল নারীদের এবং যারা আল্লাহকে করযে হাসানা (উত্তম ঋণ) দেয়, তাদের (ফেরত) দেয়া হবে বহুগুণ বেশি এবং তাদের জন্যে রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় দানশীল ব্যক্তি ও দানশীলা নারী, যারা আল্লাহকে উত্তমরূপে ধার দেয়, তাদেরকে দেয়া হবে বহুগুণ এবং তাদের জন্যে রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্ মুছ্ছোয়াদ্দিক্বীনা অল্মুছ্ছোয়াদ্দিক্ব-তি অআক্ব রদ্বুল্লা-হা র্ক্বদ্বোয়ান্ হাসানাইঁ ইয়ুদ্বোয়া-'আফু লাহুম্ অলাহুম্ আজ্ব রুন্ কারীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি, তারাই তাদের প্রভুর কাছে সিদ্দিক (সত্যনিষ্ঠ) এবং শহীদ (সত্যের সাক্ষ্য)। তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে তাদের পুরস্কার এবং নূর। আর যারা কুফুরি করে এবং অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করে আমাদের আয়াত, তারাই হবে জাহিমের (জাহান্নামের) অধিবাসী।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তারাই তাদের পালনকর্তার কাছে সিদ্দীক ও শহীদ বলে বিবেচিত। তাদের জন্যে রয়েছে পুরস্কার ও জ্যোতি এবং যারা ও আমার নিদর্শন অস্বীকারকারী তারাই জাহান্নামের অধিবাসী হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে রাখো, দুনিয়ার জীবনটা হলো খেল তামাশা, চাকচিক্য, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধনমাল ও সন্তান - সন্ততির প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা। এর উপমা হলো বৃষ্টি, যার উৎপাদিত শস্য কৃষকদের উৎফুল্ল করে। তারপর তা শুকিয়ে যায়। ফলে তুমি দেখতে পাও তা হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে, অবশেষে তা পরিণত হয় খড়কুটায়। আর আখিরাতে রয়েছে কঠোর আযাব, মাগফিরাত (ক্ষমা) এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। দুনিয়ার জীবনটা প্রতারণার সামগ্রী ছাড়া আর কিছু নয়।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন ক্রীড়া - কৌতুক, সাজ - সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়, যেমন এক বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়।

বাংলা উচ্চারণ

'ইলামূ য় আন্নামাল্ হা ইয়া-তুদ্দুন্ইয়া- লা'ইবুঁও অলাহ্য়ুঁও অযীনাতুঁও অতাফা-খুরুম্ বাইনাকুম্ অতাকা-ছুরুন্ ফিল্ আম্ওয়া-লি অল্আওলাদ্ কামাছালি গইছিন্ আ'জ্বাবাল্ কুফ্ফা-রা নাবা-তুহূ ছুম্মা ইয়াহীজু ফাতার-হু মুর্ছ্ফারন্ ছুম্মা ইয়াকূনু হুত্বোয়া-মা- অফিল্ আ-খিরতি 'আযা-বুন্ শাদীদুঁও অমাগ্ফিরতুম্ মিনাল্লা-হি অরিদ্বওয়া-ন্ অমাল্ হা ইয়া-তুদ্ দুন্ইয়া য় ইল্লা-মাতা- উ'ল্ গুর্রু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা প্রতিযোগিতা করে দৌড়ে এসো তোমাদের প্রভুর ক্ষমার দিকে আর সেই জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান জমিনের প্রশস্ততার মতো। এই জান্নাত প্রস্ত্তত রাখা হয়েছে তাদের জন্যে, যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি এবং রসূলদের প্রতি। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। অতীব অনুগ্রহপরায়ণ।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে ও তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারীদের জন্যে। এটা আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা দান করেন। মহান কৃপার অধিকারী।

বাংলা উচ্চারণ

সা-বিকু য় ইলা- মাগ্ফিরতিম্ র্মি রব্বিকুম্ অজ্বান্নাতিন্ 'র্আদ্বুহা-কা'র্আদিস্ সামা-য়ি অল্র্আদ্বি উই'দ্দাত্ লিল্লাযীনা আ-মানূ বিল্লা-হি অরুসুলিহ্ যা-লিকা ফাদ্ব্লু ল্লা-হি ইয়ু”তীহি মাইঁ ইয়াশা-য়ু অল্লা-হু যুল্ফাদ্ব্লিল্ 'আজীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

পৃথিবীতে কিংবা তোমাদের জীবনে যে বিপদ মসিবত আসে, তা সংঘটিত করার আগেই লিপিবদ্ধ থাকে, এটা আল্লাহর জন্যে খুবই সহজ।

মুহিউদ্দীন খান

পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।

বাংলা উচ্চারণ

মা য় আছোয়া-বা মিম্ মুছীবাতিন্ ফিল্ র্আদ্বি অলা-ফী য় আন্ফুসিকুম্ ইল্লা-ফী কিতা-বিম্ মিন্ ক্বব্লি আন্ নাব্রয়াহা- ইন্না যা-লিকা 'আলাল্লা-হি ইয়াসীর।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে করে তোমরা যা হারাও, তাতে বিমর্ষ না হয়ে পড়ো এবং যা তিনি তোমাদের দেন তাতে অতি উৎফুল্ল না হয়ে পড়ো। তো উদ্ধত দাম্ভিকদের পছন্দ করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

এটা এজন্যে বলা হয়, যাতে তোমরা যা হারাও তজ্জন্যে দুঃখিত না হও এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তজ্জন্যে উল্লসিত না হও। কোন উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না,

বাংলা উচ্চারণ

লিকাইলা-তা”সাও 'আলা-মা-ফা-তাকুম্ অলা-তাফ্রহূ বিমা য় আ-তা-কুম্ অল্লা-হু লা-ইয়ুহিব্বু কুল্লা-মুখ্তা-লিন্ ফাখূরি।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বখিলি করে এবং মানুষকে বখিলি করার আদেশ করে এবং যারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা জেনে রাখুক, অভাবমুক্ত সপ্রশংসিত।

মুহিউদ্দীন খান

যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার প্রতি উৎসাহ দেয়, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার উচিত যে, অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।

বাংলা উচ্চারণ

নিল্লাযীনা ইয়াব্খালূনা অইয়া”মুরূনান্ না-সা বিল্বুখ্ল অ মাইঁ ইয়াতাওয়াল্লা ফাইন্নাল্লা-হা হুওয়াল্ গনিয়্যুল্ হামীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা আমাদের রসূলদের পাঠিয়েছি সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এবং তাদের সাথে আমরা নাযিল করেছি কিতাব আর মিজান (মানদন্ড), যাতে করে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে। তাছাড়া আমরা নাযিল করেছি ইস্পাত, যাতে রয়েছে প্রচন্ড শক্তি এবং মানুষের জন্যে বহু রকম মুনাফা। এটা এ জন্যে, যাতে বাস্তবে জেনে নেন, না দেখেও কারা আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলদেরকে সাহায্য করে? নিশ্চয়ই শক্তিমান, পরাক্রমশালী।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আমার রসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার। এটা এজন্যে যে, জেনে নিবেন কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রসূলগণকে সাহায্য করে। শক্তিধর, পরাক্রমশালী।

বাংলা উচ্চারণ

লাক্বদ্ র্আসাল্না রুসুলানা- বিল্বাইয়্যিনা-তি অআন্যাল্না- মাআ'হুমুল্ কিতা-বা অল্মীযা-না লিইয়াকুমা ন্না-সু বিল্ ক্বিস্ত্বি অ আন্যাল্নাল্ হাদীদা ফীহি বা”সুন্ শাদীদুঁও অমানা-ফি'উ লিন্না-সি অলিইয়া'লামা ল্লা-হু মাইঁ ইয়ান্ ছুরুহূ অরুসুলাহূ বিল্গইব্ ইন্নাল্লা-হা ক্বাওওয়িয়ুন্ 'আযীয্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা নূহ এবং ইবরাহিমকে রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছিলাম এবং তাদের বংশধরদের মধ্যে দিয়েছিলাম নবুয়্যত এবং কিতাব। কিন্তু তাদের কিছু লোক হিদায়াতের পথ অনুসরণ করলেও অধিকাংশই ছিলো ফাসিক।

মুহিউদ্দীন খান

আমি নূহ ও ইব্রাহীমকে রসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং তাদের বংশধরের মধ্যে নবুওয়ত ও কিতাব অব্যাহত রেখেছি। অতঃপর তাদের কতক সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অধিকাংশই হয়েছে পাপাচারী।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ র্আসাল্না-নূহাঁও অইব্রা-হীমা অজ্বা 'আল্না-ফী র্যুরিয়্যাতিহিমান্ নুবুওয়্যাতা অল্ কিতা-বা ফামিন্হুম্ মুহ্তাদিন্ অকাছীরুম্ মিন্হুম্ ফা-সিকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা তাদের আদর্শের অনুগামী করেছিলাম আরো অনেক রসূলকে এবং অনুগামী করেছিলাম ঈসা ইবনে মরিয়মকে আর তাকে দিয়েছিলাম ইনজিল। তার অনুসারীদের অন্তরে দিয়েছিলাম, করুণা এবং দয়া। আর বৈরাগ্য - যা তারা নিজেরাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে উদ্ভাবন করে নিয়েছিল, আমরা এই বিধান তাদের দেইনি। অথচ এটাও তারা যথাযথভাবে পালন করেনি। ফলে তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল আমরা তাদের দিয়েছিলাম তাদের পুরস্কার। তবে তাদের অধিকাংশই ছিলো ফাসিক (সত্যত্যাগী)।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি তাদের পশ্চাতে প্রেরণ করেছি আমার রসূলগণকে এবং তাদের অনুগামী করেছি মরিয়ম তনয় ঈসাকে ও তাকে দিয়েছি ইঞ্জিল। আমি তার অনুসারীদের অন্তরে স্থাপন করেছি নম্রতা ও দয়া। আর বৈরাগ্য, সে তো তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে; আমি এটা তাদের উপর ফরজ করিনি; কিন্তু তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে এটা অবলম্বন করেছে। অতঃপর তারা যথাযথভাবে তা পালন করেনি। তাদের মধ্যে যারা ছিল, আমি তাদেরকে তাদের প্রাপ্য পুরস্কার দিয়েছি। আর তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা ক্বাফ্ফাইনা 'আলা য় আ-ছা-রিহিম্ বিরুসুলিনা-অক্বাফ্ফাইনা-বিঈ'সাব্নি র্মাইয়ামা অআ-তাইনা-হুল্ ইন্জ্বীল অ জ্বা'আল্না-ফী কুলূ বিল্লাযীনা ত্তাবা'উহু রা”ফাতাঁও অরহ্মাহ্অরহ্বা নিয়্যাতানিব্ তাদা'ঊ হা- মা- কাতাব্না-হা-'আলাইহিম্ ইল্লাব্ তিগা-য়া রিদ্বওয়া-নিল্লা-হি ফামা-র'আওহা-হাক্ব ক্বা রি'আ-ইয়াতিহা-ফা'আ-তাইনাল্ লাযীনা আ-মানূ মিন্হুম্ আজ্ব রহুম্ অকাছীরুম্ মিন্হুম্ ফা-সিকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং ঈমান আনো তাঁর রসূলের প্রতি, তিনি তাঁর অনুগ্রহে তোমাদের দেবেন দ্বিগুণ পুরস্কার, আর তোমাদের দেবেন নূর (আলো) যার সাহায্যে তোমরা পথ চলবে (জীবন যাপন করবে) এবং তিনি তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি নিজে অনুগ্রহের দ্বিগুণ অংশ তোমাদেরকে দিবেন, তোমাদেরকে দিবেন জ্যোতি, যার সাহায্যে তোমরা চলবে এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। ক্ষমাশীল, দয়াময়।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহাল্ লাযীনা আ-মানুত্ তাকুল্লা-হা অআ-মিনূ বিরসূলিহী ইয়ু”তিকুম্ কিফ্লাইনি র্মি রহমাতিহী অইয়াজ্ব 'আল্ লাকুম্ নূরান্ তাম্শূনা বিহী অইয়ার্গ্ফিলাকুম্ অল্লা-হু গাফূর্রু রহীমুল্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা এজন্যে যে, আহলে কিতাবরা যেনো জানতে পারে, আল্লাহর সামান্যতম অনুগ্রহের উপরও তাদের কোনো অধিকার নেই। সমস্ত অনুগ্রহ আল্লাহরই এখতিয়ারে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর মহা অনুগ্রহশীল।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে কিতাবধারীরা জানে যে, আল্লাহর সামান্য অনুগ্রহের উপর ও তাদের কোন ক্ষমতা নেই, দয়া আল্লাহরই হাতে; তিনি যাকে ইচ্ছা, তা দান করেন। মহা অনুগ্রহশীল।

বাংলা উচ্চারণ

লিয়াল্লা-ইয়া'লামা আহ্লুল্ কিতা-বি আল্লা-ইয়াক্ব দিরূনা 'আলা-শাইয়িম্ মিন্ ফাদ্ব্লিল্লা-হি অআন্নাল্ ফাদ্ব লা বিয়াদি ল্লা-হি ইয়ু”তীহি মাইঁ ইয়াশা-য়ূ অল্লা -হু যুল্ ফাদ্ব্লিল্ 'আজীম্।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme