আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-১৭কুরআন আল্লাহর কিতাব। সমস্ত কর্তৃত্ব আল্লাহর। মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ। মানুষের কুফুরি। সবাই এবং সবকিছু আল্লাহর কর্তৃত্বের অধীন। বাতিলপন্থীরা বিলীন হয়ে যাবে, সত্যপন্থীরা টিকে থাকবে।
১৮-২৫সত্যপন্থীদের বৈশিষ্ট্য ও শুভ পরিণাম। বিশ্বাসঘাতক ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি।
২৬-৩১আল্লাহর রিযিক বণ্টন ব্যবস্থা। কাফির ও মুমিনদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য।
৩২-৪৩সকল নবীর সাথেই বিদ্রূপ করা হয়েছে। কুফুরির পথ ও তাকওয়ার পথ। ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী কাফিরদের অশুভ পরিণতি।
আবদুস শহীদ নাসিম
আলিফ লাম মিম রা। এগুলো আল কিতাবের (আল কুরআনের) আয়াত, যা তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে। তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে এ এক মহাসত্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই (তাতে) ঈমান আনেনা।
মুহিউদ্দীন খান
আলিফ - লাম - মীম - রা; এগুলো কিতাবের আয়াত। যা কিছু আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, তা সত্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এতে বিশ্বাস করে না।
بسم الله الرحمن الرحيم المر ۚ تلك آيات الكتاب ۗ والذي أنزل إليك من ربك الحق ولكن أكثر الناس لا يؤمنون
আবদুস শহীদ নাসিম
, যিনি মহাকাশকে উপরে উঠিয়ে দিয়েছেন স্তম্ভ ছাড়াই, তোমরা তা দেখতে পাচ্ছো। তারপর তিনি সমাসীন হয়েছেন আরশের উপর এবং সূর্যও চাঁদকে (নির্দিষ্ট বিধানের) অধীন করে দিয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে গতিমান। সমস্ত বিষয়ই তিনি পরিচালনা করেন এবং নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেন বিশদভাবে, যাতে তোমরা তোমাদের প্রভুর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে একীন রাখো।
মুহিউদ্দীন খান
, যিনি উর্ধ্বদেশে স্থাপন করেছেন আকাশমন্ডলীকে স্তম্ভ ব্যতীত। তোমরা সেগুলো দেখ। অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কর্মে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকে নির্দিষ্ট সময় মোতাবেক আবর্তন করে। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন, নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা স্বীয় পালনকর্তার সাথে সাক্ষাত সম্বন্ধে নিশ্চিত হও।
الله الذي رفع السماوات بغير عمد ترونها ۖ ثم استوى على العرش ۖ وسخر الشمس والقمر ۖ كل يجري لأجل مسمى ۚ يدبر الأمر يفصل الآيات لعلكم بلقاء ربكم توقنون
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি জমিনকে সমতল করে বিছিয়ে দিয়েছেন এবং তাতে সৃষ্টি করে দিয়েছেন পাহাড় - পর্বত আর নদ - নদী। সেখানে প্রত্যেক প্রকারের ফলফলারি সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়। তিনিই দিনকে ঢেকে দেন রাত দিয়ে। এতে অবশ্যি নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে।
মুহিউদ্দীন খান
তিনিই ভুমন্ডলকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে পাহাড় পর্বত ও নদ - নদী স্থাপন করেছেন এবং প্রত্যেক ফলের মধ্যে দু’দু প্রকার সৃষ্টি করে রেখেছেন। তিনি দিনকে রাত্রি দ্বারা আবৃত করেন। এতে তাদের জন্যে নিদর্শণ রয়েছে, যারা চিন্তা করে।
وهو الذي مد الأرض وجعل فيها رواسي وأنهارا ۖ ومن كل الثمرات جعل فيها زوجين اثنين ۖ يغشي الليل النهار ۚ إن في ذلك لآيات لقوم يتفكرون
আবদুস শহীদ নাসিম
এই পৃথিবীতে সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে পরস্পর কাছাকাছি ভূ - খন্ডসমূহ, তাতে রয়েছে আঙ্গুরের বাগান, শস্যক্ষেত, আর একাধিক মাথাওয়ালা এবং এক মাথাওয়ালা খেজুর গাছ। এগুলোকে পান করানো হয় একই পানি। সেগুলোর কিছু ফল ফসলকে কিছু ফল ফসলের উপর আমরা স্বাদের দিক থেকে চমৎকার করে দিই। যারা আকল খাটায় তাদের জন্যে এতে রয়েছে নিদর্শন।
মুহিউদ্দীন খান
এবং যমিনে বিভিন্ন শস্য ক্ষেত্র রয়েছে - একটি অপরটির সাথে সংলগ্ন এবং আঙ্গুরের বাগান আছে আর শস্য ও খর্জ্জুরের রয়েছে - একটির মূল অপরটির সাথে মিলিত এবং কতক মিলিত নয়। এগুলো কে একই পানি দ্বারা সেচ করা হয়। আর আমি স্বাদে একটিকে অপরটির চাইতে উৎকৃষ্টতর করে দেই। এগুলোর মধ্যে নিদর্শণ রয়েছে তাদের জন্য যারা চিন্তা ভাবনা করে।
وفي الأرض قطع متجاورات وجنات من أعناب وزرع ونخيل صنوان وغير صنوان يسقى بماء واحد ونفضل بعضها على بعض في الأكل ۚ إن في ذلك لآيات لقوم يعقلون
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি যদি বিস্মিত হও, তবে বিস্ময়কর হলো তাদের এই কথা, ‘মাটিতে মিশে যাবার পরও কি আমাদের আবার নতুন করে সৃষ্টি করা হবে?’ এরাই তাদের প্রভুর সাথে কুফুরি করেছে আর তাদের গলায়ই থাকবে লোহার শিকল এবং তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে থাকবে তারা চিরকাল।
মুহিউদ্দীন খান
যদি আপনি বিস্ময়ের বিষয় চান, তবে তাদের একথা বিস্ময়কর যে, আমরা যখন মাটি হয়ে যাব, তখনও কি নতুন ভাবে সৃজিত হব? এরাই স্বীয় পালনকর্তার সত্তায় অবিশ্বাসী হয়ে গেছে, এদের গর্দানেই লৌহ - শৃংখল পড়বে এবং এরাই দোযখী এরা তাতে চিরকাল থাকবে।
۞ وإن تعجب فعجب قولهم أإذا كنا ترابا أإنا لفي خلق جديد ۗ أولئك الذين كفروا بربهم ۖ وأولئك الأغلال في أعناقهم ۖ وأولئك أصحاب النار ۖ هم فيها خالدون
আবদুস শহীদ নাসিম
কল্যাণের আগেই তারা তোমাকে অকল্যাণ ত্বরান্বিত করতে বলে: যদিও তাদের আগে এ রকম কথার অনেক দৃষ্টান্ত বিগত হয়েছে। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মানুষের প্রতি তাদের যুলুম - সীমালঙ্ঘন সত্ত্বেও পরম ক্ষমাশীল। আবার তোমার প্রভু শাস্তি প্রদানেও কঠোর।
মুহিউদ্দীন খান
এরা আপনার কাছে মঙ্গলের পরিবর্তে দ্রুত অমঙ্গল কামনা করে। তাদের পূর্বে অনুরূপ অনেক শাস্তিপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী অতিক্রান্ত হয়েছে। আপনার পালনকর্তা মানুষকে তাদের অন্যায় সত্বেও ক্ষমা করেন এবং আপনার পালনকর্তা কঠিন শাস্তিদাতা ও বটে।
ويستعجلونك بالسيئة قبل الحسنة وقد خلت من قبلهم المثلات ۗ وإن ربك لذو مغفرة للناس على ظلمهم ۖ وإن ربك لشديد العقاب
আবদুস শহীদ নাসিম
কাফিররা বলে: ‘তার প্রতি তার প্রভুর পক্ষ থেকে কোনো নিদর্শন নাযিল হলোনা কেন?’ তুমি তো কেবল একজন সতর্ককারী মাত্র আর প্রত্যেক কওমেরই ছিলো একজন সতর্ককারী।
মুহিউদ্দীন খান
কাফেররা বলেঃ তাঁর প্রতি তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হল না কেন? আপনার কাজ তো ভয় প্রদর্শন করাই এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যে পথপ্রদর্শক হয়েছে।
سواء منكم من أسر القول ومن جهر به ومن هو مستخف بالليل وسارب بالنهار
আবদুস শহীদ নাসিম
তার (মানুষের) জন্যে তার সামনে এবং পেছনে একের পর এক পাহারাদার নিযুক্ত থাকে আল্লাহর নির্দেশে। তারা তার হিফাযত করে। কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেননা, যতোক্ষণ না তারা নিজেরাই নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। যখন কোনো জাতির অকল্যাণ চান, তখন তা আর রদ হয়না। তাদের জন্যে ছাড়া আর কোনো অলি নেই।
মুহিউদ্দীন খান
তাঁর পক্ষ থেকে অনুসরণকারী রয়েছে তাদের অগ্রে এবং পশ্চাতে, আল্লাহর নির্দেশে তারা ওদের হেফাযত করে। কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। যখন কোন জাতির উপর বিপদ চান, তখন তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।
له معقبات من بين يديه ومن خلفه يحفظونه من أمر الله ۗ إن الله لا يغير ما بقوم حتى يغيروا ما بأنفسهم ۗ وإذا أراد الله بقوم سوءا فلا مرد له ۚ وما لهم من دونه من وال
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনিই তোমাদেরকে বিদ্যুত চমকিয়ে ভয় এবং আশা দেখান। তিনিই সৃষ্টি করেন বর্ষণমুখী ভারি মেঘ।
মুহিউদ্দীন খান
তিনিই তোমাদেরকে বিদ্যুৎ দেখান ভয়ের জন্যে এবং আশার জন্যে এবং উক্ষিত করেন ঘন মেঘমালা।
هو الذي يريكم البرق خوفا وطمعا وينشئ السحاب الثقال
আবদুস শহীদ নাসিম
বজ্রধ্বনি প্রশংসার সাথে তাঁর তসবিহ করে এবং ফেরেশতারাও করে তাঁর ভয়ে। তিনি বজ্রপাত ঘটান এবং তা দিয়ে যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন। তারা সম্পর্কে বিতর্ক করে, অথচ তিনি মহাশক্তিমান।
মুহিউদ্দীন খান
তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা, সভয়ে। তিনি বজ্রপাত করেন, অতঃপর যাকে ইচছা, তাকে তা দ্বারা আঘাত করেন; তথাপি তারা সম্পর্কে বিতন্ডা করে, অথচ তিনি মহাশক্তিশালী।
ويسبح الرعد بحمده والملائكة من خيفته ويرسل الصواعق فيصيب بها من يشاء وهم يجادلون في الله وهو شديد المحال
আবদুস শহীদ নাসিম
সত্যের দাওয়াত তাঁরই জন্যে (তাঁরই দিকে) হবে। যারা তাঁকে ছাড়া অন্যদের ডাকে, তারা তাদের ডাকে কিছুমাত্র সাড়া দেয়না। তাদের উপমা হলো ঐ ব্যক্তি, যে তার দুই হাত প্রসারিত করেছে যেনো তার মুখে পানি পৌঁছে, অথচ তা তার মুখে পৌঁছার নয়। কাফিরদের আহবান একেবারেই নিষ্ফল।
মুহিউদ্দীন খান
সত্যের আহবান একমাত্র তাঁরই এবং তাকে ছাড়া যাদেরকে ডাকে, তারা তাদের কোন কাজে আসে না; ওদের দৃষ্টান্ত সেরূপ, যেমন কেউ দু’ হাত পানির দিকে প্রসারিত করে যাতে পানি তার মুখে পৌঁছে যায়। অথচ পানি কোন সময় পৌঁছাবে না। কাফেরদের যত আহবান তার সবই পথভ্রষ্টতা।
ولله يسجد من في السماوات والأرض طوعا وكرها وظلالهم بالغدو والآصال ۩
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘মহাকাশ এবং পৃথিবীর রব কে?’ বলো: ‘’। বলো: তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে এমন সব অলি গ্রহণ করেছো যারা তাদের নিজেদেরও লাভ কিংবা ক্ষতি করতে সক্ষম নয়? জিজ্ঞেস করো, অন্ধ আর চক্ষুষ্মান কি সমান? নাকি আলো আর অন্ধকার সমান? নাকি তারা যাদের আল্লাহর সাথে শরিক বানিয়েছে তারা আল্লাহর সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করে যে কারণে সৃষ্টি তাদের কাছে সদৃশ মনে হয়? বলো: এক মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্ই সবকিছুর স্রষ্টা।
মুহিউদ্দীন খান
জিজ্ঞেস করুন নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের পালনকর্তা কে? বলে দিনঃ ! বলুনঃ তবে কি তোমরা ব্যতীত এমন অভিভাবক স্থির করেছ, যারা নিজেদের ভাল - মন্দের ও মালিক নয়? বলুনঃ অন্ধ চক্ষুষ্মান কি সমান হয়? অথবা কোথাও কি অন্ধকার ও আলো সমান হয়। তবে কি তারা আল্লাহর জন্য এমন অংশীদার স্থির করেছে যে, তারা কিছু সৃষ্টি করেছে, যেমন সৃষ্টি করেছেন ? অতঃপর তাদের সৃষ্টি এরূপ বিভ্রান্তি ঘটিয়েছে? বলুনঃ আল্লাহই প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি একক, পরাক্রমশালী।
قل من رب السماوات والأرض قل الله ۚ قل أفاتخذتم من دونه أولياء لا يملكون لأنفسهم نفعا ولا ضرا ۚ قل هل يستوي الأعمى والبصير أم هل تستوي الظلمات والنور ۗ أم جعلوا لله شركاء خلقوا كخلقه فتشابه الخلق عليهم ۚ قل الله خالق كل شيء وهو الواحد القهار
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনিই আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন, ফলে উপত্যকাসমূহ পরিমাণ মতো প্লাবিত হয়। আর প্লাবন তার উপরে আবর্জনা বহন করে বুদবুদ আকারে। এছাড়া তোমরা অলংকার কিংবা তৈজসপত্র তৈরির জন্যে যেসব ধাতু আগুনে বিগলিত করো সেগুলোর উপরিভাগেও অনুরূপ আবর্জনা ভেসে উঠে বুদ্বুদ আকারে। এভাবেই হক এবং বাতিলের উপমা দিয়ে থাকেন। অত:পর আবর্জনা সমেত বুদ্বুদ বিলীন হয়ে যায়, আর যা মানুষের জন্যে কল্যাণকর তা জমিনে জমে থাকে। এভাবেই উপমা দিয়ে থাকেন।
মুহিউদ্দীন খান
তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর স্রোতধারা প্রবাহিত হতে থাকে নিজ নিজ পরিমাণ অনুযায়ী। অতঃপর স্রোতধারা স্ফীত ফেনারাশি উপরে নিয়ে আসে। এবং অলঙ্কার অথবা তৈজসপত্রের জন্যে যে বস্তুকে আগুনে উত্তপ্ত করে, তাতেও তেমনি ফেনারাশি থাকে। এমনি ভাবে সত্য ও অসত্যের দৃষ্টান্ত প্রদান করেন। অতএব, ফেনা তো শুকিয়ে খতম হয়ে যায় এবং যা মানুষের উপকারে আসে, তা জমিতে অবশিষ্ট থাকে। এমনিভাবে দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন।
أنزل من السماء ماء فسالت أودية بقدرها فاحتمل السيل زبدا رابيا ۚ ومما يوقدون عليه في النار ابتغاء حلية أو متاع زبد مثله ۚ كذلك يضرب الله الحق والباطل ۚ فأما الزبد فيذهب جفاء ۖ وأما ما ينفع الناس فيمكث في الأرض ۚ كذلك يضرب الله الأمثال
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা তাদের রবের আহবানে সাড়া দেয় তাদের জন্যে রয়েছে হুসনা (কল্যাণ)। আর যারা তাঁর আহবানে সাড়া দেয়না, পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই যদি তাদের থাকতো এবং সেই সাথে অনুরূপ আরো থাকতো, তারা (আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচার জন্যে) মুক্তিপণ হিসেবে সেই সবই দিয়ে দিতো। তাদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট হিসাব এবং তাদের আবাস হবে জাহান্নাম। সেটা খুবই নিকৃষ্ট বিশ্রামের জায়গা।
মুহিউদ্দীন খান
যারা পালনকর্তার আদেশ পালন করে, তাদের জন্য উত্তম প্রতিদান রয়েছে এবং যারা আদেশ পালন করে না, যদি তাদের কাছে জগতের সবকিছু থাকে এবং তার সাথে তার সমপরিমাণ আরও থাকে, তবে সবই নিজেদের মুক্তিপণ স্বরূপ দিয়ে দেবে। তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর হিসাব। তাদের আবাস হবে জাহান্নাম। সেটা কতইনা নিকৃষ্ট অবস্থান।
للذين استجابوا لربهم الحسنى ۚ والذين لم يستجيبوا له لو أن لهم ما في الأرض جميعا ومثله معه لافتدوا به ۚ أولئك لهم سوء الحساب ومأواهم جهنم ۖ وبئس المهاد
আবদুস শহীদ নাসিম
যে ব্যক্তি জানে তোমার প্রভুর নিকট থেকে তোমার কাছে মহাসত্য নাযিল হয়েছে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য, যে (এ ব্যাপারে) অন্ধ? অনুধাবন করে তো বোধশক্তি সম্পন্ন লোকেরাই,
মুহিউদ্দীন খান
যে ব্যক্তি জানে যে, যা কিছু পালনকর্তার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে তা সত্য সে কি ঐ ব্যক্তির সমান, যে অন্ধ? তারাই বোঝে, যারা বোধশক্তি সম্পন্ন।
والذين يصلون ما أمر الله به أن يوصل ويخشون ربهم ويخافون سوء الحساب
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা তাদের প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের লক্ষ্যে সবর অবলম্বন করে, কায়েম করে, আমাদের দেয়া জীবিকা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় (দান) করে এবং ভালো দিয়ে মন্দ দূর করে, তাদেরই জন্যে রয়েছে পরিণামের ঘর।
মুহিউদ্দীন খান
এবং যারা স্বীয় পালনকর্তার সন্তুষ্টির জন্যে সবর করে, প্রতিষ্টা করে আর আমি তাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্য ব্যয় করে এবং যারা মন্দের বিপরীতে ভাল করে, তাদের জন্যে রয়েছে পরকালের গৃহ।
والذين صبروا ابتغاء وجه ربهم وأقاموا الصلاة وأنفقوا مما رزقناهم سرا وعلانية ويدرءون بالحسنة السيئة أولئك لهم عقبى الدار
আবদুস শহীদ নাসিম
তা হলো চিরস্থায়ী জান্নাত, তাতেই তারা দাখিল হবে এবং তাদের বাবা - মা, স্বামী - স্ত্রী ও সন্তান - সন্ততিদের মধ্যে যারা নিজেদের এসলাহ (সংশোধন) করেছে তারাও। প্রত্যেক দরজা দিয়ে ফেরেশতারা তাদের কাছে দাখিল হবে।
মুহিউদ্দীন খান
তা হচ্ছে বসবাসের বাগান। তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ - দাদা, স্বামী - স্ত্রী ও সন্তানেরা। ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে।
পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর সাথে মজবুত অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে, যাদের সাথে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সেসব সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের প্রতি লানত এবং তাদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস।
মুহিউদ্দীন খান
এবং যারা আল্লাহর অঙ্গীকারকে দৃঢ় ও পাকা - পোক্ত করার পর তা ভঙ্গ করে, যে, সম্পর্ক বজায় রাখতে আদেশ করেছেন, তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, ওরা ঐ সমস্ত লোক যাদের জন্যে রয়েছে অভিসম্পাত এবং ওদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাব।
والذين ينقضون عهد الله من بعد ميثاقه ويقطعون ما أمر الله به أن يوصل ويفسدون في الأرض ۙ أولئك لهم اللعنة ولهم سوء الدار
আবদুস শহীদ নাসিম
যার জন্যে ইচ্ছে জীবিকা বিস্তৃত করে দেন এবং যাকে ইচ্ছা সীমিত করে দেন। তারা দুনিয়ার জীবন নিয়েই উৎফুল্ল, অথচ দুনিয়ার জীবন আখিরাতের তুলনায় একটি ক্ষণস্থায়ী ভোগের সময় মাত্র।
মুহিউদ্দীন খান
যার জন্যে ইচ্ছা রুযী প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। তারা পার্থিব জীবনের প্রতি মুগ্ধ। পার্থিবজীবন পরকালের সামনে অতি সামান্য সম্পদ বৈ নয়।
الله يبسط الرزق لمن يشاء ويقدر ۚ وفرحوا بالحياة الدنيا وما الحياة الدنيا في الآخرة إلا متاع
আবদুস শহীদ নাসিম
কাফিররা বলে: ‘তার প্রতি তার প্রভুর নিকট থেকে কোনো নিদর্শন নাযিল হলোনা কেন?’ তুমি বলো: ‘‘ যাকে ইচ্ছা বিপথগামী করে দেন। আর তাঁর দিকে পথ দেখান তাদেরকেই যারা তাঁর অভিমুখী হয়,
মুহিউদ্দীন খান
কাফেররা বলেঃ তাঁর প্রতি তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন কেন অবতীর্ণ হলো না? বলে দিন, যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যে, মনোনিবেশ করে, তাকে নিজের দিকে পথপ্রদর্শন করেন।
(পূর্বের রসূলদের মতো) একইভাবে আমরা তোমাকে পাঠিয়েছি একটি উম্মতের কাছে। তাদের আগেও অতীত হয়েছে অনেক উম্মত। উদ্দেশ্য হলো: তুমি তাদের প্রতি তিলাওয়াত করবে যা আমরা তোমার কাছে নাযিল করেছি অহির মাধ্যমে। অথচ তারা দয়াময় রহমানের প্রতি কুফুরি করছে। তুমি বলো: ‘তিনিই আমার রব, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই, তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করেছি এবং তাঁরই কাছে হবে আমার প্রত্যাবর্তন।’
মুহিউদ্দীন খান
এমনিভাবে আমি আপনাকে একটি উম্মতের মধ্যে প্রেরণ করেছি। তাদের পূর্বে অনেক উম্মত অতিক্রান্ত হয়েছে। যাতে আপনি তাদেরকে ঐ নির্দেশ শুনিয়ে দেন, যা আমি আপনার কাছে প্রেরণ করেছি। তথাপি তারা দয়াময়কে অস্বীকার করে। বলুনঃ তিনিই আমার পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কারও উপাসনা নাই। আমি তাঁর উপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমার প্রত্যাবর্তণ।
كذلك أرسلناك في أمة قد خلت من قبلها أمم لتتلو عليهم الذي أوحينا إليك وهم يكفرون بالرحمن ۚ قل هو ربي لا إله إلا هو عليه توكلت وإليه متاب
আবদুস শহীদ নাসিম
যদি এমন কোনো কুরআন হতো যার স্পর্শে পর্বতমালা চলতো, কিংবা পৃথিবীকে বিদীর্ণ করা যেতো, অথবা তাতে মৃতদের সাথে কথা বলা যেতো (তবু তারা সেই কুরআনের প্রতি ঈমান আনতো না)। বরং সমস্ত কর্তৃত্ব আল্লাহর। যারা ঈমান এনেছে এখনো কি তাদের হতাশা কাটেনি যে, চাইলে সমস্ত মানুষকেই হিদায়াত করতে পারতেন? যারা কুফুরি করেছে তাদের কর্মকান্ডের জন্যে তাদের উপর আপদ আসতেই থাকবে। অথবা আপদ তাদের ঘরের আশে পাশেই ঘটতে থাকবে, যতোক্ষণ না আল্লাহর ওয়াদা (করা সময়টি) এসে পড়বে। কখনো ওয়াদা খেলাফ করেন না।
মুহিউদ্দীন খান
যদি কোন কোরআন এমন হত, যার সাহায্যে পাহাড় চলমান হয় অথবা যমীন খন্ডিত হয় অথবা মৃতরা কথা বলে, তবে কি হত? বরং সব কাজ তো আল্লাহর হাতে। ঈমানদাররা কি এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয় যে, যদি চাইতেন, তবে সব মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করতেন? কাফেররা তাদের কৃতকর্মের কারণে সব সময় আঘাত পেতে থাকবে অথবা তাদের গৃহের নিকটবর্তী স্থানে আঘাত নেমে আসবে, যে, পর্যন্ত আল্লাহর ওয়াদা না আসে। নিশ্চয় ওয়াদার খেলাফ করেন না।
ولو أن قرآنا سيرت به الجبال أو قطعت به الأرض أو كلم به الموتى ۗ بل لله الأمر جميعا ۗ أفلم ييأس الذين آمنوا أن لو يشاء الله لهدى الناس جميعا ۗ ولا يزال الذين كفروا تصيبهم بما صنعوا قارعة أو تحل قريبا من دارهم حتى يأتي وعد الله ۚ إن الله لا يخلف الميعاد
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার আগেকার বহু রসূলকেই বিদ্রূপ করা হয়েছিল। ফলে যারা কুফুরি করেছিল, আমরা তাদেরকে কিছুটা অবকাশ দিয়েছিলাম, অত:পর তাদের পাকড়াও করেছি। কেমন ছিলো আমার শাস্তি?
মুহিউদ্দীন খান
আপনার পূর্বে কত রাসূলের সাথে ঠাট্টা করা হয়েছে। অতঃপর আমি কাফেরদেরকে কিছু অবকাশ দিয়েছি। , এর পর তাদেরকে পাকড়াও করেছি। অতএব কেমন ছিল আমার শাস্তি।
ولقد استهزئ برسل من قبلك فأمليت للذين كفروا ثم أخذتهم ۖ فكيف كان عقاب
আবদুস শহীদ নাসিম
তবে কি প্রতিটি মানুষ যা উপার্জন (আমল) করে, যিনি তার পর্যবেক্ষক, তিনি তাদের অক্ষম ইলাহ্গুলোর মতো? তারপরও তারা আল্লাহর সাথে শরিক বানিয়ে নিয়েছে। বলো: ‘তাদের পরিচয় দাও।’ তোমরা কি পৃথিবীর মধ্যে তাঁকে এমন কিছুর সংবাদ দিতে চাও, যা তিনি জানেন না? নাকি তা বাহ্যিক কথা মাত্র? বরং কাফিরদের কাছে তাদের চক্রান্তগুলোকে শোভনীয় করে দেয়া হয়েছে এবং তাদেরকে বাধা দেয়া হয়েছে সঠিক পথ থেকে। আর যাদের বিপথগামী করে দেন, তাদের কোনো হাদি (সঠিক পথ প্রদর্শক) নেই।
মুহিউদ্দীন খান
ওরা প্রত্যেকেই কি মাথার উপর স্ব স্ব কৃতকর্ম নিয়ে দন্ডায়মান নয়? এবং তারা আল্লাহর জন্য অংশীদার সাব্যস্ত করে। বলুন; নাম বল অথবা খবর দাও পৃথিবীর এমন কিছু জিনিস সম্পর্কে যা তিনি জানেন না? অথবা অসার কথাবার্তা বলছ? বরং সুশোভিত করা হয়েছে কাফেরদের জন্যে তাদের প্রতারণাকে এবং তাদেরকে সৎপথ থেকে বাধা দান করা হয়েছে। যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন পথ প্রদর্শক নেই।
أفمن هو قائم على كل نفس بما كسبت ۗ وجعلوا لله شركاء قل سموهم ۚ أم تنبئونه بما لا يعلم في الأرض أم بظاهر من القول ۗ بل زين للذين كفروا مكرهم وصدوا عن السبيل ۗ ومن يضلل الله فما له من هاد
আবদুস শহীদ নাসিম
দুনিয়ার জীবনেও তাদের জন্যে রয়েছে আযাব, আর আখিরাতের আযাব তো আরো কঠোর। আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচানোর জন্যে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই।
মুহিউদ্দীন খান
দুনিয়ার জীবনেই এদের জন্য রয়েছে আযাব এবং অতি অবশ্য আখেরাতের জীবন কঠোরতম। আল্লাহর কবল থেকে তাদের কোন রক্ষাকারী নেই।
لهم عذاب في الحياة الدنيا ۖ ولعذاب الآخرة أشق ۖ وما لهم من الله من واق
আবদুস শহীদ নাসিম
মুত্তাকিদের যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার উপমা হলো এরকম, যেমন তার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর, তার ফলন ও ছায়া হবে চিরস্থায়ী। এটাই মুত্তাকিদের (শুভ) পরিণাম। আর কাফিরদের পরিণাম হলো জাহান্নাম।
মুহিউদ্দীন খান
পরহেযগারদের জন্যে প্রতিশ্রুত জান্নাতের অবস্থা এই যে, তার নিম্নে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। তার ফলসমূহ চিরস্থায়ী এবং ছায়াও। এটা তাদের প্রতিদান, যারা সাবধান হয়েছে এবং কাফেরদের প্রতিফল অগ্নি।
۞ مثل الجنة التي وعد المتقون ۖ تجري من تحتها الأنهار ۖ أكلها دائم وظلها ۚ تلك عقبى الذين اتقوا ۖ وعقبى الكافرين النار
আবদুস শহীদ নাসিম
যাদেরকে আমরা কিতাব দিয়েছি, তোমার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তাতে তারা আনন্দ পায়। কিন্তু কোনো কোনো দল সেটার কিছু কিছু অংশ অস্বীকার করে। বলো: ‘আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমি যেনো এক আল্লাহর ইবাদত করি এবং তাঁর সাথে কাউকেও শরিক না করি। আমি তাঁরই দিকে আহবান জানাই এবং তাঁরই কাছে হবে আমার প্রত্যাবর্তন।
মুহিউদ্দীন খান
এবং যাদেরকে আমি গ্রন্থ দিয়েছি, তারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তজ্জন্যে আনন্দিত হয় এবং কোন কোন দল এর কোন কোন বিষয় অস্বীকার করে। বলুন, আমাকে এরূপ আদেশই দেয়া হয়েছে যে, আমি আল্লাহর এবাদত করি। এবং তাঁর সাথে অংশীদার না করি। আমি তাঁর দিকেই দাওয়াত দেই এবং তাঁর কাছেই আমার প্রত্যাবর্তন।
والذين آتيناهم الكتاب يفرحون بما أنزل إليك ۖ ومن الأحزاب من ينكر بعضه ۚ قل إنما أمرت أن أعبد الله ولا أشرك به ۚ إليه أدعو وإليه مآب
আবদুস শহীদ নাসিম
এভাবেই আমরা সেটিকে নাযিল করেছি একটি বিধান হিসাবে আরবি ভাষায়। তোমার কাছে এলেম আসার পর তুমি যদি তাদের ইচ্ছা বাসনার ইত্তেবা (অনুসরণ) করো, তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার কোনো অভিভাবক এবং রক্ষাকারী থাকবে না।
মুহিউদ্দীন খান
এমনিভাবেই আমি এ কোরআনকে আরবী ভাষায় নির্দেশরূপে অবতীর্ণ করেছি। যদি আপনি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন আপনার কাছে জ্ঞান পৌঁছার পর, তবে আল্লাহর কবল থেকে আপনার না কোন সাহায্যকারী আছে এবং না কোন রক্ষাকারী।
وكذلك أنزلناه حكما عربيا ۚ ولئن اتبعت أهواءهم بعدما جاءك من العلم ما لك من الله من ولي ولا واق
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার আগেও আমরা বহু রসূল পাঠিয়েছিলাম এবং তাদেরও দিয়েছিলাম স্ত্রী এবং সন্তান - সন্ততি। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো নিদর্শন উপস্থিত করা কোনো রসূলের কাজ নয়। প্রত্যেক বিষয়েরই নির্ধারিত মেয়াদ লেখা রয়েছে।
মুহিউদ্দীন খান
আপনার পূর্বে আমি অনেক রসূল প্রেরণ করেছি এবং তাঁদেরকে পত্নী ও সন্তান - সন্ততি দিয়েছি। কোন রসূলের এমন সাধ্য ছিল না যে আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কোন নিদর্শন উপস্থিত করে। প্রত্যেকটি ওয়াদা লিখিত আছে।
(হে মুহাম্মদ!) তাদেরকে আমরা যে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তার কিছুটা যদি তোমার জীবদ্দশাতেই তোমাকে দেখাই, কিংবা যদি তার আগেই তোমার ওফাত ঘটিয়ে দেই (তাতে কিছু যায় আসেনা, সর্বাবস্থায়ই) তোমার দায়িত্ব তো কেবল (বার্তা) পৌঁছে দেয়া, আর আমাদের দায়িত্ব হিসাব নেয়া।
মুহিউদ্দীন খান
আমি তাদের সাথে যে ওয়াদা করেছি, তার কোন একটি যদি আপনাকে দেখিয়ে দেই কিংবা আপনাকে উঠিয়ে নেই, তাতে কি আপনার দায়িত্ব তো পৌছে দেয়া এবং আমার দায়িত্ব হিসাব নেয়া।
وإن ما نرينك بعض الذي نعدهم أو نتوفينك فإنما عليك البلاغ وعلينا الحساب
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি দেখেনা, আমরা তাদের ভূ - খন্ডকে চারদিক থেকে সংকুচিত করে আনছি? ফায়সালা তো করেন । তাঁর ফায়সালা রদ করার কেউ নেই। তিনি হিসাব গ্রহণে দ্রুত।
মুহিউদ্দীন খান
তারা কি দেখে না যে, আমি তাদের দেশকে চতুর্দিক থেকে সমানে সঙ্কুচিত করে আসছি? নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশকে পশ্চাতে নিক্ষেপকারী কেউ নেই। তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণ করেন।
أولم يروا أنا نأتي الأرض ننقصها من أطرافها ۚ والله يحكم لا معقب لحكمه ۚ وهو سريع الحساب
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের পূর্বেকার কাফিররাও (রসূলদের বিরুদ্ধে) ষড়যন্ত্র করেছিল। অথচ সব চক্রান্ত আল্লাহর এখতিয়ারে। প্রতিটি মানুষ যা কামাই করে, তা জানেন। অচিরেই কাফিররা জানতে পারবে শুভ পরিণামের ঘর কার?
মুহিউদ্দীন খান
তাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা চক্রান্ত করেছে। আর সকল চক্রান্ত তো আল্লাহর হাতেই আছে। তিনি জানেন প্রত্যেক ব্যক্তি যা কিছু করে। কাফেররা জেনে নেবে যে, পর জীবনের আবাসস্থল কাদের জন্য রয়েছে।