হে বস্ত্রাচ্ছাদিত !
হে চাদরাবৃত!
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; হে বস্ত্রাবৃত,
হে বস্ত্রাচ্ছাদিত!
Chapter 74, 56 verses
হে বস্ত্রাচ্ছাদিত !
হে চাদরাবৃত!
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; হে বস্ত্রাবৃত,
হে বস্ত্রাচ্ছাদিত!
উঠো, (মানুষকে) সতর্ক করো।
উঠুন, সতর্ক করুন,
উঠো, অতঃপর সতর্ক কর,
উঠ, আর সতর্ক কর,
তোমার রব - এর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো।
আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষনা করুন,
এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।
এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।
তোমার পোশাক পরিচ্ছদ পবিত্র রাখো।
আপন পোশাক পবিত্র করুন
এবং তোমার পোশাক পরিচ্ছন্ন রাখ,
তোমার পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ,
আবিলতা (শিরকের অপবিত্রতা) পরিত্যাগ করো।
এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন।
এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকো,
পৌত্তলিকতা পরিহার করিয়া চল,
বেশি পাওয়ার আশায় উপকার করোনা।
অধিক প্রতিদানের আশায় অন্যকে কিছু দিবেন না।
এবং অধিক পাওয়ার আশায় দান করো না,
অধিক পাওয়ার প্রত্যাশায় দান করিও না।
আর তোমার প্রভুর উদ্দেশ্যে সবর অবলম্বন করো।
এবং আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে সবর করুন।
এবং তোমার প্রতিপালকের জন্য ধৈর্য ধারণ করো।
এবং তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ কর।
যখন ফুৎকার দেয়া হবে শিংগায়,
যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে;
অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে,
যেদিন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে
সেদিনটি হবে এক কঠিন দিন।
সেদিন হবে কঠিন দিন,
তখন সে দিন হবে এক কঠিন দিন,
সেই দিন হইবে এক সংকটের দিন -
সেটি সহজ হবেনা কাফিরদের জন্যে।
কাফেরদের জন্যে এটা সহজ নয়।
অস্বীকারকারীদের উপর সহজ হবে না।
যাহা কাফিরদের জন্য সহজ নয়।
আমাকে ছেড়ে দাও আর যাকে আমি সৃষ্টি করেছি একাই।
যাকে আমি অনন্য করে সৃষ্টি করেছি, তাকে আমার হাতে ছেড়ে দিন।
ছেড়ে দাও আমাকে এবং যাকে আমি একা সৃষ্টি করেছি,
ছাড়িয়া দাও আমাকে এবং যাহাকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি একাকী।
আমি তাকে দিয়েছি বিপুল মাল - সম্পদ।
আমি তাকে বিপুল ধন - সম্পদ দিয়েছি।
এবং তাকে দিয়েছি বিপুল সম্পদ,
আমি তাহাকে দিয়াছি বিপুল ধন - সম্পদ
দিয়েছি সংগে উপস্থিত থাকা পুত্রদের।
এবং সদা সংগী পুত্রবর্গ দিয়েছি,
এবং উপস্থিত সন্তানদের,
এবং নিত্য সঙ্গী পুত্রগণ,
সরবরাহ করেছি স্বচ্ছন্দ জীবনের প্রচুর উপকরণ।
এবং তাকে খুব সচ্ছলতা দিয়েছি।
এবং তার জন্য ব্যাপক সুব্যবস্থা,
এবং তাহাকে দিয়াছি স্বচ্ছন্দ জীবনের প্রচুর উপকরণ -
তারপরেও সে লোভ করে আমি যেনো তাকে আরো বেশি করে দেই।
এরপরও সে আশা করে যে, আমি তাকে আরও বেশী দেই।
এরপরেও সে আশা করে যে আমি আরও দেই,
ইহার পরও সে কামনা করে যে, আমি তাহাকে আরও অধিক দেই।
কখনো নয়, সে তো আমাদের আয়াতের উগ্র বিরোধিতাকারী।
কখনই নয়! সে আমার নিদর্শনসমূহের বিরুদ্ধাচরণকারী।
কখনোই নয়! নিশ্চয়ই সে আমার নিদর্শনসমূহের প্রতি ছিলো উদ্ধত,
না, তাহা হইবে না, সে তো আমার নিদর্শনসমূহের উদ্ধত বিরুদ্ধাচারী।
অচিরেই আমি তাকে চড়াবো এক কঠিন স্থানে (জাহান্নামের পাহাড়ে)।
আমি সত্ত্বরই তাকে শাস্তির পাহাড়ে আরোহণ করাব।
শীঘ্রই আমি তাকে দুর্গম আরোহনে বাধ্য করবো।
আমি অচিরেই তাহাকে চড়াইব শাস্তির পাহাড়ে।
সে চিন্তা করেছে এবং একটা চক্রান্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সে চিন্তা করেছে এবং মনঃস্থির করেছে,
নিশ্চয়ই সে চিন্তা করেছে এবং পরিকল্পনা করেছে,
সে তো চিন্তা করিল এবং সিদ্ধান্ত করিল।
সে ধ্বংস হোক, কী করে সে এ সিদ্ধান্ত নিলো?
ধ্বংস হোক সে, কিরূপে সে মনঃস্থির করেছে!
অতঃপর ধ্বংস হোক সে! কীভাবে সে পরিকল্পনা করলো!
অভিশপ্ত হউক সে ! কেমন করিয়া সে এই সিদ্ধান্ত করিল!
সে আবারো ধ্বংস হোক, কী করে নিলো সে এ সিদ্ধান্ত!
আবার ধ্বংস হোক সে, কিরূপে সে মনঃস্থির করেছে!
আবার ধ্বংস হোক সে! কীভাবে সে পরিকল্পনা করলো!
আরও অভিশপ্ত হউক সে! কেমন করিয়া সে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইল!
সে নজর করে দেখেছে।
সে আবার দৃষ্টিপাত করেছে,
অতঃপর সে লক্ষ্য করলো,
সে আবার চাহিয়া দেখিল।
তারপর ভ্রুকুঞ্চিত করে মুখ বিকৃত করেছে।
অতঃপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করেছে ও মুখ বিকৃত করেছে,
অতঃপর সে ভ্রূকুটি করল ও মুখ বিকৃত করলো,
অতঃপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করিল ও মুখ বিকৃত করিল।
তারপর পেছনে গিয়ে দাম্ভিকতা প্রকাশ করেছে।
অতঃপর পৃষ্ঠপ্রদশন করেছে ও অহংকার করেছে।
অতঃপর সে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করল ও অহংকার করল,
অতঃপর সে পিছন ফিরিল এবং দম্ভ প্রকাশ করিল।
সে বলেছে: ‘‘এ তো সমাজে চলে আসা প্রচলিত ম্যাজিক ছাড়া আর কিছু নয়।
এরপর বলেছেঃ এতো লোক পরস্পরায় প্রাপ্ত জাদু বৈ নয়,
এবং বলল, “এ তো কেবল প্রচলিত জাদু,”
এবং ঘোষণা করিল, ‘ইহা তো লোক পরম্পরায় প্রাপ্ত জাদু ভিন্ন আর কিছু নয়,
এতো মানুষের কথা ছাড়া অন্য কিছু নয়।’’
এতো মানুষের উক্তি বৈ নয়।
“এ তো মানুষেরই কথা ছাড়া কিছু নয়।”
‘ইহা তো মানুষেরই কথা।’
অচিরেই আমি তাকে নিক্ষেপ করবো সাকারে।
আমি তাকে দাখিল করব অগ্নিতে।
আমি তাকে সাকারে নিক্ষেপ করবো।
আমি তাহাকে নিক্ষেপ করিব সাকার - এ,
কিভাবে জানবে তুমি - সাকার কী?
আপনি কি বুঝলেন অগ্নি কি?
আর তুমি কীভাবে জানবে সাকার কী?
তুমি কি জান সাকার কী?
(সেটা এমন জিনিস) যা বাকিও রাখেনা, ছেড়েও দেয়না।
এটা অক্ষত রাখবে না এবং ছাড়বেও না।
তা কিছু অবশিষ্ট রাখে না এবং কিছু ছাড়েও না,
উহা উহাদেরকে জীবিতাবস্থায় রাখিবে না এবং মৃত অবস্থায়ও ছাড়িয়া দিবে না।
সেটা মানুষের (গায়ের চামড়া) দগ্ধকারী।
মানুষকে দগ্ধ করবে।
তা চামড়া দগ্ধকারী,
ইহা তো গাত্রচর্ম দগ্ধ করিবে,
সেটার তত্ত্বাবধানে আছে ঊনিশজন (ফেরেশতা)।
এর উপর নিয়োজিত আছে উনিশ (ফেরেশতা)।
তার উপর রয়েছে উনিশ।
সাকার - এর তত্ত্বাবধানে রহিয়াছে উনিশজন প্রহরী।
আমরা জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেছি ফেরেশতাদের। আমরা কাফিরদের পরীক্ষার জন্যেই তাদের এই সংখ্যা উল্লেখ করেছি, যাতে করে ইতোপূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের একীন জন্মে এবং যেনো ঈমানদারদের ঈমান বেড়ে যায় আর কিতাবীরা এবং মুমিনরা যেনো সন্দেহে না পড়ে। আর যাদের মনে রোগ (মুনাফিকি) আছে তারা এবং কাফিররা যেনো বলে: ‘ এই কথার মাধ্যমে কী বুঝাতে চেয়েছেন?’ এভাবেই যাকে চান বিপথগামী করেন এবং যাকে চান সঠিক পথ দেখান। তোমার প্রভুর বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনি ছাড়া কেউই জানেনা। জাহান্নামের এই তথ্য মানুষের জন্যে একটি সতর্কবাণী।
আমি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতাই রেখেছি। আমি কাফেরদেরকে পরীক্ষা করার জন্যেই তার এই সংখ্যা করেছি - যাতে কিতাবীরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়, মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবীরা ও মুমিনগণ সন্দেহ পোষণ না করে এবং যাতে যাদের অন্তরে রোগ আছে, তারা এবং কাফেররা বলে যে, এর দ্বারা কি বোঝাতে চেয়েছেন। এমনিভাবে যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে চালান। আপনার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন এটা তো মানুষের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।
এবং আমরা ফেরেশতাদের ছাড়া আগুনের তত্ত্বাবধায়ক বানাইনি, এবং এদের সংখ্যা নির্ধারণ করিনি অবিশ্বাসীদের জন্য এক পরীক্ষা ছাড়া, যেনো কিতাবপ্রাপ্তরা নিশ্চিত হতে পারে, এবং মুমিনদের বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়, এবং কিতাবপ্রাপ্তরা ও মুমিনরা সন্দেহ না করে; আর যাদের অন্তরে রোগ আছে এবং অস্বীকারকারীরা বলে, “ এ উদাহরণ দ্বারা কী উদ্দেশ্য করেছেন?” এভাবেই যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ দেন। আর তোমার প্রতিপালকের বাহিনীসমূহ সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানে না। এবং এটি মানুষের জন্য এক উপদেশ ছাড়া কিছু নয়।
আমি ফিরিশ্তাদেরকে করিয়াছি জাহান্নামের প্রহরী; কাফিরদের পরীক্ষাস্বরূপই আমি উহাদের এই সংখ্যা উল্লেখ করিয়াছি যাহাতে কিতাবীদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে, বিশ্বাসীদের বিশ্বাস বর্ধিত হয় এবং বিশ্বাসীগণ ও কিতাবীগণ সন্দেহ পোষণ না করে। ইহার ফলে, যাহাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তাহারা ও কাফিররা বলিবে, ‘ এই অভিনব উক্তি দ্বারা কি বুঝাইতে চাহিয়াছেন?’ এইভাবে যাহাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ করেন। তোমার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। জাহান্নামের এই বর্ণনা তো মানুষের জন্য সাবধান বাণী।
কখনো নয়, শপথ চাঁদের,
কখনই নয়। চন্দ্রের শপথ,
কখনোই নয়! শপথ চাঁদের,
কখনই না, চন্দ্রের শপথ,
শপথ রাতের যখন তা পেছনে ফিরে (চলে) যায়,
শপথ রাত্রির যখন তার অবসান হয়,
এবং রাতের, যখন তা অপসারিত হয়,
শপথ রাত্রির, যখন উহার অবসান ঘটে;
শপথ ভোর বেলার যখন তা আলোকিত হয়ে উঠে,
শপথ প্রভাতকালের যখন তা আলোকোদ্ভাসিত হয়,
এবং সকালের, যখন তা আলোকিত হয়,
শপথ প্রভাতকালের, যখন উহা হয় আলোকোজ্জ্বল -
নিশ্চয়ই এ (জাহান্নাম) গুরুতর বিপদ সমূহের একটি,
নিশ্চয় জাহান্নাম গুরুতর বিপদসমূহের অন্যতম,
নিশ্চয়ই তা এক মহাবিষয়ের অন্যতম।
এই জাহান্নাম ভয়াবহ বিপদসমূহের অন্যতম,
মানুষের জন্যে সতর্ককারী।
মানুষের জন্যে সতর্ককারী।
মানুষের জন্য সতর্কবার্তা,
মানুষের জন্য সতর্ককারী -
তোমাদের মধ্যে যে এগিয়ে আসতে চায় কিংবা যে পিছিয়ে পড়তে চায় তার জন্যে।
তোমাদের মধ্যে যে সামনে অগ্রসর হয় অথবা পশ্চাতে থাকে।
তোমাদের মধ্যে যে অগ্রসর হতে বা পিছিয়ে থাকতে চায় তার জন্য।
তোমাদের মধ্যে যে অগ্রসর হইতে চায় কিংবা যে পিছাইয়া পড়িতে চায় তাহার জন্য।
প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের অর্জনের কাছে আবদ্ধ।
প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী;
প্রত্যেক ব্যক্তি তার অর্জনের জন্য দায়বদ্ধ;
প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ,
তবে ডান পাশের লোকেরা নয়।
কিন্তু ডানদিকস্থরা,
তবে ডানদিকের সঙ্গীরা ব্যতীত।
তবে দক্ষিণ পার্শ্বস্থ ব্যক্তিগণ নয়,
তারা থাকবে উদ্যানসমূহে, তারা প্রশ্ন করবে
তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
তারা থাকবে উদ্যানসমূহে; পরস্পরকে প্রশ্ন করবে,
তাহারা থাকিবে উদ্যানে এবং তাহারা জিজ্ঞাসা - বাদ করিবে -
অপরাধীদের বিষয়ে:
অপরাধীদের সম্পর্কে
অপরাধীদের সম্পর্কে,
অপরাধীদের সম্পর্কে,
‘কোন্ জিনিস তোমাদের নিক্ষেপ করেছে সাকারে?’
বলবেঃ তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নীত করেছে?
“কী তোমাদের সাকারে প্রবেশ করিয়েছে?”
‘তোমাদেরকে কিসে সাকার - এ নিক্ষেপ করিয়াছে?’
তারা বলবে: ‘‘আমরা মুসল্লিদের মধ্যে ছিলাম না,
তারা বলবেঃ আমরা পড়তাম না,
তারা বলবে, “আমরা আদায়কারীদের মধ্যে ছিলাম না,
উহারা বলিবে, ‘আমরা মুসুল্লীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না,
আর আমরা মিসকিনদের (অভাবীদের) খাবার দিতামনা,
অভাবগ্রস্তকে আহার্য্য দিতাম না,
এবং অভাবগ্রস্তকে আহার করাতাম না,
‘আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার্য দান করিতাম না,
আমরা মিথ্যা রটনাকারীদের সাথে মিথ্যা রটনা করতাম,
আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম।
এবং আমরা অর্থহীন আলোচনায় লিপ্তদের সঙ্গে যোগ দিতাম,
‘এবং আমরা বিভ্রান্ত আলোচনাকারীদের সঙ্গে বিভ্রান্তিমূলক আলোচনায় নিমগ্ন থাকিতাম।
এবং আমরা প্রত্যাখ্যান করতাম প্রতিদান দিবসকে,
এবং আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম।
এবং প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করতাম,
‘আমরা কর্মফল দিবস অস্বীকার করিতাম,
আমাদের কাছে একীন (মৃত্যু) এসে পৌছা পর্যন্ত।’’
আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত।
অবশেষে নিশ্চিত বিষয়টি আমাদের কাছে আসলো।”
‘আমাদের নিকট মৃত্যুর আগমন পর্যন্ত।’
অতএব শাফায়াতকারীদের শাফায়াত তাদের কোনো কাজে আসবেনা।
অতএব, সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকারে আসবে না।
অতঃপর কাজে আসবে না সুপারিশকারীদের সুপারিশ।
ফলে সুপারিশকারীদের সুপারিশ উহাদের কোন কাজে আসিবে না।
তাদের কী হয়েছে, কেন তারা উপদেশ বাণী (কুরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে?
তাদের কি হল যে, তারা উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়?
তাহলে তাদের কী হয়েছে যে তারা উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে?
উহাদের কী হইয়াছে যে, উহারা মুখ ফিরাইয়া নেয় উপদেশ হইতে?
এরা যেনো পলায়নপর গাধার দল,
যেন তারা ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত গর্দভ।
তারা যেন ভীতসন্ত্রস্ত গাধা
উহারা যেন ভীত - ত্রস্ত গর্দভ -
যারা দ্রুত পালাচ্ছে সিংহের সামনে থেকে।
হট্টগোলের কারণে পলায়নপর।
যারা সিংহ থেকে পালিয়েছে।
যাহা সিংহের সম্মুখ হইতে পলায়নপর।
বরং তারা প্রত্যেকে চায়, তাকে একটি উন্মুক্ত সহিফা (বই) দেয়া হোক।
বরং তাদের প্রত্যেকেই চায় তাদের প্রত্যেককে একটি উম্মুক্ত গ্রন্থ দেয়া হোক।
বরং তাদের প্রত্যেকে চায় যে তাকে খোলা পাতা সমূহ দেওয়া হোক।
বস্তুত উহাদের প্রত্যেকেই কামনা করে যে, তাহাকে একটি উন্মুক্ত গ্রন্থ দেওয়া হউক।
কখনো নয়, বরং তারা আখিরাতকেই ভয় পায়না।
কখনও না, বরং তারা পরকালকে ভয় করে না।
কখনোই নয়! বরং তারা পরকালকে ভয় করে না।
না, ইহা হইবার নয়; বরং উহারা তো আখিরাতের ভয় পোষণ করে না।
না, তা হবার নয়। নিশ্চয়ই এ কুরআন এক উপদেশ বাণী।
কখনও না, এটা তো উপদেশ মাত্র।
কখনোই নয়! নিশ্চয়ই এটি এক উপদেশ,
না, ইহা হইবার নয়, কুরআনই সকলের জন্য উপদেশবাণী।
সুতরাং যার ইচ্ছা, সে এ থেকে উপদেশ গ্রহণ করুক।
অতএব, যার ইচ্ছা, সে একে স্মরণ করুক।
অতএব যার ইচ্ছা, সে তা স্মরণ করুক।
অতএব যাহার ইচ্ছা সে ইহা হইতে উপদেশ গ্রহণ করুক।
তবে তারা আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া উপদেশ গ্রহণ করবেনা। একমাত্র তিনিই উপযুক্ত যাকে ভয় করা উচিত এবং একমাত্র তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী।
তারা স্মরণ করবে না, কিন্তু যদি চান। তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী।
আর তারা স্মরণ করবে না, যদি না ইচ্ছা করেন। তিনিই ভয়ের অধিক যোগ্য এবং ক্ষমা করার অধিক যোগ্য।
র ইচ্ছা ব্যতিরেকে কেহ উপদেশ গ্রহণ করিবে না, একমাত্র তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং তিনিই ক্ষমা করিবার অধিকারী।