You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
ইসরা (রাত্রি ভ্রমণ)
Chapter 17, 111 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
মুহিউদ্দীন খান
সমকালীন বাংলা
জহুরুল হক
About this chapter
মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১১১, রুকু সংখ্যা: ১২
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১মুহাম্মদ সা. এর মি’রাজ সংক্রান্ত সফরের সত্যতা ঘোষণা।
০২-০৮বনি ইসরাঈলিদের উত্থান পতনের ভিত্তি।
০৯-২১কুরআন সঠিক পথের দিশারি। মানুষের আমল রেকর্ড করা হয়। কেউ কারো পাপের বোঝা বইবেনা। কোনো জাতিকে ধ্বংস করার জন্য আল্লাহর মূলনীতি। দুনিয়াপ্রার্থী ও আখিরাত প্রার্থীর পরিণতি।
২২-৩৮ইসলামি সমাজের আদর্শিক ভিত্তি ও মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ।
৩৯-৪৮শিরকের অসারতা ও তাওহীদের যুক্তি।
৪৯-৫২আখিরাত ও পুনরুত্থানের যুক্তি।
৫৩-৬০মানুষের প্রতি কতিপয় উপদেশ।
৬১-৭০মানুষের প্রতি ইবলিসের শত্রুতা। শয়তান কাদেরকে বিভ্রান্ত করতে পারবেনা। বনি আদমের মর্যাদা।
৭১-৭৭কিয়ামতের দিন প্রতিটি মানবগোষ্ঠিকে তাদের নেতার নেতৃত্বে হাজির করা হবে। দুনিয়ায় যারা সত্যের ব্যাপারে অন্ধ আখিরাতেও হবে তারা অন্ধ।
৭৮-৭৯সালাতের সময়ের বর্ণনা।
৮০-৮৪রসূল সা. কর্তৃক রাষ্ট্র ক্ষমতার প্রার্থনা। বাতিল বিলীন হবে, সত্যের জয় হবে। কুরআন মুমিনদের জন্য নিরাময় ও অনুকম্পা।
৮৫-১০০রূহ কি? জিন ইনসান মিলেও কুরআনের বাণী তৈরি করতে পারবে না। রসূলের কাছে কাফিরদের উদ্ভট দাবি। রিসালাত ও আখিরাতের পক্ষে যুক্তি।
১০১-১০৪মূসাকে নয়টি মুজিযা দেয়া হয়েছিল। ফিরাউনের ধ্বংস ও বনি ইসরাঈলের নিরাপত্তা।
১০৫-১১১কুরআন মহাসত্য কিতাব। কুরআন অল্প অল্প করে নাযিল করার কারণ। সত্য সন্ধানীরা কুরআন অধ্যয়ন করলে ঈমান আনে। আল্লাহ্ এক এবং সন্তান ও শরিক থেকে মুক্ত।
আবদুস শহীদ নাসিম
মহাবিশ্বের ত্রুটিহীন মহাপরিচালক তিনি, যিনি তাঁর দাস (মুহাম্মদকে) রাতের বেলা ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসার দিকে, যেটির চারপাশের পরিবেশকে আমরা করে দিয়েছিলাম বরকতময়। এ ভ্রমণের উদ্দেশ্য ছিলো তাকে আমাদের নিদর্শনসমূহ দেখানো। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
মুহিউদ্দীন খান
পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত - যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।
সমকালীন বাংলা
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; পবিত্র ও মহিমময় তিনি যিনি তাঁহার বান্দাকে রজনীতে ভ্রমণ করাইয়াছিলেন আল - মসজিদুল হারাম হইতে আল - মসজিদুল আক্সা পর্যন্ত, যাহার পরিবেশ আমি করিয়াছিলাম বরকতময়, তাহাকে আমার নিদর্শন দেখাইবার জন্য; তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
জহুরুল হক
সকল মহিমা তাঁর যিনি তাঁর বান্দাকে রাত্রিবেলা ভ্রমণ করিয়েছিলেন পবিত্র মসজিদ থেকে দূরবর্তী মসজিদে - - যার পরিবেশ আমরা মঙ্গলময় করেছিলাম যেন আমরা তাঁকে দেখাতে পারি আমাদের কিছু নিদর্শন। নিঃসন্দেহ তিনি স্বয়ং সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম এবং সেটিকে বানিয়েছিলাম বনি ইসরাঈলের জন্যে পথপ্রদর্শক। তাতে আমরা নির্দেশ দিয়েছিলাম: ‘‘তোমরা আমাকে ছাড়া আর কাউকেও উকিল (কর্ম সম্পাদক) হিসেবে গ্রহণ করোনা।
মুহিউদ্দীন খান
আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি এবং সেটিকে বনী - ইসরাঈলের জন্যে হেদায়েতে পরিণত করেছি যে, তোমরা আমাকে ছাড়া কাউকে কার্যনিবাহী স্থির করো না।
সমকালীন বাংলা
আমি মূসাকে কিতাব দিয়াছিলাম ও উহাকে করিয়াছিলাম বনী ইস্রাঈলের জন্য পথনির্দেশক। আমি আদেশ করেছিলাম তোমরা আমাকে ব্যতিত অপর কাহাকেও কর্ম বিধায়করূপে গ্রহন করিও না।
জহুরুল হক
আর আমরা মুসাকে গ্রন্থ দিয়েছিলাম আর ইসরাইল বংশীয়দের জন্য আমরা একে পথনির্দেশক বানিয়েছিলাম এই বলে - - ''আমাকে ছেড়ে দিয়ে কোনো কর্ণধার গ্রহণ করো না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা তো তাদেরই বংশধর, যাদের আমরা নূহের সাথে (নৌযানে) আরোহণ করিয়েছিলাম। নিশ্চয়ই সে ছিলো আমার এক কৃতজ্ঞ দাস।’’
মুহিউদ্দীন খান
তোমরা তাদের সন্তান, যাদেরকে আমি নূহের সাথে সওয়ার করিয়েছিলাম। নিশ্চয় সে ছিল কৃতজ্ঞ বান্দা।
সমকালীন বাংলা
‘হে তাহাদের বংশধর! যাহাদেরকে আমি নূহের সঙ্গে আরোহণ করাইয়াছিলাম ; সে তো ছিল পরম কৃতজ্ঞ বান্দা।’
জহুরুল হক
''তাদের বংশধর যাদের আমরা নূহ - এর সঙ্গে বহন করেছিলাম। নিঃসন্দেহ তিনি ছিলেন একজন কৃতজ্ঞ বান্দা।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা বনি ইসরাঈলকে কিতাবের মধ্যে ফায়সালা জানিয়েছিলাম, ‘অবশ্যি তোমরা পৃথিবীতে দুইবার ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং তোমরা চরম অহংকার ও দাম্ভিকতায় মেতে উঠবে।’
মুহিউদ্দীন খান
আমি বনী ইসরাঈলকে কিতাবে পরিষ্কার বলে দিয়েছি যে, তোমরা পৃথিবীর বুকে দুবার অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং অত্যন্ত বড় ধরনের অবাধ্যতায় লিপ্ত হবে।
সমকালীন বাংলা
এবং আমি কিতাবে প্রত্যাদেশ দ্বারা বনী ইস্রাঈলকে জানাইয়াছিলাম, ‘নিশ্চয়ই তোমরা পৃথিবীতে দুইবার বিপর্যয় সৃষ্টি করিবে এবং তোমরা অতিশয় অহংকারস্ফীত হইবে।’
জহুরুল হক
আর আমরা ইসরাইল বংশীয়দের কাছে গ্রন্থের মধ্যে স্পষ্ট জানিয়েছিলাম - - ''তোমরা অবশ্য দুইবার পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে, আর তোমরা নিশ্চয়ই ঘোর অহঙ্কারে অহঙ্কার করবে।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
যখন প্রথমটির সময় উপস্থিত হয়, তখন আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলাম আমাদের একদল বান্দাকে, যারা ছিলো শক্তিশালী যোদ্ধা জাতি। তারা ঘরে ঘরে প্রবেশ করে সব কিছু ধ্বংস করেছিল। আর এটি ছিলো এমন একটি ওয়াদা যা অবশ্যি কার্যকর হয়েছে।
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর যখন প্রতিশ্রুতি সেই প্রথম সময়টি এল, তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার কঠোর যোদ্ধা বান্দাদেরকে। অতঃপর তারা প্রতিটি জনপদের আনাচে - কানাচে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল। এ ওয়াদা পূর্ণ হওয়ারই ছিল।
সমকালীন বাংলা
অতঃপর এই দুইয়ের প্রথমটির নির্ধারিত কাল যখন উপস্থিত হইল তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করিয়াছিলাম আমার বান্দাদেরকে, যুদ্ধে অতিশয় শক্তিশালী; উহারা ঘরে ঘরে প্রবেশ করিয়া সমস্ত ধ্বংস করিয়াছিল। আর প্রতিশ্রুতি কার্যকরী হইয়াই থাকে।
জহুরুল হক
অতঃপর যখন এই দুয়ের প্রথম ওয়াদার সময় এল তখন আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে পাঠালাম আমার অতিশয় শক্তিশালী বান্দাদের, তাই তারা ঘরে অন্দরমহলে ঢুকে ধ্বংসলীলা শুরু করল। আর এই ওয়াদা কার্যকর হয়েই ছিল।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর আমরা পুনরায় তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম তাদের উপর আর তোমাদের সাহায্য করেছিলাম ধন - মাল আর সন্তান - সন্তুতি দিয়ে এবং তোমাদের করে দিয়েছিলাম সংখ্যাগরিষ্ঠ।
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর আমি তোমাদের জন্যে তাদের বিরুদ্ধে পালা ঘুয়িয়ে দিলাম, তোমাদেরকে ধন - সম্পদ ও পুত্রসন্তান দ্বারা সাহায্য করলাম এবং তোমাদেরকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে একটা বিরাট বাহিনীতে পরিণত করলাম।
সমকালীন বাংলা
অতঃপর আমি তোমাদেরকে পুনরায় উহাদের উপর প্রতিষ্ঠিত করিলাম, তোমাদেরকে ধন ও সন্তান - সন্ততি দ্বারা সাহায্য করিলাম ও সংখ্যায় গরিষ্ঠ করিলাম।
জহুরুল হক
তারপর আমরা তাদের উপরে তোমাদের ফিরিয়ে দিলাম পালটা মোড, আর তোমাদের সাহায্য করলাম ধনসম্পদ ও সন্তান - সন্ততি দিয়ে, আর দলেবলে তোমাদের গরিষ্ট করলাম।
আবদুস শহীদ নাসিম
(তোমাদের বলেছিলাম): ‘তোমরা যদি কল্যাণকর কাজ করো, তাতে তোমাদের নিজেদেরই কল্যাণ হবে, আর যদি মন্দ কাজ করো, তাতে অমঙ্গল হবে তোমাদের নিজেদেরই।’ তারপর যখন পরবর্তী ওয়াদার সময়কাল এসে উপস্থিত হলো, তখনো আমরা আমাদের আরেক দল বান্দাকে পাঠালাম তোমাদের চেহারা নিরাশাচ্ছন্ন করার জন্যে এবং পুনরায় মসজিদে (বায়তুল মাকদাসে) প্রবেশ করার জন্যে যেভাবে প্রবেশ করেছিল প্রথমবার এবং তারা যা অধিকার করেছিল তা পুরোপুরি ধ্বংস করার জন্যে।
মুহিউদ্দীন খান
তোমরা যদি ভাল কর, তবে নিজেদেরই ভাল করবে এবং যদি মন্দ কর তবে তাও নিজেদের জন্যেই। এরপর যখন দ্বিতীয় সে সময়টি এল, তখন অন্য বান্দাদেরকে প্রেরণ করলাম, যাতে তোমাদের মুখমন্ডল বিকৃত করে দেয়, আর মসজিদে ঢুকে পড়ে যেমন প্রথমবার ঢুকেছিল এবং যেখানেই জয়ী হয়, সেখানেই পুরোপুরি ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
সমকালীন বাংলা
তোমরা সৎকর্ম করিলে সৎকর্ম নিজেদের জন্য করিবে এবং মন্দ কর্ম করিলে তাহাও করিবে নিজেদের জন্য। অতঃপর পরবর্তী নির্ধারিত কাল উপস্থিত হইলে আমি আমার বান্দাদেরকে প্রেরণ করিলাম তোমাদের মুখমণ্ডল কালিমাচ্ছন্ন করিবার জন্য, প্রথমবার তাহারা যেভাবে মসজিদে প্রবেশ করিয়াছিল পুনরায় সেইভাবেই উহাতে প্রবেশ করিবার জন্য এবং তাহারা যাহা অধিকার করিয়াছিল তাহা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করিবার জন্য।
জহুরুল হক
তোমরা যদি সৎকাজ কর তবে তোমাদের নিজেদের জন্যেই সৎকাজ করছো, আর যদি তোমরা মন্দ কর তবে তাও নিজেদের জন্যে। সুতরাং যখন পরবর্তী ওয়াদার সময় এল তখন যেন তারা তোমাদের মুখমন্ডল কালিমাচ্ছন্ন করতে পারে, আর যেন তারা মসজিদে ঢুকতে পারে যেমন ওরা প্রথমবার এতে ঢুকেছিল, আর যেন তারা পূর্ণ বিধ্বংসে ধ্বংস করতে পারে যা - কিছু তারা দখল করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
(তোমরা যদি তোমাদের প্রভুর হুকুম পালন করো) হয়তো তোমাদের প্রভু তোমাদের রহম করবেন। কিন্তু তোমরা যদি আবার আগের মতোই আচরণ করো, তবে আমরাও পুনরায় একই আচরণ করবো। আর আমরা জাহান্নামকে তৈরি করেছি কাফিরদের জন্যে কারাগার হিসাবে।
মুহিউদ্দীন খান
হয়ত তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন। কিন্তু যদি পুনরায় তদ্রূপ কর, আমিও পুনরায় তাই করব। আমি জাহান্নামকে কাফেরদের জন্যে কয়েদখানা করেছি।
সমকালীন বাংলা
সম্ভবত তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি দয়া করিবেন কিন্তু তোমরা যদি তোমাদের পূর্ব - আচরণের পুনরাবৃত্তি কর তবে আমিও পুনরাবৃত্তি করিব। জাহান্নামকে আমি করিয়াছি কাফিরদের জন্য কারাগার।
জহুরুল হক
হতে পারে যে তোমাদের প্রভু তোমাদের প্রতি করুণা করবেন, কিন্তু যদি তোমরা ফেরো তবে আমরাও ফিরব। আর আমরা অবিশ্বাসীদের জন্য জাহান্নামকে কয়েদখানা বানিয়েছি।
আবদুস শহীদ নাসিম
নিশ্চয়ই এই কুরআন হিদায়াত করে (পরিচালিত করে) সেই দিকে, যা সঠিক ও সুষম। আর যেসব আমলে সালেহ্ করে তাদের (এ কুরআন) সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার।
মুহিউদ্দীন খান
এই কোরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল এবং সৎকর্ম পরায়ণ মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্যে মহা পুরস্কার রয়েছে।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই এই কুরআন হিদায়াত করে সেই পথের দিকে যাহা সুদৃঢ় এবং সৎকর্মপরায়ণ মু’মিনদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাহাদের জন্য রহিয়াছে মহাপুরস্কার।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ এই কুরআন পথ দেখায় সেইদিকে যা সঠিক, আর মুমিনদের যারা সৎকর্ম করে তাদের সুসংবাদ দেয় যে তাদের জন্য রয়েছে মহান পারিশ্রমিক।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান আনেনা, অবশ্যি আমরা তাদের জন্যে প্রস্ত্তত করে রেখেছি বেদনাদায়ক আযাব।
মুহিউদ্দীন খান
এবং যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের জন্যে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করেছি।
সমকালীন বাংলা
এবং যাহারা আখিরাতে ঈমান আনে না তাহাদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছি মর্মন্তুদ শাস্তি।
জহুরুল হক
আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের জন্য আমরা তৈরি করেছি মর্মন্তুদ শাস্তি।
আবদুস শহীদ নাসিম
মানুষ অমঙ্গলের জন্যে দোয়া (কামনা) করে, যেভাবে দোয়া করা উচিত মঙ্গলের জন্যে। মানুষ খুবই তাড়াহুড়া প্রিয়।
মুহিউদ্দীন খান
মানুষ যেভাবে কল্যাণ কামনা করে, সেভাবেই অকল্যাণ কামনা করে। মানুষ তো খুবই দ্রুততা প্রিয়।
সমকালীন বাংলা
আর মানুষ অকল্যাণ কামনা করে; যেইভাবে কল্যাণ কামনা করে ; মানুষ তো অতি মাত্রায় ত্বরাপ্রিয়।
জহুরুল হক
আর মানুষ মন্দের জন্য কামনা করে যেমন তার উচিত ভালোর জন্য কামনা করা। আর মানুষ সদা ব্যস্ত - সমস্ত।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা রাত আর দিনকে দুটি নিদর্শন বানিয়েছি। আমরা রাতের নিদর্শনকে মুছে দেই এবং দিনের নিদর্শনকে আলোকিত করি, যেনো তোমরা তোমাদের প্রভুর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো আর যাতে করে তোমরা বছরের সংখ্যা ও হিসাব জানতে পারো। আমরা সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি।
মুহিউদ্দীন খান
আমি রাত্রি ও দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি। অতঃপর নিস্প্রভ করে দিয়েছি রাতের নিদর্শন এবং দিনের নিদর্শনকে দেখার উপযোগী করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ কর এবং যাতে তোমরা স্থির করতে পার বছরসমূহের গণনা ও হিসাব এবং আমি সব বিষয়কে বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেছি।
সমকালীন বাংলা
আমি রাত্রি ও দিবসকে করিয়াছি দুইটি নিদর্শন, রাত্রির নিদর্শনকে অপসারিত করিয়াছি এবং দিবসের নিদর্শনকে আলোকপ্রদ করিয়াছি যাহাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করিতে পার এবং যাহাতে তোমরা বর্ষসংখ্যা ও হিসাব জানিতে পার; এবং আমি সব কিছু বিশদভাবে বর্ণনা করিয়াছি।
জহুরুল হক
আর আমরা রাতকে এবং দিনকে বানিয়েছি দুটি নিদর্শন, কাজেই রাতের নিদর্শনকে আমরা মুছে ফেলি, আর দিনের নিদর্শনকে বানাই সুদৃশ্য যেন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে করুণাভান্ডার অণ্বেষণ করতে পার, আর যেন তোমরা বছরের গণনা ও হিসাব জানতে পার। আর সব - কিছুই আমরা বর্ণনা করেছি বিশদভাবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা প্রতিটি মানুষের কর্ম তার গলায় ঝুলিয়ে রেখেছি এবং আমরা কিয়ামতের দিন তার জন্যে বের করবো একটি কিতাব (রেকর্ড, আমলমানা), সেটি সে পাবে উন্মুক্ত।
মুহিউদ্দীন খান
আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার গ্রীবলগ্ন করে রেখেছি। কেয়ামতের দিন বের করে দেখাব তাকে একটি কিতাব, যা সে খোলা অবস্থায় পাবে।
সমকালীন বাংলা
প্রত্যেক মানুষের কর্ম আমি তাহার গ্রীবালগ্ন করিয়াছি এবং কিয়ামতের দিন আমি তাহার জন্য বাহির করিব এক কিতাব, যাহা সে পাইবে উন্মুক্ত।
জহুরুল হক
আর প্রত্যেকটি মানুষ - - আমরা তার পাখি তার গলায় বেঁধে দিয়েছি। আর কিয়ামতের দিনে আমরা তার জন্য বের করে দেব একটি খাতা যা সে দেখতে পাবে সম্পূর্ণ খোলা।
আবদুস শহীদ নাসিম
(তাকে বলা হবে): ‘পড়ো তোমার কিতাব (রেকর্ড)। আজ তুমি নিজেই নিজের বিরুদ্ধে হিসাবের জন্যে যথেষ্ট।’
যে ব্যক্তি সঠিক পথে চলে, সে নিজের কল্যাণের জন্যেই সঠিক পথে চলে। আর যে ভুল পথে চলে, সে নিজের অমঙ্গলের জন্যেই ভুল পথে চলে। কেউই কারো (পাপের) বোঝা বহন করবেনা। আমরা রসূল না পাঠানো পর্যন্ত কোনো জাতিকে শাস্তি দেইনা।
মুহিউদ্দীন খান
যে কেউ সৎপথে চলে, তারা নিজের মঙ্গলের জন্যেই সৎ পথে চলে। আর যে পথভ্রষ্ট হয়, তারা নিজের অমঙ্গলের জন্যেই পথ ভ্রষ্ট হয়। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কোন রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকেই শাস্তি দান করি না।
সমকালীন বাংলা
যাহারা সৎপথ অবলম্বন করিবে তাহারা তো নিজেদেরই মঙ্গলের জন্য সৎপথ অবলম্বন করিবে এবং যাহারা পথভ্রষ্ট হইবে তাহারা তো পথভ্রষ্ট হইবে নিজেদেরই ধ্বংসের জন্য এবং কেহ অন্য কাহারও ভার বহন করিবে না। আমি রাসূল না পাঠান পর্যন্ত কাহাকেও শাস্তি দেই না।
জহুরুল হক
যে কেউ সঠিক পথে চলে সে তো তবে নিজের জন্যেই সঠিক পথ ধরে, আর যে বিপথে যায় সে তো তবে নিজের বিরুদ্ধেই বিপথে চলে। আর একজন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। আর আমরা শাস্তিদাতা নই যে পর্যন্ত না আমরা কোনো রসূল পাঠিয়েছি।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা যখন কোনো জনপদকে (জাতিকে) হালাক (ধ্বংস) করে দেয়ার এরাদা (ইচ্ছা) করি, তখন সেখানকার সীমালংঘনকারীদের ক্ষমতায় বসাই। ফলে তারা সীমালংঘন ও পাপাচার করতে থাকে। তখন তাদের (ধ্বংস করে দেয়ার বিষয়ে) আমাদের ফায়সালা বাস্তব সম্মত হয়ে যায়। ফলে আমরা সেই জনপদকে ধ্বংস ও বিরান করে দেই।
মুহিউদ্দীন খান
যখন আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি তখন তার অবস্থাপন্ন লোকদেরকে উদ্ধুদ্ধ করি অতঃপর তারা পাপাচারে মেতে উঠে। তখন সে জনগোষ্টীর উপর আদেশ অবধারিত হয়ে যায়। অতঃপর আমি তাকে উঠিয়ে আছাড় দেই।
সমকালীন বাংলা
আমি যখন কোন জনপদ ধ্বংস করিতে চাই তখন উহার সমৃদ্ধিশালী ব্যক্তিদেরকে সৎকর্ম করিতে আদেশ করি, কিন্তু উহারা সেখানে অসৎকর্ম করে ; অতঃপর উহার প্রতি দণ্ডাজ্ঞা ন্যায়সংগত হইয়া যায় এবং আমি উহা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করি।
জহুরুল হক
আর যখন আমরা মনস্থ করি যে কোনো জনপদকে আমরা ধ্বংস করব তখন আমরা ওর সমৃদ্ধিশালী লোকদের কাছে নির্দেশ পাঠাই, কিন্তু তারা সেখানে গুন্ডামি করে, কাজেই আজ্ঞা তার উপরে ন্যায়সংগত হয়ে যায়। সুতরাং আমরা তাকে ধ্বংস করি পূর্ণ বিধ্বংসে।
আবদুস শহীদ নাসিম
নূহের পরে আমরা কতো যে জনপদ ধ্বংস করে দিয়েছি! নিজ বান্দাদের পাপাচারের সংবাদ রাখা ও পর্যবেক্ষণ করার জন্যে তোমার প্রভুই কাফী ।
মুহিউদ্দীন খান
নূহের পর আমি অনেক উম্মতকে ধ্বংস করেছি। আপনার পালনকর্তাই বান্দাদের পাপাচারের সংবাদ ও দেখার জন্যে যথেষ্ট।
সমকালীন বাংলা
নূহের পর আমি কত মানবগোষ্ঠী ধ্বংস করিয়াছি! তোমার প্রতিপালকই তাঁহার বান্দাদের পাপাচরণের সংবাদ রাখা ও পর্যবেক্ষণের জন্য যথেষ্ট।
জহুরুল হক
আর নূহ্ - এর পরে কত জনপদকে আমরা ধ্বংস করেছি! আর তোমার প্রভুই তাঁর বান্দাদের পাপাচার সন্বন্ধে খবরদার, দর্শকরূপে যথেষ্ট।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা নগদ (দুনিয়া) পেতে চায়, আমরা এখানেই তাদের যাকে চাই এবং যা চাই নগদ দিয়ে থাকি। পরে তাদের জন্যে নির্ধারণ করি জাহান্নাম, তাতেই তারা প্রবেশ করবে নিন্দিত ও ধিকৃত অবস্থায়।
মুহিউদ্দীন খান
যে কেউ ইহকাল কামনা করে, আমি সেসব লোককে যা ইচ্ছা সত্ত্বর দিয়ে দেই। অতঃপর তাদের জন্যে জাহান্নাম নির্ধারণ করি। ওরা তাতে নিন্দিত - বিতাড়িত অবস্থায় প্রবেশ করবে।
সমকালীন বাংলা
কেহ আশু সুখ - সম্ভোগ কামনা করিলে আমি যাহাকে যাহা ইচ্ছা এইখানেই সত্বর দিয়া থাকি ; পরে উহার জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত করি যেখানে সে প্রবেশ করিবে নিন্দিত ও অনুগ্রহ হইতে দূরীকৃত অবস্থায়।
জহুরুল হক
যে কেউ কামনা করে বর্তমানকাল, আমরা তার জন্য সে - ক্ষেত্রে যা ইচ্ছা করি তাই ত্বরান্বিত করি - - যার জন্য আমরা মনস্ত করি, তারপর তার জন্যে আমরা ধার্য করি জাহান্নাম, তাতে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত বিতাড়িত হয়ে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর যারা এরাদা (সংকল্প) করে পাওয়ার এবং তার জন্যে প্রচেষ্টা চালায় উপযুক্ত প্রচেষ্টা অবস্থায়, তাদের প্রচেষ্টা অবশ্যি কবুল করা হবে।
মুহিউদ্দীন খান
আর যারা পরকাল কামনা করে এবং অবস্থায় তার জন্য যথাযথ চেষ্টা - সাধনা করে, এমন লোকদের চেষ্টা স্বীকৃত হয়ে থাকে।
সমকালীন বাংলা
যাহারা হইয়া কামনা করে এবং উহার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে তাহাদের প্রচেষ্টা পুরস্কারযোগ্য।
জহুরুল হক
আর যে কেউ পরকাল কামনা করে, আর তার জন্যে চেষ্টা করে যথাযথ প্রচেষ্টায় এবং সে হয়, তাহলে এরাই - - এদের প্রচেষ্টা হবে স্বীকৃত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার প্রভু তাঁর দান দ্বারা অবারিত সাহায্য করেন এদেরকেও এবং ওদেরকেও। তোমার প্রভুর দানের দরজা বন্ধ রাখা হয়না।
মুহিউদ্দীন খান
এদেরকে এবং ওদেরকে প্রত্যেককে আমি আপনার পালনকর্তার দান পৌছে দেই এবং আপনার পালকর্তার দান অবধারিত।
সমকালীন বাংলা
তোমার প্রতিপালক তাঁহার দান দ্বারা ইহাদেরকে ও উহাদেরকে সাহায্য করেন এবং তোমার প্রতিপালকের দান অবারিত।
জহুরুল হক
প্রত্যেককেই আমরা দিই, এদের এবং ওদের, তোমার প্রভুর দানসামগ্রী থেকে। আর তোমার প্রভুর দানসামগ্রী সীমাবদ্ধ নয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
দেখো, আমরা কিভাবে তাদের একদল লোককে আরেক দলের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তবে আখিরাতই মর্যাদা ও দান লাভের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ।
মুহিউদ্দীন খান
দেখুন, আমি তাদের একদলকে অপরের উপর কিভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করলাম। পরকাল তো নিশ্চয়ই মর্তবায় শ্রেষ্ঠ এবং ফযীলতে শ্রেষ্ঠতম।
সমকালীন বাংলা
লক্ষ্য কর, আমি কীভাবে উহাদের এক দলকে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছি, তো নিশ্চয়ই মর্যাদায় মহত্তর ও গুণে শ্রেষ্ঠতর।
জহুরুল হক
দেখ কেমন ক’রে আমরা তাদের কাউকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি অন্যের উপরে। আর পরকাল নিশ্চয়ই মর্যাদার দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং মহিমার দিক দিয়েও শ্রেষ্ঠ।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর সাথে আর কাউকেও ইলাহ্ বানিয়ে নিয়োনা। এমনটি করলে নিন্দিত ও লাঞ্ছিত হয়ে পড়বে।
মুহিউদ্দীন খান
স্থির করো না আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য। তাহলে তুমি নিন্দিত ও অসহায় হয়ে পড়বে।
সমকালীন বাংলা
আল্লাহর সাথে অপর কাউকে সাব্যস্ত করিও না, করিলে নিন্দিত ও লাঞ্চিত হইয়া পড়িবে।
জহুরুল হক
র সাথে অন্য উপাস্য খাড়া করো না, পাছে তুমি বসে থাক নিন্দিত নিঃসহায় হয়ে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার প্রভু নির্দেশ দিচ্ছেন: তোমরা তাঁর ছাড়া আর কারো ইবাদত (আনুগত্য, দাসত্ব, উপাসনা ও প্রার্থনা) করোনা, ইবাদত করবে কেবল তাঁরই। পিতা - মাতার প্রতি ইহ্সান করবে, তাদের একজন কিংবা দু’জনই তোমার জীবদ্দশায় বৃদ্ধ বয়েসে এসে পৌঁছালে তাদেরকে ‘উহ্’ পর্যন্ত বলোনা এবং তাদেরকে ধমক দিয়োনা। তাদের সাথে কথা বলবে সম্মানের সাথে।
মুহিউদ্দীন খান
তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা - মাতার সাথে সদ্ব - ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা।
সমকালীন বাংলা
তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়াছেন তিনি ব্যতীত অন্য কাহারও ‘ইবাদত না করিতে ও পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করিতে। তাহাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হইলে তাহাদেরকে ‘উফ্’ বলিও না এবং তাহাদেরকে ধমক দিও না ; তাহাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলিও।
জহুরুল হক
আর তোমার প্রভু বিধান করেছেন - - তাঁকে ছাড়া তোমরা অন্যের উপাসনা করো না, আর পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। যদি তোমাদের সামনে তাদের একজন বা উভয়ে বার্ধক্যে পৌঁছোয় তবুও তাদের প্রতি ''আঃ’’ বলো না, আর তাদের তিরস্কার করো না, বরং তাদের প্রতি বলবে বিনয়নম্র কথা।
আবদুস শহীদ নাসিম
দয়া - অনুকম্পা নিয়ে তাদের প্রতি কোমলতার ডানা অবনমিত করবে এবং তাদের জন্যে দোয়া করবে এভাবে: ‘আমার প্রভু! তাদের প্রতি রহম করো, যেভাবে শৈশবে তারা (দয়া, মায়া ও কোমলতার পরশে) আমাকে লালন পালন করেছে।’
মুহিউদ্দীন খান
তাদের সামনে ভালবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলঃ হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন - পালন করেছেন।
সমকালীন বাংলা
মমতাবশে তাহাদের প্রতি নম্রতার পক্ষপুট অবনমিত করিও এবং বলিও, ‘হে আমার প্রতিপালক! তাহাদের প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে তাহারা আমাকে প্রতিপালন করিয়াছিলেন
জহুরুল হক
আর তাদের উভয়ের প্রতি আনত করো করুণার সাথে আনুগত্যের ডানা দুখানা, আর বলো - - ''আমার প্রভু! তাঁদের উভয়ের প্রতি করুণা করো যেমন তাঁরা ছোটবেলায় আমাকে প্রতিপালন ক’রে বড় করেছন।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের মনে কী আছে তা তোমাদের প্রভুই অধিক জানেন। তোমরা যদি সংশোধন পরায়ণ হয়ে থাকো, তবে তিনি আল্লাহমুখী লোকদের জন্য পরম ক্ষমাপরায়ণ।
মুহিউদ্দীন খান
তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মনে যা আছে তা ভালই জানেন। যদি তোমরা সৎ হও, তবে তিনি তওবাকারীদের জন্যে ক্ষমাশীল।
সমকালীন বাংলা
তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের অন্তরে যাহা আছে তাহা ভাল জানেন ; যদি তোমরা সৎকর্ম পরায়ন হও তবেই তিনি অভিমুখিদের প্রতি অতিশয় ক্ষমাশীল।
জহুরুল হক
তোমাদের প্রভু ভাল জানেন তোমাদের অন্তরে যা - কিছু আছে। তোমরা যদি সৎকর্মপরায়ণ হও তবে নিঃসন্দেহ তিনি মুখাপেক্ষীদের প্রতি পরিত্রাণকারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
আত্মীয় - স্বজনকে তাদের হক প্রদান করবে এবং মিসকিন আর পথিকদেরকেও। কিছুতেই অপব্যয় করবেনা।
মুহিউদ্দীন খান
আত্নীয় - স্বজনকে তার হক দান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না।
সমকালীন বাংলা
আত্মীয় - স্বজনকে দিবে তাহার প্রাপ্য এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও এবং কিছুতেই অপব্যয় করিও না।
জহুরুল হক
আর নিকটাত্মীয়কে দাও তার প্রাপ্য, আর অভাবগ্রস্তকে ও পথচারীকেও, আর অপব্যয় করো না অপচয়ের সাথে।
আবদুস শহীদ নাসিম
অপব্যয়কারীরা অবশ্যি শয়তানের ভাই, আর শয়তান তো তার প্রভুর প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।
মুহিউদ্দীন খান
নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।
সমকালীন বাংলা
যাহারা অপব্যয় করে তাহারা তো শয়তানের ভাই এবং শয়তান তাহার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ অপব্যয়ীরা হচ্ছে শয়তানগোষ্ঠীর ভাই - বিরাদর। আর শয়তান হচ্ছে তার প্রভুর প্রতি বড় অকৃতজ্ঞ।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর যদি তাদের থেকে মুখ ফেরাতেই হয় (অর্থাৎ দান করার সামর্থ যদি না থাকে), এবং যদি তোমার প্রভুর অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশায় থেকে থাকো, তাহলে তাদের সাথে সহজ ও কোমলভাবে কথা বলবে।
মুহিউদ্দীন খান
এবং তোমার পালনকর্তার করুণার প্রত্যাশায় অপেক্ষামান থাকাকালে যদি কোন সময় তাদেরকে বিমুখ করতে হয়, তখন তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বল।
সমকালীন বাংলা
এবং যদি উহাদের হইতে তোমার মুখ ফিরাইতেই হয়, তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশায়, তাহা হইলে উহাদের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলিও;
জহুরুল হক
আর তুমি যদি তাদের থেকে বিমুখ হও অথচ তোমার প্রভুর কাছ থেকে অনুগ্রহ লাভ করতে চাও যা তুমি প্রত্যাশা কর, তাহলে তাদের সঙ্গে সদয় সুরে কথা বলো।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার হাত গলায় বেঁধে রেখোনা এবং তা পুরোপুরি মেলেও দিয়োনা। তা করলে তুমি তিরস্কৃত এবং নি:স্ব হয়ে পড়বে।
মুহিউদ্দীন খান
তুমি একেবারে ব্যয় - কুষ্ঠ হয়োনা এবং একেবারে মুক্ত হস্তও হয়ো না। তাহলে তুমি তিরস্কৃতি, নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে।
সমকালীন বাংলা
তুমি তোমার হস্ত তোমার গ্রীবায় আবদ্ধ করিয়া রাখিও না এবং উহা সম্পূর্ণ প্রসারিতও করিও না, তাহা হইলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হইয়া পড়িবে।
জহুরুল হক
আর তোমার হাত তোমার গলার সঙ্গে আটকে রেখো না, আর তা প্রসারিত করো না পুরো সম্প্রসারণে, পাছে তুমি বসে থাক নিন্দিত সর্বস্বান্ত হয়ে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার প্রভু যাকে ইচ্ছা রিযিক প্রসারিত করে দেন এবং যাকে ইচ্ছা করে দেন সীমিত। তিনি অবশ্যি তাঁর বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে খবর রাখেন এবং দৃষ্টি রাখেন।
মুহিউদ্দীন খান
নিশ্চয় তোমার পালকর্তা যাকে ইচ্ছা অধিক জীবনোপকরণ দান করেন এবং তিনিই তা সংকুচিতও করে দেন। তিনিই তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত, - সব কিছু দেখছেন।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক যাহার জন্য ইচ্ছা তাহার রিযিক বর্ধিত করেন এবং যাহার জন্য ইচ্ছা উহা সীমিত করেন। তিনি তো তাঁহার বান্দাদের সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত, সর্বদ্রষ্টা।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু রিযেক বাড়িয়ে দেন যার জন্য তিনি ইচ্ছে করেন আর মেপেজোখে দেন। নিঃসন্দেহ তিনি তাঁর বান্দাদের চির ওয়াকিফহাল, সর্বদ্রষ্টা।
আবদুস শহীদ নাসিম
অভাবের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করোনা। আমরাই তাদের রিযিক দেই এবং তোমাদেরকেও। তাদের হত্যা করা এক মহা অপরাধ।
মুহিউদ্দীন খান
দারিদ্রের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই জীবনোপকরণ দিয়ে থাকি। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মারাত্নক অপরাধ।
সমকালীন বাংলা
তোমাদের সন্তানদেরকে দারিদ্র্য - ভয়ে হত্যা করিও না। উহাদেরকেও আমিই রিযিক দেই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয়ই উহাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।
জহুরুল হক
আর তোমাদের সন্তানসন্ততিকে হত্যা করো না দারিদ্রের ভয়ে। আমরাই তাদের রিযেক দিই আর তোমাদেরও। নিঃসন্দেহ তাদের মেরে ফেলা এক মহাপাপ।
আবদুস শহীদ নাসিম
যিনার কাছেও যেয়োনা। এটা একটা ফাহেশা এবং নিকৃষ্ট পন্থা।
মুহিউদ্দীন খান
আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।
সমকালীন বাংলা
আর যিনার নিকটবর্তী হইও না। ইহা অশ্লীল ও নিকৃষ্ঠ আচরন।
জহুরুল হক
আর ব্যভিচারের ধারেকাছেও যেয়ো না, নিঃসন্দেহ তা একটি অশ্লীলতা, আর এটি এক পাপের পথ।
আবদুস শহীদ নাসিম
যাকে হত্যা করা নিষিদ্ধ করেছেন তোমরা তাকে হত্যা করোনা, তবে হক পন্থায় (ন্যায় বিচারের মাধ্যমে) হলে ভিন্ন কথা। কেউ যুলুমের শিকার হয়ে নিহত হলে আমরা তার অলিকে প্রতিকারের (কিসাস গ্রহণের) অধিকার দিয়েছি। কিন্তু সে যেনো হত্যার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করে। কারণ, সে তো সহযোগিতা লাভ করবেই।
মুহিউদ্দীন খান
সে প্রাণকে হত্যা করো না, যাকে হারাম করেছেন; কিন্তু ন্যায়ভাবে। যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়, আমি তার উত্তরাধিকারীকে ক্ষমতা দান করি। অতএব, সে যেন হত্যার ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন না করে। নিশ্চয় সে সাহায্যপ্রাপ্ত।
সমকালীন বাংলা
যাহার হত্যা নিষিদ্ধ করিয়াছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তাহাকে হত্যা করিও না। কেহ অন্যায়ভাবে নিহত হইলে তাহার উত্তরাধিকারীকে তো আমি উহা প্রতিকারের অধিকার দিয়াছি ; কিন্তু হত্যার ব্যাপারে সে যেন বাড়াবাড়ি না করে ; সে তো সাহায্যপ্রাপ্ত হইয়াছেই।
জহুরুল হক
আর কোনো সত্ত্বাকে যথাযথ কারণ ব্যতীত হত্যা করো না যাকে নিষেধ করেছেন। আর যে কেউ অন্যায়ভাবে নিহত হয় ইতিমধ্যে আমরা তো তার অভিভাবককে অধিকার দিয়েছি, কাজেই হত্যার ব্যাপারে সে যেন বাড়াবাড়ি না করে। সে নিশ্চয়ই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
উত্তম পন্থায় ছাড়া এতিমদের মাল সম্পদের কাছেও যেয়োনা যতোদিন না তারা বয়:প্রাপ্ত হয়। অঙ্গীকার পূর্ণ করবে, কারণ অঙ্গীকার সম্পর্কে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।
মুহিউদ্দীন খান
আর, এতিমের মালের কাছেও যেয়ো না, একমাত্র তার কল্যাণ আকাংখা ছাড়া; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যৌবনে পদার্পন করা পর্যন্ত এবং অঙ্গীকার পূর্ন কর। নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
সমকালীন বাংলা
ইয়াতীম বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সদুপায়ে ছাড়া তোমরা তাহার সম্পত্তির নিকটবর্তী হইও না এবং প্রতিশ্রুতি পালন করিও; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হইবে।
জহুরুল হক
আর এতীমের সম্পত্তির কাছে যেও না যা শ্রেষ্ঠতম সেই উদ্দেশ্য ব্যতীত, যে পর্যন্ত না সে তার সাবালকত্বে পৌঁছে। আর প্রতিশ্রুতি পালন করো, নিঃসন্দেহ প্রতিশ্রুতি সন্বন্ধে প্রশ্ন করা হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যখন মেপে দেবে মাপ পূর্ণ করবে এবং ওজন করবে সমান - সঠিক দাঁড়ি পাল্লায়। এটাই উত্তম এবং পরিণামের দিক থেকে কল্যাণকর।
মুহিউদ্দীন খান
মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক দাঁড়িপালায় ওজন করবে। এটা উত্তম; এর পরিণাম শুভ।
সমকালীন বাংলা
মাপিয়া দিবার সময় পূর্ণ মাপে দিবে এবং ওজন করিবে সঠিক ইহাই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট।
জহুরুল হক
আর পুরো মাপ দিয়ো যখন তোমরা মাপজোখ কর, আর ওজন করো সঠিক পাল্লায়। এটিই উত্তম আর পরিণামে শ্রেষ্ঠ।
আবদুস শহীদ নাসিম
যে বিষয়ে তোমার এলেম নেই তার অনুসরণ করোনা। নিশ্চয়ই কান, চোখ, অন্তর এর প্রত্যেকটি সম্পর্কেই কৈফিয়ত চাওয়া হবে।
মুহিউদ্দীন খান
যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে।
সমকালীন বাংলা
যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নাই উহার অনুসরণ করিও না; কর্ণ, চক্ষু, হৃদয় - উহাদের প্রত্যেকটি সম্পর্কেই কৈফিয়ত তলব করা হইবে।
জহুরুল হক
আর যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না। নিঃসন্দেহ শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ - - এ দের প্রত্যেকটিকে তাদের সন্বন্ধে সওয়াল করা হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
জমিনে দম্ভ ভরে চলাফেরা করোনা, তুমি কখনো পদচাপে জমিনকে বিদীর্ণ করতে পারবেনা এবং উচ্চতায় পাহাড়ের সমানও পৌঁছাতে পারবেনা।
মুহিউদ্দীন খান
পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয় তুমি তো ভূ পৃষ্ঠকে কখনই বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না।
সমকালীন বাংলা
ভূপৃষ্ঠে দম্ভভরে বিচরণ করিও না ; তুমি তো কখনই পদভরে ভূপৃষ্ঠ বিদীর্ণ করিতে পারিবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বতপ্রমাণ হইতে পারিবে না।
জহুরুল হক
আর দুনিয়াতে গর্বভরে চলাফেরা করো না, নিঃসন্দেহ তুমি তো কখনো পৃথিবীটাকে এফোঁড় - ওফোঁড় করতে পারবে না আর উচ্চতায় পাহাড়ের নাগালও পেতে পারবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
এগুলোর মন্দ দিকগুলো তোমার প্রভুর কাছে খুবই ঘৃণ্য।
মুহিউদ্দীন খান
এ সবের মধ্যে যেগুলো মন্দকাজ, সেগুলো তোমার পালনকর্তার কাছে অপছন্দনীয়।
সমকালীন বাংলা
এই সমস্তের মধ্যে যেগুলি মন্দ সেইগুলি তোমার প্রতিপালকের নিকট ঘৃণ্য।
জহুরুল হক
এইসব - - এগুলোর যা মন্দ তা তোমার প্রভুর কাছে ঘৃণ্য।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার প্রভু অহির মাধ্যমে তোমার কাছে যেসব হিকমাহ্ (জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কথা) নাযিল করেছেন এগুলো সেগুলোরই অংশ। তোমার প্রভুর সাথে আর কাউকেও ইলাহ্ বানিয়ে নিয়োনা। বানালে তুমি নিন্দিত ও ধিকৃত হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
মুহিউদ্দীন খান
এটা ঐ হিকমতের অন্তর্ভূক্ত, যা আপনার পালনকর্তা আপনাকে ওহী মারফত দান করেছেন। আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য স্থির করবেন না। তাহলে অভিযুক্ত ও আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বিতাড়িত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবেন।
সমকালীন বাংলা
তোমার প্রতিপালক ওহীর দ্বারা তোমাকে যে হিকমত দান করিয়াছেন এইগুলি তাহার অন্তর্ভুক্ত। তুমি সঙ্গে অপর ইলাহ্ স্থির করিও না, করিলে তুমি নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হইবে।
জহুরুল হক
এগুলো হচ্ছে তোমার প্রভু জ্ঞানের বিষয়ে তোমার কাছে যা প্রত্যাদেশ করেছেন তার মধ্যে থেকে। সুতরাং র সঙ্গে অন্য উপাস্য দাঁড় করো না, পাছে তুমি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়ে যাও নিন্দিত পরিত্যক্ত অবস্থায়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের প্রভু কি তোমাদেরকে পুত্র সন্তানের জন্য মনোনীত করেছেন, আর তিনি নিজে কি ফেরেশতাদেরকে কন্যা সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেছেন? তোমরা তো এক গুরুতর (অন্যায়) কথা বলে বেড়াচ্ছো।
মুহিউদ্দীন খান
তোমাদের পালনকর্তা কি তোমাদের জন্যে পুত্র সন্তান নির্ধারিত করেছেন এবং নিজের জন্যে ফেরেশতাদেরকে কন্যারূপে গ্রহণ করেছেন? নিশ্চয় তোমরা গুরুতর গর্হিত কথাবার্তা বলছ।
সমকালীন বাংলা
তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদেরকে পুত্র সন্তানের জন্য নির্বাচিত করিয়াছেন এবং তিনি কি নিজে ফিরিশ্তাগণকে কন্যারূপে গ্রহণ করিয়াছেন? তোমরা তো নিশ্চয়ই ভয়ানক কথা বলিয়া থাক !
জহুরুল হক
তবে কি তোমাদের প্রভু তোমাদেরে ভূষিত করেছেন পুত্রসন্তানদের দিয়ে, এবং তিনি নিয়েছেন ফিরিশ্তাদের থেকে কন্যাসব? নিঃসন্দেহ তোমরা তো বলছ এক ভয়ানক কথা!
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা এ কুরআনে অনেক বিষয়ই বার বার বর্ণনা করেছি, যাতে করে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। কিন্তু এতে তাদের পালানোই বৃদ্ধি পেয়েছে।
মুহিউদ্দীন খান
আমি এই কোরআনে নানাভাবে বুঝিয়েছি, যাতে তারা চিন্তা করে। অথচ এতে তাদের কেবল বিমুখতাই বৃদ্ধি পায়।
সমকালীন বাংলা
আর অবশ্যই আমি এই কুরআনে বহু বিষয় বারবার বিবৃত করিয়াছি যাহাতে উহারা উপদেশ গ্রহণ করে। কিন্তু ইহাতে উহাদের বিমুখতাই বৃদ্ধি পায়।
জহুরুল হক
আর আমরা এই কুরআনে বারবার বিবৃত করেছি যেন তারা স্মরণ করে। কিন্তু এটি তাদের বিতৃষ্ণা ছাড়া আর কিছু বাড়ায় না।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: ‘তাঁর সাথে যদি আরো ইলাহ্ থাকতো, যেমন তারা বলে: তবে তো তারা আরশের মালিকের আসন দখল করার জন্যে পথ খুঁজতো।’
মুহিউদ্দীন খান
বলুনঃ তাদের কথামত যদি তাঁর সাথে অন্যান্য উপাস্য থাকত; তবে তারা আরশের মালিক পর্যন্ত পৌছার পথ অন্বেষন করত।
সমকালীন বাংলা
বল, ‘যদি তাঁহার সঙ্গে আরও ইলাহ্ থাকিত যেমন উহারা বলে, তবে তাহারা আরশ অধিপতির প্রতিদ্বন্দি¡তা করিবার উপায় অন্বেষণ করিত।’
জহুরুল হক
বলো - - ''তারা যেমন বলে তাঁর সঙ্গে যদি তেমন আরো উপাস্য থাকত তবে তারা আরশের অধিপতির প্রতি পথ খোঁজতো।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা যা বলে তা থেকে তিনি পবিত্র এবং অনেক ঊর্ধ্বে, তিনি মহামর্যাদাবান।
মুহিউদ্দীন খান
তিনি নেহায়েত পবিত্র ও মহিমান্বিত এবং তারা যা বলে থাকে তা থেকে বহু উর্ধ্বে।
সমকালীন বাংলা
তিনি পবিত্র, মহিমান্নিত এবং উহারা যাহা বলে তাহা হইতে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।
জহুরুল হক
তাঁরই সমস্ত মহিমা! আর তারা যা বলে তা হতে তিনি মহিমান্নিত, বহু ঊর্ধ্বে!
আবদুস শহীদ নাসিম
সপ্তাকাশ, এই পৃথিবী এবং এগুলোর মধ্যে যারাই আছে, সবাই তাঁরই তসবিহ্ করছে। এমন কোনো বস্ত্ত নেই যা তাঁর প্রশংসাসহ তাঁর তসবিহ্ করছেনা। তবে তোমরা তাদের তসবিহ্ অনুধাবন করতে পারোনা। নিশ্চয়ই তিনি অতীব সহনশীল মহাক্ষমাপরায়ণ।
মুহিউদ্দীন খান
সপ্ত আকাশ ও পৃথিবী এবং এগুলোর মধ্যে যাকিছু আছে সমস্ত কিছু তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এবং এমন কিছু নেই যা তার সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করে না। কিন্তু তাদের পবিত্রতা, মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পার না। নিশ্চয় তিনি অতি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।
সমকালীন বাংলা
সপ্ত আকাশ, পৃথিবী এবং উহাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু তাঁহারই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং এমন কিছু নাই যাহা তাঁহার সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে না ; কিন্তু উহাদের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করিতে পার না; নিশ্চয়ই তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।
জহুরুল হক
সাত আসমান ও জমিন এবং তাদের মধ্যে যারা রয়েছে তারা তাঁর মহিমা ঘোষণা করে। আর এমন কিছু নেই যা তাঁর প্রশংসার সাথে মহিমা ঘোষণা করে না, কিন্তু তোমরা তাদের মহিমাকীর্তন অনুধাবন করতে পার না। নিঃসন্দেহ তিনি হচ্ছেন অতি অমায়িক, পরিত্রাণকারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি যখন কুরআন পাঠ করো, তখন আমরা তোমার আর যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখেনা, তাদের মধ্যে একটি গোপন পর্দা লাগিয়ে দেই।
মুহিউদ্দীন খান
যখন আপনি কোরআন পাঠ করেন, তখন আমি আপনার মধ্যে ও পরকালে অবিশ্বাসীদের মধ্যে প্রচ্ছন্ন পর্দা ফেলে দেই।
সমকালীন বাংলা
তুমি যখন কুরআন পাঠ কর তখন তোমার ও যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহাদের মধ্যে এক প্রচ্ছন্ন পর্দা রাখিয়া দেই।
জহুরুল হক
আর যখন তুমি কুরআন পাঠ কর তখন তোমার মধ্যে ও যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের মধ্যে আমরা স্থাপন করি এক পর্দা।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা তাদের কলবের উপর আবরণ সৃষ্টি করে দিয়েছি যেনো তারা তা উপলব্ধি করতে না পারে, আর তাদের কানে সৃষ্টি করে দিয়েছি বধিরতা। তুমি যখন কুরআনে তোমার একমাত্র প্রভুর কথা স্মরণ করো: তখন তারা পেছনে ফিরে পালাতে থাকে।
মুহিউদ্দীন খান
আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দেই, যাতে তারা একে উপলব্ধি করতে না পারে এবং তাদের কর্ণকুহরে বোঝা চাপিয়ে দেই। যখন আপনি কোরআনে পালনকর্তার একত্ব আবৃত্তি করেন, তখন ও অনীহাবশতঃ ওরা পৃষ্ট প্রদর্শন করে চলে যায়।
সমকালীন বাংলা
আমি উহাদের অন্তরের উপর আবরণ দিয়াছি যেন উহারা তাহা উপলব্ধি করিতে না পারে এবং উহাদেরকে বধির করিয়াছি ; ‘তোমার প্রতিপালক এক’, ইহা যখন তুমি কুরআন হইতে আবৃত্তি কর তখন পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিয়া উহারা সরিয়া পড়ে।
জহুরুল হক
আর আমরা তাদের হৃদয়ের উপরে এক আবরণ দিয়ে দিয়েছি পাছে তারা এটি উপলব্ধি করতে পারে, আর তাদের কানে বধিরতা। আর যখন তুমি কুরআনে তোমার প্রভুব - - তাঁর একত্বের উল্লেখ কর তখন তারা তাদের পিঠ ঘুরিয়ে ফিরে যায় বিতৃষ্ণায়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা যখন তোমার কথা কান পেতে শুনে তখন আমরা ভালোভাবেই জানি, তারা কেন কান পেতে শুনে এবং আমরা এটাও জানি, যালিমরা গোপন আলোচনার সময় বলে: ‘তোমরা তো এক জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির অনুসরণ করছো।’
মুহিউদ্দীন খান
যখন তারা কান পেতে আপনার কথা শোনে, তখন তারা কেন কান পেতে তা শোনে, তা আমি ভাল জানি এবং এও জানি গোপনে আলোচনাকালে যখন জালেমরা বলে, তোমরা তো এক যাদুগ্রস্থ ব্যক্তির অনুসরণ করছ।
সমকালীন বাংলা
যখন উহারা কান পাতিয়া তোমার কথা শুনে তখন উহারা কেন কান পাতিয়া শুনে তাহা আমি ভাল জানি, এবং ইহাও জানি, গোপনে আলোচনাকালে জালিমরা বলে, ‘তোমরা তো এক জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির অনুসরণ করিতেছ।’
জহুরুল হক
আমরা ভাল জানি যখন তারা এটি শুনতে যায় তখন তারা তোমার প্রতি শোনে, আর যখন তারা সলাপরামর্শ করে, দেখো! অন্যায়কারীরা বলে - - ''তোমরা তো শুধু এক জাদুগ্রস্ত লোককে অনুসরণ করছ।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
লক্ষ্য করে দেখো, তারা তোমার কী উপমা দিচ্ছে? তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, ফলে তারা আর পথ পাবেনা।
মুহিউদ্দীন খান
দেখুন, ওরা আপনার জন্যে কেমন উপমা দেয়। ওরা পথভ্রষ্ট হয়েছে। অতএব, ওরা পথ পেতে পারে না।
সমকালীন বাংলা
দেখ, উহারা তোমার কী উপমা দেয়! উহারা পথভ্রষ্ট হইয়াছে, ফলে উহারা পথ পাইবে না।
জহুরুল হক
দেখো, কিরূপ উপমা তারা তোমার জন্য ছোঁড়ে, কাজেই তারা বিপথে গেছে, সুতরাং তারা পথ পাবার সামর্থ্য রাখে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলে: ‘আমরা হাড়গোড়ে পরিণত হলেও এবং চূর্ণ - বিচূর্ণ হলেও কি নতুন সৃষ্টি হিসেবে পুনরুত্থিত হবো?’
মুহিউদ্দীন খান
তারা বলেঃ যখন আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাব, তখনও কি নতুন করে সৃজিত হয়ে উত্থিত হব?
সমকালীন বাংলা
উহারা বলে, ‘আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ - বিচূর্ণ হইলেও কি নূতন সৃষ্টিরূপে উত্থিত হইব?’
জহুরুল হক
আর তারা বলে - - ''কি! আমরা যখন হাড্ডি ও চূর্ণ - বিচূর্ণ হয়ে যাব, তখন কি আমরা নতুন সৃষ্টিতে পুনরুত্থিত হব?’’
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি বলো: ‘‘তোমরা পাথর হয়ে যাও কিংবা লোহা,
মুহিউদ্দীন খান
বলুনঃ তোমরা পাথর হয়ে যাও কিংবা লোহা।
সমকালীন বাংলা
বল, ‘তোমরা হইয়া যাও পাথর অথবা লৌহ।
জহুরুল হক
বলো - - ''তোমরা পাথর অথবা লোহা হয়ে যাও,
আবদুস শহীদ নাসিম
নতুবা এমন কিছুই হওনা কেন যা তোমাদের ধারণায় খুবই কঠিন (তবু তোমরা পুনরুত্থিত হবে)’’। তারা বলে: ‘কে আমাদের পুনরুত্থিত করবে?’ বলো: ‘তিনি পুনরুত্থিত করবেন, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন প্রথমবার।’ তখন তারা তোমার সামনে মাথা নাড়ে এবং বলে: ‘সেটা অনুষ্ঠিত হবে কখন?’ বলো: ‘সম্ভবত সেটা খুবই কাছে।’
মুহিউদ্দীন খান
অথবা এমন কোন বস্তু, যা তোমাদের ধারণায় খুবই কঠিন; তথাপি তারা বলবেঃ আমাদের কে পুর্নবার কে সৃষ্টি করবে। বলুনঃ যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃজন করেছেন। অতঃপর তারা আপনার সামনে মাথা নাড়বে এবং বলবেঃ এটা কবে হবে? বলুনঃ হবে, সম্ভবতঃ শ্রীঘ্রই।
সমকালীন বাংলা
‘অথবা এমন কিছু যাহা তোমাদের ধারণায় খুবই কঠিন’; তাহারা বলিবে, ‘কে আমাদেরকে পুনরুত্থিত করিবে?’ বল, ‘তিনিই, যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করিয়াছেন।’ অতঃপর উহারা তোমার সম্মুখে মাথা নাড়িবে ও বলিবে, ‘উহা কবে?’ বল, ‘হইবে সম্ভবত শীঘ্রই,
জহুরুল হক
''অথবা আর কোনো সৃষ্টবস্তু যা তোমাদের ধারণায় আরো শক্ত!’’ তখন তারা বলবে - - ''কে আমাদের ফিরিয়ে আনবে?’’ বলো - - ''যিনি তোমাদের প্রথমবারে সৃষ্টি করেছিলেন।’’ তখন তারা তোমার দিকে তাদের মাথা নাড়বে ও বলবে - - ''এ কখন হবে!’’ তুমি বলো - - ''হতে পারে এ নিকটবর্তী।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
সেদিন তিনি তোমাদের আহবান করবেন এবং তোমরা তাঁর প্রশংসাসহ তাঁর আহবানে সাড়া দেবে। তখন তোমরা মনে করবে, তোমরা সামান্য সময়ই অবস্থান করেছিলে।
মুহিউদ্দীন খান
যেদিন তিনি তোমাদেরকে আহবান করবেন, অতঃপর তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে চলে আসবে। এবং তোমরা অনুমান করবে যে, সামান্য সময়ই অবস্থান করেছিলে।
সমকালীন বাংলা
যেদিন তিনি তোমাদেরকে আহ্বান করিবেন, এবং তোমরা তাঁহার প্রশংসার সঙ্গে তাঁহার আহ্বানে সাড়া দিবে এবং তোমরা মনে করিবে, তোমরা অল্পকালই অবস্থান করিয়াছিলে।’
জহুরুল হক
যেদিন তিনি তোমাদের ডাকবেন তখন অচিরেই তোমরা সাড়া দেবে তাঁর প্রশংসার সাথে, আর তোমরা ভাববে যে তোমরা তো অবস্থান করছিলে শুধু অল্পক্ষণ।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমার দাসদের বলো: তারা যেনো সে রকম কথা বলে যা উত্তম। কারণ শয়তান তো তাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্যে উস্কানি দিয়ে থাকে। নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের সুস্পষ্ট দুশমন।
মুহিউদ্দীন খান
আমার বান্দাদেরকে বলে দিন, তারা যেন যা উত্তম এমন কথাই বলে। শয়তান তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধায়। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
সমকালীন বাংলা
আমার বান্দাদেরকে যাহা উত্তম তাহা বলিতে বল। নিশ্চয়ই শয়তান উহাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয় ; শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
জহুরুল হক
আর আমার বান্দাদের বল যে তারা যেন কথা বলে যা সর্বোৎকৃষ্ট। নিঃসন্দেহ শয়তান তাদের মধ্যে বিরোধের উসকানি দেয়। শয়তান মানুষের জন্য নিশ্চয় প্রকাশ্য শত্রু।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের প্রভুই তোমাদের সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন। তিনি চাইলে তোমাদের রহম করবেন, কিংবা ইচ্ছা করলে তোমাদের আযাব দেবেন। (হে নবী!) আমরা তোমাকে তাদের উপর উকিল নিযুক্ত করিনি।
মুহিউদ্দীন খান
তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত আছেন। তিনি যদি চান, তোমাদের প্রতি রহমত করবেন কিংবা যদি চান, তোমাদের আযাব দিবেন। আমি আপনাকে ওদের সবার তত্ত্বাবধায়ক রূপে প্রেরণ করিনি।
সমকালীন বাংলা
তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে ভালভাবে জানেন। ইচ্ছা করিলে তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করেন এবং ইচ্ছা করিলে তোমাদেরকে শাস্তিদেন ; আমি তোমাকে উহাদের অভিভাবক করিয়া পাঠাই নাই।
জহুরুল হক
তোমাদের প্রভু তোমাদের ভালভাবে জানেন। তিনি যদি ইচ্ছে করেন তবে তিনি তোমাদের প্রতি করুণা করবেন, অথবা তিনি যদি চান তো তোমাদের শাস্তি দেবেন। আর তোমাকে আমরা পাঠাই নি তাদের উপরে কর্ণধাররূপে।
আবদুস শহীদ নাসিম
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যারা আছে তোমার প্রভু তাদের ভালোভাবে জানেন। আমরা কিছু নবীকে কিছু নবীর উপর মর্যাদা দিয়েছি এবং দাউদকে দিয়েছি যবুর।
মুহিউদ্দীন খান
আপনার পালনকর্তা তাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত আছেন, যারা আকাশসমূহে ও ভুপৃষ্ঠে রয়েছে। আমি তো কতক পয়গম্বরকে কতক পয়গম্বরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি এবং দাউদকে যবুর দান করেছি।
সমকালীন বাংলা
যাহারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আছে তাহাদেরকে তোমার প্রতিপালক ভালভাবে জানেন। আমি তো নবীগণের কতককে কতকের উপর মর্যাদা দিয়াছি ; দাঊদকে আমি যাবূর দিয়াছি।
জহুরুল হক
আর তোমার প্রভু ভাল জানেন তাদের যারা আছে মহাকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে। আর আমরা নিশ্চয় কোনো - কোনো নবীকে প্রাধান্য দিয়েছি অন্যদের উপরে, আর দাউদকে আমরা দিয়েছিলাম যবূর।
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো: তোমরা ছাড়া আর যাদের ইলাহ্ বলে ধারণা করছো, তাদের ডাকো, দেখবে তোমাদের দুঃখ - দুর্দশা দূর করার এবং তোমাদের অবস্থা পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতাই তাদের নেই।
মুহিউদ্দীন খান
বলুনঃ ব্যতীত যাদেরকে তোমরা উপাস্য মনে কর, তাদেরকে আহবান কর। অথচ ওরা তো তোমাদের কষ্ট দুর করার ক্ষমতা রাখে না এবং তা পরিবর্তনও করতে পারে না।
সমকালীন বাংলা
বল, ‘তোমরা ব্যতীত যাহাদেরকে ইলাহ্ মনে কর তাহাদেরকে আহ্বান কর, করিলে দেখিবে তোমাদের দুঃখ - দৈন্য দূর করিবার অথবা পরিবর্তন করিবার শক্তি উহাদের নাই।’
জহুরুল হক
বলো - - ''তাঁকে ছেড়ে দিয়ে তোমরা যাদের প্রতি ঝোঁকো তাদের ডাকো, কিন্তু তারা তোমাদের থেকে বিপদ - আপদ দূর করার কোনো ক্ষমতা রাখে না, আর তা বদলাবারও না।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা যাদের ডাকে তারা নিজেরাই তো তাদের প্রভুর নৈকট্য লাভের উসিলা সন্ধান করে যে, তাদের কে কতোটা তাঁর নিকটতর হতে পারে। তারাই তাঁর রহমত প্রত্যাশা করে এবং তাঁর আযাবের ভয়ে ভীত থাকে। কারণ, তোমার প্রভুর আযাব তো ভয়াবহ।
মুহিউদ্দীন খান
যাদেরকে তারা আহবান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্য লাভের জন্য মধ্যস্থ তালাশ করে যে, তাদের মধ্যে কে নৈকট্যশীল। তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার শাস্তি ভয়াবহ।
সমকালীন বাংলা
উহারা যাহাদেরকে আহ্বান করে তাহারাই তো তাহাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করে যে, তাহাদের মধ্যে কে কত নিকটতর হইতে পারে, তাঁহার দয়া প্রত্যাশা করে ও তাঁহার শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকের শাস্তি ভয়াবহ।
জহুরুল হক
ঐ সব যাদের তারা ডাকে তারা তাদের প্রভুর কাছে অছিলা খোঁজে - - তাদের মধ্যের কে হবে নিকটতম, আর তারা তাঁর করুণার প্রত্যাশা করে ও তাঁর শাস্তির ভয় করে। নিঃসন্দেহ তোমার প্রভুর শাস্তিকে এড়িয়ে চলতে হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
এমন কোনো জনপদ নেই যাকে আমরা কিয়ামত কালের আগে হালাক করবোনা, কিংবা কঠিন আযাব দেবোনা। এটা কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
মুহিউদ্দীন খান
এমন কোন জনপদ নেই, যাকে আমি কেয়ামত দিবসের পূর্বে ধ্বংস করব না অথবা যাকে কঠোর শাস্তি দেব না। এটা তো গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে।
সমকালীন বাংলা
এমন কোন জনপদ নাই যাহা আমি কিয়ামতের দিনের পূর্বে ধ্বংস করিব না অথবা যাহাকে কঠোর শাস্তি দিব না ; ইহা তো কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।
জহুরুল হক
আর এমন কোনো জনপদ নেই যাকে না আমরা কিয়ামতের দিনের আগে বিধ্বংস করব, অথবা কঠোর শাস্তিতে তাদের শাস্তি দেব। এটি গ্রন্থের মধ্যে লিপিবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আগেকার লোকদের নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করাটাই আমাদেরকে (তোমার কাছে) নিদর্শন পাঠানো থেকে বিরত রাখে। আমরা শিক্ষা গ্রহণের জন্যেই সামুদ জাতিকে উটনী দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তার প্রতি যুলুম করে। আমরা তো কেবল ভয় দেখানোর জন্যেই নিদর্শন পাঠাই।
মুহিউদ্দীন খান
পূর্ববর্তীগণ কতৃক নিদর্শন অস্বীকার করার ফলেই আমাকে নিদর্শনাবলী প্রেরণ থেকে বিরত থাকতে হয়েছে। আমি তাদেরকে বোঝাবার জন্যে সামুদকে উষ্ট্রী দিয়েছিলাম। অতঃপর তারা তার প্রতি জুলুম করেছিল। আমি ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশেই নিদর্শন প্রেরণ করি।
সমকালীন বাংলা
পূর্ববর্তীগণ কর্তৃক নিদর্শন অস্বীকার করাই আমাকে নিদর্শন প্রেরণ করা হইতে বিরত রাখে। আমি শিক্ষাপ্রদ নিদর্শনস্বরূপ সামূদ জাতিকে উষ্ট্রী দিয়াছিলাম, অতঃপর তাহারা উহার প্রতি জুলুম করিয়াছিল। আমি কেবল ভীতি প্রদর্শনের জন্যই নিদর্শন প্রেরণ করি।
জহুরুল হক
আর আমাদের নিদর্শনসমূহ পাঠাতে কিছুই আমাদের বাধা দেয় না এ ভিন্ন যে প্রাচীনকালীনরা সে - সব প্রত্যাখ্যান করেছিল। আর আমরা ছামূদ জাতিকে দিয়েছিলাম উষ্টী - - এক স্পষ্ট নিদর্শনরূপে, কিন্তু তারা ওর প্রতি অন্যায় করেছিল। বস্তুতঃ আমরা নিদর্শনসমূহ পাঠাই না হুশিয়াঁর করার জন্যে ছাড়া।
আবদুস শহীদ নাসিম
স্মরণ করো, যখন আমরা তোমাকে বলেছিলাম: ‘নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মানুষকে পরিবেষ্টন করে আছেন।’ আমরা (মেরাজ রাতে) তোমাকে যেসব দৃশ্য দেখিয়েছি, সেগুলো এবং কুরআনে বর্ণিত অভিশপ্ত গাছটি শুধুই মানুষের পরীক্ষার জন্যে। আমরা তাদের ভয় দেখালেও তা কেবল তাদের অবাধ্যতাই বাড়িয়ে দেয়।
মুহিউদ্দীন খান
এবং স্মরণ করুন, আমি আপনাকে বলে দিয়েছিলাম যে, আপনার পালনকর্তা মানুষকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং যে দৃশ্য আমি আপনাকে দেখিয়েছি তাও কোরআনে উল্লেখিত অভিশপ্ত বৃক্ষ কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্যে। আমি তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করি। কিন্তু এতে তাদের অবাধ্যতাই আরও বৃদ্ধি পায়।
সমকালীন বাংলা
স্মরণ কর, আমি তোমাকে বলিয়াছিলাম যে, নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক মানুষকে পরিবেষ্টন করিয়া আছেন। আমি যে দৃশ্য তোমাকে দেখাইয়াছি তাহা এবং কুরআনে অভিশপ্ত বৃক্ষটিও কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্য। আমি উহাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করি, কিন্তু ইহা উহাদের ঘোর অবাধ্যতাই বৃদ্ধি করে।
জহুরুল হক
আর স্মরণ করো! আমরা তোমাকে বলেছিলাম - - ''নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু মানুষকে ঘেরাও করে আছেন। আর তো মাকে যা দেখিয়েছিলাম সেই দৈবদর্শন আমরা মানুষের জন্যে একটি পরীক্ষার জন্য ছাড়া বানাই নি, আর কুরআনে বর্ণিত অভিশপ্ত বৃক্ষও। আর আমরা তাদের হুশিয়াঁর করছি, কিন্তু এটি তাদের তীব্র অবাধ্যতা ছাড়া আর কিছুই বাড়ায় না।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা যখন ফেরেশতাদের বলেছিলাম: ‘সাজদা করো আদমকে।’ তখন তারা সাজদা করেছিল ইবলিস ছাড়া। সে বলেছিল: ‘আমি কি এমন একজনকে সাজদা করবো যাকে আপনি সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি থেকে?’
মুহিউদ্দীন খান
স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সবাই সেজদায় পড়ে গেল। কিন্তু সে বললঃ আমি কি এমন ব্যক্তিকে সেজদা করব, যাকে আপনি মাটির দ্বারা সৃষ্টি করেছেন?
সমকালীন বাংলা
স্মরণ কর, যখন ফিরিশতাদেরকে বলিলাম, ‘আদমকে সিজদা কর’, তখন ইবলীস ব্যতীত সকলেই সিজদা করিল। সে বলিয়াছিল, ‘আমি কি তাহাকে সিজ্দা করিব যাহাকে আপনি কর্দম হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন?’
জহুরুল হক
আর আমরা যখন ফিরিশ্তাদের বললাম - - ''আদমকে সিজদা করো’’, তখন তারা সিজদা করল, ইবলিস ব্যতীত। সে বললে - - ''আমি কি তাকে সিজদা করব যাকে তুমি কাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছ?’’
আবদুস শহীদ নাসিম
সে আরো বলেছিল: ‘আপনি কি ভেবে দেখেছেন, আপনি এই ব্যক্তিকে আমার উপর মর্যাদা দিয়েছেন (সে কি এর যোগ্য ছিলো)? এখন কিয়ামত কাল পর্যন্ত যদি আপনি আমাকে সুযোগ দেন তাহলে তার বংশধরদের অল্প কিছু বাদে বাকিদের আমি বিপথগামী করে ফেলবো।’
মুহিউদ্দীন খান
সে বললঃ দেখুন তো, এনা সে ব্যক্তি, যাকে আপনি আমার চাইতেও উচ্চ মার্যাদা দিয়ে দিয়েছেন। যদি আপনি আমাকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত সময় দেন, তবে আমি সামান্য সংখ্যক ছাড়া তার বংশধরদেরকে সমূলে নষ্ট করে দেব।
সমকালীন বাংলা
সে বলিয়াছিল, “আপনি কি বিবেচনা করিয়াছেন, আপনি আমার উপর এই ব্যক্তিকে মর্যাদা দান করিলেন, কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যদি আমাকে অবকাশ দেন তাহা হইলে আমি অল্প কয়েকজন ব্যতীত তাহার বংশধরকে অবশ্যই কর্তৃত্বাধীন করিয়া ফেলিব।”
জহুরুল হক
সে বললে - - ''দেখুন তো! এই বুঝি সে যাকে আপনি আমার উপরে মর্যাদা দিলেন? কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যদি আমাকে আপনি অবকাশ দেন তবে আমি আলবৎ তার বংশধরদের সর্বনাশ করব অল্প কয়েকজন ছাড়া।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
বললেন: ‘‘ঠিক আছে, যা, তাদের মধ্যে যারা তোর অনুসরণ করবে, জাহান্নামই হবে তাদের সবার প্রতিদান এবং পরিপূর্ণ দন্ড।
মুহিউদ্দীন খান
বলেনঃ চলে যা, অতঃপর তাদের মধ্য থেকে যে তোর অনুগামী হবে, জাহান্নামই হবে তাদের সবার শাস্তি - ভরপুর শাস্তি।
সমকালীন বাংলা
বলিলেন, ‘যাও, তাহাদের মধ্যে যাহারা তোমার অনুসরণ করিবে, তবে জাহান্নামই তোমাদের সকলের শাস্তি, পূর্ণ শাস্তি।
জহুরুল হক
তিনি বললেন - - ''চলে যাও! বস্তুতঃ তাদের মধ্যের যে কেউ তোমার অনুসরণ করবে তাহলে জাহান্নামই তোমাদের পরিণতি - - এক পরিপূর্ণ প্রতিফল।
আবদুস শহীদ নাসিম
চিৎকার করে তাদের যাকে পারিস পথভ্রষ্ট কর, তোর অশ্ববাহিনী এবং পদাতিক বাহিনী দিয়ে তাদের আক্রমণ কর, ধন মাল ও সন্তান - সন্তুতিতে তাদের শরিক হয়ে যা এবং তাদের প্রতিশ্রুতি দিতে থাক।’’ কিন্তু শয়তান তাদের যে ওয়াদা দেয় তা তো প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।
মুহিউদ্দীন খান
তুই সত্যচ্যুত করে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় আওয়ায দ্বারা, স্বীয় অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদেরকে আক্রমণ কর, তাদের অর্থ - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততিতে শরীক হয়ে যা এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দে। ছলনা ছাড়া শয়তান তাদেরকে কোন প্রতিশ্রুতি দেয় না।
সমকালীন বাংলা
‘তোমার আহ্বানে উহাদের মধ্যে যাহাকে পার পদস্খলিত কর, তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দ্বারা উহাদেরকে আক্রমণ কর এবং উহাদের ধনে ও সন্তান - সন্ততিতে শরীক হইয়া যাও ও উহাদেরকে প্রতিশ্রুতি দাও। শয়তান উহাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় উহা ছলনা মাত্র।
জহুরুল হক
''আর তাদের যাকে পার তোমার আহ্বানে প্রতারিত কর, আর তাদের উপরে হামলা চালাও তোমার ঘোড়সওয়ারদের দ্বারা, আর তোমার পদাতিক বাহিনীর দ্বারা, আর তাদের অংশী হও ধনসম্পত্তিতে এবং সন্তানসন্ততিতে, আর তাদের ওয়াদা করো।’’ আর শয়তান তাদের প্রতিশ্রুতি দেয় না প্রতারণা করা ছাড়া।
আবদুস শহীদ নাসিম
(তিনি তাকে আরো বলেছেন:) ‘আমার দাসদের উপর তোর কোনো কর্তৃত্বই খাটবে না।’ উকিল হিসেব তোমার প্রভুই যথেষ্ট।
মুহিউদ্দীন খান
আমার বান্দাদের উপর তোর কোন ক্ষমতা নেই আপনার পালনকর্তা যথেষ্ট কার্যনির্বাহী।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই ‘আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নাই।’ কর্মবিধায়ক হিসাবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।
জহুরুল হক
''নিঃসন্দেহ আমার বান্দাদের সন্বন্ধে, - - তাদের উপরে তোমার কোনো প্রভাব নেই।’’ আর কর্ণধাররূপে তোমার প্রভুই যথেষ্ট।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের প্রভু তো তিনি, যিনি সমুদ্রে তোমাদের জন্যে নৌযান পরিচালিত করেন, যাতে করে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো। নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের প্রতি দয়াময়।
মুহিউদ্দীন খান
তোমাদের পালনকর্তা তিনিই, যিনি তোমাদের জন্যে সমুদ্রে জলযান চালনা করেন, যাতে তোমরা তার অনুগ্রহ অন্বেষন করতে পারো। নিঃ সন্দেহে তিনি তোমাদের প্রতি পরম দয়ালূ।
সমকালীন বাংলা
তোমাদের প্রতিপালক তিনিই যিনি তোমাদের জন্য সমুদ্রে নৌযান পরিচালিত করেন, যাহাতে তোমরা তাঁহার অনুগ্রহ সন্ধান করিতে পার। তিনি তো তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।
জহুরুল হক
তোমাদের প্রভু তিনিই যিনি তোমাদের জন্য সাগরে জাহাজ পরিচালিত করেন যেন তোমরা তাঁর করুণাভান্ডার থেকে অনুসন্ধান করতে পার। নিঃসন্দেহ তিনি তোমাদের জন্য সদা অফুরন্ত ফলদাতা।
আবদুস শহীদ নাসিম
সমুদ্রে ভ্রমণকালে যখন তোমাদেরকে বিপদ আক্রমণ করে, তখন তোমরা তাঁকে ছাড়া আর যাদের ডেকে থাকো সব উধাও হয়ে যায়। অত:পর তিনি যখন তোমাদের উদ্ধার করে স্থলভাগে নিয়ে আসেন, তখন তোমরা (তাঁর দিক থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও। মানুষ খুবই অকৃতজ্ঞ।
মুহিউদ্দীন খান
যখন সমুদ্রে তোমাদের উপর বিপদ আসে, তখন শুধু ব্যতীত যাদেরকে তোমরা আহবান করে থাক তাদেরকে তোমরা বিস্মৃত হয়ে যাও। অতঃপর তিনি যখন তোমাদেরকে স্থলে ভিড়িয়ে উদ্ধার করে নেন, তখন তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও। মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ।
সমকালীন বাংলা
সমুদ্রে যখন তোমাদেরকে বিপদ স্পর্শ করে তখন কেবল তিনি ব্যতীত অপর যাহাদেরকে তোমরা আহ্বান করিয়া থাক তাহারা অন্তর্হিত হইয়া যায় ; অতঃপর তিনি যখন তোমাদেরকে উদ্ধার করিয়া স্থলে আনেন তখন তোমরা মুখ ফিরাইয়া নাও। মানুষ অতিশয় অকৃতজ্ঞ।
জহুরুল হক
আর যখন সমুদ্রের মধ্যে বিপদ তোমাদের স্পর্শ করে তখন যাদের তোমরা ডাকো তারা চলে যায় কেবলমাত্র তিনি ছাড়া, কিন্তু তিনি যখন তোমাদের উদ্ধার ক’রে তীরে নিয়ে আসেন তখন তোমরা ফিরে যাও। আর মানুষ বড় অকৃতজ্ঞ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা কি এ বিষয়ে নির্ভয় হয়ে গেছো যে, তিনি কোনো অঞ্চলকে তোমাদেরসহ ধ্বসিয়ে দেবেন না? কিংবা তোমাদের উপর শিলা বর্ষণকারী ঝড় পাঠাবেননা? তখন তোমরা তোমাদের জন্যে কোনো উকিলই (উদ্ধারকারীই) পাবেনা।
মুহিউদ্দীন খান
তোমরা কি এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত রয়েছ যে, তিনি তোমাদেরকে স্থলভাগে কোথাও ভূগর্ভস্থ করবেন না। অথবা তোমাদের উপর প্রস্তর বর্ষণকারী ঘুর্ণিঝড় প্রেরণ করবেন না, তখন তোমরা নিজেদের জন্যে কোন কর্মবিধায়ক পাবে না।
সমকালীন বাংলা
তোমরা কি নির্ভয় হইয়াছ যে, তিনি তোমাদেরকেসহ কোন অঞ্চল ধসাইয়া দিবেন না অথবা তোমাদের উপর শিলা বর্ষণকারী ঝঞ্ঝা প্রেরণ করিবেন না? তখন তোমরা তোমাদের কোন কর্মবিধায়ক পাইবে না।
জহুরুল হক
তবে কি তোমরা নিশ্চিত বোধ কর যে তিনি কোনো জমির কিনারায় তোমাদের নিশ্চিহ করবেন না অথবা তোমাদের উপরে কোনো কঙ্করময় ঝড় বর্ষণ করবেন না? তখন তোমরা তোমাদের জন্য কোনো কর্ণধার পাবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
নাকি তোমরা এ ব্যাপারে নির্ভয় হয়ে গেছো যে, তিনি আবার তোমাদের সমুদ্রে নিয়ে যাবেননা, এবং তোমাদের উপর প্রচন্ড ঝড় পাঠাবেননা, আর তোমাদের সমুদ্রে ডুবিয়ে দেবেননা তোমাদের কুফুরির কারণে? তখন তোমরা আমার বিরুদ্ধে কোনো সাহায্যকারীই পাবেনা।
মুহিউদ্দীন খান
অথবা তোমরা কি এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত যে, তিনি তোমাদেরকে আরেকবার সমুদ্রে নিয়ে যাবেন না, অতঃপর তোমাদের জন্যে মহা ঝটিকা প্রেরণ করবেন না, অতঃপর অকৃতজ্ঞতার শাস্তিস্বরূপ তোমাদেরকে নিমজ্জত করবেন না, তখন তোমরা আমার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে সাহায্যকারী কাউকে পাবে না।
সমকালীন বাংলা
অথবা তোমরা কি নির্ভয় হইয়াছ যে, তিনি তোমাদেরকে আর একবার সমুদ্রে লইয়া যাইবেন না এবং তোমাদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ঝটিকা পাঠাইবেন না এবং তোমাদের করার জন্য তোমাদেরকে নিমজ্জিত করিবেন না? তখন তোমরা এ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে কোন সাহায্যকারী পাইবে না।
জহুরুল হক
অথবা তোমরা কি নিশ্চিত বোধ কর যে তোমাদের এই দশায় আর একবার নিয়ে যাবেন না, তখন তোমাদের বিরুদ্ধে পাঠাবেন এক প্রচন্ড ঝড় এবং তোমাদের ডুবিয়ে দেবেন যেহেতু তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে? তখন তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জন্য এই ব্যাপারে কোনো প্রতিকারকারী পাবে না?
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা বনি আদমকে মর্যাদা দিয়েছি এবং স্থলে - সমুদ্রে চলাচলের জন্যে তাদের বাহন দিয়েছি, তাদেরকে উত্তম জীবিকা দিয়েছি এবং তাদেরকে আমাদের অনেক সৃষ্টির উপর দিয়েছি শ্রেষ্ঠত্ব।
মুহিউদ্দীন খান
নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
সমকালীন বাংলা
আমি তো আদমসন্তানকে মর্যাদা দান করিয়াছি; স্থলে ও সমুদ্রে উহাদের চলাচলের বাহন দিয়াছি; উহাদেরকে উত্তম রিযিক দান করিয়াছি এবং আমি যাহাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছি তাহাদের অনেকের উপর উহাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছি।
জহুরুল হক
আর আমরা অবশ্য আদমসন্তানদের মর্যাদাদান করেছি, আর আমরা তাদের বহন করি স্থলে ও জলে, এবং তাদের রিযেক দান করেছি উৎকৃষ্ট বস্তু দিয়ে, আর আমরা যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের উপরে আমরা তাদের প্রাধান্য দিয়েছি শ্রেষ্ঠত্বের সাথে।
আবদুস শহীদ নাসিম
স্মরণ করো, সেদিন আমরা প্রতিটি জনসমষ্টিকে তাদের নেতার নেতৃত্বে ডাকবো। তখন যাদের আমলনামা তাদের ডান হাতে দেয়া হবে, তারা তাদের আমলনামা পড়ে ফেলবে এবং তাদের প্রতি শস্যের অণুশীষ পরিমাণও যুলুম করা হবেনা।
মুহিউদ্দীন খান
স্মরণ কর, যেদিন আমি প্রত্যেক দলকে তাদের নেতাসহ আহবান করব, অতঃপর যাদেরকে তাদের ডান হাতে আমলনামা দেয়া হবে, তারা নিজেদের আমলনামা পাঠ করবে এবং তাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও জুলুম হবে না।
সমকালীন বাংলা
স্মরণ কর, সেই দিনকে যখন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে উহাদের নেতাসহ আহবান করিব। যাহাদের দক্ষিণ হস্তে তাহাদের আমলনামা দেওয়া হইবে, তাহারা তাহাদের আমলনামা পাঠ করিবে এবং তাহাদের উপর সামান্য পরিমাণও জুলুম করা হইবে না।
জহুরুল হক
সেইদিন আমরা প্রত্যেক মানুষকে উহাদের নেতাসহ আহবান করব। সুতরাং যাকে তার কিতাব তার ডান হাতে দেয়া হবে তারা তবে তাদের কিতাব পড়বে, আর তাদের প্রতি খেজুর - বিচির - পাতলা - পরত পরিমাণেও অন্যায় করা হবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
যে এখানে (পৃথিবীর জীবনে) থাকে অন্ধ, সে আখিরাতেও থাকবে অন্ধ এবং আরো অধিক পথভ্রান্ত।
মুহিউদ্দীন খান
যে ব্যক্তি ইহকালে অন্ধ ছিল সে পরকালেও অন্ধ এবং অধিকতর পথভ্রান্ত।
সমকালীন বাংলা
আর যে ব্যক্তি এইখানে অন্ধ সে আখিরাতেও অন্ধ এবং অধিকতর পথভ্রষ্ট।
জহুরুল হক
আর যে ইহলোকে অন্ধ সে তবে পরলোকেও হবে অন্ধ, এবং পথ থেকে অধিকতর পথভ্রষ্ট।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা তোমার প্রতি যে অহি পাঠিয়েছি, তারা তা থেকে তোমার পদস্খলন ঘটানোর চেষ্টায় কোনো ত্রুটিই করেনি, যাতে করে তুমি আমার ব্যাপারে অহির বিপরীতে মিথ্যা রচনা করে নাও, তখনই তারা তোমাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতো।
মুহিউদ্দীন খান
তারা তো আপনাকে হটিয়ে দিতে চাচ্ছিল যে বিষয় আমি আপনার প্রতি ওহীর মাধ্যমে যা প্রেরণ করেছি তা থেকে আপনার পদঙ্খলন ঘটানোর জন্যে তারা চুড়ান্ত চেষ্টা করেছে, যাতে আপনি আমার প্রতি কিছু মিথ্যা সম্বন্ধযুক্ত করেন। এতে সফল হলে তারা আপনাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে নিত।
সমকালীন বাংলা
আমি তোমার প্রতি যাহা প্রত্যাদেশ করিয়াছি তাহা হইতে উহারা পদস্খলন ঘটাইবার চেষ্টা প্রায় চূড়ান্তকরিয়াছিল যাহাতে তুমি আমার সম্বন্ধে উহার বিপরীত মিথ্যা উদ্ভাবন কর; তবেই উহারা অবশ্যই তোমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিত।
জহুরুল হক
আর অবশ্যই তারা মতলব করেছিল তোমার কাছে আমরা যা প্রত্যাদেশ দিয়েছি তা থেকে তোমাকে বিচ্যুত করতে, যেন তুমি আমাদের বিরুদ্ধে তার পরিবর্তে অন্য কিছু জাল কর, আর তখন তারা তোমাকে নিশ্চয়ই গ্রহণ করবে অন্তরঙ্গ বান্ধবরূপে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা যদি তোমাকে অটল অবিচল না রাখতাম, তাহলে তুমি তাদের দিকে কিছুটা হলেও প্রায় ঝুঁকে পড়তে।
মুহিউদ্দীন খান
আমি আপনাকে দৃঢ়পদ না রাখলে আপনি তাদের প্রতি কিছুটা ঝুঁকেই পড়তেন।
সমকালীন বাংলা
আমি তোমাকে অবিচলিত না রাখিলে তুমি উহাদের দিকে প্রায় কিছুটা ঝুঁকিয়া পড়িতে;
জহুরুল হক
আর আমরা যদি তোমাকে সুপ্রতিষ্ঠিত না করতাম তা’হলে তুমি আলবৎ তাদের প্রতি সামান্য কিছু ঝুঁকেই পড়তে, - -
আবদুস শহীদ নাসিম
সে ক্ষেত্রে আমরা তোমাকে ইহজীবনে এবং মৃত্যুর পরে দ্বিগুণ শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাতাম। তখন তুমি তোমার জন্যে আমাদের বিরুদ্ধে কোনো সাহায্যকারীই পেতেনা।
মুহিউদ্দীন খান
তখন আমি অবশ্যই আপনাকে ইহজীবনে ও পরজীবনে দ্বিগুণ শাস্তির আস্বাদন করাতাম। এ সময় আপনি আমার মোকাবিলায় কোন সাহায্যকারী পেতেন না।
সমকালীন বাংলা
তাহা হইলে অবশ্যই তোমাকে ইহজীবনে দ্বিগুণ ও পরজীবনে দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাইতাম; তখন আমার বিরুদ্ধে তোমার জন্য কোন সাহায্যকারী পাইতে না।
জহুরুল হক
সেক্ষেত্রে আমরা নিশ্চয় তোমাকে দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাতাম ইহজীবনে এবং দ্বিগুণ মৃত্যুকালে, তখন আমাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা তোমাকে দেশ থেকে বের করে দেয়ার চূড়ান্ত চেষ্টা করেছিল। সেটা করলে তোমার পরে তারাও সেখানে অল্প ক’দিনই টিকতে পারতো।
মুহিউদ্দীন খান
তারা তো আপনাকে এ ভুখন্ড থেকে উৎখাত করে দিতে চুড়ান্ত চেষ্টা করেছিল যাতে আপনাকে এখান থেকে বহিস্কার করে দেয়া যায়। তখন তারাও আপনার পর সেখানে অল্প কালই মাত্র টিকে থাকত।
সমকালীন বাংলা
উহারা তোমাকে দেশ হইতে উৎখাত করিবার চূড়ান্ত চেষ্টা করিয়াছিল তোমাকে সেথা হইতে বহিষ্কার করিবার জন্য; তাহা হইলে তোমার পর উহারাও সেখানে অল্পকাল টিকিয়া থাকিত।
জহুরুল হক
আর তারা নিশ্চয় চেয়েছিল যে দেশ থেকে তোমাকে তারা উৎখাত করবে যাতে তারা তোমাকে সেখানে থেকে বহিস্কার করতে পারে। আর সেক্ষেত্রে তোমার পরে তারা টিকে থাকত না অল্পকাল ছাড়া।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমার রসূলদের মধ্যে আমরা তোমার আগে যাদের পাঠিয়েছিলাম, তাদের ক্ষেত্রেও ছিলো এই একই নিয়ম। তুমি আমাদের নিয়মের মধ্যে কোনো ব্যতিক্রম পাবেনা।
মুহিউদ্দীন খান
আপনার পূর্বে আমি যত রসূল প্রেরণ করেছি, তাদের ক্ষেত্রেও এরূপ নিয়ম ছিল। আপনি আমার নিয়মের কোন ব্যতিক্রম পাবেন না।
সমকালীন বাংলা
আমার রাসূলগণের মধ্যে তোমার পূর্বে যাহাদেরকে পাঠাইয়াছিলাম তাহাদের ক্ষেত্রেও ছিল এইরূপ নিয়ম এবং তুমি আমার নিয়মের কোন পরিবর্তন পাইবে না।
জহুরুল হক
এটিই রীতি তোমার আগে আমাদের রসূলদের মধ্যের যাদের আমরা পাঠিয়েছিলাম তাঁদের সন্বন্ধে, আর আমাদের রীতির কোনো পরিবর্তন তুমি পাবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
কায়েম করো সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার ঘনীভূত হওয়া পর্যন্ত (যুহর, আসর, মাগরিব, এশা) এবং ফজরে কুরআন পাঠ করো (অর্থাৎ আদায় করো ফজর )। নিশ্চয়ই ফজরের (ফেরেশতাদের) উপস্থিতির সময়।
মুহিউদ্দীন খান
সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত কায়েম করুন এবং ফজরের কোরআন পাঠও। নিশ্চয় ফজরের কোরআন পাঠ মুখোমুখি হয়।
সমকালীন বাংলা
সূর্য হেলিয়া পড়িবার পর হইতে রাত্রির ঘন অন্ধকার পর্যন্ত কায়েম করিবে এবং কায়েম করিবে ফজরের । নিশ্চয়ই ফজরের উপস্থিতির সময়।
জহুরুল হক
কায়েম করো সূর্যের হেলে পড়া থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত, আর ফজরের কুরআন পাঠ। নিঃসন্দেহ ফজরের কুরআন - পাঠ পরিলক্ষিত হয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ আদায় করো, এ তোমার জন্যে অতিরিক্ত কর্তব্য। অচিরেই তোমার প্রভু তোমাকে উঠিয়ে আনবেন প্রশংসিত স্থানে।
মুহিউদ্দীন খান
রাত্রির কিছু অংশ কোরআন পাঠ সহ জাগ্রত থাকুন। এটা আপনার জন্যে অতিরিক্ত। হয়ত বা আপনার পালনকর্তা আপনাকে মোকামে মাহমুদে পৌঁছাবেন।
সমকালীন বাংলা
এবং রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম করিবে, ইহা তোমার এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করিবেন প্রশংসিত স্থানে।
জহুরুল হক
আর রাতের মধ্যে থেকে এর দ্বারা জাগরণে কাটাও - - তোমার জন্য এক অতিরিক্ত, হতে পারে তোমার প্রভু তোমাকে উন্নত করবেন এক সুপ্রশংসিত অবস্থায়।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর বলো: ‘আমার প্রভু! আমাকে দাখিল করো সত্যের সাথে এবং আমাকে খারিজ (বের) করো সত্যের সাথে, আর তোমার পক্ষ থেকে আমাকে দাও সাহায্যকারী কর্তৃপক্ষ।’
মুহিউদ্দীন খান
বলুনঃ হে পালনকর্তা! আমাকে দাখিল করুন সত্যরূপে এবং আমাকে বের করুন সত্যরূপে এবং দান করুন আমাকে নিজের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় সাহায্য।
সমকালীন বাংলা
বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সঙ্গে এবং আমাকে নিষ্ক্রান্ত করাও কল্যাণের সঙ্গে এবং তোমার নিকট হইতে আমাকে দান করিও সাহায্যকারী শক্তি।’
জহুরুল হক
আর তুমি বলো - - ''আমার প্রভু! আমাকে প্রবেশ করতে দাও মঙ্গলজনক প্রবেশকরণে, এবং আমাকে বের করে আনো মঙ্গলময় নির্গমনে, আর তোমার কাছ থেকে আমাকে দাও একটি সহায়ক কর্তৃত্ব।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
আরো বলো: ‘সত্য এসেছে, মিথ্যা অপসারিত হয়েছে, আর মিথ্যা তো অপসারিত হবারই।’
মুহিউদ্দীন খান
বলুনঃ সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।
সমকালীন বাংলা
এবং বল, ‘সত্য আসিয়াছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হইয়াছে;’ মিথ্যা তো বিলুপ্ত হইবারই।
জহুরুল হক
আর বলো - - ''সত্য এসেই গেছে আর মিথ্যা অন্তর্ধান করেছে। নিঃসন্দেহ মিথ্যা তো সদা অন্তর্ধানশীল।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা নাযিল করছি আল - কুরআন, যা মুমিনদের জন্যে শিফা (নিরাময়) এবং রহমত। এটি যালিমদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বাড়ায় না।
মুহিউদ্দীন খান
আমি কোরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত। গোনাহগারদের তো এতে শুধু ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়।
সমকালীন বাংলা
আমি অবতীর্ণ করি কুরআন, যাহা মু’মিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, কিন্তু উহা জালিমদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।
জহুরুল হক
আর আমরা কুরআনের মধ্যে অবতীর্ণ করেছি যা হচ্ছে বিশ্বাসীদের জন্য উপশম এবং করুণা, আর এটি অন্যায়কারীদের ক্ষতিসাধন ছাড়া আর কিছু বাড়ায় না।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি, তখন সে আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং দূরে সরে যায়। আর তাকে কোনো মন্দ স্পর্শ করলে সে হতাশ হয়ে পড়ে।
মুহিউদ্দীন খান
আমি মানুষকে নেয়ামত দান করলে সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অহংকারে দুরে সরে যায়; যখন তাকে কোন অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একেবারে হতাশ হয়ে পড়ে।
সমকালীন বাংলা
আমি যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি তখন সে মুখ ফিরাইয়া নেয় ও দূরে সরিয়া যায় এবং তাহাকে অনিষ্ট স্পর্শ করিলে সে একেবারে হতাশ হইয়া পড়ে।
জহুরুল হক
আর যখন আমরা মানুষের প্রতি করুণা বর্ষণ করি সে ঘুরে দাঁড়ায় ও অহংকার দেখায়, আর যখন মন্দ তাকে স্পর্শ করে সে হতাশ হয়ে যায়।
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো: ‘প্রত্যেকেই কাজ করে নিজ প্রকৃতি অনুযায়ী, আর কার চলার পথ সবচাইতে নির্ভুল, সেটা তোমার প্রভুই অধিক জানেন।’
মুহিউদ্দীন খান
বলুনঃ প্রত্যেকেই নিজ রীতি অনুযায়ী কাজ করে। অতঃপর আপনার পালনকর্তা বিশেষ রূপে জানেন, কে সর্বাপেক্ষা নির্ভূল পথে আছে।
সমকালীন বাংলা
বল, ‘প্রত্যেকেই নিজ প্রকৃতি অনুযায়ী কাজ করিয়া থাকে এবং তোমার প্রতিপালক সম্যক অবগত আছেন চলার পথে কে সর্বাপেক্ষা নির্ভুল।’
জহুরুল হক
বলো - - ''প্রত্যেকে কাজ করে চলে আপন ধরনে।’’ কিন্তু তোমাদের প্রভু ভাল জানেন কে হচ্ছে পথে চালিত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা তোমার কাছে জানতে চাইছে রূহ সম্পর্কে, তুমি বলো: ‘রূহ আমার প্রভুর একটি আদেশ।’ আর তোমাদের খুব কমই এলেম দেয়া হয়েছে।
মুহিউদ্দীন খান
তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিনঃ রূহ আমার পালনকর্তার আদেশ ঘটিত। এ বিষয়ে তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে।
সমকালীন বাংলা
তোমাকে উহারা রূহ্ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, ‘রূহ্ আমার প্রতিপালকের আদেশঘটিত এবং তোমাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হইয়াছে সামান্যই।’
জহুরুল হক
আর তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে রূহ সম্পর্কে। বলো - - ''রূহ আমার প্রভুর নির্দেশাধীন, আর তোমাদের তো জ্ঞানভান্ডারের সৎসামান্য বৈ দেওয়া হয় নি।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা চাইলে তোমার প্রতি যা অহি করেছি তা ফেরত নিয়ে যেতে পারতাম, তারপর তুমি এ বিষয়ে আমাদের বিরুদ্ধে কোনো উকিল পেতেনা।
মুহিউদ্দীন খান
আমি ইচ্ছা করলে আপনার কাছে ওহীর মাধমে যা প্রেরণ করেছি তা অবশ্যই প্রত্যাহার করতে পারতাম। অতঃপর আপনি নিজের জন্যে তা আনয়নের ব্যাপারে আমার মোকাবিলায় কোন দায়িত্ব বহনকারী পাবেন না।
সমকালীন বাংলা
তোমাকে উহারা রূহ্ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, ‘রূহ্ আমার প্রতিপালকের আদেশঘটিত এবং তোমাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হইয়াছে সামান্যই।’
জহুরুল হক
আর আমরা যদি চাইতাম তবে তোমার কাছে যা প্রত্যাদেশ পাঠিয়েছি তা আমরা আলবৎ প্রত্যাহার করতাম, তখন এ বিষয়ে তুমি আমাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যনির্বাহক পেতে না, - -
আবদুস শহীদ নাসিম
(তা যে ফেরত নেয়া হয়নি) সেটা তোমার প্রভুর রহমত। তোমার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ বিরাট।
মুহিউদ্দীন খান
এ প্রত্যাহার না করা আপনার পালনকর্তার মেহেরবানী। নিশ্চয় আপনার প্রতি তাঁর করুণা বিরাট।
সমকালীন বাংলা
ইচ্ছা করিলে আমি তোমার প্রতি যাহা ওহী করিয়াছি তাহা অবশ্যই প্রত্যাহার করিতে পারিতাম; তাহা হইলে এই বিষয়ে তুমি আমার বিরুদ্ধে কোন কর্মবিধায়ক পাইতে না।
জহুরুল হক
কিন্তু এটি তোমার প্রভুর কাছ থেকে করুণা। নিঃসন্দেহ তোমার প্রতি তাঁর করুণা অতি বিরাট।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: সমস্ত ইনসান ও জিন মিলে যদি এই কুরআনের মতো একটি কুরআন রচনার জন্যে জমা হয়, তারা অনুরূপ কুরআন রচনা করতে পারবেনা, তারা যদি এ ব্যাপারে পরস্পরকে সাহায্য করে, তবু নয়।
মুহিউদ্দীন খান
বলুনঃ যদি মানব ও জ্বিন এই কোরআনের অনুরূপ রচনা করে আনয়নের জন্যে জড়ো হয়, এবং তারা পরস্পরের সাহায্যকারী হয়; তবুও তারা কখনও এর অনুরূপ রচনা করে আনতে পারবে না।
সমকালীন বাংলা
ইহা প্রত্যাহার না করা তোমার প্রতিপালকের দয়া; তোমার প্রতি আছে তাঁহার মহাঅনুগ্রহ।
জহুরুল হক
বলো - - ''যদি মানুষ ও জিন সম্মিলিত হতো এই কুরআনের সমতুল্য কিছু নিয়ে আসতে, তারা এর মতো কিছুই আনতে পারত না, যদিও - বা তাদের কেউ - কেউ অন্যদের পৃষ্ঠপোষক হতো।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা এ কুরআনে প্রতিটি বিষয়ের উপমা বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা অস্বীকার করে কুফুরি করেছে।
মুহিউদ্দীন খান
আমি এই কোরআনে মানুষকে বিভিন্ন উপকার দ্বারা সব রকম বিষয়বস্তু বুঝিয়েছি। কিন্তু অধিকাংশ লোক অস্বীকার না করে থাকেনি।
সমকালীন বাংলা
বল, ‘যদি কুরআনের অনুরূপ কুরআন আনয়নের জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয় এবং যদিও তাহারা পরস্পরকে সাহায্য করে তবুও তাহারা ইহার অনুরূপ আনয়ন করিতে পারিবে না।
জহুরুল হক
আর আমরা অবশ্যই লোকেদের জন্য এই কুরআনে সব রকমের দৃষ্টান্ত বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া আর সব - কিছুতেই অসম্মত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলেছে: ‘‘আমরা কখনো তোমার কথায় ঈমান আনবোনা, যতোক্ষণ না আমাদের জন্যে জমিন থেকে একটি ঝরণা উৎসারিত করবে।
মুহিউদ্দীন খান
এবং তারা বলেঃ আমরা কখনও আপনাকে বিশ্বাস করব না, যে পর্যন্ত না আপনি ভূপৃষ্ঠ থেকে আমাদের জন্যে একটি ঝরণা প্রবাহিত করে দিন।
সমকালীন বাংলা
‘আর অবশ্যই আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে বিভিন্ন উপমা বিশদভাবে বর্ণনা করিয়াছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ করা ব্যতীত ক্ষান্ত হইল না।’
জহুরুল হক
আর তারা বলে - - ''আমরা কখনই তোমাতে বিশ্বাস করব না যতক্ষণ না তুমি পৃথিবী থেকে আমাদের জন্য একটি ঝরনা উৎসারণ করো,
আবদুস শহীদ নাসিম
অথবা তোমার এমন একটি বাগান হবে খেজুর এবং আঙ্গুরের, যার ফাঁকে ফাঁকে তুমি প্রবাহিত করে দেবে নদ - নদী - নহর।
মুহিউদ্দীন খান
অথবা আপনার জন্যে খেজুরের ও আঙ্গুরের একটি বাগান হবে, অতঃপর আপনি তার মধ্যে নির্ঝরিনীসমূহ প্রবাহিত করে দেবেন।
সমকালীন বাংলা
এবং উহারা বলে, ‘আমরা কখনই তোমাতে ঈমান আনিব না, যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য ভূমি হইতে এক প্রস্রবণ উৎসারিত করিবে,
জহুরুল হক
''আর না হয় তোমার জন্যেই থাকুক খেজুরের ও আঙুরের বাগান, যার মধ্যে তুমি ঝরনারাজি উৎসারিত করে বইয়ে দেবে,
আবদুস শহীদ নাসিম
কিংবা, তুমি যেমন বলে থাকো, সে মতে আকাশকে চূর্ণ - বিচূর্ণ করে আমাদের উপর ফেলবে, অথবা আল্লাহকে এবং ফেরেশতাদেরকে আমাদের সামনে এনে উপস্থিত করাবে।
মুহিউদ্দীন খান
অথবা আপনি যেমন বলে থাকেন, তেমনিভাবে আমাদের উপর আসমানকে খন্ড - বিখন্ড করে ফেলে দেবেন অথবা ও ফেরেশতাদেরকে আমাদের সামনে নিয়ে আসবেন।
সমকালীন বাংলা
‘অথবা তোমার খেজুরের ও আংগুরের এক বাগান হইবে যাহার ফাঁকে ফাঁকে তুমি অজস্র ধারায় প্রবাহিত করিয়া দিবে নদী - নালা।
জহুরুল হক
''অথবা তুমি আকাশকে আমাদের উপরে নামাবে খন্ড - বিখন্ড ক’রে যেমন তুমি ভাব, নতুবা তুমি কে ও ফিরিশ্তাগণকে সামনা - সামনি নিয়ে আসবে,
আবদুস শহীদ নাসিম
কিংবা সোনা দিয়ে নির্মিত তোমার একটি ঘর হবে। অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে, আর তোমার আকাশে আরোহণকেও আমরা কখনো মেনে নেবোনা, যতোক্ষণ না তুমি সেখান থেকে আমাদের প্রতি এমন একটি কিতাব নাযিল করবে, যেটি আমরা পড়বো।’’ হে নবী! তুমি বলো: ‘ত্রুটিমুক্ত পবিত্র মহান আমার প্রভু, আমি কি একজন মানুষ রসূল ছাড়া আর কিছু?’
মুহিউদ্দীন খান
অথবা আপনার কোন সোনার তৈরী গৃহ হবে অথবা আপনি আকাশে আরোহণ করবেন এবং আমরা আপনার আকাশে আরোহণকে কখনও বিশ্বাস করবনা, যে পর্যন্ত না আপনি অবতীর্ণ করেন আমাদের প্রতি এক গ্রন্থ, যা আমরা পাঠ করব। বলুনঃ পবিত্র মহান আমার পালনকর্তা, একজন মানব, একজন রসূল বৈ আমি কে?
সমকালীন বাংলা
‘অথবা তুমি যেমন বলিয়া থাক, তদনুযায়ী আকাশকে খণ্ড - বিখণ্ড করিয়া আমাদের উপর ফেলিবে অথবা ও ফেরেশতাগনকে আমাদের সম্মুখে উপস্থিত করিবে।
জহুরুল হক
''নয়ত তোমার জন্য হোক একটি সোনার তৈরি ঘর, অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে। আর আমরা কখনো তোমার ঊর্ধ্বারোহণে বিশ্বাস করব না যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য এক কিতাব নামিয়ে আনো - - যা আমরা পড়তে পারি।’’ বলো, - - ''সকল মহিমা আমার প্রভুর! আমি কি একজন মানুষ - - একজন রসূল ছাড়া অন্য কিছু?’’
আবদুস শহীদ নাসিম
মানুষের কাছে যখন আল হুদা (কিতাব ও নবী) আসে, তখন তাদেরকে ঈমান আনা থেকে বিরত রাখে তাদের এই বক্তব্য: ‘ কি একজন মানুষকে রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন?’
মুহিউদ্দীন খান
কি মানুষকে পয়গম্বর করে পাঠিয়েছেন? তাদের এই উক্তিই মানুষকে ঈমান আনয়ন থেকে বিরত রাখে, যখন তাদের নিকট আসে হেদায়েত।
সমকালীন বাংলা
‘অথবা তোমার একটি স্বর্ণ নির্মিত গৃহ হইবে, অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করিবে, কিন্তু তোমার আকাশ আরোহণে আমরা কখনও ঈমান আনিব না যতক্ষণ তুমি আমাদের প্রতি এক কিতাব অবতীর্ণ না করিবে যাহা আমরা পাঠ করিব।’ বল, ‘পবিত্র মহান আমার প্রতিপালক! আমি তো হইতেছি কেবল একজন মানুষ, একজন রাসূল।’
জহুরুল হক
আর লোকগুলোকে বিশ্বাস স্থাপন করতে অন্য কিছু বাধা দেয় না যখন তাদের কাছে হেদায়ত আসে এই ভিন্ন যে তারা বলে - - '' কি একজন মানুষকেই রসূল ক’রে দাঁড় করিয়েছেন?’’
আবদুস শহীদ নাসিম
(হে নবী!) বলো: ‘পৃথিবীতে যদি ফেরেশতারা নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতো, তবে আমরা অবশ্যি আকাশ থেকে তাদের জন্যে কোনো ফেরেশতাকেই রসূল বানিয়ে পাঠাতাম।’
মুহিউদ্দীন খান
বলুনঃ যদি পৃথিবীতে ফেরেশতারা স্বচ্ছন্দে বিচরণ করত, তবে আমি আকাশ থেকে কোন ফেরেশতাকেই তাদের নিকট পয়গাম্বর করে প্রেরণ করতাম।
সমকালীন বাংলা
যখন উহাদের নিকট আসে পথনির্দেশ তখন লোকদেরকে ঈমান আনা হইতে বিরত রাখে উহাদের এই উক্তি রাসুলকে কি মানুষ করিয়া পাঠাইছেন?
জহুরুল হক
তুমি বলো - - ''যদি পৃথিবীতে ফিরিশ্তারা চলাফেরা করত নিশ্চিন্তভাবে, তবে আমরা নিশ্চয়ই তাদের কাছে আকাশ থেকে একজন ফিরিশ্তাকেই পাঠাতাম রসূলরূপে।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
(হে নবী!) বলো: আমার এবং তোমাদের মাঝে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর দাসদের বিষয়ে খবর রাখেন এবং দৃষ্টি রাখেন।
মুহিউদ্দীন খান
বলুনঃ আমার ও তোমাদের মধ্যে সত্য প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি তো স্বীয় বান্দাদের বিষয়ে খবর রাখেন ও দেখেন।
সমকালীন বাংলা
বল, ‘আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট; তিনি তো তাঁহার বান্দাদেরকে সবিশেষ জানেন ও দেখেন।’
জহুরুল হক
বলো - - ''আল্লাহই আমার মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষীরূপে যথেষ্ট। নিঃসন্দেহ তিনি তাঁর বান্দাদের সন্বন্ধে চির - ওয়াকিফহাল, সর্বদ্রষ্টা।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
যাদের হিদায়াত করেন তারাই হিদায়াত প্রাপ্ত হয়, আর তিনি যাদের বিপথগামী করেন, তাদের জন্যে তুমি তাঁকে (আল্লাহকে) ছাড়া আর কোনো অলি (অভিভাবক) পাবেনা। কিয়ামতের দিন আমরা তাদেরকে উপুড় করে অন্ধ, বোবা ও কালা অবস্থায় হাশর করাবো। তাদের আবাস হবে জাহান্নাম। যখনই (জাহান্নামের) আগুন স্তিমিত হয়ে আসবে, তখনই আবার আগুনের লেলিহান শিখা বাড়িয়ে দেয়া হবে।
মুহিউদ্দীন খান
যাকে পথ প্রদর্শন করেন, সেই তো সঠিক পথ প্রাপ্ত এবং যাকে পথ ভ্রষ্ট করেন, তাদের জন্যে আপনি ছাড়া কোন সাহায্যকারী পাবেন না। আমি কেয়ামতের দিন তাদের সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ অবস্থায়, মুক অবস্থায় এবং বধির অবস্থায়। তাদের আবাসস্থল জাহান্নাম। যখনই নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হবে আমি তখন তাদের জন্যে অগ্নি আরও বৃদ্ধি করে দিব।
সমকালীন বাংলা
যাহাদেরকে পথনির্দেশ করেন তাহারা তো পথপ্রাপ্ত এবং যাহাদেরকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তুমি কখনই তাঁহাকে ব্যতীত অন্য কাহাকেও উহাদের অভিভাবক পাইবে না। কিয়ামতের দিন আমি উহাদেরকে সমবেত করিব উহাদের মুখে ভর দিয়া চলা অবস্থায় অন্ধ, মূক ও বধির করিয়া। উহাদের আবাসস্থল জাহান্নাম; যখনই উহা স্তিমিত হইবে আমি তখনই উহাদের জন্য অগ্নিশিখা বৃদ্ধি করিয়া দিব।
জহুরুল হক
আর যাকে পথ দেখান সে তবে পথপ্রাপ্ত, আর যাকে তিনি বিপথে চলতে দেন তাদের জন্য তুমি পাবে না তাঁর ব্যতিরেকে কোনো অভিভাবক। আর কিয়ামতের দিনে আমরা তাদের সমবেত করব তাদের মুখের উপরে - - অন্ধ, আর বোবা এবং বধির। তাদের আবাসস্থল হচ্ছে জাহান্নাম। যখনই তা ঝিমিয়ে আসবে আমরা তাদের জন্য শিখা বাড়িয়ে দেব!
আবদুস শহীদ নাসিম
এটাই হলো তাদের উপযুক্ত সাজা, কারণ তারা আমাদের আয়াতের প্রতি কুফুরি করেছিল এবং বলেছিল: ‘আমরা হাড়গোড়ে পরিণত হলেও এবং চূর্ণ - বিচূর্ণ হয়ে গেলেও কি আমাদেরকে নতুনভাবে সৃষ্টি করে পুনরুত্থিত করা হবে?’
মুহিউদ্দীন খান
এটাই তাদের শাস্তি। কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছে এবং বলেছেঃ আমরা যখন অস্থিতে পরিণত ও চুর্ণ - বিচুর্ণ হয়ে যাব, তখনও কি আমরা নতুনভাবে সৃজিত হয়ে উত্থিত হব?
সমকালীন বাংলা
ইহাই উহাদের প্রতিফল, কারণ উহারা আমার নিদর্শন অস্বীকার করিয়াছিল ও বলিয়াছিল, ‘অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ - বিচূর্ণ হইলেও আমরা কি নূতন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত হইব?’
জহুরুল হক
এই হচ্ছে তাদের প্রতিদান কেননা তারা আমাদের নিদের্শাবলী অস্বীকার করেছিল এবং বলেছিল - - ''কী! আমরা যখন হাড় - ও ধুলোকণা হয়ে যাব তখন কি আমরা সত্যই পুনরুত্থিত হব নতুন সৃষ্টিরূপে?’’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি দেখেনা, যে মহান মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তিনি এগুলোর অনুরূপ সৃষ্টি করতে অবশ্যি সক্ষম? তিনি তাদের পুনরুত্থানের জন্যে একটি সময় নির্ধারণ করে রেখেছেন, যে সময়টির আগমনের ব্যাপারে কোনোই সন্দেহ নেই। কিন্তু যালিমরা তা অস্বীকার করবে বলে গোঁয়ার্তমি করেই যাচ্ছে।
মুহিউদ্দীন খান
তারা কি দেখেনি যে, যে আসমান ও যমিন সৃজিত করেছেন, তিনি তাদের মত মানুষও পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম? তিনি তাদের জন্যে স্থির করেছেন একটি নির্দিষ্ট কাল, এতে কোন সন্দেহ নেই; অতঃপর জালেমরা অস্বীকার ছাড়া কিছু করেনি।
সমকালীন বাংলা
উহারা কি লক্ষ্য করে না যে, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন তিনি উহাদের অনুরূপ সৃষ্টি করিতে ক্ষমতাবান? তিনি উহাদের জন্য স্থির করিয়াছেন এক নির্দিষ্ট কাল, যাহাতে কোন সন্দেহ নাই। তথাপি সীমালংঘনকারীরা করা ব্যতীত ক্ষান্ত হইল না।
জহুরুল হক
তারা কি দেখছে না যে , যিনি মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম? আর তিনি তাদের জন্য স্থির করেছেন একটি নির্ধারিত কাল - - এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অন্যায়কারীরা প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া আর সবটাতেই অসম্মত থাকে।
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো : তোমরা যদি আমার প্রভুর দয়ার ভান্ডারের মালিকও হতে, তবু খরচ হয়ে যাওয়ার ভয়ে সেগুলো আঁকড়ে ধরে রাখতে। আসলে মানুষ বড় কৃপণ।
মুহিউদ্দীন খান
বলুনঃ যদি আমার পালনকর্তার রহমতের ভান্ডার তোমাদের হাতে থাকত, তবে ব্যয়িত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অবশ্যই তা ধরে রাখতে। মানুষ তো অতিশয় কৃপণ।
সমকালীন বাংলা
বল, ‘যদি তোমরা আমার প্রতিপালকের দয়ার ভাণ্ডারের অধিকারী হইতে, তবুও ‘ব্যয় হইয়া যাইবে’ এই আশংকায় তোমরা উহা ধরিয়া রাখিতে; মানুষ তো অতিশয় কৃপণ।’
জহুরুল হক
বলো - - ''যদি তোমরা আমার প্রভুর করুণা - ভান্ডারের উপরে কর্তৃত্ব করতে তাহলে তোমরা নিশ্চয়ই তা ধরে রাখতে খরচ করার ভয়ে।’’ আর মানুষ বড় কৃপণ।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা মূসাকে নয়টি সুস্পষ্ট নিদর্শন দিয়ে পাঠিয়েছিলাম। বনি ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করে দেখো যখন সে তাদের কাছে এসেছিল, তখন ফেরাউন তাকে বলেছিল: ‘হে মূসা! আমার সন্দেহ হচ্ছে তুমি একজন জাদুগ্রস্ত
মুহিউদ্দীন খান
আপনি বণী - ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করুন, আমি মূসাকে নয়টি প্রকাশ্য নিদর্শন দান করেছি। যখন তিনি তাদের কাছে আগমন করেন, ফেরাউন তাকে বললঃ হে মূসা, আমার ধারনায় তুমি তো জাদুগ্রস্থ।
সমকালীন বাংলা
তুমি বনী ইস্রাঈলকে জিজ্ঞাসা করিয়া দেখ আমি মূসাকে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন দিয়াছিলাম; যখন সে তাহাদের নিকট আসিয়াছিল, ফির‘আওন তাহাকে বলিয়াছিল, ‘হে মূসা! আমি মনে করি তুমি তো জাদুগ্রস্ত।’
জহুরুল হক
আর আমরা আলবৎ মূসাকে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন দিয়েছিলাম, সুতরাং ইসরাইলের বংশধরদের জিজ্ঞেস করে দেখ - - যখন তিনি তাদের কাছে এসেছিলেন, - - ফিরআউন তখন তাঁকে বলেছিল - - ''আমি অবশ্য তোমাকে, হে মূসা! মনে করি জাদুগ্রস্ত।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
তখন মূসা বলেছিল: ‘তুমি তো জানো, এসব নিদর্শন সু্স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে মহাকাশ এবং পৃথিবীর প্রভু ছাড়া আর কেউ নাযিল করেনি। আর আমি মনে করি হে ফেরাউন, তোমার ধ্বংস আসন্ন।’
মুহিউদ্দীন খান
তিনি বললেনঃ তুমি জান যে, আসমান ও যমীনের পালনকর্তাই এসব নিদর্শনাবলী প্রত্যক্ষ প্রমাণস্বরূপ নাযিল করেছেন। হে ফেরাউন, আমার ধারণায় তুমি ধ্বংস হতে চলেছো।
সমকালীন বাংলা
মূসা বলিয়াছিল, ‘তুমি অবশ্যই অবগত আছ যে, এই সমস্ত স্পষ্ট নিদর্শন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালকই অবতীর্ণ করিয়াছেন - প্রত্যক্ষ প্রমাণস্বরূপ। হে ফির‘আওন! আমি তো দেখিতেছি তোমার ধ্বংস আসন্ন!’
জহুরুল হক
তিনি বললেন - - ''তুমি নিশ্চয়ই জান যে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর প্রভুর ব্যতিরেকে অন্য কেউ এইসব নিদর্শন পাঠান নি, আর আমি তো তোমাকেই, হে ফিরআউন! মনে করি বিনাশপ্রাপ্ত।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
তখন ফেরাউন তাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার এরাদা (সংকল্প) করে। ফলে আমরা তাকে এবং তার সঙ্গি - সাথিদেরকে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর সে বনী ইসরাঈলকে দেশ থেকে উৎখাত করতে চাইল, তখন আমি তাকে ও তার সঙ্গীদের সবাইকে নিমজ্জত করে দিলাম।
সমকালীন বাংলা
অতঃপর ফির‘আওন তাহাদেরকে দেশ হইতে উচ্ছেদ করিবার সংকল্প করিল; তখন আমি ফির‘আওন ও তাহার সঙ্গীদের সকলকে নিমজ্জিত করিলাম।
জহুরুল হক
তখন সে সংকল্প করল দেশ থেকে তাঁদের উচ্ছেদ করতে, কাজেই আমরা তাকে ও তার সঙ্গে যারা ছিল সবাইকে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।
আবদুস শহীদ নাসিম
এরপর আমরা বনি ইসরাঈলকে বলেছিলাম, তোমরা পৃথিবীতে বসবাস করো। যখন আখিরাতের ওয়াদা বাস্তবায়িত হবে তখন আমরা তোমাদের সবাইকে একত্রে হাজির করবো।
মুহিউদ্দীন খান
তারপর আমি বনী ইসলাঈলকে বললামঃ এ দেশে তোমরা বসবাস কর। অতঃপর যখন পরকালের ওয়াদা বাস্তবায়িত হবে, তখন তোমাদের কে জড়ো করে নিয়ে উপস্থিত হব।
সমকালীন বাংলা
ইহার পর আমি বনী ইস্রাঈলকে বলিলাম, ‘তোমরা ভূপৃষ্ঠে বসবাস কর এবং যখন কিয়ামতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হইবে তখন তোমাদের সকলকে আমি একত্র করিয়া উপস্থিত করিব।
জহুরুল হক
আর এ পরে আমরা ইসরাইলের বংশধরদের বলেছিলাম - - ''তোমরা এ দেশে বসবাস কর, তারপর যখন ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি এসে পড়বে আমরা তখন তোমাদের জড় করব দুমড়ে ফেলে।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা সত্য নিয়ে এ কুরআনকে নাযিল করেছি এবং সত্য নিয়েই তা নাযিল হয়েছে। আর আমরা তো তোমাকে পাঠিয়েছি কেবল একজন সুসংবাদদাতা এবং একজন সতর্ককারী হিসেবে।
মুহিউদ্দীন খান
আমি সত্যসহ এ কোরআন নাযিল করেছি এবং সত্য সহ এটা নাযিল হয়েছে। আমি তো আপনাকে শুধু সুসংবাদাতা ও ভয়প্রদর্শক করেই প্রেরণ করেছি।
সমকালীন বাংলা
আমি সত্যসহই কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি এবং উহা সত্যসহই অবতীর্ণ হইয়াছে। আমি তো তোমাকে কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করিয়াছি।
জহুরুল হক
আর সত্যের সঙ্গে আমরা এটি অবতারণ করেছি, আর সত্যের সঙ্গে এটি এসেছে। আর তোমাকে আমরা পাঠাই নি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে ভিন্ন।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা কুআনকে নাযিল করেছি ভাগে ভাগে, যাতে করে তুমি মানুষকে তা পাঠ করে জানাতে পারো বিরতি দিয়ে দিয়ে। এ জন্যে আমরা সেটিকে ধীর ধীরে ক্রমান্বয়ে নাযিল করেছি।
মুহিউদ্দীন খান
আমি কোরআনকে যতিচিহ্ন সহ পৃথক পৃথকভাবে পাঠের উপযোগী করেছি, যাতে আপনি একে লোকদের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করেন এবং আমি একে যথাযথ ভাবে অবতীর্ণ করেছি।
সমকালীন বাংলা
আমি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি খণ্ড খণ্ডভাবে যাহাতে তুমি উহা মানুষের নিকট পাঠ করিতে পার ক্রমে ক্রমেএবং আমি উহা ক্রমশ অবতীর্ণ করিয়াছি।
জহুরুল হক
আর এ কুরআন - - আমরা এটিকে ভাগভাগ করেছি যেন তুমি তা লোকদের কাছে ক্রমে ক্রমে পড়তে পার, আর আমরা এটি অবতারণ করেছি অবতারণে।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: ‘তোমরা এ কুরআনের প্রতি ঈমান আনো বা ঈমান না আনো, ইতিপূর্বে যাদের এলেম দেয়া হয়েছিল, তাদের কাছে যখন এটি পাঠ করা হয়, তখন তারা সাজদায় লুটিয়ে পড়ে।’
মুহিউদ্দীন খান
বলুনঃ তোমরা কোরআনকে মান্য কর অথবা অমান্য কর; যারা এর পূর্ব থেকে এলেম প্রাপ্ত হয়েছে, যখন তাদের কাছে এর তেলাওয়াত করা হয়, তখন তারা নতমস্তকে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে।
সমকালীন বাংলা
বল, ‘তোমরা কুরআনে বিশ্বাস কর বা বিশ্বাস না কর, যাহাদেরকে ইহার পূর্বে জ্ঞান দেওয়া হইয়াছে তাহাদের নিকট যখন ইহা পাঠ করা হয় তখনই তাহারা সিজ্দায় লুটাইয়া পড়ে।’
জহুরুল হক
বলো - - ''তোমরা এতে বিশ্বাস কর অথবা বিশ্বাস নাই কর। নিঃসন্দেহ যাদের এর আগে জ্ঞান দেয়া হয়েছিল - - যখন তা দের কাছে এটি পাঠ করা হয় তখন চিবুকের উপরে তারা লুটিয়ে পড়ে সিজদা - রত হয়ে।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলে: ‘আমাদের প্রভু পবিত্র, মহান। আমাদের প্রভুর ওয়াদা অবশ্যি কার্যকর হয়ে থাকে।
মুহিউদ্দীন খান
এবং বলেঃ আমাদের পালনকর্তা পবিত্র, মহান। নিঃসন্দেহে আমাদের পালকর্তার ওয়াদা অবশ্যই পূর্ণ হবে।
সমকালীন বাংলা
তাহারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক পবিত্র, মহান। আমাদের প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি কার্যকরী হইয়াই থাকে।
জহুরুল হক
আর তারা বলে - - ''মহিমা হোক আমাদের প্রভুর? আমাদের প্রভুর অংগীকার কৃতকার্য হবেই!’’
আবদুস শহীদ নাসিম
তখন তারা কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং এটি (কুরআন) যখন তাদের প্রতি তিলাওয়াত করা হয়, তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে দেয়। (সাজদা)
মুহিউদ্দীন খান
তারা ক্রন্দন করতে করতে নতমস্তকে ভুমিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের বিনয়ভাব আরো বৃদ্ধি পায়।
সমকালীন বাংলা
‘এবং তাহারা কাঁদিতে কাঁদিতে ভূমিতে লুটাইয়া পড়ে এবং ইহা উহাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।’
জহুরুল হক
আর তারা লুটিয়ে পড়ে চিবুকের উপরে কাঁদতে কাঁদতে, আর এতে তাদের বিনয় বেড়ে যায়।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: তোমরা তাঁকে ‘’ বলে ডাকো, কিংবা ‘রহমান’ বলে ডাকো, তোমরা যে নামেই তাঁকে ডাকো, সুন্দরতম নামসমূহ তো তাঁরই। তোমার সালাতে স্বর বেশি উঁচু করোনা, আর বেশি ক্ষীণও করোনা, এ দুয়ের মাঝখানে মধ্যপন্থা অবলম্বন করো।
মুহিউদ্দীন খান
বলুনঃ বলে আহবান কর কিংবা রহমান বলে, যে নামেই আহবান কর না কেন, সব সুন্দর নাম তাঁরই। আপনি নিজের আদায়কালে স্বর উচ্চগ্রাসে নিয়ে গিয়ে পড়বেন না এবং নিঃশব্দেও পড়বেন না। এতদুভয়ের মধ্যমপন্থা অবলম্বন করুন।
সমকালীন বাংলা
বল, ‘তোমরা নামে আহ্বান কর বা ‘রাহমান’ নামে আহ্বান কর, তোমরা যে নামেই আহ্বান কর সকল সুন্দর নামই তো তাঁহার। তোমরা সালাতে স্বর উচ্চ করিও না এবং অতিশয় ক্ষীণও করিও না; এই দুইয়ের মধ্যপথ অবলম্বন কর।’
জহুরুল হক
বলো - - ''তোমরা '’ বলে ডাকো অথবা 'রহমান’ বলে ডাকো। বস্তুতঃ যে নামেই তোমরা ডাক, তাঁরই কিন্তু সকল সুন্দর সুন্দর নাম।’’ আর তোমরা নামাযে আওয়াজ চড়া করো না এবং এতে নিঃশব্ধও হয়ো না, বরং এই উভয়ের মধ্যে পথ অনুসরণ করো।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর বলো: ‘‘সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর, যিনি সন্তান গ্রহণ করেননা। তাঁর কর্তৃত্বে কেউ অংশীদারও নেই। তাঁর কোনো অসহায়ত্বও নেই যে, তাঁর কোনো অলির প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহানত্ব ঘোষণা করো।’’ (আল্লাহু আকবার)।
মুহিউদ্দীন খান
বলুনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি না কোন সন্তান রাখেন, না তাঁর সার্বভৌমত্বে কোন শরীক আছে এবং যিনি দুর্দশাগ্রস্ত হন না, যে কারণে তাঁর কোন সাহয্যকারীর প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং আপনি স - সম্ভ্রমে তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে থাকুন।
সমকালীন বাংলা
বল, ‘প্রশংসা যিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেন নাই, তাঁহার সার্বভৌমত্বে কোন অংশী নাই এবং যিনি দুর্দশাগ্রস্তহন না যে কারণে তাঁহার অভিভাবকের প্রয়োজন হইতে পারে। সুতরাং সসম্ভ্রমে তাঁহার মহাক্রম ঘোষণা কর।’
জহুরুল হক
আর তুমি বলো - - ''সমস্ত প্রশংসা র, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেন নি, আর যাঁর জন্য এই সাম্রাজ্যে কোনো শরিক নেই, এবং যাঁর কোনো মনিব নেই দুর্দশা থেকে, সুতরাং তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা করো সসম্ভ্রমে।’’