You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আল মুলক (সর্বময় কর্তৃত্ব)
Chapter 67, 30 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
জহুরুল হক
Arabic
মুহিউদ্দীন খান
About this chapter
মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৩০, রুকু সংখ্যা: ০২
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-১২সর্বময় কর্তৃত্ব আল্লাহর। আল্লাহর সৃষ্টি নিখুঁত। আল্লাহর প্রভুত্ব অস্বীকারকারীদের জন্য রয়েছে কঠোর আযাব। যারা আল্লাহর প্রভুত্ব স্বীকার করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।
১৩-২৪আল্লাহর একত্ব ও প্রভুত্বের যুক্তি ও প্রমাণ।
২৫-২৬পুনরুত্থান ও বিচার অনিবার্য।
২৭-৩০আল্লাহর একত্বের যুক্তি।
আবদুস শহীদ নাসিম
মহা বরকতময় সেই সত্তা, সর্বময় কর্তৃত্ব যাঁর হাতে। আর সব কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান।
জহুরুল হক
মহামহিমান্বিত তিনি যাঁর হাতে রয়েছে সার্বভৌম কর্তৃত্ব, আর তিনি সব - কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান;
Arabic
بسم الله الرحمن الرحيم تبارك الذي بيده الملك وهو على كل شيء قدير
মুহিউদ্দীন খান
পূণ্যময় তিনি, যাঁর হাতে রাজত্ব। তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি সেই মহান সত্তা, যিনি সৃষ্টি করেছেন মউত এবং হায়াত তোমাদের এই পরীক্ষা করার জন্যে যে, তোমাদের মাঝে আমলের দিক দিয়ে কে উত্তম? তিনি মহাশক্তিমান, অতীব ক্ষমাশীল,
জহুরুল হক
যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদের যাচাই করতে যে তোমাদের মধ্যে কে কাজকর্মে শ্রেষ্ঠ। আর তিনি মহাশক্তিশালী, পরিত্রাণকারী;
Arabic
الذي خلق الموت والحياة ليبلوكم أيكم أحسن عملا ۚ وهو العزيز الغفور
মুহিউদ্দীন খান
যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন - কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
যিনি সৃষ্টি করেছেন তবকায় তবকায় সাত আস্মান। দয়াময় - রহমানের সৃষ্টিতে কোনো খুঁত তুমি দেখতে পাবেনা। আবার তাকিয়ে দেখো, দেখতে পাও কি কোনো খুঁত?
জহুরুল হক
যিনি সাত আকাশ সৃষ্টি করেছেন সুবিন্যস্তভাবে। তুমি পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। তারপর তুমি দৃষ্টি ঘুরিয়ে - ফিরিয়ে নাও, তুমি কি কোনো ফাটল দেখতে পাচ্ছ?
Arabic
الذي خلق سبع سماوات طباقا ۖ ما ترى في خلق الرحمن من تفاوت ۖ فارجع البصر هل ترى من فطور
মুহিউদ্দীন খান
তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় তা’আলার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টিফেরাও; কোন ফাটল দেখতে পাও কি?
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর বার বার নজর করে দেখো, সেই নজর ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসবে তোমার দিকে।
জহুরুল হক
তারপর দৃষ্টি আরেকবার ঘুরিয়ে - ফিরিয়ে নাও, দৃষ্টি তোমার কাছে ফিরে আসবে ব্যর্থ হয়ে, আর তা হবে ক্লান্ত।
Arabic
ثم ارجع البصر كرتين ينقلب إليك البصر خاسئا وهو حسير
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর তুমি বার বার তাকিয়ে দেখ - তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা দুনিয়ার আসমানকে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছি অনেক প্রদীপ দিয়ে এবং সেগুলোকে বানিয়েছি শয়তানদের দিকে নিক্ষেপের হাতিয়ার, আর তাদের জন্যে তৈরি করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের আযাব।
জহুরুল হক
আর আমরা নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করে রেখেছি প্রদীপমালা দিয়ে, আর আমরা তাদের বানিয়েছি শয়তানদের জন্য ভাঁওতার বিষয়; আর আমরা তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি।
Arabic
ولقد زينا السماء الدنيا بمصابيح وجعلناها رجوما للشياطين ۖ وأعتدنا لهم عذاب السعير
মুহিউদ্দীন খান
আমি সর্বনিম্ন আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুসজ্জত করেছি; সেগুলোকে শয়তানদের জন্যে ক্ষেপণাস্ত্রবৎ করেছি এবং প্রস্তুত করে রেখেছি তাদের জন্যে জলন্ত অগ্নির শাস্তি।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা তাদের প্রভুর প্রতি কুফুরি করে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আযাব; আর তা ফিরে যাবার কতো যে মন্দ জায়গা!
জহুরুল হক
আর যারা তাদের প্রভুকে অবিশ্বাস করে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। আর মন্দ সেই গন্তব্যস্থান!
Arabic
وللذين كفروا بربهم عذاب جهنم ۖ وبئس المصير
মুহিউদ্দীন খান
যারা তাদের পালনকর্তাকে অস্বীকার করেছে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। সেটা কতই না নিকৃষ্ট স্থান।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদেরকে যখন তাতে নিক্ষেপ করা হবে, তারা তখন শুনতে পাবে তার উত্থান পতনের বিকট শব্দ।
জহুরুল হক
যখন তাদের সেখানে নিক্ষেপ করা হবে তখন তারা তার থেকে বিকট গর্জন শুনতে পাবে, আর তা লেলিহান শিখা ছড়াবে, - -
Arabic
إذا ألقوا فيها سمعوا لها شهيقا وهي تفور
মুহিউদ্দীন খান
যখন তারা তথায় নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তার উৎক্ষিপ্ত গর্জন শুনতে পাবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যেনো সে (জাহান্নাম) ক্রোধে ফেটে পড়বে। যখনই তাতে নিক্ষেপ করা হবে কোনো দলকে, তখনই তার রক্ষীরা তাদের প্রশ্ন করবে: তোমাদের কাছে কি আসেনি কোনো সতর্ককারী?
জহুরুল হক
যেন ক্রোধে ফেটে পড়ছে। যখনই কোনো একদলকে ওতে নিক্ষেপ করা হবে তার রক্ষীরা তাদের জিজ্ঞাসা করবে - - ''তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেন নি?”
Arabic
تكاد تميز من الغيظ ۖ كلما ألقي فيها فوج سألهم خزنتها ألم يأتكم نذير
মুহিউদ্দীন খান
ক্রোধে জাহান্নাম যেন ফেটে পড়বে। যখনই তাতে কোন সম্প্রদায় নিক্ষিপ্ত হবে তখন তাদেরকে তার সিপাহীরা জিজ্ঞাসা করবে। তোমাদের কাছে কি কোন সতর্ককারী আগমন করেনি?
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলবে: ‘হ্যাঁ, আমাদের কাছে একজন সতর্ককারী এসেছিল, কিন্তু আমরা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম তাকে। আমরা বলেছিলাম: কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা মহাভুল পথে আছো।’
জহুরুল হক
তারা বলবে - - ''হাঁ, আমাদের কাছে সতর্ককারী ইতিপূর্বে এসে গেছেন, আমরা কিন্তু অস্বীকার করেছিলাম ও বলেছিলাম - - ' কোনো - কিছু অবতারণ করেন নি, তোমরা রয়েছ বিরাট পথভ্রান্তিতে বৈ তো নও’।’’
Arabic
قالوا بلى قد جاءنا نذير فكذبنا وقلنا ما نزل الله من شيء إن أنتم إلا في ضلال كبير
মুহিউদ্দীন খান
তারা বলবেঃ হ্যাঁ আমাদের কাছে সতর্ককারী আগমন করেছিল, অতঃপর আমরা মিথ্যারোপ করেছিলাম এবং বলেছিলামঃ তা’আলা কোন কিছু নাজিল করেননি। তোমরা মহাবিভ্রান্তিতে পড়ে রয়েছ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা আরো বলবে: ‘আমরা যদি (তাদের আহবান - উপদেশ) শুনতাম এবং আকল খাটাতাম, তাহলে আজ আমরা সায়ীরের (জাহান্নামের) অধিবাসী হতাম না।’
জহুরুল হক
আর তারা বলবে - - ''আমরা যদি শুনতাম অথবা বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দাদের মধ্যে হতাম না।’’
Arabic
وقالوا لو كنا نسمع أو نعقل ما كنا في أصحاب السعير
মুহিউদ্দীন খান
তারা আরও বলবেঃ যদি আমরা শুনতাম অথবা বুদ্ধি খাটাতাম, তবে আমরা জাহান্নামবাসীদের মধ্যে থাকতাম না।
আবদুস শহীদ নাসিম
এভাবেই তারা স্বীকার করবে তাদের অপরাধ। ধ্বংস সায়ীরের অধিবাসীদের জন্যে।
জহুরুল হক
সুতরাং তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে, ফলে জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দাদের জন্য - - 'দূর হ!’
Arabic
فاعترفوا بذنبهم فسحقا لأصحاب السعير
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। জাহান্নামীরা দূর হোক।
আবদুস শহীদ নাসিম
নিশ্চয়ই যারা না দেখেও তাদের প্রভুকে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে মাগফিরাত আর মহাপুরস্কার।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ যারা তাদের প্রভুকে ভয় করে গোপনে তাদের জন্য রয়েছে পরিত্রাণ ও বিরাট প্রতিদান।
Arabic
إن الذين يخشون ربهم بالغيب لهم مغفرة وأجر كبير
মুহিউদ্দীন খান
নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা তোমাদের কথা গোপনে বলো, কিংবা প্রকাশ্যে, নিশ্চয়ই তিনি বিশেষভাবে জ্ঞাত অন্তরের খবর।
জহুরুল হক
অথচ তোমাদের কথাবার্তা তোমরা গোপন কর অথবা তা প্রকাশই কর। নিঃসন্দেহ তিনি বুকের ভেতরের বিষয় সন্বন্ধেও সর্বজ্ঞাতা।
Arabic
وأسروا قولكم أو اجهروا به ۖ إنه عليم بذات الصدور
মুহিউদ্দীন খান
তোমরা তোমাদের কথা গোপনে বল অথবা প্রকাশ্যে বল, তিনি তো অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত।
আবদুস শহীদ নাসিম
যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি হলেন সুক্ষ্মদর্শী, সব অবগত।
জহুরুল হক
যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি কি জানেন না? আর তিনি গুপ্ত বিষয়ে জ্ঞাতা, পূর্ণ - ওয়াকিফহাল।
Arabic
ألا يعلم من خلق وهو اللطيف الخبير
মুহিউদ্দীন খান
যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি করে জানবেন না? তিনি সূক্ষ্নজ্ঞানী, সম্যক জ্ঞাত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনিই সেই সত্তা, যিনি এই পৃথিবীকে তোমাদের জন্যে বানিয়ে দিয়েছেন চলাচলের উপযোগী, সুতরাং তোমরা দিক দিগন্তে চলাচল করো এবং তাঁর দেয়া জীবিকা থেকে খাও। আর তাঁরই কাছে হবে হাশর - নশর।
জহুরুল হক
তিনিই সেইজন যিনি পৃথিবীটাকে তোমাদের জন্য করে দিয়েছেন শান্ত, ফলে তোমরা এর দিগদিগন্তে বিচরণ করছ এবং তার জীবিকা থেকে আহার করছ। আর তাঁরই কাছে পুনরুত্থান।
Arabic
هو الذي جعل لكم الأرض ذلولا فامشوا في مناكبها وكلوا من رزقه ۖ وإليه النشور
মুহিউদ্দীন খান
তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে সুগম করেছেন, অতএব, তোমরা তার কাঁধে বিচরণ কর এবং তাঁর দেয়া রিযিক আহার কর। তাঁরই কাছে পুনরুজ্জীবন হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের নিয়ে পৃথিবীকে ধসিয়ে দেবেন আর তা আকস্মিক থর থর করে কেঁপে উঠবে - এ থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছো?
জহুরুল হক
কী! যিনি উর্ধ্বলোকে রয়েছেন তাঁর কাছ থেকে কি তোমরা নিরাপত্তা গ্রহণ করেছ যে তিনি পৃথিবীকে দিয়ে তোমাদের গ্রাস করাবেন না, যখন আলবৎ তা আন্দোলিত হবে?
Arabic
أأمنتم من في السماء أن يخسف بكم الأرض فإذا هي تمور
মুহিউদ্দীন খান
তোমরা কি ভাবনামুক্ত হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দেবেন, অতঃপর তা কাঁপতে থাকবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
নাকি আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদের উপর কংকরবর্ষী তুফান পাঠাবেন - সে ব্যাপারে তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছো? অচিরেই জানতে পারবে কেমন ছিলো সতর্কবাণী।
জহুরুল হক
অথবা যিনি উর্ধ্বলোকে রয়েছেন তাঁর কাছ থেকে কি তোমরা নিরাপত্তা গ্রহণ করেছ পাছে তিনি তোমাদের উপরে পাঠিয়ে দেন এক কংকরময় ঘূর্ণিঝড়? ফলে তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী!
Arabic
أم أمنتم من في السماء أن يرسل عليكم حاصبا ۖ فستعلمون كيف نذير
মুহিউদ্দীন খান
না তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, অতঃপর তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী।
আবদুস শহীদ নাসিম
এদের পূর্বের লোকেরাও প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে তাদের শাস্তিটাও হয়েছিল কেমন (কঠোর)?
জহুরুল হক
আর এদের আগে যারা ছিল তারাও প্রত্যাখ্যান করেছিল, তখন কেমন হয়েছিল আমার অসন্তোষ!
Arabic
ولقد كذب الذين من قبلهم فكيف كان نكير
মুহিউদ্দীন খান
তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছিল, অতঃপর কত কঠোর হয়েছিল আমার অস্বীকৃতি।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি তাদের উপরে পাখিদের প্রতি লক্ষ্য করেনা? তারা ডানা বিস্তার করে আবার গুটিয়ে নেয়। দয়াময় - রহমানই তাদের স্থির রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রতিটি বিষয়ে দৃষ্টিবান।
জহুরুল হক
তারা কি দেখে নি তাদের উপরে পাখিদের ছড়ানো ও গুটানো? তাদের পরম করুণাময় ছাড়া কেউ ধরে রাখেন না। নিঃসন্দেহ তিনিই সর্ববিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।
Arabic
أولم يروا إلى الطير فوقهم صافات ويقبضن ۚ ما يمسكهن إلا الرحمن ۚ إنه بكل شيء بصير
মুহিউদ্দীন খান
তারা কি লক্ষ্য করে না, তাদের মাথার উপর উড়ন্ত পক্ষীকুলের প্রতি পাখা বিস্তারকারী ও পাখা সংকোচনকারী? রহমান - ই তাদেরকে স্থির রাখেন। তিনি সর্ব - বিষয় দেখেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
দয়াময় - রহমান ছাড়া তোমাদের কোনো সেনাবাহিনী আছে কি, যারা তাঁর বিরুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করবে? আসলে কাফিররা রয়েছে প্রতারণার মধ্যে।
জহুরুল হক
আচ্ছা, পরম করুণাময়কে বাদ দিয়ে কে সেইটি - - যে হবে তোমাদের জন্য সেনাবাহিনী যে তোমাদের সাহায্য করবে? অবিশ্বাসীরা তো বিভ্রান্তিতে থাকা ছাড়া আর কোথাও নয়।
Arabic
أمن هذا الذي هو جند لكم ينصركم من دون الرحمن ۚ إن الكافرون إلا في غرور
মুহিউদ্দীন খান
রহমান তা’আলা ব্যতীত তোমাদের কোন সৈন্য আছে কি, যে তোমাদেরকে সাহায্য করবে? কাফেররা বিভ্রান্তিতেই পতিত আছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
এমন কে আছে যে তোমাদের রিযিক সরবরাহ করবে - যদি তিনি তাঁর রিযিক (সরবরাহ) বন্ধ করে দেন? বরং তারা অবাধ্যতা ও সত্য থেকে পালানোর উপর অবিচল রয়েছে।
জহুরুল হক
অথবা কে সে যে তোমাদের জীবিকা দেবে যদি তিনি তাঁর রিযেক বন্ধ করে দেন? বস্তুত তারা অবাধ্যতায় ও বিতৃষ্ণায় অনড় রয়েছে।
Arabic
أمن هذا الذي يرزقكم إن أمسك رزقه ۚ بل لجوا في عتو ونفور
মুহিউদ্দীন খান
তিনি যদি রিযিক বন্ধ করে দেন, তবে কে আছে, যে তোমাদেরকে রিযিক দিবে বরং তারা অবাধ্যতা ও বিমুখতায় ডুবে রয়েছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যে ব্যক্তি ঝুঁকে মুখের উপর ভর দিয়ে চলে সে - ই কি ঠিক পথে চলে, নাকি ঐ ব্যক্তি, যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে?
জহুরুল হক
আচ্ছা, যে তার মুখের উপরে থুবড়ে থুবড়ে চলে সে কি তবে বেশি সৎপথে চালিত, না সেইজন যে সোজা হয়ে চলে শুদ্ধ - সঠিক পথে?
Arabic
أفمن يمشي مكبا على وجهه أهدى أمن يمشي سويا على صراط مستقيم
মুহিউদ্দীন খান
যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখে ভর দিয়ে চলে, সে - ই কি সৎ পথে চলে, না সে ব্যক্তি যে সোজা হয়ে সরলপথে চলে?
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: ‘তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং হৃদয়। তবে তোমরা খুব কমই শোকর আদায় করে থাকো।’
জহুরুল হক
বলো - - ''তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের বিকশিত করেছেন, আর তোমাদের জন্য বানিয়ে দিয়েছেন শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ। তোমরা যা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর সে তো যৎসামান্য!’’
Arabic
قل هو الذي أنشأكم وجعل لكم السمع والأبصار والأفئدة ۖ قليلا ما تشكرون
মুহিউদ্দীন খান
বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং দিয়েছেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: ‘তিনিই তোমাদের পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁরই কাছে করা হবে তোমাদের হাশর (একত্র)’।
জহুরুল হক
তুমি বলে যাও - - ''তিনিই সেইজন যিনি পৃথিবীতে তোমাদের ছড়িয়ে দিয়েছেন, আর তাঁরই কাছে তোমাদের একত্রিত করা হবে।’’
Arabic
قل هو الذي ذرأكم في الأرض وإليه تحشرون
মুহিউদ্দীন খান
বলুন, তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে বিস্তৃত করেছেন এবং তাঁরই কাছে তোমরা সমবেত হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলে: ‘তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে বলো কখন আসবে এই ওয়াদা করা সময়টি?’
জহুরুল হক
আর তারা বলে - - ''কখন এই ওয়াদা হবে? যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’’
Arabic
ويقولون متى هذا الوعد إن كنتم صادقين
মুহিউদ্দীন খান
কাফেররা বলেঃ এই প্রতিশ্রুতি কবে হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! তুমি বলো: ‘এর এলেম আল্লাহর কাছেই রয়েছে। আমি তো একজন স্পষ্ট সাবধানকারী মাত্র।’
জহুরুল হক
তুমি বলো - - ''জ্ঞান কেবল রই কাছে আছে, আর আমি নিঃসন্দেহ একজন স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।’’
Arabic
قل إنما العلم عند الله وإنما أنا نذير مبين
মুহিউদ্দীন খান
বলুন, এর জ্ঞান তা’আলার কাছেই আছে। আমি তো কেবল প্রকাশ্য সতর্ককারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা যখন দেখবে তা (কিয়ামত) সম্মুখে উপস্থিত, তখন চেহারা ম্লান হয়ে যাবে কাফিরদের। তাদের বলা হবে: ‘এটাই সেই জিনিস যা তোমরা দাবি করে আসছিলে।
জহুরুল হক
তারপর তারা যখন এটি আসন্ন দেখতে পাবে তখন যারা অবিশ্বাস করেছিল তাদের চেহারা হবে মলিন, আর বলা হবে - - ''এটিই তাই যা তোমরা ডেকে আনছিলে।’’
Arabic
فلما رأوه زلفة سيئت وجوه الذين كفروا وقيل هذا الذي كنتم به تدعون
মুহিউদ্দীন খান
যখন তারা সেই প্রতিশ্রুতিকে আসন্ন দেখবে তখন কাফেরদের মুখমন্ডল মলিন হয়ে পড়বে এবং বলা হবেঃ এটাই তো তোমরা চাইতে।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী ! তাদের বলো: তোমরা কি চিন্তা করে দেখেছো, যদি আমাকে এবং আমার সাথিদেরকে হালাক করে দেন, অথবা আমাদের প্রতি রহম করেন, কিন্তু কাফিরদের রক্ষা করবে কে বেদনাদায়ক আযাব থেকে?
জহুরুল হক
তুমি বলো - - ''তোমরা কি ভেবে দেখেছ, - - যদি আমাকে ও যারা আমার সঙ্গে রয়েছে তাদের ধ্বংস করেন অথবা আমাদের প্রতি করুণা করেন, কিন্তু কে অবিশ্বাসীদের রক্ষা করবে মর্মন্তুদ শাস্তি থেকে?’’
Arabic
قل أرأيتم إن أهلكني الله ومن معي أو رحمنا فمن يجير الكافرين من عذاب أليم
মুহিউদ্দীন খান
বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ - যদি তা’আলা আমাকে ও আমার সংগীদেরকে ধ্বংস করেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তবে কাফেরদেরকে কে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে?
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো: ‘তিনি দয়াময় - রহমান, আমরা তাঁরই প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করেছি। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, কে নিমজ্জিত স্পষ্ট গোমরাহিতে?
জহুরুল হক
বলো - - ''তিনি পরম করুণাময়, আমরা তাঁতে ঈমান এনেছি এবং তাঁরই উপরে আমরা আস্থা রেখেছি, সুতরাং অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কে সেইজন যে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।’’
Arabic
قل هو الرحمن آمنا به وعليه توكلنا ۖ فستعلمون من هو في ضلال مبين
মুহিউদ্দীন খান
বলুন, তিনি পরম করুণাময়, আমরা তাতে বিশ্বাস রাখি এবং তাঁরই উপর ভরসা করি। সত্ত্বরই তোমরা জানতে পারবে, কে প্রকাশ্য পথ - ভ্রষ্টতায় আছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘তোমরা কি চিন্তা করে দেখছো, ভূ - গর্ভের পানি যদি তোমাদের নাগালের বাইরে চলে যায়, তখন কে এনে দেবে তোমাদের বহমান পানি?’
জহুরুল হক
বলে যাও - - ''তোমরা কি ভেবে দেখেছ - - যদি তোমাদের পানি সাত - সকালে ভূগর্ভে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদের জন্য নিয়ে আসবে প্রবহমান পানি?’’
Arabic
قل أرأيتم إن أصبح ماؤكم غورا فمن يأتيكم بماء معين
মুহিউদ্দীন খান
বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায়, তবে কে তোমাদেরকে সরবরাহ করবে পানির স্রোতধারা?