তোয়া সিন মিম।
ত্বা, সীন, মীম।
بسم الله الرحمن الرحيم طسم
Chapter 26, 227 verses
তোয়া সিন মিম।
ত্বা, সীন, মীম।
بسم الله الرحمن الرحيم طسم
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
এসব হচ্ছে সুস্পষ্ট গ্রন্থের বাণীসমূহ।
تلك آيات الكتاب المبين
তারা হচ্ছে না বলে তুমি হয়তো মনের দুঃখে নিজেকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।
তুমি হয়ত তোমার নিজেকে মেরেই ফেলবে যেহেতু তারা হচ্ছে না।
لعلك باخع نفسك ألا يكونوا مؤمنين
আমরা চাইলে আসমান থেকে তাদের জন্যে একটি নিদর্শন নাযিল করতাম, তখন সেটার প্রতি তাদের গর্দান নুইয়ে পড়তো।
যদি আমরা ইচ্ছা করতাম তাহলে আমরা তাদের উপরে আকাশ থেকে একটি নিদর্শন পাঠাতে পারতাম, তখন এর কারণে তাদের ঘাড় নুইয়ে হেটঁ করে দেয়া হত।
إن نشأ ننزل عليهم من السماء آية فظلت أعناقهم لها خاضعين
যখনই তাদের কাছে রহমানের পক্ষ থেকে নতুন কোনো যিকির (উপদেশ বার্তা) আসে, তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
আর তাদের নিকট পরম করুণাময়ের কাছ থেকে কোনো নতুন স্মরণীয় - বার্তা আসতে না আসতেই তারা তা থেকে বিমুখ হয়ে যায়।
وما يأتيهم من ذكر من الرحمن محدث إلا كانوا عنه معرضين
তারা তো অস্বীকার করেছে। সুতরাং তারা যা নিয়ে বিদ্রূপ করছে তার প্রকৃত খবর তাদের কাছে অচিরেই এসে পড়বে।
তাহলে তারা প্রত্যাখ্যান করেই ফেলেছে, সুতরাং যা নিয়ে তারা ঠাট্টা - বিদ্রপ করত তার সংবাদ তাদের কাছে শীঘ্রই আসছে।
فقد كذبوا فسيأتيهم أنباء ما كانوا به يستهزئون
তারা কি জমিনের দিকে তাকিয়ে দেখেনা? আমরা তাতে সব ধরনের কতো যে উত্তম উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি!
তারা কি পৃথিবীর দিকে চেয়ে দেখে না - - এতে আমরা প্রত্যেক উৎকৃষ্ট কল্পতরু কত যে জন্নিয়েছি?
أولم يروا إلى الأرض كم أنبتنا فيها من كل زوج كريم
অবশ্যি এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়!
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মহাপরাক্রমশালী, পরম দরয়াবান।
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
স্মরণ করো, তোমার প্রভু মূসাকে ডেকে বলেছিলেন, তুমি যালিম কওমের কাছে যাও,
আর স্মরণ করো! তোমার প্রভু মূসাকে ডেকে বললেন - - ''তুমি অত্যাচারী লোকদের কাছে যাও, - -
وإذ نادى ربك موسى أن ائت القوم الظالمين
ফেরাউনের কওমের কাছে। তাদের বলো: ‘তারা কি সতর্ক হবেনা?’
ফিরআউনের লোকদের কাছে। তারা কি ধর্মভীরুতা অবলন্বন করবে না?’’
قوم فرعون ۚ ألا يتقون
তখন মূসা বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার আশংকা হয়, তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।
তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমি অবশ্যই আশংকা করি যে তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।
قال رب إني أخاف أن يكذبون
আমার মন ছোট হয়ে আসছে আর আমার যবানও সঞ্চালিত হচ্ছে না, সুতরাং তুমি হারূণকে রিসালাত দান করো।
''আমার বুক সংকুচিত হয়ে পড়েছে, আর আমার জিহ্বা বাক্পটু নয়, সেজন্য হারূনের প্রতিও ডাক পাঠাও।
ويضيق صدري ولا ينطلق لساني فأرسل إلى هارون
আমার বিরুদ্ধে তাদের একটা অভিযোগও আছে, তাই আমি আশংকা করছি তারা আমাকে হত্যা করবে।’’
''আর আমার বিরুদ্ধে এক অপরাধ তাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে, সেজন্য আমি ভয় করি যে তারা আমাকে কাতল করবে।’’
ولهم علي ذنب فأخاف أن يقتلون
বললেন: ‘কখনো নয়। সুতরাং তোমরা দু’জনই যাও আমাদের নিদর্শনসমূহ নিয়ে, আমরাও তোমাদের সাথে থাকবো, সব শুনবো।’
তিনি বললেন - - ''কখনো না! অতএব তোমরা দুজনেই আমাদের নিদর্শন সমূহ নিয়ে যাও, নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের সঙ্গে রয়েছি শুনতে থাকা অবস্থায়।
قال كلا ۖ فاذهبا بآياتنا ۖ إنا معكم مستمعون
তোমরা ফেরাউনের কাছে যাও, তাকে বলো: ‘‘আমরা রাব্বুল আলামিনের রসূল।
''সুতরাং তোমরা ফিরআউনের নিকট যাও আর বলো - - 'আমরা আলবৎ বিশ্বজগতের প্রভুর রসূল - -
فأتيا فرعون فقولا إنا رسول رب العالمين
তুমি বনি ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।’’
''যে ইসরাইলের বংশধরদের আমাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দাও’।’’
أن أرسل معنا بني إسرائيل
ফেরাউন বললো: ‘‘আমরা কি শৈশবে তোমাকে আমাদের মধ্যে লালন পালন করিনি? তুমি তো তোমার জীবনের অনেক বছর আমাদের মধ্যে কাটিয়েছো।
সে বললে - - ''তোমাকে কি ছেলেবেলায় আমাদের কাছেই লালনপালন করি নি, এবং তুমি কি আমাদেরই মধ্যে তোমার জীবনের বহু বৎসর কাটাও নি?
قال ألم نربك فينا وليدا ولبثت فينا من عمرك سنين
আর তুমি তোমার একটা কর্ম করেছিলে। তুমি এক অকৃতজ্ঞ।’’
''আর তোমার কাজ যা তুমি করেছ তা তো করেইছ, তথাপি তুমি অকৃতজ্ঞদের মধ্যেকার!’’
وفعلت فعلتك التي فعلت وأنت من الكافرين
মূসা বললো: ‘‘আমি তো সে কাজটি করেছিলাম তখন, যখন আমি ছিলাম জ্ঞানহীন।
তিনি বললেন - - ''আমি এটি করেছিলাম যখন আমি পথভ্রষ্টদের মধ্যে ছিলাম।
قال فعلتها إذا وأنا من الضالين
তখন তো আমি তোমাদের ভয়ে পালিয়ে চলে গিয়েছিলাম। তারপর আমার প্রভু আমাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন এবং আমাকে রসূলদের একজন মনোনীত করেন।
''এরপর যখন আমি তোমাদের ভয় করেছিলাম তখন আমি তোমাদের থেকে ফেরার হলাম, তারপর আমার প্রভু আমাকে জ্ঞান দান করেছেন, আর তিনি আমাকে বানিয়েছেন রসূলদের অন্যতম।
ففررت منكم لما خفتكم فوهب لي ربي حكما وجعلني من المرسلين
আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছো, তার কারণ তো হলো, তুমি বনি ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করে রেখেছো।’’
''আর এই তো হচ্ছে সেই অনুগ্রহ যা তুমি আমার কাছে উল্লেখ করছ যার জন্যে তুমি ইসরাইলের বংশধরদের দাস বানিয়েছ!’’
وتلك نعمة تمنها علي أن عبدت بني إسرائيل
ফেরাউন বললো: ‘রাব্বুল আলামিন কে?’
ফিরআউন বললে - - ''বিশ্বজগতের প্রভু আবার কি হয়?’’
قال فرعون وما رب العالمين
মূসা বললো: ‘তিনি হলেন মালিক মহাকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে সবকিছুর যদি তোমরা একীন রাখো।’
তিনি বললেন - - ''মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর এবং তাদের মধ্যে যা - কিছু আছে তার প্রভু, - - যদি তোমরা দৃঢ়প্রত্যয়িত হও।’’
قال رب السماوات والأرض وما بينهما ۖ إن كنتم موقنين
ফেরাউন তার পারিষদবর্গকে লক্ষ্য করে বললো: ‘(মূসা কী বলছে) তোমরা কি শুনছো না?’
সে তার আশপাশে যারা আছে তাদের বললে - - ''তোমরা কি শুনছ না?’’
قال لمن حوله ألا تستمعون
মূসা বললো: ‘তিনি তোমাদেরও রব এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষদেরও রব।’
তিনি বললেন - - ''তোমাদের প্রভু এবং পূর্বকালের তোমাদের পিতৃপুরুষদেরও প্রভু।’’
قال ربكم ورب آبائكم الأولين
ফেরাউন বললো: ‘তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের এই রসূল তো একজন পাগল।’
সে বললে - - ''তোমাদের রসূলটি যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে সে তো বদ্ধ পাগল।’’
قال إن رسولكم الذي أرسل إليكم لمجنون
মূসা বললো: ‘তিনি মাশরিক, মাগরিব এবং এই উভয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে, সবকিছুর রব যদি তোমরা আকল রাখো।’
তিনি বললেন - - ''তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের এবং এ দুইয়ের মধ্যে যা আছে তারও প্রভু, যদি তোমরা বুঝতে পারতে।’’
قال رب المشرق والمغرب وما بينهما ۖ إن كنتم تعقلون
ফেরাউন বললো: ‘তুমি যদি আমাকে ছাড়া আর কাউকেও হিসেবে গ্রহণ করো, তাহলে অবশ্যি আমি তোমাকে কারাগারে অবরুদ্ধ করে রাখবো।’
সে বললে - - ''তুমি যদি আমাকে ছাড়া অন্য উপাস্য গ্রহণ কর তবে আমি আলবৎ তোমাকে কয়েদীদের অন্তর্ভুক্ত করব।’’
قال لئن اتخذت إلها غيري لأجعلنك من المسجونين
মূসা বললো: ‘আমি যদি তোমার কাছে সুস্পষ্ট নির্দশন হাজির করি, তবু?’
তিনি বললেন - - ''কী! আমি তোমার কাছে সুস্পষ্ট কিছু আনলেও?’’
قال أولو جئتك بشيء مبين
ফেরাউন বললো: ‘তবে হাজির করো যদি সত্যবাদী হও।’
সে বললে - - ''তবে তা নিয়ে এস যদি তুমি সত্যবাদীদের একজন হও।’’
قال فأت به إن كنت من الصادقين
তখন মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো আর সাথে সাথে তা সুস্পষ্ট অজগরে পরিণত হয়ে গেলো।
সুতরাং তিনি তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, তখন আশ্চর্য! এটি এক স্পষ্ট সাপ হয়ে গেল।
فألقى عصاه فإذا هي ثعبان مبين
এরপর (মূসা তার বগলে হাত ঢুকিয়ে) হাত বের করে আনলো, সাথে সাথে তা দর্শকদের দৃষ্টিতে ধবধবে সাদা দেখাতে লাগলো।
আর তিনি তাঁর হাত বের করেলন, তখন দেখো! দর্শকদের কাছে তা সাদা হয়ে গেল।
ونزع يده فإذا هي بيضاء للناظرين
ফেরাউন তাকে পরিবেষ্টন করে থাকা তার পারিষদবর্গকে বললো: ‘এ - তো এক পন্ডিত ম্যাজেসিয়ান।
সে তার আশপাশের প্রধানদের বললে - - ''এ তো নিশ্চয়ই এক ওস্তাদ জাদুকর, - -
قال للملإ حوله إن هذا لساحر عليم
সে তার ম্যাজিকের সাহায্যে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এখন তোমরা তার ব্যাপারে কী করতে বলো?’
''সে চাইছে তার জাদুর দ্বারা তোমাদের দেশ থেকে তোমাদের বের করে দিতে, কাজেই কী তোমরা উপদেশ দাও?’’
يريد أن يخرجكم من أرضكم بسحره فماذا تأمرون
তারা বললো: ‘তাকে আর তার ভাইকে কিছু অবকাশ দিন এবং বিভিন্ন শহরে সংগ্রহকারীদের পাঠান।
তারা বললে - - ''তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দাও, আর শহরে শহরে সংগ্রাহকদের পাঠাও, - -
قالوا أرجه وأخاه وابعث في المدائن حاشرين
তারা আপনার জন্যে দক্ষ ম্যাজেসিয়ানদের হাজির করবে।’
''যেন তারা প্রত্যেক জ্ঞানী জাদুকরদের তোমার কাছে নিয়ে আছে।’’
يأتوك بكل سحار عليم
তারপর নির্দিষ্ট দিনে এবং নির্দিষ্ট সময়ে ম্যাজেসিয়ানদের জমা করা হলো,
সুতরাং জাদুকরদের একত্র করা হ’ল নির্দিষ্ট স্থানে বিজ্ঞাপিত দিনে,
فجمع السحرة لميقات يوم معلوم
জনগণকে বলা হলো: ‘তোমরাও কি জমায়েত হচ্ছো?’
আর লোকদের বলা হ’ল - - ''তোমরা কি জমায়েৎ হচ্ছ, - -
وقيل للناس هل أنتم مجتمعون
‘হয়তো আমরা ম্যাজেসিয়ানদের অনুসরণ করতে পারি যদি তারা বিজয়ী হয়।’
''যেন আমরা জাদুকরদের অনুগমন করতে পারি যদি তারা নিজেরা বিজয়ী হয়?’’
لعلنا نتبع السحرة إن كانوا هم الغالبين
ম্যাজেসিয়ানরা হাজির হলে তারা ফেরাউনকে বললো: ‘আমরা জয়ী হলে আমাদের জন্যে পুরস্কার থাকবে তো?’
তারপর যখন জদুকররা এল তারা ফিরআউনকে বললে - - ''আমাদের জন্য কি বিশেষ পুরস্কার থাকবে যদি আমরা খোদ বিজয়ী হই?’’
فلما جاء السحرة قالوا لفرعون أئن لنا لأجرا إن كنا نحن الغالبين
ফেরাউন বললো: ‘হ্যাঁ, তাছাড়া তোমরা আমার সভাসদদের অন্তরভুক্ত হবে।’
সে বললে - - ''হাঁ, আর সেক্ষেত্রে তোমরা নিশ্চয়ই অন্তরঙ্গ হবে।’’
قال نعم وإنكم إذا لمن المقربين
মূসা তাদের বললো: ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করার নিক্ষেপ করো।’
মূসা তাদের বললেন - - ''ছোড়ো যা তোমরা ছুড়ঁতে যাচ্ছ।’’
قال لهم موسى ألقوا ما أنتم ملقون
তারা তাদের সব রশি এবং লাঠি নিক্ষেপ করলো। তারা বললো: ‘ফেরাউনের ইযযতের কসম, আমরাই জয়ী হবো।’
সুতরাং তাদের দড়িদড়া ও তাদের লাঠি - লগুড় তারা ছুড়ঁলো এবং বললে - - ''ফিরআউনের প্রভাবে আমরা তো নিজেরাই বিজয়ী হব।’’
فألقوا حبالهم وعصيهم وقالوا بعزة فرعون إنا لنحن الغالبون
অত:পর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো। সাথে সাথে সেটি কৃত্রিম সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে থাকলো।
তারপর মূসা তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, তখন দেখো! এটি গিলে ফেলল যা তারা বুনেছিল।
فألقى موسى عصاه فإذا هي تلقف ما يأفكون
তখন ম্যাজেসিয়ানরা সাজদায় আনত হয়ে পড়লো।
তখন জাদুকররা লুটিয়ে পড়ল সিজদাবনত হয়ে,
فألقي السحرة ساجدين
তারা বললো: ‘আমরা ঈমান আনলাম রাব্বুল আলামিনের প্রতি,
তারা বললে, ''আমরা ঈমান আনলাম বিশ্বজগতের প্রভুর প্রতি, - -
قالوا آمنا برب العالمين
যিনি হারূণ এবং মূসারও রব।’
''যিনি মূসা ও হারুনেরও প্রভু।’’
رب موسى وهارون
ফেরাউন বললো: ‘আমি তোমাদের অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রধান, সে - ই তোমাদের ম্যাজিক শিখিয়েছে, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে (এর পরিণতি)। আমি অবশ্যি বিপরীত দিক থেকে তোমাদের হাত পা কেটে দেবো এবং তোমাদের সবাইকে শূলবিদ্ধ করে ছাড়বো।’
সে বললে - - ''তোমরা তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে আমি তোমাদের অনুমতি দেবার আগেই? সে - ই নিশ্চয় তোমাদের গুরু যে তোমাদের জাদুবিদ্যা শিখিয়েছে। সুতরাং শীঘ্রই তোমরা টের পাবে। আমি নিশ্চয় তোমাদের হাত ও তোমাদের পা আড়াআড়ি - ভাবে কেটে ফেলবই, আর তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব।’’
قال آمنتم له قبل أن آذن لكم ۖ إنه لكبيركم الذي علمكم السحر فلسوف تعلمون ۚ لأقطعن أيديكم وأرجلكم من خلاف ولأصلبنكم أجمعين
তারা বললো: ‘‘ক্ষতি নেই, আমরা আমাদের প্রভুর কাছে ফিরে যাবো।
তারা বললে - - ''কোনো ক্ষতি নেই, নিঃসন্দেহ আমরা আমাদের প্রভুর কাছে প্রত্যাবর্তনশীল।
قالوا لا ضير ۖ إنا إلى ربنا منقلبون
আমরা আকাঙ্ক্ষা করি, আমাদের প্রভু আমাদের গুনাহ্ খাতা ক্ষমা করে দেবেন, কারণ আমরা সবার আগে হয়েছি।’’
''আমরা নিশ্চয়ই আশা করি যে আমাদের প্রভু আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেবেন, যেহেতু আমরা মুমিনদের মধ্যে অগ্রণী।’’
إنا نطمع أن يغفر لنا ربنا خطايانا أن كنا أول المؤمنين
আমরা মূসার প্রতি অহি করে নির্দেশ দিয়েছিলাম: আমার দাসদের নিয়ে রাতের বেলায় বেরিয়ে পড়ো, তোমাদের কিন্তু পিছে থেকে ধাওয়া করা হবে।
আর আমরা মূসাকে প্রত্যাদেশ দিয়েছিলাম এই বলে - - ''আমার বান্দাদের নিয়ে রাতের মধ্যে রওয়ানা হয়ে যাও, তোমাদের অবশ্য পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।’’
۞ وأوحينا إلى موسى أن أسر بعبادي إنكم متبعون
তারপর ফেরাউন শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারী পাঠিয়ে দিলো,
তখন ফিরআউন শহরে - নগরে সংগ্রাহকদের পাঠাল - -
فأرسل فرعون في المدائن حاشرين
এই বলে যে, এরা তো অল্প কিছু লোক,
''নিঃসন্দেহ তারা একটি ছোটখাট দল,
إن هؤلاء لشرذمة قليلون
এবং তারা আমাদের ক্রোধ উদ্রেককারী।
''আর নিঃসন্দেহ আমাদের জন্য তারা তো ক্রোধ উদ্রেককারী,
وإنهم لنا لغائظون
আর আমরা সবাই তো সদা সতর্ক।
''আর আমরা তো নিশ্চয় সজাগ - সশস্ত্র জনতা।’’
وإنا لجميع حاذرون
অত:পর আমরা তাদের (ফেরাউন এবং তার দলবলকে) বের করে এনেছি তাদের মনোরম উদ্যান আর ঝরণাধারাসমূহ থেকে,
কাজেই আমরা তাদের বের ক’রে আনলাম বাগানসমূহ ও ঝরনারাজি থেকে,
فأخرجناهم من جنات وعيون
ধন - ভান্ডারসমূহ এবং বিলাসবহুল প্রাসাদসমূহ থেকে।
আর ধনভান্ডার ও জমকালো বাড়িঘর থেকে, - -
وكنوز ومقام كريم
তাদের সাথে এমনটিই ঘটেছিল। অপরদিকে বনি ইসরাঈলকে আমরা সবকিছুর ওয়ারিশ বানিয়ে দিয়েছিলাম।
এইভাবেই। আর এইগুলো আমরা ইসরাইলের বংশধরদের উত্তরাধিকার করতে দিয়েছিলাম।
كذلك وأورثناها بني إسرائيل
তারা সূর্যোদয়ের সময় তাদের পেছনে এসে পড়েছিল।
তারপর তারা এদের পশ্চাদ্ধাবন করেছিল সূর্যোদয়কালে।
فأتبعوهم مشرقين
তারপর দুইদল যখন একে অপরকে দেখলো, মূসার সাথিরা বলে উঠলো: ‘নিশ্চয়ই আমরা ধরা পড়ে যাচ্ছি।’
অতঃপর যখন দুই দল পরস্পরকে দেখল তখন মূসার সঙ্গীরা বললে - - ''আমরা তো নিঃসন্দেহ ধরা পড়ে গেলাম।’’
فلما تراءى الجمعان قال أصحاب موسى إنا لمدركون
মূসা বললো: ‘না, কখনো নয়, নিশ্চয়ই আমার সাথে আমার প্রভু রয়েছেন, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।’
তিনি বললেন - - ''নিশ্চয়ই না, আমার সঙ্গে আলবৎ আমার প্রভু রয়েছেন, তিনি আমাকে অচিরেই পথ দেখাবেন।’’
قال كلا ۖ إن معي ربي سيهدين
তখন আমরা অহির মাধ্যমে মূসাকে নির্দেশ দিলাম: ‘তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করো।’ সাথে সাথে তা বিভক্ত হয়ে গেলো এবং প্রত্যেক ভাগ বড় পর্বতের মতো হয়ে গেলো।
তখন আমরা মূসার নিকট প্রত্যাদেশ দিলাম এই বলে - - ''তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত কর।’’ ফলে এটি বিভক্ত হয়ে গেল, সুতরাং প্রত্যেক দল এক - একটি বিরাট পাহাড়ের মতো হয়েছিল।
فأوحينا إلى موسى أن اضرب بعصاك البحر ۖ فانفلق فكان كل فرق كالطود العظيم
তারপর আমরা সেখানে এনে হাজির করলাম পরের দলটিকে।
আর অন্যদেরকেও আমরা নিয়ে এলাম সেই অঞ্চলে।
وأزلفنا ثم الآخرين
আমরা মূসা আর তার সাথিদের সবাইকে উদ্ধার করলাম,
আর মূসাকে ও তাঁর সঙ্গে যারা ছিল সে - সবাইকে আমরা উদ্ধার করেছিলাম।
وأنجينا موسى ومن معه أجمعين
তারপর ডুবিয়ে মারলাম পরবর্তীদের।
তারপর অন্যদেরকে আমরা ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।
ثم أغرقنا الآخرين
নিশ্চয়ই এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, তবে তাদের অধিকাংশই নয়।
নিঃসন্দেহ এতে তো একটি নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
আর তোমার প্রভু অবশ্যি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়াবান।
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
তাদের প্রতি ইবরাহিমের সংবাদ তিলাওয়াত করো।
আর তুমি তাদের কাছে ইব্রাহীমের কাহিনী বর্ণনা করো।
واتل عليهم نبأ إبراهيم
যখন সে তার বাপ ও কওমকে বলেছিল: ‘তোমরা কোন্ জিনিসের ইবাদত করছো?’
স্মরণ করো! তিনি তাঁর পিতৃপুরুষকে ও তাঁর স্বজাতিকে বললেন - - ''তোমরা কিসের উপাসনা কর?’’
إذ قال لأبيه وقومه ما تعبدون
তারা বলেছিল: ‘আমরা ভাস্কর্যদের (মূর্তি দেবতাদের) পূজা করি এবং আমরা নিষ্ঠার সাথে তাদের প্রতি নত হই।’
তারা বললে - - ''আমরা প্রতিমাদের পূজা করি, আর আমরা তাদের আরাধনায় নিষ্ঠাবান থাকব।’’
قالوا نعبد أصناما فنظل لها عاكفين
ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা দোয়া করলে তারা কি তোমাদের দোয়া শুনে?
তিনি বললেন, ''তারা কি তোমাদের শোনে যখন তোমরা ডাকো?
قال هل يسمعونكم إذ تدعون
তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?’’
''অথবা তারা কি তোমাদের উপকার করতে পারে কিংবা অপকার করতে পারে?’’
أو ينفعونكم أو يضرون
তারা বললো: ‘না, তবে আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের এভাবে করতে দেখেছি।’
তারা বললে - - ''না, আমাদের পিতৃপুরুষদের আমরা দেখতে পেয়েছি এইভাবে তারা করছে ।’’
قالوا بل وجدنا آباءنا كذلك يفعلون
ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা কিসের পূজা উপাসনা করছো তা কি ভেবে দেখছোনা?
তিনি বললেন - - ''তোমরা কি তবে ভেবে দেখেছ তোমরা কিসের উপাসনা করছ, - -
قال أفرأيتم ما كنتم تعبدون
তোমরা এবং তোমাদের অতীত বাপ দাদারা?
''তোমরা ও তোমাদের পূর্বগামী পিতৃপুরুষরা?
أنتم وآباؤكم الأقدمون
তারা সবাই আমার দুশমন, রাব্বুল আলামিন ছাড়া।
''অতএব তারা আলবৎ আমার শত্রু, কিন্ত ভূ - বিশ্বের প্রভু নন,
فإنهم عدو لي إلا رب العالمين
কারণ, তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
''যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আমাকে পথ দেখিয়েছেন,
الذي خلقني فهو يهدين
তিনি আমাকে খাওয়ান, পান করান।
''আর যিনি আমাকে আহার করান এবং পান করতে দেন,
والذي هو يطعمني ويسقين
আমি রোগগ্রস্ত হলে তিনিই আমাকে নিরাময় করে দেন।
''আর যখন আমি রোগে ভোগি তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য করেন,
وإذا مرضت فهو يشفين
তিনিই আমার মউত ঘটাবেন এবং পুনরায় হায়াত দেবেন।
''আর যিনি, আমার মৃত্যু ঘটাবেন তারপরে আমাকে পুনর্জীবন দেবেন,
والذي يميتني ثم يحيين
তাঁর ব্যাপারে আমি আশা করি, তিনি আমাকে আমার গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দেবেন প্রতিদান দিবসে।
''আর যিনি, আমি আশা করি, বিচারের দিনে আমার ভুলভ্রান্তিগুলো আমার জন্য ক্ষমা করে দেবেন।
والذي أطمع أن يغفر لي خطيئتي يوم الدين
আমার প্রভু! আমাকে প্রজ্ঞা দান করো এবং মিলিত করো সালেহ্ লোকদের সাথে।
''আমার প্রভু! আমাকে জ্ঞান দান করো, আর আমাকে সৎকর্মীদের সঙ্গে যুক্ত করো।
رب هب لي حكما وألحقني بالصالحين
পরবর্তী লোকদের মধ্যে আমার সুখ্যাতি দান করো।
''আর আমার জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সদালাপন সৃষ্টি করো।
واجعل لي لسان صدق في الآخرين
আমাকে জান্নাতুন নায়ীমের ওয়ারিশদের অন্তরভুক্ত করো।
''আর আমাকে আনন্দময় উদ্যানের ওয়ারিশানের অন্তর্ভুক্ত করো।
واجعلني من ورثة جنة النعيم
আমার বাবাকে ক্ষমা করে দাও, কারণ তিনি গোমরাহদেরই একজন।
''আর আমার পিতৃপুরুষকে পরিত্রাণ করো, কেননা সে তো পথভ্রান্তদের মধ্যেকার হয়ে গেছে।
واغفر لأبي إنه كان من الضالين
পুনরুত্থান দিবসে তুমি আমাকে অপমাণিত করোনা,
''আর আমাকে লাঞ্ছিত করো না তখন যেইদিন তাদের পুরুত্থিত করা হবে, - -
ولا تخزني يوم يبعثون
যেদিন মাল সম্পদ এবং সন্তান - সন্ততি কোনো উপকারে আসবেনা,
''যেদিন ধনসম্পদে কোনো কাজ দেবে না, সন্তানাদিতেও নয়,
يوم لا ينفع مال ولا بنون
তবে উপকার লাভ করবে সে, যে হাজির হবে শুদ্ধ শান্ত কলব নিয়ে।’’
''শুধু সে ব্যতীত যে নির্মল - নিস্পাপ অন্তর নিয়ে র কাছে আসবে।’’
إلا من أتى الله بقلب سليم
সেদিন মুত্তাকিদের কাছেই নিয়ে আসা হবে জান্নাত।
আর স্বর্গোদ্যানকে ধর্মভীরুদের জন্য সন্নিকটে আনা হবে,
وأزلفت الجنة للمتقين
আর বিভ্রান্তদের জন্যে খুলে দেয়া হবে জাহান্নাম।
আর দুযখকে খোলে দেওয়া হবে পথভ্রষ্টদের জন্য।
وبرزت الجحيم للغاوين
তাদের বলা হবে: ‘‘তারা এখন কোথায়, তোমরা যাদের ইবাদত (উপাসনা) করতে
আর তাদের বলা হবে - - ''কোথায় তারা যাদের তোমরা উপাসনা করতে - -
وقيل لهم أين ما كنتم تعبدون
আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি এখন তোমাদের সাহায্য করতে পারবে, নাকি তারা আত্মরক্ষা করতে পারবে?’’
''কে বাদ দিয়ে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করছে, না তারা নিজেদেরই সাহায্য করতে পারছে?’’
من دون الله هل ينصرونكم أو ينتصرون
তারপর তাদের এবং বিপথগামীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে মাথা নীচের দিকে দিয়ে।
সুতরাং তাদের এর মধ্যে নিক্ষেপ করা হবে - - তাদের এবং পথভ্রান্তদের,
فكبكبوا فيها هم والغاوون
এবং ইবলিস বাহিনীর সবাইকেও।
আর ইবলীসের দলবল সকলকেও।
وجنود إبليس أجمعون
তারা সেখানে তর্কাতর্কি করে বলবে:
তারা সেখানে তর্ক - বিতর্ক করতে করতে বলবে - -
قالوا وهم فيها يختصمون
আল্লাহর কসম, আমরা স্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত ছিলাম।
''র দিব্য, আমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই ছিলাম, - -
تالله إن كنا لفي ضلال مبين
যখন আমরা তোমাদেরকে রাব্বুল আলামিনের বরাবর মনে করতাম।
''যখন আমরা বিশ্বজগতের প্রভুর সঙ্গে তোমাদের এক - সমান গণ্য করেছিলাম।
إذ نسويكم برب العالمين
অপরাধীরাই আমাদের বিপথগামী করেছিল।
''আর অপরাধীরা ছাড়া অন্য কেউ আমাদের বিপথে নেয় নি।
وما أضلنا إلا المجرمون
ফলে আজ আমাদের কোনো শাফায়াতকারী নেই,
''সেজন্যে আমাদের জন্য সুপারিশকারীদের কেউ নেই,
فما لنا من شافعين
এবং কোনো প্রাণের বন্ধুও নেই।
''আর কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধুও নেই।
ولا صديق حميم
আমরা যদি একবার সুযোগ পেতাম ফিরে যাবার, তাহলে অবশ্যি হয়ে যেতাম।
''হায়! আমাদের জন্য যদি আকেরবার উপায় থাকত তাহলে আমরা মুমিনদের মধ্যেকার হতাম।’’
فلو أن لنا كرة فنكون من المؤمنين
এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
নূহের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
নূহের স্বজাতি রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
كذبت قوم نوح المرسلين
স্মরণ করো, তাদের ভাই নূহ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
দেখো! তাদের ভাই নূহ তাদের বলেছিলেন - - ''তোমরা কি ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করবে না?
إذ قال لهم أخوهم نوح ألا تتقون
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
''আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল,
إني لكم رسول أمين
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
''অতএব তোমরা কে ভয় - ভক্তি কর ও আমাকে মেনে চল।
فاتقوا الله وأطيعون
তোমাদের (সতর্ক করার) একাজ করার জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
''আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না, আমার মজুরি তো বিশ্বজগতের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’’
''অতএব তোমরা কে ভক্তি - শ্রদ্ধা কর ও আমার আজ্ঞাপালন কর।’’
فاتقوا الله وأطيعون
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো? তোমাকে অনুসরণ করে তো নিম্ন শ্রেণীর লোকেরা।’
তারা বললে - - ''আমরা কি তোমার প্রতি ঈমান আনব যখন তোমাকে অনুসরণ করছে ইতরগোষ্ঠী?’’
۞ قالوا أنؤمن لك واتبعك الأرذلون
নূহ বলেছিল: ‘‘তারা (আগে) কী করতো তা আমি জানিনা।
তিনি বললেন - - ''তারা কী করত সে সন্বন্ধে আর আমার জ্ঞান থাকবার নয়।
قال وما علمي بما كانوا يعملون
তাদের হিসাব নেয়ার দায়িত্ব তো আল্লাহর, যদি তোমরা বুঝতে!
''তাদের হিসাবপত্র আমার প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়, যদি তোমরা বুঝতে!
إن حسابهم إلا على ربي ۖ لو تشعرون
মুমিনদের আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দেয়া আমার কাজ নয়।
''আর আমি তো মুমিনদের তাড়িয়ে দেবার পাত্র নই।
وما أنا بطارد المؤمنين
আমি তো একজন স্পষ্ট সতর্ককারী ছাড়া আর কিছু নই।’’
''আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী ভিন্ন নই।’’
إن أنا إلا نذير مبين
তখন তারা বলেছিল: ‘হে নূহ! তুমি যদি এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে পাথর নিক্ষেপ করে যাদের মারা হয়েছে তুমিও তাদের অন্তরভুক্ত হবে।’
তারা বললে - - ''হে নূহ! তুমি যদি না থামো তাহলে তোমাকে অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে - নিহতদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’’
قالوا لئن لم تنته يا نوح لتكونن من المرجومين
নূহ ফরিয়াদ করে বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার কওম আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমার স্বজাতি আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
قال رب إن قومي كذبون
সুতরাং তুমি আমার ও তাদের মাঝে একটা চূড়ান্ত ফায়সালা করে দাও আর নাজাত দাও আমাকে এবং আমার সাথি মুমিনদের।’’
''অতএব আমার মধ্যে ও তাদের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত এনে মীমাংসা করে দাও, আর আমাকে ও আমার সাথে মুমিনদের যারা রয়েছে তাদের উদ্ধার করে দাও।’’
فافتح بيني وبينهم فتحا ونجني ومن معي من المؤمنين
তখন আমি তাকে এবং তার সাথিদেরকে নৌযানে বোঝাই করে রক্ষা করেছি,
সুতরাং আমরা তাঁকে ও তাঁর সাথে যারা ছিল তাদের উদ্ধার করলাম বোঝাই করা জাহাজে।
فأنجيناه ومن معه في الفلك المشحون
আর বাকি সবাইকে ডুবিয়ে দিয়েছি পানিতে।
তারপর আমরা ডুবিয়ে দিলাম পরবর্তী অবশিষ্টদের।
ثم أغرقنا بعد الباقين
নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, পরম দয়াবান।
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আদ জাতিও প্রত্যাখ্যান করেছিল রসূলদের।
আর 'আদ জাতি রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
كذبت عاد المرسلين
স্মরণ করো, তাদের ভাই হুদ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
দেখো, তাদের ভাই হূদ তাদের বলেছিলেন - - ''তোমরা কি ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করবে না?
إذ قال لهم أخوهم هود ألا تتقون
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
''আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল,
إني لكم رسول أمين
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
''অতএব তোমরা কে ভয় কর ও আমাকে মেনে চল।
فاتقوا الله وأطيعون
আমি তো তোমাদের (সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা, আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
''আর আমি এ - জন্য তোমাদের কাছে কোনো মজুরি চাই না, আমার নজুরি তো ভূ - বিশ্বের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
তোমরা কেন প্রতিটি উঁচু স্থানে অনর্থক স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করছো?
''তোমরা কি প্রত্যেক পাহাড়ে অযথা স্তম্ভ নির্মাণ করছ,
أتبنون بكل ريع آية تعبثون
তোমরা এমন সব শৈল্পিক প্রাসাদ নির্মাণ করছো যেনো তোমরা এখানে চিরস্থায়ী হবে!
''আর দুর্গ তৈরি করছ যেন তোমরা চিরস্থায়ী হবে?’’
وتتخذون مصانع لعلكم تخلدون
যখন তোমরা ক্ষমতা পাও, তখন স্বৈরাচারি ক্ষমতা প্রয়োগ করো।
''আর যখন তোমরা পাকড়াও কর তখন জবরদস্তভাবে পাকড়াও করে থাক।
وإذا بطشتم بطشتم جبارين
সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
''সুতরাং তোমরা কে ভক্তিশ্রদ্ধা কর ও আমার আজ্ঞাপালন কর।
فاتقوا الله وأطيعون
ভয় করো তাঁকে যিনি তোমাদের সব (উত্তম সামগ্রী) দিয়ে সাহায্য করেছেন যা তোমরা জানো।
''আর ভয় - ভক্তি কর তাঁকে যিনি তোমাদের মদদ করেছেন যা তোমরা শিখেছ তা দিয়ে, - -
واتقوا الذي أمدكم بما تعلمون
তিনি তোমাদের সাহায্য করেছেন পশু সম্পদ এবং সন্তান সন্ততি দিয়ে,
''আর তিনি তোমাদের সাহায্য করেছেন গবাদি - পশু ও সন্তান - সন্ততি দিয়ে,
أمدكم بأنعام وبنين
বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারা দিয়ে।
''আর বাগানসমূহ ও ফোয়ারাগুলো দিয়ে।
وجنات وعيون
আমি আশংকা করছি তোমাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় কোনো আযাব এসে পড়ার।’’
''নিঃসন্দেহ আমি আশংকা করছি তোমাদের উপরে এক মহাদিনের শাস্তির।’’
إني أخاف عليكم عذاب يوم عظيم
তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি আমাদের ওয়ায করো কিংবা না করো দুটোই সমান।
তারা বললে - - ''তুমি উপদেশ দাও অথবা উপদেশদাতাদের মধ্যে তুমি নাই - বা হও আমাদের কাছে সবই সমান।
قالوا سواء علينا أوعظت أم لم تكن من الواعظين
আগেকার লোকদের এটাই (ওয়ায করা বা উপদেশ দেয়াটাই) স্বভাব।
''এ তো সেকেলে আচরণ ছাড়া কিছুই নয়,
إن هذا إلا خلق الأولين
যাদের শাস্তি দেয়া হবে আমরা তাদের অন্তরভুক্ত নই।’’
''আর আমরা শাস্তি পাবার নই।’’
وما نحن بمعذبين
এভাবে তারা তাকে (হুদকে) প্রত্যাখ্যান করে, ফলে আমরাও তাদের হালাক (ধ্বংস) করে দেই। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
কাজেই তারা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করল, সুতরাং আমরা তাদের ধ্বংস করেছিলাম। নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।
فكذبوه فأهلكناهم ۗ إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর অতীব দয়াবান।
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
সামুদ জাতিও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
আর ছামূদ জাতি রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
كذبت ثمود المرسلين
স্মরণ করো, তাদের ভাই সালেহ্ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
দেখো, তাদের ভাই সালিহ্ তাদের বলেছিলেন - - ''তোমরা কি ধর্মভীরুতা অবলন্বন করবে না?
إذ قال لهم أخوهم صالح ألا تتقون
আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।
''আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল,
إني لكم رسول أمين
অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
''অতএব তোমরা কে ভয় - ভক্তি কর ও আমাকে মেনে চল!
فاتقوا الله وأطيعون
(তোমাদের সতর্ক করার) এ কাজের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
''আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো মজুরি চাই না, আমার মজুরি তো বিশ্বজগতের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
তোমরা এখানে যে হালে আছো, তোমাদের কি এ রকম নিরাপদ ছেড়ে দেয়া হবে?
''এখানে যা আছে তাতে কি তোমাদের নিরাপদে রেখে দেওয়া হবে, - -
أتتركون في ما هاهنا آمنين
এসব বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারার মধ্যে?
''বাগানসমূহে ও ফোয়ারাগুলোয়,
في جنات وعيون
এসব (সবুজ) শস্যক্ষেত আর সুকোমল ছড়া বিশিষ্ট খেজুরের বাগানে?
''আর শস্যক্ষেত্রে ও খেজুর - বাগানে যার ছড়িগুলো ভারী?
وزروع ونخل طلعها هضيم
তোমরা তো দক্ষতার সাথে পাহাড় কেটে আবাস নির্মাণ করছো।
''তোমরা তো পাহাড় খুদে বাড়িঘর তৈরি কর নিপুণভাবে।
وتنحتون من الجبال بيوتا فارهين
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
''সুতরাং তোমরা কে ভক্তি - শ্রদ্ধা কর ও আমার আজ্ঞাপালন কর।
فاتقوا الله وأطيعون
সীমা লঙ্ঘনকারীদের হুকুম মতো চলোনা,
''আর সীমালংঘনকারীদের নির্দেশ মেনে চল না, - -
ولا تطيعوا أمر المسرفين
যারা দেশে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়াচ্ছে এবং কোনো প্রকার সংশোধনের কাজ করছেনা।’’
''যারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে আর শান্তিস্থাপন করে না।’’
الذين يفسدون في الأرض ولا يصلحون
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।
তারা বললে - - ''তুমি তো নিঃসন্দেহ জাদুগ্রস্তদেরই একজন।
قالوا إنما أنت من المسحرين
তুমি তো আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে (তোমার রসূল হবার) কোনো প্রমাণ হাজির করো।’’
''তুমি আমাদের মতো মানুষ ছাড়া আর কিছু নও, অতএব কোনো এক নিদর্শন নিয়ে এস যদি তুমি সত্যবাদীদের মধ্যেকার হও।’’
ما أنت إلا بشر مثلنا فأت بآية إن كنت من الصادقين
তখন সে বলেছিল: ‘‘(প্রমাণ হলো) এই উটনী। কুয়ার পানি পানে এর জন্যেও পালা থাকবে, তোমাদের জন্যেও পালা থাকবে নির্দিষ্ট দিনে।
তিনি বললেন - - ''এই একটি উষ্টী, তার জন্য পানীয় থাকবে আর তোমাদের জন্যও পানীয় থাকবে নির্ধারিত সময়ে।
قال هذه ناقة لها شرب ولكم شرب يوم معلوم
এর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তোমরা একে স্পর্শও করোনা, করলে তোমাদের পাকড়াও করবে এক মহাদিবসের আযাব।’’
''আর তোমরা অনিষ্ট দিয়ে ওকে স্পর্শ করো না, পাছে এক ভয়ংকর দিনের শাস্তি তোমাদের পাকড়াও করে।’’
ولا تمسوها بسوء فيأخذكم عذاب يوم عظيم
কিন্তু তারা সেটিকে হত্যা করলো। পরিণামে তারা হলো লাঞ্ছিত।
কিন্ত তারা এটিকে হত্যা করলে, পরিণামে সকাল - সকালই তারা পরিতাপকারী হল।
فعقروها فأصبحوا نادمين
আর তাদের গ্রাস করলো আযাব। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
সেজন্য শাস্তি তাদের পাকড়াও করল। নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয় ।
فأخذهم العذاب ۗ إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
লুতের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
আর লূতের লোকদল রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
كذبت قوم لوط المرسلين
স্মরণ করো, তাদের ভাই লুত তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
দেখো! তাদের ভাই লূত তাদের বলেছিলেন - - ''তোমরা কি ধর্মভীরুতা অবলন্বন করবে না?
إذ قال لهم أخوهم لوط ألا تتقون
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
''আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল,
إني لكم رسول أمين
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
''অতএব তোমরা কে ভয়ভক্তি কর ও আমাকে মেনে চল।
فاتقوا الله وأطيعون
(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
''আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো মজুরি চাই না, আমার মজুরি তো বিশ্বজগতের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
জগতের মধ্যে তোমরাই পুরুষদের সাথে যৌনকর্ম করছো,
''তোমরা কি মানুষজাতীর মধ্যে পুরুষদের কাছেই এসে থাক,
أتأتون الذكران من العالمين
আর তোমরা বর্জন করছো তোমাদের স্ত্রীদের, যাদেরকে তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা এক চরম সীমালঙ্ঘনকারী কওম।’’
''আর পরিত্যাগ করছ তোমাদের স্ত্রীদের যাদের তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন? না, তোমরা তো সীমালংঘনকারী জাতি।’’
وتذرون ما خلق لكم ربكم من أزواجكم ۚ بل أنتم قوم عادون
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘হে লুত! তুমি যদি তোমার এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে অবশ্যি তোমাকে (এ দেশ থেকে) বের করে দেয়া হবে।’
তারা বললে - - ''হে লূত! তুমি যদি বিরত না হও তাহলে তুমি নিশ্চয়ই নির্বাসিতদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’’
قالوا لئن لم تنته يا لوط لتكونن من المخرجين
লুত বলেছিল: ‘‘আমি তোমাদের এ কাজকে অবশ্যি ঘৃণা করি।
তিনি বললেন - - ''আমি অবশ্যই তোমাদের আচরণকে ঘৃণাকারীদেরই একজন।
قال إني لعملكم من القالين
হে আমার প্রভু! আমাকে এবং আমার পরিবার পরিজনকে তাদের এ কর্মকান্ড থেকে রক্ষা করো।’’
''আমার প্রভু! তারা যা করে তা থেকে আমাকে ও আমার পরিবার পরিজনকে উদ্ধার করো।’’
رب نجني وأهلي مما يعملون
ফলে, আমরা তাকে এবং তার পরিবারের সবাইকে নাজাত দিয়েছিলাম
সুতরাং আমরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে একই সঙ্গে উদ্ধার করলাম, - -
فنجيناه وأهله أجمعين
এক বৃদ্ধাকে ছাড়া, সে হয়েছিল অবস্থানকারীদের অন্তরভুক্ত।
এক বুড়ীকে ছাড়া, যে পেছনে - পড়ে - থাকাদের মধ্যে রয়েছিল।
إلا عجوزا في الغابرين
তারপর বাকি সবাইকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
তারপর আমরা অন্যান্যদের বিধ্বংস করেছিলাম।
ثم دمرنا الآخرين
আমরা তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম এক চূড়ান্ত বর্ষণ! যাদের সতর্ক করা হয়েছিল তাদের জন্যে এ বর্ষণ ছিলো কতো যে নিকৃষ্ট!
আর তাদের উপরে আমরা বর্ষণ করেছিলাম এক বৃষ্টি, - - সুতরাং কত মন্দ এই বৃষ্টি সতককৃতদের জন্য।
وأمطرنا عليهم مطرا ۖ فساء مطر المنذرين
এর মধ্যেও রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
তোমার প্রভু, নিশ্চিতই তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আইকাবাসীরাও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
আইকার অধিবাসীরা রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
كذب أصحاب الأيكة المرسلين
স্মরণ করো, শুয়াইব তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
দেখো, শোআইব তাদের বলেছিলেন - - ''তোমরা কি ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করবে না?
إذ قال لهم شعيب ألا تتقون
আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।
''আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল,
إني لكم رسول أمين
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
''অতএব তোমরা কে ভয়ভক্তি কর ও আমাকে মেনে চল।
فاتقوا الله وأطيعون
(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের উপর।
''আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না, আমার পারিশ্রমিক তো বিশ্বজগতের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
মাপ পূর্ণ করে দেবে। যারা মাপে কম দেয় তোমরা তাদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।
''মাপে পুরোমাত্রায় দেবে, আর তোমরা মাপে - কম - করা লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
۞ أوفوا الكيل ولا تكونوا من المخسرين
ওজন দেবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়।
''সঠিক পাল্লায় ওজন করো।
وزنوا بالقسطاس المستقيم
মানুষকে তাদের জিনিসপত্র কম দিওনা এবং দেশে ফাসাদ সৃষ্টিকারী হয়োনা।
''আর লোকজনের ক্ষতিসাধন করো না তাদের বিষয়বস্তু সন্বন্ধে, আর দুনিয়াতে বিপর্যয় ঘটিয়ো না অনিষ্টাচরণ ক’রে।
ولا تبخسوا الناس أشياءهم ولا تعثوا في الأرض مفسدين
সেই মহান সত্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের আগে যারা বিগত হয়েছে তাদেরও সৃষ্টি করেছেন।’’
''আর ভয় - ভক্তি করো তাঁকে যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং পূর্ববর্তী লোকদেরও।’’
واتقوا الذي خلقكم والجبلة الأولين
তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।
তারা বললে - - ''তুমি তো আলবৎ জাদুগ্রস্তদের মধ্যেকার,’’
قالوا إنما أنت من المسحرين
তুমি তো আমাদেরই মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। আমরা তো মনে করি তুমি মিথ্যাবাদীদেরই একজন।
''আর তুমি আমাদের ন্যায় একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই নও, আর আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদীদের একজন বলেই তো গণনা করি।
وما أنت إلا بشر مثلنا وإن نظنك لمن الكاذبين
তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আকাশ ভেঙ্গে তার একটি খন্ড আমাদের উপর ফেলো।’’
''অতএব আকাশের একটি টুকরো আমাদের উপরে ফেলে দাও, যদি তুমি সত্যবাদীদের মধ্যেকার হও।’’
فأسقط علينا كسفا من السماء إن كنت من الصادقين
তখন সে বলেছিল: ‘তোমরা যা করছো আমার প্রভু তা ভালোভাবেই জানেন।’
তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু ভাল জানেন কী তোমরা কর।’’
قال ربي أعلم بما تعملون
এভাবে তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব তাদের গ্রাস করে নেয়। সেটা ছিলো এক ভয়াবহ দিনের আযাব।
কিন্ত তারা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করল, সেজন্যে এক অন্ধকার দিনের শাস্তি তাদের পাকড়াও করল। নিঃসন্দেহ এটি ছিল এক ভীষণ দিনে শাস্তি।
فكذبوه فأخذهم عذاب يوم الظلة ۚ إنه كان عذاب يوم عظيم
নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
নিশ্চয়ই এ কুরআন রাব্বুল আলামিনের নাযিলকৃত।
আর নিঃসন্দেহ এটি নিশ্চয়ই বিশ্বজগতের প্রভুর তরফ থেকে এক অবতারণ।
وإنه لتنزيل رب العالمين
এটি নিয়ে নাযিল হয়েছে রুহুল আমিন (জিবরিল)
রুহুল আমীন এটি নিয়ে অবতরণ করেছেন - -
نزل به الروح الأمين
তোমার হৃদয়ে, যাতে করে তুমি হতে পারো একজন সতর্ককারী।
তোমার হৃদয়ের উপরে, যেন তুমি সতর্ককারীদের অন্যতম হতে পার, - -
على قلبك لتكون من المنذرين
(সেটি নাযিল করা হয়েছে) সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।
সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
بلسان عربي مبين
আগের কিতাবগুলোতেও এর উল্লেখ আছে।
আর নিঃসন্দেহ এটি পূর্ববর্তীদের ধর্মগ্রন্থে রয়েছে ।
وإنه لفي زبر الأولين
এটা কি তাদের জন্যে একটা নিদর্শন নয় যে, এ বিষয়ে অবগত রয়েছে বনি ইসরাঈলের আলেমরা?
একি তাদের জন্য একটি নিদর্শন নয় যে ইসরাইলের বংশধরদের পন্ডিতগণ এটি জানে?
أولم يكن لهم آية أن يعلمه علماء بني إسرائيل
আমরা যদি এ (কুরআন) নাযিল করতাম কোনো অনারবের উপর,
আর আমরা যদি এটি অবতারণ করতাম কোনো ভিন্ন দেশীয়ের কাছে,
ولو نزلناه على بعض الأعجمين
আর সে যদি এটি তাদের কাছে পাঠ করতো, তবে তারা এর প্রতি ঈমান আনতোনা।
আর সে এটি তাদের কাছে পাঠ করত, তাহলে তারা তাতে বিশ্বাসভাজন হতো না।
فقرأه عليهم ما كانوا به مؤمنين
এভাবেই আমরা অপরাধীদের অন্তরে (অবিশ্বাস) সঞ্চার করে দিয়েছি।
এইভাবেই আমরা এটিকে প্রবেশ করিয়েছি অপরাধীদের অন্তরে।
كذلك سلكناه في قلوب المجرمين
তারা ঈমান আনবেনা যতোদিন না সচোক্ষে দেখতে পায় বেদনাদায়ক আযাব।
তারা এতে বিশ্বাস করবে না যে পর্যন্ত না তারা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।
لا يؤمنون به حتى يروا العذاب الأليم
হ্যাঁ, সেটা এসে পড়বে আকস্মিক এবং তারা টেরই পাবেনা।
সুতরাং এ তাদের কাছে আসবে আকস্মিকভাবে, আর তারা টের পাবে না।
فيأتيهم بغتة وهم لا يشعرون
তখন তারা বলবে: ‘আমাদের কি অবকাশ দেয়া হবে?’
তখন তারা বলবে - - ''আমরা কি অবকাশ প্রাপ্ত হব?’’
فيقولوا هل نحن منظرون
তারা কি দ্রুত আগমন চায় আমাদের আযাবের?
কী, তারা কি এখনও আমাদের শাস্তি সন্বন্ধে তাড়াতাড়ি করতে চায়?
أفبعذابنا يستعجلون
তুমি কি দেখোনি, আমরা তো অনেক বছর তাদের ভোগ বিলাস করতে দিয়েছি।
তুমি কি তবে লক্ষ্য করেছ - - যদি আমরা তাদের বহু বছর ভোগ - বিলাস করতে দিই।
أفرأيت إن متعناهم سنين
তার পরেই এসেছিল সেই জিনিস (তাদের ধ্বংস) যার ওয়াদা তাদের দেয়া হয়েছিল।
তারপর তাদের কাছে এসে পড়ে যা তাদের ওয়াদা করা হয়েছিল - -
ثم جاءهم ما كانوا يوعدون
তাদের ভোগ বিলাসের উপকরণসমূহ তাদের কোনো কাজেই আসেনি।
তবু যা তাদের উপভোগ করতে দেওয়া হয়েছিল তা তাদের কোনো কাজে আসবে না?
ما أغنى عنهم ما كانوا يمتعون
আমরা এমন কোনো জনপদ হালাক করিনি যার জন্যে সতর্ককারীরা ছিলনা।
আর আমরা কোনো জনপদ ধ্বংস করি নি যার সতর্ককারী ছিল না।
وما أهلكنا من قرية إلا لها منذرون
এটি একটি উপদেশ। (তাদের ব্যাপারে) আমরা অন্যায় আচরণ করিনি।
স্মারকগ্রন্থ, আর আমরা কখনও অন্যায়কারী নই।
ذكرى وما كنا ظالمين
এ কুরআন নিয়ে শয়তানরা নাযিল হয়নি।
আর শয়তানরা এ নিয়ে অবতরণ করে নি,
وما تنزلت به الشياطين
এ কাজের তারা যোগ্যও নয় এবং এ কাজের সামর্থও তাদের নেই।
আর তাদের পক্ষে এ সমীচীন নয়, আর তারা সামর্থ্যও রাখে না।
وما ينبغي لهم وما يستطيعون
তাদেরকে তো এটা শোনার সুযোগ থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
নিঃসন্দেহ শুনবার ক্ষেত্রে তারা তো অপারগ।
إنهم عن السمع لمعزولون
সুতরাং তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ্ ডেকোনা, ডাকলে দন্ডপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বে।
সুতরাং তুমি র সাথে অন্য উপাস্যকে ডেকো না, পাছে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যেকার হয়ে যাও।
فلا تدع مع الله إلها آخر فتكون من المعذبين
তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করো।
আর তোমার নিকটতম আত্মীয়দের সাবধান করে দাও,
وأنذر عشيرتك الأقربين
আর যারা তোমার অনুসরণ করে সেসব মুমিনদের প্রতি তুমি স্নেহ - মমতার ডানা অবনমিত করো।
আর তোমার ডানা আনত করো মুমিনদের যারা তোমাকে অনুসরণ করে তাদের প্রতি।
واخفض جناحك لمن اتبعك من المؤمنين
তারা যদি তোমার অবাধ্য হয়, তবে তুমি বলো: ‘তোমাদের কর্মকান্ড থেকে আমি দায়মুক্ত।’
কিন্ত তারা যদি তোমার অবাধ্যতা করে তবে বলো - - ''আমি আলবৎ দায়মুক্ত তোমরা যা কর সে সন্বন্ধে।’’
فإن عصوك فقل إني بريء مما تعملون
মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবানের উপর তাওয়াক্কুল করো,
আর তুমি নির্ভর কর মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতার উপরে, - -
وتوكل على العزيز الرحيم
যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দাঁড়াও (সালাতে)।
যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দাঁড়াও,
الذي يراك حين تقوم
তাছাড়া সাজদাকারীদের সাথে তোমার উঠাবসাও তিনি দেখেন।
এবং সিজদাকারীদের সঙ্গে তোমার উঠা - বসা করতে।
وتقلبك في الساجدين
তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
নিঃসন্দেহ তিনি - - তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।
إنه هو السميع العليم
(হে মানুষ!) তোমাদের সংবাদ দেবো কি, শয়তানরা কার ঘাড়ে সওয়ার হয়?
আমি কি তোমাদের জানাব কাদের উপরে শয়তানরা অবতরণ করে?
هل أنبئكم على من تنزل الشياطين
তারা তো সওয়ার হয় প্রত্যেক কট্টর মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের ঘাড়ে।
তারা অবতরণ করে প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর উপরে,
تنزل على كل أفاك أثيم
তারা কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
তারা কান পাতে, আর তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
يلقون السمع وأكثرهم كاذبون
কবিদের অনুসরণ করে তো বিভ্রান্তরাই।
আর কবিগণ, - - তাদের অনুসরণ করে ভ্রান্তপথগামীরা।
والشعراء يتبعهم الغاوون
তুমি দেখোনা তারা উদ্ভ্রান্তের মতো প্রত্যেক উপত্যকায়ই ঘুমিয়ে পড়ে?
তুমি কি দেখ না যে তারা নিঃসন্দেহ প্রত্যেক উপত্যকায় লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়,
ألم تر أنهم في كل واد يهيمون
আর তারা তাই বলে, যা তারা করেনা।
আর তারা নিশ্চয়ই তাই বলে যা তারা করে না? - -
وأنهم يقولون ما لا يفعلون
তবে তারা নয়, যারা ঈমান আনে, আমলে সালেহ্ করে, আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে এবং অত্যাচারিত হবার পরই প্রতিশোধ গ্রহণ করে। যারা যুলুম করে তারা শীঘ্রি জানতে পারবে কোন্ ফিরে যাবার জায়গায় তারা ফিরে যাবে?
তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, এবং কে খুব ক’রে স্মরণ করে, আর অত্যাচারিত হবার পরে প্রতিরক্ষা করে। আর যারা অন্যায় করে তারা অচিরেই জানতে পারবে কোন বিপর্যয়ের মধ্যে তারা প্রত্যাবর্তন করছে।
إلا الذين آمنوا وعملوا الصالحات وذكروا الله كثيرا وانتصروا من بعد ما ظلموا ۗ وسيعلم الذين ظلموا أي منقلب ينقلبون