Kitab

সূরা ৪১ হা মিম আস্ সাজদা/ফুসসিলাত

Chapter 41, 54 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • জহুরুল হক
  • বাংলা উচ্চারণ
About this chapter

মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৫৪, রুকু সংখ্যা: ০৬

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-০৮মুশরিকরা কিতাবের দাওয়াত শুনেনা, তাই তাদের জন্য ধ্বংস। ০৯-১৮মানুষ কি করে কুফুরি করে সেই আল্লাহর প্রতি, যিনি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। নবীর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করলে আদ ও সামুদ জাতির মতো পরিণতি হবে। ১৯-২৫হাশরের দিন আল্লাহর দুশমনদের বিরুদ্ধে তাদের কান, চোখ ও চর্ম সাক্ষ্য দিবে। ২৬-২৯কাফিররা জনগণকে কুরআন শুনতে নিষেধ করে। তারা যাদেরকে পথভ্রষ্ট করে, বিচারের দিন তারা তাদেরকে পদদলিত করতে চাইবে। ৩০-৪৪যারা এক আল্লাহকে প্রভু মেনে নেয় তাদের শুভ পরিণতি। দাওয়াত দানের সর্বোত্তম পদ্ধতি। চন্দ্র সূর্য মানুষের মতোই আল্লাহর সৃষ্টি, উপাস্য নয়। কুরআন আল্লাহর কিতাব তাতে কোনো ভ্রান্তি নেই। কুরআন মুমিনদের জন্য দিশারি এবং নিরাময়। ৪৫-৫৪মূসার কিতাব নিয়েও মতভেদ করা হয়েছে। ভালো কাজ ব্যক্তির কল্যাণ এবং মন্দ কাজ অকল্যাণ করবে। মানুষ সুখে থাকলে আল্লাহকে ভুলে যায়, বিপদে পড়লে আল্লাহকে ডাকে। অচিরেই আল্লাহ্ মহাবিশ্বে এবং মানুষের নিজের মধ্যে নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করবেন। তখন মানুষ কুরআনকে সত্য বলে মেনে নিবে।
আবদুস শহীদ নাসিম

হা মিম!

জহুরুল হক

হা মীম!

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম হা-মী-ম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

রহমানুর রহিমের পক্ষ থেকে নাযিল হচ্ছে (এই কিতাব)।

জহুরুল হক

পরম করুণাময় অফুরন্ত ফলদাতার কাছ থেকে এ এক অবতারণ - -

বাংলা উচ্চারণ

তান্যী লুম্ মির্না রহমা-নির রহীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি এমন একটি কিতাব, যার আয়াতসমূহ বিশদ বিবরণ সম্বলিত। এটি আরবি ভাষায় (অবতীর্ণ) কুরআন, যেসব লোক এলেম চর্চা করে তাদের জন্যে।

জহুরুল হক

একটি গ্রন্থ যার আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃত, আরবী কুরআন সেই লোকদের জন্য যারা জানে - -

বাংলা উচ্চারণ

কিতাবুন্ ফুছ্ছিলাত্ আ-ইয়া-তুহূ কর্আ-নান্ 'আরবিয়্যাল্ লিক্বওমিইঁ ইয়া'লামূ ন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি সুসংবাদবাহী ও সতর্ককারী (কিতাব)। কিন্তু অধিকাংশ লোক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, ফলে তারা আর শুনবে না।

জহুরুল হক

সুসংবাদবাহক ও সতর্ককারী; কিন্ত তাদের অনেকেই সরে যায়, কাজেই তারা শোনে না।

বাংলা উচ্চারণ

বাশীরাঁও অ নাযীরান্ ফা'আরদ্বোয়া আক্ছারুহুম্ ফাহুম্ লা-ইয়াস্ মা'ঊন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘তুমি যেদিকে আমাদের ডাকছো, সে বিষয়ে আমাদের অন্তর আচ্ছাদিত, আমাদের কানে তুলা, আর আমাদের ও তোমার মাঝে রয়েছে একটি হিজাব (অন্তরাল)। সুতরাং তুমি তোমার কাজ করো, আমরা আমাদের কাজ করি।’

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - ''তুমি যার প্রতি আমাদের ডাকছ তা থেকে আমাদের হৃদয় ঢাকনির ভেতরে রয়েছে, আর আমাদের কানে রয়েছে বধিরতা, আর আমাদের মধ্যে ও তোমার মধ্যে রয়েছে একটি পর্দা কাজ করে যাও, আমরাও অবশ্য কাজ করে চলেছি।’’

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লূ কুলূবুনা ফী য় আকিন্নাতিম্ মিম্মা-তাদ্ঊ'না য় ইলাইহি অফী য় আ-যা-নিনা অকরুঁও অ মিম্ বাইনিনা-অ বাইনিকা হিজ্বা-বুন্ ফা'মাল্ ইন্নানা- 'আ-মিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি বলো: ‘আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ। আমার প্রতি অহি করা হয়েছে যে, তোমাদের ইলাহ্ (আল্লাহ্ই) একমাত্র ইলাহ্। তোমরা মজবুতভাবে তাঁর পথ অবলম্বন করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। আর সেইসব মুশরিকদের জন্যে রয়েছে দুঃখ - দুর্ভোগ,

জহুরুল হক

বলো, ''আমি তো তোমাদের মতো একজন মানুষ মাত্র, আমার কাছে প্রত্যাদেশ হয়েছে যে তোমাদের উপাস্য নিশ্চয়ই একক উপাস্য, সুতরাং তাঁর দিকে সোজাসুজি পথ ধরো, আর তাঁরই কাছে পরিত্রাণ খোঁজো।’’ আর ধিক্ বহুখোদাবাদীদের প্রতি - -

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইন্নামা য় আনা বাশারুম্ মিছ্লুকুম্ ইয়ূহা য় ইলাইয়া আন্নামা য় ইলা-হুকুম্ ইলা-হুঁও ওযা- হিদুন্ ফাস্তাক্বীমূ য় ইলাইহি অস্তাগ্ফিরূহ্ অ ওয়াইলু ল্লিল্ মুশ্রিকীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা যাকাত প্রদান করে না এবং তারা আখিরাতের প্রতি অবিশ্বাসী।

জহুরুল হক

যারা যাকাত প্রদান করে না, আর আখেরাত সম্পর্কে তারা স্বয়ং অবিশ্বাসী।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা লা-ইয়ুতূনায্ যাকা-তা অহুম্ বিল্ আ-খিরতি হুম্ কা-ফিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তাদের জন্যে রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।

জহুরুল হক

পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে তাদের জন্য রয়েছে বাধাহীন প্রতিদান।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্ লাযীনা আ-মানূ অ 'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি লাহুম্ আজরুন্ গইরু মাম্নূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: তোমরা কি সেই মহান সত্তার সাথে কুফুরি করবে, যিনি এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে (দুটি কালে) এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ সাব্যস্ত করবে? তিনি তো রাব্বুল আলামিন (মহাজগতের প্রভু)।

জহুরুল হক

বলো - - ''তোমরা কি ঠিকঠিকই তাঁকে অস্বীকার করছ যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে, আর তোমরা কি তাঁর সঙ্গে সমকক্ষ দাঁড় করাও? এমনজনই হচ্ছেন বিশ্বজগতের প্রভু।’’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ আয়িন্নাকুম্ লাতাক্ফুরূনা বিল্লাযী খলাক্বল্ র্আদ্বোয়া ফী ইয়াওমাইনি অতাজ'আলূনা লাহূ য় আন্দা-দা যা- লিকা রব্বুল্ 'আ-লামীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তিনি ভূ - পৃষ্ঠে স্থাপন করেছেন অটল পাহাড় পর্বত। তাতে (ভূ - পৃষ্ঠে) রেখেছেন প্রভূত বরকত। চারটি কালে তাতে ব্যবস্থা করেছেন তার সামর্থ (উৎপাদিত জীবিকা) প্রার্থনাকারীদের জন্যে তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

জহুরুল হক

আর তার মধ্যে তার বহির্ভাগে তিনি স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, আর তাতে তিনি অনুগ্রহ অর্পণ করেছেন, আর তাতে তিনি ব্যবস্থা করেছেন এর খাদ্যসামগ্রী - - চার দিনে। অনুসন্ধানকারীদের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।

বাংলা উচ্চারণ

অ জ্বা'আলা ফীহা-রাওয়া- সিয়া মিন্ ফাওক্বিহা- অ বা-রকা ফীহা-অক্বদ্দারা ফীহা য় আকঅ ওয়া- তাহা-ফী য় র্আবা'আতি আইয়্যা-ম্ সাওয়া-য়াল্ লিস্সা-য়িলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তিনি মনোনিবেশ করেন আকাশের দিকে। তখন তা ছিলো ধুম্রপুঞ্জ। তারপর তিনি আকাশ ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা অস্তিত্ব ধারণ করো ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায়। তারা বললো: ‘আমরা নত শিরে অস্তিত্ব ধারণ করলাম।’

জহুরুল হক

তারপর তিনি ফিরলেন আকাশের দিকে আর সেটি ছিল এক ধূম্রজাল। অনন্তর তিনি এটিকে ও পৃথিবীকে বললেন - - ''তোমরা উভয়ে এসো স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়।’’ তারা বললে - - ''আমরা আসছি অনুগত হয়ে।’’

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মাস্ তাওয়া য় ইলাস্ সামা-য়ি অহিয়া দুখা-নুন্ ফাক্ব-লা লাহা-অলিল্ র্আদ্বি তিইয়া- ত্বোয়াও'আন্ আও র্কাহা- ক্ব-লাতা য় আতাইনা- ত্বোয়া-য়ি'ঈন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তিনি দুটি কালে আকাশকে সপ্তাকাশে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক আকাশকে তার বিধান অহি করে দিলেন। দুনিয়ার (কাছের) আকাশকে সুশোভিত করলেন প্রদীপমালা দিয়ে এবং হিফাযতের উদ্দেশ্যে। এ হচ্ছে মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞানীর ব্যবস্থাপনা।

জহুরুল হক

তারপর তিনি তাদের সম্পূর্ণ করলেন সাত আসমানে, দুই দিনে, আর প্রত্যেক আকাশে তিনি আদেশ করেছেন তার করণীয়। আর আমরা নিকটবর্তী আকাশকে শোভিত করেছি প্রদীপমালা দিয়ে, আর সুরক্ষিত অবস্থায়। এটিই মহাশক্তিশালী সর্বজ্ঞাতার বিধান।

বাংলা উচ্চারণ

ফাক্বাদ্বোয়া-হুন্না সাব্'আ সামা-ওয়া-তিন্ ফী ইওয়ামাইনি অআওহা-ফী কুল্লি সামা-য়িন্ আম্রহা- অযাইয়্যান্নাস্ সামা-য়াদ্ দুন্ইয়া-বিমাছোয়া-বীহা অহিফ্জোয়া- যা- লিকা তাক্দীরুল্ 'আযীযিল্ 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের বলো: ‘আমি তোমাদের সতর্ক করছি এক ধ্বংসকর শাস্তির, আদ ও সামুদ জাতির শাস্তির অনুরূপ শাস্তির।’

জহুরুল হক

এর পরেও তারা যদি ফিরে যায় তাহলে তুমি বলো - - ''আমি তোমাদের হুশিয়াঁর করে দিচ্ছি 'আদ ও ছামূদের বজ্রাঘাতের ন্যায় এক বজ্রাঘাত সন্বন্ধে।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফাইন্ আ'রাদু ফাকুল্ আর্ন্যাতুকুম্ ছোয়া-'ইক্বতাম্ মিছ্লা ছোয়া-'ইক্বতি 'আ-দিঁও অছামূদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের আগে পিছে রসূলরা এসেছিল এবং তাদের বলেছিল: ‘তোমরা ছাড়া আর কারো দাসত্ব করোনা।’ তখন তারা বলেছিল: ‘আমাদের প্রভু চাইলে তো ফেরেশতাই পাঠাতেন। সুতরাং তোমরা যা নিয়ে এসেছো, আমরা সেটার প্রতি কুফুরি করছি।’

জহুরুল হক

স্মরণ করো! রসূলগণ তাদের কাছে এসেছিলেন তাদের সামনে থেকে ও তাদের পেছন থেকে এই বলে - - '' ব্যতীত কারো উপাসনা করো না।’’ তারা বলেছিল - - ''আমাদের প্রভু যদি ইচ্ছা করতেন তাহলে তিনি নিশ্চয়ই ফিরিশ্‌তাদের পাঠাতে পারতেন, সেজন্য তোমাদের যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা আলবৎ তাতে অবিশ্বাসী।’’

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ জ্বা-য়াত্হুর্মু রুসুলূ মিম্ বাইনি আইদীহিম্ অমিন্ খল্ফিহিম্ আল্লা তা'বুদূ য় ইল্লাল্লা-হ্ ক্ব-লূ লাও শা-য়া রব্বুনা-লাআন্যালা মালা-য়িকাতান্ ফাইন্না বিমা য় র্উসিল্তুম্ বিহী কা-ফিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আদ জাতি অন্যায়ভাবে দেশে দম্ভ করেছিল। তারা বলেছিল: ‘আমাদের চেয়ে শক্তিমান আর কে আছে?’ তবে কি তারা ভেবে দেখেনি যে, তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তাদের চেয়ে অধিক শক্তিমান। আসলে তারা আমাদের আয়াতকেই অস্বীকার করতো।

জহুরুল হক

বস্তুতঃ 'আদ - এর ক্ষেত্রে - - তারা তখন পৃথিবীতে যুক্তি ব্যতিরেকে অহঙ্কার করত, আর বলত - - ''আমাদের চেয়ে বলবিক্রমে বেশী শক্তিশালী কে আছে?’’ তারা কি তবে দেখতে পায় নি যে, যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের চেয়ে বলবিক্রমে অধিক বলীয়ান? আর তারা আমাদের নির্দেশাবলী সন্বন্ধে বাদ - প্রতিবাদ করত।

বাংলা উচ্চারণ

ফাআম্মা- 'আদুন্ ফাস্তাক্বারূ ফিল্ র্আদ্বি বিগইরিল্ হাকক্বি অক্ব-লূ মান্ আশাদ্দু মিন্না-কুওয়্যাহ্ আওয়ালাম্ ইয়ারাও আন্নাল্লা-হাল্ লাযী খলাক্বহুম্ হুওয়া আশাদ্দু মিন্হুম্ কুওয়্যাহ্ অকা-নূ বিআ-ইয়া-তিনা- ইয়াজহাদূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে আমরা তাদের প্রতি পাঠিয়েছিলাম প্রচন্ড ঝড়বায়ু এক অশুভ দিনে, তাদেরকে দুনিয়ার জীবনের লাঞ্ছনাকর আযাবের স্বাদ আস্বাদন করাতে। তাছাড়া আখিরাতের আযাব তো এর চাইতেও অপমানকর এবং তাদেরকে সাহায্য করা হবেনা।

জহুরুল হক

সেজন্য আমরা তাদের উপরে পাঠিয়েছিলাম এক ভয়ংকর ঝড়তুফান অশুভ দিনে, যেন আমরা পার্থিব জীবনেই তাদের আস্বাদন করাতে পারি লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। আর আখেরাতের শাস্তি নিশ্চয়ই আরো বেশী লাঞ্ছনাদায়ক, আর তাদের সাহায্য করা হবে না।

বাংলা উচ্চারণ

ফার্আসাল্না- 'আলাইহিম্ রীহান্ ছোর্য়া ছোয়ারান্ ফী য় আইয়্যা- মিন্ নাহিসাতিল্ লিনুযীক্বহুম্ 'আযা-বাল্ খিয্ইয়ি ফীল্হাইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া- অ লা'আযা-বুল্ আ-খিরতি আখ্যা-অহুম্ লা-ইয়ুন্ছোয়ারূন্

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সামুদ জাতির ঘটনা হলো, আমরা তাদের সঠিক পথ দেখিয়েছিলাম। কিন্তু তারা হিদায়াতের উপর অন্ধতাকে অগ্রাধিকার প্রদান করে। ফলে তাদেরকে আঘাত হানে লাঞ্ছনাকর আযাবের এক বজ্রধ্বনি তাদের কর্মকান্ডের ফলে।

জহুরুল হক

আর ছামূদের ক্ষেত্রে - - আমরা তো তাদের পথ দেখিয়েছিলাম কিন্ত তারা পথ দেখার পরিবর্তে অন্ধত্ব ভালবেসেছিল, কাজেই তারা যা অর্জন করেছিল সেজন্য এক লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির বজ্রাঘাত তাদের পাকড়াও করেছিল।

বাংলা উচ্চারণ

অ আম্মা-ছামূদু ফাহাদাইনা-হুম্ ফাস্তাহাব্বুল্ 'আমা-'আলাল্ হুদা-ফাআখাযাত্হুম্ ছোয়া-'ইক্বতুল্ 'আযা-বিল্ হূনি বিমা-কা-নূ ইয়াক্সিবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা রক্ষা করেছিলাম তাদেরকে, যারা ঈমান এনেছিল এবং অবলম্বন করেছিল তাকওয়া।

জহুরুল হক

আর আমরা উদ্ধার করেছিলাম তাদের যারা বিশ্বাস করেছিল এবং ভয়ভক্তি পোষণ করত।

বাংলা উচ্চারণ

অ নাজ্জ্বাইনাল্ লাযীনা আ-মানূ অকা-নূ ইয়াত্তাকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন আল্লাহর দুশমনদের জাহান্নামের দিকে হাশর (সমবেত) করা হবে, সেদিন তাদের বিন্যাস করা হবে বিভিন্ন দলে।

জহুরুল হক

আর সেই দিন যখন ‌র শত্রুদের সমবেত করা হবে আগুনের দিকে, ফলে ওদের দল বাঁধা হবে, - -

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়াওমা ইয়ুহ্শারু আ-দা-য়ু ল্লা- হি ইলান্নারি ফাহুম্ ইয়ূযা'ঊন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর যখন তারা জাহান্নামের কাছে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চোখ এবং চামড়া তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে বলে দেবে, (পৃথিবীতে) তারা কী কী করেছিল?

জহুরুল হক

পরিশেষে যখন তারা এর কাছে আসবে তখন তাদের কান ও তাদের চোখ ও তাদের ছাল - চামড়া তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তারা যা করত সে - সন্বন্ধে।

বাংলা উচ্চারণ

হাত্তা য় ইযা -মা-জ্বা-য়ূহা-শাহিদা 'আলাইহিম্ সাম্'উহুম্ অআব্ছোয়া-রুহুম্ অ জুলূদুহুম্ বিমা-কা-নূ ইয়া'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তাদের চামড়াকে বলবে: ‘তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে?’ তারা বলবে: ‘আল্লাহ্ই আমাদের বাকশক্তি দিয়েছেন, যিনি সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদের ফেরত নেয়া হবে।’

জহুরুল হক

আর তারা নিজেদের ছাল - চামড়াকে বলবে - - ''তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে?’’ তারা বলবে - - যিনি সব - কিছুকে কথা বলান, তিনিই আমাদের কথা বলিয়েছেন।’’ আর তিনি তোমাদের প্রথমবারে সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।

বাংলা উচ্চারণ

অ ক্ব-লূ লিজুলূদিহিম্ লিমা-শাহিত্তুম্ 'আলাইনা- ক্ব-লূ য় আন্ত্বোয়াক্বনা ল্লা- হুল্ লাযী য় আন্ত্বোয়াক্ব কুল্লা শাইয়িঁও অহুওয়া খলাক্বকুম্ আওয়্যালা র্মারতিঁও অইলাইহি র্তুজ্বা'ঊন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যা কিছু গোপন করেছো এ জন্যে করেছো যে, তোমরা মনে করতে তোমাদের কান, চোখ এবং চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেনা। বরং তোমাদের ধারণা ছিলো, তোমরা যা করো তার অনেক কিছুই জানেন না।

জহুরুল হক

আর তোমাদের কান তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবার ব্যাপারে তোমরা কিছুই গোপন রাখতে না, আর তোমাদের চোখের থেকেও নয়, আর তোমাদের ছাল - চামড়া থেকেও নয়, উপরন্তু তোমরা মনে করতে যে তোমরা যা করেছিলে তার অধিকাংশই জানেন না।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-কুন্তুম্ তাস্তাতিরূনা আইঁ ইয়াশ্হাদা 'আলাইকুম্ সাম্উ'কুম্ অলা য় আব্ছোয়া-রুকুম্ অলা- জুলূদুকুম্ অলা- কিন্ জোয়ানান্তুম্ আন্না ল্লা-হা লা-ইয়া'লামু কাছীরাম্ মিম্মা-তা'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের প্রভু সম্পর্কে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদের ডুবিয়েছে, ফলে তোমরা হয়েছো চরম ক্ষতিগ্রস্ত।

জহুরুল হক

আর তোমাদের এমনতর ভাবনাটাই যা তোমরা ভাবতে তোমাদের প্রভু সন্বন্ধে তা - ই তোমাদের ধ্বংস করেছে, ফলে সকালসকালই তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছ।

বাংলা উচ্চারণ

অ যা-লিকুম্ জোয়ান্নু কুমুল্লাযী জোয়ানান্তুম্ বিরব্বিকুম্ র্আদা-কুম্ ফাআছ্বাহ্তুম্ মিনাল্ খ-সিরীন্

আবদুস শহীদ নাসিম

এখন তারা ধৈর্য ধারণ করলেও তাদের আবাস হবে জাহান্নাম, আর তারা অনুগ্রহ চাইলেও তাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হবেনা।

জহুরুল হক

কাজেই তারা যদি অধ্যবসায় করে তাহলে আগুনই হবে তাদের অবস্থানস্থল, আর যদি তারা সদয়তা চায় তাহলে তারা নুগ্রহপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইঁ ইয়াছ্বিরু ফান্না-রু মাছ্ওয়াল্ লাহুম্ অইঁ ইয়াস্তা'তিবূ ফামা-হুম্ মিনাল্ মু'তাবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের জন্যে নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম অনেক বন্ধু ও সাথি, যারা তাদের সামনের পেছনের সবকিছু তাদেরকে শোভনীয় করে দেখিয়েছিল। ফলে তাদের উপর (শাস্তির) বাণী সত্য সাব্যস্ত হয়, যেমনটি হয়েছিল তাদের আগেকার জিন ও মানুষদের জন্যে। শেষ পর্যন্ত তারা হয়েছে চরম ক্ষতিগ্রস্ত।

জহুরুল হক

আর আমরা তাদের জন্য সঙ্গী বানিয়েছিলাম, তাই তাদের জন্য তারা চিত্তাকর্ষক করেছিল যা তাদের সম্মুখে ছিল আর যা তাদের পশ্চাতে ছিল, আর তাদের বিরুদ্ধে বাণী সত্য প্রতিপন্ন হয়েছে, - - জিনদের ও মানুষদের মধ্যের যারা তাদের পূর্বে গত হয়ে গেছে সেই সম্প্রদায়ের মধ্যে, নিঃসন্দেহ তারা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত।

বাংলা উচ্চারণ

অ ক্বইইয়াদ্ব্না-লাহুম্ কুরনা-য়া ফাযাইয়ানূ লাহুম্ মা- বাইনা আইদীহিম্ অমা- খল্ফাহুম্ অহাকক্ব 'আলাইহিমুল্ ক্বওলু ফী য় উমামিন্ ক্বদ্ খলাত্ মিন্ ক্বব্লিহিম্ মিনাল্ জ্বিন্নি অল্ ইন্সি ইন্নাহুম্ কা-নূ খ-সিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিররা বলে: ‘তোমরা এ কুরআন শুনবেনা এবং যেখানেই তা পাঠ করা হবে, হৈ হট্টগোল সৃষ্টি করবে, যাতে করে তোমরা জয়ী হতে পারো।’

জহুরুল হক

আর যারা অবিশ্বাস করে তারা বলে - - ''এই কুরআন শুনো না, আর এতে শোরগোল করো, যাতে তোমরা দমন করতে পারো।’’

বাংলা উচ্চারণ

অ ক্ব- লাল্ লাযীনা কাফারূ লা-তাস্মা'ঊ লিহা-যাল্ ক্বর্ আ-নি অল্গও ফীহি লা'আল্লাকুম্ তাগ্লিবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা কাফিরদের আস্বাদন করাবো কঠিন আযাবের স্বাদ এবং তাদের প্রতিফল দেবো তাদের নিকৃষ্ট কর্মকান্ডের।

জহুরুল হক

সেজন্য যারা অবিশ্বাস করে তাদের আমরা অবশ্যই কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব, আর তাদের অবশ্যই প্রতিদান দেব তারা যা গর্হিত কাজ করত তাই দিয়ে।

বাংলা উচ্চারণ

ফালানুযী ক্বান্না ল্ লাযীনা কাফারূ 'আযা-বান্ শাদীদাঁও অলা-নাজযিইয়ান্নাহুম্ আস্ওয়াল্ লাযী কা-নূ ইয়া'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

জাহান্নামই আল্লাহর দুশমনদের উপযুক্ত প্রতিফল। সেখানে থাকবে তাদের চিরস্থায়ী আবাস। এ হলো আমাদের আয়াত অস্বীকার করার প্রতিদান।

জহুরুল হক

এই হচ্ছে ‌র শত্রুদের পরিণাম - - আগুন, তাদের জন্য এখানে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী আবাস। আমাদের নির্দেশাবলী তারা অস্বীকার করত বলেই এটি হচ্ছে প্রতিফল।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা জ্বাযা-য়ু আ'দা-য়ি ল্লা-হিন্ না- রু লাহুম্ ফীহা-দারুল্ খুল্দ জ্বাযা-য়াম্ বিমা- কা-নূ বিআ-ইয়া-তিনা- ইয়াজহাদূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিররা (সেদিন) বলবে: ‘আমাদের প্রভু! জিন ও ইনসানের যারাই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে দেখিয়ে দাও, আমরা তাদের পদদলিত করবো, যাতে করে তারা অপদস্থ হয়।’

জহুরুল হক

আর যারা অবিশ্বাস করে তারা বলবে - - ''আমাদের প্রভু! জিন ও মানুষদের যারা আমাদের বিপথে চালিয়েছিল তাদের আমাদের দেখিয়ে দাও, আমাদের পায়ের তলায় আমরা তাদের মাড়াবো, যাতে তারা অধমদের অন্তর্ভুক্ত হয়।’’

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লাল্লাযীনা কাফারূ রব্বানা য় আরিনাল্ লাযাইনি আদ্বোয়াল্লা-না- মিনাল্ জ্বিন্নি অল্ইন্সি না'জ্ব্আল্হুমা-তাহ্তা আক্ব্দা-মিনা- লিইয়াকূনা মিনাল্ আস্ফালীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা বলে: ‘ আমাদের প্রভু’, অত:পর একথার উপর অটল - অবিচল থাকে, তাদের প্রতি ফেরেশতা নাযিল হয়ে বলে: ‘‘আপনারা ভয় পাবেন না, চিন্তিতও হবেননা। আপনারা খুশি হয়ে যান সেই জান্নাতের জন্যে যার ওয়াদা আপনাদের দেয়া হয়েছিল।

জহুরুল হক

পক্ষান্তরে যারা বলে - - ''আমাদের প্রভু ’’, তারপর তারা কায়েম থাকে, তাদের নিকট ফিরিশ্‌তারা অবতরণ করে এই বলে - - ''ভয় করো না আর দুঃখ করো না, বরঞ্চ সুসংবাদ শুনো জান্নাতের যার জন্য তোমাদের প্রতি‌শ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্ লাযীনা ক্ব-লূ রব্বুনাল্লা-হু ছুম্মাস্ তাক্ব-মূ তাতানায্যালু 'আলাইহিমুল্ মালা-য়িকাতু আল্লা-তাখ -ফূ অলা-তাহ্যানূ অআব্শিরূ বিল্জ্বান্নাতিল্লাতী কুন্তুম্ তূ আ'দূ ন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা দুনিয়ার জীবনেও আপনাদের অলি (বন্ধু, পৃষ্ঠপোষক) এবং আখিরাতেও। সেখানে আপনাদের জন্যে মওজুদ রয়েছে যা আপনাদের মন চাইবে এবং আপনাদের জন্যে মওজুদ রয়েছে যা আপনারা আদেশ করবেন সবই।

জহুরুল হক

''আমরা তোমাদের বন্ধু এই দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে, আর তোমাদের জন্য এতে রয়েছে তোমাদের অন্তর যা - কিছু কামনা করে তাই, আর তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে যা তোমরা চেয়ে পাঠাও।

বাংলা উচ্চারণ

নাহ্নু আও লিয়া-য়ুকুম্ ফীল্ হাইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-অ ফীল আ- খিরতি অলাকুম্ ফীহা-মা-তাশ্তাহী য় আন্ফুসুকুম্ অলাকুম্ ফীহা- মা-তাদ্দা'ঊন্

আবদুস শহীদ নাসিম

এ হলো পরম ক্ষমাশীল দয়াবানের পক্ষ থেকে আতিথ্য।’’

জহুরুল হক

''পরিত্রাণকারী অফুরন্ত ফলদাতার তরফ থেকে এক আপ্যায়ন।’’

বাংলা উচ্চারণ

নুযুলাম্ মিন্ গফূর্রি রহীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে সুন্দর কথা আর কে বলে, যে মানুষকে দাওয়াত দেয় আল্লাহর দিকে এবং আমলে সালেহ্ করে, আর বলে: ‘নিশ্চয়ই আমি একজন মুসলিম (আল্লাহর অনুগত)।’

জহুরুল হক

আর কে তার চাইতে কথাবার্তায় বেশী ভাল যে ‌র প্রতি আহ্বান করে এবং সৎকর্ম করে আর বলে - - ''আমি তো নিশ্চয়ই মুসলিমদের মধ্যেকার?’’

বাংলা উচ্চারণ

অমান্ আহ্সানু ক্বওলাম্ মিম্মান্ দা'আ য় ইলাল্লা-হি অ'আমিলা ছোয়া- লিহাঁও অ ক্ব-লা ইন্নানী মিনাল্ মুস্লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ভালো আর মন্দ সমান নয়। মন্দকে দূরীভূত করো সর্বোত্তম (আচরণ) দিয়ে। তাহলে তোমার জানের শত্রুও হয়ে যাবে প্রাণের বন্ধু।

জহুরুল হক

আর ভাল জিনিস ও মন্দ জিনিস একসমান হতে পারে না। প্রতিহত করো তাই দিয়ে যা অধিকতর উৎকৃষ্ট, ফলে দেখো! তোমার মধ্যে ও তার মধ্যে শত্রুতা থাকলেও সে যেন ছিল অন্তরঙ্গ বন্ধু।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-তাস্কাওয়িল্ হাসানাতু অলাস্ সাইয়্যিয়াহ্ ইদ্ফা' বিল্লাতী হিয়া আহ্সানু ফাইযাল্ লাযী বাইনাকা অবাইনাহূ 'আদা-ওয়াতুন্ কায়ান্নাহূ অলিয়্যুন হামীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই মহৎ গুণের অধিকারী করা হয় কেবল তাদেরকেই যারা সবর অবলম্বন করে। এ গুণের অধিকারী হয় কেবল তারাই যারা অতীব ভাগ্যবান।

জহুরুল হক

আর কেউ এটি পেতে পারে না তারা ব্যতীত যারা অধ্যবসায় করে, আর কেউ এটি পেতে পারে না মহান সৌভাগ্যবান ব্যতীত।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-ইয়ুলাকক্ব-হা য় ইল্লাল্ লাযীনা ছবারূ অমা- ইয়ুলাক্বক্ব্-হা য় ইল্লা-যূ হাজ্জিন্ 'আজীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যদি শয়তান তোমাকে কোনো কুমন্ত্রণা দিচ্ছে বলে অনুভব করো, তবে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

জহুরুল হক

আর শয়তান থেকে কোনো খোঁচা যদি তোমাকে খোঁচা দেয় তাহলে তুমি ‌র কাছে আশ্রয় চাও। নিঃসন্দেহ তিনি স্বয়ং সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইম্মা-ইয়ান্যাগন্নাকা মিনাশ্ শাইত্বোয়া-নি নায্গুন্ ফাস্তা'ইয্ বিল্লা-হ্ ইন্নাহূ হুওয়াস্ সামী'উল্ 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে রাত, দিন এবং সূর্য ও চাঁদ। তোমরা সূর্যকে সাজদা করোনা, চাঁদকেও নয়। সাজদা করো আল্লাহকে, যিনি ওগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা সত্যি সত্যি তাঁর ইবাদত করো।

জহুরুল হক

আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন আর সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যের প্রতি সিজদা করো না আর চন্দ্রের প্রতিও নয়, বরং তোমরা সিজ্‌দা করো ‌র প্রতি যিনি এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা তাঁকেই উপাসনা করতে চাও।

বাংলা উচ্চারণ

অ মিন্ আ-ইয়া-তিহি ল্লাইলু অন্নাহা-রু অশ্ শাম্সু অল্ ক্বর্মা লা- তাস্জ্বুদূ লিশ্শাম্সি অলা-লিল্ক্বমারি অস্জ্বুদূ লিল্লা-হিল্ লাযী খলাক্বহুন্না ইন্ কুন্তুম্ ইয়্যা-হু তা'বুদূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তারা দম্ভ করলেও যারা তোমার প্রভুর কাছে রয়েছে তারা কিন্তু তাঁর তসবিহ করে রাত - দিন এবং ক্লান্তিবোধ করেনা। (সাজদা)

জহুরুল হক

কিন্ত যদি তারা গর্ববোধ করে, বস্তুতঃ যারা তোমার প্রভুর সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তাঁর জপতপ করছে দিন ও রাতভর, আর তারা ক্লান্তিবোধ করে না।

বাংলা উচ্চারণ

ফায়িনিস্ তাক্বারূ ফাল্লাযীনা 'ইন্দা রব্বিকা ইয়ুসাব্বিহূনা লাহূ বিল্লাইলি অন্নাহা-রি অহুম্ লা-ইয়াস্য়ামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তুমি জমিনকে দেখতে পাও শুকনো ধূসর। কিন্তু যখনই আমরা তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়ে উঠে। যিনি এই মরা জমিনকে জীবিত করেন, তিনি অবশ্যি মৃতদের পুনর্জীবিত করবেন। তিনি প্রতিটি বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

জহুরুল হক

আর তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে হচ্ছে যে, তুমি পৃথিবীটাকে দেখতে পাচ্ছ শুকনো, তারপর যখন তার উপরে আমরা বর্ষণ করি বৃষ্টি তখন তা চঞ্চল হয় ও ফেঁপে ওঠে। নিঃসন্দেহ যিনি এটিকে জীবনদান করেন তিনিই তো মৃতের প্রাণদাতা। তিনি নিশ্চয়ই সব - কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।

বাংলা উচ্চারণ

অমিন্ আ-ইয়া-তিহী য় আন্নাকা তারল্ র্আদ্বোয়া খ-শি'আতান্ ফাইযা য় আন্যাল্না-'আলাইহাল্ মা-য়াহ্ তায্যাত্ অ রবাত্ ইন্নাল লাযী য় আহ্ইয়া-হা -লামুহ্য়িল্ মাওতা- ইন্নাহূ 'আ লা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বর্দী।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বিকৃত করে আমাদের আয়াতকে, তারা আমাদের থেকে গোপন নয়। কিয়ামতের দিন যাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে সে ভালো, নাকি যে নিরাপদে থাকবে, সে ভালো? তোমাদের যা ইচ্ছা করতে থাকো। নিশ্চয়ই তিনি দেখেন তোমরা যা আমল করো।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা বেঁকে বসে আমাদের নির্দেশাবলীসন্বন্ধে তারা আমাদের থেকে লুকিয়ে থাকা নয়। তবে কি যাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে সে অধিকতর ভাল, না সে, যে কিয়ামতের দিনে নিরাপত্তার সাথে হাজির হবে? তোমরা যা চাও করে যাও, নিঃসন্দেহ তোমরা যা করছ সে - সন্বন্ধে তিনি সর্বদ্রষ্টা।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযীনা ইয়ুল্হিদূনা ফী য় আ-ইয়া-তিনা-লা-ইয়াখ্ফাওনা 'আলাইনা- আফামাইঁ ইয়ুল্ক্ব-ফী ন্না-রি খইরুন্ আম্ মাইঁ ইয়াতী য় আ- মিনাইঁ ইয়াওমাল্ কিয়া-মাহ্ 'ইমালূ মা- শিতুম্ ইন্নাহূ বিমা- তা'মালূনা বার্ছী।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা যিকির (কুরআন) আসার পর তার প্রতি কুফুরি করেছে, (তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাব), তাদের জেনে রাখা উচিত, এ এক মহাশক্তিধর কিতাব।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা স্মারকগ্রন্থকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের কাছে তা আসার পরে। আর এটি তো নিশ্চয়ই এক সুমহান গ্রন্থ, - -

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্ লাযীনা কাফারূ বিয্যিক্রি লাম্মা জ্বা-য়া হুম্ অইন্নাহূ লাকিতা-বুন্ 'আযীয্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ কিতাবে সামনে বা পেছনে থেকে কোনো বাতিল প্রবেশ করতে পারেনা। এটি নাযিল হয়েছে মহাজ্ঞানী সপ্রশংসিতের পক্ষ থেকে।

জহুরুল হক

এতে মিথ্যা কথা আসতে পারবে না এর সামনে থেকে, আর এর পেছন থেকেও নয়। এ হচ্ছে একটি অবতারণ মহাজ্ঞানী পরম প্রশংসিতের কাছ থেকে।

বাংলা উচ্চারণ

লা-ইয়াতীহিল্ বা-ত্বিলু মিম্ বাইনি ইয়াদাইহি অলা-মিন্ খল্ফিহ্ তান্যীলুম্ মিন্ হাকীমিন্ হামীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী! কাফিরদের পক্ষ থেকে) তোমাকে এমন কিছুই বলা হয়নি, যা তোমার পূর্বেকার রসূলদের বলা হয়নি। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু বড়ই ক্ষমাওয়ালা, আবার কঠিন শাস্তিদাতাও।

জহুরুল হক

তোমার প্রতি এমন কিছু বলা হয়নি তা ব্যতীত যা বলা হতো তোমার পূর্ববর্তী রসূলগণের সন্বন্ধে। নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু নিশ্চয়ই পরিত্রাণে ক্ষমতাবান, এবং কঠোর প্রতিফল দিতে সক্ষম।

বাংলা উচ্চারণ

মা-ইয়ুক্ব-লু লাকা-ইল্লা-মা-ক্বদ্ ক্বীলা র্লিরুসুলি মিন্ ক্বব্লিক ইন্না রব্বাকা লাযূ মাগ্ফিরাতিঁও অযূ 'ইক্ব-বিন্ আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি এটিকে অনারবি ভাষার কুরআন করতাম, তারা অবশ্যি বলতো: ‘এর আয়াতগুলো (আমাদের ভাষায়) কেন ব্যাখা করে দেয়া হয়নি। এটা কেমন ব্যাপার, কিতাব হলো অনারবি আর রসূল হলো আরব?’ হে নবী! বলো: ‘এ কুরআন মুমিনদের জন্যে জীবন পদ্ধতির দিশারি এবং নিরাময়। আর যারা ঈমান আনেনা, তাদের কানে তুলা এবং এ কুরআন তাদের জন্যে একটা অন্ধত্ব। এরা এমন, যেনো তাদের ডাকা হচ্ছে বহুদূর থেকে।’

জহুরুল হক

আর যদি আমরা এটিকে একটি আ'জমী ভাষণ বানাতাম তাহলে তারা নিশ্চয়ই বলত - - ''এর আয়াতগুলো কেন পরিস্কারভাবে বলা হয় নি? কী! একটি আ'জমী এবং একজন আরবীয়!’’ বলো - - ''যারা বিশ্বাস করে তাদের জন্য এটি এক পথনির্দেশ ও এক আরোগ্য - বিধান।’’ আর যারা বিশ্বাস করে না তাদের কানের মধ্যে রয়েছে বধিরতা, আর তাদের জন্য এটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। এরা - - এদের ডাকা হয় বহু দূরের জায়গা থেকে।

বাংলা উচ্চারণ

অলাওজ্বা'আল্না -হু ক্বর্ আ-নান্ আ'জ্বামিয়্যাল্ লাক্ব-লূ লাও লা-ফুছ্ছিলাত্ আ-ইয়াতুহ্ আ আ'জ্বামিইয়ুঁও অ 'আরাবী কুল্ হুঅ লিল্লাযীনা আ-মানূ হুদাঁও অ শিফা-য়্ অল্লাযীনা লা-ইয়ুমিনূনা ফী য় আ-যা-নিহিম্ অকরুঁও অহুওয়া 'আলাইহিম্ 'আমা উলা-য়িকা ইয়ুনা -দাওনা মিম্ মাকা-নিম্ বা'ঈদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসাকেও কিতাব দিয়েছিলাম, অত:পর তা নিয়েও মতভেদ করা হয়েছিল। যদি তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকতো, তাহলে তাদের মাঝে ফায়সালা হয়ে যেতো। আসলে তারা এ বিষয়ে রয়েছে বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে।

জহুরুল হক

আর আমরা তো ইতিপূর্বে মূসাকে ধর্মগ্রন্থ দিয়েছিলাম, কিন্ত এতে মতভেদ ঘটানো হয়েছিল। আর যদি না তোমার প্রভুর কাছ থেকে একটি বাণী ইতিপূর্বে ধার্য হয়ে থাকত তাহলে তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়ে যেত। আর নিঃসন্দেহ এ - সন্বন্ধে তা রা এক অস্বস্তিকর সন্দেহের মাঝে রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ আ-তাইনা- মূসাল্ কিতা-বা ফাখ্তুলিফা ফীহ্ অলাওলা-কালিমাতুন্ সাবাক্বত্ র্মি রব্বিকা লাকুদ্বিয়া বাইনাহুম্ অইন্নাহুম্ লাফী শাক্কিম্ মিন্হু মুরী।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে ভালো কাজ করে, সে তা করে নিজের কল্যাণেই, আর যে মন্দ কাজ করে তার প্রতিফল সে নিজেই ভোগ করবে। তোমার প্রভু তাঁর দাসদের প্রতি বিন্দুমাত্র যালিম নন।

জহুরুল হক

যে কেউ সৎকর্ম করে থাকে, সেটি তো তার নিজের জন্যেই, আর যে কেউ মন্দকাজ করে সেটি তো তারই বিরুদ্ধে। আর তোমার প্রভু দাসদের প্রতি আদৌ অন্যায়কারী নন।

বাংলা উচ্চারণ

মান্ 'আমিলা ছোয়া-লিহান্ ফালিনাফ্সিহী অ মান্ আসা-য়া ফা'আলাইহা- অমা- রব্বুকা বিজোয়াল্লা- মিল্ লিল্'আবীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিয়ামতের জ্ঞান পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। তাঁর এলেম ছাড়া কোনো ফল আবরণ থেকে বের হয়না, কোনো নারী গর্ভ ধারণ করেনা এবং সন্তানও প্রসব করেনা। যেদিন তাদের ডেকে বলা হবে: ‘কোথায় তোমাদের বানানো শরিকরা?’ তারা বলবে, আপনার অনুমতি প্রার্থনা করে বলছি: ‘এ ব্যাপারে আমাদের কেউই কিছু সচোক্ষে দেখিনি।’

জহুরুল হক

তাঁর কাছেই হাওয়ালা দেওয়া হয় ঘড়িঘন্টার জ্ঞান সন্বন্ধে। আর ফল - ফসলের কোনোটিই তার থোড়ের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসে না, আর নারীদের কেউ গর্ভধারণ করে না ও সন্তান প্রসবও করে না তাঁর জ্ঞানের বাইরে। আর সেইদিন তিনি তাদের ডেকে বলবেন - - ''কোথায় আমার শরিকান?’’ তারা বলবে - - ''আমরা তোমার কাছে ঘোষণা করছি, আমাদের মধ্যে কেউই সাক্ষী নই।’’

বাংলা উচ্চারণ

ইলাইহি ইয়ুরাদ্দু 'ইল্মুস্ সা-আ'হ্ অমা- তাখ্রুজু মিন্ ছামার-তিম্ মিন্ আক্মা-মিহা-অমা- তাহ্মিলু মিন্ উন্ছা-অলা-তাদ্বোয়া'উ ইল্লা-বি'ইল্মিহ্ অইয়াওমা ইয়ুনা-দীহিম্ আইনা শুরাকা-য়ী ক্ব-লূ য় আ-যান্না-কা মা-মিন্না-মিন্ শাহীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

দুনিয়ার জীবনে তারা যাদের ডাকতো, সেদিন তারা সবাই তাদের থেকে উধাও হয়ে যাবে, তখন তারা উপলব্ধি করবে, তাদের রক্ষা পাওয়ার কোনো পথ নেই।

জহুরুল হক

আর এর আগে যাদের তারা ডাকত তারা তাদের থেকে হয়ে যাবে, আর তারা বুঝবে যে তাদের জন্য কোনো আশ্রয় নেই।

বাংলা উচ্চারণ

অদ্বোয়াল্লা 'আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াদ্'ঊনা মিন্ ক্বব্লু অজোয়ান্নূ মা-লাহুম্ মিম্ মাহীছ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষ অর্থ সম্পদ প্রার্থনার ক্ষেত্রে কোনো ক্লান্তিবোধ করেনা। কিন্তু যখন তাকে দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন সে নিরাশ ও হতাশ হয়ে পড়ে।

জহুরুল হক

মানুষ ভালর জন্যে প্রার্থনায় ক্লান্তি বোধ করে না, কিন্ত যদি দুঃখকষ্ট তাকে স্পর্শ করে সে তখন ধৈর্যহারা হয়ে যায়।

বাংলা উচ্চারণ

লা-ইয়াস্য়ামুল্ ইন্সা-নু মিন্ দু'আ-য়িল্ খইরি অইম্ মাস্সাহুশ্ র্শারু ফাইয়ায়ূসুন্ ক্ব-নূত্ব ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করার পর তাকে আমাদের রহমত আস্বাদন করাই, তখন সে বলে: ‘এটা তো আমার প্রাপ্য এবং আমি মনে করিনা যে, কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর আমি যদি আমার প্রভুর কাছে ফিরেও যাই, তার কাছে তো আমার জন্যে কল্যাণই থাকবে।’ আমরা কাফিরদের অবশ্যি তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবো এবং তাদের আস্বাদন করাবো শক্ত আযাব।

জহুরুল হক

আর দুঃখদুর্দশা তাকে স্পর্শ করার পরে আমরা যদি তাকে আমাদের থেকে করুণা আস্বাদ করাই, সে নিশ্চয়ই বলবে - - ''এটি আমারই জন্যে, আর আমি মনে করি না যে ঘড়িঘন্টা কায়েম হবে, আর যদিই বা আমাকে আমার প্রভুর কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তবে আমার জন্য তাঁর কাছে কল্যাণই থাকবে।’’ কিন্ত যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের আমরা অবশ্যই জানিয়ে দেব কী তারা করেছিল এবং তাদের আমরা অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠোর শাস্তি থেকে।

বাংলা উচ্চারণ

অলায়িন্ আযাকনা-হু রহ্মাতাম্ মিন্না-মিম্ বা'দি দ্বোর্য়ার-য়া মাস্সাত্হু লাইয়াকুলান্না হা-যা-লী অমা য় আযুন্নূস্ সা-'আতা ক্ব-য়িমাতাঁও অ লার্য়ি রুজ্বিতু ইলা-রব্বী য় ইন্না লী 'ইন্দাহূ লাল্হুস্না- ফালানুনাব্বিয়ান্নাল্ লাযীনা কাফারূ বিমা-'আমিলূ অলানুযীক্বান্নাহুম্ মিন্ 'আযা-বিন্ গলীজ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি, তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং দূরে সরে যায়, আবার যখন তাকে স্পর্শ করে দুঃখ - দুর্দশা, তখন সে নিরত হয় দীর্ঘ প্রার্থনায়।

জহুরুল হক

আর যখন আমরা মানুষের উপরে অনুগ্রহ বর্ষণ করি সে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও এর আশপাশ থেকে দূরে সরে যায়, কিন্ত যখন দুঃখকষ্ট তাকে স্পর্শ করে তখন দেখো! সে দীর্ঘ প্রার্থনায় রত হয়।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা য় আন্'আম্না-'আলাল্ ইন্সা-নি আ'রাদ্বোয়া অনায়া-বিজ্বা-নিবিহী অইযা-মাস্সাহুশ্ র্শারু ফাযূ দু'আ-য়িন্ 'আরীদ্ব্ ।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘তোমরা ভেবে দেখেছো কি, যদি এ কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়ে থাকে আর তোমরা তা অস্বীকার করো, তবে যে ব্যক্তি বিরোধিতায় বহুদূর এগিয়ে গেছে তার চাইতে বড় বিপথগামী আর কেউ আছে কি?’

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি এটি ‌র কাছ থেকে হ’য়ে থাকে এবং তোমরা এতে অবিশ্বাস কর, তাহলে তার চাইতে কে বেশী পথভ্রান্ত যে সুদূরব্যাপী বিরুদ্ধাচরণে রয়েছে?’’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ আরয়াইতুম্ ইন্ কা-না মিন্ 'ইন্দিল্লা-হি ছুম্মা কার্ফাতুম্ বিহী মান্ আদ্বোয়াল্ল ূ মিম্মান্ হুঅ ফী শিক্ব-ক্বিম্ বা'ঈদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা অচিরেই তাদের দেখাবো আমাদের নিদর্শনাবলি মহাবিশ্বে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে, তখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এ কুরআন এক মহাসত্য। তোমার প্রভুর ব্যাপারে কি একথা যথেষ্ট নয় যে, তিনি প্রতিটি বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী?

জহুরুল হক

আমরা অচিরেই তাদের দেখাব আমাদের নিদর্শনাবলী দিগদিগন্তে এবং তাদের নিজেদের মধ্যেও, যে পর্যন্ত না তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটি নিঃসন্দেহ ধ্রুবসত্য। এটি কি যথেষ্ট নয় যে তোমার প্রভু - - তিনিই তো সব - কিছুর উপরে সাক্ষী রয়েছেন?

বাংলা উচ্চারণ

সানুরী হিম্ আ-ইয়া-তিনা-ফিল্ আ-ফা-ক্বি অফী য় আন্ফুসিহিম্ হাত্তা-ইয়াতাবাইয়্যানা লাহুম্ আন্নাহুল্ হাক্ব্ আওয়ালাম্ ইয়াক্ফি বিরব্বিকা আন্নাহূ 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ শাহীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সাবধান, তারা তাদের প্রভুর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে সন্দেহে নিমজ্জিত। জেনে রাখো, প্রতিটি বস্তু পরিবেষ্টন করে আছেন।

জহুরুল হক

এটি কি নয় যে তারা আলবৎ সন্দেহের মাঝে রয়েছে তাদের প্রভুর সাথে সাক্ষাৎকার সন্বন্ধে? এটি কি নয় যে তিনি নিশ্চয় সব - কিছুরই পরিবেষ্টনকারী?

বাংলা উচ্চারণ

আলা য় ইন্নাহুম্ ফী র্মিইয়াতিম্ মিল্লিক্ব-য়ি রব্বিহিম্ আলা য় ইন্নাহূ বিকুল্লি শাইয়িম্ মুহীত্ব।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme