You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আল আম্বিয়া (নবীগণ)
Chapter 21, 112 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
জহুরুল হক
Arabic, with marks
Arabic
About this chapter
মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১১২, রুকু সংখ্যা: ০৭
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১বিচারের দিন নিকটবর্তী।
০২-১০রসূল ও কিতাবের ব্যাপারে লোকদের আপত্তি। অথচ আল্লাহর কিতাবই তাদের মুক্তির পথ।
১১-২৯প্রত্যাখ্যানকারীরা ধ্বংস হয়েছে। আল্লাহ্ হক দিয়ে বাতিলকে আঘাত করেন, তার পরিণতিতে বাতিল বিদূরিত হয়ে যায়। একাধিক ইলাহ্ থাকলে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যেতো। আল্লাহর এককত্ব এবং শিরকের বাতুলতা।
৩০-৩৩জীবন সৃষ্টির তত্ত্ব।
৩৪-৩৫নবী এবং সব মানুষ মরণশীল।
৩৬-৫০নবীদের প্রতি সমাজের বিরূপ আচরণ। কাফিররা যালিম। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ সুবিচার করবেন।
৫১-৭৫নিজ পিতা ও জাতির কাছে ইবরাহিম আ. কর্তৃক তাওহীদের দাওয়াত। ইবরাহিম কর্তৃক তাওহীদের যুক্তি। ইবরাহিমকে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ। আল্লাহ্ আগুনকে সুশীতল করে দেন। ইবরাহিমের বংশধরদের নেতৃত্ব প্রদান এবং তাদের জন্য কল্যাণের নির্দেশ। লুত জাতির অপকর্ম।
৭৬-৭৭নূহ আ.-কে তাঁর জাতির চক্রান্ত থেকে উদ্ধার।
৭৮-৮২দাউদ ও সুলাইমানের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ।
৮৩-৯৪আইউব, ইসমাঈল, ইদরিস, যুলকিফল, ইউনুস, যাকারিয়া এবং মরিয়মের প্রতি আল্লাহ্ অনুগ্রহ। এরা সবাই ছিলেন একই আদর্শের অনুসারী।
৯৫-১১২ইয়াজুজ মাজুযের প্রকাশ। কিয়ামত নিকটবর্তী। আল্লাহ্ ছাড়া সব উপাস্য ও তাদের উপাসকরা জাহান্নামি। যারা ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করে তারা থাকবে জান্নাতে। পৃথিবীর ওয়ারিশ হবে সালেহ্ লোকেরা। মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ রহমতুল্লিল আলামিন।
আবদুস শহীদ নাসিম
মানুষের হিসাব দেয়ার সময় তাদের নিকটেই চলে এসেছে, অথচ তারা গাফলতিতে তা উপেক্ষা করে চলেছে।
জহুরুল হক
মানুষের কাছে তাদের হিসেব - নিকেশ আসন্ন, তথাপি তারা বেখেয়ালিতে ফিরে যাচ্ছে।
ما يأتيهم من ذكر من ربهم محدث إلا استمعوه وهم يلعبون
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের কলব থাকে অমনোযোগী। যালিমরা গোপন শলাপরামর্শ করে বলে: ‘এতো তোমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়। তোমরা কি দেখে শুনে ম্যাজিকের পিছে ছুটবে।’
জহুরুল হক
তাদের হৃদয় কোনো মনোযোগ দেয় না। আর যারা অন্যায়কারী তারা গোপনে শলাপরামর্শ করে - - এই জন কি তোমাদের মতন একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু? তোমরা কি তবে জাদুর বশীভূত হবে, অথচ তোমরা দেখতে পাচ্ছ।’’
قال ربي يعلم القول في السماء والأرض ۖ وهو السميع العليم
আবদুস শহীদ নাসিম
বরং তারা বলে: এগুলো হলো অলীক কল্পনা। হয় সে এগুলো উদ্ভাবন করে নিয়েছে, নয়তো সে একজন কবি। সুতরাং সে আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন নিয়ে আসুক, যেভাবে নিদর্শনসহ প্রেরিত হয়েছিল পূর্বের রসূলরা।
জহুরুল হক
তারা বলে - - ''না, এলোমেলো স্বপ্ন! না, সে এটি তৈরি করেছে! না, সে একজন কবি। সে বরং আমাদের কাছে এক নিদর্শন নিয়ে আসুক যেমন পূর্ববর্তীদের পাঠানো হয়েছিল।’’
তোমার আগে আমরা যতো রসূলই পাঠিয়েছিলাম, তারা সবাই ছিলো মানুষ। তাদের কাছেই আমরা অহি পাঠাতাম। তোমরা যদি না জানো, তাহলে কিতাবধারীদের (জ্ঞানীদের) জিজ্ঞাসা করো।
জহুরুল হক
আর তোমার আগে আমরা মানুষ ছাড়া অন্য কাউকে পাঠাই নি যাদের কাছে আমরা প্রত্যাদেশ দিয়েছিলাম, কাজেই স্মারকগ্রন্থের অধিকারীদের তোমরা জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো।
وما جعلناهم جسدا لا يأكلون الطعام وما كانوا خالدين
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর তাদের প্রতি আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করি। ফলে আমরা তাদেরকে এবং যাদেরকে চেয়েছি নাজাত দিয়েছি, আর সীমালঙ্ঘনকারীদের করেছি হালাক (ধ্বংস)।
জহুরুল হক
তারপর তাঁদের কাছে আমরা ওয়াদা পূর্ণ করেছিলাম, সুতরাং আমরা তাঁদের উদ্ধার করেছিলাম আর তাদেরও যাদের আমরা ইচ্ছা করেছিলাম, আর আমরা ধ্বংস করেছিলাম সীমা - লংঘনকারীদের।
لو أردنا أن نتخذ لهوا لاتخذناه من لدنا إن كنا فاعلين
আবদুস শহীদ নাসিম
বরং আমরা সত্যকে দিয়ে আঘাত হানি মিথ্যার উপর। তখন তা মিথ্যাকে চূর্ণ - বিচূর্ণ করে দেয়, আর তখন মিথ্যা হয়ে যায় অপসৃত। তোমরা যেসব কথা বানাচ্ছো, সেজন্যে তোমাদের দুর্ভোগ।
জহুরুল হক
না, আমরা সত্যের দ্বারা মিথ্যার উপর আঘাত হানি, ফলে তার মগজ চুরমার হয়ে যায়, তখন দেখো! তা অন্তর্হিত হয়। আর ধিক তোমাদের প্রতি! তোমরা যা আরোপ কর সেজন্য।
بل نقذف بالحق على الباطل فيدمغه فإذا هو زاهق ۚ ولكم الويل مما تصفون
আবদুস শহীদ নাসিম
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যারাই আছে সবাই তাঁর। তাঁর কাছে যারা (যেসব ফেরশতা) রয়েছে তারা তাঁর দাসত্ব ও আনুগত্যের ব্যাপারে অহংকার করেনা এবং ক্লান্তিও বোধ করেনা।
জহুরুল হক
আর যারাই আছে মহাকাশগুলীতে ও পৃথিবীতে তারা সবাই তাঁর। আর যারা তাঁর সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তাঁর উপাসনা করা থেকে গর্ববোধ করে না, আর তারা ক্লান্তও হয় না, - -
যদি মহাকাশ ও পৃথিবীতে ছাড়া অনেক ইলাহ্ থাকতো তাহলে উভয়টাই ধ্বংস হয়ে যেতো। সুতরাং তাদের আরোপিত এসব অপবাদ থেকে আরশের মালিক অনেক ঊর্ধ্বে, মহান ও পবিত্র।
জহুরুল হক
যদি ও দুইয়ের মধ্যে ছাড়া অন্যান্য উপাস্যরা থাকত তবে এ দুটোই বিশৃঙ্খল হয়ে যেত। সুতরাং সকল মহিমা র, যিনি আরশের অধিপতি, - - তারা যা আরোপ করে তার উর্ধ্বে!
لو كان فيهما آلهة إلا الله لفسدتا ۚ فسبحان الله رب العرش عما يصفون
আবদুস শহীদ নাসিম
তাঁর কর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবেনা (প্রশ্ন করার কেউ নেই), অথচ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।
জহুরুল হক
তিনি যা করেন যে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না, কিন্তু তাদের প্রশ্ন করা হবে।
Arabic, with marks
لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ
Arabic
لا يسأل عما يفعل وهم يسألون
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি তাঁর পরিবর্তে অন্যদেরকে ইলাহ্ গ্রহণ করেছে? হে নবী! বলো: ‘(তাদের ইলাহ্ হবার) প্রমাণ উপস্থিত করো। এটা (এই কুরআন) উপদেশ যারা আমার কালে আছে তাদের জন্যে, এবং উপদেশ তাদের জন্যে যারা ছিলো আমার আগে।’ বরং তাদের অধিকাংশই জানেনা প্রকৃত সত্য। ফলে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
জহুরুল হক
অথবা, তারা কি তাঁকে ছেড়ে দিয়ে উপাস্যদের গ্রহণ করেছে? বলো - - ''তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এস। এ হচ্ছে স্মরণীয় বার্তা তাদের জন্য যারা আমার সঙ্গে রয়েছে এবং স্মরণীয় বার্তা আমার পূর্ববর্তীদের জন্যেও।’’ কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না, ফলে তারা সত্য থেকে বিমুখ থাকে।
أم اتخذوا من دونه آلهة ۖ قل هاتوا برهانكم ۖ هذا ذكر من معي وذكر من قبلي ۗ بل أكثرهم لا يعلمون الحق ۖ فهم معرضون
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার আগে আমরা যে রসূলই পাঠিয়েছি, তার কাছে এই অহি করেছি যে: ‘অবশ্যি কোনো ইলাহ্ নেই আমি ছাড়া, সুতরাং তোমরা কেবল আমারই ইবাদত করো।’
জহুরুল হক
আর তোমার পূর্বে আমরা কোনো রসূল পাঠাই নি যাঁর কাছে আমরা প্রত্যাদেশ না দিয়েছি এই বলে যে, ''আমি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, কাজেই আমারই উপাসনা করো’’।
তিনি তাদের সামনের ও পেছনের সবকিছু অবগত! তারা শাফায়াত করবেনা, তবে যাদের ব্যাপারে সন্তুষ্ট। আর তারা সব সময় ভীত সন্ত্রস্ত থাকে তাঁর ভয়ে।
জহুরুল হক
তিনি জানেন যা কিছু আছে তাঁদের সম্মুখে আর যা আছে তাঁদের পশ্চাতে, আর তাঁরা সুপারিশ করেন না তার জন্য ছাড়া যার প্রতি তিনি সন্তষ্ট হয়েছেন, আর তাঁর ভয়ে তাঁরা ভীত - সন্ত্রস্ত।
يعلم ما بين أيديهم وما خلفهم ولا يشفعون إلا لمن ارتضى وهم من خشيته مشفقون
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের কেউ যদি বলে: ‘ ছাড়া আমিও একজন ইলাহ্।’ আমাদের কাছে তার দন্ড হলো জাহান্নাম। যালিমদের আমরা এ রকম দন্ডই দিয়ে থাকি।
জহুরুল হক
আর তাঁদের মধ্যের যে বলবে - - ''তাঁর পরিবর্তে আমিই একজন উপাস্য’’, তার ক্ষেত্রে তাহলে - - আমরা তাকে প্রতিদান দেব জাহান্নাম। এইভাবেই আমরা প্রতিদান দিই অন্যায়কারীদের।
۞ ومن يقل منهم إني إله من دونه فذلك نجزيه جهنم ۚ كذلك نجزي الظالمين
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা কুফুরি করে তারা কি ভেবে দেখেনা, মহাকাশ আর পৃথিবী তো প্রথমে ছিলো ওতপ্রোত জড়িত থাকা একটি পিন্ড। তারপর আমরা তাদের পৃথক করে দিয়েছি, আর সমস্ত প্রাণবানকেই আমরা সৃষ্টি করেছি পানি থেকে। তবু কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবেনা।
জহুরুল হক
যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা কি দেখে না যে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী উভয়ে একাকার ছিল, তারপর আমরা তাদের দুটিকে বিচ্ছিন্ন করে দিলাম, আর পানি থেকে আমরা সৃষ্টি করলাম প্রাণবন্ত সবকিছু। তারা কি তবুও বিশ্বাস করবে না?
أولم ير الذين كفروا أن السماوات والأرض كانتا رتقا ففتقناهما ۖ وجعلنا من الماء كل شيء حي ۖ أفلا يؤمنون
আবদুস শহীদ নাসিম
আর আমরা পৃথিবীতে সৃষ্টি করে দিয়েছি পাহাড় পর্বত, যাতে করে পৃথিবী তাদের নিয়ে এদিক সেদিক ঢলে না পড়ে। আর আমরা তাতে প্রশস্ত পথও সৃষ্টি করে দিয়েছি, যাতে তারা পৌঁছাতে পারে গন্তব্যস্থলে।
জহুরুল হক
আর পৃথিবীতে আমরা পাহাড় - পর্বত স্থাপন করেছি পাছে তাদের সঙ্গে এটি আন্দোলিত হয়, আর ওতে আমরা বানিয়েছি চওড়া পথঘাট যেন তারা সৎপথ প্রাপ্ত হয়।
كل نفس ذائقة الموت ۗ ونبلوكم بالشر والخير فتنة ۖ وإلينا ترجعون
আবদুস শহীদ নাসিম
কাফিররা যখনই তোমাকে দেখে, তখনই তারা তোমাকে বিদ্রুপের পাত্র হিসেবে গ্রহণ করে। তারা বলে: ‘এই লোকটিই কি তোমাদের ইলাহ্দের (দেবদেবীর) সমালোচনা করে?’ অথচ তারাই (এই কাফিররাই) রহমানের যিকির - এর বিরোধিতা করে।
জহুরুল হক
আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা যখন তোমাকে দেখে তখন তারা তোমাকে বিদ্রপের পাত্র ছাড়া অন্যভাবে গ্রহণ করে না। ''একি সে যে তোমাদের দেবদেবী সন্বন্ধে সমালোচনা করে?’’ বস্তুতঃ তারা নিজেরাই পরম করুণাময়ের নাম - কীর্তনের বেলা অবিশ্বাস ভাজন করে।
হায়, কাফিররা যদি জানতো, সে সময়টি যখন আসবে, তখন তারা তাদের সামনে এবং পেছনে থেকে আসা আগুন প্রতিরোধ করতে পারবেনা এবং তাদেরকে কোনো প্রকার সাহায্যও করা হবেনা।
জহুরুল হক
যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা যদি জানত সেই সময়ের কথা যখন তারা আগুন সরিয়ে দিতে পারবে না তাদের মুখের থেকে, আর তাদের পিঠের থেকেও না, আর তাদের সাহায্যও করা হবে না।
قل من يكلؤكم بالليل والنهار من الرحمن ۗ بل هم عن ذكر ربهم معرضون
আবদুস শহীদ নাসিম
তাহলে কি আমরা ছাড়াও তাদের আরো ইলাহ্ আছে যারা তাদের রক্ষা করবে? তারা তো তাদের নিজেদেরকেও সাহায্য করতে পারবেনা, আর আমাদের বিরুদ্ধে তাদের কোনো সাহায্যকারীও থাকবেনা।
জহুরুল হক
অথবা আমাদের ছেড়ে তোমাদের কি দেবদেবী রয়েছে যারা তাদের রক্ষা করতে পারে? তারা তাদের নিজেদের সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে না, আর তারা আমাদের থেকেও রক্ষা পাবে না।
أم لهم آلهة تمنعهم من دوننا ۚ لا يستطيعون نصر أنفسهم ولا هم منا يصحبون
আবদুস শহীদ নাসিম
বরং আমরাই তাদের এবং তাদের পূর্ব পুরুষদের ভোগবিলাসের উপকরণ দিয়েছি, তাছাড়া তাদের বয়সকালও হয়েছিল দীর্ঘ। তারা কি দেখেনা, আমরা তাদের দেশকে চারদিক থেকে সংকুচিত করে আনছি, তবু কি তারা বিজয়ী হবে?
জহুরুল হক
বস্তুতঃ আমরা এদের আর এদের পিতৃপুরুষদের ভোগ - সম্ভার দিয়েছিলাম যে পর্যন্ত না তাদের জন্য জীবন সুদীর্ঘ হয়েছিল। তারা কি তবে দেখে না যে আমরা দেশটাতে এগিয়ে আসছি এর চৌহদ্দিকে সংকুচিত ক’রে নিয়ে? তারা কি এমতাবস্থায় জয়ী হতে পারবে?
ولئن مستهم نفحة من عذاب ربك ليقولن يا ويلنا إنا كنا ظالمين
আবদুস শহীদ নাসিম
কিয়ামতকালে আমরা স্থাপন করবো ন্যায়বিচারের দন্ড। তখন কারো প্রতি বিন্দুমাত্র যুলুম করা হবেনা। কারো কর্ম যদি শস্য পরিমাণ ওজনেরও হয়, সেটাও আমরা ওজনের আওতায় নিয়ে আসবো। হিসাবগ্রহণকারী হিসেবে আমরাই যথেষ্ট।
জহুরুল হক
আর কিয়ামতের দিনে আমরা ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব, সেজন্য কারো প্রতি এতটুকুও অন্যায় করা হবে না। আর যদি তা সরসে - বীজের ওজন পরিমাণও হয় আমরা সেটা নিয়ে আসব। আর হিসাব গ্রহণকারীরূপে আমরাই যথেষ্ট।
সে বললো: ‘‘আপনাদের রব হলেন মহাকাশ ও পৃথিবীর রব, যিনি সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন। এ বিষয়ে আপনাদের কাছে আমি একজন সাক্ষী।
জহুরুল হক
তিনি বললেন - - ''বরং তোমাদের প্রভু হচ্ছেন মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অধীশ্বর যিনি এগুলো শুরুতেই সৃষ্টি করেছেন, এবং এসব সন্বন্ধে আমি সাক্ষ্যদানকারীদের মধ্যেকার।
আর তাদেরকে আমরা বানিয়েছি ইমাম (নেতা), তারা আমাদের নির্দেশ মতো মানুষকে সঠিক পথ দেখাতো। আমরা তাদেরকে অহির মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছি জনকল্যাণের কাজ করতে, কায়েম করতে এবং যাকাত প্রদান করতে। তারা ছিলো আমার অনুগত দাস (উপাসক)।
জহুরুল হক
আর আমরা তাঁদের বানিয়েছিলাম নেতৃবৃন্দ, তাঁরা আমাদের নির্দেশ অনুসারে সৎপথে চালাতেন, আর তাঁদের কাছে আমরা প্রত্যাদেশ দিয়েছিলাম সৎকাজ করতে ও কায়েম করতে ও যাকাত প্রদান করতে, আর তাঁরা আমাদের প্রতি বন্দনাকারী ছিলেন।
وجعلناهم أئمة يهدون بأمرنا وأوحينا إليهم فعل الخيرات وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة ۖ وكانوا لنا عابدين
আবদুস শহীদ নাসিম
আর লুতকে আমরা দিয়েছিলাম হিকমাহ এবং এলেম। তাকেও আমরা নাজাত দিয়েছিলাম অশ্লীল কাজে লিপ্ত এক খবিছ জনপদ থেকে। তারা ছিলো এক নিকৃষ্ট সীমালঙ্ঘনকারী কওম।
জহুরুল হক
আর লূতের ক্ষেত্রে - - আমরা তাঁকে দিয়েছিলাম বুদ্ধি - বিবেচনা ও জ্ঞান - বিজ্ঞান, আর আমরা তাঁকে উদ্ধার করেছিলাম সেই জনপদ থেকে যারা জঘন্য কাজ করত। নিঃসন্দেহ তারা ছিল দুষ্ট দুরাচারী সম্প্রদায়।
স্মরণ করো, এর আগে নূহ (আমাকে) ডেকেছিল। আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং তাকে আর তার পরিবারবর্গকে উদ্ধার করেছিলাম মহাসংকট থেকে।
জহুরুল হক
আর নূহের ক্ষেত্রে, - - স্মরণ করো, তিনি ইতিপূর্বে আহ্বান করেছিলেন, সেজন্য আমরা তাঁর প্রতি সাড়া দিয়েছিলাম, তাই তাঁকে ও তাঁর পরিজনবর্গকে আমরা উদ্ধার করেছিলাম এক বিরাট সংকট থেকে।
ونوحا إذ نادى من قبل فاستجبنا له فنجيناه وأهله من الكرب العظيم
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা তাকে সাহায্য করেছিলাম এমন একটি কওমের বিরুদ্ধে যারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের আয়াত। তারা ছিলো একটি মন্দ কওম, ফলে আমরা তাদের সবাইকে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম পানিতে।
জহুরুল হক
আর আমরা তাঁকে সাহায্য করেছিলাম সেই লোকদের বিরুদ্ধে যারা আমাদের নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করেছিল। নিঃসন্দেহ তারা ছিল দুষ্ট লোক, তাই তাদের সবাইকে আমরা ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।
ونصرناه من القوم الذين كذبوا بآياتنا ۚ إنهم كانوا قوم سوء فأغرقناهم أجمعين
আবদুস শহীদ নাসিম
আরো স্মরণ করো দাউদ আর সুলাইমানের কথা। তারা যখন শস্যক্ষেত সম্পর্কে ফায়সালা দিচ্ছিল, তাতে রাতের বেলায় অন্য লোকের মেষপাল ঢুকে পড়েছিল, আমরা তাদের বিচার কাজ প্রত্যক্ষ করছিলাম।
জহুরুল হক
আর দাউদ এবং সুলাইমানের ক্ষেত্রে, - - স্মরণ করো, তাঁরা হুকুম দিয়েছিলেন এক শস্যক্ষেত্র সম্পর্কে যাতে লোকদের ভেড়া ঢুকে পড়েছিল রাতের বেলা, আর আমরা তাঁদের হুকুমের সাক্ষী ছিলাম।
وداوود وسليمان إذ يحكمان في الحرث إذ نفشت فيه غنم القوم وكنا لحكمهم شاهدين
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা বিষয়টি সম্পর্কে সুলাইমানকে সঠিক বুঝ দিয়েছিলাম, তবে দুজনকেই দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা এবং এলেম। আমরা পাহাড় পর্বত আর পাখিদেরকে অধীনস্থ করে দিয়েছিলাম দাউদের সাথে তারা তসবিহ করতো। এসব কিছুর কর্তা ছিলাম আমরাই।
জহুরুল হক
আর আমরা সুলাইমানকে এটি বুঝতে দিয়েছিলাম। আর উভয়কেই আমরা দিয়েছিলাম বিচার - বিবেচনা ও জ্ঞান - বিজ্ঞান, আর আমরা দাউদের সঙ্গে পাহাড় - পর্বতকে ও পাখিগুলোকে মহিমা ঘোষণায় অনুগত করেছিলাম। আর আমরাই কার্যকর্তা।
আর আমরা সুলাইমানের অধীন করে দিয়েছিলাম উদ্দাম বাতাসকে, তা তার আদেশক্রমে বয়ে চলতো এমন দেশের দিকে, যেখানে আমরা কল্যাণ রেখেছি, আর প্রত্যেক বিষয়ে আমরা অবগত।
জহুরুল হক
আর সুলাইমানকে প্রবল বাতাস, - - তা প্রবাহিত হয়েছিল তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী সেই দেশের দিকে যেখানে আমরা কল্যাণ নিহিত করেছিলাম। আর সব বিষয়ে আমরা সম্যক অবগত।
তখন আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম, তার অসুখ দূর করে দিয়েছিলাম, ফিরিয়ে দিয়েছিলাম তার পরিবার পরিজন এবং তাদের সাথে অনুরূপ আরো দিয়েছিলাম আমার বিশেষ রহমত হিসেবে আর ইবাদতকারীদের জন্যে উপদেশ হিসেবে।
জহুরুল হক
সুতরাং আমরা তাঁর প্রতি সাড়া দিলাম, এবং দুঃখকষ্টের যা থেকে তিনি ভুগছিলেন তা দূর করে দিলাম, আর তাঁকে তাঁর পরিবারবর্গ দিয়েছিলাম এবং তাদের সাথে তাদের মতো লোকদেরও - - আমাদের তরফ থেকে এ এক করুণা, আর বন্দনাকারীদের জন্য স্মরণীয় বিষয়।
আরো স্মরণ করো মাছওয়ালার (ইউনুসের) কথা। সে গোস্বা নিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল এবং ধারণা করেছিল আমরা তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেবোনা। কিন্তু পরে সে অন্ধকার থেকে আমাদের ডেকে বলেছিল: ‘(প্রভু!) তুমি ছাড়া কোনো উদ্ধারকারী নেই, তুমি পবিত্র, মহান। আমি তো যালিম, অন্যায়কারী।’
জহুরুল হক
আর যুন - নূন, - - স্মরণ করো, তিনি চলে গিয়েছিলেন রেগেমেগে, আর তিনি ভেবেছিলেন যে আমরা কখনো তাঁর উপরে ক্ষমতা চালাব না, তখন সেই সংকটে তিনি আহ্বান করলেন যে ''তুমি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই, তোমারই সব মহিমা, আমি নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছি।’’
আরো স্মরণ করো যাকারিয়ার কথা। সে তার প্রভুকে ডেকে বলেছিল: ‘প্রভু! তুমি আমাকে (সন্তানহীন করে) রেখোনা, তুমিই সর্বোত্তম ওয়ারিশ।’
জহুরুল হক
আর যাকারিয়ার ক্ষেত্রে, - - স্মরণ করো, তিনি তাঁর প্রভুকে আহ্বান করে বললেন - - ''আমার প্রভু! আমাকে একলা রেখো না, আর তুমি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।’’
وزكريا إذ نادى ربه رب لا تذرني فردا وأنت خير الوارثين
আবদুস শহীদ নাসিম
ফলে আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়েছি এবং তার জন্যে দান করেছি ইয়াহিয়াকে, আর তার জন্যে তার স্ত্রীকে করে দিয়েছি (সন্তান ধারণের) যোগ্য। এরা সবাই ছিলো কল্যাণের কাজে প্রতিযোগিতাকারী। তারা আমাকে ডাকতো আশা ও ভয় নিয়ে এবং তারা ছিলো আমার প্রতি বিনয়ী।
জহুরুল হক
সুতরাং আমরা তাঁর প্রতি সাড়া দিয়েছিলাম এবং তাঁকে দিয়েছিলাম ইয়াহ্য়া, আর তাঁর স্ত্রীকে তাঁর জন্য সুস্থ করেছিলাম। নিঃসন্দেহ তাঁরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করতেন, এবং আমাদের ডাকতেন আশা নিয়ে ও ভয়ের সাথে। আর আমাদের প্রতি তাঁরা ছিলেন বিনীত।
فاستجبنا له ووهبنا له يحيى وأصلحنا له زوجه ۚ إنهم كانوا يسارعون في الخيرات ويدعوننا رغبا ورهبا ۖ وكانوا لنا خاشعين
আবদুস শহীদ নাসিম
আর স্মরণ করো ঐ নারীর কথা, যে রক্ষা করেছিল তার সতীত্ব। তারপর আমরা তার মধ্যে ফুঁকে দিয়েছি আমাদের রূহ। আর আমরা তাকে এবং তার পুত্রকে বানিয়েছি জগদ্বাসীর জন্যে একটি নিদর্শন।
জহুরুল হক
আর তাঁর ক্ষেত্রে, যিনি তাঁর সতীত্ব রক্ষা করেছিলেন, সেজন্য আমরা তার মধ্যে আমাদের কাছের আত্মা থেকে ফুঁকে দিয়েছিলাম, আর আমরা তাকে ও তার ছেলেকে একটি নিদর্শন বানিয়েছিলাম।
এবং প্রতিশ্রুত সময়টি নিকটে আসবে। তখন তা অকস্মাৎ সংঘটিত হতেই কাফিরদের চোখগুলো স্থির হয়ে যাবে। তারা বলবে: হায়, ধ্বংস আমাদের, আমরা তো এ বিষয়ে গাফলতির মধ্যে ছিলাম, বরং আমরা ছিলাম যালিম।
জহুরুল হক
আর যথার্থ ওয়াদা ঘনিয়ে আসছে, তখন দেখবে, যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল তাদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে। ''ধিক্ আমাদের, আমরা তো এ বিষয়ে উদাসীনতায় পড়ে রয়েছিলাম! বরং আমরা অন্যায়কারী ছিলাম।’’
لا يحزنهم الفزع الأكبر وتتلقاهم الملائكة هذا يومكم الذي كنتم توعدون
আবদুস শহীদ নাসিম
সেদিন আমরা আকাশ গুটিয়ে ফেলবো, যেভাবে গুটানো হয় লিখিত দস্তাবেজ। যেভাবে আমরা প্রথমবার সৃষ্টি করেছি, সেভাবেই পুনরায় সৃষ্টি করবো। ওয়াদা পালন করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা এটা করেই ছাড়বো।
জহুরুল হক
সেই দিনে আমরা আকাশকে গুটিয়ে নেব যেমন গুটানো হয় লিখিত নথিপত্র! যেভাবে আমরা প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেইভাবে আমরা এটি পুনর্সৃষ্টি করব। ওয়াদা রক্ষাকরণ আমাদের উপরে ন্যস্ত। নিঃসন্দেহ আমরা কর্মকর্তা।
قل إنما يوحى إلي أنما إلهكم إله واحد ۖ فهل أنتم مسلمون
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তুমি বলে দাও: ‘‘আমি তোমাদেরকে যথাযথ আহবান জানিয়েছি। আমি জানিনা, তোমাদেরকে যে বিষয়ে ওয়াদা দেয়া হয়েছে, সেটা কি নিকটে নাকি দূরে।
জহুরুল হক
কিন্তু যদি তারা ফিরে যায় তবে তুমি বলো - - ''আমি তোমাদের সাবধান করে দিয়েছি যথাযথভাবে। আর আমি জানি না তোমাদের যা ওয়াদা করা হয়েছে তা আসন্ন না দূরবর্তী।
সে (রসূল) আরো বলেছে: ‘আমার প্রভু! তুমি সত্য ও ন্যায্য ফায়সালা করে দাও। (আর হে মানুষ!) আমাদের প্রভু দয়াময় - রহমান। তোমরা যা বলছো, সে বিষয়ে তাঁরই সাহায্য চাওয়া যেতে পারে।’
জহুরুল হক
তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করে দাও।’’ আর আমাদের প্রভু পরম করুণাময় যাঁর সাহায্য প্রার্থনীয় তোমরা যা আরোপ কর তার বিরুদ্ধে।