Kitab

ইউসুফ

Chapter 12, 111 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • জহুরুল হক
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • বাংলা উচ্চারণ
About this chapter

মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১১১, রুকু সংখ্যা: ১২

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-০২কুরআন মজিদ আরবি ভাষায় নাযিল করা হয়েছে রসূলের শ্রোতাদের বুঝার জন্য। ০৩-০৬কুরআনের সর্বোত্তম কাহিনী ইউসুফের কাহিনী। ইউসুফের স্বপ্ন ও তাঁর পিতার সতর্কবাণী। ০৭-২০ইউসুফের বিরুদ্ধে তার ভাইদের ষড়যন্ত্র। তাঁকে অন্ধকূপে নিক্ষেপ। পিতার কাছে ইউসুফের ভাইদের বানোয়াট বক্তব্য। ব্যবসায়ী দল কর্তৃক ইউসুফকে উদ্ধার এবং মিশরে নিয়ে বিক্রয়। ২১-২২ইউসুফের জীবনে সৌভাগ্যের দ্বার উন্মুক্ত। ২৩-৩৫ইউসুফের বিরুদ্ধে নারীদের ষড়যন্ত্র এবং তাঁকে কারাগারে নিক্ষেপ। ৩৬-৪২কারাগারে ইউসুফের দাওয়াতি কার্যক্রম। দুই বন্দীর স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান। ৪৩-৫৩ইউসুফ কর্তৃক মিশর সম্রাটের স্বপ্নের ব্যাখ্যাদান। ইউসুফের ব্যাপারে সম্রাটের আগ্রহ। ইউসুফের শর্ত। ইউসুফের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত। ৫৪-৫৭মিশর সম্রাট কর্তৃক ইউসুফকে ক্ষমতাধর মন্ত্রী নিয়োগ। ৫৮-৯৩ইউসুফের ভাইদের মিশরে ইউসুফের কাছে খাদ্য সামগ্রীর জন্য আগমন। তারা ইউসুফকে চিনতে পারেনি, ইউসুফ তাদের চিনতে পারেন। ৯৪-১০১ইউসুফের ভাইয়েরা ইউসুফের পরিচয় অবগত হয়। ইউসুফ পিতা মাতা ও গোটা পরিবারবর্গকে মিশরে নিয়ে আসেন। ইউসুফের ছোটবেলার স্বপ্ন সত্য প্রমাণিত হয়। আল্লাহর প্রতি ইউসুফের কৃতজ্ঞতা। ১০২-১১১মুহাম্মদ সা.-এর প্রতি আল্লাহর উপদেশ। নবী চাইলেও অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনবেনা। অধিকাংশ ঈমানদার লোকই মুশরিক। নবীর চলার পথ। সকল নবী একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হন।
আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ লাম রা। এগুলো স্পষ্টভাষী আল কিতাবের (আল কুরআনের) আয়াত।

জহুরুল হক

আলিফ, লাম, রা। এসব সুস্পষ্ট গ্রন্থের আয়াতসমূহ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আলিফ - লাম - রা; এইগুলি সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লা - ম্ র- তিল্কা আ-ইয়া-তুল্ কিতা-বিল্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটিকে আমরা ‘আরবি কুরআন’ বানিয়ে পাঠিয়েছি, যাতে করে তোমরা (সহজেই) বুঝতে পারো।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা এটি অবতারণ করেছি - - আরবী কুরআন, যেন তোমরা বুঝতে পার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা আমিই অবতীর্ণ করিয়াছি আরবী ভাষায় কুরআন, যাহাতে তোমরা বুঝিতে পার।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না য় আন্যালনা-হু ক্বর্ ুআ-নান্ 'আরাবিয়্যাল্ লা'আল্লাকুম্ তা'ক্বিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার কাছে অবতীর্ণ এ কুরআনের সেরা কাহিনী সমূহের একটি এখন তোমাকে বলছি। এর আগে তুমি এ বিষয়ে না লোকদেরই একজন ছিলে।

জহুরুল হক

আমরা তোমার কাছে এই কুরআন প্রত্যাদেশের দ্বারা তোমার নিকট শ্রেষ্ঠ কাহিনী বর্ণনা করছি। আর অবশ্যই এর আগে তুমি তো ছিলে অনবহিতদের অন্তর্ভূক্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তোমার নিকট উত্তম কাহিনী বর্ণনা করিতেছি, ওহীর মাধ্যমে তোমার নিকট এই কুরআন প্রেরণ করিয়া; যদিও ইহার পূর্বে তুমি ছিলে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত।

বাংলা উচ্চারণ

নাহ্নু নাক্বুছ্ছু 'আলাইকা আহ্সানাল্ ক্বাছোয়াছি বিমা য় আওহাইনা য় ইলাইকা হা-যাল্ কৃর্আ-না অইন্ কুন্তা মিন্ ক্বাব্লিহী লামিনাল্ গ-ফিলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(ঘটনার শুরু তখন থেকে) যখন ইউসুফ তার পিতাকে বলেছিল: ‘আব্বু! আমি স্বপ্ন দেখেছি: এগারটি গ্রহ এবং সূর্য আর চাঁদ। আমি দেখলাম, তারা সবাই আমাকে সাজদা করছে (আমার প্রতি অবনত হয়ে আছে)।’

জহুরুল হক

স্মরণ করো! ইউসুফ তাঁর পিতাকে বললেন - - ''হে আমার আব্বা! আমি নিশ্চয়ই দেখলাম এগারোটি তারা আর সূর্য ও চন্দ্র - - তাদের দেখলাম আমার কারণে তারা সিজদারত।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, ইউসুফ তাহার পিতাকে বলিয়াছিল, ‘হে আমার পিতা! আমি তো দেখিয়াছি একাদশ নক্ষত্র, সূর্য এবং চন্দ্রকে; দেখিয়াছি উহাদেরকে আমার প্রতি সিজ্‌দাবনত অবস্থায়।’

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ ক্ব-লা ইয়ূসুফু লিআবীহি ইয়া য় আবাতি ইন্নি-রয়াইতু আহাদা আশারা কাওকাবাঁও অশ্শাম্সা অল্ ক্বমারা রায়াইতুহুম্ লী সা-জ্বিদীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(স্বপ্নের বিবরণ শুনে তার পিতা ইয়াকুব বললো): ‘‘পুত্র আমার! তোমার এ স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের বলোনা। তাহলে তারা তোমার কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করবে। আর শয়তান তো অবশ্যি মানুষের সুস্পষ্ট দুশমন (হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে)।

জহুরুল হক

তিনি বললেন, ''হে আমার পুত্র! তোমার স্বপ্ন তোমার ভাইদের কাছে বর্ণনা কর না পাছে তারা তোমার বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্তের ফন্দি আঁটে। নিঃসন্দেহ শয়তান মানুষের জন্য প্রকাশ্য শত্রু।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘হে আমার বৎস! তোমার স্বপ্ন - বৃত্তান্ত তোমার ভ্রাতাদের নিকট বর্ণনা করিও না; করিলে তাহারা তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করিবে। শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লা ইয়া-বুনাইয়্যা লা-তাক্ব্ছুছ্ রু'ইয়া-কা 'আলা য় ইখ্ওয়াতিকা ফাইয়াকীদূ লাকা কাইদা- ইন্নাশ্ শাইত্বোয়া-না লিল্ইন্সা-নি আ'দুওয়ুম্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এমনটিই হবে, তোমার প্রভু তোমাকে (নবুয়্যতের) জন্যে উপযুক্ত করবেন, বক্তব্যের তাৎপর্য উপলব্ধির শিক্ষা দান করবেন এবং তোমার প্রতি আর ইয়াকুবের উত্তর পুরুষদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করবেন, যেভাবে তা পূর্ণ করেছিলেন তোমার পিতামহ ইবরাহিম ও ইসহাকের প্রতি। অবশ্যি তোমার প্রভু সব বিষয়ে জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।’’

জহুরুল হক

''আর এইভাবে তোমার প্রভু তোমাকে মনোনীত করবেন, আর তোমাকে শিক্ষা দেবেন ঘটনাবলীর ব্যাখ্যা সম্পর্কে, আর তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণাঙ্গ করবেন তোমার প্রতি ও ইয়াকুবের বংশধরদের প্রতি, যেমন তিনি তা পূর্ণাঙ্গ করেছিলেন এর আগে তোমার পূর্বপুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাকের প্রতি। নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করিবেন এবং তোমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবেন এবং তোমার প্রতি ও ইয়া‘কূবের পরিবার - পরিজনের প্রতি তাঁহার অনুগ্রহ পূর্ণ করিবেন, যেভাবে তিনি ইহা পূর্বে পূর্ণ করিয়াছিলেন তোমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম ও ইসহাকের প্রতি। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

বাংলা উচ্চারণ

অকাযা-লিকা ইয়াজ্বতাবীকা রব্বুকা অইয়ু'আল্লিমুকা মিন্ তা'ওয়ীলিল্ আহা-দীছি অইয়ুতিম্মু নি'মাতাহূ 'আলাইকা অ'আলা য় আ-লি ইয়া'ক্বুবা কামা য় আতাম্মাহা 'আলায় আবাওয়াইকা মিন্ ক্বাব্লু ইব্রা-হীমা অইসহা-ক্ব্ ইন্না রব্বাকা 'আলীমুন্ হাকীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফ আর তার ভাইদের ঘটনাতে প্রশ্নকারীদের জন্যে রয়েছে (নিজেদের কৃতকর্মের পরিণতি উপলব্ধির) প্রমাণ।

জহুরুল হক

ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের মধ্যে নিশ্চয়ই নিদর্শন রয়েছে জিজ্ঞাসুদের জন্যে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ এবং তাহার ভ্রাতাদের ঘটনায় জিজ্ঞাসুদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে।

বাংলা উচ্চারণ

লাক্বদ্ কা-না ফী ইয়ূসুফা অ ইখ্অতিহী য় আ-ইয়া-তুল্ লিস্সা - য়িলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(সেই ঘটনার সূচনা হয় এভাবে যে,) ইউসুফের (সৎ) ভাইয়েরা নিজেরা নিজেরা বলাবলি করছিল: ‘‘আমাদের বাবার কাছে ইউসুফ আর তার সহোদর ভাইটি (বিনইয়ামিন) আমাদের চেয়ে বেশি প্রিয়। অথচ আমরা হলাম (দশ ভাইয়ের) একটি সংঘবদ্ধ (শক্তিশালী) দল। আসলে আমাদের পিতা (ইউসুফ আর তার ভাইকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়ে) সুস্পষ্ট ভুল করছেন।

জহুরুল হক

স্মরণ করো! তারা বলাবলি করলে - - ''ইউসুফ ও তার ভাই তো আমাদের আব্বার কাছে আমাদের চেয়েও বেশি প্রিয়, যদিও আমরা দলে ভারী। আমাদের আব্বা নিশ্চয়ই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছেন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, উহারা বলিয়াছিল, ‘আমাদের পিতার নিকট ইউসুফ এবং তাহার ভ্রাতাই আমাদের অপেক্ষা অধিক প্রিয়, অথচ আমরা একটি সংহত দল; আমাদের পিতা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই আছে।

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ ক্ব-লূ লাইয়ূসুফু অআখূহু আহাব্বু ইলা য় আবীনা মিন্না-অনাহ্নু 'উছ্বাহ্ ইন্না আবা-না- লাফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

চলো, ইউসুফকে মেরে ফেলো, কিংবা কোথাও ফেলে রেখে আসো। তবেই তোমাদের পিতার দৃষ্টি শুধু কেবল তোমাদের প্রতি নিবদ্ধ হবে। এই (অপরাধের) কাজটি সেরে ফেলার পর তোমরা ভালো মানুষ হয়ে যেয়ো।’’

জহুরুল হক

''ইউসুফকে মেরে ফেল অথবা কোনো দেশে নির্বাসন দাও, তাহলে তোমাদের আব্বার মুখ তোমাদের দিকেই নিবিষ্ট হবে, এবং তার পরে তোমরা ভাল লোক হতে পারবে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা ইউসুফকে হত্যা কর অথবা তাহাকে কোন স্থানে ফেলিয়া আস, ফলে তোমাদের পিতার দৃষ্টি শুধু তোমাদের প্রতিই নিবিষ্ট হইবে এবং তাহার পর তোমরা ভাল লোক হইয়া যাইবে।’

বাংলা উচ্চারণ

নিক্বুতুলূ ইয়ূসুফা আওয়িত্বরাহূহু র্আদ্বোয়াইঁ ইয়াখ্লু লাকুম্ অজ্বহু আবীকুম্ অতাকূনূ মিম্ বা'দিহী ক্বওমান্ ছোয়া-লিহীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ সময় তাদের একজন বললো: ‘ইউসুফকে একেবারে জানে মেরে ফেলোনা, বরং যদি কিছু করতেই হয়, তবে কোনো কুয়ার তলায় ফেলে আসো, তাতে করে কোনো পথিক দল তাকে তুলে (দূর দেশে) নিয়ে যাবে।’

জহুরুল হক

তাদের মধ্যে থেকে একজন বক্তা বললে - - ''ইউসুফকে কাতল করো না, তাকে বরং কোনো কুয়োর তলায় ফেলে দাও, ভ্রমণকারীদের কেউ তাকে তুলেও নিতে পারে, - - যদি তোমরা কাজ করতে চাও।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের মধ্যে একজন বলিল, তোমরা ইউসুফকে হত্যা করিও না এবং যদি কিছু করিতেই চাও তবে তাহাকে কোন কূপের গভীরে নিক্ষেপ কর, যাত্রীদলের কেহ তাহাকে তুলিয়া লইয়া যাইবে।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব -লা ক্ব - য়িলুম্ মিন্হুম্ লা-তাক্বুত্বুলূ ইয়ূসুফা অ আল্ক্ব ূহু ফী গইয়া-বাতিল্ জ্বুব্বি ইয়াল্তাক্বিত্বহু বা'দ্বস সাইয়্যা-রতি ইন্ কুন্তুম্ ফা'ইলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(এই সলা পরামর্শের পর পিতার কাছে) গিয়ে তারা বললো: ‘‘বাবা! ইউসুফের ব্যাপারে আপনি আমাদের উপর আস্থা রাখেননা কেন? অথচ আমরা তো ইউসুফের কল্যাণই কামনা করি।

জহুরুল হক

তারা বলল - - ''হে আমাদের আব্বা! তোমার কি হয়েছে যেজন্যে তুমি ইউসুফের ব্যাপারে আমাদের বিশ্বাস কর না, অথচ নিঃসন্দেহ আমরা তো তার শুভাকাঙ্খী?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, “হে আমাদের পিতা! ইউসুফের ব্যাপারে তুমি আমাদেরকে বিশ্বাস করিতেছ না কেন, অথচ আমরা তো তাহার শুভাকাঙ্ক্ষী?

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব -লূ ইয়া য় আবা-না- মা-লাকা লা-তামান্না-'আলা-ইয়ূসুফা অইন্না- লাহূ লানা-সিহূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আগামিকাল ওকে আমাদের সাথে পাঠান, ফলমূল পেড়ে খাবে, দৌড় দোপ করবে, এভাবে মনটাকে চাংগা করবে। আমরা অবশ্যি তার হিফাযত করবো।’’

জহুরুল হক

''তাকে আমাদের সঙ্গে কালকে পাঠিয়ে দাও, সে আমোদ করুক ও খেলাধুলা করুক, আর আমরা তো নিশ্চয়ই তার হেফাজতকারী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তুমি আগামীকাল তাহাকে আমাদের সঙ্গে প্রেরণ কর, সে তৃপ্তি সহকারে খাইবে ও খেলাধুলা করিবে। আমরা অবশ্যই তাহার রক্ষণাবেক্ষণ করিব।’

বাংলা উচ্চারণ

র্আসিল্হু মা'আনা-গদাঁই ইর্য়াতা' অইয়াল্'আব্ অইন্না-লাহূ লাহা-ফিজূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের পিতা বললো: ‘আমার আশংকা হয়, তোমরা তাকে নিয়ে গিয়ে তার ব্যাপারে অমনোযোগী হয়ে পড়বে আর সে সুযোগে নেকড়ে এসে তাকে খেয়ে ফেলবে, এই ভাবনাটাই বিষন্ন করে তুলছে আমাকে।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''এতে অবশ্যই আমাকে কষ্ট দেবে যে তোমরা তাকে নিয়ে যাবে, আর আমি ভয় করছি পাছে নেকড়ে তাকে খেয়ে ফেলে, যদি তোমরা তার প্রতি বেখেয়াল হয়ে যাও!’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘ইহা আমাকে অবশ্যই কষ্ট দিবে যে, তোমরা তাহাকে লইয়া যাইবে এবং আমি আশংকা করি তাহাকে নেকড়ে বাঘ খাইয়া ফেলিবে, আর তোমরা তাহার প্রতি অমনোযোগী থাকিবে।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইন্নী লাইয়াহ্যুনুনী য় আন্ তায্হাবূ বিহী অআখ-ফূ আইঁইয়াকুলাহুয্ যিবু অআন্তুম্ 'আনহু গফিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা একটি শক্তিশালী দল থাকা সত্ত্বেও যদি তাকে নেকড়ে খেয়ে ফেলে, তবে তো আমরা একেবারেই ব্যর্থ।’

জহুরুল হক

তারা বললে, ''আমরা দলে ভারী হওয়া সত্ত্বেও যদি তাকে নেকড়ে খেয়ে ফেলে তবে আমরাই তো নিশ্চয় সর্বহারা হব।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘আমরা একটি সংহত দল হওয়া সত্ত্বেও যদি নেকড়ে বাঘ তাহাকে খাইয়া ফেলে, তবে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্তই হইব।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ লায়িন আকালাহুয্ যিবু অনাহ্নু 'উছ্বাতুন্ ইন্না য় ইযা ল্লাখ-সিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে (পিতার উপর একটা মানসিক চাপ প্রয়োগ করে) তারা যখন তাকে নিয়ে গেলো এবং তাকে কূপের তলায় নিক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিলো (এবং নিক্ষেপ করলো)। তখন আমরা তার কাছে অহি (বার্তা) প্রেরণ করলাম: ‘এমন একদিন অবশ্যি আসবে, যখন তুমি তাদের এই অপকর্মের কথা তাদের সামনে তুলে ধরবে, অথচ তারা তোমার পরিচয় বুঝতে পারবেনা।’

জহুরুল হক

তারপর তারা যখন তাকে নিয়ে গেল এবং সবাই একমত হল যে তারা তাকে ফেলে দেবে কুয়োর তলায়, তখন আমরা তার কাছে প্রত্যাদেশ দিলাম - - ''তুমি তাদের অবশ্যই জানিয়ে দেবে তাদের এই কাজের কথা, আর তারা চিনতেও পারবে না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহারা যখন তাহাকে লইয়া গেল এবং তাহাকে কূপের গভীরে নিক্ষেপ করিতে একমত হইল, এমতাবস্থায় আমি তাহাকে জানাইয়া দিলাম, ‘তুমি উহাদেরকে উহাদের এই কর্মের কথা অবশ্যই বলিয়া দিবে যখন উহারা তোমাকে চিনিবে না।’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-যাহাবূ বিহী- অ আজ্বমাঊ'য় আইঁ ইয়াজ্বআলূহু ফী গইয়া-বাতিল্ জ্বুব্বি অ আওহাইনা য় ইলাইহি লাতুনাব্বিয়ান্নাহুম্ বিআম্রিহিম্ হা-যা- অ হুম্ লা-ইয়াশ্'ঊরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা এশার সময় কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার কাছে এসে উপস্থিত হয়।

জহুরুল হক

আর তারা তাদের পিতার কাছে কাঁদতে কাঁদতে এলো রাত্রিবেলায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা রাত্রির প্রথম প্রহরে কাঁদিতে কাঁদিতে উহাদের পিতার নিকট আসিল।

বাংলা উচ্চারণ

অজ্বা - য়ূ য় আবা-হুম্ 'ইশা - য়াঁই ইয়াব্কূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘আমরা তো সত্য বললেও আপনি কখনো আমাদের কথা বিশ্বাস করবেন না, (আমরা সত্যই বলছি) ইউসুফকে আমাদের মালপত্রের কাছে রেখে আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করছিলাম, এই ফাঁকে নেকড়ে এসে ওকে খেয়ে ফেলেছে।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''হে আমাদের আব্বা! আমরা দৌড়াদেড়ি করে চলেছিলাম, আর ইউসুফকে রেখে গিয়েছিলাম আমাদের আসবাবপত্রের পাশে, তখন নেকড়ে তাকে খেয়ে ফেলেছে, কিন্তু তুমি তো আমাদের প্রতি বিশ্বাসকারী হবে না, যদিও আমরা হচ্ছি সত্যবাদী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘হে আমাদের পিতা! আমরা দৌড়ের প্রতিযোগিতা করিতেছিলাম এবং ইউসুফকে আমাদের মালপত্রের নিকট রাখিয়া গিয়াছিলাম, অতঃপর নেকড়ে বাঘ তাহাকে খাইয়া ফেলিয়াছে; কিন্তু তুমি তো আমাদেরকে বিশ্বাস করিবে না, যদিও আমরা সত্যবাদী।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ ইয়ায় আবা-না য় ইন্না-যাহাব্না-নাস্তাবিক্বু অতারাক্না-ইয়ূসুফা 'ইনদা মাতা-'ইনা-ফাআকালাহুয্ যিবু অমা য় আন্তা বিমুমিনিল্ লানা- অলাও কুন্না-ছোয়া-দ্বিক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (পিতার কাছে নিজেদেরকে সত্যবাদী প্রমাণ করার জন্যে) ইউসুফের জামায় মিথ্যা রক্ত মেখে নিয়ে এসেছিল। তাদের পিতা বললো: ‘(না, তা নয়) বরং তোমাদের মন তোমাদেরকে একটা কাহিনী সাজিয়ে দিয়েছে। আর আমার জন্যে ধৈর্য ধারণ করাই উত্তম। তোমরা যে (মিথ্যা) কাহিনী সাজিয়েছো, তার মোকাবেলায় একমাত্র আল্লাহ্ই (আমার) সাহায্যের মালিক।’

জহুরুল হক

আর তারা এল তাঁর সার্টের উপরে ঝুটা রক্ত নিয়ে। তিনি বললেন - - ''না, তোমাদের অন্তর তোমাদের জন্য এই বিষয়টি উদ্ভাবন করেছে, কিন্তু ধৈর্যধারণই উত্তম। আর ‌ই সাহায্য কামনার স্থল তোমরা যা বর্ণনা করছ সে - ক্ষেত্রে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা তাহার জামায় মিথ্যা রক্ত লেপন করিয়া আনিয়াছিল। সে বলিল, ‘না, তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি কাহিনী সাজাইয়া দিয়াছে। সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যাহা বলিতেছ সে বিষয়ে একমাত্র ‌ই আমার সাহায্যস্থল।’

বাংলা উচ্চারণ

অজ্বা - য়ূ 'আলা-ক্বমীছিহী বিদামিন্ কাযিব্ ক্ব-লা বাল্ সাওঅলাত্ লাকুম্ আন্ফুসুকুম্ আম্রা- ফাছোয়াব্রুন্ জ্বামীল্ অল্লা-হুল্ মুস্তা'আ-নু 'আলা- মা- তাছিফূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এদিকে (ইউসুফকে নিক্ষেপ করা কূপের নিকট) এসে থামলো একদল পথিক। তারা তাদের পানি সংগ্রহকারীকে (পানির জন্যে কূপের দিকে) পাঠিয়ে দেয়। সে গিয়ে তার বালতি (bucket) ফেলে কুয়োতে। (ইউসুফকে দেখে) সে বিস্ময়ে বলে উঠে: ‘দারুণ সুখবর, (দেখে যান) এখানে এক বালক!’ তারপর তারা তাকে একটি পণ্য বিক্রয়ের মাল (দাস) হিসেবে লুকিয়ে রাখে। তারা (তাকে নিয়ে) যা কিছু করছিল, সে বিষয়ে ভালোভাবেই অবহিত ছিলেন।

জহুরুল হক

এদিকে ভ্রমণকারীরা এল এবং তাদের পানিওয়ালাকে পাঠাল, সে তখন তার বালতি নামিয়ে দিল। সে বললে, ''কি সুখবর! এ যে একটি ছোকরা!’’ অতঃপর তারা তাঁকে লুকিয়ে রাখল পণ্য - দ্রব্যের মতো। আর তারা যা করেছিল সে - সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এক যাত্রীদল আসিল, উহারা উহাদের পানি সংগ্রাহককে প্রেরণ করিল। সে তাহার পানির ডোল নামাইয়া দিল। সে বলিয়া উঠিল, ‘কী সুখবর! এ যে এক কিশোর!’ অতঃপর উহারা তাহাকে পণ্যরূপে লুকাইয়া রাখিল। উহারা যাহা করিতেছিল সে বিষয়ে ‌ সবিশেষ অবহিত ছিলেন।

বাংলা উচ্চারণ

অ জ্বা - য়াত্ সাইয়্যা-রতুন্ ফার্আসালূ ওয়া-রিদাহুম্ ফাআদ্লা- দাল্অহ্ ক্ব-লা ইয়া-বুশরা- হা-যা-গুলা-ম্ অ আর্সারূহু বিদ্বোয়া-'আহ্ অল্লা-হু 'আলীমুম্ বিমা-ইয়া'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশেষে তারা তাকে বিক্রি করে ফেলে সামান্য দামে, মাত্র কয়েক দিরহামে। আসলে তারা ছিলো তার ব্যাপারে অপ্রত্যাশী।

জহুরুল হক

আর তারা তাঁকে বিক্রি করল সামান্য মূল্যে - - গুণতির কয়েকটি দিরহামে, আর তাঁর প্রতি তারা ছিল অনাসক্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং উহারা তাহাকে বিক্রয় করিল স্বল্প মূল্যে - মাত্র কয়েক দিরহামের বিনিময়ে, উহারা ছিল তাহার ব্যাপারে নির্লোভ।

বাংলা উচ্চারণ

অশারাওহু বিছামানিম্ বাখ্সিন্ দার-হিমা মা'দূদাতিন্ অকা-নূ ফীহি মিনায্ যাহিদীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মিশরের যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করে নেয়, সে তার স্ত্রীকে বলেছিল: ‘একে সুন্দর ও সম্মানজনকভাবে রাখো, সে আমাদের জন্যে উপকারী হবার সম্ভাবনা আছে, অথবা আমরা তাকে আমাদের ছেলেই বানিয়ে নেবো।’ এভাবে আমরা ইউসুফকে সে দেশে প্রতিষ্ঠিত হবার জায়গা করে দেই এবং যাবতীয় পরিস্থিতি ও ঘটনাবলির তাৎপর্য উপলব্ধি করার ব্যবস্থা করি। তাঁর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেই থাকেন। তবে অধিকাংশ মানুষ তা জানেনা।

জহুরুল হক

আর মিশরীয় যে তাঁকে কিনেছিল সে তার স্ত্রীকে বললে - - ''সম্মানজনকভাবে এর থাকবার জায়গা কর, হয়ত সে আমাদের উপকারে আসবে, অথবা তাকে আমরা পুত্ররূপে গ্রহণ করতে পারি।’’ আর এইভাবে আমরা ইউসুফের জন্য বাসস্থান ঠিক করে দিলাম সে - দেশে, যেন তাঁকে শেখাতে পারি ঘটনাবলীর ব্যাখ্যা সন্বন্ধে। তাঁর কাজকর্মে সর্বেসর্বা, কিন্তু অধিকাংশ লোকেই জানে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মিসরের যে ব্যক্তি তাহাকে ক্রয় করিয়াছিল, সে তাহার স্ত্রীকে বলিল, ‘ইহার থাকিবার সম্মানজনক ব্যবস্থা কর, সম্ভবত সে আমাদের উপকারে আসিবে অথবা আমরা ইহাকে পুত্ররূপেও গ্রহণ করিতে পারি।’ এবং এইভাবে আমি ইউসুফকে সেই দেশে প্রতিষ্ঠিত করিলাম তাহাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবার জন্য। ‌ তাঁহার কার্য সম্পাদনে অপ্রতিহত; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ইহা অবগত নয়।

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লা ল্লাযিশ্ তারা-হু মিম্ মিছ্রা লিম্রায়াতিহী য় আক্রিমী মাছ্ওয়া-হু 'আসা য় আইঁ ইয়ান্ফা'আনা য় আও নাত্তাখিযাহূ অলাদা- অকাযা-লিকা মাক্কান্না- লি ইয়ূসুফা ফিল্ র্আদ্বি অ লিনু'আল্লিমাহূ মিন্ তাওয়ীলিল্ আহা-দীছ্ অল্লা-হু গলিবুন্ 'আলা য় আম্রিহী অলা-কিন্না আক্ছারা ন্না-সি লা-ইযা'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ইউসুফ) যখন পূর্ণ যৌবনে, পূর্ণ বয়সে (full manhood - এ) উপনীত হয়, আমি তাকে প্রদান করি প্রজ্ঞা এবং জ্ঞান (নবুয়্যত)। আর এভাবেই আমি উপকারী পুণ্যবান লোকদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।

জহুরুল হক

আর যখন তিনি তাঁর পূর্ণ যৌবনে পৌঁছুলেন, আমরা তাঁকে বুদ্ধি ও বিদ্যা দান করলাম। আর এইভাবে আমরা সৎকর্মশীলদের পুরস্কার প্রদান করি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হইল তখন আমি তাহাকে হিক্‌মত ও জ্ঞান দান করিলাম এবং এইভাবেই আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করি।

বাংলা উচ্চারণ

অ লাম্মা-বালাগা আশুদ্দাহূ য় আ-তাইনা-হু হুক্মাঁও অ ই'ল্মা-অকাযা-লিকা নাজ্বযিল্ মুহ্সিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এদিকে যে মেয়ে লোকটির ঘরে সে (ইউসুফ) অবস্থান করছিল, সে তাকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার পথ অবলম্বন করে। একদিন তো সে ঘরের সব দরজা বন্ধ করে দিয়েই (ইউসুফকে) আহবান জানায়: ‘ওহে, এসো।’ সে (ইউসুফ) বললো: ‘আমি (এমন কর্ম থেকে) আল্লাহর আশ্রয় চাই। তিনিই আমার প্রভু। অতি উত্তম মর্যাদা তিনি আমাকে দান করেছেন (একাজ করা আমার পক্ষে অসম্ভব)। আর অন্যায়কারীরা তো কিছুতেই সাফল্য অর্জন করেনা।’

জহুরুল হক

আর যে মহিলায় গৃহে তিনি ছিলেন সে তাঁকে কামনা করল তাঁর অন্তরঙ্গতার, আর বন্ধ করে দিলে দরজাগুলো ও বললে - - ''এসো হে তুমি!’’ তিনি বললেন - - '' সহায় হোন! আমার প্রভু নিশ্চয়ই আমার আশ্রয়স্থল অতি উত্তম বানিয়েছেন। নিঃসন্দেহ তিনি অন্যায়কারীদের উন্নতি করেন না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে যে স্ত্রীলোকের গৃহে ছিল সে তাহা হইতে অসৎকর্ম কামনা করিল এবং দরজাগুলি বন্ধ করিয়া দিল ও বলিল, ‘আস।’ সে বলিল, ‘আমি ‌র শরণ লইতেছি, তিনি আমার প্রভু; তিনি আমার থাকিবার সুন্দর ব্যবস্থা করিয়াছেন। নিশ্চয়ই সীমালংঘনকারীরা হয় না।’

বাংলা উচ্চারণ

অ র-অদাত্ হুল্লাতী হুঅ ফী বাইতিহা-'আন্ নাফ্সিহী অ গল্লাক্বাতিল্ আব্ওয়া-বা অক্ব-লাত্ হাইতা লাক্ ক্ব-লা মা'আ-যাল্লাহি ইন্নাহূ রব্বী য় আহ্সানা মাছ্ওয়া-ইয়া ইন্নাহূ লা-ইয়ুফ্লিহুজ্ জোয়া-লিমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মেয়েলোকটি তো তার প্রতি আসক্ত হয়েই ছিলো, আর সেও তার প্রতি আসক্তিতে জড়িয়ে পড়তো, যদি তার প্রভুর স্পষ্ট প্রমাণ (evidence) তার দৃষ্টি পথে না থাকতো। এটা করা হয়েছে এজন্যে, যেনো এ পন্থায় আমি তার থেকে অন্যায় ও অশ্লীলতা দূর করে দিতে পারি। অবশ্যি সে ছিলো আমার নির্বাচিত দাসদের একজন।

জহুরুল হক

আর সে নারী নিশ্চয়ই তাঁর প্রতি আসক্ত হয়েছিল, আর তিনিও তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়তেন যদি না তিনি তাঁর প্রভুর স্পষ্ট - প্রমাণ প্রত্যক্ষ করতেন। এইভাবে আমরা যেন তাঁর কাছ থেকে হটিয়ে দিতে পারি মন্দকাজ ও অশ্লীলতা। নিঃসন্দেহ তিনি ছিলেন আমাদের একান্ত অনুরক্ত দাসদের অন্যতম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই রমণী তো তাহার প্রতি আসক্ত হইয়াছিল এবং সেও উহার প্রতি আসক্ত হইয়া পড়িত যদি না সে তাহার প্রতিপালকের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করিত। আমি তাহাকে মন্দ কর্ম ও অশ্লীলতা হইতে বিরত রাখিবার জন্য এইভাবে নিদর্শন দেখাইয়াছিলাম। সে তো ছিল আমার বিশুদ্ধচিত্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বাদ্ হাম্মাত্ বিহী অহাম্মা বিহা- লাওলা য় র্আরায়া- বুরহা-না রব্বিহ্ কাযা-লিকা লিনাছ্রিফা 'আন্হুস্ সূ - য়া অল্ ফাহ্শা - য়্ ইন্নাহূ মিন্ ই'বা-দিনাল্ মুখলাছীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তারা একজন আরেকজনের পেছনে দরজার দিকে দৌড়ায়, আর মেয়েলোকটি পেছন থেকে ইউসুফের জামা টেনে ধরে ছিড়েঁই ফেলে এবং (দৌড়ে এসে দরজায় পৌঁছুতেই) তারা তার কর্তাকে (স্বামীকে) দরজায় দেখতে পায়। তাকে দেখে মেয়েলোকটি বলে উঠে: ‘যে তোমার স্ত্রীর প্রতি অসৎ কর্মের ইচ্ছা পোষণ করে, কারাগারে নিক্ষেপ করা কিংবা কঠিন শাস্তি দেয়া ছাড়া তার আর কী প্রতিবিধান হতে পারে?’

জহুরুল হক

আর তারা দুজনেই দরজার দিকে দৌড়লো, আর সে তাঁর জামা পেছনের দিক থেকে ছিড়ে ফেঁললো, আর তারা দুজনে দরজার নিকটে দেখা পেল তার স্বামীর। সে বললে - - ''যে তোমার পরিবারের সঙ্গে কুকর্ম কামনা করে তার পরিণাম কারাদন্ড বা মর্মন্তুদ শাস্তি ছাড়া আর কী হতে পারে?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা উভয়ে দৌড়াইয়া দরজার দিকে গেল এবং স্ত্রীলোকটি পিছন হইতে তাহার জামা ছিঁড়িয়া ফেলিল, তাহারা স্ত্রীলোকটির স্বামীকে দরজার নিকট পাইল। স্ত্রীলোকটি বলিল, ‘যে তোমার পরিবারের সঙ্গে কুকর্ম কামনা করে তাহার জন্য কারাগারে প্রেরণ অথবা অন্য কোন মর্মন্তুদ শাস্তি ব্যতীত আর কী দণ্ড হইতে পারে?’

বাংলা উচ্চারণ

অস্ তাবাক্বল্ বা-বা অক্বদ্দাত্ ক্বামীছোয়াহূ মিন্ দুবুরিঁও অআল্ফা ইয়া- সাইয়্যিদাহা-লাদাল্ বা-ব্ ক্ব-লাত্ মা-জ্বাযা - য়ু মান্ আর-দা বিআহ্লিকা সূ - য়ান্ ইল্লা য় আইঁ ইয়ুস্জ্বানা আও 'আযা-বুন্ আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন ইউসুফ বললো: ‘উনি আমাকে অসৎ কর্মে জড়িত করার চেষ্টা করেছেন।’ (দুইজনের দুই রকম কথার প্রেক্ষিতে) মেয়েলোকটির পরিবারেরই একজন এ বিষয়ে সাক্ষ্য (ফায়সালা) দেয়: ‘‘ইউসুফের জামা যদি সামনের দিকে ছিড়ে গিয়ে থাকে তবে আপনার স্ত্রীর কথাই ঠিক এবং ইউসুফের বক্তব্য অসত্য।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''উনিই আমাকে কামনা করেছিলেন আমার অন্তরঙ্গতার।’’ আর তারই পরিবারের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলে - - ''যদি তার সার্টটি সামনের দিকে ছেঁড়া হয় তবে ইনি সত্যবাদী এবং ও মিথ্যাবাদীদের মধ্যের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ বলিল, ‘সে - ই আমা হইতে অসৎকর্ম কামনা করিয়াছিল।’ স্ত্রীলোকটির পরিবারের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিল, ‘যদি উহার জামার সম্মুখ দিক ছিন্ন করা হইয়া থাকে তবে স্ত্রীলোকটি সত্য কথা বলিয়াছে এবং পুরুষটি মিথ্যাবাদী,

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা হিয়া রা-অদাত্নী 'আন্ নাফ্সী অ শাহিদা শা-হিদুম্ মিন্ আহ্লিহা- ইন্ কা-না ক্বমীছুহূ ক্বুদ্দা মিন্ ক্বুবুলিন্ ফাছদাক্বত্ অ হুওয়া মিনা ল্কা-যিবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর ইউসুফের জামা যদি পেছন দিকে ছিড়েঁ গিয়ে থাকে, তবে আপনার স্ত্রীর কথা অসত্য এবং ইউসুফের বক্তব্য সঠিক।’’

জহুরুল হক

''আর যদি তার সার্টটি পেছনের দিকে ছেঁড়া থাকে তবে ইনিই মিথ্যাবাদী আর ও সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘কিন্তু উহার জামা যদি পিছন দিক হইতে ছিন্ন করা হইয়া থাকে তবে স্ত্রীলোকটি মিথ্যা বলিয়াছে এবং পুরুষটি সত্যবাদী।’

বাংলা উচ্চারণ

অইন্ কা-না ক্বামীছুহূ ক্বুদ্দা মিন্ দুবুরিন্ ফাকাযাবাত্ অ হুওয়া মিনাছ্ ছোয়া-দিক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার স্বামী যখন দেখলো, ইউসুফের জামা পেছন দিকে ছেঁড়া, তখন সে বলে উঠলো: ‘‘অবশ্যি এটা তোমাদের নারীদেরই ষড়যন্ত্র। নি:সন্দেহে তোমাদের নারীদের ছলনা - চক্রান্ত ভীষণ ব্যাপার।’

জহুরুল হক

সুতরাং সে যখন দেখলে যে তাঁর জামাটি পেছনের দিকে ছেঁড়া তখন সে বললে - - ''এ নিঃসন্দেহ তোমাদের ছলাকলা, তোমাদের ছলচাতুরী বড়ই ভীষণ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

গৃহস্বামী যখন দেখিল যে, তাহার জামা পিছন দিক হইতে ছিন্ন করা হইয়াছে তখন সে বলিল, ‘নিশ্চয়ই ইহা তোমাদের নারীদের ছলনা, তোমাদের ছলনা তো ভীষণ।’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-রায়া-ক্বমীছোয়াহূ ক্বুদ্দা মিন্ দুবুরিন্ ক্ব-লা ইন্নাহূ মিন্ কাইদিকুন্ ইন্না কাইদাকুন্না 'আজীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ইউসুফ! তুমি বিষয়টি উপেক্ষা করো। আর হে আমার স্ত্রী! তুমি তোমার অপরাধের জন্যে ক্ষমা চাও। কারণ, অবশ্যি তুমি অপরাধী।’’

জহুরুল হক

''হে ইউসুফ, তুমি এ বিষয়ে কিছু মনে করো না; আর তুমি ক্ষমা প্রার্থনা কর তোমার অপরাধের জন্য; নিঃসন্দেহ তুমি হচ্ছো পাপিষ্ঠাদের মধ্যেকার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে ইউসুফ! তুমি ইহা উপেক্ষা কর এবং হে নারী! তুমি তোমার অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর; তুমিই তো অপরাধী।’

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ূসুফু আ'রিদ্ব্ 'আন্ হাযা-অস্তাগ্ফিরী লিযাম্বিকি ইন্নাকি কুন্তি মিনাল্ খ-ত্বিয়ীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(এ ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে) নগরীতে একদল নারী বলাবলি করতে থাকে: ‘আযীযের স্ত্রী তার যুবক দাসের প্রতি আসক্ত হয়েছে! প্রেম তাকে পাগল করে ছেড়েছে। আমাদের মতে সে পরিষ্কার ভুল পথে পা বাড়িয়েছে।’

জহুরুল হক

আর শহরের নারীরা বললে, ''আজীযের স্ত্রী তার যুবক দাসকে কামনা করেছিল তার অন্তরঙ্গতার! নিশ্চয়ই সে তাকে প্রেমে অভিভূত করেছে। আমরা তাকে দেখছি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পড়েছে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নগরে কতিপয় নারী বলিল, ‘আযীযের স্ত্রী তাহার যুবক দাস হইতে অসৎ কর্ম কামনা করিতেছে, প্রেম তাহাকে উন্মত্ত করিয়াছে, আমরা তো তাহাকে দেখিতেছি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে।’

বাংলা উচ্চারণ

অ ক্ব-লা নিস্অতুন্ ফিল্ মাদীনাতিম্ রয়াতুল্ 'আযীযি তুরা-ওয়িদু ফাতাহা-'আন্ নাফ্সিহী ক্বদ্ শাগফাহা-হুব্বা- ইন্না-লানারা-হা ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(আযীযের স্ত্রী) যখন তাদের এই অভিযোগ শুনতে পায়, সে তাদের ডেকে পাঠায় এবং তাদের জন্যে একটি ভোজ উৎসব - এর আয়োজন করে। (খাবার সামগ্রী কেটে খাবার জন্যে) সে প্রত্যেকের সামনে একটি করে ছুরি রেখে দেয়। (অতপর তারা কেটে কেটে খেতে আরম্ভ করলে) সে ইউসুফকে বলে: ‘এদের সামনে বেরিয়ে এসো।’ তারা যখন ইউসুফকে দেখলো, তাকে অতি উচ্চ, মহিমান্বিত পেয়ে অভিভূত ও উত্তেজিত (exalted) হয়ে পড়ে এবং নিজেদের হাত কেটে ফেলে! তারা বলে উঠে: ‘হায় , এ - তো মানুষ নয়, এ - তো এক সম্ভ্রান্ত (noble) ফেরেশতা!’

জহুরুল হক

সুতরাং সে যখন শুনলে তাদের ফন্দির কথা, সে তাদের ডেকে পাঠালে এবং তাদের জন্য তৈরি করলে গদির আসন, আর তাদের মধ্যের প্রত্যেককে দিলে একটি করে ছুরি, আর বললে - - ''বেরিয়ে এস এদের সামনে।’’ অতঃপর তারা যখন তাঁকে দেখল তাঁকে ভাবলো অতুলনীয়, আর নিজেদের হাত কেটে ফেলল ও বললো - - ''‌র কি নিখুঁত সৃষ্টি! এ তো মানুষ নয়, এ তো এক মহিমান্নিত ফিরিশ্‌তা।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্ত্রীলোকটি যখন উহাদের ষড়যন্ত্রের কথা শুনিল, তখন সে উহাদেরকে ডাকিয়া পাঠাইল, উহাদের জন্য আসন প্রস্তুত করিল, উহাদের প্রত্যেককে একটি করিয়া ছুরি দিল এবং ইউসুফকে বলিল, ‘উহাদের সম্মুখে বাহির হও।’ অতঃপর উহারা যখন তাহাকে দেখিল তখন উহারা তাহার গরিমায় অভিভূত হইল এবং নিজেদের হাত কাটিয়া ফেলিল। উহারা বলিল, ‘অদ্ভুত ‌র মহাত্ম্য! এ তো মানুষ নয়, এ তো এক মহিমান্বিত ফিরিশতা!’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-সামি'আত্ বিমাক্রিহিন্না আরসালাত্ ইলাইহিন্না অ আ'তাদাত্ লাহুন্না মুত্তাকায়াঁও অআ-তাত্ কুল্লা ওয়া-হিদাতিম্ মিন্হুন্না সিক্কীনাঁও অক্ব-লাতিখ্রুজ্ব্ 'আলাইহিন্না ফালাম্মা- রায়াইনাহূ য় আর্ক্বানাহূ অক্বাত্ত্বোয়া'না আইদিয়াহুন্না অক্বুল্না হা-শা লিল্লা-হি মা- হাযা- বাশারা- ইন্ হাযা য় ইল্লা-মালাকুন্ কারীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(এবার আযীযের স্ত্রী বলে উঠে: ‘এ হলো সেই যুবক, যার ব্যাপারে তোমরা আমাকে তিরস্কার করছিলে। হ্যাঁ, একেই আমি আমার কামনায় জড়িত করতে চাইছি, কিন্তু সে আমার আহবান প্রত্যাখ্যান করে চলেছে। এরপরও যদি সে আমি যা করতে বলি তা না করে, তবে অবশ্যি তাকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হবে এবং তখন হবে সে চরম লাঞ্ছিত - অপদস্ত।’

জহুরুল হক

সে বললে - - ''এ - ই তো সেই যার সন্বন্ধে তোমরা আমার নিন্দা করেছ, আর আমি অবশ্যই তাকে কামনা করেছিলাম তার অন্তরঙ্গতার, কিন্তু সে নিজেকে সংযত রেখেছিল। আর আমি তাকে যা আদেশ করি তা যদি সে না করে তবে সে নিশ্চিত কারারুদ্ধ হবে এবং সে হবে অবশ্যই ছোটলোকদের মধ্যেকার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘এ - ই সে যাহার সম্বন্ধে তোমরা আমার নিন্দা করিয়াছ। আমি তো তাহা হইতে অসৎ কর্ম কামনা করিয়াছি। কিন্তু সে নিজেকে পবিত্র রাখিয়াছে; আমি তাহাকে যাহা আদেশ করিয়াছি সে যদি তাহা না করে, তবে সে কারারুদ্ধ হইবেই এবং হীনদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লাত্ ফাযা-লিকুন্নাল্লাযী লুম্তুন্নানী ফীহ্ অলাক্বদ্ রা-অত্তুহূ 'আন্ নাফ্সিহী ফাস্তা'ছোয়াম্ অলায়িল্লাম্ ইয়াফ্'আল্ মা য় আ-মুরুহূ লাইয়ুস্জ্বানান্না অলাইয়াকূনাম্ মিনাছ্ ছোয়া-গিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফ (মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে) বললো: ‘আমার প্রভু! এই নারীরা আমাকে যে কাজের দিকে ডাকছে, তা থেকে কারাগারই আমার অধিক প্রিয়। (প্রভু!) তুমি যদি এদের ছলনা - চক্রান্ত আমার থেকে সরিয়ে না নাও, তবে তো আমি এদের ছলনার ফাঁদে ফেসে যাবো আর অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বো জাহিলদের!’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! তারা আমাকে যার প্রতি আহ্বান করছে তার চেয়ে কারাগারই আমার কাছে অধিক প্রিয়। আর তুমি যদি আমার থেকে তাদের ছলনা দূরীভূত না কর তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব, ফলে আমি হয়ে যাব অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! এই নারীগণ আমাকে যাহার প্রতি আহ্বান করিতেছে তাহা অপেক্ষা কারাগার আমার নিকট অধিক প্রিয়। আপনি যদি উহাদের ছলনা হইতে আমাকে রক্ষা না করেন তবে আমি উহাদের প্রতি আকৃষ্ট হইয়া পড়িব এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হইব।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা রব্বিস্ সিজ্বনু আহাব্বু ইলাইয়্যা মিম্মা- ইয়াদ্'ঊনানী য় ইলাইহি অইল্লা-তাছ্রিফ্ 'আন্নী কাইদাহুন্না আছ্বু ইলাইহিন্না অআকুম্মিনাল্ জ্বা-হিলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তার প্রভু (মহান ) তার দোয়া কবুল করেন এবং সেই নারীদের ছলনা - ষড়যন্ত্র থেকে তাকে রক্ষা করেন। (কারণ) তিনি তো সবই শুনেন, সবই জানেন।

জহুরুল হক

অতএব তাঁর প্রভু তাঁর প্রতি সাড়া দিলেন আর তাঁর থেকে তাদের ছলাকলা হটিয়ে দিলেন। নিঃসন্দেহ তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তাহার প্রতিপালক তাহার আহ্বানে সাড়া দিলেন এবং তাহাকে উহাদের ছলনা হইতে রক্ষা করিলেন। তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

বাংলা উচ্চারণ

ফাস্তাজ্বা-বা লাহূ রব্বুহূ ফাছোয়ারাফা 'আন্হু কাইদাহুন্ইন্নাহূ হুঅস্ সামী'ঊল্ 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(ইউসুফের নিষ্কলুষতা আর নিজেদের নারীদের ছিনালি ও অসতিপনার) পরিস্থিতি ও প্রামাণাদি দেখার পর তারা ভাবে, কিছুকালের জন্যে অবশ্যি ইউসুফকে জেলে রাখতে হবে (এবং তারা তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়)।

জহুরুল হক

অতঃপর সাক্ষীসাবুদ তারা দেখার পরে তাদের মনে হল তাঁকে কিছুকালের জন্য কারারুদ্ধ করাই উচিত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিদর্শনাবলী দেখিবার পর উহাদের মনে হইল যে, তাহাকে কিছু কালের জন্য কারারুদ্ধ করিতেই হইবে।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা বাদা-লাহুম্ মিম্ বা'দি মা-রায়ায়ুল্ আ-ইয়া-তি লাইয়াস্জ্বনুন্নাহূ- হাত্তা- হীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তার সাথে কারাগারে প্রবেশ করে দুই যুবক (রাজ কর্মচারি)। একদিন (তারা ইউসুফের কাছে আসে এবং) তাদের একজন বলে: ‘আমি স্বপ্ন দেখেছি, আমি মদ তৈরি করছি।’ আর অপরজন বলে: ‘আমি স্বপ্ন দেখেছি, আমার মাথায় রুটি বহন করছি আর তা থেকে (ঠোকর মেরে মেরে) খাচ্ছে পাখিরা।’ (দুজনেই বললো:) ‘আমাদেরকে এর তা’বির (তাৎপর্য) বলে দিন। আমাদের দৃষ্টিতে আপনি একজন অতি উত্তম মানুষ।’

জহুরুল হক

আর তাঁর সঙ্গে দু’জন যুবক জেলে ঢুকেছিল। তাদের একজন বললে, ''আমি দেখলাম মদ তৈরি করছি।’’ আর অন্যজন বললে, ''আমি দেখলাম আমি আমার মাথার উপরে রুটি বয়ে নিচ্ছি, তা থেকে পাখিরা খাচ্ছে।’’ ''আমাদের এর তাৎপর্য বলে দাও, আমরা নিশ্চয়ই তোমাকে দেখছি ভালো - লোকদের মধ্যেকার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহার সঙ্গে দুইজন যুবক কারাগারে প্রবেশ করিল। উহাদের একজন বলিল, ‘আমি স্বপ্নে দেখিলাম, আমি আংগুর নিংড়াইয়া রস বাহির করিতেছি’, এবং অপরজন বলিল, ‘আমি স্বপ্নে দেখিলাম, আমি আমার মস্তকে রুটি বহন করিতেছি এবং পাখি উহা হইতে খাইতেছে। আমাদেরকে তুমি ইহার তাৎপর্য জানাইয়া দাও, আমরা তো তোমাকে সৎকর্মপরায়ণ দেখিতেছি।’

বাংলা উচ্চারণ

অদাখালা মা'আহুস্ সিজ্বনা ফাতাইয়া-ন্ ক্ব-লা আহাদুহুমা য় ইন্নী য় আরনী য় আ'ছিরু খম্রা-'অক্ব-লাল্ আ-খরু ইন্নী য় আরানী য় আহ্মিলু ফাওক্বা রাছী খুব্যান্ তাকুলুত্ব ত্বোয়াইরু মিন্হু নাব্বিনা- বিতাওয়ীলিহী ইন্না- নারা-কা মিনাল্ মুহ্সিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফ (তাদের কথা শুনে) বললো: ‘‘তোমাদের যে খাবার এখানে দেয়া হয়, তা আসার আগেই আমি তোমাদের স্বপ্নের তাৎপর্য বলে দেবো। (তাই এর মধ্যে তোমরা কয়েকটি জরুরি কথা শুনো), আমি যে কথাগুলো তোমাদের বলবো, সেগুলো আমার প্রভু () আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। আমি বর্জন করেছি সেইসব লোকদের মত ও পথ, যারা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখেনা এবং আখিরাতের প্রতি অবিশ্বাসী।’’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমাদের যা খেতে দেয়া হয় সে খাদ্য তোমাদের কাছে এসে পৌঁছুবেনা না, অথচ তোমাদের কাছে তা আসার আগেই আমি তোমাদের বলে দেব এর তাৎপর্য। এটি হচ্ছে আমার প্রভু আমাকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে। আমি নিশ্চয়ই পরিত্যাগ করেছি সেই লোকদের ধর্মমত যারা ‌তে বিশ্বাস করে না, আর তারা নিজেরাই পরকালেও অবিশ্বাসী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ বলিল, ‘তোমাদেরকে যে খাদ্য দেওয়া হয় তাহা আসিবার পূর্বেই আমি তোমাদেরকে স্বপ্নের তাৎপর্য জানাইয়া দিব। আমি যাহা তোমাদেরকে বলিব তাহা, আমার প্রতিপালক আমাকে যাহা শিক্ষা দিয়াছেন তাহা হইতে বলিব। যে সম্প্রদায় আল্লাহে বিশ্বাস করে না ও আখিরাতে অবিশ্বাসী আমি তাহাদের মতবাদ বর্জন করিয়াছি।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা লা- ইয়াতীকুমা- ত্বোয়া'আ- মুন্ র্তুযাক্ব-নিহী য় ইল্লা-নাব্বা তুকুমা-বিতাওয়ীলিহী ক্বব্লা আইঁ ইয়াতিয়াকুমা- যা-লিকুমা-মিম্মা-'আল্লামানী রব্বী ইন্নী তারাক্তু মিল্লাতা ক্বওমিল্ লা- ইয়ুমিনূনা বিল্লা-হি অহুম্ বিল্ আ-খিরতিহুম্ কা-ফিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘আমি অনুসরণ করছি আমার পিতৃপুরুষ ইবরাহিম, ইসহাক, ও ইয়াকুবের মতাদর্শ। (সেই আদর্শ হলো:) আমরা আল্লাহর সাথে কারো কোনো অংশিদারিত্ব আরোপ করতে পারিনা। আসলে এটা আমাদের এবং গোটা মানবজাতির প্রতি আল্লাহর এক বিরাট অনুগ্রহ (যে, তিনি মানুষকে একমাত্র তাঁর ছাড়া আর কারো দাস হিসেবে সৃষ্টি করেননি।) তা সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষই তাঁর শোকর আদায় করেনা।’’

জহুরুল হক

''আর আমি অনুসরণ করি আমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাক ও ইয়াকুবের ধর্মমত। এটি আমাদের জন্য নয় যে আমরা ‌র সঙ্গে কোনো ধরনের অংশী দাঁড় করাব। এটি আমাদের প্রতি ‌র অনুগ্রহ - প্রাচুর্যের ফলে আর মানবগোষ্ঠীর প্রতিও, কিন্তু অধিকাংশ লোকেরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি আমার পিতৃপুরুষ ইব্‌রাহীম, ইস্‌হাক এবং ইয়া‘কূবের মতবাদ অনুসরণ করি। ‌র সঙ্গে কোন বস্তুকে শরীক করা আমাদের কাজ নয়। ইহা আমাদের ও সমস্ত মানুষের প্রতি ‌র অনুগ্রহ; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

বাংলা উচ্চারণ

অত্তাবা'তু মিল্লাতা আ-বা - য়ী য় ইব্রা-হীমা অ ইস্হা-ক্বা অইয়া'ক্বুব্ মা- কা-না লানা য় আন্ নুশ্রিকা বিল্লা-হি মিন্ শাইয়িন্ যা-লিকা মিন্ ফাদ্ব্লিল্লা-হি 'আলাইনা- অ'আলান্না-সি অলা-কিন্না আক্ছারান্না-সি লা- ইয়াশ্কুরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘হে আমার প্রিয় কারা - সাথিরা! (তোমরাই বলো:) বহু স্বতন্ত্র (দুর্বল - অক্ষম) খোদা ভালো, নাকি এক দুর্জয় অপ্রতিরোধ্য মহান ভালো?’’

জহুরুল হক

''হে আমার জেলখানার সঙ্গিদ্বয়! ভিন্ন ভিন্ন প্রভুসব ভাল, না একক সর্বশক্তিমান ‌?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে কারা - সঙ্গীদ্বয়! ভিন্ন ভিন্ন বহু প্রতিপালক শ্রেয়, না পরাক্রামশালী এক ?

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া-ছোয়া-হিবায়িস্ সিজ্বনি আ র্আবা-বুম্ মুতার্ফারিক্বুনা খাইরুন্ আমিল্লা-হুল্ওয়া-হিদুল্ ক্বহ্হার্-।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘তাঁকে ছাড়া তোমরা যাদের ইবাদত - উপাসনা করছো, তারা তো তোমাদের আর তোমাদের পিতৃপুরুষদের আরোপিত কতোগুলো নাম ছাড়া আর কিছু নয়। এদের (খোদা হবার) পক্ষে তো কোনো অনুমতি - অধিকার প্রদান করেননি। আল্লাহর ছাড়া আর কারো কোনো কর্তৃত্ব নেই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন: তোমরা তাঁর ছাড়া আর কারো ইবাদত (আনুগত্য, দাসত্ব ও উপাসনা) করোনা। এটাই জীবন যাপনের সরল সঠিক পথ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই বিষয়টি জানেনা।’’

জহুরুল হক

''তাঁকে ছেড়ে দিয়ে তোমরা যাদের উপাসনা কর তারা নামাবলী মাত্র যা তোমরা নামকরণ করেছ - - তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা, যেজন্যে কোনো দলিল - দস্তাবেজ পাঠান নি। বিধান দেবার অধিকার শুধু ‌র। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারোর উপাসনা করবে না। এই হচ্ছে সঠিক ধর্ম, কিন্তু অধিকাংশ লোকেই জানে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তাঁহাকে ছাড়িয়া তোমরা কেবল কতকগুলি নামের ‘ইবাদত করিতেছ, যেই নামগুলি তোমাদের পিতৃপুরুষ ও তোমরা রাখিয়াছ; এইগুলির কোন প্রমাণ ‌ পাঠান নাই। বিধান দিবার অধিকার কেবল ‌রই। তিনি আদেশ দিয়াছেন অন্য কাহারও ‘ইবাদত না করিতে, কেবল তাঁহার ব্যতীত; ইহাই শাশ্বত দীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ইহা অবগত নয়।

বাংলা উচ্চারণ

মা-তা'বুদূনা মিন্ দুনিহী য় ইল্লা য় আস্মা - য়ান সাম্মাইতুমূ হা য় আন্তুম্ অ আ-বা - য়ুকুম্ মা য় আন্যালা ল্লা-হু বিহা-মিন্ সুল্ত্বোয়া-ন্ ইনিল্ হুক্মু ইল্লা-লিল্লা-হ্ আমারা আল্লা-তা'বুদূ য় ইল্লা য় ইয়্যা-হু যা-লিকাদ্দীনু ল্ক্বাইয়্যিমু অলা-কিন্না আক্ছারান্ না-সি লা-ইয়া'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘হে আমার কারা - সাথিরা! (তোমাদের স্বপ্নের তাৎপর্য হলো:) তোমাদের একজন (চাকুরিতে ফিরে গিয়ে) নিজের মনিবকে মদ্যপান করাবে, আর অপরজনকে শুলবিদ্ধ করা হবে এবং পাখিরা তার মাথা ঠুকরে ঠুকরে খাবে। - তোমরা যা জানতে চেয়েছিলে এ হলো তার ফায়সালা।’’

জহুরুল হক

''হে আমার কারাগারের সঙ্গিদ্বয়! তোমাদের একজন সন্বন্ধে - - সে তার প্রভুকে সুরা পান করাবে, কিন্তু অন্যজনের ক্ষেত্রে - - সে তখন শূলবিদ্ধ হয়ে মরবে, তার ফলে পাখিরা তার মাথা থেকে খাবে। তোমরা যার সন্বন্ধে জিজ্ঞাসা করছিলে সে - বিষয় নিস্পত্তি হয়ে গিয়েছে!’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে কারা - সঙ্গীদ্বয়! তোমাদের দুইজনের একজন তাহার প্রভুকে মদ্য পান করাইবে এবং অপরজন শূলবিদ্ধ হইবে; অতঃপর তাহার মস্তক হইতে পাখি আহার করিবে। যে বিষয়ে তোমরা জানিতে চাহিয়াছ তাহার সিদ্ধান্ত হইয়া গিয়াছে।’

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া-ছোয়া-হিবায়িস্ সিজ্বনি আম্মা য় আহাদুকুমা- ফাইয়াস্ক্বী রব্বাহূ খাম্রান্ অ আম্মাল্ আ-খারু ফাইয়ুছ্লাবু ফাতাকুলুত্বত্বোয়াইরু র্মি রসিহী-ক্বুদ্বিয়াল্ আম্রুল্লাযী ফীহি তাস্তাফ্তিয়া-ন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

দুই কারা সাথির মধ্যে যে মুক্তি পেয়ে যাবে বলে ইউসুফ মনে করলো, সে তাকে বললো: ‘তোমার মনিবের (রাজার) সাথে আমার কথা আলোচনা ক’রো।’ কিন্তু শয়তান তার মনিবের কাছে তার সম্পর্কে বলতে ভুলিয়ে দেয়। ফলে ইউসুফ কারাগারে আরো ক’বছর পড়ে থাকে।

জহুরুল হক

আর দুইজনের মধ্যে যাকে তিনি জানতেন যে সে মুক্তি পাবে তাকে তিনি বললেন, ''তোমার প্রভুর কাছে আমার কথা বলো।’’ কিন্তু শয়তান তাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল তার প্রভুর কাছে স্মরণ করিয়ে দিতে, তাই তিনি কারাগারে থাকলেন আরো কয়েক বছর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ উহাদের মধ্যে যে মুক্তি পাইবে মনে করিল, তাহাকে বলিল, ‘তোমার প্রভুর নিকট আমার কথা বলিও’, কিন্তু শয়তান উহাকে উহার প্রভুর নিকট তাহার বিষয় বলিবার কথা ভুলাইয়া দিল; সুতরাং ইউসুফ কয়েক বৎসর কারাগারে রহিল।

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লা লিল্লাযী জোয়ান্না আন্নাহূ না-জ্বিম্ মিন্হুমায্ র্কুনী 'ইন্দা রব্বিকা ফাআন্সা-হুশ্ শাইত্বোয়া-নু যিক্র রব্বিহী ফালাবিছা ফিস্ সিজ্বনি বিদ্ব 'আ সিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

একদিন রাজা (তার সভাসদদের) বললো: ‘আমি স্বপ্ন দেখেছি, সাতটি মোটাতাজা গরু। তাদের খেয়ে ফেলছে সাতটি শুকনো গরু। (আরো দেখেছি, ফসলের) সবুজ সাতটি শীষ আর শুকনো সাতটি শীষ। - হে আমার সভাসদেরা! তোমরা যদি স্বপ্নের তা’বির জানো, তবে আমার স্বপ্নের তাৎপর্য বলো।’

জহুরুল হক

আর রাজা বললেন - - ''আমি নিশ্চয়ই দেখলাম সাতটি হৃস্পুষ্ট গরু, তাদের খেয়ে ফেলল সাতটি জীর্ণশীর্ণ, আর সাতটা সবুজ শীষ আর অপর শুক্‌নো। ওহে প্রধানগণ! আমার স্বরে তাৎপর্য আমাকে বলে দাও যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পারো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

রাজা বলিল, ‘আমি স্বপ্নে দেখিলাম, সাতটি স্থূলকায় গাভী, উহাদেরকে সাতটি শীর্ণকায় গাভী ভক্ষণ করিতেছে এবং দেখিলাম সাতটি সবুজ শীষ ও অপর সাতটি শুষ্ক। হে প্রধানগণ! যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যা করিতে পার তবে আমার স্বপ্ন সম্বন্ধে অভিমত দাও।’

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লাল্ মালিকু ইন্নী য় আরা- সাব্'আ বাক্বারা-তিন্ সিমা-নিইঁ ইয়াকুলুহুন্না সাব্'উন্ 'ইজ্বাফুঁও অ সাব্'আ সুম্বুলাতিন্ খুদ্ব্রিঁও অ উখর ইয়া-বিসা-ত্ ইয়া য় আইয়্যুহাল্ মালায়ু আফ্তূনী ফী রুইয়া-ইয়া ইন্ কুন্তুম্ লিররুইয়া-তাবুরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘এ এক তালগোল পাকানো (mixed up) বাতিল স্বপ্ন। তাছাড়া আমরা স্বপ্ন ব্যাখ্যায় পারদর্শী নই।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''এলোমেলো স্বপ্ন, আর স্বপ্নের মর্মোদ্ধারে আমরা অভিজ্ঞ নই।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘ইহা অর্থহীন স্বপ্ন এবং আমরা এইরূপ স্বপ্ন ব্যাখ্যায় অভিজ্ঞ নই।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ য় আদ্ব্গ-ছু আহ্লা-মিন্ অমা- নাহ্নু বিতাওয়ীলিল্ আহ্লা-মি বি'আ-লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফের কারা সাথিদের মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল, দীর্ঘকাল পর এ সময় তার (ইউসুফের) কথা স্মরণ হলো। সে (রাজ সভায়) বললো: ‘আমি এ স্বপ্নের তাৎপর্য আপনাদের বলে দেবো, আমাকে (কারাগারে) পাঠান।’

জহুরুল হক

আর সেই দুইজনের যে মুক্তি পেয়েছিল ও দীর্ঘকাল পরে যার মনে পড়ল সে বললে - - ''আমিই এর তাৎপর্য আপনাদের জানিয়ে দেব, সেজন্যে আমাকে পাঠিয়ে দিন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দুইজন কারারুদ্ধের মধ্যে যে মুক্তি পাইয়াছিল এবং দীর্ঘকাল পরে যাহার স্মরণ হইল সে বলিল, ‘আমি ইহার তাৎপর্য তোমাদেরকে জানাইয়া দিব। সুতরাং তোমরা আমাকে পাঠাও।’

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লাল্লাযী নাজ্বা-মিন্হুমা- অদ্দাকারা বা'দা উম্মাতিন্ আনা উনাব্বিয়ুকুম্ বিতাওয়ীলিহী ফার্আসিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(সে কারাগারে এসে ইউসুফকে বললো:) হে ইউসুফ! হে সত্যবাদীতার প্রতীক! এই স্বপ্নের তাৎপর্য আমাদের বলে দিন: ‘সাতটি মোটাতাজা গরু। তাদের খেয়ে ফেলছে সাতটি শুকনো গরু। আর ফসলের সবুজ সাতটি শীষ এবং শুকনো সাতটি শীষ।’ এর তাৎপর্য বলে দিন, যাতে করে আমি ফিরে গিয়ে লোকদের বলতে পারি এবং তারা যেনো (আপনার সম্পর্কে) জানতে পারে।’

জহুরুল হক

''ইউসুফ! হে সত্যবাদী! আমাদের জন্য ব্যাখ্যা করে দাও সাতটি মোটাসোটা গরু যাদের খেয়ে ফেলল রোগা - পাতলা সাতটি, এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অন্যগুলো শুক্‌নো, - - যেন আমি লোকদের কাছে ফিরে যেতে পারি যাতে তারা জানতে পারে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘হে ইউসুফ! হে সত্যবাদী! সাতটি স্থূলকায় গাভী, উহাদেরকে সাতটি শীর্ণকায় গাভী ভক্ষণ করিতেছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অপর সাতটি শুষ্ক শীষ সম্বন্ধে তুমি আমাদেরকে ব্যাখ্যা দাও, যাহাতে আমি লোকদের নিকট ফিরিয়া যাইতে পারি ও যাহাতে তাহারা অবগত হইতে পারে।’

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ূসুফু আইয়্যুহাছ্ ছিদ্দীক্বু আফ্তিনা- ফী সাব'ঈ বাক্বারা-তিন্ সিমা-নিঁ ইয়াকুলুহুন্না সাব'ঊন্ 'ইজ্বা-ফুঁও অসাব্'ঈ 'সুম্বুলা-তিন্ খুদ্ব্রিঁও অউখর ইয়া-বিসা-তি ল্লা'আল্লী য় র্আজি'উ ইলান্না-সি লা'আল্লাহুম্ ইয়া'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফ স্বপ্নের এই তাৎপর্য বলে দিলো: ‘‘তোমরা সাত বছর লাগাতার চাষাবাদ করে যাবে। এ (সাত বছর) সময় তোমরা যে ফসল কাটবে সেগুলো শীষ সমেত রেখে দেবে, তবে শুধুমাত্র তোমাদের আহারের জন্যে যে পরিমাণ দরকার, কেবল তাই শীষ থেকে ছাড়িয়ে নেবে।’’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমরা সাত বছর যথারীতি ক্ষেত করে যাবে, আর তোমরা যা তুলবে তা রেখে দেবে তার শীষের মধ্যে, শুধু তা থেকে যে সামান্যটুকু তোমরা খাবে তা ছাড়া।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ বলিল, ‘তোমরা সাত বৎসর একাদিক্রমে চাষ করিবে, অতঃপর তোমরা যে শস্য কর্তন করিবে উহার মধ্যে যে সামান্য পরিমাণ তোমরা ভক্ষণ করিবে, তাহা ব্যতীত সমস্ত শীষসমেত রাখিয়া দিবে;

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা তায্রা'ঊনা সাব্'আ সিনীনা দায়াবান্ ফামা-হাছোয়াত্তুম্ ফাযারূহু ফী সুম্বুলিহী য় ইল্লা-ক্বালীলাম্ মিম্মা-তাকুলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘তারপর আসবে কঠিন (দুর্ভিক্ষের) সাত বছর। এসময় জনগণ তোমাদের পূর্ব মওজুদকৃত ফসল খাবে। তবে এ থেকে তোমরা সঞ্চয়ে রাখলে সামান্যই রাখতে পারবে।’’

জহুরুল হক

''তখন এর পরে আসবে সাতটি কঠোর, তা খেয়ে ফেলবে সে - ক’টির জন্য তোমরা যা এগিয়ে দেবে, কেবল সামান্য কিছু ছাড়া যা তোমরা সংরক্ষণ কর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ইহার পর আসিবে সাতটি কঠিন বৎসর, এই সাত বৎসর, যাহা পূর্বে সঞ্চয় করিয়া রাখিবে, লোকে তাহা খাইবে; কেবল সামান্য কিছু যাহা তোমরা সংরক্ষণ করিবে, তাহা ব্যতীত।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা ইয়াতী মিম্ বা'দি যা-লিকা সাব্'উন্ শিদা-দুইঁ ইয়া'কুল্না মা-ক্বদ্দাম্তুম্ লাহুন্না ইল্লা-ক্বলীলাম্ মিম্মা-তুহ্ছিনূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘এরপর আসবে এমন একটি বছর, যে বছর মানুষ লাভ করবে প্রচুর বৃষ্টিপাত আর নিংড়াবে প্রচুর ফলের রস।’’

জহুরুল হক

''আর তার পরে আসবে এক বছর যাতে লোকেরা পাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত, আর তাতে তারা পিযবে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অতঃপর আসিবে এক বৎসর, সেই বৎসর মানুষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত হইবে এবং সেই বৎসর মানুষ প্রচুর ফলের রস নিংড়াইবে।’

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা ইয়াতী মিম্ বা'দি যা-লিকা 'আ-মুন্ ফীহি ইয়ুগ-ছুন্ না-সু অ ফীহি ইয়া'ছিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(স্বপ্নের এই তা’বির শোনার পর রাজা ব্যতিব্যস্ত হয়ে) বললো: ‘তোমরা তাকে (ইউসুফকে) আমার কাছে নিয়ে আসো।’ রাজার দূত (ইউসুফের কাছে) উপস্থিত হলে সে বললো: ‘ফিরে যাও তোমার মনিবের (রাজার) কাছে। তাকে জিজ্ঞেস করো, যে নারীরা নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল, তাদের (চক্রান্তের) ব্যাপারে কী (ফায়সালা) করা হয়েছে? আমার প্রভু ( তায়ালা) তো তাদের চক্রান্ত সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত আছেন।’

জহুরুল হক

আর রাজা বললেন - - ''তাকে আমার কাছে নিয়ে এস।’’ সুতরাং যখন দূত তাঁর কাছে এল, তিনি বললেন - - ''তোমার মনিবের কাছে ফিরে যাও এবং তাঁকে জিজ্ঞেস কর সেই নারীদের কি হল যারা তাদের হাত কেটেছিল। নিঃসন্দেহ আমাব প্রভু, তাদের ফন্দিফিকির সন্বন্ধে পূর্ণ ওয়াকিফহাল।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

রাজা বলিল, ‘তোমরা ইউসুফকে আমার নিকট লইয়া আস।’ যখন দূত তাহার নিকট উপস্থিত হইল তখন সে বলিল, ‘তুমি তোমার প্রভুর নিকট ফিরিয়া যাও এবং তাহাকে জিজ্ঞাসা কর, যে নারীগণ হাত কাটিয়া ফেলিয়াছিল তাহাদের অবস্থা কী! নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক তাহাদের ছলনা সম্যক অবগত।’

বাংলা উচ্চারণ

অ ক্ব-লাল্ মালিকুতূনী বিহী ফালাম্মা-জ্বা - য়ার্হু রাসূলু ক্ব-র্লা জ্বি' ইলা-রব্বিকা ফাস্য়াল্হু মা- বা-লুন্ নিস্অতিল্ লাতী কাত্ত্বোয়া'না আইদিয়াহুন্না ইন্না রব্বী বিকাইদিহিন্না 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন রাজা তাদের ডেকে জিজ্ঞেস করলো: ‘হে নারীরা! তোমরা যখন ইউসুফকে অসৎ কর্মে ফাঁসাতে চেয়েছিলে, তোমাদের তখনকার ব্যাপারটা কী ছিলো?’ তারা বললো: ‘আল্লাহর কী মহিমা! আমরা তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অসৎ প্রবণতা দেখিনি।’ (এবার) আযীযের স্ত্রী বলে উঠলো: ‘এখন (সবার কাছে) সত্য প্রকাশ হয়ে পড়েছে। মূলত, আমিই তাকে অসৎ কাজে ফাঁসাতে চেষ্টা করেছিলাম। আর সে অবশ্য অবশ্যি সত্যবাদী।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমাদের কি হয়েছিল যখন তোমরা ইউসুফকে কামনা করেছিলে তার অন্তরঙ্গতার?’’ তারা বললে - - ‌র কি নিখুঁত সৃষ্টি! আমরা ওর মধ্যে কোনো দোষের কথা জানি না।’’ নগর - প্রধানের স্ত্রী বললে - - ''এক্ষণে সত্য প্রকাশ পেয়েছে, আমিই তাকে কামনা করেছিলাম তার অন্তরঙ্গতার, আর নিঃসন্দেহ সে অবশ্যই ছিল সত্যপরায়ণদের মধ্যেকার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

রাজা নারীগণকে বলিল, ‘যখন তোমরা ইউসুফ হইতে অসৎ কর্ম কামনা করিয়াছিলে, তখন তোমাদের কী হইয়াছিল?’ তাহারা বলিল, ‘অদ্ভুত ‌র মহাত্ম্য! আমরা উহার মধ্যে কোন দোষ দেখি নাই।’ ‘আযীযের স্ত্রী বলিল, ‘এক্ষণে সত্য প্রকাশ হইল, আমিই তাহাকে ফুসলাইয়াছিলাম, নিশ্চয়ই সে তো সত্যবাদী।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা মা- খাত্ববুকুন্না ইয্ রা-ওয়াত্তুন্না ইয়ূসুফা 'আন্ নাফ্সিহী ক্বুল্না হা-শা লিল্লা-হি মা-'আলিম্না-'আলাইহি মিন্ সূ - য়িন্ ক্ব-লাতিম্ রায়াতুল্ 'আযীযিল্ আ-না হাছ্হাছোয়াল্ হাক্ব্ক্ব ু আনা র-ওয়াত্তুহূ আন্ নাফ্সিহী অইন্নাহূ লামিনাছ্ ছোয়া-দিক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(সত্য প্রকাশিত হওয়ায় ইউসুফ বললো:) ‘‘আমি এ জন্যে বিষয়টি তদন্ত (inquiry) করতে বলেছি, যাতে করে তিনি (আযীয মিশর) জানতে পারেন, আমি তার অনুপস্থিতিতে তার খেয়ানত করিনি। আর তো কিছুতেই খিয়ানতকারীদের ষড়যন্ত্র সফলতায় পৌঁছান না।’’

জহুরুল হক

''এটিই, যেন তিনি জানতে পারেন যে আমি গোপনে তাঁর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করি নি। আর নিঃসন্দেহ বিশ্বাসহন্তাদের ছলাকলা পরিচালিত করেন না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা এইজন্য যে, যাহাতে সে জানিতে পারে, তাহার অনুপস্থিতিতে আমি তাহার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করি নাই এবং নিশ্চয়ই ‌ বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্র সফল করেন না।’

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা লিইয়া'লামা আন্নী লাম্ আখুন্হু বিল্গইবি অ আন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহ্দী কাইদাল্ খ - য়িনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘আমি আমার নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চাইছিনা, মানুষের নফস তো মন্দ কাজে প্ররোচিত করেই, তবে আমার প্রভু যদি কারো প্রতি দয়া করেন, সে - ই কেবল (এ প্ররোচনা থেকে) বাঁচতে পারে। অবশ্যি আমার প্রভু বড় ক্ষমাশীল, অতীব দয়ালু।’’

জহুরুল হক

''আমি আমার নিজেকে মুক্ত বলি না, নিঃসন্দেহ মানুষমাত্রেরই মন্দের দিকে প্রবণতা রয়েছে, শুধু যাদের প্রতি আমার প্রভুর করুণা রয়েছে তারা ভিন্ন। নিঃসন্দেহ আমার প্রভু পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না, মানুষের মন অবশ্যই মন্দ কর্মপ্রবণ, কিন্তু সে নয়, যাহার প্রতি আমার প্রতিপালক দয়া করেন। আমার প্রতিপালক তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

বাংলা উচ্চারণ

অমা য় উর্বারিয়ু নাফ্সী ইন্নান্ নাফ্সা লাআম্মা-রতুম্ বিস্সূ - য়ি ইল্লা-মা-রহিমা রব্বী ইন্না রব্বী গফূর্রু রহীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

রাজা বললো: ‘এবার ওকে আমার কাছে নিয়ে আসো। আমি তাকে নিজের জন্যে (ব্যক্তিগত সহকারি বা উপদেষ্টা) নিযুক্ত করবো।’ অতপর সে (রাজা) যখন তার সাথে কথা বললো, তখন (তার যোগ্যতায় বিমুগ্ধ হয়ে) বলে উঠলো: ‘(ইউসুফ) আজ থেকে তুমি আমাদের কাছে উচ্চ মর্যাদাশীল (high in rank) এবং পূর্ণ আস্থাভাজন (fully trusted)।’

জহুরুল হক

আর রাজা বললেন - - ''তাঁকে আমার কাছে নিয়ে এস, আমি তাঁকে আমার নিজের জন্য একান্তভাবে গ্রহণ করব।’’ সুতরাং তিনি যখন তাঁর সাথে আলাপ করলেন তখন বললেন - - ''আপনি আজ নিশ্চয়ই হলেন আমাদের সমক্ষে সুপ্রতিষ্ঠিত, বিশ্বাসভাজন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

রাজা বলিল, ‘ইউসুফকে আমার নিকট লইয়া আস; আমি তাহাকে আমার একান্ত সহচর নিযুক্ত করিব।’ অতঃপর রাজা যখন তাহার সঙ্গে কথা বলিল, তখন রাজা বলিল, ‘আজ তুমি তো আমাদের নিকট মর্যাদাশীল, বিশ্বাসভাজন হইলে।’

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লাল্ মালিকু'তূ নী বিহী য় আস্তাখ্লিছ্হু লিনাফ্সী ফালাম্মা-কাল্লামাহূ ক্ব-লা ইন্নাকাল্ ইয়াওমা লাদাইনা-মাকীনুন্ আমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফ বললো: ‘আমাকে দেশের সামগ্রিক ভান্ডারের উপর কর্তৃত্ব প্রদান করুন। আমি পূর্ণজ্ঞান ও দক্ষতার সাথে সবকিছু সংরক্ষণ ও পরিচালনা করবো।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমাকে দেশের ধনসম্পদের দায়িত্বে নিয়োগ করুন। নিঃসন্দেহ আমি সুরক্ষক, সুবিবেচক।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ বলিল, ‘আমাকে দেশের ধনভাণ্ডারের উপর কর্তৃত্ব প্রদান করুন; আমি তো উত্তম রক্ষক, সুবিজ্ঞ।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা জ'আল্নী 'আলা-খযা-য়িনিল্ র্আদ্বি ইন্নী হাফীজুন্ 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে আমরা ইউসুফকে সে দেশের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রদান করলাম, যাতে করে সারা দেশের যেখানে যখন ইচ্ছা সে অবস্থান করতে পারে। মূলত যাকে ইচ্ছা আমরা আমার করুণাসিক্ত করে থাকি। আর আমরা উত্তম - পুণ্যবান লোকদের পুরস্কৃত করতে কসুর করিনা।

জহুরুল হক

আর এইভাবে আমরা ইউসুফকে প্রতিষ্ঠিত করলাম দেশে, - - সেখানে তিনি কর্তৃত্ব চালাতেন যেখানে তিনি চাইতেন। আমরা যাকে ইচ্ছা করি আমাদের করুণাদ্বারা হিতসাধন করি, আর সৎকর্মশীলদের কর্মফল আমরা ব্যর্থ করি না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইভাবে ইউসুফকে আমি সেই দেশে প্রতিষ্ঠিত করিলাম; সে সেই দেশে যথা ইচ্ছা অবস্থান করিতে পারিত। আমি যাহাকে ইচ্ছা তাহার প্রতি দয়া করি; আমি সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করি না।

বাংলা উচ্চারণ

অকাযা-লিকা মাক্কান্না- লিইয়ূসুফা ফিল্ র্আদ্বি ইয়াতাবাঅয়ু মিন্হা- হাইছু ইয়াশা - য়্ নুছীবু বিরহ্মাতিনা- মান্ নাশা - য়ু অলা-নুদ্বী'উ আজ্বরল্ মুহ্সিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাছাড়া যারা ঈমানের ভিত্তিতে তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করে, তাদের জন্যে আখিরাতের পুরস্কার অবশ্যি অতি উত্তম।

জহুরুল হক

আর অবশ্যই পরকালের পুরস্কার আরো ভালো তাদের জন্য যারা বিশ্বাস করে এবং ভয় - ভক্তি অবলন্বন করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা এবং তাহাদের আখিরাতের পুরস্কারই উত্তম।

বাংলা উচ্চারণ

অলা আজ্বরুল্ আ-খিরতি খইরুল্ লিল্লাযীনা আ-মানূ অকা-নূ ইয়াত্তাক্বুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(পরবর্তী সময়ের কথা,) ইউসুফের ভাইয়েরা (খাদ্য শস্যের জন্যে) মিশরে আসে এবং ইউসুফের কাছে উপস্থিত হয়। ইউসুফ তাদের (দেখেই) চিনে ফেলে, কিন্তু তারা তাকে চিনতে পারেনি।

জহুরুল হক

আর ইউসুফের ভাইয়েরা এল এবং তাঁর দরবারে প্রবেশ করল, তিনি তখন তাদের চিনতে পারলেন, কিন্তু তারা তাঁর সন্বন্ধে অজ্ঞাত রইল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফের ভ্রাতাগণ আসিল এবং তাহার নিকট উপস্থিত হইল। সে উহাদেরকে চিনিল, কিন্তু উহারা তাহাকে চিনিতে পারিল না।

বাংলা উচ্চারণ

অজ্বা - য়া ইখ্ওয়াতু ইউসুফা ফাদাখলূ 'আলাইহি ফা'আরফাহুম্ অহুম্ লাহূ মুন্কিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর সে যখন তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সাজিয়ে দিলো, তখন (যাত্রার প্রাক্কালে তাদের) বললো: ‘‘তোমরা (আবার আসার সময়) তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাই (বিনইয়ামিন) কে আমার কাছে নিয়ে এসো। তোমরা দেখছোনা আমি পাত্র ভরে মেপে দিই, আর আমি একজন উত্তম অতিথি পরায়ণ?’’

জহুরুল হক

আর তিনি যখন তাদের পরিবেশন করলেন তাদের রসদের দ্বারা তখন তিনি বললেন, ''তোমরা তোমাদের পিতার তরফের তোমাদের ভাইকে আমার কাছে নিয়ে এস। তোমরা কি দেখো নি যে আমি আলবৎ পুরো মাপ দিই এবং আমি ভাল আপ্যায়ণকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং সে যখন উহাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করিয়া দিল তখন সে বলিল, ‘তোমরা আমার নিকট তোমাদের বৈমাত্রেয় ভ্রাতাকে লইয়া আস। তোমরা কি দেখিতেছ না যে, আমি মাপে পূর্ণমাত্রায় দেই এবং আমি উত্তম অতিথিপরায়ণ।

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা-জ্বাহ্হাযা হুম্ বিজ্বাহা-যিহিম্ ক্বা-লাতূনী বিআখিল্লাকুম্ মিন্ আবীকুম্ আলা-তারাওনা আন্নী য় ঊফিল্ কাইলা অআনা খইরুল্ মুন্যিলীন।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘(আবার আসার সময়) যদি তাকে না নিয়ে আসো, তবে আমার কাছে তোমাদের জন্যে রসদের কোনো বরাদ্দ থাকবেনা, আর তোমরা আমার কাছেও এসোনা।’’

জহুরুল হক

''কিন্তু তোমরা যদি তাকে আমার কাছে না আনো তবে তোমাদের জন্য আমার নিকট থেকে কোনো পরিমাপ থাকবে না, এবং তোমরা আমার নিকটবর্তী হয়ো না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘কিন্তু তোমরা যদি তাহাকে আমার নিকট লইয়া না আস তবে আমার নিকট তোমাদের জন্য কোন বরাদ্দ থাকিবে না এবং তোমরা আমার নিকটবর্তী হইবে না।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইল্লাম্ তাতূনী বিহী ফালা- কাইলালাকুম্ 'ইন্দী অলা-তাক্বুরাবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা তাকে আনার ব্যাপারে তার পিতাকে সম্মত করার চেষ্টা করবো। আর একাজ আমরা করবোই।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমরা আলবৎ চেষ্টা করব তার সন্বন্ধে তার পিতার কাছে এবং আমরা নিশ্চয়ই কাজ করব।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘উহার বিষয়ে আমরা উহার পিতাকে সম্মত করিবার চেষ্টা করিব এবং আমরা নিশ্চয়ই ইহা করিব।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ সানুরা-ওয়িদু 'আন্হু আবা-হু অইন্না- লাফা-'ইলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফ তার কর্মচারিদের বললো: ‘তারা খাদ্য শস্যের যে দাম দিয়েছে, সে অর্থ (গোপনে) তাদের পণ্য সামগ্রীর মধ্যেই রেখে দাও। এতে করে তারা নিজেদের পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে (যখন পণ্য সামগ্রী খুলবে, তখন আমরা যে দ্রব্যমূল্য ফেরত দিয়েছি, তা) জানতে পারবে এবং আমাদের দানশীলতা সম্পর্কেও জানতে পারবে। ফলে আশা করা যায় তারা আবার ফিরে আসবে।’

জহুরুল হক

আর তিনি তাঁর জোয়ানদের বললেন - - ''তাদের দ্রব্যমূল্য তাদের মালপত্রের ভিতরে রেখে দাও যেন তাদের পরিবারবর্গের কাছে যখন তারা ফিরে যাবে তখন তারা এটা চিনতে পারে, তাহলে তারা ফিরে আসবে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ তাহার ভৃত্য - গণকে বলিল, ‘উহারা যে পণ্যমূল্য দিয়াছে তাহা উহাদের মালপত্রের মধ্যে রাখিয়া দাও - যাহাতে স্বজনদের নিকট প্রত্যাবর্তনের পর উহারা তাহা চিনিতে পারে, তাহা হইলে উহারা পুনরায় আসিতে পারে।’

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লা লিফিত্ইয়া-নিহিজ্ব 'আলূ- বিদ্বোয়া-'আতাহুম্ ফী রিহা-লিহিম্ লা'আল্লাহুম্ ইয়া'রিফূনাহা য় ইযান্ ক্বলাবূয় ইলা য় আহ্লিহিম্ লা'আল্লাহুম্ ইর্য়াজ্বি'ঊন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর তারা যখন তাদের পিতার কাছে ফিরে এলো, তাকে বললো: ‘বাবা! আমাদের জন্যে খাদ্য শস্যের বরাদ্দ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই আমাদের ভাইকে এবার আমাদের সাথে পাঠান, যাতে করে আমরা খাদ্য শস্যের বরাদ্দ পাই। আমরা অবশ্যি তার হিফাযত করবো।’

জহুরুল হক

তারপর তারা যখন তাদের পিতার কাছে ফিরে এল তখন তারা বললে - - ''হে আমাদের আব্বা! আমাদের কাছে পরিমাপ নিষেধ করা হয়েছে, অতএব আমাদের সঙ্গে আমাদের ভাইকেও পাঠিয়ে দাও যেন আমরা পরিমাপ পেতে পারি, আর আমরা তো অবশ্যই তার হেফাজতকারী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহারা যখন উহাদের পিতার নিকট ফিরিয়া আসিল, তখন উহারা বলিল, ‘হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য বরাদ্দ নিষিদ্ধ করা হইয়াছে। সুতরাং আমাদের ভ্রাতাকে আমাদের সঙ্গে পাঠাইয়া দিন যাহাতে আমরা রসদ পাইতে পারি। আমরা অবশ্যই তাহার রক্ষণা - বেক্ষণ করিব।’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা- রাজ্বা'ঊয় ইলা য় আবীহিম্ ক্ব-লূ ইয়া য় আবা-না- মুনি'আ মিন্নাল্ কাইলু ফার্আসিল্ মা'আনা য় আখা-না-নাক্তাল্ অইন্না-লাহূ লাহাফিজূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বাপ (ইয়াকুব) বললো: ‘ওর ব্যাপারে আমি তোমাদের প্রতি কি সেরকম আস্থা রাখবো, যেরকম আস্থা রেখেছিলাম ইতোপূর্বে ওর ভাইয়ের (ইউসুফের) ব্যাপারে? আল্লাহই সর্বোত্তম হিফাযতকারী এবং তিনিই সব দয়ালুর বড় দয়ালু।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমাদের কি তার সন্বন্ধে বিশ্বাস করতে পারি যেভাবে তার ভাইয়ের ব্যাপারে এর আগে তোমাদের আমি বিশ্বাস করেছিলাম? বস্তুতঃ ‌ই রক্ষণাবেক্ষণে সর্বশ্রেষ্ঠ, আর তিনিই ফলদানকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফলদাতা।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘আমি কি তোমাদেরকে উহার সম্বন্ধে সেইরূপ বিশ্বাস করিব, যেরূপ বিশ্বাস পূর্বে তোমাদেরকে করিয়া - ছিলাম উহার ভ্রাতা সম্বন্ধে? ‌ই রক্ষণাবেক্ষণে শ্রেষ্ঠ এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা হাল্ আ-মানুকুম্ 'আলাইহি ইল্লা-কামা য় আমিন্তুকুম্ 'আলা য় আখীহি মিন্ ক্বব্লু ফাল্লা-হু খইরুন্ হা-ফিজোয়াঁও অহুঅ র্আহার্মু র-হিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর তারা যখন তাদের পণ্য সামগ্রীর (বস্তা) খুললো, দেখতে পেলো, তাদের অর্থকড়ি ফেরত দেয়া হয়েছে। তখন তারা (আনন্দে চিৎকার করে) বলে উঠলো: ‘বাবা! আমরা আর কী চাই! এই যে দেখুন, আমাদের অর্থকড়ি ফেরত দেয়া হয়েছে। এখন আমরা আমাদের পরিজনকে (আরো) খাদ্যশস্য এনে দিতে পারবো। আমরা অবশ্যি আমাদের ভাইয়ের হিফাযত করবো এবং অতিরিক্ত এক উট (বিনইয়ামিনের উট) বোঝাই করে খাদ্য শস্য আনবো। এই পরিমাণ অধিক শস্য দেয়া (মিশর শাসকের জন্যে) খুবই সহজ।

জহুরুল হক

আর যখন তারা তাদের জিনিসপত্র খুললো তারা দেখতে পেল তাদের দ্রব্যমূল্য তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা বললে - - ''হে আমাদের আব্বা! কী আমরা প্রত্যাশা করি? এই তো আমাদের দ্রব্যমূল্য আমাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে, আর আমাদের পরিজনবর্গের জন্য আমরা রসদ আনতে পারব, আর আমাদের ভাইয়ের আমরা হেফাজত করব, আর আমরা এক উটের পরিমাপ অতিরিক্ত আনব। এটি তো এক সামান্য পরিমাপ।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন উহারা উহাদের মালপত্র খুলিল তখন উহারা দেখিতে পাইল উহাদের পণ্যমূল্য উহাদেরকে প্রত্যর্পণ করা হইয়াছে। উহারা বলিল, ‘হে আমাদের পিতা! আমরা আর কি প্রত্যাশা করিতে পারি? ইহা আমাদের প্রদত্ত পণ্যমূল্য, আমাদেরকে প্রত্যর্পণ করা হইয়াছে। পুনরায় আমরা আমাদের পরিবারবর্গকে খাদ্য - সামগ্রী আনিয়া দিব এবং আমরা আমাদের ভ্রাতার রক্ষণাবেক্ষণ করিব এবং আমরা অতিরিক্ত আর এক উষ্ট্রবোঝাই পণ্য আনিব; যাহা আনিয়াছি তাহা পরিমাণে অল্প।’

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা- ফাতাহূ মাতা-'আহুম্ অজ্বাদূ বিদ্বোয়া-'আতাহুম্ রুদ্দাত্ ইলাইহিম্ ক্ব-লূ ইয়া য় আ-বা-না-মা-নাব্গী হা-যিহী বিদ্বোয়া-'আতুনা- রুদ্দাত্ ইলাইনা- অনামীরু আহ্লানা-অনাহ্ফাজু আখ-না-অনায্দা-দু কাইলা বা'র্ঈ যা-লিকা কাইলুঁই ইয়ার্সী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের পিতা বললো: ‘আমি ওকে কখনো তোমাদের সাথে পাঠাবোনা, যতোক্ষণ না তোমরা এই মর্মে আল্লাহর কসম খেয়ে আমাকে কথা দেবে যে, তোমরা অবশ্যি তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনবে। তবে তোমরা নিজেরাই আক্রান্ত হয়ে পড়লে ভিন্ন কথা।’ অতপর তারা যখন এই মর্মে শপথ করে তাকে কথা দিলো, তখন সে বললো: ‘দেখো, আমরা যে বিষয়ে কথা স্থির করলাম, তার সাক্ষী স্বয়ং ।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমি তাকে কিছুতেই তোমাদের সাথে পাঠাব না যতক্ষণ না তোমরা আমার কাছে ‌র নামে ওয়াদা কর যে তোমরা নিশ্চয় আমার কাছে তাকে ফিরিয়ে আনবে, যদি না তোমরা একান্ত অসহায় হও।’’ অতএব তারা যখন তাঁকে তাদের প্রতি‌শ্রুতি দিল তখন তিনি বললেন - - ''আমরা যা বলছি তার উপরে ‌ই কর্ণধার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পিতা বলিল, ‘আমি উহাকে কখনই তোমাদের সঙ্গে পাঠাইব না যতক্ষণ না তোমরা ‌র নামে অঙ্গীকার কর যে, তোমরা উহাকে আমার নিকট লইয়া আসিবেই, অবশ্য যদি তোমরা একান্ত অসহায় হইয়া না পড়।’ অতঃপর যখন উহারা তাহার নিকট প্রতিজ্ঞা করিল তখন সে বলিল, ‘আমরা যে বিষয়ে কথা বলিতেছি, ‌ তাহার বিধায়ক।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা লান্ র্উসিলাহূ মা'আকুম্ হাত্তা-তুতূনি মাওছিক্বম্ মিনাল্লা-হি লাতাতুন্নানী বিহী য় ইল্লা য় আইঁ ইয়ুহা-ত্বোয়াবিকুম্ ফালাম্মা য় আ-তাওহু মাওছিক্বহুম্ ক্ব-লাল্লা-হু 'আলা- মা- নাক্বুলু অক্বীল্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (তাদের পিতা) আরো বললো: ‘হে আমার সন্তানেরা! তোমরা এক গেইট দিয়ে (এক পথে শহরে) প্রবেশ করোনা, বিভিন্ন প্রবেশ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে। (তোমরা এভাবে সতর্ক হয়ে প্রবেশ করবে) তবে আল্লাহর ইচ্ছা থেকে আমি তোমাদের রক্ষা করতে পারবোনা। সর্বময় কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর। আমি নিজেকে তাঁর কাছেই ন্যস্ত করতে চাই, তাঁর কাছেই ন্যস্ত করা উচিত।’

জহুরুল হক

তিনি আরো বললেন, ''হে আমার পুত্রগণ! তোমরা একই দরজা দিয়ে ঢুকো না, বরং তোমরা ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে ঢুকবে। ‌র বিরুদ্ধে তোমাদের জন্যে আমার কিছুই করার ক্ষমতা নেই। বিধান তো একমাত্র ‌র বৈ তো নয়। তাঁর উপরেই আমি নির্ভর করি, আর তাঁরই উপরে তবে নির্ভর করুক নির্ভরশীলগণ।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘হে আমার পুত্রগণ! তোমরা এক দ্বার দিয়া প্রবেশ করিও না, ভিন্ন ভিন্ন দ্বার দিয়া প্রবেশ করিবে। ‌র বিধানের বিরুদ্ধে আমি তোমাদের জন্য কিছু করিতে পারি না। বিধান ‌রই। আমি তাঁহারই উপর নির্ভর করি এবং যাহারা নির্ভর করিতে চাহে তাহারা ‌রই উপর নির্ভর করুক।’

বাংলা উচ্চারণ

অ ক্ব-লা ইয়া-বানিয়্যা লা-তাদ্খুলূ মিম্ বা-বিঁও অহিদিঁও ওয়াদ্খুলূ মিন্ আব্ওয়া-বিম্ মুতার্ফারিক্বাহ অমা য় উগ্নী 'আনকুম্ মিনাল্লা-হি মিন্ শাইয়িন্ ইনিল্ হুক্মু ইল্লা-লিল্লা-হি 'আলাইহি তাওয়াক্কাল্তু অ 'আলাইহি ফালইয়াতাঅক্কালিল্ মুতাঅক্কিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন তাদের পিতার নির্দেশ মতো (বিভিন্ন প্রবেশ পথে শহরে) প্রবেশ করলো, এ (সতর্কতামূলক) ব্যবস্থা আল্লাহর ইচ্ছার মোকাবেলায় তাদের কোনো কাজে আসেনি। তবে ইয়াকুবের মনে এ ব্যবস্থার সুফল সম্পর্কে যে চিন্তার উদ্রেক হয়েছিল, এর ফলে তার সে ভাবনাটা পূর্ণ হয়েছে। অবশ্যি সে আমার প্রদত্ত শিক্ষায় জ্ঞানবান ছিলো। তবে অনেক মানুষই এ বিষয়ে অবগত নয়।

জহুরুল হক

আর তারা যখন ঢুকল যেভাবে তাদের পিতা তাদের আদেশ করেছিলেন, তখন ‌র বিরুদ্ধে তাদের কিছুই করার সামর্থ্য ছিল না, কিন্তু এটি ইয়াকুবের অন্তরের একটি বাসনা যা তিনি চরিতার্থ করেছিলেন। আর নিঃসন্দেহ তিনি অবশ্যই ছিলেন জ্ঞানের অধিকারী যেহেতু আমরা তাঁকে জ্ঞানদান করেছিলাম, কিন্তু অধিকাংশ লোকেই জানে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন তাহারা, তাহাদের পিতা তাহাদেরকে যেভাবে আদেশ করিয়াছিল, সেইভাবেই প্রবেশ করিল, তখন ‌র বিধানের বিরুদ্ধে উহা তাহাদের কোন কাজে আসিল না; ইয়া‘কূব কেবল তাহার মনের একটি অভিপ্রায় পূর্ণ করিয়াছিল এবং সে অবশ্যই জ্ঞানী ছিল, কারণ আমি তাহাকে শিক্ষা দিয়াছিলাম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ইহা অবগত নয়।

বাংলা উচ্চারণ

অ লাম্মা- দাখালূ মিন্ হাইছু আমারহুম্ আবূহুম্ মা-কা-না ইয়ুগ্নী 'আন্হুম্ মিনাল্লা-হি মিন্ শাইয়িন্ ইল্লা-হা-জ্বাতান্ ফী নাফ্সি ইয়া'ক্বুবা ক্বদ্বোয়া-হা- অ ইন্নাহূ লাযূ ই'ল্মিল্লিমা-'আল্লাম্না-হু অলা-কিন্না আক্ছারা ন্না-সি লা-ইয়া'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন ইউসুফের কাছে (কার্যালয়ে) পৌঁছে, ইউসুফ তার ভাই (বিনইয়ামিন) - কে নিজের কাছে নিয়ে নেয়। সে তাকে বলে: ‘আমি তোমার (হারানো) ভাই ইউসুফ। এরা যা কিছু (আমাদের সাথে) করে আসছে সে জন্যে এখন আর দুঃখ করোনা।’

জহুরুল হক

আর তারা যখন ইউসুফের দরবারে প্রবেশ করল তাঁর ভাইকে তিনি নিজের সঙ্গে রাখলেন, তিনি বললেন - - ''আমিই তোমার ভাই, সুতরাং তারা যা করে তাতে দুঃখ করো না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা যখন ইউসুফের সম্মুখে উপস্থিত হইল, তখন ইউসুফ তাহার সহোদরকে নিজের কাছে রাখিল এবং বলিল, ‘নিশ্চয়ই আমিই তোমার সহোদর, সুতরাং উহারা যাহা করিত তাহার জন্য দুঃখ করিও না।’

বাংলা উচ্চারণ

অ লাম্মা- দাখালূ 'আলা- ইয়ূসুফা আ- অ য় ইলাইহি আখ-হু ক্ব-লা ইন্নী য় আনা আখূকা ফালা-তাব্তায়িস্ বিমা-কানূ ইয়া'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর ইউসুফ যখন তাদের জন্যে পণ্যসামগ্রী প্রস্তুত করে (করায়) তখন তাদের পণ্যসামগ্রীর মধ্যে পানপাত্র রেখে দেয়। তারপর (তারা যাত্রা করলে) একজন ঘোষক চিৎকার করে ঘোষণা করে: ‘হে কাফেলার লোকেরা! তোমরা চোর।’

জহুরুল হক

তারপর তিনি যখন তাদের পরিবেশন করলেন তাদের রসদের দ্বারা, তখন তাঁর ভাইয়ের মালপত্রের ভিতরে একটি পানপাত্র কেউ রেখে দিল। তারপর একজন আহবায়ক চিৎকার ক’রে বলল - - ''ওহে উট - চালকের দল! তোমরা নিশ্চয়ই চোর।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে যখন উহাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করিয়া দিল, তখন সে তাহার সহোদরের মালপত্রের মধ্যে পানপাত্র রাখিয়া দিল। অতঃপর এক আহ্বায়ক চিৎকার করিয়া বলিল, ‘হে যাত্রীদল! তোমরা নিশ্চয়ই চোর।’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-জ্বাহ্হাযাহুম্ বিজ্বাহা-যিহিম্ জ্বা'আলাস্ সিক্ব- ইয়াতা ফী রহ্লি আখীহি ছুম্মা আয্যানা মুওয়ায্যিনুন্ আইয়্যাতুহাল্ 'ঈরু ইন্নাকুম্ লাসা-রিক্বুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা ঘোষণাকারীদের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করে: ‘আপনাদের কি জিনিস খোয়া গেছে?’

জহুরুল হক

তারা তাদের নিকটে এসে বললে - - ''কি জিনিস তোমরা হারিয়েছ?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা তাহাদের দিকে ফিরিয়া বলিল, ‘তোমরা কী হারাইয়াছ?’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ অআক্ব্ ্বালূ 'আলাইহিম্ মা-যা-তাফ্ক্বিদূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা রাজার পানপাত্র খুঁজে পাচ্ছিনা। যে তা এনে দেবে, সে এক উট বোঝাই পণ্য সামগ্রী পাবে। আর এর জিম্মা (দায়িত্ব) নিচ্ছি আমি।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমরা রাজার পানপাত্র হারিয়েছি, আর যে এটি নিয়ে আসবে এক উট - বোঝাই মাল, আর আমি এরজন্যে জামিন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘আমরা রাজার পানপাত্র হারাইয়াছি; যে উহা আনিয়া দিবে সে এক উষ্ট্রবোঝাই মাল পাইবে এবং আমি উহার জামিন।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ নাফ্ক্বিদু ছঅ-'আল্ মালিকি অলিমান্ জ্বা - য়া বিহী হিম্লু বাঈ'রিওঁ অআনা বিহী যা'ঈম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আল্লাহর কসম, তোমরা তো জানো, আমরা তোমাদের দেশে অনাসৃষ্টি করতে আসিনি, আর চুরির সাথেও আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''‌র কসম! তোমরা নিশ্চয়ই জান যে আমরা এদেশে দুস্কর্ম করতে আসি নি, আর আমরা চোরও নই।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘‌র শপথ! তোমরা তো জান আমরা এই দেশে দুষ্কৃতি করিতে আসি নাই এবং আমরা চোরও নই।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ তাল্লা-হি লাক্বদ্ 'আলিম্তুম্ মা-জ্বি'না লিনুফ্সিদা ফিল্ র্আদ্বি অমা-কুন্না-সারিক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (ইউসুফের লোকেরা) বললো: ‘তার (চোরের) কী শাস্তি হবে যদি তোমাদের কথা মিথ্যা প্রমাণিত হয়?’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''তবে কি হবে এর প্রতিফল যদি তোমরা হচ্ছ মিথ্যাবাদী?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘যদি তোমরা মিথ্যাবাদী হও তবে তাহার শাস্তি কী?

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ ফামা-জ্বাযা - য়ুহূ য় ইন্ কুন্তুম্ কা-যিবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা জবাব দিলো: ‘(আমাদের আইনে) এর শাস্তি হলো যার পণ্য সামগ্রীর মধ্যে পান পাত্রটি পাওয়া যাবে, সে - ই এর বিনিময় (হিসেবে গ্রেফতার) হবে। আমাদের দেশে আমরা অন্যায়কারীদের এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''এর প্রতিফল হবে - - যার মালপত্রের মধ্যে এটি পাওয়া যাবে সেই হবে এর প্রতিফলের পাত্র। এইভাবেই আমরা অন্যায়কারীদের শাস্তি দিই।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘ইহার শাস্তি যাহার মালপত্রের মধ্যে পাত্রটি পাওয়া যাইবে, সে - ই তাহার বিনিময়।’ এইভাবে আমরা সীমালংঘনকারীদেরকে শাস্তি দিয়া থাকি।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ জ্বাযা - য়ুহূ মাওঁ য়ুজ্বিদা ফী রহ্লিহী ফাহঅ জ্বাযা - য়ুহূ কাযা-লিকা নাজ্বযিজ্ জোয়া-লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর সে ইউসুফের সহোদরের মালপত্রের পূর্বে তার সৎ ভাইদের মালপত্রের তল্লাশি শুরু করে। পরে তার সহোদরের পণ্যসামগ্রীর মধ্য থেকে পাত্রটি বের করে। এভাবে আমি ইউসুফের জন্যে কৌশল ঠিক করেছিলাম। মিশর রাজের প্রচলিত আইনে তার ভাইকে নিজের কাছে রেখে দেয়া সম্ভব ছিলনা। তবে চাইলে ভিন্ন কথা। যাকে ইচ্ছা আমি মর্যাদা উঁচু করে দিই। আর প্রত্যেক জ্ঞান ওয়ালার উপরই সর্বজ্ঞানী () আছেন।

জহুরুল হক

অতঃপর তিনি তাদের মালপত্রে আর করলেন তাঁর ভাইয়ের মালের আগে, তারপর তিনি তা বের করলেন তাঁর ভাইয়ের মালপত্র থেকে। এইভাবেই আমরা ইউসুফের জন্য পরিকল্পনা করেছিলাম। তাঁর পক্ষে রাজার আইন অনুসারে তাঁর ভাইকে রাখা সম্ভব ছিল না যদি না ইচ্ছা করতেন। আমরা যাকে ইচ্ছা করি স্তরে স্তরে উন্নত করি। আর প্রত্যেক জ্ঞানবানদের উপরে রয়েছেন সর্বজ্ঞানময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে তাহার সহোদরের মালপত্র তল্লাশির পূর্বে উহাদের মালপত্র তল্লাশি করিতে লাগিল, পরে তাহার সহোদরের মালপত্রের মধ্য হইতে পাত্রটি বাহির করিল। এইভাবে আমি ইউসুফের জন্য কৌশল করিয়াছিলাম। রাজার আইনে তাহার সহোদরকে সে আটক করিতে পারিত না, ‌ ইচ্ছা না করিলে। আমি যাহাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি। প্রত্যেক জ্ঞানবান ব্যক্তির উপর আছেন সর্বজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

ফাবাদায়া বিআও'ইইয়াতিহিম্ ক্বব্লা ওয়ি'আ - যা আখীহি ছুম্মাস্ তাখ্রাজ্বাহা- মিঁও ওয়ি'আ - য়ি আখীহ্ কাযা-লিকা কিদ্না-লিইয়ূসুফ্ মা-কা-না লিইয়াখুযা আখ-হু ফী দীনিল্ মালিকি ইল্লা য় আইঁ ইয়াশা - য়াল্লা-হ্ র্নাফাউ' দারাজ্বা-তিম্ মান্ নাশা - য়ু অফাওক্ব কুল্লি যী 'ইল্মিন্ 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(ইউসুফের সহোদরের বস্তায় পানপাত্রটি পাওয়ায় তার সৎ ভাইয়েরা) বলে উঠলো: ‘এ যদি আজ চুরি করে থাকে, তবে (এতে বিস্ময়ের কিছু নেই, কারণ) ইতোপূর্বে তার এক সহোদরও (ইউসুফও) চুরি করেছিল।’ ইউসুফ (তাদের এই জঘন্য মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া) নিজের মনের মধ্যে হজম করে নিলো, তাদের সামনে প্রকাশ হতে দিলনা। (শুধু মনে মনে) বললো: ‘একেবারে নিকৃষ্ট পর্যায়ে গিয়ে পৌছেছো তোমরা। যে জঘন্য দোষ তোমরা আমার প্রতি আরোপ করলে সে বিষয়ে আল্লাহই সর্বাধিক অবহিত আছেন।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''যদি সে চুরি করে থাকে তার ভাইও তো এর আগে চুরি করেছিল।’’ তখন ইউসুফ এটি নিজের অন্তরেই গোপন রেখেছিলেন এবং তিনি তা তাদের কাছে প্রকাশ করেন নি। তিনি বললেন - - ''তোমরা আরও হীন অবস্থাতে রয়েছ, আর ভাল জানেন তোমরা যা আরোপ করছ সে - সন্বন্ধে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘সে যদি চুরি করিয়া থাকে তবে তাহার সহোদরও তো পূর্বে চুরি করিয়াছিল।’ কিন্তু ইউসুফ প্রকৃত ব্যাপার নিজের মনে গোপন রাখিল এবং উহাদের নিকট প্রকাশ করিল না; সে মনে মনে বলিল, ‘তোমাদের অবস্থা তো হীনতর এবং তোমরা যাহা বলিতেছ সে সম্বন্ধে ‌ সবিশেষ অবহিত।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ য় ইঁ ইয়াসরিক্বু ফাক্বদ্ সারাক্বা আখুল্লাহূ মিন্ ক্বব্লু ফাআর্সারহা-ইয়ূসুফু ফী নাফ্সিহী অলাম্ ইউব্দিহা-লাহুম্ ক্ব-লা আনতুম্ র্শারুম্ মাকা-নান্ অল্লা-হু আ'লামু বিমা-তাছিফূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘হে আযীয ! এর একজন অতিশয় বৃদ্ধ পিতা আছেন। তাই আপনি ওর স্থলে আমাদের কোনো একজনকে রেখে দিন। আমাদের দৃষ্টিতে আপনি একজন মহানুভব - পরোপকারী ব্যক্তি।’

জহুরুল হক

ওরা বললে - - ''ওহে প্রধান! এর পিতা আছেন, অত্যন্ত বুড়ো মানুষ, অতএব তার জায়গায় আমাদের একজনকে রেখে নিন, যেহেতু আমরা আপনাকে দেখছি মহানুভবদের মধ্যেকার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘হে ‘আযীয! ইহার পিতা তো অতিশয় বৃদ্ধ; সুতরাং ইহার স্থলে আপনি আমাদের একজনকে রাখুন। আমরা তো আপনাকে দেখিতেছি মহানুভব ব্যক্তিদের একজন।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ-ইয়া য় আইয়্যুহাল্ 'আযীযু ইন্না লাহূ য় আবান্ শাইখান্ কাবীরান্ ফাখুয্ আহাদানা- মাকা-নাহূ ইন্না-নারা-কা মিনাল্ মুহ্সিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ইউসুফ) বললো: যার কাছে আমাদের জিনিস পেয়েছি, তাকে ছাড়া অন্য কাউকেও আঁটকানোর (মতো অন্যায়) কাজ থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। এমন কাজ করলে তো আমরা যালিম বলে গণ্য হবো।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - '' রক্ষা করুন যে আমরা যার কাছে আমাদের জিনিস পেয়েছি তাকে ছাড়া অন্যকে ধরে রাখি, কেননা সে ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই অন্যায়কারী হব!’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘যাহার নিকট আমরা আমাদের মাল পাইয়াছি, তাহাকে ছাড়া অন্যকে রাখার অপরাধ হইতে আমরা ‌র শরণ লইতেছি। এইরূপ করিলে আমরা অবশ্যই সীমালংঘনকারী হইব।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা মা'আযাল্লা-হি আন্ নাখুযা ইল্লা-মাওঁ অজ্বাদ্না-মাতা-'আনা-'ইন্দাহূ য় ইন্না য় ইযাল্লাজোয়া-লিমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর যখন তারা তার (ইউসুফের) কাছ থেকে সম্পূর্ণ নিরাশ হলো, তখন নির্জনে গিয়ে পরামর্শ করতে বসলো। তাদের বড়জন (বড়ভাই) বললো: ‘‘তোমাদের নলেজে কি নেই, তোমাদের পিতা আল্লাহর নামে তোমাদের কাছ থেকে একথার অংগীকার আদায় করেছেন (যে, তোমরা বিনইয়ামিনকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে নেবে)? ইতোপূর্বে তোমরা ইউসুফের ব্যাপারেও (পিতাকে কথা দিয়ে) কথা রাখতে পারোনি। তাই আমি (সিদ্ধান্ত নিয়েছি) আববার অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত এ দেশ ত্যাগ করবোনা, যতোক্ষণ না নিজেই (বিনইয়ামিনকে মুক্ত করে) আমার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন। কারণ, তিনিই তো সর্বোত্তম বিচারক।’’

জহুরুল হক

যখন তারা তাঁর কাছ থেকে হতাশ হল তখন তারা পরামর্শের জন্যে আলদা হল। তাদের বড়জন বললে - - ''তোমরা কি জান না যে তোমাদের আব্বা তোমাদের কাছ থেকে ‌র নামে অংগীকার নিয়েছেন, আর এর আগে ইউসুফের ব্যাপারেও তোমরা কি রকম ত্রুটি করেছিলে? কাজেই আমি কিছুতেই এ দেশ ছেড়ে যাব না যে পর্যন্ত না আমার আব্বা আমাকে অনুমতি দেন, অথবা আমার জন্য কোনো হুকুম দেন, কেননা তিনিই হাকিমগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন উহারা তাহার নিকট হইতে সম্পূর্ণ নিরাশ হইল, তখন উহারা নির্জনে গিয়া পরামর্শ করিতে লাগিল। উহাদের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বলিল, ‘তোমরা কি জান না যে, তোমাদের পিতা তোমাদের নিকট হইতে ‌র নামে অঙ্গীকার লইয়াছেন এবং পূর্বেও তোমরা ইউসুফের ব্যাপারে ত্রুটি করিয়াছিলে? সুতরাং আমি কিছুতেই এই দেশ ত্যাগ করিব না, যতক্ষণ না আমার পিতা আমাকে অনুমতি দেন অথবা ‌ আমার জন্য কোন ব্যবস্থা করেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ বিচারক।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মাস্ তাইয়াসূ মিন্হু খালাছূ নাজ্বিয়্যা- ক্ব-লা কাবীরুহুম্ আলাম্ তা'লামূ য় আন্না আবা-কুম্ ক্বদ্ আখাযা 'আলাইকুম্ মাওছিক্বম্ মিনাল্লা-হি অমিন্ ক্বব্লু মা-র্ফারাত্বতুম্ ফী ইয়ূসুফা ফালান্ আব্ রহাল্ র্আদ্বোয়া হাত্তা-ইয়াযানা লী য় আবী য় আও ইয়াহ্কুমাল্লা-হু লী অহুঅ খইরুল্ হা-কিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘তোমরা বাবার কাছে ফিরে গিয়ে তাঁকে বলো: বাবা! তোমার ছেলে চুরি করেছে। আমরা (ওকে চুরি করতে) দেখিনি, তবে যা জেনেছি তাই তোমাকে বলছি। আর না দেখা বিষয় তো আমরা হিফাযত করতে পারিনা।’’

জহুরুল হক

''তোমরা তোমাদের আব্বার কাছে ফিরে যাও এবং বলো - - ''হে আমাদের আব্বা! নিঃসন্দেহ তোমার ছেলে চুরি করেছে, আর আমরা যা জানি তা ছাড়া অন্য প্রত্যক্ষ বিবরণ দিচ্ছি না, আর অদৃশ্যের ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা তোমাদের পিতার নিকট ফিরিয়া যাও এবং বল, ‘হে আমাদের পিতা! আপনার পুত্র তো চুরি করিয়াছে এবং আমরা যাহা জানি তাহারই প্রত্যক্ষ বিবরণ দিলাম। আর অজানা ব্যাপারে আমরা সংরক্ষণকারী নই।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-শাহিদ্না য় ইল্লা-বিমা-'আলিম্না-অমা- কুন্না লিল্গাইবি হা-ফিজীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘আমরা যে বসতিতে ছিলাম সেখানকার লোকদের জিজ্ঞেস করে দেখুন, যে কাফেলার সাথে আমরা ফিরে এসেছি তার লোকদের কাছে জেনে দেখুন, আমরা অবশ্যি সত্য বলছি।’’

জহুরুল হক

''আর আমরা যেখানে ছিলাম সেই শহরবাসীদের জিজ্ঞাসা কর, আর যাদের সঙ্গে আমরা এসেছি সেই যাত্রীদলকেও। আর আমরা তো অবশ্যই সত্যবাদী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যে জনপদে আমরা ছিলাম উহার অধিবাসিগণকে জিজ্ঞাসা করুন এবং যে যাত্রীদলের সঙ্গে আমরা আসিয়াছি তাহাদেরকেও। আমরা অবশ্যই সত্য বলিতেছি।’

বাংলা উচ্চারণ

অস্য়ালিল্ র্ক্বইয়াতাল্লাতী কুন্না-ফীহা- অল্'ঈরল লাতী য় আক্বুবাল্না- ফীহা- অইন্না-লাছোয়া-দিক্বুন্। অইন্না-লাছোয়া-দিক্বুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তাদের বক্তব্য শুনে তাদের পিতা) ইয়াকুব বললো: ‘না, বরং তোমাদের নফস তোমাদের জন্যে একটা কাজকে সহজ করে দিয়েছে। সুতরাং ধৈর্য ধারণ করাই আমার জন্যে যথোপযুক্ত কাজ। হয়তো ওদের সবাইকে একত্রে আমার সাথে মিলিত করে দেবেন। অবশ্যি তিনি সর্বময় জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মালিক।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''না এ, বরং তোমাদের অন্তর তোমাদের জন্য ও বিষয়টি উদ্ভাবন করেছে, কিন্তু ধৈর্যধারণই উত্তম। হতে পারে ওদের সবাইকে আমার কাছে এনে দেবেন। নিঃসন্দেহ তিনিই সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইয়া‘কূব বলিল, ‘না, তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি কাহিনী সাজাইয়া দিয়াছে, সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়; হয়তো ‌ উহাদেরকে একসঙ্গে আমার নিকট আনিয়া দিবেন। অবশ্য তিনিই সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা বাল্ সাওঅলাত্ লাকুম্ আন্ফুসুকুম্ আম্রা- ফাছোয়াব্ রুন্ জ্বামীল্ 'আসাল্লা-হু আইঁ ইয়াতিয়ানী বিহিম্ জ্বামী'আ- ইন্নাহূ হুঅল্ 'আলীমুল্ হাকীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে তাদের সাথে কথা না বাড়িয়ে আত্মমগ্ন হয় এবং স্বগতোক্তি করে: ‘ইউসুফের জন্যে আমি শোকাভিভূত!’ এভাবে দুঃখ ও শোকে তার চক্ষুদ্বয় সাদা হয়ে যায়। আর মনোবেদনায় সে পীড়িত হয়ে পড়ে।

জহুরুল হক

আর তিনি তাদের থেকে ফিরলেন ও বললেন - - ''হায় আমার আফসোস ইউসুফের জন্য!’’ আর তাঁর চোখ সাদা হয়ে গিয়েছিল শোকাবেগ বশতঃ, যদিও তিনি সংবরণকারী ছিলেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে উহাদের হইতে মুখ ফিরাইয়া লইল এবং বলিল, ‘আফসোস ইউসুফের জন্য।’ শোকে তাহার চক্ষুদ্বয় সাদা হইয়া গিয়াছিল এবং সে ছিল অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট।

বাংলা উচ্চারণ

অ তাঅল্লা-'আন্হুম্ অ ক্ব -লা ইয়া য় আ-সাফা- 'আলা-ইয়ূসুফা অব্ ইয়দ্ব্দ্বোয়াত্ 'আইনা-হু মিনাল্ হুয্নি ফাহুঅ কাজীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (ছেলেরা) বললো: ‘আল্লাহর কসম, মুমূর্ষু হয়ে পড়া, কিংবা মৃত্যু বরণ করা পর্যন্ত (মনে হয়) আপনি ইউসুফের স্মরণ থেকে বিরত হবেন না।’

জহুরুল হক

তারা বললে, ''দোহাই ‌র! তুমি ইউসুফকে স্মরণ করা ছাড়বে না যে পর্যন্ত না তুমি রোগাক্রান্ত হও, অথবা প্রাণত্যাগী হয়ে যাও।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘‌র শপথ! আপনি তো ইউসুফের কথা সদা স্মরণ করিতে থাকিবেন যতক্ষণ না আপনি মুমূর্ষু হইবেন, অথবা মৃত্যুবরণ করিবেন।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব- লূ তাল্লা-হি তাফ্তায়ূ তায্কুরু ইয়ূসুফা হাত্তা-তাকূনা হারদ্বোয়ান্ আও তাকূনা মিনাল্ হা-লিকীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ইয়াকুব) বললো: ‘‘আমি আমার দুঃখ - বেদনা ও মনস্তাপের অভিযোগ তো শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে নিবেদন করছি। আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তা জানি, যা তোমরা জানোনা।’’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার অসহনীয় দুঃখ ও আমার বেদনা নিবেদন করছি ‌রই কাছে, আর আমি ‌র তরফ থেকে জানি যা তোমরা জান না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘আমি আমার অসহনীয় বেদনা, আমার দুঃখ শুধু ‌র নিকট নিবেদন করিতেছি এবং আমি ‌র নিকট হইতে জানি যাহা তোমরা জান না।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইন্নামা য় আশ্কূ বাছ্ছী অহুয্নী য় ইলাল্লা-হি অ আ'লামু মিনাল্লা-হি মা-লা-তা'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘হে আমার পুত্ররা! তোমরা যাও, গিয়ে ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সন্ধান করো। আল্লাহর রহমত (mercy) থেকে নিরাশ হয়োনা। কাফিররা ছাড়া আর কেউই নিরাশ হয়না আল্লাহর রহমত থেকে।’’

জহুরুল হক

''হে আমার ছেলেরা! তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তার ভাইয়ের খোঁজ কর, আর ‌র আশিস সন্বন্ধে নিরাশ হয়ো না। নিঃসন্দেহ অবিশ্বাসী লোকেরা ছাড়া অন্য কেউ ‌র আশিস সন্বন্ধে নিরাশ হয় না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার পুত্রগণ! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তাহার সহোদরের অনুসন্ধান কর এবং ‌র আশিস হইতে তোমরা নিরাশ হইও না। কারণ ‌র আশিস্ হইতে কেহই নিরাশ হয় না, সম্প্রদায় ব্যতীত।’

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া বানিয়্যায্ হাবূ ফাতাহাস্সাসূ মিঁ ইয়ূসুফা অআখীহি অলা-তাইয়াসূ র্মি রওহিল্লা-হ্ ইন্নাহূ লা-ইয়াই আসু র্মি রওহিল্লা-হি ইল্লাল্ ক্বওমুল্ কা-ফিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

পুনরায় যখন তারা তার (ইউসুফের) কাছে উপস্থিত হলো, বললো: ‘হে আযীয! আমরা এবং আমাদের পরিবার পরিজন যারপর নাই বিপদের মধ্যে পড়েছি, আর সামান্য পূজি আমরা নিয়ে এসেছি। আপনি আমাদের পূর্ণ বরাদ্দ প্রদান করুন এবং আমাদের প্রতি দানের হাত বাড়িয়ে দিন! অবশ্যি দানশীলদের পুরস্কৃত করে থাকেন।’

জহুরুল হক

তারপর তারা যখন তাঁর দরবারে দাখিল হল তখন বলল - - ''ওহে প্রধান! আমাদের ও আমাদের পরিবার - পরিজনের উপরে দুর্দিন এসে পড়েছে, আর আমরা সামান্য দ্রব্যমূল্য নিয়ে এসেছি, সেজন্যে আমাদের পূর্ণমাত্রায় দিন এবং আমাদের প্রতি দানখয়রাত করুন। নিঃসন্দেহ দানশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকেন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন উহারা তাহার নিকট উপস্থিত হইল তখন বলিল, ‘হে ‘আযীয! আমরা ও আমাদের পরিবার - পরিজন বিপন্ন হইয়া পড়িয়াছি এবং আমরা তুচ্ছ পুঁজি লইয়া আসিয়াছি; আপনি আমাদের রসদ পূর্ণমাত্রায় দিন এবং আমাদেরকে দান করুন; ‌ অবশ্যই দাতাগণকে পুরস্কৃত করিয়া থাকেন।’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-দাখালূ 'আলাইহি ক্ব-লূ ইয়া য় আইয়্যুহাল্ 'আযীযু মাস্সানা-অআহ্লানাদ্বর্ ুরু অজ্বিনা- বিবিদ্বোয়া-'আতিম্ মুয্জ্বা-তিন ফাআওফি লানাল্ কাইলা অতাছোদ্দাক্ব 'আলাইনা- ইন্নাল্লা-হা ইয়াজ্বযিল্ মুতাছোয়াদ্দিক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ইউসুফ) বললো: ‘তোমরা কি জানোনা, তোমরা ইউসুফ আর তার সহোদরের সাথে কী আচরণটা করেছিলে, যখন তোমরা ছিলে জাহিল?’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমরা কি জানো ইউসুফ ও তার ভাইয়ের প্রতি তোমরা কি করেছিলে যখন তোমরা ছিলে বিবেচনাহীন?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘তোমরা কি জান, তোমরা ইউসুফ ও তাহার সহোদরের প্রতি কিরূপ আচরণ করিয়াছিলে, যখন তোমরা ছিলে অজ্ঞ?’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা হাল্ 'আলিম্তুম্ মা-ফা'আল্তুম্ বিইয়ূসুফা অআখীহি ইয্ আন্তুম্ জ্বা-হিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘তবে কি তুমি - তুমিই ইউসুফ?’ সে বললো: ‘আমিই ইউসুফ আর এ আমার সহোদর! আমাদের প্রতি ইহ্সান করেছেন। যারা তাকওয়া আর সবর অবলম্বন করে, নিশ্চয়ই সেইসব মুহসিনদের কর্মফল বৃথা যেতে দেন না।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আপনিই কি তবে ইউসুফ?’’ তিনি বললে - - ''আমিই ইউসুফ আর এই আমার সহোদর। আলবৎ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। নিঃসন্দেহ যে কেউ ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করে ও ধৈর্যধারণ করে - - কেননা নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলদের কর্মফল বিফল করেন না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘তবে কি তুমিই ইউসুফ?’ সে বলিল, ‘আমিই ইউসুফ এবং এই আমার সহোদর; ‌ তো আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি এবং ধৈর্যশীল, ‌ তো সেইরূপ সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ য় 'আইন্নাকা লাআন্তা ইয়ূসুফু ক্ব-লা আনা ইয়ূসূফু অহাযা য় আখী ক্বদ্ মান্নাল্লা-হু 'আলাইনা- ইন্নাহূ মাইঁ ইয়াত্তাক্বি অইয়ার্ছ্বি ফাইন্না ল্লা-হা লা-ইয়ুদ্বী'উ আজ্বরাল্ মুহসিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আল্লাহর কসম! তোমাকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন আর আমরা অবশ্যি অপরাধ করে আসছি।’

জহুরুল হক

তারা বললে, ''‌র কসম! অবশ্যই আমাদের উপরে তোমাকে প্রাধান্য দিয়েছেন, আর আমরা নিশ্চয় পাপী ছিলাম।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‌র শপথ! ‌ নিশ্চয়ই তোমাকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়াছেন এবং আমরা তো অপরাধী ছিলাম।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ তাল্লা-হি লাক্বদ্ আ-ছারকাল্লা-হু 'আলাইনা- অইন্ কুন্না- লাখ-ত্বিয়ীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফ বললো: ‘‘আজ আর তোমাদের বিরুদ্ধে (আমার) কোনো নিন্দা - ভৎর্সনা নেই। তোমাদের ক্ষমা করুন। তিনি সবার সেরা দয়ালু।’’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমাদের বিরুদ্ধে আজ কোনো অভিযোগ নয়। তোমাদের ক্ষমা করুন, আর তিনিই তো ফলদান - কারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফলদাতা।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নাই। ‌ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব -লা লা-তাছ্রীবা 'আলাইকুমুল্ ইয়াওম্ ইয়াগ্ফিরু ল্লা-হু লাকুম্ অহুঅ র্আহামুর র-হিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘তোমরা আমার এই জামাটি নিয়ে আববাজানের কাছে যাও এবং এটি তাঁর মুখমন্ডলে লাগাও, এতে তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন। আর তোমাদের পরিবার পরিজন সবাইকে নিয়ে আমার এখানে চলে আসো।’’

জহুরুল হক

''আমার এই জামাটি নিয়ে যাও এবং এটি আমার আব্বার মুখের সামনে রেখো, তিনি চক্ষুষ্মান হবেন। আর তোমাদের পরিবার - পরিজনদের সকলকে নিয়ে আমার কাছে এস।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা আমার এই জামাটি লইয়া যাও এবং ইহা আমার পিতার মুখমণ্ডলের উপর রাখিও; তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়া পাইবেন। আর তোমাদের পরিবারের সকলকেই আমার নিকট লইয়া আসিও।’

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ হাবূ বিক্বমীছী হাযা- ফায়াল্ক্বহু 'আলা-অজ্বহি আবী ইয়াতি বাছীরন্ অতূনী বিআহ্লিকুম্ আজ্বমা'ঈন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কাফেলা যখন (মিশর থেকে) যাত্রা শুরু করলো, তখন তাদের পিতা পরিবারের লোকদের বলতে লাগলো: ‘তোমরা যদি আমাকে বৃদ্ধ বয়সের মতিভ্রম মনে না করো, তবে শুনো! অবশ্যি আমি ইউসুফের সুবাস পাচ্ছি।’

জহুরুল হক

আর যখন যাত্রীদল বেরিয়ে পড়ল তখন তাদের পিতা লোকজনকে বললেন, ''নিঃসন্দেহ আমি আলবৎ ইউসুফের হাওয়া - বাতাস টের পাচ্ছি, যদিও তোমরা আমাকে মতিচ্ছন্ন মনে কর।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর যাত্রীদল যখন বাহির হইয়া পড়িল তখন উহাদের পিতা বলিল, ‘তোমরা যদি আমাকে অপ্রকৃতিস্থ মনে না কর তবে বলি, আমি ইউসুফের ঘ্রাণ পাইতেছি।’

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা-ফাছোয়ালাতিল্ 'ঈরু ক্ব-লা আবূহুম্ ইন্নী লাআজ্বিদু রীহা ইয়ূসুফা লাওলা য় আন্ তুফান্নিদূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আল্লাহর কসম, আপনি আপনার পুরোনো (বৃদ্ধ বয়সের) বিভ্রান্তির মধ্যেই নিমজ্জিত আছেন।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''‌র কসম! আপনি নিঃসন্দেহ আপনার পুরনো ভ্রান্তিতেই রয়েছেন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘‌র শপথ! আপনি তো আপনার পূর্ব - বিভ্রান্তিতেই রহিয়াছেন

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ তাল্লা-হি ইন্নাকা লাফী দ্বলা-লিকাল্ ক্বদীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর যখন আনন্দ সংবাদের বাহক এসে উপস্থিত হয়, সে ইউসুফের জামা ইয়াকুবের মুখমন্ডলে রাখে, আর সাথে সাথে সে দৃষ্টি শক্তি ফিরে পায়। সে বলে: ‘আমি কি তোমাদের বলিনি, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন সব বিষয় জানি, যা তোমরা জানোনা?’

জহুরুল হক

তারপর যখন সুসংবাদবাহক এল, সে সেটি তাঁর মুখের সামনে রাখল, তখন তিনি চক্ষুষ্মান হলেন। তিনি বললেন - - ''আমি কি তোমাদের বলি নি যে আমি ‌র কাছ থেকে জানি যা তোমরা জান না?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর যখন সুসংবাদবাহক উপস্থিত হইল এবং তাহার মুখমণ্ডলের উপর জামাটি রাখিল তখন সে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়া পাইল। সে বলিল, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলি নাই যে, আমি ‌র নিকট হইতে জানি যাহা তোমরা জান না?’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা য় আন্ জ্বা - য়াল্ বাশীরু আল্ক্বা-হু 'আলা-অজ্বহিহী র্ফাতাদ্দা বাছীরান্ ক্ব-লা আলাম্ আক্বুল্ লাকুম্ ইন্নী য় আ'লামু মিনাল্লা-হি মা-লা-তা'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘বাবা! আপনি আমাদের অপরাধ মাফির জন্যে (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করুন, আমরা অবশ্যি অপরাধে লিপ্ত ছিলাম।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''হে আমাদের আব্বা! আমাদের অপরাধের জন্যে আমাদের তরফ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিঃসন্দেহ আমরা হচ্ছি দোষী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘হে আমাদের পিতা! আমাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন; আমরা তো অপরাধী।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ ইয়া য় আবা-নাস্তার্গ্ফিলানা-যুনূবানা য় ইন্না-কুন্না-খ-ত্বিয়ীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ইয়াকুব) বললো: ‘হ্যাঁ, আমি আমার প্রভুর কাছে তোমাদের মাফ করে দেয়ার জন্যে অচিরেই আবেদন জানাবো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল পরম করুণাময়।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমি শীঘ্রই তোমাদের জন্য আমার প্রভুর কাছে মার্জনা চাইব। নিঃসন্দেহ তিনি নিজেই পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিব। তিনি তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা সাওফা আস্তাগ্ফিরু লাকুম্ রব্বী ইন্নাহূ হুঅল্ গফূর্রু রহীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর তারা (মিশরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে) যখন ইউসুফের কাছে (সীমানায়) এসে পৌঁছে, ইউসুফ (তাদের অভ্যর্থনা জানাবার জন্যে এগিয়ে যায়), নিজের আববা আম্মাকে নিজের সাথে নিয়ে নেয় এবং (সবাইকে) বলে: ‘ইনশাল্লাহ, আপনারা নিরাপদ নিশ্চিন্তে মিশরে প্রবেশ করুন।’

জহুরুল হক

তারপর তাঁরা যখন ইউসুফের দরবারে দাখিল হলেন তখন তিনি তাঁর পিতামাতাকে নিজের সঙ্গে রাখলেন এবং বললেন - - ''ইন - শা - মিশরে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করুন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহারা যখন ইউসুফের নিকট উপস্থিত হইল, তখন সে তাহার পিতা - মাতাকে আলিংগন করিল এবং বলিল, ‘আপনারা ‌র ইচ্ছায় নিরাপদে মিশরে প্রবেশ করুন।’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-দাখালূ 'আলা-ইয়ূসুফা আ-ওয়া য় ইলাইহি আবাঅইহি অক্ব-লাদ্খুলূ মিছ্রা ইন্শা - য়াল্লা-হু আ-মিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সে নিজের পিতা মাতাকে উচ্চাসনে উঠিয়ে নেয়। তখন তারা সবাই ইউসুফের প্রতি সাজদায় অবনত হয়। আর ইউসুফ তার পিতাকে বলে: ‘আববাজান! ইতোপূর্বে (ছোটবেলায়) আমি যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, এটাই সে স্বপ্নের তা’বিল (তাৎপর্য)। আমার প্রভু সেই স্বপ্নটিকে সত্যে পরিণত করেছেন। তাছাড়া আমার মহান প্রভু আমাকে কারাগার থেকে বের করে এনে এবং শয়তান আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে দেয়ার পরও আপনাদের সবাইকে মরু অঞ্চল থেকে এখানে এনে আমার সাথে মিলিত করে দিয়ে আমার প্রতি বিরাট ইহ্সান করেছেন। আসলে আমার প্রভু যার প্রতি ইচ্ছা করেন, খুবই কোমল - দয়ালু হয়ে থাকেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞানী - প্রজ্ঞাময়।’’

জহুরুল হক

আর তিনি তাঁর পিতামাতাকে উচ্চাসনে বসালেন, আর তাঁর কারণে তাঁরা সিজদারত হলেন। তখন তিনি বললেন, ''হে আমার আব্বা! এটিই আমার পূর্বেকার দৈবদর্শনের তাৎপর্য, আমার প্রভু তা সত্যে পরিণত করেছেন। আর তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলেন যখন তিনি আমাকে কারাগার থেকে মুক্ত করেছিলেন, এবং মরুভূমি থেকে আপনাদের নিয়ে এসেছেন আমার মধ্যে ও আমার ভাইয়ের মধ্যে শয়তান বিরোধ বাধাবার পরে। নিঃসন্দেহ আমার প্রভু যাকে ইচ্ছা করেন তার প্রতি পরম সদাশয়। নিঃসন্দেহ তিনি নিজেই সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ইউসুফ তাহার মাতা - পিতাকে উচ্চাসনে বসাইল এবং উহারা সকলে তাহার সম্মানে সিজ্‌দায় লুটাইয়া পড়িল। সে বলিল, ‘হে আমার পিতা! ইহাই আমার পূর্বেকার স্বপ্নের ব্যাখ্যা; আমার প্রতিপালক উহা সত্যে পরিণত করিয়াছেন এবং তিনি আমাকে কারাগার হইতে মুক্ত করিয়া এবং শয়তান আমার ও আমার ভ্রাতাদের সম্পর্ক নষ্ট করিবার পরও আপনাদেরকে মরু অঞ্চল হইতে এখানে আনিয়া দিয়া আমার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন। আমার প্রতিপালক যাহা ইচ্ছা তাহা নিপুণতার সঙ্গে করেন। তিনি তো সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’

বাংলা উচ্চারণ

অ রফা'আ আবাঅইহি 'আলাল্ 'র্আশি অর্খারূ লাহূ সুজ্জ্বাদান্ অক্ব-লা ইয়া য় আবাতি হাযা- তাওয়ীলু রুইয়া-ইয়া মিন্ ক্ববলু ক্বদ্ জ্বা'আলাহা-রব্বী হাক্বুক্ব- অক্বদ্ আহ্সানা বী য় ইয্ আখ্রজ্বানী মিনাস্ সিজ্বনি অজ্বা - য়া বিকুম্ মিনাল্ বাদ্ওয়ি মিম্ বা'দি আন্ নাযাগাশ্ শাইত্বোয়া-নু বাইনী অবাইনা ইখ্অতী- ইন্না রব্বী লাত্বীফুল্ লিমা-ইয়াশা - য়্ ইন্নাহূ হুঅল্ 'আলীমুল্ হাকীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(ইউসুফ এসময় বিনয়ের সাথে দোয়া করে। দোয়ায়) সে বলে: ‘‘আমার প্রভু! তুমি আমাকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দান করেছো এবং আমাকে সকল কথার (কিংবা সকল বিষয়ের, অথবা স্বপ্নের) তাৎপর্য উপলব্ধি করার শিক্ষা দান করেছো! মহাবিশ্ব আর এই পৃথিবীর (একমাত্র স্রষ্টা তুমি! এই পৃথিবীর জীবনে এবং আখিরাতে তুমিই আমার অভিভাবক! তোমার প্রতি আত্মসমর্পণকারী হিসেবে আমাকে মৃত্যু দান করো, আর আমাকে সাথি বানিয়ে দাও সালেহ্ লোকদের।’’

জহুরুল হক

''আমার প্রভু! তুমি ইতিমধ্যেই আমাকে রাজত্বের অধিকার প্রদান করেছ এবং ঘটনাবলীর তাৎপর্য সম্পর্কে আমাকে শিক্ষাদান করেছ, হে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আদি - স্রষ্টা! তুমিই এই দুনিয়া ও আখেরাতে আমার মনিব, আমাকে মুসলিম অবস্থায় মরতে দাও এবং আমাকে সৎকর্মীদের সঙ্গে সংযুক্ত করো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে রাজ্য দান করিয়াছ এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়াছ। হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা! তুমিই ইহলোক ও পরলোকে আমার অভিভাবক। তুমি আমাকে মুসলিম হিসাবে মৃত্যু দাও এবং আমাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত কর।’

বাংলা উচ্চারণ

রব্বী ক্বদ্ আ-তাইতানী মিনাল্ মুল্কি অ'আল্লাম্তানী মিন্ তা'ওয়ীলিল্ আহা-দীছি ফা-ত্বিরস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি আন্তা অলিয়্যী ফিদ্দুনইয়া-অল্ আ-খিরতি তাঅফ্ফানী মুস্লিমাওঁ অ আল্হিক্বুনী বিচ্ছোয়া-লিহীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ! এতোক্ষণ যে ইতিহাস তোমাকে জানানো হলো) সেটা একটা সংবাদ, যা অহির মাধ্যমে আমরা তোমাকে জানালাম। নতুবা তুমি তো আর সে সময় তাদের ওখানে উপস্থিত ছিলেনা, যখন তারা (ইউসুফের ভাইয়েরা ইউসুফের বিরুদ্ধে) একজোট হয়ে ষড়যন্ত্র পাকিয়েছিল।

জহুরুল হক

এই হচ্ছে ব্যাপারের সংবাদ যা আমরা তোমার কাছে প্রত্যাদেশ করছি। আর তুমি তাদের সঙ্গে ছিলে না যখন তারা তাদের ব্যাপার - স্যাপার গুটাচ্ছিল ও তারা ফন্দি আটঁছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা অদৃশ্যলোকের সংবাদ যাহা তোমাকে আমি ওহী দ্বারা অবহিত করিতেছি; ষড়যন্ত্রকালে যখন উহারা মতৈক্যে পৌঁছিয়াছিল, তখন তুমি উহাদের সঙ্গে ছিলে না।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা মিন্ আম্বা-য়িল্ গইবি নূহীহি ইলাইকা অমা-কুন্তা লাদাইহিম্ ইয্ আজ্বমা'ঊ য় আম্রহুম্ অহুম্ ইয়াম্কুরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তুমি যতোই উৎসুক হও না কেন, অধিকাংশ মানুষই কিন্তু হবেনা।

জহুরুল হক

আর যদিও তুমি একান্তভাবে চাও তথাপি অধিকাংশ লোকেই বিশ্বাসকারী নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি যতই চাও না কেন, অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করিবার নয়।

বাংলা উচ্চারণ

অমা য় আক্ছারুন্না-সি অলাও হারাছ্তা বিমুমিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথচ তুমি তো (আল্লাহর দিকে আহবান করার) একাজের বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক দাবি করছোনা। এ (কুরআন) তো বিশ্ববাসীর জন্যে (মহাকল্যাণের) এক উপদেশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

জহুরুল হক

আর তুমি এর জন্য তাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইছ না। এ তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ব্যতীত নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তুমি তাহাদের নিকট ইহার জন্য কোন পারিশ্রমিক দাবি করিতেছ না। ইহা তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ব্যতীত কিছু নয়।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-তাস্য়ালুহুম্ 'আলাইহি মিন্ আজ্বরিন্ ইন্ হুঅ ইল্লা-যিক্রুল্লিল্'আ-লামীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

দিনরাত তারা আসমান জমিনের কতো যে নিদর্শন অতিক্রম করছে, অথচ সেগুলোর ব্যাপারে তারা একেবারেই উদাসীন (সেগুলো সম্পর্কে মোটেও তারা ভেবে দেখেনা।)

জহুরুল হক

আর মহাকাশমন্ডলে ও পৃথিবীতে কত না নিদর্শন রয়েছে যার পাশ দিয়ে তারা যাতায়ত করে, তথাপি তারা এ - সবের প্রতি উদাসীন!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অনেক নিদর্শন রহিয়াছে; তাহারা এই সমস্ত প্রত্যক্ষ করে, কিন্তু তাহারা এই সকলের প্রতি উদাসীন।

বাংলা উচ্চারণ

অকায়াইঁয়্যিম্মিন্ আ-ইয়াতিন্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি ইয়ার্মুরূনা 'আলাইহা-অহুম্ 'আন্হা-মু'রিদ্বুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের অধিকাংশই আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে না, তবে রাখে মুশরিক অবস্থায়।

জহুরুল হক

আর তাদের অধিকাংশই ‌র প্রতি বিশ্বাস করে না তারা বহুখোদাবাদী না হওয়া পর্যন্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের অধিকাংশ আল্লাহে বিশ্বাস করে, কিন্তু তাঁহার শরীক করে।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-ইয়ুমিনু আক্ছারুহুম্ বিল্লা-হি ইল্লা- অ হুম্ মুশরিকূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর আযাব তাদের গ্রাস করে নেবেনা এবং হঠাৎ তাদের অজ্ঞাতে কিয়ামত সম্মুখে উপস্থিত হবেনা বলে কি তারা নিশ্চিত হয়ে গেছে?

জহুরুল হক

তারা কি তবে নিরাপদ বোধ করে তাদের উপরে ‌র শাস্তির ঘেরাটোপ এসে পড়া সন্বন্ধে, অথবা তারা যখন বেখেয়াল থাকে তখন ঘন্টা অতর্কিতে তাদের উপরে এসে পড়া সন্বন্ধে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে কি তাহারা ‌র সর্বগ্রাসী শাস্তি হইতে অথবা তাহাদের অজ্ঞাতসারে কিয়ামতের আকস্মিক উপস্থিতি হইতে নিরাপদ?

বাংলা উচ্চারণ

আফাআ মিনূ য় আন্ তাতিয়াহুম্ গ-শিয়াতুম্ মিন্ 'আযা-বিল্লা-হি আও তাতিয়াহুমুস্সা-'আতু বাগ্ তাতাঁও অহুম্ লা-ইয়াশ্ 'ঊরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ!) তুমি তাদের বলে দাও: ‘এটাই আমার পথ, আমি তোমাদের আল্লাহর দিকে ডাকছি দীপ্ত জ্ঞানের পূর্ণ আলোতে উদ্ভাসিত হয়ে - আমি এবং আমার সাথিরা। আর পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তরভুক্ত নই।’

জহুরুল হক

তুমি বল - - ''এই হচ্ছে আমার পথ, আমি ‌র প্রতি আহ্বান করি, আমি ও যারা আমাকে অনুসরণ করে তারা জ্ঞানালোকের উপরে রয়েছি। আর ‌রই সব মহিমা, আর আমি বহুখোদাবাদীদের মধ্যেকার নই।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘ইহাই আমার পথ : ‌র প্রতি মানুষকে আমি আহ্বান করি সজ্ঞানে - আমি এবং আমার অনুসারিগণও। ‌ মহিমান্বিত এবং যাহারা ‌র শরীক করে আমি তাহাদের অন্তর্ভুক্ত নই।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্বুল্ হা-যিহী সাবীলী য় আদ্'ঊ য় ইলাল্লা-হি 'আলা-বাছীরাতিন্ আনা-অমানিত তাবা'আনী- অসুব্হা-নাল্লা-হি অমা য় আনা মিনাল্ মুশ্রিকীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ!) তোমার আগেও আমি মানুষ ছাড়া আর কাউকেও রসূল বানিয়ে পাঠাইনি। তারাও জনপদেরই ছিলো বাসিন্দা, তাদের প্রতি আমি অহি পাঠিয়েছি। এরা কি পৃথিবী ভ্রমণ করে দেখতে পারেনা, তাদের আগেকার (যারা আমার নবীদের অমান্য করেছিল, সেইসব) লোকদের কী (করুণ) পরিণতি হয়েছিল? যারা আল্লাহকে ভয় করে জীবন যাপন করে, তাদের জন্যে আখিরাতের ঘরই উত্তম। এরপরও কি তোমাদের বোধোদয় হবেনা?

জহুরুল হক

আর তোমার পূর্বে জনপদবাসীদের মধ্যে থেকে মানুষ ছাড়া অন্য কাউকে আমরা পাঠাই নি যাঁদের কাছে আমরা প্রত্যাদেশ দিয়েছিলাম। কাজেই তারা কি পৃথিবীতে পর্যটন করে নি এবং দেখে নি কেমন হয়েছিল তাদের পরিণাম যারা ছিল তাদের অগ্রগামী? আর পরকালের আবাসস্থল অবশ্যই অধিকতর ভাল তাদের জন্য যারা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করে। তোমরা কি তবে বোঝ না?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার পূর্বেও জনপদবাসীদের মধ্য হইতে পুরুষগণকেই প্রেরণ করিয়াছিলাম, যাহাদের নিকট ওহী পাঠাইতাম। তাহারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে নাই এবং তাহাদের পূর্ববর্তীদের কি পরিণাম হইয়াছিল তাহা কি দেখে নাই? যাহারা তাহাদের জন্য পরলোকই শ্রেয়; তোমরা কি বুঝ না?

বাংলা উচ্চারণ

অমা য় র্আসাল্না-মিন্ ক্বব্লিকা ইল্লা- রিজ্বা-লান্ নূহী য় ইলাইহিম্ মিন্ আহ্লিল্ ক্বুরা- আফালাম্ ইয়াসীরূ ফিল্ র্আদ্বি ফাইয়ান্জুরূ কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতু ল্লাযীনা মিন্ ক্ববলিহিম্ অলাদা-রুল্ আ-খিরতি খইরু ল্লিল্লাযীনাত্তাক্বাও আফালা-তা'ক্বিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তাদের ধ্বংস করে দেয়ার কাজটি ততোক্ষণ পর্যন্ত বিলম্বিত করা হয়েছিল) যতোক্ষণ না রসূলেরা সম্পূর্ণ নিরাশ হয়েছে এবং ফায়সালায় উপনীত হয়েছে যে, তাদেরকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তারপর (যখন সে অবস্থা সৃষ্টি হয় তখন) রসূলদের পক্ষে আমার সাহায্য গিয়ে হাজির হয়। অতপর আমি যাকে চাই, তাকে বাঁচাই। কিন্তু অপরাধীদের উপর থেকে আমার শাস্তি প্রতিরোধ করার আর কেউই থাকেনা।

জহুরুল হক

অবশেষে যখন রসূলগণ হতাশ হয়েছিলেন, আর তারা ভেবেছিল যে তাদের নিশ্চয়ই মিথ্যা বলা হয়েছে, তখনই এসে পৌঁছাল। কাজেই যাদের আমরা ইচ্ছা করলাম তাদের উদ্ধার করলাম। আর অপরাধী সম্প্রদায় থেকে আমাদের শাস্তি প্রতিহত হয় না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অবশেষে যখন রাসূলগণ নিরাশ হইল এবং লোকে ভাবিল যে, রাসূলগণকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হইয়াছে তখন তাহাদের নিকট আমার সাহায্য আসিল। এইভাবে আমি যাহাকে ইচ্ছা করি সে উদ্ধার পায়। অপরাধী সম্প্রদায় হইতে আমার শাস্তি রদ করা যায় না।

বাংলা উচ্চারণ

হাত্তা য় ইযাস্ তাইয়ার্সা রুসুলু অজোয়ান্ন ূয় আন্নাহুম্ ক্বদ্ কুযিবূ জ্বা - য়াহুম্ নাছ্রুনা-ফানুজ্জিয়া মান্ নাশা - য়্অলা-ইয়ুরদ্দু বাসুনা- 'আনিল্ ক্বওমিল্ মুজ্বরিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আগেকার লোকদের (এসব করুণ) কাহিনীতে বুঝ - বুদ্ধি ওয়ালা লোকদের জন্যে রয়েছে এক বড় শিক্ষা (lesson)। (এই কুরআন) কোনো বানোয়াট বিবৃতি নয়। বরঞ্চ এটা হলো সেই শাশ্বত গ্রন্থ যা তার পূর্বে পাঠানো কিতাবের বক্তব্যকে সমর্থন করে এবং সকল বিষয়ের বিশদ বিবরণ প্রদান করে। তাছাড়া যারা (কুফরের পথ ত্যাগ করে) ঈমানের পথে আসে, এ কিতাব তাদের জন্যে পথ প্রদর্শক আর করুণাধারা।

জহুরুল হক

তাদের কাহিনীর মধ্যে অবশ্যই শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্যে। এ এমন কাহিনী নয় যা জাল করা হয়েছে, বরঞ্চ এ হচ্ছে এর আগে যা এসেছিল তার সমর্থনকারী, এবং সব বিষয়ের বিস্তারিত বৃত্তান্ত, আর পথনির্দেশ ও করুণা যারা বিশ্বাস করে সেই সম্প্রদায়ের জন্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের বৃত্তান্তে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আছে শিক্ষা। ইহা এমন বাণী যাহা মিথ্যা রচনা নয়। কিন্তু মু’মিনদের জন্য ইহা পূর্বগ্রন্থে যাহা আছে তাহার প্রত্যয়ন এবং সমস্ত কিছুর বিশদ বিবরণ, হিদায়াত ও রহমত।

বাংলা উচ্চারণ

লাক্বদ্ কা-না ফী ক্বছোয়াছিহিম্ 'ইব্রতু ল্লিউলিল্ আল্বা-ব্ মা-কা-না হাদীছাঁই ইয়ুফ্তার- অলা-কিন্ তাছ্দীক্বল্ লাযী বাইনা ইয়াদাইহি অতাফ্ছীলা কুল্লি শাইয়িঁও অহুদাঁও অরহ্মাতাল্ লিক্বওমিঁই ইয়ুমিনূন্।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme