Kitab

আল মুদ্দাসসির (আচ্ছাদিত)

Chapter 74, 56 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • জহুরুল হক
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • সমকালীন বাংলা
About this chapter


মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা : ৫৬, রুকু সংখ্যা: ০২

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-০৭রসূলকে আত্মপ্রস্ত্ততির প্রক্রিয়া নির্দেশ। ০৮-১০কিয়ামতের দিনটি হবে বড় কঠিন। ১১-২৯রসূলের বিরোধীতাকারীর করুণ পরিণতি হবার ভবিষ্যতবাণী। ৩০-৩১জাহান্নামের ফেরেশতাদের সংখ্যা কাফিরদের জন্য একটি ফিতনা। ৩২-৩৭জাহান্নাম এক ভয়াবহ জিনিস। ৩৮-৫৬প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের উপার্জনের কাছে বন্ধক। তারা কেন কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে? কুরআন মানুষের জন্যে একটি স্মারক।
আবদুস শহীদ নাসিম

হে বস্ত্রাচ্ছাদিত !

জহুরুল হক

হে প্রিয় পোশাক - পরিহিত!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে বস্ত্রাচ্ছাদিত!

সমকালীন বাংলা

আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; হে বস্ত্রাবৃত,

আবদুস শহীদ নাসিম

উঠো, (মানুষকে) সতর্ক করো।

জহুরুল হক

ওঠো এবং সতর্ক করো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উঠ, আর সতর্ক কর,

সমকালীন বাংলা

উঠো, অতঃপর সতর্ক কর,

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার রব - এর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো।

জহুরুল হক

আর তোমার প্রভু - - মাহা‌ত্ম্য ঘোষণা করো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।

সমকালীন বাংলা

এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার পোশাক পরিচ্ছদ পবিত্র রাখো।

জহুরুল হক

আর তোমার পোশাক - - তবে পবিত্র করো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ,

সমকালীন বাংলা

এবং তোমার পোশাক পরিচ্ছন্ন রাখ,

আবদুস শহীদ নাসিম

আবিলতা (শিরকের অপবিত্রতা) পরিত্যাগ করো।

জহুরুল হক

আর কদর্যতা - - তবে পরিহার করো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পৌত্তলিকতা পরিহার করিয়া চল,

সমকালীন বাংলা

এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকো,

আবদুস শহীদ নাসিম

বেশি পাওয়ার আশায় উপকার করোনা।

জহুরুল হক

আর অনুগ্রহ করো না বেশি পাবার প্রত্যাশায়,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অধিক পাওয়ার প্রত্যাশায় দান করিও না।

সমকালীন বাংলা

এবং অধিক পাওয়ার আশায় দান করো না,

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার প্রভুর উদ্দেশ্যে সবর অবলম্বন করো।

জহুরুল হক

আর তোমার প্রভুর জন্য তবে অধ্যবসায় চালিয়ে যাও।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ কর।

সমকালীন বাংলা

এবং তোমার প্রতিপালকের জন্য ধৈর্য ধারণ করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন ফুৎকার দেয়া হবে শিংগায়,

জহুরুল হক

তারপর যখন শিঙায় আওয়াজ দেওয়া হবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেদিন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিনটি হবে এক কঠিন দিন।

জহুরুল হক

সেটি তবে হবে, সেই দিনটি, এক মহাসংকটের দিন - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই দিন হইবে এক সংকটের দিন -

সমকালীন বাংলা

তখন সে দিন হবে এক কঠিন দিন,

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটি সহজ হবেনা কাফিরদের জন্যে।

জহুরুল হক

অবিশ্বাসীদের উপরে; আরামদায়ক নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহা কাফিরদের জন্য সহজ নয়।

সমকালীন বাংলা

অস্বীকারকারীদের উপর সহজ হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাকে ছেড়ে দাও আর যাকে আমি সৃষ্টি করেছি একাই।

জহুরুল হক

ছেড়ে দাও আমাকে ও তাকে যাকে আমি সৃষ্টি করেছি এককভাবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ছাড়িয়া দাও আমাকে এবং যাহাকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি একাকী।

সমকালীন বাংলা

ছেড়ে দাও আমাকে এবং যাকে আমি একা সৃষ্টি করেছি,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তাকে দিয়েছি বিপুল মাল - সম্পদ।

জহুরুল হক

আর তার জন্য আমি বিপুল ধনসম্পদ দিয়েছিলাম,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তাহাকে দিয়াছি বিপুল ধন - সম্পদ

সমকালীন বাংলা

এবং তাকে দিয়েছি বিপুল সম্পদ,

আবদুস শহীদ নাসিম

দিয়েছি সংগে উপস্থিত থাকা পুত্রদের।

জহুরুল হক

আর সন্তানসন্ততি প্রত্যক্ষ অবস্থানকারী,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং নিত্য সঙ্গী পুত্রগণ,

সমকালীন বাংলা

এবং উপস্থিত সন্তানদের,

আবদুস শহীদ নাসিম

সরবরাহ করেছি স্বচ্ছন্দ জীবনের প্রচুর উপকরণ।

জহুরুল হক

আর তার জন্য আমি সহজ করে দিয়েছিলাম স্বচ্ছন্দভাবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তাহাকে দিয়াছি স্বচ্ছন্দ জীবনের প্রচুর উপকরণ -

সমকালীন বাংলা

এবং তার জন্য ব্যাপক সুব্যবস্থা,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপরেও সে লোভ করে আমি যেনো তাকে আরো বেশি করে দেই।

জহুরুল হক

তারপরেও সে চায় যে আমি যেন আরো বাড়িয়ে দিই!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহার পরও সে কামনা করে যে, আমি তাহাকে আরও অধিক দেই।

সমকালীন বাংলা

এরপরেও সে আশা করে যে আমি আরও দেই,

আবদুস শহীদ নাসিম

কখনো নয়, সে তো আমাদের আয়াতের উগ্র বিরোধিতাকারী।

জহুরুল হক

কখনো নয়! কেননা সে আমাদের নির্দেশাবলী সন্বন্ধে ঘোর বিরুদ্ধাচারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

না, তাহা হইবে না, সে তো আমার নিদর্শনসমূহের উদ্ধত বিরুদ্ধাচারী।

সমকালীন বাংলা

কখনোই নয়! নিশ্চয়ই সে আমার নিদর্শনসমূহের প্রতি ছিলো উদ্ধত,

আবদুস শহীদ নাসিম

অচিরেই আমি তাকে চড়াবো এক কঠিন স্থানে (জাহান্নামের পাহাড়ে)।

জহুরুল হক

আমি তার উপরে আনব এক ক্রমবর্ধমান আঘাত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি অচিরেই তাহাকে চড়াইব শাস্তির পাহাড়ে।

সমকালীন বাংলা

শীঘ্রই আমি তাকে দুর্গম আরোহনে বাধ্য করবো।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে চিন্তা করেছে এবং একটা চক্রান্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জহুরুল হক

কেননা নিশ্চয় সে ভাবনাচিন্তা করল এবং মেপেজোখে দেখল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে তো চিন্তা করিল এবং সিদ্ধান্ত করিল।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই সে চিন্তা করেছে এবং পরিকল্পনা করেছে,

আবদুস শহীদ নাসিম

সে ধ্বংস হোক, কী করে সে এ সিদ্ধান্ত নিলো?

জহুরুল হক

সুতরাং সে নিপাত যাক! কেমনতর সে যাচাই করেছিল!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অভিশপ্ত হউক সে ! কেমন করিয়া সে এই সিদ্ধান্ত করিল!

সমকালীন বাংলা

অতঃপর ধ্বংস হোক সে! কীভাবে সে পরিকল্পনা করলো!

আবদুস শহীদ নাসিম

সে আবারো ধ্বংস হোক, কী করে নিলো সে এ সিদ্ধান্ত!

জহুরুল হক

পুনশ্চ সে নিপাত যাক! কেমন করে সে যাচাই করছিল!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আরও অভিশপ্ত হউক সে! কেমন করিয়া সে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইল!

সমকালীন বাংলা

আবার ধ্বংস হোক সে! কীভাবে সে পরিকল্পনা করলো!

আবদুস শহীদ নাসিম

সে নজর করে দেখেছে।

জহুরুল হক

সে আবার তাকিয়ে দেখল,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে আবার চাহিয়া দেখিল।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর সে লক্ষ্য করলো,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর ভ্রুকুঞ্চিত করে মুখ বিকৃত করেছে।

জহুরুল হক

তারপর সে ভ্রকুঞ্চিত করল ও মুখ বিকৃত করল,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করিল ও মুখ বিকৃত করিল।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর সে ভ্রূকুটি করল ও মুখ বিকৃত করলো,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর পেছনে গিয়ে দাম্ভিকতা প্রকাশ করেছে।

জহুরুল হক

তারপর সে পিছিয়ে গেল ও বুক ফুলিয়ে এগিয়ে এল,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে পিছন ফিরিল এবং দম্ভ প্রকাশ করিল।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর সে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করল ও অহংকার করল,

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছে: ‘‘এ তো সমাজে চলে আসা প্রচলিত ম্যাজিক ছাড়া আর কিছু নয়।

জহুরুল হক

তারপর বললে - - ''এ বরাবর চলে আসা জাদু বৈ তো নয়!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ঘোষণা করিল, ‘ইহা তো লোক পরম্পরায় প্রাপ্ত জাদু ভিন্ন আর কিছু নয়,

সমকালীন বাংলা

এবং বলল, “এ তো কেবল প্রচলিত জাদু,”

আবদুস শহীদ নাসিম

এতো মানুষের কথা ছাড়া অন্য কিছু নয়।’’

জহুরুল হক

''এ একজন মানুষের কথা বৈ তো নয়।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ইহা তো মানুষেরই কথা।’

সমকালীন বাংলা

“এ তো মানুষেরই কথা ছাড়া কিছু নয়।”

আবদুস শহীদ নাসিম

অচিরেই আমি তাকে নিক্ষেপ করবো সাকারে।

জহুরুল হক

আমি শীঘ্রই তাকে ফেলব জ্বালাময় আগুনে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তাহাকে নিক্ষেপ করিব সাকার - এ,

সমকালীন বাংলা

আমি তাকে সাকারে নিক্ষেপ করবো।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিভাবে জানবে তুমি - সাকার কী?

জহুরুল হক

আর কী তোমাকে বোঝাবে জ্বালাময় আগুনটা কি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি জান সাকার কী?

সমকালীন বাংলা

আর তুমি কীভাবে জানবে সাকার কী?

আবদুস শহীদ নাসিম

(সেটা এমন জিনিস) যা বাকিও রাখেনা, ছেড়েও দেয়না।

জহুরুল হক

তা কিছুই বাকী রাখে না, আর কিছুই ছেড়ে দেয় না,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহা উহাদেরকে জীবিতাবস্থায় রাখিবে না এবং মৃত অবস্থায়ও ছাড়িয়া দিবে না।

সমকালীন বাংলা

তা কিছু অবশিষ্ট রাখে না এবং কিছু ছাড়েও না,

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটা মানুষের (গায়ের চামড়া) দগ্ধকারী।

জহুরুল হক

মানুষকে একেবারে ঝলসে দেবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা তো গাত্রচর্ম দগ্ধ করিবে,

সমকালীন বাংলা

তা চামড়া দগ্ধকারী,

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটার তত্ত্বাবধানে আছে ঊনিশজন (ফেরেশতা)।

জহুরুল হক

তার উপরে রয়েছে ''উনিশ’’।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সাকার - এর তত্ত্বাবধানে রহিয়াছে উনিশজন প্রহরী।

সমকালীন বাংলা

তার উপর রয়েছে উনিশ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেছি ফেরেশতাদের। আমরা কাফিরদের পরীক্ষার জন্যেই তাদের এই সংখ্যা উল্লেখ করেছি, যাতে করে ইতোপূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের একীন জন্মে এবং যেনো ঈমানদারদের ঈমান বেড়ে যায় আর কিতাবীরা এবং মুমিনরা যেনো সন্দেহে না পড়ে। আর যাদের মনে রোগ (মুনাফিকি) আছে তারা এবং কাফিররা যেনো বলে: ‘ এই কথার মাধ্যমে কী বুঝাতে চেয়েছেন?’ এভাবেই যাকে চান বিপথগামী করেন এবং যাকে চান সঠিক পথ দেখান। তোমার প্রভুর বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনি ছাড়া কেউই জানেনা। জাহান্নামের এই তথ্য মানুষের জন্যে একটি সতর্কবাণী।

জহুরুল হক

আর আমরা ফিরিশ্‌তাদের ছাড়া আগুনের প্রহরী করি নি, আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছে তাদের পরীক্ষারূপে ছাড়া আমরা এদের সংখ্যা নির্ধারণ করি নি, যেন যাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছিল তাদের দৃঢ়প্রত্যয় জন্মে, আর যারা বিশ্বাস করেছে তাদের ঈমান যেন বর্ধিত হয়, আর যাদের গ্রন্থ দেওয়া হয়েছে ও যারা তারা যেন সন্দেহ না করে, আর যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে ও যারা অবিশ্বাসী তারা যেন বলতে পারে - - ''এই রূপকের দ্বারা কী বোঝাতে চাইছেন?’’ এইভাবে বিভ্রান্ত করেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন, এবং পথনির্দেশ দেন যাকে তিনি চান। আর তিনি ছাড়া আর কেউ তোমার প্রভুর বাহিনীকে সম্যক জানে না। বস্তুত এটি মানবকুলের জন্য এক সতর্কীকরণ বৈ তো নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি ফিরিশ্‌তাদেরকে করিয়াছি জাহান্নামের প্রহরী; কাফিরদের পরীক্ষাস্বরূপই আমি উহাদের এই সংখ্যা উল্লেখ করিয়াছি যাহাতে কিতাবীদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে, বিশ্বাসীদের বিশ্বাস বর্ধিত হয় এবং বিশ্বাসীগণ ও কিতাবীগণ সন্দেহ পোষণ না করে। ইহার ফলে, যাহাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তাহারা ও কাফিররা বলিবে, ‘‌ এই অভিনব উক্তি দ্বারা কি বুঝাইতে চাহিয়াছেন?’ এইভাবে ‌ যাহাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ করেন। তোমার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। জাহান্নামের এই বর্ণনা তো মানুষের জন্য সাবধান বাণী।

সমকালীন বাংলা

এবং আমরা ফেরেশতাদের ছাড়া আগুনের তত্ত্বাবধায়ক বানাইনি, এবং এদের সংখ্যা নির্ধারণ করিনি অবিশ্বাসীদের জন্য এক পরীক্ষা ছাড়া, যেনো কিতাবপ্রাপ্তরা নিশ্চিত হতে পারে, এবং মুমিনদের বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়, এবং কিতাবপ্রাপ্তরা ও মুমিনরা সন্দেহ না করে; আর যাদের অন্তরে রোগ আছে এবং অস্বীকারকারীরা বলে, “ এ উদাহরণ দ্বারা কী উদ্দেশ্য করেছেন?” এভাবেই যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ দেন। আর তোমার প্রতিপালকের বাহিনীসমূহ সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানে না। এবং এটি মানুষের জন্য এক উপদেশ ছাড়া কিছু নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

কখনো নয়, শপথ চাঁদের,

জহুরুল হক

না! ভাবো চাঁদের কথা;

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কখনই না, চন্দ্রের শপথ,

সমকালীন বাংলা

কখনোই নয়! শপথ চাঁদের,

আবদুস শহীদ নাসিম

শপথ রাতের যখন তা পেছনে ফিরে (চলে) যায়,

জহুরুল হক

আর রাতের কথা যখন তার অবসান ঘটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শপথ রাত্রির, যখন উহার অবসান ঘটে;

সমকালীন বাংলা

এবং রাতের, যখন তা অপসারিত হয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

শপথ ভোর বেলার যখন তা আলোকিত হয়ে উঠে,

জহুরুল হক

আর প্রভাতকালের কথা যখন তা হয় আলোকোজ্জ্বল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শপথ প্রভাতকালের, যখন উহা হয় আলোকোজ্জ্বল -

সমকালীন বাংলা

এবং সকালের, যখন তা আলোকিত হয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এ (জাহান্নাম) গুরুতর বিপদ সমূহের একটি,

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এটি অতি বিরাট এক ব্যাপার - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই জাহান্নাম ভয়াবহ বিপদসমূহের অন্যতম,

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই তা এক মহাবিষয়ের অন্যতম।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের জন্যে সতর্ককারী।

জহুরুল হক

মানুষের জন্য সতর্কীকরণরূপে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মানুষের জন্য সতর্ককারী -

সমকালীন বাংলা

মানুষের জন্য সতর্কবার্তা,

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মধ্যে যে এগিয়ে আসতে চায় কিংবা যে পিছিয়ে পড়তে চায় তার জন্যে।

জহুরুল হক

তোমাদের মধ্যের তার জন্য যে আগবাড়তে চায়, অথবা পেছনে থাকতে চায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের মধ্যে যে অগ্রসর হইতে চায় কিংবা যে পিছাইয়া পড়িতে চায় তাহার জন্য।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের মধ্যে যে অগ্রসর হতে বা পিছিয়ে থাকতে চায় তার জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের অর্জনের কাছে আবদ্ধ।

জহুরুল হক

প্রত্যেক সত্ত্বাই জামিন থাকবে যা সে অর্জন করে তার জন্য, - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ,

সমকালীন বাংলা

প্রত্যেক ব্যক্তি তার অর্জনের জন্য দায়বদ্ধ;

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে ডান পাশের লোকেরা নয়।

জহুরুল হক

ডানদিকের লোকেরা ব্যতীত,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে দক্ষিণ পার্শ্বস্থ ব্যক্তিগণ নয়,

সমকালীন বাংলা

তবে ডানদিকের সঙ্গীরা ব্যতীত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে উদ্যানসমূহে, তারা প্রশ্ন করবে

জহুরুল হক

জান্নাতে, তারা পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা থাকিবে উদ্যানে এবং তাহারা জিজ্ঞাসা - বাদ করিবে -

সমকালীন বাংলা

তারা থাকবে উদ্যানসমূহে; পরস্পরকে প্রশ্ন করবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

অপরাধীদের বিষয়ে:

জহুরুল হক

অপরাধীদের সম্পর্কে;

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অপরাধীদের সম্পর্কে,

সমকালীন বাংলা

অপরাধীদের সম্পর্কে,

আবদুস শহীদ নাসিম

‘কোন্ জিনিস তোমাদের নিক্ষেপ করেছে সাকারে?’

জহুরুল হক

''কিসে তোমাদের নিয়ে এসেছে জ্বালাময় আগুনে?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমাদেরকে কিসে সাকার - এ নিক্ষেপ করিয়াছে?’

সমকালীন বাংলা

“কী তোমাদের সাকারে প্রবেশ করিয়েছে?”

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলবে: ‘‘আমরা মুসল্লিদের মধ্যে ছিলাম না,

জহুরুল হক

তারা বলবে - - ''আমরা নামাযীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিবে, ‘আমরা মুসুল্লীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না,

সমকালীন বাংলা

তারা বলবে, “আমরা আদায়কারীদের মধ্যে ছিলাম না,

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা মিসকিনদের (অভাবীদের) খাবার দিতামনা,

জহুরুল হক

''আর আমরা অভাবগ্রস্তদের খাবার দিতে চাইতাম না;

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার্য দান করিতাম না,

সমকালীন বাংলা

এবং অভাবগ্রস্তকে আহার করাতাম না,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মিথ্যা রটনাকারীদের সাথে মিথ্যা রটনা করতাম,

জহুরুল হক

''বরং আমরা বৃথা তর্ক করতাম বৃথা তর্ককারীদের সঙ্গে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং আমরা বিভ্রান্ত আলোচনাকারীদের সঙ্গে বিভ্রান্তিমূলক আলোচনায় নিমগ্ন থাকিতাম।

সমকালীন বাংলা

এবং আমরা অর্থহীন আলোচনায় লিপ্তদের সঙ্গে যোগ দিতাম,

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং আমরা প্রত্যাখ্যান করতাম প্রতিদান দিবসকে,

জহুরুল হক

''আর আমরা বিচারের দিনকে মিথ্যা বলতাম, - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমরা কর্মফল দিবস অস্বীকার করিতাম,

সমকালীন বাংলা

এবং প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করতাম,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের কাছে একীন (মৃত্যু) এসে পৌছা পর্যন্ত।’’

জহুরুল হক

''যতক্ষণ না অবশ্যাম্ভাবী আমাদের কাছে এসেছিল।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমাদের নিকট মৃত্যুর আগমন পর্যন্ত।’

সমকালীন বাংলা

অবশেষে নিশ্চিত বিষয়টি আমাদের কাছে আসলো।”

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব শাফায়াতকারীদের শাফায়াত তাদের কোনো কাজে আসবেনা।

জহুরুল হক

ফলে সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো কাজে আসবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফলে সুপারিশকারীদের সুপারিশ উহাদের কোন কাজে আসিবে না।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর কাজে আসবে না সুপারিশকারীদের সুপারিশ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কী হয়েছে, কেন তারা উপদেশ বাণী (কুরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে?

জহুরুল হক

তাদের তবে কি হয়েছে যে তারা অনুশাসন থেকে ফিরে চলে যায়,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের কী হইয়াছে যে, উহারা মুখ ফিরাইয়া নেয় উপদেশ হইতে?

সমকালীন বাংলা

তাহলে তাদের কী হয়েছে যে তারা উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে?

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা যেনো পলায়নপর গাধার দল,

জহুরুল হক

যেন তারা ভীত - ত্রস্ত গাধার দল,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা যেন ভীত - ত্রস্ত গর্দভ -

সমকালীন বাংলা

তারা যেন ভীতসন্ত্রস্ত গাধা

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা দ্রুত পালাচ্ছে সিংহের সামনে থেকে।

জহুরুল হক

পালিয়ে যাচ্ছে সিংহের থেকে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহা সিংহের সম্মুখ হইতে পলায়নপর।

সমকালীন বাংলা

যারা সিংহ থেকে পালিয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং তারা প্রত্যেকে চায়, তাকে একটি উন্মুক্ত সহিফা (বই) দেয়া হোক।

জহুরুল হক

বস্তুত তাদের মধ্যের প্রত্যেকটি লোকই চায় যে তাকে যেন দেওয়া হয় খোলামেলা কাগজের তাড়া।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বস্তুত উহাদের প্রত্যেকেই কামনা করে যে, তাহাকে একটি উন্মুক্ত গ্রন্থ দেওয়া হউক।

সমকালীন বাংলা

বরং তাদের প্রত্যেকে চায় যে তাকে খোলা পাতা সমূহ দেওয়া হোক।

আবদুস শহীদ নাসিম

কখনো নয়, বরং তারা আখিরাতকেই ভয় পায়না।

জহুরুল হক

কখনো না। তারা কিন্ত পরকালের ভয় করে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

না, ইহা হইবার নয়; বরং উহারা তো আখিরাতের ভয় পোষণ করে না।

সমকালীন বাংলা

কখনোই নয়! বরং তারা পরকালকে ভয় করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

না, তা হবার নয়। নিশ্চয়ই এ কুরআন এক উপদেশ বাণী।

জহুরুল হক

কক্ষনো না! এটি নিশ্চয়ই এক অনুশাসন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

না, ইহা হইবার নয়, কুরআনই সকলের জন্য উপদেশবাণী।

সমকালীন বাংলা

কখনোই নয়! নিশ্চয়ই এটি এক উপদেশ,

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং যার ইচ্ছা, সে এ থেকে উপদেশ গ্রহণ করুক।

জহুরুল হক

সুতরাং যে কেউ চায় সে এটি স্মরণ করুক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব যাহার ইচ্ছা সে ইহা হইতে উপদেশ গ্রহণ করুক।

সমকালীন বাংলা

অতএব যার ইচ্ছা, সে তা স্মরণ করুক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তারা আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া উপদেশ গ্রহণ করবেনা। একমাত্র তিনিই উপযুক্ত যাকে ভয় করা উচিত এবং একমাত্র তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী।

জহুরুল হক

আর তারা মনোনিবেশ করবে না যদি না ইচ্ছা করেন। তিনিই ভয়ভক্তি করার যোগ্য পাত্র এবং তিনিই পরিত্রাণের যথার্থ অধিকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌র ইচ্ছা ব্যতিরেকে কেহ উপদেশ গ্রহণ করিবে না, একমাত্র তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং তিনিই ক্ষমা করিবার অধিকারী।

সমকালীন বাংলা

আর তারা স্মরণ করবে না, যদি না ইচ্ছা করেন। তিনিই ভয়ের অধিক যোগ্য এবং ক্ষমা করার অধিক যোগ্য।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme