Kitab

আয্ যুমার (দলে দলে)

Chapter 39, 75 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • সমকালীন বাংলা
  • বাংলা উচ্চারণ
About this chapter


মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৭৫, রুকু সংখ্যা: ০৮

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-২১শিরকমুক্ত ইবাদতই মুক্তির পথ। মহাবিশ্ব এবং মানুষকে আল্লাহ্ই সৃষ্টি করেছেন। তাঁর কোনো শরিক নাই। জ্ঞানী আর অজ্ঞরা সমান নয়। আল্লাহর বিশুদ্ধ আনুগত্য ও ইবাদতের নির্দেশ। যারা তাগুতকে পরিহার করে আল্লাহমুখী হয়, তারাই আল্লাহর প্রিয় দাস। তারাই সঠিক পথের অনুসারী। ২২-৩১আল্লাহ্ ইসলামের জন্য যার অন্তর উন্মুক্ত করেছেন, সেই আছে আল্লাহর দেয়া আলোর পথে। কুরআন সর্বোত্তম হাদিস (বাণী)। কুরআনই আল্লাহর পথের দিশারি। কুরআনে সব বিষয়ের উপদেশ রয়েছে। সব মানুষের মতো নবীও মরণশীল। ৩২-৪১সত্যকে প্রত্যাখ্যানকারীরা সবচেয়ে বড় যালিম। সত্য গ্রহণকারীরাই মুত্তাকি। গোটা মানব জাতির জন্যে সত্যের দিশারি আল কুরআন। ৪২-৫২মানুষের নিদ্রা আল্লাহর একটি নিদর্শন। শাফায়াত পুরোপুরি আল্লাহর হাতে। মানুষ বিপদের সময় আল্লাহকে ডাকে। আল্লাহ্ বিপদ দূর করে দিলে সে নিজের বিজ্ঞতার প্রশংসা করে। কাউকেও প্রশস্ত ও কাউকে সীমিত রিযিক দেয়া আল্লাহর একটি নিদর্শন। ৫৩-৬৩তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা। আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবের অনুসরণ করো। ৬৪-৭০শিরকের অসারতা, কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে, সাক্ষীদের হাজির করা হবে, প্রত্যেককে তার আমলের বিনিময় দেয়া হবে পুরোপুরি। ৭১-৭৫কাফিরদের জাহান্নামে যাওয়ার দৃশ্য, মুত্তাকিদের জান্নাতে যাওয়ার দৃশ্য, অবশেষে ফেরেশতারা আল্লাহর তসবিহতে নিরত হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম

এই কিতাব তোমার কাছে নাযিল হচ্ছে সত্যিকারভাবে মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়ের পক্ষ থেকে।

সমকালীন বাংলা

পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; এই কিতাব অবতীর্ন পরাক্রশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর নিকট হইতে ।

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম তান্যীলুল্ কিতা-বি মিনাল্লা-হিল্ 'আযীযিল্ হাকীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমার কাছে এই কিতাব নাযিল করছি সত্যসহ। অতএব কেবল আল্লাহরই ইবাদত করো নিজের আনুগত্যকে তাঁর জন্যে একনিষ্ঠ করে।

সমকালীন বাংলা

আমি তোমার নিকট এই কিতাব সত্যসহ অবতীর্ণ করিয়াছি। সুতরাং ‘ইবাদত কর তাঁহার আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হইয়া।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না য় আন্যাল্না য় ইলাইকাল্ কিতা-বা বিল্হাকক্বি ফা'বুদিল্লা-হা মুখ্লিছোয়াল্ লাহুদ্ দীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

একনিষ্ঠ আনুগত্য কেবল আল্লাহর জন্যে। যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদেরকে অলি হিসেবে গ্রহণ করেছে, তারা বলে: ‘আমরা তো তাদের ইবাদত করি কেবল এ জন্যে যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেবে।’ অবশ্যি তারা যা নিয়ে মতভেদ করছে (কিয়ামতের দিন) সে বিষয়ে তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবেন। মিথ্যাবাদী কাফিরদের সঠিক পথ দেখান না।

সমকালীন বাংলা

জানিয়া রাখ, বিশুদ্ধ আনুগত্য আল্লাহরই প্রাপ্য। যাহারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তাহারা বলে, ‘আমরা তো ইহাদের আনুগত্য এইজন্যই করি যে, ইহারা আমাদেরকে আল্লাহর সানিধ্যে আনিয়া দিবে।’ উহারা যে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করিতেছে তাহার ফয়সালা করিয়া দিবেন। যে মিথ্যাবাদী ও , তাহাকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

বাংলা উচ্চারণ

আলা-লিল্লা-হিদ্ দীনুল্ খ-লিছ্ অল্ লাযীনাত তাখাযূ মিন্ দূনিহী য় আওলিয়া-য়্। মা-না'বুদুহুম্ ইল্লা-লিইয়ুর্ক্বরিবূনা য় ইলাল্লা-হি যুল্ফা- ইন্নাল্লা-হা ইয়াহ্কুমু বাইনাহুম্ ফী মা-হুম্ ফীহি ইয়াখ্তালিফূন্ ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহ্দী মান্ হুওয়া কা-যিবুন্ কাফ্ফার্-।

আবদুস শহীদ নাসিম

যদি সন্তান গ্রহণ করতে চাইতেনই, তবে তাঁর সৃষ্টির মাঝে যাকে ইচ্ছা বাছাই করে নিতেন। কিন্তু সন্তান গ্রহণ থেকে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র ও মুক্ত। তো এক এবং মহাপরাক্রমশালী।

সমকালীন বাংলা

সন্তান গ্রহণ করিতে চাহিলে তিনি তাঁহার সৃষ্টির মধ্যে যাহাকে ইচ্ছা বাছিয়া লইতেন। তিনি পবত্রি। তিনি , এক পরাক্রমশালী।

বাংলা উচ্চারণ

লাও আর-দাল্লা-হু আইঁ ইয়াত্তাখিযা অলাদাল্ লাছ্ত্বোয়াফা- মিম্মা-ইয়াখ্লুকু মা-ইয়াশা-য়ু সুব্হা-নাহ্ হুওয়া ল্লা-হুল্ ওয়া-হিদুল্ ক্বহ্হার্-।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বাস্তবভাবে সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ ও পৃথিবী। তিনি রাতকে দিয়ে দিনকে আচ্ছাদিত করেন এবং দিনকে দিয়ে আচ্ছাদিত করেন রাতকে। তিনি সূর্য এবং চাঁদকে নিয়মের অধীন করেছেন। এরা প্রত্যেকেই ভ্রমণ করে একটি নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত। জেনে রাখো তিনি মহাক্ষমতাধর, অতীব ক্ষমাশীল।

সমকালীন বাংলা

তিনি যথাযথভাবে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনি রাত্রি দ্বারা দিবসকে আচ্ছাদিত করেন এবং রাত্রিকে আচ্ছাদিত করেন দিবস দ্বারা। সূর্য ও চন্দ্রকে তিনি করিয়াছেন নিয়মাধীন। প্রত্যেকেই পরিক্রমন করে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত। জানিয়া রাখ, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।

বাংলা উচ্চারণ

খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বোয়া বিল্হাকক্বি ইয়ুক্বওয়্যিরুল্লাইলা 'আলান নাহা-রি অইয়ুক্বওয়্যিরুন্ নাহা-র 'আলাল্লাইলি অসাখ্খরশ্ শাম্সা অল্ ক্বর্মা কুল্লুইঁ ইয়াজরী লিআজ্বালিম্ মুসাম্মা আলা-হুওয়াল্ 'আযীযুল্ গাফ্ফার্-।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একজন মাত্র ব্যক্তি থেকে, তারপর তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে। তিনি তোমাদের দিয়েছেন আট জোড়া (প্রজাতির) গবাদি পশু। তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেন তোমাদের মাতৃগর্ভে তিনটি অন্ধকার স্তর পার করে। তিনিই , তোমাদের প্রভু। সমস্ত কর্তৃত্ব তাঁরই। কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। সুতরাং তোমরা মুখ ফিরিয়ে চলেছো কোথায়?

সমকালীন বাংলা

তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন একই ব্যক্তি হইতে। অতঃপর তিনি তাহা হইতে তাহার স্ত্রী সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনি তোমাদেরকে দিয়াছেন আট প্রকার আন‘আম তথা চতুষ্পদ জন্তু। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভের তিন প্রকার অন্ধকারে পর্যায়ক্রমেসৃষ্টি করিয়াছেন। তিনিই তোমাদের প্রতিপালক; সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁহারই; তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই। তবে তোমরা মুখ ফিরাইয়া কোথায় চলিয়াছ?

বাংলা উচ্চারণ

খলাক্বকুম্ মিন্ নাফ্সিঁও ওয়া-হিদাতিন্ ছুম্মা জ্বা'আলা মিন্হা-যাওজ্বাহা-অ আন্যালা লাকুম্ মিনাল্ আন্'আ-মি ছামা-নিয়াতা আয্ওয়া-জ ইয়াখ্লুকুকুম্ ফী বুতুনি উম্মাহা-তিকুম্ খল্ক্বম্ মিম্ বা'দি খল্ক্বিন্ ফী জুলুমা-তিন্ ছালা-ছ্ যা-লিকুমু ল্লা-হু রব্বুকুম্ লাহুল্ মুল্ক্লা য় ইলা-হা ইল্লা- হুওয়া ফাআন্না-তুছ্রফূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি কুফুরি করো, তবে জেনে রাখো, তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। তিনি তাঁর বান্দাদের জন্যে কুফুরি পছন্দ করেন না। তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তিনি সেটাই পছন্দ করেন তোমাদের জন্যে। কেউই অপরের (পাপের) বোঝা বহন করবে না। অত:পর তোমাদের প্রভুর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তোমাদের অবহিত করবেন তোমরা কী আমল করেছিলে? মনে কী আছে সে বিষয়েও তিনি অবগত।

সমকালীন বাংলা

তোমরা অকৃতজ্ঞ হইলে তোমাদের মুখাপেক্ষী নন, তিনি তাঁহার বান্দাদের অকৃতজ্ঞতা পসন্দ করেন না। যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তিনি তোমাদের জন্য ইহাই পসন্দ করেন। একের ভার অন্যে বহন করিবে না। অতঃপর তোমাদের প্রতিপালকের নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তোমরা যাহা করিতে তিনি তোমাদেরকে তাহা অবহিত করিবেন। অন্তরে যাহা আছে তিনি তাহা সম্যক অবগত।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্ তাক্ফুরূ ফাইন্না ল্লা-হা গনিয়্যুন্ 'আনকুম্ অলা-ইর্য়াদ্বোয়া- লিই'বা-দিহিল্ কুফ্রা অ ইন্ তাশ্কুরূ ইর্য়াদ্বোয়াহু লাকুম্ অলা-তাযিরু ওয়া-যিরাতুঁও ওয়িয্রা উখ্রা- ছুম্মা ইলা-রব্বিকুম্ র্মাজ্বি'উকুম্ ফাইয়ুনাব্বিয়ুকুম্ বিমা-কুন্তুম্ তা'মালূন্ ইন্নাহূ 'আলীমুম্ বিযা-তিস্ সুর্দূ।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন সে তার প্রভুকে ডাকে একনিষ্ঠ মনোভাব নিয়ে। অত:পর যখন তিনি তার প্রতি অনুগ্রহ করেন, তখন সে ভুলে যায় আগে যে সে তাঁকে একনিষ্ঠভাবে ডেকেছিল। সে আল্লাহর শরিক দাঁড় করায় যেনো সে তাকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। বলো: কুফুরি নিয়ে জীবনটাকে ক’টা দিন ভোগ করো। জেনে রাখো তুমি জাহান্নামী।

সমকালীন বাংলা

মানুষকে যখন দুঃখ - দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে একনিষ্ঠভাবে তাহার প্রতিপালককে ডাকে। পরে যখন তিনি তাহার প্রতি অনুগ্রহ করেন তখন সে বিস্মৃত হইয়া যায়, তাহার পূর্বে যাহার জন্য সে ডাকিয়াছিল তাঁহাকে এবং সে সমকক্ষ দাঁড় করায়, অপরকে তাঁহার পথ হইতে বিভ্রান্ত করিবার জন্য। বল, ‘কুফরীর জীবন অবস্থায় তুমি কিছুকাল উপভোগ করিয়া নাও। বস্তুত তুমি জাহান্নামীদের অন্যতম।’

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-মাস্সাল্ ইন্সা-না র্দ্বুরুন্ দা'আ রব্বাহূ মুনীবান্ ইলাইহি ছুম্মা ইযা-খাওয়্যালাহূ নি'মাতাম্ মিন্হু নাসিয়া মা-কা-না ইয়াদ্'ঊ য় ইলাইহি মিন্ ক্ব্ব্লু অজ্বা'আলা লিল্লা-হি আন্দা-দাল্ লিইয়ুদ্বিল্লা 'আন্ সাবীলিহ্ কুল্ তামাত্তা' বিকুফ্রিকা ক্বলীলান্ ইন্নাকা মিন্ আছ্হা-বিন্ নার্-।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে ব্যক্তি রাতের বিভিন্ন অংশে সাজদা করে এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার প্রভুর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার প্রভুর রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য যে এসব করেনা? বলো: জ্ঞানীরা আর অজ্ঞরা কি সমান? উপদেশ গ্রহণ করে তো বুদ্ধিমান লোকেরাই।

সমকালীন বাংলা

যে ব্যক্তি রাত্রির বিভিন্ন যামে সিজ্দাবনত হইয়া ও দাঁড়াইয়া আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তাঁহার প্রতিপালকের অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে, সে কি তাহার সমান, যে তাহা করে না? বল, ‘যাহারা জানে এবং যাহারা জানে না, তাহারা কি সমান?’ বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।

বাংলা উচ্চারণ

আম্মান্ হুওয়া ক্ব-নিতুন্ আ-না-য়াল্ লাইলি সা-জ্বিদাঁও অ ক্ব-য়িমাইঁ ইয়াহ্যারুল্ আ-খিরতা অ ইর্য়াজু রহ্মাতা রব্বিহ্ কুল্ হাল্ ইয়াস্তাওয়িল্ লাযীনা ইয়া'লামূনা অল্লাযীনা লা-ইয়া'লামূন্ ইন্নামা-ইয়াতাযাক্কারূ ঊলুল্ আল্বা-ব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী! আমার পক্ষ থেকে) বলে দাও: ‘হে আমার দাসেরা, যারা ঈমান এনেছো, তোমাদের প্রভুকে ভয় করো। যারা এই দুনিয়ায় কল্যাণের কাজ করে, তাদের জন্যে রয়েছে কল্যাণ। আল্লাহর জমিন তো প্রশস্ত। ধৈর্যশীলদেরকে তাদের প্রতিদান দেয়া হবে অফুরন্ত।’

সমকালীন বাংলা

বল, ‘হে আমার বান্দাগণ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। যাহারা এই দুনিয়াতে কল্যাণকর কাজ করে তাহাদের জন্য আছে কল্যাণ। আর যমীন প্রশস্ত, ধৈর্যশীল - দেরকে তো অপরিমিত পুরস্কার দেওয়া হইবে।’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইয়া-'ইবা-দিল্লাযীনা আ-মানুত্তাকু রব্বাকুম্ লিল্লাযীনা আহ্সানূ ফী হা-যিহিদ্ দুন্ইয়া-হাসানাহ্অ র্আদুল্লা-হি ওয়া- সি'আহ্ইন্নামা ইয়ুওয়াফ্ফাছ্ ছোয়া-বিরূনা আজরহুম্ বিগইরি হিসা-ব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘‘আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমি যেনো আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করি।

সমকালীন বাংলা

বল, আমি তো আদিষ্ট হইয়াছি, আল্লাহর আনুগত্য একনিষ্ঠ হইয়া তাঁহার ইবাদত করিতে;

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইন্নী য় উর্মিতু আন্ আ'বুদা ল্লা-হা মুখ্লিছোয়াল্ লাহুদ্ দীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমি যেনো হই মুসলিমদের (আত্মসমর্পনকারীদের) প্রথম।’’

সমকালীন বাংলা

‘আর আদিষ্ট হইয়াছি, আমি যেন মুসলমানদের অগ্রণী হই।’

বাংলা উচ্চারণ

অ উর্মিতু লিআন্ আকূনা আউয়্যালাল্ মুস্লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘আমি যদি আমার প্রভুর অবাধ্য হই, তবে আমি এক মহাদিবসের আযাবের আশংকা করি।’

সমকালীন বাংলা

বল, ‘আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই, তবে আমি ভয় করি মহাদিবসের শাস্তির।’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইন্নী য় আখ-ফু ইন্ 'আছোয়াইতু রব্বী 'আযা-বা ইয়াওমিন্ 'আজীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘আমি কেবল আল্লাহরই ইবাদত করি তাঁর প্রতি আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে।’

সমকালীন বাংলা

বল, আমি ইবাদত করি আল্লাহরই তাঁহার প্রতি আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ রাখিয়া।

বাংলা উচ্চারণ

কুলিল্লা-হা আ'বুদু মুখ্লিছোয়াল্ লাহূ দ্বীনী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইচ্ছা ইবাদত করো। বলো: ‘প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত লোক তারাই, যারা কিয়ামতের দিন ক্ষতিগ্রস্ত করবে নিজেদেরকে এবং নিজেদের পরিবার পরিজনকে। সাবধান, সেটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।’

সমকালীন বাংলা

‘আর তোমরা পরিবর্তে যাহার ইচ্ছা তাহার ‘ইবাদত কর।’ বল, ‘ক্ষতিগ্রস্ত তাহারাই যাহারা কিয়ামতের দিন নিজেদের ও নিজেদের পরিজনবর্গের ক্ষতিসাধন করে। জানিয়া রাখ, ইহাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।’

বাংলা উচ্চারণ

ফা'বুদূ মা-শিতুম্ মিন্ দূনিহ্ কুল্ ইন্নাল্ খ-সিরীনাল্ লাযীনা খসিরূ য় আন্ফুসাহুম্ অআহ্লীহিম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ আলা-যা-লিকা হুওয়াল্ খুস্র-নুল্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে থাকবে তাদের উপরে আগুনের আচ্ছাদন এবং নিচেও আগুনের বিছানা। এর মাধ্যমে তার বান্দাদের সতর্ক করেন। হে আমার দাসেরা! তোমরা সতর্ক হও, আমাকে ভয় করো।

সমকালীন বাংলা

তাহাদের জন্য থাকিবে তাহাদের ঊর্ধ্বদিকে অগ্নির আচ্ছাদন এবং নিম্নদিকেও আচ্ছাদন। এতদ্দারা তাঁহার বান্দাদেরকে সতর্ক করেন। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা আমাকে ভয় কর।

বাংলা উচ্চারণ

লাহুম্ মিন্ ফাওক্বিহিম্ জুলালুম্ মিনান্না-রি অমিন্ তাহ্তিহিম্ জুলাল্ যা-লিকা ইয়ুখওয়্যিফুল্লা-হু বিহী 'ইবা-দাহ্ ইয়া-'ইবা-দি ফাত্তাকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা তাগুতের ইবাদত (পূজা, উপাসনা, আনুগত্য) থেকে বিরত থাকবে এবং আল্লাহর অভিমুখী হবে, তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ। সুতরাং আমার দাসদের সুসংবাদ দাও,

সমকালীন বাংলা

যাহারা তাগূতের পূজা হইতে দূরে থাকে এবং অভিমুখী হয়, তাহাদের জন্য আছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদেরকে -

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা জতানাবূতত্বোয়া-গূতা আইঁ ইয়া'বুদূহা-অআনা-বূ য় ইলাল্লা-হি লাহুমুল্ বুশ্রা-ফাবার্শ্শি 'ইবা-দ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শুনে এবং তাতে যা উত্তম তা গ্রহণ করে। এরাই সেইসব লোক, যাদের হিদায়াত করেছেন এবং তারাই বুদ্ধিমান লোক।

সমকালীন বাংলা

যাহারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে এবং উহার মধ্যে যাহা উত্তম তাহা গ্রহণ করে। উহাদেরকে সৎপথ প্রর্দশন করেন এবং তারাই বুদ্ধমিান।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা ইয়াস্তামি'ঊ নাল্ ক্বওলা ফাইয়াত্তাবি'ঊনা আহ্সানাহ্ উলা-য়িকাল্ লাযীনা হাদা-হুমুল্লা-হু অ উলা- য়িকাহুম্ ঊলুল্ আল্বা-ব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তিকে রক্ষা করবে কে, যার জন্যে আযাবের আদেশ অবধারিত হয়ে গেছে? তুমি কি সেই ব্যক্তিকে রক্ষা করতে পারবে যে রয়েছে জাহান্নামে?

সমকালীন বাংলা

যাহার উপর দণ্ডাদেশ অবধারিত হইয়াছে; তুমি কি রক্ষা করিতে পারিবে সেই ব্যক্তিকে, যে জাহান্নামে আছে?

বাংলা উচ্চারণ

আফামান্ হাকক্ব 'আলাইহি কালিমাতুল্ 'আযা-ব্ আফায়ান্তা তুন্ক্বিযু মান্ ফিন্নার্-।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যারা তাদের প্রভুকে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে প্রাসাদ, তার উপরে আরো প্রাসাদ, তার নিচে দিয়ে রয়েছে বহমান নদ নদী নহর। এটা আল্লাহর ওয়াদা। তাঁর ওয়াদার বরখেলাফ করেন না।

সমকালীন বাংলা

তবে যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাহাদের জন্য আছে বহু প্রাসাদ যাহার উপর নির্মিত আরও প্রাসাদ, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; ইহা আল্লাহর ওয়াদা, ওয়াদা খেলাফ করেন না।

বাংলা উচ্চারণ

লা-কিনিল্ লাযীনাত্ তাক্বও রব্বাহুম্ লাহুম্ গুরাফুম্ মিন্ ফাওক্বিহা-গুরাফুম্ মাব্নিয়্যাতুন্ তাজরী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হার্- ওয়া'দাল্লা-হ্ লা-ইয়ুখ্লিফুল্লা-হুল্ মী'আ-দ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি দেখোনা, নাযিল করেন আসমান থেকে পানি, তারপর তিনি তা নির্ঝরের মতো প্রবাহিত করেন জমিনে। তা থেকে উৎপন্ন করেন শস্য নানা বর্ণের, তারপর তা শুকিয়ে যায়। ফলে তুমি তা দেখতে পাও হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে। অবশেষে তিনি তা খড়কুটায় পরিণত করেন। এতে অবশ্যি রয়েছে উপদেশ বুঝবুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের জন্যে।

সমকালীন বাংলা

তুমি কি দেখ না, আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন, অতঃপর উহা ভূমিতে নির্ঝররূপে প্রবাহিত করেন এবং তদ্দারা বিবিধ বর্ণের ফসল উৎপন্ন করেন, অতঃপর ইহা শুকাইয়া যায়? ফলে তোমরা ইহা পীতবর্ণ দেখিতে পাও, অবশেষে তিনি উহা খড় - কুটায় পরিণত করেন। ইহাতে অবশ্যই উপদেশ রহিয়াছে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য।

বাংলা উচ্চারণ

আলাম্ তারা আন্নাল্লা-হা আন্যালা মিনাস্ সামা-য়ি মা-য়ান্ ফাসালাকাহূ ইয়ানা-বী'আ ফিল্ র্আদ্বি ছুম্মা ইয়ুখ্রিজু বিহী র্যা'আম্ মুখ্তালিফান্ আল্ওয়া- নুহূ ছুম্মা ইয়াহীজু ফাতার-হু মুর্ছ্ফারান্ ছুম্মা ইয়াজ্ব্ 'আলুহূ হুত্বোয়া-মা- ইন্না ফী যা-লিকা লাযিক্রা- লিঊলিল্ আল্বা-ব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যার বক্ষ খুলে দেন ইসলামের জন্যে এবং যে রয়েছে তার প্রভুর প্রদত্ত আলোতে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য যার অবস্থা এ রকম নয়? ধ্বংস সেইসব কঠোর হৃদয় লোকদের জন্যে যারা আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ। এরা রয়েছে সুস্পষ্ট বিপথগামিতায়।

সমকালীন বাংলা

ইসলামের জন্য যাহার বক্ষ উন্মুক্ত করিয়া দিয়াছেন এবং যে তাহার প্রতিপালক - প্রদত্ত আলোতে রহিয়াছে, সে কি তাহার সমান যে এরূপ নয়? দুর্ভোগ সেই কঠোরহৃদয় ব্যক্তিদের জন্য যাহারা আল্লাহর স্মরণে পরাঙ্মুখ! উহারা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে।

বাংলা উচ্চারণ

আফামান্ শারহাল্লা-হু ছোয়াদ্রহূ লিল্ইস্লা-মি ফাহুওয়া 'আলা-নূরিম্ র্মি রব্বিহ ফাওয়াইলুল্লিল্ ক্ব-সিয়াতি কুলূবুহুম্ মিন্ যিকরিল্লা-হ্ উলা-য়িকা ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাযিল করেছেন সর্বোত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব, যা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা বার বার পাঠ করা হয়। যারা তাদের প্রভুকে ভয় করে, এর (পাঠে এবং শ্রবনে) তাদের চর্ম রোমাঞ্চিত হয়ে উঠে, তারপর তাদের দেহমন কোমল হয়ে আল্লাহর স্মরণে ঝুঁকে পড়ে। এটাই আল্লাহর হুদা (জ্ঞান ও জীবন পদ্ধতি), তিনি যাকে ইচ্ছা এর দ্বারা পথ দেখান। যাকে বিপথগামী করে দেন, তার কোনো পথ প্রদর্শক নেই।

সমকালীন বাংলা

অবতীর্ণ করিয়াছেন উত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব যাহা প্রতিশ্রুতি এবং যাহা পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি করা হয়। ইহাতে, যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাহাদের গাত্র রোমাঞ্চিত হয়, অতঃপর তাহাদের দেহমন বিনম্র হইয়া আল্লাহর স্মরণে ঝুঁকিয়া পড়ে। ইহাই পথনির্দেশ, তিনি উহা দ্বারা যাহাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। যাহাকে বিভ্রান্ত করেন তাহার কোন পথপ্রদর্শক নাই।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা-হু নায্যালা আহ্স্নাল্ হাদীছি কিতা-বাম্ মুতাশা-বিহাম্ মাছা-নিয়া তাক্ব্শ্ইর্'রু মিন্হু জুলূ দুল্লাযীনা ইয়াখ্শাওনা রব্বাহুম্ ছুম্মা তালীনু জুলূদুহুম্ অকুলূবুহুম্ ইলা-যিক্রিল্লা-হ্ যা-লিকা হুদাল্লা-হি ইয়াহ্দী বিহী মাইঁ ইয়াশা-য়্ অমাইঁ ইয়ুদ্ব্লিলিল্লা-হু ফামা-লাহূ মিন্ হা-দ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার মুখমন্ডল দিয়ে কঠিন আযাব ঠেকাতে চাইবে, সে কি তার সমতুল্য, যে এ থেকে নিরাপদ? যালিমদের বলা হবে: তোমাদের উপার্জনের স্বাদ গ্রহণ করো।

সমকালীন বাংলা

যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তাহার মুখমণ্ডল দ্বারা কঠিন শাস্তি ঠেকাইতে চাইবে, সে কি তাহার মত যে নিরাপদ? জালিমদেরকে বলা হইবে, ‘তোমরা যাহা অর্জন করিতে তাহার শাস্তি আস্বাদন কর।’

বাংলা উচ্চারণ

আফামাইঁ ইয়াত্তাক্বী বিঅজ্ব্হিহী সূ-য়াল্ 'আযা-বি ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ অক্বীলা লিজ জোয়া-লিমীনা যূকুমা-কুন্তুম্ তাক্সিবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এদের আগেকার লোকেরাও (রসূলদের) প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারপর তাদের গ্রাস করেছিল আযাব এমনভাবে, যা তারা ধারণাও করতে পারেনি।

সমকালীন বাংলা

উহাদের পূর্ববর্তিগণও অস্বীকার করিয়াছিল, ফলে শাস্তিএমনভাবে উহাদেরকে গ্রাস করিল যে, উহারা ধারণাও করিতে পারে নাই।

বাংলা উচ্চারণ

কায্যাবাল লাযীনা মিন্ ক্বব্লিহিম্ ফাআতা-হুমুল্ 'আযা-বু মিন্ হাইছু লা-ইয়াশ্ 'ঊরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে তাদেরকে দুনিয়ার জীবনের লাঞ্ছনাও ভোগ করান, আর তাদের আখিরাতের আযাব হবে কঠিনতর। যদি তারা জানতো!

সমকালীন বাংলা

ফলে উহাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা ভোগ করাইলেন এবং আখিরাতের শাস্তি তো কঠিনতর। যদি ইহারা জানিত!

বাংলা উচ্চারণ

ফাআযা-ক্বাহুমু ল্লা-হুল্ খিয্ইয়া-ফিল্ হাইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া-অলা'আযা-বুল্ আ-খিরতি আকর্বা। লাও কা-নূ ইয়া'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই কুরআনে আমরা মানুষের জন্যে সব ধরনের উপমা উপস্থাপন করেছি যাতে করে তারা গ্রহণ করে উপদেশ।

সমকালীন বাংলা

আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সর্বপ্রকার দৃষ্টান্তউপস্থিত করিয়াছি, যাহাতে উহারা উপদেশ গ্রহণ করে,

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ দ্বোয়ারব্না-লিন্না-সি ফী হা-যাল্ ক্বর্ ুআ-নি মিন্ কুল্লি মাছালিল্ লা'আল্লাহুম্ ইয়াতাযাক্কারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আরবি ভাষার এ কুরআন সম্পূর্ণ বক্রতামুক্ত, যাতে করে তারা সতর্কতা অবলম্বন করে।

সমকালীন বাংলা

আরবী ভাষায় এই কুরআন বক্রতামুক্ত, যাহাতে মানুষ সাবধানতা অবলম্বন করে।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বর্ আ-নান্ 'আরাবিয়্যান্ গইর যী 'ইওয়াজ্বিল্লা'আল্লা-হুম্ ইয়াত্তাকূূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

একটি দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন: এক ব্যক্তির প্রভু অনেক, তারা পরস্পর বিরোধী মনোভাবের। আরেক ব্যক্তির প্রভু শুধুমাত্র একজন। এই দুইজনের অবস্থা কি সমান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানেনা।

সমকালীন বাংলা

একটি দৃষ্টান্ত পেশ করিতেছেন : এক ব্যক্তির প্রভু অনেক, যাহারা পরস্পর বিরুদ্ধভাবাপন্ন এবং আর এক ব্যক্তির প্রভু কেবল একজন; এই দুইজনের অবস্থা কি সমান? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। কিন্তু তাদরে অধকিাংশই জানে না।

বাংলা উচ্চারণ

দ্বোয়ারাবাল্লা-হু মাছার্লা রাজুলান্ ফীহি শুরকা-য়ু মুতাশা-কিসূনা অরজুলান্ সালামাল্লি রজু ল্ হাল্ ইয়াস্তাওয়্যিইয়া-নি মাছালা- আল্হাম্দু লিল্লা-হি বাল্ আক্ছারুহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমিও মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।

সমকালীন বাংলা

তুমি তো মরণশীল এবং উহারাও মরণশীল।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাকা মাইয়্যিতুঁও অইন্নাহুম্ মাইয়্যিতূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর কিয়ামতের দিন তোমরা তোমাদের প্রভুর সামনে নিজ নিজ অভিযোগ পেশ করবে।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর কিয়ামত দিবসে তোমরা তো পরস্পর তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে বাকবিতণ্ডা করিবে।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা ইন্নাকুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি 'ইন্দা রব্বিকুম্ তাখ্তাসিমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে এবং সত্য আসার পর সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে। কাফিরদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়?

সমকালীন বাংলা

যে ব্যক্তি সম্বন্ধে মিথ্যা বলে এবং সত্য আসিবার পর উহা অস্বীকার করে তাহার অপেক্ষা অধিক আর কে? কাফিরদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়?

বাংলা উচ্চারণ

ফামান্ আজ্লামু মিম্মান্ কাযাবা আলা ল্লা-হি অকায্যাবা বিছ্ছিদ্ক্বি ইয্ জ্বা-য়াহ্ আলাইসা ফী জ্বাহান্নামা মাছ্ওয়া ল্লিল্ কা-ফিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে সত্য (কুরআন) নিয়ে এসেছে এবং (যারা) সত্যকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই ।

সমকালীন বাংলা

আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং সত্যকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই ।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযী জ্বা-য়া বিছ্ছিদ্ক্বি অছোয়াদ্দাক্বা বিহী য়উলা-য়িকা হুমুল্ মুত্তাকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে সবই তারা যা চাইবে। এটাই পুণ্যবানদের পুরস্কার।

সমকালীন বাংলা

ইহাদের বাঞ্ছিত সমস্ত কিছুই আছে ইহাদের প্রতিপালকের নিকট। ইহাই সৎকর্মপরায়ণদের পুরস্কার।

বাংলা উচ্চারণ

লাহুম্ মা-ইয়াশা-য়ূনা 'ইন্দা রব্বিহিম্ যা- লিকা জ্বাযা-য়ুল্ মুহ্সিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে করে তারা যেসব মন্দ কাজ করেছিল তা ক্ষমা করে দেন এবং তাদেরকে তাদের উত্তম আমলের জন্যে প্রদান করেন পুরস্কার।

সমকালীন বাংলা

যাহাতে ইহারা যেসব মন্দ কর্ম করিয়াছিল তাহা ক্ষমা করিয়া দেন এবং ইহাদেরকে ইহাদের সৎকর্মের জন্য পুরস্কৃত করেন।

বাংলা উচ্চারণ

লিইয় কাফ্ফিরাল্লা-হু 'আন্হুম্ আস্ওয়া আল্লাযী 'আমিলূ ওয়াইয়াজযিয়াহুম্ আজরহুম্ বি আহ্সানিল্ লাযী কা-নূ ইয়া'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কি তার বান্দার জন্যে যথেষ্ট নন? অথচ তারা তোমাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের ভয় দেখায়। যাকে গোমরাহ করে দেন, তার জন্যে কোনো পথ প্রদর্শক নেই।

সমকালীন বাংলা

কি তাঁহার বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? অথচ তাহারা তোমাকে আল্লাহর পরিবর্তে অপরের ভয় দেখায়। যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কােন পথপ্রর্দশক নইে।

বাংলা উচ্চারণ

আলাইসাল্লা-হু বিকা-ফিন্ 'আব্দাহ্ অ ইয়ুখাওয়্যিফূনাকা বিল্লাযীনা মিন্ দূনিহ্ অমাইঁ ইয়্যুদ্ব্লিলিল্লা-হু ফামা-লাহূ মিন্ হা-দ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যাকে সঠিক পথ দেখান, তাকে বিপথগামী করারও কেউ নেই। কি মহাপরাক্রমশালী এবং প্রতিশোধ গ্রহণে ক্ষমতাবান নন?

সমকালীন বাংলা

এবং যাহাকে হিদায়াত করেন তাহার জন্য কোন পথভ্রষ্টকারী নাই; কি পরাক্রমশালী, দণ্ডবিধায়ক নন?

বাংলা উচ্চারণ

অ মাই ইয়াহ্দিল্লা-হু ফামা-লাহূ মিম্ মুদ্বিল্ আলাইসা ল্লা-হু বি 'আযীযিন্ যিন্ তিক্ব-ম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘কে সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ এবং পৃথিবী?’ তারা অবশ্যি বলবে: ‘’। বলো: ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছো, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো, আমার কোনো অনিষ্ট করতে চাইলে, তারা কি আমার সেই অনিষ্ট দূর করে দিতে পারবে? অথবা তিনি যদি আমার প্রতি কোনো অনুগ্রহ করতে চান, তারা কি সেই অনুগ্রহ প্রতিরোধ করতে পারবে?’ বলো: ‘আল্লাহ্ই আমার জন্যে যথেষ্ট, তাওয়াক্কুলকারীরা তাঁর উপরই তাওয়াক্কুল করে।’

সমকালীন বাংলা

তুমি যদি ইহাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করিয়াছেন? উহারা অবশ্যই বলিবে, বল, ‘তোমরা ভাবিয়া দেখিয়াছ কি, আমার অনিষ্ট চাহিলে তোমরা পরিবর্তে যাহাদেরকে ডাক তাহারা কি সেই অনিষ্ট দূর করিতে পারিবে? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করিতে চাহিলে তাহারা কি সেই অনুগ্রহকে রোধ করিতে পারবে?, বলুন, আমার পক্ষে আল্লাহই যথষ্টে। নির্ভরকারীগণ আল্লাহরই উপর নির্ভর করে।

বাংলা উচ্চারণ

অ লায়িন্ সায়াল্তাহুম্ মান্ খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া লাইয়াকু লুন্না ল্লা-হ্ কুল্ আফারয়াইতুম্ মা-তাদ্'ঊনা মিন্ দূনিল্লা-হি ইন্ আর-দানিয়াল্লা-হু বিদ্বর্ রিন্ হাল্ হুন্না কা-শিফা-তু র্দুরিহী য় আও আর-দানী বিরহ্মাতিন্ হাল্ হুন্না মুম্সিকা-তু রহ্মাতিহ্ কুল্ হাস্বিয়াল্লা-হ্ 'আলাইহি ইয়াতাওয়াক্কালুল্ মুতাওয়াক্কিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে কাজ করতে থাকো, আমিও আমার কাজ করে যাচ্ছি, অচিরেই তোমরা দেখতে পাবে

সমকালীন বাংলা

বল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা স্ব স্ব অবস্থায় কাজ করিতে থাক, আমিও আমার কাজ করিতেছি। শীঘ্রই জানিতে পারিবে -

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইয়া-ক্বওমি'মালূ 'আলা-মাকা-নাতিকুম্ ইন্নী 'আমিলুন্ ফাসাওফা তা'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কার উপর এসে পড়ে অপমানকর আযাব এবং কার জন্যে বৈধ হয়ে যাবে স্থায়ী আযাব?’’

সমকালীন বাংলা

‘কাহার উপর আসিবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি আর আপতিত হইবে তাহার উপর স্থায়ী শাস্তি।’

বাংলা উচ্চারণ

মাইঁইয়াতীহি আযা বুইঁইয়ুখ্যীহি অ ইয়াহিল্লু 'আলাইহি 'আযা-বুম্ মুক্বীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মানবজাতির জন্যে বাস্তবতার ভিত্তিতে তোমার প্রতি নাযিল করেছি আল কিতাব (আল কুরআন), এখন যে কেউ সঠিক পথ গ্রহণ করবে, তাতে তারই কল্যাণ হবে, আর যে কেউ বিপথগামী হবে, সে ডেকে আনবে নিজেরই ধ্বংস। তুমি তাদের উকিল নও।

সমকালীন বাংলা

আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছি মানুষের জন্য; অতঃপর যে সৎপথ অবলম্বন করে সে তাহা করে নিজেরই কল্যাণের জন্য এবং যে বিপথগামী হয় সে তো বিপথগামী হয় নিজেরই ধ্বংসের জন্য এবং তুমি উহাদের তত্বাবধায়ক নও।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না য় আন্যাল্না- 'আলাইকাল্ কিতা-বা লিন্না-সি বিল্হাকক্বি ফামানিহ্ তাদা-ফালিনাফ্সিহী অমান্ দ্বোয়াল্লা ফাইন্নামা-ইয়াদ্বিল্লু 'আলাইহা- অমা য় আন্তা 'আলাইহিম্ বিঅকীল্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সমস্ত প্রাণীর ওফাত ঘটান তাদের মৃত্যুর সময় এবং যাদের মৃত্যু এখনো আসেনি তাদের প্রাণও নিদ্রার সময়। তারপর তিনি যার জন্যে মৃত্যুর সিদ্ধান্ত করেন, তার প্রাণ তিনি ধরে রাখেন আর অন্যদের প্রাণ ফেরত দেন একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। এতে রয়েছে নিদর্শন, চিন্তাশীল লোকদের জন্যে।

সমকালীন বাংলা

প্রাণ হরণ করেন জীবসমূহের তাহাদের মৃত্যুর সময় এবং যাহাদের মৃত্যু আসে নাই তাহাদের প্রাণও নিদ্রার সময়। অতঃপর তিনি যাহার জন্য মৃত্যুর সিদ্ধান্ত করেন তাহার প্রাণ তিনি রাখিয়া দেন এবং অপরগুলি ফিরাইয়া দেন, এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা-হু ইয়াতাওয়াফ্ফাল্ আন্ফুসা হীনা মাওতিহা-অল্লাতী লাম্ তামুত্ ফী মানা-মিহা-ফাইয়ুম্সিকুল্ লাতী ক্বাদ্বোয়া- 'আলাইহাল্ মাওতা অইর্য়ুসিলুল্ উখ্র য় ইলা য় আজ্বালিম্ মুসাম্মা ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিক্বওমিঁই ইয়া তাফাক্কারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের সুপারিশকারী ধরেছে? তাদের বলো: ‘তাদের কোনো ক্ষমতা না থাকলেও এবং তারা কোনো কিছু না বুঝলেও কি (তারা সুপারিশ করবে)?’

সমকালীন বাংলা

তবে কি উহারা আল্লহ ব্যতীত অপরকে সুপারিশকারী ধরিয়াছে? বল, ‘উহাদের কোন ক্ষমতা না থাকিলেও এবং উহারা না বুঝিলেও?’

বাংলা উচ্চারণ

আমিত্তাখযূ মিন্ দূনিল্লা-হি শুফা'আ-য়্ কুল্ আওয়ালাও কা-নূ লা-ইয়াম্লিকূনা শাইয়াঁও অলা-ইয়া'ক্বিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘সমস্ত শাফায়াত (সুপারিশ) আল্লাহর এখতিয়ারে, মহাকাশ এবং পৃথিবীর কর্তৃত্ব তাঁরই। তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে তাঁর দিকেই।’

সমকালীন বাংলা

বল, ‘সকল সুপারিশ আল্লাহর ইখ্তিয়ারে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব অতঃপর তাঁহারই নিকট তোমরা প্রত্যানীত হইবে।’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ লিল্লা-হিশ্ শাফা- 'আতু জ্বামী'আন লাহূ মুল্কুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ ছুম্মা ইলাইহি র্তুজ্বা'ঊন।

আবদুস শহীদ নাসিম

শুধু এক এবং একমাত্র আল্লাহর কথা বলা হলে আখিরাতে অবিশ্বাসীদের অন্তর বিরাগ বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয়ে যায়। আল্লাহর পরিবর্তে দেবতাগুলোকে উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠে।

সমকালীন বাংলা

শুধু এক কথা বলা হইলে যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয় এবং পরিবর্তে উপাস্যগুলির নাম করা হইলে তাহারা আনন্দে উল্লাসিত হয়।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-যুকিরাল্লা-হু ওয়াহ্দাহুশ্ মায়ায্যাত্ কুলূবুল্ লাযীনা লা-ইযুমিনূনা বিল্আ-খিরতি অইযা-যুকিরাল্ লাযীনা মিন্ দূনিহী য় ইযা-হুম্ ইয়াস্তাব্শিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘আয় ! মহাকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও গায়েবের জ্ঞানী, তোমার বান্দারা যে বিষয়ে এখতেলাফ (মতবিরোধ) করছে, তুমিই তার ফায়সালা করে দেবে।’

সমকালীন বাংলা

বল, ‘হে আপনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, বান্দাগণের যাঁরা এ বিষয়ে মতবিরোধ করে, তাহাদের মধ্যে উহার ফয়সালা করিয়া দিবেন।’

বাংলা উচ্চারণ

কুলি ল্লা-হুম্মা ফা-ত্বিরস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বি 'আ-লিমাল্ গইবি অশ্শাহা-দাতি আন্তা তাহ্কুমু বাইনা 'ইবা-দিকা ফী মা-কা-নূ ফীহি ইয়াখ্তালিফূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা যুলুম করে, পৃথিবীতে যা কিছু আছে সেগুলো এবং আরো সমপরিমাণ সম্পদও যদি তাদের থাকে, তবে কিয়ামতের দিন কঠিন আযাব থেকে বাঁচার জন্যে মুক্তিপণ হিসেবে তারা সবই দিয়ে দেবে। আর তাদের জন্যে আল্লাহর নিকট থেকে এমন কিছু প্রকাশ হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারেনি।

সমকালীন বাংলা

যাহারা জুলুম করিয়াছে যদি তাহাদের থাকে, দুনিয়ায় যাহা আছে তাহা সম্পূর্ণ এবং ইহার সমপরিমাণ সম্পদও, তবে কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি হইতে মুক্তিপণস্বরূপ সেই সকলই তাহারা দিয়া দিবে এবং তাহাদের জন্য নিকট হইতে এমন কিছু প্রকাশিত হইবে যাহা উহারা কল্পনাও করে নাই।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও আন্না লিল্লাযীনা জোয়ালামূ মা-ফিল্ র্আদ্বি জ্বামী'আঁও অমিছ্লাহূ মা'আহূ লাফ্তাদাও বিহী মিন্ সূ-য়িল্ 'আযা-বি ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ অ বাদা-লাহুম্ মিনাল্লা-হি মা-লাম্ ইয়াকূনূ ইয়াহ্তাসিবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কৃতকর্মের নিকৃষ্ট পরিণাম তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং তারা যে ঠাট্টা বিদ্রুপ করতো, তা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে নেবে।

সমকালীন বাংলা

উহাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল উহাদের নিকট প্রকাশ হইয়া পড়িবে এবং উহারা যাহা লইয়া ঠাট্টা - বিদ্রপকরিত তাহা উহাদেরকে পরিবেষ্টন করিবে।

বাংলা উচ্চারণ

অবাদা-লাহুম্ সাইয়িয়া-তু মা-কাসাবূ অহা-ক্বা বিহিম্ িমা-কা-নূ বিহী ইয়াস্তাহ্যিয়ূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন তারা আমাদেরকে ডাকে, কিন্তু যখনই তাদেরকে আমরা কোনো নিয়ামত দিয়ে অনুগ্রহ করি, তখন সে বলে: ‘আমি তো এটা লাভ করেছি আমার বিশেষ জ্ঞানের কারণে।’ বরং এটা একটা পরীক্ষা, কিন্তু অধিকাংশ লোকই তা জানেনা।

সমকালীন বাংলা

মানুষকে বিপদ - আপদ স্পর্শ করিলে সে আমাকে আহ্বান করে; অতঃপর যখন আমি আমার কোন নিয়ামত দ্বারা তাহাকে অনুগৃহীত করি তখন সে বলে, ‘আমাকে তো ইহা দেওয়া হইয়াছে আমার জ্ঞানের কারণে।’ বস্তুত ইহা এক পরীক্ষা, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই বুঝে না।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইযা মাস্সাল্ ইন্সা-না র্দ্বুরুন দা'আ-না- ছুম্মা ইযা-খাওয়্যাল্না-হু নি'মাতাম্ মিন্না-ক্ব-লা ইন্নামা য় ঊতীতুহূ 'আলা-'ইল্ম্ বাল্ হিয়া ফিত্নাতুঁও অলা-কিন্না আক্ছারহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের আগেকার লোকেরাও এ রকমই বলতো, কিন্তু তাদের যাবতীয় অর্জন তাদের কোনো কাজেই আসেনি।

সমকালীন বাংলা

ইহাদের পূর্ববর্তিগণও ইহাই বলিত, কিন্তু উহাদের কৃতকর্ম উহাদের কোন কাজে আসে নাই।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বদ্ ক্ব-লাহাল্লাযীনা মিন্ ক্বব্লিহিম্ ফামা য় আগ্না- 'আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াক্সিবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের উপর আপতিত হয়েছিল তাদের সমস্ত মন্দ অর্জন আর মন্দ কৃতকর্ম। (এখনকার) এদের মধ্যেও যারা যুলুম করে তাদের উপরও তাদের মন্দ কৃতকর্মের ফল আপতিত হবে, এবং তারা তা ঠেকাতে পারবে না।

সমকালীন বাংলা

উহাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল উহাদের উপর আপতিত হইয়াছে, উহাদের মধ্যে যাহারা জুলুম করে উহাদের উপরও উহাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল আপতিত হইবে এবং উহারা ব্যর্থও করিতে পারিবে না।

বাংলা উচ্চারণ

ফাআছোয়া-বাহুম্ সাইয়িয়া-তু মা-কাসাবূ অল্লাযীনা জোয়ালামূ মিন্ হা য় উলা-য়ি সাইয়ুছীবুহুম্ সাইয়িয়া-তু মা- কাসাবূ অমা-হুম্ বিমু'জ্বিযীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি জানেনা, যাকে চান রিযিক প্রশস্ত করে দেন, আর যাকে চান সীমিত করে দেন? অবশ্যি লোকদের জন্যে এতে রয়েছে নিদর্শন।

সমকালীন বাংলা

ইহারা কি জানে না, যাহার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করেন অথবা যাহার জন্য ইচ্ছা সীমিত করেন? ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে সম্প্রদায়ের জন্য।

বাংলা উচ্চারণ

আওয়া লাম্ ইয়া'লামূ য় আন্নাল্লা-হা ইয়াব্সুত্বর্ রিয্ক্বা লিমাইঁ ইয়াশা-য়ু অইয়াক্বর্ ্দি ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিক্বাওমিঁই ইয়ু'মিনূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী! লোকদেরকে আমার একথা) বলে দাও: ‘‘হে আমার দাসেরা! যারা নিজেদের প্রতি যুলুম - অবিচার করেছো, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা, সমস্ত পাপই ক্ষমা করে দেবেন, কারণ তিনি তো পরম ক্ষমাশীল, অতীব দয়াবান।

সমকালীন বাংলা

বল, ‘হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যাহারা নিজেদের প্রতি অবিচার করিয়াছ অনুগ্রহ হইতে নিরাশ হইও না; সমুদয় পাপ ক্ষমা করিয়া দিবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইয়া-'ইবাদিয়াল্ লাযীনা আস্রাফূ 'আলা য় আন্ফুসিহিম্ লা-তাকনাতু র্মি রহ্মাতিল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা ইয়াগ্ফিরুয্ যুনূবা জামী'আ ইন্নাহূ হুওয়াল্ গফূর্রু রহীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(ক্ষমা লাভের উপায় হলো) তোমরা তোমাদের প্রভুর অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করো তোমাদের উপর আযাব এসে যাবার আগেই, তখন কিন্তু তোমাদের আর সাহায্য করা হবেনা।

সমকালীন বাংলা

তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁহার নিকট আত্মসর্মপণ কর তোমাদের নিকট শাস্তি আসিবার পূর্বে; তৎপর তোমাদেরকে সাহায্য করা হইবে না।

বাংলা উচ্চারণ

অ আনীবূ য় ইলা-রব্বিকুম্ অআস্লিমূ লাহূ মিন্ ক্বব্লি আঁই ইয়াতিয়াকুমুল্ 'আযা-বু ছুম্মা লা-তুন্ছোয়ারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা অনুসরণ করো তোমাদের প্রভুর নিকট থেকে যে উত্তম (কিতাব) নাযিল হয়েছে সেটিকে, তোমাদের প্রতি হঠাৎ তোমাদের বুঝে উঠার আগেই আযাব এসে যাবার পূর্বে,

সমকালীন বাংলা

অনুসরণ কর তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে উত্তম যাহা অবতীর্ণ করা হইয়াছে তাহার, তোমাদের উপর অতর্কিতভাবে তোমাদের অজ্ঞাতসারে শাস্তি আসিবার পূর্বে -

বাংলা উচ্চারণ

অত্তাবি'ঊ য় আহ্সানা মা য়উন্যিলা ইলাইকুম্ র্মি রব্বিকুম্ মিন্ ক্বাব্লি আইঁ ইয়াতিয়াকুমুল্ 'আযা-বু বাগ্তাতাঁও অআন্তুম্ লা-তাশ্ঊ'রূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন যাতে কাউকেও বলতে না হয়: ‘হায়, আল্লাহর প্রতি কর্তব্য পালনে আমি যে গাফলতি করেছি তার জন্যে আফসুস্! আমি তো বিদ্রুপকারীদেরই একজন ছিলাম।’

সমকালীন বাংলা

যাহাতে কাহাকেও বলিতে না হয়, ‘হায়! আল্লাহর প্রতি আমার কর্তব্যে আমি যে শৈথিল্য করিয়াছি তাহার জন্য আফসোস! আমি তো ঠাট্টাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।’

বাংলা উচ্চারণ

আন্ তাক্বূ লা নাফ্সুঁই ইয়া-হাস্রতা- 'আলা- মা-র্ফারত্ তু ফী জ্বাম্বি ল্লা-হি অইন্ কুন্তু লামিনাস্ সা-খিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিংবা একথা বলতে না হয়: ‘ যদি আমাকে হিদায়াত করতেন, তবে অবশ্যি আমি মুত্তাকিদের অন্তরভুক্ত হতাম।’

সমকালীন বাংলা

অথবা কেহ যেন না বলে, আমাকে পথপ্রদর্শন করিলে আমি তো অবশ্যই মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হইতাম।’

বাংলা উচ্চারণ

আও তাকুলা লাও আন্নাল্লা-হা হাদা-নী লাকুন্তু মিনাল্ মুত্তাক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিংবা আযাব দেখার পর একথা বলতে না হয়: ‘হায়, আমাকে যদি একবার পৃথিবীতে ফিরে যাবার সুযোগ দেয়া হতো, তাহলে অবশ্যি আমি পুণ্যবানদের অন্তরভুক্ত হতাম।’’

সমকালীন বাংলা

অথবা শাস্তি প্রত্যক্ষ করিলে যেন কাহাকেও বলিতে না হয়, ‘আহা, যদি একবার পৃথিবীতে আমার প্রত্যাবর্তন ঘটিত তবে আমি সৎকর্মপরায়ণ হইতাম!’

বাংলা উচ্চারণ

আও তাকুলা হীনা তারল্ 'আযা-বা লাও আন্না লী র্কারতান্ ফাআকূনা মিনাল্ মুহ্সিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হাঁ, তোমার কাছে তো আমার আয়াত এসেই ছিলো, কিন্তু তুমি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলে এবং হঠকারিতা প্রদর্শন করেছিলে এবং কাফিরদের অন্তরভুক্ত হয়েছিলে।

সমকালীন বাংলা

প্রকৃত ব্যাপার তো এই যে, আমার নিদর্শন তোমার নিকট আসিয়াছিল, কিন্তু তুমি এইগুলিকে মিথ্যা বলিয়াছিলে ও অহংকার করিয়াছিলে; আর তুমি তো ছিলে কাফিরদের একজন।

বাংলা উচ্চারণ

বালা-ক্বদ্ জ্বা-য়াত্কা আ-ইয়া-তী ফাকায্যাব্তা বিহা-অস্তার্ক্বাতা অকুন্তা মিনাল্ কা-ফিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিয়ামতের দিন আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপকারীদের চেহারা দেখবে কালো! দাম্ভিকদের (উপযুক্ত) আবাস কি জাহান্নামই নয়?

সমকালীন বাংলা

যাহারা প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, তুমি কিয়ামতের দিন তাহাদের মুখ কালো দেখিবে। উদ্ধতদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়?

বাংলা উচ্চারণ

অইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি তারল্ লাযীনা কাযাবূ 'আলাল্লা-হি উজু হুহুম্ মুস্ওয়াদ্দাহ্ আলাইসা ফী জ্বাহান্নামা মাসওয়াল্ লিল্মুতাকাব্বিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকওয়া অবলম্বনকারীদের সেদিন উদ্ধার করবেন তাদের সাফল্যসহ। তাদেরকে স্পর্শ করবেনা অমঙ্গল আর তারা কোনো দুঃখ - দুশ্চিন্তায়ও থাকবে না।

সমকালীন বাংলা

মুত্তাকীদেরকে উদ্ধার করিবেন তাহাদের সাফল্যসহ; তাহাদেরকে অমঙ্গল স্পর্শ করিবে না এবং তাহারা দুঃখিতও হইবে না।

বাংলা উচ্চারণ

অইয়ুনাজ্জ্বিল্লা হুল্-লাযীনাত্ তাক্বও বিমাফা-যাতিহিম্ লা-ইয়ামাস্সুহুমুস্ সূ-য়ু অলা-হুম্ ইয়াহ্যানূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রতিটি বস্ত্তর স্রষ্টা । তিনিই প্রতিটি বস্তুর উকিল (কর্মসম্পাদক)।

সমকালীন বাংলা

সমস্ত কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সমস্ত কিছুর দায়ত্বি গ্রহণ করেন।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা-হু খ-লিকু কুল্লি শাইয়ি্যঁও অহুঅ 'আলা-কুল্লি শাইয়্যিঁও অকীল্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীর চাবির মালিক তিনিই। যারা আল্লাহর আয়াতের প্রতি কুফুরি করে তারাই আসল ক্ষতিগ্রস্ত।

সমকালীন বাংলা

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কুঞ্জি তাঁহারই নিকট। আর যাহারা আয়াতকে অস্বীকার করে তাহারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।

বাংলা উচ্চারণ

লাহূ মাক্ব-লীদুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ অল্লাযীনা কাফারূবিআ-ইয়া-তিল্লা-হি উলা য় য়িকা হুমুল্ খ-সিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘হে জাহিলরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের ইবাদত করতে বলছো?’

সমকালীন বাংলা

বল, ‘হে অজ্ঞ ব্যক্তিরা ! তোমরা কি আমাকে ব্যতীত অন্যের ‘ইবাদত করিতে বলিতেছ?’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ আফাগাইরল্লা-হি তামুরূ-ন্নী য় আ'বুদু আইয়ুহাল্ জ্বা-হিলূন্ ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তী (রসূলদের) প্রতি এই অহিই করা হয়েছে: ‘তুমি যদি আল্লাহর সাথে শরিক সাব্যস্ত করো, তোমার সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি অবশ্যি অন্তরভুক্ত হবে ক্ষতিগ্রস্তদের।’

সমকালীন বাংলা

তোমার প্রতি ও তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই ওহী হইয়াছে, ‘তুমি আল্লাহর শরীক স্থির করিলে তোমার কর্ম তো নিষ্ফল হইবে এবং অবশ্যই তুমি হইবে ক্ষতিগ্রস্ত।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ ঊহিয়া ইলাইকা অ ইলাল্লাযীনা মিন্ ক্বব্লিকা লায়িন্ আশ্রক্তা লাইয়াহ্বাত্বোয়ান্না 'আমালুকা অলাতাকূনান্না-মিনাল্ খ-সিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘বরং আল্লাহরই ইবাদত করো এবং অন্তরভুক্ত হও শোকর গুজারদের।’

সমকালীন বাংলা

অতএব তুমি আল্লাহরই‌ ইবাদত কর এবং কৃতজ্ঞ হও।

বাংলা উচ্চারণ

বালিল্লা-হা ফা'বুদ্ অকুঁম্ মিনাশ্ শা-কিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আল্লাহকে তাঁর যথার্থ মর্যাদা দেয়না। কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর মুষ্টিতে, আর মহাকাশ থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে, তিনি অতীব পবিত্র ও মহান তারা যাদের শরিক করে তাদের থেকে।

সমকালীন বাংলা

উহারা যথোচিত সম্মান করে না। কিয়ামতের দিন সমস্তপৃথিবী থাকিবে তাঁহার হাতের মুষ্টিতে এবং আকাশমণ্ডলী থাকিবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁহার দক্ষিণ হস্তে। পবিত্র ও মহান তিনি, উহারা যাহাকে শরীক করে তিনি তাহার ঊর্ধ্বে।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-ক্বদারুল্লা-হা হাকক্বা ক্বদ্রিহী অল্আরদু জ্বামী'আন্ ক্বাব্দ্বোয়াতুহূ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি অস্সামা-ওয়া-তু মাত্ব্ওয়িয়্যা-তুম্ বিইয়ামীনিহ্ সুব্হা-নাহূ অতা'আ-লা-'আম্মা-ইয়ুশ্রিকূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে, সাথে সাথে আসমান ও জমিনে যারাই আছে সবাই মরে পড়ে যাবে। তবে যাদের (জীবিত রাখতে) চাইবেন, তাদের কথা ভিন্ন। তারপর শিংগায় আরেকটি ফুৎকার দেয়া হবে। তখন সাথে সাথে সবাই জীবিত হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে এবং তাকাতে থাকবে (অথবা, অপেক্ষা করতে থাকবে)।

সমকালীন বাংলা

এবং শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে, ফলে যাহাদেরকে ইচ্ছা করেন তাহারা ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সকলে মূর্ছিত হইয়া পড়িবে। অতঃপর আবার শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে, তৎক্ষণাৎ উহারা দণ্ডায়মান হইয়া তাকাইতে থাকিবে।

বাংলা উচ্চারণ

অনুফিখ ফিছ্ ছূরি ফাছোয়া'ইক্ব মান্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমান্ ফিল্ র্আদ্বি ইল্লা-মান্ শা-য়াল্লা-হ্ ছুম্মা নুফিখ ফীহি উখ্র-ফাইযা-হুম্ ক্বিয়া-মুইঁ ইয়ান্জুরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

পৃথিবী উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে তার প্রভুর নূরে। কিতাব (আমলের রেকর্ড) এনে হাজির করা হবে এবং নবীদের ও সাক্ষীদের এনে হাজির করা হবে। আর তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেয়া হবে হক ফায়সালা এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা।

সমকালীন বাংলা

বিশ্ব উহার প্রতিপালকের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হইবে, আমলনামা পেশ করা হইবে এবং নবীগণকে ও সাক্ষিগণকে উপস্থিত করা হইবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায়বিচার করা হইবে ও তাহাদের প্রতি জুলুম করা হইবে না।

বাংলা উচ্চারণ

অ আশ্রক্বতিল্ র্আদু বিনূরির্ ব্বিহা-অউদ্বি'আল্ কিতা-বূ অজ্বী-য়া বিন্নাবিয়্যীনা অশ্শুহাদা-য়ি অকুদ্বিয়া বাইনাহুম্ বিল্ হাকক্বি অহুম্ লা -ইয়ুজ্লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তার আমলের প্রতিদান দেয়া হবে পুরোপুরি। আর মানুষ যা করে তা তো তিনিই (আল্লাহ্ই) সর্বাধিক জানেন।

সমকালীন বাংলা

প্রত্যেকের কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেওয়া হইবে। উহারা যাহা করে সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।

বাংলা উচ্চারণ

অউফ্ফিয়াত্ কুল্লু নাফ্সিম্ মা-'আমিলাত্ অহুওয়া আ'লামু বিমা-ইয়াফ্'আলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(বিচার ফায়সালার পর) যারা কুফুরি করেছে (বলে প্রমাণিত হবে), তাদের দলে দলে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের অভিমুখে। যখন তারা সেখানে পৌঁছুবে, জাহান্নামের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং এর ব্যবস্থাপকরা তাদের জিজ্ঞেস করবে: ‘তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রসূলরা (আল্লাহর বার্তা বাহকরা) আসেননি? তারা কি তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেননি এবং তোমাদের সতর্ক করেননি যে, তোমাদেরকে একদিন এই দিনটির সম্মুখীন হতে হবে?’ তারা বলবে: ‘হাঁ, তাঁরা এসেছিলেন, কিন্তু আযাবের সিদ্ধান্ত কাফিরদের জন্যে অবধারিত হয়ে গেছে।

সমকালীন বাংলা

কাফিরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকাইয়া লইয়া যাওয়া হইবে। যখন উহারা জাহান্নামের নিকট উপস্থিত হইবে তখন ইহার প্রবেশদ্বারগুলি খুলিয়া দেওয়া হইবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা উহাদেরকে বলিবে, ‘তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য হইতে রাসূল আসে নাই যাহারা তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের আয়াত আবৃত্তি করিত, এবং এই দিনের সাক্ষাৎ সম্বন্ধে তোমাদেরকে সতর্ক করিত?’ উহারা বলিবে, ‘অবশ্যই আসিয়াছিল।’ বস্তুত কাফিরদের প্রতি শাস্তির কথা বাস্তবায়িত হইয়াছে।

বাংলা উচ্চারণ

অসীক্বল্লাযীনা কাফারূ য় ইলা-জ্বাহান্নামা যুমারা- হাত্তা য় ইযা-জ্বা-য়ূহা-ফুতিহাত্ আব্ওয়া বুহা-অক্ব-লা লাহুম্ খযানাতুহা য় আলাম্ ইয়াতিকুম্ রুসুলুম্ মিন্কুম্ ইয়াত্লূনা 'আলাইকুম্ আ-ইয়া-তি রব্বিকুম্ অইয়ুন্যিরূনাকুম্ লিক্ব-য়া ইয়াওমিকুম্ হা-যা- ক্ব-লূ বালা-অলা-কিন্ হাক্ব্ক্বত কালিমাতুল্ আযা-বি 'আলাল্ কা-ফিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলা হবে: ‘দাখিল হও জাহান্নামের দরজাসমূহ দিয়ে। চিরকাল তোমরা সেখানেই থাকবে। কতো যে নিকৃষ্ট অহংকারীদের আবাস।’

সমকালীন বাংলা

উহাদেরকে বলা হইবে, ‘জাহান্নামের দ্বারসমূহে প্রবেশ কর উহাতে স্থায়িভাবে অবস্থিতির জন্য। কত নিকৃষ্ট উদ্ধতদের আবাসস্থল!’

বাংলা উচ্চারণ

ক্বীলাদ্ খুলূ য় আব্ওয়া-বা জ্বাহান্নামা খা-লিদীনা ফীহা-ফাবিসা মাছ্ওয়াল্ মুতাকাব্বিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা তাদের প্রভুর অবাধ্য হওয়া থেকে আত্মরক্ষা করে জীবন যাপন করেছে, তাদের দলে দলে নিয়ে যাওয়া হবে জান্নাতের অভিমুখে। যখন তারা সেখানে পৌঁছুবে, খুলে দেয়া হবে জান্নাতের সব দরজা। সেখানকার ব্যবস্থাপকরা

সমকালীন বাংলা

যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে ভয় করিত তাহাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে লইয়া যাওয়া হইবে। যখন তাহারা জান্নাতের নিকট উপস্থিত হইবে ও ইহার দ্বারসমূহ খুলিয়া দেওয়া হইবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাহাদেরকে বলিবে, ‘তোমাদের প্রতি ‘সালাম’, তোমরা সুখী হও এবং জান্নাতে প্রবেশ কর স্থায়িভাবে অবস্থিতির জন্য।’

বাংলা উচ্চারণ

অসীক্বল্ লাযী নাত্ তাক্বও রব্বাহুম্ ইলাল্ জ্বান্নাতি যুমারা- হাত্তা য় ইযা-জ্বা-য়ুহা-অফুতিহাত্ আব্ওয়া-বুহা-অক্ব-লা লাহুম্ খাযানাতুহা-সালা-মুন্ 'আলাইকুম্ ত্বিব্তুম্ ফাদ্খুলূহা-খা-লিদীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলবে: ‘সমস্ত শুকরিয়া আল্লাহর, তিনি আমাদেরকে দেয়া ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন এবং আমাদেরকে ওয়ারিশ বানিয়েছেন এই পৃথিবীর। এখন জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা আমরা আবাস বানাবো। পুণ্যকর্মীদের পুরস্কার কতো যে উত্তম!’

সমকালীন বাংলা

তাহারা প্রবেশ করিয়া বলিবে, ‘প্রশংসা যিনি আমাদের প্রতি তাঁহার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করিয়াছেন এবং আমাদেরকে অধিকারী করিয়াছেন এই ভূমির; আমরা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা বসবাস করিব।’ সদাচারীদের পুরস্কার কত উত্তম!

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লুল্ হাম্দু লিল্লা-হিল্ লাযী ছদাক্বানা ওয়া'দাহূ অ আওরছানাল্ র্আদ্বোয়া নাতাবাওয়্যায়ু মিনাল্ জ্বান্নাতি হাইছু নাশা-য়ু ফানি'মা আজরুল্ 'আ-মিলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তুমি দেখতে পাবে, ফেরেশতারা আরশের চারপাশে বৃত্ত বানিয়ে ঘোষণা করছে তাদের প্রভুর প্রশংসার তসবিহ্। এভাবেই নিখাদ ন্যায্যভাবে ফায়সালা করে দেয়া হবে মানুষের মাঝে, আর ঘোষণা করা হবে: ‘সমস্ত প্রশংসা রাববুল আলামিনের।’

সমকালীন বাংলা

এবং তুমি ফিরিশ্তাদেরকে দেখিতে পাইবে যে, উহারা ‘আরশের চতুষ্পার্শ্বে ঘিরিয়া উহাদের প্রতিপালকের প্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতেছে। আর তাহাদের বিচার করা হইবে, বলা হবে সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর প্রাপ্য।

বাংলা উচ্চারণ

অ তারল্ মালা-য়িকাতা হা-ফ্ফীনা মিন্ হাওলিল্ 'র্আশি ইয়ুসাব্বিহূনা বিহাম্দি রব্বিহিম্ অকুদ্বিয়া বাইনাহুম্ বিল্ হাকক্বি অক্বীলাল্ হাম্দু লিল্লা-হি রব্বিল্ আ-লামীন্।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme