You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আন নহল (মৌমাছি)
Chapter 16, 128 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
সমকালীন বাংলা
Arabic, with marks
Arabic
Word by word
About this chapter
মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১২৮, রুকু সংখ্যা: ১৬
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-০৩আল্লাহ শিরক থেকে পবিত্র। তিনি তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা রসূল নিযুক্ত করেন।
০৪-২১মানুষ সৃষ্টি এবং মানুষের প্রতি আল্লাহর সীমাহীন অনুগ্রহ।
২২-৩৫অহংকারী লোকেরা ঈমান আনেনা। তারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। যালিমদের মৃত্যুকালীন এবং মৃত্যু পরবর্তীকালীন দুরবস্থা। আল্লাহভীরুদের নীতি এবং তাদের মৃত্যুকালীন ও মৃত্যু পরবর্তী সুন্দর অবস্থা।
৩৬-৪০আল্লাহ সব জাতির কাছে রসূল পাঠিয়েছেন। সব মানুষ হিদায়েতের পথে আসেনা।
৪১-৪২ইসলামের কারণে নিগৃহীত ও নির্যাতিতদের মহাপুরস্কার।
৪৩-৬৫কুরআনের ব্যাখ্যা দেয়ার দায়িত্ব রসূলের। ইসলাম ও নবীর প্রতি ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি সতর্কবাণী। আল্লাহর তাওহীদের যুক্তি। সকল মতবিরোধের সমাধান আল কুরআন।
৬৬-৮৩মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের বিবরণ। শিরকের অসারতা। মানুষের কাছে সত্যের দাওয়াত পৌঁছে দেয়া নবীর দায়িত্ব।
৮৪-৮৯প্রত্যাখ্যানকারীদের ও মুশরিকদের পরকালীন দুরবস্থা। কুরআনে প্রতিটি বিষয়ের বর্ণনা ও নির্দেশিকা রয়েছে।
৯০-৯৬ মানুষের জন্য ন্যায় ও সঠিক নীতিমালা।
৯৭উত্তম আমল সুন্দর জীবনের গ্যারান্টি।
৯৮-১১১কুরআন পাঠের সূচনায় শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ। কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য। অবিশ্বাসীদের জন্য দুঃসংবাদ। ইসলামের কারণে নির্যাতিতদের জন্য সুসংবাদ।
১১২-১১৩আল্লাহর অনুগ্রহের অকৃতজ্ঞতা ও রসূলের আদর্শ প্রত্যাখ্যানের পরিণতি।
১১৪-১১৯হালাল ও হারামের বিধান।
১২০-১২৪ইবরাহিমের আনুগত্যের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি। মুহাম্মদ সা. এর প্রতি ইবরাহিমের আদর্শ অনুসরণের নির্দেশ।
১২৫-১২৮আল্লাহর পথে দাওয়াত দানের পন্থা।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর নির্দেশ আসবেই, সুতরাং তোমরা তাড়াহুড়া করোনা। তিনি অবশ্যি পবিত্র এবং তারা তাঁর সাথে যাদের শরিক করে তিনি তাদের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে।
সমকালীন বাংলা
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; আদেশ আসিবেই; সুতরাং উহা ত্বরান্নিত করিতে চাহিও না। তিনি মহিমান্নিত এবং উহারা যাহাকে শরীক করে তিনি তাহার ঊর্ধ্বে।
তাঁর বান্দাদের যাদেরকে চান, তাদের প্রতি ফেরেশতা এবং রূহকে (জিবরাইলকে) পাঠান এই আদেশসহ: তোমরা সতর্ক করো যে, নিশ্চয়ই আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই, সুতরাং তোমরা আমাকে ভয় করো।
সমকালীন বাংলা
তিনি তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহার প্রতি ইচ্ছা স্বীয় নির্দেশে ওহীসহ ফিরিশ্তা প্রেরণ করেন এই বলিয়া যে, তোমরা সতর্ক কর, নিশ্চয়ই আমি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই; সুতরাং আমাকে ভয় কর।
তিনিই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করে দিয়েছেন রাত আর দিনকে এবং সূর্য আর চাঁদকে। নক্ষত্ররাজিও অধীন হয়েছে তাঁরই নির্দেশে। এতে নিদর্শন রয়েছে আকল খাটানো লোকদের জন্যে।
সমকালীন বাংলা
তিনিই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করিয়াছেন রজনী, দিবস, সূর্য এবং চন্দ্রকে; আর নক্ষত্ররাজিও অধীন হইয়াছে তাঁহারই নির্দেশে। অবশ্যই ইহাতে বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য রহিয়াছে নিশ্চিত নিদর্শন -
তিনি সমুদ্রকেও তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে করে তোমরা তা থেকে আহরণ করতে পারো তাজা গোশত (মাছ) এবং কুড়িয়ে আনতে পারো বিভিন্ন রকম রত্ন, যা তোমরা তোমাদের ভূষণ হিসেবে পরে থাকো। তোমরা দেখতে পাচ্ছো, তার বুক চিরে চলাচল করে নৌযান, তা এজন্যে যেনো তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো এবং তাঁর শোকর আদায় করতে পারো।
সমকালীন বাংলা
তিনিই সমুদ্রকে অধীন করিয়াছেন, যাহাতে তোমরা উহা হইতে তাজা মৎস্য আহার করিতে পার এবং যাহাতে উহা হইতে আহরণ করিতে পার রত্নাবলী, যাহা তোমরা ভূষণরূপে পরিধান কর; এবং তোমরা দেখিতে পাও, উহার বুক চিরিয়া নৌযান চলাচল করে এবং উহা এইজন্য যে, তোমরা যেন তাঁহার অনুগ্রহ সন্ধান করিতে পার এবং তোমরা যেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর;
আর তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পাহাড় - পর্বত স্থাপন করে দিয়েছেন যাতে তা তোমাদের নিয়ে কাঁপতে না থাকে। তিনিই জারি করে দিয়েছেন নদ - নদী এবং চালু করে দিয়েছেন চলাচলের পথ,যাতে করে তোমরা সঠিকভাবেপৌঁছুতে পারো গন্তব্যে।
সমকালীন বাংলা
এবং তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করিয়াছেন, যাহাতে পৃথিবী তোমাদেরকে লইয়া আন্দোলিত না হয় এবং স্থাপন করিয়াছেন নদ - নদী ও পথ, যাহাতে তোমরা তোমাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছিতে পার;
ফলে কিয়ামতের দিন তারা বহন করবে তাদের পাপের ভার পূর্ণমাত্রায় এবং অজ্ঞতা নিয়ে যাদের বিপথগামী করেছিল তাদের পাপের বোঝাও। তারা যা বহন করবে, তা কতো যে নিকৃষ্ট!
সমকালীন বাংলা
ফলে কিয়ামত দিবসে উহারা বহন করিবে উহাদের পাপভার পূর্ণ মাত্রায় এবং পাপভার তাহাদেরও যাহাদেরকে উহারা অজ্ঞতাহেতু বিভ্রান্ত করিয়াছে। দেখ, উহারা যাহা বহন করিবে তাহা কত নিকৃষ্ট!
তাদের আগেকার লোকরাও চক্রান্ত করেছিল, ফলে তাদের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিলেন এবং ইমারতের ছাদ ধ্বসে পড়েছিল তাদের উপর। আর তাদের উপর আযাব এসে পড়েছিল এমন দিক থেকে, যা তারা টেরও পায়নি।
সমকালীন বাংলা
উহাদের পূর্ববর্তীরাও চক্রান্ত করিয়াছিল; উহাদের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করিয়াছিলেন; ফলে ইমারতের ছাদ উহাদের উপর ধসিয়া পড়িল এবং উহাদের প্রতি শাস্তি আসিল এমন দিক হইতে যাহা ছিল উহাদের ধারণার অতীত।
এর পরে কিয়ামতের দিন তিনি তাদের লাঞ্ছিত করবেন এবং তাদের জিজ্ঞেস করবেন, ‘কোথায় (তোমাদের মনগড়া) আমার সেইসব শরিকদাররা, যাদের ব্যাপারে তোমরা বিতর্ক করতে?’ যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছিল, তারা বলবে: আজকের অপমান আর অকল্যাণ কাফিরদের জন্যে,
সমকালীন বাংলা
পরে কিয়ামতের দিন তিনি উহাদেরকে লাঞ্ছিত করিবেন এবং তিনি বলিবেন, ‘কোথায় আমার সেই সমস্ত শরীক যাহাদের সম্বন্ধে তোমরা বিতণ্ডা করিতে?’ যাহাদেরকে জ্ঞান দান করা হইয়াছিল তাহারা বলিবে, ‘আজ লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল কাফিরদের - ’
যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু ঘটায় নিজেদের প্রতি যুলুম করতে থাকা অবস্থায়। তখন তারা আত্মসমর্পণ করে দিয়ে বলে: ‘আমরা কোনো মন্দ কাজ করতাম না।’ হ্যাঁ, ভালো ভাবেই জানেন তোমরা কী করতে?’
সমকালীন বাংলা
যাহাদের মৃত্যু ঘটায় ফিরিশ্তাগণ উহারা নিজেদের প্রতি জুলুম করিতে থাকা অবস্থায়; অতঃপর উহারা আত্মসর্মপণ করিয়া বলিবে, ‘আমরা কোন মন্দ কর্ম করিতাম না।’ এবং নিশ্চই তোমরা যাহা করিতে সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।
যারা তাকওয়া অবলম্বন করতো তাদের বলা হবে: ‘তোমাদের প্রভু কী নাযিল করেছিলেন?’ তারা বলবে: ‘মহাকল্যাণ।’ যারা এই দুনিয়ায় ইহসান করে তাদের জন্যে রয়েছে হাসানা (কল্যাণ) আর তাদের জন্যে আখিরাতের আবাস আরো উত্তম। মুত্তাকিদের বাসস্থান কতো যে চমৎকার!
সমকালীন বাংলা
এবং যাহারা ছিল তাহাদেরকে বলা হইবে, ‘তোমাদের প্রতিপালক কী অবতীর্ণ করিয়াছিলেন?’ তাহারা বলিবে, ‘মহাকল্যাণ’। যাহারা সৎকর্ম করে তাহাদের জন্য আছে এই দুনিয়ায় মঙ্গল এবং আখিরাতের আবাস আরও উৎকৃষ্ট এবং মুত্তাকীদের আবাসস্থল কত উত্তম! -
তাহলো চিরস্থায়ী জান্নাত, সেখানে তারা দাখিল হবে। তার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। সেখানে তাদের জন্যে থাকবে যা তারা চাইবে। এভাবেই দিয়ে থাকেন মুত্তাকিদের পুরস্কার।
সমকালীন বাংলা
উহা স্থায়ী জান্নাত যাহাতে তাহারা প্রবেশ করিবে; উহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; তাহারা যাহা কিছু কামনা করিবে উহাতে তাহাদের জন্য তাহাই থাকিবে। এইভাবেই পুরস্কৃত করেন মুত্তাকীদেরকে,
তারা (কাফিররা) কি তাদের কাছে ফেরেশতা আসার অপেক্ষায় রয়েছে, নাকি তাদের প্রভুর নির্দেশ আসার অপেক্ষায়? তাদের আগেকার লোকেরাও এ রকমই করতো। তাদের প্রতি যুলুম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল।
সমকালীন বাংলা
উহারা শুধু প্রতীক্ষা করে উহাদের নিকট ফিরিশ্তা আগমনের অথবা তোমার প্রতিপালকের শাস্তি আগমনের। উহাদের পূর্ববর্তীরা এইরূপই করিত। উহাদের প্রতি কোন জুলুম করেন নাই, কিন্তু উহারাই নিজেদের প্রতি জুলুম করিত।
যারা শিরক করে তারা বলে: ‘ ইচ্ছা করলে আমরা তাঁর ছাড়া আর কারো ইবাদত করতাম না, আমরাও না, আমাদের পূর্ব পুরুষরাও না এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া আমরা কোনো কিছুই হারাম করতাম না।’ তাদের আগেকার লোকেরা এ রকমই (বাহানাবাজি) করতো। পরিষ্কারভাবে বার্তা পৌঁছে দেয়া ছাড়া রসূলদের উপর আর কোনো দায়িত্ব আছে কি?
সমকালীন বাংলা
মুশরিকরা বলিবে, ইচ্ছা করিলে আমাদের পিতৃপুরুষেরা ও আমরা তাঁহাকে ব্যতীত অপর কোন কিছুর ‘ইবাদত করিতাম না এবং তাঁহার অনুজ্ঞা ব্যতীত আমরা কোন কিছু নিষিদ্ধ করিতাম না।’ উহাদের পূর্ববর্তীরা এইরূপই করিত। রাসূলদের কর্তব্য তো কেবল সুস্পষ্ট বাণী পৌঁছাইয়া দেওয়া।
وقال الذين أشركوا لو شاء الله ما عبدنا من دونه من شيء نحن ولا آباؤنا ولا حرمنا من دونه من شيء ۚ كذلك فعل الذين من قبلهم ۚ فهل على الرسل إلا البلاغ المبين
আমরা প্রতিটি জাতির কাছে রসূল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দেয়ার জন্যে যে: ‘তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত (আনুগত্য, দাসত্ব, প্রার্থনা, উপাসনা) করো এবং তাগুতকে ত্যাগ করো।’ ফলে তাদের কিছু লোককে হিদায়াত করেছেন আর কিছু লোকের জন্যে সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছিল গোমরাহি। সুতরাং পৃথিবীতে ভ্রমণ করে দেখো, সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের পরিণতি কী হয়েছিল?
সমকালীন বাংলা
আল্লাহর ‘ইবাদত করিবার ও তাগূতকে বর্জন করিবার নির্দেশ দিবার জন্য আমি তো প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠাইয়াছি। অতঃপর উহাদের কতককে সৎপথে পরিচালিত করেন এবং উহাদের কতকের উপর পথভ্রান্তিসাব্যস্তহইয়াছিল; সুতরাং পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং দেখ, যাহারা সত্যকে মিথ্যা বলিয়াছে তাহাদের পরিণাম কী হইয়াছে !
ولقد بعثنا في كل أمة رسولا أن اعبدوا الله واجتنبوا الطاغوت ۖ فمنهم من هدى الله ومنهم من حقت عليه الضلالة ۚ فسيروا في الأرض فانظروا كيف كان عاقبة المكذبين
তারা জোর দিয়ে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলে: ‘যারা মরে যায় তাদের পুনরুত্থিত করবেননা।’ হ্যাঁ, অবশ্যি তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করবেন। তবে অধিকাংশ লোকই তা জানেনা।
সমকালীন বাংলা
উহারা দৃঢ়তার সঙ্গে শপথ করিয়া বলে, ‘যাহার মৃত্যু হয় তাহাকে পুনর্জীবিত করিবেন না।’ কেন নয়, তিনি তাঁ হার প্রতিশ্রুতি পণূর্ করিবেনই। কিন্তুঅধিকাংশ মানষু ইহা অবগত নহে -
(তিনি তাদের পুনরুত্থিত করবেন) যে বিষয়ে তারা মতানৈক্য করতো তা তাদেরকে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেয়ার জন্যে, এবং কাফিররাও যেনো জানতে পারে যে, তারা ছিলো মিথ্যাবাদী।
সমকালীন বাংলা
তিনি পুনরুত্থিত করিবেন যে বিষয়ে উহাদের মতানৈক্য ছিল তাহা উহাদেরকে স্পষ্টভাবে দেখাইবার জন্য এবং যাহাতে কাফিররা জানিতে পারে যে, উহারাই ছিল মিথ্যাবাদী।
যারা অত্যাচারিত হবার পর হিজরত করেছে, আমরা অবশ্যি দুনিয়ায় তাদের উত্তম আবাস দেবো, আর আখিরাতের পুরস্কার তো অনেক বড়। হায়, তারা যদি এটা জানতো,
সমকালীন বাংলা
যাহারা অত্যাচারিত হইবার পর পথে হিজরত করিয়াছে, আমি অবশ্যই তাহাদেরকে দুনিয়ায় উত্তম আবাস দিব; এবং আখিরাতের পুরস্কারই তো শ্রেষ্ঠ। হায়, উহারা যদি তাহা জানিত!
তাদেরকে আমরা পাঠিয়েছিলাম স্পষ্ট প্রমাণ এবং গ্রন্থাবলি দিয়ে। আর তোমার প্রতি আমরা নাযিল করেছি ‘আয যিকির’ (আল - কুরআন) মানুষকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্যে যা তাদের জন্যে নাযিল করা হয়েছে এবং তারা যেনো চিন্তা - ভাবনা করতে পারে।
সমকালীন বাংলা
প্রেরণ করিয়াছিলাম স্পষ্টভাবে প্রমাণাদি ও গ্রন্থাবলীসহ এবং তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি, মানুষকে সুস্পষ্ট বুঝাইয়া দিবার জন্য যাহা তাহাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হইয়াছিল, যাহাতে উহারা চিন্তা করে।
যারা অন্যায় কাজের ষড়যন্ত্র করে তারা কি নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে যে, তাদের নিয়ে জমিনকে তলিয়ে দেবেন না, কিংবা এমন জায়গা থেকে তাদের উপর আযাব এসে পড়বেনা যার চিন্তাও তারা করেনি?
সমকালীন বাংলা
যাহারা কুকর্মের ষড়যন্ত্র করে তাহারা কি এ বিষয়ে নির্ভয় হইয়াছে যে, উহাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করিবেন না অথবা এমন দিক হইতে শাস্তিআসিবে না, যাহা উহাদের ধারণাতীত?
আর আমরা তাদের যে রিযিক দিয়েছি তারা তার একাংশ নির্ধারণ করে তাদের (বাতিল উপাস্যদের) জন্যে, যাদের ব্যাপারে তারা কিছুই জানেনা। আল্লাহর কসম, তোমরা যে মিথ্যা রচনা করছো সে সম্পর্কে অবশ্যি তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।
সমকালীন বাংলা
আমি উহাদেরকে যে রিযিক দান করি উহারা তাহার এক অংশ নির্ধারণ করে তাহাদের জন্য যাহাদের সম্বন্ধে উহারা কিছুই জানে না। শপথ আল্লাহর তোমরা যে মিথ্যা উদ্ভাবন কর সেই সম্বন্ধে তোমাদেরকে অবশ্যই প্রশ্ন করা হইবে।
তাকে যে সংবাদ দেয়া হয় তার গ্লানিতে সে সমাজ থেকে আত্মগোপন করে। সে ভাবতে থাকে, গ্লানি সত্ত্বেও সে কি তাকে রেখে দেবে, নাকি মাটিতে পুতে ফেলবে? সাবধান, তোমাদের সিদ্ধান্ত চরম নিকৃষ্ট।
সমকালীন বাংলা
উহাকে যে সংবাদ দেওয়া হয়, তাহার হেতু সে নিজ সম্প্রদায় হইতে আত্মগোপন করে। সে চিন্তা করে হীনতা সত্ত্বেও সে উহাকে রাখিয়া দিবে, না মাটিতে পুঁতিয়া দিবে! সাবধান! উহারা যাহা সিদ্ধান্ত নেয় তাহা কত নিকৃষ্ট।
যদি মানুষকে তার যুলুমের জন্যে পাকড়াও করতেন, তাহলে পৃথিবীর বুকে কোনো জীবকেই রেহাই দিতেন না। কিন্তু তিনি একটি নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত তাদের অবকাশ দিয়ে থাকেন। অত:পর যখন তাদের নির্ধারিত সময়টি এসে উপস্থিত হয়, তখন তারা কিছুক্ষণও আগপাছ করতে পারে না।
সমকালীন বাংলা
যদি মানুষকে তাহাদের সীমালংঘনের জন্য শাস্তি দিতেন তবে ভূপৃষ্ঠে কোন জীব - জন্তুকেই রেহাই দিতেন না; কিন্তু তিনি এক নিদির্ষ্ট কাল পর্যন্ত তাহাদেরকে অবকাশ দিয়া থাকেন। অতঃপর যখন তাহাদের সময় আসে তখন তাহারা মুহূর্তকাল বিলম্ব অথবা ত্বরা করিতে পারে না।
আর তারা আল্লাহর প্রতি তাই আরোপ করে, যা নিজেদের জন্যে অপছন্দ করে। তাদের যবান মিথ্যা কথা বলে যে: ‘কল্যাণ তাদেরই জন্যে।’ কোনো সন্দেহ নেই যে, তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নাম এবং সবার আগেই তাদেরকে নিক্ষেপ করা হবে তাতে।
সমকালীন বাংলা
যাহা তাহারা অপছন্দকরে তাহাই তাহারা আল্লাহর প্রতি আরোপ করে। তাহাদের জিহ্বা মিথ্যা বর্ণনা করে যে, মঙ্গল তাহাদেরই জন্য। নিঃসন্দেহে তাহাদের জন্য আছে দোযখ এবং তাহাদেরকেই সর্বাগ্রে উহাতে নিক্ষেপ করা হইবে।
আল্লাহর কসম! তোমার আগেও আমরা বহু জাতির কাছে রসূল পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু শয়তান তাদের কার্যকলাপ তাদের কাছে চাকচিক্যময় করে রেখেছিল। সে - ই আজো তাদের অলি। আর তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
সমকালীন বাংলা
শপথ ! আমি তোমার পূর্বেও বহু জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করিয়াছি; কিন্তু শয়তান ঐসব জাতির কার্যকলাপ উহাদের দৃষ্টিতে শোভন করিয়াছিল; সুতরাং সে - ই আজ উহাদের অভিভাবক এবং উহাদেরই জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি।
আমরা তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যারা এ বিষয়ে মতভেদ করে তাদের সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্যে। তাছাড়া এ কিতাব মুমিনদের জন্যে জীবন যাপনের নির্দেশিকা এবং একটি রহমত।
সমকালীন বাংলা
আমি তো তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছি যাহারা এ বিষয়ে মতভেদ করে তাহাদেরকে সুস্পষ্টভাবে বুঝাইয়া দিবার জন্য এবং মু’মিনদের জন্য পথনির্দেশ ও দয়াস্বরূপ।
আল্লাহই নাযিল করেন আসমান থেকে পানি, অত:পর তা দিয়ে পুনর্জীবিত করেন জমিনকে মরে (শুকিয়ে) যাবার পর। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন সেইসব লোকদের জন্যে যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শুনে।
সমকালীন বাংলা
আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন এবং তদ্দারা তিনি ভূমিকে উহার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। অবশ্যই ইহাতে নিদর্শন আছে, যে সম্প্রদায় কথা শুনে তাহাদের জন্য।
গবাদি পশুর মধ্যেও তোমাদের জন্যে রয়েছে একটি শিক্ষা। তাদের পেটের গোবর ও রক্তের মধ্য থেকে আমরা তোমাদের পান করাই খাঁটি দুধ, যা পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু।
সমকালীন বাংলা
অবশ্যই গবাদিপশুর মধ্যে তোমাদের জন্য শিক্ষা রহিয়াছে। উহাদের উদরস্থিত গোবর ও রক্তের মধ্য হইতে তোমাদেরকে পান করাই বিশুদ্ধ দুগ্ধ, যাহা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।
তারপর প্রত্যেক ফল (ফুল) থেকে কিছু কিছু খাও এবং তোমার প্রভুর প্রদর্শিত সহজ পথ অনুসরণ করো।’’ এভাবে তার পেট থেকে বের হয় বিভিন্ন বর্ণের পানীয় (মধু), যাতে মানুষের জন্যে রয়েছে নিরাময়। অবশ্যি চিন্তাশীল লোকদের জন্যে এতে রয়েছে একটি নিদর্শন।
সমকালীন বাংলা
‘ইহার পর প্রত্যেক ফল হইতে কিছু কিছু আহার কর, অতঃপর তোমার প্রতিপালকের সহজ পথ অনুসরণ কর।’ উহার উদর হইতে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়; যাহাতে মানুষের জন্য রহিয়াছে আরোগ্য। অবশ্যই ইহাতে রহিয়াছে নিদর্শন চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।
আল্লাহই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনিই তোমাদের ওফাত ঘটাবেন। তোমাদের কাউকেও কাউকেও উপনীত করা হবে জরাজীর্ণ বার্ধক্যে, যাতে করে তারা যা কিছু জানতো তা অজানা হয়ে যায়। নিশ্চয়ই জ্ঞানী এবং সক্ষম।
সমকালীন বাংলা
তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন; অতঃপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাইবেন এবং তোমাদের মধ্যে কাহাকেও কাহাকেও উপনীত করা হইবে নিকৃষ্টতম বয়সে; ফলে উহারা যাহা কিছু জানিত সে সমন্ধে উহারা স্বজ্ঞানে থাকিবে না। নিশ্চই সর্বজ্ঞ সর্ব শক্তিমান।
জীবিকার দিক থেকে তোমাদের কাউকেও কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে তারা তাদের অধীনস্থদের এতোটা দেয়না, যাতে তারা এ ক্ষেত্রে তাদের সমান হয়ে যায়। তবে কি তারা আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করে?
সমকালীন বাংলা
জীবনোপকরণে তোমাদের কাহাকেও কাহারও উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছেন। যাহাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হইয়াছে তাহারা তাহাদের অধীনস্থ দাস - দাসীদেরকে নিজেদের জীবনোপকরণ হইতে এমন কিছু দেয় না যাহাতে উহারা এ বিষয়ে তাহাদের সমান হইয়া যায়। তবে কি উহারা আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বিকার করে?
সৃষ্টি করেছেন তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্যে জুড়ি এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন ছেলে - মেয়ে ও নাতি - নাতনি। তাছাড়া তিনি তোমাদের দিয়েছেন জীবিকার উপকরণসমূহ। তারপরও কি তোমরা মিথ্যার প্রতি ঈমান আনবে, আর আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি করবে কুফুরি?
সমকালীন বাংলা
এবং তোমাদের হইতেই তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করিয়াছেন এবং তোমাদের যুগল হইতে তোমাদের জন্য পুত্র - পৌত্রাদি সৃষ্টি করিয়াছেন এবং তোমাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করিয়াছেন। তবুও কি উহারা মিথ্যায় বিশ্বাস করিবে এবং উহারা কি আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে? -
উপমা দিচ্ছেন অপরের অধীনস্থ এক দাসের, যে কোনো কিছুর উপর সামর্থ রাখেনা। আরো উপমা দিচ্ছেন এমন এক ব্যক্তির যাকে তিনি নিজ থেকে উত্তম রিযিক দিয়েছেন এবং সে তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে, এই দুই ব্যক্তি কি সমতুল্য? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, বরং তাদের অধিকাংশই জানেনা।
সমকালীন বাংলা
উপমা দিতেছেন অপরের অধিকারভুক্ত এক দাসের, যে কোন কিছুর উপর শক্তি রাখে না এবং এমন এক ব্যক্তির যাহাকে তিনি নিজ হইতে উত্তম রিযিক দান করিয়াছেন এবং সে উহা হইতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে; উহারা কি একে অপরের সমান? সকল প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য অথচ উহাদের অধিকাংশই জানে না।
আরো উপমা দিচ্ছেন দুই ব্যক্তির, তাদের একজন বোবা, সে কোনো কিছুরই সামর্থ রাখেনা এবং সে তার মনিবের বোঝা স্বরূপ। তাকে যেখানেই পাঠানো হোক না কেন, ভালো কিছু করে আসতে পারেনা, সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য, যে ন্যায়ের আদেশ করে এবং সিরাতুল মুসতাকিমের উপর চলে?
সমকালীন বাংলা
আরও উপমা দিতেছেন দুই ব্যক্তির : উহাদের একজন মূক, কোন কিছুরই শক্তি রাখে না এবং সে তাহার প্রভুর ভারস্বরূপ; তাহাকে যেখানেই পাঠান হউক না কেন সে ভাল কিছুই করিয়া আসিতে পারে না ; সে কি সমান হইবে ঐ ব্যক্তির, যে ন্যায়ের নির্দেশ দেয় এবং যে আছে সরল পথে?
মহাকাশ এবং পৃথিবীর গায়েবের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই রয়েছে। কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবার ব্যাপারটা তো চোখের পলকের মতো, বরং তার চাইতেও নিকটতর। সব বিষয়ের উপর সর্বশক্তিমান।
সমকালীন বাংলা
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর বিষয়ের জ্ঞান এবং কিয়ামতের ব্যাপার তো চক্ষু পলকের ন্যায় বরং উহা অপেক্ষোয় স্বত্বর। নিশ্চই সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।
তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে আল্লাহই তোমাদের বের করে এনেছেন। তখন তোমরা কিছুই জানতে না। আর তিনিই তোমাদের দিয়েছেন শ্রবণ শক্তি, দৃষ্টি শক্তি এবং হৃদয়, যাতে করে তোমরা (তাঁর) শোকর আদায় করো।
সমকালীন বাংলা
এবং তোমাদেরকে বাহির করিয়াছেন তোমাদের মাতৃগর্ভ হইতে এমন অবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানিতে না। তিনি তোমাদেরকে দিয়াছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং হৃদয়, যাহাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
তারা কি শূন্য আকাশে নিয়ন্ত্রণাধীন পাখিদের প্রতি লক্ষ্য করে দেখেনি? ছাড়া কেউ তাদের ধরে রাখেনা। এতে অনেকগুলো নিদর্শন রয়েছে মুমিনদের জন্যে।
সমকালীন বাংলা
তাহারা কি লক্ষ্য করে না আকাশের শূন্যগর্ভে নিয়ন্ত্রণাধীন বিহংগের প্রতি? ব্যতীত অন্য কেহই সেইগুলিকে স্থির রাখে না। অবশ্যই ইহাতে নিদর্শন রহিয়াছে সম্প্রদায়ের জন্য।
আল্লাহই তোমাদের জন্যে তোমাদের ঘরকে শান্তির আবাস বানিয়েছেন, তিনিই তোমাদের জন্যে পশুর চামড়া দিয়ে তাবুর ব্যবস্থা করেন, সেগুলোকে তোমরা হালকা মনে করো ভ্রমণকালে এবং অবস্থানকালে। তিনিই তোমাদের জন্যে ব্যবস্থা করেন সেগুলোর পশম, লোম ও কেশ থেকে স্বল্প কালের গৃহসামগ্রী এবং ব্যবহারের উপরকণ।
সমকালীন বাংলা
এবং তোমাদের গৃহকে করেন তোমাদের আবাসস্থল এবং তিনি তোমাদের জন্য পশুচর্মের তাঁবুর ব্যবস্থা করেন, তোমরা উহাকে সহজ মনে কর ভ্রমণকালে এবং অবস্থানকালে। এবং তিনি তোমাদের জন্য ব্যবস্থা করেন উহাদের পশম, লোম ও কেশ হইতে কিছু কালের গৃহসামগ্রী ও ব্যবহার - উপকরণ।
আর যা কিছু সৃষ্টি করেন সেগুলো থেকে তিনি তোমাদের জন্যে ছায়ার ব্যবস্থা করেন, তিনি তোমাদের জন্যে পাহাড়ে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন, তিনি তোমাদের জন্যে ব্যবস্থা করেন পরিধেয় বস্ত্রের যা তোমাদের রক্ষা করে তাপ থেকে এবং তিনি তোমাদের জন্যে ব্যবস্থা করেন বর্মের যা তোমাদের রক্ষা করে যুদ্ধে। এভাবেই তিনি তোমাদের জন্যে তাঁর নিয়ামত পূর্ণ করেন যাতে করে তোমরা তাঁর প্রতি বিনত থাকো।
সমকালীন বাংলা
এবং যাহা কিছু সৃষ্টি করিয়াছেন তাহা হইতে তিনি তোমাদের জন্য ছায়ার ব্যবস্থা করেন এবং তোমাদের জন্য পাহাড়ে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন এবং তোমাদের জন্য ব্যবস্থা করেন পরিধেয় বস্ত্রের; উহা তোমাদেরকে তাপ হইতে রক্ষা করে এবং তিনি ব্যবস্থা করেন তোমাদের জন্য বর্মের, উহা তোমাদেরকে যুদ্ধে রক্ষা করে। এইভাবে তিনি তোমাদের প্রতি তাঁহার অনুগ্রহ পূর্ণ করেন যাহাতে তোমরা আত্মসমর্পণ কর।
সেদিন তাদের কী অবস্থা হবে, যেদিন আমরা প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবো, তারপর কাফিরদেরকে (কৈফিয়ত দেয়ার) কোনো অনুমতি দেয়া হবেনা এবং তাদের কোনো ওযরও গ্রহণ করা হবেনা।
সমকালীন বাংলা
যেদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায় হইতে এক একজন সাক্ষী উত্থিত করিব সেদিন কাফিরদেরকে অনুমতি দেওয়া হইবে না এবং উহাদের কোন ওযরও গৃহীত হইবে না।
যারা আল্লাহর সাথে শরিকদার বানিয়েছিল, তারা যখন তাদের বানানো শরিকদারদের দেখবে, তখন বলবে: ‘প্রভু! এরাই আমাদের বানানো শরিকদার, তোমার পরিবর্তে আমরা এদেরকেই ডাকতাম।’ উত্তরে তারা বলবে: ‘অবশ্যি তোমরা মিথ্যাবাদী।’
সমকালীন বাংলা
মুশরিকরা যাহাদেরকে শরীক করিয়াছিল, তাহাদেরকে যখন দেখিবে তখন তাহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! ইহারাই তাহারা, যাহাদেরকে আমরা তোমার শরীক করিয়াছিলাম, যাহাদেরকে আমরা আহ্বান করিতাম তোমার পরিবর্তে; অতঃপর তদুত্তরে উহারা বলিবে, ‘তোমরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।’
সেদিন আমরা প্রত্যেক জাতি থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী দাঁড় করাবো আর তোমাকে নিয়ে আসবো তাদের সবার বিষয়ে সাক্ষী হিসেবে। আর আমরা নাযিল করেছি তোমার প্রতি আল - কিতাব প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা সম্বলিত, আর সেটি হলো একটি পথ নির্দেশ, একটি অনুকম্পা এবং একটি সুসংবাদ মুসলিমদের জন্যে।
সমকালীন বাংলা
সেই দিন আমি উত্থিত করিব প্রত্যেক সম্প্রদায়ে তাহাদেরই মধ্য হইতে তাহাদের বিষয়ে এক একজন সাক্ষী এবং তোমাকে আমি আনিব সাক্ষীরূপে ইহাদের বিষয়ে। আমি আত্মাসমপর্ণকারীদের জন্য প্রত্যেক বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, পথনির্দেশ, দয়া ও সুসংবাদস্বরূপ তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করিলাম।
নির্দেশ দিচ্ছেন আদল (ন্যায়বিচার) ও ইহসান (উপকার) করার, আত্মীয় - স্বজনকে দান করার। আর নিষেধ করছেন ফাহেশা কাজ, অন্যায় কাজ এবং সীমালংঘন থেকে। তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয় - স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি নিষেধ করেন অসৎকর্ম ও সীমালংঘন; তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন যাহাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।
তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করবে যখন পরস্পর অঙ্গীকার করো। তোমরা তোমাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করোনা আল্লাহকে জামিন বানিয়ে অঙ্গীকার মজবুত করার পর। তোমরা যা - ই করো না কেন তা জানেন।
সমকালীন বাংলা
তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করিও যখন পরস্পর অঙ্গীকার কর এবং তোমরা তোমাদের যামিন করিয়া শপথ দৃঢ় করিবার পর উহা ভঙ্গ করিও না। তোমরা যাহা কর নিশ্চয়ই তা জানেন।
তোমরা হয়োনা সেই নারীর মতো, যে মজবুত করে সূতা পাকানোর পর পাক খুলে সেগুলো নষ্ট করে দেয়। তোমরা তোমাদের শপথ পরস্পরকে ঠকানোর জন্যে ব্যবহার করে থাকো, যাতে করে একদল লোক অন্য দল থেকে অধিক লাভবান হয়। এর দ্বারা তোমাদের পরীক্ষা করেন। কিয়ামতের দিন তা স্পষ্টভাবে তোমাদের জন্যে প্রকাশ করে দেবেন, যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করতে।
সমকালীন বাংলা
তোমরা সেই নারীর মত হইও না, যে তাহার সূতা মযবুত করিয়া পাকাইবার পর উহার পাক খুলিয়া নষ্ট করিয়া দেয়। তোমাদের শপথ তোমরা পরস্পরকে প্রবঞ্চনা করিবার জন্য ব্যবহার করিয়া থাক, যাহাতে একদল অন্যদল অপেক্ষা অধিক লাভবান হও। তো ইহা দ্বারা কেবল তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন। কিয়ামতের দিন তাহা নিশ্চয়ই স্পষ্টভাবে প্রকাশ করিয়া দিবেন যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করিতে।
ولا تكونوا كالتي نقضت غزلها من بعد قوة أنكاثا تتخذون أيمانكم دخلا بينكم أن تكون أمة هي أربى من أمة ۚ إنما يبلوكم الله به ۚ وليبينن لكم يوم القيامة ما كنتم فيه تختلفون
চাইলে তিনি তোমাদের এক উম্মত বানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি যাকে চান বিপথগামী করেন এবং যাকে চান সঠিক পথ দেখান। তোমরা যা করছো সে বিষয়ে অবশ্যি তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।
সমকালীন বাংলা
ইচ্ছা করিলে তোমাদেরকে এক জাতি করিতে পারিতেন, কিন্তু তিনি যাহাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। তোমরা যাহা কর সে বিষয়ে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হইবে।
তোমরা পরস্পরকে ঠকানোর জন্যে তোমাদের শপথকে ব্যবহার করোনা, যদি তা করো, তবে পা অবিচল হবার পর তা পিছলে যাবে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করার কারণে শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করবে, আর তোমাদের জন্যে মহা আযাব তো রয়েছেই।
সমকালীন বাংলা
পরস্পর প্রবঞ্চনা করিবার জন্য তোমরা তোমাদের শপথকে ব্যবহার করিও না; করিলে পা স্থির হওয়ার পর পিছলাইয়া যাইবে এবং পথে বাধা দেওয়ার কারণে তোমরা শাস্তির আস্বাদ গ্রহণ করিবে; তোমাদের জন্য রহিয়াছে মহাশাস্তি।
তোমাদের কাছে যা আছে তা ফুরিয়ে যায় আর আল্লাহর কাছে যা আছে, তা অফুরন্ত। যারা সবর অবলম্বন করে আমরা তাদের আমলের চাইতেও শ্রেষ্ঠ পুরস্কার তাদের দান করবো (অথবা আমরা তাদের সর্বোত্তম আমলের ভিত্তিতে তাদের পুরস্কার দেবো।)
সমকালীন বাংলা
তোমাদের নিকট যাহা আছে তাহা নিঃশেষ হইবে এবং নিকট যাহা আছে তাহা স্থায়ী। যাহারা ধৈর্য ধারণ করে আমি নিশ্চয়ই তাহাদেরকে তাহারা যাহা করে তাহা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করিব।
আমরা যখন একটি আয়াতের বদলে আরেকটি আয়াত উপস্থিত করি, আর আল্লাহই অধিক জানেন তিনি কী নাযিল করেন, তখন তারা বলে: ‘তুমি তো একজন মিথ্যা রচনাকারী।’ বরং তাদেরই অধিকাংশ লোক জানেনা।
সমকালীন বাংলা
আমি যখন এক আয়াতের পরিবর্তে অন্য এক আয়াত উপস্থিত যাহা অবতীর্ণ করেন তাহা তিনিই ভাল জানেন, তখন তাহারা বলে, ‘তুমি তো কেবল মিথ্যা উদ্ভাবনকারী’; কিন্তু উহাদের অধিকাংশই জানে না।
তুমি বলো, তোমার প্রভুর কাছ থেকে তা (আল - কুরআন) সত্যসহ নাযিল করে রুহুল কুদুস (জিবরিল) ঈমানদারদের বিশ্বাসকে মজবুত করার জন্যে। তাছাড়া এটি একটি পথ নির্দেশ এবং সুসংবাদ মুসলিমদের জন্যে।
সমকালীন বাংলা
বল, ‘তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে রুহুল - কুদুস জিব্রাঈল সত্যসহ কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছে, যাহারা তাহাদেরকে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত করিবার জন্য এবং হিদায়াত ও সুসংবাদস্বরূপ মুসলিমদের জন্য।’
আমরা জানি, তারা (তোমার সম্পর্কে) বলে: ‘তাকে শিক্ষা দেয় তো একজন মানুষ।১’ তারা যার প্রতি একথা আরোপ করে সে তো একজন অনারব, অথচ এ কুরআন সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।
সমকালীন বাংলা
আমি তো জানি, তাহারা বলে, ‘তাহাকে শিক্ষা দেয় এক মানুষ।’ উহারা যাহার প্রতি ইহা আরোপ করে তাহার ভাষা তো আরবী নয়; কিন্তু কুরআনের ভাষা স্পষ্ট আরবী ভাষা।
যে কেউ ঈমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফুরি করবে এবং কুফুরির জন্যে তার হৃদয়কে উদার রাখবে, তাদের উপর আপতিত হবে আল্লাহর গজব এবং তাদের জন্যে রয়েছে বিরাট আযাব। তবে ঐ ব্যক্তি নয়, যাকে (কুফরির জন্যে) বাধ্য করা হয়েছে এবং যার হৃদয় ঈমানের উপর অটল।
সমকালীন বাংলা
কেহ তাহার ঈমান আনার পর অস্বীকার করিলে এবং কুফরীর জন্য হৃদয় উন্মুক্ত রাখিলে তাহার উপর আপতিত হইবে গযব এবং তাহার জন্য আছে মহাশাস্তি; তবে তাহার জন্য নয়, যাহাকে কুফরীর জন্য বাধ্য করা হয় কিন্তু তাহার চিত্ত ঈমানে অবিচলিত।
স্মরণ করো, সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে আসবে এবং প্রত্যেককেই তার কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা।
সমকালীন বাংলা
স্মরণ কর সেই দিনকে, যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি আত্মসমর্থনে যুক্তি উপস্থিত করিতে আসিবে এবং প্রত্যেককে তাহার কৃতকর্মের পূর্ণফল দেওয়া হইবে। এবং তাহাদের প্রতি জুলুম করা হইবে না।
উপমা দিচ্ছেন একটি জনপদের, যেটি ছিলো নিরাপদ নিশ্চিন্ত। সেখানে আসতো সবদিক থেকে প্রচুর জীবনোপকরণ। তারপর সেই জনপদ আল্লাহর প্রতি কুফুরি করলো, ফলে তাদের কর্মকান্ডের জন্যে তাদের আস্বাদন করান ক্ষুধা ও ভয়ের পোশাক।
সমকালীন বাংলা
দৃষ্টান্তদিতেছেন এক জনপদের যাহা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত, যেখানে আসিত সর্বদিক হইতে উহার প্রচুর জীবনোপকরণ; অতঃপর উহা অনুগ্রহ অস্বীকার করিল, ফলে তাহারা যাহা করিত তজ্জন্য তাহাদেরকে স্বাদ গ্রহণ করাইলেন ক্ষুধা ও ভীতির আচ্ছাদনের।
নিশ্চয়ই তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন মৃত প্রাণী, (প্রবাহিত) রক্ত, শুয়োরের মাংস এবং যা ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে জবাই করা হয়েছে তা। তবে কেউ যদি অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং সে যদি বিদ্রোহ কিংবা সীমালংঘন না করে কিছু খেয়ে নেয় (তার দোষ হবেনা), নিশ্চয়ই মহাক্ষমাশীল দয়াময়।
সমকালীন বাংলা
তো কেবল মৃত জন্তু, রক্ত, শূকর - মাংস এবং যাহা যবেহ্কালে পরিবর্তে অন্যের নাম লওয়া হইয়াছে তাহাই তোমাদের জন্য হারাম করিয়াছেন, কিন্তু কেহ অবাধ্য কিংবা সীমা লঙ্ঘনকারী না হইয়া অনোন্যপায় হইলে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
তোমাদের জবান মিথ্যারোপ করে বলে, এটা হালাল আর এটা হারাম, তোমরা এভাবে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করোনা। যারা মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করে তারা কখনো সফল হবেনা।
সমকালীন বাংলা
তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা আরোপ করে বলিয়া আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করিবার জন্য তোমরা বলিও না, ‘ইহা হালাল এবং উহা হারাম।’ নিশ্চয়ই যাহারা সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করিবে তাহারা হইবে না।
তাদের ভোগ বিলাস সামান্য ক’দিনের এবং তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
সমকালীন বাংলা
উহাদের সুখ - সম্ভোগ সামান্যই এবং উহাদের জন্য রহিয়াছে মর্মন্তুদ শাস্তি।
Arabic, with marks
مَتَاعٌ قَلِيلٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
Arabic
متاع قليل ولهم عذاب أليم
Word by word
مَتَٰعٌ قَلِيلٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
আবদুস শহীদ নাসিম
ইহুদিদের জন্যে আমরা সে সবই হারাম করেছিলাম, যা তোমার কাছে আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি। আমরা তাদের প্রতি কোনো যুলুম করিনি, বরং তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল।
সমকালীন বাংলা
ইয়াহূদীদের জন্য আমি তো কেবল তাহাই হারাম করিয়াছিলাম যাহা তোমার নিকট আমি পূর্বে উল্ল্যেখ করিয়াছি এবং আমি উহাদের উপর কোন জুলুম করি নাই, কিন্তু উহারাই জুলুম করিত নিজেদের প্রতি।
শনিবার পালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল তাদের জন্যে, যারা এ নিয়ে মতভেদ করতো। তারা যে বিষয়ে মতভেদ করতো তোমার প্রভু অবশ্যি সে বিষয়ে কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন।
সমকালীন বাংলা
শনিবার পালন তো কেবল তাহাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হইয়াছিল, যাহারা এ সম্বন্ধে মতভেদ করিত। যে বিষয়ে উহারা মতভেদ করিত তোমার প্রতিপালক তো অবশ্যই কিয়ামতের দিন সে বিষয়ে উহাদের বিচার - মীমাংসা করিয়া দিবেন।
তোমার প্রভুর পথের দিকে মানুষকে দাওয়াত দাও হিকমত এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করবে উত্তম পন্থায়। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু জানেন, কারা সঠিক পথ থেকে বিপথগামী হয়, আর সঠিক পথ প্রাপ্তদেরও তিনি ভালোভাবে জানেন।
সমকালীন বাংলা
তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং উহাদের সঙ্গে তর্ক করিবে উত্তম পন্থায়। তোমার প্রতিপালক, তাঁহার পথ ছাড়িয়া কে বিপথগামী হয়, সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত এবং কাহারা সৎপথে আছে তাহাও তিনি সবিশেষ অবহিত।
তোমরা যদি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে চাও, তবে ঠিক ততোখানি নেবে যতোটা শাস্তি তোমাদের দেয়া হয়েছে। তবে তোমরা যদি সহনশীল হও, সহনশীলদের জন্যে সেটা অবশ্যি উত্তম।
সমকালীন বাংলা
যদি তোমরা শাস্তি দাওই, তবে ঠিক ততখানি শাস্তি দিবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হইয়াছে। তবে তোমরা ধৈর্য ধারণ করিলে ধৈর্যশীলদের জন্য উহাই তো উত্তম।