You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
মুহাম্মদ
Chapter 47, 38 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
সমকালীন বাংলা
Arabic, with marks
মুহিউদ্দীন খান
About this chapter
মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৩৮, রুকু সংখ্যা: ০৪
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-১১কাফিররা আল্লাহর পথে বাধাদান করে, তাই তাদের সব কর্মকান্ড ব্যর্থ হয়ে যাবে। মুহাম্মদ সা. এর উপর অবতীর্ণ কিতাবের প্রতি যারা ঈমান আনে, আল্লাহ্ তাদের সাহায্য করবেন, কারণ তিনি তাদের মাওলা। কাফিরদের কোনো মাওলা নেই।
১২-১৯মুমিনদের প্রাপ্য জান্নাত আর কাফিরদের প্রাপ্য জাহান্নামের তুলনা। যারা হিদায়াতের পথে চলে আল্লাহ্ তাদের হিদায়াত ও তাকওয়া বাড়িয়ে দেন। নবীকে তাঁর ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ।
২০-৩০মুনাফিক ও দুর্বল মুমিনদের অবস্থার বিবরণ। দুর্বলতার কারণ কুরআন অনুধাবন না করা। যারা ঈমানের দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করে, মৃত্যুকালে তাদের পেটানো হয়।
৩১-৩৮আল্লাহ্ মুমিনদের পরীক্ষা করেন খাঁটি মুজাহিদদের বাছাই করার জন্য। কুফুরির উপর মৃত্যুবরণকারীদের আল্লাহ্ কখনো ক্ষমা করবেন না। আল্লাহর পথে ব্যয়ে কৃপণতা করা মুমিনের কাজ নয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা কুফুরির পথ ধরেছে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করছে, তিনি ব্যর্থ করে দিয়েছেন তাদের সমস্ত কর্মকান্ড।
সমকালীন বাংলা
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; যাহারা করে এবং অপরকে পথ হইতে নিবৃত্ত করে তিনি তাহাদের কর্ম ব্যর্থ করিয়া দেন।
যারা করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাদের সকল কর্ম ব্যর্থ করে দেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে আর মুহাম্মদের প্রতি যা (যে কিতাব) নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি ঈমান এনেছে, আর তা তো তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে মহাসত্য, তিনি তাদের থেকে দূরীভূত করে দেবেন তাদের মন্দ আমলগুলো এবং সংশোধন করে দেবেন তাদের অবস্থা।
সমকালীন বাংলা
যাহারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং মুহাম্মাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাতে বিশ্বাস করে, আর উহাই তাহাদের প্রতিপালক হইতে প্রেরিত সত্য, তিনি তাহাদের মন্দ কর্মগুলি বিদূরিত করিবেন এবং তাহাদের অবস্থা ভাল করিবেন।
আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে মুহাম্মদের প্রতি অবতীর্ণ সত্যে বিশ্বাস করে, তাদের মন্দ কর্মসমূহ মার্জনা করেন এবং তাদের অবস্থা ভাল করে দেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
এর কারণ হলো, যারা কুফুরি করে তারা অনুসরণ করে মিথ্যা - বাতিলের। আর যারা ঈমান আনে তারা ইত্তেবা (অনুসরণ) করে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ মহাসত্যের। এভাবেই দৃষ্টান্ত দিয়ে থাকেন মানুষের জন্যে।
সমকালীন বাংলা
ইহা এইজন্য যে, যাহারা করে তাহারা মিথ্যার অনুসরণ করে এবং যাহারা ঈমান আনে তাহারা তাহাদের প্রতিপালক - প্রেরিত সত্যের অনুসরণ করে। এইভাবে মানুষের জন্য তাহাদের দৃষ্টান্ত প্রদান করেন।
এটা এ কারণে যে, যারা , তারা বাতিলের অনুসরণ করে এবং যারা , তারা তাদের পালনকর্তার নিকট থেকে আগত সত্যের অনুসরণ করে। এমনিভাবে মানুষের জন্যে তাদের দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যখন যুদ্ধে কাফিরদের মোকাবেলা করবে, তখন তাদের গর্দানে আঘাত করবে এবং তাদেরকে কচু কাটা করে ছাড়বে। অবশেষে যখন তোমরা তাদের পরাস্ত করবে, তখন তাদের কষে বাঁধবে। তারপর হয় দয়া, নয়তো মুক্তিপণ। তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, যতোক্ষণ না যুদ্ধ তার অস্ত্র নামিয়ে ফেলে। এটাই নিয়ম। ইচ্ছা করলে তাদের শাস্তি দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি চান তোমাদের একের দ্বারা অন্যকে পরীক্ষা করতে। আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তিনি কখনো তাদের আমল বিনষ্ট করেন না।
সমকালীন বাংলা
অতএব যখন তোমরা কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধে মুকাবিলা কর তখন তাহাদের গর্দানে আঘাত কর, পরিশেষে যখন তোমরা উহাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পরাভূত করিবে তখন উহাদেরকে কষিয়া বাঁধিবে ; অতঃপর হয় অনুকম্পা, নয় মুক্তিপণ। তোমরা জিহাদ চালাইবে যতক্ষণ না যুদ্ধ ইহার অস্ত্র নামাইয়া ফেলে। ইহাই বিধান। ইহা এইজন্য যে, ইচ্ছা করিলে উহাদেরকে শাস্তি দিতে পারিতেন, কিন্তু তিনি চাহেন তোমাদের একজনকে অপরের দ্বারা পরীক্ষা করিতে। যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, কখনই তাদরে র্কম বনিষ্ট করবনে না।
অতঃপর যখন তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের গর্দার মার, অবশেষে যখন তাদেরকে পূর্ণরূপে পরাভূত কর তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে ফেল। অতঃপর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, না হয় তাদের নিকট হতে মুক্তিপণ লও। তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে যে পর্যন্ত না শত্রুপক্ষ অস্ত্র সমর্পণ করবে! একথা শুনলে। ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান। যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, কখনই তাদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং সংশোধন করে দেন তাদের অবস্থা।
সমকালীন বাংলা
তিনি তাহাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তাহাদের অবস্থা ভাল করিয়া দেন।
Arabic, with marks
سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ
মুহিউদ্দীন খান
তিনি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করবেন এবং তাদের অবস্থা ভাল করবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি তাদের দাখিল করবেন জান্নাতে, যার পরিচয় তিনি তাদের জানিয়ে দিয়েছেন।
সমকালীন বাংলা
তিনি তাহাদেরকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার কথা তিনি তাহাদেরকে জানাইয়াছিলেন।
Arabic, with marks
وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যা তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো, তিনিও সাহায্য করবেন তোমাদের, এবং অটল অবিচল রাখবেন তোমাদের কদম।
সমকালীন বাংলা
হে মু’মিনগণ ! যদি তোমরা সাহায্য কর, তোমাদেরকে সাহায্য করিবেন এবং তোমাদের অবস্থান দৃঢ় করিবেন।
এটা এজন্যে যে, যা নাযিল করেছেন, তারা তা পছন্দ করে না। অতএব, তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দিবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে দেখতে পায়না, তাদের আগেকার (প্রত্যাখ্যানকারীদের) কী পরিণতি হয়েছিল? তাদের ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। আর এই কাফিরদের জন্যেও রয়েছে একই পরিণাম।
সমকালীন বাংলা
উহারা কি পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে নাই এবং দেখে নাই উহাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হইয়াছে? উহাদেরকে ধ্বংস করিয়াছেন এবং কাফিরদের জন্য রহিয়াছে অনুরূপ পরিণাম।
এটা এজন্যে যে, মুমিনদের হিতৈষী বন্ধু এবং কাফেরদের কোন হিতৈষী বন্ধু নাই।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে তাদের দাখিল করবেন জান্নাতে, যার নিচে দিয়ে জারি থাকবে নদ - নদী - নহর। আর যারা কুফুরি করেছে, তারা মত্ত আছে ভোগ - বিলাসে এবং খায় জানোয়ারের মতো। জাহান্নামই হবে তাদের আবাস।
সমকালীন বাংলা
যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহাদেরকে দাখিল করিবেন জান্নাতে যাহার নিম্নদেশেনদী প্রবাহিত; কিন্তু যাহারা করে উহারা ভোগ - বিলাসে মত্ত থাকে এবং জন্তু - জানোয়ারের মত উদর পূর্তি করে; আর জাহান্নামই উহাদের নিবাস।
যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার নিম্নদেশে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। আর যারা , তারা ভোগ - বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুস্পদ জন্তুর মত আহার করে। তাদের বাসস্থান জাহান্নাম।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাকে যে জনপদ থেকে তারা বের করে দিয়েছে তার চাইতে অনেক বেশি শক্তিধর কতো যে জনপদ ছিলো, আমরা তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি, তাদের কোনো সাহায্যকারী ছিলনা।
সমকালীন বাংলা
উহারা তোমার যে জনপদ হইতে তোমাকে বিতাড়িত করিয়াছে তাহা অপেক্ষা অতি শক্তিশালী কত জনপদ ছিল; আমি উহাদেরকে ধ্বংস করিয়াছি এবং উহাদের সাহায্যকারী কেহ ছিল না।
যে জনপদ আপনাকে বহিস্কার করেছে, তদপেক্ষা কত শক্তিশালী জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি, অতঃপর তাদেরকে সাহায্য করার কেউ ছিল না।
আবদুস শহীদ নাসিম
যে ব্যক্তি তার প্রভুর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত, সে কি ঐসব ব্যক্তির সমতুল্য, যাদের কাছে নিজেদের মন্দ কর্মকান্ড মনে হয় চমৎকার এবং যারা দৌড়ায় নিজেদের কামনা - বাসনার পেছনে?
সমকালীন বাংলা
যে ব্যক্তিতাহার প্রতিপালক - প্রেরিত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত, সে কি তাহার ন্যায়, যাহার নিকট নিজের মন্দ কর্মগুলি শোভন প্রতীয়মান হয় এবং যাহারা নিজ খেয়াল - খুশির অনুসরণ করে?
যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত নিদর্শন অনুসরণ করে, সে কি তার সমান, যার কাছে তার মন্দ কর্ম শোভনীয় করা হয়েছে এবং যে তার খেয়াল - খুশীর অনুসরণ করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুত্তাকিদের যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হলো, তাতে রয়েছে অনাবিল পানির নদ - নদী - নহর। রয়েছে দুধের নহর, যার স্বাদ কখনো পরিবর্তন হয়না। রয়েছে সুরা পায়ীদের জন্যে সুস্বাদু সুরার নহর। রয়েছে পরিশোধিত মধুর নহর। তাছাড়া সেখানে তাদের জন্যে থাকবে সব ধরনের ফলফলারি, থাকবে মাগফিরাত তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে। এরা কি ওদের সমতুল্য, যারা চিরকাল জ্বলতে থাকবে জাহান্নামে, যাদের পান করানো হবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি, যা ছিন্ন ভিন্ন করে দেবে তাদের নাড়িভুড়ি?
সমকালীন বাংলা
মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে তাহার দৃষ্টান্ত : উহাতে আছে নির্মল পানির নহর, আছে দুধের নহর যাহার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সুরার নহর, আছে পরিশোধিত মধুর নহর এবং সেখানে উহাদের জন্য থাকিবে বিবিধ ফলমূল আর তাহাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে ক্ষমা। মুত্তাকীরা কি তাহাদের ন্যায়, যাহারা জাহান্নামে স্থায়ী হইবে এবং যাহাদেরকে পান করিতে দেওয়া হইবে ফুটন্ত পানি যাহা উহাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন - বিচ্ছিন্ন করিয়া দিবে?
পরহেযগারদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপঃ তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফল - মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেযগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেবে?
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা তোমার কথা শুনে, তারপর তোমার কাছ থেকে বাইরে গিয়ে যাদের জ্ঞান দেয়া হয়েছে তাদের বলে: ‘এইমাত্র সে কী বললো?’ আসলে এরা সেইসব লোক, যাদের অন্তর সীলমোহর করে দিয়েছেন এবং যারা নিজেদের কামনা - বাসনার পেছনে দৌড়ায়।
সমকালীন বাংলা
উহাদের মধ্যে কতক তোমার কথা শ্রবণ করে, অতঃপর তোমার নিকট হইতে বাহির হইয়া যাহারা জ্ঞানপ্রাপ্ত তাহাদেরকে বলে, ‘এইমাত্র সে কী বলিল?’ ইহাদের অন্তর মোহর করিয়া দিয়াছেন এবং উহারা নিজেদের খেয়াল - খুশিরই অনুসরণ করে।
তাদের মধ্যে কতক আপনার দিকে কান পাতে, অতঃপর যখন আপনার কাছ থেকে বাইরে যায়, তখন যারা শিক্ষিত, তাদেরকে বলেঃ এইমাত্র তিনি কি বললেন ? এদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তারা নিজেদের খেয়াল - খুশীর অনুসরণ করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা হিদায়াতের পথ অবলম্বন করে, তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দেন এবং তাদের দান করেন তাদের তাকওয়া।
সমকালীন বাংলা
যাহারা সৎপথ অবলম্বন করে তাহাদের সৎপথে চলিবার শক্তি বৃদ্ধি করেন এবং তাহাদেরকে হইবার শক্তি দান করেন।
যারা সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে, তাদের সৎপথপ্রাপ্তি আরও বেড়ে যায় এবং তাদেরকে তাকওয়া দান করেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি এ জন্যে অপেক্ষা করছে যে, আকস্মিক কিয়ামত তাদের উপর এসে পড়ুক? জেনে রাখো, কিয়ামতের লক্ষণ তো দেখা দিয়েছে। কিয়ামত এসে পড়লে কেমন করে গ্রহণ করবে তারা উপদেশ?
সমকালীন বাংলা
উহারা কি কেবল এইজন্য অপেক্ষা করিতেছে যে, কিয়ামত উহাদের নিকট আসিয়া পড়ুক আকস্মিকভাবে? কিয়ামতের লক্ষণসমূহ তো আসিয়াই পড়িয়াছে। কিয়ামত আসিয়া পড়িলে উহারা উপদেশ গ্রহণ করিবে কেমন করিয়া!
তারা শুধু এই অপেক্ষাই করছে যে, কেয়ামত অকস্মাৎ তাদের কাছে এসে পড়ুক। বস্তুতঃ কেয়ামতের লক্ষণসমূহ তো এসেই পড়েছে। সুতরাং কেয়ামত এসে পড়লে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কেমন করে ?
আবদুস শহীদ নাসিম
জেনে রাখো, ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। সুতরাং তুমি ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমার এবং পুরুষ ও নারীদের ত্রুটির জন্যে। জানেন তোমাদের সব গতিবিধি এবং অবস্থান।
সমকালীন বাংলা
সুতরাং জানিয়া রাখ, ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই, ক্ষমা প্রার্থনা কর তোমার এবং নর - নারীদের ত্রটির জন্য। তোমাদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন।
জেনে রাখুন, ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। ক্ষমাপ্রার্থনা করুন, আপনার ক্রটির জন্যে এবং পুরুষ ও নারীদের জন্যে। , তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞাত।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুমিনরা বলে: ‘এমন একটি সূরা নাযিল হয়না কেন (যাতে যুদ্ধের নির্দেশ থাকবে?)’ তারপর যখন কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তকর সূরা নাযিল হয়, যাতে যুদ্ধের নির্দেশ থাকে, তখন তুমি দেখবে, যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা মরণের ভয়ে হতভম্ব মানুষের মতো তোমার দিকে তাকাচ্ছে। তাদের জন্যে উত্তম হতো
সমকালীন বাংলা
মু’মিনরা বলে, ‘একটি সূরা অবতীর্ণ হয় না কেন?’ অতঃপর যদি দ্ব্যর্থহীন কোন সূরা অবতীর্ণ হয় এবং উহাতে যুদ্ধের কোন নির্দেশ থাকে তুমি দেখিবে যাহাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তাহারা মৃত্যুভয়ে বিহ্বল মানুষের মত তোমার দিকে তাকাইতেছে। শোচনীয় পরিণাম উহাদের।
যারা , তারা বলেঃ একটি সূরা নাযিল হয় না কেন? অতঃপর যখন কোন দ্ব্যর্থহীন সূরা নাযিল হয় এবং তাতে জেহাদের উল্লেখ করা হয়, তখন যাদের অন্তরে রোগ আছে, আপনি তাদেরকে মৃত্যুভয়ে মূর্ছাপ্রাপ্ত মানুষের মত আপনার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখবেন। সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্যে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আনুগত্য করা এবং পজেটিভ কথা বলা। সুতরাং সিদ্ধান্ত যখন চূড়ান্ত হয়, তখন যদি তারা আল্লাহকে দেয়া অংগীকার পূর্ণ করতো, সেটাই হতো তাদের জন্যে কল্যাণকর।
সমকালীন বাংলা
আনুগত্য ও ন্যায়সংগত বাক্য উহাদের জন্য উত্তম ছিল; সুতরাং চূড়ান্তসিদ্ধান্তহইল, যদি উহারা আল্লাহর প্রতি পদত্ত অংগীকার র্পূণ কর, তবে তাদরে জন্যে তা মঙ্গলজনক হইবে।
ফেরেশতা যখন তাদের মুখমন্ডল ও পৃষ্ঠদেশে আঘাত করতে করতে প্রাণ হরণ করবে, তখন তাদের অবস্থা কেমন হবে?
আবদুস শহীদ নাসিম
এর কারণ, তারা (সারাজীবন) সেই জিনিসের পেছনেই ছুটেছে যা আল্লাহকে করেছে অসন্তুষ্ট এবং তারা অপছন্দ করেছে সেই পথ যাতে হতেন সন্তুষ্ট। ফলে তিনি নিষ্ফল করে দিয়েছেন তাদের সমস্ত কৃতকর্ম।
সমকালীন বাংলা
ইহা এইজন্য যে, উহারা তাহার অনুসরণ করে, যাহা অসন্তোষ জন্মায় এবং তাঁহার সন্তুষ্টিকে অপ্রিয় গণ্য করে; তিনি ইহাদের কর্ম নিষ্ফল করিয়া দেন।
যাদের অন্তরে রোগ আছে, তারা কি মনে করে যে, তাদের অন্তরের বিদ্বেষ প্রকাশ করে দেবেন না?
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা চাইলে তোমাকে তাদের পরিচয় দিয়ে দিতাম, ফলে লক্ষণ দেখলেই তাদের তুমি চিনতে পারতে। তবে তুমি অবশ্যি তাদের কথার ভংগিতে তাদের চিনতে পারবে। তাদের আমল সম্পর্কে অবগত।
সমকালীন বাংলা
আমি ইচ্ছা করিলে তোমাকে উহাদের পরিচয় দিতাম। ফলে তুমি উহাদের লক্ষণ দেখিয়া উহাদেরকে চিনিতে পারিতে, তবে তুমি অবশ্যই কথার ভংগিতে উহাদেরকে চিনিতে পারিবে। তা তোমাদের র্কমসমূহরে খবর রাখনে।
আমি ইচ্ছা করলে আপনাকে তাদের সাথে পরিচিত করে দিতাম। তখন আপনি তাদের চেহারা দেখে তাদেরকে চিনতে পারতেন এবং আপনি অবশ্যই কথার ভঙ্গিতে তাদেরকে চিনতে পারবেন। তোমাদের কর্মসমূহের খবর রাখেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা অবশ্যি তোমাদের পরীক্ষা করবো, যতোদিন না আমরা (বাস্তবে) জেনে নেবো তোমাদের মধ্যকার (প্রকৃত) মুজাহিদ ও সবর (দৃঢ়তা) অবলম্বনকারীদের। এ জন্যে আমরা তোমাদের অবস্থা পরীক্ষা করি।
সমকালীন বাংলা
আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করিব, যতক্ষণ না আমি জানিয়া লই তোমাদের মধ্যে জিহাদকারী ও ধৈর্যশীলদেরকে এবং আমি তোমাদের ব্যাপারে পরীক্ষা করি।
আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যে পর্যন্ত না ফুটিয়ে তুলি তোমাদের জেহাদকারীদেরকে এবং সবরকারীদেরকে এবং যতক্ষণ না আমি তোমাদের অবস্থান সমূহ যাচাই করি।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা কুফুরি করে, মানুষকে আল্লাহর পথে আসতে বাধা দেয় এবং নিজেদের কাছে সঠিক পথ সুস্পষ্ট হবার পরও রসূলের বিরোধিতা করে, তারা কখনো আল্লাহর ক্ষতি করতে পারবে না। তিনি অচিরেই ধ্বংস করে দেবেন তাদের সমস্ত আমল।
সমকালীন বাংলা
যাহারা করে এবং মানুষকে আল্লাহর পথ হইতে নিবৃত্ত করে এবং নিজেদের নিকট পথের দিশা ব্যক্ত হইবার পর রাসূলের বিরোধিতা করে, উহারা কোনই ক্ষতি করিতে পারিবে না। তিনি তো তাহাদের কর্ম ব্যর্থ করিবেন।
নিশ্চয় যারা এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে এবং নিজেদের জন্যে সৎপথ ব্যক্ত হওয়ার পর রসূলের (সঃ) বিরোধিতা করে, তারা আল্লাহর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না এবং তিনি ব্যর্থ করে দিবেন তাদের কর্মসমূহকে।
অতএব, তোমরা হীনবল হয়ো না এবং সন্ধির আহবান জানিও না, তোমরাই হবে প্রবল। আল্লাহই তোমাদের সাথে আছেন। তিনি কখনও তোমাদের কর্ম হ্রাস করবেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
দুনিয়ার জীবনটা তো একটা খেল তামাশা। তোমরা যদি ঈমান আনো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তাহলে তোমাদের পুরস্কার দেবেন। তিনি তোমাদের থেকে তোমাদের মাল - সম্পদ চান না।
সমকালীন বাংলা
পার্থিব জীবন তো কেবল ক্রীড়া - কৌতুক, যদি তোমরা ঈমান আন, তাকওয়া অবলম্বন কর, তা তোমাদেরকে তা তোমাদের প্রতদিান দবেনে এবং তিনি তা তোমাদের ধন - সম্পদ চাইবনে না।
তিনি তোমাদের কাছে ধন - সম্পদ চাইলে অতঃপর তোমাদেরকে অতিষ্ঠ করলে তোমরা কার্পণ্য করবে এবং তিনি তোমাদের মনের সংকীর্ণতা প্রকাশ করে দেবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
হাঁ, তোমরাই তো তারা, যাদের আল্লাহর পথে ব্যয় করতে ডাকা হচ্ছে, অথচ তোমাদের কেউ কেউ বখিলি করছে। যারা বখিলি করে তারা তো বখিলি করে নিজেদের প্রতিই। প্রাচুর্যশীল আর তোমরা হলে অভাবী। তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তিনি তোমাদের বদলে অন্য লোকদেরকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, তারা তোমাদের মতো হবেনা।
সমকালীন বাংলা
দেখ, তোমরাই তো তাহারা যাহাদেরকে পথে ব্যয় করিতে বলা হইতেছে অথচ তোমাদের অনেকে কৃপণতা করিতেছে। যাহারা কার্পণ্য করে তাহারা তো কার্পণ্য করে নিজেদেরই প্রতি। অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্ত। যদি তোমরা বিমুখ হও, তিনি অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলবর্তী করিবেন; তাহারা তোমাদের মত হইবে না।
শুন, তোমরাই তো তারা, যাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করার আহবান জানানো হচ্ছে, অতঃপর তোমাদের কেউ কেউ কৃপণতা করছে। যারা কৃপণতা করছে, তারা নিজেদের প্রতিই কৃপণতা করছে। অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্থ। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, এরপর তারা তোমাদের মত হবে না।