You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আল জুমা (জুমাবার)
Chapter 62, 11 verses
আবদুস শহীদ নাসিম
সমকালীন বাংলা
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মুহিউদ্দীন খান
About this chapter
মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১১, রুকু সংখ্যা: ০২
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-০৪রসূল ও কিতাব পাঠানোর উদ্দেশ্য।
০৫-০৮ইহুদিরা তাওরাতের সাথে গাধার মতো আচরণ করেছিল। ইহুদিদের ভ্রান্ত বিশ্বাস।
০৯-১১জুমার সালাত আদায়ের নির্দেশ। আযান হলে ব্যবসা মুলতবি করার এবং সালাত শেষে উপার্জনে নেমে পড়ার নির্দেশ।
আবদুস শহীদ নাসিম
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবই তসবিহ করছে আল্লাহর, যিনি মহান সম্রাট, অতিশয় পবিত্র, মহাশক্তিধর, মহাপ্রজ্ঞাবান।
সমকালীন বাংলা
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; আকাশসমূহে এবং পৃথিবীতে যা আছে, সবকিছুই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে—যিনি সর্বময় অধিপতি, পবিত্র, মহাশক্তিশালী, মহাপ্রজ্ঞাবান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্তই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে র, যিনি অধিপতি, মহাপবিত্র, পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
মুহিউদ্দীন খান
রাজ্যাধিপতি, পবিত্র, পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে, যা কিছু আছে নভোমন্ডলে ও যা কিছু আছে ভূমন্ডলে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি সেই মহান সত্তা, যিনি উম্মিদের (নিরক্ষরদের) মাঝে পাঠিয়েছেন একজন রসূল তাদের মধ্য থেকেই, যে তাদের প্রতি তিলাওয়াত করে তাঁর আয়াত, তাদের পরিশুদ্ধ ও উন্নত করে এবং তাদের শিক্ষা দেয় আল কিতাব (আল কুরআন) আর হিকমাহ। যদিও ইতোপূর্বে তারা নিমজ্জিত ছিলো সুস্পষ্ট গোমরাহিতে;
সমকালীন বাংলা
তিনিই যিনি তাদের নিরক্ষরদের মধ্যে থেকে তাদেরই একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেন। যদিও এর আগে তারা স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে ছিল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসূল পাঠাইয়াছেন তাহাদের মধ্য হইতে, যে তাহাদের নিকট আবৃত্তি করে তাঁহার আয়াতসমূহ ; তাহাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিক্মত ; ইতিপূর্বে তো উহারা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে ;
মুহিউদ্দীন খান
তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তার আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত। ইতিপূর্বে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত।
আবদুস শহীদ নাসিম
এবং তিনি এ রসূলকে পাঠিয়েছেন অন্যদের প্রতিও যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি। তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাবান।
সমকালীন বাংলা
এবং তাদের মধ্য থেকে অন্যদের জন্যও, যারা এখনো তাদের সঙ্গে যোগ দেয়নি। আর তিনি মহাশক্তিশালী, মহাপ্রজ্ঞাবান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং তাহাদের অন্যান্যের জন্যও যাহারা এখনও তাহাদের সঙ্গে মিলিত হয় নাই। পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
মুহিউদ্দীন খান
এই রসূল প্রেরিত হয়েছেন অন্য আরও লোকদের জন্যে, যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
এটা আল্লাহরই অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা করেন, তা দিয়ে থাকেন। আর তো মহা অনুগ্রহপরায়ণ।
সমকালীন বাংলা
এটি আল্লাহর অনুগ্রহ; তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর মহাঅনুগ্রহের অধিকারী।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইহা রই অনুগ্রহ, যাহাকে ইচ্ছা তিনি ইহা দান করেন। তো মহা অনুগ্রহশীল।
মুহিউদ্দীন খান
এটা আল্লাহর কৃপা, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। মহাকৃপাশীল।
আবদুস শহীদ নাসিম
যাদের উপর তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছিল, অথচ তারা সে দায়িত্ব পালন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত হলো গাধা, যারা কিতাবের বোঝা বহন করে (কিন্তু তা পাঠ করেনা, বুঝেনা এবং অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করেনা)। কতো যে নিকৃষ্ট সেই লোকদের দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যান করে। যালিম লোকদের সঠিক পথে পরিচালিত করেননা।
সমকালীন বাংলা
যাদের তাওরাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তারপর তারা তা বহন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত সেই গাধার মতো, যে বই বহন করে। কতই না নিকৃষ্ট সেই জাতির দৃষ্টান্ত, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে। আর যালিম জাতিকে পথনির্দেশ করেন না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহাদেরকে তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পণ করা হইয়াছিল, কিন্তু তাহারা উহা বহন করে নাই, তাহাদের দৃষ্টান্ত পুস্তক বহনকারী গর্দভ! কত নিকৃষ্ট সে সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যাহারা র আয়াতসমূহ অস্বীকার করে! সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
মুহিউদ্দীন খান
যাদেরকে তওরাত দেয়া হয়েছিল, অতঃপর তারা তার অনুসরণ করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত সেই গাধা, যে পুস্তক বহন করে, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে, তাদের দৃষ্টান্ত কত নিকৃষ্ট। জালেম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
(হে নবী!) বলো: হে ইহুদিরা! তোমরা যদি মনে করো, তোমরাই আল্লাহর অলি, অন্য লোকেরা নয়, তাহলে তোমরা মউত কামনা করো যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।
সমকালীন বাংলা
বলো, “হে যারা ইহুদী হয়েছো, যদি তোমরা দাবি করো যে অন্য মানুষদের বাদ দিয়ে শুধু তোমরাই আল্লাহর বন্ধু, তবে যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তাহলে মৃত্যুকামনা করো।”
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘হে ইয়াহূদীরা! যদি তোমরা মনে কর তোমরাই র বন্ধু, অন্য কোন মানবগোষ্ঠী নহে ; তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’
মুহিউদ্দীন খান
বলুন হে ইহুদীগণ, যদি তোমরা দাবী কর যে, তোমরাই আল্লাহর বন্ধু - অন্য কোন মানব নয়, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
আবদুস শহীদ নাসিম
কিন্তু তারা তা কখনো কামনা করবেনা তারা যা কামাই করে পাঠিয়েছে তার কারণে। এই যালিমদের ভালো করেই জানেন।
সমকালীন বাংলা
কিন্তু তারা কখনোই তা কামনা করবে না; তাদের হাত আগে যা পাঠিয়েছে, তার কারণে। আর যালিমদের সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কিন্তু উহারা উহাদের হস্ত দ্বারা যাহা অগ্রে প্রেরণ করিয়াছে উহার কারণে কখনও মৃত্যু কামনা করিবে না। জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত।
মুহিউদ্দীন খান
তারা নিজেদের কৃতকর্মের কারণে কখনও মৃত্যু কামনা করবে না। জালেমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
(হে নবী!) বলো তোমরা যে মউত থেকে পালাচ্ছো, সে মউত তোমাদের সাথে অবশ্যি মোলাকাত (সাক্ষাত) করবে। তারপর তোমাদের ফেরত নেয়া হবে ও দৃশ্যের জ্ঞানীর কাছে। তখন তোমাদের অবহিত করা হবে, তোমরা (পৃথিবীর জীবনে) কী কাজ করেছিলে?
সমকালীন বাংলা
বলো, “যে মৃত্যু থেকে তোমরা পালিয়ে বেড়াও, নিশ্চয়ই তা তোমাদের সম্মুখীন হবে। তারপর তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে ও দৃশ্যমানের জ্ঞানীর কাছে; তখন তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন, যা তোমরা করতে।”
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘তোমরা যে মৃত্যু হইতে পলায়ন কর সেই মৃত্যু তোমাদের সঙ্গে অবশ্যই সাক্ষাৎ করিবে। অতঃপর তোমরা প্রত্যানীত হইবে ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা র নিকট এবং তিনি তোমাদেরকে জানাইয়া দিবেন যাহা তোমরা করিতে।’
মুহিউদ্দীন খান
বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখামুখি হবে, অতঃপর তোমরা , দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন সেসব কর্ম, যা তোমরা করতে।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! জুমাবারে যখন তোমাদের আহবান করা হয় সালাতের জন্যে, তখন তোমরা আল্লাহর যিকিরের (সালাতের) দিকে দৌড়াও এবং স্থগিত রাখো ব্যবসায়িক কার্যক্রম। এটাই তোমাদের জন্যে কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে!
সমকালীন বাংলা
হে যারা ঈমান এনেছো, শুক্রবার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হলে, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে মু’মিনগণ! জুমু‘আর দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা র স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয় - বিক্রয় ত্যাগ কর, ইহাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর।
মুহিউদ্দীন খান
মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর শেষ হলে তোমরা ছড়িয়ে পড়ো জমিনে এবং সন্ধান করো আল্লাহর অনুগ্রহ, আর বেশি বেশি যিকির করো আল্লাহকে, অবশ্যি হবে তোমরা।
সমকালীন বাংলা
অতঃপর সম্পন্ন হলে, তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো। আর আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হও।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সমাপ্ত হইলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়াইয়া পড়িবে এবং র অনুগ্রহ সন্ধান করিবে ও কে অধিক স্বরণ করিবে, যাহাতে তোমরা হও।
মুহিউদ্দীন খান
অতঃপর সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা হও।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা যখন ব্যবসায় এবং তামাশা - কৌতুক দেখতে পেলো, তখন তোমাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে তারা ছুটে গেলো সেদিকে। তুমি বলো: আল্লাহর কাছে যা রয়েছে সেটা খেলতামাশা এবং ব্যবসার থেকে কল্যাণকর।’ আল্লাহ্ই সর্বোত্তম রিযিকদাতা।
সমকালীন বাংলা
আর যখন তারা কোনো ব্যবসা অথবা কোনো বিনোদন দেখে, তখন তারা সেদিকে ছুটে যায় এবং তোমাকে দাঁড়িয়ে রেখে যায়। বলো, “আল্লাহর কাছে যা আছে, তা বিনোদন এবং ব্যবসার চেয়ে উত্তম। আর আল্লাহই সর্বোত্তম জীবিকাদাতা।”
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন তাহারা দেখিল ব্যবসায় ও কৌতুক তখন তাহারা তোমাকে দাঁড়ান অবস্থায় রাখিয়া উহার দিকে ছুটিয়া গেল। বল, ‘র নিকট যাহা আছে তাহা ক্রীড়া - কৌতুক ও ব্যবসায় অপেক্ষা উৎকৃষ্ট।’ সর্বশ্রেষ্ট রিযিকদাতা।
মুহিউদ্দীন খান
তারা যখন কোন ব্যবসায়ের সুযোগ অথবা ক্রীড়াকৌতুক দেখে তখন আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে তারা সেদিকে ছুটে যায়। বলুনঃ আল্লাহর কাছে যা আছে, তা ক্রীড়াকৌতুক ও ব্যবসায় অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। সর্বোত্তম রিযিকদাতা।