Kitab

আল হাক্কাহ্ (অবশ্যম্ভাবী ঘটনা)

Chapter 69, 52 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • সমকালীন বাংলা
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • জহুরুল হক
About this chapter


মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৫২, রুকু সংখ্যা: ০২

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-১৮অতীতে আখিরাত অস্বীকারকারী জাতিগুলো ধ্বংস হয়েছে। কিয়ামতের দৃশ্য। ১৯-২৪বিশ্বাসীরা আমলনামা পাবে ডান হাতে; তারা থাকবে মহাসুখে। ২৫-৩৭অপরাধীদের আমলনামা দেয়া হবে বাম হাতে; তাদের পরকালীন দুর্দশা। ৩৮-৫২কুরআন রাববুল আলামিন কর্তৃক অবতীর্ণ, অন্য কারো রচনা নয়। কুরআন কাফিরদের হতাশাগ্রস্ত করে দেয়।
আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি ঘটবে সে ঘটনা!

সমকালীন বাংলা

আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; অবধারিত ঘটনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনা,

জহুরুল হক

নিশ্চিত - সত্য!

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি ঘটবে কী ঘটনা?

সমকালীন বাংলা

কী সেই অবধারিত ঘটনা?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কী সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনা?

জহুরুল হক

কি সেই নিশ্চিত - সত্য?

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কিভাবে জানবে, অবশ্যি ঘটবে কী ঘটনা?

সমকালীন বাংলা

আর কী তোমাকে জানাবে, কী সেই অবধারিত ঘটনা?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তুমি কি জান সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনা কী?

জহুরুল হক

আহা, কি দিয়ে তোমাকে বোঝানো যাবে নিশ্চিত - সত্যটা কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

আদ ও সামুদ জাতি অস্বীকার করেছিল সেই মহাদুর্ঘটনাকে।

সমকালীন বাংলা

সামূদ ও ‘আদ অবধারিত মহাপ্রলয়কে অস্বীকার করেছিল।

Note
সামূদ ও‘আদ -- দু'টি সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর নাম
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আদ ও সামূদ সম্প্রদায় অস্বীকার করিয়াছিল মহাপ্রলয়।

জহুরুল হক

ছামূদ ও 'আদগোষ্ঠী আঘাতকারী প্রলয়কে অস্বীকার করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর মধ্যে রয়েছে সামুদ জাতি, তাদের ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দিয়ে।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর সামূদকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড শব্দে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর সামূদ সম্প্রদায়, উহাদেরকে ধ্বংস করা হইয়াছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দ্বারা।

জহুরুল হক

তারপর ছামূদগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে - - তাদের তখন ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর মধ্যে রয়েছে আদ জাতি, তাদের ধ্বংস করা হয়েছিল প্রচন্ড ঘুর্ণিঝড় দিয়ে।

সমকালীন বাংলা

আর ‘আদকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড, হিংস্র ঝড়ো হাওয়ায়,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর ‘আদ সম্প্রদায়, উহাদেরকে ধ্বংস করা হইয়াছিল এক প্রচণ্ড ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা,

জহুরুল হক

আর 'আদগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে - - তাদের তখন ধ্বংস করা হয়েছিল এক গর্জনকারী প্রচন্ড ঝড়ের দ্বারা - -

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটি তাদের উপর প্রবাহিত রেখেছিলেন সাত রাত আট দিন অবিরাম। তুমি সেখানে উপস্থিত থাকলে দেখতে, পুরো জাতিটি সেখানে (মরে) লুটিয়ে পড়ে আছে উপড়ে পড়া খেজুর গাছের কান্ডের মতো।

সমকালীন বাংলা

যা তিনি তাদের ওপর অবিরাম প্রবাহিত করেছিলেন সাত রাত ও আট দিন ধরে। তখন তুমি সেই সম্প্রদায়কে সেখানে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখতে, যেন তারা ফাঁপা খেজুরগাছের কাণ্ড।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহা তিনি উহাদের উপর প্রবাহিত করিয়াছিলেন সপ্তরাত্রি ও অষ্টদিবস বিরামহীনভাবে; তখন তুমি উক্ত সম্প্রদায়কে দেখিতে - উহারা সেখানে লুটাইয়া পড়িয়া আছে সারশূন্য খর্জুর কাণ্ডের ন্যায়।

জহুরুল হক

যাকে তিনি তাদের উপরে প্রবাহিত করেছিলেন সাত রাত ও আট দিনব্যাপী, অবিরতভাবে, ফলে তুমি সেই লোকদলকে দেখতে পেতে সেখানে লুটিয়ে পড়ে আছে, যেন তারা খেজুর গাছের ফাঁপা গুড়ি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তাদের কাউকেও অবশিষ্ট দেখতে পাচ্ছো কি?

সমকালীন বাংলা

অতঃপর তুমি কি তাদের কোনো অবশিষ্ট দেখতে পাও?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহাদের কাহাকেও তুমি বিদ্যমান দেখিতে পাও কি?

জহুরুল হক

তারপর তুমি তাদের অবশিষ্ট কিছু দেখতে পাও কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর এসেছিল ফেরাউন, তার পূর্ববর্তীরা আর পাপাচারে লিপ্ত থাকা উল্টে দেয়া জনপদ (অর্থাৎ কওমে লুত)।

সমকালীন বাংলা

আর ফিরআউন, তার পূর্ববর্তীরা এবং উল্টে দেওয়া জনপদসমূহ পাপ নিয়ে এসেছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন, তাহার পূর্ববর্তীরা এবং উল্টাইয়া দেওয়া জনপদ পাপাচারে লিপ্ত ছিল।

জহুরুল হক

আর ফিরআউন আর যারা তার পূর্ববর্তী ছিল, আর বিধবস্ত শহরগুলো পাপাচার নিয়ে এসেছিল,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তাদের প্রভুর রসূলকে অমান্য করেছিল। এর ফলে তিনি তাদের পাকড়াও করেন কঠোর পাকড়াও।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর তারা তাদের প্রতিপালকের রসূলকে অমান্য করেছিল; ফলে তিনি তাদেরকে কঠোরভাবে পাকড়াও করেছিলেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা উহাদের প্রতিপালকের রাসূলকে অমান্য করিয়াছিল, ফলে তিনি উহাদেরকে শাস্তি দিলেন - কঠোর শাস্তি।

জহুরুল হক

যেহেতু তাদের প্রভুর রসূলকে তারা অমান্য করেছিল, সেজন্য তিনি তাদের পাকড়াও করেছিলেন এক সুকঠিন পাকড়ানোতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(এর আগে নূহের সময়) পানি যখন উথলে উঠেছিল আমরা তোমাদের তুলে নিয়েছিলাম নৌযানে,

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই যখন পানি সীমা অতিক্রম করেছিল, তখন আমরা তোমাদেরকে বহন করেছিলাম ভাসমান নৌযানে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন জলোচ্ছ্বাস হইয়াছিল তখন আমি তোমাদের - কে আরোহণ করাইয়াছিলাম নৌযানে,

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যখন পানি ফেঁপে উঠেছিল, তখন আমরা তোমাদের বহন করেলিাম জাহাজের মধ্যে,

আবদুস শহীদ নাসিম

এসব ঘটনাকে আমরা তোমাদের জন্যে বানিয়েছি শিক্ষার বিষয়। আর যেসব কান এগুলো শুনে তারা যেনো এগুলো সংরক্ষণ করে।

সমকালীন বাংলা

যাতে আমরা এটিকে তোমাদের জন্য একটি স্মারক করি, এবং মনোযোগী কান তা ধারণ করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি ইহা করিয়াছিলাম তোমাদের শিক্ষার জন্য এবং এইজন্য যে, শ্রুতিধর কর্ণ ইহা সংরক্ষণ করে।

জহুরুল হক

যেন আমরা এটিকে তোমাদের জন্য বানাতে পারি স্মরণীয় বিষয়, এবং শ্রুতিধর কান যেন এটি মনে রাখতে পারে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যখন শিঙায় ফুৎকার দেয়া হবে, একটি (প্রথম) ফুৎকার,

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যখন শিঙ্গায় একবার ফুঁ দেওয়া হবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হইবে - একটি মাত্র ফুৎকার,

জহুরুল হক

সুতরাং যখন শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে - - একটি মাত্র ফুৎকার, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং পৃথিবী ও পর্বতমালাকে উঠিয়ে নিক্ষেপ করা হবে, তখন এক ধাক্কায়ই সেগুলো হয়ে যাবে চুর্ণবিচুর্ণ।

সমকালীন বাংলা

এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে, তারপর এক আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পর্বতমালাসমেত পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হইবে এবং মাত্র এক ধাক্কায় উহারা চূর্ণ - বিচূর্ণ হইয়া যাইবে।

জহুরুল হক

এবং পৃথিবী ও পাহাড় - পর্বত উত্তোলন করা হবে, আর একটিমাত্র ধাক্কায় তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিনই সংঘটিত হবে ওয়াকিয়া (মহাদুর্ঘটনা)।

সমকালীন বাংলা

সেদিন সেই অবধারিত মহাপ্রলয় সংঘটিত হবে

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেদিন সংঘটিত হইবে মহাপ্রলয়,

জহুরুল হক

অতএব সেইদিন মহাঘটনা সংঘটিত হবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন ফেটে চৌচির হয়ে যাবে আকাশ এবং তা পড়তে থাকবে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে।

সমকালীন বাংলা

এবং আকাশ বিদীর্ণ হবে; সেদিন তা হবে দুর্বল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং আকাশ বিদীর্ণ হইয়া যাইবে আর সেই দিন উহা বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়িবে।

জহুরুল হক

আর আকাশ বিদীর্ণ হবে, ফলে সেইদিন তা হবে ভঙ্গুর;

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরেশতারা অবস্থান করবে তার (আকাশের) প্রান্তে। সেদিন তাদের উপর আটজন (ফেরেশতা) ধারণ করবে তোমার প্রভুর আরশ।

সমকালীন বাংলা

আর ফেরেশতারা তার প্রান্তসমূহে থাকবে, এবং সেদিন তোমার প্রতিপালকের আরশ তাদের ঊর্ধ্বে আটজন বহন করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফিরিশ্‌তাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকিবে এবং সেই দিন আটজন ফিরিশ্‌তা তোমার প্রতিপালকের আরশকে ধারণ করিবে তাহাদের ঊর্ধ্বে।

জহুরুল হক

আর ফিরিশ্‌তারা এর প্রান্তগুলোয় রইবে। আর তাদের উপরে সেইদিন তোমার প্রভুর আরশ বহন করবে আটজন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তোমাদের উপস্থিত করা হবে এবং তোমাদের কোনো কিছুই থাকবেনা গোপন।

সমকালীন বাংলা

সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে; তোমাদের কোনো গোপন বিষয়ই গোপন থাকবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই দিন উপস্থিত করা হইবে তোমাদেরকে এবং তোমাদের কিছুই গোপন থাকিবে না।

জহুরুল হক

সেইদিন তোমাদের অনাবৃত করা হবে, - - কোনো গোপন বিষয় তোমাদের থেকে গোপন থাকবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন যার কিতাব (কৃতকর্মের রেকর্ড) দেয়া হবে তার ডান হাতে, সে বলবে: ‘‘নাও পড়ে দেখো আমার কিতাব (রেকর্ড),

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে, সে বলবে, “এই নিন! আমার আমলনামা পড়ুন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তখন যাহাকে তাহার ‘আমলনামা তাহার দক্ষিণ হস্তে দেওয়া হইবে, সে বলিবে, ‘লও, আমার ‘আমলনামা, পড়িয়া দেখ ;

জহুরুল হক

তারপর যাকে তার বই তার ডান হাতে দেয়া হবে সে তখন বলবে - - ''নাও, আমার এই বই পড়ে দেখো!

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি বিশ্বাস করতাম, আমাকে অবশ্যি হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে।’’

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই আমি বিশ্বাস করেছিলাম যে আমি আমার হিসাবের সম্মুখীন হবো।”

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘নিশ্চয়ই আমি জানিতাম যে, আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হইতে হইবে।’

জহুরুল হক

''আমি নিশ্চয়ই জানতাম যে আমি আলবৎ আমার এই হিসাবের সম্মুখীন হতে যাচ্ছি।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে সে এমন জীবন যাপন করবে, যাতে সে রাজি খুশি ও সন্তুষ্ট থাকবে।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর সে থাকবে এক সন্তোষজনক জীবনে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং সে যাপন করিবে সন্তোষজনক জীবন;

জহুরুল হক

সুতরাং সে থাকবে এক পূর্ণ - সন্তোষজনক জীবনযাপনে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

সে থাকবে মর্যাদাপূর্ণ জান্নাতে (বাগ বাগিচায়),

সমকালীন বাংলা

উঁচু বেহেশতে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুউচ্চ জান্নাতে

জহুরুল হক

এক উঁচু পর্যায়ের জান্নাতে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তার ফলরাশি নুয়ে থাকবে নাগালের মধ্যেই।

সমকালীন বাংলা

যার ফলগুলো কাছে ঝুলে থাকবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহার ফলরাশি অবনমিত থাকিবে নাগালের মধ্যে।

জহুরুল হক

যার ফলের থোকাগুলো নাগালের মধ্যে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তাদের বলা হবে:) খাও, পান করো পরিতুষ্টির সাথে, সেই কাজের বিনিময়ে যা তোমরা করেছিলে অতীত দিনে (পৃথিবীর জীবনে)।

সমকালীন বাংলা

“তোমরা খাও এবং পান করো তৃপ্তিসহকারে, অতীত দিনগুলোতে যা তোমরা আগে পাঠিয়েছ তার কারণে।”

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদেরকে বলা হইবে, ‘পানাহার কর তৃপ্তির সঙ্গে, তোমরা অতীত দিনে যাহা করিয়াছিলে তাহার বিনিময়ে।’

জহুরুল হক

''খাও আর পান করো তৃপ্তির সঙ্গে সেইজন্য যা তোমরা আগেকার দিনগুলোয় সম্পাদন করেছিলে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু যাকে তার কিতাব (রেকর্ড) দেয়া হবে তার বাম হাতে, সে বলবে: ‘‘হায়, আমার ধ্বংস, (কতো ভালো হতো) আমাকে যদি দেয়া না হতো আমার কিতাব!

সমকালীন বাংলা

আর যার আমলনামা তার বাম হাতে দেওয়া হবে, সে বলবে, “হায়! যদি আমাকে আমার আমলনামা দেওয়া না হতো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু যাহার ‘আমলনামা তাহার বাম হস্তে দেওয়া হইবে, সে বলিবে, ‘হায়! আমাকে যদি দেওয়াই না হইত আমার ‘আমলনামা,

জহুরুল হক

আর তার ক্ষেত্রে যাকে তার বই তার বাম হাতে দেওয়া হবে সে তখন বলবে - - ''হায় আমার আফসোস! আমার এই বই যদি আমায় কখনো দেখানো না হতো, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

(হায়,) আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব।

সমকালীন বাংলা

এবং আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব!,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং আমি যদি না জানিতাম আমার হিসাব !

জহুরুল হক

''আর আমি যদি কখনো জানতাম না আমার এই হিসাবটি কী।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হায়,) আমার মৃত্যুই যদি হতো আমার শেষ ফায়সালা।

সমকালীন বাংলা

হায়! যদি সেটাই চূড়ান্ত সমাপ্তি হতো!

Note

এখানে "চূড়ান্ত সমাপ্তি" বলতে সম্ভবত মৃত্যুকে বুঝানো হয়েছে

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হইত।

জহুরুল হক

''হায় আফসোস! এইটাই যদি আমার শেষ হতো!

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার মাল - সম্পদ তো আমার কোনো কাজেই এলোনা।

সমকালীন বাংলা

আমার সম্পদ আমার কোনো উপকারে আসেনি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমার ধন - সম্পদ আমার কোন কাজেই আসিল না।

জহুরুল হক

''আমার ধনসম্পদ আমার কোনো কাজে এল না;

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার সমস্ত ক্ষমতা - দাপটই তো আমার থেকে হয়ে গেছে হালাক।’’

সমকালীন বাংলা

আমার কর্তৃত্ব বিলুপ্ত হয়েছে।”

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমার ক্ষমতাও বিনষ্ট হইয়াছে।’

জহুরুল হক

''আমার কর্তৃত্ব আমার থেকে বিনাশ হয়ে গেছে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

(ফেরেশতাদের বলা হবে:) ‘‘একে পাকড়াও করো এবং বেড়ি লাগাও তার গলায়।

সমকালীন বাংলা

“তাকে ধরো, অতঃপর তার গলায় শৃঙ্খল পরিয়ে দাও।”

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফিরিশ্‌তাদেরকে বলা হইবে, ‘ধর উহাকে, উহার গলদেশে বেড়ি পরাইয়া দাও।

জহুরুল হক

''তাকে ধরো এবং তাকে বাঁধো,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর নিক্ষেপ করো জাহিমে।

সমকালীন বাংলা

তারপর তাকে জাহিমে পোড়াও।

Note

জাহিম: কুরআনে ব্যবহৃত জাহান্নামের একটি নাম, যা বিশেষভাবে প্রজ্বলিত ও তীব্র জ্বলন্ত আগুনের ধারণা প্রকাশ করে। কুরআনে জাহান্নামের জন্য বিভিন্ন নাম ও বর্ণনা ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:


  • جَهَنَّم (Jahannam)
  • الْجَحِيم (Al-Jaḥīm)
  • سَقَر (Saqar)
  • لَظَى (Laẓā)
  • الْحُطَمَة (Al-Ḥuṭamah)
  • السَّعِير (As-Saʿīr)
  • الْهَاوِيَة (Al-Hāwiyah)



ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অতঃপর উহাকে নিক্ষেপ কর জাহান্নামে।

জহুরুল হক

''তারপর জ্বলন্ত আগুনে তাকে নিক্ষেপ করো,

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর তাকে বাঁধো সত্তর হাত লম্বা শিকল দিয়ে।’’

সমকালীন বাংলা

তারপর তাকে সত্তর হাত দীর্ঘ এক শৃঙ্খলে আবদ্ধ করো

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘পুনরায় তাহাকে শৃঙ্খলিত কর সত্তর হস্ত দীর্ঘ এক শৃঙ্খলে’,

জহুরুল হক

''তারপর তাকে এক শিকলে আবদ্ধ করো যার দৈঘ্য হচ্ছে সত্তর হাত।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে ঈমান আনেনি মহান আল্লাহর প্রতি,

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই সে মহান আল্লাহর প্রতি ছিল না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে তো মহান ‌র প্রতি ছিল না।

জহুরুল হক

''নিশ্চয় সে বিশ্বাস করত না মহান ‌তে,

আবদুস শহীদ নাসিম

(মানুষকে) উৎসাহ দেয়নি মিসকিনদের আহার করাতে।

সমকালীন বাংলা

এবং দরিদ্রকে আহার করাতে উৎসাহ দিত না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং অভাবগ্রস্তকে অন্নদানে উৎসাহিত করিত না,

জহুরুল হক

''আর সে উৎসাহ দেখাত না গরীবদের খাবার দিতে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাই তার জন্যে আজ এখানে নেই কোনো সহমর্মী,

সমকালীন বাংলা

অতএব আজ এখানে তার কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু নেই,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব এই দিন সেখানে তাহার কোন সুহৃদ থাকিবে না,

জহুরুল হক

''সেজন্য আজ তার জন্যে এখানে কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে না,

আবদুস শহীদ নাসিম

(তার জন্যে) নেই কোনো খাবার ক্ষতের পূঁজ ছাড়া,

সমকালীন বাংলা

এবং পুঁজ ছাড়া তার কোনো খাদ্য নেই,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং কোন খাদ্য থাকিবে না ক্ষতনিঃসৃত পুঁজ ব্যতীত,

জহুরুল হক

''আর কোনো খাদ্য থাকবে না ক্ষতনিঃসৃত পুজঁ ব্যতীত - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যা আর কেউই খাবেনা অপরাধীরা ছাড়া।

সমকালীন বাংলা

যা পাপাচারীরা ছাড়া আর কেউ খাবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহা অপরাধী ব্যতীত কেহ খাইবে না।

জহুরুল হক

''যা পাপীরা ব্যতীত আর কেউ খায় না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি কসম করছি সেসবের, যা তোমরা দেখতে পাও,

সমকালীন বাংলা

অতএব আমি শপথ করছি যা তোমরা দেখো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি কসম করিতেছি উহার, যাহা তোমরা দেখিতে পাও,

জহুরুল হক

কিন্ত না, আমি কসম খাচ্ছি যা তোমরা দেখছ তার,

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সেসবের যা তোমরা দেখতে পাওনা:

সমকালীন বাংলা

এবং যা তোমরা দেখো না,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যাহা তোমরা দেখিতে পাও না ;

জহুরুল হক

এবং যা তোমরা দেখছ না তারও, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রসূলের কথা।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই এটি সম্মানিত রাসূলের কথা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই এই কুরআন এক সম্মানিত রাসূলের বহনকৃত বার্তা।

জহুরুল হক

যে এটি এক সম্মানিত রসূলের বাণী,

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি কোনো কবি রচিত কথা নয়; তবে খুব কমই তোমরা বিশ্বাস করো।

সমকালীন বাংলা

এবং এটি কোনো কবির কথা নয়; তোমরা খুব কমই বিশ্বাস কর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা কোন কবির রচনা নয়; তোমরা অল্পই বিশ্বাস কর,

জহুরুল হক

আর এ কোনো কবির আলাপন নয়; সামান্যই তো যা তোমরা বিশ্বাস কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি কোনো গণকের কথাও নয়, তবে খুব কমই তোমরা উপলব্ধি করো।

সমকালীন বাংলা

এবং এটি কোনো গণকের কথা নয়; তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ কর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা কোন গণকের কথাও নয়, তোমরা অল্পই অনুধাবন কর।

জহুরুল হক

আর কোনো গনৎকারের বাক্‌চাতুরীও নয়, যৎসামান্য যা তোমরা চিন্তা কর!

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি হলো রাববুল আলামিনের নাযিল করা (কিতাব)।

সমকালীন বাংলা

এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হইতে অবতীর্ণ।

জহুরুল হক

এ হচ্ছে এক অবতারণ বিশ্বজগতের প্রভুর কাছ থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (মুহাম্মদ) যদি আমাদের নামে কোনো কথা বানিয়ে নিয়ে চালাবার চেষ্টা করতো,

সমকালীন বাংলা

আর যদি সে আমাদের নামে কোনো কথা রচনা করে আমাদের প্রতি আরোপ করত,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করিয়া চালাইতে চেষ্টা করিত,

জহুরুল হক

আর তিনি যদি আমাদের নামে কোনো বাণী রচনা করতে চাইতেন, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা অবশ্যি ধরে ফেলতাম তার ডান হাত,

সমকালীন বাংলা

তবে অবশ্যই আমরা তার ডান হাত ধরে ফেলতাম,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি অবশ্যই তাহার দক্ষিণ হস্ত ধরিয়া ফেলিতাম,

জহুরুল হক

তাহলে আমরা নিশ্চয়ই তাকে ডানহাতে পাকড়াও করতাম,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর কেটে ফেলতাম তার জীবন - ধমনী।

সমকালীন বাংলা

তারপর অবশ্যই তার মহাধমনী কেটে দিতাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং কাটিয়া দিতাম তাহার জীবন - ধমনী,

জহুরুল হক

তারপর নিশ্চয়ই তার কন্ঠশিরা কেটে ফেলতাম,

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মধ্যে এমন কেউই থাকতো না, যে রক্ষা করতে পারতো তাকে।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউই তাকে রক্ষা করতে পারত না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তোমাদের মধ্যে এমন কেহই নাই, যে তাহাকে রক্ষা করিতে পারে।

জহুরুল হক

তখন তোমাদের মধ্যের কেউই ওর থেকে নিবৃত্ত করতে পারতে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এ (কুরআন) এক উপদেশ (সতর্ক) লোকদের জন্যে।

সমকালীন বাংলা

আর নিশ্চয়ই এটি মুত্তাকীদের জন্য এক উপদেশ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই কুরআন মুত্তাকীদের জন্য অবশ্যই এক উপদেশ।

জহুরুল হক

আর নিশ্চয়ই এইটি ধর্মভীরুদের জন্য এক স্মারক - গ্রন্থ।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি আমরা জানি, তোমাদের মধ্যে রয়েছে মিথ্যাবাদীরা।

সমকালীন বাংলা

আর নিশ্চয়ই আমরা জানি যে তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অস্বীকারকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি অবশ্যই জানি যে, তোমাদের মধ্যে মিথ্যা আরোপকারী রহিয়াছে।

জহুরুল হক

আর নিশ্চয়ই আমরা তো জানি যে তোমাদের মধ্যে সত্যপ্রত্যাখ্যানকারী রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি এ (কুরআন) কাফিরদের জন্যে এক অনুতাপের কারণ।

সমকালীন বাংলা

আর নিশ্চয়ই এটি অস্বীকারকারীদের জন্য অনুশোচনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং এই কুরআন নিশ্চয়ই কাফিরদের অনুশোচনার কারণ হইবে,

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ এটি অবিশ্বাসীদের জন্য বড় অনুতাপের বিষয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এ (কুরআন) এক বাস্তব সত্য।

সমকালীন বাংলা

আর নিশ্চয়ই এটি নিশ্চিত সত্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অবশ্যই ইহা নিশ্চিত সত্য।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ এটি তো সুনিশ্চিত সত্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তুমি তসবিহ করতে থাকো তোমার মহান প্রভুর নাম নিয়ে।

সমকালীন বাংলা

অতএব তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ঘোষণা করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব তুমি মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।

জহুরুল হক

অতএব তোমার মহামহিমান্নিত প্রভুর নামের জপতপ করো।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme