Kitab

আল হিজর

Chapter 15, 99 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • সমকালীন বাংলা
  • মুহিউদ্দীন খান
About this chapter


মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা : ৯৯, রুকু সংখ্যা: ০৬

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-০৮ইসলাম বিরোধীদের কামনা, ধারণা ও কর্মপন্থা। ০৯-১৫কুরআন হিফাযতের দায়িত্ব আল্লাহর। সব রসূলের সাথেই লোকেরা বিদ্রূপ করেছে। ১৬-২৫আল্লাহর সৃষ্টি ও বিশ্ব ব্যবস্থাপনা। ২৬-৫০মানুষ ও জ্বিন সৃষ্টির উপাদান। মানুষের সাথে শয়তানের শত্রুতার সূচনা ও ইতিহাস। শয়তান কাদেরকে প্রতারিত করতে পারবে এবং কাদেরকে করতে পারবেনা? মুত্তাকিদের শুভ পরিণতি। ৫১-৬০ইবরাহিমের কাছে ফেরেশতাদের আগমন এবং তাকে একটি সুসংবাদ ও একটি দুঃসংবাদ প্রদান। ৬১-৭৯লুত জাতির অপকর্ম এবং তাদের পরিণতির ইতিহাস। ৮০-৮৪আইকাবাসীদের অবাধ্যতা এবং তাদের করুণ পরিণতি। ৮৫-৯৯কিয়ামতের আগমন অনিবার্য। নবীকে বারবার পাঠ্য সাত আয়াত এবং আল কুরআনুল আযিম দেয়া হয়েছে। নবীর প্রতি উপদেশ।
আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ - লাম - রা। এগুলো আয়াত আল কিতাব এবং সুস্পষ্ট কুরআনের।

সমকালীন বাংলা

পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; আলিফ - লাম - রা, এইগুলি আয়াত মহাগ্রন্থের, সুস্পষ্ট কুরআনের।

মুহিউদ্দীন খান

আলিফ - লা - ম - রা; এগুলো পরিপূর্ণ গ্রন্থ ও সুস্পষ্ট কোরআনের আয়াত।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিররাও কখনো কখনো আকাঙ্খা করে, যদি তারা মুসলিম হতো!

সমকালীন বাংলা

কখনও কখনও কাফিররা আকাঙ্খা করিবে যে, তাহারা যদি মুসলিম হইত!

মুহিউদ্দীন খান

কোন সময় কাফেররা আকাঙ্ক্ষা করবে যে, কি চমৎকার হত, যদি তারা মুসলমান হত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের উপেক্ষা করো: তারা খেতে থাকুক, ভোগ করতে থাকুক এবং তাদের আশা - আকাঙ্খা তাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখুক। অচিরেই তারা জানতে পারবে।

সমকালীন বাংলা

উহাদেরকে ছাড়, উহারা খাইতে থাকুক, ভোগ করিতে থাকুক এবং আশা উহাদেরকে মোহাচ্ছন্ন রাখুক; অচিরেই উহারা জানিতে পারিবে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি ছেড়ে দিন তাদেরকে, খেয়ে নিক এবং ভোগ করে নিক এবং আশায় ব্যাপৃত থাকুক। অতি সত্বর তারা জেনে নেবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যে কোনো জনপদকেই হালাক করেছি, তার অবশ্যি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদকাল রেকর্ড করা ছিলো।

সমকালীন বাংলা

আমি যে কোন জনপদকে ধ্বংস করিয়াছি তাহার জন্য ছিল একটি নির্দিষ্ট লিপিবদ্ধ কাল।

মুহিউদ্দীন খান

আমি কোন জনপদ ধবংস করিনি; কিন্ত তার নির্দিষ্ট সময় লিখিত ছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো উম্মতের (ধ্বংসের) মেয়াদকাল এগিয়েও আসেনা এবং পিছিয়েও যায়না।

সমকালীন বাংলা

কোন জাতি তাহার নির্দিষ্ট কালকে ত্বরান্নিত করিতে পারে না, বিলম্বিতও করিতে পারে না।

মুহিউদ্দীন খান

কোন সম্প্রদায় তার নির্দিষ্ট সময়ের অগ্রে যায় না এবং পশ্চাতে থাকে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘‘হে ঐ ব্যক্তি, যার প্রতি আয - যিকির (আল - কুরআন) নাযিল করা হয়েছে, তুমি অবশ্যি একজন পাগল।

সমকালীন বাংলা

উহারা বলে, ‘ওহে, যাহার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হইয়াছে! তুমি তো নিশ্চয় উন্মাদ।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ হে ঐ ব্যক্তি, যার প্রতি কোরআন নাযিল হয়েছে, আপনি তো একজন উম্মাদ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আমাদের কাছে ফেরেশতা নিয়ে আসোনা কেন?’’

সমকালীন বাংলা

‘তুমি সত্যবাদী হইলে আমাদের নিকট ফিরিশতাগণকে উপস্থিত করিতেছ না কেন?’

মুহিউদ্দীন খান

যদি আপনি সত্যবাদী হন, তবে আমাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে আনেন না কেন?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তো বাস্তব পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া ছাড়া ফেরেশতা পাঠাইনা; আর যখনই ফেরেশতা পাঠাই তখন আর তাদের অবকাশ দেয়া হয়না।

সমকালীন বাংলা

আমি ফিরিশ্তাগণকে প্রেরণ করি না যথার্থ কারণ ব্যতীত; ফিরিশ্তাগণ উপস্থিত হইলে উহারা অবকাশ পাইবে না।

মুহিউদ্দীন খান

আমি ফেরেশতাদেরকে একমাত্র ফায়সালার জন্যেই নাযিল করি। তখন তাদেরকে অবকাশ দেয়া হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আয - যিকির (আল - কুরআন) আমরাই নাযিল করেছি এবং আমরাই সেটির হিফাযতকারী।

সমকালীন বাংলা

আমিই কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি এবং অবশ্য আমিই উহার সংরক্ষক।

মুহিউদ্দীন খান

আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার আগেকার অনেক সম্প্রদায়ের কাছেই আমরা রসূল পাঠিয়েছিলাম।

সমকালীন বাংলা

তোমার পূর্বে আমি আগেকার অনেক সম্প্রদায়ের নিকট রাসূল পাঠাইয়াছিলাম।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আপনার পূর্বে পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের মধ্যে রসূল প্রেরণ করেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখনই তাদের কাছে কোনো রসূল এসেছে তারা (তাকে নিয়ে) বিদ্রূপ করেছে

সমকালীন বাংলা

তাহাদের নিকট আসে নাই এমন কোন রাসূল যাহাকে তাহারা ঠাট্টা - বিদ্রপকরিত না।

মুহিউদ্দীন খান

ওদের কাছে এমন কোন রসূল আসেননি, যাদের সাথে ওরা ঠাট্টাবিদ্রূপ করতে থাকেনি।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে আমরা (সর্বকালের) অপরাধীদের অন্তরে তা (কুফুরি ও হঠকারিতা) সঞ্চার করি।

সমকালীন বাংলা

এইভাবে আমি অপরাধীদের অন্তরে উহা সঞ্চার করি,

মুহিউদ্দীন খান

এমনিভাবে আমি এ ধরনের আচরণ পাপীদের অন্তরে বদ্ধমূল করে দেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা এর (কুরআনের) প্রতি ঈমান আনেনা। আর অতীতের (অপরাধীদের) সুন্নতও ছিলো এটাই।

সমকালীন বাংলা

ইহারা কুরআনের প্রতি ঈমান আনিবে না এবং অতীতে পূর্ববর্তীদেরও এই আচরণ ছিল।

মুহিউদ্দীন খান

ওরা এর প্রতি বিশ্বাস করবে না। পূর্ববর্তীদের এমন রীতি চলে আসছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি তাদের জন্যে আসমানের দুয়ারও খুলে দিতাম এবং তারা যদি দিবালোকে তাতে মেরাজ (আরোহণ) করতেও থাকতো,

সমকালীন বাংলা

যদি উহাদের জন্য আকাশের দুয়ার খুলিয়া দেই এবং উহারা সারাদিন উহাতে আরোহণ করিতে থাকে,

মুহিউদ্দীন খান

যদি আমি ওদের সামনে আকাশের কোন দরজাও খুলে দেই আর তাতে ওরা দিনভর আরোহণ ও করতে থাকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখনো তারা বলতো, আমাদের চোখকে সম্মোহিত করা হয়েছে, বরং আমরা জাদুগ্রস্ত লোক।

সমকালীন বাংলা

তবুও উহারা বলিবে, ‘আমাদের দৃষ্টি সম্মোহিত করা হইয়াছে; না, বরং আমরা এক জাদুগ্রস্ত সম্প্রদায়।’

মুহিউদ্দীন খান

তবুও ওরা একথাই বলবে যে, আমাদের দৃষ্টির বিভ্রাট ঘটানো হয়েছে না বরং আমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা আসমানে বুরুজ (গ্রহ - নক্ষত্র) স্থাপন করেছি এবং সেগুলোকে দর্শকদের জন্যে শোভামন্ডিত করেছি।

সমকালীন বাংলা

আমি আকাশে গ্রহ - নক্ষত্র সৃষ্টি করিয়াছি এবং উহাকে সুশোভিত করিয়াছি দর্শকদের জন্য;

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় আমি আকাশে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছি এবং তাকে দর্শকদের জন্যে সুশোভিত করে দিয়েছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং প্রতিটি অভিশপ্ত শয়তান থেকে সেটিকে হিফাযত করেছি।

সমকালীন বাংলা

এবং প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান হইতে আমি উহাকে রক্ষা করিয়া থাকি;

মুহিউদ্দীন খান

আমি আকাশকে প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে কেউ যদি চুরি করে সংবাদ শুনতে চায় তার পশ্চাদধাবন করে উজ্জ্বল শিহাব (শিখা)।

সমকালীন বাংলা

কিন্তু কেহ চুরি করিয়া সংবাদ শুনিতে চাহিলে উহার পশ্চাদ্ধাবন করে প্রদীপ্ত শিখা।

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু যে চুরি করে শুনে পালায়, তার পশ্চাদ্ধাবন করে উজ্জ্বল উল্কাপিন্ড।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর পৃথিবী, আমরা তাকে সমতল করে বিছিয়ে দিয়েছি, আর তাতে স্থাপন করেছি পাহাড় - পর্বত এবং তাতে উৎপন্ন করেছি প্রতিটি জিনিস ওজন মতো (যথাযথ পরিমাণে)।

সমকালীন বাংলা

আর পৃথিবী, উহাকে আমি বিস্তৃত করিয়াছি, উহাতে পর্বতমালা স্থাপন করিয়াছি; এবং আমি উহাতে প্রত্যেক বস্তু উদ্গত করিয়াছি সুপরিমিতভাবে,

মুহিউদ্দীন খান

আমি ভু - পৃষ্ঠকে বিস্তৃত করেছি এবং তার উপর পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক বস্তু সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাতে ব্যবস্থা করে দিয়েছি তোমাদের জীবিকার, এবং তাদের জীবিকারও যাদের জীবিকাদাতা তোমরা নও।

সমকালীন বাংলা

এবং উহাতে জীবিকার ব্যবস্থা করিয়াছি তোমাদের জন্য, আর তোমরা যাহাদের জীবিকাদাতা নও তাহাদের জন্যও।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমাদের জন্যে তাতে জীবিকার উপকরন সৃষ্টি করছি এবং তাদের জন্যেও যাদের অন্নদাতা তোমরা নও।

আবদুস শহীদ নাসিম

এমন কোনো জিনিস নেই, আমাদের কাছে যার ভান্ডার রক্ষিত নেই। আমরা তা নাযিল করি জ্ঞাত নির্দিষ্ট পরিমাণে।

সমকালীন বাংলা

আমারই নিকট আছে প্রত্যেক বস্তুর ভাণ্ডার এবং আমি উহা পরিজ্ঞাত পরিমাণেই সরবরাহ করিয়া থাকি।

মুহিউদ্দীন খান

আমার কাছে প্রত্যেক বস্তুর ভান্ডার রয়েছে। আমি নির্দিষ্ট পরিমানেই তা অবতরণ করি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা বর্ষণমুখী মেঘবাহী বাতাস পাঠাই, তারপর আসমান থেকে নাযিল করি পানি এবং তা তোমাদের পান করাই, অথচ তোমরা তো সেই (পানি) ভান্ডারের মালিক নও।

সমকালীন বাংলা

আমি বৃষ্টি - গর্ভ বায়ু প্রেরণ করি, অতঃপর আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করি এবং উহা তোমাদেরকে পান করিতে দেই; আর তোমরা উহার ভাণ্ডার রক্ষক নও।

মুহিউদ্দীন খান

আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু পরিচালনা করি অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, এরপর তোমাদেরকে তা পান করাই। বস্তুতঃ তোমাদের কাছে এর ভান্ডার নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরাই হায়াত দেই এবং মউত ঘটাই এবং আমরাই ওয়ারিশ (মালিক)।

সমকালীন বাংলা

আমিই জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই এবং আমিই চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী।

মুহিউদ্দীন খান

আমিই জীবনদান করি, মৃত্যুদান করি এবং আমিই চুড়ান্ত মালিকানার অধিকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমাদের বিগতদের জানি এবং যারা আসবে তাদেরও জানি।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের মধ্য হইতে পূর্বে যাহারা গত হইয়াছে আমি তাহাদেরকে জানি এবং পরে যাহারা আসিবে তাহাদেরকেও জানি।

মুহিউদ্দীন খান

আমি জেনে রেখেছি তোমাদের অগ্রগামীদেরকে এবং আমি জেনে রেখেছি পশ্চাদগামীদেরকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তোমার প্রভু তাদের সবার হাশর করবেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানী।

সমকালীন বাংলা

তোমার প্রতিপালকই উহাদেরকে সমবেত করিবেন; তিনি তো প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তাই তাদেরকে একত্রিত করে আনবেন। নিশ্চয় তিনি প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা সৃষ্টি করেছি মানুষকে গন্ধযুক্ত কাদার শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে।

সমকালীন বাংলা

আমি তো মানুষ সৃষ্টি করিয়াছি গন্ধযুক্ত কর্দমের শুষ্ক ঠন্ঠনা মৃত্তিকা হইতে,

মুহিউদ্দীন খান

আমি মানবকে পচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুস্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তাদের আগে আমরা জিনদের সৃষ্টি করেছি শিখাযুক্ত আগুন থেকে।

সমকালীন বাংলা

এবং ইহার পূর্বে সৃষ্টি করিয়াছি জিন অত্যুষ্ণ অগ্নি হইতে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং জিনকে এর আগে লু এর আগুনের দ্বারা সৃজিত করেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

(স্মরণ করো,) যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদের বলেছিলেন, আমি মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি গন্ধযুক্ত কাদার শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে।

সমকালীন বাংলা

স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফিরিশ্তাগণকে বলিলেন, ‘আমি গন্ধযুক্ত কর্দমের শুষ্ক ঠন্ঠনা মৃত্তিকা হইতে মানুষ সৃষ্টি করিতেছি;

মুহিউদ্দীন খান

আর আপনার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদেরকে বললেনঃ আমি পচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুষ্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্ট একটি মানব জাতির পত্তন করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি যখন তাকে সুগঠিত করবো এবং আমার পক্ষ থেকে তাতে রূহ সঞ্চার করে দেবো, তখন তোমরা তার প্রতি সাজদায় নুয়ে পড়বে।

সমকালীন বাংলা

‘যখন আমি উহাকে সুঠাম করিব এবং উহাতে আমার পক্ষ হইতে রূহ্ সঞ্চার করিব তখন তোমরা উহার প্রতি সিজ্দাবনত হইও’,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন তাকে ঠিকঠাক করে নেব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফঁুক দেব, তখন তোমরা তার সামনে সেজদায় পড়ে যেয়ো।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে ফেরেশতারা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে সাজদা করে।

সমকালীন বাংলা

তখন ফিরিশ্তাগণ সকলেই একত্রে সিজ্দা করিল,

মুহিউদ্দীন খান

তখন ফেরেশতারা সবাই মিলে সেজদা করল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে করেনি শুধু ইবলিস। সে সাজদাকারীদের অন্তরভুক্ত হতে অস্বীকার করে।

সমকালীন বাংলা

ইবলীস ব্যতীত, সে সিজ্দাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হইতে অস্বীকার করিল।

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু ইবলীস - সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হতে স্বীকৃত হল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

বললেন: ‘হে ইবলিস! তোর কী হয়েছে, তুই কেন সাজদাকারীদের অন্তরভুক্ত হইস্নি?’

সমকালীন বাংলা

হে ইবলিস তোমার কি হল যে, তুমি সিজদাকারীদের অন্তভ্র্ক্তূ হইলে না।

মুহিউদ্দীন খান

বললেনঃ হে ইবলিস, তোমার কি হলো যে তুমি সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হতে স্বীকৃত হলে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘‘আমি তো এমন একজনকে সাজদা করতে পারিনা, যাকে আপনি সৃষ্টি করেছেন গন্ধযুক্ত কাদার শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে।’

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘আপনি গন্ধযুক্ত কর্দমের শুষ্ক ঠনঠনা মৃত্তিকা হইতে যে মানুষ সৃষ্টি করিয়াছেন আমি তাহাকে সিজ্দা করিবার নহি।’

মুহিউদ্দীন খান

বললঃ আমি এমন নই যে, একজন মানবকে সেজদা করব, যাকে আপনি পচা কর্দম থেকে তৈরী ঠনঠনে বিশুষ্ক মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘‘তুই ওখান থেকে বেরিয়ে যা, কারণ তুই অভিশপ্ত।

সমকালীন বাংলা

তিনি বলিলেন, ‘তবে তুমি এখান হইতে বাহির হইয়া যাও, কারণ তুমি তো অভিশপ্ত;

মুহিউদ্দীন খান

বললেনঃ তবে তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও। তুমি বিতাড়িত।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রতিদান দিবস পর্যন্ত বর্ষিত হবে তোর উপর লা’নত।’’

সমকালীন বাংলা

‘এবং কর্মফল দিবস পর্যন্ত অবশ্যই তোমার প্রতি রহিল লা‘নত।’

মুহিউদ্দীন খান

এবং তোমার প্রতি ন্যায় বিচারের দিন পর্যন্ত অভিসম্পাত।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘প্রভু! আমাকে অবকাশ দিন পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।’

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দিন।’

মুহিউদ্দীন খান

সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘‘যা, তুই তাদের অন্তরভুক্ত যাদের অবকাশ দেয়া হয়েছে।

সমকালীন বাংলা

তিনি বলিলেন, ‘যাহাদেরকে অবকাশ দেওয়া হইয়াছে তুমি তাহাদের অন্তর্ভুক্ত হইলে,

মুহিউদ্দীন খান

বললেনঃ তোমাকে অবকাশ দেয়া হল।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবধারিত সময়টির (কিয়ামত) আগমন পর্যন্ত।’’

সমকালীন বাংলা

‘অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত।’

মুহিউদ্দীন খান

সেই অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘‘প্রভু! যেহেতু আপনি আমাকে বিপথগামী করেছেন, সে জন্যে আমি পৃথিবীতে তাদের (মানুষের) জন্যে বিপথগামিতাকে চাকচিক্যময় করে তুলবো এবং তাদের সবাইকে বিপথগামী করে ছাড়বো।

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি যে আমাকে বিপথগামী করিলেন তজ্জন্য আমি পৃথিবীতে মানুষের নিকট পাপকর্মকে অবশ্যই শোভন করিয়া তুলিব এবং আমি উহাদের সকলকেই বিপথগামী করিব,

মুহিউদ্দীন খান

সে বললঃ হে আমার পলনকর্তা, আপনি যেমন আমাকে পথ ভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথ ভ্রষ্ঠ করে দেব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তাদের মধ্যকার আপনার মুখলেস বান্দাদের কথা ভিন্ন।’’

সমকালীন বাংলা

‘তবে উহাদের মধ্যে আপনার নির্বাচিত বান্দাগণ ব্যতীত।’

মুহিউদ্দীন খান

আপনার মনোনীত বান্দাদের ব্যতীত।

আবদুস শহীদ নাসিম

বললেন: ‘‘এটাই আমার কাছে পৌঁছার সরল সঠিক পথ।

সমকালীন বাংলা

বলিলেন ইহাই আমার নিকট পৌছাবার সরল পথ।

মুহিউদ্দীন খান

বললেনঃ এটা আমা পর্যন্ত সোজা পথ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার দাসদের উপর তোর কোনো কর্তৃত্ব খাটবেনা, তবে বিভ্রান্তদের যারা তোর অনুসরণ করবে তাদের কথা ভিন্ন।

সমকালীন বাংলা

‘বিভ্রান্তদের মধ্যে যাহারা তোমার অনুসরণ করিবে তাহারা ব্যতীত আমার বান্দাদের উপর তোমার কোনই ক্ষমতা থাকিবে না;

মুহিউদ্দীন খান

যারা আমার বান্দা, তাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই; কিন্তু পথভ্রান্তদের মধ্য থেকে যারা তোমার পথে চলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি তাদের সবার প্রতিশ্রুত স্থান হলো জাহান্নাম।

সমকালীন বাংলা

‘অবশ্যই জাহান্নাম তাহাদের সকলেরই প্রতিশ্রুতি স্থান,

মুহিউদ্দীন খান

তাদের সবার নির্ধারিত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার আছে সাতটি দরজা, প্রত্যেক দরজার জন্যে তাদের একটি অংশ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

সমকালীন বাংলা

‘উহার সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজার জন্য পৃথক পৃথক শ্রেণী আছে।’

মুহিউদ্দীন খান

এর সাতটি দরজা আছে। প্রত্যেক দরজার জন্যে এক একটি পৃথক দল আছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি মুত্তাকিরা থাকবে উদ্যানসমূহ এবং ঝরণাধারা সমূহের মধ্যে।

সমকালীন বাংলা

মুত্তাকীরা থাকিবে জান্নাতে ও প্রস্রবণসমূহের মধ্যে।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় খোদাভীরুরা বাগান ও নির্ঝরিনীসহূহে থাকবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বলা হবে: ‘দাখিল হও শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে।’

সমকালীন বাংলা

তাহাদেরকে বলা হইবে, ‘তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে উহাতে প্রবেশ কর।’

মুহিউদ্দীন খান

বলা হবেঃ এগুলোতে নিরাপত্তা ও শান্তি সহকরে প্রবেশ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের অন্তরে পরস্পরের জন্যে কোনো বিদ্বেষ থাকলে তা আমরা দূর করে দেবো, তারা পরস্পর মুখোমুখি হয়ে আসন গ্রহণ করবে ভাই ভাই হিসেবে।

সমকালীন বাংলা

আমি তাহাদের অন্তর হইতে বিদ্বেষ দূর করিব; তাহারা ভ্রাতৃভাবে পরস্পর মুখোমুখি হইয়া আসনে অবস্থান করিবে,

মুহিউদ্দীন খান

তাদের অন্তরে যে ক্রোধ ছিল, আমি তা দূর করে দেব। তারা ভাই ভাইয়ের মত সামনা - সামনি আসনে বসবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানে তাদের স্পর্শ করবেনা কোনো অবসাদ এবং সেখান থেকে তাদের বের করেও দেয়া হবেনা।

সমকালীন বাংলা

সেখানে তাহাদেরকে অবসাদ স্পর্শ করিবে না এবং তাহারা সেই স্থান হইতে বহিষ্কৃতও হইবে না।

মুহিউদ্দীন খান

সেখানে তাদের মোটেই কষ্ট হবে না এবং তারা সেখান থেকে বহিস্কৃত হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার দাসদের সংবাদ দাও, নিশ্চয়ই আমি মহাক্ষমাশীল, মহাদয়াময়।

সমকালীন বাংলা

আমার বান্দাদেরকে বলিয়া দাও যে, আমি তো পরম ক্ষমাশীল, পপরম দয়ালু,

মুহিউদ্দীন খান

আপনি আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দিন যে, আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমার আযাব, তাও বেদনাদায়ক আযাব।

সমকালীন বাংলা

এবং আমার শাস্তি - উহা অতি মর্মন্তুদ শাস্তি!

মুহিউদ্দীন খান

এবং ইহাও যে, আমার শাস্তিই যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের আরো সংবাদ দাও ইবরাহিমের মেহমানদের সম্পর্কে।

সমকালীন বাংলা

আর উহাদেরকে বল, ইব্রাহীমের অতিথিদের কথা,

মুহিউদ্দীন খান

আপনি তাদেরকে ইব্রাহীমের মেহমানদের অবস্থা শুনিয়ে দিন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন তার কাছে প্রবেশ করেছিল, বলেছিল: ‘সালাম’। সে বলেছিল: ‘আমরা আপনাদের আগমনে আতংকিত।’

সমকালীন বাংলা

যখন উহারা তাহার নিকট উপস্থিত হইয়া বলিল, ‘সালাম’, তখন সে বলিয়াছিল, ‘আমরা তো তোমাদের আগমনে আতঙ্কিত।’

মুহিউদ্দীন খান

যখন তারা তাঁর গৃহে আগমন করল এবং বললঃ সালাম। তিনি বললেনঃ আমরা তোমাদের ব্যাপারে ভীত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলেছিল: ‘আপনি আতংকিত হবেন না, আমরা আপনাকে সুসংবাদ দিচ্ছি এক জ্ঞানী পুত্রের।’

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘ভয় করিও না, আমরা তো তোমাকে এক জ্ঞানী পুত্রের শুভ সংবাদ দিতেছি।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ ভয় করবেন না। আমরা আপনাকে একজন জ্ঞানবান ছেলে - সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘আপনারা আমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন আমি বার্ধক্যে উপনীত হওয়া সত্ত্বেও। আপনারা কীভাবে সুসংবাদ দিচ্ছেন?’

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘তোমরা কি আমাকে শুভ সংবাদ দিতেছ আমি বার্ধক্যগ্রস্তহওয়া সত্ত্বেও? তোমরা কী বিষয়ে শুভ সংবাদ দিতেছ?’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ তোমরা কি আমাকে এমতাবস্থায় সুসংবাদ দিচ্ছ, যখন আমি বার্ধক্যে পৌছে গেছি ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘আমাদের দেয়া সুসংবাদ সত্য। আপনি নিরাশ হবেন না।’

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘আমরা তোমাকে সত্য সংবাদ দিতেছি; সুতরাং তুমি হতাশ হইও না।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ আমরা আপনাকে সত্য সু - সংবাদ দিচ্ছি! অতএব আপনি নিরাশ হবেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘বিভ্রান্তরা ছাড়া কে নিরাশ হয় তার প্রভুর রহমত থেকে?’

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘যাহারা পথভ্রষ্ট তাহারা ব্যতীত আর কে তাহার প্রতিপালকের অনুগ্রহ হইতে হতাশ হয়?’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ পালনকর্তার রহমত থেকে পথভ্রষ্টরা ছাড়া কে নিরাশ হয় ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর সে বললো: ‘(হে ফেরেশতারা!) আপনাদের আর কী বক্তব্য?’

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘হে ফিরিশ্তাগণ! তোমাদের আর বিশেষ কি কাজ আছে?’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ অতঃপর তোমাদের প্রধান উদ্দেশ্য কি হে আল্লাহর প্রেরিতগণ ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘‘আমরা প্রেরিত হয়েছি এক অপরাধী কওমের প্রতি,

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘আমাদেরকে এক অপরাধী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রেরণ করা হইয়াছে -

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ আমরা একটি অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে, লুতের পরিবারবর্গের বিরুদ্ধে নয়, আমরা তাদের সবাইকে নাজাত দেবো।

সমকালীন বাংলা

‘তবে লূতের পরিবারবর্গের বিরুদ্ধে নয়, আমরা অবশ্যই ইহাদের সকলকে রক্ষা করিব,

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু লূতের পরিবার - পরিজন। আমরা অবশ্যই তাদের সবাইকে বাঁচিয়ে নেব।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তাঁর (লুতের) স্ত্রীকে নয়। আমরা নিশ্চিত হয়েছি, সে ধবংস হবার জন্যে পেছনে পড়ে থাকাদের অন্তরভুক্ত হবে।’’

সমকালীন বাংলা

‘কিন্তু তাহার স্ত্রীকে নহে; আমরা স্থির করিয়াছি যে, সে অবশ্যই পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’

মুহিউদ্দীন খান

তবে তার স্ত্রী। আমরা স্থির করেছি যে, সে থেকে যাওয়াদের দলভূক্ত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর ফেরেশতারা যখন লুত পরিবারে এসে উপস্থিত হলো।

সমকালীন বাংলা

ফিরিশ্তাগণ যখন লূত - পরিবারের নিকট আসিল,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন প্রেরিতরা লূতের গৃহে পৌছল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (লুত) বললো: ‘আপনাদের তো চিনতে পারছিনা?’

সমকালীন বাংলা

তখন লূত বলিল, ‘তোমরা তো অপরিচিত লোক।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ তোমরা তো অপরিচিত লোক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘‘তারা (আপনার জাতি) যে বিষয়ে সন্দেহ করছে আমরা আপনার কাছে তাই নিয়ে এসেছি।

সমকালীন বাংলা

তাহারা বলিল, ‘না, উহারা যে বিষয়ে সন্দিগ্ধ ছিল আমরা তোমার নিকট তাহাই লইয়া আসিয়াছি;

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ না বরং আমরা আপনার কাছে ঐ বস্তু নিয়ে এসেছি, যে সম্পর্কে তারা বিবাদ করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা সত্য সংবাদ নিয়ে এসেছি এবং অবশ্যি আমরা সত্যবাদী।

সমকালীন বাংলা

‘আমরা তোমার নিকট সত্য সংবাদ লইয়া আসিয়াছি এবং অবশ্যই আমরা সত্যবাদী;

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমরা আপনার কাছে সত্য বিষয় নিয়ে এসেছি এবং আমরা সত্যবাদী।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং আপনি রাতের কোনো এক সময় আপনার পরিবার - পরিজনকে নিয়ে বের হয়ে পড়ুন। আপনি তাদের পেছনে চলুন এবং আপনাদের কেউই যেনো পেছনে ফিরে না তাকায়। আপনাদেরকে যেখানে বলা হয়েছে সেখানে চলে যান।’’

সমকালীন বাংলা

‘সুতরাং তুমি রাত্রির কোন এক সময়ে তোমার পরিবারবর্গসহ বাহির হইয়া পড় এবং তুমি তাহাদের পশ্চাদনুসরণ কর এবং তোমাদের মধ্যে কেহ যেন পিছন দিকে না তাকায়; তোমাদেরকে যেখানে যাইতে বলা হইতেছে তোমরা সেখানে চলিয়া যাও।’

মুহিউদ্দীন খান

অতএব আপনি শেষরাত্রে পরিবারের সকলকে নিয়ে চলে যান এবং আপনি তাদের পশ্চাদনুসরণ করবেন না এবং আপনাদের মধ্যে কেউ যেন পিছন ফিরে না দেখে। আপনারা যেখানে আদেশ প্রাপ্ত হচ্ছেন সেখানে যান।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাকে ফায়সালা জানিয়ে দিলাম যে, প্রভাতেই তাদের শিকড় কেটে দেয়া হবে (সমূলে বিনাশ করা হবে)।

সমকালীন বাংলা

আমি তাহাকে এই বিষয়ে ফায়সালা জানাইয়া দিলাম যে, প্রত্যূষে উহাদেরকে সমূলে বিনাশ করা হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

আমি লূতকে এ বিষয় পরিজ্ঞাত করে দেই যে, সকাল হলেই তাদেরকে সমুলে বিনাশ করে দেয়া হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নগরবাসীরা (মেহমান আগমনের সংবাদে) উল্লসিত হয়ে (লুতের বাড়িতে) এসে উপস্থিত হয়।

সমকালীন বাংলা

নগরবাসিগন উল্লাসিত হইয়া উপস্থিত হইল।

মুহিউদ্দীন খান

শহরবাসীরা আনন্দ - উল্লাস করতে করতে পৌছল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘‘এরা আমার মেহমান, তোমরা আমাকে বেইজ্জতি করোনা।

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘উহারা আমার অতিথি; সুতরাং তোমরা আমাকে বেইয্যত করিও না।

মুহিউদ্দীন খান

লূত বললেনঃ তারা আমার মেহমান। অতএব আমাকে লাঞ্ছিত করো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আমাকে অপমানিত করোনা।’’

সমকালীন বাংলা

তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে হেয় করিও না।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার ইযযত নষ্ট করো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: আমরা কি জগতবাসীকে আশ্রয় দিতে তোমাকে নিষেধ করিনি?

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘আমরা কি দুনিয়াসুদ্ধ লোককে আশ্রয় দিতে তোমাকে নিষেধ করি নাই?’

মুহিউদ্দীন খান

তার বললঃ আমরা কি আপনাকে জগৎদ্বাসীর সমর্থন করতে নিষেধ করিনি।

আবদুস শহীদ নাসিম

লুত বললো: এই যে আমার (জাতির) কন্যারা রয়েছে, তোমরা কিছু করতে চাইলে তাদের বিয়ে করে নাও।

সমকালীন বাংলা

লূত বলিল, ‘একান্তই যদি তোমরা কিছু করিতে চাও তবে আমার এই কন্যাগণ রহিয়াছে।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ যদি তোমরা একান্ত কিছু করতেই চাও, তবে আমার কন্যারা উপস্থিত আছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার জীবনের শপথ, তারা তখন উন্মত্ততায় উদ্ভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল।

সমকালীন বাংলা

তোমার জীবনের শপথ, উহারা তো মত্ততায় বিমূঢ় হইয়াছে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার প্রাণের কসম, তারা আপন নেশায় প্রমত্ত ছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর সূর্যোদয়ের সময় তাদের পাকড়াও করে বিকটধ্বনি।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর সূর্যোদয়ের সময়ে মহানাদ উহাদেরকে আঘাত করিল;

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর সুর্যোদয়ের সময় তাদেরকে প্রচন্ড একটি শব্দ এসে পাকড়াও করল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন আমরা (লুত জাতির) জনপদের উপরের দিক নিচে করে উল্টে দিয়েছি এবং তাদের উপর অবিরাম বর্ষণ করেছি পাথরের কংকর।

সমকালীন বাংলা

আর আমি জনপদকে উল্টাইয়া উপর নীচ করিয়া দিলাম এবং উহাদের উপর প্রস্তর - কংকর বর্ষণ করিলাম।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি জনপদটিকে উল্টে দিলাম এবং তাদের উপর কঙ্করের প্রস্থর বর্ষণ করলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

বিশ্লেষণ শক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্যে এতে রয়েছে নিদর্শন।

সমকালীন বাংলা

অবশ্যই ইহাতে নিদর্শন রহিয়াছে পর্যবেক্ষণ - শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এতে চিন্তাশীলদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেই বিরান জনপদ লোক চলাচলের পথপাশে এখনো বিদ্যমান।

সমকালীন বাংলা

উহা তো লোক চলাচলের পথিপার্শ্বে এখনও বিদ্যমান।

মুহিউদ্দীন খান

জনপদটি সোজা পথে অবস্থিত রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মুমিনদের জন্যে তাতে রয়েছে এক নিদর্শন।

সমকালীন বাংলা

অবশ্যই ইহাতে মু’মিনদের জন্য রহিয়াছে নিদর্শন।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এতে ঈমানদারদের জন্যে নিদর্শণ আছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আইকাবাসীরাও ছিলো সীমালংঘনকারী।

সমকালীন বাংলা

আর ‘আয়কা’বাসীরাও তো ছিল সীমালংঘনকারী,

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় গহীন বনের অধিবাসীরা পাপী ছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের থেকেও আমরা প্রতিশোধ নিয়েছি। উভয় বিরানভূমিই প্রকাশ্য মহাসড়কের পাশে এখনো বিদ্যমান।

সমকালীন বাংলা

সুতরাং আমি উহাদেরকে শাস্তি দিয়াছি, অবশ্য উভয়টিই প্রকাশ্য পথিপার্শ্বে অবস্থিত।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। উভয় বস্তি প্রকাশ্য রাস্তার উপর অবস্থিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

হিজরবাসীরাও রসূলদের মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

সমকালীন বাংলা

হিজ্রবাসিগণও রাসূলদের প্রতি মিথ্যা আরোপ করিয়াছিল;

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় হিজরের বাসিন্দারা পয়গম্বরগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের দিয়েছিলাম আমাদের নিদর্শনসমূহ, কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করেছিল।

সমকালীন বাংলা

আমি উহাদেরকে আমার নিদর্শন দিয়াছিলাম, কিন্তু উহারা তাহা উপেক্ষা করিয়াছিল।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাদেরকে নিজের নিদর্শনাবলী দিয়েছি। অতঃপর তারা এগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা পাহাড় কেটে বাসস্থান নির্মাণ করেছিল নিরাপদ থাকার জন্যে।

সমকালীন বাংলা

উহারা পাহাড় কাটিয়া গৃহ নির্মাণ করিত নিরাপদ বাসের জন্য।

মুহিউদ্দীন খান

তারা পাহাড়ে নিশ্চিন্তে ঘর খোদাই করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদেরকেও প্রভাতকালেই আঘাত করেছিল এক মহাবিকট শব্দ।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর প্রভাতকালে মহানাদ উহাদেরকে আঘাত করিল।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর এক প্রত্যুষে তাদের উপর একটা শব্দ এসে আঘাত করল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের অর্জনসমূহ তাদের কোনো উপকারই করতে পারেনি।

সমকালীন বাংলা

সুতরাং উহারা যাহা অর্জন করিত তাহা উহাদের কোন কাজে আসে নাই।

মুহিউদ্দীন খান

তখন কোন উপকারে আসল না যা তারা উপার্জন করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ আর পৃথিবী এবং এই দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে সবই আমরা সৃষ্টি করেছি বাস্তবতার ভিত্তিতে। কিয়ামত অবশ্যি আসবে। তাই তুমি সুন্দর সৌজন্যবোধের সাথে তাদের উপেক্ষা করো।

সমকালীন বাংলা

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং উহাদের অন্তর্বর্তী কোন কিছুই আমি অযথা সৃষ্টি করি নাই এবং কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী। সুতরাং তুমি পরম সৌজন্যের সঙ্গে উহাদেরকে ক্ষমা কর।

মুহিউদ্দীন খান

আমি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী যা আছে তা তাৎপর্যহীন সৃষ্টি করিনি। কেয়ামত অবশ্যই আসবে। অতএব পরম ঔদাসীন্যের সাথে ওদের ক্রিয়াকর্ম উপক্ষো করুন।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তোমার রব মহাস্রষ্টা, অতীব জ্ঞানী।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক মহাস্রষ্টা, মহাজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই স্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমাকে দিয়েছি পুন: পুন: আবৃত্ত সাত (আয়াত) এবং মহাগ্রন্থ আল - কুরআন।

সমকালীন বাংলা

আমি তো তোমাকে দিয়াছি সাত আয়াত যাহা পুনঃ পুনঃ আবৃত্ত হয় এবং দিয়াছি মহান কুরআন।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আপনাকে সাতটি বার বার পঠিতব্য আয়াত এবং মহান কোরআন দিয়েছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে ভোগ বিলাসের যেসব উপকরণ দিয়েছি, সেগুলোর প্রতি তুমি কখনো তোমার দুই চোখ মেলে তাকিয়োনা। তাদের জন্যে তুমি দুঃখও করোনা। তুমি মুমিনদের জন্যে তোমার দুই ডানা অবনমিত করে দাও।

সমকালীন বাংলা

আমি তাহাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে ভোগ - বিলাসের যে উপকরণ দিয়াছি, তাহার প্রতি তুমি কখনও তোমার চক্ষুদ্বয় প্রসারিত করিও না। তাহাদের জন্য তুমি দুঃখ করিও না; তুমি মু’মিনদের জন্য তোমার পক্ষপুট অবনমিত কর,

মুহিউদ্দীন খান

আপনি চক্ষু তুলে ঐ বস্তুর প্রতি দেখবেন না, যা আমি তাদের মধ্যে কয়েক প্রকার লোককে ভোগ করার জন্যে দিয়েছি, তাদের জন্যে চিন্তিত হবেন না আর ঈমানদারদের জন্যে স্বীয় বাহু নত করুন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি বলো: ‘আমি তো কেবল সুস্পষ্ট সতর্ককারী।’

সমকালীন বাংলা

এবং বল, ‘আমি তো কেবল এক প্রকাশ্য সতর্ককারী।’

মুহিউদ্দীন খান

আর বলুনঃ আমি প্রকাশ্য ভয় প্রদর্শক।

আবদুস শহীদ নাসিম

(এটা ঠিক সেরকম) যেভাবে আমরা নাযিল করেছিলাম সেইসব বিভক্তকারীদের (ইহুদি ও খৃস্টানদের) উপর,

সমকালীন বাংলা

যেভাবে আমি অবতীর্ণ করিয়াছিলাম বিভক্তকারীদের উপর;

মুহিউদ্দীন খান

যেমন আমি নাযিল করেছি যারা বিভিন্ন মতে বিভক্ত তাদের উপর।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা তাদের কুরআনকে (তাওরাতকে) বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছে।

সমকালীন বাংলা

যাহারা কুরআনকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করিয়াছে।

মুহিউদ্দীন খান

যারা কোরআনকে খন্ড খন্ড করেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুর শপথ! আমরা অবশ্যি তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করবো,

সমকালীন বাংলা

সুতরাং শপথ তোমার প্রতিপালকের! আমি উহাদের সকলকে প্রশ্ন করিবই,

মুহিউদ্দীন খান

অতএব আপনার পালনকর্তার কসম, আমি অবশ্যই ওদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কর্মকান্ডের বিষয়ে।

সমকালীন বাংলা

সেই বিষয়ে, যাহা উহারা করে।

মুহিউদ্দীন খান

ওদের কাজকর্ম সম্পর্কে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাকে যার আদেশ করা হয়েছে তা প্রকাশ্যে প্রচার করো এবং মুশরিকদের উপেক্ষা করে চলো।

সমকালীন বাংলা

অতএব তুমি যে বিষয়ে আদিষ্ট হইয়াছ তাহা প্রকাশ্যে প্রচার কর এবং মুশরিকদেরকে উপেক্ষা কর।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব আপনি প্রকাশ্যে শুনিয়ে দিন যা আপনাকে আদেশ করা হয় এবং মুশরিকদের পরওয়া করবেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে তোমার জন্যে আমরাই কাফী (যথেষ্ট),

সমকালীন বাংলা

আমিই যথেষ্ট তোমার জন্য বিদ্রুপকারীদের বিরুদ্ধে,

মুহিউদ্দীন খান

বিদ্রুপকারীদের জন্যে আমি আপনার পক্ষ থেকে যথেষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর সাথে অপর ইলাহ্ বানিয়ে নিয়েছে। অচিরেই তারা জানতে পারবে।

সমকালীন বাংলা

যাহারা আল্লাহর সাথে অপর ইলাহকে নির্ধারন করিয়াছে। সুতরাং শিগ্ররই ইহারা জানিতে পারিবে।

মুহিউদ্দীন খান

যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্য সাব্যস্ত করে। অতএব অতিসত্তর তারা জেনে নেবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা জানি, তাদের কথায় তোমার মন সংকুচিত হয়ে আসে।

সমকালীন বাংলা

আমি তো জানি, উহারা যাহা বলে তাহাতে তোমার অন্তর সংকুচিত হয়;

মুহিউদ্দীন খান

আমি জানি যে আপনি তাদের কথাবর্তায় হতোদ্যম হয়ে পড়েন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তুমি তোমার প্রভুর প্রশংসার সাথে তসবিহ করো এবং তুমি সাজদাকারীদের অন্তরভুক্ত।

সমকালীন বাংলা

সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর এবং তুমি সিজ্দাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হও;

মুহিউদ্দীন খান

অতএব আপনি পালনকর্তার সৌন্দর্য স্মরণ করুন এবং সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যান।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তোমার প্রভুর ইবাদত করো যতোক্ষণ না তোমার কাছে আসে নিশ্চিত জিনিসটি (মৃত্যু)।

সমকালীন বাংলা

তোমার মৃত্যু উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার প্রতিপালকের ‘ইবাদত কর।

মুহিউদ্দীন খান

এবং পালনকর্তার এবাদত করুন, যে পর্যন্ত আপনার কাছে নিশ্চিত কথা না আসে।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme