Kitab

আল সিজ্দাহ

Chapter 32, 30 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • সমকালীন বাংলা
  • জহুরুল হক
  • Arabic, with marks
About this chapter


মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৩০, রুকু সংখ্যা: ০৩

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ‌০১-০৩কুরআন আল্লাহর কিতাব, কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য। ০৪-১৪আল্লাহর মহাবিশ্ব সৃষ্টি এবং পরিচালন ব্যবস্থা নিখুঁত। তিনি নিখুঁতভাবে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। মানুষের অবিশ্বাস এক বড় বোকামি। অবিশ্বাসীদের পরকালীন করুণ পরিণতি। ১৫-১৯যারা আল্লাহর আয়াতের প্রতি ঈমান আনে তাদের বৈশিষ্ট্য ও শুভ পরিণতি। ২০-৩০সীমালঙ্ঘনকারীদের করুণ পরিণতি। যারা আল্লাহর আয়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাদের কঠিন শাস্তি। অটলভাবে আল্লাহর কিতাব মেনে চলার মধ্যেই রয়েছে সাফল্য।
আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ লাম মিম।

সমকালীন বাংলা

পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; আলিফ - লাম - মীম,

জহুরুল হক

আলিফ, লাম, মীম।

Arabic, with marks

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ الم

আবদুস শহীদ নাসিম

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এ কিতাব রাব্বুল আলামিনের নাযিলকৃত।

সমকালীন বাংলা

এই কিতাব জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হইতে অবতীর্ণ, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই।

জহুরুল হক

গ্রন্থখানার অবতারণ, এতে কোনো সন্দেহ নেই, বিশ্বজগতের প্রভুর কাছ থেকে।

Arabic, with marks

تَنزِيلُ الْكِتَابِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِن رَّبِّ الْعَالَمِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি বলে: ‘এটি সে নিজে রচনা করে নিয়েছে?’ বরং তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে এ এক মহাসত্য। এটি নাযিলের উদ্দেশ্য হলো: সেই কওমকে সতর্ক করা, যাদের মধ্যে তোমার পূর্বে কোনো সতর্ককারী আসেনি। হয়তো তারা সঠিক পথ ধরবে।

সমকালীন বাংলা

তবে কি উহারা বলে, ‘ইহা সে নিজে রচনা করিয়াছে?’ না, ইহা তোমার প্রতিপালক হইতে আগত সত্য, যাহাতে তুমি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করিতে পার, যাহাদের নিকট তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসে নাই, হয়ত উহারা সৎপথে চলিবে।

জহুরুল হক

না কি তারা বলে যে তিনি এটি রচনা করেছেন? না, এটি মহাসত্য তোমার প্রভুর কাছ থেকে যেন তুমি সতর্ক করতে পার এমন এক জাতিকে যাদের কাছে তোমরা আগে কোনো সতর্ককারী আসেন নি, যাতে তারা সৎপথে চলতে পারে।

Arabic, with marks

أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ ۚ بَلْ هُوَ الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ لِتُنذِرَ قَوْمًا مَّا أَتَاهُم مِّن نَّذِيرٍ مِّن قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

, তিনিই সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয়টি সময়কালে, তারপর তিনি সমাসীন হন আরশে। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অলিও নেই শফীও (শাফায়াতকারীও) নেই। তারপরও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবেনা?

সমকালীন বাংলা

যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও উহাদের অন্তর্বর্তী সমস্তকিছু সৃষ্টি করিয়াছেন ছয় দিনে। অতঃপর তিনি ‘আরশে সমাসীন হন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক নাই এবং সুপারিশকারীও নাই ; তবু কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করিবে না?

জহুরুল হক

‌ই তিনি যিনি মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দুইয়ের মধ্যবর্তী সব - কিছু সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, তারপর তিনি অধিষ্ঠিত হলেন আরশের উপরে। তাঁকে বাদ দিয়ে তোমাদের জন্য অভিভাবক কেউ নেই আর সুপারিশকারীও নেই। তবুও কি তোমরা মনোযোগ দেবে না?

Arabic, with marks

اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۖ مَا لَكُم مِّن دُونِهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا شَفِيعٍ ۚ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত সব বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর একদিন সবকিছুই তাঁর কাছে উত্থাপন করা হবে, তোমাদের হিসাব অনুযায়ী যে দিনটির পরিমাণ হাজার বছর।

সমকালীন বাংলা

তিনি আকাশ হইতে পৃথিবী পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর একদিন সমস্ত কিছুই তাঁহার সমীপে সমুত্থিত হইবে - যে দিনের পরিমাপ হইবে তোমাদের হিসাবে সহস্র বৎসর।

জহুরুল হক

মহাকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত বিষয় - কর্ম তিনি পরিচালনা করেন, তারপর এটি তাঁর দিকে উঠে আসবে একদিন যার পরিমাপ হচ্ছে তোমরা যা গণনা কর তার এক হাজার বছর।

Arabic, with marks

يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مِّمَّا تَعُدُّونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই , তিনি (অদৃশ্যের) এবং শাহাদাতের (দৃশ্যের) জ্ঞানী, মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।

সমকালীন বাংলা

তিনিই ও দৃশ্য সম্বন্ধে পরিজ্ঞাত, পরাক্রমশালী, পপরম দয়ালু,

জহুরুল হক

এজনই হচ্ছেন অদৃশ্যের ও প্রকাশ্যের পরিজ্ঞাতা, মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা, - -

Arabic, with marks

ذَٰلِكَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি অতি উত্তম ও সুষম করেছেন প্রতিটি জিনিসের সৃষ্টি এবং তিনি মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেছেন কাদামাটি থেকে।

সমকালীন বাংলা

যিনি তাহার প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সৃজন করিয়াছেন উত্তমরূপে, এবং কর্দম হইতে মানব সৃষ্টির সূচনা করিয়াছেন।

জহুরুল হক

যিনি সুন্দর করেছেন প্রত্যেকটি জিনিস যা তিনি সৃষ্টি করেছেন, আর তিনি মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেছেন কাদা থেকে।

Arabic, with marks

الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ ۖ وَبَدَأَ خَلْقَ الْإِنسَانِ مِن طِينٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তিনি তার (মানুষের) বংশ চালু করেছেন তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর তিনি তাহার বংশ উৎপন্ন করেন তুচ্ছ তরল পদার্থের নির্যাস হইতে।

জহুরুল হক

তারপর তার বংশধর সৃষ্টি করলেন এক তুচ্ছ তরল পদার্থের নির্যাস থেকে।

Arabic, with marks

ثُمَّ جَعَلَ نَسْلَهُ مِن سُلَالَةٍ مِّن مَّاءٍ مَّهِينٍ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তিনি তাকে সুষম ও সুঠাম করেন এবং তাতে ফুঁকে দেন তাঁর থেকে রূহ। আর তিনি তার শোনার জন্যে দিয়েছেন কান, দেখার জন্যে বানিয়ে দিয়েছেন চোখ এবং ভাববার জন্যে সৃষ্টি করে দিয়েছেন অন্তর। তোমরা খুব কমই শোকর আদায় করো।

সমকালীন বাংলা

পরে তিনি উহাকে করিয়াছেন সুঠাম এবং উহাতে ফুঁকিয়া দিয়াছেন তাঁহার রূহ্ হইতে এবং তোমাদেরকে দিয়াছেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তঃকরণ, তোমরা অতি সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

জহুরুল হক

তারপর তিনি তাকে সুঠাম করলেন, এবং তাতে ফুঁকে দিলেন তাঁর আ‌ত্মা থেকে, আর তোমাদের জন্য তৈরি করলেন শ্রবণশক্তি ও দর্শনশক্তি ও অন্তঃকরণ। অল্পমাত্রায়ই তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।

Arabic, with marks

ثُمَّ سَوَّاهُ وَنَفَخَ فِيهِ مِن رُّوحِهِ ۖ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ ۚ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘আমরা যখন মাটিতে বিলীন হয়ে যাবো, তখন কি আমাদের পুনরায় নতুন করে সৃষ্টি করা হবে?’ বরং তারা তাদের প্রভুর সাথে সাক্ষাতের বিষয়টিকেই অস্বীকার করছে।

সমকালীন বাংলা

উহারা বলে, ‘আমরা মৃত্তিকায় পর্যবসিত হইলেও কি আমাদেরকে আবার নূতন করিয়া সৃষ্টি করা হইবে?’ বরং উহারা উহাদের প্রতিপালকের সাক্ষাৎ অস্বীকার করে।

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - ''কি, যখন আমরা মাটিতে মিলিয়ে যাই, তখন কি আমরা নতুন সৃষ্টিতে পৌঁছব?’’ বস্তুত তারা তাদের প্রভুর সাথে মুলাকাত হওয়া সন্বন্ধে অবিশ্বাসী।

Arabic, with marks

وَقَالُوا أَإِذَا ضَلَلْنَا فِي الْأَرْضِ أَإِنَّا لَفِي خَلْقٍ جَدِيدٍ ۚ بَلْ هُم بِلِقَاءِ رَبِّهِمْ كَافِرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘তোমাদের ওফাত ঘটাবে মালাকুল মউত (মউতের ফেরেশতা) যাকে তোমাদের মৃত্যু ঘটাবার জন্যে নিযুক্ত করা হয়েছে। তারপর তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে তোমাদের প্রভুর কাছে।’

সমকালীন বাংলা

বল, ‘তোমাদের জন্য নিযুক্ত মৃত্যুর ফিরিশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করিবে। অবশেষে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যানীত হইবে।’

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''মালাকুল মউত যার উপরে তোমাদের কার্যভার দেওয়া হয়েছে সে - ই তোমাদের মৃত্যু ঘটাবে, তারপর তোমাদের প্রভুর কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।’’

Arabic, with marks

۞ قُلْ يَتَوَفَّاكُم مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হায়, তুমি যদি দেখতে, অপরাধীরা যখন তাদের প্রভুর সামনে মাথা নত করে বলবে: ‘আমাদের প্রভু! আমরা সবকিছু দেখলাম এবং শুনলাম, এখন তুমি আমাদের আবার পৃথিবীতে পাঠাও, আমরা সৎকাজ করবো এবং আমরা মজবুত হয়েছি।’

সমকালীন বাংলা

হায়, তুমি যদি দেখিতে ! যখন অপরাধীরা তাহাদের প্রতিপালকের সম্মুখে অধোবদন হইয়া বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক ! আমরা প্রত্যক্ষ করিলাম ও শ্রবণ করিলাম, এখন তুমি আমাদেরকে পুনরায় প্রেরণ কর, আমরা সৎকর্ম করিব, আমরা তো দৃঢ় ।’

জহুরুল হক

আর তুমি যদি দেখতে পেতে যখন অপরাধীরা তাদের মাথা হেঁট করবে তাদের প্রভুর সামনে - - ''আমাদের প্রভু! আমরা দেখতে পাচ্ছি ও শুনতে পাচ্ছি, সুতরাং আমাদের ফেরত পাঠিয়ে দাও, আমরা সৎকর্ম করব, নিঃসন্দেহ আমরা সুনিশ্চিত।’’

Arabic, with marks

وَلَوْ تَرَىٰ إِذِ الْمُجْرِمُونَ نَاكِسُو رُءُوسِهِمْ عِندَ رَبِّهِمْ رَبَّنَا أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا إِنَّا مُوقِنُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা চাইলে প্রত্যেক ব্যক্তিকেই হিদায়াতের পথে নিয়ে আসতাম, কিন্তু আমি তো ফায়সালা করে রেখেছি: ‘আমি অবশ্যি পরিপূর্ণ করবো জাহান্নামকে জিন ও মানুষ উভয়কে দিয়ে।’

সমকালীন বাংলা

আমি ইচ্ছা করিলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সৎপথে পরিচালিত করিতাম ; কিন্তু আমার এই কথা অবশ্যই সত্য : আমি নিশ্চয়ই জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করিব।

জহুরুল হক

আর আমরা যদি চাইতাম তবে আমরা প্রত্যেক ব্যক্তিকে দিতাম তার পথনির্দেশ, কিন্তু আমার থেকে বক্তব্য ন্যায়সংগত হয়েছে - - 'আমি আলবৎ জাহান্নামকে ভর্তি করবো একই সঙ্গে জিনদের ও মানুষদের থেকে।’

Arabic, with marks

وَلَوْ شِئْنَا لَآتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدَاهَا وَلَٰكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং আজকের এই দিনের সাক্ষাতের কথা তোমরা যেহেতু ভুলে গিয়েছিলে তাই আস্বাদন করো আযাব। আমরাও তোমাদের ভুলে গেলাম, সুতরাং তোমাদের কর্মকান্ডের ফল হিসেবে আস্বাদন করো চিরস্থায়ী আযাব।

সমকালীন বাংলা

সুতরাং ‘শাস্তিআস্বাদন কর, কারণ আজিকার এই সাক্ষাতের কথা তোমরা বিস্মৃত হইয়াছিলে। আমিও তোমাদেরকে বিস্মৃত হইয়াছি, তোমরা যাহা করিতে তজ্জন্য তোমরা স্থায়ী শাস্তি ভোগ করিতে থাক।’

জহুরুল হক

সেজন্য - - ''আস্বাদন করো, যেহেতু তোমাদের এই দিনটির সাক্ষাৎ পাওয়াকে তোমারা ভুলে গিয়েছিলে। আমরাও তাইতো তোমাদের ভুলে গেছি, কাজেই তোমরা দীর্ঘস্থায়ী শাস্তি আস্বাদন করো যা তোমরা করে চলেছিলে সেজন্য।

Arabic, with marks

فَذُوقُوا بِمَا نَسِيتُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَٰذَا إِنَّا نَسِينَاكُمْ ۖ وَذُوقُوا عَذَابَ الْخُلْدِ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের আয়াতের প্রতি ঈমান রাখে তো তারা, যাদেরকে তা স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে তারা সাজদায় অবনত হয়ে পড়ে এবং তাদের প্রভুর হামদসহ তসবিহ করতে থাকে, আর তারা দম্ভ করে বেড়ায়না। (সাজদা)

সমকালীন বাংলা

কেবল তাহারাই আমার নিদর্শনাবলী বিশ্বাস করে যাহারা উহার দ্বারা উপদিষ্ট হইলে সিজ্দায় লুটাইয়া পড়ে এবং তাহাদের প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে আর তাহারা অহংকার করে না।

জহুরুল হক

কেবল তারাই আমাদের নির্দেশাবলীতে বিশ্বাস করে যারা, যখন তাদের এসব স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, সিজদারত হয়ে লুটিয়ে পড়ে, আর তাদের প্রভুর প্রশংসার সাথে জপতপ করে, আর তারা গর্ববোধ করে না।

Arabic, with marks

إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ ۩

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তাদের দেহকে শয্যা থেকে আলগা করে উঠিয়ে নিয়ে তাদের প্রভুকে ডাকে ভয় ও আশা নিয়ে, আর আমরা তাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা খরচ করে (আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে)।

সমকালীন বাংলা

তাহারা শয্যা ত্যাগ করিয়া তাহাদের প্রতিপালককে ডাকে আশায় ও আশংকায় এবং আমি তাহাদেরকে যে রিযিক দান করিয়াছি উহা হইতে তাহারা ব্যয় করে।

জহুরুল হক

তারা বিছানা থেকে তাদের পার্শ্ব ত্যাগ করে তাদের প্রভুকে ডাকতে ডাকতে ভয়ে ও আশায়, আর আমরা তাদের যা রিযেক দিয়েছি তা থেকে তারা খরচ করে।

Arabic, with marks

تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

কেউই জানেনা, তাদের জন্যে চোখ জুড়ানো যেসব (নিয়ামত রাজি) গোপন করে রাখা হয়েছে তাদের আমলের পুরস্কার হিসেবে!

সমকালীন বাংলা

কেহই জানে না তাহাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর কী লুক্কায়িত রাখা হইয়াছে তাহাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ।

জহুরুল হক

সুতরাং কোনো সত্ত্বা জানে না চোখজুড়ানো কী তাদের জন্য লুকোনো রয়েছে, - - একটি পুরস্কার যা তারা করে যাচ্ছিল তার জন্য।

Arabic, with marks

فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

যে ব্যক্তি , সে কি ফাসিকের সমতুল্য? না, তারা সমান নয়।

সমকালীন বাংলা

তবে যে ব্যক্তি , সে কি পাপাচারীর ন্যায়? উহারা সমান নহে।

জহুরুল হক

তাহলে কি যে সে তার মতো যে সত্যত্যাগী? তারা সমতুল্য নয়।

Arabic, with marks

أَفَمَن كَانَ مُؤْمِنًا كَمَن كَانَ فَاسِقًا ۚ لَّا يَسْتَوُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

হাঁ, যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাতুল মা’ওয়া (স্থায়ী জান্নাত) তাদের আমলের আতিথ্য হিসেবে।

সমকালীন বাংলা

যাহারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে তাহাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তাহাদের আপ্যায়নের জন্য তাহাদের স্থায়ী বাসস্থান হইবে জান্নাত।

জহুরুল হক

যারা বিশ্বাস করেছে ও সৎকর্ম করছে তাদের জন্য তবে রয়েছে চির - উপভোগ্য উদ্যান - - একটি প্রীতি - সংবর্ধনা যা তারা করে যাচ্ছিল তার জন্য।

Arabic, with marks

أَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَلَهُمْ جَنَّاتُ الْمَأْوَىٰ نُزُلًا بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা ফাসেকি (সীমালংঘন ও পাপাচার) করে, তাদের আবাস হবে জাহান্নাম, যখনই তারা সেখান থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদের সেখানে ঠেলে দেয়া হবে। তাদের বলা হবে: আস্বাদন করো সেই জাহান্নামের আযাব, যাকে তোমরা অস্বীকার করতে।

সমকালীন বাংলা

এবং যাহারা পাপাচার করিয়াছে তাহাদের বাসস্থান হইবে জাহান্নাম ; যখনই উহারা জাহান্নাম হইতে বাহির হইতে চাহিবে তখনই উহাদেরকে ফিরাইয়া দেওয়া হইবে উহাতে এবং উহাদেরকে বলা হইবে, ‘যে অগ্নি - শাস্তিকে তোমরা মিথ্যা বলিতে, উহা আস্বাদন কর।’

জহুরুল হক

কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে যারা সীমালংঘন করেছে তাদের আবাস হচ্ছে আগুন। যতবার তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইবে তাদের তাতে ফিরিয়ে আনা হবে, আর তাদের বলা হবে - - ''আগুনের শাস্তি আস্বাদন করো যেটিকে তোমরা মিথ্যা বলতে।’’

Arabic, with marks

وَأَمَّا الَّذِينَ فَسَقُوا فَمَأْوَاهُمُ النَّارُ ۖ كُلَّمَا أَرَادُوا أَن يَخْرُجُوا مِنْهَا أُعِيدُوا فِيهَا وَقِيلَ لَهُمْ ذُوقُوا عَذَابَ النَّارِ الَّذِي كُنتُم بِهِ تُكَذِّبُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

‘আযাবুল আকবার’ (গুরুদন্ড) আস্বাদন করাবার আগে আমরা তাদের (এই দুনিয়াতে) কিছু কিছু ‘আযাবুল আদনা’ (লঘুদন্ড) আস্বাদন করাবো, যাতে করে তারা ফিরে আসে।

সমকালীন বাংলা

গুরু শাস্তির পূর্বে উহাদেরকে আমি অবশ্যই লঘু শাস্তিআস্বাদন করাইব, যাহাতে উহারা ফিরিয়া আসে।

জহুরুল হক

আর আমরা অবশ্যই লঘু শাস্তি থেকে তাদের আস্বাদন করাব বৃহত্তর শাস্তির উপরি, যেন তারা ফিরে আসে।

Arabic, with marks

وَلَنُذِيقَنَّهُم مِّنَ الْعَذَابِ الْأَدْنَىٰ دُونَ الْعَذَابِ الْأَكْبَرِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যাকে বারবার তার প্রভুর আয়াত স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে, তারপরও সে তা উপেক্ষা করে চলেছে। আমরা অবশ্যি অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ নেবো।

সমকালীন বাংলা

যে ব্যক্তি তাহার প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী দ্বারা উপদিষ্ট হইয়া তাহা হইতে মুখ ফিরায় তাহার অপেক্ষা অধিক আর কে? আমি অবশ্যই অপরাধীদেরকে শাস্তি দিয়া থাকি।

জহুরুল হক

আর কে তার চাইতে বেশী অন্যায়কারী যাকে তার প্রভুর নির্দেশাবলী দ্বারা উপদেশ দেওয়া হয়েছে, তথাপি সে তা থেকে ফিরে যায়? নিঃসন্দেহ অপরাধীদের থেকে আমরা পরিণতি আদায় করেই থাকি।

Arabic, with marks

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن ذُكِّرَ بِآيَاتِ رَبِّهِ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْهَا ۚ إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنتَقِمُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসাকেও কিতাব দিয়েছিলাম। সুতরাং তুমি তার সাক্ষাতের ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে থেকোনা। আমরা সেই (মূসার) কিতাবকে বানিয়েছিলাম বনি ইসরাঈলের জন্যে জীবন যাপন পদ্ধতি।

সমকালীন বাংলা

আমি তো মূসাকে কিতাব দিয়াছিলাম, অতএব তুমি তাহার সাক্ষাৎ সম্বন্ধে সন্দেহ করিও না, আমি ইহাকে বনী ইসরাঈলের জন্য পথনির্দেশক করিয়াছিলাম।

জহুরুল হক

আর আমরা নিশ্চয়ই মূসাকে ধর্মগ্রন্থ দিয়েছিলাম, কাজেই তাঁর প্রাপ্তি সন্বন্ধে তুমি সন্দেহের মধ্যে থেকো না, আর আমরা এটিকে বানিয়েছিলাম ইসরাইলের বংশধরদের জন্য এক পথনির্দেশ।

Arabic, with marks

وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ فَلَا تَكُن فِي مِرْيَةٍ مِّن لِّقَائِهِ ۖ وَجَعَلْنَاهُ هُدًى لِّبَنِي إِسْرَائِيلَ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের মধ্য থেকে বহু ইমাম (নেতা) বানিয়েছিলাম যখন তারা সবর অবলম্বন করেছিল। তারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে সঠিক পথ দেখাতো। আর তারা একীন রাখতো আমাদের আয়াতের প্রতি।

সমকালীন বাংলা

আর আমি উহাদের মধ্য হইতে নেতা মনোনীত করিয়াছিলাম, যাহারা আমার নির্দেশ অনুসারে পথ প্রদর্শন করিত, যেহেতু উহারা ধৈর্য ধারণ করিয়াছিল। আর উহারা ছিল আমার নিদর্শনাবলীতে দৃঢ় ।

জহুরুল হক

আর আমরা তাদের মধ্যে থেকে নেতা দাঁড় করিয়েছিলাম যাঁরা আমাদের নির্দেশের দ্বারা পথনির্দেশ দিতেন যতদিন তারা অধ্যবসায় করত, আর তারা আমাদের নির্দেশাবলী সন্বন্ধে দৃঢ়বিশ্বাস রাখত।

Arabic, with marks

وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا ۖ وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যেসব বিষয়ে এখতেলাফ করতো, তোমার প্রভু সেসব বিষয়ে তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবেন কিয়ামতের দিন।

সমকালীন বাংলা

উহারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করিতেছে তোমার প্রতিপালকই কিয়ামতের দিন তাহাদের মধ্যে উহার ফয়সালা করিয়া দিবেন।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু - - তিনি কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন সেই বিষয়ে যাতে তারা মতবিরোধ করত।

Arabic, with marks

إِنَّ رَبَّكَ هُوَ يَفْصِلُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে কি এ জিনিসটাও পথ নির্দেশ নয় যে, তাদের আগে আমরা কতো প্রজন্মকে হালাক করে দিয়েছিলাম! আজ তারা তাদের সেই আবাসভূমি দিয়ে চলাফেরা করছে। এতেও রয়েছে অনেক নিদর্শন। তারা কি শুনবেনা?

সমকালীন বাংলা

ইহাও কি তাহাদেরকে পথ প্রদর্শন করিল না যে, আমি তো উহাদের পূর্বে ধ্বংস করিয়াছি কত মানবগোষ্ঠী - যাহাদের বাসভূমিতে ইহারা বিচরণ করিয়া থাকে? ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে ; তবুও কি ইহারা শুনিবে না?

জহুরুল হক

এটি কি তাদের জন্য পথনির্দেশ করে না - - তাদের পূর্বে মানবগোষ্ঠীর মধ্যে কত যে আমরা ধ্বংস করেছি যাদের বাড়িঘরের মধ্যে তারা চলাফেরা করেছে? নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে। তবুও কি তারা শুনবে না?

Arabic, with marks

أَوَلَمْ يَهْدِ لَهُمْ كَمْ أَهْلَكْنَا مِن قَبْلِهِم مِّنَ الْقُرُونِ يَمْشُونَ فِي مَسَاكِنِهِمْ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ ۖ أَفَلَا يَسْمَعُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি দেখেনা, আমরা ঊষর (dry) জমিনে পানি বইয়ে দিয়ে তার সাহায্যে উৎপাদন করি শস্য, যা থেকে তাদের পশুরাও খায়, তারাও খায়। তারা কি ভেবে দেখবেনা?

সমকালীন বাংলা

উহারা কি লক্ষ্য করে না, আমি ঊষর ভূমির উপর পানি প্রবাহিত করিয়া উহার সাহায্যে উদ্গত করি শস্য, যাহা হইতে আহার্য গ্রহণ করে উহাদের চতুষ্পদ জন্তু এবং উহারাও? উহারা কি তবুও লক্ষ্য করিবে না?

জহুরুল হক

তারা কি তথাপি দেখে না যে আমরা পানি প্রবাহিত করে নিই অনুর্বর মাটিতে, তখন তার সাহায্যে আমরা উদগত করি ফসল যা থেকে আহার করে তাদের গবাদি - পশু ও তারা নিজেরা? তবুও কি তারা দেখবে না?

Arabic, with marks

أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا نَسُوقُ الْمَاءَ إِلَى الْأَرْضِ الْجُرُزِ فَنُخْرِجُ بِهِ زَرْعًا تَأْكُلُ مِنْهُ أَنْعَامُهُمْ وَأَنفُسُهُمْ ۖ أَفَلَا يُبْصِرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে বলো, কখন হবে সেই জয়ের ফায়সালা?’

সমকালীন বাংলা

উহারা জিজ্ঞাসা করে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে বল, কখন হইবে এই ফয়সালা?’

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - ''কখন এই বিজয় ঘটবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?’’

Arabic, with marks

وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا الْفَتْحُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি বলো: ‘ফায়সালার দিন কাফিররা ঈমান আনলে তা তাদের কোনো কাজে আসবেনা, আর সেদিন তাদের অবকাশও দেয়া হবেনা।’

সমকালীন বাংলা

বল, ‘ফয়সালার দিনে কাফিরদের ঈমান আনয়ন উহাদের কোন কাজে আসিবে না এবং উহাদেরকে অবকাশও দেওয়া হইবে না।’

জহুরুল হক

বলো - - ''বিজয়ের দিনে যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের বিশ্বাসে কোনো উপকার হবে না, আর তাদের প্রতীক্ষা করতে হবে না।’’

Arabic, with marks

قُلْ يَوْمَ الْفَتْحِ لَا يَنفَعُ الَّذِينَ كَفَرُوا إِيمَانُهُمْ وَلَا هُمْ يُنظَرُونَ

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তাদের উপেক্ষা করো এবং অপেক্ষা করো, আর তারাও অপেক্ষায় থাকুক।

সমকালীন বাংলা

অতএব তুমি উহাদেরকে অগ্রাহ্য কর এবং অপেক্ষা কর, উহারাও অপেক্ষা করিতেছে।

জহুরুল হক

অতএব তাদের থেকে তুমি ফিরে এস এবং ইন্তাজার কর, নিঃসন্দেহ তারাও প্রতীক্ষারত রয়েছে।

Arabic, with marks

فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَانتَظِرْ إِنَّهُم مُّنتَظِرُونَ

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme